বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৪০১৫০০ / ৪,২০৮

৪০১.
জটিল টিস্যুর অপর নাম কী?
  1. প্যারেনকাইমা টিস্যু 
  2. ক্ষরণকারী টিস্যু
  3. সরল টিস্যু
  4. পরিবহন টিস্যু
ব্যাখ্যা

জটিল টিস্যু: 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০২.
নিচের কোনটির অভাবে গাছের পাতা বেগুনি হয়ে যায়?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
- ফসফরাসের অভাবে গছের পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।

- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হাল্কা হতে হতে একসময় হ্লুদ হয়ে যায়। 

- পটাসিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হাল্কা হয়ে যায়।
- সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৩.
ইনসুলিনের প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  2. রক্তের গ্লুকোজ দেহকোষের প্রবেশে সাহায্য করা
  3. রক্তে গ্লুকোজকে ইউরিয়াতে রূপান্তর করা
  4. রক্তে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর রোধ করা 
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
সালোকসংশ্লেষণ সংঘটিত হয় কোথায়? 
  1. রাইবোজোম
  2. ক্রোমোসোম
  3. প্লাস্টিড
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া 
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ:
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য।
- যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড বা ক্লোরোফিল সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়।
কারণ-
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-
অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়।
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি।
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪০৫.
সালোকসংশ্লেষণের জন্য উদ্ভিদ কোন দুটি উপাদান গ্রহণ করে?
  1. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. পানি ও মাটি
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি
  4. আলো ও বায়ু
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি

- সালোকসংশ্লেষণের জন্য উদ্ভিদ প্রধানত যে দুটি উপাদান (কাঁচামাল) পরিবেশ থেকে সরাসরি গ্রহণ করে, তা হলো 
পানি (H2O) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)।
⋅ পানি (H2O): মূলের সাহায্যে মাটি থেকে শোষণ করে নেয়। 
⋅ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): পত্ররন্ধ্রের (stomata) মাধ্যমে বাতাস থেকে গ্রহণ করে। 
এছাড়াও, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিলের উপস্থিতি অপরিহার্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪০৬.
"প্যারাইটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।

সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।

যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪০৭.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রক্তশূন্যতা
  4. মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৮.
অস্থির কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে?
  1. কলাজেন
  2. ল্যাকুনা
  3. মজ্জাগহ্বর
  4. কনড্রিন
ব্যাখ্যা

অস্থির গঠন: 
- ম্যাট্রিক্সের জৈব উপাদানের সাথে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট জাতীয় অজৈব লবণ জমা হয়ে যে দৃঢ় ও কঠিন ভারবাহী কলা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থি বলে। 
- এটি মূলতঃ অস্থিকোষ ও ম্যাট্রিক্স দ্বারা গঠিত। 
- ম্যাট্রিক্স এর ৪০% জৈব পদার্থ ও ৬০% অজৈব পদার্থ। 
- অস্থিতে ৩ প্রকার অস্থিকোষ থাকে। 
যথা- অস্টিওসাইট, অস্টিওব্লাস্ট ও অস্টিওক্লাস্ট। 
- সকল অস্থিকলার চারদিকে পেরিঅস্টিয়াম নামক তন্ত্রময় আবরণ থাকে। 
- এন্ডোঅস্টিয়াম নামক অপর একটি আবরণ অস্থির মজ্জাগহ্বরকে অস্থি থেকে পৃথক করে রাখে। 
- অস্থির কেন্দ্রস্থলে মজ্জাগহ্বর থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৯.
ছোলা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?
  1. গুল্ম
  2. একবর্ষজীবি
  3. উপগুল্ম
  4. বীরুৎ
ব্যাখ্যা

• একবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- ধান, মটর, ছোলা, কলা এসব আপনাদের অতি পরিচিতি উদ্ভিদ।
- এদের জীবনকাল এক বছর।
- এ জন্য এদেরকে একবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলা হয়।

• দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ:
যেসকল উদ্ভিদের জীবনকাল দুই বছর তাদের দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে।
- মূলা, গাজর, ফুলকপি ইত্যাদি দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ।

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
আম, কাঁঠাল, বট, তাল ইত্যাদি অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যারা বহু বছর বেঁচে থাকে। এসব উদ্ভিদকে বহু বর্ষীজীবী উদ্ভিদ বলে।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১০.
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কোনটি?
  1. গ্লাইসিন (Glycine)
  2. সেরিন (Serine)
  3. সিস্টিন (Cistine)
  4. ভ্যালিন (Valine)
ব্যাখ্যা
• অপশনসমূহের মধ্যে ভ্যালিন (Valine) হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

আমিষ:
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। যথা-
১. প্রাণিজ আমিষ ও
২. উদ্ভিজ আমিষ।

প্রাণিজ আমিষ:
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তাই প্রাণিজ আমিষ।
যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

উদ্ভিজ আমিষ:
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ।
যেমন- ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১১.
প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কোন রোগ হতে পারে?
  1. অস্টিওপরোসিস
  2. রিকেটস
  3. অ্যানিমিয়া
  4. স্কার্ভি
ব্যাখ্যা

প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, যা অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis) নামে পরিচিত।

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান:
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধকপি এবং ফল।
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- এর ঘাটতির ফলে হাড়ে মিনারেলের পরিমাণ কমে যায় এবং অস্টিওপরোসিস দেখা দেয়।

অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis): 
- দীর্ঘমেয়াদী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন D এর অভাবের কারণে হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- এর ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- এটি প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশন:
-  রিকেটস: এটি মূলত শিশুদের ভিটামিন D এবং ক্যালসিয়াম এর অভাবজনিত রোগ।
- অ্যানিমিয়া: এটি হলো রক্তাল্পতা, যা প্রধানত লোহা (Iron) বা ভিটামিন B12 এর অভাবে হয়।
- স্কার্ভি: এটি হলো ভিটামিন C এর অভাবজনিত রোগ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৪১২.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের -
  1. ক) জারণ বিক্রিয়া
  2. খ) বিজারণ বিক্রিয়া
  3. গ) জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।
- এ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা (গ্লুকোজ)। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়।
- সূর্যালোকের দরকার হয় মূল শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিল দরকার হয় সূর্য শক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪১৩.
হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে নিচের কোনটি সাহায্য করতে পারে?
  1. ক) ইইজি
  2. খ) ইসিজি
  3. গ) বায়োপসি
  4. ঘ) সিটি স্ক্যান
ব্যাখ্যা

- হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে ইসিজি সাহায্য করে।
- ইইজি সাধারণত মস্তিষ্কের মৃগীরোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে।
- কোনো টিউমার বা ক্যান্সার শনাক্তের জন্য বায়োপসি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে সাধারণত শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড়ের অবস্থা এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক নির্ণয়ে সাহায্য করে।

