বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০৮ / ১২৪ · ১০,৭০১১০,৮০০ / ১২,৪২১

১০,৭০১.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) আপেল মাহমুদ
  2. খ) আবদুল হাদী
  3. গ) গোবিন্দ হালদার
  4. ঘ) আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ
- 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।'
- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....',
- 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....'
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০,৭০২.
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফার ২য় দফাটি নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) বৈদেশিক বাণিজ্য
  2. খ) মুদ্র বা অর্থ
  3. গ) রাজস্ব কর
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকার
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।
• দফা গুলো হলোঃ
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৭০৩.
নিচের কোন প্রতিষ্ঠানটি আদমশুমারি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত?
  1. ক) NIPORT
  2. খ) BBS
  3. গ) BENBAIS
  4. ঘ) BSS
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাংলাদেশে আদমশুমারি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত।
- এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- দেশ স্বাধীনের পর প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আদমশুমারি কমিশন আদমশুমারির দায়িত্বে ছিলো।
- ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার আদমশুমারি কমিশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়াধীন ৪টি পরিসংখ্যান অফিসকে একীভূত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গঠন করে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে এটির শাখা রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
১০,৭০৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ০৮টি
  2. ১১টি
  3. ২২টি
  4. ৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭০৫.
মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ‘ বলা হয় -
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে
  2. খ) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহের শাসন আমলকে
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসন আমলকে
  4. ঘ) আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসন আমলকে
ব্যাখ্যা
•  আলাউদ্দিন হুসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯):
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
- তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ‘ বলা হয় - আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
- তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
- তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
- গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৬.
মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. মেহেরপুর
  2. সাতক্ষীরা
  3. চুয়াডাঙ্গা
  4. নবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর 
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ. এইচ. এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।  
১০,৭০৭.
কোন ভাষা শহীদের জন্ম ভারতের মুর্শিদাবাদ?
  1. রফিক উদ্দিন আহমদ
  2. আবুল বরকত
  3. আবদুল জববার
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
- আবুল বরকত একজন ভাষা শহীদ।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৩ জুন (মতান্তরে ১৬ জুন) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম আবাই।
- ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আবুল বরকতকে ২০০০ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
১০,৭০৮.
বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করেছিল কোন আন্দোলন?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. ৬৯ গণঅভ্যুত্থান
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তিকরে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ।
- তৎকালীন পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীকালে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকালে পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬% বাংলা ভাষী এবং ৩.২৭% উর্দু ভাষী ছিল।
- তবুও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ প্রথমেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন।
তাঁরা এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।
- এভাবেই পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত।
- ১৯৫২ সালে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ভাষার জন্য প্রতিবাদী আন্দোলনে পৃথিবীতে প্রথম শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অনেকেই।
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সময়কালে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করেছিল ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে।
- যার প্রেরণায় দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৭০৯.
১৯৫২ সালের পূর্বে ছাত্ররা কোন দিনকে ভাষা আন্দোলনের জন্য পালন করত?
  1. ১১ মার্চ
  2. ২১ মার্চ
  3. ১১ ফেব্রুয়ারি
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯ মার্চ পূর্ব বাংলা সফরে আসেন।
- ২১ মার্চ (১৯৪৮) ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- জিন্নাহর এই ঘোষণার প্রতিবাদে জনসভার কোনো কোনো অংশে মৃদু 'নো', 'নো' ধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- জনসভার তিন দিন পর (২৪ মার্চ, ১৯৪৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি বলেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা অবশ্যই হবে উর্দু।
- জিন্নাহর এ উক্তির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে উপস্থিত গ্রাজুয়েটবৃন্দ 'না', 'না' ধ্বনি উচ্চারণ করে।
- জিন্নাহর ঘোষণায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি পূর্ববাংলার মানুষের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ভাব সৃষ্টি হয়।
- জিন্নাহর পূর্ববাংলা সফর ভাষা-আন্দোলনকে স্তিমিত করে দেয়।
- তাঁর জনপ্রিয়তা এবং তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ শ্রদ্ধাবোধ অনেক আন্দোলনকারীকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে ফেলে।
- এমনকি তমদ্দুন মজলিশও আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
- তবে ভাষার জন্য ছাত্রদের মনে ক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
- ছাত্ররা ১৯৪৮ এর পর থেকে ১৯৫১ পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ মার্চ পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১০.
বাংলাকে ‍‘বুলগাকপুর’ হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ইবনে বতুতা
  3. গ) জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পর্যায়ে (১২০৪-১৩৩৮ খ্রি.) বাংলার শাসকগণ পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না। তারা দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলা শাসন করতেন।
- তবে এই সময়ের শাসকগণ প্রায়ই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। কিন্তু দিল্লির সুলতানদের বারবার আক্রমণে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে বাংলায় এই সময়ে মুসলিম শাসন ছিলো বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
- যার কারণে ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা ‘বিদ্রোহের নগরী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৭১১.
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ভাগীরথী নদী
  2. খ) করোতোয়া নদী
  3. গ) গোমতী নদী
  4. ঘ) যমুনা নদী
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স নিম্নের কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করেনি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. জামালপুর
  3. কুমিল্লা
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স নিম্নের কুমিল্লায় যুদ্ধ করেনি।

 ব্রিগেড সংগঠন ও অপারেশন:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকটা ছিল গেরিলাভিত্তিক কিন্তু এভাবে গেরিলা যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর সুশিক্ষিত সৈন্যদের পদানত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছিল না।
- ফলে যুদ্ধ ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়ন ও মুক্তাঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গঠন বিন্যাসের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- এপ্রিল মাসে মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সম্মুখ সমরের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়। এরা হচ্ছে:

