বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১১ / ১২৪ · ১১,০০১১১,১০০ / ১২,৪২১

১১,০০১.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আনা হয়-
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪ জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:

- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০০২.
কবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়?
  1. ২ মার্চ, ১৯৪৮ সাল
  2. ১১ মার্চ, ১৯৪৮ সাল
  3. ৩১ জানুয়ারী, ১৯৫২ সাল
  4. ৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ সাল
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ কামরুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্রভাষার ক্ষেত্রে সরকারের ষড়যন্ত্র রোধ করার জন্য ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। ঐদিন ঢাকায় বহু ছাত্র আহত এবং বঙ্গবন্ধুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- ১৯৪৮-৫২ সালে ১১ মার্চ ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হতো।

অন্যদিকে,
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় -৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
১১,০০৩.
লাহোর প্রস্তাব কখন গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৩৭ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৪৬ সালের ২৯ মার্চ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 
• লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
• এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
• এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
• কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
• এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,০০৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে কনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. আবির 
  2. আদর 
  3. আহাদ 
  4. বিনতি
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র। 

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

১১,০০৫.
'তমদ্দুন মজলিশ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. আবদুল কাদির
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠার পর এর প্রথম পর্বে তমদ্দুন মজলিশের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
- মজলিশের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় সারা বছর আলোচনা সভা, সেমিনার, বিতর্ক, নাট্যাভিনয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতো।
- এর নিয়মিত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল বিভিন্ন বিষয়ে পুস্তক-পুস্তিকা ও প্রচারপত্র প্রকাশ।
- তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, - অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০০৬.
মুক্তিযুদ্ধকালে বীরপ্রতীক তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,০০৭.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।     
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০০৮.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্ৰ করে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম -
  1. ক) তর্জনী
  2. খ) রেডিও
  3. গ) মাইক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

• চলচ্চিত্র:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’, রেডিও, মাইক।
- ‘তর্জনী চলচ্চিত্রের পরিচালক সোহেল রানা বয়াতী।
- ‘মাইক’ চলচ্চিত্রের গল্পকার, প্রযোজক ও পরিচালক এফ এম শাহীন।
- 'রেডিও' চলচ্চিত্রের পরিচালক অনন্য মামুন।

এছাড়াও,
- ‘তর্জনী’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য করছেন নির্মাতা শাহাদাত রাসেল।
- ‘মাইক’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী।

উৎস: প্রথম আলো এবং কালেরকন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

১১,০০৯.
১৯৬৬ সালের ৬ দফার কয়টি দফা 'শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক' ছিল?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দফা:

• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
• এখানে, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিল।
• ১, ২ এবং ৬ নং দফা ছিল শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক এবং ৩, ৪ এবং ৫ নং দফা ছিল অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক।
 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০১০.
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ৮ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৬ নং সেক্টর
  4. ৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ৮ নং সেক্টর  এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০১১.
ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রধান কারণ কি ছিল?
  1. অর্থনৈতিক শোষণ
  2. তুরস্কের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন
  3. খলিফার প্রতি ধর্মীয় আনুগত্য
  4. ব্রিটিশ শাসনের অবসান
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন।
- কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০১২.
কত সালে ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুস সালামকে একুশে পদকে প্রদান করা হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে একুশে পদক:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

উল্লেখ্য,
- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একুশে পদক প্রবর্তন করেন।
- বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক দেয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে।
- ২০০০ সালে ভাষা শহীদ আবুল বরকত, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার, ভাষা শহীদ আবদুস সালাম, ভাষা শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ, ভাষা শহীদ শফিউর রহমান এবং ভাষা সৈনিক গাজীউল হককে 'ভাষা আন্দোলনে একুশে পদক' প্রদান করা হয়।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,০১৩.
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন-
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী 
  4. মাওলানা আতাহার আলী
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট:
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪টি ।
• আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী )।
• কৃষক প্রজাপার্টি ( এ. কে. ফজলুল হক )।
• নেজামে-ই-ইসলাম ( মাওলানা আতাহার আলী )।
• গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ )।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০১৪.
মুজিব শতবর্ষে কোন শহরে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়?
  1. জাকার্তা
  2. আঙ্কারা
  3. তেহরান
  4. আলজিয়ার্স
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিক উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্কের নামকরণ করা হয়।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
১১,০১৫.
বিজয় সেনের রাজত্বকাল-
  1. ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
  2. খ) ১১০০ থেকে ১১৮০ সাল
  3. গ) ১১৬০ থেকে ১২০০ সাল
  4. ঘ) ১১২০ থেকে ১১৭৮ সাল
ব্যাখ্যা
বিজয় সেন:

- বিজয় সেন বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বিজয় সেন শৈব ছিলেন এবং বৈদিক ধর্মের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধাবান ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০১৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. মেলাঘর
  4. বাঁশতলা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০১৭.
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম কী?
  1. রক্তাক্ত প্রহর
  2. তারুণ্যের জাগরণ 
  3. শ্রাবণ বিদ্রোহ
  4. মুক্তির পথ
ব্যাখ্যা

• শ্রাবণ বিদ্রোহ:
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’।
- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এই তথ্যচিত্র।
- তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন আরিফুর রহমান।
- জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের নৃশংস ও ভয়াবহ বাস্তবতার রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ৩০ মিনিটের তথ্যচিত্রে।
- এ তথ্যচিত্রে আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র ও গ্রাফিতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’-এর প্রিমিয়ার শো ৭ জুলাই, ২০২৫ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাসস। 

