বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০ / ১২৪ · ৯০১১,০০০ / ১২,৪২১

৯০১.
কত সালে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৬০৮ সালে
  2. ১৬১০ সালে
  3. ১৬৬০ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সুবার রাজধানী: 
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলার উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- এ লক্ষে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০২.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ব্যবহারের দাবি করেন কে?
  1. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ  
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. কুদরাত-এ খুদা
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে প্রস্তাব করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
- এই অধিবেশনে বিরোধী দল দুটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।"
- "প্রথম প্রস্তাবটিতে বৎসরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল ভাষা বিষয়ক। এটিতে উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্ব বাঙলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।"
- পরে বিভিন্ন পর্যায়ে মি. দত্ত মোট তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গণপরিষদে, যার প্রতিটিতেই বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব ছিল।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি উত্থাপনের একদিন পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।
- মি. দত্তের প্রস্তাবটিই ছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
- পরে পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম শাসনতন্ত্রে উর্দুর সাথে বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলো, যার মাধ্যমে বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

৯০৩.
ভাষা শহীদ নয় -
  1. ক) সালাম
  2. খ) রফিক
  3. গ) মনুমিয়া
  4. ঘ) শফিউর
ব্যাখ্যা
ভাষা শহিদ
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আমরা পাঁচজন শহিদের নাম বেশি শুনতে পাই: সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর। 
- ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে বহু লোক নিহত হলেও তারা সবাই স্বীকৃতিও পাননি।
- ২০০০ সালে তাদের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
-বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- রফিক ছিলেন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে।
- তারা তিনজন নিহত হন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে।
- পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান রিকশাচালক সালাম এবং হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারানোর তালিকায় আরো দুটি নাম পাওয়া যায়- অহিউল্লাহ ও আবদুল আউয়াল।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে ভাষাশহিদ হিসেবে এই দুজনের নাম-পরিচয় উল্লেখ আছে।
- এ ছাড়া সালাউদ্দীন নামেও একজন ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে -
- ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবির আন্দোলনে শহীদ হন মনুমিয়া।

 উৎস: প্রথম আলো,২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
৯০৪.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' কে ছিলেন?
  1. একজন সাংবাদিক
  2. একজন গায়ক
  3. একজন রাষ্ট্রদূত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা 'সাইমন ড্রিং' ছিলেন একজন সাংবাদিক।

মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক:

- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার সময় থেকে বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।
- তারাই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার খবর ছড়িয়ে দেয়।

• সাইমন ড্রিং এরকমই একজন সাংবাদিক।
- ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সরকার কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা সফর করিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন লেখানোর ফব্দি আঁটে।
- কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
- নিজ চোখে সব দেখে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সত্য কথা লিখে পত্রিকা ও বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে তা অবহিত করে।
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
= আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৯০৫.
ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয় কোথায়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) করাচীতে
  3. গ) লাহোরে
  4. ঘ) কলকাতায়
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- ১৯৬৩ সালে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিব।
- তিনি ছিলেন আইয়ুব খানের ‌মৌলিক গণতন্ত্র তত্ত্বের কট্টর সমালোচক।
- ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
- এই ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা।
- মুজিবের ৬ দফার প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনে ভীত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মুজিবকে।
- এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলার সমস্ত জনগণ। জনরোষের কাছে নতি স্বীকার করে এক পর্যায়ে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় শোষকগোষ্ঠী।
- ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়৷সেখানেই উত্থাপিত হয় এগার দফা দাবি যার মধ্যে ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- লাখো মানুষের এই জমায়েতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯০৬.
বাবরের ভারত বিজয়ের প্রাক্কালে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসক ছিলেন -
  1. দৌলত খান লোদী
  2. ইব্রাহিম লোদী
  3. আলম খান লোদী
  4. দরিয়া খান
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহিম লোদী:
- বাবরের ভারতবর্ষ আক্রমণের প্রাক্কালে এদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। তখন দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসক ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- তিনি অনেকটা দুর্বল শাসক ছিলেন। ফলে অমাত্যবর্গ ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণের উপর তার নিয়ন্ত্রণ কম ছিল।
- কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এসব রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবের দৌলত খান লোদী সুলতানের চরম বিরোধিতা করেন এবং ইব্রাহিম লোদীকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য বাবরকে আমন্ত্রণ জানান।
- এমন সংকটপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে বাবর ভারত আক্রমণ করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৭.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরী হিসেবে পরিচিত মহাস্থানগড় কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. বঙ্গ 
  2. রাঢ়
  3. পুণ্ড্র
  4. তাম্রলিপ্ত 
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

⇒ বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।
- ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

৯০৮.
বাংলায় ব্রিটিশ-বিরোধী প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন কোনটি ছিল?
  1. ফরায়েজী আন্দোলন
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. নাচোল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অপরদিকে -
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৯.
হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান বলা হয় কাকে?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
• আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
• তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
• আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
• রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
• তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
• তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
• গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
• তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
উপমহাদেশের কোথায় 'ফোর্ট উইলিয়াম' দুর্গ  নির্মিত হয়েছিল?
  1. মুম্বাই
  2. কলকাতা
  3. মাদ্রাজ
  4. বালেশ্বর
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
-পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
-১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
-১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।
- ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
-১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম কলকাতায় নির্মিত হয়। 
-১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১১.
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৮৩
  3. ২০১১
  4. ২০১৮
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- ১৯৭২–১৯৭৭: স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন করে।
-এর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
- ১৯৭৮–১৯৭৯: নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন শুরু।
- ১৯৮৩: ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ সম্পন্ন।
- ১৯৮৩ সালে: The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 এর মাধ্যমে স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র একীভূত হয়ে NCTB প্রতিষ্ঠিত।
- ২০১৮ সালে: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮ দ্বারা ১৯৮৩ সালের আইন সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করা হয়।

• উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম: 
- দেশের সকল স্কুলে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ করা।
- শিক্ষাক্রম (Curriculum) পরিকল্পনা ও হালনাগাদ করা।
- শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সময়োপযোগী শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়ন।