⇒ জেড ফোর্স:
- লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমানের নামানুসারে জুলাই ৭১ সনের ৭ই জুলাই গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় জেড ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ২ ফিল্ড ব্যাটারি আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী।
- জুলাই ৭১ থেকে সেপ্টেম্বর ৭১ পর্যন্ত জেড ফোর্স ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও রৌমারী এলাকায় যুদ্ধরত থাকে।
- অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত তারা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে।
- জেড ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল কামালপুর যুদ্ধ, বাহাদুরাবাদ ঘাট অপারেশন, দেওয়ানগঞ্জ থানা আক্রমণ, নকসী বিওপি আক্রমন, চিলমারীর যুদ্ধ, হাজীপাড়ার যুদ্ধ, ছোটখাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, লামাকাজি, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলই, ধামাই চা বাগান, জকিগঞ্জ, আলি ময়দান, সিলেট এমসি কলেজ, ভানুগাছা, কানাইঘাট, ফুলতলা চা বাগান, বড়লেখা, লাতু, সাগরনাল চা বাগান, ছাতক ও রাধানগর।

অন্যদিকে,
খ) কে ফোর্স:
- লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফের নামানুসারে সেপ্টেম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় কে ফোর্স। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ ইস্ট বেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১ ফিল্ড ব্যাটারি (মুজিব ব্যাটারী) আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী। কে ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল দেউশ মন্দভাগ অভিযান, শালদা নদী অভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবার যুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনী যুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয় ও ময়নামতি বিজয়।

গ) এস ফোর্স:
- লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় এস ফোর্স। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, এস ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল ধর্মগড় আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়া অপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়া যুদ্ধ, ব্রাহ্মণবাড়ীয় যুদ্ধ, ভৈরব ও আশুগঞ্জ যু্দ্ধ, কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুর যু্দ্ধ, নরসিংদী যুদ্ধ ও বিলোনিয়ার যুদ্ধ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৭১৩.
মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. সাতক্ষীরায়
  2. মেহেরপুরে
  3. চুয়াডাঙ্গায়
  4. নবাবগঞ্জে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর:
- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এখানে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। -
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৪.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

 তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
১০,৭১৫.
‘মধ্যযুগের গোপাল’ বলে কাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. সুলতান সিকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১০,৭১৬.
কোন শাসকের সময় থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?
  1. ফখরুউদ্দিন মোবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. ঈশা খাঁ
  4. সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর সময় থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:

- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১৭.
Who made 'Moder Gorob' sculpture in Bangladesh?
  1. ক) Badrul Alam
  2. খ) Rabiul Hussain
  3. গ) Akhil Pal
  4. ঘ) Novera Ahmed
ব্যাখ্যা
মোদের গরব
- এর অবস্থান বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে।
- এর স্থাপত্য নকশা করেন শিল্পী অখিল পাল।
- এটি উদ্বোধন হয় ২০০৭ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানোর আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহিদদের সম্মানে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অন্যদিকে -
- বদরুল আলম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনারের নকশাকার।
- রবিউল হুসাইন ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের স্থপতি।
- নভেরা আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের শহীদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমানের সহযোগী।

উৎস: প্রথম আলো।
 ১২ ডিসেম্বর, ২০২১।
১০,৭১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'এস ফোর্স' এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. এ টি এম হায়দার
  2. জিয়াউর রহমান
  3. খালেদ মোশাররফ
  4. কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১৯.
কার সময়ে বঙ্গভঙ্গ হয়?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭২০.
পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. নূরুল আমিন
  3. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব

- লিয়াকত আলী খান পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- লিয়াকত আলী খান ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন। 
- ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডির কোম্পানিবাগে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

উল্লেখ্য, 
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমুদ্দিন।
- পূর্ববাংলার প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।
- ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 
- তখন নূরুল আমিনকে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭২১.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ গানের বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আব্দুল লতিফ
  4. সোহেল খান
ব্যাখ্যা
 ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক গান:
- "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”
- এটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্রমিছিলে গুলি চালানোর প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল কবিতাটি।
- এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত "একুশে ফেব্রুয়ারি" সংকলনে 'একুশের গান' হিসেবে ছাপা হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে।
- এটি প্রথমে সুর করেন আবদুল লতিফ।
- এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন- আলতাফ মাহমুদ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ড সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২২.
কোন শাসকের শাসনামলে ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ: 
- ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের শাসনামলে, ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে।
- এই সময় ফখরুদ্দীন ছিলেন বাংলার স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং সোনারগাঁ ছিল তাঁর রাজধানী।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে ফখরুদ্দীনকে একজন খ্যাতনামা, প্রজাবৎসল এবং দানশীল শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি জানান যে, চট্টগ্রামও ফখরুদ্দীনের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাঁর শাসনকালেই বাংলা ছিল সমৃদ্ধিশালী ও বাণিজ্যিকভাবে উন্নত।
- ইবনে বতুতার বিবরণে জানা যায়, বাংলার অভ্যন্তরীণ শান্তি, খাদ্য প্রাচুর্য, বাণিজ্য প্রসার এবং সুফি-দরবেশদের প্রতি সুলতানের শ্রদ্ধা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- ফখরুদ্দীনের শাসনামলেই বাংলায় একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজ্যব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১০,৭২৩.
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' ও 'কারাগারের রোজনামচা' মধ্যে মিল কোথায়?
  1. ক) দুটোই চিঠিপত্র মূলক উপন্যাস
  2. খ) দুটোই দার্শনিক ও তত্ত্ব মূলক আলোচনা
  3. গ) দুটোই জেলখানায় বসে লেখা
  4. ঘ) দুটোই কন্যাকে লেখা চিঠিপত্র মূলক রচনা
ব্যাখ্যা
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' ও 'কারাগারের রোজনামচা মধ্যে মিল - দুটোই জেলখানায় বসে লেখা।

• কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

অন্যদিকে,
- দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া বইটি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু আহমেদনগর ফোর্টে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- বইটির রচনা ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে শেষ হলেও এটি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা এবং বাংলাবুক, ভারতীয় জনতা পার্টির ওয়েবসাইট।[ লিঙ্ক]
১০,৭২৪.
১৯৬৯ সালের এগারো দফা দাবি মূলত কাদের ছিল?
  1. ছাত্র সমাজের
  2. বুদ্ধিজীবি সমাজের
  3. শ্রমিক সমাজের
  4. কৃষক সমাজের
ব্যাখ্যা
• ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি:
- ১৯৬৯ সালের ছাত্র-সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি ছিল।
- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ১৯৬৮ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ);
- এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ডাকসুর তৎকালীন ভিপি ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদে আরো নেতৃত্ব প্রদান করেন মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন প্রমুখ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭২৫.
জিয়াউর রহমান কোন স্থান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
  1. ঢাকা বেতার কেন্দ্র
  2. কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
  3. খুলনা বেতার কেন্দ্র
  4. আগরতলা বেতার কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