৪১৪.
নিচের কোনটিকে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়?
  1.  যকৃত
  2. হৃদপিণ্ড
  3. মস্তিষ্ক
  4. পাকস্থলী
ব্যাখ্যা

যকৃতকে 'দেহের রসায়ন গবেষণাগার' বা 'জৈব রসায়নের কারখানা' বলার কারণ হলো এটি মানবদেহের প্রায় সকল প্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়া, সংশ্লেষণ এবং বিশোধন নিয়ন্ত্রণ করে। 

যকৃত (Liver):
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি।
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত।
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার।
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে।

যকৃতের কার্যাবলি:
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী -পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়।
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)।
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়।
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)।
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কত?
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 5
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃদপিন্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ (chambers) থাকে, যা রক্ত প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে।
- এটি চারটি প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার নিয়ে গঠিত: দুটি অলিন্দ (atria) এবং দুটি নিলয় (ventricles)।
- উপরের দুটি ছোট প্রকোষ্ঠকে অলিন্দ (ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ) বলা হয়, যা সারা শরীর থেকে রক্ত গ্রহণ করে।
- নিচের দুটি বড় ও পুরু প্রকোষ্ঠকে নিলয় (ডান নিলয় ও বাম নিলয়) বলা হয়, যা রক্ত পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন অংশে পাঠায়।
- অলিন্দ এবং নিলয়ের মাঝে কপাটিকা (valve) থাকে যা রক্তকে একমুখী প্রবাহে সাহায্য করে।
- ডান অলিন্দ কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত গ্রহণ করে এবং ডান নিলয় থেকে তা ফুসফুসে পাম্প করে। বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে এবং বাম নিলয় থেকে তা শরীরের অন্যান্য অংশে পাঠায়।
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।
- প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে।

রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
- মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উল্লেখ্য-
- মাছের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ২টি।
- উভচর প্রাণী এবং সরীসৃপদের (কুমির ব্যতীত) হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ৩টি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৬.
What disease is caused by lack of insulin?
  1. Hypothyroidism
  2. Diabetes
  3. Osteoporosis
  4. Hypertension
  5. Cushing's syndrome
ব্যাখ্যা
• ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৭.
দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি কোনটি? 
  1. ফিমার
  2. ফিবুলা
  3. রেডিয়াস 
  4. হিউমেরাস
ব্যাখ্যা

ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- ফিমার দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে, এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪১৮.
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট কত অনু ATP সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ৩৬ অনু
  2. খ) ৩৮ অনু
  3. গ) ৪০অনু
  4. ঘ) ৪২ অনু
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে সর্বমোট ছয় অণু কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ছয় অণু পানিএবং ৩৮ অনু ATP উৎপন্ন করে।
উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৪১৯.
অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. রেডিয়াস আলনা
  3. কারপাল
  4. ফ্যালানজেস
ব্যাখ্যা

- হিউমেরাস (Humerus):
- এটি অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি।
- হিউমেরাসের উপরের গোলাকার অংশকে মস্তক বলে।
- এখানে একটি বড় ও একটি ছোট টিউবারকল থাকে।
- হিউমেরাসের মধ্য অঞ্চলে ডেলটয়েড রিজ ও নিচের দিকে ট্রকলিয়া থাকে।

- রেডিয়াস ও আলনা (Radius & Ulna):
- হিউমেরাসের নিচের অস্থির নাম রেডিয়াস আলনা।
- আলনার উপরের প্রান্ত মোটা ও নিচের দিকে সরু। 
- আলনার উপরের অংশে একটা সাপের ফনার মত গঠন থাকে। এটিকে অলিক্রেনন প্রসেস বলে।

- কারপাল (Carpal) বা কার্পাস (Carpus): অস্থি মানুষের কব্জিতে দুই সারিতে আটখানা কারপাল অস্থি থাকে।
- এসকল অস্থি কব্জি নাড়াতে সাহায্য করে।

- মেটাকার্পাল (Metacarpal): করতল বা তালুতে পাঁচটি করে মেটাকারপাল অস্থি থাকে। মেটাকারপালের ৩টি অংশ থাকে।
 
- ফ্যালানজেস (Phalanges): আঙ্গুলের অস্থিগুলোকে ফ্যালানজেস বলে। বৃদ্ধাঙ্গুলে ২টি এবং অন্যান্য ৪টি আঙ্গুলে ৩টি করে মোট ১৪টি ফ্যালানজেস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২০.
নিচের কোনটি পরিবেশের ভৌত উপাদান?
  1. ক) মাটি
  2. খ) জলবায়ু
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে পরিবেশের ভৌত উপাদান হচ্ছে জলবায়ু

• পরিবেশে বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি।
যথা.
ক. সজীব উপাদান এবং
খ. জড় উপাদান।

ক. সজীব উপাদান:
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা-
১. উৎপাদক
২. খাদক এবং
৩. বিয়োজক।

১. উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে
সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক।
২. খাদক : ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন
প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক।
৩. বিয়োজক : ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড়
ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে
পুষ্টি জোগায়।

খ. জড় উপাদান:
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান।

• জড় উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান।
২. জৈব উপাদান : উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান।
৩. ভৌত উপাদান : আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২১.
কোনটি একটি মিশ্র করোটিক স্নায়ু? 
  1. অলফ্যাক্টরি
  2. অকুলোমোটর
  3. অপটিক
  4. ট্রাইজেমিনাল
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলে?
  1. ক) জুওলোজি
  2. খ) ট্যাক্সোনমি
  3. গ) জেনেটিক্স
  4. ঘ) ইভোলিউশন
ব্যাখ্যা
- জুওলোজি এর বাংলা পরিভাষা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- বিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাণী সম্পর্কিত বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে প্রাণিবিজ্ঞান বলে।
- ট্যাক্সোনমি হলো জীবের শ্রেণিবদ্ধকরণের বিদ্যা।
- জেনেটিক্স হলো বংশগতিবিদ্যা।
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতিনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে জেনেটিক্স বলে।
- ইভোলিউশন হলো বিবর্তনবিদ্যা।
- প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যাকে ইভোলিউশন বলে। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪২৩.
শিখা কোষ কোন প্রাণীতে দেখা যায়?
  1. জেলিফিশ
  2. ফিতা কৃমি
  3. গোল কৃমি
  4. হাইড্রা
ব্যাখ্যা

