বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৭০১৮০০ / ৪,২০৮

৭০১.
নিচের কোনটি প্লিউরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে?
  1. ক) Nasopharynx
  2. খ) Larynx
  3. গ) Trachea
  4. ঘ) Lungs
ব্যাখ্যা

ফুসফুসের দুই স্তর প্লিউরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
ফুসফুস শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের বুকের বাঁ দিকে রয়েছে হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের দুই পাশজুড়েই ফুসফুসের অবস্থান। ফুসফুসের কাজ শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করা।
ফুসফুস স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল। এটি হালকা লালচে রঙের হয়। স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দুটি ফুসফুসের ওজন একত্রে হয় প্রায় ১.৩ কিলোগ্রাম।
দুটি ফুসফুসকে একত্রে বলা হয় ব্রংকাস। শ্বাস নেওয়ার সময় তা বেলুনের মতো ফুলে যায় এবং শ্বাস ছাড়ার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই ফুসফুসকে দেহের বেলুনও বলা হয়। প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২ থেকে ১৮ বার। আর শিশুরা নেয় ২০ থেকে ৩০ বার। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও মানসিক অবস্থার কারণে এর পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

৭০২.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) কলিজা, মাশরুম
ব্যাখ্যা
দুধ, ডিম, কলিজা, মাশরুম থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
Source:ods.od.nih.gov
৭০৩.
শৈবাল কয়টি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে?
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। ঐ সব রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে শৈবালের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- প্রোক্যারিয়োটিক হওয়ায় নীলাভ-সবুজ শৈবাল বর্তমানে সায়ানো ব্যাকটেরিয়া হিসেবে বিবেচিত। 
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। 
যেমন- (ক) অঙ্গজ জনন, (খ) অযৌন জনন এবং (গ) যৌন জনন। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্য: 
- শৈবালে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়- 
১। এরা সবাই অপুষ্পক। 
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না। 
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না। 
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী। 
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৪.
নিচের কোনটি ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাদ্য?
  1. ভাত
  2. দুধ
  3. রুটি
  4. লেবু
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে লেবু। 

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 

- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। 
- সুষম খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যায়। 
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
(ক) চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'এ', 'ডি', 'ই' এবং 'কে' (A, D, E, K )। 
(খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স ও 'সি' (Vit-B Complex ও Vit-C )। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৫.
উদ্ভিদের জন্য সালফার অপর্যাপ্ত হলে মূলত কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ব্লাইট
  2. ফ্লোরোসিস
  3. ডাইব্যাক
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের জন্য সালফার একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। সালফার প্রোটিন ও এনজাইম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন উদ্ভিদের সালফারের অভাব হয়, তখন এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রভাবিত করে এবং নতুন কচি পাতার বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে উদ্ভিদের কোষ দূর্বল হয়ে পড়ে, এবং বিশেষ করে কচি পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে। সালফারের ঘাটতির কারণে উদ্ভিতে দেখা দেয় প্রধানত ডাইব্যাক (Dieback) রোগ, যেখানে শীর্ষাংশ থেকে পাতার মৃত্যু শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পুরো শাখা বা গাছ প্রভাবিত হয়। এটি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

- সঠিক উত্তর: গ) ডাইব্যাক।

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০৬.
কোনটি মানবদেহে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে?
  1. ত্বক
  2. বি-কোষ
  3. ম্যাক্রফেজ
  4. মাস্ট কোষ
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৭.
Who is the proponent of the theory of Natural Selection?
  1. Jean-Baptiste Lamarck
  2. Gregor Johann Mendel
  3. Louis Pasteur
  4. Charles Darwin
  5. Isaac Newton
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক নির্বাচন বা 'Natural Selection' মতবাদের প্রবক্তা হলেন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন। তার মতে, প্রকৃতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে সেইসব প্রাণীই জয়ী হয় যাদের মধ্যে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো অনুকূল বৈশিষ্ট্য থাকে। ফলে জীবের বিবর্তন ঘটে এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এই ধারণাটিকে পরবর্তীতে “Survival of the Fittest” বলা হয় (যদিও এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন Herbert Spencer)।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত:

- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তার মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 
- তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত। 
- তিনি ১৮৩১ সালে H.M.B.S. Beagle নামক জাহাজে প্রকৃতিবিদ হিসেবে চাকরি পেয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন।
এছাড়া,
- 'Evolution' পরিপদটি ১৭৭৪ সালে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ ফন হলার।
- চার্লস লায়েল ‘The Principles of Geology’ বইটি রচনা করেন।
- ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাসেল ওয়ালেস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অন্যান্য অপশন:
- Jean-Baptiste Lamarck: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার তত্ত্বের (Inheritance of Acquired Characters) প্রবক্তা।
- Gregor Johann Mendel: বংশগতিবিদ্যার জনক এবং মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে বংশগতির সূত্র প্রদান করেন।
- Louis Pasteur: জীবাণুতত্ত্ব এবং পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতির জন্য বিখ্যাত।
- Isaac Newton: পদার্থবিজ্ঞানের গতির সূত্র এবং মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করেছেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৮.
সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের কোন অঙ্গ-উপাদানে ঘটে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবোজোম
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) প্লাস্টিড

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 

- সালোকসংশ্লেষণের সময় সবুজ উদ্ভিদ আলোর ফোটন কণা শোষণ করে আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- আলো হলো এক প্রকার তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ। এর উৎস হচ্ছে সূর্য।
- আলোর সাতটি রঙের মধ্যে লাল, নীল, কমলা ও বেগুনী আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয়।
- সবুজ ও হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয় না।
- একক আলো হিসেবে লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।
- ইহা ছাড়া অন্যান্য উপাদানও সালোকসংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে।
- বিভিন্ন ধরনের পিগমেন্ট (যেমন- হলুদ রঙের জ্যান্থোফিল, কমলা রঙের ক্যারোটিন, নীল রঙের ফাইকোসায়ানিন, লাল রঙের ফাইকোইরেথ্রিন ইত্যাদি), বিভিন্ন প্রকারের এনজাইম এবং আয়নসমূহ এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৯.
কোন ভাজক টিস্যুর কোষ দুটি তলে বিভক্ত হয়? 
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
  3. মাস ভাজক টিস্যু
  4. রিব ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১। মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

২। প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

৩। রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১০.
নিচের কোনটি প্রাণী বৈচিত্র্যের প্রকারভেদ?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে
যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। প্রকৃতিতে কয়েক ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-

• জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য। আবার মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

• প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

• বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১১.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ৮ জোড়া
  2. ১০ জোড়া
  3. ১২ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
ব্যাখ্যা

- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১২.
অ্যামিবা, ডায়াটম জীব জগতের নিচের কোন রাজ্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) প্রোটিস্টা
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) প্লানটি
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীবের উদাহরণ হলো- প্রোটোজোয়া (অ্যাামিবা, প্যারাম্যাসিয়াম) ও এককোষী শৈবাল (যেমন, ডায়াটম)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৩.
অঙ্গ গঠিত হয়-
  1. ক) একগুচ্ছ কোষের সমন্বয়ে
  2. খ) এক বা একাধিক তন্ত্র নিয়ে
  3. গ) এক বা একাধিক টিস্যু নিয়ে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু : একই আকার ও আকৃতির কিছু সংখ্যক কোষ গুচ্ছবদ্ধ হলে তাদের বিশেষ কাজ করতে দেখা যায়। এদের উৎসও এক। এ গুচ্ছবদ্ধ কোষগুলোই টিস্যু। অর্থাৎ অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত একগুচ্ছ কোষ যাদের উৎপত্তি এবং প্রধান প্রধান কাজ একই প্রকার সে সকল কোষগুচ্ছ হলো টিস্যু।

