বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪১ / ৪২ · ৪,০০১৪,১০০ / ৪,২০৮

৪,০০১.
রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার প্রধান কাজ কী?
  1. শিকড়ের জল শোষণ বৃদ্ধি করা 
  2. মাটিতে পটাশিয়াম বৃদ্ধি করা 
  3. মাটিতে ফসফরাস যোগ করা
  4. বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করা 
ব্যাখ্যা

রাইজোবিয়াম: 
- রাইজোবিয়াম এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 
- এই ব্যাকটেরিয়া শিম ও ডাল জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের কাছে অবস্থান নিয়ে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন গ্রহন করে শিকড়ে গুটি তৈরি করে। 
- এই ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করে নিজের প্রয়োজন মিটায় এবং উদ্ভিদে সরবরাহ করে। 
- শিম জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- মুগ, মসুর, ছোলা, মটর, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ধইঞ্চা ইত্যাদি ফসলে ব্যাকটেরিয়া সার ব্যবহার করে উত্তম ফসল পাওয়া যায়। 
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী রাইজেবিয়াম অণুজীব সার ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০০২.
কোনটি ক্ষুদ্রতম জলজ উদ্ভিদ?
  1. ক) Wolffia arrhiza
  2. খ) Azolla pinnat
  3. গ) Salvinia natans
  4. ঘ) Pistia stratiotes
ব্যাখ্যা

ক্ষুদিপানা (Duckweed):

- একবীজপত্রী উদ্ভিদ বর্গের Lemnaceae গোত্রের অন্তর্গত একদল অবাধ ভাসমান জলজ সপুষ্পক উদ্ভিদ।
- পানিতে চরে বেড়ানো পাখিদের প্রিয়খাদ্য এবং আগাছাতুল্য বলেই এগুলির ইংরেজি নাম Duckweed।
- এই গোত্রে রয়েছে ৪টি গণ (Lemna, Spirodela, Wolffia, ও Wolfiella) এবং ৩৪ প্রজাতি।
- এগুলির মধ্যে বাংলাদেশে আছে ৬ প্রজাতি Lemna perpusillaL. trisulcaSpirodela polyrhizaS. punctataWolffia arrhizaW. microscopica
- এর মধ্যে Wolffia arrhiza হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ।
- এর আকার ০.১ মিমি।
- গ্রামাঞ্চলে Wolffia হলো ‘সুজিপানা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, উচ্চ-মাধ্যমিকের উদ্ভিদবিজ্ঞান বই(ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৪,০০৩.
লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তি হয় কোথায়? 
  1. ফুসফুস
  2. বৃক্কে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. মেডুলায়
ব্যাখ্যা

• অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) হলো RBC উৎপাদনের মূল কেন্দ্র।

- লোহিত রক্তকণিকা বা RBC (Red Blood Cell) হলো রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অক্সিজেন বহন করে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ফিরিয়ে আনে।

উৎপত্তিস্থল
- বিশেষ করে লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow) তে রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পাঁজর, করোটি, শ্রোণি, ও দীর্ঘ অস্থির প্রান্তে এটি সক্রিয় থাকে।

উৎপাদন প্রক্রিয়া:
- এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- এরিথ্রোপয়েটিন (Erythropoietin) নামক হরমোন, যা বৃক্ক (Kidney) থেকে নিঃসৃত হয়, RBC উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়।

RBC এর আয়ু:
- গড়ে ১২০ দিন।
- পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত RBC লিভার ও প্লীহায় (Spleen) ভেঙে যায়।

গঠন ও কার্য:
- নিউক্লিয়াসবিহীন (nucleus নেই)।
- হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) নামক লৌহযুক্ত প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে।
- দেহের প্রতিটি টিস্যুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ফেরত নেয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৪,০০৪.
কার্ডিয়াক চক্রের কোন ধাপে অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে?
  1. ক) অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল
  2. খ) অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোল
  3. গ) ভেন্ট্রিকলের সিস্টোল
  4. ঘ) ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
• কার্ডিয়াক চক্রের অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল ধাপে অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে।
• কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়-
১ অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল: এ সময় অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে।
- ফলে দেহের রক্ত ডান ও বাম আ্যাট্রিয়ামে প্রবেশ করে।
২ অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোল: অ্যাট্রিয়াম দুটি রক্তপূর্ণ হলে অ্যাট্রিয়াম দুটি সংকুচিত হয়।
- বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে রক্ত ভেন্ট্রিকলে প্রেরিত হয়।
৩ ভেন্ট্রিকলের সিস্টোল: ভেন্ট্রিকল দুটি সংকুচিত হয়।
- এ সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ এবং সেমিলুনার কপাটিকা খোলা থাকে।
৪. ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোল: ভেন্ট্রিকলে সিস্টোলের পর পরই ভেন্ট্রকলের ডায়াস্টোল শুরু হয়।
- ডায়াস্টোলের সময় বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৫.
DNA-তে কোন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক থাকে না? 
  1. থাইমিন
  2. ইউরাসিল
  3. সাইটোসিন
  4. অ্যাডিনিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। 
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। 
যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৬.
বিবর্তন শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) ল্যাটিন
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
বিবর্তন
- গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আধুনিক মানুষের ধারণা হয়েছে যে জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে বিবর্তন।
- ল্যাটিন শব্দ ‘Evolveri' থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দ্বারা কোনো সরলতর উদবংশীয় জীব পরিবর্তিত হয়ে জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে।
- সময়ের সথে কোনো জীবের পরিবর্তনের ফলে যখন নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলে জৈব বিবর্তন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,০০৭.
রক্তে লোহিত কণিকা তৈরি হয়?
  1. যকৃত 
  2. তরুণাস্থি 
  3. হৃদপিণ্ড
  4. অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• লোহিত রক্তকণিকা (RBC) লোহিত অস্থিমজ্জা-তে তৈরি হয়।
- অস্থিমজ্জা হলো হাড়ের ভেতরের নরম টিস্যু, যা থেকে স্টেম সেলের মাধ্যমে রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়।
- লোহিত কণিকার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে এরিথ্রোপোয়েসিস বলা হয় এবং এর জন্য এরিথ্রোপোয়েটিন নামক হরমোনের প্রয়োজন হয়।  

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০০৮.
DNA এর পূর্ণরূপ ____। 
  1. Deoxyribonucleic Acid
  2. Dinucleotide Acid
  3. Deoxygenated Nucleic Acid
  4. Dual Nucleic Acid
ব্যাখ্যা

