বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১৫ / ১২৪ · ১১,৪০১১১,৫০০ / ১২,৪২১

১১,৪০১.
কার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. রুকনউদ্দিন বারবক শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪০২.
BANBEIS পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh National Bureau of Education, Information and Statistics
  2. Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics
  3. Bangladesh Bureau of Education, Science and Information
  4. Bangladesh Bureau of Statistical and Educational Information
ব্যাখ্যা
- BANBEIS এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics.
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- BANBEIS এর অবস্থান ঢাকার পলাশী। ব্যানবেইস বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন গবেষণা করে থাকে।
(তথ্যসূত্র: ব্যানবেইস ওয়েবসাইট)
১১,৪০৩.
বঙ্গবন্ধু কত সনে প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৪৮
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,৪০৪.
১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ): 
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৪০৫.
‘আসাদ গেট’-এর পটভূমির সাথে জড়িত সাল কোনটি?
  1. ১৯৬৬ সাল
  2. ১৯৬৭ সাল
  3. ১৯৬৮ সাল
  4. ১৯৬৯ সাল
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- তাই ২০ জানুয়ারি 'শহীদ আসাদ দিবস' পালিত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এর নিহত আসাদের জন্য ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪০৬.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা কত দফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়?
  1. ৬ দফা
  2. ২০ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৪০৭.
‘স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় কাকে?
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) সরকার
  3. গ) জনগণ
  4. ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
স্বার্থের সংহতি সাধন : 
প্রতিটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্বার্থের সংহতি সাধনের জন্য যে সব ব্যবস্থা আছে তার মধ্যে চাপসৃষ্টিকারী দল অন্যতম। সমাজের বিভিন্ন অংশ এবং বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের স্বার্থ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৪০৮.
Where is the only state-owned refinery located in Bangladesh?
  1. Barisal
  2. Patuakhali
  3. Chittagong
  4. Narayanganj
  5. Bagerhat
ব্যাখ্যা
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড:
- বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার হলো ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড।
- এটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
- এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
- কোম্পানি আইন ১৯১৩ (সংশোধিত, ১৯৯৪) অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- একদল পাকিস্তানি শিল্প-উদ্যোক্তা ১৯৬৩ সালে এ প্রকল্পটির উদ্যোগ নেয় এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে এ পরিশোধনাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৮ সাল থেকে পরিশোধন কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
- ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড তাদের নিজস্ব পরিশোধন ইউনিটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল শোধিত করে থাকে।
- এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪০৯.
কত সদস্য নিয়ে যুক্তফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১২ সদস্য
  2. ১৩ সদস্য
  3. ১৪ সদস্য
  4. ১৫ সদস্য
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠনঃ
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- যুক্তফ্রন্টের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- আবু হোসেন সরকার, -বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার।
- সৈয়দ আজিজুল হক - শিক্ষা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- শেরে বাংলা এবং যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে থাকেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমী করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪১০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিচের কোন দেশটি বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ভারত
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

১১,৪১১.
আইসিডিডিআর,বি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা

ICDDR, b:
- এর পূর্ণরূপ International Center for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh.
- আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ।
- এটি বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- আইসিডিডিআর, বি ১৯৬০ সালে ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থা (সিটো) কলেরা গবেষণাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরে ১৯৭৮ সালে, CRL থেকে icddr,b (আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) এ নতুন নামে রুপান্তর হয়।
- icddr,b 'খাবার স্যালাইন' ও 'বেবি জিঙ্ক ট্যাবলেট' উদ্ভাবন করে।
- ১৯৬২ সালে, সিআরএল, গুরুতর ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের, বিশেষ করে ছোট শিশুদের চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে, আইসিডিডিআর, বি দ্বারা পরিচালিত ঢাকা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে।

তথ্যসূত্র - icddr,b., বাংলাপিডিয়া।

১১,৪১২.
আগরতলা পরিকল্পনা ফাঁসকারী-
  1. শামসুল আলম
  2. টি. এইচ. খান
  3. মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. আমীর হোসেন
ব্যাখ্যা

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে।
- আগরতলার পরিকল্পনা ফাঁস করেন পাকিস্তান ইন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদস্য আমির হোসেন।
- এই মামলার দ্বিতীয় প্রধান আসামি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (তিনি আগরতলা পরিকল্পনার প্রধান নেতা)।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিল ৩৫ জন। এই মামলা প্রত্যাহার করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

১১,৪১৩.
মহান মুক্তিযুদ্ধে 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. মিত্র বাহিনী
  2. মুক্তিবাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১১,৪১৪.
বাংলাদেশের প্রথম সরকারি OTT অ্যাপ কোনটি?
  1. সংলাপ
  2. সদাই
  3. ই-পর্চা
  4. আলাপ
ব্যাখ্যা
প্রথম সরকারি OTT অ্যাপঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (BTCL) OTT (Over The Top) কলিং সেবা 'আলাপ' উদ্বোধন করা হয় ৪ এপ্রিল ২০২১। এটা দেশের প্রথম সরকারি OTT অ্যাপ। সরকারের জন্য অ্যাপটি তৈরি করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘রিভ সিস্টেমস’। ২৪ মার্চ ২০২১ ‘আলাপ’ অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে ছাড়া হয়। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করলেই একজন গ্রাহক নিজের বর্তমান মুঠোফোন নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে একটি নতুন আলাপ নম্বরের মালিক হবেন।

আলাপের বৈশিষ্ট্যঃ
১. ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই ‘আলাপ’ থেকে ‘আলাপ’ কথা বলা ও চ্যাট করা যাবে বিনামূল্যে।
২. যাদের ‘আলাপ’ নেই, শুধু টেলিফোন আছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলা যাবে।
৩. ‘আলাপ’ থেকে যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোনে কথা বললে প্রতি মিনিটে খরচ হবে ৩০ পয়সা (এর সঙ্গে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হবে)।
৪. যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ড ফোন নম্বর থেকেও ‘আলাপ’-এ কল করা যাবে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মে-জুন।
১১,৪১৫.
নবীন মাধব ও বেণী মাধব কোন আন্দোলনের নেতা ছিলেন?
  1. ক) সন্ন্যাসী আন্দোলন
  2. খ) নীল বিদ্রোহ
  3. গ) টংক আন্দোলন
  4. ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকে বাংলায় সংগঠিত আন্দোলন সমূহের মধ্যে নীল বিদ্রোহ অন্যতম। এটি ছিলো একটি কৃষক আন্দোলন। ১৮৫৯ সালের দিকে নীল বিদ্রোহ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে।
এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করেন। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে নীল বিদ্রোহ প্রশমিত হয়। ১৮৯২ এদেশে নীল চাষ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,৪১৬.
মুজিবনগর সরকারের মোট কতটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১৫টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে-১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন - আবদুল মান্নান।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন - অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম নিম্নরূপ:
- রাষ্ট্রপতি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ।
-অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়- এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়- এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪১৭.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল -
  1. হারিকেন
  2. নৌকা
  3. বই
  4. বাতি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪১৮.
মুর্শিদ কুলি খান কোন সম্রাটের অধীনে বাংলার দিওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে বাংলার দিওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন।

