বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা৭৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪২ / ৪২ · ৪,১০১৪,১৭৫ / ৪,২০৮

৪,১০১.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে কোনটি?
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিকনালি
  4. রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

• রক্তনালি:

- যে নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে রক্তনালি বলে।
- মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। যথা- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালি।

• ধমনি:
- যে সকল রক্তবাহী নাশি হূৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনী বলে।
- এরা দেহের ভিতর দিকে অবস্থিত।
- ধমনির প্রাচীর পুরু পর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

• শিরা:
- যে সকল রক্তনালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে।
- শিরা প্রাচীর অপেক্ষকৃত পাতলা।
- এদের গহ্বরটি বড় ও গহ্বরের প্রাচীরপাত্রে কপাটিকা থাকে।
- দেহের কৈশিক জালিকা থেকে শিরার উৎপত্তি ঘটে।
- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বহন করে।

• কৈশিকনালি:
- ধমনি ক্রমান্বয়ে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম নালি তৈরি করে। এই সকল সূক্ষ্মনালিকে কৈশিকনালি বা কৈশিক জালিকা বলে।
- কৈশিকনালি থেকে শিরার উৎপত্তি।
- এক স্তরবিশিষ্ট পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দিয়ে কৈশিকনালির প্রাচীর গঠিত।
- কৈশিকনালি দেহকোষের চারপাশে অবস্থান করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,১০২.
কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে কী বলে?
  1. পর্বমধ্য
  2. মুকুল
  3. পর্ব
  4. পত্রকক্ষ
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,১০৩.
কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে কোনটি?
  1. ক) মাইক্রোফিলামেন্ট
  2. খ) ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট
  3. গ) মাইক্রোটিউবিউলস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মাইক্রোটিউবিউলস কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে। 
কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করা এবং সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ক্রোমসোমকে পৃথক করতে পাশাপাশি বিপরীত মেরুতে পৌছাতে সাহায্য করে।
মাইক্রোটিউবিউলস (Microtubules)-
ভৌত গঠন (Physical Structure) : মাইক্রোটিউবিউলস দেখতে লম্বা, শাখাহীন, ফাঁপা টিউব জাতীয়।
রাসায়নিক গঠন (Chemical Composition) : প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলসে ১৩টি প্রোটোটিউবিউল সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে। মাইক্রোটিউবিউলসের প্রতিটি প্রোটোটিউবিউল ডাইমেরিক প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

কাজ :
১. ফ্ল্যাজেলা, সিলিয়া ইত্যাদির বিচলনে সাহায্য করে।
২. কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে; সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ক্রোমোসোমকে পৃথক করতে এবং বিপরীত মেরুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩. মাইক্রোফাইব্রিলের বিন্যাস নির্দেশ করে। এরা কোষ প্রাচীর গঠনেও সাহায্য করে।
৪. সেল মেমব্রেন, নিউক্লিয়ার এনভেলপ ও অন্যান্য অঙ্গাণুর সাথে সংযুক্ত থেকে এদের সাথে যোগাযোগ ও পরিবহন কার্যে সাহায্য করে।
৫. এরা সাইটোস্কেলিটন বা কোষীয় কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
৬. যোগাযোগ ও পরিবহনে সাহায্য করে।

সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪,১০৪.
ইনসুলিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রাতকানা
  2. রিকেটস
  3. ডায়াবেটিস
  4. আমাশয়
ব্যাখ্যা

• ডায়াবেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১০৫.
মানুষের চোখের রং এর জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক্রোমোজোম
  2. জিন
  3. নিউক্লিয়াস
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। 
- যেসব জীবে DNA থাকে না কেবল RNA থাকে সে ক্ষেত্রে RNA জিন হিসেবে কাজ করে। যেমন - তামাক গাছে মোজাইক ভাইরাস (TMV)
- জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কখনো একটি জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৪,১০৬.
ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) নিউমোনিয়া
  4. ঘ) চোখ ওঠা
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া হলো ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। এ রোগের জীবাণুর নাম হলো স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া।

অন্যদিকে জন্ডিস, এইডস এবং চোখ ওঠা হল ভাইরাস জনিত রোগ।

৪,১০৭.
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করে, তাকে কী বলে? 
  1. Evolution
  2. Fossilogy
  3. Paleobotany
  4. Anthropology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে 
- Evolution হলো জীবের ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করে। 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।
৪,১০৮.
কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) এ
  2. খ) ও
  3. গ) এবি
  4. ঘ) বি
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।

এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১০৯.
জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন-
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৩ সালে
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৪,১১০.
সবাত শ্বসন কোথায় ঘটে?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্টে
  2. খ) সাইটোপ্লাজমে
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়াতে
  4. ঘ) উপরের খ ও গ
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপটি কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং ক্রেবস্ চক্রটি মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে ঘটে। সবাত শ্বসনে মোট যে ৩৮টি ATP (অ্যাডিনো সাইন ট্রাই ফসফেট) উৎপন্ন হয়, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৪,১১১.
জীবের শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়-
  1. ক) ফিজিওলজিতে
  2. খ) ট্যাক্সোনমিতে
  3. গ) এমব্রায়োলজিতে
  4. ঘ) এন্টোমলজিতে
ব্যাখ্যা