অঙ্গ- এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত এবং নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম প্রাণীদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ বলা হয়।
কোন অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে। এ সকল অঙ্গ কোন না কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
অবস্থানভেদে মানবদেহে দু’ধরনের অঙ্গ রয়েছে। যথা- বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হাত, পা, মাথা ইত্যাদি মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গসমূহ এবং পাকস্থলি, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, মলাশয়, হৃদপিন্ড, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, প্লীহা, ফুসফুস, বৃক্ক, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ।

তন্ত্র- একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তন্ত্র বলা হয়। যেমন- শ্বসন কাজ পরিচালনার জন্য শ্বাসনালী, ফুসফুস ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রাণীর শ্বসন তন্ত্র। এ রকম আরও কিছু তন্ত্র হলো পরিপাক তন্ত্র, রেচন তন্ত্র, প্রজনন তন্ত্র ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৪.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Taxonomy
  2. খ) Morphology
  3. গ) Histology
  4. ঘ) Embryology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের Morphology শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয়।
দেহের বাহ্যিক অংশগুলোর বর্ণনাকে External Morphology এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে Internal Morphology বলে।
Taxonomy শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
জীবদেহের টিস্যুর গঠন, বিন্যাস, এবং কার্যাবলী Histology শাখায় আলোচনা করা হয়।
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি এবং  বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৭১৫.
কৈশিক জালিকা কী?
  1. রক্তরস
  2. শিরা
  3. ধমনি
  4. রক্তনালি
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

কৈশিক জালিকা:
- ধমনি ও শিরার সংযোগস্থলে অবস্থিত কেবল এক স্তর বিশিষ্ট এন্ডোথেলিয়াম দিয়ে গঠিত যে সব সূক্ষ্ম রক্তনালি জালিকা আকারে বিন্যস্ত থাকে, সেগুলোকে কৈশিক জালিকা বলে।
- কৈশিক জালিকার মাধ্যমে রক্ত ও কলারসের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ার দ্বারা পুষ্টিদ্রব্য, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, রেচন পদার্থ, ইত্যাদির আদান-প্রদান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৬.
কোন উদ্ভিদের বীজে এরিল নামক স্তর পাওয়া যায় না?
  1. লিচু
  2. সফেদা
  3. জায়ফল
  4. শাপলা
ব্যাখ্যা
বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উভয় প্রকার উদ্ভিদে ডিম্বক থেকে বীজ সৃষ্টি হয়। 
- নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। 
- রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। 
- এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল বলে।
- লিচু ও জায়ফলে এরিল পাওয়া যায়।
- শাপলা বীজেও এরিল থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭১৭.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষের উৎস নয়? 
  1. মাছ 
  2. ডাল 
  3. ডিম 
  4. দুধ 
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা-
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- প্রোটিনের বিশেষ একটি প্রাকৃতিক ধরনের কোড নাম P-49 নামে পরিচিত, যা দেহের জটিল জৈবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৭১৮.
প্রাণির নাম নিচের কোন সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত হবে?
  1. ICN
  2. ICVN
  3. ICBN
  4. ICZN
ব্যাখ্যা
• জীবের নামকরণ (Nomenclature):
- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী

 • নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৯.
স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. পালংশাক
  2. লেটুস
  3. আউশ ধান
  4. আলু
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়।
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা - 

১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি।

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ:
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়।
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না।
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭২০.
নিচের কোনটিকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে (Artificial Media) জন্মানো যায় না?
  1. মাইকোপ্লাজমা
  2. অ্যাকর্টিনোমাইসিটিস
  3. নীলাভ সবুজ শৈবাল
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো যায় না। 
- ভাইরাস হলো একটি অতি সূক্ষ্ম জীবাণু যা কোনো প্রজাতির জীবন্ত কোষের মধ্যে বসবাস করে এবং সেখান থেকেই সবরকম প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। 
- ভাইরাসের নিজস্ব কোনো জীবনচক্র নেই, তাই এটি কোনো প্রকার কৃত্রিম মাধ্যমে জীবিত থাকতে পারে না বা বংশ বিস্তার করতে পারে না। 

অন্যদিকে, 
- মাইকোপ্লাজমা হচ্ছে একক-কোষী প্রোকেরিওটিক বা ব্যাকটেরিয়া যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব।
- অ্যাকর্টিনোমাইসিটিস হচ্ছে একক-কোষী প্রোকেরিওটিক বা ব্যাকটেরিয়া যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল হচ্ছে ফটোসিনথেসিস করতে সক্ষম প্রোকেরিওটিক যা কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো যায়। 

সুতরাং, ভাইরাসকে কৃত্রিম আবাদ-মাধ্যমে জন্মানো সম্ভব নয়। কারণ এদের নিজস্ব কোনো জীবনচক্র নেই এবং এরা জীবন্ত কোষের উপরই নির্ভরশীল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২১.
একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা কত লিটার?
  1. ৪ লিটার
  2. ৫ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

• ফুসফুস (Lungs):
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত।
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে।
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট।
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে।
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২২.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর পাম্পের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে? 
  1. এপিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। 
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 
- হৃৎপিণ্ড তিন সতরে গঠিত। 
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 

- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৭২৩.
DNA তে কয় ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে?
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA। DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথা-
১. অ্যাডেনিন,
২. গুয়ানিন,
৩. সাইটোসিন ও
৪. থাইমিন।

অপরদিকে, RNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেসের শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৪.
ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন নেই?
  1. Vitamin-A
  2. Vitamin-B
  3. Vitamin-C
  4. Vitamin-D
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
• ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই।
• সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
• টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
• সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
• সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।

৭২৫.
সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

ফল:
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে, তাকে ফল বলে।

• শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন: আম, জাম।

• গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয়, তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন: আপেল, চালতা ইত্যাদি।

• সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: সরল ফল, গুচ্ছ ফল এবং যৌগিক ফল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৭২৬.
মানুষের কয়টি লালাগ্রন্থির আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৬
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
মানুষের তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া প্যারোটিড গ্রন্থি। চোয়ালের নিচে একজোড়া সাব ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং চিবুকের নিচে একজোড়া সাব-লিঙ্গুয়াল গ্রন্থি। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৭.
পালমোনারি শিরা কী ধরনের রক্ত পরিবহন করে?
  1. নাইট্রোজেনযুক্ত রক্ত
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত
  3. অক্সিজেনযুক্ত রক্ত
  4. ইউরিয়াযুক্ত রক্ত
ব্যাখ্যা

পালমোনারি শিরা হলো একটি ব্যতিক্রমী শিরা, যা ফুসফুস থেকে গ্যাসীয় আদান-প্রদান শেষে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দে পরিবহন করে।

• শিরা:
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে।
- পালমোনারি শিরা এই নিয়মের ব্যতিক্রম এবং এটিই মানবদেহের একমাত্র শিরা যা বিশুদ্ধ বা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
- এই অক্সিজেনযুক্ত রক্তই পরে বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে সঞ্চালিত হয়।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়।
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়।
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়।

