ব্যাখ্যা
◉ রক্তের হিমোগ্লোবিন যখন ফুসফুসে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয় তখন তা অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এটি শরীরের কোষে পৌঁছে যায়।
- কোষের ভেতরে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকে, আর রক্তে অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে মুক্ত হওয়া অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি থাকে।এই ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে (without energy) উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকেই ব্যাপন (Diffusion) বলা হয়।
অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen):
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত।
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।
• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO2
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে।
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে।
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।