১১,০১৮.
৬ দফাকে আইয়ুব খান কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. বাঁচার দাবি
  2. ম্যাগনাকার্টা
  3. বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচী
  4. বিল অব রাইটস
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি:
- ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি অখণ্ড পাকিস্তানের সব বিরোধী দলের কনভেনশন/সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল লাহোরে।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
- পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্য নীতির বিরুদ্ধে ছয় দফা কর্মসূচি সর্বস্তরের বাঙালিকে উজ্জীবিত করে।

⇒ ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭ দিনের এই যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত ছিল।
- এ দেশের মানুষ উপলব্ধি করেন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিধানে কিছুই করেনি।
- এরপর ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে পশ্চিম পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচি শঙ্কিত করে তোলে।
- আইয়ুব খান নিজেও ছয় দফাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ধ্বংসাত্মক, বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ইত্যাদি আখ্যায়িত করেন।
- তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের এক নম্বর দুশমন হিসেবে চিহ্নিত করে ছয় দফাপন্থীদের দমনে অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগের হুমকি দেন।
- এমনকি পূর্ব পাকিস্তানেও অনেকে ছয় দফার সমালোচনা করতে থাকেন। 

উৎস: প্রথম আলো।
১১,০১৯.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২১ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।

- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- সরকার গঠন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,০২০.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়? 
  1. চরমপত্র
  2. গণকণ্ঠ
  3. মুক্তি সংগ্রাম
  4. বজ্রকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:

• জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলোর আহ্বান জানান।
• তিনি বলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম; জয় বাংলা।” 
• তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশ দেন। 
• তাঁর এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়। 
• তাঁর এই ভাষণে তিনি প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
- গণহত্যার তদন্ত করা এবং
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,০২১.
‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' শীর্ষক গ্রন্থভুক্ত দীর্ঘ গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেন শামসুজ্জামান খান।
 •
এই প্রবন্ধে শামসুজ্জামান খান বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠত্ব ব্যাখ্যা করেন।
এছাড়াও
• শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে মানিকগঞ্জ জেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুজ্জামান খান লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ হিসেবে দেশে- বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো—
• প্রবন্ধগ্রন্থ : 'নানা প্রসঙ্গ', ‘গণসঙ্গীত’,‘মাটি থেকে মহীরুহ’, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’, ‘মুক্তবুদ্ধি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল', 'আধুনিক ফোকলোর চিন্তা', 'ফোকলোর চর্চা' ইত্যাদি।
• রম্য-রচনা : ‘ঢাকাই রঙ্গরসিকতা', 'গ্রাম বাংলার রঙ্গরসিকতা' ইত্যাদি।
•  শিশুসাহিত্য : 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ', 'লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালীরাম', ‘ছোটদের অভিধান' (যৌথ)।
• তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক লাভ করেন ।শামসুজ্জামান খান ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ই এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
উৎস: নতুন কালের কল্লোলে বঙ্গবন্ধু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, দৈনিক জনকণ্ঠ।
১১,০২২.
নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

আরবি হরফে বাংলা:
- ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হলেও আরবি হরফ প্রবর্তনের এই ষড়যন্ত্র ভালভাবে দানা বাঁধে ১৯৪৯ সালে'।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচীতে পাকিস্তান শিক্ষক সমিতির একটি একটি সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
- সে সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে পাকিস্তানের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বলেন, বাংলা ভাষায় আরবি হরফ প্রচলন করতে হবে।
- এক পর্যায়ে বাংলায় আরবি হরফ প্রবর্তনের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বলে মত দেন সৈয়দ আলী আহসান।
- শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহমুদ হাসানকে দিয়ে একটি চিঠি পাঠান ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর কাছে।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সে চিঠির কোন জবাব দেবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। উল্টো তিনি এই চিঠির বিষয়বস্তু সংবাদপত্রে জানিয়ে দেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন।
- পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি।
১১,০২৩.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কোন বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করে?
  1. মারাঠা বিদ্রোহ
  2. আফগান বিদ্রোহ
  3. বার্মা বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

⇒ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করে।

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে।
- সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর ভারতবর্ষে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য দায়ী -
• রাজনৈতিক,
• অর্থনৈতিক,
•বহিঃআক্রমন

- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০২৪.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কোনটি প্রণীত হয়?
  1. ১ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০২৫.
কার শাসনামলে পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়?
  1. স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. নূরুল আমিন
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি লিয়াকত আলী খানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
- ব্রিটিশ আমলে বাংলা নামক যে প্রদেশ ছিল তা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা নামক দুটি অংশে বিভক্ত করে।
- পশ্চিম বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের অংশ বলে ঘোষণা করে।
- তখন ঢাকায় পূর্ব বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমউদ্দিন এবং প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।
- ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- তখন নূরুল আমিনকে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।
- তিনি ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- নূরুল আমিন এর শাসনামলে পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০২৬.
পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১১ জানুয়ারি ১৯৪৮
  2. খ) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  3. গ) ২৫ মার্চ ১৯৪৮
  4. ঘ) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এই অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতায় তার দাবী গৃহীত হয়নি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,০২৭.
বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-
  1. ক) জাপানি সংস্থা জাইকা
  2. খ) চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (CCCC)
  3. গ) চায়না মেজর ব্রিজ
  4. ঘ) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা

- দেশের ফাস্ট ট্র্যাক মেগাপ্রকল্পের একটি বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ।
- চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম টানেল।
- জাপানি সংস্থা জাইকা প্রথম কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণের সুপারিশ করে।
- ১৪ অক্টোবর ২০১৭ বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে দ্য এক্সিম ব্যাংক অব চায়না এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ঐ দিনই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
- মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিমি এবং উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ৫.৩৫ কিমি।
- টানেলটি চট্টগ্রাম নগরের সাথে আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করবে।
- টানেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (CCCC)।
- এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এবং এটি ২০২২ সালে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