• ধমনি:
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artery) বলে।
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট।
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়।
- ধমনির স্পন্দন আছে।
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriole) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়।
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery, CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৮.
নিচের কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ?
  1. জবা
  2. ধান
  3. ফার্ন
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের কখনও ফুল হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হল-
• আদি উদ্ভিদ বর্গ বা প্রোটোফাইটা।
• সমাঙ্গ বর্গ বা থ্যালোফাইটা।
• মসবর্গ বা ব্রায়োফাইটা।
• ফার্ন বর্গ বা টেরিডোফাইটা।
- ক্লোরেলা, নস্টক, শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ন ইত্যাদি অপুষ্পক উদ্ভিদ।

সপুষ্পক উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- সপুষ্পক উদ্ভিদ দুই প্রকার। যথা-
• নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
• গুপ্তবীজী উদ্ভিদ।
- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা, ধান গাছ ইত্যাদি সপুষ্পক উদ্ভিদ।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
ভার্টিব্রাল ধমনি রক্ত সরবরাহ করে- 
  1. বৃক্কে 
  2. ঘাড়ে 
  3. মেরুদণ্ডে 
  4. পাকস্থলীতে 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- মানবদেহের প্রতি পাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩০.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ১৫০০ কিলোক্যালরি
  2. খ) ২০০০ কিলোক্যালরি
  3. গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ঘ) ৩৫০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২৫০০ কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
- একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ২০০০ কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭৩১.
মানবদেহের কোন অঙ্গ হতে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. যকৃৎ
  4. পিত্তথলি
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8 - 8.6 

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ-
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৭৩২.
কোন শাখায় কোষের গঠন ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. Entomology
  2. Cytology
  3. Histology
  4. Embryology
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): 
- জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭। বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): 
- জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): 
- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৩.
জীনের রাসায়নিক উপাদান-
  1. ক) আরএনএ
  2. খ) ডিএনএ
  3. গ) ডিএনএ ও হ্যালিক্স
  4. ঘ) আরএনএ ও হ্যালিক্স
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- DNA এর পূর্ণনাম- Deoxyribonucleic acid.
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর ডাবল হেলিক্সের বর্ণনা দেন।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৭৩৪.
কোন উদ্ভিদের কাণ্ডে থাকা "চোখ" থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়?
  1. পুদিনা
  2. পিয়াজ
  3. আলু
  4. রসুন
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। 
- ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। 
- কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে, এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। 
- একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে, আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। 
- প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 

(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। 
- কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট, পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। 
- এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। 
- অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 

(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। 
- এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 

(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হচ্ছে কচুর শাখা কাণ্ড, এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। 
- স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। 
- এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 

(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। 
- কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 

(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে, এদের বুলবিল বলে। 
- এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৩৫.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীরা কোনটির সাহায্যে আত্মরক্ষা এবং খাদ্যগ্রহণ করে?
  1. নিমাটোসিস্ট
  2. ফ্ল্যাজেলা
  3. সিলিয়া
  4. মেসোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন: হাইড্রা) বিশেষ এক ধরণের কোষ থাকে যাকে 'নিডোসাইট' বলা হয়। এই কোষের অভ্যন্তরে নিমাটোসিস্ট নামক একটি বিষাক্ত অঙ্গাণু থাকে। এটি হিপনোটক্সিন নামক বিষের সাহায্যে শিকারকে অবশ করে খাদ্য গ্রহণে এবং শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।

• নিডারিয়া (Cnidaria):
- প্রাণিজগতের প্রধান পর্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো নিডারিয়া (Cnidaria) । 
- নিডারিয়া বলতে ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী অর্থাৎ দ্বিস্তর ভ্রূণ বিশিষ্ট প্রাণিদের কে বোঝায়।
- এদের অধিকাংশই সামুদ্রিক, কিছু স্বাদুপানির বাসিন্দা।

• নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণীগুলো সামান্য টিস্যু মাত্রার (tissue grade) বহুকোষী ও অরীয় প্রতিসম প্রাণী।
- দেহপ্রাচীর দ্বিস্তরী কোষযুক্ত বা ডিপ্লোব্লাসটিক (diploblastic); বাইরের স্তরটি এপিডার্মিস এবং ভিতরের স্তর এন্ডোডার্মিস বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস নামে পরিচিত।
- উভয় স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে আঠালো জেলির মতো অকোষীয় মেসোগ্লিয়া (mesoglea)। 
- নেমাটোটিস্ট ধারণকারী নিডোসাইট (cnidocyte) নামক বিশেষ ধরনের কোষ উপস্থিত। কর্ষিকায় এগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- নিডারিয়ানদের দংশন অঙ্গাণু (stinging organelles) হচ্ছে নেমোটোটিস্ট। প্রাণী এর সাহায্যে আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ ও দেহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে।
- দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন (coelenteron) নামে একমাত্র পরিপাক সংবহন গহ্বর (gastro- vuscular cavity) থাকে যা একটি ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত। ছিদ্রটি মুখ ও পায়ুর কাজ করে।
- খাদ্যবস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় উভয়ভাবেই পরিপাক হয় ।
- অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা প্রদর্শন করে।

উল্লেখ্য:
- ফ্ল্যাজেলা: অন্ত্রের ভেতরে থাকে; পরিপাকে ও খাদ্য সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- সিলিয়া: সূক্ষ্ম রোম সদৃশ; সংবেদী উদ্দীপনা গ্রহণে কাজ করে।
- মেসোগ্লিয়া: অকোষীয় স্তর; এটি দেহের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং পেশি সংযোগ দেয়।

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৭৩৬.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. রবার্ট হুক
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোষবিদ্যার জনক রবার্ট হুক।
- শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।

৭৩৭.
মানুষের লালায় কোন এনজাইম থাকে?
  1. পেপসিন ও আইসোমলটেজ
  2. সুক্রেজ ও ল্যাকটেজ
  3. অ্যামাইলেজ ও মলটেজ
  4. টায়ালিন ও মলটেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকাঃ
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথাঃ টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে:টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্রঃ প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।

- পেপসিন পাওয়া যায় পাকস্থলিতে
- ট্রিপসিন পাওয়া যায় অগ্ন্যাশয় রসে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
৭৩৮.
কোন আরএনএ -এর প্রধান কাজ প্রোটিন তৈরি করা?
  1. ক) মেসেঞ্জার আরএনএ
  2. খ) জেনেটিক আরএনএ
  3. গ) ট্রান্সফার আরএনএ
  4. ঘ) রাইবোসোমাল আরএনএ
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

- গঠন এবং কাজের উপর নির্ভর করে আরএনএ কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) ট্রান্সফার আরএনএ,
(খ) রাইবোসোমাল আরএনএ,
(গ) মেসেঞ্জার আরএনএ,
(ঘ) জেনেটিক আরএনএ এবং
(ঙ) মাইনর আরএনএ। 

