বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিকস

মোট প্রশ্ন৬২৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিকস

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬২৫

৫০১.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. থার্মোমিটার 
  2. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
  3. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  4. পিএইচ মিটার 
ব্যাখ্যা

আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০২.
তেজস্ক্রিয়তা কীভাবে প্রভাবিত হয়?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা
  2. চাপ দ্বারা
  3. তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা
  4. কোনোভাবে প্রভাবিত হয় না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৩.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
  2. নিউটনের গতি সূত্র
  3. বৈদ্যুতিক বিভব
  4. হিট ট্রান্সফার নীতি
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও 
২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৪.
কোন মৌল থেকে প্রথম তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল? 
  1. থোরিয়াম
  2.  প্লুটোনিয়াম
  3. রেডন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৫.
নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
  1. F = ma
  2. W = mg
  3. E = m2c
  4. E = mc2
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2.
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. সোলার প্যানেল
  2. জেনারেটর
  3. ইলেকট্রিক ইস্ত্রি
  4. মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।
- ইলেকট্রিক ইস্ত্রি: এটি তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- সোলার প্যানেল: এটি আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, এখানে যান্ত্রিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৭.
ট্রানজিস্টরে অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. লোহা
  2. জার্মেনিয়াম
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরে অর্ধপরিবাহী হিসেবে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ব্যবহৃত হয়।

• ট্রানজিস্টর:
- ১৯৪৮ সালে জে. বার্ডিন ও ডব্লিউ. এইচ. ব্রাটেইন ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রিক সার্কিট বা বর্তনীতে ট্রানজিস্টর বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যে যন্ত্র এর অন্তর্গামীতে প্রদত্ত সংকেত বহির্গামীতে বিবর্ধিত করে তাকে অ্যামপ্লিফায়ার বলে।
- ট্রানজিস্টর দুই ধরনের। যথা- n-p-n এবং p-n-p ।  

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৮.
এক্সরের (x-ray) আবিষ্কারক-
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) মাইকেল ফ্যারাডে
  3. গ) উইলিয়াম রন্টজেন
  4. ঘ) হেনরি বেকেরেল
ব্যাখ্যা

- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন হেনরি বেকেরেল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৯.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করা যায়?
  1. ক) ক্রোনোমিটার
  2. খ) গাইগার-মুলার কাউন্টার
  3. গ) রিখটার স্কেল
  4. ঘ) ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
Geiger Counter, with Geiger-Mueller (GM) Tube or Probe—A GM tube is a gas-filled device that, when a high voltage is applied, creates an electrical pulse when radiation interacts with the wall or gas in the tube. These pulses are converted to a reading on the instrument meter. If the instrument has a speaker, the pulses also give an audible click. Common readout units are roentgens per hour (R/hr), milliroentgens per hour (mR/hr), rem per hour (rem/hr), millirem per hour (mrem/hr), and counts per minute (cpm). GM probes (e.g., ''pancake'' type) are most often used with handheld radiation survey instruments for contamination measurements.
source:hps.org
৫১০.
ফোটন কণার ধর্ম কী?
  1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. তড়িৎ চার্জযুক্ত
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলোর মৌলিক কণা এবং এটি তড়িৎ নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এই কারণে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

ফোটন কণা: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf (যেখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক)। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১১.
VLSI-এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. Variable Light System Integrated
  2. Very Low Scale Integrated
  3. Variable Large Scale Integrated
  4. Very Large Scale Integrated
ব্যাখ্যা

- VLSI-এর পূর্ণ রূপ হল Very Large Scale Integrated Circuit.

সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (Integrated Circuits or IC): 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। 
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট (microelecrtonic circuit) বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits), 
২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits) এবং 
৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১২.
​ট্রান্সফরমার কী? 
  1. একটি যন্ত্র যা তড়িৎ প্রবাহকে বৃদ্ধি করে 
  2. একটি যন্ত্র যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে 
  3. একটি যন্ত্র যা তড়িৎ শক্তি সংরক্ষণ করে 
  4. একটি তড়িৎ যন্ত্র যা বিভব রূপান্তর করে 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৩.
কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) n- টাইপ অর্ধপরিবাহক
  2. খ) p- টাইপ অর্ধপরিবাহক
  3. গ) z- টাইপ অর্ধপরিবাহক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫১৪.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়? 
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
রঞ্জন রশ্মি: 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি উৎপন্ন হয়। 
- এক্স-রের একক রন্টজেন। 
- এক্স-রে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। 
- রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়। 

এক্স-রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৫.
X-Ray এর মাধ্যমে কোন রোগ নির্ণয় করা যায়?
  1. ফ্র্যাকচার
  2. নিউমোনিয়া
  3. টিউমার
  4. উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা

◉ এক্স-রে (X-ray) হল এমন একটি ইমেজিং প্রযুক্তি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি হাড়ের সমস্যা, ফুসফুসের রোগ এবং টিউমার শনাক্ত করতে কার্যকর।

এক্স-রে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

এক্স-রে রশ্মির ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৬.
কোন আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়?
  1. ভ্যাকুয়াম টিউব
  2. ডায়োড
  3. ট্রায়োড
  4. ট্রানজিস্টর
  5. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি।
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে। 
- কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব।
- ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৭.
কোনটি ডিজিটাল ডিভাইস হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ফ্লিপ-ফ্লপ
  2. মাল্টিপ্লেক্সার
  3. কাউন্টার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি অ্যানালগ বা এনালগ-লেভেল উপাদান  (component)। এটি অ্যাম্পলিফায়ার এবং সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

-  যদিও ট্রানজিস্টর ডিজিটাল ডিভাইসের ভিত্তি (যেমন: গেট, ফ্লিপ-ফ্লপ, কাউন্টার ইত্যাদি) তৈরি করে, তবে একা ট্রানজিস্টর কোনো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডিভাইস নয়।
অর্থাৎ ট্রানজিস্টর নিজে ডিজিটাল ডিভাইস নয়, বরং এটি ডিজিটাল ডিভাইস তৈরির মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
 ফ্লিপ-ফ্লপ: এটি একটি ডিজিটাল লজিক ডিভাইস যা 1 বিট ডেটা মেমোরি হিসেবে কাজ করে।

 মাল্টিপ্লেক্সার: এটি একাধিক ইনপুট থেকে একটি ইনপুট সিলেক্ট করে। এটি ডিজিটাল লজিক গেট ব্যবহার করে কাজ করে। 

 কাউন্টার: এটি বাইনারি সংখ্যা গণনা করে। এটি দিয়ে সাধারনত ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা গননা করা হয়। 

তথ্যসূত্র: 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)। 
-   Electrical Counting By W.B. Lewis.
৫১৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয় না? 
  1. হাড়ে ফাটল নির্ণয়ে 
  2. দাঁতের গোড়ার ক্ষয় নির্ণয়ে 
  3. পেটের অন্ত্র প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করতে 
  4. রক্তচাপ পরিমাপ করতে  
ব্যাখ্যা

