বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০৫ / ১২৪ · ১০,৪০১১০,৫০০ / ১২,৪২১

১০,৪০১.
খিলাফত আন্দোলন এর নেতা ছিলেন -
  1. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  2. মাওলানা শওকত আলী
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৪০২.
'স্বরাজ পার্টি' কে গঠন করেন?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. মৌলভী আব্দুল করিম
  3. মওলানা আকরাম খান
  4. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
ব্যাখ্যা
বেঙ্গল প্যাক্ট:
- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য হিন্দু-মুসলমান নেতৃবৃন্দ পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি প্রদান করেন। 
- এ বিষয়টি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসকে বিচলিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার
জন্য হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
- এ ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি বাংলা প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অথচ পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা দানের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এ বিষয়ে তিনি শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনা করেন।
- একই সঙ্গে তিনি মৌলভী আব্দুল করিম, মওলানা আকরাম খান, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ নেতাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে
বৈঠক করেন।
- কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এসে ১৯২২ সালে তিনি গঠন করেন 'স্বরাজ পার্টি'।
- স্বরাজ দলের সভাপতি হিসেবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মুসলমান নেতাদের সঙ্গে ১৯২৩ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এ চুক্তির লক্ষ্য ছিলো, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি জোরদারকরণ।
- ইতিহাসে এই চুক্তিই 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪০৩.
প্রামাণ্যচিত্র ‘A State Is Born’ কে নির্মাণ করেন?
  1. গীতা মেহতা
  2. মোস্তফা কামাল
  3. জহির রায়হান
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
A State Is Born:
- ‘এ স্টেট ইজ বর্ন’ প্রামাণ্যচিত্রর নির্মাতা জহির রায়হান।
- এটি ‘জাতীয় মুক্তিসংগ্রামভিত্তিক চলচ্চিত্র’-এর দ্বিতীয় খণ্ড।
- ১৯ মিনিটের এ প্রামাণ্যচিত্রটি ৩৫ মি.মি. ফরম্যাটে নির্মাণ করা হয়েছিল।
- চিত্রনাট্য, প্রযোজনা ও পরিচালনা: জহির রায়হান,
- ধারা বর্ণনা রচনা ও পাঠ: আলমগীর কবির,
- চিত্রগ্রহণ– অরুণ রায়, সম্পাদনা: দেবব্রত সেনগুপ্ত।

উল্লেখ্য,
- প্রামাণ্যচিত্রটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসকে চলচ্চিত্রের পর্দায় প্রতিফলিত করার চেষ্টা করে। এতে নির্মাতা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চিত্রায়িত করেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের গঠন, যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার কথা এ ছবিতে প্রতিফলিত হয়েছে। ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে এ ছবির গুরুত্ব অপরিসীম। ছবিটির ইংরেজি ধারাভাষ্য বর্ণনা করেন আলমগীর কবির। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
১০,৪০৪.
'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের' প্রথমটি নির্মিত হয়েছে কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. রংপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- ২০২৪-এর জুলাই মাসে সংঘটিত গণআন্দোলন ও আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে।
- বাংলাদেশে ৬৪টি জেলায় একই নকশায় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- প্রথমটি নির্মিত হয়েছে হাজীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-এ ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে।
- নির্ধারিত নকশাজুড়ে রয়েছে একটি প্ল্যাটফর্মে স্টিল বা কংক্রিটের স্তম্ভ; দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৮ ফুট, ব্যাস ৬ ফুট।
- উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
- রাজধানীর ওসমানী উদ্যানেও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো অনলাইন নিউজ।

১০,৪০৫.
সারা দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কত সালে প্রবর্তিত হয়েছে?
  1. ১৯৮২ সাল
  2. ১৯৮০ সাল
  3. ১৯৯০ সাল
  4. ১৯৯২ সাল
ব্যাখ্যা
• সর্বজনীন শিক্ষা :
- সর্বজনীন শব্দের অর্থ সকলের জন্য।
- কাজেই সকলের জন্য যে কল্যাণকর শিক্ষা তা-ই সর্বজনীন শিক্ষা।
- কোন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা তখনই সর্বজনীন বলব, যখন কোন সমাজ বা দেশের ধর্ম, বর্ণ, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে যা সকল নাগরিকের জন্য তা হবে সমভাবে গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকর। 
- ধর্ম, বর্ণ, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের ৬-১০ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য সারা দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ১৯৮০ সাল থেকে প্রবর্তিত হয়েছে।

উৎস : স্কুল অব এডুকেশন, সিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৪০৬.
মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) ঈসা খান
  3. গ) মীর কাসেম
  4. ঘ) মুর্শীদকুলী খান
ব্যাখ্যা
- মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগদের বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয় শায়েস্তা খানের সুবাদারির কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
- তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪০৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় চুনাপাথর পাওয়া যায়?
  1. ঢাকা
  2. সিলেট
  3. দিনাজপুর
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর:

- চুনাপাথর এক প্রকার পাললিক শিলা যা প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট দ্বারা গঠিত।
- প্রকৃতিতে ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট সহযোগে অথবা ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেটের উপস্থিতি ব্যতীত খনিজ ক্যালসাইট হিসেবে চুনাপাথর পাওয়া যায়।
- সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে চুনাপাথর।
- কাগজ, স্টীল, চিনি, কাচ ও চুন তৈরিতেও এটি ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে চুনাপাথরের ভূ-পৃষ্ঠীয় এবং অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠীয় (sub-surface) বা ভূগর্ভস্থ উভয় প্রকার মজুত রয়েছে।
- সিলেটের ছাতক, জয়পুরহাট,  কক্সবাজার ও সুনামগঞ্জে চুনাপাথর পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি নিউজ, ৩ জুন ২০১২।
১০,৪০৮.
বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) চিরঞ্জীব মুজিব
  2. খ) মুজিব আমার পিতা
  3. গ) হাসিনা: আ ডটার’স টেল
  4. ঘ) দ্য অল টাইম হিরো
ব্যাখ্যা
- দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র 'মুজিব আমার পিতা'।
-  অসমাপ্ত আত্মজীবনী' অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব'।
- হাসিনা: আ ডটার’স টেল এর পরিচালক পিপলু খান। 
- বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র '৫৭০'।
- বঙ্গবন্ধুর আলোচিত ইংরেজি তথ্যচিত্র 'দ্য অল টাইম হিরো’-এর বাংলায় নির্মিত শিরোনাম 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি'। এটি পরিচালনা করেন নোমান রবিন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলা নিয়ে সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র 'টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা'।

