বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন১,০৫৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ১০১২০০ / ১,০৫৭

১০১.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. লাল
  2. নীলাকাশ
  3. দোলনা
  4. ডুবুরি
  5. ধুমাধুম 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, দোলনা ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০২.
প্রশাসনিক ফারসি শব্দ কোনটি?
  1. ক) তারিখ
  2. খ) সৌখিন
  3. গ) তরমুজ
  4. ঘ) দোযখ
ব্যাখ্যা
ফারসি শব্দ:
ক) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : খোদা, গুনাহ, দোযখ, নামায, ফেরেশতা, বেহেশত, রোযা ইত্যাদি।
খ) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : কারখানা, চশমা, তারিখ, তোশক, দোকান, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা,
বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
গ) ফারসি ভাষার অন্যান্য শব্দ : আইন, আজাদ, আদমশুমারি, আমদানি, আসমান, একতারা, এলাচি, ওস্তাদ, কাগজ, কামান, কারবার, খরগোশ, খানসামা, খোশবু, খোশামোদ, গালিচা, গোমস্তা, গোরস্তান, গোলাপ, গ্রেপ্তার, চাকর, চাকরি, জাজিম, জানোয়ার, জিন্দাবাদ, তরমুজ, তোষামোদ, দরবার, দরবেশ, দারোগা, পাইকারি, পালোয়ান, পেশকার, মেহেরবান, রোজগার, সানাই, সৌখিন, সরকার, সালতামামি, হুঁশিয়ার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০৩.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
  1. আকাশ
  2. বৃক্ষ
  3. পাখি
  4. পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ নয় - পাখি
- এটি তদ্ভব শব্দ।

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১০৪.
'মহকুমা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
- 'মহকুমা' আরবি শব্দ। 
- যার বাংলা অর্থ- কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনিক অঞ্চল (বাংলাদেশে বর্তমানে জেলায় উন্নীত)। 

আরবি ভাষা থেকে বাংলায় আসা আরো কিছু শব্দ: 
১. ধর্ম সংক্রান্ত - আল্লাহ, ইসলাম, ঈমান, ওযু, কোরবানি, কোরআন, কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি। 

২. প্রসাশনিক ও সাংস্কৃতিক - আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, খারিজ, গায়েব, মহকুমা, মুন্সেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৫.
'গায়ক' - কোন শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 

​যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৬.
'মশগুল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তুর্কী
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফার্সি
  4. ঘ) আরবি
  5. ঙ) বাংলা
ব্যাখ্যা

- মশগুল, মসগুল (বিশেষণ) - মগ্ন; আবিষ্ট; বিভোর; বিহ্বল।
- এটি একটি আরবি শব্দ।

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ হলোঃ
- জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল, আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমী অভিধান।

১০৭.
বাংলা ভাষায় শব্দসম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
⇒ ২০২২ বোর্ড বই অনুসারে,
উৎসগত দিক থেকে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. তৎসম
২. তদ্ভব
৩. দেশি
৪. বিদেশি

[অর্ধতৎসম শব্দকে বোর্ড বইয়ের ২০২২ সংস্করণে বাদ দেয়া হয়েছে]
১০৮.
'প্রবীণ' কোন প্রকার শব্দ?
  1. যোগরূঢ়
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৯.
'বচন' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১০.
অর্থানুসারে শব্দ কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১১.
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -
  1. রূঢ়ি ও যোগরূঢ়
  2. যৌগিক ও সাধিত
  3. মৌলিক ও সাধিত
  4. মৌলিক ও যৌগিক
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১২.
কোনটি পূরণবাচক শব্দ?
  1. ক) এক
  2. খ) একক
  3. গ) প্রথম
  4. ঘ) পহেলা
ব্যাখ্যা
একই সারি, দল বা শ্রেণীতে অবস্থিত কোন ব্যক্তি বা বস্তুত সংখ্যার ক্রম বা প্ররযায় বোঝাতে ক্রম বা পূরণবাচক সংখ্যা ব্যবহৃত হয়।
ক্রম বা পূরণ বাচক শব্দগুলো হলো - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়… ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
১১৩.
'ঝিনুক' কোন ভাষা হতে আগত শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ঝিনুক'- দেশি শব্দ। 

• 'ঝিনুক' এর অর্থ:
- খাদ্য ও মুক্তা আহরণের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় এমন দুই ভাগে বিভক্ত কালচে সাদা প্রভৃতি রঙের শক্ত খোলসাবৃত কোমল দেহবিশিষ্ট মলাস্ক পর্বের অমেরুদণ্ডী জলজ প্রাণী।
- শুক্তি;
- শামুক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১১৪.
গঠন বিবেচনায় 'গোলাপ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ- 
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

অন্যদিকে,
-------------
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১১৫.
'বাদশাহ' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
'বাদশাহ'- 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
বাদশাহ (বিশেষ্য) অর্থ: মুসলমান সুলতান বা সম্রাট।

'ফারসি' ভাষা থেকে আগত শব্দ কিছু শব্দ: 
ধর্মসংক্রান্ত শব্দ: খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
বিবিধ শব্দ: আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী, বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
১১৬.
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে কী বলে?
  1. বিদেশি শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. আঞ্চলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- কুড়ি,
- পেট,
- চুলা,
- কুলা,
- ডাব,
- টোপর,
- ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১১৭.
"পাচক" কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থের দিক থেকে বিচার করলে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দসমূহকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা -
১. যৌগিক,
২. রূঢ়ি এবং
৩. যোগরূঢ়।

