বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১৩ / ১২৪ · ১১,২০১১১,৩০০ / ১২,৪২১

১১,২০১.
আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পাকিস্তানের মোট মৌলিক গণতন্ত্রী সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৫০,০০০ জন
  2. ৪০,০০০ জন
  3. ৬০,০০০ জন
  4. ৮০,০০০ জন
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল: (১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়), (২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে), (৩) জেলা কাউন্সিল এবং (৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

ইউনিয়ন কাউন্সিল:
- এই ৪টি স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন কাউন্সিল স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- ইউনিয়নের প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের প্রত্যক্ষ ভোটে ইউনিয়ন কাউন্সিলের ১০ জন সদস্য নির্বাচিত হতেন।
- বারশ থেকে পনেরশ ভোটদাতার প্রতিনিধি হিসেবে একজন সদস্য নির্বাচিত হতেন।
- এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ 'মৌলিক গণতন্ত্রী' বা Basic Democracy Member বা সংক্ষেপে বিডি মেম্বার নামে অভিহিত হন।
- উভয় প্রদেশ থেকে ৪০,০০০ করে পাকিস্তানে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী বা বিডি মেম্বারের সংখ্যা নির্ধারিত হয়।
- এসব মেম্বারগণ ইউনিয়ন কাউন্সিল চেয়ারম্যান, জাতীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ও দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের Electoral College বা ভোটারে পরিণত হন।
- এটিই হচ্ছে মৌলিক গণতন্ত্রী ব্যবস্থার অভিনব বৈশিষ্ট্য।
- এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের পিছনে আইয়ুব খানের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর সমর্থক গোষ্ঠি সৃষ্টি করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২০২.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
  5. ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১,২০৩.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কোথায় অবস্থিত?
  1. যমুনা নদীতে
  2. মেঘনার মোহনায়
  3. বঙ্গোপসাগরে
  4. সন্দ্বীপ চেনেল
ব্যাখ্যা
◉ সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।

• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার।
- এর তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা ছিলেন -
  1. আবদুল কুদ্দুস
  2. আবুল মনসুর আহম্মেদ
  3. মনু মিয়া
  4. রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনাকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয়।
- ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালায়।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো।
১১,২০৫.
'কাগমারি সম্মেলন' কখন অনুষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৯৫৭ সালে 
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে 
ব্যাখ্যা
• কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- কাগমারি সম্মেলনের মূল আলোচনা হয় ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ সালে।
- স্থান: টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষ।
- সভাপতি: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- প্রধান অতিথি: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের প্রতি 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।
- এজেন্ডা: পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৬.
Who was the head of the Military Council of Bangladesh during the Liberation War?
  1. Sheikh Mujibur Rahman
  2. M A G Osmani
  3. Captain Mansoor Ali
  4. Tajuddin Ahmad
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- তাঁর পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,২০৭.
জগৎ বিখ্যাত তাজমহল তৈরি করতে কত বছর লেগেছিল?
  1. ক) ২২ বছর
  2. খ) ২৩ বছর
  3. গ) ২১ বছর
  4. ঘ) ২৪ বছর
ব্যাখ্যা
• যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।
- বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন।
- সম্রাট নিজেই ছিলেন এর পরিকল্পনাকারী।
- প্রধান স্থাপতি ছিলেন ইসফানদিয়ার রুমী ও মাস্টার ঈসা।
- ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও The Business Standard। 
১১,২০৮.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন ছিল-
  1. ২২৩টি
  2. ২৩৭টি
  3. ৩১০টি
  4. ৩০৯টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি এবং অমুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ৭২টি। এই দুইয়ের যোগফলে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন সংখ্যা হয় ৩০৯টি।
যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। মুসলিম ২২৩টি এবং অমুসলিম ১৩টি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,২০৯.
ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং-এর প্রতিবেদনে '১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা' কী শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. Pakistan Army Retreats in Dhaka
  2. Bangladesh Independence Declared
  3. Mass Protest in Dhaka
  4. Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুদ্ধের পূর্বেই তাঁর ঢাকায় আগমন।
- দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালিদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ ও গণহত্যা, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি পটভূমিতে শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী বাঙালিদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে জীবনদান ও কয়েক লক্ষ মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়।

⇒ ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পূর্বে শাহবাগস্থ তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২শর মতো বিদেশী সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কঠোর প্রহরায় বিশেষ কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইমন ড্রিংও ছিলেন।
- সকলকে পরের দিন প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইমন ড্রিং ও এসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোগ্রাফার মাইকেল লরেন্ট  লুকিয়ে থেকে নিজেদের সাময়িকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
- ২৭শে মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়া হলে তাঁরা দুজন ঢাকা শহরে বেড়িয়ে পড়েন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধুর ৩২নং ধানমন্ডির বাস ভবন, রেসকোর্সের কালীবাড়ি মন্দির, পুরনো ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে পাকহানাদারদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢাকা নগরীর বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাইমন ড্রিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
- এটি ৩০শে মার্চ, ১৯৭১ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned' শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলামে সাইমন ড্রিং (তখন বয়স ২৭)-এর ছবিসহ সবিস্তার ছাপা হয়।
- বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সাংবাদিকের এটিই ছিল প্রথম প্রতিবেদন।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় সে রাতে ও পরবর্তী দুদিন পাকবাহিনী কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সে সম্বন্ধে বিশ্ববাসী জানতে পারে।

উল্লেখ্য, 
- ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকহানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ ও গণহত্যার সবিস্তার বিবরণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক সাইমন ড্রিং বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালে তাঁকে 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা'য় ভূষিত করা হয়। 

এছাড়াও,
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।

১১,২১০.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ১৯৫৪:

১. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ)।
২. আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী।
৩. আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী।
৪. আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী।
৫. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী।
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,২১১.
বাংলার জনগোষ্ঠী সর্বপ্রথম ‘বাঙালী’ নামে পরিচিতি পায় কার শাসনামলে?
  1. ক) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  3. গ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) রাজা গণেশ
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- এছাড়া তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার উপাধি ছিলো ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’।

অন্যদিকে, 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে  সোনারগাঁও দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এর পূর্ণতা দান করেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- রাজা গণেশ (১৪১৪-১৪১৮) দিনাজপুরের ভাতুলিয়ার রাজা ছিলেন। এবং আজম শাহের অমাত্য বা মন্ত্রী ছিলেন। 
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি)  বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
১১,২১২.
অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকা শহরে কে নেতৃত্ব দেন?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল নিয়াজি
ব্যাখ্যা
- ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।

অপারেশন সার্চলাইট:

- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকা শহরের বাহিরে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৩.
বাংলাদেশের কোন জেলাকে ’হিমালয়ের কন্যা’ বলা হয়?
  1. নীলফামারী
  2. কক্সবাজার
  3. পঞ্চগড়
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চগড় জেলা:
- পঞ্চগড় জেলা আয়তন: ১৪০৪.৬২ বর্গ কিমি।
- অবস্থান: ২৬°০০´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°১৯´ থেকে ৮৮°৪৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
- এটি বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৪.
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল কোন দেশ?
  1. জার্মানি
  2. ভারত
  3. চীন
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব:
- ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সরগরম হয়ে ওঠে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
- যুদ্ধ থামানো বা বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পাকিস্তানের সঙ্গে জোর তৎপরতা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল পোল্যান্ড।
- নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া তুলে ধরেন পোলিশ কূটনীতিক আইভান কুলাগা।
- প্রস্তাবে দুপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলা হয়।

⇒ পোল্যান্ডের উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ:
• ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে আইনত নির্বাচিত জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
• ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই, সমস্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ৭২ ঘন্টার জন্য প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
• যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ব সংঘাতের স্থান থেকে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করবে।
• একইভাবে, পশ্চিম পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তি যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, সেইসাথে পূর্ব পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য ব্যক্তি যারা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে যে, কেউ নির্যাতনের শিকার হবে না।
• ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যাহার শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়ে যাবে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। জনগণের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলে সংগঠিত নবপ্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে এই ধরনের সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবে।
• শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভূখণ্ড অধিগ্রহণ সংঘাতের কোনও পক্ষের দ্বারা ধরে রাখা হবে না এই নীতিটি স্বীকৃতি দিয়ে, ভারত ও পাকিস্তান সরকার অবিলম্বে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করবে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও পত্রিকার রিপোর্ট।

১১,২১৫.
In which year the Lahore resolution was adopted by the Muslim League and where?
  1. 1930, Allahabad
  2. 1929, Lahore
  3. 1929, Delhi
  4. 1940, Dhaka
  5. 1940, Lahore
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

⇒ লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২১৬.
কোন সংস্থাটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা বিতরণের সাথে জড়িত নয়?
  1. BPDB
  2. DESCO
  3. BJRI
  4. BREB
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট:

- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) দেশের অন্যতম প্রাচীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯০৪ সালে স্যার আর.এস. ফিনলো'র নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম পাটের গবেষণা শুরু হয়।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)।
- পাটের অঞ্চল ভিত্তিক কৃষি গবেষণার জন্য মানিকগঞ্জে পাটের কেন্দ্রীয় কৃষি পরীক্ষণ স্টেশন।
- রংপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও চান্দিনায় (কুমিল্লা) চারটি আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্র। তারাবো (নারায়নগঞ্জ), মনিরামপুর (যশোর) ও কলাপাড়ায় (পটুয়াখালী) তিনটি পাট গবেষণা উপকেন্দ্র।
- নশিপুরে (দিনাজপুর) একটি পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

অন্যদিকে,
- BPDB, DESCO, BREB সংস্থাগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা বিতরণের সাথে জড়িত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
১১,২১৭.
১৯৭১ সালের ৩ মার্চের জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় কত তারিখ?
  1. ২৭ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৮ ফেব্রুয়ারি
  3. ১ মার্চ
  4. ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:

- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬০ টি সাধারণ ও ৭টি মহিলা আসন লাভ করার মাধ্যমে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- কিন্তু ইয়াহিয়া খান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতা হস্তান্তর অস্বীকৃতি জানান।
- ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ (১৯৭১) এক ঘোষণার মাধ্যমে ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।
- ইয়াহিয়ার এই ঘোষণার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় মার্চের অসহযোগ আন্দোলন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২১৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীরত্বসূচক খেতাব লাভ করেন কে?
  1. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  2. রবি শংকর
  3. ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড
  4. সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা

ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১১,২১৯.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা 'জয়বাংলা' পত্রিকার কোন সংখ্যায় মুদ্রিত হয়? 
  1. প্রথম সংখ্যায়
  2. দ্বিতীয় সংখ্যায়
  3. তৃতীয় সংখ্যায়
  4. চতুর্থ সংখ্যায়
ব্যাখ্যা
• সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র - সাপ্তাহিক জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
-  এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
-  পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি এবং শরণার্থীদের সার্বিক অবস্থার পর্যালোচনা ছাড়াও এ পত্রিকায় কয়েকটি নিয়মিত বিভাগ ছিল, যেমন রণাঙ্গনে, বিশ্বজনমত, বুমেরাং, শিল্প সংস্কৃতি।
- এছাড়া ছিল ধারাবাহিক রচনা ‘একটি যুদ্ধ: বহু ইতিহাস’, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ‘লাখো শহীদের লাশের তলায় পাকিস্তানকে কবর দিয়েছে কারা, আমরা না তোমরা’, ‘হুশিয়ার! ইয়াহিয়া-টিক্কা হুশিয়ার’, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোর কয়েকটি দিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১,২২০.
Who was not a part of 'Concert for Bangladesh'?
  1. Bob Dylan
  2. Ravi Shankar
  3. George Harrison
  4. Bob Geldof
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- পন্ডিত রবি শংকর ছিলেন বাংলাদেশের একজন অকৃত্ত্রিম বন্ধু। 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানুষের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে। 
- রবি শংকর তাঁর বন্ধু ও শিষ্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বাংলাদেশে গণহত্যা ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপনরত নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
- এভাবে রবি শংকর, জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান সহ আরো অনেকে মিলে ১ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন। 
- এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ তারা মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের কল্যাণের জন্য ইউনিসেফের হাতে তুলে দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম -দশম শ্রেনী, NCTB।
১১,২২১.
বঙ্গবন্ধু ’ভুখা মিছিল’ বের করেন কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
→ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন।
→ জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন।
→ ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন।
১৯৪৯ সালের ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন।
→ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে।
→ এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তথ্যসূত্র: আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,রেঞ্জ কার্যালয়, বরিশাল বিভাগ
১১,২২২.
প্রাচীন কালের ‘সমতট’ অঞ্চলের বর্তমান অবস্থান-
  1. সিলেট
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