সূত্র: Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল, ২০২১ – এপ্রিল, ২০২২
১০,৪০৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম
  3. বিচারপতি এন এন সাহা
  4. বিচারপতি আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ:
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম।
- তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
- পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হন।

উৎস: সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
১০,৪১০.
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ২৫টি
  3. ২৯টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা

- প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের জন্য মোট ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা: 

- বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তর শেষে শিশুর যে সকল যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব, তাকে প্রান্তিক যোগ্যতা বলা হয়।
- প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারিত শিক্ষাক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করলে শিক্ষার্থীরা এসব যোগ্যতা অর্জন করে।
- যেকোনো যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু হয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলমান থাকে।
- তবে কিছু প্রান্তিক যোগ্যতা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে ভিন্ন পর্যায়ে শুরু বা শেষ হতে পারে।
- পাঁচ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিশু যে যোগ্যতাগুলো অর্জন করবে বলে আশা করা হয়, সেটিই প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা।

সূত্র: শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশ শিক্ষা: আবদুল মালেক। 

১০,৪১১.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কী?
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. সুবর্ণগ্রাম
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অপরদিকে,
- চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪১২.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো কতটি?
  1. ক) ১৬২টি
  2. খ) ১৬৭টি
  3. গ) ১৬৯টি
  4. ঘ) ১৭০টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
- এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ৭টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন পেয়ে জয় লাভ করেছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৪১৩.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র’ কে সম্পাদনা করেছেন?
  1. ড. আনিসুজ্জামান
  2. ড. আনোয়ার হোসেন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ড. মুনতাসির মামুন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত।
- প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠাব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- প্রকাশনা প্রকল্পে কাজ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত এক প্রামাণ্যকরণ কমিটি।
- এ খণ্ডগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত, স্মৃতিচারণা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ১৯০৫-৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিও।
- সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পৃষ্ঠার সংকলন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,৪১৪.
আফ্রিকান কোন দেশটি বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
  1. গাম্বিয়া
  2. গ্যাবন
  3. সেনেগাল
  4. সিয়েরা লিওন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- আফ্রিকান দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় সেনেগাল।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১০,৪১৫.
মুজিবনগর সরকারের ত্রান ও পূর্ণবাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামারুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৪১৬.
বাংলাদেশে ডিগ্রি প্রাপ্ত চিকিৎসক প্রতি জনসংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ২৬২৮ জন
  2. খ) প্রায় ৪৫৭২ জন
  3. গ) প্রায় ১৯০১ জন
  4. ঘ) প্রায় ১৭২৪ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুসারে,
- মোট জনসংখ্যা -- ১৬.৬৫ কোটি।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার -- ১.৩৭%।
- পুরুষ-মহিলা অনুপাত -- ১০০.২ : ১০০।
- প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব -- ১১২৫ জন।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল -- ৭২.৬ বছর
- সুপেয় পানি গ্রহণকারী -- ৯৮.১
- স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারী -- ৮১.৫
- মহিলা (১৫-৪৯ বছর) প্রতি উর্বরতা হার -- ২.০৪
- শিশু মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মে) -- ২১ জন।
- দারিদ্র্যের হার -- ২০.৫ শতাংশ।
- চরম দারিদ্র্যের হার -- ১০.৫ শতাংশ।
- স্থূল জন্ম হার (প্রতি ১০০০ জনে) -- ১৮.১ জন।
- স্থূল মৃত্যু হার (প্রতি ১০০০ জনে) -- ৪.৯ জন।
- গর্ভ নিরোধক ব্যবহারের হার -- ৬৩.৪।
- ডাক্তার ও জনসংখ্যার অনুপাত-২০১৮ -- ১ : ১৭২৪
১০,৪১৭.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) শাহজাহান সিরাজ
  2. খ) আ স ম রব
  3. গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১০,৪১৮.
Sundarban is declared as 'World Heritage' by -
  1. UNDP
  2. ILO
  3. UNICEF
  4. UNESCO
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
১০,৪১৯.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১২ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদস্যবৃন্দ:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৪২০.
'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বিজয় সেন
  4. হেমন্ত সেন 
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৪২১.
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ কে?
  1. আবু সাঈদ
  2. আবরার
  3. ওয়াসিম আকরাম
  4. আদনান
ব্যাখ্যা
ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান:
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- প্রায় ১৫০০ মানুষকে হত্যার প্রেক্ষিতে বিগত প্রায় পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশকে শাসন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটে নিহত হন।

অন্যদিকে,
- বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম।

উৎস: i) প্রথম আলো। [link]
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
১০,৪২২.
মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন-
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. কর্নেল এম এ রব
  3. এস. এ সামাদ
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- জেনারেল এম এ জি ওসমানীর বাড়ি সিলেট জেলায়।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় : এস এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব।

