বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০৪ / ১২৪ · ১০,৩০১১০,৪০০ / ১২,৪২১

১০,৩০১.
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি):
- বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে খেলাধুলার সাথে সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত কার্যক্রম রয়েছে।
- ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, উদীয়মান ও প্রতিভাবান শিশু-কিশোর-তরুণ ক্রীড়াবিদদের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
- ঢাকার অদূরে সাভারে এ প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। 
- বিকেএসপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। 
- বিকেএসপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৩০২.
১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টরের অধীনে?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৯ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর -  ১০ নং সেক্টর। 

• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ কমান্ড গঠিত হয় ১০ নং সেক্টরে।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ।
১০,৩০৩.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. হামিদুজ্জামান
  2. তানভীর কবির
  3. মইনুল হোসেন
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।


তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১০,৩০৪.
সোমপুর বিহার কে আবিষ্কার করেন?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. কর্ণওয়ালিস
  3. আলেকজান্ডার কানিংহাম
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা
 সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৩০৫.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) প্লেটো→সক্রেটিস→এরিস্টটল→আলেকজান্ডার
  2. খ) সক্রেটিস→এরিস্টটল→প্লেটো→আলেকজান্ডার
  3. গ) সক্রেটিস→প্লেটো→আলেকজান্ডার→এরিস্টটল
  4. ঘ) সক্রেটিস→প্লেটো→এটিস্টটল→আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা
সক্রেটিস প্রাচীন গ্রিসের একজন দার্শনিক। তার শিষ্য ছিলেন প্লেটো। প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল এবং এরিস্টটলের শিষ্য ছিলেন আলেকজান্ডার।
(সূত্রঃ এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১০,৩০৬.
মধ্যযুগে সোনারগাঁও কার রাজধানী ছিল?
  1. পাল রাজাদের
  2. মুসলিম সুলতানদের
  3. মুঘলদের
  4. ব্রিটিশদের
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
-সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
-বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
-প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
-বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
-১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০,৩০৭.
আইয়ুব খান বিরোধী জোট এন.ডি.এফ গঠিত হয় কার উদ্যোগে?
  1. ফাতেমা জিন্নাহ
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. ইস্কান্দার আলী মির্জা
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
এন. ডি. এফ
- এন. ডি. এফ এর পূর্ণরূপ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
- এটি গঠিত হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে।
- ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্ট ১৯৬২ সালে গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩০৮.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার শেষে আগমন করে কারা?
  1. ইংরেজ
  2. দিনেমার
  3. ফরাসি
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয়দের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা। ১৬৬৪ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ১৬৬৮ সালে তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
কিন্তু ইরেজদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে আঠারো শতকের শেষ দিকে ফরাসিরা এদেশ ছেড়ে চলে যায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৩০৯.
ঢাকা জেলায় সংসদীয় আসন কতটি?
  1. ১৬টি
  2. ২০টি
  3. ২১টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা
- ঢাকা জেলায় সর্বাধিক সংসদীয় আসন বিদ্যমান। ঢাকা জেলায় মোট আসন ২০টি।
অন্যদিকে,
- সবচেয়ে কম ১টি করে আসন রয়েছে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়।
(তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন)
১০,৩১০.
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অপর নাম কী?
  1. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. মন্টেগু- চেমসফোর্ড সংস্কার আইন
  3. ভারত স্বাধীনতা আইন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন:
- ভারত সচিব পদে মন্টেগু ১৯১৭ সালের ১২ জুলাই অভিষিক্ত হন।
- তিনি ভারতীয়দের দাবি দাওয়া ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল ছিলেন।
- ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল লর্ড চেমস্কর্ড প্রথম দিকে মন্টেণ্ডর ভূমিকার প্রতি উদাসীনতা দেখালেও পরবর্তী পর্যায়ে তার মত পাল্টান।
- ১৯১৮ সালের ২১ এপ্রিলে মন্টেগু এবং চেমসফর্ড এক যৌথ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর দান করেন যার ভিত্তিতে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন রচিত হয়।
- মন্টেগু ও চেমসফোর্ডের নামানুসারে এ আইনের নামকরণ করা হয় 'মন্টেগু চেমসফোর্ড সংস্কার আইন।'
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা করা হয়।
- পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে এক কক্ষ বিশিষ্টি আইন সভার ব্যবস্থা করা হয়।
- ভারতবর্ষের প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
- এ আইনের মাধ্যমে ভারত সচিবের ক্ষমতা হ্রাস করা হয়।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩১১.
মুঘল শাসনামলে রাষ্ট্রভাষা ছিল কোনটি?
  1. বাংলা
  2. হিন্দী
  3. ফার্সি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
মুঘল আমল:
- মুঘল সম্রাটরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও এ সময়ে ভারতবর্ষে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান মর্যাদায় দেখা হতো।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে মুঘল শাসনামল ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
- সম্রাট আকবর ছিলেন বিশেষ শিক্ষানুরাগী। তার সময়ে ভারতীয শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হয়।
- জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেবও শিক্ষানুরাগী ছিলেন।
- মুঘল আমলে রাষ্ট্র ভাষা ছিল ফার্সি।
- মুঘল যুগ ছিল সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গৌরবময়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩১২.
ঢাকা জেলা মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল?
  1. ক) ১ নং সেক্টর
  2. খ) ২ নং সেক্টর
  3. গ) ৩ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৩.
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-
  1. ক) ৬৬ জন
  2. খ) ৬৭ জন
  3. গ) ৬৮ জন
  4. ঘ) ৬৯ জন
ব্যাখ্যা

বর্তমানে খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-
বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন
বীর-উত্তম ৬৭ জন
বীরবিক্রম ১৭৪ জন
বীরপ্রতীক ৪২৪ জন
- সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী ছিলেন।
- ২০১০ সালে ৭৫এর অভ্যুত্থানের সময় বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হওয়া ব্রিগেডিয়ার জামিলকে বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয়। বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৮ জন। তবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত সংখ্যা মুক্তিযোদ্ধা ৬৭ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দৈনিক পত্রিকা।