সমতট : 
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি প্রাচীন জনপদ।
- সমতট নামটি বর্ণনামূলক, অর্থ “তটের সমান্তরাল”।
- চতুর্থ শতকে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে সমতটের উল্লেখ আছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে হিউয়েন সাঙ সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙের বর্ণনা অনুযায়ী, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী লালমাই এলাকা।
- সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ করা যায় না।
- প্রাচীন সমতট অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল- ভোলা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২২৩.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. জেনারেল জ্যাকব
  2. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী
  3. লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. জেনারেল স্যাম মানেকশ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ: 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২২৪.
বর্তমানে (২০২২) বাংলাদেশে কততম সংসদ চলমান রয়েছে।
  1. ক) নবম
  2. খ) দশম
  3. গ) একাদশ
  4. ঘ) দ্বাদশ
ব্যাখ্যা

- সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- যা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে ।
- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২২ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

১১,২২৫.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল কবে?
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া, নবম দশম শ্রেণি সমাজ বই।
১১,২২৬.
বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হলো -
  1. ভাষা ও সংস্কৃতি
  2. ধর্ম
  3. আঞ্চলিকতা
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:

- বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- এর ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,২২৭.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস কবে?
  1. ২৪ জানুয়ারি
  2. ২০ জানুয়ারি
  3. ৭ জানুয়ারি
  4. ১৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: 
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
- এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস।
- ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক, বাংলাপিডিয়া।
১১,২২৮.
পাকিস্তান Constituent Assembly এর ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী প্রথম কে তুলেছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আবুল কাশেম
  4. আবুল হাসেম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- সেদিন কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো।
১১,২২৯.
'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় -
  1. ক) ১৯৭১ সালের মে মাসে
  2. খ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
  3. গ) ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
মুজিব বাহিনী বা বি.এল.এফ.

- ১৯৭১ সালের নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে আর একটি বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে।
- এটি 'মুজিব বাহিনী' নামে পরিচিত হয়।
- এ-বাহিনীর ট্রেনিং, যুদ্ধ অভিযান ইত্যাদি সরকার তথা নিয়মিত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
- মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নির্দিষ্টভাবে বাছাই করা কিছু তরুণ ও যুবককে নিয়ে।
- ধারণা করা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তা যেন কোনো উগ্র বা চরমপন্থী গ্রুপ বা দলের হাতে চলে না যায়, সেজন্যই আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসীদের নিয়ে এরূপ একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়।

- ১৯৭১ সালের মে মাসে অত্যন্ত গোপনে 'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- জুন থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া হয় জাফলং ও দেহরাদুনে।
- মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১,২৩০.
শীতকালে কোন বনভূমির গাছের পাতা ঝড়ে যায়?
  1. পাহাড়ি বনভূমি
  2. পর্ণমোচী বনভূমি
  3. চিরহরিৎ বনভূমি
  4. স্রোতজ বনভূমি
ব্যাখ্যা
পর্ণমোচী বা পত্রপতনশীল বৃক্ষের পাতা শীতকালে ঝড়ে যায়। এজন্যে এদের পর্ণমোচী বা পত্রপতনশীল বৃক্ষ বলা হয়।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি।

অন্যদিকে,
চিরহরিৎ বনভূমির বৃক্ষের পাতা শীতকালে ঝড়ে যায় না।
স্রোতজ বনভূমি হলো সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দ্বারা নিয়মিত প্লাবিত বনভূমি।

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১১,২৩১.
ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দাবি কোনটি?
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. ঘ) মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ৬ দফা দাবিগুলো হলো যথাক্রমে- 
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যা দেন।
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,২৩২.
পল্টন ময়দানে ১৯৫২ সালে নিচের কোন নেতা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেছিলেন? 
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. নুরুল আমিন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন;
- ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু;
- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চান;
- পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে;
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানে ঘোষণা করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দু হবে এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন;
- ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয়;
- ৩১ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব;
- এ সময় সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব পেশ করে। এর বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। 
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি ( একুশে ফেব্রুয়ারি) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এসব কর্মসূচির আয়োজন চলার সময় সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ-শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়। 
- ১৪৪ ধারা অমান্য করা হবে কিনা এ প্রশ্নে সভায় দ্বিমত দেখা দেয় তবে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সঙ্কল্পে অটুট থাকে।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।

১১,২৩৩.
সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা সনের প্রবর্তনের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. ক) টোডরমল
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) ফৈজি
  4. ঘ) ফতুল্লা সিরাজী
ব্যাখ্যা

