বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১৪ / ১২৪ · ১১,৩০১১১,৪০০ / ১২,৪২১

১১,৩০১.
বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণভোট কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

উৎস: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো ।

১১,৩০২.
Who is the honorable state ministry of ministry of power, energy and mineral resources?
  1. Tawfiq-e-Elahi Chowdhury
  2. Nasrul Hamid
  3. Sultan Ahmed
  4. Md. Anisur Rahman
  5. None of these
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ।
- সাবেক সভাপতি, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। পরিচালক, আবাহনী স্পোর্টিং ক্লাব লি.
- তিনি ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

তথ্যসূত্র - বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১১,৩০৩.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. NAEM
  2. UGC
  3. NAPE
  4. NITAR
ব্যাখ্যা
- National Academy for Educational Management (NAEM) দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
- এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে,
- UGC : University Grants Commission)
- NAPE : National Academy for Primary Education
- NITAR : National Institute of Textile Engineering and Research.
(তথ্যসূত্র: নায়েম ওয়েবসাইট)
১১,৩০৪.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তিতে মুসলমানদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. আকরম খাঁ
  2. এ.কে ফজলুল হক
  3. আব্দুল করিম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল।
-  চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. এ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস : অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩০৫.
‘The Prince of Builder’ নামে কে পরিচিত?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- স্থাপত্যে অসামান্য অবদানের জন্য শাহজাহানকে “The Prince of Builder” বলা হয়।

শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যময় ঘটনায় পরিপূর্ণ।
- তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম নিজে তদারক করতেন এবং প্রজাদেরকে সন্তানতুল্য বিবেচনা করতেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন ও স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ‘শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন নগর তিনি নির্মাণ করান যা বর্তমানে নতুন দিল্লী নামে পরিচিত।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩০৬.
১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. রাও ফরমান আলী
  2. খাদিম হোসেন রাজা
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. এ কে নিয়াজী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
১১,৩০৭.
The Teesta River water-sharing dispute between India and Bangladesh primarily revolves around:
  1. Navigation rights for cargo ships
  2. Flood control during monsoons
  3. Allocation of dry-season water flows
  4. Hydropower generation projects
ব্যাখ্যা

তিস্তা চুক্তি:
- তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি মূলত ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে
পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে ব্রহ্মপুত্র নদীতে মিশে যায়।
- উত্তরবঙ্গের (বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের) কৃষি সেচের জন্য তিস্তার পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির অভাব হলে শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এটি শুধু ভৌগোলিক ইস্যু নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু।
- ভারত তিস্তা নদীতে একাধিক বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ করেছে (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে)। ফলে বর্ষাকাল বাদ দিলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ কমে যায়। বাংলাদেশ দাবি করে, ন্যায্য ও সমানভাবে টীস্তার পানি ভাগাভাগি করা দরকার।
- ২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। বাংলাদেশে সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি তোলায় চুক্তি সই হয়নি। ফলে এখনও (২০২৫ সাল পর্যন্ত) এ সমস্যা সমাধান হয়নি।
- উত্তরবঙ্গের কৃষকরা সেচের জন্য পানির ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রতিটি বাংলাদেশ-ভারত বৈঠকে এই ইস্যুটি গুরুত্ব পায় এটি একটি দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপের ক্ষেত্র। বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কৃষকের অধিকার ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
- তিস্তা পানি বণ্টন বিরোধ মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-ভৌগোলিক দ্বন্দ্ব।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১১,৩০৮.
মৌলিক গণতন্ত্রের কতটি স্তর ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩০৯.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারতি অনুষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. বজ্রকণ্ঠ
  2. চরম পত্র
  3. গানের কলি
  4. জল্লাদের দরবার
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
- ফলে এটি অচল হয়ে যায়। কেন্দ্রটি ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাগাফায় একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করে। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’ বজ্রকণ্ঠ।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়। 

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩১০.
তমদ্দুন মজলিশ কোন ধরণের প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনে জন্ম নেওয়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে উক্ত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- সংগঠনটি সাংস্কৃতিক সম্মেলন, বিতর্ক সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের নিয়মিত আয়োজন করত।
- তমুদ্দুন মজলিশ পুস্তিকা প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় পূর্ববাংলার শিক্ষার বাহন, আইন আদালত ও অফিসের ভাষা বাংলা করতে হবে।
- যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারিতে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩১১.
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যের জন্য কোন পর্যটন স্থান খ্যাত?
  1. কক্সবাজার
  2. সেন্ট মার্টিন
  3. সুন্দরবন
  4. কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
- পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত।