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা

- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন।

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,৪১৯.
তাজিংডং(বিজয়) কোন ধরনের পাহাড়?
  1. ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. খ) সম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  3. গ) টারশিয়ারি যুগের
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তাজিংডং (বিজয়):

- এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড়।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত।
- তাজিংডং এর উচ্চতা: ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]।
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি।
১১,৪২০.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
  2. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী
  3. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  4. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  5. শিক্ষা ও চিকিৎসা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র: এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী: আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প: সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১১,৪২১.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ-
  1. অস্ট্রেলিয়া 
  2. নিউজিল্যান্ড 
  3. ভুটান 
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পূর্ব জার্মানি।
• মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইরাক।
• এশিয়ার অ-আরব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া; এরপর মালয়েশিয়া।
• মুসলিম ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে সেনেগাল।
• সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া; এরপর ভেনেজুয়েলা।
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম ওশেনিয়ান দেশ টোঙ্গা।

উৎস:
দৈনিক ইনকিলাব;
প্রথম আলো।

১১,৪২২.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) যশোর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) মাগুরা
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (১ মে ১৯৪৯ – ৮ এপ্রিল ১৯৭১)
জন্মস্থান: ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার সালামতপুর গ্রামে৷
সমাধি স্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে ৷

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সবার আগে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল ১ নং সেক্টরে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ ‍যুদ্ধে শহীদ হন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১,৪২৩.
'গম্ভীরা' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত। ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১১,৪২৪.
ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রটি কত সালে মুক্তি পায়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
ওরা ১১ জন: 
- ওরা ১১ জন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ।
- ১৯৭১ এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত, স্বাধীনতাউত্তর প্রথম চলচ্চিত্র।
- বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭২)
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম এই চলচ্চিত্রটি।
- মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি পটভূমি ও অ্যাকশন নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙালির মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।
- এতে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১৯৭২ সালের ১৩ আগস্ট মুক্তি পায় ‘ওরা ১১ জন’।
- চাষী নজরুল ইসলাম নির্মাণ করেন চরিত্রে অভিনয় করেন ১১ মুক্তিযোদ্ধা, যারা পেশাদার শিল্পী ছিলেন না।
- এরা হলেন_ খসরু, মঞ্জু, হেলাল, ওলীন, আবু, আতা, নান্টু, বেবী, আলতাফ, মুরাদ ও ফিরোজ।
- ১১ দফার ছাত্র আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে মাথায় রেখে প্রতীকী অর্থে এ চলচ্চিত্রের নামকরণ করা হয় ‘ওরা ১১ জন’।
- চলচ্চিত্রের শুরুতে টাইটেলে ছয়টি কামানের গোলার শব্দ শোনা যায়।
- নির্মাতার মতে, এ ছয়টি শব্দ হচ্ছে ছয়দফা দাবির প্রতীকী শব্দ।
- এই চলচ্চিত্রে যে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার হয়েছিল সবই ছিল সত্যিকারের।
- ‘ওরা ১১ জন’ মস্কো, ইংল্যান্ড, জামশেদপুর, রাচী, কলকাতা ও বোম্বেতে প্রদর্শিত হয়েছিল।
- বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকাপুর চলচ্চিত্রটি দেখে এ চলচ্চিত্রের নির্মাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘হাউ- ইট পসিবল’, সদ্য স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন জীবন্ত চলচ্চিত্র নির্মাণ কীভাবে সম্ভব।
- তিনি বলেন, বলিউডে আমরা এ ধরনের বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সাহস পাইনি’।
- এ চলচ্চিত্রের প্রযোজক মাসুদ পারভেজ (অভিনেতা সোহেল রানা) বলেন, ‘এটি আসলে শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিলও বটে।

উৎস: চ্যনেল আই অনলাইন (১৯ জানুয়ারি, ২০১৬)
১১,৪২৫.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল -
  1. বৃহষ্পতিবার
  2. শনিবার
  3. রবিবার
  4. মঙ্গলবার
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্ররা মিছিল করে।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪২৬.
কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শ্রাবণ বিদ্রোহ:
- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’।
- পরিচালনা করেছেন আরিফুর রহমান।

⇒ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সহযোগিতায় শ্রাবণ বিদ্রোহ তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- তথ্যচিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে নিহতদের স্বজন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতা, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্টদের আন্দোলনকালীন স্মৃতিকথা ও নির্যাতনের চিত্র।
- এতে দেখানো হয়েছে আন্দোলনের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ ও চেতনার গতিপথ।
- ৩০ মিনিটের এ তথ্যচিত্রে আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র ও গ্রাফিতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: i) প্রথম আলো। 
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

১১,৪২৭.
প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প প্রথম চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে 
  2. ১৯৯৯ সালে 
  3. ২০০২ সালে 
  4. ২০০৯ সালে 
ব্যাখ্যা

উপবৃত্তি:
- দারিদ্রপীড়িত শিশুদের স্কুলগমন নিশ্চিত করার জন্য সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচী (FFE) চালু করে।
- ১৯৯৯ সালে পৌর এলাকা বাদে অবশিষ্ট ৭৩% এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রকল্পভুক্ত করে মাসিক ২৫ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়।
- ২০০২-২০০৭: পূর্বের দুটি প্রকল্প একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু।
- পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় যা ২০০৮ সালে শেষ হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়) ২০০৯ সালে চালু হয়ে জুন ২০১৫ সালে সমাপ্তির পর প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০২১-এ সমাপ্ত হয়।
- নির্দিষ্ট দারিদ্র্য ম্যাপের সীমারেখা আবদ্ধ না রেখে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (৩য় পর্যায়)-এ সরকার সমগ্র দেশকে প্রকল্প এলাকা ঘোষণা করেন।

• উপবৃত্তির হারের বিবরণ:
- প্রাক-প্রাথমিক: মাসিক ৭৫ টাকা।
- ১ম-৫ম শ্রেণি: এক শিক্ষার্থী ১৫০ টাকা, দুই শিক্ষার্থী ৩০০ টাকা।
- ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি: এক শিক্ষার্থী ২০০ টাকা, দুই শিক্ষার্থী ৪০০ টাকা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [লিঙ্ক]