• যৌগিক শব্দ:
যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, সেই শব্দগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- পাঠক শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় - √ পঠ্ + অক = পাঠক (পাঠ করে যে)। 
এমনিভাবে,
√ পড়ু + উয়া = পড়ুয়া (যে পড়ে); √ গৈ + অক = গায়ক (গান করে যে); √ পচ্ + অক = পাচক (রান্না করে যে)।

[প্রত্যেকটি উদাহরণে দেখা যাচ্ছে শব্দগুলোর অর্থ প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ীই হয়েছে। অর্থাৎ শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তাই এগুলো যৌগিক শব্দ।]
এমনি- বাবুয়ানা, মধুর, নিন্দুক, মিতালি, মালগাড়ি, লেখক, দাতা, সবই যৌগিক শব্দের উদাহরণ।


---------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে।

এমনিভাবে,
কুশ + অল - (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো।
বাঁশ + ই - বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
পাঞ্জাবি - বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক।
সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের

• যোগরূঢ় শব্দ:
যে সব শব্দের মুখ্য বা ব্যবহারিক অর্থ এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নয়, কিন্তু অর্থটি সংকুচিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের শব্দগুলো সমাসবদ্ধ হয়।
অন্যভাবে বলা যায়, যে সমাসবদ্ধ পদসমূহ সমস্যমান পদগুলোর অর্থ প্রকাশ না করে ভিন্ন অর্থকে প্রকাশ করে সে শব্দসমূহকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- সরোজ = সরোবরে জন্মে যা, সরোজ শব্দের অর্থ তাহলে সরোবরে জন্মানো সব জিনিসকে বোঝানো উচিত ছিল। কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

ঠিক তেমনি,
জলদ - জল দেয় যে (কিন্তু কেবল মেঘ অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
সুহৃদ - সুন্দর হৃদয় যার (ব্যবহারিক অর্থ বন্ধু)।
রাজপুত - রাজার পুত্র (রাজপুত্র না বুঝিয়ে বিশেষ জাতিকে বুঝিয়েছে)।
মহাযাত্রা - মহা সমারোহে যে যাত্রা (কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ মৃত্যু)।

ঠিক এমনি- পঙ্কজ, জলধি, অসুখ, পরিবার ইত্যাদি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৮.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. কলম
  2. নাক
  3. সংসদ
  4. লাল
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করলে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।

যেমন:
- গরমিল, ('গরমিল' সমাসের ব্যাসবাক্য - "মিলের অভাব"। এটি একটি অব্যয়ীভাব সমাস।)
- পরিচালক,
- সম্পাদকীয়,
- সংসদ,
- নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- নাক, লাল, কলম মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৯.
কোনটি পাঞ্জাবি ভাষার শব্দ?
  1. ক) রিক্সা
  2. খ) চা
  3. গ) হারিকিরি
  4. ঘ) চাহিদা
ব্যাখ্যা
রিক্সা, হারিকিরি - জাপনি শব্দ।
চাহিদা, শিখ- পাঞ্জাবি শব্দ।
চা, চিনি – চীনা শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১২০.
'শহিদ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
শহিদ (বিশেষ্য) 
- আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ: 
- ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী ব্যক্তি। 
- দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী যোদ্ধা। 
- সত্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে নিহত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১২১.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. পাখি
  2. দেশি
  3. মাটির
  4. বউটি
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২২.
'কাঁচি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
'কাঁচি' - তুর্কি শব্দ। 

'কাঁচি' (বিশেষ্য)- শব্দের অর্থ: 
- কাপড় কাগজ প্রভৃতি কাটার জন্য ব্যবহৃত দুটি হাতলযুক্ত ইস্পাতের ফলা একত্রে জুড়ে তৈরি ধারালো অস্ত্রবিশেষ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
১২৩.
নিচের কোনটি দেশী শব্দ না?
  1. ক) কোলা
  2. খ) ডাব
  3. গ) বাকি
  4. ঘ) ঢেঁকি
ব্যাখ্যা
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, কোলা, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি।
‘বাকি’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১২৪.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) আকাশ
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) গ্রহ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে তদ্ভব শব্দ হচ্ছে- দাঁত।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হচ্ছে- তৎসম শব্দ। 

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- হাত
- পা
- কান
- নাক
- জিভ
- দাঁত
- হাতি
- ঘোড়া
- সাপ
- পাখি
- কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)। 
১২৫.
গঠন বিবেচনায় শব্দ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
১২৬.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. গ্রহ
  2. কুমড়া
  3. বৃক্ষ
  4. গণপ্রজাতন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির, কুমড়া ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২৭.
‘কারিগর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি শব্দসমূহ হলো-
আইন, আওয়াজ, আচার, আরাম, আশমান, কারিগর, দর্জি, দালান, পোশাক, বাগান, নমুনা, জর্দা, শিরোনাম, আতশবাজি, শুমারি, ইত্যাদি।
বাকি, ফায়দা, নগদ ইত্যাদি হলো আরবি শব্দ।
পেয়ারা, আনারস, বালতি ইত্যাদি হলো পর্তুগিজ শব্দ।
তুর্কি শব্দ - কোর্মা, বাবুর্চি, উজবুক , কাঁচি, কাবু, কুলি, চাকর, চাকু, তোপ।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।

১২৮.
কোন শব্দটি বিশ্লেষণ করা যায় না?
  1. চাঁদমুখ
  2. চলন্ত
  3. ডুবুরি
  4. গোলাপ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে, 
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।