সূত্র-বাংলাপিডিয়া।
১০,৪২৩.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ হয়-
  1. ১৫২৬ সালে
  2. ১৫৫৬ সালে
  3. ১৭৬১ সালে
  4. ১৭৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
- ১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি মারাঠা সাম্রাজ্য এবং দুররানি আফগান সাম্রাজ্যের আক্রমণকারী সেনাবাহিনীর মধ্যে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- যুদ্ধটি দিল্লির প্রায় ৯৭ কিলোমিটার (৬০মাইল) উত্তরে পানিপথ শহরের মধ্যে এবং তার চারপাশে সংঘটিত হয়েছিল।
- ২৭ বছরের মুঘল-মারাঠা যুদ্ধ (1680-1707) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্রুত আঞ্চলিক ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে ।
- তবে ১৭০৭ সালে তার মৃত্যুর পর, আওরঙ্গজেবের পুত্রদের মধ্যে মুঘল উত্তরাধিকার যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়াটি বিপরীত হয়ে যায়।
- ১৭১২ সালের মধ্যে মারাঠারা দ্রুত তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে।
- পেশওয়া বাজি রাওয়ের অধীনে , গুজরাট , মালওয়া এবং রাজপুতানা মারাঠাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- অবশেষে, ১৭৩৭ সালে, বাজি রাও দিল্লির উপকণ্ঠে মুঘলদের পরাজিত করেন এবং আগ্রার দক্ষিণে প্রাক্তন মুঘল অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ মারাঠার অধীনে নিয়ে আসেন।
- নিয়ন্ত্রণ বাজি রাও-এর ছেলে বালাজি বাজি রাও ১৭৫৮ সালে পাঞ্জাব আক্রমণ করে মারাঠা নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল আরও বৃদ্ধি করেন । 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,৪২৪.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রথম নিহত হন কে?
  1. মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
  2. আবু সাঈদ
  3. ফয়সাল আহমেদ শান্ত
  4. আবরার ফায়াজ
ব্যাখ্যা
• আবু সাঈদ (২০০১ – ১৬ জুলাই ২০২৪)
- আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী।
- তিনি এই আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ই জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
----------------------------------------------------

• বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলন।
- কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনটিই পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হিসেবে রূপ লাভ করে।
- নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তখনকার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনটি চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
- বাংলাদেশে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট তিনবার কোটা সংস্কারের জন্য বড় ধরনের আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৬ জুলাই সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পরীক্ষা বর্জন, ছাত্র ধর্মঘট ও সড়ক–মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন।
-  ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরস্ত্র শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলিতে হত্যা করে। 

উৎস: প্রথম আলো।
১০,৪২৫.
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮২৫ সালে
  2. খ) ১৮২৮ সালে
  3. গ) ১৮২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১০,৪২৬.
অপারেশন জ্যাকপটে কতটি বাংলা গানকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা হতো?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে মুক্তিযুদ্ধের ১০ নং সেক্টরের নৌবাহিনীর মুক্তিসেনারা যে অভিযান পরিচালনা করেন তার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)'। Jackpot শব্দের অর্থ হলো ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত'। যতক্ষণ জীবন থাকে ততক্ষণ অভিযান চালাতে হবে বলা হয়েছে, তাই এর নাম দেয়া হয়েছে  Operation Jackpot।

টিম লিডারদের অপারেশন পরিচালনার জন্য শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ গোপনীয় পদ্ধতি। টিম কমান্ডারদের বলা হয়েছিল যে, 

- দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। 
- গান দুটি প্রচার করা হবে কলকাতা আকাশবাণীর পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে। 
- সকাল ৬-৬:৩০ মিনিট অথবা রাত ১০:৩০-১১টা। গান দুটি ও তাদের সঙ্কেত হলো:

 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৪২৭.
Which European traders were the first to arrive in Bengal?
  1. British
  2. French
  3. Dutch
  4. Portuguese
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা। 
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৪২৮.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. নিউইয়র্ক, টাইমস স্কয়ার
  2. প্যারিস, আইফেল টাওয়ার প্রাঙ্গণ
  3. নিউইয়র্ক, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন
  4. ইডেন গার্ডেন, কলকাতা
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- স্থান: 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়।
- সময়: ১লা আগস্ট ১৯৭১ সালে আয়োজিত এই কনসার্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন পণ্ডিত রবি শংকর ও জর্জ হ্যারিসন।
- উদ্দেশ্য:  মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের দুর্দশা দেখে রবি শংকর তার বন্ধু জর্জ হ্যারিসনকে সাহায্যের আহ্বান জানান
- কনসার্টে ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার পণ্ডিত রবি শংকরকে 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা' প্রদান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৪২৯.
পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে কবে?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা

ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- বর্তমানে দেশে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে ৫টি।
- এগুলো হলো:
- বাউলগান (২০০৮), 
- জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), 
- মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও 
- শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭) 
- ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩)।


• পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভযাত্রা:

- প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে মঙ্গলের আহ্বান আর শুচিতার কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয় যা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত।
- আশির দশকে বন্যা ও সামরিক শাসনের নাগপাশে বিপর্যস্থ জনপদে সৃষ্টিশীল ও গণমুখী প্রতিবাদ গড়ে তোলার মানসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালের পহেলা বৈশাখ মঙ্গল শোভাযাত্রা (wellbeing procession) আয়োজন করা হয়।
- এর পর থেকে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বিগত বছরের সকল অমঙ্গল আর গ্লানিকে পিছনে ফেলে আগত বছরের সাফল্য কামনায় বিপুল উৎসাহ আর উদ্দীপনায় এটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
- বাঙালি ঐতিহ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার অপরিসীম প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২০১৬ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র এগারোতম অধিবেশনে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাজাত্রা-কে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।

১০,৪৩০.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে মোট আসন ছিল -
  1. ক) ৩১৩টি
  2. খ) ৩১০টি
  3. গ) ২৮৮টি
  4. ঘ) ২৯৮টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল ৩০০ টি আসনে। ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১০ টি
• '৭০ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে জয়লাভ করে। যার মধ্যে ২৮৮টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে জয়লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
• এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
• আসনগুলোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
• নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে যার মধ্যে ৭টি আসন ছিল সংরক্ষিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩১.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয় কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সাল
  2. ১৯৫৪ সাল
  3. ১৯৫৫ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ৯ মে ১৯৫৪।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৪৩২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৬নং সেক্টরে নেতৃত্ব দেন -
  1. ক) মেজর এম. আবু তাহের
  2. খ) মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
  3. গ) মেজর এম.এ মঞ্জুর
  4. ঘ) উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১০,৪৩৩.
'ভারতের তোতা পাখি' বলা হয় -
  1. আবুল ফজলকে
  2. সরোজিনী নাইডুকে
  3. আমীর খসরুকে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কবি পরিচিত:
- আমির খসরু কবি এবং ইতিহাসবিদ, যিনি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফার্সি ভাষার কবি হিসেবে বিবেচিত।
- আমীর খসরুকে বলা হয় "Parrot of India" ভারতের তোতা পাখি বলা হয়