⇒ ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।
- বাংলাদেশের এটাই একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই ভাল দেখা যায়।
- এছাড়া আরও যে সব দর্শনীয় স্থান রয়েছে কুয়াকাটায় সেগুলো হলো- ফাতরার বন: সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম দিকে ম্যানগ্রোভ বন শুরু হয়েছে, যার নাম ফাতার বন।
- সংরক্ষিত বনভুমি ফাতরার বন ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,৩১২.
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চালুকৃত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ এর প্রথম পরিচালক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ড. শামসুজ্জামান খান
  2. খ) ড. ফকরুল আলম
  3. গ) ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
  4. ঘ) ড. মাকসুদ কামাল
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২০ এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার জন্যে এটিই দেশে স্থাপিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
১১,৩১৩.
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৬
  2. খ) ১৯৫৮
  3. গ) ১৯৫৯
  4. ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• পুঁজি বাজার বা স্টক মার্কেটকে সেকেন্ডারি মার্কেট হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। 
• বাংলাদেশে ২টি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো -
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৫৪) এবং
- চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (১৯৯৫)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৫৬ সালে নারায়ণগঞ্জে এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকার মতিঝিলে স্থানান্তরিত হয়। 
• বাংলাদেশে শেয়ার মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) যা ১৯৯৩ সালের ৮ জুন প্রতিষ্ঠিত।
• গ্রাহকের পুঁজির নিরাপত্তা বিধান ও পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এই কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র:- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও BSEC ওয়েবসাইট।
১১,৩১৪.
জাতীয় শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘের কোন অঙ্গ সংগঠন স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) ইউএনডিপি
  2. খ) ইউনেস্কো
  3. গ) এফএও
  4. ঘ) আইএল
ব্যাখ্যা
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো তার ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এতে করে ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
(সূত্রঃ ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
১১,৩১৫.
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন কে?
  1. গোলাম মুহাম্মদ
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা: 
- গোলাম মুহাম্মদের পদত্যাগের পর ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।
- তাঁর অগণতান্ত্রিক আচরণ ও হস্তক্ষেপের ফলে ১৯৫৬-৫৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রে তিনটি মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- এই সময় পূর্ব পাকিস্তানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের মধ্যে গোলযোগে পরিষদ কক্ষেই ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলী আহত হন এবং পরদিন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট মীর্জা বেসামরিক শাসন অবসানের উদ্যোগ নেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৩১৬.
কোথায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয়?
  1. ক) ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. খ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) পিলখানা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র' মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩১৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ অনুযায়ী, নারী বা শিশু পাচার করলে সর্বোচ্চ শাস্তি- 
  1. শুধু অর্থদণ্ড
  2. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড
  4. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

- মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ বছর।

- বাংলাদেশের আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০:

- যদি কোনো ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনি বা নীতিগর্হিত কোনো কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে কোনো নারী বা শিশুকে বিদেশ থেকে আনয়ন করেন বা বিদেশে পাচার বা প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা অনুরূপ কোনো উদ্দেশ্যে কোনো নারী ও শিশুকে তার দখলে বা হেফাজতে রাখেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ বছর কিন্তু অন্যূন ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

উল্লেখ্য,
- মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২- এ মানবপাচারের জন্য দায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, এবং সংবিধান।

১১,৩১৮.
আওয়ামী লীগের ৬ দফা কোন সালে পেশ করা হয়?
  1. ১৯৬৫
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- ৭ জুন ছয় দফা দিবস। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩১৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের-
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ৩ মার্চ
  3. গ) ৭ মার্চ
  4. ঘ) ৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ.স.ম আব্দুর রব।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১১,৩২০.
কোনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস?
  1. ১৪ ফেব্রুয়ারি
  2. ১ জানুয়ারি
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: 
- ২১ ফেব্রুয়ারি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়। 
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩২১.
একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে ছাত্ররা কবে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন (২৩ ফেব্রুয়ারি)।
- ড. সাঈদ হায়দার নকশার পরিকল্পনা করেন।
- শহীদ শফিউরের পিতা ২৪ তারিখে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সেই মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩২২.
বাংলাদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী কে?
  1. ড. শামসুজ্জোহা
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. জি.সি. দেব
ব্যাখ্যা
• ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে শহীদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা।

ড. শামসুজ্জোহা:
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং তৎকালীন প্রোভোস্ট ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল।
- পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিলে ড. শামসুজ্জোহা বাধা দেন।
- তিনি ছাত্রদের রক্ষা করতে সামরিক বাহিনীর সামনে এগিয়ে গেলে সৈন্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৩২৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন কে?
  1. কে এম শফিউল্লাহ
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. মেজর খালেদ মোশারফ
  4. মেজর আব্দুল জলিল
ব্যাখ্যা
→ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন কে. এম. শফিউল্লাহ।

মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ:
- কাজী মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বীর উত্তম যিনি কে এম শফিউল্লাহ নামেও পরিচিত।
- তার জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ তারিখে।
- দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে, তার ব্যাটালিয়ন সহ, তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি অফিসার যিনি ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে বিদ্রোহ করেন এবং ৫৭ বিডিই কমান্ডার-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন।
- তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় সদর দপ্তর ৩ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হন।
- তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন।
- শফিউল্লাহ ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান হন।
- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ অভ্যুত্থানের পর, রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমদ তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য,
- জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন: মেজর জিয়াউর রহমান।
- কে ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন: মেজর খালেদ মোশারফ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,৩২৪.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিম্নের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেনি?
  1. বব ডিলান
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. জন লেনন
ব্যাখ্যা
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ জন লেনন অংশগ্রহণ করেনি। 

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে। 

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
১১,৩২৫.
বাংলাদেশের সর্ব প্রাচীন জনপদের নাম কী?
  1. পুণ্ড্র
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র জনপদ
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
• গৌড়- মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাপাইনবাবগঞ্জ।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

উৎস:
১।বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২।বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৩।বাংলাপিডিয়া।

১১,৩২৬.
১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ দলিলের শিরোনাম কী ছিল?
  1. Instrument of Liberation
  2. Instrument of Surrender
  3. Pakistan Capitulation Act
  4. Bangladesh Independence Document
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল: INSTRUMENT OF SURRENDER 1971
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম INSTRUMENT OF SURRENDER.
- এটি তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়। একটি প্রস্থ ভারত সরকার এবং দ্বিতীয় প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। তৃতীয় প্রস্থটি রয়েছে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী-মিত্রবাহিনী যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমপর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ -ই - আর্কাইভ।
ii)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১১,৩২৭.
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত জনপদের অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. বর্ধমান
  2. মেদিনীপুর
  3. বরিশাল
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত জনপদ:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩২৮.
গারো পাহাড় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1.  উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় ৮ হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১,৩২৯.
'জাতীয় গ্রন্থাগার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শাহবাগ
  2. খ) গুলিস্তান
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) শেরে বাংলা নগর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার শেরে বাংলা নগরে আগারগাঁও এ অবস্থিত। ১৯৭২ সালে পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের একটি পরিত্যক্ত ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে সেখান থেকে সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়িতে এবং ১৯৮৫ সালের ১ নভেম্বর শেরে বাংলা নগরে নিজস্ব ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়। শাহবাগে গণগ্রন্থাগার এবং গুলিস্তানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অবস্থিত। (সূত্রঃ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১১,৩৩০.
শেখ মুজিবুর রহমানকে কবে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক' ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন

- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ 'স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে পাকিস্তানি উপনিবেশবাদের কবল হতে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে 'কৃষ্ণক শ্রমিকরাজ' কায়েম করার শপথ গ্রহণ করা হয়।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক' ঘোষণা করা হয়।
- এদিনের এ ছাত্র গণ জমায়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১,৩৩১.
ঢাকায় কত সালে প্রথম সুবা বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ১৬০৫ সালে
  2. ১৬০৮ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা

রাজধানী ঢাকা:
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উৎস: i) ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যাডার্ড।

১১,৩৩২.
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন জারি হয় কবে?
  1. ৮ মার্চ, ১৯৮৬
  2. ৮ মার্চ, ১৯৮৭
  3. ৮ মার্চ, ১৯৮৮
  4. ৮ মার্চ, ১৯৮৯
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তভু‌র্ক্ত করেন।
- সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ তিন অনুসারে বাংলা ভাষার ব্যবহার আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রবর্তন করা হয়।
- মাত্র চারটি ধারার সে আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।’
- ওই আইনের ৩(২) ধারায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘কোন কর্মস্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন, তাহলে তা বেআইনী ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- সরকারি কর্মকর্তাদের এ আইন অমান্যের জন্য ৩(৩) ধারায় শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
- শাস্তি হিসেবে এ আইন আমান্যকারী ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- ১৯৮৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সব আইন, অধ্যাদেশ, বিধিবিধান ও প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি বাংলায় প্রণীত হচ্ছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, প্রথম আলো। 
১১,৩৩৩.
তমদ্দুন মজলিশের ‍মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. গ) সাপ্তাহিক মিল্লাত
  4. ঘ) দৈনিক ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের মুখপাত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর। ঢাকার আজিমপুর রোডের ১৯ নং বাড়ি থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো।
- ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু ছিল।
- তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

 
১১,৩৩৪.
ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠিত হয় -
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৭ সালে
  4. ১৮৬৯ সালে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- ইংরেজরা এদেশে এসেছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে।
- উপমহাদেশের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে তারা এদেশের শাসক হয়ে উঠে।
- তারা এই উপমহাদেশের উর্বর জমিতে খাদ্য ফসলের পরিবর্তে বাণিজ্য ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠে। নীল ছিল তাদের সেই বাণিজ্য ফসল।
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- নীল চাষে কৃষকরা রাজি না হলে তাদের উপর চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের। ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- ১৮৫৯ সালে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তা-ই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬০ সালে সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

বি.দ্র:
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে,
- নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠিত হয় ৩১ মার্চ, ১৮৬০ সালে এবং কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে ১৪ আগস্ট, ১৮৬০ সালে।
ভারতের ন্যাশনাল আর্কাইভ প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য অনুসারে,
- নীল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশকাল ১৮৬০ দেওয়া রয়েছে।
ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে,
- মার্চ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলায় নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে "নীল আইন (Indigo Act)" প্রণয়ন করে এবং একটি কমিশন গঠন করে।
- কমিশন আগস্ট, ১৮৬০ সালে রিপোর্ট প্রদান করে এবং নীল চাষের প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়।
- বাংলায় তখন নীল চাষের বিলুপ্তি ঘটলেও বিহারে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত নীল চাষ অব্যাহত ছিলো।

⇒ প্রশ্নের অপশনে ১৮৬০ থাকলে সেটি অধিক যুক্তিযুক্ত উত্তর হবে। যদি না থাকে, তবে বোর্ড বই অনুসারে উত্তর ১৮৬১ সাল হবে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৩৫.
লক্ষ্মণ সেন কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ৪৮ বছর
  2. ৬০ বছর
  3. ৭২ বছর
  4. ৮০ বছর
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মণ সেন:
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- বখতিয়ার খিলজির আক্রমণকালে তিনি আশি বছরের বৃদ্ধ ছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- লক্ষ্মণ সেন নিজ সাম্রাজ্যকে বাইরের শত্রুদের হাত থেকে খুব একটা সুরক্ষিত রাখতে পারেননি।
- রাজত্বের শেষের দিকে তিনি বার্ধক্যের কারণে বেশ দুর্বলও হয়ে পড়েছিলেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৩৬.
‘ভাওয়াইয়া’ কোন অঞ্চলের গান?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
• 'ভাওয়াইয়া':
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান।
- মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ারী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'লেটো' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,৩৩৭.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করে কত সালে?
  1. ১৭৬২ সালে
  2. ১৭৬৩ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- মুঘল শাসন আমলে বাংলার দেওয়ানের পদ এবং সুবেদারের পদ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত ছিল। মুর্শিদ কুলি খান এই নিয়ম ভেঙ্গে দুটি পদ একাই দখল করে নেন।
- এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সম্রাট কোম্পানিকে বাৎসরিক উপঢৌকনের বদলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি গ্রহণের অনুরোধ করেন। তখন কোম্পানি বিষয়টি অগ্রাহ্য করে।
- দেওয়ানি শর্ত সম্পর্কিত দুটি চুক্তি করা হয়।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি।
- অপর চুক্তিটি হয় মীর জাফরের নাবালক পুত্র নবাব নাজিম-উদ-দ্দৌলার সঙ্গে।
- এই দুটি চুক্তির ফলে যে দেওয়ানি লাভ করা হয় তাতে এ অঞ্চলে কোম্পানির ক্ষমতা একচেটিয়া বৃদ্ধি পায়। ফলে সমস্ত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- দেওয়ানি লাভ কোম্পানির শুধু রাজনৈতিক নয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশাল বিজয়।
- সম্রাট ও নবাব উভয়েই ক্ষমতাহীন শাসকে পরিণত হন। প্রকৃতপক্ষে তারা হয়ে যান কোম্পানির পেনশনভোগী কর্মচারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৩৮.
১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি ৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত মোর্চার নাম ছিল -
  1. ক) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়রি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দরা মিলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- অচিরেই ১১ দফা দাবিকে আপামর বাঙালি সমর্থন প্রদান করে।
- ঊনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রামের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী। ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) (Democratic Action Party - DAC) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি পেশ করে।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৩৩৯.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম-
  1. বাকেরগঞ্জ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. সুবর্ণগ্রাম
  4. ময়নামতি
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অপরদিকে,
- চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৪০.
মোগল প্রশাসন ব্যবস্থায় সম্রাটের পরের স্থান ছিল কার?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. শিকদার
  3. দিউয়ান
  4. কাজী-উল-কুজ্জাত
ব্যাখ্যা
মোগল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মোগল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মোগল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মোগলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মোগল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মোগল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৪১.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন?
  1. ৩৪ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৩৬ বছর
  4. ৩৮ বছর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
⇒ ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
- তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
 