উৎস: NCTB এর ওয়েবসাইট।

৯১২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন-
  1. ক) সরদার শরন সিং
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) বিজয়লক্ষী পন্ডিত
  4. ঘ) আর কে দিক্ষিত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন সমর সেন। বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম নারী সভাপতি।
৯১৩.
নালন্দা মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সমুদ্রগুপ্ত
  2. কুমারগুপ্ত
  3. শ্রীগুপ্ত
  4. প্রতীম গুপ্ত
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার:
- প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বৌদ্ধ মহাবিহার নালন্দা।
- বিহার প্রদেশের পাটনা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে এর অবস্থান।
- সাত শতকে নালন্দা মহাবিহার প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সম্রাটরা এ মহাবিহারের নির্মাতা।
- সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তই সম্ভবত এক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

⇒ পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র।
- পাল রাজাদের (আট থেকে বারো শতক) সময়েই এটি বিভিন্ন কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। 
- বিহারটি সম্পর্কে জানা যায় পর্যটক জুয়ান জাং ও ইজিংয়ের লেখা ভ্রমণ-বিবরণী থেকে।
- তাঁরা সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দায় ভ্রমণ করেন।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।
- হিউয়েন-সাং নিজেও শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিহারটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১৪.
কার শাসনামলে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড লিটন
  4. লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে আদমশুমারি হয়েছিল।
- সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।  প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- বাংলাদেশে দ্বিতীয় আদমশুমারি হয় ১৯৮১ সালে।

⇒ ৬ষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন জনশুমারি ও গৃহগণনা নামে অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

উল্লেখ্য,
- ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে। পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে।
- এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে।
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.
৯১৫.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক সুবাহদার
  2. সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ফৌজদার
  3. পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা ওয়াজির
  4. রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস সম্রাট
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- মুঘল শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।

⇒ মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস: পাদশাহ বা সম্রাট।
• তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান,
• সামরিক প্রধান,
• প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।

⇒ সম্রাটের পরের স্থান: প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজির।
⇒ সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক: সুবাহদার।
⇒ সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা: ফৌজদার।
⇒ পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা: শিকদার।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৬.
পিআরএসপি মূলত কোন উদ্দেশ্যে প্রণীত?
  1. শিল্পায়ন বৃদ্ধি
  2. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  3. দারিদ্র্য বিমোচন
  4. রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্র (পিআরএসপি):
- PRSP এর পূর্ণরূপ: Poverty Reduction Strategy Paper.
- এটি দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিশ্বে নিম্ন আয়ের দেশগুলির অভ্যন্তরীণভাবে গৃহীত নীতি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য প্রণীত দলিল বা রূপরেখা।
- বাংলাদেশ ২০০৩ সালে প্রথম অন্তবর্তীকালীন পিআরএসপি (আইপিআরএসপি) প্রণয়ন করে।
- এর শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নের কৌশল’।
- ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথম পিআরএসপি প্রণয়ন করে।
- এই দলিলটির শিরোনাম ছিল ‘আনলকিং দ্য পটেনশিয়াল: দ্রুততর দারিদ্র্য বিমোচনের জাতীয় কৌশল’ যা পিআরএসপি নামে বহুল প্রচারিত।
- ২০০৮ সালের অক্টোবরে ২০০৫ সালে প্রণীত দলিলটিকে হালনাগাদ করা হয়।
- এ দলিল প্রণয়নের মাধ্যমে সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্য (এমডিজি) এবং দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে।
- দ্রুততর দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল-২ (অর্থবছর ২০০৯-১১) পথে অগ্রযাত্রা'।
- ২০০৮ সালে সম্পাদিত পিআরএসপি-২ এর সরকার বদলের ফলে কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯১৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্ক
  2. বােস্টন
  3. লন্ডন
  4. ক্যানবেরা
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
৯১৮.
‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন-
  1. সিকান্দার শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁও দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এর পূর্ণতা দান করেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
১৩৫২ সালে সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলা জয় করেন এবং দুই বাংলাকে একত্রিত করে বৃহত্তর বাংলা গড়েন।
তার সময় থেকেই বাংলাভাষী জনগণ 'বাঙালি' হিসেবে পরিচিতি পায়।
তিনি 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' 'শাহ ই বাঙালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত]
৯১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৪ নং
  3. গ) ৬ নং
  4. ঘ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
তার মধ্যে মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। 

নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর, 
সিলেট-  ৪ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯২০.
Who was the Chief Minister of the United Front Government?
  1. Syed Azizul Haque
  2. Abu Hussain Sarkar
  3. Sheikh Mujibur Rahman
  4. AK Fazlul Haque
  5. Shaheed Suhrawardy
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে, ১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৯২১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'জীবনঢুলী' এর পরিচালক কে?
  1. ক) তানভীর মোকাম্মেল
  2. খ) মোরশেদুল ইসলাম
  3. গ) নাসিরউদ্দীন ইউসুফ
  4. ঘ) আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র 'জীবনঢুলী':
 
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'জীবনঢুলী'র পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- স্মৃতি-৭১ তাঁর প্রামাণ্যচিত্র এবং হুলিয়া তাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র।
- আগামী ও ঢাকা মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র।
- গেরিলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
- লিবারেশন ফাইটার্স প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা আলমগীর কবির।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৯২২.
১৯৫৬ সালের সংবিধান কতদিন স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় ৬ মাস
  2. প্রায় ১.৫ বছর
  3. প্রায় ২ বছর
  4. প্রায় ২.৫ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। 
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন। 
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- আলোচনার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ২রা মার্চ, ১৯৫৬ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

⇒ এ শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি। এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে। শাসনতন্ত্রের এ ব্যর্থতার জন্যে (পশ্চিম পাকিস্তানের) শাসকবর্গই দায়ী ছিলেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যে ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৩.
বাংলায় সেন বংশের (১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ) শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. কেশব সেন
ব্যাখ্যা
বাংলায় সেন বংশের শাসন -

শুরু: পাল বংশের পতনের বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
প্রতিষ্ঠাতা: সেন রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন হেমন্ত সেন (সামন্ত সেনের পুত্র)।
শ্রেষ্ঠ রাজা: বিজয় সেন। তার শাসনামলে সেন বংশ শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা: লক্ষ্মণ সেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন। এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসা:
১২০৫/০৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশব সেন যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন। তাঁদের শাসনামলের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না, তবে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাঁদের শাসন প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী ছিল।

কেশব সেন:
কেশব সেনের রাজত্বকাল ছিল ১২২৫ - ১২৩০ সাল। তার পর সেনগণ বাংলায় রাজত্ব করেছিলেন এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