১১,৪২৮.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪২৯.
এম. আর. আখতার মুকুল মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন বিখ্যাত ছিলেন?
  1. সেক্টর কমান্ডার হিসেবে
  2. বীরপ্রতীক হিসেবে
  3. চরমপত্রের পাঠক হিসেবে
  4. ক্র্যাকপ্লাটুনের সদস্য হিসেবে
ব্যাখ্যা
• চরমপত্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
- চরমপত্র পাঠ করতেন এম আখতার মুকুল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,৪৩০.
মুর্শিদকুলী খানকে প্রথমে বাংলার কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়?
  1. শাসনকর্তা
  2. দিউয়ান
  3. সুবাদার
  4. নবাব
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলী খান:
- দক্ষ সুবাদার হিসেবে বাংলার শাসন ক্ষমতায় আসেন মুর্শিদকুলী খান (১৭০০-১৭২৭)।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দিউয়ান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
- দিউয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদকুলী খান বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয়।
- এদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য তিনি খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মোগল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেন নি।
- ফলে এসব অঞ্চলের সুবাদারগণ অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের অঞ্চল শাসন করতে থাকেন।
- মুর্শিদকুলী খানও অনেকটা স্বাধীন হয়ে পরেন।
- তিনি নামেমাত্র সম্রাটের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতেন এবং সম্রাটকে বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন।
- মুর্শিদকুলী খানের পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খান বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- এভাবে বাংলার সুবাদারী বংশগত হয়ে পরে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১১,৪৩১.
ছয়দফা কর্মসূচী প্রথম কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ক) লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সম্মেলনে
  2. খ) প্রেসিডেন্ট আইউবের দপ্তরে
  3. গ) আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে
  4. ঘ) সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটিতে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও পরবর্তী তাসখন্দ চুক্তির প্রেক্ষাপটে পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক নেতারা ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করলে বাঙালির জাতীয় মুক্তি ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সভায় তাঁর ঐতিহাসিক “ছয় দফা” কর্মসূচি উত্থাপন করেন। 
- কর্মসূচিটি ১৮ মার্চ তারিখে পূর্ব পাকিস্ড়ান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে “আমাদের বাঁচার দাবী- ছয় দফা কর্মসূচী” শিরোনামে ব্যাখ্যাসহকারে বিলি করা হয়।
 
উৎস: সিভিক এডিকশন -২, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১,৪৩২.
বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক কে?
  1. মা হুয়ান
  2. মেগাস্থিনিস
  3. হিউয়েন সাং
  4. ফা-হিয়েন
ব্যাখ্যা
পরিব্রাজক: 
- ফা-হিয়েন বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চীনা পরিব্রাজক। 
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন।
- অর্থাৎ গুপ্ত যুগে বাংলায় আগমনকারী চীনা পরিব্রাজক হলে ফা-হিয়েন। 
- মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক। গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন। 
- বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে যান। 
- মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৩৩.
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ শহিদ হয় - 
  1. যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে
  2. খুলনার তেরখাদা গ্রামে
  3. যশোরের নওয়াপাড়া গ্রামে
  4. বাগেরহাটের কাড়াপাড়া গ্রামে
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম যশোর জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
- যশোর জেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের মধ্যে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে।
- মূলত বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অংশ ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন।
- ৮ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম. এ মঞ্জুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হন।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৪৩৪.
মুক্তিযুদ্ধে যশোর কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ৭নং সেক্টর
  2. খ) ৫নং সেক্টর
  3. গ) ৬নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- '৮ নং সেক্টর' এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
-  এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৩৫.
মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. ওরা ১১ জন
  4. জয়যাত্রা
ব্যাখ্যা
ওরা ১১ জন: 
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম ছবি ওরা ১১ জন।
- চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৭২ সালে ছবিটি নির্মাণ করেন।
- ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, খসরু, সৈয়দ হাসান ইমাম ও খলিলউল্লাহ খানসহ অনেকে।

উৎস: The Daily Star বাংলা (মার্চ ২৬, ২০২০)
১১,৪৩৬.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কবে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে?
  1. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ৮ জুলাই, ১৯৭২
  3. ২ মে, ১৯৭২
  4. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং ভারত।
- উভয় দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।

⇒ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ভেনিজুয়েলা (২ মে, ১৯৭২)।

এছাড়াও,
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২৫ মে ১৯৭২।
- বলিভিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২ আগস্ট, ১৯৭২।

উৎস: i) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।
ii) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১,৪৩৭.
পাকিস্তানের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি এম. ইদ্রিস
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  4. বিচারপতি ফজল-ই-আকবর
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচন পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠনের জন্য প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি সাধারণ আসনে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সবকটি আসনে প্রার্থী দেয়।
- আওয়ামী লীগ ছয় দফাকে নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে ঘোষণা করে।
- পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২টি সাধারণ আসন এবং ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- আওয়ামী লীগ ১৬০টি সাধারণ আসন ও ৭টি মহিলা আসনে জয়লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ১৬৭টি আসনে।
- পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ২৮৮টি আসনে।
- পশ্চিম পাকিস্তানের ১৩৮টি আসনের মধ্যে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে) জয়লাভ করে ৮১টি আসনে।
- আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ইয়াহিয়া খান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি।
- এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- অসহযোগ আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

অন্যদিকে, 
- বিচারপতি এম. ইদ্রিস ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
- তাঁর মেয়াদ ছিল ৭ জুলাই ১৯৭২ থেকে ৭ জুলাই ১৯৭৭।
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ তার অধীনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১১,৪৩৮.
বাংলাদেশে জেলার সংখ্যা কত?
  1. ৩৬টি
  2. ৫৪টি
  3. ৬৪টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহ:
- বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা হল ৬৪।
- এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে ৩২ টি।
- এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ভারত ও মিয়ানমার এর সাথে।
- ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০ টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার।
- এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
-  ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

সূত্র: ডিএমপি নিউজ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
১১,৪৩৯.
টোডরমল স্মরণীয় হয়ে আছেন কেন?
  1. অতিরিক্ত কর বিলোপের জন্য
  2. রাজস্ব সংস্কারের জন্য
  3. সামরিক সংস্কারের জন্য
  4. নতুন কর সংযোজনের জন্য
ব্যাখ্যা
আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা:
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- শেরশাহের রাজস্ব-সংস্কার নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে মুজাফ্ফর খান তুরবতী ও রাজা টোডরমলের সহযোগিতায় আকবর রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তাঁর রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য ছিল- ১. জমির শ্রেণি বিভাগকরণ, ২. উৎপন্ন শস্যের উপর ভিত্তি করে রাজস্ব নির্ধারণ।