এছাড়াও,
- সরোজিনী নাইডু, The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন। ১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা। [Link]
১০,৪৩৪.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মােহাম্মদউল্লাহ
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
সংসদ নেতা: 
- সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন। 
- সংসদ নেতা ও সংসদ উপনেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

অপরদিকে, 
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী যথাক্রমে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী, mujib100.gov.bd।
১০,৪৩৫.
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন -
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. হোসেন তাওফিক ইমাম
  3. এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. খন্দকার আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন - হোসেন তাওফিক ইমাম।

• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, এবং ইতিহাস (এস এস এইচ এল), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
১০,৪৩৬.
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. কক্সবাজার
  3. বান্দরবান
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর:
- বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত
- এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে।
- জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি। 
- এই জাদঘুরে আছে বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিদেশি ৫টি দেশের জাতিতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিভিন্ন সামগ্রীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ। 

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশের দুটি জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘরের মধ্য চট্টগ্রামের জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর অন্যতম, অন্যটি রয়েছে জাপানে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩৭.
কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭০০ সালে
  2. ১৭০৫ সালে
  3. ১৭১০ সালে
  4. ১৭১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩৮.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৩৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. কবর
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।

⇒ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

⇒ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য: নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, গণনায়ক, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

অন্যদিকে -
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' নাটকের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- সৈয়দ শামসুল হকের লেখা "নূরলদীনের সারাজীবন" একটি কাব্যনাটক, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত। এই নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো ব্রিটিশ শাসনামলে কৃষক বিদ্রোহ, যেখানে নূরলদীন নামের এক সাহসী কৃষকনেতা জমিদার ও নীলকরদের শোষণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। 
- "রক্তাক্ত প্রান্তর" মুনীর চৌধুরীর লেখা একটি বিখ্যাত নাটক। এটি মূলত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪০.
কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা সর্বপ্রথম বীর প্রতীক খেতাব পান?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম
  3. গ) পাইলট ফারিয়া লারা
  4. ঘ) তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম, বীর প্রতীক
• জন্ম;- ১৯৪৬ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর। গ্রাম কান্দাইল, ইউনিয়ন জয়কা, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ।
• বাবা মোহাম্মদ ইসরাইল, মা হাকিমুন্নেছা বেগম।
• স্বামী ডা. আবিদুর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
• ডা. সিতারা বেগম কুমিল্লা সিএমএইচের চিকিৎসক ছিলেন।
• খেতাবের সনদ নম্বর ১৫।
তিনি সর্বপ্রথম বীর প্রতীক খেতাব পান।
• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। 
• এই হাসপাতালে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।   

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
১০,৪৪১.
পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয় -
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২
  2. খ) ৮ মে, ১৯৬২
  3. গ) ৫ জুলাই, ১৯৬২
  4. ঘ) ৮ জুন, ১৯৬২
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের বেসামরিকীকরণ:
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর করা হয়। এবং ঐদিনই সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়।
- এর ফলে রাজনীতিবিদগণ ও ছাত্র সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়।
- ১৯৬২ সালের ১ মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং ক্লাশ বর্জন শুরু করে।
- সরকারও দমন পীড়ন নীতি অবলম্বন করে।
- বহুসংখ্যক ছাত্র নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
- সরকার ২৮ এপ্রিল (১৯৬২) জাতীয় পরিষদের এবং ৬ মে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পর ৮ জুন (১৯৬২) সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হলে গ্রেফতারকৃত ছাত্রদেরকে মুক্তি দেয়া হয়।

অন্যদিকে -
- সোহরাওয়ার্দী গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৯৬২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৪২.
পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামকরণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৬৭
  2. খ) ১৯৬৯
  3. গ) ১৯৭০
  4. ঘ) ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালে 'পূর্ব বাংলা'র নাম করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান'।
• ১৯৫৭ সালে করাচীতে পাকিস্তানের গণপরিষদের তরুণ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা দেয়ার সময় ''পূর্ব পাকিস্তান'' নামটির প্রতিবাদ করে বলেন যে, পূর্ব বাংলা নামের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। ''আর যদি পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতেই হয়, তাহলে বাংলার মানুষের জনমত যাচাই করতে হবে। তারা নামের এই পরিবর্তন মেনে নিবে কিনা - সেজন্য গণভোট নিতে হবে।''

• এরপর আসে ১৯৬৯ সাল। শুরু হয় আইয়ূব পতন আন্দোলন। সেসময় গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান দেয়া হয় ''বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।'' ইতিহাস অনুযায়ী, ওই প্রথম পূর্ব বাংলাকে ''বাংলাদেশ'' নামে অভিহিত করা হয়।
• পরে ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ''আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ''।
• ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান ''বাংলাদেশ'' নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।

তথ্যসূত্র:- বিবিসি বাংলা আর্কাইভ ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
১০,৪৪৩.
কোন কোম্পানী বঙ্গভ্যাক্স টিকা উদ্ভাবন করেছে?
  1. ক) বেক্সিমকো
  2. খ) স্কয়ার
  3. গ) অপসোনিন
  4. ঘ) গ্লোব বায়োটেক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক টিকা হলো বঙ্গভ্যাক্স।
- শুরুতে এটির নাম ছিলো ব্যানকোভিড (ডি৬১৪জি ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ)।
- গত ২ জুলাই ২০২০ গ্লোব বায়োটেক এই টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫ অক্টোবর ২০২০ টিকাটিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
- বর্তমানে টিকাটি মানবদেহে ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে।
গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের অপর দুটি টিকা হলো হলো:
- ডিএনএ প্লাসমিড
- এডিনোভাইরাস টাইপ৫ ভেক্টর।