বাদশাহ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ইরানি জ্যোতির্বিদ ফতুল্লা সিরাজী ১৫৮৪ সাল থেকে তারিখ ই এলাহি নামে নতুন বছর গণনা চালু করেন।
- বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে, যার প্রবক্তা ছিলেন মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- সম্রাট আকবর তার সিংহাসনে আহরণের দিন থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন।
- আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) পিতা হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১১,২৩৪.
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি' কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মুজিবনগর স্ট্র্যাটেজি
  2. চুকনগর স্ট্র্যাটেজি
  3. তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি
  4. আগরতলা স্ট্র্যাটেজি
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মূলত কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সম্মেলন হয়।
- সেখানে বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- সেখানেই সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে সেক্টর ভাগ এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চলভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি বাংলা।
১১,২৩৫.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা কবে উত্তোলন করা হয়?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ২ মার্চ ১৯৭১
  3. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ২৩ মার্চ ১৯৭১,
ব্যাখ্যা

প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে।
- উত্তোলন করেন তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব। 
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ, ১৯৭১।
- আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন করা হয়।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।

১১,২৩৬.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কবে শপথ গ্রহণ করেছিল?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
• ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' বা মুজিবনগর সরকার বা অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
১১,২৩৭.
কোন বিদেশি সাংবাদিক ১৯৭১ সালে গণহত্যার খবর প্রথম বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন?
  1. হেজেল হাম্ব
  2. মার্ক টালি
  3. সাইমন ড্রিং
  4. অ্যস্থনি মাসকারেনহাস
ব্যাখ্যা
পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র সময় ব্রিটেনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- সাইমন ড্রিং পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।
- এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানে পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারে।
- সায়মন ড্রিং গত ১৬ জুলাই ২০২১ রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
১১,২৩৮.
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. তিতুমীর
  2. স্যার সলিমুল্লাহ
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি ।
- তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতা এবং জনহিতকর কার্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৬২ সালে তাঁকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত করা হয়।
- মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ গৌরবের অধিকারী।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর’, ১৮৮০ সালে ‘নওয়াব’, ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে ।
- ১৮৬০ সালে সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফ মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। 
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৩৯.
'তাহরিক ই মুহম্মদীয়া' আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. দুদু মিয়া
  3. টিপু সুলতান
  4. তিতুমীর
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২৪০.
কোন সংস্থাটি সরকারের পক্ষে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য-দ্রব্য বিক্রি করে থাকে?
  1. ক) জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর
  2. খ) ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ
  3. গ) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
  4. ঘ) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা
Trading Corporation of Bangladesh (TCB) খোলা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন পণ্য-দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকে।

টিসিবির অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ করা, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আপদকালীন সময়ের জন্য বিভিন্ন পণ্য মজুদ করা, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা ইত্যাদি।

টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: টিসিবি ওয়েবসাইট)
১১,২৪১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করেন কত জন?
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
১১,২৪২.
বাংলাদেশের প্রথম 'সেচ প্রকল্প' কোনটি?
  1. ডিএনডি প্রকল্প
  2. জি. কে. প্রকল্প
  3. মুহুরী প্রকল্প
  4. তিস্তা প্রকল্প
ব্যাখ্যা
জি. কে. প্রকল্প:
- বাংলাদেশের প্রথম 'সেচ প্রকল্প' গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প।

- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সেচের জন্য  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- প্রকল্পের আওতায় সেচযোগ্য এলাকা রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১০৭ হেক্টর।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত। 
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করা।
- প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে শস্যের অধিক ফলন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৫১ সালে প্রাথমিক জরিপের পর ১৯৫৪ সালে জি-কে সেচ প্রকল্প অনুমোদন পায়।
- চালু হয় ১৯৬২-৬৩ সালে। 
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তম যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার খরিপ মৌসুমে অর্থাৎ রোপা আমন মৌসুমে সেচ প্রদান করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে -
- মুহুরী প্রকল্প বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। 
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়িত হয়। 
- তিস্তা সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯০ সালে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৭ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো।
১১,২৪৩.
'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. রোহিঙ্গা সমস্যা
ব্যাখ্যা
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২):
- স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ছবি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও বিষয়বস্তুতে অনন্যসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি।
- 'লাঞ্ছিত নারীত্বের মর্যাদা দাও, নিষ্পাপ সন্তানদের বরণ কর'- এই স্লোগানে ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি।
- ছবিটি মূলত একজন অভিনেতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে; যিনি যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান।
- কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় নিজের বিবেকের দংশন।
- এভাবেই এগিয়ে চলে ছবিটির গল্প।
- এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা, উজ্জল, আনোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কালের কন্ঠ।
১১,২৪৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কতগুলো সেক্টরে ভাগ ছিলো?
  1. ক) ১৯টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
১১,২৪৫.
টেকনাফ ও তেঁতুলিয়া স্থান ২টি কোন কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. বান্দরবান ও নীলফামারি
  2.  কক্সবাজার ও দিনাজপুর
  3. কক্সবাজার ও পঞ্চগড়
  4. ফেনী ও টাঙ্গাঁইল
ব্যাখ্যা

• টেকনাফ উপজেলা: 
- টেকনাফ কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। 

• তেতুঁলিয়া উপজেলা: 

- তেতুঁলিয়া পঞ্চগড় জেলার একটি উপজেলা। 
- ইংরেজী ১৮৬০ সন হতে ১৮৬৯ সন পর্যন্ত রংপুর জেলার একটি মহুকুমা হিসেবে প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা লাভ করে।
- শিল্প, বাণিজ্য ও নদী বন্দর হিসেবে তেতুলিয়া ছিল সুবিখ্যাত। 
- ১৯৪৭ সনের ১৮ আগস্ট স্যার রেডক্লিপ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্য ৪ টি থানার সঙ্গে তেতুলিয়াকে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুরের সাথে যুক্ত করে দেন ।
- তেতুলিয়া বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা।
- এ উপজেলার তিন দিকে ভারত শুধুমাত্র দক্ষিন দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১,২৪৬.
বাংলাদেশের সাথে কোন দেশে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে?
  1. শ্রীলংকা
  2. তুরস্ক
  3. ভুটান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ গত ৬ ডিসেম্বর ২০২০ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটানের সাথে দ্বিপাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষর করেছে।
- এর ফলে বাংলাদেশের ১০০টি ও ভুটানের ৩৪টি পণ্য পরস্পরের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
১১,২৪৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ২ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
১১,২৪৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কে?
  1. রফিকউদ্দিন
  2. মনু মিয়া
  3. শংকু মজুমদার
  4. নীল রতন সরকার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ
- ৭১ এর ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শংকু মজুমদার।
- তিনি কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
- তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- একই দিনে, পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- এই সময় অসহযোগ আন্দোলন চলমান ছিল।