১০,৩১৪.
কোন শাসককে 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩১৫.
উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ 
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

১০,৩১৬.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা কে ছিলেন?
  1. মুসা খান
  2. রাজা অনন্ত মাণিক্য
  3. ঈসা খান
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বারো ভূঁইয়া বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
-  প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- ঈসা খান সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা।

আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের তালিকা:
(১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা,
(২) ইবরাহিম নরল,
(৩) করিমদাদ মুসাজাই,
(৪) মজলিস দিলওয়ার,
(৫) মজলিস প্রতাপ,
(৬) কেদার রায়,
(৭) শের খান,
(৮) বাহাদুর গাজী,
(৯) তিলা গাজী,
(১০) চাঁদ গাজী,
(১১) সুলতান গাজী,
(১২) সেলিম গাজী,
(১৩) কাসিম গাজী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৭.
কোন সুলতানের শাসনামলে হযরত শাহজালাল ৩৬০ জন শিষ্যসহ বাংলাদেশে আসেন?
  1. ক) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  2. খ) ইখতিয়ার-উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. গ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সোনারগাঁ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জয় করেন। তাঁর শাসনামলে হযরত শাহজালাল ৩৬০ জন শিষ্যসহ বাংলাদেশে আসেন। সুলতানের সিলেট অভিযানকালে তাঁর সাথে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব শাহ জালাল যোগদান করেন। সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সময় একদিকে রাজত্বের সীমানা বৃদ্ধি পেয়েছিল অপরদিকে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৮.
ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিতে কোন দু'টি বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব ছিল?
  1. প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র
  2. স্বরাষ্ট্র ও পরিকল্পনা
  3. অর্থ ও পররাষ্ট্র
  4. বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা
ব্যাখ্যা
- ছয় দফা কর্মসূচির ২য় দফায় ⎯ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় দুটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

ছয়দফা কর্মসূচি:
➝ ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ছয়দফা-কর্মসূচি' নামে প্রকাশিত হয়েছিলো। ছয়দফাকে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
➝ ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে, ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে তিনি এটি পাস করিয়ে নেন দলের কাছ থেকে।
➝ একই বছরের ১৮ ও ১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির কাউন্সিল সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি হয় এবং একই সভায় ছয়দফা প্রস্তাব গৃহিত হয়।
➝ ১৯৬৬ সালের ২৩শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। দেশজুড়ে গণপ্রচারণা শুরু হয় ছয় দফার পক্ষে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতায় পরিণত হন।
➝ কিন্তু পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ও রাজনীতিকরা অস্ত্রের ভাষায় এই গণজাগরণ মোকাবিলার চেষ্টা করে। ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে দীর্ঘমেয়াদে জেলে রাখা হয়।
➝ প্রতিবাদে ৭ জুন হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। বিপরীতে সেদিন ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানিরা। কিন্তু ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও রাজপথে নেমে আসে ছয় দফার সমর্থনে। জান্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ১১ জন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।

ছয়দফা কর্মসূচির দাবিসমূহ:
- প্রথম দফা ⎯ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন:
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।

- দ্বিতীয় দফা ⎯ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:
- শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

- তৃতীয় দফা ⎯ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
- দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে।
- অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।

- চতুর্থ দফা ⎯ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।

- পঞ্চম দফা ⎯ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসাব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।

- ষষ্ঠ দফা ⎯ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:
- অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

উৎস:
i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়বেসাইট
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই।
১০,৩১৯.
কোন শতাব্দীতে শশাঙ্ক স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. পঞ্চম শতাব্দী
  2. সপ্তম শতাব্দী
  3. অষ্টম শতাব্দী
  4. নবম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত। এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৩২০.
‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়……’ গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) সত্যব্রত বিশ্বাস
  2. খ) গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  3. গ) নচিকেতা ঘোষ
  4. ঘ) হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়……’
গানটির কথা লিখেছেন / গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সুর দিয়েছেন - নচিকেতা ঘোষ , হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
কণ্ঠ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গীতা দত্ত

১০,৩২১.
আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? 
  1. UNESCO
  2. OIC
  3. UNDP
  4. UNICEF
ব্যাখ্যা
৭-ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে  বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। 
• UNESCO ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে  “বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে। 
• ভাষণটি UNESCO বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য 'Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। 
• এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
• ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসে সংস্থাটির সদর দপ্তরে জাতির জনকের ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বিবিসি নিউজ বাংলা (৩১ অক্টোবর, ২০১৭) । 
১০,৩২২.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের সময়কাল কত মিনিট?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১৭
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ১৯
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

- বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন।  উত্থাপিত দফাগুলো হলো:-
১। সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩। গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৪। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তফসিল।
১০,৩২৩.
বাংলাদেশে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম কবে প্রথম শুরু হয়?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে  ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন  করা হয়। 
-  ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫৭ লক্ষ ০১ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হবে।
- চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৪৪৪.৫৪ কোটি টাকা। 

সূত্র: সমাজসেবা অধিদফতর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
১০,৩২৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দাবি কোনটি?
  1. ক) ফেডারেল সরকার
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
  4. ঘ) ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো। 
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৩২৫.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. বাংলা ১২৫০ বঙ্গাব্দে
  2. বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. ইংরেজি ১৮৫০ সালে
  4. ইংরেজি ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

ইংরেজি ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে ''পঞ্চাশের মন্বন্তর'' বলা হয়।
এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]