(তথ্যসূত্র: গ্লোব বায়োটেক ও সমকাল)
১০,৪৪৪.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন কবে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫০ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০: 
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি বিলোপ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা উচ্ছেদ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৫.
২০২১ সালের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে কোন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত ছিলেন?
  1. ড. ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ
  2. আলেক্সান্দ্রো লুকাশেঙ্কো
  3. রামনাথ কোবিন্দ
  4. গোতাবায়ে রাজাপাক্ষে
ব্যাখ্যা
- ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনদিনের সফরে রামনাথ কোবিন্দ ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা আসেন।
- জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সশ্বস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি ভুটান, ভারত ও রাশিয়ার ৩টি কন্টিনজেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর পর্যবেক্ষক দল অংশগ্রহণ করে।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
১০,৪৪৬.
আগরতলা মামলার বিচার শুরু হয়-
  1. ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৮
  2. ১৯ জুন, ১৯৬৮
  3. ১৯ জুলাই, ১৯৬৮
  4. ১৯ মে, ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
৩ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। ১৮ জানুয়ারি ৬ দফা আন্দোলনের মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেও তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে স্থানান্তর করা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস এ রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ১৯ জুন, ১৯৬৮ সালে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে বিচার শুরু হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি লাভ করেন।
উৎসঃ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৪৪৭.
মাস্টারদা সূর্যসেন কত সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্যসেন ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:
- মাস্টারদা সূর্য সেনের পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৮.
কে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
-ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে-সব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি।, কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত ।
- স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক- লর্ড ডালহৌসি।
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয় ।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া
১০,৪৪৯.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিম্নের কোন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
১০,৪৫০.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেষ রণাঙ্গন হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. চকবাজার, চট্টগ্রাম
  2. ময়নামতি, কুমিল্লা
  3. মিরপুর, ঢাকা
  4. কালীবাড়ি, যশোর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন:
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করলেও মিরপুর তখনো মুক্ত হয়নি।
- মিরপুর ছিল বিহারি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দলছুট পাকিস্তানি সেনাদের শক্ত ঘাঁটি।
- প্রায় দেড় মাস ধরে মিরপুর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।
- ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধারা যৌথ অভিযান চালায়।
- তীব্র লড়াইয়ের পর ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে মিরপুর চূড়ান্তভাবে মুক্ত হয়।
- মিরপুরের মুক্তির মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের শেষ সশস্ত্র সংঘর্ষ বলা হয়।
- এই কারণে মিরপুরকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস  - মানবজীবন ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট। 

১০,৪৫১.
‘আলমগীর পাদশাহ গাজী’ উপাধি গ্রহণ করে কোন মুঘল সম্রাট?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
আওরঙ্গজেব:
- সম্রাট আওরঙ্গজেব উত্তরাধিকার যুদ্ধে জয়লাভের পর ‘আলমগীর পাদশাহ গাজী’ উপাধি গ্রহণ করে দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর রাজত্বকালে উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণে মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটে।
- উত্তর-পূর্বে আসাম এবং চট্টগ্রামে মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে।
- একজন ধর্মপ্রাণ সুন্নি মুসলমান হিসেবে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁর শাসনকার্য পরিচালনায় কুরআন-এর নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।
- তিনি সরল, অনাড়ম্বর ও একজন সাধারণ ধার্মিকের মতো জীবন অতিবাহিত করেন।
- তিনি রাজদরবারে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করেন এবং রাজকীয় অনুষ্ঠানাদিতে জাঁকজমক পরিহার করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব মুসলিম ধর্মতত্ত্বে গভীর উৎসাহী ছিলেন।
- আকার ও আয়তনে সর্ববৃহৎ মুঘল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য আওরঙ্গজেবের প্রশংসা করা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর জীবদ্দশাতেই এ বিশাল সাম্রাজ্যের ক্রম অবক্ষয় শুরু হয়।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাটের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সংঘাত, সাম্রাজ্যের বিশালত্ব, মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধে প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি এবং সাম্রাজ্যে অভিজাতবর্গ বা আমলাতন্ত্রের দুর্বলতা প্রভৃতি মুঘল সাম্রাজ্যের ক্রম পতনের প্রধান কয়েকটি কারণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫২.
'তমদ্দুন মজলিশ' এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আবুল হাশেম
  2. আবুল ফজল
  3. আবুল কাশেম
  4. আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫৩.
বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রটি বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. মুজিব
  3. রেহানা মরিয়ম নূর
  4. বলী
ব্যাখ্যা
বলী:
- ২৮তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নিউ কারেন্টস বিভাগে পুরস্কার জিতেছে ইকবাল হোসাইন চৌধুরী পরিচালিত ‌'বলী’ (দ্য রেসলার) সিনেমাটি।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
- বুসান উৎসবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে পুরস্কারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
- নিউ কারেন্টস বিভাগে দুটি সিনেমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
-‌ 'বলী' ছাড়া এ বিভাগে পুরস্কার জিতেছে জাপানের ‌মোরি তাতসুয়ার ‘সেপ্টেম্বর ১৯২৩’।
- দুই সিনেমাই পুরস্কার হিসেবে ৩০ হাজার ডলার পেয়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়ার মিনিস্ট্রি অব কালচার স্পোর্টস অ্যান্ড ট্যুরিজমের সহযোগিতায় ও বুসান সিটি এবং কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া উৎসবটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ক্যালন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদানের ছবি ‘বলী’ (দ্য রেসলার)।
- ছবিটির প্রযোজক পিপলু আর খান।
- প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান।
- সাগরপাড়ের এক খ্যাপাটে জেলের চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে।

উৎস: ১৩ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো। [link]
১০,৪৫৪.
সম্রাট আকবর কত খ্রিস্টাব্দে দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন করেন?
  1. ক) ১৫৮১ সালে
  2. খ) ১৫৮২ সালে
  3. গ) ১৫৮৩ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
• দীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মমত গঠিত হয়।
- এই ধর্মমতের কালেমা ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ’।
- দীন-ইইলাহী রীতি-নীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরুপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর পরিবর্তে ‘আল্লাহু আকবার’ এবং প্রত্যুত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম আস্সালাম’ না বলে ‘জাল্লাজালালুহু’ বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না।  

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৫৫.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ কত দফা দাবি ঘোষণা করে?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ১৯ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:

• ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
• ১১ দফার তৃতীয় দফায় ছিল- ছয় দফা দাবির প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
• ১১ তম দফা ছিল- আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি ও অন্যান্যদের উপর থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করা। 
• ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
• গণঅভ্যুত্থান এর ফলাফল:
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
১০,৪৫৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন-
  1. ক) লিওনিদ ব্রেজনেভ
  2. খ) আলেক্সেই কোসিগিন
  3. গ) নিকোলাই পদগর্নি
  4. ঘ) আন্দ্রেই গ্রোমিকো
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পদগর্নি।

-ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আলেক্সেই কোসিগিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আন্দ্রেই গ্রোমিকো।

-যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রিচার্ড নিক্সন।

 -ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

 -জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন উ থান্ট।

উৎস:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়(সপ্তম শ্রেণি)

১০,৪৫৭.
পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান নাম কী?
  1. মহাস্থানগড়
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. সমতট
  4. জাহানাবাদ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ: 
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুঞ্জ জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুঞ্জ নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুঞ্জই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৪৫৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা -
  1. ক) মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা
  4. ঘ) শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে। 
ছয় দফা কর্মসূচি:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩. মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা।
৪. রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্রতিরক্ষা।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৫৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কোথায় শাহাদাত বরণ করেন?
  1. আমবাসা, ত্রিপুরা
  2. চিংড়ি খাল, রাঙামাটি
  3. মংলা, বাগেরহাট
  4. দরুইন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সবার আগে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল ১ নং সেক্টরে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ ‍যুদ্ধে শহীদ হন।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১০,৪৬০.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ কে ছিলেন?
  1. সিপাহী হামিদুর রহমান
  2. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৪নং সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল- সিপাহী।

উল্লেখ্য,
- ২৮শে অক্টোবর ১৯৭১, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধলই আক্রমণে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুর মেশিনগান বাস্টের আঘাতে শাহাদত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে দাফন করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
- শাহাদাতের ৩৬ বছর পর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে পুনঃ সমাহিত করা হয়।

⇒ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠগণ:
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১০,৪৬১.
বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তিদানে আইয়ুব সরকার বাধ্য হয় কখন?
  1. ক) ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রয়ারি
  2. খ) ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রয়ারি
  3. গ) ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• ট্রাইব্যুনালের বৈধতা সম্পর্কে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের জন্য বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ইংল্যান্ড থেকে এসেছিলেন রাণীর আইন বিষয়ক উপদেষ্টা বিখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম। 
• বন্দি অবস্থায় ঢাকা সেনানিবাসে এই মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হক (১৫ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯)  এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা (১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯) নিহত হলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, 
• ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর মুক্তি উপলক্ষে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে রেসকোর্স ময়দানের সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন তদানীন্তন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬২.
কোনো বিষয়ের জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত বেসরকারি ভোটকে বলে-
  1. কাস্টিং ভোট
  2. স্ট্র ভোট
  3. গণভোট
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- কোনো বিষয়ের জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যাক্তি বা সংস্থা কতৃক বেসরকারি ভোটকে স্ট্র ভোট বলে।
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন। স্পীকারের এই ভোটটিই হলো  কাস্টিং ভোট। 
- রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য যে প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহন করা হয় তাকে গণভোট বা Referendum বলা হয়।

Source:- Marriam Webster ও বাংলা একাডেমি অভিধান.
১০,৪৬৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ডীন কে ছিলেন?
  1. বেগম আজিজুন্নেছা
  2. ডঃ নীলিমা ইব্রাহিম
  3. ডঃ আমিনা রহমান
  4. ডঃ তাজমেরী ইসলাম
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা 'প্রাচ্যের অক্সফোর্ড' নামে পরিচিত।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো 'নাথান কমিশন'। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ। 
- উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চেন্সেলর ছিলেন স্যার এ. এফ. রহমান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা ডীন ছিলেন বেগম আজিজুন্নেছা।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
১০,৪৬৪.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কোন শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ক) সতের শতক
  2. খ) আঠারো শতক
  3. গ) উনিশ শতক
  4. ঘ) বিংশ শতক
ব্যাখ্যা
- বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
- এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ এবং সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৪৬৫.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ছিলেন—
  1. কাজী গোলাম মাহবুব 
  2. আবুল কাশেম
  3. শামসুল আলম
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা

• 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ':
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৪৬৬.
বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার -
  1. ক) মোহাম্মদী বেগ
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইলিয়াস হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- ইসলাম খান বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা প্রদান করেন।
- ঢাকার ধোলাই খাল খনন ও নৌকা বাইচের প্রচলন করেন ইসলাম খান।

উৎস : বাংলাপিডিয়া

১০,৪৬৭.
প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫২ সালের কত তারিখে নির্মিত হয়?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে এই স্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত।
- শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
- এর পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন ও নির্মাণকাজ সবই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।
- বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের রক্তভেজা স্থানে সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তির ওপর ছোট স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এর গায়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লেখা একটি ফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- নির্মাণের পরপরই এটি শহরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে; প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতীকী মর্যাদা লাভ করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ওই দিনই বিকেলে পুলিশ হোস্টেল ঘেরাও করে এটি ভেঙ্গে ফেলে।

উল্লেখ্য,
⇒ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। 
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহিদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬৮.
পর্তুগিজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের আগমণ ও বিতাড়ন: 

মুঘল সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন। 
• পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে প্রথম আসেন।
• এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন। 
• আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
• কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
• পর্তুগিজদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
• পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ।
• পর্তুগিজরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত। 
• এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে। 
• পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত। 
• সম্রাট শাহজাহান এর নির্দেশে কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন। 
• সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৬৯.
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন -
  1. ১৪৯৪ - ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৪৯৪ -১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৪৯৪ - ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• হোসেন শাহী বংশ:
→ হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
→ তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন।
→ তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
→ ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন।
→ ১৪৯৪ থেকে ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে জারিকৃত মুদ্রায় তাঁকে ‘কামরূপ ও কামতা এবং জাজনগর ও উড়িষ্যা বিজয়ী’ রূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
→ ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চট্টগ্রাম হোসেনশাহী রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। 
→ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে হোসেন শাহের রাজত্বের অবসান ঘটে।
→ সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।
→ সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭০.
"The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত কে?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. আকবর 
  3. জাহাঙ্গীর
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। আসফ খানকে শাহাজাহান 
- শাহজাহানের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণময় এক অধ্যায়।
- তিনি ছিলেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের মতই সামরিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এক নৃপতি।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।

⇒ মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে "The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে। 