- জীবের শ্রেণীবিন্যাস এবং তার রীতিনীতি গুলো ট্যাক্সোনমির আলোচ্য বিষয়।
- এন্টোমলজিতে কিটপতঙ্গ,
- ফিজিওলজিতে শারীরবিদ্যা এবং
- এমব্রায়োলজিতে ভ্রূণবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১১২.
নিচের কোনটি যৌগিক ফল?
  1. ক) কাঁঠাল
  2. খ) ডুমুর
  3. গ) আনারস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
যখন একটি পুষ্পমঞ্জরির সব ফুল মিলে একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যৌগিক ফলের ভিতরে অসংখ্য বীজ থাকে।
যেমন: আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,১১৩.
নিচের কোনটি শ্বেত রক্তকনিকার অংশ নয়?
  1. মনোসাইট
  2. বেসোফিল
  3. নিউট্রোফিল
  4. ক্রিয়েটিনিন
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
- এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬° - ৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত।
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান:
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে।
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।


- শ্বেতকণিকার ধরনগুলো হলো দানাদার কোষ (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) ও অদানাদার কোষ (মনোসাইট ও লিম্ফোসাইট)।

অন্যদিকে,
- ক্রিয়েটিনিন রক্তরস বা প্লাজমার অংশ। 

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১১৪.
ব্যাকটেরিয়ার চলাচলের জন্য কোন উপাঙ্গ অপরিহার্য?
  1. ক্যাপসিউল
  2. পিলি
  3. ফ্ল্যাজেলা
  4. রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার চলাচলের জন্য ফ্ল্যাজেলা অপরিহার্য কারণ ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।

- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে।
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে।
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১১৫.
খেজুরে প্রধানত কোনটি পাওয়া যায়?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

• শর্করার উদ্ভিজ উৎস:
- শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি।
- গ্লুকোজ: আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদি।
- ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে।
- সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
- সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।

• শর্করার প্রাণিজ উৎস:
- ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
- গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে গ্লাইকোজেন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৪,১১৬.
বয়োবৃদ্ধ পাতা হলুদ হয়ে যায় কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. সালফার
  3. ফসফরাস
  4. পটশিয়াম
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন (N) এর অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- নাইট্রোজেনের অভাবে বয়োবৃদ্ধ পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,১১৭.
টিবি রোগের জন্য সাধারণত কোন জীবাণু দায়ী? 
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা

• টিবি রোগের জন্য সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দায়ী। বিশেষভাবে, এটি Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করে, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তি খাঁচা, কাশির ফোঁটা বা স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। টিবি রোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হালকা লক্ষণ যেমন হাঁপানি, কাশি, জ্বর, ওজন কমা দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং রোগের প্রকৃতির কারণে টিবি রোগের চিকিৎসায় সাধারণভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। সুতরাং, টিবি রোগের মূল দায়ী জীবাণু হলো ব্যাকটেরিয়া।

- সঠিক উত্তর: গ) ব্যাকটেরিয়া।

• যক্ষ্মা: 
- যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।

- যেকোনো লোক, যেকোনো সময়ে এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়। 
- যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো স্থানে হতে পারে।
- দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না। যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• রোগের কারণ:
- সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
- তবে Mycobacterium গণভুক্ত আরও কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষ্মা সৃষ্টি করতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৪,১১৮.
রেটিনার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্ত সরবরাহ করা
  2. চোখকে আর্দ্র রাখা
  3. বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
  4. আলোর প্রতিফলন ঘটানো
ব্যাখ্যা
রেটিনা (Retina): 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। 
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 
- রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১১৯.
মস জাতীয় উদ্ভিদে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. রাইজয়েড
ব্যাখ্যা
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
- উদাহারণ - ইস্ট, মিউকর ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,১২০.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ (Mn)
  2. অক্সিজেন (O)
  3. ক্যালসিয়াম (Ca)
  4. পটাসিয়াম (K)
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:
 
• উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা ১৬ টি।

• উদ্ভিদের পুষ্টির উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বা অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, 
২. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বা গৌণ উপাদান। 

• ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন: নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) ও লৌহ (Fe)।
- মনে রাখার উপায়: MgK CaFe for Nice CHOPS

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। যেমন: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

• পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উদ্ভিদ বায়ু হতে শোষণ করে। অন্য পুষ্টি উপাদান গুলো মাটি হতে মূলের সাহায্যে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৪,১২১.
রক্তরসে কোন অ্যান্টিবডি সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে?
  1. IgA
  2. IgG
  3. IgE
  4. IgM
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১২২.
লিউকেমিয়ায় কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হয়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাজমা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. শ্বেত রক্ত কণিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১২৩.
পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ফসফরাস
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন - 

পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হয়। 

ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২৪.
বৈদ্যুতিক বাতি কে আবিষ্কার করেন?
  1. টমাস আলভা এডিসন
  2. জেমস ওয়াট
  3. উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
• টমাস আলভা এডিসন:
- তিনি ১১ ফেব্রুয়ারী ১৮৪৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেখানে তিনি কার্বন-বোতাম ট্রান্সমিটার (১৮৭৭) আবিষ্কার করেন।
- ১৮৭৭ সালে তিনি ফোনোগ্রাফ এবং ১৮৭৯ সালে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- উইলিয়াম গিলবার্ট (William Gilbert) কে বলা হয় "বিদ্যুতের জনক"। 
- জেমস ওয়াট বাষ্প ইঞ্জিনের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। 
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। 

উৎস: Britannica.com। 
৪,১২৫.
উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত? 
  1. সেলুলোজ
  2. লিগনিন
  3. কাইটিন
  4. পেকটিন
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 
- সেলুলোজের কাজ- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে । 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১২৬.
নিচের কোনটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের তিনটি ‘D’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. Diet
  2. Drug
  3. Disease
  4. Discipline
ব্যাখ্যা
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের তিনটি ‘D’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়- Disease

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 

- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়। 
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 । 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। 
- তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। 
- এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে, এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।  
- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug
(i) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(ii) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(iii) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১২৭.
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো- 
  1. অণুজীববিজ্ঞান
  2. বিবর্তনবিদ্যা
  3. এনটোমোলজি
  4. ভ্রূণবিদ্যা 
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১২৮.
পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত হয়?
  1. ৯০/৬০ mmHg
  2. ১২০/৫০ mmHg
  3. ১২০/৮০ mmHg
  4. ১৬০/১১০ mmHg
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg। 

• রক্তচাপ (Blood Pressure):
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।

• হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে। একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে।
-  হৃৎপিন্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে। একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে।

• চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ mmHg |
- রক্তের সিস্টোলিক (Systolic) চাপের আদর্শ মান ১২০ mmHg এর নিচে।
- রক্তের ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপের আদর্শ মান ৮০ mmHg এর নিচে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪,১২৯.
কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. লিগনিন
  2. রেজিন
  3. সেলুলোজ
  4. কাইটিন
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঁঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCl বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অস্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। 
- তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান, একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মো ব্যবহৃত হয়
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ। 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৩০.
'শরীরের ওজন অতিরিক্ত' বিএমআই অনুযায়ী নিচের কোন মানকে নির্দেশ করে?
  1. ১৮.৫ - ২৪.৯
  2. ২৫.০-২৯.৯
  3. ৩০.০ - ৩৪.৯
  4. ৩৫.০-৩৯.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
  বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) । 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৩১.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৩২.
নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. পেলেগ্রা 
  2. রিকেটস 
  3. বেরিবেরি 
  4. পারকিনসন 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে, ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খাবারে ভিটামিন B কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর উৎস এবং অভাবজনিত রোগ নিচে দেওয়া হলো- 
১। থায়ামিন (B1): 
উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, ডাল, তেলবীজ, বাদাম, যকৃৎ, টাটকা ফল ও সবজি। প্রাণিজ উৎসের মাঝে রয়েছে যকৃত, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি। 
অভাবজনিত রোগ: দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

২। রাইবোফ্ল্যাভিন (B2): 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। 

৩। নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3): 
উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাকসবজি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়, পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া। 

৪। পাইরিডক্সিন (B6): 
উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 

৫। কোবালামিন বা (B12) সায়ানোকোবালামিন: 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, পনির, বৃক্ক প্রভৃতি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে রক্তস্বল্পতা রোগ দেখা দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৩৩.
পানিতে সালোকসংশ্লেষণের হার কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০৪%
  3. ০.৩০%
  4. ০.৩৩%
ব্যাখ্যা

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৩৪.
এপিলেপসি রোগের আরেকটি পরিচিত নাম কী?
  1. স্ট্রোক
  2. ব্রঙ্কাইটিস
  3. মৃগী রোগ
  4. পক্ষাঘাত
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি (Epilepsy): 
- এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে রোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে, এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, শরীর কাঁপুনি ও খিঁচুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 
- আগুন বা পানির সাথে এপিলেপসির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রোগাক্রান্ত অবস্থায় কোথাও পড়ে গেলে রোগী নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। এই কারণে এসব রোগীকে জলাশয় বা আগুন কিংবা অন্যান্য বিপজ্জনক বস্তু বা স্থান থেকে দূরে রাখতে হয়। 

- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। 
- স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মৃগী রোগ দেখা দেয়। 
- মাথায় আঘাতের কারণে ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি কারণেও এপিলেপসির উপসর্গ দেখা দেয়। 
- এপিলেপসি যেকোনো বয়সে হতে পারে। 
- কোনো কোনো এপিলেপসির কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নেই, আবার কোনোটা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। 
- তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এপিলেপসির ধরন নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৩৫.
ত্বকের স্তর-
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা
ত্বকের দুইটি স্তর। অন্তঃত্বক এবং বহিঃত্বক।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,১৩৬.
শিশুদের রিকেটস রোগটি কোন খনিজের অভাবজনিত রোগ?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. জিংক 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা

- শিশুদের রিকেটস রোগটি মূলত ক্যালসিয়াম-এর অভাবজনিত রোগ। শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না, যার ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং বেঁকে যায়। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 

- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 

ক্যালসিয়ামের উৎস: 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ: 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia)- এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৩৭.
জীবদেহে কয় ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় একটি সজীব কোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।
- জীবদেহে তিন ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে। যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মিয়োসিস।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,১৩৮.
খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল ও গিলতে সাহায্য করে কোনটি?
  1. এনজাইম
  2. মলটোজ
  3. মিউসিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
লালা: 
- লালা একপ্রকার বর্ণহীন তরল পদার্থ।
- মুখের পেছনে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়।
- খাদ্য পরিপাকে লালার বিশেষ ভূমিকা আছে।
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে ও গিলতে সাহায্য করে
- লালায় এক ধরনের অনুঘটক বা এনজাইম থাকে।

এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এমন একটি বস্তু, যা খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে রাসায়নিক ক্রিয়ায় সাহায্য করে, কিন্তু ক্রিয়া-বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত এনজাইম ভাল কাজ করে। 
• নির্দিষ্ট এনজাইম নির্দিষ্ট কাজ করে। 
যেমন- ট্রিপসিন এনজাইম শুধুমাত্র আমিষের উপর ক্রিয়া করে। 
- লালার এনজাইম শ্বেতসারকে পরিবর্তন করে শর্করায় (মলটোজ) পরিণত করে, এ কারণে শর্করা জাতীয় খাবার চিবানোর পর কিছুক্ষণ মুখে রাখলে মিষ্টি লাগে। 
- জিহ্বা খাদ্যবস্তু গিলতে সাহায্য করে। 
- মুখের শেষ প্রান্ত থেকে দুটি নল দেহের ভিতরের দিকে নেমে গেছে, এদের একটি অন্ননালী ও অন্যটি শ্বাসনালি। 
- শ্বাসনালির পেছনে নলের মতো অংশটিকে অন্ননালী বলে। এই নালি দিয়ে খাদ্য ও পানীয় পাকস্থলিতে পৌঁছায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪,১৩৯.
Allium cepa কিসের নাম?
  1. ক) রসুন
  2. খ) আদা
  3. গ) ধনিয়া
  4. ঘ) পিঁয়াজ
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪,১৪০.
কত সপ্তাহ পরে মানব ভ্রুণকে ফিটাস বলে?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১০
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
- ডিম্বানু নিষিক্ত হওয়ার ৮ সপ্তাহ পর মানব ভ্রুণ স্তরের সমাপ্তি ঘটে।
- এর পরবর্তি সময় থেকে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে অব্দি বিভাজনরত মানব ভ্রণকে ফিটাস বলে ।

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই ।
৪,১৪১.
পরাগায়ন কত প্রকার?
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. সাত প্রকার
ব্যাখ্যা
পরাগায়ণ:
• ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগায়ন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
- পতঙ্গ পরাগায়ন: সূর্যমুখী, জুঁই, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- প্রাণীপরাগায়ন: কদম, কলা, কচু, শিমুল ইত্যাদি।
- পানি পরাগায়ন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৪২.
কোনটি ডারউইনের ক্ষেত্রে মিথ্যা?
  1. ক) ডারউইন একজন প্রকৃতিবিদ ছিলেন
  2. খ) তিনি 'অরিজিন অব স্পিসিস' নামে বই লিখেন
  3. গ) ডারউইন একজন সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ছিলেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৪৩.
কোন হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধির প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে? 
  1. অ্যাবসাইসিক এসিড
  2. অক্সিন
  3. জিব্বেরেলিন
  4. সাইটোকাইনিন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সমন্বয়: 
- প্রতিটি উদ্ভিদকোষে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এ কারণে সমন্বয় উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য কার্যক্রম। এ সমন্বয় না থাকলে উদ্ভিদের জীবনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। 
- উদ্ভিদের জীবন চক্রের পর্যায়গুলো যেমন- অঙ্কুরোদগম, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, বার্ধক্য প্রাপ্তি, সুপ্তাবস্থা ইত্যাদি একটি সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদে যেসব হরমোন পাওয়া যায় তার মধ্যে অক্সিন, জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন বৃদ্ধি সহায়ক এবং অ্যাবসাইসিক এসিড ও ইথিলিন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। 
- পাতায় ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্র মুকুলকে পুষ্পমুকুলে পরিণত করে, তাই দেখা যায় ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান-অষ্টম শ্রেণি।
৪,১৪৪.
'আউশ ধান' কোন ধরনের উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. ছোট দিনের উদ্ভিদ
  2. বড় দিনের উদ্ভিদ
  3. নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ফটোপিরিওডিজম:

- উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ।
২। বড় দিনের উদ্ভিদ।
৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

• ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ।
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে।
- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, ডালিয়া, তামাক, শিম এগুলো ছোট দিনের উদ্ভিদ। রোপা আমন, পাট এগুলোও ছোট দিনের উদ্ভিদ।

• বড় দিনের উদ্ভিদ:
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ।
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে।
- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ।

• নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে।
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়।
- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪৫.
পতঙ্গ পরাগী ফুল কোনটি?
  1. জবা
  2. ধান
  3. কদম
  4. শিমুল
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 

পতঙ্গ পরাগী ফুল:
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

বায়ু পরাগী ফুল:
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল:
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা।
যেমন- পাতা শ্যাওলা।

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়।
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪৬.
ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়
  2. খ) কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম
  3. গ) কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের কলা বা টিস্যু দেখা যায়।
যথা- ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু।
ভাজক টিস্যু গুলো বিভাজনের সক্ষম, এদের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়, কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না‌ এবং এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাক দেখা যায়।
যে কলা বা টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,১৪৭.
নিচের কোন উদ্ভিদটি সুন্দরবনে জন্মে না?
  1. বাঁশ
  2. টাইগার ফার্ন
  3. অর্কিড
  4. ধুন্দুল
ব্যাখ্যা

- সুন্দরবনের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, আমুর, গরান জন্মে থাকে। অধিক লবণাক্ত অঞ্চলে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল জন্মে থাকে।
- সুন্দরবনে টাইগার ফার্নের ঝোপ আছে। সুন্দরবনে কোনো বাঁশ জন্মে না। হরেক রকমের অর্কিডও জন্মে সুন্দরবনে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,১৪৮.
DNA এর প্রধান কাজ -
  1. ক) প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করা।
  2. খ) জীবের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করা।
  3. গ) জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা।
  4. ঘ) কোষ গঠনে সাহায্য করা।
ব্যাখ্যা
DNA এর প্রধান কাজ হচ্ছে- জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা। 

- DNA এর পূর্ণরুপ হলো Deoxyribonucleic acid.
- ডিএনএ হলো একটি অণু যা কোনও জীবের বিকাশ, বাঁচতে এবং পুনরূত্পাদন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ধারণ করে।

DNA-এর কাজসমূহ- 
১। ক্রোমােসােমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২। বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ এবং নিয়ন্ত্রন করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪৯.
শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লোরিনেশন
  2. খ) ভার্নালাইজেশন
  3. গ) ভার্নাকুলেশন
  4. ঘ) এক্সিলারেশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং পুষ্পায়নে আলাের মতাে তাপ এবং শৈত্যেরও প্রভাব রয়েছে। দেখা গেছে অনেক উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজকে শৈত্য প্রদান করা হলে তাদের ফুল ধারণের সময় এগিয়ে আসে। শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন (Vernalization) বলে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে উদ্ভিদের পুষ্প সৃষ্টিতে উষ্ণতার প্রভাব পড়ে। শীতের গম গরমকালে লাগালে ফুল আসতে বহু দেরি হয়। কিন্তু বীজ রােপণের পূর্বে 2° সেলসিয়াস 5° সেলসিয়াস উষ্ণতা প্রয়ােগ করলে উদ্ভিদে স্বাভাবিক পুষ্প প্রস্ফুটন ঘটে।

৪,১৫০.
ভিটামিন B1 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) পিরিডক্সিন
  4. ঘ) সায়ানোকোবালামিন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স
- থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- রাইবোফ্ল্যাভিন (B2) - এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
- নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- পিরিডক্সিন (B6) - এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
- কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) - এর অভাবে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৪,১৫১.
প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন হয় কোনটিতে? 
  1. সরিষা
  2. পাতা শ্যাওলা
  3. ধান
  4. কদম
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৫২.
কোন অঙ্গাণুকে দেহের চালক বলা হয়?
  1. কান
  2. নাক
  3. চোখ
  4. মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
সংবেদি অঙ্গ: 
- দেহের চালক হচ্ছে মস্তিষ্ক। 
- মস্তিষ্ককে মগজ বলা হয়, দেহের সব কাজই চলছে মস্তিষ্কের হুকুমে। 
- মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলির মধ্যে, খুলির মাঝখানে বসেই দেহের বাইরের ও ভিতরের কাজকর্ম চালায়। 
- চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা বাইরের সকল খবরা-খবর জোগাড় করে মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়। 