১০,৩২৬.
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্যে ২০২১ সালে একুশে পদক লাভ করেন কে?
  1. ক) ড. ফারজানা ইসলাম
  2. খ) কাজী এম. নুরুজ্জামান
  3. গ) মাহফুজা খানম
  4. ঘ) ড, মিজানুর রহমান
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২১ প্রাপ্তরা (মোট ২১ জন):
ভাষা আন্দোলনে:
- মোতাহার হোসেন তালুকদার (মরণোত্তর)
- শামছুল হক (মরণোত্তর)
- আফসার উদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর)
শিল্পকলায়:
- পাপিয়া সারোয়ার (সংগীত)
- রাইসুল ইসলাম আসাদ (অভিনয়)
- সালমা বেগম সুজাতা (অভিনয়)
- আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক)
- সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র)
- ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি)
- পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)
মুক্তিযুদ্ধে:
- গোলাম হাসনায়েন
- ফজলুর রহমান খান ফারুক
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুমা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর)
সাংবাদিকতায়:
- অজয় দাশগুপ্ত
গবেষণায়:
- ড. সমীর কুমার সাহা
শিক্ষায়:
- মাহফুজা খানম
অর্থনীতিতে:
- ড. মির্জা আব্দুল জলিল
সমাজসেবায়:
- প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান
ভাষা ও সাহিত্যে:
- কবি কাজী রোজী
- বুলবুল চৌধুরী
- গোলাম মুরশিদ।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
১০,৩২৭.
গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন -
  1. ১৯৪৬ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩২৮.
পানি পথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৫৫৬ সালে
  2. ১৫২৮ সালে
  3. ১৫২৬ সালে
  4. ১৫২০ সালে
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ: 
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ। 
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- সম্রাট বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। 

উল্লেখ্য,
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩২৯.
সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গোরান
  2. খ) পুরাতন ঢাকা
  3. গ) আরমানিটোলা
  4. ঘ) মোহাম্মদপুর
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাত গম্বুজ মসজিদ'।
- এর নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান।
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

উৎস: সাত-গম্বুজ-মসজিদ, parjatan.gov.bd.
১০,৩৩০.
বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক কী দিয়ে বেষ্টিত?
  1. পাটগাছ
  2. ধান্যশীর্ষ
  3. শাপলা ফুল
  4. পত্র্যশীর্ষ
ব্যাখ্যা

- প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত,
- পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা।
- তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র।
- তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।


উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১০,৩৩১.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের পদবী কি ছিল?
  1. ক) ল্যান্স নায়েক
  2. খ) ক্যাপ্টেন
  3. গ) সিপাহী
  4. ঘ) হাবিলদার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠগণ ও তাদের পদবী:
১. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
২. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
৩. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
৪. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
৫. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
৬. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৭. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৩৩২.
‘আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা‘ ঐতিহাসিক ছয়দফার কত নং দফা ছিল?
  1. ক) দ্বিতীয় দফা
  2. খ) তৃতীয় দফা
  3. গ) পঞ্চম দফা
  4. ঘ) ষষ্ঠ দফা
ব্যাখ্যা
• 'ছয়দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৩৩.
নিচের কোন স্থানটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে এখনও স্থান পায়নি?
  1. পাহাড়পুর
  2. মহাস্থানগড়
  3. ষাটগম্বুজ মসজিদ
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের সংখ্যা তিনটি। এগুলো হলো:
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (১৯৮৫ সালে)
- বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে)
- সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

এর মধ্যে,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ৩২২তম
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।
- মহাস্থানগড় ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নয়। 

(তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
১০,৩৩৪.
নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল কোন জেলা?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৩৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের কত তারিখ থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়?
  1. ক) ২৫ মার্চ
  2. খ) ২৬ মার্চ
  3. গ) ৭ মার্চ
  4. ঘ) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন 
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন। এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
• ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
• শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া। 
১০,৩৩৬.
মাস্টার দা সূর্যসেন কত সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন?
  1. ক) ১৯৩০
  2. খ) ১৯৩২
  3. গ) ১৯২৯
  4. ঘ) ১৯৩৩
ব্যাখ্যা

- মাস্টার দা সূর্যসেন ছিলেন স্থানীয় ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউটের শিক্ষক। তিনি ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল তার দলবল নিয়ে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে সূর্যসেনের ফাঁসি দেওয়া হয়।
- ১৯৩২ সালে প্রিতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ করেন।
- ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি কিং ফোর্ডকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গাড়িতে বোমা ফেলেন। ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন এবং তার ফাঁসি হয়। প্রফুল্ল চাকি আত্মহত্যা করেন।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।

১০,৩৩৭.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা'র জন্ম কোন জেলায়-
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা কে সুর সম্রাট বলা হয়। তার জন্ম ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শিবপুর গ্রামে। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের রাগ সঙ্গীতকে পাশ্চাত্যে পরিচিত করেন। তার বড় ভাই ছিলেন বিখ্যাত সুরসাধক ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খা। আলী আকবর খা এবং অন্নপূর্ণা দেবী তার ছেলে ও মেয়ে। পণ্ডিত রবিশংকর ছিলেন তার শিষ্য ও জামাতা। (সূত্রঃ বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া - বাংলা একাডেমি)
১০,৩৩৮.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন? 
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড রিপন 
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন 
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ শাসন: 
- ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ এবং ভারত ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন করে।
- রাষ্ট্রের জন্মের মতো ইতিহাসের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ব্রিটিশ সরকার ভারতের গভর্নর জেনারেল করে পাঠায়। 
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয়।
• ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
-শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
-শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৩৩৯.
বাংলা ভাষাকে গণপরিষদের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন -
  1. কংগ্রেসের সদস্য
  2. মহাসভার সদস্য
  3. কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য
  4. মুসলিম লীগের সদস্য
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৪০.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে বসে?
  1. ২৮ জানুয়ারি
  2. ২৯ জানুয়ারি
  3. ৩০ জানুয়ারি
  4. ৩১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
♦ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন:
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ জানুয়ারি।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য সেদিন শপথ নেন ১০ জানুয়ারি।
- নতুন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী।
- শপথ নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন বসার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
- সেই অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

উৎস: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১০,৩৪১.
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া ‘মুজিবপিডিয়া’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. কবির হোসেন
  2. ফরিদ কবির
  3. জিল্লুর রহমান
  4. ফখরুল আলম
ব্যাখ্যা
মুজিবপিডিয়াl:
⇒ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া ‘মুজিবপিডিয়া’ সম্পাদনা করেন - ফরিদ কবির।