- ২৭শে মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- তাঁর এই ঘোষণায় আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত ও সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৭২৬.
“টিয়ার্স অব ফায়ার” কী?
  1. ক) পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন
  2. খ) নবগঠিত পুলিশ ব্যাটেলিয়ন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র
  4. ঘ) দরিদ্র বিমোচন কর্মসূচি
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে ‘টিয়ার্স অব ফায়ার’ নামে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন সেন্টু রায়। এছাড়াও তিনি ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে তৈরি করেছেন ‘রাইট টু রিটার্ন’।
উৎসঃ প্রথম আলো
১০,৭২৭.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' কে পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন?
  1. ক) আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  3. গ) আব্দুল মান্নান
  4. ঘ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। 
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’। 
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। 
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭২৮.
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কঠোর নিয়মকানুন
  2. খ) বয়সভিত্তিক
  3. গ) অনমনীয়তা
  4. ঘ) নমনীয়তা
ব্যাখ্যা

- উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী দলের জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যে সংগঠিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আলাদা কার্যক্রম হিসেবে বা সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে থাকে।
- এতে যে কোনো বয়সের নিরক্ষর মানুষকে অক্ষর, লেখাপাঠ, গণনা, হিসাব, মনের ভাব লিখন প্রভৃতি মৌলিক বিষয় শেখানো হয়।
- ব্রিটিশযুগে ১৯১৮ সালে নৈশ বিদ্যালয়ে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বৈশিষ্ট্য সমূহ হচ্ছে - 
- স্বল্পমেয়াদী 
- খণ্ডকালীন
- শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক
- ব্যয় কম
- নমনীয় কাঠামো 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭২৯.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৮ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল '৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।
- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল - মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল - মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল - মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম - অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৭৩০.
কোন ইংরেজ গভর্নর পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড হেস্টিংস
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৩১.
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কয়টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে?
  1. ২০টি
  2. ১৯টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ২২ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে। 
যে ২২টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে, সেগুলো হলো বম, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, চাকমা, গারো, হাজং, খাসি, খিয়াং, কোচ, কোল, লুসাই, মাহালে, মেইতে মণিপুরি, ম্রো, মুন্ডা, ওঁরাও কুরুখ, ওঁরাও সাদ্রি, পাহাড়ি, পাংখোয়া, সাঁওতাল, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা ও কোডা।
সংখ্যায় বেশি বা পরিচিত চাকমা, গারো, সাঁওতাল ভাষার পাশাপাশি সংখ্যা একেবারে কম পাংখোয় এবং কোডাদের ভাষায় এ ভাষণ অনুবাদ হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১০,৭৩২.
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কে ছিলেন?
  1. ক) ঝিলংজা মারমা
  2. খ) ইউ কে চিং মারমা
  3. গ) সন্তু লারমা
  4. ঘ) আরুপ মারমা
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ইউ কে চিং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।

(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন নিউজ রিপোর্ট)

১০,৭৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. বরিশাল
  3. টাঙ্গাইল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১০,৭৩৪.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটেছিল?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধে
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে
  3. গ) দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে
  4. ঘ) পানিপথের দৃতীয় ‍যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• পানিপথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। যথা:

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ- বারব বনাম ইব্রাহিম লোদী
- ফলাফল- ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।
- এই যুদ্ধের ফলে ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং দিল্লি সালতানাতের পতন হয়।

• পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ: 

 - সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ 
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৩৫.
পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন -
  1. মার্চ, ১৯৪৮
  2. জুন, ১৯৪৮
  3. ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮
  4. মে, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের ইংরেজি অথবা উর্দুতে বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- এ অবস্থায় পূর্ব-পাকিস্তান কংগ্রেস দলের সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষারূপে স্বীকৃতি দানের দাবি জানান।
- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীমহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে পড়ে।
- মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন মিলিতভাবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্র ভাষার ক্ষেত্রে সরকারি ষড়যন্ত্র রোধ এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
- এসময় পুলিশী আক্রমণে বহু ছাত্র আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১২-১৫ মার্চ ঢাকাসহ সকল জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়।

⇒ জিন্নাহর ঢাকা সফর আন্দোলনে নতুন মাত্রা:
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব-পাকিস্তান সফরে ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা'।
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- ২৪ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানিয়ে জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৩৬.
'বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবন' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) লন্ডন
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) ধানমন্ডি ৩২ নম্বর
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভবনের নির্মাণ হয়। 
- বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলের নবনির্মিত বর্ধিত ভবনের নাম রাখা হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবন।
- ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারীতে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দিপু মনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন।
- পাশাপাশি বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষের সামনে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ মূর্তি এবং ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়াও,
- কলকাতার পার্কসার্কাসে অবস্থিত  ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরনি।

উৎস: বাংলানিউজ২৪.কম এবং কালের কন্ঠ।
১০,৭৩৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান কোনটি?
  1. অপারেশন ক্লোজডোর
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন বিগ বার্ড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১০,৭৩৮.
নিম্নের কোনটি ‘দোয়েল’ নামে পরিচিত নয়?  
  1. উন্নত জাতের ইক্ষু
  2. এক ধরনের পাখি
  3. একটি ল্যাপটপ
  4. উন্নত জাতের গম
ব্যাখ্যা

উন্নত জাতের ইক্ষু যা ‘দোয়েল’ নামে পরিচিত নয়। 

দোয়েল (DOEL):

- বাংলাদেশে তৈরি প্রথম ল্যাপটপের নাম দোয়েল (DOEL)।
- ২০১১ সালে এই ল্যাপটপের উদ্বোধন করা হয়। 
- দোয়েল ল্যাপটপের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলো ‘টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) লিমিটেড।