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,৩৪২.
ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছেন?
  1. মীর জুমলা
  2. শায়েস্তা খাঁ
  3. লর্ড কার্জন
  4. মীর কাশিম
ব্যাখ্যা
♦ ঢাকা গেইট 
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করেছিলেন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দোয়েল চত্বর থেকে বাংলা একাডেমির রাস্তায় জাতীয় তিন নেতার মাজারের সাথেই অবস্থান ঢাকা গেটের।
- মীর জুমলা গেট, ময়মনসিংহ গেট বা রমনা গেট নামেও পরিচিত ছিল।
- ১৮২৫ সালে ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ডাউস প্রথমবার এটির সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ২০২২ সালে ঢাকা গেট সংস্কারের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
- গত ২৪ মে, ২০২৩ এই ঢাকা গেট বা ঢাকা ফটকের সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। 
-২৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে উদ্বোধনের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। 

উৎস: LIVE MCQ সাম্প্রতিক সমাচার (ফেব্রুয়ারি)।
১১,৩৪৩.
দিল্লিতে ইবনে বতুতা কোন সুলতানের অধীনে কাজী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. আলাউদ্দিন খিলজি
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. কুতুবুদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'রাজশাহী' কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
সিলেট-  ৪ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৪৫.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৪৬.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. মীর জাফর
  2. মীর কাসিম
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধে মীর কাসিম পরাজিত হন।
- ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাসিমকে নবাব হিসেবে বসায়।
- মীর কাসিম কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৩ সালে নবাব ও ইংরেজদের মধ্যে বড় যুদ্ধ শুরু হয়।
- প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র: কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা, মুঙ্গের।
- নবাব পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে যান।
- পুনরুদ্ধারের চেষ্টা: অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সারে সংঘটিত বক্সারের যুদ্ধে নবাব ও সহায় বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৪৭.
বাংলাদেশে বিনিয়োগে শীর্ষ দেশ-
  1. ক) সিঙ্গাপুর 
  2. খ) জাপান
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) চীন 
ব্যাখ্যা
• ৯ জুন, ২০২২ জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD) 'World Investment Report 2022' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালে-
- বৈশ্বিক বিনিয়োগে শীর্ষ দেশ চীন।
- বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র। 
- বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) হয় ২,৮৯৬.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
• বাংলাদেশে বিনিয়োগে শীর্ষ ৫টি দেশ (মিলিয়ন মার্কিন ডলার):
১. যুক্তরাষ্ট্র (৫৮৫.৮৮); 
২. চীন (৪০৭.৮৮); 
৩. সিঙ্গাপুর (২৯৮.৬৯); 
৪. যুক্তরাজ্য (২৯৬.০১) ও 
৫. দক্ষিণ কোরিয়া (১৫৪.৪৭)।
১১,৩৪৮.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা কোনটি?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. নীলফামারী
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১১,৩৪৯.
'পঞ্চাশের মন্বন্তর' বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১৯৪৩ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৩৪৩ সালে
  4. ১৩৫০ সালে
ব্যাখ্যা
পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- বাংলার ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তর।
- ইংরেজি ১৯৪৩ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সনে এই দুর্ভিক্ষটি হয়েছিল বলে এটি পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- ১৭৭০ সালের পর বাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল এটি।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রায় সাত লাখ পরিবারের ৩৮ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষ এবং দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষের পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটা বড় কারণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৫০.
মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় কবে? 
  1. ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

