বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন১,০৫৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ২০১৩০০ / ১,০৫৭

২০১.
নিচের কোন শব্দটি আরবি শব্দ নয়?
  1. ক) ইনসান
  2. খ) ইবাদত
  3. গ) মর্জি
  4. ঘ) আসরফি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'আসরফি' আরবি শব্দ নয়।

অপরদিকে,
• মর্জি, ইবাদত, ইনসান - আরবি শব্দ ভাষা থেকে আগত বাংলা শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২০২.
"জলধি" - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়
ব্যাখ্যা

• জলধি - যোগরূঢ় শব্দ।

---------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:

সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ )।

২০৩.
নিম্নের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) স্নাতক
  2. খ) গবাক্ষ
  3. গ) পঙ্কজ
  4. ঘ) বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন-
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।
- এরূপ আরও শব্দের উদাহরণ হলাে- গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক,
- এরূপ শব্দ হলাে গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক, চরণ, পক্ষী ইত্যাদি।

রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ :  সন্দেশ, জ্যাঠামি ,প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
যােগরূঢ় শব্দ : জলদ, পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
২০৪.
'চৌরাস্তা' শব্দে কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে?
  1. বাংলা + হিন্দি
  2. আরবি + ফারসি
  3. বাংলা + ফারসি
  4. উর্দু + ফারসি
ব্যাখ্যা
চৌরাস্তা:
অর্থ - চারটি রাস্তার সংযোগস্থল/চৌমাথা।
এখানে 'বাংলা' চৌ শব্দের সাথে ফারসি রাস্তা শব্দের মিশ্রণ ঘটেছে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর - বাংলা + ফারসি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০৫.
উৎপত্তি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার- যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যােগরূঢ় শব্দ। উৎপত্তি অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার - তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার- মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
২০৬.
কোনটি তদ্ভব শব্দ-
  1. ক) চন্দ্র
  2. খ) সূর্য
  3. গ) হাত
  4. ঘ) নক্ষত্র
ব্যাখ্যা

তদ্ভব শব্দগুলোঃ
'আখি' 'আজ' করেছে 'কাজ',
'মৌ' পরেছে 'বিয়ে' র 'সাজ'।
'বৌমা' এনেছে 'মাছ' 'ভাত'।
'মাথা' য় 'হাত' ''কান' এ 'দাত',
'চাঁদ' 'সই' করা 'তদ্ভব' এর 'কাজ'।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।

২০৭.
গঠন বিবেচনায় শব্দ কয় প্রকার?
  1. দুই 
  2. চার 
  3. পাঁচ
  4. আট 
ব্যাখ্যা

বাংলা শব্দভাণ্ডার বিভিন্ন বিবেচনায় ভাগ করা যায়।
যথা:
গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই প্রকার: মৌলিক ও সাধিত শব্দ।
• উৎস বিবেচনায় শব্দ চার প্রকার: তৎসম শব্দ, তদ্ভব শব্দ, দেশি শব্দ ও বিদেশি শব্দ।
• পদ বিবেচনায় শব্দ আট প্রকার: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৮.
শব্দের উৎসগত শ্রেণিবিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. তৎসম শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. তদ্ভব শব্দ
ব্যাখ্যা
• শব্দের উৎসগত শ্রেণিবিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়- যৌগিক শব্দ। 

----------------
নবম-দশম শ্রেণির নতুন সংস্করণ অনুসারে,
উৎস অনুসারে শব্দকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-
১. তৎসম শব্দ,
২. তদ্ভব শব্দ,
৩. দেশি শব্দ ও
৪. বিদেশি শব্দ।

আবার,
নবম-দশম শ্রেণির পুরনো সংস্করণ অনুসারে,
উৎস অনুসারে শব্দকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-
১. তৎসম শব্দ,
২. অর্ধ-তৎসম শব্দ,
৩. তদ্ভব শব্দ,
৪. দেশি শব্দ ও
৫. বিদেশি শব্দ।

অন্যদিকে, 
শব্দের অর্থগত শ্রেণিবিন্যাস: অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৯.
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে কী বলে?
  1. দেশি শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. অর্ধ-তৎসম শব্দ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন - 
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১০.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. মহাযাত্রা
  2. রাজপুত
  3. প্রবীণ
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।
----------------

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।
 
যৌগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।
 
উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১১.
যৌগিক শব্দ কোনটি?
  1. গোলাপি
  2. ফুল
  3. প্রবীণ
  4. জলধি
ব্যাখ্যা
• 'গোলাপি' যৌগিক শব্দ। 