• পূর্ণরূপ: DNA = Deoxyribonucleic Acid

- DNA হলো জিনগত তথ্য সংরক্ষণকারী অণু, যা জীবদেহের সমস্ত ধরণের বৈশিষ্ট্য এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

DNA এর বৈশিষ্ট্য:
- “Deoxyribo” মানে হলো ডিএক্সিও রাইবোজ (Deoxyribose) চিনি, যা DNA এর শৃঙ্খলের একটি অংশ।
- “Nucleic” নির্দেশ করে যে এটি নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায়।
- “Acid” নির্দেশ করে এর রাসায়নিক প্রকৃতি, যা অ্যাসিডিক।

গঠন:
- DNA হলো ডাবল হেলিক্স (Double helix)।
- এটি নিউক্লিয়োটাইডের শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত, যেখানে প্রতিটি নিউক্লিয়োটাইডে ফসফেট, ডিএক্সিওরাইবোজ চিনি, এবং নাইট্রোজেন ভিত্তি থাকে।

কার্য:
- জিনগত তথ্য সংরক্ষণ।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সহায়ক।
- উত্তরাধিকার সূত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্মান্তরে স্থানান্তর।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৪,০০৯.
সায়ানোব্যাকটেরিয়া কোন ধরনের শৈবালের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সবুজ শৈবাল
  2. খ) নীলাভ-সবুজ শৈবাল
  3. গ) লোহিত শৈবাল
  4. ঘ) লাল শৈবাল
ব্যাখ্যা
সায়ানোব্যাকটেরিয়া তথা নীলাভ সবুজ শৈবালগুলির (Blue Green Algae) বিস্তারণ সম্ভবত উষ্ণমন্ডলীয় দেশগুলিতে বেশি। তবে, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে জন্মে থাকে। এরা ব্যাকটেরিয়া থেকে আকারে বড় এবং দেখতে নীলাভ সবুজ বর্ণের।
৪,০১০.
হিমোফিলিয়া রোগটি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থি
  2. রক্ত
  3. ত্বক
  4. লালা
ব্যাখ্যা
হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ অর্থাৎ এটি রক্তের সাথে সম্পর্কিত।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে,
 অস্থি: হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস বা রিকেটস রোগ হাড়ের সাথে সম্পর্কিত।

 ত্বক: ত্বকের সমস্যা যেমন ছত্রাক ঘটিত, এলার্জি বা চর্মরোগ এখানে প্রযোজ্য নয়।

লালা: লালার সমস্যা মূলত মুখগহ্বর বা হজমসংক্রান্ত হয়, হিমোফিলিয়ার সাথে সম্পর্ক নেই।

তথ্যসূত্র
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৪,০১১.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠনআমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১২.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদ কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  3. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হচ্ছে এক ধরনের অপুষ্পক (non-flowering) উদ্ভিদ। এদের ফুল, ফল এবং বীজ হয় না। পরিবর্তে, এরা স্পোরের (spore) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০১৩.
উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু কোনটি?
  1. লিগনিন
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু হলো জাইলেম। 

• পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (Vascular bundle):
- উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে।

• জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু (Vascular bundle) বলে।
- সাধারণত কাণ্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে অবস্থিত থেকে মিলিতভাবে একটি বান্ডল সৃষ্টি করে।
- মূলে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে এবং পৃথক পৃথক বান্ডল সৃষ্টি করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর এই বান্ডলই খাদ্যদ্রব্য (কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত খাদ্য) পরিবহন করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে।

• জাইলেম টিস্যুর কাজ:
- উদ্ভিদের মূল হতে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা।
• ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ:
- পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য (গ্লুকোজ) উদ্ভিদদেহের অন্যান্য সজীব অংশে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪,০১৪.
আমিষ বেশি কোনটিতে?
  1. ক) ইলিশ মাছ
  2. খ) মসুর ডাল
  3. গ) মুগডাল
  4. ঘ) মুরগীর মাংস
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ, মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ।
Source: ais.gov.bd
৪,০১৫.
মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরে কোনটি ভূমিকা পালন করে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. ত্বক
  3. ইন্টারফেরন
  4. পাকস্থলীর অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

◉ ইন্টারফেরন (Interferon) এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং অন্যান্য কোষকে ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
- এটি ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ভাইরাসের বিস্তার কমায়।
- এটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (Innate Immunity) অংশ।

মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ত্বক,
(ii) মিউকাস মেমব্রেন,
(iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া,
(iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং
(v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ব্যাথাদায়ক সাড়া,
(ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ,
(iii) কমপ্লিমেন্ট,
(iv) ইন্টারফেরন এবং
(v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) লিম্ফোসাইট,
ii) MHC অণু এবং
(ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪,০১৬.
সবুজ তরিতরকারীতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহজাতীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে।
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।

• খনিজ পদার্থের উৎস:
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

• ভিটামিন:
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক।
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও
খ. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

• ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন 'এ' (Vit-A): দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'বি' (Vit-B): মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'সি' (Vit-C): পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'ডি' (Vit-D): ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১৭.
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) তারামাছ
  2. খ) প্রজাপতি
  3. গ) জোঁক
  4. ঘ) রুই মাছ
ব্যাখ্যা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনোব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি৷
একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা।
কাঁকড়া, প্রজাপতি, চিংড়ি, তেলাপোকা ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০১৮.
যকৃৎ কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
  1. নিডারিয়া
  2. প্লাটিহেলমিনথেস
  3. অ্যানিলিডা
  4. নেমাটোডা
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস:
- দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ।
-বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী।
- দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
- দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
- দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলাে রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত।
- উদাহরণ : যকৃৎ কৃমি, ফিতা কৃমি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০১৯.
মানুষের গায়ের রং নিচের কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ক্যারোটিন
  3. থায়ামিন
  4. মেলানিন
ব্যাখ্যা
মানুষের ত্বক:
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী।
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
- এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,০২০.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪,০২১.
আমিষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় কত শতাংশ? 
  1. ৮%
  2. ১২%
  3. ১৬%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত তাই এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি নিহিত, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলে। 
- উপাদান অনুসারে খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আমিষ, শর্করা এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য। 
- এছাড়াও তিন প্রকার উপাদান দেহের জন্য দরকার। 
যথা- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 

আমিষ বা প্রোটিন: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে এবং সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) প্রাণীজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা ইত্যাদি এসব খাদ্যে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায় বলে এদের জৈব মূল্য বেশি। তাই খাদ্যে শতকরা ২০ ভাগ প্রাণীজ আমিষ থাকা প্রয়োজন। 