উদাহরণ:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ), নীলাকাশ (নীল যে আকাশ), ডুবুরি (ডুব্‌+উরি), চলন্ত (চল্ + অন্ত), প্রশাসন (প্র+শাসন), গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২৯.
বাগর্থদ্যোতক ক্ষুদ্রতম একককে কী বলা হয়?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) ধ্বনি
  3. গ) ধ্বনিমূল
  4. ঘ) রূপমূল
ব্যাখ্যা
শব্দ ও রূপমূল
- শব্দকে বিভাজন করলে আরাে ক্ষুদ্রতর বাগর্থদ্যোতক অংশ পাওয়া যায়। ভাষার এই সব বাগর্থদ্যোতক ক্ষুদ্রতম একককে বলা হয় রূপমূল
- অর্থাৎ, রূপমূল হলাে ভাষার এমন ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের হয় সুস্পষ্ট বাগর্থ থাকবে কিংবা অন্ততপক্ষে বাগৰ্থের কোনাে যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।
- আমরা জানি ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হচ্ছে ধ্বনিমূল।
- কিন্তু ধ্বনিমূলগুলাে কোনাে অর্থদ্যোতকতাকে ধারণ করে না।
- অপরদিকে, রূপমূল মাত্রই কোনাে না কোনােভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট হবে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ‘অবােধ’ শব্দটিকে দুটি ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় : ‘অ’ এবং ‘বােধ'। এখানে ‘অ’ একটি রূপমূল যা উপসর্গ হিসেবে এই শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ‘বােধ’ আরেকটি রূপমূল। লক্ষণীয় যে, ‘অ’ রূপমূলটির স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশের সুযােগ না থাকলেও এর সাহায্যে কোনাে প্রকার অভাবকে বােঝানাে হচ্ছে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। অপরদিকে, ‘বােধ’ রূপমূলটি স্বাধীনভাবেই অর্থ প্রকাশ করতে পারছে। এর ওপর ভিত্তি করে রূপমূলকে দুটি ভাগে ভাগ ভাগ করা যায়।
এগুলাে হলাে :
- মুক্ত রূপমূল
- বদ্ধ রূপমূল

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
‘চর্মকার’ কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) প্রাকৃত
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

- সংস্কৃতের শব্দভাণ্ডার থেকে সব সময়েই প্রয়ােজনীয় শব্দাবলি বাংলা ভাষায় গ্রহণ করা হয়। যে-সব সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় এসেছে সে-সব শব্দকে ‘তৎসম শব্দ’ বলা হয়।
- প্রাচীন-ব্যাকরণ রচয়িতারা ‘তৎ' অর্থাৎ ‘তা’ বলতে বােঝাতেন ‘সংস্কৃত’ (এখন বলি প্রাচীন ভারতীয় আর্য) ভাষাকে। আর ‘সম’ শব্দের অর্থ ‘সমান। তৎসম শব্দের অর্থ সংস্কৃতের সমান অর্থাৎ সংস্কৃত।
- বাংলা সাধু ভাষার শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ শব্দ তৎসম।
- তৎসম শব্দের উদাহরণ : চর্মকার, অঞ্চল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, আকাশ, স্থল, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।

১৩১.
'হরতাল' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফার্সি
  2. পর্তুগীজ
  3. সংস্কৃত
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
হরতাল (বিশেষ্য):
- গুজরাটি শব্দ।

অর্থ:
- প্রতিবাদ বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত ধর্মঘট।
- দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে শ্রমিক সংগঠনের আহূত ধর্মঘট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩২.
‘হাট-বাজার’ মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) তৎসম+ফারসি
  2. খ) বাংলা+ফারসি
  3. গ) ফারসি+আরবি
  4. ঘ) তৎসম+আরবি
ব্যাখ্যা

হাট - {(তৎসম বা সংস্কৃত) হট্ট>}
বাজার - {(ফারসি) বাজার}
অর্থাৎ, হাট-বাজার শব্দটি তৎসম+ফারসি শব্দের মিশ্রণে গঠিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

উল্লেখ্য, নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইতে এটা ভুল দেয়া আছে।
দুইটি ভিন্ন ধরনের শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে একত্রিত হলে ওই নতুন শব্দটিকে বলা হয় মিশ্র শব্দ।
বোর্ড বই থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দের উদাহরণ দেয়া হল -
রাজা-বাদশা (তৎসম+ফারসি),
হেড-মৌলভি (ইংরেজি+ফারসি),
হেড-পন্ডিত (ইংরেজি+তৎসম),
খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি+তৎসম),
ডাক্তার-খানা (ইংরেজি+ফারসি),
পকেট-মার (ইংরেজি+বাংলা),
চৌ-হদ্দি (ফারসি+আরবি) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]

১৩৩.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. তিন
  2. লাল
  3. গোলাপ
  4. প্রশাসন
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিকশব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
 -তিন

সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
উদাহরণ:
- চাঁদমুখ
- নীলাকাশ
- ডুবুরি
- চলন্ত
- প্রশাসন
- গরমলি ইত্যাদি।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১৩৪.
নিম্নলিখিত শব্দগুলোর মধ্যে কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. জলধি
  2. সন্দেশ
  3. মহাযাত্রা
  4. মধুর
ব্যাখ্যা
• অর্থ অনুসারে 'সন্দেশ'- রূঢ়ি শব্দ। 

অর্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ৩ ভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো -
১.যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
৩.যৌগরূঢ় শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে সেসব শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় (সম্ + দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ।
- কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি। প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।
- আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, গবেষণা। 

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩৫.
"বাড়িওয়ালা" কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. মৌলিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
• গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
• কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
• বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
• মধুর = মধু + র; অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
• দৌহিত্র = দুহিতা ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
• চিকামারা = চিকা+মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

এরূপ- বাড়িওয়ালা = বাড়ি + ওয়ালা; অর্থ: বাড়ির মালিক।

অন্যদিকে, 
• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

• রূঢ়ি শব্দ: যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী= হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।

• যোগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩৬.
কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. মাণিক্য
  2. জোছনা
  3. দুধ
  4. জলপাই 
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দ:
- তৎসম শব্দ হলো সেই সব সংস্কৃত শব্দ যা কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম) [এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের]।

তৎসম শব্দের ব্যবহার
- সাধারণত ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম হয়, যেমন—চাণক্য, মাণিক্য, গণ, লবণ, মণ।
- ষ-যুক্ত শব্দও সাধারণত তৎসম হয়, যেমন—আষাঢ়, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, মানুষ, পাষাণ, ভাষা।
- স্ব-যুক্ত শব্দ যেমন—স্বণ, স্বর্গ ইত্যাদি তৎসম হিসেবে গণ্য হয়।
- এছাড়া, সংস্কৃত উপসর্গ বা প্রত্যয় দ্বারা গঠিত শব্দ যেমন—প্রতিবাদ, অভিযোগ, কর্তব্য, করণীয়- তৎসম শব্দ হয়।
- সনাতন ধর্ম সংক্রান্ত শব্দ যেমন—ব্রাহ্মণ, দেবতা, দেবী, মন্দির, পুজা, সরস্বতী- তৎসম শব্দের অন্তর্ভুক্ত।
- ভূ-মণ্ডল সংক্রান্ত শব্দ যেমন—চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র- তৎসম হিসেবে পরিগণিত হয়। 
- এছাড়া, দিক নির্দেশক শব্দ যেমন—উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম, ঈশান, নৈঋতও সাধারণত তৎসম শব্দ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদিকে, 
- জ্যোৎস্না> জোছনা = অর্ধতৎসম শব্দ।
- দুগ্ধ > দুদ্ধ> দুধ = তদ্ভব শব্দ। 
- জলপাই দেশি ভাষার শব্দ। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১৩৭.
'মেয়েলি' কোন শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান, মেয়েলি

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।
 
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।


উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৮.
'অধ্যাদেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধ তৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'অধ্যাদেশ' একটি তৎসম শব্দ। 

• তৎসম শব্দ: 
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যেমন :
- অধ্যাদেশ।
- গণপ্রজাতন্ত্রী।
- মহাপরিচালক। 
- সচিবালয় ইত্যাদি।  

• অর্ধ-তৎসম শব্দ: 
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।

• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।

• ফারসি শব্দ: আমদানি, জানোয়ার, রোজা, দোকান, নামাজ, চশমা ইত্যাদি।   

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ এবং ২০২১ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৩৯.
অর্থগত ভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
• অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ:
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা-
ক. যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।

খ. রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
- যেমন-হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।

গ.যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
- যেমন- পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
- কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪০.
উৎসমূল অনুসারে 'রফতানি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কী
ব্যাখ্যা
রফতানি  (বিশেষ্য)
- ফারসি শব্দ। 

অর্থ: 
- বিক্রির জন্য পণ্যদ্রব্য বিদেশে প্রেরণ; export।
- দ্রব্য প্রেরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।  
১৪১.
নিচের কোন শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. বিবিয়ানা
  2. বিকল
  3. আণবিক
  4. অংশীদার
ব্যাখ্যা
• 'বিকল' শব্দে 'বি' উপসর্গটি ভিন্নতা (নেই বা নিন্দনীয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'বিবিয়ানা' শব্দটি গঠিত হয়েছে বিদেশি প্রত্য়গত নিয়মে। 
'বিবিয়ানা' এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: 'বিবি +আনা'।

• 'আণবিক' - অনু + ইক (ষ্ণিক) এবং
অংশীদার - অংশী + দার  শব্দ দুটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪২.
অর্থগতভাবে 'মিতালি' কোন প্রকার শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- মিতা + আলি = মিতালি; যার অর্থ - সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৩.
যৌগিক শব্দ নয় কোনটি? 
  1. মিতালি
  2. সরোজ
  3. গায়ক
  4. মধুর
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- গায়ক (মূল শব্দ)-= গৈ + অক (শব্দ গঠন অর্থ); অর্থ যে গান করে। -
- মধুর = মধু + র; অর্থ মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

অন্যদিকে,
-'সরোজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪৪.
‘মহাপরিচালক’ কোন ধরণের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবির্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।যেমন, পৃথিবী, আকাশ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলে।যেমন,
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. গায়ক
  3. জলধি
  4. পাঞ্জাবী
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ়  শব্দ বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ, পাঞ্জাবী।
যৌগিক শব্দ - গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৬.
'হস্তী' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়  
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৭.
তদ্ভব শব্দ কোনটি?
  1. মা
  2. মস্তক
  3. কুড়ি
  4. আকাশ
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ - মা

বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. তৎসম,
২. তদ্ভব,
৩. দেশি ও
৪. বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তদ্ভব শব্দ: 
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। 
যথা: মা; হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির, মাছ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তৎসম শব্দ - মস্তক, আকাশ।
• দেশি শব্দ - কুড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৮.
অর্থানুসারে 'অসুখ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

---------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৪৯.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. শরবত
  2. হরতাল
  3. চাহিদা
  4. ফিতা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ফিতা' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস , আচার, সাবান, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা ,কেরানি, বর্গা, বালতি, পেয়ারা , ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

অন্যদিকে, 
- 'শরবত' আরবি ভাষা হতে আগত শব্দ।
- 'চাহিদা' দেশি শব্দ।
- 'হরতাল' গুজরাটি ভাষা হতে আগত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৫০.
"পাঞ্জাবী" কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক
  3. যৌগরূঢ়
  4. মৌলিক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫১.
প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করলে তাকে কী বলে?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. সংখ্যাবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