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য – অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা – অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র -অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা +ষ্ণ্য-অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা-অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
- ফুল মৌলিক শব্দ।
- প্রবীণ রূঢ়ি শব্দ।
- জলধি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১২.
তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) জ্যোৎস্না
  2. খ) জ্যোছনা
  3. গ) গিন্নি
  4. ঘ) দই
ব্যাখ্যা
যে সব সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় এসেছে সে সব শব্দকে 'তৎসম শব্দ' বলা হয়।
যেমন- জ্যোৎস্না, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, আকাশ, স্থল, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ ইত্যাদি৷
জ্যোছনা, গিন্নি, দই হলো অর্ধ-তৎসম শব্দ৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২১৩.
কোনটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয়?
  1. আনারস
  2. পেয়ারা
  3. পাউরুটি
  4. তালাশ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুর্কি শব্দ হলো- বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পর্তুগিজ শব্দ হলো- বোতাম, আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, পাদ্রি, আলকাতরা, বারান্দা, পেয়ারা, বোতাম, আলমারি, গির্জা, চাবি, আনারস, ইস্পাত, আচার, পিস্তল, গুদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২১৪.
'সন্দেশ' - কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. মৌলিক
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৫.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. সম্পাদকীয়
  2. গাছ
  3. গোলাপ
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - সম্পাদকীয়।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি [২০২২ সংস্করণ]।
২১৬.
'চিকন' অর্থ অনুসারে-
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।।উদাহরণ
- প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) - সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ = প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।
- সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন = চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)। 
- জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)। 

এরূপ আরও শব্দ হলাে- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৭.
'বদনাম' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বদনাম (বদ্‌নাম্‌) 
- ফারসি শব্দ (বদ্‌ ফারসি উপসর্গ) 
- বিশেষ্য পদ 
অর্থ - নিন্দা, অপবাদ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২১৮.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. তিন
  2. বউটি
  3. লাল
  4. নাক
ব্যাখ্যা
• 'বউটি' হচ্ছে সাধিত শব্দ। 

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে: 
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
‘বাবুয়ানা’ কোন ধরনের শব্দের দৃষ্টান্ত?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন:
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ:
তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়।
এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
যেমন -
সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হত্থ, তদ্ভব - হাত।
সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি। 

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ। উদাহরণ: সন্দেশ - (মূলঅর্থ) সংবাদ, পরিবর্তিত অর্থ- মিষ্টান্ন।

• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে বলা হয় মৌলিক শব্দ।
- উদাহরণ: আম, কলা, দেশ, গোলাপ, ভাই, বোন, হাত, পা, নাক, মাটি, ঘর, বউ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২০.
'কার্তুজ' শব্দটি নিচের কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের 'কার্তুজ' শব্দটি "ফরাসি" ভাষার শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

এছাড়া-

আরও কিছু ফরাসি শব্দ হলো-
- কুপন
- রেস্তোরাঁ
- ডিপো
- আঁতেল

ফারসি শব্দ হলো- 
- খোদা
- নামাজ
- রোজা
- চশমা
- তোশক
- দোকান
- কারখানা
- আমদানি
- জানোয়ার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২সংস্করণ)।
২২১.
কোন শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম?
  1. হস্তী
  2. বাবুয়ানা 
  3. বাঁশি
  4. জলধি
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু আনা অর্থ: বাবুর ভাব
- মধুর = অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।
রূঢ়ি শব্দ: হস্তী, বাঁশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২২.
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকে কী বলে?
  1. ক) পারিভাষিক শব্দ
  2. খ) তৎসম শব্দ
  3. গ) তদ্ভব শব্দ
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৩.
অর্থমূলকভাবে শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণীবিভাগ সম্ভব। যেমন : শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণীবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি।
যেমন :
. উৎসমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) তদ্ভব, (খ) তৎসম, (গ) দেশি ও (ঘ বিদেশি।

. গঠনমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) মৌলিক ও (খ) সাধিত।

. অর্থমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) যৌগিক, (খ) রূঢ় বা রূঢ়ি এবং (গ) যােগরূঢ়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৪.
'জুডো' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) চীনা ভাষা
  2. খ) ফরাসি ভাষা
  3. গ) তামিল ভাষা
  4. ঘ) জাপানি ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে -
• 'জুডো'- জাপানি শব্দ।

'জুডো' শব্দের অর্থ- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।

তাছাড়া, 
'জুজুতসু' জাপানি ভাষার শব্দ; যার অর্থ:
⇒ খালি হাতে আকষ্মিক আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষের শক্তি ও ওজন ব্যবহার করার জাপানি কসরত বা জুডো।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৫.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) হাত
  2. খ) চামার
  3. গ) পাত্র
  4. ঘ) দুধ
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
পাত্র (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ,
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √পা+ত্র,
- আধার (পান-পাত্র),
- বিষয়; আস্পদ,
- মন্ত্রী; উপদেষ্টা (পাত্রমিত্র),
- ব্যক্তি (প্রশংসার পাত্র),
- নাটকের চরিত্র (পাত্রপাত্রি),
- বর,
- পদবিবিশেষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৬.
নিচের কোনটি মিশ্র ভাষার শব্দ?
  1. ক) ওকালতনামা
  2. খ) কেতাদুরস্ত
  3. গ) সিলমোহর
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উপরের সবগুলো মিশ্র ভাষার শব্দ।

• কয়েকটি 'ইংরেজি + ফারসি' ভাষার শব্দ:
- হেডমৌলভি, ডাক্তারখানা, ডাক্তারবাবু, সিলমোহর, জেলখানা।