(খ) উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনা বাদাম, চাল, আটা, শিমের বীচি ইত্যাদি এগুলো প্রাণীজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর। 
- বীজে আমিষের পরিমাণ অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি থাকে। 
- উদ্ভিজ্জ আমিষে অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এর জৈব মূল্য কম তাই এটি নিম্নমানের আমিষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২২.
ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. ক) রেটিনোয়িক এসিড
  2. খ) ক্যালসিফেরল
  3. গ) টোকোফেরল
  4. ঘ) মেনাডায়ন
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম - টোকোফেরল, টোকোট্রাইনল।
• ভিটামিন-এ এর রাসায়নিক নাম - রেটিনল, রেটিনাল, রেটিনোয়িক এসিড।
• ভিটামিন-সি এর রাসায়নিক নাম - অ্যাসকরবিক এসিড।
• ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম - ক্যালসিফেরল, কোলিক্যালসিফেরল।
• ভিটামিন-কে এর রাসায়নিক নাম - মেনাকোয়াইনন, মেনাডায়ন।

তাছাড়া, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বি এর নাম -
• B1 - Thiamin (থায়ামিন)
• B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
• B3 - Niacin (নিয়াসিন)
• B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)
• B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
• B7 - Biotin (বায়োটিন)
• B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
• B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

কয়েকটি ভিটামিন স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবীভূত হয়, আবার কয়েকটি ভিটামিন পানিতে দ্রবীভূত হয়।
যেমন:
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন K
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা [লিংক]
৪,০২৩.
জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয় কোন ভাষায়?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ফরাসী
  4. ইংরেজী
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন। 
- 1758 সালে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন, তাই তাকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলী:
- প্রতিটি জীব প্রজাতির একটি বৈজ্ঞানিক নাম থাকবে এবং তার দুটি অংশ থাকবে ।
- দ্বিপদ নামের প্রথম অংশটি উক্ত জীবের গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি পদের নির্দেশক।
- এই নামকরণ ল্যাটিন বা রূপান্তরিত ল্যাটিন থেকে গৃহীত হবে।
- দ্বিপদ নামকরণ ছাপা অক্ষরে হলে সর্বদা ইটালিক (ডান দিকে বাঁকা) হরফে হবে। যেমন- Duttaphrymus melanostictus (কুনোব্যাঙ)।
- দ্বিপদ নাম হাতে লিখলে রোমান অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি অংশের নিচে আলাদা আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। 
- গণ নামটি বিশেষ্য এবং তার আদ্য অক্ষরটি অবশ্যই capital lemon-এ লিখতে হবে এবং প্রজাতি নামটি বিশেষণ, যার আদ্যাক্ষর small letter-এ লিখতে হবে। যেমন- Catla (জাতি) Catla (প্রজাতি) = Catla catlic.
- দুটি শব্দের মাঝে কোনো দাগ বা কমা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
- কোনো প্রজাতির জন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নামই স্বীকৃতি পাবে।
- প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষিপ্তভাবে নামের জনকের নাম ও প্রকাশের সাল উল্লেখ করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪,০২৪.
কোন উপাদানের ঘাটতিতে পাতার শীর্ষ ও কিনারায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়? 
  1. ফসফরাস 
  2. পটাশিয়াম 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের (K) অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০২৫.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের ওজন কত?
  1. ক) ১৮ গ্রাম
  2. খ) ৩৫ গ্রাম
  3. গ) ৪৭ গ্রাম
  4. ঘ) ৫২ গ্রাম
ব্যাখ্যা
The spinal cord is about 43 cm long in adult women and 45 cm long in adult men and weighs about 35-40 grams.
সূত্রঃ ৩০তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৪,০২৬.
লোহিত রক্তকণিকার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০২৭.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১২ টি
  2. খ) ১২ জোড়া
  3. গ) ২৭ জোড়া
  4. ঘ) ৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া এবং সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০২৮.
বংশগতি বিদ্যার জনক কে? 
  1. ল্যামার্ক
  2. জেমস ওয়াটসন
  3. চার্লস ডারউইন
  4. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতি বিদ্যার জনক বলা হয়। 
- তিনি ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণাকালে বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে যে ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি আজ 'জিন' রূপে পরিচিত হয়েছে। 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বংশধরদের মধ্যে কিভাবে প্রকাশ পায়, সে সম্বন্ধে তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যবান তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। 

- বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর কাঠামোর বর্ণনা দেন৷ 
- ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। 
- ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০২৯.
মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩৩
  4. ঘ) ৩৬ 
ব্যাখ্যা

মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২ টি।

প্রতি চোয়ালে ১৬টি করে দাঁত থাকে। এসব দাঁত চার প্রকার হয়ে থাকে। যথা-
১. কর্তন দাঁত খাবার ছোট ছোট করে কাটে।
২. ছেদন দাঁত দিয়ে মাংস ও অন্যান্য শক্ত জিনিস ছিঁড়ে ও কাটে।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণ করা যায়।
৪. পেষণ দাঁতগুলো খাদ্যবস্তু চিবাতে ও পিষতে সাহায্য করে।

সূত্র: বিজ্ঞান বই, সপ্তম শ্রেণি। 

৪,০৩০.
বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?
  1. ক) পাখি
  2. খ) পানি
  3. গ) বাতাস
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন দু'প্রকার, যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন।
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে ।
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়।

অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ :
পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন— জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন— ধান।

পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রীফুলের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন— পাতাশ্যাওলা ।

প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। যেমন— কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
বটের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে। 

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪,০৩১.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য কোন বৈচিত্র্যের উদাহরণ? 
  1. জীবাশ্ম বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

- পুকুর ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য হলো বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem Diversity)-এর উদাহরণ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থল (যেমন পুকুর ও নদী) এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা জীব সম্প্রদায় ও প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে বোঝায়। 

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 

- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৩২.
RNA -এর অন্তর্গত নয় কোনটি? 
  1. সাইটোসিন
  2. থায়ামিন
  3. ইউরাসিল
  4. অ্যাডেনিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৩.
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে কোন খনিজের অভাব হয় না?
  1. সেলেনিয়াম
  2. দস্তা
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P): 
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। 
- ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে। 
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- ফসফরাসের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি। 
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়- এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না। 

ক্যালসিয়াম (Ca): 

- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৩৪.
হিস্টোলজি হচ্ছে -
  1. ক) টিস্যুবিদ্যা
  2. খ) শারীরস্থান বিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) সাইটোলজি
ব্যাখ্যা
হিস্টোলজি - টিস্যুবিদ্যা
সাইটোলজি - কোষবিদ্যা।
এনাটমি - শারীরস্থান বিদ্যা, 
ফিজিওলজি - শারীরবিদ্যা এবং
মরফোলজি - অঙ্গসংস্থান বিদ্যা।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৩৫.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
ব্যাখ্যা
- মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB । 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৬.
কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
  1. ভাত
  2. গরুর মাংস
  3. মসুর ডাল
  4. ময়দা
ব্যাখ্যা
- ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আবার গরুর মাংসেও প্রোটিন থাকে তবে এতে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে ডাল ই হচ্ছে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। 
- প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রোটিনের পরিমান হচ্ছে ২৫.১ গ্রাম এবং গরুর মাংসে হচ্ছে ২২.৬ গ্রাম। 

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে, 
- ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, 
- লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, 
- মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ এবং 
- মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ। 

উৎস: ais.gov.bd 
৪,০৩৭.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. থিওফ্রাস্টাস
  3. রবার্ট হুক
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান। 
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক  জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। 
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। 
যথা- 
 ১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান। 
-  গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক। 
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৮.
'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. OPV
  2. BCG
  3. DPT
  4. Mumps
ব্যাখ্যা
• 'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন DPT.

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- পোলিও: OPV
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,০৩৯.
কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয়?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) অ্যানাফেজ
  3. গ) মেটাফেজ
  4. ঘ) প্রোমেটাফেজ
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়োলাস
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, অপেক্ষাকৃত ঘন, গোলাকার বস্তুটি হচ্ছে নিউক্লিয়োলাস। 
- বিজ্ঞানী ফন্টানা ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করলেও বাউম্যান ১৮৪০ সালে এর নামকরণ করেন। 
- নিউক্লিয়োলাসের আকার কোষের কর্মক্ষমতার উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণত প্রত্যেক কোষে একটি নিউক্লিয়োলাস থাকে তবে প্রজাতি ভেদে এর সংখ্যা দুটি বা এর বেশিও হতে পারে। 
- যে সকল কোষ অধিক মাত্রায় প্রোটিন সংশ্লেষণ করে সে সকল কোষে নিউক্লিয়োলাস বড় এবং একাধিক হয়। 

- নিউক্লিয়োলাস নির্দিষ্ট ক্রোমোসোমের নির্দিষ্ট অংশে সংযুক্ত থাকে। 
- ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে এটি সংযুক্ত থাকে সে স্থানটিকে নিউক্লিয়ার অর্গানাইজিং রিজিয়ন (NOR) বলা হয়। 
- কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয় এবং বিভাজন শেষে প্রতিটি অপত্য নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়োলাসের আবির্ভাব ঘটে। 
- নিউক্লিয়োলাস নিউক্লিক অ্যাসিড এর ভান্ডার হিসেবে কাজ করে, রাইবোসোম প্রস্তুত করে, প্রোটিন ও RNA সংশ্লেষণ করে এবং জিন হতে নির্দিষ্ট বার্তা গ্রহণ করে সাইটোপ্লাজমে নিয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪০.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে (Wine industry)
  2. রুটি শিল্পে (Bakery)
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
  4. এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein) তৈরিতে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। 
- সাইট্রিক এসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৪১.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৪২.
দেহের মোট পানির কত শতাংশ কোষের মধ্যে থাকে?
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৯০%
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। 
- দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে, দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। 
- বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। 
- প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য। 

কাজ: 
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে। 
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়। 
৩। দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়। 
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে। 
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
১। কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে, কুঁচকে আসে ইত্যাদি। 
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যহত হয়। 
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। 
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়। 
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪৩.
উদ্ভিজ্জ আমিষ কোনটি?
  1. ক) ছানা
  2. খ) মাছ
  3. গ) বাদাম
  4. ঘ) পনির
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷ প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৪৪.
অ্যান্টিজেন বলতে কী বোঝায়?
  1. দেহের নিজস্ব প্রোটিন
  2. দেহে উপস্থিত এনজাইম
  3. বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
  4. দেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি
ব্যাখ্যা

• অ্যান্টিজেন হলো non-self বা বহিরাগত পদার্থ।

• অ্যান্টিজেন (Antigen):

- অ্যান্টিজেন হলো যেকোনো বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড, যা দেহে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে না।
- এই ধরনের পদার্থ দেহে প্রবেশ করলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

উদাহরণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দেহে প্রবেশ করলে,
- দেহকোষে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে।

• অ্যান্টিজেন–অ্যান্টিবডি সম্পর্ক:
- একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Antibody) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে Antibody generation বলা হয়।

• অ্যান্টিজেনের বৈশিষ্ট্য:
- অ্যান্টিজেন অবশ্যই non-self বা বহিরাগত পদার্থ হতে হবে।
- এতে ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অধিকাংশ অ্যান্টিজেন প্রোটিনধর্মী বা জটিল গঠনবিশিষ্ট হয়।
- অ্যান্টিজেনের আণবিক ভর সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি হয়।

• অ্যান্টিজেনের গঠনগত প্রকৃতি:
- অ্যান্টিজেন সাধারণত—
- প্রোটিন,
- বৃহৎ পলিস্যাকারাইড,
- গ্লাইকোপ্রোটিন অথবা,
- নিউক্লিওপ্রোটিন,
- প্রকৃতির হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির সাথে সম্পর্ক:
- অ্যান্টিজেনের নির্দিষ্ট অংশের সাথে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়ে দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৪৫.
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের কত শতাংশ প্রােটিন?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৩৫%
  4. ঘ) ৫০%
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহের গঠনে প্রােটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রােটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লােম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলাে সবই প্রােটিন দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রােটিন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪,০৪৬.
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ক) ৯১
  2. খ) ৯০
  3. গ) ৯৩
  4. ঘ) ৯৮
ব্যাখ্যা
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশ। 

প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
ক. প্রোটোপ্লাজম অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলি সদৃশ অর্ধতরল আঠালো পদার্থ।
খ. এটি দানাদার ও কলয়ডালধর্মী।
গ. ইহা কোষস্থ পরিবেশ অনুযায়ী জেলি থেকে তরলে এবং তরল থেকে জেলিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘ. প্রোটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি থাকে।
ঙ. উত্তাপ, অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রোটোপ্লাজম জমাট বাধেঁ।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান
৪,০৪৭.
জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করতে কোন অণুজীব ব্যবহার হয়?
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