উল্লেখ্য,
• জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জ্ঞানকোষ ‘মুজিবপিডিয়ার’ মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
• এতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন এবং তাঁর সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঠিক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।
• মুজিবপিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত বঙ্গবন্ধু পরিবার সংক্রান্ত ভুক্তিগুলো সংশোধন ও সম্পাদনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। 
• ১০ জুলাই, ২০২৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
• এ সময় মুজিবপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সম্পাদক ফরিদ কবির, নির্বাহী সম্পাদক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন। 
• এটি উপমহাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ, যাতে অনুসরণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপদ্ধতি।
• ১/৮ ডিমাই সাইজের দুই খণ্ডের এ বইটিতে রয়েছে ৫৯১টি ভুক্তি ও ৭৫০টি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।

উৎস: ১০ জুলাই ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
১০,৩৪২.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা -
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭২ জন
  4. ৬৭০ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিল:
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন:
•  লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
১০,৩৪৩.
যুক্তফ্রন্টের কোন দফায় বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের প্রতিশ্রুতি ছিল?
  1. ৯ নং
  2. ১৮ নং
  3. ১৫ নং
  4. ৩ নং
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ১৫ নং দফা: বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,

অন্যদিকে,
৩নং দফা: পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৯ নং দফা: অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১৮ নং দফা: একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৪৪.
যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় কী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল?
  1. ব্যালট জয়
  2. ভোট–বিপ্লব
  3. ব্যালট–বিপ্লব
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের বিজয়:
- যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় ব্যালট–বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

⇒ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাঙালি জাতি, বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ নেতৃত্বের কার্যকলাপ ও পাকিস্তানি শাসকদের ছয় বছরের শোষণের বিরুদ্ধে এই নির্বাচন ছিল 'ব্যালট বিপ্লব'। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে এই সময়ে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামী, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্ব-স্ব জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে এই নির্বাচন সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৪৫.
Which one is 12th city corporation in Bangladesh?
  1. Dhaka North
  2. Mymensingh
  3. Gazipur
  4. Rajshahi
  5. Non of these
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন:

- বাংলাদেশের ১২তম সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।
- আয়তন ৯১ দশমিক ৩১৫ বর্গ কিঃমিঃ।
- এই সিটি কর্পোরেশন ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিভক্ত।

তথ্যসূত্র - ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১০,৩৪৬.
'জয়পুরহাট' জেলা কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• জয়পুরহাট জেলা রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত।
• এই বিভাগে মোট ৮ টি জেলা আছে।
• বাকি জেলা গুলো হলোঃ
- রাজশাহী,
- নাটোর,
- পাবনা,
- বগুড়া,
- জয়পুরহাট,
- সিরাজগঞ্জ ও
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উৎসঃ নিকার এর ওয়েবসাইট।

১০,৩৪৭.
When was Bangabandhu accused in the 'Agartala Conspiracy Case'?
  1. ক) 22 February, 1968
  2. খ) 19 June, 1968
  3. গ) 18 January, 1968
  4. ঘ) 3 January, 1968
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৪৮.
১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম কোন দেশটি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করেছিলো?
  1. বার্বাডোস
  2. পূর্ব জার্মানি
  3. পোল্যান্ড
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা
- ভুটান ও ভারতের পর বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি পূর্ব জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিন চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি এবং প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম উত্তর আমেরিকান দেশ হিসেবে বার্বাডোস স্বীকৃতি দেয় ২০ জানুয়ারি ১৯৭২।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১২ জানুয়ারি ১৯৭২।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
(তথ্যসূত্রঃ নিউইর্য়ক টাইমস আর্কাইভস, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)
১০,৩৪৯.
কোন দেশটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিলো?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ইসরাইল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাহায্যার্থে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে নৌবহর প্রেরণ করেছিলো।
অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাক ও অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো মুক্তিযুদের পক্ষে সমর্থন জানায়।
- পশ্চিমা দেশগুলোর গণমাধ্যমসমূহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। তবে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৩৫০.
বাংলায় হাবসি শাসন কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. পাঁচ বছর
  2. ছয় বছর
  3. দশ বছর
  4. তের বছর
ব্যাখ্যা

হাবসি শাসন: 
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়।
- হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হাবসি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১০,৩৫১.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ৮ ডিসেম্বর
  2. ১৬ মার্চ
  3. ৮ মার্চ
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৩৫২.
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির মূলভিত্তি ছিল-
  1. ক) মুসলিম অধিকার আদায়ের চেতনা
  2. খ) ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  3. গ) ভাষাভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বি-জাতি তত্ত্বের' ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। 'ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ' ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৩৫৩.
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট ভূমির কত শতাংশ?
  1. ক) ১৯ শতাংশ
  2. খ) ১২ শতাংশ
  3. গ) ১৬ শতাংশ
  4. ঘ) ১৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশের এ সম্পদের পরিমাণ রয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।
- বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমি রয়েছে।
- বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমির পরিমাণ ১,৮৮০,৪৯৩.৭৩ হেক্টর।
- দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ২,৫৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি), কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ : ২০২০।
১০,৩৫৪.
প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. শামসুল আলম
  2. নুরুল হক ভূঁইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
 - ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক  ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঁইয়া।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

এছাড়াও,
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব ৪০সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৫৫.
Which Mughal emperor is laid in rest in Yangoon?
  1. Bahadur Shah
  2. Sher Shah
  3. Jafar Shah
  4. Elias Shah
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৫৬.
'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পারভেজ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়:
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