১১,০২৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি হয় -
  1. ক) করাচী
  2. খ) আগরতলা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
-  ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করার ঘোষণা দেয়।
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ হিসেবে।

• মামলার বিচারকার্য:

- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় ঢাকার কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।

- অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌঁসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- পরবর্তীতে  আবার ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়। এ সময় স্যার টমাস উইলিয়াম ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইবুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
- ১৯৬৯ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যার করা হয়।
- ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে ও বিনাশর্তে ৩৫ জন অভিযুক্তকেই মুক্তি দেয়।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০২৯.
বাংলাদেশের প্রথম নারী অর্থসচিব-
  1. ক) আয়শা পারভীন মহুয়া
  2. খ) জিনিয়া রহমান
  3. গ) রাশেদা বানু
  4. ঘ) ফাতিমা ইয়াসমিন
ব্যাখ্যা
- দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে অর্থসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ফাতিমা ইয়াসমিন।তাকে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তিনি এখন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সেখানেও প্রথম নারী সচিব তিনি।
- আগামী ১১ জুলাই থেকে অর্থসচিব হিসেবে তার নিয়োগ কার্যকর হবে।

- ফাতিমা ইয়াসমিন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নবম ব্যাচের কর্মকর্তা।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন ফাতিমা ইয়াসমিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেছেন প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্র:- দৈনিক যুগান্তর।
১১,০৩০.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

⇒ তিনি গভর্নর জেনারেল হিসেবে ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- মাউন্টব্যাটেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারত বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।
- মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ‘আর্ল’ উপাধি প্রাপ্ত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩১.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় -
  1. ২৪ জানুয়ারি
  2. ২০ জানুয়ারি
  3. ১৯ জানুয়ারি
  4. ১৮ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ও প্রথম আলো।
১১,০৩২.
স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার কত সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
  1. পাঁচ
  2. সাত
  3. নয়
  4. এগারো
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
 
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৩৩.
নিম্নের কোন স্লোগান নব্বইয়ের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল?
  1. শান্তি ও সমৃদ্ধি
  2. একাত্তরের চেতনায় মুক্তি
  3. স্বাধীনতা আমার অধিকার
  4. স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
ব্যাখ্যা
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

উল্লেখ্য,
- সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

উৎস: প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১১,০৩৪.
নিচের কোন স্থানে সেনদের আদি নিবাস ছিল?
  1. ক) দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটে
  2. খ) ত্রিবেণীর বিজয়পুরে
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) দিল্লী
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:

- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়। ধারণা করা হয় তারা এদেশে ছিলেন বহিরাগত।
- সেনদের পূর্বপুরুষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণ্যাত্যের কর্নাটে।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- তিনি শেষ বয়সে কর্নাট থেকে এসে রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন। 
- ধারণা করা হয় যে, তিনি পাল রাজা রাম পালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৩৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় কোথায় ছিল?
  1. ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতায়
  2. মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায়
  3. আগরতলায়
  4. দিল্লিতে
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকারকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও অভিহিত করা হয়।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৩৬.
জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা কখন দেয়া হয়েছিল?
  1. ৩ জুলাই, ২০২৪
  2. ৬ জুলাই, ২০২৪ 
  3. ১০ জুলাই, ২০২৪  
  4. ১৬ জুলাই, ২০২৪ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গনঅভ্যুত্থানে “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল- ৬ জুলাই,২০২৪। 
----------------------------------------------------  
• “বাংলা ব্লকেড”:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে।
- ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 
- আন্দোলনের মূল দাবি ছিল - “সকলের জন্য সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা।”
- ৬ জুলাই ছাত্ররা ঘোষণা দেয় “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচির, যার মাধ্যমে সারাদেশে প্রতীকী অবরোধ পালিত হয়।
- এই কর্মসূচির ফলে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

 - “বাংলা ব্লকেড”- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল-
• কোটা ব্যবস্থা সংস্কার বা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• সরকারের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি এবং
• আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি করা।

- শিক্ষার্থীরা “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচীর মাধ্যমে চার দফা দাবি জানিয়েছিল: 
• কোটা বৈষম্য দূর করা,
• ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল,
• আন্দোলনে হামলার বিচার এবং
• অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন।

উৎস: বিবিসি নিউজ ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১১,০৩৭.
‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ - গানটির সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• নজরুল ইসলাম বাবু: 
- তাঁর লেখা কালজয়ী দুটি গান- 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' এবং 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার'।   

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কিছু বিখ্যাত গান: 
- একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যাঁরা’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার

- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।   
- সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।  

ব্রি:দ্র: 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' গানটির গীতিকার হচ্ছেন নজরুল ইসলাম বাবু এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় এই গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।

[অপশনে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নাম না থাকায় কাছাকাছি সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন (খ) গ্রহণ করা হলো।]

উৎস:
বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৩ ও ১৭ জানুয়ারি ২০১৫), দ্যা ডেইলি ষ্টার বাংলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।

১১,০৩৮.
স্বদেশি আন্দোলনের সময় কোন ধরনের পণ্য বর্জন করা হয়েছিল?
  1. খাদি কাপড়
  2. মসলিন কাপড়
  3. বিদেশি পণ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে স্বদেশী ভাবধারা, বিদেশী পণ্য বর্জন, 'বয়কট' ইত্যাদি পন্থায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী যে আন্দোলন বাংলায় গড়ে উঠেছিল তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়।
- এটি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় গড়ে উঠলেও অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একটি ধারা হিসেবে সমগ্র ভারতে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৩৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করে হয়েছিল?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ০৯ টি
  4. ঘ) ০৬ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১,০৪০.
মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী গান 'জয় বাংলা বাংলার জয়' এর গীতিকার কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী গান 'জয় বাংলা বাংলার জয়' এর গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