• কয়েকটি 'আরবি + ফারসি' ভাষার শব্দ: 
- আদমশুমারি, ওকালতনামা, কেতাদুরস্ত, বরকন্দাজ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২২৭.
'হেড-মৌলভী' কোন কোন ভাষার শব্দের মিশ্রণ?
  1. ইংরেজি ও বাংলা
  2. ইংরেজি ও তৎসম
  3. ইংরেজি ও ফারসি
  4. ইংরেজি ও আরবি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু মিশ্রিত শব্দের উদাহরণঃ
- হাট-বাজার (বাংলা ও ফারসি),
- রাজা-বাদশাহ (তৎসম ও ফারসি),
- হেড-মৌলভী (ইংরেজি ও ফারসি),
- হেড-পন্ডিত (ইংরেজি ও তৎসম),
- খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি উত্তর সহ),
- ডাক্তার-খানা (ইংরেজি ও ফারসি),
- পকেটমার (ইংরেজি ও বাংলা),
- চৌহদ্দি (আরবি ও ফারসি)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
'গবেষণা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ- 'গবেষণা'।

রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে ( বর্তমান অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা), তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ)।

২২৯.
‘সুরঙ্গ’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. অর্ধ-তৎসম
  3. আরবি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

সুরঙ্গ সংস্কৃত বা তৎসম ভাষার শব্দ।

সুরঙ্গ (বিশেষণ):
অর্থ -
১. অতি উজ্জ্বল রং বিশিষ্ট
২. সুড়ঙ্গ
শব্দের উৎস: সংস্কৃত {সু + রঙ্গ}

তৎসম ভাষার আরো শব্দ হল: অঞ্চল, পাত্র, পুত্র, ফল, পঞ্চম, ভাত, মানব, রাত্রি, ধর্ম, নদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩০.
অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩১.
নিচের কোন শব্দটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) জীবন
  2. খ) গোয়ালা
  3. গ) গেট
  4. ঘ) ডিঙ্গি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
জীবন- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• প্রকৃতি- প্রত্যয়- জীব + অন।
• জীবন শব্দের অর্থ- প্রাণ, প্রাণধারণ, জীবৎকাল, আয়ু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২৩২.
‘হস্তী’ শব্দটির রূঢ়ি অর্থ নিচের কোনটি?
  1. হস্ত আছে যার
  2. বৃহদাকার পশু
  3. হাতের কারিগর
  4. শক্তিশালী যোদ্ধা
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৩.
‘হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন?’ বাক্যে হাত’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আয়ত্তে আনা
  2. হস্তচ্যুত হওয়া
  3. কার্যে বিরতি
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
• হাত শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ: 
- কাজ করতে করতেই কাজে হাত আসবে। (দক্ষতা)
- হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন? (কার্যে বিরতি)
- সাহেবকে হাত করতে পারলেই কাজ হবে। (আয়ত্তে আনা)
- টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না। (হস্তচ্যুত)
- এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই। (প্রভাব)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২৩৪.
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণিবিভাগ সম্ভব। যেমন: শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণিবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি।
যেমন:
• উৎস বিবেচনায় শব্দ — ৪ প্রকার।
যথা:
- তৎসম শব্দ;
- তদ্ভব শব্দ,
- দেশি শব্দ;
- বিদেশি শব্দ।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ২০১৯ অর্থ্যাৎ পুরাতন সংস্করণে উৎস বিবেচনায় শব্দকে ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমান ব্যাকরণ থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দশ্রেণি বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, শব্দের উৎস বিবেচনায় ৪ শ্রেণিতে বিভক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে।

• গঠন বিবেচনায় শব্দ ২ প্রকার।
যথা:
- মৌলিক শব্দ;
- সাধিত শব্দ।

• পদ বিবেচনায় শব্দ ৮ প্রকার।
যথা:
- বিশেষ্য;
- বিশেষণ,
- সর্বনাম;
- ক্রিয়া;
- ক্রিয়া বিশেষণ;
- যোজক;
- অনুসর্গ;
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২৩ সংস্করণ)।
২৩৫.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. ক) কলম
  2. খ) রোজা
  3. গ) বোতল
  4. ঘ) তোশক
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রোজা ও তোশক হচ্ছে ফারসি শব্দ।
বোতল হচ্ছে পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৩৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ঘোড়া
  2. পানসা
  3. চলন্ত
  4. ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, পানসা ইত্যাদি। 

শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৭.
অর্ধ তৎসম শব্দ শনাক্ত করুন।
  1. ক) ধর্ম
  2. খ) জ্যোছনা
  3. গ) হত্থ
  4. ঘ) গঞ্জ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ - ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, চন্দ্র।
অর্ধ তৎসম শব্দ - কুচ্ছিত, বোষ্টম, জ্যোছনা।
প্রাকৃত শব্দ - হত্থ, চম্মআর।
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৩৮.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. বৎস
  2. অসুখ
  3. পাঠক
  4. মেয়েলি
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী-হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা।
এইরকম:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'পাঠক' এবং 'মেয়েলি' যৌগিক শব্দ।
- 'অসুখ' হচ্ছে যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯, সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৯.
'ইংরেজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) জার্মান
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৪০.
কোন বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. ক) তিনিই সমাজের মাথা
  2. খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  3. গ) মাথা নেই তার মাথা ব্যাথা
  4. ঘ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
ব্যাখ্যা