- জন্ডিস প্রধানত হেপাটাইটিস ভাইরাসের (যেমন: হেপাটাইটিস-এ, বি, সি ইত্যাদি) সংক্রমণের কারণে ঘটে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস রোগের (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) টিকা তৈরি করতে এই ভাইরাসের অংশ বা জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। আধুনিক রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৪৮.
নিচের কোনটি বিয়োজক?
  1. ক) গরু
  2. খ) ব্যাঙ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
(ক) উৎপাদক,
(খ) খাদক এবং
(গ) বিয়োজক 

(ক) উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক : যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে।

(গ) বিযোজক : এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে। এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়। যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
৪,০৪৯.
কোনটিতে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) তাজা ছোট মাছ
  2. খ) মাংস
  3. গ) ডিম
  4. ঘ) শুঁটকি মাছ
ব্যাখ্যা
- ডিমে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ১৩ গ্রাম। 
- তাজা ছোট মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে প্রায় ২০ গ্রাম।  
- মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ২৬ গ্রাম। 
- শুঁটকি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ৬২ গ্রাম। 

উৎস: USDA ওয়েবসাইট 
৪,০৫০.
HIV -AIDS ছড়ায় না-
  1. পানির মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পানির মাধ্যমে HIV -AIDS ছড়ায় না।

• HIV:

- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• HIV সংক্রমণের কারণ:
- প্রধানত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
- মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
- রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৫১.
আদি কোষীয় জীব কোনটি? 
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. ব্রায়োফাইটস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(i) আদি কোষ এবং 
(ii) প্রকৃত কোষ। 

আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে।
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫২.
উদ্ভিদ কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক্রোমোসোম
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. কোষ প্রাচীর
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম: 
- (গ্রীক শব্দ Cytos = কোষ এবং Plasma = সংগঠন) নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষ ঝিল্পী দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমীয় অংশই হলো সাইটোপ্লাজম। 
- এটি জেলির ন্যায় অর্ধতরল হওয়ায় এবং প্রাণের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু ও উপাদান ধারণ করায় একে বাংলাতে কোষের প্রাণপঙ্ক বলা হয়। 
- সাইটোপ্লাজম এবং এর মধ্যস্থ বিভিন্ন প্রকার সজীব ও নির্জীব বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে সাইটোপ্লাজমকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
(ক) সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা বা হায়ালোপ্লাজম, 
(খ) সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহ এবং 
(গ) নির্জীব বা জড়বস্তু। 

সাইটোপ্লাজমের কাজ: 
- সাইটোপ্লাজমের কাজগুলো হলো- 
১। কোষের আকার বজায় রাখতে সহায়তা করে। 
২। বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ ধারণ করে, কতিপয় জৈবিক কাজ করে। 
৩। কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। 
৪। রেচন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
৫। উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে জীবিয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। 
৬। পানি পরিশোষণে সাহায্য করে। 
৭। আবর্তনের মাধ্যমে অঙ্গাণুসমূহকে নড়াচড়ায় সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৩.
ইউরিয়া সার কোন খনিজের অভাব পূরণে ব্যবহার করা হয়? 
  1. জিংক
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে বিভিন্ন অভাব পূরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কাণ্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।

৪,০৫৪.
কোন কোষের সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়? 
  1. ক্লোরেনকাইমা
  2. স্ক্লেরেনকাইমা
  3. অ্যারেনকাইমা
  4. প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম ফাইবার বা তন্তু: 
স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। 
- এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে। 
- পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। 
- উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়। 
- এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। 
- ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতা উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৫৫.
নিচের কোন উৎস প্রাণিজ স্নেহপদার্থ নয়? 
  1. ঘি
  2. ডালডা
  3. ডিমের কুসুম
  4. সয়াবিন তেল
ব্যাখ্যা
স্নেহজাতীয় খাদ্য (Fats): 
- চর্বি একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- এই উপাদানটি পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, তাই তখন ক্ষুধা পায় না। 
- দেহের ত্বকের নিচে চর্বি জমা থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: যকৃৎ, মস্তিষ্ক, মাংস পেশিতেও চর্বি জমা থাকে। দেহের এ সঞ্চিত চর্বি উপবাসের সময় কাজে লাগে। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে (ক্যালরি হলো প্রাণিদেহে শক্তি মাপার একটি একক)। 
- খাবার তেল বা ঘি দিয়ে রান্না করা খাবার বেশ সুস্বাদু হয়, সঙ্গে এর পুষ্টিমানও বেড়ে যায়। যেমন সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলু, রুটির চেয়ে লুচি বা পরোটা শুধু মুখরোচকই নয়, এতে ক্যালরিও বেশি পাওয়া যায়। 
- কোনো কোনো চর্বিতে ভিটামিন 'এ' আছে, আবার কোনোটিতে আছে ভিটামিন 'ই'। 

- উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের। 
যেমন- 
১। উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ: 
- সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম। 

২। প্রাণিজ স্নেহপদার্থ: 
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 
- স্নেহপদার্থ পানিতে অদ্রবণীয়, পানির চেয়ে হালকা বলে পানির উপর ভাসে। 
- একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৫৬.
ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রোটিন সংশ্লেষণ করে কোনটি?
  1. ক) ভলিউটিন
  2. খ) রাইবোসোম
  3. গ) কোষ গহ্বর
  4. ঘ) ক্রোম্যাটোফোর
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম:
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে।
- এটি সাধারণত বর্ণহীন।
- এতে কোষ গহবর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ (যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন-
১। রাইবোসোম (70S),
২। ক্রোম্যাটোফোর,
৩। কোষ গহ্বর এবং
৪। ভলিউটিন।

রাইবোসোম:
- প্রতিটি রাইবোসোম RNA ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ করাই রাইবোসোমের প্রধান কাজ

ক্রোম্যাটোফোর:
- কতক ব্যাকটেরিয়াতে ক্রোম্যাটোফোর থাকে।
- এসব রঞ্জক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।

কোষ গহ্বর:
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অত্যন্ত ছোট ছোট কোষ গহবর থাকে। 

ভলিউটিন:
- তরুণ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে এবং পুরাতন কোষের কোষ গহ্বরে ভলিউটিন থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৫৭.
স্তন্যপ্রায়ী প্রাণিতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দকে কি বলে?
  1. ডায়াফ্রাম
  2. অ্যালভিওলাস
  3. ইন্টারকোস্টাল পেশী 
  4. স্বরযন্ত্র
ব্যাখ্যা