⇒ আওরঙ্গজেব তার পিতা শাহজাহানকে আগ্রাদুর্গে বন্দি করে রাখেন।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৪৭১.
বঙ্গবন্ধুর প্রথম তর্জনী ভাস্কর্য “মুক্তির ডাক” কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) নরসিংদী
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
- ২৮ আগস্ট, ২০২০ তারিখে নরসিংদীর মনোহরদীতে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে “স্বাধীনতার সংগ্রাম” ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম তর্জনী ভাস্কর্য “মুক্তির ডাক” নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ মোড়ে অবস্থিত।
- জাতীয় জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য “ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথাঁ” অবস্থিত। এটির ভাস্কর – উত্তম ঘোষ।
- ৩০ জুলাই, ২০২০ তারিখে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং-এ উদ্বোধন করা হয় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ম্যুরাল “হিমালয়”।
১০,৪৭২.
নিচের কোন শাসক 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. কেশব সেন
ব্যাখ্যা
কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৭৩.
ইউনেস্কোর কততম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ৩০তম
  2. ৩১তম
  3. ৩২তম
  4. ৩৩তম
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।


তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১০,৪৭৪.
ভাষা আন্দোলনের সময় নুরুল আমিন কোন দায়িত্বে ছিলেন?
  1. গভর্নর
  2. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
  3. পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
  4. পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- তিনি ১৯৪৮-১৯৫৩ সময়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- গভর্নর ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৫.
নিচের কোন অঞ্চলটি পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না?
  1. বগুড়া
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:

- বরিশাল পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৬.
মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন? 
  1. বিহার
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান। 
- তিনি বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে। তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৭৭.
তাজমহল কোন শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল?
  1. ক) অষ্টাদশ
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) উনবিংশ
  4. ঘ) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
- তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহান। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত।
- ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ সালে অর্থাৎ সপ্তদশ শতকে এটি নির্মিত হয়।
- এটির অপর নাম মমতাজ মহল। সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মমতাজের স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৮.
ইলবার্ট বিল প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কৃষি সংস্কার
  2. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  3. নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা
  4. বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণ
ব্যাখ্যা
- ইলবার্ট বিলের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়া ও বিচার বিভাগে বৈষম্য দূর করা।

ইলবার্ট বিল:
- লর্ড রিপন তার শাসনামলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং নতুন নতুন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
- তার শাসনকালীন সময়ের অন্যতম কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল নামে একটি আইনের পরিকল্পনা।
- এ বিলের উদ্দেশ্য ছিল বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল তা দূর করা।
- লর্ড রিপন বিচার বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সচিব ইলবার্টকে একটি বিল প্রণয়নের দায়িত্ব দেন।
- যার কারণে স্যার ইলবার্ট এর নামানুসারে এ বিলটি ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
- এ বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হয়।
- এ বিলটি ১৮৮৩ সালে পাস হয়।

সূত্র: Britannica ও  বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৭৯.
বাংলায় মুসলিম শাসন কোন শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) দশম শতাব্দীতে
  2. খ) একাদশ শতাব্দীতে
  3. গ) দ্বাদশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা:
- ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি তের শতকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের একাংশে (প্রধানত নদীয়ায়) মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের অধিবাসী ছিলেন।
- বখতিয়ার খলজি শক্তি সঞ্চয় করে আনুমানিক ১২০৩ সালে বৌদ্ধদের একটি আশ্রম ওদন্তপুরি বিহার আক্রমণ করেন।
- এটি ছিল বৌদ্ধদের বিহার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এর চারদিকে প্রাচীর বেষ্টিত থাকায় বখতিয়ার খলজি আশ্রমটিকে দুর্গ মনে বখতিয়ার খলজি বিহার দখল করার পর বাংলার দৃষ্টি দেন।
-ঐতিহাসিকগণ সবদিক বিচার করে বলছেন বখতিয়ার খলজির ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।
-নদীয়া দখল করে লখনৌতিতে রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার মৃত্যুর পর খলজি বংশের শাসন দুর্বল হতে শুরু করলে ১২২৭ সাল থেকে বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৮০.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল কাঠামোর নকশা তৈরি করেন-
  1. কামরুল  হাসান
  2. আজিজুর রহমান
  3. মৃনাল কান্তি
  4. মইনুল হোসেন
ব্যাখ্যা

জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহিদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
- এটি ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল কাঠামোর নকশা তৈরি করেন স্থপতি মইনুল হোসেন।
- সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে ।
- মূল স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল, মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক।
- এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো- ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে ।
- ১৯৭২ সালের জাতীয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শুরু হয় ।
- ১৯৮২ সালে তিনটি পর্যায়ে তা সম্পন্ন হয়।
- বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এই স্মৃতিসৌধ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১০,৪৮১.
সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের সর্বমোট আসন ছিলো কতটি?
  1. ২৮৮টি
  2. ১৬৭টি
  3. ১৬৯টি
  4. ২৯৮টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
- এর মধ্যে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি।
- যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৪৮২.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কবে কার্যকর হয়?
  1. ২১ মার্চ, ১৯৫৬
  2. ২২ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  4. ২৪ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে।
- আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৮৩.
কোন মুগল সম্রাটকে শের শাহ যুদ্ধে পরাজিত করেন?
  1. হুমায়ুন
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
→ পানিপথের যুদ্ধে সম্রাট বাবর আফগান শক্তিকে পরাজিত করলেও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারেন নি। পরবর্তীকালে যাঁর নেতৃত্বে আফগানরা নতুনভাবে শক্তি সঞ্চয় করে তিনি হচ্ছেন শেরশাহ।
→ বাল্যকালে তার নাম ফরিদ।
→ শেরশাহের জন্ম ১৪৭২ খ্রিস্টাব্দে।
→ তিনি বিহারের শাসনকর্তা বাহারাম খানের অধীনে কর্মরত থাকাকালীন নিজগুণে তাঁর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। এ সময় একটি বাঘ হত্যা করে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলে ফরিদ ‘শের খান’ উপাধিতে ভূষিত হন।
→ পরবর্তীকালে চৌসার যুদ্ধে সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন তিনি।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৮৪.
১৭ মার্চ ১৯২০ কী কারণে স্মরণীয়?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির জন্মদিন
  2. খ) শেরে বাংলা এ. কে . ফজলুল হকের জন্মদিন
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন
  4. ঘ) মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুদিন
ব্যাখ্যা
১৯২০ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ সরকারি ওয়েবসাইট
১০,৪৮৫.
প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে নীচু শ্রেণির লোক হিসেবে গণ্য করা হতো কাদের?
  1. ক) বৈশ্য
  2. খ) শূদ্র
  3. গ) ক্ষত্রিয়
  4. ঘ) ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা
কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ - 
• ব্রাহ্মণ - অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
• বৈশ্য - ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
শূদ্র - সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৪৮৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানকারী ঔপন্যাসিক 'আন্দ্রে মালরাক্স' কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি নাগরিকের অবদান:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফরাসী ঔপন্যাসিক Andre Malraux ও অস্ট্রেলিয় নাগরিক William AS Ouderland বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।