মাথা শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়ােগঃ
রাস্তার মাথায়-(মিলন স্থলে)- রাস্তার মাথায় তার সঙ্গে দেখা।
মাথা গরম করা- (রাগান্বিত হওয়া)- মাথা গরম করে আর কী হবে?
রাগের মাথায়- (হঠাৎ ক্রোধবশত)- রাগের মাথায় কথাটা বলেছি।
মাথা হেঁট করা- (লজ্জায় মাথা নিচু করা)- মাথা হেঁট হবে কেন?
মাথা উঁচু করে চলা - (গর্বভরে চলা)- মাথা উচু করেই চলতে চাই।
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

২৪১.
বেহেশত কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
ফারসি শব্দের উদাহরণ হলো- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৪২.
নিম্নের কোন শব্দগঠন প্রক্রিয়াটি সমাস নিষ্পন্ন?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রূঢ়ি
  4. ঘ) যােগরূঢ়
ব্যাখ্যা
বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ

১. যৌগিক শব্দ: প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন থাকে তেমনি এর ব্যবহারিক অর্থও থাকে। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, একটি শব্দের উৎপত্তি যখন ঘটেছিল তখন তার যে অর্থ ছিল তা-ই হলাে ওই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ; আর শব্দটি বর্তমানে কোন অর্থে প্রযুক্ত হচ্ছে তা-ই তার ব্যবহারিক অর্থ। যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে এই দুটি অর্থই অভিন্ন থাকবে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব শব্দের ব্যবহারিক অর্থ তাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই অনুসরণ করে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন, ‘জীবনী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘জীব+ অন+ ঈ' অর্থাৎ ‘জীব’ শব্দ হতে। তাই ‘জীবনী' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হওয়া উচিত জীব সংশ্লিষ্ট কোনাে অর্থ। আর ‘জীবনী’ শব্দের অর্থ ‘জীবের বেঁচে থাকার বিবরণ'। অর্থাৎ, ‘জীবন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বজায় থেকেছে। 

২. রূঢ়ি শব্দ: ব্যুৎপত্তিগত এবং ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এমন প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগে গঠিত শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: হস্তী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ হাত আছে যার, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ হাতি।

৩. যােগরূঢ় শব্দ : সমাস নিষ্পন্ন শব্দ যদি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে ভিন্ন কোনাে ব্যবহারিক অর্থ ধারণ করে তবে তাকে যােগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ পঙ্কে জন্মে যে কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
অর্ধতৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) নেমন্তন্ন
  3. গ) কনুই
  4. ঘ) পাথর
ব্যাখ্যা
নিমন্ত্রণ তৎসম শব্দ। এর অর্ধতৎসম শব্দ হচ্ছে নেমন্তন্ন।
আরও কিছু অর্ধতৎসম শব্দ হচ্ছে-
বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, ভত্ত, লোণ, হত্থ, খিদে, চন্দর, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সুরুজ, জ্যোছনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৪.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. তৈল
  3. কর্তব্য
  4. আদিত্য
ব্যাখ্যা

'আদিত্য' যোগরূঢ় শব্দ।

যোগরূঢ় শব্দ:

- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি, 
- আদিত্য

উল্লেখ্য,
- শব্দকে অর্থগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয় - 
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

• রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। 
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
         ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪৫.
মৌলিক শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নাচন
  2. খ) ঢাকাই
  3. গ) বিহার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উত্তর কোনটিই নয়।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিহার, ঢাকাই, নাচন ইত্যাদি সাধিত শব্দ।

সুতরাং সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৪৬.
'মিষ্টান্ন' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।
এখানে, 
'মিষ্টান্ন' শব্দের ব্যুৎপত্তি = মিষ্ট + অন্ন;
'মিষ্টান্ন' শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। এটি 'মিষ্ট' (যার অর্থ মিষ্টি) এবং 'অন্ন' (যার অর্থ খাদ্য) এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। মিষ্টান্ন বলতে মিষ্টি জাতীয় খাদ্যদেব্যকেই বোঝায়।

রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম-
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন- বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে, 
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৭.
'চাদর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. পুর্তগিজ
  3. হিন্দি
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
চাদর [চাদোর] (বিশেষ্য)
- 'চাদর' শব্দটি ফারসি  ভাষা থেকে আগত
অর্থ :
- দেহের ঊর্ধ্বংশে ব্যবহার্য এক প্রকার বস্ত্র; উড়ানি; উত্তরীয় (গলার বা গায়ের চাদর)।
- আবরণ; আস্তরণ (বিছানার চাদর)।
-  ধাতু ইত্যাদির পাত (একটা পিতলের চাদরের ঘটী-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় )।
উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৪৮.
কোন শব্দটি প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বাক্স
  2. চালক
  3. গবেষণা
  4. জলধি
ব্যাখ্যা
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। 
যেমন:
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় (সম্‌+দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি।
আবার,
যেমন- গবেষণা (গো+ এষণা)  অর্থ- গরু খোজা; গভীরতম অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এরূপ- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ ইত্যাদি৷