উল্লেখ্য,
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, 'আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, প্রথম আলো।
১০,৩৫৭.
'কণিষ্ক' কোন যুগের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. গুপ্ত
  2. দেব
  3. পাল
  4. কুষাণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ যুগের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন 'কণিষ্ক'।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৫৮.
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে সমগ্র পূর্ব বাংলায় প্রথম ধর্মঘট কবে পালিত হয়?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৭
  2. ১৭ মার্চ, ১৯৪৭
  3. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ১৭ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস:
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সমগ্র পূর্ব বাংলায় প্রথম ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় বক্তব্য প্রদান ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব দাখিল করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয়। এদিন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সব মুসলিম সদস্য একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
- ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে শামসুল হককে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। আহ্বায়ক নির্বাচিত হন তমদ্দুন মজলিশের শামসুল আলম।  পরিষদ থেকে সংগঠনগুলো থেকে দুজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সভাতেই ১১ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে সমগ্র পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়। 
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও হরতাল পালিত হয় পূর্ব বাংলার প্রায় সবগুলো জেলা শহরেই। গণপরিষদের ভাষা-তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেওয়া ছাড়াও পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকেটে বাংলা ব্যবহার না করা এবং নৌবাহিনীতে নিয়োগের পরীক্ষা থেকে বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাখার প্রতিবাদস্বরূপ ওইদিন ঢাকা শহরে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটিদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা।
- তীব্র আন্দোলনের মুখে খাজা নাজিমুদ্দীন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৮টি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই করতে বাধ্য হন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

১০,৩৫৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. কেওকারাডং
  2. লুসাই
  3. আরাকান
  4. এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তাজিংডং:

- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় এর অবস্থান। 
- তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা প্রায় ১২৩১ মিটার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭।
১০,৩৬০.
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার চেষ্টা কোন বৈষম্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাংস্কৃতিক
  2. সামাজিক
  3. চাকুরি
  4. শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য:
- পাকিস্তানের দু'অঞ্চলের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
- পূর্ব বাংলার অধিবাসীরা ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ।
- এদের ভাষা এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি ছিল হাজার বছরের পুরনো।
- অন্যদিকে পাকিস্তানের বাকি ৪৫ শতাংশ লোকের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ছিল বিভিন্ন ধরনের।
- এদের মধ্যে মাত্র ৭.২ শতাংশ লোকের ভাষা ছিল উর্দু।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেষ্টা করে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার চেষ্টা একটি সাংস্কৃতিক বৈষম্যে।
- এছাড়াও হাজার বছরের পুরনো বাঙালি জাতির সংস্কৃতিকে মুছে ফেলে বাঙালিদের পাকিস্তানি করণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
- তাদের এই বৈষম্য বাঙালিরা মেনে নিতে পারেনি।
- তাই পূর্ব বাংলায় সাংস্কৃতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথমে প্রতিবাদ এবং পরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৬১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন-
  1. ক) Nikolai Podgorny
  2. খ) Leonid Brezhnev
  3. গ) Mikhail Gorbachev
  4. ঘ) Nikita Khrushchev
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পোদগর্নি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন মিখাইল গর্বাচেভ। উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন।
উৎসঃ রাশিয়া ও ইউএস সরকারি ওয়েবসাইট
১০,৩৬২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) হিন্দু
  3. গ) জৈন
  4. ঘ) শৈব
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন । 
• বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী / বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
• শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৩৬৩.
'মালজামিনি' ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কে প্রবর্তিত করেন?
  1. সুজাউদ্দিন খান
  2. নবাব মুর্শিদ কুলি খান
  3. আলিবর্দি খান
  4. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৩৬৪.
দেশে নদীবন্দরের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৪২
  2. খ) ৪৩
  3. গ) ৪৪
  4. ঘ) ৪৫
ব্যাখ্যা
নদী বন্দর:
- ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রথম ৬ টি স্থানকে নদী বন্দর ঘোষণা করে।
- এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও ৩৫ টি নদী বন্দর ঘোষিত হয়।
- আর সর্বশেষ ৭ মার্চ, ২০২৩ রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়াকে ৪২ তম এবং পাবনা জেলার সুজানগরের নাজিরগঞ্জ ঘাটকে দেশের ৪৩ তম নদী বন্দর ঘোষণা করা হয়।
- দেশে বর্তমানে নদী বন্দরের সংখ্যা - ৪৩ টি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
১০,৩৬৫.
সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' দেশের নাম পাওয়া যায় যে গ্রন্থে-
  1. আইন-ই-আকবরী
  2. বাঙালির ইতিহাস
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. রঘুবংশ
ব্যাখ্যা
জনপদ:
- 'বঙ্গ' বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
- বাংলার অন্যান্য ভৌগোলিক ইউনিটের মতো বঙ্গের ভৌগোলিক গূঢ়ার্থও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
- দেশবাচক শব্দ হিসাবে 'বঙ্গ' বা 'বাঙ্গাল' শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় - আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে।

অন্যদিকে,
- ঐতরেয় আরণ্যক -এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
- বৌধায়ন ধর্মসূত্রে একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বঙ্গ নামের উল্লেখ রয়েছে, যারা আর্যসভ্যতার সীমার বাইরে কলিঙ্গের পাশেই বসবাস করত।
- পুরাণে এদের উল্লেখ রয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেমন অঙ্গ, মগধ, মুদগরক, পুন্ড্র, বিদেহ, তাম্রলিপ্তি ও প্রাগজ্যোতিষ-এর সাথে।
- রামায়ণ এ অযোধ্যার সাথে বঙ্গের মৈত্রীবন্ধনের কথার উল্লেখ রয়েছে। 

[যদি প্রশ্নে বঙ্গ দেশ বলা হয় তাহলে উত্তর হবে আইন-ই-আকবরী, কিন্তু বঙ্গ জনগোষ্ঠী বললে উত্তর হবে ঐতরেয় আরণ্যক।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৬৬.
পাকিস্তানের গণপরিষদে সর্বপ্রথম কে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. প্রফেসর আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার কংগ্রেস দলীয় গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি জানান।

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য,
- বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা।
- আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে 'বাংলার' রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ ছিল স্বাভাবিক।
- কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীগণ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
- এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