উল্লেখ্য, 
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১১,৩৫১.
ঝুমুর নাচ কোন অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
ঝুমুর নাচ রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ। এটি পূর্বে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা সাধারণের নিকটও বেশ জনপ্রিয়। সাঁওতালরা তাদের করম উৎসবে ঝুমুর নাচ ও গান পরিবেশন করে থাকে। সিলেট অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ মণিপুরী নৃত্য। যশোর অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ বল নৃত্য এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যান নাচ হলো জারি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি - বাংলা একাডেমি)
১১,৩৫২.
বাংলাদেশের জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস কোন তারিখে উদযাপিত হয়?
  1. ৩০ জুন
  2. ৭ জুলাই
  3. ১১ জুলাই
  4. ২৩ জুলাই
ব্যাখ্যা
জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস:
- ২৩ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে প্রবেশকালে কর্মকর্তাদের ধারণা দেওয়া হয়-সিভিল সার্ভিসের জন্য জনগণ নয়, বরং জনগণের জন্যই সিভিল সার্ভিস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা বিধান, পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ভূমি প্রশাসন, কৃষি উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জনসংযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, রাজস্ব আদায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি জনপ্রশাসনের মূল কর্মকাণ্ড। এসব দায়িত্ব পালনের পেছনে সততা, মেধা ও দক্ষতাই সিভিল সার্ভিস সদস্যদের শক্তি ও প্রেরণার উৎস। প্রশাসন মানে শুধু কর্তৃত্ব আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ নয়, এর সমান্তরালে ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও অপরিহার্য। প্রশাসন-সুবিধাভোগীরা সমান্তরালে চলবেন। ২৩ জুন ‘আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস’। বিশ্বব্যাপী সিভিল সার্ভিস সদস্যদের জন্যই এ দিবস। সিভিল সার্ভিস হোক সেবামুখী ও জনমুখী-এ প্রত্যাশায় জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে। এ দিবস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই বাংলাদেশে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস ডে পালন করা হচ্ছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) যুগান্তর।
১১,৩৫৩.
The architect of 'Shaheed Minar' is-
  1. Joynul Abedin
  2. Hamidur Rahman
  3. Kamrul Hassan
  4. Hashem Khan
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। 
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,৩৫৪.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয়ে প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. আমিনুল ইসলাম
  3. কামাল হোসেন
  4. রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৫৫.
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলা ১৩৬৮, ইংরেজি ১৯৬১ সালে সারাবিশ্বে রবীন্দ্রশতবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়।
- কিছু বাঙালি একত্র হন আপন সংস্কৃতির মধ্যমণি রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবর্ষপূর্তির উৎসব করবার জন্যে উদ্যোগী হলেন বিচারপতি মাহবুব মুর্শেদ, ডক্টর গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ বুদ্ধিজীবী, 
- বাংলার এই প্রান্তের সংস্কৃতিসচেতন মানুষের মনেও চাঞ্চল্য জাগায়। 
- উদ্‌যাপনের ঐকান্তিক ইচ্ছায় পাকিস্তানি শাসনের থমথমে পরিবেশেও তেমনি ঢাকার কিছু সংস্কৃতিকর্মীও আগুয়ান হলো শতবর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্যে। 
- শতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করবার পর এক বনভোজনে গিয়ে সুফিয়া কামাল, মোখলেসুর রহমান (সিধু ভাই), সায়েরা আহমদ, শামসুন্নাহার রহমান (রোজ বু), আহমেদুর রহমান (ইত্তেফাকের ‘ভীমরুল’), ওয়াহিদুল হক, সাইদুল হাসান, ফরিদা হাসান, সন্‌জীদা খাতুন, মীজানুর রহমান (ছানা), সাইফউদ্দীন আহমেদ মানিকসহ বহু অনুপ্রাণিত কর্মী সাংস্কৃতিক আন্দোলন চালিয়ে যাবার জন্যে সমিতি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। 
- ইংরেজি ১৯৬১ জন্ম হয় ছায়ানটের। 

উৎস: ছায়ানটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১১,৩৫৬.
বঙ্গভঙ্গের সময় বাংলাকে কয়টি প্রদেশে ভাগ করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

১১,৩৫৭.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে কতটি আসন ছিল?
  1. ক) ২২৩টি
  2. খ) ২৩৭টি
  3. গ) ৩০৯টি
  4. ঘ) ৩১০টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচন।
- পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে আসন ছিল ৩০৯টি।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে।
- মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনসহ প্রভাবশালী ৫ সদস্যের সকলেই নির্বাচনে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য,
- মুসলিম নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনে ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- এই ৯টি আসনের সবগুলোতে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৫৮.
চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত:
- এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত হয়। 
- এটি প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া ছাড়াও জমিদারগণ স্বত্বাধিকারের সুবিধার সাথে চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনীয় এক নির্ধারিত হারের রাজস্বে জমিদারিস্বত্ব লাভকরেন।

অন্যদিকে,
- লর্ড ডালহৌসী বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- এই আইন প্রণয়ন করেন-১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- লর্ড ডালহৌসী স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়লাট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৫৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘে কয়বার যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়?
  1. এক বার
  2. দুই বার
  3. তিন বার
  4. ছয় বার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়।
- পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এছাড়াও, 
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। 

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা।
১১,৩৬০.
‘পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি’ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করা
  2. বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক করা
  3. বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে আরবি হরফ চালু করা 
  4. বাংলা ভাষায় নতুন বর্ণমালা প্রবর্তন করা
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,৩৬১.
কত খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
-  ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা কাউন্সিল নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মেজর এডামসের নেতৃত্বে প্রেরিত ইংরেজ বাহিনীর কাছে গিরিয়া, কাটোয়া ও উদয়নালার যুদ্ধে নবাব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্ব দেন- মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন - লর্ড ক্লাইভ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৬২.
শহিদদের স্মরণে ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে প্রথম শহিদ মিনার তৈরি করে কবে?
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৬ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
- সভা, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
- আন্দোলনের নেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে মিছিল এগিয়ে যায়, যা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে।
- পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
- একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে আবুল বরকত, জব্বার, রফিকসহ অনেকে শহিদ হন।
- অনেকে আহত হন।
- ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র‍্যালি বের হয়।
- পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন।
- শহিদদের স্মরণে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে শহিদ মিনার তৈরি করে
- শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে ওই দিন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৩৬৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন -
  1. লাহোরে
  2. করাচিতে
  3. ঢাকা
  4. রাওয়ালপিন্ডিতে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি লাহোরে এই ঘোষনা দেন।