অন্যদিকে,
বাক্স - মৌলিক শব্দ।
চালক - চল্‌ + অক; যৌগিক শব্দ।
জলধি - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৪৯.
'আসমান' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত-
  1. ক) তৎসম
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আসমান'- ফারসি ভাষার শব্দ। 
- আসমান শব্দের বিশেষণ - আসমানি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কতিপয় ফারসি শব্দ:
- বেহেশত, দোজখ, ফেরেশতা, নামাজ, খোদা, গুনাহ, পয়গম্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫০.
“পাদ্রি” শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) বার্মিজ
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

পর্তুগিজ শব্দঃ আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি। পাঞ্জাবি শব্দ হলো চাহিদা ও শিখ ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

২৫১.
উৎসমূল অনুসারে 'পৃথিবী' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- উৎসমূল অনুসারে 'পৃথিবী'- 'তৎসম বা সংস্কৃত' ভাষার শব্দ। 

 • 'পৃথিবী' শব্দের কয়েকটি প্রতিশব্দ:
- ধরণি,
- অবনি,
- বসুন্ধরা,
- বসুমতী,
- মেদিনী, 
- ক্ষীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
২৫২.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) খুশি
  2. খ) গঞ্জ
  3. গ) টুপি
  4. ঘ) নকশা
ব্যাখ্যা
টুপি (বিশেষ্য):
- এটি একটি দেশি শব্দ 
অর্থ: মাথায় ধারনের আস্তরণ বিশেষ; শিরস্ত্রান। 

অন্যদিকে, 
নকশা = আরবি শব্দ 
গঞ্জ = ফারসি শব্দ।
খুশি = ফারসি শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫৩.
'উজবুক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা

- 'উজবুক' শব্দটি 'তুর্কি ভাষা' থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। 

অন্যদিকে, 
- তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ: 
• বাবা, 
•  কোরমা, 
•  খাতুন, 
•  বিবি, 
•  চাকর, 
•  চাকু, 
•  তোপ, 
•  বাবুর্চী, 
•  লাশ, 
• মুচলেকা, 
•  কুলি, 
•  খোকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২৫৪.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. প্রবীণ
  3. মন্দির
  4. মিতালি
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫৫.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ক্রিয়াবিভক্তি
  2. বর্ণ
  3. ধাতু
  4. ধ্বনি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• ক্রিয়ার দুইটি অংশ: প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
যেমন - 
- পড়ছি ( পড় + ছি ) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়বেন ( পড় + বেন ) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়ছিল ( পড় + ছিল ) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল' - এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৬.
নিচের কোনটি রূঢ়ী শব্দ?
  1. ক) পাঠক
  2. খ) পঙ্কজ
  3. গ) সন্দেশ
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বলা হয় শব্দ। 
- এক বা একাধিক ধ্বনি একত্রিত হয়ে যখন মনের ভাব প্রকাশ করে, তখন তাকে বলা হয় শব্দ। 
- শব্দ হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। 
- অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। যৌগিক শব্দ, 
২। রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং 
৩। যোগরূঢ় শব্দ। 

যৌগিক শব্দ: 
- যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। 
- অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। 
যেমন- পাঠক, মিতালি, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক ইত্যাদি। 

রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ: 
- যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ। 
যেমন- সন্দেশ, জ্যাঠামি, প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি। 

যোগরূঢ় শব্দ: 
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ। 
যেমন- পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
‘যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি কোন পদ নির্দেশ করে?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি যোজক পদ হিসেবে বাক্য ও পদ যুক্ত করেছে।

যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৫৮.
'বাবুর্চি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বাবুর্চি'- তুর্কি ভাষার শব্দ।
'বাবুর্চি' শব্দের অর্থ- মুসলমান পাচক, পুরুষ পাচক। 

• তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো: 
- বাবা,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,  
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা, 
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান
২৫৯.
কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) পানসা
  2. খ) ফুলেল
  3. গ) গােলাপ
  4. ঘ) হাতল
ব্যাখ্যা
যে সকল শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন- গােলাপ, দেশ, ঢাকা, হাত, ফুল, ঘর ইত্যাদি। যে সকল শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় তাদেরকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন- পানসা, ফুলেল, হাতল ইত্যাদি সাধিত শব্দ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২৬০.
'চিকামারা' - অর্থগতভাবে কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. রূঢ়
  3. যৌগিক
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ,
শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২৬১.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে বলে -
  1. ক) কারক
  2. খ) পদ
  3. গ) ক্রিয়াপদ
  4. ঘ) শব্দ
ব্যাখ্যা
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
- পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬২.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) তিন
  2. খ) ডুবুরি
  3. গ) পরিচালক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৩.
‘পাখি’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন: পা, গােলাপ, নাক, পাখি, ফুল, লাল, ভাত, পথ, চল, গাছ, হাত ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমম: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৪.
'কিশমিশ' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
কিশমিশ (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- বীজশূণ্য ছোটো শুকনো আঙ্গুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬৫.
"মিতালি" কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ়
  2. যৌগিক
  3. রূঢ় বা রূঢ়ি
  4. মৌলিক
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ - সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৬.
'হেড-পন্ডিত' শব্দটি কোন দুটি ভাষার মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) ইংরেজি+তৎসম
  2. খ) ইংরেজি+আরবি
  3. গ) ইংরেজি+ফারসি
  4. ঘ) ইংরেজি+ফরাসি
ব্যাখ্যা
কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
শাকসবজি একটি মিশ্র।