১০,৩৬৭.
নিম্নের কোন গোত্রের লোকদের পেশা ছিল যুদ্ধ?
  1. ক) বৈশ্য
  2. খ) ক্ষত্রিয়
  3. গ) শূদ্র
  4. ঘ) ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা
• কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ:-    
১। ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
২। ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
৩। বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
৪। শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

• ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। বিচিত্র সব বর্ণ, উপবর্ণ ও শংকর বর্ণের সামাজিক বিন্যাস এতে গুরুত্ব পায়। এভাবে বর্ণভেদ প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে প্রতিষ্ঠা পায়।
• নিম্নবর্ণের ডোমদের বাস ছিল গ্রামের বাইরে। উচ্চবর্ণের লোকেরা এঁদের ছুঁতেন না।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৬৮.
নিচের কোনটি 'যুক্ত বাংলার প্রস্তাব' নামে পরিচিত?
  1. বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব
  2. কাশিম- হক প্রস্তাব
  3. মুজিব-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব 
  4. কাশিম-বসু প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
• অখন্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে চলে গেলে তা এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাসে বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র বসু এক প্রস্তাবে অখন্ড বাংলাকে একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান  জানান।
-  অখন্ড বাংলা রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর বাংলাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি, ২০২৩ সংস্করণ।
১০,৩৬৯.
সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয় কত তারিখে?
  1. ২২ জুলাই, ২০২৪
  2. ২৩ জুলাই, ২০২৪
  3. ২০ জুলাই, ২০২৪
  4. ২৫ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
• সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটার নতুন প্রজ্ঞাপন ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখ প্রকাশিত হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপনে কোটা ব্যবস্থা যেমন ছিল :
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ কর্পোরেশনগুলোতেও সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯-২০ গ্রেডের সকল নিয়োগে ৭% কোটা অনুসরণ করা হবে।
- এবং অবশিষ্টাংশ ৯৩% মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।
৭% কোটার মধ্যে ৫% মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য রাখা হয়েছে এবং ১% প্রতিবন্ধী ও ৩য় লিঙ্গের মানুষদের জন্য এবং ১% ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য রাখা হয়েছে।
এখানে নারী কোটা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের জন্য কোন কোটা রাখা হয়নি।
নতুন কোটার প্রজ্ঞাপনের অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ চলতি মাসের ২৩ তারিখ হতে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য:
এখন কোটা সংক্রান্ত পূর্বের সকল আদেশ /পরিপত্র বা যে কোন আইন বাতিল বলে গন্য হবে।

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং The daily star.
১০,৩৭০.
‘আলোকিত মানুষ চাই’ কোন প্রতিষ্ঠানের স্লোগান?
  1. ক) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
• বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র:
- ‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের স্লোগান
- ১৯৭৮ সালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার বাংলা মটরে।
- প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র হলো একটি এনজিও যা শিক্ষার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট।
১০,৩৭১.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযানটির সাংকেতিক নাম ছিল -
  1. অপারেশন নোঙর
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন ঢাকা বোল
  4. অপারেশন ক্যাক্টাস লিলি
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে এই অপারেশন পরিচালিত হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের মে মাসে।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব অর্জন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১০,৩৭২.
বাংলাদেশ কবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়?
  1. ক) ২০১৫ সালে
  2. খ) ২০১৮ সালে
  3. গ) ২০২১ সালে
  4. ঘ) ২০২৬ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীবিন্যাসে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০৪৫ মা. ডলারের অধিক হওয়ায় ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ করবে।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো রিপোর্ট)
১০,৩৭৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর আব্দুর রব
  2. মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর খালেদ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টর
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
- হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।
- সেক্টরে গেরিলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার এবং নিয়মিত বাহিনী ছিল প্রায় ৪ হাজার।

• এই সেক্টরের ছয়টি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- জালালপুর (মাসুদুর রব শাদী); 
- বড়পুঞ্জী (ক্যাপ্টেন এ. রব); 
- আমলাসিদ (লেফটেন্যান্ট জহির); 
- কুকিতল (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাদের এবং পরে ক্যাপ্টেন শরিফুল হক); 
- কৈলাশ শহর (লেফটেন্যান্ট উয়াকিউজ্জামান); 
- কমলপুর (ক্যাপ্টেন এনাম)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৭৪.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় -
  1. ২৮ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৯ জানুয়ারি, ১৯৫২
  3. ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২
  4. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

• সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি
আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৭৫.
যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক ২১ দফা কর্মসূচির প্রধান্তিক রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  5. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৩৭৬.
ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিতে কোন দু'টি বিষয় কেন্দ্রিয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব ছিল?
  1. বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা
  2. অর্থ ও পররাষ্ট্র
  3. স্বরাষ্ট্র ও পরিকল্পনা
  4. প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
◉ ছয় দফা কর্মসূচির ২য় দফায়  ⎯ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় দুটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

ছয়দফা কর্মসূচি:
➝ ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ছয়দফা-কর্মসূচি' নামে প্রকাশিত হয়েছিলো। ছয়দফাকে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
➝ ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে, ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে তিনি এটি পাস করিয়ে নেন দলের কাছ থেকে।
➝ একই বছরের ১৮ ও ১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির কাউন্সিল সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি হয় এবং একই সভায় ছয়দফা প্রস্তাব গৃহিত হয়।
➝ ১৯৬৬ সালের ২৩শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। দেশজুড়ে গণপ্রচারণা শুরু হয় ছয় দফার পক্ষে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতায় পরিণত হন।
➝ কিন্তু পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ও রাজনীতিকরা অস্ত্রের ভাষায় এই গণজাগরণ মোকাবিলার চেষ্টা করে। ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে দীর্ঘমেয়াদে জেলে রাখা হয়।
➝ প্রতিবাদে ৭ জুন হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। বিপরীতে সেদিন ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানিরা। কিন্তু ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও রাজপথে নেমে আসে ছয় দফার সমর্থনে। জান্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ১১ জন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।
 
ছয়দফা কর্মসূচির দাবিসমূহ:
◉ প্রথম দফা ⎯ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন:
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।