জয় বাংলা বাংলার জয়:

- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, 'আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

এছাড়াও, 
- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি'—এই বিখ্যাত গানটির রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।
- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণাদায়ক গান 'তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে' গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ।

উৎস: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম।

১১,০৪১.
গণ-অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন কবে?
  1. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  3. ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  4. ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯০
ব্যাখ্যা

এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি বাংলা৷

১১,০৪২.
'নদীর নাম মধুমতি' চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গ্রামীন জীবন
  4. ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
নদীর নাম মধুমতি:
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘নদীর নাম মধুমতি’।
- 'নদীর নাম মধুমতি' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে।
- এতে অভিনয় করেছেন তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি, আলী যাকের, সারা যাকের, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: প্রথম আলো।
১১,০৪৩.
"উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা করিলে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ রাতারাতি 'অশিক্ষিত' ও সরকারি চাকুরির 'অযোগ্য' বনিয়া যাইবেন"- উক্তিটি কার?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমদ লিখেছিলেন,
- ''উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা করিলে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ রাতারাতি 'অশিক্ষিত' ও সরকারি চাকুরির 'অযোগ্য' বনিয়া যাইবেন- ঠিক যা ঘটেছিল ব্রিটিশরা ফার্সির জায়গায় ইংরেজিকে ভারতের রাষ্ট্রীয় ভাষা করার পর ভারতের মুসলিম শিক্ষিত সমাজের ক্ষেত্রে।
- ভাষার প্রশ্নটি যে 'পাকিস্তানের এক অংশের ওপর আরেক অংশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আধিপত্য বিস্তারের সহিত জড়িত' এই বোধ তখন সবার মধ্যে জন্মাইতে শুরু করিবে।'

• কাজী মোতাহার হোসেন তার নিবন্ধে লিখেছিলেন, 
- যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙালি হিন্দু-মুসলামের ওপর রাষ্ট্রভাষা রূপে চালাবার চেষ্টা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে।
- কারণ ধূমায়িত অসন্তোষ বেশি দিন চাপা থাকতে পারে না। তাহলে শিগগিরিই পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশঙ্কা আছে। অর্থাৎ, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করলে পাকিস্তানের বাঙালিদের ক্ষোভ যে একসময় জাতীয়তাবাদী চিন্তায় রূপ নেবে এবং তা যে পাকিস্তানের বিভক্তি ডেকে আনতে পারে।'

উৎস: ভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ডেইলি স্টার বাংলা। [লিঙ্ক]

১১,০৪৪.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কবে শহিদ হন?
  1. ৮ এপ্রিল ১৯৭১
  2. ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ৫ মে ১৯৭১
  4. ২০ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সবার আগে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ ‍যুদ্ধে শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের শাহাদাতের তারিখ:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ৮ এপ্রিল ১৯৭১
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : ২০ আগস্ট ১৯৭১
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ২৮ অক্টোবর ১৯৭১
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১১,০৪৫.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে -
  1. ৮টি দল
  2. ১৪টি দল
  3. ২২টি দল
  4. ২৪টি দল
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৪৪টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৮৮টি আসন লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।
- এভাবে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ছিলেন না পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি তাদের এই বিমাতাসূলভ আচরণ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট রচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৪৬.
বাংলাদেশে বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই):
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের বন গবেষণা বিষয়ক একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- দেশের বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে ‘‘ফরেস্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’’ নামে ১৯৫৫ সালে চট্টগ্রামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে ১৯৬৮ সালে উক্ত ল্যাবরেটরিকে বন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সাল থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়)-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
- প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে National Agriculture Research System (নার্স) এর আওতাভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১১,০৪৭.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদটি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সমতট
  2. রাঢ়
  3. বরেন্দ্র
  4.  গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- 'গৌড়' নামটি সুপরিচিত হলেও প্রাচীনকালে ঠিক কোথায় গৌড় জনপদটি গড়ে উঠেছিল তা জানা যায়নি।
- তবে ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় মুসলমানদের বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
১১,০৪৮.
‘রাতারগুল’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. সাতক্ষীরা
  3. সিলেট
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। 
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল। 
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। 
- আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। 
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি। এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।
 
উৎস: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১১,০৪৯.
বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শাহজাদপুরে
  2. খ) নেত্রকোনায়
  3. গ) রামপালে
  4. ঘ) মহাস্থানগড়ে
ব্যাখ্যা
শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ।
- তিনি বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে সমাহিত।
- শাহ সুলতান বলখীর মাজার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ারের ইতিহাস অস্পষ্ট।
- কথিত আছে যে, তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন এবং এজন্য তিনি বলখী নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫০.
চরদখল কোন চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম?
  1. ক) জয়নুল আবেদীন
  2. খ) এস এম সুলতান
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) হাশেম খান
ব্যাখ্যা
এস এম সুলতান:

- এস এম সুলতান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- তার পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান ।
- তিনি ১৯২৩ সালে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনি নড়াইলে 'শিশুস্বর্গ' ও 'চারুপীঠ' নামে শিশুদের জন্যে দুটি চিত্রাংকন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
- এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- হত্যাযজ্ঞ।
- চরদখল।
- সভ্যতার ক্রমবিকাশ।
- ধান মাড়াই জমি কর্ষণ।
- গ্রাম্য কাজিয়া মাঠ পরিস্কার।
- ফসল সংগ্রহ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫১.
২১শে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আইন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন কে?
  1. ক) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) ফজলুল কাদের চৌধুরী
ব্যাখ্যা