- 'রক্তচাপ পরিমাপ করতে' এক্সরে ব্যবহৃত হয় না। 

এক্সরে যন্ত্রের মূলনীতি ও ও এর ব্যবহার: 

- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 

- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৯.
ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস শুরু হয় কোন উদ্ভাবনের মাধ্যমে?
  1. টেলিভিশন
  2. কম্পিউটার
  3. রোবট
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
- ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস মূলত ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার থেকে শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। এটি একটি ছোট, শক্তিশালী এবং কম শক্তি ব্যবহারকারী ডিভাইস যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ট্রানজিস্টরের আগমনের আগে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি প্রধানত ভ্যাকুয়াম টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা বড়, ভারী এবং অকার্যকর ছিল। ট্রানজিস্টরের কারণে কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র দ্রুত, ছোট এবং সাশ্রয়ী হয়। এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগের ভিত্তি স্থাপন করেছে। সুতরাং, ইলেকট্রনিক্সের ইতিহাস শুরু হয় ট্রানজিস্টরের উদ্ভাবনের মাধ্যমে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) ট্রানজিস্টর।

• ট্রানজিস্টর:

- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

- ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

৫২০.
GPS এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Positioning System
  2. Global Pointing System
  3. Global Publication System
  4. Great Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
৫২১.
পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:
  1. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  2. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
  3. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
  4. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।  

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- 
মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২২.
According to Einstein’s theory of relativity, which phenomenon cannot be explained?
  1. Gravitation
  2. Stellar motion
  3. Concept of an expanding universe
  4. Magnetic property
  5. None of them
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। 

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আইনস্টাইনের মতে স্থান, কাল ও ভর পরম নয়,সবই আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বই আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of relativity) নামে পরিচিত।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) মূলত দুভাগে বিভক্ত, যথা-
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব (The general theory of relativity) এবং
- আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (The special theory of relativity)।

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯০৫) ও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯১৫) নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে:
- মহাকর্ষ।
- নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি।
- সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব ধারণা।

অন্যদিকে,
- চৌম্বকত্ব বা পদার্থের চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) বা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
সার্কিট তৈরির জন্য প্রয়োজন -
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ক্যাপাসিটর
  3. রেজিস্টর
  4. উপরের সবগুলো
৫২৪.
পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় কোনটি নির্গত হয় না?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. ডেল্টা
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের সময় ডেল্টা কণিকা নির্গত হয় না। 

• তেজস্ক্রিয় ভাঙন (Radioactive Decay):
- তেজস্ক্রিয় ভাঙন বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস শক্তি হারায় এবং তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা নির্গত করে।

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে গেলে সাধারণত তিন ধরনের বিকিরণ নির্গত হয়:
- আলফা কণা (α),
- বিটা কণা (β),
- গামা রশ্মি (γ)।

• ডেল্টা (Δ) কণা তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ে কোনো সাধারণ বিকিরণ নয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫২৫.
নিচের কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৬.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

৫২৭.
আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে কী?
  1. ইলেকট্রন
  2. পজিট্রন
  3. হিলিয়াম পরমাণু
  4. তড়িত-চুম্বকীয় তরঙ্গ
  5. হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি (Alpha Ray)
- আলফা রশ্মি বা আলফা কণা আসলে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াসে থাকে দুটো প্রোটন এবং দুটো নিউট্রন, কাজেই এটি একটি চার্জযুক্ত কণা।
- সে কারণে বিদ্যুৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে এর গতিপথকে প্রভাবিত করা যায়।
- একটা নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যখন একটা আলফা কণা বের হয়ে আসে তখন তার শক্তি থাকে কয়েক MeV. কাজেই সেটি যখন বাতাসের ভেতর দিয়ে যায় তখন বাতাসের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ করে সেগুলোকে তীব্রভাবে আয়নিত করতে পারে।
- বাতাসে আলফা কণার গতিপথ হয় সরলরেখার মতো, এটা সোজা এগিয়ে যায়।
- তবে আলফা কণা যেহেতু হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস তাই এটা পদার্থের ভেতর দিয়ে বেশি দূর যেতে পারে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৮.
ফ্যাদোমিটার দিয়ে কি নির্ণয় করা হয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. গ্যাসের চাপ
  3. সমুদ্রের গভীরতা
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
ফ্যাদোমিটার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র।
- সাগর বা মহাসাগরের চলাচলকারি জাহাজের নিরাপত্তার জন্য সাগর বা মহাসাগরের গভীরতা জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস গভীর সমুদ্রের তলদেশে প্রতিফলিত শব্দের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয় এই কাজের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে ফ্যাদোমিটার বা ইকোগ্রাফ বলে।
- সমুদ্রের তলদেশ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য এ ধরনের একটি ইউনিট এর শব্দ উৎপাদনের জন্য একটি শব্দ প্রতিশব্দ উৎপাদক রয়েছে এ যন্ত্রে একটি অংশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষণিক শব্দের সম্পূর্ণ ভ্রমণ কাল লিপিবদ্ধ করা হয় পানিতে শব্দের বেগ এবং একে দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, এসময় জাহাজটি কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব হলে পরবর্তী সমীকরণ থেকে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে -
- হাইগ্রোমিটার বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র।
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র: ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র: ম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
৫২৯.
p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে কোন পরমাণু দ্বারা ডোপিং করা হয়?
  1. ইন্ডিয়াম
  2. অ্যান্টিমনি
  3. ফসফরাস
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

• p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে বিশুদ্ধ সিলিকন বা জার্মেনিয়ামের সাথে ত্রিমূলক (trivalent) পরমাণু ডোপিং করা হয়, যাদের ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা ৩টি। এই ধরনের পরমাণু যুক্ত হলে একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যাকে হোল বলা হয়, এবং হোলই এখানে প্রধান চার্জ বাহক হিসেবে কাজ করে। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়াম একটি ত্রিমূলক পরমাণু, তাই এটি দ্বারা ডোপিং করলে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়। অন্যদিকে অ্যান্টিমনি ও ফসফরাস পঞ্চমূলক এবং জার্মেনিয়াম নিজেই একটি অর্ধপরিবাহী। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ক) ইন্ডিয়াম।

• p-টাইপ অর্ধপরিবাহী (P-type Semiconductor):
- p-টাইপ অর্ধপরিবাহী হলো এমন এক ধরনের অর্ধপরিবাহী যেখানে হোল (hole) সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহক (majority carrier) হিসেবে কাজ করে।
- এটি তৈরির জন্য বিশুদ্ধ সিলিকন বা জার্মেনিয়ামে ত্রিমান (trivalent) অমিশ্র পরমাণু যোগ করা হয়।
- ত্রিমান পরমাণুর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা ৩টি হওয়ায় একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
- এই ইলেকট্রনের ঘাটতিকে হোল বলা হয়।
- হোলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন হয় বলে একে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলা হয়।