উপর্যুক্ত আলোচনা, প্রশ্নের ধরণ ও অপশন বিবেচনা করে বলা যায়,
- সাধারণত বাংলার সর্বশেষ রাজা হিসাবে লক্ষ্মণ সেনের নাম পাওয়া গেলেও সেন বংশের শাসন লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পরও কয়েক বছর টিকে ছিল।
- এই বংশের শেষ শাসনকর্তা হিসাবে কেশব সেনের (রাজত্বকাল: ১২২৫ - ১২৩০ সাল) নাম পাওয়া যায়।

প্রশ্নকর্তাও সাল উল্লেখ করেই প্রশ্নটি ক্লিয়ার করেছেন।
তাই সঠিক উত্তর হিসাবে কেশব সেন ধরা হয়েছে।

তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৪.
নিচের কোন সেক্টরের সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

সেক্টর ও সদরদপ্তরঃ 
• ৬ নং সেক্টরঃ
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।
উল্লেখ্য, 
- ১নং সেক্টরের (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র) সদরদপ্তর: হরিণা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ২নং সেক্টর (ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত)সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- এবংসেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ৫নং সেক্টরের (সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯২৫.
নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত সেক্টর নিচের কোনটি?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ৯নং সেক্টর
  3. ১০নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯২৬.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩নং
  4. ৪নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৯২৭.
বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের প্রধান ছিলেন কে?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. শেখ ফজলুল হক মনি
  4. বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়।
- মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ ফজলুল হক মনি।
- মুজিব বাহিনীর ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমান্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কুদ্দুস মাখন প্রমুখ অন্যতম।
- মুজিব বাহিনীর মোট সদস্য ছিলো প্রায় পাঁচ হাজার। এ বাহিনীকে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেরাদুন পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
- মুজিব বাহিনীর গঠন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে মুজিবনগর সরকার অবহিত ছিল না। এই বাহিনী মুজিবনগর সরকারের প্রতি কোন আনুষ্ঠানিক আনুগত্যও প্রকাশ করেনি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯২৮.
বঙ্গবন্ধুর লেখা প্রকাশিত দ্বিতীয় বইয়ের নাম কী?
  1. ক) আমার কিছু কথা
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) কারাগারের রােজনামচা
  4. ঘ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। তার রচিত প্রথম গ্রন্থ - অসমাপ্ত আত্মজীবনী। বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়া চীন’।
- এটি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন ও রাজনৈতিক ইতিহাস স্থান পেয়েছে। এটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩২।
- এটির ভূমিকা লিখেন শেখ হাসিনা এবং নামকরণ করেন শেখ রেহানা।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, কারাগারের রোজনামচা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং দৈনিক প্রথম আলো
৯২৯.
সপ্তম শতাব্দীতে মহান ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন-
  1. ক) ফা-হিয়েন
  2. খ) মা-তোয়ান-লিন
  3. গ) হিউয়েন সাং
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
-৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
-কনৌজ নগরে পৌঁছে তিনি মহান ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
-তিনি ভারত ও বাংলা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ লিখে গেছেন।
উৎসঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩০.
কোন ব্রিটিশ শাসক সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রণয়ন করেন?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. লর্ড কার্জন
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রণয়ন করেন।

⇒ তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি সাধন করা।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন।
- এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই ( ১৮৫৩ সালে ) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৩১.
বাংলাদেশের প্রথম হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।
- একটি প্রকল্পের আওতায় আগামী বছরের জুন থেকে পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য এই জ্বালানি উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
- বিসিএসআইআরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি আবর্জনা ও পানিকে যথাক্রমে বায়োমাস গ্যাসিফিকেশন এবং তড়িৎ বিশ্লেষণ (ইলেক্ট্রোলাইসিস) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে।
- এর জন্য বিসিএসআইআর ইতোমধ্যে একটি ইউনিট স্থাপন করেছে। আরেকটি ইউনিট স্থাপনের কাজ পূর্ণোদ্দমে চলছে।
- ইউনিট দুটি উৎপাদন শুরু করলে দৈনিক ৫ কেজি ৮০০ গ্রাম হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদিত হবে। ২৪ ঘণ্টা চালানো হলে উৎপাদন ২৯ কেজিতে পৌঁছাতে পারে।
- স্থানীয় ভাবে উচ্চ পর্যায়ের টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদনের জন্য বিসিএসআইআর ৫৪ কোটি টাকার একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
- চট্টগ্রামে ২০১৮ সালের অক্টোবরে এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র। 

উৎস: দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা
৯৩২.
মুজিবনগরে কোন তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল? 
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2.  ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3.  ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  4. ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

মুজিবনগর সরকার গঠন: 
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯৩৩.
তমদ্দুন মজলিসের আহ্বায়ক কে ছিলেন? 
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কামরুদ্দিন
  3. আবুল কাশেম
  4. নূরুল হক ভূঁইয়া
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:

• তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়। 
• এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ।
• ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিশ।
• এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
• পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'। 
• তমাদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলা ভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' যার আহ্বায়ক ছিলেন নূরুল হক ভূঁইয়া। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কার প্রদান করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২ সালের ১৩ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৭৩ সালের ২৩ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ২৪ মে
ব্যাখ্যা

শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

সূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।

৯৩৫.
আগরতলার পরিকল্পনা ফাঁসকারী -
  1. ক) রাও ফরমান আলী
  2. খ) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আমির আবদুল্লাহ খান
  4. ঘ) আমির হোসেন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা

- আওয়ামী লীগ এবং সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করে।
- পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন।
- এ কারণে ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় আওয়ামী লীগ নেতা আলী রেজা এবং মুজিবুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে।
- ভারতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পূর্বেই অক্টোবর, ১৯৬৭ পরিকল্পনাকারীদের একজন আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় গোপন তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে গোয়েন্দা বিভাগে ফাঁস করে দেয়।
- শুরু হয় গ্রেফতার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩৬.
শাহ জালালউদ্দীন কোন শাসককে পরাজিত করে সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন?
  1. ক) ধর্ম পাল
  2. খ) রায় বাহাদুর
  3. গ) লক্ষন সেন
  4. ঘ) গৌরগোবিন্দ
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে বাংলায় ইসলাম ধর্ম:

- শাহ জালালউদ্দীন গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন।
- সিলেটের শাহ জালালউদ্দীন কুনিয়াঈ চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে আসেন।
- চৌদ্দ শতকের মধ্যেই বাংলাদেশে সুফি প্রভাব বিস্তার লাভ করে।
- ইবন বতুতা ১৩৩৮ সনে সিলেটে শাহ জালালউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- শাহজালাল নামে বিখ্যাত এই সাধুপুরুষ উত্তর পূর্ব বাংলা ও আসামে ইসলাম প্রচারে অবদান রাখেন।
- শেখ আঁখি সিরাজুদ্দিন উসমান নিযামুদ্দিন আউলিয়ার খলিফা ছিলেন
- তিনি পান্ডুয়ার শেখ আলাউল হকের পীর। তিনি চৌদ্দ-পনেরো শতকের দরবেশ। তাঁর প্রভাবেই মুখ্যত বাংলাদেশে চিশতিয়া তরিকার প্রসার হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৭.
কোন মুঘল সম্রাট ভারতকে সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন?
  1. হুমায়ূন 
  2. জাহাঙ্গীর 
  3. আওরঙ্গজেব 
  4. আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- যুদ্ধক্ষেত্র, সমরনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসন সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুঘলদের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ শাসক। ইতিহাসে তাই তিনি 'Akbar the Great' নামে পরিচিত।
- সম্রাট হুমায়ুন যখন শেরশাহ এর নিকট পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত হয়ে স্ত্রী হামিদাবানুকে নিয়ে পারস্য অভিমুখে যাত্রাকালে, রাজস্থানের অমরকোটে ২৩ নভেম্বর, ১৫৪২ সালে আকবর জন্মলাভ করেন।
- জন্মের পর হুমায়ুন শিশুপুত্রের নামকরন করেন জালালউদ্দিন। 

⇒ ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- উত্তরে কাশ্মীর হতে দক্ষিণে আহমেদনগর ও মধ্য এশিয়ার কাবুল কান্দাহার হতে পূর্ব বাংলা পর্যন্ত একচ্ছত্র মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।

⇒ সুবিশাল ভারতকে শাসন করার জন্য আকবর তার সাম্রাজ্যকে ১৫৮২ খ্রি. ১৫টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং সুবার শাসক হিসেবে ১ (এক) জন সুবাদার নিয়োগ করেন। 
- সুবাদার ছাড়াও প্রদেশের এ শাসনকার্যে একজন দিওয়ান, আমিল, ফৌজদার, কাজি ইত্যাদি পদের রাজকর্মচারি ছিলেন।
- শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রত্যেক সুবাকে কতগুলো সরকার ও প্রত্যেক সরকারকে কতগুলো পরগনায় বিভক্ত করেছিলেন।

⇒ রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য আকবর শের শাহের রাজস্ব নীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
- আকবর ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- সম্রাট আকবর পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ ও নৌ-বাহিনী এই চার ভাগে তার সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করেন। 
- কৃষিকাজের ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে। 
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষে আধুনিক শাসনের রূপকার ও শ্রেষ্ঠ মুঘল সম্রাট।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৮.
রাঢ় অঞ্চলটি কোন নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশে অবস্থিত ছিল?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. গঙ্গা
  3. সিন্ধু
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

রাঢ়, তাম্রলিপ্তি:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
- একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৩৯.
গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় কত সালে?
  1. ১৯৫২ 
  2. ১৯৫৬ 
  3. ১৯৫৪ 
  4. ১৯৫৩ 
ব্যাখ্যা

বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মানুষ ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ জাতির সূর্যসন্তান।
- সেদিন থেকেই বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
- ৯ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু'বছর পর ১৯৫৬ সালে।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪০.
'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে কোন চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. গেরিলা
  3. সংগ্রাম
  4. আলোর মিছিল
ব্যাখ্যা

গেরিলা চলচ্চিত্র:
- গেরিলা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।
- এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- এই চলচ্চিত্রটি পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে গেরিলা চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।
- এটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার' পেয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৯৪১.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন গঠিত হয়?
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১৬ মে, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯৪২.
What is the helpline number to prevent child marriage?
  1. ক) 999
  2. খ) 106
  3. গ) 109
  4. ঘ) 333
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জরুরী সেবার হটলাইন নাম্বার সমূহ
• ৯৯৯ - বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। এখানে বিনামূল্যে ফোন করে আপনি জরুরী মুহুর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স এর সাহায্য নিতে পারবেন। এছাড়া যে কোন অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানাতে পারবেন।
• ১০৬ - দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার। যে কোন দুর্নীতি চোখে পড়লে বিনামূল্যে কল করে জানিয়ে দিন।
• ১৬৪৩০ - সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার। আইনগত যে কোন পরামর্শ বা সাহায্য পেতে বিনামূল্যে কল করুন।
• ১৬১২৩ - কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন। কৃষি, মৎস, প্রানীসম্পদ বিষয়ক যে কোন পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পারবেন।
• ১০৯ - নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ।
• ১০৯৮ - শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার। চারপাশে শিশুদের যে কোন সমস্যা হলে বিনামূল্যে কল করে সেবা নিতে পারেন এই নাম্বার থেকে।
• ৩৩৩ - জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার। বাংলাদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে। (চার্জ প্রযোজ্য)
• ১৬২৬৩ - বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার। যে কোন সমস্যায় ২৪ ঘন্টায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। (চার্জ প্রযোজ্য)
• ১৬১০৮ - মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। মানবাধিকার বিঘ্নিত হলে কল করুন এই নাম্বারে। (চার্জ প্রযোজ্য)
• ১৬২৫৬ - আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে। (চার্জ
• ১৩১ - বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার। ট্রেন ও এর টিকিট সম্পর্কে জানতে কল করুন । (চার্জ প্রযোজ্য)
• ১০৫ - জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার। (চার্জ প্রযোজ্য)
• ১০০ - বিটিআরসি কল সেন্টার।
• ১৬৪২০ - বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৯৪৩.
মুজিবনগর সরকারের হেড কোয়ার্টার স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. ক) টীকাটুলির রোজ গার্ডেনে
  2. খ) কোলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে
  3. গ) গণভবনে
  4. ঘ) বঙ্গভবনে
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের  সদর দপ্তর কোলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপন করা হয়।
 - তাজউদ্দীন আহমেদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দায়িত্বে রাখেন।
- ১৪ এপ্রিল কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড গঠিত হয়। 
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।
- ফোর্সগুলির নাম ছিল: জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স’ এবং ‘কেফোর্স’।
১. জেড ফোর্স - অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জিয়াউর রহমান।
২. এস ফোর্স - কর্ণেল কে. এম সফিউল্লাহ এবং
৩. কে ফোর্স - কর্ণেল খালেদ মোশাররফ।