ছয় দফা কর্মসূচি,
১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম ।
২) শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩) দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪) আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।
৫) দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে। ৬) অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৬৪.
কত খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দ্য-গামা ভারতবর্ষে পৌঁছান?
  1. ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দ্য-গামা ভারতবর্ষে পৌঁছান।

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-দ্য-গামা।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে ভাস্কো-দ্য-গামার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

⇒ পর্তুগিজরা ব্যবসায়-বাণিজ্যকে মূলধন করে এদেশে এলেও ক্রমে ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৬৫.
'ওরস্যালাইন' নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন?
  1. IEDCR
  2. BIRDEM
  3. ICDDR,B
  4. EPI
ব্যাখ্যা
ওরস্যালাইন:
- ওআরএস অর্থাৎ ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট, যাকে আমরা খাওয়ার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন বলে জানি।
- এর উদ্ভাবন ও গবেষণা করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা।
- সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি) ১৯৮৫ সাল থেকে ওআরএস বাজারজাত করছে।
- ২০১২ সালের জুন মাসে দ্য ল্যানসেট খাওয়ার স্যালাইনকে ‘বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত আবিষ্কার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 

⇒ আইসিডিডিআর,বি:
- ICDDR,B-এর পূর্ণরূপ: International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh বা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ।
- আইসিডিডিআর,বি ১৯৬০ সালে ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থা (সিটো) কলেরা গবেষণাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি (CRL) শীঘ্রই ডায়রিয়া রোগ গবেষণায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।
- এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অবদান ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Solution/ORS) উদ্ভাবন।
- লবণ ও গুড় অথবা চিনির সংমিশ্রণে তৈরী এ দ্রবণ তীব্র উদরাময় রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়া দেহ রসের পুনঃযোগান দেয়।
- দেহের শুষ্কতারোধে ORS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আজ পর্যন্ত বহু রোগীর জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে।

উৎস: i) ICDDR,B ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৬৬.
বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) মজনু শাহ
  2. খ) মীর নিসার আলী
  3. গ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. ঘ) নুরুলদীন
ব্যাখ্যা
তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১,৩৬৭.
সিপাহী বিদ্রোহ কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল?
  1. কানপুর
  2. ব্যারাকপুর
  3. দিল্লি
  4. মিরাট 
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
-  রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৬৮.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন?
  1. ১নং সেক্টরে
  2. ২নং সেক্টরে
  3. ৩নং সেক্টরে
  4. ৪নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১১,৩৬৯.
বাংলাদেশের টেলিফোন শিল্প সংস্থা অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লায়
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) টঙ্গীতে
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) অবস্থিত টঙ্গীতে।
উৎসঃ ডেইলি স্টার
১১,৩৭০.
বাংলাদেশের ইতিহাস ১৭ এপ্রিল কেন বিখ্যাত?
  1. ক) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ নেন
  2. খ) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
-----------------------
প্রথমত, প্রশ্নের প্যাটার্ন দেখুন। ক ও গ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অর্থাৎ এমনিতেই উত্তর ঘ) উপরের সবগুলো এটা হবে ধরা যায়। জব সল্যুশনের প্রশ্নে উত্তর থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ১০ এপ্রিল থেকে জারিকৃত/বলবৎ ধরা হয়েছে। এটার পেছনে একটা বিশেষ কারণ আছে। ১০ এপ্রিল আসলে তেমন কিছুই হয়নি। তাজউদ্দীন আহমদ ১১ তারিখে শিলিগুড়ি থেকে বেতারে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলনীতি সম্বলিত যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার বৈধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য ১০ এপ্রিল ধরা হয়েছে। বিস্তারিত, মুল্ধারা ৭১ এর ৩য় অধ্যায়ে দেখুন।
এই টপিকে অনেক পরীক্ষায় ভাষাগত কারণে উত্তর নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝে উত্তর করতে হবে।

১১,৩৭১.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন হোসেন শাহ 
  4. ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৭২.
কোন শাসকের আমলে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' ঘটেছিল?
  1. রামপাল
  2. ধর্মপাল
  3. দ্বিতীয় মহীপাল
  4. দিব্যক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় মহীপাল:
- প্রথম মহীপালের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র নয়পাল ও পৌত্র তৃতীয় বিগ্রহপাল একে একে রাজা হন।
- তাঁদের দুর্বলতার সুযোগে বাইরের আক্রমণকারীরা বারবার আক্রমণ করে পাল সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
- তৃতীয় বিগ্রহপালের পর রাজা হন তাঁর পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল।
- তাঁর সময় উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে বিদ্রোহ হয়।
- দিব্যক ছিলেন কৈবর্ত নেতা ও এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এই জন্য এই বিদ্রোহ কৈবর্ত বিদ্রোহ বা বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
- দ্বিতীয় মহীপাল বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন।
- দিব্যক বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজা হন।
- দ্বিতীয় মহীপালের পর রাজা হন তার ছোট ভাই শূরপাল।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৭৩.
দুঃসাহসী নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা উপমহাদেশের কোন বন্দরে প্রথম আসেন?
  1. কোচি
  2. কালিকট
  3. পারাদ্বীপ
  4. তুতিকোরিন
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা। 
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৭৪.
কোন তারিখ থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে?
  1. ১২ মে, ১৯৭২
  2. ৫ আগস্ট, ১৯৭২
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ৪ মে, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালী পল্টনে যোগদান করে করাচি যান।
- ১৯৪২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাকশক্তিরহিত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন।
- বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে।
- কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়।
- ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ মে থেকে তাঁকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
- ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
iii) Daily Star Bangla [লিংক]