• ডোপিং (Doping):
- ডোপিং হলো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীতে অল্প পরিমাণ অমিশ্র পদার্থ যোগ করার প্রক্রিয়া।
- p-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য ত্রিমান মৌল ব্যবহার করা হয়।
- ত্রিমান মৌলগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম উল্লেখযোগ্য।
- এসব মৌল ইলেকট্রনের ঘাটতি তৈরি করে, ফলে হোলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

• অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
- ইন্ডিয়াম → ত্রিমান মৌল, p-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- অ্যান্টিমনি → পেন্টাভ্যালেন্ট, n-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- ফসফরাস → পেন্টাভ্যালেন্ট, n-টাইপ তৈরিতে ব্যবহৃত। 
- জার্মেনিয়াম → বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী, ডোপিং উপাদান নয়। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৫৩০.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা কোনটি? 
  1. ক্লোজড কনফারেন্স
  2. অনলি কনফারেন্স
  3. পাবলিক কনফারেন্স
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা: 
- ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং। 
- বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে। 
যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স এবং অনলি কনফারেন্স। 
- টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৫৩১.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকার নাম কী?
  1. Proton
  2. Photon
  3. Quark
  4. Neutron
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রেক্ষিতে আলোর কণিকাকে ফোটন (Photon) বলা হয়। ফোটন হল আলোর শক্তি কণিকা, যা আলোর তরঙ্গের সঙ্গে একত্রে বিদ্যমান। এটি কোনো বিশ্রাম ভরহীন কণা এবং আলোর বেগে (প্রায় ৩ লাখ কিমি/সেকেন্ড) চলাচল করে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, আলোর শক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণে ছোট ছোট কণিকায় ভাগ হয়, যেগুলিকে ফোটন বলা হয়। ফোটন বিদ্যুতচুম্বকীয় বিকিরণ যেমন আলোক, রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ইত্যাদির মৌলিক কণা। তাই আলোর কণিকার নাম হলো ফোটন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) Photon.

কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়।
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩২.
কোবাল্ট-৬০ আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী কোন রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী 'গামা রশ্মি' ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৩.
আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে ব্যবহৃত পদার্থ কোনটি?
  1. সিলিকন
  2. তামা
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে প্রধানত সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অর্ধপরিবাহী (semiconductor) পদার্থ, যা নির্দিষ্ট অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম।

সিলিকনের বৈশিষ্ট্য:
- এটি সহজলভ্য এবং সস্তা।
- এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ডোপিং (doping) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীল থাকে, যা ইলেকট্রনিক সার্কিটে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

অন্য বিকল্পগুলোর কারণ:
- তামা (Copper) বিদ্যুৎ পরিবাহী, কিন্তু অর্ধপরিবাহী নয়।
- অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) পরিবাহী ধাতু, ট্রানজিস্টরের সংযোগে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু মূল পদার্থ নয়।
- কার্বন (Carbon) ট্রানজিস্টরে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, যদিও কার্বন ন্যানোটিউব নিয়ে গবেষণা চলছে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 

৫৩৪.
এক্স রে মূলত-
  1. ধনাত্মক আধান যুক্ত
  2. ঋণাত্মক আধান যুক্ত
  3. আধান নিরপেক্ষ
  4. বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের দিকে বিচ্যুত হয়
ব্যাখ্যা

এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
- এক্স-রে আদান নিরপেক্ষ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3 × 108 ms-1 বেগে গমন করে।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে।
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৩৫.
একটি মহাকাশযান পৃথিবীর সাপেক্ষে 0.8c বেগে চলছে। একটি আলোকরশ্মি একই দিকে c বেগে চললে, মহাকাশযানের সাপেক্ষে আলোর বেগ কত হবে?
  1.  0.2c
  2. 0.8c
  3.  c
  4. 1.8c
ব্যাখ্যা

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity):
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) অনুসারে,আলোর বেগ (c) সকল পর্যবেক্ষকের জন্য ধ্রুবক।
- যে কোনো রেফারেন্স ফ্রেম থেকেই সেটি পরিমাপ করা হোক না কেন, এর মান সর্বদা c = 3 × 108 m/s
- নিউটনীয়ভাবে মনে হতে পারে, চলমান মহাকাশযান থেকে আলোর বেগ 1.8c বা বেশি হবে। কিন্তু আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী, আলোর বেগ কখনো c-এর বেশি হয় না।

- অতএব, মহাকাশযানের সাপেক্ষেও আলোর বেগ থাকবে c.

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৫৩৬.
রিমোট কন্ট্রোলের সংকেত পরিবহনে কোন রশ্মি ব্যবহার হয়?
  1. ইনফ্রারেড
  2. এক্স-রে
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি
ব্যাখ্যা

◉ রিমোট কন্ট্রোল (যেমন: টিভি, এসি, ডিভিডি প্লেয়ার) সংকেত পাঠানোর জন্য ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে।

​অবলোহিত রশ্মি:
- উইলিয়াম হার্শেল ১৮০০ সালে Infrared Ray আবিষ্কার করেন।
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের চেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ অবলোহিত বিকিরণ বা অবলোহিত রশ্মি।
- বর্ণালির 10-6m থেকে 10-3m তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর অবলোহিত বিকিরণের।
- সূর্যের আলো থেকে আমারা যে তাপ পাই তা অবলোহিত বিকিরণ।
- এছাড়া কাঠের আগুন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাস বা যে কোন জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপ মাত্রই অবলোহিত রশ্মি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৭.
রঙিন টেলিভিশনে কোন মৌলিক রংগুলো থাকে? 
  1. বেগুনী, নীল ও সবুজ
  2. লাল, নীল ও সবুজ
  3. লাল, নীল ও হলুদ
  4. সবুজ, হলুদ ও লাল
ব্যাখ্যা
- রঙিন টেলিভিশনে লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং থাকে। 

টেলিভিশন: 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং-এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। 
- এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। 
- এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। 
- এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৮.
শরীরের বিভিন্ন অংশের ইমেজিং করার জন্য কোন যন্ত্র শক্তিশালী রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. ইসিজি
  2. এমআরআই
  3. আলট্রাসনোগ্রাফি
  4. সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
এমআরআই: 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। 
- পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। 
- সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৯.
শব্দের গতি কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্য
  2. তরল
  3. কঠিন
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়। 
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উল্লেখ্য,
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪০.
কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
  1. সালফার
  2. কার্বন
  3. আর্গন
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক জ্বালানির উৎস:
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক জ্বালানির মধ্যে অন্যতম হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং পেট্রোলিয়াম। 
- এছাড়া রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের খড়ি, গাছের পাতা, পাটকাঠি, ধানের গুঁড়া এবং খড় বা গোবর দিয়ে তৈরি লাকড়ি, এগুলোকেও প্রাকৃতিক জ্বালানি হিসেবে গণ্য করা যায়।
 