'হেড-পন্ডিত' শব্দটি একটি মিশ্র শব্দ। 
হেড = ইংরেজি; পন্ডিত = তৎসম শব্দ।
সুতরাং শব্দটি ইংরেজি+তৎসম ভাষার মিশ্রনে গঠিত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৬৭.
নিচের কোনটি হিন্দি শব্দ-
  1. ক) ফুফা
  2. খ) কলিজা
  3. গ) বিবি
  4. ঘ) কানুন
ব্যাখ্যা

হিন্দি শব্দ- চাচা, দাদা, দাদি, ফুফা, ফুফি।
তুর্কি শব্দ- বাবা, খোকা, বিবি।
উর্দু শব্দ- আব্বু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

২৬৮.
নিচের কোন শব্দটি 'দেশি' এবং 'আরবি' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. পকেটমার 
  2. ঝড়তুফান
  3. ধনদৌলত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'ঝড়তুফান' শব্দটি 'দেশি' এবং 'আরবি' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ঝড়ের তাড়না, ঝড়ঝঞ্ঝা।

অন্যদিকে,
- ধনদৌলত (সংস্কৃত+আরবি),
- পকেটমার (ইংরেজি+বাংলা)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৬৯.
'চানাচুর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) চীনা
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) আরবী
ব্যাখ্যা
হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ গুলো হচ্ছে - আচ্ছা, খেলনা, গদি, চাপাতি, জিলাপি, চানা (চানাচুর), চাটাই, কাহিনী, খানাপিনা, দাদা, নানা, ফুফা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৭০.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. অসুখ
  2. মেয়েলি
  3. কদর্য
  4. পাঠক
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী-হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা।
এইরকম:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা, কদর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'পাঠক' এবং 'মেয়েলি' যৌগিক শব্দ।
- 'অসুখ' হচ্ছে যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯-সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭১.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গাছ
  2. চলা
  3. হাত
  4. পথ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। 
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ, মা, ভাত,পথ, চল ইত্যাদি। 

• সাধিত শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। 
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, নীলাকাশ, পথিক, চলা, ডুবুরি, চাঁদমুখ ইত্যাদি। 

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭২.
‘ইংরেজ’ কোন শ্রেণির শব্দ ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) বিদেশি
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
‘ইংরেজ’ শব্দটি পর্তুগিজ।

পর্তুগিজ শব্দ :
আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৭৩.
নিচের কোনটি পারিভাষিক শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) তওবা
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বিদেশী শব্দের ভাবানুবাদমূলক প্রতিশব্দকে পারিভাষিক শব্দ বলে। বিশেষ অর্থ বহন করে এমন শব্দগুলো হচ্ছে পারিভাষিক শব্দ। তৎসম ও তদ্ভব পারিভাষিক শব্দ। তওবা হচ্ছে আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৭৪.
'কালি-কলম' কোন কোন ভাষার শব্দের মিশ্রণ?
  1. ফারসি + আরবী
  2. হিন্দি + ফারসি
  3. সংস্কৃত + আরবি
  4. আরবি + সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• কতিপয় মিশ্র শব্দের উদাহরণঃ
- ডাক্তার-বাবু = ইংরেজি + তৎসম,
- খ্রিস্টাব্দ = ইংরেজি + তৎসম,
- চৌ-হদ্দি = ফারসি + আরবী,
- হাট-বাজার = বাংলা + ফারসি,
- কালি-কলম = সংস্কৃত + আরবি,
- পকেট-মার = ইংরেজি + বাংলা,
- ডাক্তার-খানা = ইংরেজি + ফারসি,
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৭৫.
কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) স্বামী
  2. খ) স্ত্রী
  3. গ) কন্যা
  4. ঘ) ছেলে
ব্যাখ্যা
ছেলে (বিশেষ্য) 
- বাংলা শব্দ 
অর্থ: 
- বালক, বাচ্চা, শিশু
- পুত্র, লোক, ব্যক্তি
- বিবাহের পাত্র 

অন্যদিকে, 
স্বামী, স্ত্রী, ও কন্যা = তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৭৬.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. গায়ক
  2. বাঁশি
  3. রাজপুত
  4. তৈল
ব্যাখ্যা
• রাজপুত - একটি যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ: 
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। 

এখানে, 
- রাজপুত 'রাজার পুত্র'(তৎপুরুষ সমাস) যার অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।