১১,৩৭৫.
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বর্তমানে দেশে কয়টি সার কারখানা রয়েছে?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
শিল্প মন্ত্রণালয়াধীন বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দেশে ৭টি সার কারখানা রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী
- শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোঃ লিমিটেড
- চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিমিটেড
- যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড
- আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানী লিঃ
- টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটিড
- ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিঃ
  
উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
১১,৩৭৬.
OIC - এর কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়। ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

১১,৩৭৭.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম কত সালে ভারতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে?
  1. ক) ১৬৪৯
  2. খ) ১৭৩২
  3. গ) ১৬৫১
  4. ঘ) ১৭৪৯
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম বাণিজ্যকুঠি ১৬৫১ খিস্টাব্দে উড়িষ্যার বালেশ্বরে স্থাপিত হয়। 
- পরে হুগলি, পাটনা, ঢাকা, কাসিমবাজার ও কলকাতায়ও এ ধরনের বাণিজ্যকুঠি গড়ে ওঠে। 
- এসব বাণিজ্যকুঠির অধীনে অসংখ্য মফস্বল কুঠি ছিল।  
- ইংরেজদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর ছিল হুগলিতে। পরে এটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়।
-  ফরাসিদের সদর দপ্তর ছিল চন্দননগরে।
-  ওলন্দাজ ও দিনেমারদের সদর দপ্তর যথাক্রমে চুঁচুড়া ও শ্রীরামপুরে ছিল। 
- ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য এগুলি ছিল ইউরোপীয়দের বসতি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১,৩৭৮.
সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি -
  1. মতি মসজিদ
  2. দিওয়ান-ই-খাস
  3. দিওয়ান-ই-আম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যময় ঘটনায় পরিপূর্ণ।
- তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম নিজে তদারক করতেন এবং প্রজাদেরকে সন্তানতুল্য বিবেচনা করতেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন ও স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ‘শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন নগর তিনি নির্মাণ করান যা বর্তমানে নতুন দিল্লী নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৭৯.
বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে?
  1. ইব্রাহিম লোদি
  2. দাউদ খান কররানি
  3. শের শাহ সুরি
  4. হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

মুঘল শাসন :  
- মুঘল শাসন (১৭৫৭ পর্যন্ত)  ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে খান জাহানের কাছে কররানী আফগান সুলতান  দাউদ খান এর পরাজয়ের পর বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দাউদ খানের বিরুদ্ধে খান জাহানের জয় লাভের পর মুঘলরা বাংলায় তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যায়।
- এবং শেষ পর্যন্ত ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে জাহাঙ্গীর-এর সুবাহদার  ইসলাম খান চিশতি সমগ্র বাংলা (চট্টগ্রাম ছাড়া) মুঘলদের কর্তৃত্বাধীনে আনেন।
- দাউদ খানের পরাজয়ের সঙ্গেই বাংলায় সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে।
- কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এ নয় যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কতিপয় সামরিক দলপতি ও ভূঁইয়াদের কেউ কেউ রাজা উপাধি গ্রহণের মতো শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন এবং তারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন দলপতি হিসেবে তাঁরা মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
- মুঘল আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত ভূঁইয়ারা ছিলেন সর্বাধিক খ্যাত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৮০.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান কয়টি দাবি উপস্থাপন করেন?
  1. ক) চারটি
  2. খ) ছয়টি
  3. গ) সাতটি
  4. ঘ) এগারোটি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহব্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন। যথা:
১.চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২.সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্তকরা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
১১,৩৮১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি ছিলেন কে?
  1. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আতাউর রহমান খান
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১,৩৮২.
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. অস্ট্রিয়া
  2. বেলজিয়াম
  3. পোল্যান্ড
  4. পূর্ব-জার্মানি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
১১,৩৮৩.
ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৩১০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৩২৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৩৮৪.
উপমহাদেশে সর্বশেষ আগত ইউরোপীয় বাণিজ্যিক গোষ্ঠী কোনটি?
  1. পর্তুগিজ
  2. ডাচ
  3. ইংরেজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৩৮৫.
কত বছর বয়সে লক্ষ্মণ সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ১৭ বছর
  2. ২৭ বছর
  3. ৪৮ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- বখতিয়ার খিলজির আক্রমণকালে তিনি আশি বছরের বৃদ্ধ ছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- লক্ষ্মণ সেন নিজ সাম্রাজ্যকে বাইরের শত্রুদের হাত থেকে খুব একটা সুরক্ষিত রাখতে পারেননি।
- রাজত্বের শেষের দিকে তিনি বার্ধক্যের কারণে বেশ দুর্বলও হয়ে পড়েছিলেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৮৬.
মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে প্রশাসনিক কাঠামো কয় স্তর বিশিষ্ট ছিল?
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র :
মৌলিক গণতন্ত্র ১৯৬০-এর দশকে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রবর্তিত একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি।
-মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি হয় - ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ সাল।
-এ সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কাঠামো ৪ স্তর বিশিষ্ট ছিল-
১. ইউনিয়ন পরিষদ।
২. থানা পরিষদ।
৩. জেলা পরিষদ।
৪. বিভাগীয় পরিষদ।

তাছাড়াও,
- একজন চেয়ারম্যান এবং প্রায়শ ১৫ জন সদস্য নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হতো।
- সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিনিধি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের থানা পরিষদ গঠিত হতো।
- তৃতীয় স্তরে ছিল জেলা পরিষদ। একজন চেয়ারম্যান এবং সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হতো।
- চতুর্থ ও শীর্ষ স্তর ছিল বিভাগীয় পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকারবলে এ পরিষদের চেয়ারম্যান থাকতেন।