দৈনিক আজাদ পত্রিকার কিংবদন্তীতূল্য সম্পাদক ও মুসলীম লীগের তৎকালীন আইন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম শামসুদ্দীন ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা-কমিটির সদস্য হন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে তিনি আইন পরিষদের সদস্যপদ ও মুসলিম লীগ সংসদীয় পার্টি ত্যাগ করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথমবার যে শহীদ মিনার নির্মিত হয়, আবুল কালাম শামসুদ্দীন তার উদ্বোধন করেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের শোষণ ও দুর্নীতির বিরোধিতা করলেও পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাসী ছিলেন।
অন্যদিকে, মওলানা তর্কবাগীশ ১৯৩৬ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন এবং পরে মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৫৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ঐ বছর ১ জুন তিনি মুক্তিলাভ করেন। এরপর তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
উল্লেখ্য, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন এবং পরে মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি আইন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কিনা এটা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। আপনাদের কোন রেফারেন্স থাকলে জানাবেন। আমরা তথ্যগুলো সামনে এনে আবুল কালাম শামসুদ্দিনকে সঠিক উত্তর হিসেবে নিচ্ছি।

১১,০৫২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
  1. পোল্যান্ড
  2. ইতালি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ২০০১ সালের ১৮ মে ওডারল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১১,০৫৩.
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. আবুল কাশেম
  3. আবদুল মতিন
  4. নুরুল হক ভূঞা
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন :
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে - সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
- ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।
- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- কারাবন্দি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনে ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হয় ।
– সেখানে মহিউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দিদের মুক্তি ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের পাশে) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- একপর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন। ২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র‍্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে এবং শফিউরের পিতাকে দিয়ে ঐ দিনই তা উদ্বোধন করা হয়।

অন্যদিকে, 
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০৫৪.
পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৬
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৫৩
  4. ঘ) ১৯৫৮
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার স্বীকৃতি 
• ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
• আওয়ামীলীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য ‘আদেলউদ্দিন আহমেদ’ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারি মতান্তরে ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন ।
• বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫৫.
বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন কোনটি?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) গজারি বন
  3. গ) শালবন
  4. ঘ) রাতারগুল জলাবন
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট
• রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
• বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
• সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।
• সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
• এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও

তথ্যসূত্র: সিলেট বিভাগের ওয়েবসাইট। 
১১,০৫৬.
(প্রশ্নটি তৎকালীন সাম্প্রতিক ছিলো)
সদ্য ঘোষিত তিতাস উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. কুমিল্লা
  3. রংপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
তিতাস উপজেলা: 
- তিতাস উপজেলা ২০০৪ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলা থেকে ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে।
- এর নামকরণ হয়েছে এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদীর নাম অনুসারে।
- তিতাস উপজেলার মোট আয়তন ১০৭.১৯ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি কুমিল্লা সদর থেকে ৫৮ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- উপজেলাটি ২৩ ডিগ্রী ৪০ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।
- তিতাস উপজেলার চারপাশে রয়েছে হোমনা, দাউদকান্দি, মুরাদনগর এবং মেঘনা উপজেলা।
 
সূত্র: তিতাস উপজেলা ওয়েবসাইট। 
১১,০৫৭.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করেছিল?
  1. ২১৭টি
  2. ২২৩টি
  3. ২২৭টি
  4. ২৩৫টি
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল:
- নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- ফলে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৫৮.
মুজিববর্ষের লগো কে ডিজাইন করেন?
  1. ধ্রুব এষ
  2. সব্যসাচী হাজরা
  3. নিতুন কুণ্ডু
  4. ধ্রুব আইচ
ব্যাখ্যা
মুজিব বর্ষ:

- মুজিব বর্ষের লোগোর ডিজাইনার সব্যসাচী হাজরা।
- মুজিব বর্ষ-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০ - ৩১ মার্চ ২০২২ সাল।
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর, ঢাকা।
- তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১০ জানুয়ারি ২০২০ সালে মুজিব বর্ষের লোগো উন্মোচন করেন।

[বি.দ্র: প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‍‘মুজিববর্ষ’ এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।]

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২০।
১১,০৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী কে ছিলেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. উইলিয়াম ওডারল্যান্ড
  3. আন্দ্রে মালরো
  4. অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী: 
-  অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়াম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশী যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- প্রথমদিকে তিনি দখলদার পাকবাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে আগেভাগেই মুক্তিযোদ্ধাদের তা জানিয়ে দিতেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৬০.
কার নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গণআদালত গঠিত হয়?
  1. ক) জেনারেল এমএজি ওসমানী
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হলে এর প্রতিবাদে শহিদ জননী খ্যাত জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে জাহানারা ইমামকে চেয়ারম্যান করে ১০ সদস্যের গণআদালত গঠিত হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৬ মার্চ গণআদালত ১০টি অপরাধে গোলাম আযমকে ‍মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় প্রদান করে এবং সরকাকে রায় বাস্তবায়নের আহবান জানায়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বিডিনিউজ২৪)
১১,০৬১.
কার নেতৃত্বে ইংরেজ সৈন্য নারিকেলবাড়িয়ায় অবস্থিত বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করেন?
  1. ক) লেফটেন্যান্ট ব্রেনান
  2. খ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
  3. গ) মেজর স্কট
  4. ঘ) স্যার টমাস রো
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ, জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গোড়ে তোলার লক্ষে ১৮৩১ সালে তিতুমির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

• বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে তিতুমির শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলে শাসক-শোষক জমিদারশ্রেণি শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমিরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৬২.
'ঢাকা গেইট'-এর নির্মাতা কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. নবাব আব্দুল গণি
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন। 
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

উৎস: ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
১১,০৬৩.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. হরিকেল
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৬৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৪৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৪৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ
• তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
• তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