 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
কোন নাবিক সর্বপ্রথম সমুদ্র পথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন?
  1. ক) ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  2. খ) লিভিংস্টোন
  3. গ) জেমস ওয়াটসন
  4. ঘ) ভাস্কো দা গামা
ব্যাখ্যা
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে সর্বপ্রথম ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন। তার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে ইউরোপীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৪৫.
বাংলার আকবর বলা হয় কোন নরপতিকে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর হিসেবে' পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৯৪৬.
কোন কাগজ কলে কাঁচামাল হিসেবে আখের ছোবড়া ব্যবহৃত হয়?
  1. কর্ণফুলি পেপার মিল
  2. খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল
  3. সিলেট পেপার মিল
  4. নর্থবেঙ্গল পেপার মিল
ব্যাখ্যা

- পাবনা জেলার পাকশিতে অবস্থিত নর্থবেঙ্গল পেপার মিল ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উৎপাদন শুরু করে ১৯৬৯ সালে।
- ক্রমাগত লোকসানের জন্যে ৩০ ডিসেম্বর ২০০২ এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
- এই পেপার মিলে কাঁচামাল হিসেবে উত্তরবঙ্গের চিনিকল সমূহ হতে প্রাপ্ত আখের ছোবড়া ব্যবহার করা হতো।
- কর্ণফুলী পেপার মিলে বাঁশ এবং
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলে সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ ব্যবহৃত হয়।
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলও বর্তমানে বন্ধ।

উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট।

৯৪৭.
সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন কে?
  1. ড. রবার্ট
  2. ড. স্মিথ
  3. ড. হেনরি
  4. ড. এডওয়ার্ড
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৮.
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবস্থান কোথায়?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল  মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ৩৫২ একর জমির উপর অবস্থিত যার পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ, উত্তরে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা অবস্থিত। 
এখানে উল্লেখ্য যে , শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ৪৪,০০০ লােকের কর্মসংস্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 
সূত্র: বেজা ওয়েবসাইট
৯৪৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া কে প্রণয়ন করেন?
  1. আবুল কাশেম
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. ফজলুল হক
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
কোন বিখ্যাত গায়ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জন্য গান গেয়েছিলেন?
  1. ক) Michel Jackson
  2. খ) Elvis Presley
  3. গ) George Harrison
  4. ঘ) Michel George
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৯৫১.
মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম ছিল -
  1. ক) মুক্তির ডাক
  2. খ) স্বাধীনতা
  3. গ) মুক্তির বাণী
  4. ঘ) জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
• সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র - সাপ্তাহিক জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
-  এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৫২.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ছাত্র সমাবেশ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. গণপরিষদ ভবনের সামনে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
  3. পল্টন ময়দান
  4. প্রেস ক্লাবের সামনে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ১৯৫২):
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় ৩০ জানুয়ারি।
- মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ’ গঠিত হয় ৩১ জানুয়ারি।
- ৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়—হরতাল, জনসভা, ও বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 - মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন, যা ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
- সেখানে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশ নেয়।
- কিছু নেতা ১৪৪ ধারা ভাঙতে নিষেধ করলেও ছাত্ররা সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
- ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মিছিল শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
- ছাত্ররাও প্রতিরোধ করে।
-  ছাত্রদের মিছিল গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ গুলি চালায়।
- ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯৫৩.
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কোন সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭৪ সাল
  2. ১৯৭৫ সাল
  3. ১৯৭৩ সাল
  4. ১৯৭৬ সাল
ব্যাখ্যা

◉ ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত ও ভূটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে।

সূত্র - বিবিসি বাংলা, ২৬ মার্চ ২০২১।

৯৫৪.
মাৎস্যন্যায় সংঘটিত হয় কখন?
  1. শশাঙ্কের শাসনামলে
  2. গোপালের শাসনামলে
  3. রামপালের শাসনামলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর ও গোপালের রাজা হওয়ার পূর্বের সময়ে মাৎস্যন্যায় সংঘটিত হয়। 

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:

- শশাঙ্কের পর বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি 'মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- মাছের রাজত্বে ছোট, দুর্বল মাছ সবসময় বড় মাছগুলোর গ্রাসে পরিণত হয়।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ।
- লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।
- 'প্রকৃতি' শব্দের অর্থ 'জনগণ' বা প্রধান 'কর্মচারী'।
- সম্ভবত প্রধান কর্মচারীগণ সমবেত হয়ে গোপালকে রাজা নির্বাচন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কবে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে?
  1. ২১ অক্টোবর ১৯৭১
  2. ৩০ নভেম্বর ১৯৭১
  3. ০৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ভারত সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রদান করে।
- পরদিন অন্য আটটি দেশ যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই প্রস্তাবেও ভেটো প্রদান করে।
- সর্বশেষ ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাতেও ভেটো প্রদান করে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি ছিলেন ইয়াকফ মালিক।
- তখন জাতিসংঘে ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন সমর সেন।
(তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস এবং ভোরের কাগজ)
৯৫৬.
অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের বাইরে গণহত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকে?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  4. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।এবং
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৭.
ইবনে বতুতা ভারতের কোন শাসকের অধীনে কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. শশাঙ্ক
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন। বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই, ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৮.
শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী একশত বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থাকে কী নামে আখ্যা দেওয়া হয়েছে?
  1. অরাজকতা
  2. মগের মুল্লুক
  3. মাৎস্যন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- প্রচলিত অর্থে মাৎস্যন্যায় বলতে অরাজক অবস্থাকেই বোঝায়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০ থেকে ৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- বাংলা অঞ্চলে এ রকম দুর্দশা, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক গোলযোগ ও রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সময়ের প্রয়োজনেই একটি পরিবর্তন হয়ে পড়ে অবশ্যম্ভাবী।
- সিংহাসনে আসেন গোপাল নামীয় একজন।
- রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ।
- তিনি সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের।