জেনেটিক আরএনএ (gRNA):
- অধিকাংশ উদ্ভিদ ভাইরাসে এবং কয়েক প্রকার প্রাণী ভাইরাসে (ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও ভাইরাস) শুধুমাত্র RNA থাকে এবং এ RNA বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
- এরূপ যে সব RNA বংশতির ধারক ও বাহক রূপে কাজ করে তাদেরকে জেনেটিক আরএনএ বলে।
- এক্ষেত্রে ঐ সকল জীবদেহে DNA অনুপস্থিত থাকে ।

কাজ
- প্রধান কাজ প্রোটিন তৈরি করা
- তবে ক্ষেত্র বিশেষে বংশগতীয় বস্তু হিসেবেও কাজ করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
শোষক মূল উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) রাস্না
  2. খ) স্বর্ণলতা
  3. গ) সুন্দরী
  4. ঘ) গরান
ব্যাখ্যা

স্বর্ণলতা উদ্ভিদে শোষক মূল লক্ষ্য করা যায়।
পরজীবী উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকে না বলে খাদ্য এর জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরনের মূল প্রবেশ করিয়ে খাদ্যরস শোষণ করে থাকে, এ ধরনের মূলগুলোকে শোষক মূল বলে।
পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল জাতীয় উদ্ভিদে মূল বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। যেমন- রাস্না
সমুদ্র উপকুলে লবনাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মূল মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এ ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বলে। যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৭৪০.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি?
  1. ডায়াস্টেস
  2. মলটেস
  3. জাইমেস
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট(Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪১.
পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব কি?
  1. অ্যামিবা
  2. তেলাপোকা
  3. বাদুরা
  4. বানর
ব্যাখ্যা
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে। 
তবে অপশনে দেওয়া সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হলো- অ্যামিবা। 
কারণ- 
- অ্যামিবা একটি এককোষী জীব, যা জটিল বহুকোষী জীবের তুলনায় অনেক সরল। 
- প্রাথমিক জীবনের বিকাশ সম্ভবত এককোষী জীব দিয়ে শুরু হয়েছিলো। 
- আর তেলাপোকা, বাদুড় ও বানর সবগুলোই জটিল বহুকোষী প্রাণী, যা অনেক পরে বিবর্তিত হয়েছে। 
৭৪২.
ফুসফুস আবৃত থাকে কোন পর্দা দ্বারা? 
  1. ডায়াফ্রাম
  2. প্লুরা
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. আলভিওলাস
ব্যাখ্যা
ফুসফুস (Lung): 
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের মতো নরম, কোমল ও হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। 
- দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ুথলিগুলোকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলিগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। 
- নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। 
- বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। 
- বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ঘটে। 


উৎস:
 জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৩.
অসমোসিস শব্দটির অর্থ কী?
  1. ব্যাপন
  2. অভিস্রবণ
  3. পানি শোধন
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ বা অসমোসিস প্রক্রিয়া:
- অসমোসিস শব্দটির অর্থ অভিস্রবণ। 
- একই দ্রব ও দ্রাবক যুক্ত দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ যখন একটি অর্ধভেদ্য পর্দা বা বৈষম্যভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক করা হলে দ্রাবক পদার্থের অণুগুলো কম ঘনত্বের দ্রবণ (দ্রব কম, দ্রাবক বেশি) থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের (দ্রব বেশি, দ্রাবক কম) দিকে যায় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে। 
- কিসমিসকে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হলে সেটি ফুলে উঠে এটি অভিস্রবণের উদাহরণ। 
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৭৪৪.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. রক্ত 
  2. অ্যান্টিজেন 
  3. প্রোটিন 
  4. অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৫.
নিম্নের কোনটিতে ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়?
  1. গাজর
  2. ফুলকপি
  3. কাঁচামরিচ
  4. কলিজা
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন:
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। সুষম খাদ্যে বিভিন্ন প্রকার উপাদান থাকে। ফলে এতে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যায়।
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও (খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

• চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'এ', 'ডি', 'ই' এবং 'কে' (A, D, E, K) ।
• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স ও 'সি' (Vit-B Complex ও Vit-C)

⇒ ভিটামিন 'এ' (Vit-A) উৎস: দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'বি' (Vit-B) উৎস: ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'সি' (Vit-C) উৎস: পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'ডি' (Vit-D) উৎস: ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৪৬.
AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা
  2. প্রচুর পানি পান করা
  3. ব্যায়াম করা
  4. HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
ব্যাখ্যা

- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা, কারণ সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ যৌন অভ্যাস (যেমন-কনডম ব্যবহার), জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় 

এইডস রোগ: 

- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immunodeficiency Viruses) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৭.
নিচের কোনটি লিথান জিনের অনুপাত?
  1. ২ : ১
  2. ১ : ২
  3. ৩ : ১
  4. ৯ : ৭
ব্যাখ্যা
মারণ জিন বা (Lethal Gene): 
- ২ : ১ অনুপাতটি মেন্ডেলের ১ম সূত্রের একটি ব্যতিক্রম। 
- লিথাল জিনের কারণে মেন্ডেলের ১ম সূত্রের ৩ : ১ ফিনোটাইপিক অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে ২ : ১ অনুপাতে পরিণত হয়। 
- হোমোজাইগাস অবস্থায় কোন জিন জীবের মৃত্যুর কারণ হলে সে জিনকে মারণ জিন বা লিথাল জিন বলে। 
- ফরাসি বংশগতিবিদ ক্যুয়েনো (Cuenot) সর্বপ্রথম লক্ষ করেন যে, দুটি হলুদাভ (yellowish) রঙের ইঁদুরের প্রজননে ২ : ১ অনুপাতে যথাক্রমে হলুদাভ এবং হলুদবিহীন রঙের ইঁদুর পাওয়া যায়। 
- অন্যান্য গবেষকের গবেষণায় আরো দেখা গেল, হলুদাভ দুটি ইঁদুরের প্রজননে প্রাপ্ত শাবক সংখ্যা, হলুদাভ এবং হলুদবিহীন ইঁদুরের প্রজননে প্রাপ্ত শাবক সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১/৪ অংশ কম। 
- উল্লিখিত দুটি তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণিত হয় যে, হলুদ রং এর জন্য দায়ী জিন হোমাজাইগাস অবস্থায় থাকলে সে জাইগোট বেঁচে থাকতে পারে না এবং জন্মের পূর্বেই মারা যায়। 
- হলুদাভ স্ত্রী ইঁদুরের গর্ভে মৃত ভ্রূণ পাওয়ার মধ্যে উপরিউক্তি ব্যাখ্যার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪৮.
যকৃত থেকে কী নিঃসৃত হয়? 
  1. হরমোন
  2. লালা
  3. পাচক রস
  4. গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৯.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন?
  1. ক) ৪ ঘণ্টা
  2. খ) ৬ ঘণ্টা
  3. গ) ১০ ঘণ্টা
  4. ঘ) ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
একজন মানুষের দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। 

বিশ্রামের গুরুত্ব : শরীর চর্চার পাশাপাশি শারীরিক বিশ্রামও অত্যন্তপ্রয়োজন। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রাম প্রয়োজন। ঘুমানো, শুয়ে থাকা ইত্যাদি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুনঃশক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুবিক শক্তি উজ্জীবিত হয়। কর্মে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষম করে তোলে । একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম বা ঘুমানো আবশ্যক।

সূত্র: ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫০.
স্টোলন দ্বারা অঙ্গজ জনন ঘটে কোন উদ্ভিদে?
  1. পেঁয়াজ
  2. কচু
  3. আলু
  4. আদা
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যম: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। 
- এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 