অন্যদিকে, 
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।
এখানে, 
'মিষ্টান্ন' শব্দের ব্যুৎপত্তি = মিষ্ট + অন্ন;
'মিষ্টান্ন' শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। এটি 'মিষ্ট' (যার অর্থ মিষ্টি) এবং 'অন্ন' (যার অর্থ খাদ্য) এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। মিষ্টান্ন বলতে মিষ্টি জাতীয় খাদ্যদেব্যকেই বোঝায়।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।
 
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
সংখ্যা বলতে গণনার ধারণা বোঝায়। যে সব শব্দ কোন বিশেষ্য পদ, অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি বা বস্তু বা কোন কিছুর সংখ্যার ধারণা প্রকাশ করে, তাকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
- এক টাকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫২.
'লতাপাতা' কোন দুটি শব্দের মিশ্রনে গঠিত শব্দ?
  1. ক) তৎসম+বাংলা
  2. খ) তৎসম+ফারসি
  3. গ) বাংলা+ফারসি
  4. ঘ) বাংলা+তৎসম
ব্যাখ্যা
'লতাপাতা' শব্দটি তৎসম+বাংলা ( সংস্কৃত+বাংলা) শব্দের মিশ্রনে গঠিত।

লতাপাতা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত লতা ও বাংলা পাতা শব্দ দুটি মিলে লতাপাতা শব্দটি গঠন করে। 
অর্থ:  লতা ও পাতা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫৩.
দেশি শব্দ কোনটি?
  1. চাল
  2. চালতা
  3. চালা
  4. চালাক
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - চালতা

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত শব্দ - চাল।
• বাংলা শব্দ - চালা।
• ফারসি শব্দ - চালাক।

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫৪.
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডার কত প্রকার?
  1. চার
  2. পাঁচ
  3. ছয়
  4. সাত
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।
এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒ তৎসম শব্দ :
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

⇒ তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

⇒ দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, চেঁকি ইত্যাদি।

⇒ বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। উদাহরণ –

আরবি : আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।
ফারসি : খােদা, দোজখ, নামাজ, রােজা, চশমা, তারিখ, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানােয়ার ইত্যাদি।
ইংরেজি : চেয়ার, টেবিল, কলেজ, স্কুল, পেনসিল, ব্যাগ, ফুটবল, ক্রিকেট, হাসপাতাল, বাক্স,বােতল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫৫.
'কুশল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• 'কুশল' শব্দটি হল "রূঢ়ি" শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 

- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

তেমনিভাবে,
কুশল' - 'কুশ + অল'; ব্যুৎপত্তি অর্থ - কুশ (তৃণবিশেষ) আনে যে। ব্যবহারিক অর্থ - মঙ্গল; কল্যাণ।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৬.
নিচের কোন শব্দটি জাপানি শব্দ?
  1. সাম্পান
  2. চাকু
  3. হাস্‌নাহেনা
  4. চাকর
ব্যাখ্যা
চা, চিনি, সাম্পান - চিনা শব্দ।
চাকর, দারোগা, বন্দুক, চাকু - তুর্কি শব্দ।
রিক্সা, হারিকিরি, জুডো, হাস্‌নাহেনা ইত্যাদি জাপানি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৫৭.
বাংলা শব্দ ভান্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ- 
  1. তৎসম 
  2. তদ্ভব
  3. দেশি 
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা

বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দই দেশি শব্দ।

• দেশি শব্দ:
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসীদের ভাষা থেকে নেওয়া যে শব্দগুলো আজও অপরিবর্তিতভাবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো দেশি শব্দ নামে পরিচিত।
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসী—যেমন দ্রাবিড়, অনার্য, কোল, মুণ্ডাসহ ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে কিছু শব্দ আজও বাংলায় টিকে আছে। এই শব্দগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে এসব শব্দের সঠিক উৎস জানা না গেলেও কোন ভাষা থেকে এসেছে, তার ধারণা পাওয়া যায়; যেমন—
- কুড়ি (বিশ) কোল ভাষা থেকে এসেছে;
- পেট (উদর) তামিল থেকে এসেছে;
- আর চুলা (উনুন) মুণ্ডারী ভাষা থেকে এসেছে।
- আর ও কিছু উদাহরণ: জমজম, জারুল, কুলা, গঞ্জ, ঢেঁকি, টোপর, বেগুনী, কালো, পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল, ময়না, খিচুড়ি, রুই, সেমাই ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• তৎসম শব্দ:
- যে শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং ব্যবহারের সময় যেগুলোর মূল রূপ সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে সেগুলোই তৎসম শব্দ।
- “তৎসম” শব্দটি ‘তৎ’ (তার) ও ‘সম’ (সমান)—এই দুই অংশ থেকে এসেছে, অর্থাৎ “সংস্কৃতের সমান”।
- উদাহরণ: কমলা, ধর্ম, শাক, নারিকেল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, গৃহ, ভাষা, দধি, নীল ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় পৌঁছেছে, সেগুলো তদ্ভব শব্দ।
- এসব শব্দের মূল সংস্কৃত হলেও ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলায় এদের রূপ অনেকটাই ভিন্ন হয়েছে। বাংলায় নিজস্ব রূপে ব্যবহৃত এসব শব্দকে একেবারে স্বতন্ত্র ধরা হয়।
- তদ্ভব শব্দকে অনেকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে থাকেন।
- উদাহরণ : আকাশ, বাতাস, পাখি, পাতা, কান, হাত, চাঁদ, চামার, মা ইত্যাদি।

উৎস: 
ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
বাংলাপিডিয়া।

১৫৮.
'রেস্তোরাঁ' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- 'রেস্তোরাঁ' শব্দটি ফরাসি ভাষা হতে এসেছে।