আন্দ্রে মালরাক্স:
- আন্দ্রে মালরাক্স বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশী এক সহযোদ্ধা।
- ফ্রান্সের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও লেখক।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবেও অংশ নেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দ্রে মালরাক্স ফ্রান্সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
- ফ্রান্স সরকারকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আকুতি ছিল: আমাকে একটি যুদ্ধ বিমান দাও, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ লড়াইটা করতে চাই।
- তাঁর এই আন্দোলন বক্তৃতা, বিবৃতি আন্তর্জাতিক প্রেরণা হয়ে সেসময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭৩ সালে তাঁকে বাংলাদেশে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

⇒ উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত যান।
- ওই বছরই বাংলাদেশ সরকার তাঁকে চতুর্থ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' প্রদান করে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০,৪৮৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য পরিচালনায় কার নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়?
  1. এস.এ. রহমান
  2. আবদুস সালাম খান
  3. আতাউর রহমান খান
  4. মকসুমুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৪৮৮.
মুক্তিযুদ্ধে ১০ নং সেক্টর কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. কৃষকদের
  2. ছাত্রদের নিয়ে
  3. বিমান বাহিনী নিয়ে
  4. নৌ-কমান্ডো নিয়ে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১০ নম্বর সেক্টর:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১০ নম্বর সেক্টর গঠন হয়েছিলো নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে।
- ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা মিলে এ বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন।
- ভারতীয় নৌবাহিনী এ আটজন বাঙালি নাবিককে দিল্লির নিকটবর্তী যমুনা নদীতে বিশেষ নৌ-প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর পাকিস্তান নৌবাহিনীর কিছু সংখ্যক নৌ-সেনা তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে এ দল একযোগে আক্রমণ করে বেশকিছু পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করে।
- এ ডব্লিউ চৌধুরীর (আর.ও-১) নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর অন্তর্ভুক্ত দলটি পাকিস্তানি কার্গো জাহাজ ও এমভি আল-আব্বাসসহ সাতটি জাহাজ ধ্বংস করে।
- পরে অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের সব বন্দরে দলটির পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি অভিযান চালানো হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১০,৪৮৯.
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন স্থাপিত হয় -
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন:
- দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এ দেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬২ সালে।
- প্রথম দিকে শুধু অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়।
- ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম এ অঞ্চলে রেলপথ স্থাপন করে।
- ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রাণাঘাট পর্যন্ত রেলপথ উদ্বোধন করে।
- প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৫ নভেম্বর রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ চালু করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো।
- ১৯৭৩ সালে বোর্ডের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে একে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ গঠন করা হয়।

উৎস: i) রেলপথ মন্ত্রণালয়। 
         ii) বাংলাপিডিয়া। 
১০,৪৯০.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. গ্যাবন
  2. সিয়েরা লিওন
  3. সেনেগাল
  4. উগান্ডা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১০,৪৯১.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. কুজলা
  2. কদফিসেস
  3. কণিষ্ক
  4. বাসুদেব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৪৯২.
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯১০ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা জাদুঘর তথা জাতীয় জাদুঘর ১৯১৩ সালে স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট)
১০,৪৯৩.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) সার্জেন্ট শামসুল হককে
  2. খ) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে
  3. গ) মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীকে
  4. ঘ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণ অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯৪.
শেরে বাংলা লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন কবে?
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  2. খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
  3. গ) ২৩ জুন ১৯৪০
  4. ঘ) ২০ আগস্ট ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন।
এ প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৪৯৫.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় কত সালে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হয়।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১০,৪৯৬.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ কোন তারিখে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ক) ২১ ফেব্রেুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১৬ ফেব্রেুয়ারি, ১৯৫৬
  3. গ) ৯ মে, ১৯৫৪
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৯ মে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাশ করে।
জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬) এক পর্যায়ে সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
১০,৪৯৭.
সিপাহী হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৬নং
  2. ৪নং
  3. ৮নং
  4. ২নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০,৪৯৮.
ভুটান ও ভারত কবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়।
- পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- ভুটান ও ভারত ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৪৯৯.
'মৌলিক গণতন্ত্র' ধারণায় কয় স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়েছে?
  1. ক) তিন স্তর বিশিষ্ট
  2. খ) চার স্তর বিশিষ্ট
  3. গ) পাঁচ স্তর বিশিষ্ট
  4. ঘ) ছয় স্তর বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• মৌলিক গণতন্ত্রের বর্ণনা:
- ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান তাঁর বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। 
- তাঁর উদ্ভাবিত পরিকল্পনা মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- এর মাধ্যমে দেশে একটি চার স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।

• স্তরগুলো হচ্ছে:
- ইউনিয়ন কাউন্সিল,
- থানা কাউন্সিল,
- জেলা কাউন্সিল এবং
- বিভাগীয় কাউন্সিল।

 •  ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
- এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল।
- এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তরে যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
- এদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
- এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫০০.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন? 
  1. পদার্থবিজ্ঞান
  2. আইন
  3. রসায়ন
  4. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্ব বাংলা/পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ড. শামসুজ্জোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং প্রক্টর ছিলেন।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উল্লেখ্য, 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।