বিঃদ্রঃ - যদি কোথাও তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠার তারিখ ২ সেপ্টেম্বর না থেকে ১ সেপ্টেম্বর থাকে তাহলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর করতে হবে। অনুরুপ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি কখন প্রকাশিত হয় জানতে চাইলে ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে। আর যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।  

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৬৫.
ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন কে?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
⇒ ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

লর্ড ওয়েলেসলির সময়ে শাসন ব্যবস্থা:

- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৬৬.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কত ধরনের উপাধি দেয়া হয়?
  1. ক) ৩ ধরনের
  2. খ) ৪ ধরনের
  3. গ) ৫ ধরনের
  4. ঘ) ৬ ধরনের
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ ধরনের খেতাব দেয়া হয়। যেমন- বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীক। 
- এর মধ্যে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জন বীর প্রতীক খেতাব পান।
- এর মধ্যে ২৮৬ জন আবার সেনাবাহিনী, ২১ জন নৌবাহিনী, ২১ জন বিমান বাহিনী, ১৪১ জন বিডিআর, ৫ জন পুলিশ এবং ২০২ জন ছাত্র, জনতা ও অন্যান্য পেশার গণবাহিনীর সদস্য।
- যে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁরা হলেন- 
১। ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
২। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ
৩। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
৪। ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৫। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
৬। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এবং
৭। সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান।

উৎস: ইতিহাস-৩, বিএ ৪র্থ সেমিস্টার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৬৭.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭ জন
  4. ঘ) ৮ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

• অস্থায়ী সরকারের  ৬ সদস্য বিশিষ্ট:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি,
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি, 
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী,  
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী,  
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী,
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী, 

• উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৬৮.
মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ফৌজদার ছিলেন -
  1. সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা
  2. পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা
  3. সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক
  4. রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৬৯.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে বাংলার বারভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করা সম্ভব হয়?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও-এর জমিদার ঈসা খানের নেতৃত্বে জমিদারদের বাহিনী সম্রাট আকবরের সেনাপতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বহু ক্ষেত্রে তাঁদের পরাভূত করেন। সেজন্য সম্রাট আকবরের শাসনকালে বাংলার অধিকাংশ জায়গায় মুঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। ঈসা খানের মৃত্যুর পর বারভূঁইয়াদের নেতা হন মুসা খান। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবেদার ইসলাম খান বারভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানকে পরাস্ত করে বাংলায় সুবেদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৭০.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি

১১,০৭১.
কোন রাজবংশের সময়ে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়?
  1. পাল রাজবংশ
  2. সেন রাজবংশ
  3. দেব রাজবংশ
  4. চন্দ্র রাজবংশ
ব্যাখ্যা
দেব রাজবংশের সময়ে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়।

আনন্দবিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এ বিহার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত সৌধমালার মধ্যে সর্ববৃহৎ।
- এ এলাকার সর্ববৃহৎ পুষ্করিণীসহ আনন্দবিহার কমপ্লেক্সটি সাত শতকের শেষ বা আট শতকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ে প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত হয়।

⇒ দেব রাজা ভবদেব এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঐ সময় বিহারটি এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিগণিত হয়।
- সেই সময় একে বিশ্বিবদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- তার প্রমাণ হলো, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন এবং তিনি এখানে প্রায় ৪০০০ ভিক্ষু ও ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি শিক্ষাকেন্দ্র দেখতে পান।
- যার কারণে তিনি কুমিল্লাবাসীকে প্রবল শিক্ষানুরাগী বলে আখ্যায়িত করেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভারতের নালন্দের পর এশিয়ার দি¦তীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৭২.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. ক) জুলফিকার আলী ভু্ট্টো
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন।
• এর আগে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে জোরপূর্বক সরিয়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৭৩.
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত জনপদের বর্তমান অবস্থান কোন অঞ্চলে?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) মুর্শিদাবাদ
  4. ঘ) মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• গ্রিক পন্ডিত টলেমির মানচিত্রে বাংলায় তমলিটিস নামে একটি বন্দরনগরীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেটি প্রাচীন বাংলার তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত বন্দরেরই অন্য নাম বলে মনে করা হয়।
- বন্দরটির অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোটামুটিভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রূপনারান নদীর মোহনায় অবস্থিত তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- এছাড়া স্বরস্বতী নদীর মোহনায় অবস্থিত সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁও এবং কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর প্রাচীন ও মধ্যযুগেই বহির্বিশ্বে বেশ পরিচিত ছিল।
- সুলতানি আমলে বাংলা ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা ও চীনা পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নদীপথে সোনারগাঁও বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
- মুগল আমলে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বাংলার প্রধান অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে সোনারগাঁও গুরুত্ব হারায়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া, কালের কন্ঠ। 
১১,০৭৪.
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে কোন দেশ থেকে?
  1. ক) সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. খ) কুয়েত
  3. গ) সৌদি আরব
  4. ঘ) মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
- প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের সিংহভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে।
- ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের মধ্যে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে - সৌদি আরব থেকে (৩,৯৩১.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
- দ্বিতীয় - সংযুক্ত আরব আমিরাত, তৃতীয় - কুয়েত।
- পশ্চিমা ও ইউরোপিয়ান দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে - যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস:- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ‘জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’, বাংলাদেশ ব্যাংক
১১,০৭৫.
Historical Panam City is located in
  1. ক) Dinajpur
  2. খ) Rangpur
  3. গ) Cumilla
  4. ঘ) Narayangonj
ব্যাখ্যা
পানাম নগর:
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও  চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর ফলশ্রুতিতেই গড়ে উঠেছিল বর্তমান পানামনগর।
- পানাম নগর নারায়ণগঞ্জ জেলার, সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর।
- বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর -প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
- এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত।
- তেরো শতকের শেষপাদে সোনারগাঁয়ে হিন্দু আমলের রাজধানী শহরটি এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- মুগলদের সোনারগাঁও অধিকারের (১৬১১) পর মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ করে রাজধানী শহরের সঙ্গে পানাম এলাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
- পানামে এখনও মুগল আমলের তিনটি ইটনির্মিত সেতু রয়েছে। এগুলি হলো পানাম সেতু, দালালপুর পুল ও পানামনগর সেতু।
- এখানে রয়েছে ভগ্নপ্রায় ও অযত্নে লালিত ৫২টি বাড়ি; সড়কের উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পার্শ্বে ২১টি।
- পানামনগরের চতুষ্পার্শ্ব কৃত্রিম খাল বা পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৭৬.
বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা কোনটি?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) যশোর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) পাবনা
ব্যাখ্যা