(খ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হচ্ছে কচুর শাখা কাণ্ড, এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। 
- স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। 
- এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 

(গ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। 
- কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট, পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। 
- এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। 
- অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 

(ঘ) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। 
- ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। 
- কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে, এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। 
- একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে, আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। 
- প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 

(ঙ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে, এদের বুলবিল বলে। 
- এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

(চ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। 
- কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৫১.
স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সিনাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 

- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। 
- এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে। 
- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে। 
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়। একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- এরা উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
হৃদপিণ্ডকে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী বলা হয়?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৩.
কোনটির প্রভাবে রক্তের রং লাল হয়? 
  1. নিউট্রিফিল
  2. অনুচক্রিকা
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. অক্সিগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৪.
প্রাণিবিজ্ঞানের কোন শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ornithology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Herpetology
  4. ঘ) Conchology
ব্যাখ্যা

- Ornithology শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Ichthyology শাখায় মৎসবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Herpetology শাখায় সরীসৃপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Conchology শাখায় কম্বোজ প্রাণী বা Mollusca পর্বভুক্ত প্রাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭৫৫.
ডিমের নরম খোসা শক্ত হয় কি কারণে?
  1. বাতাসের সংস্পর্শে
  2. এলবুমিনের সংস্পর্শে
  3. আলোর সংস্পর্শে
  4. বাতাস ও আলোর সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
ডিম গঠন প্রক্রিয়া
- মুরগির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণুগুলো আকারে বড় হতে থাকে।
- ডিম্বাণুগুলোর ভেতরে আস্তে আস্তে কুসুম জমা হয়ে পূর্ণাঙ্গ কুসুমে পরিণত হয়। এক একটি কুসুম ভাইটালিন মেমব্রেন নামক এক প্রকার পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- মুরগি যখন বয়স্কা হয় তখন কয়েকটি ডিম্বাণু পর পর শীঘ্র বড় হয়ে পূর্ণ কুসুমে পরিণত হয়। কুসুমের পূর্ণতার পর থলির শিরা উপশিরা বিহীন নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল ধরার পরে ঐ স্থান দিয়ে বের হয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াকে কুসুমক্ষরণ (ovulation) বলে।
- ডিম্বাশয় নালির প্রথম ভাগ এই নির্গত কুসুমটিকে ধরে ফেলে এবং পরে ডিম্বাশয় নালির বাকি অংশগুলোর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়।
- নিষিক্তকরণের পরক্ষণ থেকেই কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মুরগির দলে মোরগ না রাখলেও ডিম পাড়ার কোন ব্যাঘাত বা ডিমের সংখ্যার তারতম্য হয় না, কুসুমটি নিষিক্তকরণ হোক তা না হোক উহা যখন ডিম্বাশয়নালির বাকি অংশ দিয়ে আস্তে আস্তে অগ্রসর হয় তখন ওটা ডিমের সাদা অংশ, খোসার পর্দা, খোসা ইত্যাদি সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ ডিমে পরিণত হয়।
- একটি শক্তিশালী ডিমের খোসা গঠনের জন্য সঠিক CO2 মাত্রা অপরিহার্য।
- ওভাবে পূর্ণ ডিমটি তৈরি হতে ২৪-২৫ ঘণ্টা সময় লাগে। একটি ডিম কুসুম, ভ্রণ, ঘন সাদা অংশ, পাতলা সাদা অংশ, চ্যালেজা, খোসার আবরণ, বায়ুকোষ ও খোসা নিয়ে গঠিত।
- ডিমের নরম খোসা শক্ত হয় বায়ুর সংস্পর্শে এসে। 
- সম্পূর্ণ ডিমটার আছে - জল ৬৩.৬%, আমিষ-১২.৮৩, খনিজ ১০.৭০, স্নেহ ১০.৬ খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন।
- এ জন্য ডিমকে Nature’s multivitamin বলে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ও ব্রিটানিকা। 
৭৫৬.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ উপাদান: 
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট। 
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। 
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। 
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে। 
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়। 

Lightening is a potent fertilizing agent. Every time it strikes, nitrogen in the atmosphere is combined with hydrogen or oxygen to form ammonium and nitrate, two forms of nitrogen. The nitrogen then goes into solution in atmospheric moisture and is washed to the ground in rainfall. Plants then absorb nitrogen from the ground and utilize it for growth. Since it is a key constituent in chlorophyll, the green pigment of plants, nitrogen causes a greening of the plant. 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং cals.arizona.edu
৭৫৭.
দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি কোন খাদ্য উপাদান থেকে তৈরি হয়?
  1. স্নেহ
  2. প্রোটিন
  3. শর্করা
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- মাছ, ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাদ্য এগুলো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। 
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য প্রোটিনের উৎস প্রাণী, তাই এগুলো প্রাণিজ প্রোটিন। 
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদির উৎস উদ্ভিদ, তাই এগুলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। 
- এ রোগের কারণে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। 
- শিশুদেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলে শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে। 

প্রোটিনের কাজ: 
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩. দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭৫৮.
শ্বসনতন্ত্রের অঙ্গ নয় কোনটি?
  1. ইলিয়াম
  2. নাসিকা
  3. গলবিল
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র: 
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত।
- বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে, পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। 

ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- 
• ডিওডেনাম, 
• জেজুনাম ও 
ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে। 
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৯.
কোনটি বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. লেবু
  2. দূর্বাঘাস
  3. কালকাসুন্দা
  4. রঙ্গন
ব্যাখ্যা
গুল্ম:
- একক গুঁড়িবিহীন ঝোপজাতীয় মাঝারি ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে গুল্ম বলে।
- যেমন- জবা, গোলাপ, রঙ্গন, লেবু।
- গুল্ম বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।

উপগুল্ম:
- গুল্মের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে।
- যেমন- কালকাসুন্দা, দাঁতমর্দন।

বীরুৎ:
- ছোট ও নরম কাণ্ড বিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে।
- যেমন- ধান, সরিষা, মরিচ, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৬০.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে কী বলে?
  1. পৃথকীকরণ সূত্র
  2. স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড সূত্র
  4. ডাইহাইব্রিড সূত্র
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

• মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬১.
উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে, এই অত্যাবশ্যক কাজ কিভাবে সম্ভব হয়?
  1. অভিস্রবণ
  2. শ্বসন
  3. ব্যাপন
  4. অসমোসিস
ব্যাখ্যা

জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে।
যেমন- উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়।
উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
প্রাণীদের শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ও রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, অক্সিজেন প্রভৃতি লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে পরিবহন করা ব্যাপন দ্বারা সম্পন্ন হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৭৬২.
প্রকৃত ফলের বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) পরাগধানী ফলে পরিণত হয়
  2. খ) গর্ভদন্ড ফলে পরিণত হয়
  3. গ) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
  4. ঘ) গর্ভমুন্ড ফলে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা

শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আম, জাম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