উল্লেখ্য,
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- এভাবে অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা গ্রাস করে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৯.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কেন?
  1. ক) প্রশাসনের অনুরোধে
  2. খ) দাবি মেনে নেয়ায়
  3. গ) জনসমর্থন না থাকায়
  4. ঘ) সশস্ত্র রূপ নেয়ায়
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ সরকার কুখ্যাত 'রাওলাট আইন' পাশ করলে ভারতীয় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল, এ আইনের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের শান্তিপূর্ণ সভায় ব্রিটিশ সরকার গুলি চালালে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়। প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- গান্ধীজী হিংসাত্মক পথ বর্জন এবং সত্যাগ্রহ নীতিকে সামনে রেখে অসহযোগ আন্দোলন শুরু কর্মসূচি গ্রহণ করেন‌। ১৯২১ সালে কংগ্রেস 'আইন অমান্য আন্দোলন' শুরু করলো অহিংস আন্দোলন 'সহিংস রূপ' ধারণ করতে থাকে। ফলে ১৯২২ সালে গান্ধীজী এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৬০.
Rabindra University is located at
  1. ক) Mymensingh
  2. খ) Shahzadpur
  3. গ) Netrokona
  4. ঘ) Modhupur
ব্যাখ্যা
 রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়:
- ২০১৭ সালে দেশের ৪০তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
- এটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত
- ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ৩ টি বিভাগে ১০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালু হয়।
- বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি বিভাগ রয়েছে।
- বর্তমানে শাহজাদপুর শহরের তিনটি কলেজে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
- বিশ্ববিদ্যলয়ে মাননীয় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শাহ আজম। 

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৯৬১.
Who explained the constitution of Bangladesh?
  1. ক) President
  2. খ) National Parliament
  3. গ) Attorney General
  4. ঘ) Supreme Court
ব্যাখ্যা
সুপ্রীম কোর্ট

- সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক সুপ্রীম কোর্ট।
- তাই এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী অপরিসীম। সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রীম কোর্ট দেশের সকল আদালতের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- সংবিধান বহির্ভূত সব কিছুকেই সুপ্রীম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।
- সুপ্রীম কোর্ট জনগণের মৌলিক অধিকারের সংরক্ষক ও সংবিধানের রক্ষক। 

সূত্র: বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৬২.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কেন বিখ্যাত?
  1. ক) ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস
  2. খ) বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণের জন্য
  3. গ) গণঅভ্যুত্থান দিবসের জন্য
  4. ঘ) ঐতিহাসিক ৬ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল- ৪টি। যথা: ১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, ৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
সূত্র: নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৯৬৩.
মুজিবনগর সরকার গঠনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান
  2. খ) এস.এ সামাদ
  3. গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. ঘ) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৬৪.
ঈদগাঁও উপজেলা কোথায় অবস্থিত ও এর আয়তন কত?
  1. কক্সবাজার ও ১১৯.৬৬ (ব.কি.মি)
  2. চট্টগ্রাম ও ১০৯.৬৬ (ব.কি.মি)
  3. কুমিল্লা ও ১১৯.৬৬ (ব.কি.মি)
  4. মাদারিপুর ও ১০৯.৬৬ (ব.কি.মি)
ব্যাখ্যা
ঈদগাঁও উপজেলা:
- ঈদগাঁও উপজেলা কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
- এটির আয়তন ১১৯.৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ উপজেলার উত্তরে চকরিয়া উপজেলা, দক্ষিণে কক্সবাজার সদর উপজেলা, পূর্বে রামু উপজেলা, পশ্চিমে মহেশখালী উপজেলা।
- এটি কক্সবাজারের নবম উপজেলা।
- ঈদগাঁও দেশের ৪৯৫তম উপজেলা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৬৫.
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

শরিফ ওসমান হাদি:
- ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি ।
- তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রচারে নেমেছিলেন ।
- ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
- উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
- ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের চোখে তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিএসএস।

৯৬৬.
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর রফিকুল ইসলাম কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা। ১০ নং সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৯৬৭.
কত খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহের সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়?
  1. ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন।
- সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।
- ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া।
- তিনি প্রথম দৃষ্টি দেন বাংলার পশ্চিম দিকে।
- ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে।
- ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।
- ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহের সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়।
- তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলার বাইরেও বিহারের কিছু অংশ- চম্পারণ, গোরক্ষপুর এবং কাশী ইলিয়াস শাহ জয় করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৬৮.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।     
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
• তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৯.
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পদক চালু করে কোন মন্ত্রণালয়?
  1. ক) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  2. খ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  3. গ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক:
বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অবদান চিরস্মরণীয় করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পদক প্রবর্তন করেছে সরকার।
- প্রতিবছর ৮ অগাস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে মনোনীতদের এই পদক দেওয়া হবে।
- রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, সমাজসেবা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, গবেষণা, কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য ২০২১ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি নারীকে এই পদক দেওয়া হয়।
৯৭০.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরবিক্রম
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯৭১.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. লন্ডন
  2. মুম্বাই
  3. টোকিও
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামে একটি চ্যারিটি বা বেনিফিট কনসার্ট।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত আড়াই লাখ মার্কিন ডলার পরবর্তীকালে শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করা হয়।
- কিছু অর্থ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকেও।
- এটি একটি সংগীতানুষ্ঠানই ছিল না, এই কনসার্ট ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৯৭২.
'The Concert for Bangladesh' কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১ আগস্ট, ১৯৭১ 
  2. ৩ আগস্ট, ১৯৭১ 
  3. ৯ আগস্ট, ১৯৭১ 
  4. ১১ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

৯৭৩.
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২০১২ সালে
  2. খ) ২০১৫ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:

- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত। বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০।
৯৭৪.
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়?
  1. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকার শাসন সূচনা হয়
  2. কোম্পানির শাসন জারি থাকে
  3. ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা
  4. নতুন অস্ত্রের ব্যবহার হয়
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম (সিপাহী বিদ্রোহ):