দোয়েল:
- দোয়েল উন্নত জাতের গম।

দোয়েল:
- বাংলাদেশের জাতীয় পাখি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০,৭৩৯.
নিচের কোন সংগঠনটি ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি
  4. আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৭৪০.
কোন আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘Poet of Politics' হিসেবে অভিহিত করেছিল?
  1. ক) Times
  2. খ) Readers' Digest
  3. গ) Newsweek
  4. ঘ) The Economist
ব্যাখ্যা
• ২০০৪ সালে বিবিসির এক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' খেতাব বা উপাধি পান।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তোফায়েল আহমেদ।
• ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন আ. স. ম. আবদুর রব।
• ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেন নিউজউইক ম্যাগাজিন।

তথ্যসূত্র: আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট
১০,৭৪১.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন?
  1. বাংলা বিভাগ
  2. ইতিহাস বিভাগ
  3. সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
  4. পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয়: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে।
- অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ'।
- তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৪২.
কেন মধ্য যুগে হিন্দু সম্প্রদায় ফার্সি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতো?
  1. সাহিত্য রচনা করতে
  2. চাকরি পেতে
  3. প্রশাসনিক কাজ করতে
  4. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে
ব্যাখ্যা
মধ্য যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফার্সি।
তাই এ ভাষা প্রায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করেছিল।
সরকারি চাকরি লাভের আশায় অনেক হিন্দু ফার্সি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৭৪৩.
বঙ্গবন্ধু ব্যতীত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী কতজন ছিল?
  1. ৩৫ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৩ জন
  4. ৩২ জন
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামী ছিলো ৩৫ জন।
- বঙ্গবন্ধু ব্যতীত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিলো ৩৪ জন। 
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
- যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১০,৭৪৪.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' পুস্তিকার লেখক-
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' পুস্তিকার লেখক ছিলেন ৩ জন। অধ্যাপক আবুল কাশেম, ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও আবুল মনসুর আহমদ।
১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট 'তমুদ্দন মজলিস' ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে।
১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও আবুল কাশেমের তিনটি প্রবন্ধ নিয়ে 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' শীর্ষক প্রকাশিত একটি পুস্তিকায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আহ্বান জানানো হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৭৪৫.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:

- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৬.
বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা কি?
  1.  দ্রাবিড়
  2. কামরুপী
  3. অস্ট্রিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে বাংলায় এদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৪৭.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের বৃত্তের উপরের দিকে লেখা রয়েছে- 
  1. সরকার
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. শাপলা 
  4. পাট পাতা
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

১০,৭৪৮.
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী নাগরিক কে?
  1. গি. রিচার্ড
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. মাইকেল হ্যারিসন
  4. ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড:
- ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড একজন অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক।
- তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন।
- ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধের জন্য এই খেতাব পাওয়া একমাত্র বিদেশি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে কাজ করেছিলেন।
- ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- ‘বীর প্রতীক’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের গণবাহিনীর তালিকায় ৩১৭ নম্বরে রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৯.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) আইন অমান্য আন্দোলন
  3. গ) ৩রা জুন পরিকল্পনা
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সবার আগে সংঘটিত হয় আইন অমান্য আন্দোলন।
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয় যা ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো।
অন্যদিকে,
ক্রিপস মিশন ভারতে আসে ১৯৪২ সালের মার্চে।
ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলে ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত ছাড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের জুন মাসে ‘৩রা জুন পরিকল্পনা’ পেশ করেন যা ‘ভারত ভাগ পরিকল্পনা’ নামেও পরিচিত।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১০,৭৫০.
বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো-
  1. বরেন্দ্র জনপদ
  2. সমতট জনপদ
  3. হরিকেল জনপদ
  4. চন্দ্রদ্বীপ জনপদ
ব্যাখ্যা
• প্রচীন জনপদ:
- প্রাচীনকালে বাংলা নামে কোনো অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি অঞ্চলের শাসক নিজেদের মতো শাসন করতো। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয় জনপদ। 
• জনপদগুলো হলো:
- গৌড়, বঙ্গ, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, চন্দ্রদ্বীপ, রাঢ়, তাম্রলিপ্ত প্রভৃতি।

• জনপদগুলোর অবস্থান:
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

• প্রাচীন জনপদের রাজধানী:
- গৌড় জনপদের রাজধানী - কর্ণসুবর্ণ। 
- সমতট জনপদের রাজধানী - বড়কামতা।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী - পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন।
- রাঢ় জনপদের রাজধানী - কোটিবর্ষ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০,৭৫১.
গুপ্ত সম্রাটদের শাসন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ ছিলো কোনটি?
  1. সুবা
  2. ভুক্তি
  3. মণ্ডল
  4. বীথি
ব্যাখ্যা
- গুপ্ত যুগের সম্রাটদের সময় পুরো সাম্রাজ্যকে কত গুলো ভুক্তিতে বিভক্ত করা হতো।
- ভুক্তি আবার কতগুলো মণ্ডলে বিভক্ত ছিলো। মণ্ডলকে বীথিতে এবং বীথিকে গ্রামে।
- ভুক্তি ছিলো সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ। ভুক্তি প্রধানকে বলা হতো উপরিক। তাকে সরাসরি সম্রাট নিযুক্ত করতেন।
- সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক বিভাগ ছিলো গ্রাম।
- পাল আমলে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান সচিব পদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৭৫২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ১০ নং সেক্টর
  2. ১১ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
এরা ছিলেন - 
- গাজী মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ (চীফ পেটি অফিসার), 
- সৈয়দ মোশাররফ হোসেন (পেটি অফিসার), 
- আমিন উল্লাহ শেখ (পেটি অফিসার), 
- আহসান উল্লাহ (এম.ই-১), 
- এ.ডব্লিউ.চৌধুরী (আর.ও-১), 
- বদিউল আলম (এম.ই-১), 
- এ.আর মিয়া (ই.এন-১) এবং 
- আবেদুর রহমান (স্টুয়ার্ড-১)। 

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া
১০,৭৫৩.
পাকিস্তান গণপরিষদ অধিবেশনে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন কে? 
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

• ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- আওয়ামী-লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৫৪.
২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯
  2. ১৭ নভেম্বর, ২০০০
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০০
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়। 
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৫.
বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা ও পরিকল্পনা কার?
  1. হামিদুর রহমান
  2. আবুল হাশিম
  3. ডা. সাঈদ হায়দার
  4. নিতুন কুন্ডু
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার: 
- বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা ও পরিকল্পনা শিল্পী হামিদুর রহমানের। 

- ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
- পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালিত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডে একজন কিশোর নিহত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হরতাল পালিত হয়।
- ডা. সাঈদ হায়দারের নকশা অনুসারে রাতে মেডিকেল কলেজের গেইটের সামনে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী শহীদ মিনারের স্থলে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশা ও পরিকল্পনায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ১৯৭২ সালে পূর্বের নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহীদ মিনারটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫৬.
নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল না-
  1. মীর জাফর
  2. মোহন লাল
  3. উমিচাঁদ
  4. রায়দুর্লভ
ব্যাখ্যা
নবাব সিরাজউদ্দৌলা: 
- আলিবর্দি খান অপুত্রক ছিলেন।
- তাই তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
- আলিবর্দির প্রথম কন্যা ঘষেটি বেগম।
- ঘষেটি বেগম সিরাজউদ্দৌলার নবাব হওয়া মেনে নিতে পারেনি।
- ফলে তিনি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন।
- কয়েকজন অভিজাতের সমর্থন লাভ করেন ঘষেটি বেগম।
- তাদের মধ্যে রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, মীর জাফর, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যায়।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধে অংশগ্রহণে বিরত থাকেন।
- নবাবের দেশপ্রেমিক সৈন্যছিল  ছিল মীরমদন ও মোহন লাল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরবিক্রম
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
১০,৭৫৮.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. মেঘের অনেক রং
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. বাঙলা
  4. পদ্মা মেঘনা যমুনা
ব্যাখ্যা

বাঙলা:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'বাঙলা'।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি লাভ করে ২০০৬ সালে।
- আহমদ ছফার উপন্যাস ‘ওঙ্কার’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন শহীদুল ইসলাম খোকন।
- এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন হুমায়ুন ফরীদি, মাহফুজ আহমেদ ও শাবনূর সহ আরও অনেকেই।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বণিক বার্তা পত্রিকার রিপোর্ট।

১০,৭৫৯.
'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর' গানটির সুরকার কে?
  1. সমর দাস
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. রথীন্দ্রনাথ রায়
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ জয় বাংলা, বাংলার জয়:
- গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।
- শিল্পী: শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
১০,৭৬০.
বাংলা নববর্ষ কে প্রবর্তন করেন?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা
পহেলা বৈশাখ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন  লোকউৎসব।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। 
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনন্সিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ছায়ানট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বি.এস.সি.আই.সি), নজরুল একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনন্সিটিউশন প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
- বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬১.
কাদেরকে 'বর্গী' নামে অভিহিত করা হতো?
  1. ক) মারাঠা সৈন্য
  2. খ) পর্তুগিজ জলদস্যু
  3. গ) আরাকানি জলদস্যু
  4. ঘ) ডেনিশ অধিবাসীদের
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বরগি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
- আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালায়।
অন্যদিকে,
- পর্তুগিজ জলদস্যু : ফিরিঙ্গি
- আরাকানের জলদস্যু : মগ
- ডেনমার্কের অধিবাসীরা : দিনেমার।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১০,৭৬২.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বাংলাদেশে প্রথম:
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ।
- প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করে মুসা ইব্রাহিম (২০১০ সালের ২৩ মে)।
- প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করেছেন নিশাত মজুমদার।
- বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।
- প্রথম ইন্টারনেট ভিত্তিক নিউজ এজেন্সি - বিডিনিউজ।
- প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে - ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.।
- প্রথম এটিএম কার্ড চালু করে - স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।
- বাংলাদেশের প্রথম আদম শুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৪ সালে।

উল্লেখ্য,
⇒ 'মুজিবনগর সরকার' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সদরদপ্তর ছিলো - ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৬৩.
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কাল-
  1. ক) জুলাই ২০১৯ - জুন ২০০৪
  2. খ) জুলাই ২০২০ - জুন ২০২৫
  3. গ) জুলাই ২০২১ - জুন ২০২৬
  4. ঘ) জুলাই ২০২২ - জুন ২০২৭
ব্যাখ্যা
৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা:
- মেয়াদকাল: জুলাই ২০২০ - জুন ২০২৫।
- বাস্তবায়ন ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা: ৬৪,৯৫,৯৮০ কোটি টাকা।
- মোট বিনিয়োগ জিডিপির: ৩৭.৪%।
- প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: ৮.৫১%। 
- কর্মসংস্থান: ১ কোটি ১৩ লাখ।
- মূল্যস্ফীতি: ৪.৬%।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ু: ৭৪ বছর।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন: ৩০ হাজার মেগাওয়াট।
- দারিদ্র্যের হার: ১৫.৬%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৭.৪%।

উৎস: পরিকল্পনা বিভাগ।
১০,৭৬৪.
কনস্টান্টিনোপল বর্তমানে কোন নামে পরিচিত?
  1. ক) বাগদাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) রোম
  4. ঘ) ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
ইস্তাম্বুল, পূর্বে কনস্টান্টিনোপল বা প্রাচীন বাইজান্টিয়াম শহর এবং তুরস্কের সমুদ্রবন্দর।
- কৃষ্ণ সাগরের প্রবেশদ্বারে একটি উপদ্বীপে অবস্থিত।
- তুরস্কের বৃহত্তম শহর বসপোরাসের উভয় পাশে অবস্থিত এবং এইভাবে ইউরোপ এবং এশিয়া উভয় স্থানেই অবস্থিত।
- বাইজান্টিয়াম খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতাব্দীতে গ্রীক উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ৫১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য আচেনীয় রাজবংশের কাছে এবং তারপর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের কাছে, এটি প্রথম শতাব্দীতে রোমানদের অধীনে একটি মুক্ত শহর হয়ে ওঠে।
- সম্রাট প্রথম কনস্টান্টাইন শহরটিকে ৩৩০ সালে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের আসন বানিয়েছিলেন, পরে এটির নামকরণ করা হয়েছিল কনস্টান্টিনোপল।