তথ্যসূত্র- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১,২৪৯.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন-
  1. ইলামি মিত্র
  2. মহাশ্বেতা দেবী
  3. ইলা মিত্র
  4. সুমিত্রা দেবী
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,২৫০.
মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে সরকারী ভাষা ছিল-
  1. উর্দু
  2. আরবি
  3. ফার্সি
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের ভাষা:

- বৌদ্ধ ও হিন্দু অধ্যুষিত বাংলায় তের শতক থেকে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়।
- মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে সরকারী ভাষা ছিল ফার্সি।
- সামন্ত সমাজের বৈষম্যের কারণে ইসলাম ধর্ম সম্প্রসারিত হয়।
- তবে মুসলিম সমাজ ও আশরাফ ও আতরাফ নামে ভাগ হয়েছে।
- তা সত্বেও মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতির ব্যাপক সমৃদ্ধি হয়।
- কৃষিতে ধান শিল্পে মসলিন এবং বাণিজ্যে নানা অঞ্চল যেমন ব্রহ্মদেশ, মালয়, জাভা, সুমাত্রা ও ইন্দোচীনের সাথে বাণিজ্য হতো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৫১.
কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. হামিদুর রহমান
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মুন্সী আব্দুর রহিম
  4. নুর মােহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী, 
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী, 
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী, 
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,  
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

অন্যদিকে,
মুন্সী আব্দুর রহিম - নামে কোনো বীরশ্রেষ্ঠ ছিলো না।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,২৫২.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুসারে দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি-যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-জার্মানি
  3. যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
  4. যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি-ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশে রপ্তানি বাণিজ্যের দেশ:

- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ যুক্তরাষ্ট্র। 
- এছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত রয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য: তৈরি পোশাক।
- অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে।
- ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র: জার্মানি।
- ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য: তৈরি পোশাক।
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে: জাপানে। 

দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়:
- যুক্তরাষ্ট্র: ৬,৪৩৯.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৭.৩৭%)।
- জার্মানি: ৪,৯০৬.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৩.২৩%)।
- যুক্তরাজ্য: ৩,৫৪৭.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৯.৫৭%)।
- ফ্রান্স: ২,১০৭.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫.৬৮%)। 
- নেদারল্যান্ডস: ১,৪২১.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩.৮৩%)। 
- ইতালি: ১,৬২৭.৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪.৩৯%)।
- জাপান: ১২৮৫.৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩.৪৭%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
১১,২৫৩.
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. মোঃ ইউসুফ আলী
  4. আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ'।   
- সেদিনই 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আদেশ' অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' গঠিত হয়।
- এই সরকারই 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার' বা 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 

- কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আম বাগানে এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- ঐদিন 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী। 
- মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোঃ ইউসুফ আলী ও আব্দুল মান্নান। 

সরকার কাঠামো: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: মহামান্য রাষ্ট্রপতি; 
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়);
- তাজউদ্দীন আহমদ: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য ও বেতার, শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, শ্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। 

- খন্দকার মোশতাক আহমেদ: পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়;  
- ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: অর্থ, জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্য, শিল্প ও পরিবহন মন্ত্রণালয়; 
- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

- কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী: সেনাবাহিনী প্রধান;
- কর্নেল আবদুর রব: সেনাবাহিনীর উপপ্রধান-চিফ অব স্টাফ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,২৫৪.
প্রাচীন গৌড়ের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. পুণ্ড্রনগর
  2. কর্ণাটক 
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. কনৌজ 
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

১১,২৫৫.
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস -
  1. ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৫ ডিসেম্বর
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৬.
'ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট'-এর প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ক্ষুদিরাম বসু
  3. হেনরি লুইস ডিরোজিও
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২৫৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
১১,২৫৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কত তারিখ?
  1. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  3. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৯.
SRO পূর্ণরূপ কি ?
  1. ক) Statutory regulatory ordinance
  2. খ) State regulatory order
  3. গ) Supplementary regulatory ordinance
  4. ঘ) Statutory regulatory order
ব্যাখ্যা

SRO - Statutory regulatory order.
- SRO হল একটি অধস্তন আইন , যা বিধিবদ্ধ নিয়ম, প্রবিধান, অধ্যাদেশ, উপ-আইন এবং বিজ্ঞপ্তিগুলির জন্য একটি সম্মিলিত শব্দ যা যাচাই করার পরে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্বারা প্রদত্ত একটি অনন্য শনাক্তকরণ নম্বর বহন করে।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রদান করা হয়, এটি কাস্টমস এর সাথে সম্পর্কিত।

উৎস: nbr.gov.bd

১১,২৬০.
নিচের কোন সংগঠনটি এগারো দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে?
  1. আওয়ামী লীগ
  2. ছাত্রলীগ
  3. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  4. ছাত্র ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৬১.
বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ নামে অভিহিত করেছিলেন কে?
  1. আল বেরুনি
  2. ইবনে বতুতা
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. মিনহাজ-উস-সিরাজ
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

⇒ দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
- ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ‘তারিখে ফিরোজশাহী’ লিখে সুপরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