৭৬৩.
কোনটি মিথোজীবী?
  1. ক) স্বর্ণলতা
  2. খ) র‍্যাফ্লেসিয়া 
  3. গ) লাইকেন 
  4. ঘ) কলশপত্রী
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদ পুষ্টির জন্য অপর কোনাে জীবের সাহচর্যে জীবন ধারণ করে , তাদের মিথোজীবী উদ্ভিদ বলা হয় । যেমন –  লাইকেন , রাইজোবিয়াম ইত্যাদি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৭৬৪.
a + b = 5 এবং ab = 6 হলে, a3 + b3 এর মান কত?
  1. 15
  2. 20
  3. 28
  4. 35
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: a + b = 5 এবং ab = 6 হলে, a3 + b3 এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
a + b = 5
এবং ab = 6

আমরা জানি,
a3 + b3 = (a + b)3 - 3ab(a + b)
⇒ a3 + b3 = 53 - 3 · 6 · 5
⇒ a3 + b3 = 125 - 90
⇒ a3 + b3 = 35
৭৬৫.
রক্তের তরল হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থটির নাম কি?
  1. ক) যোজক কলা
  2. খ) রক্তরস
  3. গ) রক্ত কণিকা
  4. ঘ) অ্যান্টিটক্সিন  
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা।
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে।
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু’টি উপাদান (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা।
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা।
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৭৬৬.
নিচের কোনটি অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. রিকেটসিয়া
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা
- অণুজীবগুলো খুব ছোট এবং মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না, অপশনে শুধু শৈবালই ছোট নয়, বাকি সবই অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত। 

শৈবাল: 

- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, রিকেটসিয়া ইত্যাদিকে নিম্নশ্রেণির জীব বলা হয়। 
- এদের মধ্যে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও রিকেটসিয়া অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া দেখা যায় না। এরা অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৬৭.
এইচআইভি ভাইরাস মানব দেহের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা

মানবদেহে এইচআইভি এর আক্রমণে এইডস রােগ হয়।
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা লােপ পায়।
এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে হলাে এইডস। মানব দেহে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রােগের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।

৭৬৮.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ
  2. খ) হৃৎপিন্ডের প্রসারণ চাপ
  3. গ) হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ ও প্রসারণ চাপ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের প্রসারণ চাপ

হৃৎপিন্ডের রক্ত সঞ্চালন:
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃদপিন্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
- হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে।
- উল্লেখ্য, অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয়ে তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৯.
বায়ু পরাগী উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) গম
  3. গ) ইক্ষু
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- অনেক উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে হয়ে থাকে।
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয় তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- পাইনাস, ধান, গম, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।

 সূত্র: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭০.
ব্যাকটেরিয়া কোষে ক্রোমোজোম ছাড়া যে বৃত্তাকার DNA অনু থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লাজেলা
  2. খ) পিলি
  3. গ) প্লাজমিড
  4. ঘ) ক্যাপসুল
ব্যাখ্যা
ফ্লাজেলা: ব্যাকটেরিয়ার চলনে সাহায্য করে।
পিলি = ব্যাকটেরিয়াকে পোষক কোষের সাথে আটকে থাকতে সাহায্য করে। 
প্লাজমিড = ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোসোমের বাহিরে একটি বৃত্তাকার অনু। এটি স্বপ্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন। 
ক্যাপসুল = ব্যাটেরিয়ার কোষপ্রাচীরকে ঘিরে অবস্থিত জটিল কার্বোহাইড্রেট দিয়ে গঠিত পুরু স্তর।

উৎস:
একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৭৭১.
মানবদেহের রক্তে শতকরা কতভাগ রক্তরস থাকে?
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৪৫%
  3. গ) ৬০%
  4. ঘ) ৬৫%
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তে রক্তরস থাকে শতকরা- ৫৫% ভাগ। 

রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)।
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা-
• লোহিত রক্তকণিকা
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭৭২.
নিচের কোন প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে? 
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমোটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৩.
হৃৎপিণ্ডকে বেষ্টিত করে কোন পর্দা?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মিসেন্ট্রিয়াম
  3. মেনিনজেস 
  4. প্লুরা
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি উপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে  ডান  এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে। - দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। 
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭৪.
‘জেজুনাম’ নিচের কোনটির অংশ?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. বৃহদন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) ডিওডেনাম,
(ii) জেজুনাম ও 
(iii) ইলিয়াম।
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। - বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) সিকাম,
(ii) কোলন ও 
(iii) মলাশয়।

শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ৷
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।
- ব্রংকাস শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৫.
নিচের কোনটি নির্গমশীল জলজ উদ্ভিদ?
  1. কচুরিপানা
  2. শাপলা
  3. হেলেঞ্চা
  4. পাতাশেওলা
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ: 
- পুকুরে বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ জন্মায়। 
যথা- 
ক) শেওলা: 
- অগভীর পুকুরের তলদেশে বা পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ধরনের শেওলা জন্মে। 
যেমন-স্পাইরোগাইরা। 

খ ) ভাসমান উদ্ভিদ: 
- এ সকল উদ্ভিদ পানিতে ভেসে থাকে। 
- এদের মূল মাটিতে আটকানো থাকে না। 
যেমন- কচুরিপানা, টোপাপানা, খুদিপানা ইত্যাদি। 

গ) নির্গমশীল উদ্ভিদ: 
- এ সব উদ্ভিদের শিকড় পানির নিচে মাটিতে থাকে কিন্তু পাতা ও কাণ্ডের উপরের অংশ বা শুধু পাতা পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকে বা ভেসে থাকে। 
যেমন- শাপলা, পানিফল, শুসনি শাক, আড়াইল। 

ঘ) নিমজ্জিত বা ডুবন্ত উদ্ভিদ: 
- এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ পানির তলদেশে থাকে। 
- এদের শিকড় মাটিতে থাকে। 
- এদের পাতা ও ডাল কখনো পানির উপরে আসে না। 
যেমন- কাঁটাঝাঁঝি, পাতাঝাঁঝি, পাতাশেওলা, নাজাস। 

ঙ) লতানো উদ্ভিদ: 
- এদের শিকড় পুকুরের পাড়ে আটকানো থাকে এবং কাণ্ড, পাতা পানিতে ছড়িয়ে থাকে। 
যেমন- হেলেঞ্চা, কলমিলতা, মালঞ্চ। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৬.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে -
  1. নিউট্রোফিল
  2. ইওসিনােফিল
  3. বেসােফিল
  4. হিস্টামিন
ব্যাখ্যা
গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার।
যথা:
১. নিউট্রোফিল,
২. ইওসিনােফিল এবং
৩. বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭৭৭.
রাইজোবিয়াম কী? 
  1. শৈবাল
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
রাইজোবিয়াম: 
- রাইজোবিয়াম এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 
- এই ব্যাকটেরিয়া শিম ও ডাল জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের কাছে অবস্থান নিয়ে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন গ্রহন করে শিকড়ে গুটি তৈরি করে। 
- এ ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করে নিজের প্রয়োজন মিটায় এবং উদ্ভিদে সরবরাহ করে। 
- শিম জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- মুগ, মসুর, ছোলা, মটর, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ধইঞ্চা ইত্যাদি ফসলে ব্যাকটেরিয়া সার ব্যবহার করে উত্তম ফসল পাওয়া যায়। 
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী রাইজেবিয়াম অণুজীব সার ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৮.
কোন কোষে লিউকোপ্লাস্ট দেখতে পাওয়া যায়? 
  1. ক) রঙ্গিন পাতা
  2. খ) জননকোষ
  3. গ) গাজরের মূলে
  4. ঘ) উদ্ভিদের কচি কাণ্ডে
ব্যাখ্যা