• কয়লা:
কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (02) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তী সময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।
- কয়লা তিন রকমের হয়। যেমন: অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৪১.
তেজস্ক্রিয়তা প্রথম আবিষ্কার করেন কে? 
  1. মার্কো পলো 
  2. হেনরী বেকেরেল 
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন 
  4. আইজ্যাক নিউটন 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় 'বেকেরেল রশ্মি'। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়। 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ)নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪২.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো -
  1. লাল-সবুজ-হলুদ-লাল-সবুজ
  2. লাল-হলুদ-সবুজ-লাল-হলুদ
  3. লাল-হলুদ-সবুজ-হলুদ-লাল
  4. লাল-হলুদ-লাল-সবুজ-হলুদ
ব্যাখ্যা
- শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো: লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ-লাল।
- ট্রাফিক সিগন্যালে লাল মানে থামতে হবে।
- হলুদ বাতি জ্বলে উঠলে নিতে হবে যাত্রার প্রস্তুতি। অর্থাৎ আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার পরই যাত্রা শুরু নির্দেশক হলুদ আলো।
- আর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলেই এগিয়ে যেতে হবে।
- চলন্ত অবস্থায় হলুদ বাতি জ্বলে উঠলে গতি কমিয়ে থামানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।
- লালবাতি জ্বলে উঠলে থামতে হবে।

উৎস: সময় নিউজ রিপোর্ট। [Link]
৫৪৩.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে?
  1. কাঁচ
  2. সিলিকন
  3. প্লাস্টিক
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাঁধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- এই পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৪.
পারমাণবিক বোমার তুলনায় হাইড্রোজেন বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা কত গুণ?
  1. 1000
  2. 100
  3. 10
  4. 5
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক বোমা (অ্যাটম বোমা) ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে, যেখানে হাইড্রোজেন বোমা (থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা) ফিউশন প্রক্রিয়ায় কাজ করে। ফিউশনে হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়, যা ফিশনের তুলনায় অনেক বেশি। ইতিহাসে দেখা যায়, হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার শক্তি ছিল প্রায় ১৫ কিলোটন, আর হাইড্রোজেন বোমার শক্তি কয়েক মেগাটন পর্যন্ত হতে পারে। তাই সাধারণভাবে বলা হয়, হাইড্রোজেন বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ১০০০ গুণ বেশি। সঠিক উত্তর: ক) 1000.

• হাইড্রোজেন বোমা:
- হাইড্রোজেন বোমায় মূলত পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটে।  
- এখানে ফিশন ও ফিউশন উভয় বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমার মূল শক্তি ফিউশন বিক্রিয়া থেকে আসলেও, সেই বিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রথমে একটি ফিশন বিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- প্রথমে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- সেই শক্তি দিয়ে হাইড্রোজেন আইসোটোপ (ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম)-এর ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়।  
- এই ফিউশন বিক্রিয়ায় অতি অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমা কে বলা হয় থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা।  
- এটি সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী।  

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া অন্যতম। 
 
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে। 
নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো-

• নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুইটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি একটি নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া। 

- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
 ব্রিটানিকা [link]

৫৪৫.
এক্স-রের কোন ধর্মটি সঠিক?
  1. এতে চার্জ থাকে 
  2. এটির ভেদন ক্ষমতা খুবই কম 
  3. এটি গ্যাসকে আয়নিত করতে সক্ষম  
  4. এটি দৃশ্যমান আলো 
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-Rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (X-Rays) আবিষ্কার করেন। 
- প্রফেসর রঞ্জন একে "X-Rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এক্স-রের কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৬.
ডায়োড সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
  2. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
  3. একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- ডায়োড হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা একটি নির্দিষ্ট সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করতে সক্ষম, তবে উল্টো সংযোগে প্রবাহিত হয় না।
- ডায়োডের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। সাধারণ ডায়োডের পাশাপাশি, বিভিন্ন রঙের ছোট আলো যেমন Light Emitting Diode (LED) ব্যবহার করা হয়।
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী এবং একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহী মিলিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- 'ডায়োড' মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে, যা এসি (Alternating Current) প্রবাহকে ডিসি (Direct Current) প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৭.
P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়?
  1. Aluminum
  2. Phosphorus
  3. Bromine
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• P-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য ডোপিং উপাদান হিসেবে Aluminum ব্যবহার করা হয়। জার্মেনিয়াম একটি অর্ধপরিবাহী উপাদান, যা ডোপিংয়ের মাধ্যমে তার পরিবাহিতা বাড়ানো যায়। P-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে এমন উপাদান প্রয়োজন যা জার্মেনিয়ামের চেয়ে একটি কম শক্তিবাহু ইলেকট্রন সরবরাহ করে। Aluminum একটি ট্রাইভ্যালেন্ট উপাদান, অর্থাৎ এর বাইরের স্তরে তিনটি ইলেকট্রন থাকে। এটি জার্মেনিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে ইলেকট্রনের ঘাটতি বা ‘হোল’ সৃষ্টি করে, যা পজিটিভ চার্জ বহনকারী হিসাবে কাজ করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) Aluminum.

• ডোপিং (Doping):

- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়।
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে।

- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে।
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে।
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন।
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮.
পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস নিচের কোনটি? 
  1. ডায়নামো
  2. সৌরকোষ
  3. ব্যাটারি 
  4. ডিসি জেনারেটর
ব্যাখ্যা

- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস হচ্ছে 'জেনারেটর বা ডায়নামো'

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫৪৯.
এক্স-রের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কম ভেদন ক্ষমতা
  2. অদৃশ্য রশ্মি 
  3. চার্জযুক্ত কণা 
  4. দৃশ্যমান রশ্মি 
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (x-rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি থেকে এক্স-রে (x-rays) আবিষ্কার করেন।
- প্রফেসর রঞ্জন একে 'x-rays' নামে অভিহিত করেন, পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এক্স-রের কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫০.
যে ট্রান্সফরমারে সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা প্রাইমারির তুলনায় কম হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. প্রাইমারি ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  3. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  4. সিকোয়েন্স ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

- যে ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা প্রাইমারি তুলনায় কম হয়, তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলা হয়, কারণ এটি ভোল্টেজ কমিয়ে দেয়, যা কম প্যাঁচের কারণে ঘটে। 

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

- প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু বৈদ্যুতিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটা পরিমাপ করা হয় VI (ভোল্টেজ × কারেন্ট) দিয়ে, একটা ট্রান্সফরমারে প্রাইমারিতে যে পরিমাণ VI প্রয়োগ করা হয়, সেকেন্ডারি কয়েল থেকে ঠিক সেই পরিমাণ VI ফেরত পাওয়া যায়। কাজেই সেকেন্ডারিতে যদি ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে সেখানে বিদ্যুৎও দশ গুণ কমে যাবে। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫১.
MRI যন্ত্রে কোন ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয়?
  1. আলোক বিকিরণ
  2. এক্স-রে
  3. গামা বিকিরণ
  4. রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্রটি কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই এমআরআই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫২.
গামা রশ্মি বিকিরণে কোনটি পরিবর্তিত হয়?
  1. ইলেকট্রন সংখ্যা
  2. প্রোটন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (β)
- গামা রশ্মি, স্বল্পতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সর্বোচ্চ শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- এটি নির্গমনের ফলে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই রশ্মির কোনো ভর নেই।
- আয়নিত করার ক্ষমতা সর্বনিম্ন ও ভেদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ।


- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- তবে গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- কিন্ত মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই গামা রশ্মি।

তথ্যসূত্র:  পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৩.
Which of the following is a semiconductor?
  1. Germanium
  2. Silicon
  3. Aluminium
  4. Both A and B
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
- যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
একমুখীকরণের কাজ নিচের কোন যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয়?
  1. অ্যামপ্লিফায়ার 
  2. রেফটিফায়ার 
  3. ট্রানজিস্টর 
  4.  ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে। 
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে। 
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না। 
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 
 
উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৫.
জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি কোনটি? 
  1. আলফা রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৫৫৬.
কোন রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন একটি কণা?
  1. আলোক রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৭.
গামা রশ্মি -
  1. আধানহীন
  2. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  3. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  4. চার্জ পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি (γ-rays) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic Radiation), যা দৃশ্যমান আলোর মতোই প্রকৃতিতে কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি কোনো কণা নয়, বরং উচ্চ-শক্তির ফোটন (Photon) দিয়ে গঠিত। যেহেতু ফোটনের ভর নেই এবং কোনো বৈদ্যুতিক আধানও নেই, তাই গামা রশ্মি আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৮.
রেকটিফায়ার ব্যবহৃত হয়-
  1. এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  2. ডিসি ভোল্টেজকে এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current- এসি) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে কোনটি ঘটে?
  1. পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. পরিবাহিতা হ্রাস পায়
  3. মুক্ত ইলেকট্রনের পরিমাণ হ্রাস পায়
  4. হোলের পরিমাণ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

• সেমিকন্ডাক্টর: 

- যেসকল পদার্থের আপেক্ষিক রোধ অপরিবাহী ও পরিবাহীর মধ্যবর্তী তাদেরকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী বলা হয়।
• ডোপায়ন: 
- পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য মেশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপায়ন বলা হয়। 

• সেমিকন্ডাক্টর প্রধানত দুই প্রকারঃ
→ ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত (Intrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
-  যে সকল সেমিকন্ডাক্টরে কোনো অপদ্রব্য মেশানো হয় না তাদেরকে ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- এটি খাঁটি বা বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টর।
- এতে কোনো ডোপেন্ট (dopant) মেশানো থাকে না।
- এতে ইলেকট্রন ও হোল (hole) এর সংখ্যা সমান থাকে।

→ এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত (Extrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
- অপদ্রব্য মেশানো সেমিকন্ডাক্টরকে এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে (প্রায় এক কোটি পরমাণুতে একটি পরমাণু) মেশালে এতে বিপুল পরিমাণে মুক্ত ইলেক্ট্রন বা হোল সৃষ্টি হয়।
- ডোপায়নের ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
- বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা বাড়ানোর জন্য এতে সামান্য পরিমাণে অপদ্রব্য যোগ করা হয়।
- ডোপায়নের মাধ্যমে n-type এবং p-type এই ২ ধরনের এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টর তৈরি হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫৬০.
মহাজাগতিক রশ্মি বলতে কী বোঝায়? 
  1. চাঁদের আলোক
  2. সৌরশক্তির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
  4. বায়ুমণ্ডলে গঠিত গ্যাসীয় কণা
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫৬১.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে? 
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে, ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C । 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি 
ব্যাখ্যা

• একটি ব্রিজ রেকটিফায়ার (Bridge Rectifier) তৈরি করতে চারটি ডায়োডকে ব্রিজের মতো বিশেষ সংযোগে সাজানো হয়। এটি অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) এর উভয় চক্রকে (পজিটিভ ও নেগেটিভ) ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) এ রূপান্তর করতে পারে।

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

• পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে।
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়।
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।
২. পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৩.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস-৩২
  2. কার্বন-১৪ 
  3. আয়োডিন-১৩১ 
  4. কোবাল্ট-৬০ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার শনাক্ত করতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- রক্তের লিউকেমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট যৌগ ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড়ের বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় এবং ব্যথার কারণ চিহ্নিত করতে টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- মস্তিষ্কের ক্যান্সার চিকিৎসায় ইরিডিয়াম আইসোটোপ প্রয়োগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৪.
ডায়োড মূলত কোন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়?
  1. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
  2. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  3. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  4. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত এক ধরনের অর্ধপরিবাহী উপাদান যা বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে প্রবাহিত হতে দেয় এবং বিপরীত দিকের প্রবাহকে বাধা দেয়। এটি সার্কিটে একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা rectification প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ডায়োড AC (বিকল্প ধারা) কে DC (স্থির ধারা) তে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এছাড়া কিছু ডায়োড ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ বা সিগন্যালের গতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার হয়, তবে মূল কাজ হলো একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৫.
ফোটন কণা কোন ধরনের বল বহন করে? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচৌম্বক
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

• ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উল্লেখ্য:
- ভরের আকর্ষণ বা মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্র্যাভিটন।
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনকে আবদ্ধকারী সবল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো গ্লুয়ন।
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের জন্য দায়ী দুর্বল নিউক্লীয় বলের বাহক হলো W ও Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
হিগস বোসন কণা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে
  2. বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে
  3. হিগস বোসনকে ঈশ্বর কণা বলা হয়
  4. হিগস বোসনের মাধ্যমে মৌলিক কণার ভর স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

বোসন কণা (যেমন: ফোটন, হিগস বোসন) পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না। 

• বোসন (Boson):

- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই।
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের।  যথা-
(i) গেজ বোসন (Gauge Boson):
- এদের স্পিন হলো 1।
- এই কণাগুলো হলো- গ্লুওন (g), ফোটন (y) এবং W ও Z বোসন।
- গ্লুওন: গ্লুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর
শূন্য।
- ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।
(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৭.
n-p-n ট্রানজিস্টরে মাঝখানে কোন ধরনের অপদ্রব্য দিয়ে ডোপিং করা হয়?
  1. ধাতব
  2. পাঁচযোজী
  3. তিনযোজী
  4. নিরোধক
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে। 
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৮.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি এক্স-রের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. ভেদন ক্ষমতা কম
  2. জীবন্ত কোষে কোনো প্রভাব ফেলে না
  3. গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে
  4. চুম্বকীয় বিকৃতির মাধ্যমে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৯.
হিগস বোসনের স্পিন কত?
  1. ০ 
  2. ১/২ 
  3. ২ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God's Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭০.
ট্রানজিস্টরে কতটি টার্মিনাল থাকে? 
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ৫ 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে
যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭১.
আপেক্ষিক তত্ত্বের মাধ্যমে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ 
  2. ভূমিকর্ষণ
  3. শক্তির সংরক্ষণশীলতা 
  4. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ
ব্যাখ্যা

- আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মহাকর্ষের একটি জ্যামিতিক তত্ত্ব, যা স্থান-কালের বক্রতাকে কাজে লাগিয়ে মহাকর্ষ বলকে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বের ভিত্তিতে মহাবিশ্বের নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি এবং সম্প্রসারণশীলতার ধারণা ব্যাখ্যা করা যায়। 
অন্যদিকে, 
- শব্দের বিস্তারের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়; শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলাচল করতে পারে না। এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের বিষয় নয়।
- শক্তির সংরক্ষণশীলতা পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি, যা আপেক্ষিক তত্ত্বের আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিল। আপেক্ষিক তত্ত্ব এই নীতিকে সমর্থন করে, কিন্তু এটি আপেক্ষিক তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো নতুন বিষয় নয়। বরং, ভর-শক্তি সমতা (E = mc2) এই দুটি ধারণাকে একত্রিত করে। 

আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭২.
কোনটির আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে? 
  1. টেলিভিশন
  2. কম্পিউটার
  3. অসিলেটর
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন।
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর।
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে।
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৩.
আলফা রশ্মি হলো মূলত -
  1. প্রোটন
  2. আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
  3. নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি মূলত আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস যার ভর 6.6 × 10-27 কেজি। 
- ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব। 
- আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6 x 10-13J হতে 9 MeV বা 1.44 x 10-12J পর্যন্ত হয়। 
- আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
- আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
- আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তু তড়িৎগ্রস্থ কিনা তা যাচাই করা যায় এবং তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চার্জের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
অ্যামিটার হলো একটি যন্ত্র যার সহায়তায় বিদ্যুতের প্রবাহ সরাসরি বৈদ্যুতিক একক অ্যাম্পিয়ারে পরিমাপ করা যায়।

যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

দূরবীক্ষণ যন্ত্র তথা দূরবীন (টেলিস্কোপ) এমন একটি যন্ত্র যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু দর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি দূরবর্তী বস্তু থেকে নির্গত বিকিরণ সংগ্রহ, পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

৫৭৫.
সম্মুখী ঝোঁকের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. P-type ধনাত্মক প্রান্তে , N-type ঋণাত্মক প্রান্তে
  2. N-type ধনাত্মক প্রান্তে , P-type ঋণাত্মক প্রান্তে
  3. P-type, N-type উভয়ই ঋণাত্মক প্রান্তে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্মুখী ঝোঁক:
- যখন জাংশনে বহিভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয় যাতে বিভব প্রাচীর হ্রাস পায় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু হয় তখন একে সম্মুখী ঝোঁক প্রয়োগ করা বুঝায়।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ধনাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সাথে এবং ঋণাত্মক প্রাপ্ত n টাইপের প্রান্তের সাথে সংযোগ দেয়া হয়।
- যখন সম্মুখী ঝোঁক দ্বারা বিভব প্রাচীর অপসারিত হয়, জাংশনের রোধ তখন শূন্যে নেমে আসে।
- তখন p-n জাংশানে ও বহিঃস্থ বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্ঠি হয়।
- এই প্রবাহকে সম্মুখী প্রবাহ বলে।

বিমুখী ঝোঁক:
- যদি বহির্ভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যাতে বিভব প্রাচীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তবে এ ধরনের ঝোঁক প্রয়োগকে বলা হয় বিমুখী ঝোঁক প্রয়োগ বা বিপরীত বায়াসিং (Reverse biasing)।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ঋণাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে এবং ধনাত্মক প্রান্ত n-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়।
- বিভব প্রাচীর বৃদ্ধির ফলে আধান বাহকের চলাচলে আরো অধিক বাধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থাৎ রোধ অনেক বেড়ে যায় ফলে বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
নিচের কোনটি হিগস বোসনের সঠিক বৈশিষ্ট্য? 
  1. স্পিন আছে, ভর নেই
  2. স্পিন নেই, ভর আছে 
  3. স্পিন ও ভর উভয়ই আছে 
  4. স্পিন ও ভর উভয়ই নেই 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে। 
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৭.
তেজস্ক্রিয়তার কোন বৈশিষ্ট্যটি সত্য?
  1. এটি শুধুমাত্র তাপের দ্বারা পরিবর্তিত হয়
  2. এটি শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
  3. এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না
  4. এটি বাইরের চাপ, তাপ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় 
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয়তার সঠিক বৈশিষ্ট্যটি হছে 'এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা এবং বাইরের কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না'। 

তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 
- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লী ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৮.
নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়- 
  1. বায়ু টারবাইনে
  2. সৌর প্যানেলে
  3. সৌর ক্যালকুলেটরে
  4. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৯.
ট্রানজিস্টরের সাথে রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে যে সার্কিট তৈরি করা হয় তাকে কী বলে?
  1. IC
  2. RAM
  3. Processor
  4. Motherboard
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC):
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮০.
আপেক্ষিকতার নীতি অনুযায়ী, কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ মূলত কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. আলোর উৎসের সাপেক্ষে 
  3. স্থির বিন্দুর সাপেক্ষে
  4. প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিকতার নীতি: 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়, কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। 
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়। 
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়, আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন, এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮১.
ট্রান্সফরমারের কাজ কী? 
  1. তাপ শক্তি উৎপাদন করা 
  2. বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা
  3. বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা
  4. উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের এক বাহুতে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে মুখ্য কুণ্ডলী এবং অপর বাহুতে একইভাবে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে গৌণ কুণ্ডলী তৈরি করা হয়।
- মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তি তড়িচ্চালক শক্তি প্রয়োগ করলে কোরে চৌম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয়। 
- যেহেতু কোরটি আয়তাকার সেহেতু চৌম্বক বলরেখাগুলো বদ্ধ হয় এবং যে পরিমাণ বলরেখা মুখ্য কুণ্ডলীর বাহুতে সৃষ্টি হয় সেই পরিমাণ বলরেখার গৌণ কুণ্ডলীর কোরের বাহু অতিক্রম করে। 
- ফলে পরিবর্তিত প্রবাহের কারণে মুখ্য কুণ্ডলীতে যে পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন ঘটে ঠিক সেই পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন গৌণ কুণ্ডলীতেও ঘটে। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
যে বর্তনীর সাহায্যে A.C কে D.C তে রূপান্তর করা হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা:
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: যে বর্তনীর সাহায্যে পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current বা A.C.) কে একমুখী প্রবাহ (Direct Current বা D.C.)-এ রূপান্তর করা হয়, তাকে একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier) বলা হয়।
এটি মূলত ডায়োড ব্যবহার করে A.C.-এর নেগেটিভ অংশকে ইতিবাচক করে বা শুধু ইতিবাচক অংশকে ব্যবহার করে D.C. প্রবাহ তৈরি করে।