⇒ সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত টোডরমল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সকল জমি জরিপ করিয়ে উর্বরতা ও কত কাল যাবৎ চাষাবাদ করা হয়-এসব তথ্যর ভিত্তিতে চাষের জমি সমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করেন। যথা -
১. পোলাজ জমি- এ সমস্ত জমি প্রতি বছর চাষ করা হত।
২. পরাউতি জমি- এ ধরনের জমি একবার চাষের পর উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কিছুদিন অনাবাদী রাখা হত।
৩. চাচর জমি এ সমস্ত জমি তিন বা চার বছর পর পর চাষ করা হত।
৪. বনযার জমি এ ধরনের জমি পাঁচ বছরের জন্য অনাবাদী থাকত।
- প্রথম দুই ধরনের ভূমি থেকে উৎপন্ন শস্যের এক তৃতীয়াংশ ভূমি রাজস্ব হিসেবে গৃহীত হতো।
- চাচর ও বনযার জমির উপর সামান্য হারে রাজস্ব ধার্য করা হয়।
- কৃষকগণ নগদ টাকায় অথবা শস্যে খাজনা দিতে পারতো।
- এই ভূমি রাজস্ব নীতি 'যাবতী' বা টোডরমলের 'রায়তওয়ারী' প্রথা নামে পরিচিত।
- এছাড়াও কোন কোনো জমির উৎপাদিত ফসলের ১/৩ অংশ সরকার কর হিসেবে পেত। 
- তিনি আদায়কৃত রাজস্ব থেকে সুবাদারকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেয়ার পর উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোষে প্রেরণ করতেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৪০.
কৈবর্ত বিদ্রোহ কোন রাজার শাসনামলে সংঘঠিত হয়?
  1. ক) প্রথম মহিপাল
  2. খ) দ্বিতীয় মহিপাল
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা

- রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।
অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৪৪১.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন?
  1. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  3. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  4. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র-এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার-আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী-আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক-শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১১,৪৪২.
‘ঢাকা নিউজ’ পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. ঘ) আলেক্সান্ডার ফর্বেস
ব্যাখ্যা
- ঢাকা নিউজ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
- এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন আলেকজান্ডার ফর্বেস।
- ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত ঢাকা প্রকাশ যা ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ প্রথম প্রকাশিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১১,৪৪৩.
আনুমানিক কত বছর আগে উয়ারি-বটেশ্বরে নগর সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিলো?
  1. তিনহাজার বছর
  2. আড়াইহাজার বছর
  3. দেড়হাজার বছর
  4. একহাজার বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরী হলো উয়ারি-বটেশ্বর। আনুমানিক প্রায় আড়াইহাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার উয়ারি-বটেশ্বরে নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- এটি দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্গত। উয়ারি-বটেশ্বর ছিলো একটি নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১১,৪৪৪.
প্রথম উত্তোলিত বাংলাদেশের পতাকা কেমন ছিল?
  1. জাতীয় প্রতীক খচিত 
  2. দেশের মানচিত্র খচিত
  3. বাংলার প্রকৃতি খচিত
  4. নদ-নদী প্রকৃতি খচিত
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা উত্তোলন:
- সময়: ২ মার্চ ১৯৭১ সালে।
- স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- পতাকার নকশা: পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র খচিত।
- এই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।

• পতাকার নকশা ও পরিবর্তন:

- প্রথমে পতাকার লাল বৃত্তের মধ্যে সোনালি রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার নকশা পরিবর্তন করা হয়।
- বর্তমানে পতাকাটি গাঢ় সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্তের সমন্বয়ে গঠিত।
- সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, এবং লাল রং উদীয়মান সূর্য ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
- পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ (৫:৩)।

• জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস:
- ২ মার্চকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- এই দিনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

উৎস: ¡)বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
        ¡¡) বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]

১১,৪৪৫.
চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন কোন বংশের শাসনামলে বাংলায় আগমন করেন?
  1. ক) গুপ্ত
  2. খ) মৌর্য
  3. গ) খড়গ
  4. ঘ) বর্মণ
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন বাংলায় ভ্রমণকারী প্রথম চীনা পরিব্রাজক।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন। অর্থ্যাৎ গুপ্ত যুগে বাংলায় আগমনকারী চীনা পরিব্রাজক হলেন ফা-হিয়েন
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন। গোবি, খোটান, পামির মালভ‚মি এং গান্ধার দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
- তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।
- ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত। এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে,
- মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক । গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন।
- বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের (স্যান্ড্রাকোটাস) রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৪৬.
বঙ্গবন্ধু কবে ৬ দফা ঘোষণা করেন?
  1. ক) ১ জানুয়ারি
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ৬ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
২. ফেডারেল সরকার।
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা।
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৪৪৭.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. আবুল হাশেম
ব্যাখ্যা
• অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং — শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। 
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।

এছাড়াও,
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে — খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার — প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
-  ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর ১৯৩৭ সালে — অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় যার মুখ্যমন্ত্রী (অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচিত হন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।

------------------------ 
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলে আখ্যায়িত হন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন - দ্বিতীয় পত্র - এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
১১,৪৪৮.
মুজিবনগর সরকারে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- শপথ বাক্য পাঠ করান: অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ



তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১,৪৪৯.
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কে? (নভেম্বর, ২০২৪)
  1. মোঃ সোহরাব হোসাইন
  2. ড. মোবাশ্বের মোনেম
  3. ড. মোহাম্মদ সাদিক
  4. ইকরাম আহমেদ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন:

- বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশে এই সংস্থা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন নামে অভিহিত।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভের পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ৩৪ নং আদেশবলে ১৯৭২ সালের মে মাসে প্রাথমিক পর্যায়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (প্রথম) ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন (দ্বিতীয়) নামে দুটি আলাদা কমিশন গঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে দুটি কমিশনের স্থলে একটি কমিশন স্থাপন করার লক্ষ্যে আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করে এবং ১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এই কমিশনের নামকরণ হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন।
- কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক (কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) পাঁচ বছর মেয়াদে অথবা তাদের বয়স পঁয়ষট্টি বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- নিয়োগযোগ্য সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন সদস্যের সংখ্যা সংবিধানে নির্দিষ্ট করা হয় নি।
- ১৯৭৭ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশে চেয়ারম্যানসহ এ সংখ্যা সর্বোচ্চ পনেরো (ন্যূনতম ছয়) নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনের মোট সদস্য সংখ্যা ৯ জন। (নভেম্বর, ২০২৪)
- সরকারি কর্ম কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। (নভেম্বর, ২০২৪)