• ডিজিটাল জেলা:
- ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা ই-সেবাকেন্দ্র চালু হওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর জেলাকে ‘বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
- সে সময় তিনি ‘ন্যাশনাল ই-সার্ভিস সিস্টেম’-এর উদ্বোধন করেন। এ সিস্টেমের আওতায় যশোর জেলার ২৩২টি সরকারি দপ্তরে যেকোনো সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়।

সূত্র: bdembassyusa.org ও প্রথম আলো
১১,০৭৭.
অপারেশন কিলোফাইট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী রেল অপারেশন
  2. মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী গেরিলা অপারেশন
  3. মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী নৌ অপারেশন
  4. মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন
ব্যাখ্যা
• অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন। 

- এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে (তখন ঘড়ির কাঁটা অনুসারে ৩ ডিসেম্বর) মুক্তিবাহিনীর বৈমানিক মুক্তিযোদ্ধারা বিমানের সাহায্যে প্রথম পাকিস্তানিদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ শুরু করেন।
- অটারের সাহায্যে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল ডিপোতে অভিযানটি ছিল শতভাগ সফল।
- অটার বিমানের সাহায্যে চট্টগ্রামের আক্রমণ পরিচালনা করেন শামসুল আলম ও আকরাম আহমেদ।
- আক্রমণ করার পর পাকিস্তানিদের তরফ থেকে পাল্টা আক্রমণ না আসায় তাঁরা আরও তিনবার আক্রমণ করে অটারে থাকা সব রকেট নিঃশেষ করেন।
- নির্বিঘ্নেই তাঁরা ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক।
১১,০৭৮.
৯৪তম অস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে কোন চলচ্চিত্রটি পুরস্কার লাভ করে?
  1. ক) প্যারাসাইট
  2. খ) হেয়ার লাভ
  3. গ) জোকার
  4. ঘ) কোডা
ব্যাখ্যা
- ৯৪তম অস্কার / একাডেমী পুরস্কার (চলচ্চিত্র):

সেরা চলচ্চিত্র ⇒ কোডা (আমেরিকান চলচ্চিত্র)। 
• সেরা পরিচালক ⇒ জেন ক্যাম্পিয়ন 'দ্য পাওয়ার অব দ্য ডগ' চলচ্চিত্রের জন্য।
• সেরা অভিনেতা ⇒ উইল স্মিথ 'কিং রিচার্ড' চলচ্চিত্রের জন্য। 
• সেরা অভিনেত্রী ⇒ জেসিকা চ্যাস্টেইন 'দ্য আইস অব টেমি ফেই' চলচ্চিত্রের জন্য।
• সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র ⇒ 'ড্রাইভ মাই কার' (জাপান)।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল। 
১১,০৭৯.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ছিলেন জাতিতে -
  1. ইরানি
  2. আফগানি
  3. তুর্কি
  4. ইরাকি
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ শহিদ হয়েছিল- 
  1. ৫ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১২ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

জুলাই  গণঅভ্যুত্থান:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা , মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।

১১,০৮১.
'বৈদেশিক মুদ্রা' ঐতিহাসিক ছয় দফার কততম দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. দ্বিতীয় দফা
  2. তৃতীয় দফা
  3. চতুর্থ দফা
  4. পঞ্চম দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮২.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোন জেলায় সমাহিত করা হয়?
  1. খুলনা
  2. যশোর
  3. সিলেট
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
- সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়।
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
- খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১১,০৮৩.
কত সালে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- এ সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের এক সভায় শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ ১৯৪৮ সালে দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১,০৮৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটি ব্যতিক্রমধর্মী ছিল?
  1. ১০ নং
  2. ৮ নং
  3. ৬ নং
  4. ২ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ নং সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

অন্যদিকে -
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮৫.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম কোন বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম সংঘটিত বিদ্রোহ ছিল ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়কাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে ফকির মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৮০০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের তীব্রতা ছিল উত্তর বাংলায়।
- বিদ্রোহীরা বহু ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুট করে।
- ফকির মজনু শাহ গেরিলা যুদ্ধকৌশল অনুসরণ করতেন।
- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফকির–সন্ন্যাসী বিদ্রোহ চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,০৮৬.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট: 
• ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। 
• কৃষক প্রজাপার্টির নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করেন।  

• পরবর্তীতে নেজাম-ই-ইসলাম, খেলাফতে রব্বানী পার্টি, গণতন্ত্রী দল শরীক হয়।  
• সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রোডে প্রধান অফিস স্থাপিত হয়।

• মহান একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতিতে যুক্তফ্রন্ট প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।  
• পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।  
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা'।  
• সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  
• নির্বাচনে তারা মোট ৩০৯ আসনের মধ্যে ২২৩ টি মুসলিম আসন ও ১৩ টি অমুসলিম আসনে জয় লাভ করে।    