• ফরাসি ভাষার কয়েকটি শব্দ:
- কুপন
- ডিপো
- রেস্তোরাঁ
- আঁতেল
- কার্তুজ ইত্যাদি।

• পর্তুগিজ ভাষার শব্দ:
- আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।

• ওলন্দাজ ভাষার শব্দ:
- হরতন, ইস্কাপন, রুইতন, টেক্কা, তুরুপ ইত্যাদি।

• হিন্দি ভাষার শব্দ :
- পানি, ধোলাই, লাগাতার, সমঝোতা, হালুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৫৯.
তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ নয়-
  1. উজবুক
  2. কার্তুজ
  3. সওগাত
  4. কোর্মা
ব্যাখ্যা

• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- বাবা,
- উজবুক,
- কাঁচি,
- কাবু,
- কুর্নিশ,
- কুলি (মজুর),
- কোর্মা,
- খাতুন,
- চকমক,
- তালাশ,
- তােপ,
- বন্দুক,
- বাবুর্চি,
- বেগম,
- মুচলেকা,
- লাশ,
- সওগাত,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ ইত্যাদি।

• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- কার্তুজ,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁস ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 
১৬০.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়? 
  1. অতিথি
  2. তৈল
  3. গায়ক 
  4. প্রবীণ
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
"অতিথি = √ অত্‌ + ইথি" বলতে 'মেহমানকে' বুঝায়।
কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অনুসারে বোঝায়- যার তিথি নেই। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝাচ্ছে, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ- 
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ);
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ);
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ);
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন,
-গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬১.
নিচের কোনটি সাধিত শব্দ নয়?
  1. ক) চলন্ত
  2. খ) লাল
  3. গ) গরমিল
  4. ঘ) প্রশাসন
ব্যাখ্যা
- সাধিত শব্দ নয়- লাল, এটি একটি মৌলিক শব্দের উদাহরণ। 

সাধিত শব্দ
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। 
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।  
যেমন- 
• চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ)
• নীলাকাশ ( নীল যে আকাশ) 
• ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি) 
• চলন্ত (চল্‌ + অন্ত) 
• প্রশাসন (প্র + শাসন) 
• গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি। 

উৎস
: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৬২.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. ক) রাজপুত
  2. খ) প্রবীণ
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গায়ক
ব্যাখ্যা
সমাসনিষ্পন্ন শব্দ যদি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে ভিন্ন কোনো ব্যবহারিক অর্থ ধারণ করে তবে তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন :

• রাজপুত
সমস্যমান পদ অনুসারে অর্থ: রাজার পুত্র    
বিশেষ অর্থ: জাতি বিশেষ

• আদিত্য    
সমস্যমান পদ অনুসারে অর্থ: অদিতির পুত্র    
বিশেষ অর্থ: সূর্য

• সুহৃদ    
সমস্যমান পদ অনুসারে অর্থ: সুন্দর হৃদয় যার    
বিশেষ অর্থ: বন্ধু, মিত্র, সখা, হিতৈষী

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬৩.
‘সাংবাদিক’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. দ্বিত্ব ব্যবহার করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন,
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।
সুতরাং বলা যায়, 'সাংবাদিক' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৪.
‘নক্ষত্র’ কোন ধরণের শব্দের উদাহরণ?
  1. তৎসম
  2. অর্ধতৎসম
  3. তদ্ভব
  4. দেশী
  5. বিদেশী
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দঃ
- চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, আকাশ ইত্যাদি।
উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।

১৬৫.
'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম
  2. যোগরূঢ়
  3. যৌগিক
  4. রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমনঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৬.
"গবেষণা" শব্দটি কোন ধরণের শব্দের উদাহরণ?
  1. রূঢ়ি শব্দ 
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ 
  4. সাধিত শব্দ 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা: গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম-
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন- বাদাম তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৬৭.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. জলধি
  2. রাজপুত
  3. পঙ্কজ
  4. প্রবীণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৮.
ফারসি ও আরবি সহযোগে কোন মিশ্র শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. ক) রাজা - বাদশা
  2. খ) হেড - মৌলভি
  3. গ) চৌ - হদ্দি
  4. ঘ) ডাক্তার - খানা
ব্যাখ্যা
দেশি ও বিদেশি কিংবা বিদেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে যে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
এখানে রাজা - বাদশা শব্দটি (তৎসম + ফারসি),
হেড - মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি), ডাক্তার - খানা (ইংরেজি + ফারসি) এবং
চৌ - হদ্দি শব্দটি (ফারসি + আরবি) ভাষার শব্দ সহযোগে গঠিত।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
১৬৯.
শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে কি বলা হয় ?
  1. অক্ষর
  2. রূপ
  3. বর্নাংশ
  4. বর্ণ
ব্যাখ্যা

- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরী হয়। 

- শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ। 

- রূপ গঠন করে শব্দ।
 [উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি] 

১৭০.
'আঁখিজল' কোন দুটি শব্দের মিশ্রনে গঠি?
  1. ক) বাংলা+হিন্দি
  2. খ) সংস্কৃত+বাংলা
  3. গ) বাংলা+সংস্কৃত
  4. ঘ) হিন্দি+বাংলা
ব্যাখ্যা
'আঁখিজল' = বাংলা+সংস্কৃত  যোগে গঠিত শব্দ। 

আঁখিজল (বিশেষ্য) 
- বাংলা আঁখি+সংস্কৃত জল এর মিশ্রনে গঠিত শব্দ। 
অর্থ:  চোখের জল, অশ্রু। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৭১.
যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃতের অনুরূপ সেগুলোকে কী বলে?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. বিদেশি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা- 
- তৎসম, 
- তদ্ভব, 
- দেশি, 
- বিদেশি।

• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বক্ষৃ ।

• সংস্কৃত ব্যাকরণ অনসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি। 

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি। 

• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছুশব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি ।

• বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম - দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১৭২.
কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. প্রবীণ, মধুর
  2. চিকামারা, বাবুয়ানা
  3. গায়ক, পঙ্কজ
  4. কর্তব্য, গবেষণা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ - চিকামারা, বাবুয়ানা

• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা -
ক. যৌগিক শব্দ,
খ. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
গ. যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
• রূঢ়ি শব্দ - গবেষণা, প্রবীণ।
• যোগরূঢ় শব্দ - পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৩.
গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঘোড়ার গাড়ি
  2. খ) অশ্বশকট
  3. গ) শবদাহ
  4. ঘ) মড়াদাহ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচন্ডালী দোষ। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন- গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, অশ্বশকট, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্ট হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৭৪.
দ্রুত শিল্পায়ন দরকার নতুবা দেশের উন্নতি হবে না- বাক্যে ‘নতুবা’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ
ব্যাখ্যা
যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- দ্রুত শিল্পায়ন দরকার নতুবা দেশের উন্নতি হবে না।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, নতুবা, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৫.
'ওলন্দাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজ
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ (বিশেষ্য/বিশেষণ) 
- এটি ফরাসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ - হল্যান্ডের অধিবাসী
       - Dutch 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৭৬.
‘উপকরণ’ অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মেটে
  2. বাঘা
  3. বেতো
  4. চোরা
ব্যাখ্যা
‘উপকরণ’ অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: মাটি → মেটে

অন্যদিকে,
বাঘ → বাঘা = সদৃশ অর্থে।
বাত → বেতো = রোগগ্রস্ত অর্থে।
চোর → চোরা = অবজ্ঞা অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৭.
উকিল শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) আরবি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৭৮.
উৎস অনুযায়ী 'বাতায়ন' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) ফারসি শব্দ
  2. খ) সংস্কৃত শব্দ
  3. গ) বাংলা শব্দ
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বাতায়ন'- সংস্কৃত শব্দ।

• 'বাতায়ন' শব্দের অর্থ: 
- ঘরে আলোবাতাস প্রবেশের পথ, জানালা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৭৯.
কোনটি তদ্ভব শব্দ ?
  1. ক) আকাশ
  2. খ) পেট
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) টোপর
ব্যাখ্যা

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
যেমন -
হাত, পা, কান, দাঁত, ঘোড়া, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেনি।

১৮০.
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে মূল শব্দ অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ বুঝায় তাকে কোন ধরনের শব্দ বলে?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) রূঢ়ি শব্দ
  3. গ) যোগরূঢ়
  4. ঘ) মৌলিক
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন -
- হস্তী = হস্ত + ইন অর্থ - হস্ত আছে যার কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা ( গো + এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।  
- কুশল - ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যে কুশ আনে প্রচলিত অর্থ মঙ্গল। 
- বাঁশি - বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, সুরের এক বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ, ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ]
১৮১.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়?
  1. ক) পঙ্কজ
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) প্রবীণ
  4. ঘ) গবেষণা
ব্যাখ্যা
হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, হরিণ, কুশল, পাঞ্জাবি, মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, রাখাল, কদর্য, শুশ্রূষা ইত্যাদি শব্দগুলো রূঢ়ি শব্দ।
অপরদিকে পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি শব্দগুলো যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮২.
অর্থ অনুসারে 'কুশল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. যোগরূঢ়
  3. মিশ্র 
  4. রূঢ় 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৩.
'সওগাত’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. হিন্দি
  3. আরবি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় তুর্কি শব্দ হলো-
সওগাত, বাবা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি (মজুর), কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তােপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, মুচলেকা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮৪.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. লতা
  2. গােলাপ
  3. চলন্ত
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৫.
তুর্কি ভাষার শব্দ কোনগুলি?
  1. ক) চা, চিনি
  2. খ) হজ, ওজু
  3. গ) চাকু, তোপ
  4. ঘ) চশমা, রশদ
ব্যাখ্যা

তুর্কি কয়েকটি শব্দ হলোঃ
- উজবুক,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা,
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৮৬.
শব্দ গঠনের উপায় কী?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে
  2. খ) সমাসের মাধ্যমে
  3. গ) পদ-পরিবর্তনের মাধ্যমে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দ গঠনের কতিপয় উপায় হলো -
১)সন্ধির মাধ্যমে
২)সমাসের মাধ্যমে
৩)পদ-পরিবর্তনের মাধ্যমে
৪)বাক্য সংকোচনের মাধ্যমে
৫)উপসর্গ সহযোগে
৬)প্রত্যয় সহযোগে
৭)দ্বিরুক্তি শব্দের সহযোগে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৮৭.
নিম্নের কোনটি তুর্কি শব্দ নয়?
  1. ক) বেগম
  2. খ) খাতুন
  3. গ) বিবি
  4. ঘ) বাবা
ব্যাখ্যা
বিবি (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- পত্নী, স্ত্রী। 
- ইউরোপীয় মহিলা 
- তাসের রানি। 

অন্যদিকে,
বেগম, বাবা, খাতুন = তুর্কি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৮৮.
নিচের কোন শব্দ দুটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) চন্দ্র, সূর্য
  2. খ) ধর্ম, বৃক্ষ
  3. গ) মানব, জলধি
  4. ঘ) গিন্নি, কেষ্ট
ব্যাখ্যা
গিন্নি, কেষ্ট শব্দ দুটি অর্ধতৎসম শব্দ। যাদের তৎসম রূপ যথাক্রমে- গৃহিণী, কৃষ্ণ। 