১১,২৬২.
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) ফেডারেশন পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন
  2. খ) ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদান
  3. গ) মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখা
  4. ঘ) প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ‘ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’ পাস করে যা ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’ নামেই অধিক পরিচিত। 
- এই আইনে প্রথম মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের বিধান রাখা হয়।
- সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দাবি স্বীকার করে এ আইনে মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের (পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা) অধিকার দেয়া হয়। 
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১,২৬৩.
প্রাচীন বাংলায় কোন গোত্রের লোকেরা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে?
  1. ক) ব্রাহ্মণ
  2. খ) ক্ষত্রিয়
  3. গ) বৈশ্য
  4. ঘ) শূদ্র
ব্যাখ্যা
• কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ:-    
১। ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে
২। ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
৩। বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
৪। শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

• ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। বিচিত্র সব বর্ণ, উপবর্ণ ও শংকর বর্ণের সামাজিক বিন্যাস এতে গুরুত্ব পায়। এভাবে বর্ণভেদ প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে প্রতিষ্ঠা পায়।
• নিম্নবর্ণের ডোমদের বাস ছিল গ্রামের বাইরে। উচ্চবর্ণের লোকেরা এঁদের ছুঁতেন না।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৬৪.
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কতটি ক্যাটাগরিতে খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি ক্যাটাগরিতে ৬৭৬ জন কে বীরত্ব সূচক খেতাব প্রদান করে।
- মোট খেতাবপ্রাপ্ত : ৬৭৬ জন। 

- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭ জন। 
- বীরউত্তম : ৬৮ জন। 
- বীরবিক্রম : ১৭৫ জন। 
- বীরপ্রতীক : ৪২৬ জন।

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১১,২৬৫.
নিচের কোনজন মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না?
  1. ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
  2. এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয়। এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

রাষ্ট্রপতি শাসিত মুজিবনগর সরকারের সদস্য সংখ্যা ছিলো ছয়জন।
এরা হলেন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,২৬৬.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হয় কখন?
  1. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
  2. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে
  3. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল
  4. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার অবসান:
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ শুরু থেকেই তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলুল হক  শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে দুই বাংলা যে অভিন্ন তা বর্ণনা করেন।
- এই বক্তৃতার সূত্র ধরে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনে।
- 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এ ফজলুল হকের এক সাক্ষাৎকার বিকৃত করে প্রকাশিত হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে।
- পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- এই সময় চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলোদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৬৭.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৪ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৯ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবির:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
১১,২৬৮.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ ছিলেন-
  1. কর্নেল তাহের
  2. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  3. লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ: 
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ এইচ এম কামরুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
প্রধান সেনাপতি - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
চিফ অব স্টাফ - লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব।
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ - গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB। 
১১,২৬৯.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা — বাংলা না উর্দু?’ পুস্তিকাটি প্রকাশ করে কোন সংগঠন? 
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  3. পূর্ব বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিশ 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা - বাংলা না উর্দু’- পুস্তিকাটি প্রকাশ করে।

ভাষা আন্দোলন: 

- পশ্চিম পাকিস্তানে শতকরা ৯৭ ভাগ এবং পূর্ব বাংলায় শতকরা ৮০ ভাগ অধিবাসী ছিল মুসলমান।
-  ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করে।
- পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবীমহল, ছাত্রসমাজ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রমুখ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পাল্টা প্রস্তাব করে।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জ্ঞানগর্ভ যুক্তি দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি সমর্থন জানান।
- ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নবগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন পূর্বপাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগের কর্মী সম্মেলনে বাংলাভাষাকে পূর্বপাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন-আদালতের ভাষা করার দাবি জানানো হয়।
- একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়। সংগঠনটির নাম ছিল 'তমদ্দুন মজলিশ'।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে উক্ত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা - বাংলা না উর্দু'। 
- তমাদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১,২৭০.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি কোথায় দিয়েছিলেন?
  1. পল্টন ময়দান
  2. মানিকমিয়া এভিনিউ
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. কোনটিই সঠিক নায়
ব্যাখ্যা
৭ মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙ্গালির ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

- ঐদিন বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৮ মিনিটের ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তুলেছিলেন।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১,২৭১.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়?
  1. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
  2. ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
  3. ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
  4. ২০ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়- ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২। 

--------------------------- 
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ৪০সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৭২.
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা'-র ৩য় দফা নিচের কোনটি ?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা
  2. খ) ধর্মনিরপেক্ষতা
  3. গ) স্বতন্ত্র মুদ্রা
  4. ঘ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা

• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• আর এটি ২৩ মার্চ ১৯৬৬ অনানুষ্ঠানিক ঘোষিত হয়।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা --রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 
 ৬ দফার দাবিসমূহ---
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা (স্বতন্ত্র  মুদ্রা )।
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
১১,২৭৩.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা কোন শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. পঞ্চম শ্রেণি
  2. ষষ্ঠ শ্রেণি
  3. সপ্তম শ্রেণি
  4. অষ্টম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন:
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।
- এটি বাস্তবায়নে দু’টি বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা।
- ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
১. প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা;
২. প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
৩. শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা। প্রাথমিক শিক্ষার এই পুনর্বিন্যাসের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের সকল বিদ্যালয়ের ভৌত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকের  সংখ্যা বাড়ানো হবে। যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে আট বছরব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ২০১৮এর মধ্যে ছেলে-মেয়ে, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং জাতিসত্তা নির্বিশেষে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল শিশুর জন্য নিশ্চিত করা হবে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ. এ. এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. অষ্ট্রেলিয়া
  2. পোল্যান্ড
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১১,২৭৫.
মহাস্থানগড় কিসের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) স্থুল বন্দর
  2. খ) প্রাচীন পুরাকীর্তি
  3. গ) ব্যবসা কেন্দ্র
  4. ঘ) পাহাড়
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন নগরী। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল। প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১,২৭৬.
Who built Dhaka Gate?
  1. Shaista Khan
  2. Mir Jumla
  3. Shah Shuja
  4. Alauddin Hossain Shah
  5. None of them
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
১১,২৭৭.
নিচের কোন অঞ্চলটি পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বগুড়া
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৮.
সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে -
  1. পাঞ্জাবে
  2. উড়িষ্যায়
  3. বিহারে
  4. বর্ধমানে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৭৯.
কোনটি জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম?
  1. মুক্তিযোদ্ধা
  2. ম্যাডোনা
  3. ক + খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়াতে (বর্তমান নেত্রকোণা) জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক (বাংলাদেশ) সম্মান লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে বড় খেতাব হেলাল-ই-ইমতিয়াজ অর্জন করেন এবং ১৯৭১ সালে সেটি বর্জন করেন।
- ১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে 'শিল্পাচার্য' উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের মূল সাজসজ্জার পরিকল্পনাকারী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। 
-  ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 
- 'মুক্তিযোদ্ধা' জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম।
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।
- তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত শিল্পকর্ম:
. দুর্ভিক্ষ,
. সংগ্রাম,
. সাঁওতাল রমণী,
. বিদ্রোহী,
. মনপুরা,
. নবান্ন,
. মহিলা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার।
১১,২৮০.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন -
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আতাউর রহমান খানআতাউর রহমান খান
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,২৮১.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দাবিটি উত্থাপন করেননি?
  1. ক) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার
  3. গ) বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা
  4. ঘ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
• এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
• বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন।  উত্থাপিত দফাগুলো হলো:-
১। সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩। গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৪। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,২৮২.
পর্তুগিজ নাবিক 'ভাস্কো দা গামা' কোন সালে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?
  1. ১৪৮৭ সালে
  2. ১৪৮৯ সালে
  3. ১৪৯৭ সালে
  4. ১৪৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-দ্য-গামা।
- ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালের মে মাসে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৪৭৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ নামে এক পর্তুগিজ নাবিক আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণের বিন্দুতে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।
- তিনি যখন ওখানে পৌঁছেন তখন প্রচন্ড ঝড়ের কবলে পড়েন।
- তাই ঐ স্থানের নাম দিয়েছিলেন "ঝড়ের অন্তরীপ"।
- পর্তুগালের রাজা দ্বিতীয় জন এর মধ্যে আশার আলো দেখতে পান এবং এর নাম রাখেন "উত্তমাশা অন্তরীপ"।
- রাজা জন আরো কিছু পরিকল্পনা করেন যেন উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে পর্তুগিজরা ভারতের দিকে রাস্তা খুঁজে পায়।
- রাজা জনের উত্তরাধিকারী রাজা প্রথম ম্যানুয়েলের আনুকূল্যে ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে এক অভিযানে বের হন।
- দিয়াজের পথ ধরে তিনি উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করেন, তারপর তিনি আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়ায় পৌঁছেন।
- ১৪৯৮ সালের মে মাসে ভাস্কো-ডা-গামা ভারতের কালিকটে পদার্পণ করেন।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৮৩.
মেজর খালেদ মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর ৬টি।

২ নং সেক্টর কমান্ডার:
- ২১ অক্টোবর পর্যন্ত: মেজর খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম (১ নভেম্বর ১৯৩৭ - ৭ নভেম্বর ১৯৭৫)।
- ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত: মেজর এ টি এম হায়দার, বীর উত্তম (১২ জানুয়ারি, ১৯৪২ - ৭ই নভেম্বর, ১৯৭৫)।

এছাড়াও,
- মুক্তিযুদ্ধে ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার  ছিলেন - মেজর নাজমুল হক ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান, বীর উত্তম
- মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরে সেক্টর কামান্ডার ছিলেন - মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম আবুল মঞ্জুর, বীর উত্তম।
- মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন - মেজর এম এ জলিল এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

উৎস: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
১১,২৮৪.
মুর্শিদ কুলি খান কোন সম্রাটের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. বাহাদুর শাহ
  4. আকবর
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৮৫.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে 
  2. ১৯৫০ সালে 
  3. ১৯৪৯ সালে 
  4. ১৯৫২ সালে 
ব্যাখ্যা

‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যদিকে, 
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৮৬.
বাংলাকে ‘বিদ্রোহের নগরী’ নামে অভিহিত করেন কে?
  1. আমির খসরু
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. বখতিয়ার খলজি
  4. ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী মধ্যযুগীয় বাংলা বা তৎকালীন বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা ‘বিদ্রোহের নগরী’ নামে অভিহিত করেন। 


উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না। তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

১১,২৮৭.
প্রাচীন বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. বিন্দুসার 
  3. অশোক মৌর্য
  4. বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা

মৌর্য সাম্রাজ্য:
- প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে।
- ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- বাংলায় মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন সম্রাট আশোক।

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন। তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন। রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন। তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২৮৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৫১
  2. খ) ২২শে জানুয়ারি ১৯৫২
  3. গ) ৩১শে জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ঘ) ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,২৮৯.
বাংলাদেশের সর্বশেষ কার্যকর শিক্ষা কমিশন কোনটি? 
  1. এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশন
  2. মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশন
  3. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  4. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের সর্বশেষ ও কার্যকর শিক্ষা কমিশন হলো কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন, ২০০৯।
- এটি মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নের জন্য গঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে দেশের মূল শিক্ষা রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত।
- এই কমিশন ২০০১ সালের এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করে ২০১০ সালের শিক্ষানীতির প্রস্তাব প্রস্তুত করে;
- যা ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- পরে, ২০১১ সালের ২৮ জুন, ওই সময়ের শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কমিশন ও কমিটিগুলো হলো:
- কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন, ১৯৭২।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিটি, ১৯৭৬।
- কাজী জাফর আহমেদ শিক্ষা কমিশন, ১৯৭৮।
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন, ১৯৮৩।
- মফিজউদ্দীন আহমদ শিক্ষা কমিশন, ১৯৮৭।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিশন, ১৯৯৭।
- এম. এ. বারী শিক্ষা কমিশন, ২০০১
- মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশন, ২০০৩।
- কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন, ২০০৯।