কান বা কর্ণ: 
- কান না থাকলে মানুষ শুনতে পেত না, কারণ কথা বলা শিখতে হয় শুনে শুনে। 
- মাথার দুই পাশে দুটো কান বা কর্ণ আছে। 
- কর্ণ বা কান শুনতে ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। 
- কান তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। বহিঃকর্ণ: 
- পিনা, কর্ণকুহর ও কর্ণপটহ নিয়ে বহিঃকর্ণ গঠিত। 
(ক) পিনা: 
- এটি কানের বাইরের অংশ, মাংস ও কোমলাস্থি দিয়ে গঠিত। 
- শব্দ কর্ণকুহরে পাঠানো এর প্রধান কাজ। 
(খ) কর্ণকুহর: 
- পিনা একটি নালির সাথে যুক্ত, এ নালিটিকে কর্ণকুহর বলে। 
(গ) কর্ণপটহ: 
- কর্ণকুহর শেষ হয়েছে একটা পর্দায়, এ পর্দাটির নাম কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা। 
- কর্ণপটহ বহিঃকর্ণের শেষ অংশ। 

২। মধ্যকর্ণ: 
- বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝখানে মধ্যকর্ণ অবস্থিত। 
- এটা একটা বায়ুপূর্ণ থলি যার মধ্যে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাড় বা অস্থি রয়েছে। 
- অস্থিসমূহের মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। 
- কানের সাথে গলার সংযোগের জন্য ইউস্টেশিয়ান টিউব নামে একটি নল আছে, এ নলটির কাজ হলো কর্ণপটহের বাইরের ও ভেতরের বায়ুর চাপ সমান রাখা। 

৩। অন্তঃকর্ণ: 
- এটি অডিটরি ক্যাপসুল অস্থির মধ্যে অবস্থিত। অন্তঃকর্ণ দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 
(ক) ইউট্রিকুলাস ও (খ) স্যাকুলাস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,১৫৩.
নিচের কোন প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত? 
  1. হাইড্রা 
  2. অ্যান্টামিবা 
  3. মানুষ 
  4. ব্যাঙ 
ব্যাখ্যা

কোষের ভিত্তিতে: 
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এককোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)। 

২। বহুকোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)। 

অন্যদিকে, 
- মানুষ ও ব্যাঙ বহুকোষী প্রাণী, এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৫৪.
কোন রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) ও পজেটিভ
  2. খ) এবি পজেটিভ
  3. গ) ও নেগেটিভ
  4. ঘ) এবি নেগেটিভ
ব্যাখ্যা
 
ও নেগেটিভ - সর্বজনীন দাতা গ্রুপ।
এবি পজেটিভ - সর্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।
সূত্রঃ www.thebloodcenter.org
৪,১৫৫.
উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের অধিকাংশই কোন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়?
  1. ক) কিউটিকুলার প্রস্বেদন
  2. খ) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  3. গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  4. ঘ) ভাস্কুলার প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে।
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'।  
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া।
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে।
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের মাধ্যম।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৫৬.
নিচের কোনটি যোজক কলার অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. সুষুম্নাকাণ্ড
  3. হাড়
  4. জিহ্বা
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বা একই অঙ্গের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে যোজক কলা।
- এই কলা দ্বারা সৃষ্ট কঙ্কাল প্রাণীর দেহ কাঠামোগত রূপ প্রদান করে। কোনো কোনো যোজক কলা শরীরের প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনী পদার্থ পরিবহণে সাহায্য করে।
- এই কলা মূলত ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এই ভাগ তিনটি হলো- 
১. প্রকৃত যোজক কলা: কোলাজেন টিস্যু, মেদকলা ইত্যাদি।
২. কঙ্কাল যোজক কলা: হাড়, তরুণাস্থি।
৩. তরল যোজক কলা: রক্ত, লসিকা। 

- হৃদপিণ্ড এবং জিহ্বা হলো পেশিকলার অন্তর্ভুক্ত। 
- সুষুম্নাকাণ্ড হলো স্নায়ুকলার অন্তর্ভুক্ত। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪,১৫৭.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রো উপাদান কতটি?
  1. ক) ৬টি 
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৬টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।


- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।

 

- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।


- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।


- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।


-মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।


- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,১৫৮.
'Living fossil' বলা হয় কোনটিকে?
  1. মটরশুটি
  2. ফাণ
  3. সাইকাস
  4. মস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৫৯.
প্রকৃতিতে কয় ধরণের খাদ্যশৃঙ্খল দেখা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশৃংখল থাকতে পারে। প্রকৃতিতে তিন ধরনের শৃঙ্খল দেখা যায়। যেমন-
১. পরভোজী শৃঙ্খল
২. পরজীবী শৃঙ্খল
৩. মৃতজীবী শৃঙ্খল