• স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশী (ডায়াফ্রাম):

- স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীর দেহে বক্ষগহ্বর (Thoracic cavity) ও উদরগহ্বর (Abdominal cavity) কে পৃথক করে যে অনুপ্রস্থ পেশীযুক্ত পর্দা থাকে, তাকে ডায়াফ্রাম বলা হয়।
- ডায়াফ্রাম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শ্বাস নেওয়ার সময় ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নামে, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে।
- শ্বাস ছাড়ার সময় ডায়াফ্রাম শিথিল হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়ে যায়।
- এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রস্থ পেশী যা শুধুমাত্র স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীদের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের ভেতরের বায়ুথলি, ইন্টারকোস্টাল পেশী পাঁজরের মাঝখানে থাকে এবং স্বরযন্ত্র শব্দ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত—এগুলো বক্ষ ও উদর পৃথক করে না।

সুতরাং, স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দার নাম হলো ডায়াফ্রাম।

সঠিক উত্তর: ক) ডায়াফ্রাম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৫৮.
'মৌমাছি' এর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি? 
  1. ক) Periplaneta americana
  2. খ) Copsychus saularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Plasmodium vivax
ব্যাখ্যা
সাধারণ নাম         বৈজ্ঞানিক নাম
মৌমাছি                  Apis indica
দোয়েল                   Copsychus saularis
আরশোলা               Periplaneta americana
ম্যালেরিয়া জীবাণু    Plasmodium vivax


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৪,০৫৯.
Which of the following is not a by product of Photosynthesis?
  1. Oxygen
  2. Water
  3. Carbon dioxide
  4. None of the above
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ:

- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- এটি একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান ১৯০৫ সালে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে দু'টি পর্যায়ে ভাগ করেন।
যথা- (ক) আলোক নির্ভর পর্যায়,
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে আলো অপরিহার্য। 
- আলোক নির্ভর পর্যায়ের বিক্রিয়াসমূহ ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড মেমব্রেনে সংঘটিত হয়। 
খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়,
- প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে আলোর উপর নির্ভরশীল নয় বলে একে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় বলা হয়। 
- এ পর্যায়ের বিক্রিয়াগুলো ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে সংঘটিত হয়।
- সালোকসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ও পানি তৈরী হয়। কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী হয় না।
- স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ বেশী হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৪,০৬০.
ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে প্রধানত কোন সমস্যা দেখা দেয়?
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব
  2. রক্তশূন্যতা
  3. ত্বক খসখসে হওয়া
  4. রাতকানা
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়, কারণ এটি রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।

• ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে B1, B2, B3, B6, B9 ও B12 গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব ভিটামিন দেহের বিপাক, স্নায়ু কার্যক্রম ও রক্তগঠন–এ ভূমিকা রাখে।
 
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন B12):
- ভিটামিন B12 দেহে লাল রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন B12-এর অভাবে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন অভাব থাকলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
 
• ভিটামিন B12-এর অভাবজনিত প্রভাব:
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
- অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়।
- ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব → এটি প্রধানত ভিটামিন K-এর অভাবে ঘটে।
- রাতকানা → ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
- ত্বক খসখসে হওয়া → ভিটামিন B3-এর অভাবে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৪,০৬১.
আবৃতবীজী উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. আম
  2. জাম
  3. পাইনাস
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,০৬২.
অস্থি এক ধরনের-
  1. ফাইব্রাস যোজক টিস্যু
  2. কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু
  3. স্কেলিটাল যোজক টিস্যু
  4. স্কেলিটাল আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
• অস্থি এক ধরনের  স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।

• স্কেলিটাল যোজক টিস্যু (Skeletal Connective Tissue):
- দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে।
- এই টিস্যু দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন করে। দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়।
- অঙ্গ সঞ্চালন এবং চলনে সহায়তা করে।
- মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড-এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে।
- বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে।

- গঠনের ভিত্তিতে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু দুধরনের হয়।
- যেমন: কোমলাস্থি এবং অস্থি।
- কোমলাস্থি (Cartilage): কোমলাস্থি এক ধরনের নমনীয় স্কেলিটাল যোজক টিস্যু। মানুষের নাক ও কানের পিনা কোমলাস্থি দিয়ে তৈরি।
- অস্থি: অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর এবং অনমনীয় স্কেলিটাল কানেকটিভ টিস্যু। এদের মাতৃকায় ক্যালসিয়াম-জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।

অন্যদিকে,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু (Cuboidal Epithelial Tissue):
এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
- ফাইব্রাস যোজক টিস্যু (Fibrous Connective Tissue):
এই ধরনের যোজক টিস্যু দেহত্বকের নিচে পেশির মধ্যে থাকে। এদের মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের তনুর আধিক্য দেখা যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৬৩.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Pithophora
  2. Oedogonium
  3. Spirogyra
  4. Zygnema
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
• গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৪,০৬৪.
নিচের কোনটি প্রস্বেদনের প্রকার নয়?
  1. মূলীয় প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  4. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

- প্রস্বেদনের প্রকার নয়- মূলীয় প্রস্বেদন 

প্রস্বেদন: 

- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৬৫.
মানব ডিম্বাণু কোথায় নিষিক্ত হয়?
  1. ডিম্বাশয়
  2. ফ্যালোপিয়ান টিউব
  3. জরায়ু
  4. যোনি
ব্যাখ্যা
• মানব ডিম্বাণু স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালিতে নিষিক্ত হয়। 

• নিষেক:
- পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেক বলা হয়। 

• মানবদেহে যে নিষেক ঘটে তা মূলত সেকেন্ডারি উওসাইট ও পরিণত শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবন। 
- এ প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে তাদের হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোমবাহী নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটিয়ে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোমবাহী জাইগোট গঠন করে।
- মানুষের নিষেক অন্তঃনিষেক ধরনের।
• নিষেক সাধারণত ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালির উর্ধ্বাংশে সংঘটিত হয়।

• ফ্যালোপিয়ান টিউব:
- ফেলোপিয়ান টিউব হল মানব নারীর প্রজনন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ডিম্বাশয় থেকে জরায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পেশল নলাকার অঙ্গ, যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে মিলিত হতে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে পরিবহন করতে সাহায্য করে। 

• ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া:
→ ডিম্বাণু তৈরি: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু তৈরি হয়।
→ ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করে।
→ শুক্রাণুর সাথে মিলন: শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করার পর তা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করে।
→ জরায়ুতে স্থানান্তর: নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণ) ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়।
→ ইমপ্লান্টেশন: নিষেকের ৬-৯ দিনের মধ্যে জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ইমপ্লান্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৪,০৬৬.
খাদ্য তৈরীর জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে?
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) জলীয় বাষ্প
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৬৭.
প্লেগ রোগের জীবাণু কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) Susumu Hotta
  2. খ) Erwin Popper
  3. গ) Alexandre Yersin
  4. ঘ) Hippocrates
ব্যাখ্যা
প্লেগ রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন Alexandre Yersin. 