- ১৮৫৭ সালের মে মাসে ভারতের মেরঠ শহরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সিপাহীরা বিদ্রোহ শুরু করে।
- এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক নিপীড়ন।
- ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতীয় জনগণ তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলেছিল।
- সিপাহীরা নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজবে ক্ষুব্ধ হয়।
- হিন্দু ও মুসলমান সিপাহীরা একত্রে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এইবিদ্রোহ মিরাট, কানপুর,পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘোষণা করে।
- ব্রিটিশরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রোহ দমন করে।
- ১৮৫৮ সালের মধ্যে বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে দমন করা হয়।
- বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
-  এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের শাসন সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৯৭৫.
সংসদীয় পরিভাষায় 'বুলেটিন' বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) সংসদের প্রত্যেক বৈঠকের কার্যপ্রণালীর সংক্ষিপ্ত বিবরন
  2. খ) সরকারি ঘোষণা বা ইশতেহার
  3. গ) এক প্রকার আপত্তি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- সংসদের প্রত্যেক বৈঠকের কার্যপ্রণালীর সংক্ষিপ্ত বিবরনকে বুলেটিন বলে।
- সরকারি ঘোষণা বা ইশতেহারকে গেজেট বলে । কিন্তু সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী গেজেট মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশ গেজেট। 
- Point of Order হলো এক প্রকার আপত্তি । নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত  আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৯৭৬.
নিম্নের কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উদ্ধৃত্ত রয়েছে?
  1. ক) ভারত
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) চীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দেশ হিসেবে/একক দেশ হিসেবে/রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক উদ্ধৃত্ত রয়েছে/বাণিজ্য ঘাটতি নেই।
- এছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য - তৈরি পোশাক।
- অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে - ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে। 
- ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র জার্মানি।
-  ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – জাপানে; রপ্তানির পরিমাণ – ৮৯৫.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট - রপ্তানির ২.৬৪%।
 
উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
৯৭৭.
কোন মুঘল সম্রাটের রাজত্বকালে বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) হুমায়ুন
  2. খ) আকবর
  3. গ) জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) বাবর
ব্যাখ্যা
রাজমহলের যুদ্ধঃ
-১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের নিকট মুঘল ও আফগানদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়।
-রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানির চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। ফলে মুঘল সম্রাট আকবর আফগানদের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা কেড়ে নেন।
-বাংলায় কররানি(আফগান) শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৭৮.
‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ এটি প্রমাণ করে কত সালের নির্বাচন?
  1. ক) ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  2. খ) ১৯৭৩ সালের নির্বাচন
  3. গ) ১৯৭০ সালের নির্বাচন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পূর্বপাকিস্তানের ২৩৭ আসনের মধ্যে যুক্ত ফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করেন।
• ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।

• এ নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায়, বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।
• এর মাধ্যমে বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথ উন্মোচিত হয় এবং এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের পথে সাধারণ মানুষকে উদ্ভদ্ধ করে।
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম অবাধ নির্বাচন।
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় এ অঞ্চলের মানুষের মনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
 • তাদের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবী জোরদার হয়।
• বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে তারা পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগকে আর চায় না।
• এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভের মধ্যে দিয়ে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সৃষ্টি হয়।
• বাঙালিরা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।

সুতরাং এ নির্বাচন প্রমাণ করে --‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’


SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
৯৭৯.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৭ জন
  2. ৬ জন
  3. ৫ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

অস্থায়ী সরকারের  ৬ সদস্য বিশিষ্ট:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি,
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি, 
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী,  
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী,  
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী,
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী, 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮০.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'হেমায়েত বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৯৮১.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কে ছিলেন?
  1. ক) অধ্যাপক ওসমান গণি
  2. খ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. গ) অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী
  4. ঘ) ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
ব্যাখ্যা
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১ সালে জেনেভায় অবস্থানকালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি উপাচার্য পদে ইস্তফা দেন।
- মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে জেনেভা থেকে তিনি লন্ডন যান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন।
- স্বাধীনতার পর বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কত তারিখে?
  1. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”।
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮৩.
কক্সবাজার জেলার পূর্ব নাম কী ছিল?
  1. শ্রীহট্ট
  2. পালংকী
  3. শমসের নগর
  4. চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
কক্সবাজার জেলা:
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী।
- একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল।
- এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিঃ এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন।
- কক্স সাহেবের বাজার হতে  কক্সবাজার নামের উৎপত্তি।
- জেলার প্রায় অর্ধেক এলাকা জুড়ে পার্বত্য অঞ্চল এবং অর্ধেক সমুদ্র উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল।
- প্রধান দ্বীপসমূহ: মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মাতার বাড়ি, সোনাদিয়া, শাহ পরীর দ্বীপ এবং সেন্ট মার্টিনস বা জিনজিরা দ্বীপ। 
- প্রধান নদী: মাতামুহুরী, বাকখালী, নাফ এবং মহেশখালী চ্যানেল, কুতুবদিয়া চ্যানেল উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- কক্সবাজারে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত অবস্থিত। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৮৪.
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
- সংবিধান রচনার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন।
- এই আদেশে অনুসারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য হবেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য। আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮৫.
শাহ জালালউদ্দীন কোন শতকে বাংলাদেশে আসেন?
  1. ক) পনেরো শতকে
  2. খ) চৌদ্দ শতকে
  3. গ) ষোল শতকে
  4. ঘ) তেরো শতকে
ব্যাখ্যা
- সিলেটের শাহ জালালউদ্দীন কুনিয়াঈ চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে আসেন।

মধ্যযুগে বাংলায় ইসলাম ধর্ম:
- চৌদ্দ শতকের মধ্যেই বাংলাদেশে সুফি প্রভাব বিস্তার লাভ করে।
- ইবন বতুতা ১৩৩৮ সনে সিলেটে শাহ জালালউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- শাহ জালালউদ্দীন গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন।
- শাহজালাল নামে বিখ্যাত এই সাধুপুরুষ উত্তর পূর্ব বাংলা ও আসামে ইসলাম প্রচারে অবদান রাখেন।
- শেখ আঁখি সিরাজুদ্দিন উসমান নিযামুদ্দিন আউলিয়ার খলিফা ছিলেন।
-  তিনি পান্ডুয়ার শেখ আলাউল হকের পীর। তিনি চৌদ্দ-পনেরো শতকের দরবেশ। তাঁর প্রভাবেই মুখ্যত বাংলাদেশে চিশতিয়া তরিকার প্রসার হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৬.
‘কনভেনশন মুসলিম লীগ’ নামের রাজনৈতিক দল গঠন করেন কে?   
  1. ফজলুল হক
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান 
  4. জুলফিকার আলী ভূট্টো
ব্যাখ্যা

• আইয়ুব খান:
- ১৯৬২ সালের ৮ই জুন সামরিক আইন স্থগিত করা হলে দলীয় রাজনীতির অধিকার ফিরে আসে। 
- আইয়ুব খান নিজেই কনভেনশন মুসলিম লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- এ সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুববিরোধী মোর্চা গঠনের আহ্বান জানান।
- ফলে আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নুরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এনডিএফ গঠিত হয়।
- এ ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৯৮৭.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. কলমিলতা
  3. আবার তােরা মানুষ হ
  4. হুলিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া।
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