শিখা কোষ ফিতা কৃমিতে দেখা যায়।

প্লাটিহেলমিনথিস:
- গ্রিক শব্দ platys (= চ্যাপ্টা) এবং helminthes (= কৃমি) থেকে Platyhelminthes শব্দের উৎপত্তি।
- Gegenbaur, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফিতাকৃমির জন্য এ নামটি প্রস্তাব করেন। বর্তমানে প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে চ্যাপ্টাকৃমি নামে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা।
- এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
- সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
- শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
- অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

- গোল কৃমি হলো নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জেলিফিশ ও হাইড্রা হলো নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৪.
অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. IgE
  2. IgG
  3. IgA
  4. IgD
ব্যাখ্যা
- অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে পাওয়া যায়- IgG

অ্যান্টিবডি: 

- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৪২৫.
মানবদেহের রক্তরসে কোন ধরনের অ্যান্টিবডি সর্বাধিক মাত্রায় থাকে? 
  1. IgE
  2. IgM
  3. IgG
  4. IgD
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৬.
উদ্ভিদের খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে-
  1. ক) জাইলেম
  2. খ) ফ্লোয়েম
  3. গ) স্ক্লেরাইড
  4. ঘ) সিভনল
ব্যাখ্যা

জাইলেম উদ্ভিদের খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে এবং ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।‌
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৭.
শ্বেত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ কী? 
  1. রোগজীবাণু ধ্বংস করা
  2. অক্সিজেন পরিবহন করা
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক. লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে। 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে পৌঁছায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ। 
- পরিণত লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- লোহিত রক্ত কণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। 

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত রক্ত কণিকা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। 
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্ত কণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। শ্বেত রক্ত কণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো। 
- এরা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়। 
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪২৮.
বিলিরুবিন তৈরী হয় কোনটি থেকে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে। 
- এই বিলিরুবিন তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় জন্ডিস। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২৯.
মানবদেহ নিচের কোন শর্করা সরাসরি শোষণ করতে পারে?
  1. শ্বেতসার
  2. গ্লুকোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা 'গ্লুকোজ' শোষণ করতে পারে। 

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 

- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো- 

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না। এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩০.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্নস্তর কোনটি?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড:
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসব্জি, ফল- মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে শর্করা
 
চিত্র: আদর্শ খাদ্য পিরামিড।

- পিরামিডের অংশগুলো আকার অনুযায়ী নিচের দিকে বড়, উপরের দিকে ছোট।
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি, তার পরের অংশে শাকসব্জি ফল-মূল। 
- এভাবে ক্রমান্বয়ে কম প্রয়োজনীয় খাবারগুলো উপরের স্তরে অর্থাৎ কম খেতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৩১.
লোহিত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. লিভারে
  3. প্লীহায়
  4. হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্ত কণিকা তিন ধরনের থাকে। 
যেমন- 
ক. লোহিত কণিকা: 
- রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- এক ঘন মিলিলিটার রক্তে পুরুষদের রক্তের ক্ষেত্রে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ এবং মহিলাদের রক্তে প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ লোহিত কণিকা থাকে। 
- এটি অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় ও ১২০ দিন পর প্লীহায় বিনষ্ট হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত কণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় ও বেশি দিন বাঁচে। 
- এটি হিমোগ্লোবিনের সহায়তায় দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

খ. শ্বেত কণিকা: 
- আমাদের শরীরে রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অনেক কম থাকে। 
- এক মিলিলিটার রক্তে ছয় থেকে আট হাজার শ্বেত কণিকা থাকে। 
- এরা বর্ণহীন ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশিদিন বাঁচে ও সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- শ্বেতকণিকা রক্তে প্রবেশকারী জীবাণুকে ঘিরে ধরে বিনষ্ট করে এবং দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে ডিম্বাকার ও বিভিন্ন আকৃতি বিশিষ্ট অনেকটা ডিসকের মতো দেখতে। 
- দেহের বৃহদাকার কোষ ভেঙ্গে অণুচক্রিকা সৃষ্টি হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩২.
আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠন: 
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। 
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়। 
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। 
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি, শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড: 
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। 
- এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। 
- বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এ সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। 
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। 
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিড হলো- 
১। লাইসিন, 
২। লিউসিন, 
৩। আইসোলিউসিন, 
৪। মিথিওনিন, 
৫। ট্রিপটোফ্যান, 
৬। ভ্যালিন, 
৭। ফিনাইল অ্যালানিন এবং 
৮। থ্রিওনিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের ____________ ধ্বংস হয়ে গেলে।
  1. এক-পঞ্চমাংশ
  2. এক-চতুর্থাংশ 
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. অর্ধেক 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৪.
মানবদেহে রক্ত কণিকা তৈরি হয় কোথায়? 
  1. অস্থি মজ্জায়
  2. ফুসফুসে
  3. প্লীহায়
  4. হৃদপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- শরীরের অস্থি মজ্জা থেকে রক্ত কণিকাগুলো প্রধানত তৈরি হয়। 
- শরীরের মধ্যে অস্থি মজ্জা দু'রকম। 
যথা- লাল অস্থি মজ্জা এবং হলুদ অস্থি মজ্জা। 
- শরীরের সমস্ত রক্ত কণিকাগুলো এ লাল অস্থি মজ্জা থেকে তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলে হেমাটোপয়েসিস। 
- একজন সুস্থ মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্ত কণিকা থাকে। 
- রক্ত কণিকাগুলো মানব শরীরের অস্থি মজ্জায় তৈরি হয়। 
• লোহিত রক্ত কণিকা- যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে। 
• শ্বেত রক্ত কণিকা- কোন বস্তু বা জীবণু রক্তে প্রবেশ করলে তা সহজে ধ্বংস করে। 
• অণুচক্রিকা- রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে রক্ত জমাট বাঁধায় সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৫.
"স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর কাজ কী?
  1. ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
  2. মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন
  3. অক্ষিগোলকের সঞ্চালন
  4. দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
ব্যাখ্যা

" স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।

- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়।
- করোটিক স্নায়ু হলো মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে করোটিক স্নায়ু ছিদ্রপথ দিয়ে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত স্নায়ু।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।
- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- করোটিক স্নায়ু আমাদের স্বাদ, গন্ধ, কথা শোনা এবং অনুভূতি অনুভব করতে সহায়তা করে।

কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ:
- অলফ্যাক্টরি: ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক: দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ট্রকলিয়ার: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)।
- ট্রাইজেমিনাল: সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ফ্যাসিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক): শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক): সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- হাইপোগ্লোসাল: জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৬.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান?
  1. ম্যাংগানিজ
  2. জিংক
  3. বোরন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান ( macro - nutrient বা macro-element):
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান 10টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান (micro-nutrient বা micro-element):
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট 6টি।
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৭.
প্রাণী কোন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) রেচন
  3. গ) শ্বসন
  4. ঘ) অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা

যে বিশেষ জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্য স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলে।
তাই মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো শ্বসন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৮.
খোলস নির্মচন কিসে ভূমিকা রাখে?
  1. শ্বসনে
  2. রেচনে
  3. পরিপাকে
  4. রক্ত সংবহনে
ব্যাখ্যা

- সঠিক উত্তর: খ) রেচনে। 

- খোলস নির্মোচন (Moulting) হলো আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন: চিংড়ি, কাঁকড়া, পতঙ্গ ইত্যাদি) পুরাতন খোলস বা কিউটিকল ত্যাগ করে নতুন খোলস তৈরির প্রক্রিয়া।

• খোলস নির্মোচনের ভূমিকা:
- রেচনে (Excretion): খোলস নির্মোচনের সময় পুরাতন খোলসের সাথে দেহের বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। এটি রেচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
- বৃদ্ধি: পুরাতন শক্ত খোলস ফেলে দিয়ে প্রাণী আকারে বৃদ্ধি পায়।
- ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন: ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো অঙ্গ পুনরুৎপাদনে সাহায্য করে।
- সুতরাং, খোলস নির্মোচন প্রধানত রেচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এর মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নির্গত হয়।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
পরিণত অবস্থায় ব্যাঙ কোনটির সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়?
  1. ক) ফুসফুসের সাহায্যে
  2. খ) ত্বকের সাহায্যে
  3. গ) ফুলকার সাহায্যে
  4. ঘ) খ + গ উভয়টির সাহায্যে
ব্যাখ্যা
ব্যাঙ:
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী।
- এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে।
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না।
- দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙ্গুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৪৪০.
ইকোলজি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. প্রাণির রোগবালাই
  2. জীবের আকার ও গঠন
  3. জিনগত পরিবর্তন
  4. জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. ক) অ্যাারিস্টটল
  2. খ) জন রে
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) থিওফ্রাস্টাস
ব্যাখ্যা
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়।

- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।

- তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens.

- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
৪৪২.
গাজরে নিচের কোন খনিজ উপাদানটি পাওয়া যায়?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) পটাসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে।
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান ।
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে।
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস ও খাবার লবণে ক্লোরিন থাকে।
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৪৩.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৪৪.
নিচের কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের 'ডাইব্যাক' নামক রোগটি হয়? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৫.
নিম্নলিখিত রোগগুলির মধ্যে কোনটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয়?
  1. হাম
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  3. কলেরা
  4. সোয়াইন ফ্লু
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

• ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাসজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৬.
প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 ও E7 জিন কী কাজ করে?
  1. রক্তচাপ কমায়
  2. অ্যান্টিবডি তৈরি করে
  3. কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে 
  4. নিয়ন্ত্রক প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে
ব্যাখ্যা
অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন: 
- টিউমার, ক্যান্সার এগুলো অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। 
- কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয় এবং প্রাণঘাতী টিউমারকে ক্যান্সার বলে। 
- ক্যান্সার কোষ এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফল। 
- গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ কিংবা তেজস্ক্রিয়তা ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। 
- সহস্রাধিক জিনকে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে সহায়ক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 
উদাহরণ- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে, যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক প্রোটিন অণুসমূহকে অণুগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে বা স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় জরায়ুমুখের টিউমার। 
- অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়, ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ, কিংবা ক্যান্সার। 
- অনেক ধরনের ক্যান্সার রয়েছে এবং সেগুলো সবই কমবেশি মারাত্মক রোগ। 
যেমন- লিভার, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, স্তন, ত্বক, কোলন এবং জরায়ু, অর্থাৎ দেহের প্রায় সকল অঙ্গেই ক্যান্সার হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৭.
Moderna ও Pfizer-BioNTech কোম্পানি কোভিড-১৯ এর জন্য উদ্ভাবন করে -
  1. mRNA vaccine
  2. Subunit vaccine
  3. Toxoid vaccine
  4. Vector-borne vaccine
ব্যাখ্যা
Moderna ও Pfizer-BioNTech কোম্পানি কোভিড-১৯ এর জন্য উদ্ভাবন করেছে mRNA vaccine.
 
The Pfizer-BioNTech and Moderna COVID-19 vaccines are messenger RNA vaccines also called mRNA vaccines. mRNA vaccines are some of the first COVID-19 vaccines authorized and approved for use in the United States.
 
Source: www.cdc.gov/
৪৪৮.
পোলিও তে অধিক আক্রান্ত হয়-
  1. নারী
  2. শিশু
  3. বৃদ্ধ
  4. কিশোরী
ব্যাখ্যা
• পোলিও:
- পোলিওমাইটিলিজ' এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা 'পোলিও' নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- পোলিও ভাইরাস আন্ত্রিক ভাইরাস দলেরই অন্তর্গত, কারণ এটি শরীরের অন্ত্রপথেই দেহে প্রবেশ করে থাকে।
- দূষিত খাদ্য ও পানির সাথে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪৯.
রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে কোথায় দিয়ে প্রবেশ করে? 
  1. কর্টেক্স
  2. পেলভিস
  3. হাইলাম
  4. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বাহ্যিক গঠন: 
- প্রত্যেক বৃক্ক নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজ বা বাংলা "৫” সংখ্যার মতো এবং কালচে লাল রংয়ের। 
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার। 
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম। 
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- হাইলামের মধ্য দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বহির্গত হয় এবং রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- বৃক্কে প্রবেশকারী রেনাল শিরা দেহের সবচেয়ে বড় শিরা। 
- সম্পূর্ণ বৃক্ক ক্যাপসুল (capsule) নামক তন্তুময় যোজক টিস্যুর সুদৃঢ় আবরণে বেষ্টিত। 
- বৃক্কের অগ্রপ্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (adrenal gland) টুপির মতো আচ্ছাদন তৈরি করে সংযুক্ত থাকে। 

বৃক্কের অন্তর্গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ দেখা যায়। 
যেমন- বাইরে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত গাঢ় অঞ্চলটি কর্টেক্স রেনাল ক্যাপসুল (cortex), মধ্যখানে হালকা লাল রঙের মেডুলা (medulla) এবং ভিতরে সাদাটে পেলভিস (pelvis)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৪৫০.
ইস্ট কোন প্রাণীরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Protista
  2. খ) Fungi
  3. গ) Animalia
  4. ঘ) Plantae
ব্যাখ্যা
ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, এবং মাশরুম ফানজাই প্রাণীরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

ফানজাই রাজ্যকে ইউক্যারিওটা (সুপার কিংডম ২) কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা প্রকৃতকোষবিশিষ্ট এককোষী বা বহুকোষী জীব। এককভাবে অথবা কলোনি আকারে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। যেমন—ইস্ট, Penicillium, মাশরুম।

বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত।
৩. নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
৪৫১.
​ডলি নামক ভেড়াকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল? 
  1. অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে 
  2. যৌন প্রজননের মাধ্যমে 
  3. ডিম্বাণুর নিষেকের মাধ্যমে 
  4. পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

ক্লোন: 
​- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫২.
ইলিশ মাছ কোন বর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. Cypriniformes
  2. Chupiformes
  3. Perciformes
  4. Channiformes
ব্যাখ্যা

• ইলিশ মাছের শ্রেণিবিন্যাস (Order of Hilsa Fish):
- ইলিশ মাছ (Tenualosa ilisha) হলো একটি প্রজাতির মাছ যা প্রধানত নদী ও সমুদ্র অঞ্চলে পাওয়া যায়।
- এটি Actinopterygii শ্রেণীর অন্তর্গত, অর্থাৎ কাঁটাপাখি বিশিষ্ট মাছের মধ্যে পড়ে।
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এর অন্তর্গত বর্গ হলো Clupeiformes.
- Clupeiformes বর্গের মাছ সাধারণত লম্বা, দেহ চ্যাপ্টা এবং ছোট দাঁতের অধিকারী হয়।
- এই বর্গের অন্যান্য মাছের মধ্যে রয়েছে শ্যাড, মেইলা এবং কিলি জাতীয় মাছ।

সঠিক উত্তর: খ) Chupiformes.

সূত্র - sciencedirect journal.

৪৫৩.
রক্তরসের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. প্রোটিন
  2. পানি 
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

- রক্তরস বা প্লাজমা হলো রক্তের বর্ণহীন তরল অংশ, এর গঠন বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, এর প্রধান উপাদান হলো পানি। রক্তরসের প্রায় ৯০% থেকে ৯২% অংশই পানি দ্বারা গঠিত। এই বিপুল পরিমাণ পানির উপস্থিতির কারণেই রক্ত তার তরল অবস্থা বজায় রাখে এবং শরীরে বিভিন্ন উপাদান পরিবহনে সক্ষম হয়। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৪.
সুষম খাদ্যের উপাদান মোট কতটি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে তাদেরকেই খাদ্য বলে যেগুলো জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে অর্থাৎ এক কথায় দেহের পুষ্টি সাধন করে। 
- খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদেরকে একসঙ্গে পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস ( Nutrients) বলে। 
যেমন - গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা - 
১। খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩। খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

- খাদ্যের উপাদান মোট ছয়টি (৬) টি। 
যথা - 
• শর্করা, 
• আমিষ, 
• স্নেহ, 
• ভিটামিন, 
• খনিজ লবণ এবং 
• পানি। 
- এগুলোর মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ (ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। 
- খাদ্যের শর্করা ও স্নেহকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৫.
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. অ্যাকুয়া রিজিয়া
  4. রেটিনা
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৬.
কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর জীববিজ্ঞান বিষয় কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Biotechnology
  2. খ) Bioinformatics
  3. গ) Pharmacy
  4. ঘ) Genetic Engineering
ব্যাখ্যা

Bioinformatics বলতে বোঝায় কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর জীববিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য, যেমন- ক্যান্সার বিশ্লেষণ বিষয়ক বিজ্ঞান।
Biotechnology শাখায় মানব ও পরিবেশের কল্যাণে জীব ব্যবহারের প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বোঝায়।
Pharmacy শাখায় ঔষধশিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিজ্ঞান আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
Genetic Engineering হল জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৪৫৭.
অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. পারপুরা 
  2. পলিসাইথিমিয়া 
  3. লিউকোসাইটোসিস 
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস 
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৮.
প্যারেনকাইমা কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তখন তাকে বলা হয় -
  1. ক) অ্যারেনকাইমা
  2. খ) ক্লোরেনকাইমা
  3. গ) এ্র্যারেনকাইমা
  4. ঘ) স্ক্লেরেনকাইমা
ব্যাখ্যা
প্যারেনকাইমা (Parenchyma):
- উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
- এ টিস্যুর কোষগুলাে জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রােটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ।
- এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়। কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলােজ দিয়ে তৈরি হয়।
- এসব কোষে যখন ক্লোরােপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে।
- জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে।
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্যদ্রব্য পরিবহন করা।


[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৪৫৯.
মস্তিস্কের কার্যকরী একক হলো -
  1. নিউরন
  2. নেফ্রন
  3. মেনিনজেস
  4. গ্রোমারোলাস
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
- মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেমি
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।
- রেচনতন্ত্রের কার্যকরী একক নেফ্রন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।[২০১৭ সংস্করণ]
৪৬০.
অগ্ন্যাশয় থেকে কোন রস নি:সৃত হয়?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) লাইপেজ
  3. গ) ইনসুলিন
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
 অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৬১.
উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার কোন প্রক্রিয়াকে 'Necessary evil' বলা হয়?
  1. শ্বাসক্রিয়া
  2. প্রস্বেদন
  3. নিঃসরণ
  4. সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: 
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং 
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: 
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৪৬২.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. গর্ভাশয় থাকে
  2. ফল উৎপন্ন হয় না
  3. ফল উৎপন্ন হয়
  4. সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• নগ্নবীজী উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মিবা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়।
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ।

• আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে।
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়।
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়।

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ এর বৈশিষ্ট্য:
- গর্ভাশয় থাকে না;
- ফল উৎপন্ন হয় না;
- বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।

• আবৃতবীজী উদ্ভিদ এর বৈশিষ্ট্য:
- গর্ভাশয় থাকে;
- ফল উৎপন্ন হয়;
- বীজ ফলের ভেতরে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
দ্বিস্তরী প্রাণি কোনটি?
  1. Fasciola
  2. Ascaris
  3. Aurelia
  4. Pila
ব্যাখ্যা

• দ্বিস্তরী প্রাণি (Diploblastic Animal):
- দ্বিস্তরী প্রাণি হলো সেই প্রাণি যার দেহ দুটি প্রধান কোষ স্তর দ্বারা গঠিত – এন্ডোডার্ম (Endoderm) এবং এক্টোডার্ম (Ectoderm)।
- এই প্রাণিগুলির মধ্যে মধ্যস্তর বা মেসোডার্ম (Mesoderm) থাকে না।
- দ্বিস্তরী প্রাণিরা সাধারণত জলজ এবং তাদের দেহ গঠন সহজ হয়।
- উদাহরণ হিসেবে জেলিফিশ (Jellyfish) এবং হাইড্রা (Hydra) দ্বিস্তরী প্রাণি।

• বিভিন্ন প্রাণির স্তরসংক্রান্ত শ্রেণীবিভাগ:
- Fasciola: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, যা পরজীবী এবং মেসোডার্ম উপস্থিত।
- Ascaris: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, একটি roundworm।
- Aurelia: দ্বিস্তরী (Diploblastic) প্রাণি, একটি jellyfish প্রজাতি।
- Pila: ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণি, একটি শেলযুক্ত mollusk। 

- সুতরাং, দ্বিস্তরী প্রাণি হলো Aurelia. 
- সঠিক উত্তর: গ) Aurelia.

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

৪৬৪.
জীববিজ্ঞানের জনক কে?
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  3. থিওফ্রাসটাস
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
• জীববিজ্ঞানের জনক: 
- বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় প্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা বা গবেষণার যিনি সূত্রপাত করেন তাকে বিজ্ঞানের ঐ শাখার জনক বলা হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল, তাই অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তবে এরও বেশ আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ঋিষি অথর্বান, সুম্ভূত প্রভৃতি ব্যক্তিগণ উদ্ভিদ ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে ছিলেন।

অন্যদিকে: 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণের জনক।
- থিওফ্রাসটাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতিবিদ্যার জনক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৫.
জলজ উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. গজারি
  2. সাইকাস
  3. হিজল
  4. সেগুন
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ: 
 - জলজ উদ্ভিদ পানিতে বসবাস ও বেড়ে ওঠা এবং প্রায়শ সুচিহ্নিত উদ্ভিদকুল। 
- এগুলো খাদ্যবস্ত্ত ও শক্তির উৎস এবং সৌরশক্তির দক্ষ পরিবর্তক। 
- কৃষি, মৎস্যচাষ ও জলাশয়ের আবাদে জলজ উদ্ভিদকুলের গুরুত্ব সম্প্রতি বেড়েছে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ সপুষ্পক, ৬ ফার্নজাতীয় (pteridophyte), ৩ মসজাতীয় (bryophyte) ও কয়েকশ  শৈবাল প্রজাতি জলজ উদ্ভিদ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। 
- জলজ উদ্ভিদকুল সম্পূর্ণ ডুবন্ত, উপরিতলে ডুবন্ত, বিক্ষিপ্ত ও ভাসমান আগাছা হিসেবে বিভক্ত। 
- শৈবাল ছাড়া জলজদের মধ্যে আছে সম্পূর্ণ ডুবন্ত ৩৫, উপরিতলে ডুবন্ত ২০, ভাসমান ১৭ প্রজাতি। 
- জলজ উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে জলকণা, পদ্ম, ডাকউইডস, মশার ফার্ন, ভাসমান হৃদয়, জলকণা, ঘোড়ার লেজ, জলকণা, জলকণা, হিজল, সেগুন, সাইকাস এবং শৈবাল ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- গজারির অপর নাম শাল। 
- ভাওয়াল ও মধুপুরের গাজারি বনই দেশের বৃহত্ পত্রঝরা বনাঞ্চল। 
- লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে। তবে পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না। 
- এ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Shorea robusta। 
- সরল কাণ্ডের গজারিগাছ মূলত বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। 
- গজারির বড় পাতা ঠোঙা, চালের পিঠা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। 
- গজারি পাতায় রস কৃমিনাশক, এ গাছের ফলের গুঁড়া আমাশয় ভালো করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিঙ্ক] ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা।
৪৬৬.
অ্যানিমিয়া রোগে কোন রক্ত কণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

২। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৩। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৭.
নিচের কোনটি পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা নয়? 
  1. পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া।
  2. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া।
  3. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া।
  4. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয়ে যাওয়া।
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস: 

- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৮.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. নারিকেল
  2. আম
  3. সুপারি
  4. পাইনাস
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদে ফুলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 
- আর আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৬৯.
রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্য প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী কোন হরমোন?
  1. ক) এড্রেনালিন
  2. খ) ইনসুলিন
  3. গ) থাইরেক্সিন
  4. ঘ) গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা
বর্তমান যুগে প্রতিটি মানুষই মানসিক চাপে দিন পার করছেন। মানসিক চাপের কারণে ‘অ্যাড্রেনাল’ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এমন হরমোন (এড্রেনালিন হরমোন) যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:
১) কিডনির রোগ।
২) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থির টিউমার।
৩) ধমনীর বংশগত রোগ।
৪) গর্ভধারণ অবস্থায় অ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রিঅ্যাকলাম্পসিয়া হলে।
৫) অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার।
৬) স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।
৪৭০.
স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) পারকিনসন রোগ
  2. খ) কোভিড-১৯
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ হচ্ছে স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ।

- পারকিনসন মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাত ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- পারকিনসন রোগ সাধারণত ৫০ বছরের অধিক বয়সীদের মাঝে দেখা যায়। 
- পারকিনসন রোগ এক প্রকার নিউরো ডিজেনারেটিভ বা স্নায়ুর অধঃপতনজনিত রোগ।
- লক্ষণসমূহ-
১) হাত,পা,মাথা এবং মুখের থুতনি ও চোয়াল কেঁপে ওঠা। 
২) ধীরে ধীরে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৩) হাত পা ও শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। ফলে, শরীরের যেকোনও অংশ নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়, যেমন- হাত ঘোরাতে বেশ কষ্ট অনুভূত হয়।
৪) হাঁটাচলা ক্রমশ ধীরগতি হয় এবং জড়তা দেখা দেয়।

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
 
৪৭১.
হৃৎপিণ্ডকে আবৃতকারী পর্দার নাম কী?
  1. ক) মেনিনজেস
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) এপিকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এক্টোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডকে আবৃতকারী পর্দার নাম- পেরিকার্ডিয়াম।
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম- মেনিনজেস।
হৃৎপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা- এপিকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম ও এক্টোকার্ডিয়াম।।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৭২.
নিচের কোনটি বোরনের অভাবজনিত লক্ষণ নয়?
  1. ক) কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হওয়া
  2. খ) কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  3. গ) ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হওয়া
  4. ঘ) কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যাওয়া
ব্যাখ্যা
বোরন (B):
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে।
- প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়।
- কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়।
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।
লৌহ (Fe):
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়। 
- তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৩.
মস্তিষ্কের কোন অংশ বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নাউর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- মানুষের ব্যাক্তিত্ব ও সমাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়। 
- ঘুম্নত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে।

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক): 
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোবাসা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক): 
- ঐচ্ছিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ওইচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।
  
সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজি আজমল ও গাজী আসমত 
৪৭৪.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
  1. ক) ভেসেল
  2. খ) সীভ নল
  3. গ) সঙ্গী কোষ
  4. ঘ) বাস্ট তন্তু
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম টিস্যু:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ।
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা-
(A) সীভ নল,
(B) সঙ্গী কোষ,
(C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং
(D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু।
- এই ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ হলো- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনো কখনো খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৪৭৫.
মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গের একক কী?
  1. সাইনাস
  2. নিউরন
  3. নেফ্রন
  4. লোবিউল
ব্যাখ্যা
• রেচন:
- যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেওয়া হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

⇒ মানবদেহের রেচন অঙ্গ হলো কিডনি অথবা বৃক্ক।
⇒ বৃক্কের একক হলো নেফ্রন।

• শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ এবং জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দিয়ে বৃক্ক দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
- দেহের এই বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোনো কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৭৬.
মানব রক্তের স্বাভাবিক pH মাত্রা সাধারণত কত থাকে?
  1. ৪.৩-৫.৫
  2. ৫.৩-৬.০
  3. ৭.৩-৭.৪
  4. ৮.৫-৯.৪
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, রক্তের pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের একটি ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান? 
  1. ফসফরাস
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. দস্তা
  4. মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা -
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
ফসফরাস (P)
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O) এবং 
• সালফার (S)। 

২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৭টি।
যথা - 
• দস্তা বা জিংক (Zn), 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• লৌহ (Fe), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৮.
'ডাউন সিন্ড্রোম' কী?
  1. গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতা
  2. গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশ
  3. শিশুরে দেহে ভিটামিন এ এর অভাব
  4. ফলের অপরিণত বিকাশ
ব্যাখ্যা
ডাউন সিন্ড্রোম:
- ল্যাংডন ডাউন ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলীয় জড় বুদ্ধিতা নামক একটি বংশগত রোগের সিন্ড্রোম বর্ণনা করেন।
- তার নাম থেকেই এ রোগের নাম ডাউন সিন্ড্রোম।
- মানুষের ২১তম ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ (Non disjunction) না ঘটার ফলে এ রোগটি হয়।
- শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এ রোগটি সহজে বোঝা যায়। শিশুর চোখের পাতায় অতিরিক্ত একটি ভাঁজ দেখা দেয়।
- এদের মুখ থাকে খোলা, জিহবা বের হওয়া এবং জিহ্বায় কিছু সংখ্যক ভাঁজ।
- পানি জমে হাত-পা ফোলা ফোলা থাকে। 
- হাত ও পায়ের তালুর এক পাশ থেকে অপর পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে একটি বিশেষ ভাঁজ বা রেখা।
- হাত খাটো ও প্রশস্ত, মুখ মন্ডল চেপ্টা ও করোটি গোল, গলা বেশ খাটো, কান নিচের দিকে নামানো, চোখের মনির পাশে বিদ্যমান ব্রাশফিল্ড দাগ, নমনীয় সন্ধিস্থল, ভেতরমুখী বাঁকানো ৫ম আঙ্গুল এবং পায়ের ১ম ও ২য় আঙ্গুলের মধ্যবর্তী বেশ বড় ফাঁক প্রভৃতি ডাউন সিন্ড্রমের লক্ষণ।
- শৈশবে ডাউন সিন্ড্রমের রোগীরা বেশ হাসিখুশি ও অনুগত থাকে।
- বড় হলে দেখা যায় এদের বুদ্ধিমত্তা তুলনামূলকভাবে কম।

উৎস: জীবন গড়ার কলা কৌশল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কী?
  1. ক) স্টার্চ
  2. খ) গ্লাইকোজেন
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ বা শ্বেতসার।
- উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে।
- উদ্ভিদ কোষের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
- এদের এক বা একাধিক কোন গহ্বর থাকে।
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৮০.
কোনটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. আম
  2. মটর
  3. শিম
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: ধান, গম, যব, খেজুর, বরই ইত্যাদি।
• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: আম, ছোলা, মটর, শিম ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৮১.
তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. ফুল উৎপন্ন করা
  2. খাদ্য উৎপাদন করা
  3. উদ্ভিদের শ্বসন পরিচালনা করা
  4. দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু: 
- তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। 
- মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। 
- তরল যোজক টিস্যু দুই প্রকারের হয়।  
যথা- 
১। রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত, লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- রক্ত ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- রক্তের প্রধান উপাদান দু'টি। যথা- রক্তরস এবং রক্ত কণিকা। 

২। লসিকা: 
- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। 
- ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়। 
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়। 
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে, এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়। 
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮২.
ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত সঠিক নয় কোনটি?
  1. বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-ভাজন পদ্ধতি
  2. ফ্লাজেলা চলনে অংশগ্রহণ করে
  3.  পিলি দ্বারা পোষক কোষের সাথে সংযুক্ত হয়
  4. প্লাসমিড কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে
ব্যাখ্যা

• ক্যাপসুল বা স্লাইম স্তর, ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে।
- প্লাসমিড হলো ক্ষুদ্র বৃত্তাকার DNA অণু যা ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে, স্ববিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ট্রান্সজেনিক ব্যাকটেরিয়া বা জীব সৃষ্টিতে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া
অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর।
- এরা সাধারণত দ্বি-ভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৩.
মৌমাছির মধু ঋতু কোনটি?
  1. ক) গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শরৎকাল
  3. গ) হেমন্তকাল
  4. ঘ) বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম। প্রতি তাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে। মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে। তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. মেন্ডেলের প্রথম সূত্র
  2. জৈব বিবর্তনবাদের সূত্র
  3. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র
  4. জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের সূত্র: 

• গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
• জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
• গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৮৫.
কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয়?
  1. গণোরিয়া
  2. জন্ডিস 
  3. টিটেনাস
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে সাধারণত এমন রোগগুলো হয় যা সরাসরি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। উদাহরণ হিসেবে গণোরিয়া, কলেরা এবং টিটেনাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। তবে জন্ডিস সাধারণত ভাইরাসজনিত বা লিভারের সমস্যার কারণে হয়, তাই এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয়। তাই এই চারটির মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয় জন্ডিস।
 
 • ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় জন্ডিস।
- এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• ভাইরাস জনিত রোগ:
- বসন্ত,
- হাম,
- সর্দি,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- জন্ডিস,
- এইডস,
- পোলিও ইত্যাদি।

- উল্লেখ্য, জ্বর সাধারণত শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণ।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৪৮৬.
মস্তিস্কের কোন অংশটি মেনেনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে?
  1. ক) অগ্রমস্তিস্ক
  2. খ) মধ্যমস্তিস্ক
  3. গ) পশ্চাৎমস্তিস্ক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অগ্রমস্তিস্ক মেনেনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