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ওয়েবসাইট।
১১,৪৫০.
Which is considered the most ancient township of Bengal?
  1. Pundra
  2. Vanga
  3. Gauda
  4. Maurya
ব্যাখ্যা

• পুণ্ড্র:
-  পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে  প্রাচীনতম। 
-  খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত ‘পুদনগল’ (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। 
প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" 
অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল।
 কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাপিডিয়া।

১১,৪৫১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা কোনটি?
  1. নিউ ডিল পরিকল্পনা
  2. মার্শাল পরিকল্পনা
  3. কন্টিনেন্টাল প্ল্যান
  4. ট্রুম্যান ডক্ট্রিন
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপ পুর্নগঠনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা মার্শাল প্ল্যান বা মার্শাল পরিকল্পনা নামে পরিচিত।
- তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল এটি প্রণয়ন করেন।
- ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন।

- ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনায় ১৫ বিলিয়নের মার্কিন ডলারের অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয় যার বেশিরভাগই পায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্স।
- ইউরোপ পুর্নগঠনের পাশাপাশি মার্শাল প্লানে পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ, ন্যাটো চুক্তি স্বাক্ষর, সিআইএ এর কর্মপরিধি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিহিত ছিলো।

সূত্র: হিস্টোরি.কম।
১১,৪৫২.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৫৩.
রাজশাহী প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) বরেন্দ্র
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) রাঢ়
ব্যাখ্যা
বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল প্রাচীন বাংলায় সমতট জনপদ নামে পরিচিত ছিলো। অন্যদিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা হরিকেল, বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা বঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর ও বগুড়ার অংশবিশেষ বরেন্দ্র নামে পরিচিত ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
১১,৪৫৪.
কোন সালে সর্বপ্রথম প্রভাতফেরিতে একুশের গান গাওয়া হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
একুশের গান:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালালে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেক ছাত্র।
- ঢাকা কলেজের ছাত্র ও দৈনিক সংবাদের অনুবাদক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলেন আহত ছাত্রদের দেখতে।
- রফিকউদ্দিনের মরদেহ দেখে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মনে হয়েছিল, এটি যেন তার আপন ভাইয়েরই রক্তমাখা মরদেহ। 
- সে রাতেই কবিতাটি লিখতে শুরু করেন তিনি। 
- পরে গান হিসেবে স্বীকৃত এই রচনাটির প্রথম চরণ লেখা হয়েছিল কবিতা হিসেবেই।
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর নাম ও একুশের গান শিরোনামে কবিতাটি  প্রকাশিত হয়।
- একুশের গানে প্রথম সুর দিয়েছিলেন তৎকালীন যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ।
- গানটি প্রথম গাওয়া হয় ১৯৫৩ সালের ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে। 
- ১৯৫৪ সালে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ গানটিতে সুরারোপ করেন।
- ১৯৫৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরিতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গাওয়া হয় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো'।
- ধীরে ধীরে এই সুরটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

উল্লেখ্য,
- চলচ্চিত্রে প্রথম গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জহির রায়হানের কালজয়ী 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে। 
- গানটি গাওয়া হয়েছে ইংরেজি, ফরাসি, জাপানি, হিন্দিসহ মোট ১২টি ভাষায়।

উৎস: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
১১,৪৫৫.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে -
  1. ক) মুসলিম লীগ
  2. খ) কংগ্রেস
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট
  4. ঘ) ন্যাপ
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৪৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৯ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
জেনারেল এম.এ. জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে যুদ্ধকৌশলের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর এবং ৬৪ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১১,৪৫৭.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী কে?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) ইলা মিত্র
  3. গ) সুনীতি ঘোষ
  4. ঘ) সরোজিনী নাইডু
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন। এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১১,৪৫৮.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামে কতটি তারকা আছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
১১,৪৫৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ কোনটি?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা

- ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোণা জেলা সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আয়তন ১০,৫৫২ বর্গ কিঃমিঃ।
এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ।
- অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ হলো চট্টগ্রাম। এর আয়তন ৩৩,৯০৪ বর্গ কি.মি।

উল্লেখ্য যে,  সিলেট বিভাগ আয়তন: ১২,২৯৮.৪ বর্গ কিমি। 
সোর্সঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া

 
১১,৪৬০.
নিচের কোন শাসক 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?
  1. চরক
  2. কৌটিল্য
  3. পাণিনি
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী হিসাবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেন।
- পশ্চিম ভারত থেকে শকদের বিতাড়ন তার মুখ্য সামরিক কৃতিত্ব।
- এ কারণে তিনি 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য দিকে তিনি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ এবং দৃঢ় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নাগ ও বাকাটক বংশীয় রাজাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।
- মহাকবি কালিদাসসহ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি তাঁর সভা অলঙ্কৃত করেছিলেন।
- শৌর্য-বীর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নতির পরিচয় বহন করে তাঁর রাজত্বকাল।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই সম্ভবত কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য। তাঁর রাজত্বকালে চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ভারত সফর করেন।
- ফা-হিয়েনের বিবরণে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময়কার আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনচিত্রের অনেকটাই বিধৃত হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৬১.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ কে শহীদ হন?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
  2. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  3. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. নূর মোহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ছাত্রজীবনে তিনি মাষ্টার দা সূর্যসেনের জীবনীগ্রন্থ, ক্ষুদীরামের ফাঁসি, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনীসহ বহু গ্রন্থ তিনি নিয়মিত পড়তেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- সেনাবাহিনীতে তার নম্বর ছিল PSS-১০৪৩৯।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছিলো তখন তিনি কারাকোরামে কর্মরত ছিলেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহিদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

⇒ বীরশ্রেষ্ঠ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।

৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।

৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।

৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।

৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।

৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১,৪৬২.
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন-
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সংবিধান রচনার জন্যে ড. কালাম হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং এর উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান গৃহিত এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ তা কার্যকর হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১১,৪৬৩.
ECNEC-এর চেয়ারম্যান কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপ্রধান
  2. খ) সরকার প্রধান
  3. গ) অর্থমন্ত্রী
  4. ঘ) মন্ত্রী পরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC)
- সরকারের দ্বিতীয় শক্তিশালী কমিটি(ECNEC)।
- এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন সরকার প্রধান
- অর্থমন্ত্রী এর বিকল্প চেয়ারম্যান।