উৎস: প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর, ২০২৪।

১১,২৯০.
'রোমান সাম্রাজ্যের' প্রথম সম্রাট নিম্নের কে ছিলেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. অগাস্টাস সিজার
  3. তুজিয়াস সিজার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• অগাস্টাস সিজার:
- রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস সিজার।
- তিনি মহাবীর জুলিয়াস সিজারের ভাগ্নে।
- অগাস্টাস সিজারের আসল নাম ছিল গাইয়াস অক্টাভিয়াস। 
- জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে অগাস্টাস সিজার রাখেন।
- ৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমের সমরনায়ক ও সিনেট সদস্যরা যখন দুই ভাগে বিভক্ত, এমনই এক সময় জন্মলাভ করেন অগাস্টাস সিজার।

⇒ সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১-১৪ খ্রিস্টাব্দ) রোমের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত শাসক ছিলেন।
- তাঁর শাসনামলে রোমীয় সভ্যতায় স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক ছিলেন।
- তাঁর সময়ে রোমীয় ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞানচর্চা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।
- এই জন্য ইতিহাসে তাঁর সময়কালকে 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলা হয়।

উৎস:Britannica ওয়েবসাইট এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,২৯১.
কৌটিল্য কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. শশাঙ্ক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. অশোক
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য (চাণক্য, প্রায়ই কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামে পরিচিত)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,২৯২.
১৯৭১ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে চলা অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার জন্য আওয়ামীলীগ কয়টি বিধি প্রণয়ন করেছিলো?
  1. ২১টি
  2. ২৫টি
  3. ৩৫টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা

- আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল জনসভায় তিনি সারা পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এই আন্দোলনের পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সমবেত উত্তাল জনসমুূদ্রে জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ আওয়ামীলীগের ততকালীন সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩৫ টি বিধি প্রণয়ন করেন এবং ঐ দিনই বঙ্গবন্ধু তা ঘোষনা করেন।
- মূলত এই ৩৫ বিধির উপর ভিত্তি করেই তখন দেশ পরিচালিত হচ্ছিলো।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস বোর্ড বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,২৯৩.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
-  ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী।
- এম মনসুর আলীকে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রী করে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী।
- এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব।
- চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯৪.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1.  ১৭৫৭ সালে 
  2. ১৭৭০ সালে 
  3. ১৮৭৭ সালে 
  4. ১৭৯৩ সালে 
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা:
- লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হচ্ছে- প্রশাসন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বাংলার সব জমিদারের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির মাধ্যমে জমিদাররা জমির মালিকানা লাভ করলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা হারায়।
- এবং সরকারের দায়িত্ব হয়ে যায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
- এই চুক্তিতে খাজনা বাকি থাকলে জমিদারদের জমি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
- এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় জমিদারদের চিরস্থায়ী স্বত্ব থাকলেও প্রজাদের ওপর রাজস্ব দাবি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না।
- জমি বিক্রি, বন্ধক বা দানের অধিকার জমিদারদের ছিল।
- তবে প্রজাদের এই অধিকার দেওয়া হয়নি।
- প্রজারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রি হতো।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- কর্নওয়ালিস উপমহাদেশে ইংরেজি জমিদার শ্রেণি গড়তে চাইলেও ইউরোপীয় কাঠামোর মতো কার্যকর হয়নি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,২৯৫.
লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম কোন ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. রেল ব্যবস্থা চালু
  2. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
  3. পুলিশ ব্যবস্থা
  4. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- তিনি ভারতের প্রথম ভাইসরয় ।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- ১৮৬০ সালের আগস্ট মাসে লর্ড ক্যানিং একটি পূর্ণাঙ্গ ও মিতব্যয়ী পুলিশবাহিনী গঠনের নিমিত্তে সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য এইচ.এম কোর্টকে চেয়ারম্যান করে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে পুলিশ সার্ভিস চালু করেন।

অন্যদিকে -
- ১৭৯৩ শোলে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
- ভারতে রেল ব্যবস্থা চালু করেন লর্ড ডালহৌসি।
- রবার্ট ক্লাইভ ভারতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় & বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯৬.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  3. ১২ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  4. ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:

- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,২৯৭.
বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আবির্ভাব কত শতকে ঘটে?
  1. ক) ষোল-সতেরো শতকে
  2. খ) চৌদ্দ-পনেরো শতকে
  3. গ) আঠারো-উনিশ শতকে
  4. ঘ) তের-চৌদ্দ শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আর্বিভাব ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে।
- আলোচ্য সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে য়াঁরা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তাঁরাই বারোভূঁইয়া।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তার পুত্র মুসা খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,২৯৮.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে? 
  1. ৫ম-৬ষ্ঠ শতক
  2. ৭ম-৮ম শতক 
  3. ৯ম-১০ম শতক
  4. ১১ম-১২শ শতক
ব্যাখ্যা

 মাৎস্যন্যায়:
- রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। 
- মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ: আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্য অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায় সময়কাল: আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ।
- মাৎস্যন্যায় সময়: গুপ্ত ও পাল আমলের মধ্যবর্তী তাম্রশাসন যুগ।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায় অবসান ঘটান।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৯৯.
Which period is known as 'Matsyanyaya'?
  1. After Shashank
  2. After Shen
  3. Before Shashank
  4. After Gopal
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩০০.
ক্ষুদিরাম বসু কাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন?
  1. কিংসফোর্ড
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. রেডক্লিফ
  4. রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

- ১৯০৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী বোমা হামলা করেন।
- ভুলবশত অন্য গাড়িতে বোমা পড়ায় এক ইংরেজ মহিলা ও তার মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজফ্ফরপুর জেলে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।