◉ দ্বিতীয় দফা ⎯ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা:
- শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

◉ তৃতীয় দফা ⎯ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
- দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে।
- অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।

◉ চতুর্থ দফা ⎯ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:
- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।

◉ পঞ্চম দফা ⎯ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসাব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে। 

◉ ষষ্ঠ দফা ⎯ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:
- অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

উৎস:
i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়বেসাইট
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই।
১০,৩৭৭.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর সময় কাল:
  1. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর সময় কাল: ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ। 
-------------------------- 
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৭৮.
Stop Genocide (স্টপ জেনোসাইড) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. তারেক মাসুদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- Stop Genocide নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড। 
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন। 
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। 

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৩৭৯.
'আলোকিত মানুষ তৈরি' কোন সংগঠনের উদ্দেশ্য?
  1. বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
  2. এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. ব্র্যাক
  4. প্রশিখা
ব্যাখ্যা
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র:
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ একটি দেশব্যাপী আন্দোলন।
- আলোকিত জাতীয় চিত্তের একটি বিনীত নিশ্চয়তা।
- মানবজ্ঞানের সামগ্রিক চর্চা এবং অনুশীলনের পাশাপাশি হৃদয়ের উৎকর্ষ ও জীবনের বহুবিচিত্র কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উচ্চতর শক্তি ও মনুষ্যত্বে বিকশিত হবার একটি সপ্রাণ পৃথিবী।
- প্রতিষ্ঠাতা: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সারা দেশের সবখানে আলোকিত, কার্যকর ও উচ্চমূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা, জাতীয় শক্তি হিশেবে তাদের সংঘবদ্ধ ও সমুন্নত করা এবং এরই পাশাপাশি দেশের মানুষের চিত্তের সামগ্রিক আলোকায়ন ঘটানো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

উৎস: বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট। 
১০,৩৮০.
কুতুবউদ্দিন আইবেক কোন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. লোদী বংশ
  2. দাস বংশ
  3. তুঘলক বংশ
  4. খিলজি বংশ
ব্যাখ্যা

• কুতুবউদ্দিন আইবেক:
- দিল্লির দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক।
- তিনি ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী, স্বাধীনচেতা এবং প্রজাকল্যাণকর শাসক।
- আইবেক রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন-ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে সচেষ্ট ছিলেন।
- তিনি ছিলেন তেজস্বী, প্রতিভাবান এবং উদার চিত্তের অধিকারী।
- দানশীলতার দিক থেকে কুতুবউদ্দিনকে হাতেম তাই-এর সাথে তুলনা করা হয়।
- তিনি প্রত্যেক দিন লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করতেন বলে কোন কোন ঐতিহাসিক তাঁকে 'লাখ বক্স' উপাধি প্রদান করেন।
- তিনি ছিলেন পরমত ও পরধর্ম সহিষ্ণ এবং ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক।
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন কুতুব মিনার  জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক।

উল্লেখ্য,
- স্থাপত্য শিল্পের উদার পৃষ্ঠপোষক সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লিতে 'কুয়াত-উল-ইসলাম' নির্মাণ করেন।
- এবং আজমীরে 'আড়াই দিন-কা-ঝোপড়া' মসজিদ নির্মাণ করেন।
- সুলতান কুতুবউদ্দিন ধর্মবেত্তা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে 'কুতুব মিনার' নির্মাণ আরম্ভ করেন।
- তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেন নি।
- তাঁর জামাতা সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের (১২১১-১২৩৬ খ্রি.) শাসনামলে মিনারটির নির্মাণ কার্য সমাপ্ত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৩৮১.
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. জাকারিয়া পিন্টু
  2. কাজী সালাউদ্দিন
  3. প্রতাপ শংকর হাজরা
  4. এনায়েতুর রহমান খান
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।

১০,৩৮২.
বরেন্দ্রভূমির অন্তর্ভুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ক) টাঙ্গাইল
  2. খ) জয়পুরহাট
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি
• রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ অর্থাৎ নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
• এই ভূমিরূপ প্রায় ২৫ হাজার বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিনকালে গঠিত হয়েছিলো।
• প্লবান সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমি ৬ থেকে ১২ মিটার অধিক উচ্চতায় অবস্থিত।
• বরেন্দ্রভূমির মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। 

অপরদিকে, 
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
• লালমাই পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত যা লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত। 
• বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৩৮৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন, ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ, ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১০,৩৮৪.
দ্বিজাতি তত্ত্ব কত খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত হয়?
  1. ১৯৩৭ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৯ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৮৫.
স্বাধীন বাংলাদেশে কখন পতাকা উত্তোলন করা হয়?
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ২৬ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
- অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে।
- এর বিস্তৃতি ছিল সম্পূর্ণ পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী। অসহযোগ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- ২ মার্চ ১৯৭১ ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই ২ মার্চ ছাত্র সংগঠনগুলি ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- সরকারি নির্দেশে গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল এস এম আহসানের পরিবর্তে প্রাদেশিক সামরিক আইন প্রশাসক লে. জে. সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে গর্ভনরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৮৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন?
  1. করাচিতে
  2. ইসলামাবাদে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকায়
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌,
দ্বিতীয় দফা- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা- মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা- রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা- বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৮৭.
৬ দফা দাবি পেশ করা হয়-
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন।
- এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম 'ছয়দফা: আমাদের বাঁচার দাবি।'

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
১০,৩৮৮.
Who was the main singer of the 'Concert of Bangladesh in 1971?
  1. ক) Runa Laila
  2. খ) George Harrison
  3. গ) Mark Anthony
  4. ঘ) Bappi Lahiri
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের কনসার্ট অব বাংলাদেশ-এর প্রধান গায়ক ছিলেন - জর্জ হ্যারিসন
- 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' – মূলত শিরোনাম ছিল 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলা দেশ' হল একটি লাইভ ট্রিপল অ্যালবাম, যা অ্যাপল রেকর্ডস কর্তৃক মুক্তি পেয়েছিল।
- অ্যালবামটিতে কণ্ঠশিল্পী ছিলেন জর্জ হ্যারিসন ও তার বন্ধুরা।
- এটি ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ও ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটেনে মুক্তি পেয়েছিল।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১০,৩৮৯.
কাগমারী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক
  3. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন: 
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের  'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ০৫ জানুয়ারি ২০১৮।
১০,৩৯০.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কত দফার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল?
  1. ৬ দফা 
  2. ১১ দফা 
  3. ২০ দফা 
  4. ২১ দফা 
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন। 

- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা ৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা ১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৩৯১.
পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. হেক্টর মুনরো
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর প্রধান।

পলাশীর যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নিকট পরাজিত হন।
- সিরাজউদ্দৌলাকে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।
- এর মধ্যে মীর জাফর- নবাবের সেনাপতি, তার বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়।
- ইংরেজরা মীর জাফরের সাহায্য নিয়ে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর মদন ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলা এই যুদ্ধে পরাজিত হন এবং ১৭৫৭ সালে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৯২.
বর্তমানে বীরবিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১৭৪ জন
  2. ১৭৫ জন
  3. ১৭৬ জন
  4. ১৭৭ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৯৩.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মস্থান কোনটি?
  1. ক) টাঙ্গাইল
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) কলিকাতা
  4. ঘ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
সুর সম্রাট আলউদ্দিন খাঁ প্রথম বাঙালী যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে এই উপমহাদেশের রাগসঙ্গীতকে পরিচিত ও প্রচার করেন।
- অতি উচ্চমাত্রার সঙ্গীতকলাকার ছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন।

- বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সঙ্গীতশিল্পী পরিবারে ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁ ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁর মাতাঁর নাম ছিল সুন্দরী খানম। আলাউদ্দিনের ডাক নাম ছিল ‘আলম’।

- তিনি দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্টার স্টাইলে একটি যন্ত্রি দল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’।
- ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান (১৯৫২ খ্রিঃ)’, ‘পদ্ম ভূষণ (১৯৫৮ খ্রিঃ), ‘পদ্ম বিভূষণ (১৯৭১ খ্রিঃ)’, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশী কোত্তম (১৯৬১ খ্রিঃ)’, এবং দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।

- ১৯৫৪ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক প্রথম সঙ্গীত নাটক একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল তাঁকে আজীবন সদস্য পদ দান করেন। এসব দুর্লভ সম্মান ও খেতাব সঙ্গীত বিদ্যায় আলাউদ্দিন খাঁর অসাধারণ কীর্তি ও সাফল্যকেই প্রমাণ করে।
- সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৩৯৪.
চলন বিলের অবস্থান কোথায়?
  1. নাটোর ও নওগাঁ জেলায়
  2. পাবনা ও নাটোর জেলায়
  3. রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায়
  4. মাগুরা জেলায়
ব্যাখ্যা
• চলন বিল:
→ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। ৩টি জেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি।
নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
→ ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
→ গঠিত হওয়ার সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এর আয়তন অনেক কমে এসেছে।

উৎস: নাটোর জেলার ওয়েবসাইট।
১০,৩৯৫.
পাকিস্তানের মোট কত শতাংশ লোকের বসবাস ছিল পূর্ব পাকিস্তানে?
  1. ক) ৫৪%
  2. খ) ৫৬%
  3. গ) ৫৮%
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• পূর্ব বাংলার জনসংখ্যা:
- পাকিস্তানে জনসংখ্যার বিভিন্ন অনুপাত নিচে দেওয়া হলো - 
- পূর্ব বাংলায় ৫৬.২৭%,
-পাঞ্জাবে ১৮.৮২%,
- সিন্ধুতে ৪.৬১%,
- উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ২.২২%,
- বেলুচিস্থানে ০.৬০%,
- দেশীয় রাজ্য সহ অন্যান্য অঞ্চলে ৬.৩৪%।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৩৯৬.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কততম দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা'-এর উল্লেখ ছিল?
  1. ১ম
  2. ৩য়
  3. ৪র্থ
  4. ২য়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১ম দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা'-এর উল্লেখ ছিল।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৯৭.
ওয়ারেন হেস্টিংস কোনটি প্রবর্তন করেন?
  1. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
  2. নীল আইন
  3. পাঁচসালা বন্দোবস্ত
  4. ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা
পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

অন্যদিকে,
- গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার প্রবর্তন করেন।

উৎস: i)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৯৮.
বখতিয়ার খিলজি কত শতকে বাংলা আক্রমণ করেন?
  1. বার শতকের প্রথম দিকে
  2. তের শতকের শেষের দিকে
  3. তের শতকের প্রথম দিকে
  4. বার শতকের শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
• তের শতকের প্রথম দিকে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। 

- তের শতকের প্রথম দিকে, সম্ভবত ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- এর ফলে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলা বখতিয়ার অধিকার করেন এবং লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন ।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৩৯৯.
শান্তিতে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন -
  1. ম্যাগসেসে পদক
  2. জুলিও ফ্রিডম পদক
  3. নেহেরু পদক
  4. জুলিও কুরি পদক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৪০০.
দিল্লির কোন শাসক ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
- ইলিয়াস শাহের শাসনামলে দিল্লির শাসক ছিলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। 
- ইলিয়াস শাহ দিল্লির মুসলমান শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নামে খুতবা পাঠ ও মুদ্রা জারি করায় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।
- প্রথম দিকে দিল্লির সুলতান বাংলার এ স্বাধীনতা মেনে নেননি।
- সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৩ থেকে ১৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
- তাঁর চেষ্টা ছিল বাংলাকে দিল্লির মুসলিম অধিকারে নিয়ে আসা। কিন্তু তিনি সফল হননি।
- ইলিয়াস শাহ দুর্ভেদ্য একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- এদিকে বর্ষা এলে জয়ের কোনো সম্ভাবনা না থাকায়, ফিরোজ শাহ সন্ধির মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতাকে মেনে নিয়ে ইলিয়াস শাহের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিল্লি ফিরে যান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।