• পরভোজী শৃঙ্খল (Predator chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ক্রমপর্যায়ে ছোট থেকে বৃহৎ জীবে চালিত হয় তাকে পরভোজী শৃঙ্খল বলে। উদ্ভিদ উৎস থেকে ক্রমে ক্রমে বড় প্রাণির মধ্যে এ শৃঙ্খলটি গড়ে ওঠে। যেমন- হরিণ ঘাস খায়, বাঘ হরিণকে খায় (ঘাস→হরিণ→বাঘ), একটি পরভোজী শৃঙ্খল ৷
• পরজীবী শৃঙ্খল (Parasitic chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল বড় জীব থেকে শুরু করে ক্রমে ছোট জীবের মধ্যে গঠিত হয় তাকে পরজীবী শৃঙ্খল বলে। পরজীবীরা বিভিন্ন জীবের কোষ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। ম্যালেরিয়া রোগজীবাণু বহণকারী মশা মানুষকে দংশন করলে রোগ ছড়ায়, (মানুষ→মশা→ম্যালেরিয়া জীবাণু), এটি একটি পরজীবী শৃঙ্খল।
• মৃতজীবী শৃঙ্খল (Saprophytic chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ থেকে বিভিন্ন অণুজীবের (যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি) দিকে চালিত হয়, তাকে মৃতজীবী শৃঙ্খল বলে। উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহের সঙ্গে বিভিন্ন অণুজীব এবং প্রাণির মধ্যে এ ধরনের শৃঙ্খল গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে মৃতজীবীরা বিভিন্ন জীবের মৃতদেহ থেকে খাদ্য আহরণ করে। উদাহরণ : মৃতদেহ→অণুজীব→কেঁচো।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬০.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৬১.
দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. লোহিত রক্তকণিকা 
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা - 
১. লোহিত রক্তকণিকা, 
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও 
৩. অনুচক্রিকা। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই। 
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 

শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়। 

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। 
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৬২.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ১০ জোড়া
  2. ১২ জোড়া
  3. ১৪ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৩.
কোন অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র সম্পন্ন হয়? 
  1. লাইসোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৪.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কোন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. কার্বন, হাইড্রোজন, হিলিয়াম এবং অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজন, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজন, পটাশিয়াম এবং নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৬৫.
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু-
  1. ক) দুই প্রকার
  2. খ) তিন প্রকার
  3. গ) চার প্রকার
  4. ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। 
যথা- মাস ভাজক টিস্যু, রিব ভাজক টিস্যু এবং প্লেট ভাজক টিস্যু। 

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ- 
(ক) মাস ভাজক টিস্যু (Mass meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষবিভাজন সৰ তলে (plane) ঘটে থাকে, ফলে সৃষ্ট কোষ সমষ্টি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত না থেকে কোষপুঞ্জ গঠন করে, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গটি ঘনত্বে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন- বর্ধনশীল ভ্রূণ, রেণুথলি, এন্ডোস্পার্ম তথা সস্য টিস্যু, মজ্জা, কর্টেক্স প্রভৃতি। 

(খ) প্লেট ভাজক টিস্যু (Plate meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষ মাত্র দুটি তলে (plane) বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো প্লেটের মতো করে সজ্জিত হয়, তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে অঙ্গটি আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন -পাতা, বর্ধিষ্ণু বহিঃত্বক। 

(গ) রিব ভাজক টিস্যু (Rib meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো রৈখিক সজ্জাক্রমে একসারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের ন্যায় দেখায়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার কোষ বিভাজনের ফলে একসারি কোষ সৃষ্টি হয়; যেমন- বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডের মজ্জা রশ্মি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৬৬.
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে-
  1. ক) হারপেটলজি(Herpetology)
  2. খ) অস্টিওলজি(Osteology)
  3. গ) ইকথায়োলজি(Ichthyology)
  4. ঘ) অরনিথোলজি(Ornithology)
ব্যাখ্যা
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে ইকথায়োলজি(Ichthyology)। উভচর ও সরীসৃপ সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বলা হয় হারপেটলজি(Herpetology)। অরনিথোলজি(Ornithology) হল পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা। অস্টিওলজি(Osteology) হল হাড় সম্পর্কিত বিদ্যা।
[সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই এবং ব্রিটানিকা]
৪,১৬৭.
নিচের কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়া জনিত? 
  1. পোলিও 
  2. কলেরা 
  3. জলাতঙ্ক 
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হচ্ছে: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাসজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৬৮.
পাঁটের পচন ক্রিয়ায় কোন ব্যাকটেরিয়া ভুমিকা রাখে? 
  1. ক) Lepidoptera
  2. খ) Azotobacter
  3. গ) Clostridium
  4. ঘ) Bacillus thuringiensis  
ব্যাখ্যা

Clostridium ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় পাঁটের কাণ্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক করা হয়।
Bacillus thuringiensis বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে।
Azotobacter নাইট্রোজেন সংবন্ধনে ভুমিকা রাখে।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র।

৪,১৬৯.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. আকাশি
  2. গেওয়া
  3. গজারি
  4. সেগুন
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
-অন্যদিকে,
- আকাশি, গজারী বা শাল, সেগুন প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৪,১৭০.
মৌমাছি সংক্রান্ত বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Alimentology
  2. Melittology
  3. Aphnology
  4. Ichthyology
ব্যাখ্যা
- মৌমাছি সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে বলা হয় Melittology.
- Melittology গ্রিক শব্দ থেকে আগত। 
- যে কীটতত্ত্ববিদ মৌমাছির গবেষণায় বিশেষজ্ঞ, তাকে বলা হয় Melittologist.
 