জননকোষে লিউকোপ্লাস্ট দেখতে পাওয়া যায়।

কারণ, এ ধরনের কোষে সূর্যের আলো পৌছায় না।
বর্ণহীন প্লাস্টিডকে লিউকোপ্লাস্ট বলে। এতে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না। লিউকোপ্লাস্টের কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা।
আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট , ক্লোরোপ্লাস্ট এ রুপান্তরিত হতে পারে।
যেমন- মূল, ভ্রূণ, জননকোষ ইত্যাদি।
রঙ্গিন পাতা, ফুল এবং গাজরের মূলে ক্রোমোপ্লাসট রয়েছে।
উদ্ভিদের কচি কাণ্ডে, পাতায় ও অন্যান্য সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট দেখতে পাওয়া যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৭৭৯.
উদ্ভিদের মূল দিয়ে শোষণকৃত পানি পাতায় পৌঁছায় কোন কলার মাধ্যমে?
  1. মেসোফিল
  2. ফ্লোয়েম
  3. জাইলেম
  4. সীভনল
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে।
 - এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 

- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 

- খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের কোষসমূহ বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
-  এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮০.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি? 
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. পানি
  4. স্নেহ পদার্থ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮১.
ফুলের বাইরের স্তবককে কী বলে?
  1. বৃতি
  2. দল
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা
পুষ্পাক্ষ : ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে বলা হয় পুষ্পাক্ষ। সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে। পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে। এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

বৃতি : একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি। এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা হয়। এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আত্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।

দলমন্ডল : বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়। এরা সাধারণত রঙ্গিন হয়। এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে।

স্ত্রীস্তবক : পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
DNA অণুতে অনুপস্থিত-
  1. ইউরাসিল
  2. গোয়ানিন
  3. এডিনিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা

• DNA অনুতে অনুপস্থিত - ইউরাসিল। 
• জীবকোষে দুই প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। এদের একটি DNA এবং অপরটি হলো RNA ।  

• নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে। নাইট্রোজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে এই ক্ষরকসমূহ গঠিত। ক্ষারকগুলো এক রিং বিশিষ্ট বা দুই রিং বিশিষ্ট হতে পারে।
• এই রিং এর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ক্ষারক দুই প্রকার;
যথা-
(i) পিউরিন:
- দুই রিং বিশিষ্ট ক্ষারককে বলা হয় পিউরিন। । নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার পিউরিন ক্ষারক থাকে।
যথা-
- অ্যাডিনিন ( A )
- গুয়ানিন ( G )

(ii) পাইরিমিডিন:
- এক রিং বিশিষ্ট ক্ষারক কে বলা হয় পাইরিমিডিন। নিউক্লিক অ্যাসিডে তিন প্রকার পাইরমিডিন ক্ষারক থাকে।
যথা- 
- থাইমিন ( T )
- সাইটোসিন ( C )
- ইউরাসিল ( U )

• ক্ষারকগুলোর মাঝে থাইমিন উপস্থিত থাকে কেবল DNA তে এবং ইউরাসিল উপস্থিত থাকে কেবল RNA তে। 
অর্থাৎ নাইট্রোজেন ক্ষারক গুলোর মধ্যে ইউরাসিল DNA তে অনুপস্থিত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৭৮৩.
'বাস্ট তন্তু' কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. সরল টিস্যু
  2. ভেসেল টিস্যু
  3. জাইলেম টিস্যু
  4. ফ্লোয়েম টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। 
যথা- 
১। জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। 

২। ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৪.
মানবকোষে অক্সিজেন পরিবহন হয় কোনটির মাধ্যমে? 
  1. ফুসফুস
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. যকৃত 
  4. রক্ত 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে রক্ত সংবহন (Blood Circulation in human body):
- রক্ত জীবনীশক্তির মূল।
- রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয় এবং কোষে অক্সিজেন ও খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে।
- ফলে দেহের সব কোষ সজীব এবং সক্রিয় থাকে। যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অংশে চলাচল করে, তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- এ তন্ত্রে প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমেই খাদ্য, অক্সিজেন এবং রক্তের বর্জ্য পদার্থ দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
- মানবদেহে রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো এর বাইরে আসে না।
- এ ধরনের সংবহনতন্ত্রকে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র (Close circulatory system) বলা হয়।
- সারা দেহে রক্ত একবার সম্পূর্ণ পরিভ্রমণের জন্য মাত্র এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময় লাগে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৮৫.
ক্রেবস চক্র কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ক্রেবস চক্র সংঘটিত হয়। 

দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত যে সকল গোলাকার, ডিম্বাকার, সুতোর মতো অঙ্গাণু ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে থাকে তাদেরকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।

মাইট্রোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজসমূহ- 
১। মাইটোকন্ড্রিয়াতে কোষীয় শ্বসনের ক্রেবস চক্ক সংঘটিত হয়। এতে জীবদেহের প্রয়ােজনীয় শক্তি উৎপন্ন হয় । এ জন্য এদেরকে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।
২। এরা প্রােটিন সংশ্লেষেণের প্রয়ােজনীয় এনজাইম ধারণ করে।
৩। মাইটোকন্ডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটায়ন সঞ্চিত থাকে।
৪ ডিম্বাণু ও শুক্রাণু গঠনে অংশগ্রহণ করে।
৫। DNA ও RNA সংশ্লেষ করে।

সূত্র- ২৪ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৮৬.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করার উৎস?
  1. ক) মধু
  2. খ) চিনি
  3. গ) আলু
  4. ঘ) সবুজ শাক-সবজি
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা
উদাহরণ: - গ্লুকোজ
উৎস: মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎস: চিনি ও দুধ ইত্যাদি

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা
উদাহরণ: - শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮৭.
কোন প্রক্রিয়াটিকে 'Necessary Evil' বা 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' হিসাবে অভিহিত করা হয়?
  1. ব্যাপন
  2. সালোকসংশ্লেষণ
  3. অভিস্রবণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বা 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' হিসাবে অভিহিত করা হয়।

প্রস্বেদন (Transpiration):
- প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গ (যেমন পাতা, কাণ্ড এবং অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল) থেকে অতিরিক্ত জল কে বাষ্প বা জলীয় বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে দেয়।
- বেশিরভাগ প্রস্বেদন ঘটে পাতার পৃষ্ঠে অবস্থিত পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উদ্ভিদ শোষিত মোট জলের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত জলীয় বাষ্প হিসেবে পরিবেশে ত্যাগ করে।
- এই প্রক্রিয়া প্রধানত পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal), কিউটিকুলার (Cuticular) এবং লেন্টিকুলার (Lenticular) পথে ঘটে থাকে।