- প্লেগ (Plague) Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই ব্যাপক প্রাণসংহারকারী বা অনিস্টকর কোন পরিস্তিতি বর্ণনায় ‘প্লেগ’ শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- প্লেগ অতি প্রাচীনকালীন এক ব্যাধি, প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
- ইতিহাস সূত্রে জানা যায় মধ্য যুগে বহু রাজ্য এ রোগ দ্বারা ধ্বংসাত্মক পরিণতির শিকার হয়েছে।
- Y. pestis একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যা ইঁদুরের ফ্লি Xenopsylla chaeopis নামক পতঙ্গের অন্ত্রে বাস করে।
- ফ্লি ইঁদুর ও ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বহিঃপরজীবী এবং পোষকের ত্বকে দংশনের মাধ্যমে এর অন্ত্র থেকে ব্যাকটেরিয়াকে পোষকের দেহে চালান করে।
- ফ্লি ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, কখনও কখনও ইঁদুর থেকে মানুষে প্লেগ জীবাণু স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং রোগের উপসর্গ সৃষ্টি করে। একজন নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত মানুষ অন্য মানুষে রোগ ছড়ায় এবং এভাবে প্লেগ মহামারীর আকার পায়।

সূত্র: National Library of Medicine [লিঙ্ক]
৪,০৬৮.
নিচের কোনটির অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি হয়?
  1. ক) ম্যাগনেশিয়াম
  2. খ) সালফার
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে।


- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৬৯.
রক্তরসের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন 
  2. হরমোন 
  3. পানি
  4. এন্টিবডি 
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭০.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. ৮৫ ভাগ
  2. ৮১ ভাগ
  3. ৭৭ ভাগ
  4. ৭৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,০৭১.
নিম্নলিখিত কোন উদ্ভিদ নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. আম 
  2. জাম 
  3. সাইকাস
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪,০৭২.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) আয়রন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ম্যাগনেশিয়াম
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস দাঁত ও অস্থি গঠন, রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

অন্যদিকে,
• আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস।
• ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
• আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকান্ড ব্যাহত হয় এবং গলগন্ড, বামনত্ব, প্রভৃতি দেখা দেয়।

উৎস:- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭৩.
সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে-
  1. মিথোজীবী
  2. পরভোজী
  3. পরজীবী
  4. স্ব-ভোজী
ব্যাখ্যা
- সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ স্বভোজী। 
- যে উদ্ভিদের ফুল হয়, তারা সপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ ক্লোরোফিল এর সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ দুই প্রকার- নগ্নজীবী উদ্ভিদ ও গুপ্তজীবী উদ্ভিদ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৭৪.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি কোনটি হতে পারে? 
  1. জালিকাকার 
  2. সর্পিলাকার 
  3. গোলাকার 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
জালিকাকার (Oedogonium)
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৪,০৭৫.
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০ মিলিয়ন
  2. খ) ১০ বিলিয়ন
  3. গ) ১০০ বিলিয়ন
  4. ঘ) ৫০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
• স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
• মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭৬.
উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির কতটুকু সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাত্র ০.১%
  2. মাত্র ০.০১%
  3. মাত্র ০.০০১%
  4. মাত্র ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির মাত্র ০.০১% সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়।
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়।
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু।
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো।
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭৭.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গ্রাস করে?
  1. ডিফিউশন
  2. অসমোসিস
  3. ফটোসিন্থেসিস 
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৭৮.
প্রথম ক্লোন শিশু 'ইভ' --এর জন্ম তারিখ কত?
  1. ক) নভেম্বর ২০, ২০০২
  2. খ) ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
  3. গ) জানুয়ারি ৭, ২০০৩
  4. ঘ) মার্চ ২৩, ২০০৩
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর। 
- প্রথম ক্লোন শিশুর নাম হলো ইভ। 
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 

৪,০৭৯.
কোন এনজাইমটি পাকস্থলীতে শর্করার পরিপাকে ভূমিকা রাখে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. মলটেজ
  3. অ্যামাইলেজ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে: 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটে। 

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 
মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮০.
নিচের কোন রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তিতে সরাসরি ছড়ায়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. সর্দি-কাশি
  3. উচ্চ রক্তচাপ
  4. ক্যান্সার
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ:  
- যেসব রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে কোনো মাধ্যমে আশেপাশের অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের সংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুংয়েঞ্জা, হাম, বসন্ত, জন্ডিস ইত্যাদি। 

অসংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না তাদের অসংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৮১.
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে -
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস

• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮২.
সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়-
  1. লাল আলোতে
  2. হলুদ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. সবুজ আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
- পানি এবং CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো।
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে।
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
- সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়।
- ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm অর্থাৎ বেগুনি আলো এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট 'লাল' আলোতে  সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
৪,০৮৩.
নিচের কোন খাদ্যটি প্রাণিজ আমিষ হিসেবে পরিচিত?
  1. মাছ
  2. বাদাম
  3. ডাল
  4. সয়াবিন
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৮৪.
উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেহত্বক আঁইশযুক্ত
  2. ত্বক নরম, পাতলা ও ভেজা
  3. শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. পানিতে ডিম পাড়ে
ব্যাখ্যা
উভচর প্রাণী:
- প্রাথমিক অবস্থায় পানিতে বাস করে এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
- পরবর্তীতে স্থলে বাস করে এবং ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়।
- দেহত্বক আঁইশবিহীন।
- ত্বক পাতলা, নরম, ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত।
- শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী।
- পানিতে ডিম পাড়ে।
উদাহরণ- কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৪,০৮৫.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপ-উৎপাদ কোনটি? 
  1. গ্লুকোজ
  2. পানি 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোকের শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- এই শক্তির সাহায্যে তারা বায়ু থেকে গ্রহণকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং মাটি থেকে আহরিত পানি (H2O) কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় উপ-উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন (O2) নির্গত হয়
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ-