অন্যদিকে,
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

কলমীলতা -মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক - শহীদুল হক খান।

উৎস: প্রথম আলো ।
৯৮৮.
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা কোথায় অবস্থিত?
  1. নারায়ণগঞ্জ
  2. গাজীপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহ জেলার পার্ক রোডে অবস্থিত। এটি ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
অন্যদিকে,
শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত যা ১৯৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৯৮৯.
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট কতটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে?
  1. ক) ২৭টি
  2. খ) ২৮টি
  3. গ) ২৯টি
  4. ঘ) ৩০টি
ব্যাখ্যা
প্রধান খনিজ সম্পদ:
- বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
- প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র (২৯তম)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজতেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মে ২২, ২০২৩, The Daily Star বাংলা।
৯৯০.
নির্বাচন কমিশনারগণকে কে নিয়োগ দেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৯৯১.
সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) তানসেন
  3. গ) মান সিংহ
  4. ঘ) টোডরমল
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন- টোডরমল
• সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
• ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

আকবরের মন্ত্রীসভা
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী ছিলেন টোডরমল।
- সেনাপ্রধান ছিলেন মান সিংহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া ।

৯৯২.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কত দফা দাবি পেশ করেছিল?
  1. ৪ দফা 
  2. ৬ দফা 
  3. ১১ দফা 
  4. ২১ দফা 
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

⇒ ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
- শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে ঢাকায় সচিবালয়ের সামনের রাজপথে নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান ও রুস্তম শহীদ হন।

⇒ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা শহর।
- কিন্তু তাদের প্রদত্ত কর্মসূচি অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণ পালন করে। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্ররাও এগারো দফার সমর্থনে আন্দোলন করে।
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ২৪ জানুয়ারির হরতাল পালনের সময় ময়মনসিংহে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। 
- গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারের মুখে টিকতে না পেরে শেষাবধি ২৫ মার্চ পাকিস্তানের ‘লৌহ মানব’ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৯৯৩.
বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন কত?
  1. ক) ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  2. খ) ৫০৬৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. গ) ৬০৭২ বর্গ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৬০৬৬ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- এ বনের জীববৈচিত্র্য বিশ্বের যে কোনো ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ।
- সুন্দরবন ১৮৭৮ সনে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৯ সনে সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার বন বিভাগ গ্রহণ করে।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। তন্মধ্যে স্থলভাগ ৪,১৪৩ বর্গকিলোমিটার (৭০%) এবং জলভাগ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার (৩০%)।
- সমগ্র সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বিস্তৃত।

এছাড়া,
- ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র এবং ৩টি বিশেষায়িত বণ্যপ্রানী (ডলফিন) অভয়ারণ্য বিদ্যমান।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সনে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সনে নীলকমলে World Heritage Site-এর নামফলক উন্মোচন করেন।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বন সংরক্ষকের দপ্তর, খুলনা।
৯৯৪.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল জব্বার
  4. হাছনরাজা
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গান:

- 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....'
- 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।'
- 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....'

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৯৫.
বঙ্গবন্ধু কর্তৃক 'ছয় দফা' ঘোষিত হয় কবে?
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮
  4. ঘ) ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
৯৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১১ নং
  2. খ) ১০ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৬ নং
ব্যাখ্যা
⇨ ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
⇨ এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
⇨ ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
⇨ যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।   
⇨ এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।  এঁরা ছিলেন - 
- গাজী মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ (চীফ পেটি অফিসার), 
- সৈয়দ মোশাররফ হোসেন (পেটি অফিসার), 
- আমিন উল্লাহ শেখ (পেটি অফিসার), 
- আহসান উল্লাহ (এম.ই-১), 
- এ.ডব্লিউ.চৌধুরী (আর.ও-১), 
- বদিউল আলম (এম.ই-১), 
- এ.আর মিয়া (ই.এন-১) এবং 
- আবেদুর রহমান (স্টুয়ার্ড-১)। 

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৭.
পূর্ব বাংলার নামকরণ পূর্ব পাকিস্তান কখন করা হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৩ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি করে।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়। 
- ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র।
- এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়।
-  এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
- যা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৮.
’সম্রাট অশোক’ কোন বংশের রাজা ছিলেন?
  1. গুপ্ত বংশ
  2. মৌর্য বংশ
  3. পাল বংশ
  4. সেন বংশ
ব্যাখ্যা
- সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ৩০৪–২৩২) ছিলেন মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের নাতি।
- ​তাঁর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান ছিল কলিঙ্গ যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ২৬১), যেখানে ব্যাপক প্রাণহানি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
- ​এরপর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে অহিংসা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি প্রচার করেন।
- ​শিলালিপি ও স্তম্ভলিপির মাধ্যমে তিনি তাঁর নীতি ও নির্দেশনা প্রকাশ করেন, যা ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীনতম লিখিত দলিলগুলির মধ্যে অন্যতম।
- ​তাঁর উদ্যোগে বৌদ্ধধর্ম ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
- ​আধুনিক ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোকের ঐতিহ্য থেকেই গৃহীত।

​উৎস: বিট্রানিকা।
৯৯৯.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটিতে আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি ছিলেন-  
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ 
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি:

• সদস্য সংখ্যা: ৮ জন।
• কাজ: মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করা।
• গঠনের সময়: ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। 
• কমিটির নেতা: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
• আহবায়ক: তাজউদ্দীন আহমেদ।

• অন্যান্য সদস্যরা হলেন- 
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি);
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি);
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা);
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি);
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি);
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০০.
গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্যে কোন প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে?
  1. ক) বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট
  2. খ) বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট
  3. গ) বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. ঘ) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা
গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্যে ২০২২ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক লাভ করে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট। এটি দিনাজপুর জেলার নশিপুরে অবস্থিত।

স্বাধীনতা পদক ২০২২ বিজয়ী:

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ:
- বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী
- শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম)
- আব্দুল জলিল
- সিরাজ উদ্দীন আহমেদ
- মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস (মরণোত্তর) ও
- সিরাজুল হক (মরণোত্তর)

চিকিৎসাবিদ্যায়:
- অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া
- অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম

সাহিত্যে
- মরহুম মো. আমির হামজা

স্থাপত্য:
- মরহুম স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন

গবেষণা ও প্রশিক্ষণে

- বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও কালেরকণ্ঠ)