অন্যদিকে,
- গায়ক যৌগিক শব্দ।
-বাঁশি ও তৈল রূঢ়ি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি( ২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৭.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. গাছ
  2. মাছ
  3. প্রহার
  4. চাঁদ
ব্যাখ্যা
• 'প্রহার'- সাধিত শব্দ। 

• সাধিত শব্দ:
 একাধিক শব্দের সমাস হয়ে বা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে।
মৌলিক শব্দ ছাড়া অন্য সকল শব্দই সাধিত শব্দ।
যেমন- জমিদার শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত।
যেমন: জমিদার = জমিদার + ই, পেশা বা বৃত্তি অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - প্রহার, উপহার।

• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে আর কোনভাবে বিশ্লেষণ করা যায়না বা ভাঙ্গা যায়না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
উপরের গাছ, চাঁদ, মাছ এই তিনটি শব্দকে আর আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
নিচের কোনটি গুজরাটি শব্দ?
  1. সমুদ্র
  2. জানালা
  3. হরতাল
  4. রেস্তোরাঁ
ব্যাখ্যা
• হরতাল (বিশেষ্য):
শব্দটির উৎসমূল - গুজরাটি।
অর্থ -
- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট। 
- দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহূত ধর্মঘট। 
- বন্‌ধ। 

অন্যদিকে,
• 'সমুদ্র'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• 'জানালা'- পর্তুগিজ শব্দ। 
• 'রেস্তোরাঁ'- ফরাসি শব্দ। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২৭৯.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. গালিচা
  2. দোয়াত
  3. আয়া
  4. কাচারি
ব্যাখ্যা
• 'আয়া'
- পর্তুগিজ শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- দাই, ধাত্রী।
- শিশুর পরিচারিকা, ঝি।

অন্যদিকে,
- 'গালিচা' ফারসি ভাষার শব্দ। 
- 'দোয়াত' আরবি ভাষার শব্দ।
- 'কাচারি' হিন্দি ভাষার শব্দ।

পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
- আনারস, কামরা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তোয়ালে, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮০.
'বৃক্ষ' উৎস বিবেচনায় কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. মিশ্র শব্দ
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-

উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৮১.
তৎসম শব্দের ব্যবহার কোথায় বেশি?
  1. আঞ্চলিক রীতিতে
  2. চলিত রীতিতে
  3. সাধু রীতিতে
  4. মিশ্র রীতিতে
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। 
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
২৮২.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) বন্ধুত্ব
  3. গ) প্রশাসন
  4. ঘ) দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২৮৩.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. ঝংকার
  2. প্রহেলিকা
  3. গোয়েন্দা
  4. মহকুমা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গোয়েন্দা'- ফারসি শব্দ।

• 'গোয়েন্দা' শব্দের অর্থ:
- গোপনে তথ্য সংগ্রহ যার পেশা,
- গুপ্তচর,
- রহস্যসন্ধানী।

ঝংকার, প্রহেলিকা- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
মহকুমা- আরবি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২৮৪.
'কুচকাওয়াজ' কোন জাতীয় মিশ্র শব্দ?
  1. আরবি + ফারসি
  2. আরবি + তৎসম
  3. ফারসি + আরবি
  4. ফরাসি + তৎসম
ব্যাখ্যা
• মিশ্র শব্দ: 
- কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।

• 'কুচকাওয়াজ' শব্দটি - ফারসি 'কুচ' এবং আরবি 'কাওয়াজ' এর সমন্বয়ে গঠিত।

• 'কুচকাওয়াজ' শব্দটির অর্থ:
- সৈনিকদের দলবদ্ধ ব্যায়াম ও রণ- কঊশলাদি অনুশীলন। 
- সৈনিকদের রণশিক্ষা; লড়াইয়ের প্রস্তুতিমূলক ব্যায়াম ও কৌশলাদি শিক্ষা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৮৫.
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, তাকে কী বলে?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. সাধিত শব্দ
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, মন্দির।

যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৮৬.
নিম্নের কোনটি বাংলা শব্দ?
  1. ক) চাবুক
  2. খ) চামড়া
  3. গ) চমচম
  4. ঘ) চাহিদা
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দ = চাহিদা 

চাহিদা (বিশেষ্য) 
- বাংলা শব্দ 
অর্থ: 
- বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা। 
- ক্রয়ের ইচ্ছা। 

অন্যাদিকে, 
- চাবুক ফারসি শব্দ 
- চমচম হিন্দি শব্দ 
- চামড়া তদ্ভব শব্দ 
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৮৭.
‘চৌহদ্দি’ শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. বাংলা ও ফারসি
  2. তৎসম ও হিন্দি
  3. আরবি ও তুর্কি
  4. ফারসি ও আরবি
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, চৌ (বাংলা) + হদ্দি (ফারসি) = চৌহদ্দি।
⇒ Accessible Dictionary by Bangla Academy অনুসারে, চৌ+(আরবি) হদ্দ্‌+(বাংলা) ই = চৌহদ্দি।
⇒ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন অনুসারে, চৌ (ফারসি) + হদ্দি (আরবি) = চৌহদ্দি।
⇒ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, চৌ (ফারসি) + হদ্দি (আরবি) = চৌহদ্দি।