উৎস: Britannica.
১০,৭৬৫.
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য কোন স্কিমটি রয়েছে?
  1. প্রবাস
  2. সমতা
  3. প্রগতি
  4. সুরক্ষা
ব্যাখ্যা
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম):
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- সরকার মোট ৬টি স্কিমের কথা ঘোষণা করেছে। 
- আপাতত চালু হয়েছে ৪টি স্কিম।

৪টি স্কিম:
• প্রবাস: 
- এটি শুধু বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য।
- এর মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে।

• প্রগতি:
- এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য।

• সুরক্ষা:
- এই স্কিমটা স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য।
- অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
- এর আওতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন।

• সমতা:
- এই স্কিমে চাঁদার হার একটিই: এক হাজার টাকা।
- তবে এক্ষেত্রে প্রতিমাসে ব্যক্তি দেবে পাঁচশ টাকা আর বাকি পাঁচশো দেবে সরকার।
- মূলত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম।

উৎস: ১৭ আগস্ট, ২০২৩, প্রথম আলো।
১০,৭৬৬.
The last country to perform business in the Indian sub-continent -
  1. Portugal
  2. Germany
  3. Denmark
  4. France
ব্যাখ্যা
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে আগত সর্বশেষ ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কোম্পানিটি সর্বপ্রথম সুরাটে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরীতে গড়ে তোলে ফরাসি উপনিবেশ।
- ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ফরাসিরা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলায় সম্প্রসারিত করে।
- কয়েক বছরের মধ্যে চন্দননগর একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠিতে পরিণত হয়।
- ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী দুর্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তিকালে তারা কাশিমবাজার ও বালাসোরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৬৭.
ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটরা কে নির্মাণ করেন? 
  1. শায়েস্তা খান
  2. শাহ সুজা
  3. ইসলাম খান
  4. ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা

• বড় কাটরা:
-
বড় কাটরা ঢাকায় অবস্থিত মুঘল আমলের নিদর্শন।
- বড় কাটরা ১৬৪৪–১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়।
- এটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র এবং তৎকালীন বাংলার সুবাদার শাহ সুজার আদেশে তার দেওয়ান মীর আবুল কাসিম নির্মাণ করেন।
- প্রথমে এটি শাহ সুজার বাসস্থানের জন্য তৈরি হলেও পরে মুসাফিরখানা (সরাই) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বড় কাটরা ঢাকার পুরান অংশে, চকবাজারের দক্ষিণে, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- ঢাকার ইতিহাস ও মুঘল স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বড় কাটরা আজও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

উল্লেখ্য,
- ছোট কাটরা হল ঢাকায় মুঘল শাসনামলে নির্মিত দুটি কাটরার মধ্যে একটি।
- এটি ১৬৬৩–১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে সুবাহদার শায়েস্তা খান কর্তৃক নির্মিত হয়।
- ছোট কাটরা অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে, হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে।
- মূলত এটি শায়েস্তা খানের ব্যক্তিগত বসবাস এবং তার পরিবারের জন্য নির্মিত হলেও, তৎকালীন সুবাদারি প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহৃত হতো।
- মুঘল স্থাপত্যের সঙ্গে ঢাকার প্রাচীন কাঠামোর সমন্বয়ে নির্মিত এই কাটরা পরে সরকারি কর্মকর্তা এবং অতিথিদের থাকার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. প্রথম আলো।

১০,৭৬৮.
নিম্নের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. মেহেরপুর
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ সেক্টরগুলো:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

অন্যদিকে,
= ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।

= ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।

= ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।

= ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।

= ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।

= ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।

= ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।

= ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।

= ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,

= ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬৯.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে কয়টি তারকা আছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)।
- এই মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে রয়েছে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।

উৎস: - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০,৭৭০.
What was the sixth movement of the historical 'Six Point Movement'?
  1. Defense
  2. Foreign Currency
  3. Customs policy
  4. none of this
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭১.
তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিল?
  1. ২ নং
  2. ৮ নং
  3. ৯ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। 
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। 
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। 
- ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক, kurigram.gov.bd.
১০,৭৭২.
বাংলা একাডেমি কোন আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।
- বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২) একাডেমির প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া। 
১০,৭৭৩.
মুজিব নগর সরকারের চিফ অব স্টাফ ছিলেন কে?
  1. আবদুর রব
  2. এম.এ.জি ওসমানী
  3. এ.কে খন্দকার
  4. এস.এ সামাদ
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৪.
'কবর' নাটকটি কোন আন্দোলন নিয়ে রচিত হয়?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  2. শিক্ষা আন্দোলন 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন 
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- তখন কারাগারে থাকা কমিউনিস্ট নেতা রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি ‘কবর’ নাটক লেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কারাবন্দী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।
- পরবর্তীতে এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশে মঞ্চায়িত হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় নাটকে পরিণত হয়েছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৭ জানুয়ারি ২০২৩)
১০,৭৭৫.
সম্রাট অশোকের রাজত্বকাল ছিল -
  1. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
  2. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯
  3. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৬-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
  4. খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯-খ্রিস্টপূর্ব ২৩৮
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতির সঙ্গে পার্থক্যের দরুন পন্ডিতরা মনে করেন যে, অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৭৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. কামরুল হাসান
  3. হাশেম খান
  4. জয়নুল আবেদিন
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩।
১০,৭৭৭.
সম্প্রতি কোন শহরে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়?
  1. আঙ্কারা
  2. হেবরন
  3. ফ্রিটাউন
  4. কুয়েতসিটি
ব্যাখ্যা
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ফিলিস্তিনের হেবরন শহরে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। হেবরন শহর ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
১০,৭৭৮.
ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার কে উদ্বোধন করেন?
  1. শহিদ বরকতের মা
  2. শহিদ শফিউরের বাবা
  3. শহিদ জব্বারের বাবা
  4. শহিদ শফিউরের মা
ব্যাখ্যা
• কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক বর্তমান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহিদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
১০,৭৭৯.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  4. জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