অন্য অপশনগুলো-
ক) অ্যামিটার: বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ (কারেন্ট) পরিমাপ করার যন্ত্র, রূপান্তরের কোনো কাজ করে না।

গ) ট্রান্সফরমার: শুধুমাত্র A.C. ভোল্টেজকে বাড়ায় বা কমায়, কিন্তু A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

ঘ) ট্রানজিস্টর: সুইচ, অ্যামপ্লিফায়ার বা অসিলেটর হিসেবে কাজ করে, সরাসরি A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
কোনটির আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এর সূচনা করে?
  1. রেডিও
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাথোড রশ্মি
  4. তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি আধা-পরিবাহী ডিভাইস যা ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বুস্ট (amplify) বা সুইচ (switch) করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারই আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের সূচনা করে।
এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
⇒ ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories-এর বিজ্ঞানী John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 1956 Physics Nobel Prize দেওয়া হয় Bardeen, Brattain, ও Shockley-কে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য।
  এর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত হত বিশালাকৃতির ভ্যাকুয়াম টিউব, যা ছিল ভারী ও অকার্যকর।

ট্রানজিস্টর এর প্রভাব:
⇒ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি, রেডিওসহ প্রায় সব আধুনিক ডিভাইসে ট্রানজিস্টর ব্যবহার হয়।
⇒ এটি দিয়েই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ভিত্তি স্থাপন হয়।
⇒ Digital Revolution বা তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব সম্ভব হয় ট্রানজিস্টরের জন্যই। 

অন্যদিকে, 
রেডিও: এটি তথ্য পাঠানোর একটি মাধ্যম, তবে ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি নয়।

ক্যাথোড রশ্মি: এটি একটি ইলেকট্রন রশ্মি, যা টিভি স্ক্রিন বা মনিটরে ব্যবহৃত হয়; এটি ইলেকট্রনিক্সের একটি ধাপ হলেও সূচনা নয়।

তরঙ্গ:
এটি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রাংশ বা সার্কিট বোঝাতে তরঙ্গ ব্যাবহার করা হয় না।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – নবম-দশম শ্রেণি (NCTB)
-  San José State University, California. 
-   NobelPrize.org
৫৮৪.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো কোন নীতি অনুসরণ করে? 
  1. পরোক্ষ প্রতিফলন 
  2. আলো বিভাজন 
  3. আলো শোষণ 
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যা আলোর সংকেত বহন করে।
- ফাইবারের মূল ধারণা হলো লাইট সিগন্যালকে কোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে সঙ্কেত দূরত্বে কম ক্ষয় হয়।
- এটি সম্ভব হয় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মাধ্যমে।
- কোরের প্রতিসরণাঙ্ক (n₁) ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরণাঙ্ক (n₂) এর চেয়ে বেশি।
- আলো কোর-ক্ল্যাডিং সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট কোণ (> critical angle) দিয়ে প্রতিফলিত হয় এবং ক্ল্যাডিংয়ে যায় না।

অপরদিকে, 
পরোক্ষ প্রতিফলন: সত্যি নয়, এটি আংশিক প্রতিফলনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আলো বিভাজন: ফাইবারে সিগন্যাল বিভক্ত হয় না, বরং সঙ্কুচিত হয়।
আলো শোষণ: ক্ষয় বা হ্রাসের কারণ, আলো পরিবহন নীতি নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৫৮৫.
ট্রান্সফর্মার কোন নীতিতে কাজ করে?
  1. তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
  2. ওহমের সূত্র
  3. জুলের তাপীয় প্রভাব
  4. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫৮৬.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ কোনটি? 
  1. E = m2c
  2. W = Fd
  3. E = mc2
  4. F = ma
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৭.
সৌর সেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন পদার্থ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোনা
  2. তামা
  3. সিলিকন
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
• সৌর কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সিলিকন ব্যবহৃত হয়। 
 
• সৌর কোষ: 
- সৌর কোষ বা সৌর সেল হলো এক ধরনের ডিভাইস যা সূর্যের আলো (ফোটন) শোষণ করে এবং এটিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- সৌর সেল বা ফটোভোলটাইক কোষে সিলিকন (Si) ব্যবহৃত হয়, যা একটি অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) পদার্থ।
- এটি সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• সৌর সেলের কাজের পদ্ধতি:
- সূর্যের ফোটন সিলিকন পরমাণুতে আঘাত করে।
- ইলেকট্রন-হোল জোড় সৃষ্টি হয়।
- p-n জাংশনের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৫৮৮.
ডায়োড মূলত কোন ধরনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেকটিফায়ার
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেজিস্টর
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে ব্যবহার হয়, অর্থাৎ এটি AC সিগনালকে DC-তে রূপান্তর করে।
সঠিক উত্তর: ক) রেকটিফায়ার। 

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৯.
একটি NPN ট্রানজিস্টরে, প্রধান চার্জ বাহক হলো- 
  1. হোল 
  2. ইলেকট্রন 
  3. প্রোটন
  4. আয়ন
ব্যাখ্যা

- একটি NPN ট্রানজিস্টরে প্রধান চার্জ বাহক হলো ইলেকট্রন। NPN ট্রানজিস্টরে দুটি N-type সেমিকন্ডাক্টর স্তরের মাঝে একটি পাতলা P-type স্তর থাকে। যেহেতু N-type পদার্থে ইলেকট্রনের আধিক্য থাকে, তাই এই ট্রানজিস্টরে তড়িৎ প্রবাহের মূল দায়িত্ব পালন করে ইলেকট্রন। অপরদিকে, হোল হলো P-type এর প্রধান বাহক। 

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
- ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
- দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

n-p-n ট্রানজিস্টরের কার্যক্রম: 
- n-p-n ট্রানজিস্টরকে কার্যকর করার জন্য এর দুটি জাংশনকে দু'ভাবে বায়াস করা হয়। নিচের চিত্রে ট্রানজিস্টরের এমিটার-বেস জাংশনে সম্মুখী বায়াস এবং কালেক্টর বেস জাংশনে বিমুখী বায়াস প্রয়োগ করা হয়েছে।