আমরা বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানকে প্রাধান্য দিয়ে উত্তর নিয়েছি। মূল পরীক্ষায় আসলে আপনার নিজস্ব বিবেচনায় উত্তর দিতে পারেন।

২৮৮.
'আলমারি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) দেশি
ব্যাখ্যা
'আলমারি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত।

পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ -
আনারস,
আলপিন,
আলমারি,
গির্জা,
গুদাম,
চাবি,
পাউরুটি
পাদ্রী,
পেয়ারা,
বোতাম,
মিস্ত্রি  ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৯.
'ঝি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মিশ্র শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ:
যখন কোনো শব্দ সৃষ্টির সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তখন সেটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের মধ্যে পড়ে।
এ-বিচারে বলা যায়, যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে প্রচলিত অর্থের পার্থক্য থাকে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। অর্থাৎ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগকৃত শব্দ যখন মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন:
• 'হরিণ' অর্থ- যে হরণ করে। প্রচলিত অর্থ- 'হরিণ' প্রাণী বিশেষ।
• 'ঝি' অর্থ- নিজ কন্যা। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- ঝি (চাকরানি)।
• 'সন্দেশ' অর্থ- খবরাখবর। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- সন্দেশ (মিষ্টিবিশেষ);
• 'পাঞ্জাবি' অর্থ- পাঞ্জাবের অধিবাসী। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- পোশাক বিশেষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯০.
অর্ধ-তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. গৃহিণী
  2. বোষ্টম
  3. কুৎসিত
  4. শ্রাদ্ধ
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ বোষ্টম।
- এটি মূলত সংস্কৃত শব্দ 'বৈষ্ণব' থেকে এসেছে।

• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন:
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৯১.
অর্থ অনুসারে 'পক্ষী' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মিশ্র শব্দ
  2. রূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
চালক। এখানে গঠন এভাবে হয়েছে-'চল্' ধাতু 'অক' প্রত্যয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'যে চালায়'। আর 'চালক' কথাটির ব্যবহারিক অর্থও তাই।

এরূপ-
• পক্ষী =  পক্ষ+ ইন। অর্থ- যার পক্ষ বা ডানা আছে। 
• মিতালি = মিতা আলি। অর্থ- বন্ধুর ভাব।

এ ধরনের আরও উদাহরণ: কর্তা, নর্তক, দয়ালু, ধনী, ছেলেমি, লাজুক ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৯২.
প্রত্যয়গত অর্থে 'সন্দেশ' শব্দের অর্থ -
  1. মিষ্টান্ন
  2. সন্দেহ
  3. সংবাদ
  4. সংযোগ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
• প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• সন্দেশ –
- শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৩.
'পাঞ্জাবি' অর্থ অনুসারে কোন ধরনের শব্দ?
  1. মিশ্র শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
• কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৪.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. মহাযাত্রা
  2. বাঁশি
  3. রাজপুত
  4. বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু আনা অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
• রূঢ়ি শব্দ: হস্তী, বাঁশি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৯৫.
‘ম্যালেরিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফ্রেঞ্চ
  2. খ) ইতালিয়ান
  3. গ) গ্রীক
  4. ঘ) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
‘ম্যালেরিয়া’ শব্দটি অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু, বাংলা একাডেমী অনুসারে এই শব্দটি আমাদের ভাষায় ইংরেজি থেকেই এসেছে।
Source: Oxford
২৯৬.
'কর্তব্য' গঠনগত দিক থেকে কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. মিশ্র
  4. যোগরূঢ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য- অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
'ভাড়াটে' কোন শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. রূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

এরূপ শব্দ - গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, মেয়েলি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৮.
'তাজমহল' শব্দটির কোন দুটি বিদেশি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. আরবি + ফারসি
  2. ফারসি + আরবি
  3. আরবি + আরবি
  4. ফারসি + ফারসি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি মিশ্র শব্দ:
তাজমহল = তাজ + মহল (আরবি + ফারসি)।
চৌহদ্দি = চৌ + হদ্দি (বাংলা + ফারসি)
হেড-পন্ডিত = হেড + পন্ডিত (ইংরেজি + তৎসম)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৯.
যোজকের শ্রেণি বিভাগ নয় কোনটি?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

বৈশিষ্ট অনুযায়ী যোজককে পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:
১.সাধারণ যোজক
২. বিকল্প যোজক
৩. বিরোধ যোজক
৪. কারণ যোজক 
৫. সাপেক্ষ যোজক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০০.
নিম্নের কোনটি শব্দগঠন প্রক্রিয়া নয়?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।
- অর্থাৎ, একটি শব্দ গঠনের পর যদি দেখা যায় যে, ওই শব্দে এমন কতগুলাে ধ্বনি পাশাপাশি বসেছে যাদের এক ধ্বনিতে পরিণত করা সম্ভব তাহলে সেখানে সন্ধি ঘটতে পারে।
- কিন্তু এটি যে বাধ্যতামূলক কোনাে বিষয়, তা কিন্তু নয়। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।