- এ কমিটির সদস্যগণ সরকার প্রধান কর্তৃক মনোনীত হয়ে থাকেন। সাধারণত নিম্নবর্ণিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীদের মধ্য থেকে কমিটির সদস্য মনোনয়ন দেয়া হয়।
১। স্থানীয় সরকার পলী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী
২। শিক্ষা মন্ত্রী
৩। প্রযুক্তি মন্ত্রী
৪। পানি সম্পদ মন্ত্রী।
৫। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী
৬। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
৭। কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং
৮। পরিকল্পনা মন্ত্রী

তথ্যসূত্র:- পরিকল্পনা বিভাগ এবং শিক্ষা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা , এম এড প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৬৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৬ নং সেক্টর
  4. ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও ২ নং সেক্টর: 
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- সরকার বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করেছিল।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব বাহিনীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। 
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৪৬৫.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিল?
  1. সুবেদার
  2. সিপাহী
  3. ক্যাপ্টেন
  4. ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১১,৪৬৬.
কোন শতাব্দীতে গুপ্ত সম্রাজ্যের পতন ঘটে?
  1. পঞ্চম
  2. ষষ্ঠ
  3. সপ্তম
  4. অষ্টম
ব্যাখ্যা
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে ।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য ।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো ।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর ।
- ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধেই বিভিন্ন যোদ্ধা জাতির সঙ্গে সংঘাত ও সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে গুপ্ত শাসনের অবসান ঘটে।
- সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের পর সারা উত্তর ভারত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশের উদ্ভব হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১১,৪৬৭.
'মনপুরা-৭০' চিত্রকর্মের শিল্পী কে?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. সফিউদ্দিন আহমেদ
  3. এস. এম. সুলতান
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
মনপুরা ৭০:

- সত্তরের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়তাকে অবলম্বন করে একটি চিত্রশিল্প ‘মনপুরা ৭০’।
- ‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিকযুগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় এবং এক সকরুণ মানব-ট্র্যাজেডির তাৎক্ষণিক, সহানুভূতিপূর্ণ ও সবল রূপায়ন হিসেবে এগুলি বহির্বিশ্বেও শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- দুর্ভিক্ষের স্কেচে, কেবল তুলির কালো রেখায় যার সূচনা, সেটাকে বর্ণপ্রয়োগের ন্যূনতায় ও স্পেস ব্যবহারের পরিমিতিবোধে তিনি ক্রমশ এক নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।
- তাঁর এপর্যায়ের ছবিগুলো- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’ ‘সংগ্রাম’ এবং লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে সন্নিবেশিত চিত্র- ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা' প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৬৮.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ইউ কে চিং মারমা কোন খেতাব লাভ করেছে?
  1. বীরশ্রষ্ঠ
  2. বীরউত্তম
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• ইউকে চিং (উক্য চিং মারমা):
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা৷
- তিনি বীরবিক্রম খেতাবে সম্মানিত।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ের লোক।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইপিআর-এর সদস্য ছিলেন।
- ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: ডেইলি স্টার ও বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
১১,৪৬৯.
পূর্ব বাংলায় কিসের ভিত্তিতে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  2. অসাম্প্রদায়িকতা
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা
  4. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• জাতীয়তাবাদের উন্মেষ:
- পশ্চিম পাকিস্তানে পাঞ্জাবি শক্তির বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় সংহতির জন্য জাতীয়তাবাদের ধারণা জরুরি হয়ে পড়ে।
- যেহেতু হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে আমাদের বেশির ভাগ মানুষ বাঙালি;কাজেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে।
- তাতে দেশের অন্য ভাষা ও জাতির মানুষও যোগ দেয়।
- নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ববাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে।
- ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১,৪৭০.
'ভাষা দিবস' কোন বছর থেকে পালন করা শুরু হয়?
  1. ১৯৪৭ সাল
  2. ১৯৪৯ সাল
  3. ১৯৫১ সাল
  4. ১৯৫২ সাল
ব্যাখ্যা
ভাষা দিবস:
- ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়েছিল তার আগেই আসলে শুরু হয়েছিল ভাষা নিয়ে বিতর্ক।
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।  
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে এই দিনটি পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে প্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে ঝরেছিল ছাত্র জনতার রক্ত।
- ১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ প্রথমবারের মতো দিনটি ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলনের আগপর্যন্ত ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো ১১ মার্চ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় বক্তব্য প্রদান ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব দাখিল করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয়।
- এদিন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সব মুসলিম সদস্য একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও হরতাল পালিত হয় পূর্ব বাংলার প্রায় সবগুলো জেলা শহরেই। 
- পরে ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় প্রতিটি শহরেই ১১ মার্চ 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: ১১ মার্চ ২০২৩,  প্রথম আলো।
১১,৪৭১.
বর্তমান কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এলাকা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. তাম্রলিপ্তি
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. সমতট
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- বর্তমানে নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১,৪৭২.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. আমার আছে জল
  3. আয়নাবাজি
  4. চন্দ্রকথা
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

অন্যদিকে,
- আয়নাবাজি একটি বাংলাদেশী অপরাধ ধর্মী থ্রিলার চলচ্চিত্র।
- ছবিটির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৭৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. খ) তাজউদ্দিন আহম্মদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) খন্দকার মোস্তাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

সূত্র: Banglapedia
১১,৪৭৪.
পাকিস্তান বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' কবে পরিচালনা করে?
  1. ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তান বাহিনীর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম রাজা।
- লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
- পাকিস্তান বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এর এই অপারেশনের নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশ গ্রহণ করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাতের অভিযানে প্রকৃত হতাহতের হিসাব পাওয়া যায় না।
- বিদেশি সাংবাদিকদের ২৫ মার্চ অভিযানের আগেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
- দেশি সংবাদপত্রের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায় না।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে থাকা তিন বিদেশি সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, মাইকেল লরেন্ট, সাইমন ড্রিং-এর লেখনী থেকে সে রাতের ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে জানা যায়।
- সাইমন ড্রিং ‘ডেটলাইন ঢাকা’ শিরোনামে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তাতে ইকবাল হলের ২০০ ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় শিক্ষক ও তাদের পরিবারের ১২ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পরিবেশিত হয়।
- পুরনো ঢাকায় পুড়িয়ে মারা হয় ৭০০ লোককে।
- দেশি বিদেশি বিভিন্ন সূত্র থেকে যে বিবরণ পাওয়া যায় তাতে ওই রাতে শুধু ঢাকায় ৭ হাজার বাঙালি নিহত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৭৫.
বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয় কোথায়?
  1. ক) করাচি
  2. খ) লাহোর
  3. গ) পাঞ্জাব
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৭৬.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে অ্যাসেম্বলীতে বসবার জন্য বঙ্গবন্ধু কয়টি শর্ত দিয়েছিলেন?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে 'বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে।
- উক্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দুটি উদ্দেশ্য লক্ষ করা যায়.
১. ‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' —এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ।

২. উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে ৪টি পূর্বশর্ত আরোপ করেন, যেমন:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ) প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
ঘ) (জাতীয় অধিবেশনের পূর্বেই) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
এই শর্তগুলো মানলেই যে বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন এমন নিশ্চয়তা ভাষণে দেননি। ৭ মার্চের ভাষণে আন্দোলন চলতেই থাকবে বলে ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৭৭.
চন্দ্রঘোনা কাগজ কলের প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. বাঁশ
  2. আখের ছোবরা
  3. জারুল গাছ
  4. নল-খাগড়া
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলি পেপার মিল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কাগজের কল। ১৯৫১ সালে পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-এর অধীনে ৬৭.৫৭ মিলিয়ন রুপি ব্যয়ে চট্টগ্রাম চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
কাগজ তৈরির জন্য যে মন্ড ব্যবহার করা হয় তা বিশেষত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত কাঠ ও বাঁশ থেকে প্রাপ্ত আঁশজাতীয় কাঁচামাল।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১১,৪৭৮.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. শের শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।

উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয় কত তারিখ?
  1. ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ২৫ মার্চ ১৯৭১
  3. ১৯ মার্চ ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। ⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৮০.
লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
  1. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী 
  2. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
  3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান 
  4. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ব্যাখ্যা

• লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার আগে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

• চার্লস কর্নওয়ালিস:

সেভেন ইয়ার্স ওয়ার (১৭৫৬–৬৩)-এর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন কর্নওয়ালিস। 
এই যুদ্ধে (১৭৬২ সালে) তিনি তার পিতার আর্ল উপাধি ও অন্যান্য পদবি উত্তরাধিকার সূত্রে পান।
তিনি যদিও উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের প্রতি ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি আমেরিকান বিপ্লব দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

- ১৭৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেমিক বাহিনীকে নিউ জার্সি থেকে বিতাড়িত করেন, কিন্তু ১৭৭৭ সালের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন আবার রাজ্যের একটি অংশ পুনর্দখল করেন।

- ১৭৮০ সালের জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নওয়ালিস জেনারেল হোরেশিও গেটসের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যারোলিনার ক্যামডেনে (১৬ আগস্ট, ১৭৮০) এক বড় জয় লাভ করেন।

- পূর্ব নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ভার্জিনিয়ায় অগ্রসর হয়ে তিনি জোয়ারভাটার বন্দর নগর ইয়র্কটাউনে তার ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- সেখানে তিনি আমেরিকান ও ফরাসি স্থলবাহিনীর (ওয়াশিংটন ও কমতে দ্য রোশামবো এর নেতৃত্বে) এবং ফরাসি নৌবাহিনীর (কমতে দ্য গ্রাস এর নেতৃত্বে) দ্বারা অবরুদ্ধ হন।
- অবশেষে তিনি এক দীর্ঘ অবরোধের পর তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করেন।

- যদিও ইয়র্কটাউনে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি যুদ্ধকে উপনিবেশবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত করে দেয়, তবুও কর্নওয়ালিস নিজ দেশে উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখেন।
- ১৭৮৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পদ গ্রহণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১১,৪৮১.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১,৪৮২.
'বাংলার মুক্তি সনদ নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ৭ মার্চের ভাষণ
  3. গ) লাহোর প্রস্তাব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- 'বাংলার মুক্তি সনদ‘ নামে পরিচিত- ৬ দফা
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৮৩.
কবিগানের আদি গুরু কে?
  1. ক) গোঁজলা গুঁই
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) নিধু বাবু
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১১,৪৮৪.
নিচের কোনটি আইয়ুব বিরোধী জোট নয়?
  1. ক) NDF ( NATIONAL DEMOCRATIC FRONT)
  2. খ) COP (COMBINED OPPOSITION PARTY )
  3. গ) NSF (NATIONAL STUDENTS FEDERATION)
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• National Students Federation: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে গর্ভনর মোনায়েম খান তা দমনের জন্য় এটি গঠন করেন।

• সম্মিলিত বিরোধী দল (Combined Opposition Parties বা COP)

• গঠন:
১৯৬৪  সালের ২৬ জুলাই 'কপ' গঠিত হয় আইয়ুব-বিরোধী মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে। 'কপ'-এর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, নেজামে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলাম। সামরিক শাসক আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যূত করাই ছিল এই বিরোধীদদলীয় মোর্চ্চা গঠনের একমাত্র উদ্দেশ্য। 
• নেতা: 
করাচিতে অনুষ্ঠিত 'কপ'-এর কেন্দ্রীয় সভায় পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌'র ভগ্নি মিস ফাতিমা জিন্নাহকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে খাজা নাজিমুদ্দিন ও শেখ মুজিবুর রহমান সহ একদল রাজনৈতিক নেতা ফাতেমা জিন্নাহ'র সঙ্গে দেখা করেন এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিশেষ করে সামরিক শাসককে অপসারণের লক্ষ্যে পদে প্রতিদ্বান্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেন।

• National Democratic Front:
• গঠন: ৪ সেপ্টেম্বর ,১৯৬২ 
• নেতা: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
• এটি আইয়ুব বিরোধী ও গণতন্ত্রের সপক্ষ শক্তিসমূহের দ্বারা গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট।


SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক

১১,৪৮৫.
The first novel of language Movement is-
  1. Kabar
  2. Arek Falgun
  3. Mayer Vasha
  4. Ekusher Golpo
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৪৮৬.
'NAEM' এর পূর্ণরূপ -
  1. National Academy for Educational and management
  2. National Academy for Educational Management
  3. National Academy for Education and Management
  4. National Agency for Educational Management
ব্যাখ্যা
- National Academy for Educational Management (NAEM) was established in July 1991
- An apex institute for giving training and undertaking research on educational planning and management.