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৮৬.
নিচের কোনটি বিবর্তনের একটি মতবাদ? 
  1. জড়তা তত্ত্ব
  2. কোষ তত্ত্ব
  3. ল্যামার্কিজম
  4. নিউটনীয় তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮৭.
নিম্নের কোন খাদ্যে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড রয়েছে?
  1. আটা
  2. আলু
  3. ডাল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাণিজ আমিষ: 
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সব কয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে।
 
 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,০৮৮.
প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Embryology
  2. Ecology
  3. Genetics 
  4. Endocrinology
ব্যাখ্যা

- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক এবং বিভিন্ন পরিবেশগত উপাদানগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে Ecology (বাস্তুবিদ্যা বা পরিবেশবিদ্যা) বলা হয়। 

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬।  বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৭। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৮। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৯। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১০। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

১১। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৮৯.
প্রাথমিক জাইলেম কোথা থেকে সৃষ্ট হয়? 
  1. শিকড় থেকে
  2. পাতার কোষ থেকে
  3. প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে
  4. মেটাজাইলেম থেকে
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৯০.
Which is the optimal pH for digesting food in the stomach?
  1. 2
  2. 4.4
  3. 6
  4. 7.2
ব্যাখ্যা
pH:

- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7.
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2. 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯১.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে প্রধানত কোন উপাদানগুলো থাকে? 
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার 
  2. কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার, ক্লোরিন 
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,০৯২.
শর্করা যকৃতে সঞ্চিত হয়- 
  1. সেলুলোজরূপে
  2. হেমিসেলুলোজরূপে
  3. গ্লিসারলরূপে
  4. গ্লাইকোজেনরূপে
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৩.
হৃৎপিণ্ড কোন পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিডার্মিস
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের গঠন: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। 
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। 
যথা- 
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম: 
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। 
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। 
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে। 

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম: 
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। 
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম: 
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। 
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে। 
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৯৪.
বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন 
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা

বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ভাজক ও স্থায়ী টিস্যু।

যে কোষগুলো বিভাজিত হয় তা হলো ভাজক কোষ, আর ভাজক কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুই হলো ভাজক টিস্যু।

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য গুলো হলোঃ
(১) কোষগুলো জীবিত, অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সমব্যাসীয়।
(২) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সর্বদাই বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন।
(৩) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত আয়তকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজ আকৃতির হয়।
(৪) এই টিস্যুর কোষগুলো সেলুলোজ নির্মিত প্রাচীর বিশিষ্ট হয়।
(৫) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং দানাদার ঘন সাইটোপ্লাজমে পূর্ণ থাকে।
(৬) ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষ গহবর থাকে না।
(৭) কোষ গুলো ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।

যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম সে টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। এ টিস্যুর কোষগুলো পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকার-আকৃতি বিশিষ্ট অর্থাৎ এরা আকার-আকৃতি ও বিকাশে স্থায়িত্ব লাভ করেছে, তাই এরা স্থায়ী টিস্যু। বিশেষ অবস্থা ছাড়া এরা আর বিকশিত হতে পারে না। ভাজক টিস্যু হতে কোষের পূর্ণ বিকাশ লাভের পর বিভাজন ক্ষমতা স্থগিত হওয়ার মাধ্যমে স্থায়ী টিস্যুর উদ্ভব হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো–
খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা।
দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

৪,০৯৫.
কোন খাদ্যে লৌহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) পালংশাক
  2. খ) লালশাক
  3. গ) কঁচুশাক
  4. ঘ) পুঁইশাক
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস ও খাবার লবণে ক্লোরিন থাকে।
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৯৬.
নিচের কোনটি মাইক্রো উপাদান নয়?
  1. Zn
  2. Mn
  3. Mo
  4. Mg
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন ।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যেমন: 
(i) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং 
(ii) মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান ৷

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান :
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয় ।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: 
- নাইট্রোজেন (N),
- পটাশিয়াম (K),
- ফসফরাস (P),
- ক্যালসিয়াম (Ca),
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg),
- কার্বন (C),
- হাইড্রোজেন (H),
- অক্সিজেন (O),
- সালফার (S) এবং 
- লৌহ (Fe).

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে ।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা: 
- দস্তা বা জিংক (Zn),
- ম্যাংঙ্গানিজ (Mn),
- মোলিবডেনাম (Mo),
- বোরন (B),
- তামা বা কপার (Cu) এবং 
- ক্লোরিন (Cl).

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৯৭.
বৃক্কের মাধ্যমে কোন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) পিত্ত রঞ্জক
  4. ঘ) ঘাম
ব্যাখ্যা
প্রাণিদেহের সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থের শতকরা ৭৫ ভাগ অংশ রেচনকার্য সম্পন্ন করে বৃক্ক। এজন্য বৃক্ককে প্রধান রেচন অঙ্গ বলা হয়। মানবদেহে ফুসফুসের সাহায্যে কার্বন ডাই অক্সাইড, ত্বকের সাহায্যে ঘাম জাতীয় পদার্থ, যকৃতের সাহায্যে পিত্তরঞ্জক এবং বৃক্কের সাহায্যে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ বা মূত্র (টৎরহব) নিষ্কাশিত হয়। সকল ধরনের বর্জ্য বা রেচন পদার্থের নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন পদ্ধতি বলা হলেও, প্রকৃতপক্ষে রেচন বলতে আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বহিষ্কার করার পদ্ধতিকে বুঝায়। কাজেই মূত্রই মানবদেহের একটা প্রধান রেচন দ্রব্য এবং বৃক্কই মূত্র নিষ্কাশনের প্রধান অঙ্গ।
৪,০৯৮.
কোন উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়?
  1. ডালিয়া
  2. আদা
  3. হলুদ
  4. ওলকচু
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৯৯.
শর্করা কোন উপাদানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়?
  1. ক) কার্বন ও অক্সিজেন
  2. খ) অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  3. গ) কার্বন ও নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন - 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১০০.
যকৃতের বেশির ভাগ অংশ মানবদেহের কোথায় অবস্থিত?
  1. উপরে ডানদিকে
  2. উপরে বামদিকে
  3. পাকস্থলির নিচে
  4. অগ্ন্যাশয়ের নিচে
ব্যাখ্যা
যকৃৎ (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃৎ বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। 
- পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

যকৃতের অবস্থান:

figure: Liver in the human body (image source: hepctrust.org.uk)

যকৃতের কাজ: 
- যকৃৎ থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।