• তৎসম শব্দ:
- তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ [তত্ = তার, সম = সমান] তার সমান।
- এখানে 'তার' বলতে ‘সংস্কৃত’র সমান বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার যেসব শব্দ সরাসরি এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ।
- উদাহরণ- চন্দ্র, সূর্য, ধর্ম, বৃক্ষ, মানব, পুত্র, রাত্রি, পর্বত, ভূমি, সিংহ, তাপসী, প্রশ্ন, পাত্র, জলধি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
১৮৯.
'বালিশ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. গুজরাটি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বালিশ (বিশেষ্য)
অর্থ : উপাধান; শয়নকালে যে আধারে মাথা রাখা হয়।
'বালিশ' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৯০.
‘তিল’ কী ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:

⇒ মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ:
একাধিক শব্দের সমাম হয়ে কিংবা ধাতু ও শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় যোগ হয়ে যে শব্দ তৈরি হয় তা-ই সাধিত শব্দ। যেমন: গরমিল, ডুবুরি, চলন্ত, প্রশাসন, ফিসফিস, ধুমাধুম, নীলকাশ, সংসদ, সদস্য, পরিচালক, সম্পাদকীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ)।
১৯১.
নিচের কোনটি খাঁটি বাংলা শব্দের উদাহরণ?
  1. ডাগর
  2. হাত
  3. কুলা
  4. গোসল
ব্যাখ্যা

• তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)। এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়। 
যেমন: 
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চৰ্ম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দের কিছু উদাহরণ হলো-  হাত, পা, মাথ্য, কান ইত্যাদি। 

আবার, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে-
• সংস্কৃত শব্দ 'হস্ত' থেকে 'হাত' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।  

[প্রশ্নটি বোর্ড বই অনুসারে করা হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এর বই অনুসারে অপশন (খ) হাত উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।] 

অন্যদিকে,
-------------------- 
• 'ডাগর': 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- 'দীর্ঘ' সংস্কৃত শব্দ থেকে 'ডাগর' অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে- 'ডাগর' দেশি শব্দ। 

• কুলা:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে এটি একটি দেশি শব্দ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- সংস্কৃত শব্দ 'কুল্য' থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দ কুলার উৎপত্তি হয়েছে। 

• গোসল:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- গোসল (বিশেষ্য পদ)। এটি আরবি ভাষার শব্দ।
উল্লেখ্য, নাওয়া (ক্রিয়া বিশেষ্য ও বিশেষ্য উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯২.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. চলন্ত
  2. সংসদ
  3. সদস্য
  4. লাল
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
- যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

যেমন-
- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।

যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৩.
'ফারসি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ছেলেপনা
  2. খ) গাড়োয়ান
  3. গ) নজরবন্দি
  4. ঘ) মাছওয়ালা
ব্যাখ্যা
'ফারসি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ = নজরবন্দি = নজর+বন্দি
অন্যদিকে,
মাছওয়ালা, গাড়োয়ান, ছেলেপনা = 'হিন্দি' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
'স্নাতক' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মিশ্র 
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• স্নাতক রূঢ়ি শব্দ। 

- মূল অর্থ: “যিনি স্নান করেছেন।”
- রূঢ়ি অর্থ (প্রচলিত অর্থ): “যিনি নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন” অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

-------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:

যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।। উদাহরণ-
- প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
- সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন = চকচকে (মূল অর্থ) সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।

এরূপ আরও শব্দ হলো- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫.
বাংলা ভাষা কোন শব্দ দুটি গ্রহণ করেছে চীনা ভাষা হতে?
  1. ক) চাকু, চাকর
  2. খ) খদ্দর, হরতাল
  3. গ) চা, চিনি
  4. ঘ) রিক্সা, রেস্তোরাঁ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
চা, চিনি- চীনা শব্দ। 

• আরো কিছু বিদেশি শব্দ: 
গুজরাটি শব্দ: খদ্দর, হরতাল ৷
ওলন্দাজ শব্দ: ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন (তাসের নাম) ৷
ফরাসি শব্দ: কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৯৬.
'খদ্দর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. তৎসম
  3. গুজরাটি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'খদ্দর'- দেশি শব্দ।

• 'খদ্দর' শব্দের অর্থ:
- চরকায় কাটা কার্পাস সুতোর মোটা কাপড়। 

তবে,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণির (২০১৯ সংস্করণ) বইয়ে 'খদ্দর' গুজরাটি শব্দ হিসেবে দেওয়া আছে। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৯৭.
'চামার' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. তদ্ভব
  3. ফরাসি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)।
 যেমন: 
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব—হাত।
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব—চামার ইত্যাদি।
- এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৯৮.
অর্থগতভাবে শব্দকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
⇒ অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
- যােগরূঢ় শব্দ। 

⇒ উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি।

⇒ গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
বাংলা শব্দভান্ডারে দেশি শব্দ কত শতাংশ?
  1. ক) ৬০%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৮%
  4. ঘ) ২%
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, বাংলা ভাষায় ২৫% শব্দ - তৎসম, ৫% শব্দ অর্ধ-তৎসম, ৬০% শব্দ - তদ্ভব, ৮% শব্দ - বিদেশি এবং মাত্র ২% শব্দ - দেশি।
উৎসঃ বাংলা পিডিয়া
২০০.
‘লাল থেকে নীল ভালো'- বাক্যে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ পদ
  2. খ) বিশেষ্য পদ
  3. গ) সর্বনাম পদ
  4. ঘ) ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'লাল' হচ্ছে বিশেষ্য পদ

• ‘লাল থেকে নীল ভালো।
- এখানে 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ

যখন বলা হয়:
• আমি একটি লাল ফুল তুলেছি।
- তখন ‘লাল’ বিশেষণ পদ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।