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১,৪৮৭.
নিচের কোনটি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মহাতামা গান্ধী ও অসহযোগ আন্দোলন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নাইটহুড উপাধি
  3. সুভাস চন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
- ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাযজ্ঞটি সংঘটিত হয়েছিল ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল।
- ব্রিটিশ সরকারের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ ও শিশুদের এক সমাবেশে শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তার ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন। 

উল্লেখ্য,
- ইংরেজদের সুবিধা করে দিতে ১৯১৯ সালের ১০ মার্চ বলবৎ করা হয় কুখ্যাত ‘রাওলাট অ্যাক্ট’।
- এমনই এক সময়ে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে ডাকা হলো এক প্রতিবাদসভা।
- সেদিন আবার ছিল পাঞ্জাবের অন্যতম বৃহৎ উৎসব বৈশাখীরও দিন।
- তখন পাঞ্জাবে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সাতসকালেই উদ্যান ভরে গেল উৎসাহী ক্রোধতপ্ত মানুষে।
- ইংরেজ সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে মুহূর্তেই গুলি ছুটল প্রতিবাদী জনসমষ্টির দিকে।
- এতে মারা যায় অসংখ্য মানুষ।

উৎস: i) ১৭ মে ২০১৬, বিবিসি।
         ii) ২ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।

১১,৪৮৮.
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন?
  1. জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- মেজর জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৮৯.
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি‒
  1. ময়না
  2. কাক
  3. শালিক
  4. দোয়েল
ব্যাখ্যা
- জাতীয় পাখি : দোয়েল, 
- জাতীয় ফল : কাঁঠাল, 
- জাতীয় গাছ : আম গাছ, 
- জাতীয় মাছ : ইলিশ, 
- জাতীয় ফুল : শাপলা, 
- জাতীয় পশু : রয়েল বেঙ্গল টাইগার, 
- জাতীয় দিবস : ২৬শে মার্চ।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া)
১১,৪৯০.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভুঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে শুরু থেকেই যে আন্দোলন ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তা থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয়।

• প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (১৯৪৭):
- গঠিত: ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে।
- উদ্যোগ: তমদ্দুন মজলিশ।
- উদ্দেশ্য: ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া।
- আহ্বায়ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

• দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ (১৯৪৮):
- গঠিত: ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ।
- উপস্থিত: দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রসমাজ।
- আহ্বায়ক: শামসুল আলম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো।

১১,৪৯১.
'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি' গঠিত হয়—
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- বাঙ্গালির জীবনে ভাষা আন্দোলন এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায়। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের সময়কাল। 
- বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনকে আরো জোরদার করার জন্য ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি "সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি" গঠিত হয়।
- কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন - কাজী গোলাম মাহবুব।

উৎস: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব by ড. মযহারুল ইসলাম
প্রকাশকাল: ১৯৭৪; পৃষ্ঠা নং: ১২৮।

=============
সবার জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি,
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি - বোর্ড বই, সংগ্রামের নোট বুক ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১ম খন্ড) ইত্যাদিতে "সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ" নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

=============
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:

- ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক বসে।
- এই বৈঠকে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখ নেতা ১৪৪ ধারা অমান্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে জোরালো মত দেন।
- অবশেষে সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চত্বর) ছাত্রদের সভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
------------------
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭। এর আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
- দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় - ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১ম খন্ড), ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৯২.
গৌড়ের সোনা মসজিদ নির্মিত হয় কার আমলে?
  1. ক) নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  2. খ) মোবারক শাহ
  3. গ) হোসেন শাহ
  4. ঘ) বরবক শাহ
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

- তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন। তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহ নাম ধারন করেন।
- তিনিই হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন।
- গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ তার আমলে নির্মিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৯৩.
আইয়ুব সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদদের হয়রানির জন্য কতটি নির্বতনমূলক আইন জারি করেছিলেন?
  1. ৫টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা

আইয়ুবি শাসনামলে রাজনৈতিক হয়রানি: 
- আইয়ূব খান একনায়কতান্ত্রিক সামরিক জান্তার মতোই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন।
- তার শাসনামলের প্রথম চার বছর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ছিলো।
- পরবর্তীতে রাজনীতিবিদরা সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করলেও পদে পদে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
- পোডো (PODO, Public Office Disqualification Order) এবং এবডোর (EBDO, Executive Bodies Disqualification Order) মাধ্যমে দেশের বিরোধী রাজনীতিবিদদের জব্দ  করেন।
- এবং হয়রানি করার জন্য দু'টি নির্বতনমূলক আইন আইয়ুব সরকার জারি করেছিলেন।
- এ দুটি আইনের প্রধান শিকার হয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা।
- স্বনামধন্য রাজনীতিবিদদের নিষিদ্ধ করা ছাড়াও আইয়ূব খান বিভিন্ন সময়ে তার বিরোধিতা করার জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, মিয়া দৌলতানা, আতাউর রহমান খান, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ গণতান্ত্রিক নেতাদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক রেখেছেন।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৯৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার কতটি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।
- ছয় দফার ৩টি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল।

দফা সমূহ:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৯৫.
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক-
  1. আকরাম খান
  2. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  3. গাজী আশরাফ হোসেন
  4. নাইমুর রহমান
ব্যাখ্যা
ক্রিকেটে প্রথম অধিনায়ক:

- ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন।
- প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান।
- প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো,০৬ জানুয়ারি ২০১৭।
                দৈনিক প্রথম আলো,১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
                দৈনিক প্রথম আলো,০৭ মে ২০২৩।
১১,৪৯৬.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১ জুলাই ১৯৭১
  2. খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
  3. গ) ১ অক্টোবর ১৯৭১
  4. ঘ) ১ নভেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
১১,৪৯৭.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত কে ছিলেন?
  1. ক) প্রথম জেমস
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) ক্যাপ্টেন জন
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী ছিল তাঁর আত্মজীবনী।
- এখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে প্রথম ইংরেজ দূত ছিলেন স্যার টমাস রো।
- এসকল দূতরা ভারতবর্ষে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সম্রাটের নিকট থেকে সুবিধা আদায় করেন।
- তার সময় থেকেই ভারতে ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৯৮.
বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ 
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. জহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা

- বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (সি.আর দাশ)।

• বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩:
- ব্রিটিশ বিরোধী অহিংস খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করলে, মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
- আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তা বন্ধ ঘোষণা করার পর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হতে থাকে।
- অপরদিকে, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভার দ্বিতীয় নির্বাচন ১৯২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা।
গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে ছিলেন না।
- অপরদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি আর দাশ) এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।
- সি আর দাশের প্রস্তাব কংগ্রেস সম্মেলনে গৃহীত হয়নি এমতাবস্থায়, তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর গঠন করেন স্বরাজ পার্টি।
- সি.আর দাশ ছিলেন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের পক্ষের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে চাননি বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজ প্রদেশ বাংলায় মুসলমান নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে ১৯২৩ সনে এক চুক্তি সাক্ষর করেন যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৯৯.
কোন ভাষা শহীদের মা বর্তমান শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন?
  1. আবুল বরকত
  2. রফিকউদ্দিন আহমদ
  3. শফিউর রহমান
  4. আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৫০০.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২নং
  2. খ) ৪নং
  3. গ) ৬নং
  4. ঘ) ৭নং
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ট সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাত জন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
উৎসঃ যুগান্তর পত্রিকা।