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।  
১১,০৮৭.
দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড কারখানা খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস লি. এর প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. সুন্দরী কাঠ
  2. গেওয়া কাঠ
  3. গোলপাতা
  4. বাঁশ
ব্যাখ্যা
খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস লি. দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড কারখানা।
- খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস লি. এর স্থাপনা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে ১৯৬৫ সালে।
- কারখানাটি কানাডীয় সরকারি সাহায্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত হয়।
- কারখানার প্রধান কাঁচামাল সুন্দরবনে উৎপাদিত কাঁচা সুন্দরী জ্বালানী কাঠ।
- তবে কাঁচামাল হিসাবে গেওয়া কাঠও ব্যবহৃত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ক্যামিকেল ইন্ড্রাস্টিজ কর্পোরেশন (BCIC)]
১১,০৮৮.
আকবরের শাসনামলে আমলে কোন ইউরোপীয় পর্যটক ভারতে এসেছিলেন?
  1. উইলিয়াম হকিন্স  
  2. স্যার টমাস রো
  3. রাল্ফ ফিচ্
  4. এডওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
• রাল্ফ ফিচ্:
 → সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের মাঝামাঝি সময়কালে (১৫৮৩-১৫৯১) রাল্ফ ফিচ্ (ইংরেজ) ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়ান।
 → তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে ভারতের বিভিন্ন খাদ্যশস্য, সুত বস্ত্র এবং জনজীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্যের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
 → তিনি দিউ, আগ্রা, বাংলাদেশ, পেগু, দক্ষিণ-ভারত ও সিংহলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। আর সে সমস্ত অঞ্চলের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছেন।
=================
অপরদিকে, 
 → সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে বহু ইউরোপীয় ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে উইলিয়াম হকিন্স উল্লেখযোগ্য।
 → স্যার টমাস রো, তিনিও রাজা প্রথম জেমসের দূত হিসেবে জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন। 
 → ১৬১৫ খ্রি. রাজা প্রথম জেমসের চিঠি নিয়ে এডওয়ার্ড জাহাঙ্গীরের দরবারে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (এস এস এইচ এল), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৮৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কতটি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ৬৩টি
  4. ঘ) ৬৪টি
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯০.
নিচের কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) বয়কট আন্দোলন
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

১১,০৯১.
প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যকেন্দ্রিক ইতিহাসের শেষ সম্রাট হর্ষবর্ধন কোন বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন?
  1. মৌখরি বংশ
  2. চালুক্য বংশ
  3. পুষ্যভূতি বংশ
  4. কুষাণ বংশ
ব্যাখ্যা
ভারতে চতুর্থবারের মতো বৃহৎ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার কৃতিত্ব - পুষ্যভূতি বংশের। এই রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হর্ষবর্ধন।
হর্ষ কনৌজ এবং থানেশ্বরকে যুক্ত করেন এবং নিজ সাম্রাজ্য বহুদূর পর্যন্ত বর্ধিত করেন। তিনি ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। সম্ভবত ৬৪৬ খ্রিস্টাব্দে হর্ষের মৃত্যু হয়।
প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্যকেন্দ্রিক ইতিহাসে হর্ষবর্ধনই শেষ সম্রাট। বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষের শাসন ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত)]
১১,০৯২.
ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয় -
  1. ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. ৬ ফেব্রুয়ারি
  3. ৬ জুন
  4. ৭ জুন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয়।
- ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালায়।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii)  ৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো।
১১,০৯৩.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ শিক্ষার কয়টি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২০
  2. ২৫
  3. ৩০
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৯৪.
ঢাকাকে কত সালে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৬০১ সালে
  2. ১৬১০ সালে
  3. ১৬০৮ সালে
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
• ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন।
- শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

• ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।

• কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়।
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।

• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,০৯৫.
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রথম আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) শাহরিয়ার কবির
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) হারুন অর রশিদ
ব্যাখ্যা
১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি 'ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি' গঠিত হয়। জাহানারা ইমাম (শহীদ জননী) এই কমিটির আহ্বায়ক হন। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১১,০৯৬.
ক্র্যাকপ্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. ক) আজম খান
  2. খ) শহীদ শফি ইমাম রুমি
  3. গ) মোফাজ্জজল হোসেন চেীধুরী
  4. ঘ) হাবিবুল আলম
  5. ঙ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ রংপুরে হরতালে শহীদ শঙ্কু সমজদার হলো ‍মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। বাকি সবাই ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য। ক্র্যাকপ্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে গঠিত একটি গেরিলা বাহিনী। এটি ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। (সূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
১১,০৯৭.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?' শীর্ষক পুস্তিকাটি কোন সংগঠন প্রকাশ করে?
  1. সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি
  3. পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ
  4. তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
- 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?' শীর্ষক পুস্তিকাটি কোন সংগঠন প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিশ।

• তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,০৯৮.
বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯৯.
সাংবিধানিকভাবে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে?
  1. ক) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) লতিফুর রহমান
  3. গ) হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) ফখরুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।
- এর অধীনে ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।
- ৩ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এর আগে ১৯৯০ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও এর সাংবিধানিক ভিত্তি ছিলো না।
- ফখরুদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

১১,১০০.
উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ভাস্কো-দা-গামা
  2. আলবুকার্ক
  3. ম্যাজিলানও
  4. বার্থলমিউ দিয়াজ
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
- পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
- সুস্বাদু ফল আনারস, পেপে, পেয়ারা, জলপাই, কামরাঙ্গা প্রভৃতি তাঁরাই এদেশে প্রচলন করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী
করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।