মৎস্য হেরিটেজ:
- ২৯ অক্টোবর ২০২৫ সরকার হালদা নদীকে 'মৎস্য হেরিটেজ' এলাকা ঘোষণা করেছে।
⇒ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে রুইজাতীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২ টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২.২৮০৫৯ একর জায়গা "হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ" হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
- এপ্রিল-জুন মাসে হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে রুইজাতীয় মাছের প্রজননের ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়।
⇒ প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, এ নদী হতে কোনো প্রকার মাছ ও জলজ প্রাণি ধরা বা শিকার করা যাবেনা, তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে।
- প্রাণি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কোনো প্রকার কার্যকলাপ করা যাবেনা।
- নদীর চারপাশের বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালী সৃষ্ট বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন করা যাবেনা। কোনো অবস্থাতেই নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবেনা।
- হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত ১৭ টি খালে প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) মৎস্য আহরণ করা যাবেনা।
- হালদা নদী এবং এর সংযোগ খালের উপর নতুন করে কোনো রাবার ড্যাম এবং কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবেনা।
- 'হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটি' এ অনুমতি ব্যতিরেকে হালদা নদীতে নতুন পানি শোধানাগার, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা যাবেনা
- মাছের প্রাক-প্রজনন পরিভ্রমণ সচল রাখার স্বার্থে হালদা নদী এবং সংযোগ খালের পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবেনা।
- সারা বছর হালদা নদীর কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ (অভয়াশ্রম এলাকা) পর্যন্ত ইঞ্জিন চালিত ভারী নৌযান (বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা এবং ড্রেজার) চলাচল করতে পারবে না।
- হালদা এবং তার শাখা নদীর বালুমহাল ইজারা বন্ধ করা এবং ড্রেজার দিয়ে/ক্ষতিকর পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
- নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কোন প্রকার তামাক চাষ করা যাবে না।
- নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কৃষি জমিতে ক্ষতিকর কোন কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
উৎস: i) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
ii) তথ্য অধিদফতর