১০,৭৮০.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়
  2. খ) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়
  3. গ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. ঘ) কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
• কোয়ালিশন সরকার: 
কোয়ালিশন সরকার বা জোট সরকার হল একাধিক রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত সরকারের একটি বিশেষ রূপ। কোনও একক দল নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সাধারণত একাধিক দল মিলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে এ ধরনের সরকার গঠন করে। 
• ১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
 
১০,৭৮১.
In which year was the tragic famine 'Chiyatturer Monontor' occured?
  1. 1770
  2. 1772
  3. 1774
  4. 1776
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৮২.
বাংলাদেশের কয়টি বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা নেই?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাচঁটি
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা হল ৬৪।
→ সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে ৩২ টি। এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ভারত ও মিয়ানমার এর সাথে।
→ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০ টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার।
→ এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ডিএমপি নিউজ (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।
১০,৭৮৩.
তমদ্দুন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. আবুল কালাম
  2. আবুল হাসেম
  3. আবুল কাশেম
  4. আবুল আহমদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড)।
১০,৭৮৪.
১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ কে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৮৫.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. মেগাস্থিনিস
  2. অতীশ দিপঙ্কর
  3. শিলভদ্র
  4. মা হুয়ান
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং:
- একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
- ভারতে তিনি প্রায় পনের বছর অতিবাহিত করেন।
- এর অনেকটা সময় তিনি বিহারে অবস্থিত প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে অতিবাহিত করেন।
- হিউয়েন-সাং এর দীক্ষাগুরু ছিলেন শিলভদ্র।
- তখন নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন বাঙালি বৌদ্ধ পন্ডিত শীলভদ্র।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- হিউয়েন-সাং বাংলায় আসেন ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে।
- ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন-সাং চীনে ফিরে যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮৬.
'DoE'-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Department of Engineering
  2. Division of Energy
  3. Department of Environment
  4. Division of Economy
ব্যাখ্যা
পরিবেশ অধিদপ্তর:
- 'DoE'-এর পূর্ণরূপ Department of Environment.
- ১৯৭২ সালে স্টকহোম কনফারেন্স অন হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট এর পরপরই বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের ফলোআপ পদক্ষেপ হিসেবে, বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৭ জন জনবল দিয়ে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে এবং পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৭৩ জারি করে।
- ১৯৭৭ সালে, পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্যের নেতৃত্বে ১৬ জন সদস্য নিয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং ২৬ জন জনবলসহ একজন পরিচালকের নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সেল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৮৯ সালে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সেল ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সমন্বিত করে মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর নামে পূর্নগঠন করা হয়।
- ২০০৯ সালে ২১টি জেলায় এবং ২০১৯ সালে সকল জেলায় কার্যালয় স্থাপনের নিমিত্তে সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন পায় এবং কার্যক্রম শুরু করে।

তথ্যসূত্র - পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১০,৭৮৭.
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় -
  1. ১৬২০ সালে
  2. ১৬১৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬০০ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮৮.
১ আগস্ট ১৯৭১ ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. ক) প্যারিসে
  2. খ) নিউইয়র্কে
  3. গ) ওয়াশিংটন ডিসিতে
  4. ঘ) লন্ডনে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর। তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলস এ কনসার্ট আয়োজনে অংশ নেয়। এতে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশর আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
১০,৭৮৯.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) হাম্বুরাবি
  2. খ) ইখনাটন
  3. গ) নেবুচাদনেজার
  4. ঘ) ডেরিয়াস
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসেরীয়দের পরাজিত করে নেবুচাদনেজার নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তিনি তার রাণীর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যাবিলন নগরের দেয়ালের উপর এক মনোরম উদ্যান নির্মাণ করেন যা ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১০,৭৯০.
বাংলাদেশের কোন এলাকা থেকে বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি শুরু হয়েছে?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা

- শের শাহের গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তিনি এ পথে গমনকারী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

- এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন।]
- তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৯১.
যুক্তরাষ্ট্র কত সালে বাংলাদেশকে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে-
  1. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  2. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭৪
  4. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয়।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
-আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।


১০,৭৯২.
'জুলাই শহীদ দিবস' কত তারিখ?
  1. ১৬ জুলাই
  2. ১৮ জুলাই
  3. ৫ আগস্ট
  4. ৮ আগস্ট
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস:
- ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হবে।
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ও ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য:
- ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' 'খ' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১০,৭৯৩.
চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান কার শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা

চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান:
- মা হুয়ান  চৈনিক পরিব্রাজক।
- জেং হি (চেং হো)-র ভারত মহাসাগরে অভিযাত্রায় সফরসঙ্গী চার প্রধান কর্মকর্তার মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। 
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ-এর শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন।

• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং তিনি চীনে বিশেষ দূত প্রেরণ করেন। চীন সম্রাট ইয়াং লু'র সাথে তিনি দূত বিনিময় করেন।
- বাংলা থেকে ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীন সম্রাটের দরবারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়, প্রত্যুত্তরে চীন সম্রাটও ১৪১১ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত চৈনিক দোভাষী মাহুয়ান-এর নেতৃত্বে একটি চীনা প্রতিনিধি দল বাংলায় প্রেরণ করেন।
- মাহুয়ান তাঁর বর্ণনায় বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা দিয়েছেন তা বাংলার ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য,
- খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে এসেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌটিল্য (তার আরেক নাম চাণক্য)। 
- আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৩৯৯ অব্দে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে পায়ে হেঁটে বাংলা ভ্রমণে আসেন চীন দেশের ফা হিয়েন।
- হিউয়েন সাং একাধারে একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, পর্যটক এবং অনুবাদক ছিলেন। হর্ষবর্ধনের আমলে ৬৩০-৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে চীনের এই পরিব্রাজক বাংলা ভ্রমণ করেন।
- সপ্তম শতকে  বাংলায় আসেন আরেক চীনা নাগরিক ‘ইৎ-সিং’। 
- ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইবনে বতুতা বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- বঙ্গের সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদের শাসনামলে চীনা পর্যটক ফেই-সিন বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- আনুমানিক ১৬৫৫ সালে ইতালীর নিকোলা মানুচ্চি বাংলায় এসেছিলেন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৯৪.
কোন ঘটনাটি বাংলায় অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঘটেছিল?
  1. প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন
  2. বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা
  3. ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।

- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৫.
বর্তমানে বাংলাদেশে কোন শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৯০-৯৫) প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন’ গৃহীত হয় এবং ঐ বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ গেজেটের এক অতিরিক্ত সংখ্যায় বিজ্ঞাপিত হয়। ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের ৬৮টি থানায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৬.
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ১৭ মার্চ, ২০২০
  2. ১৭ মার্চ, ২০১৯
  3. ১৭ মার্চ, ২০২১
  4. ১৭ মার্চ, ২০২২
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষই হলো মুজিববর্ষ। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তার জন্মের ১০০ বছর হয়। এই সময়কে স্মরণীয় করে রাখতেই পরবর্তী ১ বছর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে এবং কিছু দেশ ও সংস্থার উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবেও “মুজিববর্ষ” পালিত হচ্ছে।

নিম্নে মুজিববর্ষ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোকপাত করা হল -
সময়কালঃ ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ সাল পর্যন্ত।
প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‍‘মুজিববর্ষ’ এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।
মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয় – ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে।
মুজিববর্ষ পালনের উদ্দেশ্যে একটি ‘‘জাতীয় কমিটি’’ গঠিত হয় যার সভাপতি হচ্ছেন – মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আবার, ‘জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি হচ্ছেন – জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় – ১০ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখ থেকে।
১৭ মার্চ, ২০২০ তারিখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির নাম – মুক্তির মহানায়ক। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠ করা কবিতাটির নাম – “বাবা”। কবিতাটির রচয়িতা – বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠাকন্যা শেখ রেহানা। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষণ প্রদান করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।
১০,৭৯৭.
দক্ষ শিক্ষকের কি গুণ থাকা দরকার?
  1. বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের সৃষ্টি করা
  2. শিক্ষার্থীদের কাজে ব্যস্ত রাখা
  3. শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পাসে সাহায্য করা
  4. শ্রেণীকক্ষ শান্ত রাখা
ব্যাখ্যা
ভালো শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতা:

- শিক্ষক হল মানুষ গড়ার কারিগর। তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের কিছু গুনাবলী থাকা দরকার।
- শিক্ষার সর্বস্তরে শিক্ষকই হলেন শিক্ষাকর্মের মূল উৎস।
- প্রত্যেক শিক্ষকে্র বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের সৃষ্টি করার দক্ষতা থাকা দরকার।
- একজন ভালো শিক্ষকের পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করার যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় শিক্ষক বাতায়ন।
১০,৭৯৮.
‘মুজিব বাহিনী’ কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) যুবকদের
  2. খ) শ্রমিকদের
  3. গ) পেশাজীবীদের
  4. ঘ) ছাত্রছাত্রীদের
ব্যাখ্যা

মুজিব বাহিনী  মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী।  আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এ বাহিনী গঠন করা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের এ বাহিনীকে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং এর নেতৃত্বে ছিল ১৯-সদস্যের কেন্দ্রীয় কম্যান্ড। প্রথমদিকে সেক্টর কম্যান্ডারগণ ভারতের ব্যারাকপুর, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও মেঘালয় থেকে নিজ নিজ বাহিনী পরিচালনা করতেন। এই বাহিনীর সদস্যরা মূলত ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী ও কট্টর আওয়ামী সমর্থক তরুণরা।
মুজিব বাহিনীর কেন্দ্রীয় কম্যান্ডার ছিলেন - তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও  শেখ ফজলুল হক মনি। শেখ ফজলুল হক মনি মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেরাদুন পাহাড়ি এলাকায় এ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, এই বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীন ছিলো। এর মানে হচ্ছে - প্রবাসী সরকার বা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল অরোরার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
- এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল সুজন সিং উবান, যিনি ভারতীয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমাণ্ডার (ইন্সপেক্টর জেনারেল) ছিলেন।
- ভারতের ভূখণ্ডে একটি গোপন স্থানে (দেরাদুন) এই বাহিনীল সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো যার তত্ত্ববধায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার টি. এস ওবেরয়।
- কর্ণেল বি ডি কুশাল এই বাহিনীর প্রশাসনিক বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন।
- মেজর জেনারেল এস. এস. উবান ১৯৯৫ প্রকাশিত ফ্যান্টমস্‌ অব চিটাগাং গ্রন্থে লিখেছেন যে, এই মুজিববাহিনী মুক্তিযুদ্ধ কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সহযোগী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

বিশ শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুজিব বাহিনী গঠনের ধারণার উন্মেষ ঘটে বলে ধারণা করা হয়।
- সেসময় কতিপয় জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে এটি একটি একাডেমিক চিন্তা হিসেবে লালিত হত।
- মুজিব বাহিনীর অগ্রণী সংগঠকরাই একসময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং তাঁরাই ছিলেন ১৯৬৯ সালের এগারো দফা কর্মসূচির প্রবক্তা।
- তাঁরা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনা করেন, ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধের পথে সার্বিক প্রস্তুতি সংগঠিত করেন।

তথ্যসূত্রঃ সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাপিডিয়া পত্রিকার কলাম।

১০,৭৯৯.
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. কারওয়ানবাজার
  3. যশোর
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
সফটওয়্যার টেকনোলোজি পার্ক:

- ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলোজি পার্ক' বেজপাড়া, যশোর অবস্থিত।
- ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইটি পার্কটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়।
- “শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক" করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টেক সিটি শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম হাইটেক পার্ক শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক।
- শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রয়েছে ডেটা সংরক্ষণের জন্য দেশের দ্বিতীয় সার্ভার স্টেশন।
- গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত প্রথম সার্ভার স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য এখান থেকেই উদ্ধার করা যাবে।

তথ্যসূত্র - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১০,৮০০.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে প্রণীত হয় -
  1. ১ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১১ দফা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।