অগ্ৰমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।
হাইপোথ্যালামাস এর নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গােলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জ্ব নিয়ে গঠিত।
পশ্চাৎ মস্তিষ্ক হল মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৮৭.
জ্যাঙ্ক ফুডে নিচের কোন দ্রব্যের আধিক্য থাকে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
- জাঙ্ক ফুড হচ্ছে একধরনের খাদ্য, যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেট প্রভৃতি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আধিক্য থাকে।
- ফাস্টফুড অসম্পৃক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ। এ ধরনের চর্বি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিয়ে ধমনিতে ব্লক সৃষ্টি করে।
-  পাশাপাশি উচ্চমাত্রার লবণ, টেস্টিং সল্ট বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট ও কৃত্রিম রং থাকায় ফাস্টফুড উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। সমান ঝুঁকি থাকে ডুবো তেলে ভাজা ফাস্টফুডেও।
-  ওজন বাড়ার সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, পেটের সমস্যাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির প্রধান কারণ ফাস্টফুড। 
 
উৎস : প্রথম আলো  
৪৮৮.
নিচের কোন ফলটি সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ?
  1. কমলা
  2. আমলকি
  3. পেয়ারা
  4. টমেটো
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড। 
- পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে। 
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। 
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি। 
- ডিম ও দুধে খুবই কম পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। 
 
অন্যদিকে, 
- দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন এ থাকে। 
- ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন বি থাকে। 
- ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৯.
নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?
  1. কার্বন
  2. আয়রন
  3. সালফার
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের কোন মৌলটি মাইক্রোমৌল?

• উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান:
- যে মৌল ছাড়া উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে না এবং উদ্ভিদ গঠন বা মেটাবলিজম সম্ভব নয় তাকে উদ্ভিদের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের জন্য দুই ধরনের অত্যাবশকীয় পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। যথা:

• ম্যাক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অধিক পরিমাণে লাগে সেগুলো ম্যাক্রোমৌল।
- হাইড্রোজেন, কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও সালফার।

• মাইক্রোমৌল:
- যে মৌলগুলো অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণে লাগে সেগুলো মাইক্রোমৌল।
- ক্লোরিন, বোরন, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, নিকেল, মলিবডেনাম।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪৯০.
মৎস্য সংক্রান্ত বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Ornithology
  2. Entomology
  3. Ichthyology
  4. Paleontology
ব্যাখ্যা
মাছের বৈজ্ঞানিক গবেষণা হিসাবে পরিচিত Ichthyology.

Ichthyology is the scientific study of fishes, including, as is usual with a science that is concerned with a large group of organisms, a number of specialized subdisciplines: e.g., taxonomy, anatomy (or morphology), behavioral science (ethology), ecology, and physiology.
 
উৎস: ব্রিটানিকা 
৪৯১.
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে কোনটি সাহায্য করে?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) প্রোটোজোয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 
ক) কক্কাস: কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস: এরা দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায় । ধনুষ্টংকার, রক্তামাশ ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা: এরা বাঁকা দণ্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের।
ঘ) স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
• মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
• একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে
• দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
• বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জীনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৯২.
কচুরীপানা পানিতে ভাসে?
  1. ক) শিকড় লম্বা বলে
  2. খ) কাণ্ড ফাঁপা বলে
  3. গ) পাতাগুলো ছড়ানো বলে
  4. ঘ) সবগুলোই ঠিক
ব্যাখ্যা
• কচুরিপানা পানিতে সহজে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ড ফাঁপা বলে
- কচুরিপানা সহ অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কান্ড ফাঁপা।
- এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে।
- এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৩.
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত কোনটি? 
  1. LDL
  2. DDL
  3. HDL
  4. TDL
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- 
- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein - HDL)। 
- নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein - LDL)। 
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- LDL এর পরিমাণ 150 mg/dl এর বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/d. 
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৪.
বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ মানে কী বোঝায়? 
  1. অতিরিক্ত ওজন 
  2. শরীরের ওজন কম 
  3. মোটা হওয়ার প্রথম স্তর 
  4. সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান 
ব্যাখ্যা

বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
• বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৫.
নিচের কোনটি Viral Disease?
  1. Tuberculosis
  2. Whooping cough
  3. Diphtheria
  4. Influenza
ব্যাখ্যা
• Influenza ভাইরাসঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:

- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
Tuberculosis বা যক্ষ্মা, Whooping cough ও Diphtheria ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৯৬.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের তৃতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. ব্যাঙ
  2. মশার শুককীট
  3. বক
  4. ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে। 
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। 
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
অলিন্দের সংকোচন কত সেকেন্ড স্থায়ী হয়?
  1. ক) ০.৭ সেকেন্ড
  2. খ) ০.১ সেকেন্ড
  3. গ) ০.৩ সেকেন্ড
  4. ঘ) ০.৫ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
অলিন্দের সংকোচন:
এটি ০.১ সেকেন্ড স্থায়ী হয়
এ সময় অলিন্দ দু'টি সংকুচিত অবস্থায় থাকে।
বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়।
ফলে ডান অলিন্দ থেকে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে।
এই সময় পালমোনারি ও অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকাগুলো বন্ধ থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৯৮.
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে বলে-
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) আরএনএ
  4. ঘ) লোকাস
ব্যাখ্যা

- জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
- এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
- ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।
- সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে।
- আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৪৯৯.
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক -
  1. ক) নাসিকা
  2. খ) স্বরযন্ত্র
  3. গ) অ্যালভিউলাস
  4. ঘ) নাসাগহ্বর
ব্যাখ্যা
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক হচ্ছে অ্যালভিউলাস। 

- অ্যালভিউলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ।
- ডান ফুসফুসে দশটি ও বাম ফুসফুসে আটটি লোবিউল থাকে।
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- ফুসফুস শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের বুকের বাঁ দিকে রয়েছে হৃৎপিণ্ড।
- হৃৎপিণ্ডের দুই পাশজুড়েই ফুসফুসের অবস্থান। ফুসফুসের কাজ শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করা। 
- প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২ থেকে ১৮ বার এবং শিশুরা নেয় ২০ থেকে ৩০ বার। 

সূত্র- ১২৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
রক্তে প্লেইটলেট এর প্রধান কাজ কি?
  1. ক) O2 পরিবহন
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত তঞ্চন করা
  4. ঘ) CO2 পরিবহন
ব্যাখ্যা
Platelets play an important role in the formation of a blood clot by aggregating to block a cut blood vessel and provide a surface on which strands of fibrin form an organized clot, by contracting to pull the fibrin strands together to make the clot firm and permanent, and, perhaps most important, by providing or mediating a series of clotting factors necessary to the formation of the clot. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।