- এমিটার বেস জাংশনে সম্মুখী ঝোঁকে থাকায় এমিটার হতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে জাংশন ভেদ করে বেসের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এমিটার প্রবাহ তৈরি করে। 
- ইলেকট্রনগুলো যখন p টাইপ বেসে প্রবেশ করে, তখন এগুলো সেখানকার হোলের সাথে মিলিত হতে চায়। কিন্তু বেস খুব পাতলা হওয়ার কারণে এবং হালকাভাবে ডোপিং এর ফলে খুব সামান্য পরিমাণ (5% এর কম) ইলেকট্রন হোলের সাথে মিলিত হয়। এরূপ মিলনের ফলে খুব সামান্য বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, বাকী প্রায় 95% ইলেকট্রন বেস অঞ্চল ভেদ করে ধনাত্মক কালেক্টর ভোল্টেজের আর্কষণে কালেক্টর অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং কালেক্টর প্রবাহ সৃষ্টি করে। এভাবে প্রায় সম্পূর্ণ এমিটার প্রবাহ কালেক্টর বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। 
- কালেক্টর জাংশনে আগত ইলেকট্রন কালেক্টর প্রান্তে প্রযুক্ত ধনাত্মক বিভবেব আকর্ষণে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি করে। প্রায় 5% ইলেকট্রন বেসে হোলের সাথে মিলিত হওয়ায় ফলে সামান্য পরিমান বেস প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে কালেক্টর প্রবাহ এমিটার প্রবাহ অপেক্ষা সামান্য কম হয়। 
- এমিটার প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে অধিক পরিমাণ ইলেকট্রন বেসে প্রবেশ করে, যা কালেক্টরের ধনাত্মক বিভব দ্বারা আকর্ষিত হয়। ফলে কালেক্টর প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, এ প্রক্রিয়ার এমিটার প্রবাহ দ্বারা কালেক্টর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের ভেতরে তড়িৎপ্রবাহ হয় ইলেকট্রনের প্রবাহের জন্য এবং বর্তনীর সংযোগ তারের মধ্যেও তড়িৎ প্রবাহ ইলেকট্রনের জন্য হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯০.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়? 
  1. ফ্যাক্স
  2. রেডিও
  3. মোবাইল
  4. টেলিফোন
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯১.
By which other name is the Higgs boson particle popularly known?
  1. Neutrino particle
  2. Photon particle
  3. Dark matter particle
  4. God particle
  5. Exotic boson
ব্যাখ্যা

• হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- হিগস বোসন ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯২.
অর্ধপরিবাহীর রোধ ও তাপমাত্রার সম্পর্ক কেমন? 
  1. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ বাড়ে
  2. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ হ্রাস পায়
  3. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ দ্বিগুণ হয়
  4. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতুও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

- অর্ধপরিবাহীর কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৩.
প্রত্যেক কম্পাঙ্কের জন্য সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কী?
  1. ফোটন 
  2. মেসন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলো এবং অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের মৌলিক কণা বা শক্তির প্যাকেট। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, বিকিরিত বা শোষিত শক্তির পরিমাণ বিচ্ছিন্ন এবং একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের (f) জন্য শক্তির এই নির্দিষ্ট পরিমাণকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। ফোটনের শক্তি (E) সরাসরি কম্পাঙ্কের (f) সমানুপাতিক, যা E = hf সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয় (যেখানে h হলো প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক)। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের জন্য, ফোটনই হচ্ছে সেই সর্বনিম্ন শক্তির বাহক কণিকা। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- মেসন হলো এক ধরণের হ্যাড্রন কণা যা প্রধানত সবল নিউক্লীয় বলের মিথস্ক্রিয়ায় জড়িত এবং এদের শক্তি কম্পাঙ্কের উপর নির্ভরশীল নয়।
- প্রোটন একটি উপ-পারমাণবিক কণা যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় এবং এর একটি নির্দিষ্ট ভর আছে। এটি শক্তির বাহক হিসেবে কাজ করে না।
- পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা (antiparticle), এটির ইলেকট্রনের সমান ভর এবং ধনাত্মক চার্জ আছে। এটিও পদার্থের একটি গাঠনিক উপাদান (যদিও প্রতিকণা) এবং ফোটনের মতো শক্তি কোয়ান্টা (quanta) নয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫৯৪.
নিচের কোনটি ব্যবহার করে রেক্টিফিক্যাশন করা হয়?
  1. ডায়োড
  2. রেজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটার
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
• Rectification (রেক্টিফিক্যাশন ):
-  শব্দটি মূলত ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ হলো AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) এ রূপান্তর করা।
-  এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ডায়োড ব্যবহার করা হয়।

• ডায়োড:
- ডায়োড একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস, যা কেবলমাত্র এক দিক থেকে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয়।
- যখন AC কারেন্ট ডায়োডের মধ্য দিয়ে যায়, এটি কারেন্টের ঋণাত্মক অংশকে ব্লক করে, ফলে DC পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- ক্যাপাসিটার: এটি চার্জ সঞ্চয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- রেজিস্টর: এটি কারেন্ট প্রবাহকে সীমিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফরমার: এটি ভোল্টেজের মাত্রা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৯৫.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'GPS' এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Publication System
  2. Global Pointing System
  3. Global Positioning System
  4. Great Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত GPS এর পূর্ণরূপ 'Global Positioning System'. 
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
৫৯৬.
গামা রশ্মিকে কোন মাধ্যমে প্রভাবিত করা যায়?
  1. বিদ্যুৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. বিদ্যুৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্র উভয়ই
  4. কোনো মাধ্যমে নয়
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি হলো উচ্চ শক্তির একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো গামা রশ্মি বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা আধানহীন, তাই এটি কোনো বৈদ্যুতিক আধান বহন করে না। আধানহীন হওয়ার কারণে গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র (Electric Field) বা চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) দ্বারা প্রভাবিত বা বিচ্যুত হয় না। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)।
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৭.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. অ্যামপ্লিফায়ার
  2. রেজিস্ট্যান্স 
  3. রেকটিফায়ার
  4. ক্যাপাসিটর 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৮.
চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক্স-রের ভেদন ক্ষমতা ব্যবহার করে কী করা হয়?
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন
  2. রঙিন ছবি তোলা 
  3. রেডিওগ্রাফি গ্রহণ
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৯.
MRI কোন্ নীতিতে কাজ করে?
  1. শরীরের ত্রি-মাত্রিক চিত্র তৈরি করতে এক্স-রে ব্যবহার করে
  2. তেজস্ক্রিয় ট্রেসার দ্বারা নির্গত গামা-রে সনাক্তের মাধ্যমে 
  3. শক্তিশালী চুম্বক এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
  4. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ইমেজ তৈরির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- MRI (Magnetic Resonance Imaging) মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনকে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে সারিবদ্ধ করে এবং তাদের শক্তি নির্গমনের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে, যা এক্স-রে বা শব্দ তরঙ্গের চেয়ে ভিন্ন। 

এমআরআই (MRI): 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। 

- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০০.
বিটা রশ্মি কোন ধরনের বিকিরণ হিসেবে পরিচিত?
  1. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  2. প্রোটনের প্রবাহ
  3. নিউট্রনের প্রবাহ
  4. মেসনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত একটি ধরনের ইলেকট্রন বিকিরণ হিসেবে পরিচিত। এটি পরমাণুর অস্থির নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত হয় যখন একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় বা প্রোটন নিউট্রনে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ-শক্তির ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়, যাকে আমরা বিটা কণা বলি। বিটা রশ্মি অতিসূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে অণু এবং অণুর সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া করতে পারে, ফলে এটি বিভিন্ন পদার্থে প্রবেশ করতে সক্ষম। বিকিরণের ধরনের দিক থেকে, এটি কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহ এবং প্রোটন, নিউট্রন বা মেসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।