প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বলার কারণ:
 - প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (Necessary Evil) বলা হয় কারণ এর দুটি বিপরীতমুখী ভূমিকা রয়েছে।
১। প্রয়োজনীয়তা (Necessity):
- এটি শিকড় থেকে বহু উপরে অবস্থিত পাতায় জল ও খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য একটি টান (Transpiration Pull) সৃষ্টি করে।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (কুলিং ইফেক্ট)।
২। অমঙ্গল (Evil):
- এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে তীব্র শুষ্ক পরিবেশে বা উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদ পানিশূন্যতায় ভোগে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রয়োজনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
- এই কারণে, প্রক্রিয়াটি না হলেও নয় (Necessary), আবার অতিরিক্ত হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকরও (Evil)।
- এই দ্বৈত ভূমিকার (অপরিহার্যতা ও ক্ষতিকরতা) জন্য বিজ্ঞানী ইভান জে. কুর্তিস একে 'Necessary Evil' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৭৮৮.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়ার যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) দুধ ও ডিম
ব্যাখ্যা
দুধ ও ডিমে ভিটামিন ডি পাওয়ার যায়।
- ভিটামিন ডি এর উৎস- ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, তৈলাক্ত মাছ, সামুদ্রিক মাছের যকৃতের তেল, কড মাছের যকৃতের তেল, স্যামন ও হেরিং মাছের চর্বি, ঘি ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
- তবে ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো। 
- প্রতিদিন সূর্যের আলোতে ৫-১০ মিনিট থাকলে ত্বকের নিচে ভিটামিন ডি তেরি হয়। মূলত ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৯.
মানবদেহের রাসায়নিক গবেষণাগার কোনটি?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃৎ
  3. লালাগ্রন্থি
  4. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি (Digestive glands):
- যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে।
- মানবদেহে পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলো হলো:
• লালাগ্রন্থি, 
• যকৃৎ, 
• অগ্ন্যাশয়, 
• গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি, 
• আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

যকৃৎ (Liver):
• মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
• এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
• যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
• যকৃতে পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
• পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন।
• যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯০.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের চলন প্রক্রিয়া?
  1. ক) সাইটোকাইনিন
  2. খ) পসটুলেশন
  3. গ) ফটোট্রপিজম
  4. ঘ) অক্সিনেশন
ব্যাখ্যা
ফটোট্রপিক চলন বা ফটোট্রপিজম
- ফটোট্রপিক চলন এক ধরনের বক্রচলন।
- উদ্ভিদের কাণ্ড এবং শাখা-প্রশাখার সবসময় আলোর দিকে চলন ঘটে এবং মূলের চলন সবসময় আলোর বিপরীত দিকে হয়।
- কাণ্ডের আলোর দিকে চলনকে পজিটিভ ফটোট্রপিজম এবং মূলের আলোর বিপরীত দিকে চলনকে নেগেটিভ ফটোট্রপিজম বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯১.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
Calcium plays a role in making the jaw bones healthy and strong to hold the teeth in place. However, calcium needs phosphorus to maximise its bone strengthening benefits. Children's teeth need adequate calcium and phosphorus to form a hard structure during growth.
Source: ncbi.nlm.nih.gov
৭৯২.
কোন উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে?
  1. ছত্রাক
  2. মস
  3. ফার্ন
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা
• মস:
- মস বর্গের উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে চুলের মত সূক্ষ্ম রাইজয়েড জন্মে।
- মূলের কাজ রাইজয়েড দিয়ে সম্পন্ন হয়।
- ক্লোরোফিল থাকার জন্য এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে।
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।

• অপশন আলোচনা:
• ফার্ন:
- ফার্ন বর্গের উদ্ভিদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়।
- এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে।
- টেরিস বা ঢেঁকিশাক একটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।

• ছত্রাক:
- পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়।
- এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস।
- বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়।
- একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে।
- এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন।
- এ কারণে এদের রঙ সাদা।

• শৈবাল:
- আবদ্ধ জলাশয়, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কল পাড়ের স্যাঁতসেতে মাটিতে সবুজ শেওলা জন্মে থাকে।
- এসব শেওলা জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলা হয়।
- এদেরদেহে ক্লোরোফিল থাকে তাই নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৩.
C4 উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) ধান
  3. গ) গম
  4. ঘ) পাট
ব্যাখ্যা

দু’জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট। এ চারকার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।
যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়। ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৪.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯৫.
ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করাকে কী বলে?
  1. মোম আবৃতকরণ
  2. স্টোরেলাইজেশন
  3. ক্যানিং
  4. নির্জলীকরণ
ব্যাখ্যা
ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning) :
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।
- সাধারণত মানসম্পন্ন টাটকা, পাকা ফল পরিস্কার করে খোসা ছাড়ানো হয় এবং ছোট ছোট টুকরা করা হয়।
- টিনজাত করার আগে ফলকে ষ্টেরিলাইজেশন করে নেয়া হয় এবং প্রিজারভেটিভ যোগ করে স্টেরিলাইজড পাত্রে রাখা হয় । পাত্রটিকে বায়ুশুন্য করা হয় এবং বায়ুরোধী অবস্থায় ঠান্ডা করে লেবেল লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

মোম আবৃতকরণ পদ্ধতি :
সম্পূর্ণ ফলকে মোম দিয়ে আবৃত করা হয়। এ কারণে ফলে শ্বসন ও প্রস্বেদন কম হয়। রোগ জীবাণু ও পোকামাকড় দ্বারাও ফল আক্রান্ত হয় না । এই অবস্থায় ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

 স্টোরেলাইজেশন:
স্টোরেলাইজেশন বলতে একটি পৃষ্ঠ, উপাদান বা পরিবেশ থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং স্পোর সহ সমস্ত ধরণের অণুজীবকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল বা মেরে ফেলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটি সাধারণত চিকিৎসা, পরীক্ষাগার এবং শিল্প সেটিংসে ব্যবহৃত হয় যাতে নিশ্চিত করা হয় যে সরঞ্জাম, যন্ত্র এবং পৃষ্ঠগুলি যে কোনও কার্যকর অণুজীব থেকে মুক্ত যা সম্ভাব্য সংক্রমণ বা দূষণের কারণ হতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৬.
নিচের কোনটির স্বীকৃত নিয়ম অনুসারে উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়?
  1. ক) ICZN
  2. খ) IUCN
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) IAEA
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭৯৭.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯৮.
উচ্চ রক্তচাপ হয় -
  1. ক) সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  2. খ) ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure or hypertension): উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্টে বলা হয়েছে 2020 সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করােনরি ধমনির রােগ হবে বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলােতে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়বে মহামারী আকারে। হৃদ্‌রােগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলাে উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ কী? রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। আর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। আর এই রক্তচাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

৭৯৯.
আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু ৩ ধরনের।
যথা -
- স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু এবং
- কলামনার আবরণী টিস্যু।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৮০০.
দিনের বেলায় গাছের পাতা সবুজ দেখায় কেন?
  1. ক) পাতার ক্লোরোফিল সবুজ বাদে সকল বর্ণকে শোষণ করে
  2. খ) দিনের বেলায় সবুজ বাদে অন্য বর্ণকে চেনা যায় না
  3. গ) সূর্যরশ্মির ফলে পাতা সবুজ দেখায়
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
আমরা যেকোনো বস্তুকে যে রঙে দেখি, সে বস্তু তার উপর আপতিত রঙের মধ্যে শুধু ওই রঙের আলোই প্রতিফলিত করে, বাকি রঙ শুষে নেয়, ফলে আমরা বস্তুটির দৃশ্যমান রঙ দেখি। দিনের বেলায় গাছের পাতাও সবুজ দেখায় একই কারণে। গাছের পাতার ক্লোরোফিল সবুজ বর্ণ বাদে বাকি সব বর্ণ শোষণ করে এবং সবুজ বর্ণ প্রতিফলন করে।