উৎস: Merriam-Webster Dictionary
৪,১৭১.
নিচের কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী? 
  1. বাদুড়
  2. ব্যাঙ
  3. কুমির
  4. কেঁচো
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডী প্রাণী: 
(ক) মৎস্যকুল: 
- এ দলের প্রাণীরা পানিতে বাস করে। দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা। ফুলকার সাহায্যে শ্বাস কাজ চালায়। 
যেমন- রুই, কাতল, পুঁটি। 

(খ) উভচর প্রাণী: 
- এসব প্রাণী পানিতে এবং ডাঙ্গায় বসবাস করে। জীবনচক্রের একটা অংশ এদের পানিতে বিকাশ লাভ করে। 
যেমন- ব্যাঙ। 

(গ) সরিসৃপ: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে। 
যেমন- কুমির, টিকটিকি। 

(ঘ) পাখি: 
- এসব প্রাণীর দেহ পালকে ঢাকা থাকে। 
যেমন- ময়না, টিয়া, ঘুঘু। 

(ঙ) স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- এসব প্রাণী মায়ের দুধ পান কর। 
যেমন- বাদুড়, তিমি, মানুষ। 

অমেরুদন্ডী প্রাণী: 
১. প্রোটোজোয়া: 
- এরা এককোষী আদি প্রাণী। 
যেমন- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু। 

২. পরিফেরা: 
- এসব প্রাণীর দেহ অসংখ্য ক্ষুদ ক্ষুদ্র ছিদ্র যুক্ত। এরা জলে বাস করে। 
যেমন- স্পনজিলা। 

৩. সিলেনটারেটা: 
- এ পর্বের বেশির ভাগ প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহের মেলো দিকটা মুখ হিসেবে কাজ করে। মুখের চারদিকে টেন্টাকল আছে। 
যেমন- হাইড্রা, জেলীফিস। 

৪. প্লাটিহেলমিনথিস: 
- এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের দেহ ফিতার মত চ্যাপ্টা। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- ফিতাকৃমি। 

৫. নেমাথেলমিনথিস: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকৃতি ও অখণ্ডিত। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- কেঁচোকৃমি। 

৬. অ্যানিলিডা: 
- এ জাতীয় প্রাণীদের দেহ নরম এবং রিং বা বলয়ের মত খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে গঠিত। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 

৭. আর্থোপোডা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা এবং এদের সন্ধিযুক্ত পা রয়েছে। 
যেমন- চিংড়ি, তেলাপোকা। 

৮. একাইনোর্ডামাটা: 
- এসব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাটাযুক্ত। 
যেমন- তারামাছ। 

৯. মলাস্কা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম কিন্তু শক্ত খোলস দিয়ে আবৃত। 
যেমন- শামুক, ঝিনুক। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭২.
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ নিচের কোনটির অভাবে হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. রক্তের গ্লুকোজ
  3. ইনসুলিন
  4. ভিটামিন-ই
ব্যাখ্যা
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ: 
- ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ, বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। 
- মূলত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ করে ইনসুলিন নিতে হয় এমন রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। 
- স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। 
- রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। 
- খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। 
- গ্লুকোজ  হচ্ছে আমাদের জীবনীশক্তি বা ফুয়েল, যা প্রতিটি কোষে শক্তি সরবরাহ করে। 
- এই গ্লুকোজ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গেলে এক এক করে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্লুকোজ। 
- সে কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে রোগী অচেতন হয়ে পড়েন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগের কারণ: 
- ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে। 
- সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে। 
- দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে। 
- অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে। 
- অত্যধিক মদ্যপান করলে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকা।
৪,১৭৩.
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. আর.এন.এ 
  2. ডি.এন.এ 
  3. জিন
  4. সেন্ট্রোমিয়ার
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসে উপস্থিত এক ধরণের সুক্ষ্ম, সুসংগঠিত কাঠামো যা জিনেটিক তথ্য ধারণ করে। মানবদেহে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো ডি.এন.এ (DNA)।
- DNA হল একটি দীর্ঘ অণু যা জেনেটিক ইনফরমেশন (উত্তরাধিকারী তথ্য) বহন করে।
- DNA-এর মধ্যে রয়েছে জিন, যা প্রোটিন উৎপাদনের নির্দেশ দেয়।

- RNA সাধারণত প্রোটিন সংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- জিন হলো DNA-এর একটি অংশ বা ক্রম, যা নির্দিষ্ট প্রোটিন উৎপাদনের নির্দেশ দেয়। 
- সেন্ট্রোমিয়ার: এটি ক্রোমোজোমের একটি বিশেষ স্থান যা বিভাজনের সময় ক্রোমাটিডকে সংযুক্ত রাখে। এটি মূলত কাঠামোগত ভূমিকা রাখে, DNA নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৭৪.
উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে প্রধানত সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ফ্লোরিজেন
  3. গ) বার্নালিন
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায়্য করে। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে।
ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

৪,১৭৫.
মানুষের মুখবিবরেই কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ক্রিয়া শুরু হয়?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে
মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়
লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা: টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্র: প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।