উল্লেখ্য যে,
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,৩৮৭.
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে সম্প্রতি কোন দেশের পার্লামেন্টে প্রস্তাব আনা হয়েছে?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) সিয়েরালিওন
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিভস) একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে।
• কংগ্রেসম্যান রো খান্না ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট এ প্রস্তাব তোলেন।
• এ প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
• এছাড়া ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলী বিবেচনায় নিয়ে বিলে ১৯৭১ এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহিংসতাকে নিন্দা জানানো হয়।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২
১১,৩৮৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন ?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) সাহাবুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় যা অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাস্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,৩৮৯.
শহীদ আবু সাঈদ কবে শহীদ হন?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  2. ২৫ জুলাই, ২০২৪
  3. ২৯ জুলাই, ২০২৪
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

১১,৩৯০.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. নুরুল আমিন
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৩৯১.
পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. চৌধুরী খালেকুজ্জামান
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
[প্রশ্নটি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০০৯ ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০১০ - এ এসেছিল, এটি আমাদের প্রণয়ণকৃত প্রশ্ন নয়।]

পূর্ব বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন - ফ্রেডেরিক চালমার্স বোর্ন
(১৫ আগস্ট ১৯৪৭ - ৫ এপ্রিল ১৯৫০)।

অপশনে ফ্রেডেরিক চালমার্স বোর্ন নেই। আর অপশনে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে চৌধুরী খালেকুজ্জামান প্রথম। সে অনুসারে উত্তর হিসেবে চৌধুরী খালেকুজ্জামান নেয়া হয়েছে।

• চৌধুরী খালেকুজ্জামান - ৪ এপ্রিল, ১৯৫৩ থেকে ৩০ মে, ১৯৫৪ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
• ইস্কান্দার আলী মীর্জা - ৩০ মে, ১৯৫৪ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
• এ. কে. ফজলুল হক - ৯ মার্চ, ১৯৫৬ থেকে ৩১ মার্চ, ১৯৫৮ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।

• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
কখনও পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন না। তিনি ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
====================

• চৌধুরী খালিকুজ্জামান:

- চৌধুরী খালিকুজ্জামান আইনজীবি, রাজনীতিক ও পূর্ব বাংলার গভর্নর। তিনি ১৮৮৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর লখনৌতিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- খালিকুজ্জামান প্রথমে ১৯২৩ সালে এবং পরে ১৯২৬ ও ১৯৩৫ সালে লক্ষ্ণৌ মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
- তিনি কংগ্রেস দলীয় পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩৬ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- তিনি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

 - দেশ বিভাগের পর তিনি পাকিস্তানে চলে আসেন এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। পরে  দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ১৯৫০ সালের মধ্যভাগে দলের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- চৌধুরী খালিকুজ্জামান ১৯৫৩ সালের ৪ এপ্রিল পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন এবং ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।  

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ওয়ার্ড স্টেটম্যান ওয়েবসাইট।
১১,৩৯২.
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আবুল হাশেম
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
♦ এ কে ফজলুল হকঃ
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা আবুল কাশেম (এ কে) ফজলুল হক।
-  এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও শেরেবাংলা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

উৎস- বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯৩.
'হুন' গোষ্ঠীর আক্রমণের কারণে কোন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে?
  1. গুপ্ত
  2. পাল
  3. সেন
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৯৪.
ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ কত বছর বাংলাদেশ শাসন করেন?
  1. ক) ১০০ বছর
  2. খ) ১১৫ বছর
  3. গ) ১২২ বছর
  4. ঘ) ১৩০ বছর
ব্যাখ্যা
সুলতানি শাসন:

- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। 
- শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় ‘বাঙালি' নামে।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজধানী হয় সোনারগাও।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৯৫.
১৯৭০-এ ইয়াহিয়া খান কোন নীতিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেন?
  1. এক ব্যক্তি এক ভোট
  2. এক ব্যক্তি দুই ভোট
  3. এক ব্যক্তি বহু ভোট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন:
- ২৫শে মার্চ ১৯৬৯ তারিখে সারা দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও সামরিক সরকার গণ-দাবিকে উপেক্ষা করার মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি।
- তাই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সারা দেশে এক ব্যক্তি এক ভোটের নীতিতে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
- ৭ই ডিসেম্বর '৭০ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর' ৭০ এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দেশব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ৬ দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে রায় প্রদান করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯৬.
চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স কোন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. ফরায়েজি আন্দোলন
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৯৭.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন?
  1. ক) ৩১ মার্চ, ১৯৬০
  2. খ) ২৬ মার্চ, ১৯৬৫
  3. গ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২১ মার্চ, ১৯৭০
ব্যাখ্যা
'ছয় দফা':

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।
- দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৯৮.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- 
  1. মুজিব বাহিনী
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. কে ফোর্স 
  4. আফসার ব্যাটালিয়ন
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- কে ফোর্স।
• কে ফোর্স প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্য খালেদ মোশারফের অধীনে গঠিত।

• মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী :

- প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়: 
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স, খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- সৈনিকদের অধিকাংশই এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে। 
- পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর  যেসব সদস্যকে এই বাহিনীগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, তাদের বিভিন্ন সেক্টরে  যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ইউনিট এবং সাব-ইউনিটে বিভক্ত করা হয়।
- যাদের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ দান করা হয়, তারা ছিল অধিকাংশই অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য। 

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।
- এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৪০০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?
  1. ১ মার্চ
  2. ২ মার্চ
  3. ৩ মার্চ
  4. ৪ মার্চ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩।