বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৯ / ৪২ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ৪,২০৮

৩,৮০১.
অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙে মুক্ত অক্সিজেন শরীরের কোষে কীভাবে প্রবেশ করে?
  1. সক্রিয় পরিবহন
  2. নিঃসরণ
  3. ব্যাপন
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা

◉ রক্তের হিমোগ্লোবিন যখন ফুসফুসে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয় তখন তা অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এটি শরীরের কোষে পৌঁছে যায়।

- কোষের ভেতরে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকে, আর রক্তে অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে মুক্ত হওয়া অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি থাকে।এই ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে (without energy) উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকেই ব্যাপন (Diffusion) বলা হয়।

অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen): 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। 
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে। 
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 

• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন 

- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে। 
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে। 
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮০২.
কোন রোগ DPT টিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধনুস্টংকার
  2. হুপিংকাশি
  3. পোলিও
  4. ডিফথেরিয়া
ব্যাখ্যা
DPT:
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়।
- ডি.পি.টি. (ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি ও ধনুস্টংকার) রোগের টিকা বা প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়।
- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetella pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) হতে DPT (D= Diphtheria, P= Pertussis, T= Tetanus) নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- পোলিও এর টিকার নাম ওপিভি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৮০৩.
কোনটির অভাবে ক্লোরোসিস হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

উৎস:  জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮০৪.
লসিকার প্রধান উপাদান কী? 
  1. পানি
  2. প্রোটিন
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” বলে। 
- অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৫.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হল-
  1. গ্লাইকোজেন
  2. গ্লুকোজ
  3. ফ্রুক্টোজ (Fructose)
  4. সুক্রোজ
ব্যাখ্যা
গ্লাইকোজেন: 
- গ্লাইকোজেন হলো একটি পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড। 
- এটি প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য উপাদান হলেও সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও কতিপয় ছত্রাকের (ঈস্ট) সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে বিরাজ করে। 
- গ্লাইকোজেন এর মূল গাঠনিক উপাদান α-D গ্লুকোজ। 
- হাইড্রোলাইসিস শেষে গ্লাইকোজেন হতে কেবল α-D গ্লুকোজ অণু পাওয়া যায়। 
- এর আণবিক সংকেত- (C6H10O5)n

গ্লাইকোজেন এর কাজ: 
- প্রাণীদেহের লিভার ও পেশিতে বেশি করে গ্লাইকোজেন জমা থাকে যা প্রয়োজনে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ হয়। 
- রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয় এবং পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পেশির কাজে শক্তি যোগায়। 

তাই, বলা যায় অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো - গ্লাইকোজেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৬.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH কত?
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7। 
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৭.
Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচন অঙ্গ কী নামে পরিচিত? 
  1. কিডনি
  2. শিখা অঙ্গ
  3. নেফ্রিডিয়া
  4. ম্যালপিজিয়ান নলিকা
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮০৮.
ছত্রাক সাধারণত কোন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে? 
  1. যৌনপদ্ধতিতে 
  2. অযৌনপদ্ধতিতে 
  3. যৌন ও অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি (Mycology) বলা হয়। 
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছাঁয়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান। 
- ছত্রাক সাধারণত অযৌন এবং যৌন উভয় উপায়ে বংশবৃদ্ধি সম্পন্ন করে। 
- কিছু কিছু ছত্রাক প্রজাতির সমস্ত দেহটিই জনন কাজে অংশ নেয়। 
- এ ধরনের ছত্রাকের দৈহিক ও জননাঙ্গের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এরূপ ছত্রাককে হলোকাপিক ছত্রাক বলা হয়। 
- অধিকাংশ ছত্রাকের দেহের অংশবিশেষ থেকে জননযন্ত্রের সৃষ্টি হয় কিন্তু অন্য অংশ স্বাভাবিক থাকে। এরূপ ছত্রাককে বলা হয় ইউকারপিক ছত্রাক। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮০৯.
নিচের কোনটি গুরুমস্তিষ্কের অংশ নয়?
  1. ক) মেডুলা
  2. খ) সেরিব্রাম
  3. গ) থ্যালামাস
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
পশ্চাৎমস্তিষ্ক লঘুমস্তিষ্ক নামেও পরিচিত। লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোটো এবং গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থান করে৷

লঘুমস্তিষ্কের অংশ তিনটি,
যথা- সেরিবেলাম, পনস এবং মেডুলা বা সুষুম্নাশীর্ষক।

গুরুমস্তিষ্কের অংশ হলো- সেরিব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস।
মেরুরজ্জু বা সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। মেরুরজ্জু মস্তিষ্কের অংশ নয়।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি
৩,৮১০.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মেরুদণ্ডে কতটি কশেরুকা থাকে?
  1. ক) ২৫টি
  2. খ) ২৬টি
  3. গ) ৩১টি
  4. ঘ) ৩৩টি
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে কশেরুকা থাকে ২৬টি। আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।

পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে কশেরুকা থাকে -
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা

- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
- শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৮১১.
অটোইমিউন রোগে মূলত কী ধরনের ঘটনা ঘটে?
  1. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে দুর্বল হয়ে যায়
  2. শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজের কোষকে আক্রমণ করে
  3. ভাইরাস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়
  4. ব্যাকটেরিয়া প্রতিরক্ষা কোষের ভেতরে বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

◉ সাধারণ অবস্থায় শরীরের ইমিউন সিস্টেম (Immune system) বাইরের জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, টক্সিন ইত্যাদি) শনাক্ত করে এবং সেগুলোকে ধ্বংস করে। কিন্তু, অটোইমিউন রোগে ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত নিজের শরীরের কোষ ও টিস্যুকে "শত্রু" মনে করে আক্রমণ শুরু করে।

লোহিত কণিকা উৎপাদন হ্রাস হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির অভাব, যেমন, আয়রন, ভিটামিন B12 বা ফোলেট, যা লাল রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে।
২. কিডনির রোগ।
৩. কয়েক ধরনের ক্যান্সার, যেমন লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মাল্টিপল মায়োলোমা।
৪. অটোইমিউন রোগ যেমন লুপাস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস যাতে রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো আপন দেহকেই আক্রমণ করে।
৫. নির্দিষ্ট ধরনের সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি এবং যক্ষ্মা।
৬. থাইরয়েডের সমস্যা যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম।
৭. অন্ত্রে প্রদাহের রোগ যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং ক্রোনস ডিজিজ।
৮. অস্থিমজ্জা থেকে রক্ত কণিকা তৈরি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া।
৯. নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা নেওয়া, বিশেষ করে ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি।
১০. বিষাক্ত পদার্থ যেমন সীসার সংস্পর্শে আসা।
১১. কিছু জেনেটিক রোগ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৮১২.
Which year was the first case of AIDS diagnosed in the United States of America?
  1. 1979
  2. 1981
  3. 1985
  4. 1987
  5. 1989
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 

- প্রধানত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮১৩.
নিচের কোনটিকে 'জৈব মুদ্রা' বলা হয়?
  1. Glucose
  2. ATP
  3. Chlorophyll
  4. Oxygen
ব্যাখ্যা
ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।
• ATP(অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট):

- DNA এবং RNA-এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন।
- এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন।
- অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে একটি, দুটি এবং তিনটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP), অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) এবং অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) গঠন করে।
- ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয়, সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ অর্থাৎ, মাংসপেশির সংকোচন থেকে ইন্দ্রিয়ানুভূতি, খাবার খাওয়া থেকে হজম করা, নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে কথা বলা, চিৎকার করা থেকে হাসি-কান্না, দৈহিক বৃদ্ধি থেকে প্রজনন, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কোষের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখা- এর সবই সম্পন্ন হয়।
- আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়।
- শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে।
- তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে।
- এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
- এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮১৪.
মানবদেহে ইনসুলিন উৎপন্ন হয় কোথায়?
  1. যকৃৎ
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. বৃক্ক
  4. পিটুইটারি গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• ইনসুলিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স  (Islets of Langerhans) নামক কোষগুচ্ছে বিটা কোষ (β-cells) ইনসুলিন উৎপন্ন করে।

• ইনসুলিন কাজ- 
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি কোষে গ্লুকোজের অনুপ্রবেশ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে যেখানে তা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
-  যকৃত ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেন সংশ্লেষণ (গ্লাইকোজেনেসিস) ও সঞ্চয় হার বৃদ্ধি করে।
-  রক্ত-শর্করার মাত্রা কমায়;
-  গ্লুকোনিওজেনেসিস ও কিটোন বডি উৎপাদন রোধ করে এবং
-  মেদ টিস্যুতে ফ্যাট সংশ্লেষণ ও সঞ্চয় ত্বরান্বিত করে। এর অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৩,৮১৫.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. চার্লস ডারউইন
  4. উপরের কাউকেই নয়
ব্যাখ্যা

• আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক ক্যারোলাস লিনিয়াস

• অ্যারিস্টটল: 
- অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান এর জনক বলা হয়।
- প্রাণীদের গঠন ও স্বভাব নিয়ে তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে।

• ক্যারোলাস লিনিয়াস:
- যেকোনো প্রাণী সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন তার শনাক্তকরণ। আর এ কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম মাধ্যম হলো শ্রেণিকরণ।
- প্রাণিবিজ্ঞান চর্চার শুরু থেকেই অনেক বিজ্ঞানী প্রাণিদের শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮)। এজন্য তাকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of taxonomy) বলা হয়।
- প্রতিটি জীবের দুটি বৈজ্ঞানিক নাম (গণ ও প্রজাতি) প্রদানের প্রবর্তন করেন, যেমন মানুষের জন্য Homo sapiens। একে দ্বিপদী নামকরণ বলা হয়।

• চার্লস ডারউইন:
- চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদ এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন এর ধারণা আবিষ্কার করেন।
- তার বিখ্যাত বই 'On the Origin of Species' এই তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেয়। 

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) BBC

৩,৮১৬.
সবাত শ্বসন প্রধানত কোন অঙ্গানুতে ঘটে?
  1. রাইবোজোম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮১৭.
কোন ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. র‍্যাবিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।

ভাইরাসের অপকারিতা:
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো-
- ফ্ল্যাভি ভাইরাস- ডেঙ্গু,
- র‍্যাবিস ভাইরাস- জলাতঙ্ক,
- ভেরিওলা ভাইরাস- গুটিবসন্ত,
- অ্যাডিনো ভাইরাস- নিউমোনিয়া,

উৎস: জীববিজ্ঞান (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮১৮.
একটি পরিণত শুক্রাণুর কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
জননকোষ:

- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু হচ্ছে জননকোষ।
- পুং জনন কোষকে শুক্রাণু ও স্ত্রী জনন কোষকে ডিম্বাণু বলা হয়।
- একটি পরিণত শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে। যথা:
• মস্তক,
• মধ্যখণ্ড,
• লেজ ।

- স্ত্রী প্রজননতন্ত্র পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা:
• ডিম্বাশয়,
• ফেলোপিয়ান নালী,
• জরায়ু,
• যোনি,
• বহিঃযৌনাঙ্গ।

তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১৯.
ডায়াবেটিস রোগীকে কোন কারণে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়?
  1. প্রোটিন হ্রাস হলে
  2. গ্লুকোজ উৎপাদন কম হলে
  3. ইনসুলিন অতিরিক্ত নিঃসৃত হলে
  4. ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা অকার্যকর হলে
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়, কারণ তাদের অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত হয় না (টাইপ ১) অথবা শরীর ইনসুলিনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না (টাইপ ২), যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই সঠিক উত্তরটি হলো- ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা অকার্যকর হলে। 

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- ইনসুলিনের ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। এই অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮২০.
বহুপ্রতিসম ফুল কোনটি?
  1. জবা
  2. মটর
  3. কলাবতী
  4. শিম
ব্যাখ্যা
• বহুপ্রতিসম (Actinomorphic) ফুল:
- বহুপ্রতিসম (Actinomorphic) ফুল হলো এমন ফুল, যা একাধিক সমতলে কাটা হলে সমানভাবে বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি অংশ অভিন্ন থাকে।
- জবা (Hibiscus) ফুল বহুপ্রতিসম, কারণ এটি বিভিন্ন দিক থেকে কাটা হলেও প্রতিসম থাকে।
উদাহরণ: সরিষা, শাপলা, সূর্যমুখী ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- মটর (Pisum sativum) ও শিম (Lablab purpureus) একপ্রতিসম (Zygomorphic), কারণ এগুলো একটি নির্দিষ্ট সমতলে কাটা হলে দুই সমান অংশে বিভক্ত হয়।
- কলাবতী (Canna indica) ফুলও একপ্রতিসম, কারণ এর গঠন অসমান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৮২১.
পূর্ণবয়স্কদের রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ৯০/৬০ mmHg
  2. ১২০/৮০ mmHg
  3. ১৪০/৯০ mmHg
  4. ১৬০/১০০ mmHg
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্কদের রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা ১২০/৮০ mmHg।

• রক্তচাপ (Blood Pressure):
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।

• হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে। একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে।
• হৃৎপিন্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে। একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে।

• চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ mmHg।
- রক্তের সিস্টোলিক (Systolic) চাপের আদর্শ মান ১২০ mmHg এর নিচে। 
- রক্তের ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপের আদর্শ মান ৮০ mmHg এর নিচে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৮২২.
জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি হলো-
  1. ক) প্রাণিবিজ্ঞান ও ছত্রাকবিজ্ঞান
  2. খ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ছত্রাকবিজ্ঞান
  3. গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান
  4. ঘ) ইকোলজি ও অনুজীববিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
জীবের ধরন অনুযায়ী জীববিজ্ঞান কে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যথা- উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণীবিজ্ঞান।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮২৩.
যে কারণে শৈশব-অন্ধত্ব হতে পারে তা হলো -
  1. এইচআইভি/এইডস
  2. ম্যালেরিয়া
  3. হাম
  4. যক্ষা
ব্যাখ্যা
হাম: 
- হাম একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। 
- হাম রোগের জন্য মোরবিলি ভাইরাস দায়ী। 
- হামে আক্রান্ত শিশু থেকে এই রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং হাম রোগে আক্রান্ত হয়। 
- ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে এক ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা এবং ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের ২য় ডোজের টিকা দিয়ে শিশুকে হাম রোগ থেকে প্রতিরোধ করা যায়। 
- হামের কারণে শৈশবে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। 

উৎস: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, National Library of Medicine, US Govt.
৩,৮২৪.
BMR এর পূর্ণরূপ কি?
  1. Body Measurement Rate
  2. Basal Metabolic Rate
  3. Basal Measurement Ratio
  4. Body Metabolic Ratio
ব্যাখ্যা
বিএমআর (BMR): 
- পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR- Basal Metabolic Rate) মানব শরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে।
- BMR এর মান নির্ণয়- বিএমআর এর মান বের করা কিছুটা জটিল। 
- এর সমীকরণ লিঙ্গ ও বয়সভেদে পার্থক্য রয়েছে। 
- হ্যারিস বেনেডিক্ট এর সূত্রটি ব্যবহার করে লিঙ্গ ও বয়সভেদে এর পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
যেমন-
মেয়েদের বিএমআর = ৬৫৫ + (৯.৬ × ওজন কেজি) + (১.৮ × উচ্চতা সেমি) - (৪.৭ × বয়স বছর)।
ছেলেদের বিএমআর = ৬৬ + (১৩.৭ × ওজন কেজি) + (৫ × উচ্চতা সেমি) – (৬.৮ × বয়স বছর)। -
যেমন- ধরা যাক,
একজন মহিলার বয়স ৩৩ বছর, উচ্চতা ১৬৫ সেমি, ওজন ৯৪ কেজি।
সুতরাং তার বিএমআর = ৬৫৫ + (৯.৬ × ৯৪) + (১.৮ × ১৬৫) - (৪.৭ × ৩৩)
= ৬৫৫ + ৯০২.৪ + ২৯৭ – ১৫৫.১
= ১৬৯৯.৩ ক্যালরি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮২৫.
ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে কোন জাতীয় খাদ্যে?
  1. শর্করা
  2. প্রোটিন
  3. পানি
  4. চর্বি
ব্যাখ্যা

ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে।
- খাদ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকে আবার আমরা খাবার থেকেই শক্তি পাই। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৮২৬.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়?
  1. লাল আলোতে
  2. সবুজ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. নীল আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড।
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়।
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Live MCQ লেকচার শীট।
৩,৮২৭.
ভাইরাসে কোনটি থাকে না?
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) রাইবোসোম
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
 •ভাইরাস অকোষীয়।
এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
 • এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত ।
•এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
•ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
•জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৮২৮.
কোনটি সরল টিস্যুর উদাহরণ ?
  1. প্যারেনকাইমা
  2. ট্রাকিড
  3. ভেসেল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়।
আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।যথা-
১) প্যারেনকাইমা,
২) কোলেনকাইমা এবং
৩) স্ক্লেরেনকাইমা।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮২৯.
নিম্নের কোনটি বহুকোষী জীব নয়?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) প্লাজমোডিয়াম
  4. ঘ) খ‌ ও গ
ব্যাখ্যা
কোন কোন জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত, এদেরকে বলা হয় এককোষী জীব।
যেমনঃ ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি।
৩,৮৩০.
নিচের কোনটি নিশ্চিত আণুবীক্ষণিক জীব?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা

*** ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

• ছত্রাক:
- ছত্রাক বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- অধিকাংশ ছত্রাকই খালি চোখে দেখা যায়।

• শৈবাল:
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- এরা সুকেন্দ্রিক, এককোষী বা বহুকোষী। অধিকাংশ শৈবালই খালি চোখে দেখা যায়।

• হাইড্রা:
- হাইড্রা হচ্ছে নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বভুক্ত সরল গড়নের জলজ প্রাণী। হাইড্রা খালি চোখেই দেখা যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান 

৩,৮৩১.
অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের নাম কী?
  1. ক) ফোলিক এসিড
  2. খ) এমিনো এসিড
  3. গ) পেনিসিলিন
  4. ঘ) ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রাকে হ্রাস করে ফলে রক্ত স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস : উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৩২.
ডি.এন.এ (DNA) টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক নামগুলো হলো -
  1. ফিঙ্গার প্রিন্টিং
  2. ডি.এন.এ টাইপিং
  3. ডি.এন.এ টেস্টিং
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডি.এন.এ টেস্ট একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট নমুনার ডি.এন.এ নকশার সাথে অন্য কোনো নমুনার ডি.এন.এ নকশার তুলনা করে নমুনা দুটির মধ্যে মিল বা অমিল নির্ণয় করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে ডিএনএ এর জিন সিকুয়েন্স অর্থাৎ নিউক্লিক অ্যাসিডের ক্রম মিলানো হয়।
- ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক এক ব্যবহারিক পদ্ধতিকে বলা হয় ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং। এছাড়া ডিএনএ টাইপিং, ডিএনএ টেস্টিং ইত্যাদি নামও প্রচলিত রয়েছে।

জেনেটিক ডিসওর্ডার এক প্রকার অস্বাভাবিকতা যার ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-X সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটন’স সিন্ড্রোম এবং সিকিল সেল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৩৩.
উদ্ভিদ কোন খাদ্যোপাদান মাটি থেকে নেয় না?
  1. ক) জিংক
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটামিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মালিবডেনাম (Mo)।

উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানতঃ পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে। 
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৩৪.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এরা অকোষীয়।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সঠিক নয় - এরা অকোষীয়।

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 

- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৩৫.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ভুট্টা
  3. ধান
  4. গম
ব্যাখ্যা

• ভুট্টা (Maize) একটি C4 উদ্ভিদ।

• সালোকসংশ্লেষণের গতিপথ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
- যেমন: ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
- যেমন: ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৩৬.
ব্যাকটেরিয়ায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন সংগঠিত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে ।

- অ্যামাইটোসিস হল জীবদেহের এক ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা প্রধানত নিম্ন শ্রেনির জীবে (যেমন- এক কোষী প্রাণী - ব্যাক্টেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি) দেখা যায়। একে ক্যারিওস্টেনোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা হয়। একে অনেক সময় দ্বিবিভাজনও বলা হয়।

- কোষবিদ্যায় মাইটোসিস (/maɪˈtoʊsɪs/) হল কোষ চক্রের একটি ধাপ যেখানে প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোম দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। মাইটোসিস দ্বারা কোষ বিভাজন জিনগতভাবে সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অভিন্ন কোষের জন্ম দেয় যেখানে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা বজায় থাকে।

- মিয়োসিস বা মায়োসিস ( ইংরেজি-meiosis) এক বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৮৩৭.
মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরণ করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) হেনরি মোসলে
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number)
১৮৯৫ সনে বিজ্ঞানী রন্টজেন একটি ধাতব মৌলকে ক্যাথোড রশ্মির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে এক ধরনের বিকিরণ আবিষ্কার করেন। এই বিকিরণের যথার্থ পরিচয় না দিতে পারায় একে X-Ray (এক্সরে) নাম দেয়া হয়।
১৯১৪ সনে পদার্থ বিজ্ঞানী মোসলে দেখান যে, ক্যাথোড রশ্মির বিক্ষেপণে প্রতিটি মৌল থেকে একটি সুনির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে রশ্নি (X-Ray) নির্গত হয়। তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, X-Ray এর
কম্পন সংখ্যা মৌলের পরমাণুর ধনাত্মক চার্জ অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তিনি মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরন করেন এবং একে z দ্বারা চিহ্নিত করেন। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান।
সুত্রঃ রসায়ন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৩৮.
সবচেয়ে ছোট পাখীর নাম কি?
  1. ক) চড়ুই
  2. খ) শালিক
  3. গ) হামিংবার্ড
  4. ঘ) দোয়েল
ব্যাখ্যা
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট পাখীর নাম হামিংবার্ড। উত্তর আমেরিকা মহাদেশে হামিংবার্ড পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
৩,৮৩৯.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন সমস্যাটি দেখা যায়?
  1. উদ্ভিদের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  2. উদ্ভিদের মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যায়।
  3. উদ্ভিদের পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেশিয়াম: 
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

লৌহ বা আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৪০.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রো উপাদান কোনটি? 
  1. দস্তা
  2. আয়রন
  3. বোরন
  4. কপার
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: 
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca),  
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
• সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: 
• দস্তা বা জিংক (Zn), 
• ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৪১.
উদ্ভিদের কোন হরমোন ফুল ফোটানোর প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখে?
  1. অক্সিন
  2. অ্যাবসিসিক এসিড
  3. ফ্লোরিজেন
  4. ইথিলিন
ব্যাখ্যা

◉ ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৪২.
নিম্নের কোন প্রাণীটি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. বানর 
  2. ইকুইজিটাম 
  3. মানুষ 
  4. প্ল্যাটিপাস
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। - অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৪৩.
কোন কোষে কোনো ধরনের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না?
  1. জনন কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. সুকেন্দ্রিক কোষ
  4. প্রাককেন্দ্রিক কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): 
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না, এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। 
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়। 

২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ (Somatic cell): 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ (Gametic cell): 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৪৪.
'White Blood Cell' বলা হয় কোন রক্ত কণিকাকে?
  1. থ্রম্বোসাইট
  2. ইরাইথ্রোসাইট
  3. লিউকোসাইট
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্তরসের মধ্যে ছড়ানো বিভিন্ন রকমের কোষকে রক্ত কণিকা বলে। 
- রক্ত কণিকাগুলো প্রধানত তিন রকমের। 
যথা- (১) লোহিত রক্তকণিকা বা ইরাইথ্রোসাইট, (২) শ্বেত রক্ত কণিকা বা লিউকোসাইট এবং (৩) অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট। 

শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই, এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৪৫.
ভাইরাসের রাসায়নিক উপাদান কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
রাসায়নিকভাবে ভাইরাস দুইটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড।

ভাইরাস হলো বাধ্যতামূলক অন্তঃকোষীয় পরজীবী, যা অন্য কোনো জীবিত কোষ ছাড়া বংশবিস্তার করতে এবং বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না।
ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ডিএনএ অথবা আরএনএ দ্বারা তৈরি।
ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
রাসয়নিকভাবে ভাইরাস দুইটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৮৪৬.
মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Homo erectus
  2. খ) Homo habilis
  3. গ) Homo ergaster
  4. ঘ) Homo sapiens
ব্যাখ্যা
মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens.

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম -  
- Nymphaea nouchali - শাপলা;
- Oryza sativa - ধান;
- Mangifera indica - আম;
- Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল;
- Apis indica - মৌমাছি ;
- Allium cepa - পেঁয়াজ;
- Copsychus saularis - দোয়েল;
- Periplaneta americana - আরশোলা;
- Panthera tigris - রয়েল বেঙ্গল টাইগার;
-  Hilsa ilisha - ইলিশ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৪৭.
অগ্ন্যাশয় কোন হরমোন নিঃসরণ করে? 
  1. এড্রেনালিন ও কর্টিসল 
  2. থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন 
  3. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন 
  4. প্রোল্যাকটিন ও অক্সিটোসিন 
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৪৮.
নিচের কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত?
  1. বেসোফিল
  2. নিউট্রোফিল
  3. ইওসিনোফিল
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য:

১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

প্রকারভেদ: 

- গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং;
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের, যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফনোড, টনসিল, প্লিহা, ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো ছোট কণিকা।
- মনোসাইট বড় কণিকা। কিন্তু এর নিউক্লিয়াস বড় বাকে অন্যদিকে তবে তার নিউক্লিয়াস ছোট ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার আবৃতির হয়।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- Lymphocites রক্তে বৃদ্ধি তেমন ক্ষতির কারণ নয় তবে অতিরিক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি ক্যান্সারের লক্ষণ।

(খ) গ্রানুলোসাইট:
- এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত।
- গ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকাগুলো নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার যথা-
(১) নিউট্রোফিল;
(২) ইওসিনোফিল ও;
(৩) বেসোফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টাসিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় না।

উৎস: বিজ্ঞান (ইউনিট ৩), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন স্কুল।
৩,৮৪৯.
মানুষের মধ্যে আকার, গায়ের রং, চুলের রং ইত্যাদি ভিন্নতা দেখা যায় কোন বৈচিত্রতার কারণে?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) জিনগত
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক
  4. ঘ) প্রজাতিগত
ব্যাখ্যা


উৎস: প্রাণি বিজ্ঞান, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৫০.
গ্রিন হাউজের ফলে মূলত বৈশ্বিক কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. ক) মরুকরণ
  2. খ) পানির উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) উদ্ভিদকুলে নতুন প্রজাতির আবির্ভাব
  4. ঘ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
- এই ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলের নিম্ন স্তরে কিছু গ্যাস গ্রিন হাউস বা কাচের ঘরের দেওয়াল বা ছাদের মতো কাজ করে।
- সূর্যের আলো পৃথিবীর তাপ ও শক্তির মূলউৎস। সূর্যরশ্মি (রশ্মি নিকটবর্তী, দৃশ্যমান, নিকটবর্তী অবলোহিত বর্ণালি ইত্যাদি ক্ষতিকর রশ্মি) বায়ুমন্ডলে এসব গ্যাসীয় স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে এসে পড়ে।
- পৃথিবীতে আসা সূর্যালোকের সবটুকু কাজে লাগে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠে ছেড়ে দেয়।
- আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরণ তাপের সবটুকু মহাশূন্যে চলে যায় না। এই বিকিরিত তাপের একাংশ প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড জলীয় বাষ্প এবং অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়ে আবহাওয়া মন্ডলে কতটুকু থেকে যায় তা নির্ভর করে গ্রিন হাউস গ্যাসের ওপর।
- এসব গ্রিন হাউস গ্যাস বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা প্রদান করে।
- সুতরাং গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমন্ডলের তাপ ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ইহাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
- উষ্ণতার বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস প্রভাব বলে।

গ্রিন হাউজের বিরূপ প্রতিক্রিয়াসমূহ-
১. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু অঞ্চল নতুনভাবে জলমগ্ন হবে এবং কিছু অঞ্চল শুষ্ক হবে।
৩. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং অসংখ্য উদ্ভিদ ও পানির অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।
৪. সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও টাইফুনের হার বেড়ে যাবে।
৫. সমুদ্র পৃষ্ঠ স্ফীত হলে আবহাওয়ায় প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে।

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
৩,৮৫১.
প্রাণী টিসুকে প্রধানত কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ৩ ভাগে
  2. ৬ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
টিস্যু:
- একই ভ্রূণীয় কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে এক বা একাধিক ধরনের কিছুসংখ্যক কোষ জীবদেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সমষ্টিগতভাবে একটা কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষগুলো সমষ্টিগতভাবে টিস্যু (Tissue) বা তন্ত্র তৈরি করে।
- একটি টিস্যুর কোষগুলোর উৎপত্তি, কাজ এবং গঠন একই ধরনের হয়।
- টিস্যু নিয়ে আলোচনাকে টিস্যুতত্ত্ব (Histology) বলে। 

প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ: 

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে  প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(ক) আবরণী টিস্যু, 
(খ) যোজক টিস্যু, 
(গ) পেশি টিস্যু এবং 
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু। 

ছবির উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি জীববিজ্ঞান বই

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ও ৯ম-১০ম শ্রেণি জীববিজ্ঞান বই। 
৩,৮৫২.
পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অ্যামিবা
  2. খ) ঈস্ট
  3. গ) টি-২ ফাজ
  4. ঘ) H1N5
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পাউরুটি তৈরিতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়। অবাত শ্বসনে সৃষ্ট কার্বন ডাইঅক্সাইডের কারণে পাউরুটি ফুলে উঠে।

ঈষ্ট হচ্ছে এক ধরনের এককোষী ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ, এরা অবাত শ্বসনে সক্ষম। ঈষ্ট শর্করা জাতীয় খাদ্যকে এনজাইমের সাহায্যে ভেঙ্গে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সইড তৈরি করে এবং মধ্যবর্তী যৌগ হিসেবে ইথানল তথা ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি করে।
৩,৮৫৩.
নিম্নলিখিত কোনটি তরল যোজক টিস্যুর উদাহরণ? 
  1. হাড়
  2. পেশি
  3. লসিকা
  4. এপিথেলিয়াল টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু: 
- তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। 
- মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। 
- তরল যোজক টিস্যু দু'প্রকারের হয়। 
যথা- ক) রক্ত এবং খ) লসিকা। 

লসিকা: 
- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়। 
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়। 
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে, এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়। 
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৫৪.
অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে-
  1. ইথিলিন
  2. ফ্লোরিজেন
  3. অক্সিন
  4. ভার্নালিন
ব্যাখ্যা

- অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।
- পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
- শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
- কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৮৫৫.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক? 
  1. শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে
  2. ডায়ারিয়া প্রতিরোধে মায়ের দুধ অত্যন্ত কার্যকর
  3. মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

- জন্মের পর মায়ের দুধ শিশুর একমাত্র আদর্শ খাদ্য। জন্মগ্রহণের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।
- মায়ের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। এই দুধ হলুদ বর্ণের গাঢ় আঠালো হয়।
- প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ মি.লি. পরিমাণ শালদুধ উৎপাদিত হয়। প্রসবের পর ২/৩ দিন পর্যন্ত শালদুধ নির্গত হয়।
- শালদুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া, জন্ডিস ও শ্বাসনালীর ইনফেকশন হতে শিশুদের রক্ষা করে।
- নবজাতককে বাইরের কোনো দুধ, চিনি, মধু, পানি দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে শালদুধ দিতে হবে। শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধ দিতে হবে।

• মায়ের দুধের গুণাগুণ:
১। মায়ের প্রথম দুধ হলুদ বর্ণ, ঘন ও তরল থাকে, একে কলোস্ট্রাম বলে। একে শালদুধও বলা হয়। এই দুধ প্রোটিন, ভিটামিন ও অ্যান্টিবডিসমৃদ্ধ। এই দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশু সুস্থ থাকে।
২। মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান, যেমন- গ্লুকোজ, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ সঠিক মাত্রায় থাকে। তাই মায়ের দুধ সুষম হয়।
৩। দুধের ল্যাকটোজ, ল্যাকটোএ্যালবুমিন ও ক্যাজিন শিশু সহজে হজম করতে পারে, ফলে শিশুর পেটের পীড়া হয় না। ডায়ারিয়া প্রতিরোধে একমাত্র মায়ের দুধ অধিক কার্যকর।
৪। মায়ের বুকের দুধ জীবাণুমুক্ত। শিশু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনমতো গ্রহণ করতে পারে। মায়ের দুধ সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এবং সঠিক মাপমাত্রায় শিশুকে খাওয়ানো যায়।
৫। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পরিপূর্ণ পুষ্টি যোগায়। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা অধিক বুদ্ধিমান হয়।
৬। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।
৭। মা ও শিশুর বন্ধন সৃদৃঢ় হয়, যা শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৫৬.
অনুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লাজমা
  2. অস্থিমজ্জা
  3. যকৃত
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়
- এদের গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৫৭.
টমেটো ও সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন উপাদানটি বেশি প্রয়োজন?
  1. কপার
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. বোরন
  4. মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 

ম্যাঙ্গানিজ: 
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 

কপার: 
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন। 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরেও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
- বোরন ও ম্যাঙ্গানিজও গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তাদের চাহিদা কপারের তুলনায় কম।
- মোলিবডেনাম এদের জন্য প্রয়োজনীয় নয়।

বোরন: 
- উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। 
- চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 

মোলিবডেনাম: 
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক। 

ক্লোরিন: 
- সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৫৮.
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তার নাম হলো-
  1. ক) Physiology
  2. খ) Morphology
  3. গ) Histology
  4. ঘ) Cytology
ব্যাখ্যা
১.অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়।

২. শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। I

৩. হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনাকরা হয়।

৪. কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৮৫৯.
কোনটি স্থায়ী টিস্যুর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. ভাজক টিস্যু
  3. প্যারেনকাইমা টিস্যু
  4. স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা
টিস্যু: 
- একই উৎস থেকে উৎপন্ন নিরবিচ্ছিন্নভাবে একই কাজ সম্পন্নকারী একগুচ্ছ কোষকে টিস্যু বলে। 

উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- ক) ভাজক টিস্যু ও খ) স্থায়ী টিস্যু। 

স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৮৬০.
মানব দেহে RBC-এর তুলনায় White Blood Cell-এর সংখ্যা কেমন থাকে?
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই, এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে White Blood Cell-এর সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। -
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৬১.
মানবদেহে শতকরা কত ভাগ রক্তরস রয়েছে? 
  1. ৩৮ ভাগ 
  2. ৪৫ ভাগ 
  3. ৫৫ ভাগ 
  4. ৬৫ ভাগ 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। 
- এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৬২.
আদিকোষে পাওয়া যায়-
  1. রাইবোজোম
  2. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. প্লাস্টিড
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
• আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell) :
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না।
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না।
- তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৬৩.
নিচের কোনটি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী?
  1. ক) আরশোলা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা

আর্থ্রোপোডা  (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। এদের পা দেখলেই বোঝা যায় যে, কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

বৈশিষ্ট্যঃ
১। সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খ-ে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে।
২। দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খ-ায়িত দেহ।
৩। উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপি-, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত।
৪। দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়।
৫। কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়।
৬। স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান।
৭। পৌষ্টিকতন্ত্র সর্ম্পূণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত।

উদাহরণঃ
Periplaneta americana (আরশোলা),
Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি),
Carcinus maenas
(কাঁকড়া)।

৩,৮৬৪.
মস্তিস্কের কোন অংশটি হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. থ্যালামাস
  2. হাইপোথ্যালামাস
  3. পনস
  4. মেডুলা অবলংগাটা
ব্যাখ্যা
• মেডুলা অবলংগাটা হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রন করে। 

• মেডুলা অবলংগাটা (Medulla oblongata) বা মেডুলা (Medulla):
- মানুষের মস্তিস্কের পশ্চাৎ অংশের ৩ টি প্রধান অংশ হলো সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস। 
- মেডুলা অবলংগাটা (Medulla Oblongata) হলো মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে পেছনের দিকের অংশ।  এর সামনের অংশ পনস এবং পেছনের অংশ সুষুম্নাকাণ্ডের সম্মুখ প্রান্তের সাথে সংযুক্ত। 
- এটি পনস-এর নিচের কিনারা ঘেঁষে প্রসারিত, অনেকটা পিরামিড আকৃতির দন্ডাকার অংশ যা লম্বায় প্রায় ৩ সেমি. চওড়ায় ২ সেমি. এবং স্থূলত্বে ১.২ সেমি.।

• কাজ:
(ⅰ) হৃৎস্পন্দন, শ্বসন গলাধঃকরণ, কাশি, রক্তবাহিকার সঙ্কোচন, লালাক্ষরণ প্রভৃতির স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
(ii) বমন, মল-মূত্রত্যাগ রক্তচাপ, পৌষ্টিকনালির পেরিস্ট্যালসিস প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
(iii) সুষুমাকান্ড ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করে।
(iv) মেডুলা অবলংগাটা IX, X, XI ও XII নং করোটিক স্নায়ুর উৎসস্থল হিসেবে কাজ ও সংশ্লিষ্ট স্নায়ুর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

• মধ্যমস্তিষ্ক, পনস ও মেডুলা অবলংগাটাকে একত্রে ব্রেইন স্টেম (brain stem) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩,৮৬৫.
প্রথম আবিষ্কৃত ভাইরাস কোনটি?
  1. পোলিও ভাইরাস
  2. টোবাকো মোজাইক ভাইরাস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  4.  হার্পিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (Tobacco Mosaic Virus বা TMV)

ব্যাখ্যা:
- প্রথম আবিষ্কৃত ভাইরাস হলো টোবাকো মোজাইক ভাইরাস। এটি ১৮৯২ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী দিমিত্রি আইভানোভস্কি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন।

- ১৮৯০-এর দশকে তামাক গাছে একটা অদ্ভুত রোগ দেখা দিচ্ছিল।
- পাতায় হালকা-গাঢ় সবুজ দাগ পড়ে যেত, যেন মোজাইক প্যাটার্ন - তাই নাম টোবাকো মোজাইক ডিজিজ।

- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে ডাচ বিজ্ঞানী মার্টিনাস বেইজেরিংক এই জীবাণুকে "ভাইরাস" নাম দেন।

অন্য অপশনগুলো- 
ক) পোলিও ভাইরাস ⇒ ১৯০৮ সালে আবিষ্কৃত (Karl Landsteiner ও Erwin Popper)
গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ⇒ ১৯৩৩ সালে আবিষ্কৃত (Wilson Smith, Christopher Andrewes, Patrick Laidlaw)
ঘ) হার্পিস ভাইরাস ⇒ ১৯১৯-১৯২০ এর দশকে বিস্তারিত গবেষণা শুরু হয়।  


উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৩,৮৬৬.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে? 
  1. ১০%
  2. ২৫%
  3. ৫০%
  4. ৭৫%
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৬৭.
কোন প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পাতার উপরে কিউটিনের আবরণ ভেদ করে পানি বের হয়?
  1. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  2. মূলশিকড় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
  4. কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা-
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৬৮.
জীবদেহে কয় ধরণের বিভাজন দেখা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা- 
ক) অ্যামাইটোসিস বা প্ৰত্যক্ষ কোষ বিভাজন,
(খ) মাইটোসিস বা সমীকরণিক কোষ বিভাজন 
(গ) মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন ।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসটি সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয়। 

মাইটোসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয় ।

মায়োসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র একবার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত
হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
৩,৮৬৯.
ক্রোমোজোমে কোনটি থাকে না?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত একপ্রকার ক্রোমাটিন ফাইবার বা তন্তু। ক্রোমোজম নিউক্লিক এসিড তথা ডিএনএ ও আরএনএ, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ লিপিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন দ্বারা গঠিত।
উৎসঃ বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণী
৩,৮৭০.
বড়দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) আলু
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) শিম
  4. ঘ) লেটুস 
ব্যাখ্যা
: দিনের দৈর্ঘ্য বড় হলে এ জাতীয় ফুল ফোটে। যেমন- ঝিঙ্গা, লেটুস, আফিম, যব প্রভৃতি । এদের ছোট রাত্রির উদ্ভিদও বলা হয়।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩,৮৭১.
নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৮৭২.
কোন প্রক্রিয়ার জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না?
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) অভিস্রবণ
  4. ঘ) সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন। 
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৮৭৩.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. জন রে
  3. অ্যারিস্টটল
  4. থিওফ্রাস্টাস
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্য: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮৭৪.
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?
  1. শামুক
  2. ঝিনুক
  3. কেঁচো
  4. তারামাছ
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস: 
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত। 

একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক। 
- পানি সংবহনতন্ত্র দেখা যায়। 
-  দেহ কন্টকযুক্ত। 
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত। 
উদাহরণ - তারামাছ, সমুদ্র শসা ইত্যাদি। 

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে। 
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি। 

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- অধিকাংশ প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। 
- সিলেন্টেরন নামক গহবর দেখা যায়। 
- নিডোব্লাস্ট নামে বিশেষ কোষ দেখা যায়। 
উদাহরণ - হাইড্রা, ওবেলিয়া ইত্যাদি। 

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত। 
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)। 
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৮৭৫.
HIV এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Human Immune Deficiency Virus
  2. Human Immunologically Deficient Virus
  3. Human Immunodeficiency Virus
  4. Human Immune Deficient Virus
ব্যাখ্যা

 HIV:
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 

এইডস রোগ:
- ‘AIDS’ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৮৭৬.
একটি মৌচাকে সাধারণত কয়টি রাণী মৌমাছি থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. একাধিক
ব্যাখ্যা
মৌমাছি: 
- মৌমাছি Arthropoda পর্বের Hymenoptera বর্গের Apis গণভুক্ত প্রাণী। 
- এদের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপী, তবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশে তিন প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়। 
যথা- Apis indica, Apis dorsata ও Apis florea. 
- মৌমাছি শুধু সামাজিক প্রাণী নয় বরং এরা চরমভাবে অ্যালুটুইস্টিক। 
- চাকের প্রতিটি সদস্য নিজের স্বার্থ না দেখে অন্য সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যায়। প্রতিটি সদস্য সমাজের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এরা নিজের স্বার্থে কোন কাজ করে না। মৌমাছিরা সামাজিক রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলে। 
- এদের ৫০,০০০ থেকে ১০০,০০০ সদস্য একত্রে কলোনি গঠন করে বাস করে, এদের বাসাকে মৌচাক বলে। 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। এরা হল- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। মৌমাছিদের শ্রমবণ্টন লক্ষ্য করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়, এদের উদর বেশ প্রশস্ত থাকে। 
- রাণী মৌমাছি অধিকাংশ সময় মৌচাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কেবল সঙ্গম উড্ডয়নের সময় মৌচাক থেকে বের হয়ে আসে। 
- এরা জীবনে একবার কয়েকশত পুরুষের সাথে সঙ্গমে অংশগ্রহণ করে অসংখ্য শুক্রাণু গ্রহণ করে যা সারা জীবন ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। 
- রাণী মৌমাছি ৩-৫ বছর বাঁচে। 

পুরুষ মৌমাছি: 
- পুরুষ বা ড্রোন কলোনির প্রজননক্ষম পুরুষ মৌমাছি, কলোনিতে ৩০০-৩০০০ পর্যন্ত ড্রোন থাকে। 
- এরা রাণী অপেক্ষা আকারে কিছুটা ছোট, প্রশস্ত দেহ, বৃহৎ চক্ষু, ক্ষুদ্রাকার তীক্ষ্ম চোয়ালবিশিষ্ট হয়ে থাকে। 
- এরা মৌচাকের অলস প্রকৃতির ও কোলাহল সৃষ্টিকারী সদস্য। 
- এরা প্রতিরক্ষা বা খাদ্য সংগ্রহের কাজে অংশগ্রহণ করে না। 
- এরা এমন অলস প্রকৃতির যে নিজের খাদ্য নিজে গ্রহণ করে না, কোন কারণে কর্মী মৌমাছি না খাওয়ালে এরা মারা যায়। 

কর্মী মৌমাছি: 
- কর্মী মৌমাছি কলোনির মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকারের মৌমাছি। 
- এরা বন্ধ্যা স্ত্রী জাতীয় মৌমাছি, এরা কালো বা বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। 
- একটি মৌচাকে কর্মী মৌমাছির সংখ্যা ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- নিষিক্ত ডিম থেকে উৎপন্ন হলেও এরা জননে অক্ষম। 
- যে সব লার্ভাকে শ্রমিক মৌমাছিরা মৌরুটি সরবরাহ করে তারা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় কর্মী মৌমাছিতে পরিণত হয়। শ্রমিক মৌমাছির হাইপোফ্যারিঞ্জিয়াল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পদার্থ, মধু ও নেকটারের সঙ্গে মিশে যে মিশ্র খাদ্য সৃষ্টি হয় তাকে মৌরুটি বা বি ব্রেড বলে। 
- বৃদ্ধির সপ্তম দিন থেকে এরা মৌচাকের বাইরে আসতে সক্ষম হয়। 
- এরা প্রায় ৬ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৭৭.
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে কোনটি?
  1. এপিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
• পেরিকার্ডিয়াম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে এবং সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের আবরণ:
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল পেরিকার্ডিয়াম এবং ভেতরের স্তরটিকে ভিসেরাল পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়।
- এই দুই স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর থাকে, যা তরল পদার্থে পূর্ণ এবং এটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর:
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যথা-

১. এপিকার্ডিয়াম:
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

২. মায়োকার্ডিয়াম:
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর।
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম:
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৭৮.
কোন গ্রন্থি নিঃসৃত খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) শ্বসনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) পরিপাকতন্ত্র
  4. ঘ) রেচনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।

- মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
- খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়।
- পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৮৭৯.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের -
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
ব্যাখ্যা

মাইটোসিস: উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমােজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে প্রাণী এবং উদ্ভিদ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের বিভাজনের দ্বারা উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুর কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য:
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষের এক ধরনের বিভাজন পদ্ধতি।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার মাত্র বিভাজিত হয়।
- মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
- এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমােজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
- এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমােজোম লম্বালম্বিভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমােজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল বা সমীকরণিক বিভাজনও বলা হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।

৩,৮৮০.
নিম্নলিখিত কোনটি খাদ্যের প্রধান উপাদান নয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. শর্করা 
  3. খনিজ লবণ 
  4. প্রোটিন 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৮১.
মানব রক্তের হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?
  1. রোগ প্রতিরোধ করা
  2. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
  3. এলার্জি প্রতিরোধ করা
  4. অক্সিজেন পরিবহণ করা
ব্যাখ্যা
• অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen):
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭- ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত।
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে।
- ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

অন্যদিকে,
- শ্বেত রক্তকনিকা রোগ প্রতিরোধে সহয়তা করে এবং এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৮২.
শীতকালে সিভনল কোষের রন্ধ্রে কোন পদার্থ জমা হয়?
  1. ক্যালোজ
  2. সেলুলোজ
  3. স্টার্চ
  4. লিগনিন
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন (Phloem translocation): 
- উদ্ভিদের মূল এবং পাতা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করায় খাদ্য চলাচলে একটি দ্রুত ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা থাকা আবশ্যক, এ কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে। 
- ফ্লোয়েম পরিবহন কলাগুচ্ছের অন্যতম গুচ্ছ। 
- পরিবহন কলাগুচ্ছে জাইলেমগুচ্ছ এবং ফ্লোয়েমগুচ্ছ থাকে। 
- ফ্লোয়েমগুচ্ছে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্টফাইবার থাকে। 
- সিভনল এক ধরনের কেন্দ্রিকাবিহীন ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত সজীব কোষ। 
- লম্বালম্বিভাবে এরা একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জালের মতো গঠন সৃষ্টি করে। 
- দুটো কোষের মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালুনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। 
- শীতকালে এ রন্দ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়, তাই খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। 
- গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায়, তাই খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৮৩.
কোনটির মাধ্যমে ধানের ফুলে পরাগায়ন সংগঠিত হয়?
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পতঙ্গের সাহায্যে
  3. গ) ফুলে ফুলে সংস্পর্শের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় পরাগধানী হতে পরাগরেণু কোনো মাধ্যম বা বাহক দ্বারা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পর-পরাগায়ন বলে। আর যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। উদাহরণ- বাতাস, পোকামাকড়, পাখি ইত্যাদি।
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৮৪.
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কত সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৮
  2. ২০০৬
  3. ২০১৪
  4. ২০১৮
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করে।

⇒ ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- বাংলাদেশে যদিও ২০০৭ সাল থেকে কোন পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি, কিন্তু ভারতে সেটির অস্তিত্ব থাকার কারণে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এককভাবে কোনও দেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা না করে সেটি অঞ্চলভিত্তিক করে থাকে, কেননা সীমানা পার হয়েও ভাইরাসের যাতায়াত হতে পারে।
- বাংলাদেশে ১৯৭০ এবং ৮০’র দশকে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেক। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিও চালু হয়। নব্বইয়ের দশকে পোলিও নির্মূলে সফলতা আসতে থাকে।

উল্লেখ্য,
⇒ পোলিও রোগের কারণ পোলিওমাইলাইটিস একটি আরএনএ ভাইরাসজনিত রোগ।
- পোলিও ভাইরাস রোগীর মলমূত্র দিয়ে বের হয়। যদিও আক্রান্ত রোগীর মলমূত্রে প্রথম সপ্তাহেই অধিক পরিমাণে বের হয়। ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত তা বের হতে থাকে, অর্থাৎ ওই সময়কাল পর্যন্ত একজন পোলিও রোগী রোগ ছড়াতে পারে। পরে এই জীবাণু মলমূত্র দ্বারা কোনো খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে মিশে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত এই সংক্রমণ শিশু-কিশোরদের মাঝে বেশি দেখা যায়। 
- পোলিও, বা পোলিওমাইলাইটিস, মেরুদন্ড এবং মস্তিষ্কের স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। এটি গুরুতর ক্ষেত্রে পক্ষাঘাত এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। টিকাই এই রোগের একমাত্র প্রতিরোধ, কারণ এর কোনো পরিচিত প্রতিকার নেই।

উৎস: i) WHO ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
iii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৮৮৫.
জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে বলে -
  1. জিনোটাইপ
  2. ফিনোটাইপ
  3. হোমোজাইগাস
  4. হেটারোজাইগাস
ব্যাখ্যা

- জিনোটাইপ (Genotype): জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। মনেকরি, মটরশুঁটি গাছের লম্বা কান্ডের জন্য T জিন এবং বামন কান্ডের জন্য T জিন দায়ী। অতএব TT, tt, Tt যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা, বিশুদ্ধ বামন ও সঙ্কর (hrbrid) লম্বা মটরশুঁটি গাছের জিনোটাইপ।
- ফিনোটাইপ (Phenotype) - জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ।
- হোমোজাইগাস (Homozygous) ও হেটারোজাইগাস (Heterozygous)- জীবে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন জোড়া একই রকমের (উভয় জিনই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) হলে তাকে হোমোজাইগাস জীব বলে। জিন জোড়া ভিন্ন রকমের হলে সে জীবকে হেটারোজাইগাস জীব বলে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৩,৮৮৬.
'জেনেটিকস' শব্দটি কে প্রথম প্রয়োগ করেন?
  1. উইলিয়াম বেটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. জে পি মরগান
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন।
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে ভ্রিস, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চের্মেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৮৮৭.
পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান -
  1. ক) অগ্র মস্তিষ্কে
  2. খ) পশ্চাৎ মস্তিষ্কে
  3. গ) মধ্য মস্তিষ্কে
  4. ঘ) ডান মস্তিষ্কে
ব্যাখ্যা

অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি অবস্থিত, একে পিটুইটারী গ্রন্থি বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মটর দানার মত।
- এটি অগ্রবর্তী অঞ্চল, মধ্যবর্তী অঞ্চল ও পশ্চাদ্বর্তী অঞ্চলে বিভক্ত।
- পিটুইটারী প্রাণিদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনালগ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি নিঃসৃত হরমােনগুলাে দেহের অন্যান্য অনাল গ্রন্থির ক্ষরণ ও কার্যকারীতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারী গ্রন্থিকে গ্রন্থি রাজ (Master Gland) বলা হয়।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণী

৩,৮৮৮.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. আম
  2. ধান
  3. জাম
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: ধান, গম, যব, খেজুর, বরই ইত্যাদি। 

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, ছোলা, মটর, শিম ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,৮৮৯.
ভিটামিন সি-এর একটি প্রধান কাজ কী?
  1. রক্ত জমাট বাঁধা
  2. ইনসুলিন তৈরি করা 
  3. ক্যালসিয়াম সরবরাহ করা
  4. শক্তিশালী জারণরোধী হিসেবে কাজ করা
ব্যাখ্যা

এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি (Vitamin C): 
- ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। 
- এটি তাপ, আলো, বাতাস ও ক্ষারে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। 
- টাটকা শাক-সবজি ও ফল-মূল ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস। 
- টক জাতীয় ফল যেমন- কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙা, আঙুর, আনারস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া, লেটুস পাতা, কাঁচা মরিচও ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 

 এসকরবিক এসিডের কাজ: 
- ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী জারণরোধী ভিটামিন। 
- ভিটামিন সি নিজে জারিত হয়ে অন্যান্য উপাদানের জারণ প্রতিরোধ করে। (সাধারণভাবে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হওয়াকে জারণ বলে)। 
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
- ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। 
- দেহের পেশি, কলা ও অস্থির সংযোজক কলা তৈরিতে সহায়তা করে। 
- ভিটামিন সি অন্ত্রে লৌহের শোষণ এবং হিমোগ্লোবিনে লৌহ যুক্তকরণে সাহায্য করে। 
- ত্বক, দাঁত, মাড়ি প্রভৃতির দৃঢ়তা রক্ষা করে। 
- রক্তবাহী নালীর প্রাচীর মজবুত করতে সহায়তা করে। 

এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
- ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
- ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
- অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
- লৌহের পরিশোষণ ব্যহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
- রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
- ক্ষুধামন্দা, অলসতা, খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮৯০.
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ______ বলে।
  1. ক) পরাগায়ন
  2. খ) ফল
  3. গ) বীজ
  4. ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ফুল বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

৩,৮৯১.
বংশগতিবিদ্যার জনক কে?
  1. ক) Walther Flemming
  2. খ) Gregor Mendel
  3. গ) Hugo von Mohl
  4. ঘ) Louis Pasteur
ব্যাখ্যা

বংশগতিবিদ্যার জনক হলেন অষ্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর মেন্ডেল।

১৮২২ সালের ২০ জুলাই হেইঞ্জেনডোর্ফ নামক একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জোহান মেন্ডেল। জোহান তার জন্মগত নাম। পরবর্তীতে নামের সাথে গ্রেগর যুক্ত হয়।
১৮৪৩-৪৬ পর্যন্ত তিন বছর মেন্ডেল সেন্ট থমাসে জীববিজ্ঞান বিষয়ক পড়ালেখা করেন। পরের বছর তিনি ধর্মযাজক হন।
১৮৫৬ থেকে ১৮৬৩ সাল পর্যন্ত মেন্ডেল প্রায় ২৯ হাজার মটরশুঁটির ওপর পরীক্ষা চালান। অশেষ শ্রম ও সাধনার বলে তিনি বংশগতির দুটি সূত্র (পৃথকীকরণ সূত্র ও স্বাধীনভাবে সঞ্চারণ সূত্র) আবিষ্কার করেন, যা পরবর্তী সময়ে মেন্ডেলের বংশগতির সূত্র নামে পরিচিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট

৩,৮৯২.
TIV হলো একটি-
  1. RNA ভাইরাস
  2. DNA ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• TIV হলো একটি DNA ভাইরাস।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৮৯৩.
ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন অংশে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে?
  1. জেজুনামে
  2. মলাশয়ে
  3. ইলিয়ামে
  4. ডিওডেনামে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। 
যথা - 
১। ডিওডেনাম, 
২। জেজুনাম ও 
৩। ইলিয়াম। 

- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 
- অম্লধর্মী পাকমণ্ড পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে প্রবেশ করলে যকৃত থেকে নিঃসৃত ও পিত্তথলিতে সঞ্চিত পিত্তরস নালিপথে ডিওডেনামে প্রবেশ করে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে। 
- অন্যদিকে অগ্ন্যাশয় থেকে রস নিঃসৃত হয়ে পাকমণ্ডের অম্লত্বের প্রশমন ঘটায়। 
- অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমসমূহ এ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে পরিপাকে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৮৯৪.
কোন ধরনের ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে?
  1. ক) TMV
  2. খ) Flavivirus
  3. গ) T
  4. ঘ) STAR CRACK VIRUS
ব্যাখ্যা
TMV অথবা, টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে। 

- TMV মূলত একটি দণ্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- ইহার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RANA এবং প্রোটিন দিয়ে এই ভাইরাসটি গঠিত হয়।
- এতে প্রায় ২২০০ ক্যাপসোমিয়ার থাকে এবং প্রতিটি ক্যাপসোমিয়ারে ১৫৮টি অ্যামাইনো এসিড থাকে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮৯৫.
শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Oryza sativa
  4. Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা

• শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Nymphaea nouchali। এটি Nymphaeaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
-  যেমন: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।
- এখানে Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম।
- এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।
- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।
- এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
- কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮৯৬.
হেনরির লুপের অবস্থান কোথায়?
  1. ইফারেন্ট ধমনিকাতে
  2. রেনাল করপাসোলে
  3. এফারেন্ট ধমনিকাতে
  4. বৃক্কীয় নালিকায়
ব্যাখ্যা

• হেনরির লুপ বৃক্কের নেফ্রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত নেফ্রনের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত এবং প্রসেস করা প্রাথমিক ইউরিনের জলীয় ও খনিজ উপাদান শোষণ ও রিইনটেকশন করে। হেনরির লুপের দুটি অংশ আছে – নিম্নাংশ (ডিসেন্টিং লিম্ব) যা পানি শোষণে সক্রিয় এবং উর্ধ্বাংশ (অ্যাসেন্ডিং লিম্ব) যা সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরাসরি রেনাল করপাসকেল বা ধমনিকাতে নেই; বরং এটি নেফ্রনের মধ্যবর্তী নালিকায় অবস্থান করে। ফলে, হেনরির লুপ মূলত বৃক্কীয় নালিকায় (nephron tubule) অবস্থান করে।

- উত্তর: ঘ) বৃক্কীয় নালিকা।

• হেনরির লুপের অবস্থান (Loop of Henle):
- হেনরির লুপ হলো একটি U-আকৃতির নালিকা যা বৃক্কের নেফ্রনের অংশ।
- এটি মূলত ইউরিনকে ঘন করার জন্য এবং জল ও ইলেক্ট্রোলাইটের শোষণ ও পুনঃশোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- হেনরির লুপ রেনাল করপাসোল থেকে শুরু হয়ে বৃক্কীয় নালিকায় অবতীর্ণ হয় এবং পরে কালেক্টিং ডাক্টে যুক্ত হয়।
- এটি সলিউট এবং জল পুনঃশোষণের মাধ্যমে ইউরিনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
- সরাসরি ইফারেন্ট বা এফারেন্ট ধমনিকায় এটি অবস্থান করে না; এটি নেফ্রনের মধ্যবর্তী অংশ।

সুতরাং, হেনরির লুপের সঠিক অবস্থান হলো: ঘ) বৃক্কীয় নালিকা।  

• অপশন আলোচনা:
ক) ইফারেন্ট ধমনিকাতে: হেনরির লুপ ইফারেন্ট আর্টেরিয়োলের ভিতরে অবস্থান করে না।
খ) রেনাল করপাসোলে: রেনাল করপাসোল মূলত ফিল্ট্রেশন হয়, হেনরির লুপ এখানে নেই।
গ) এফারেন্ট ধমনিকাতে: এফারেন্ট আর্টেরিয়োল রেনাল কেপসুলে ফিল্ট্রেশন নিয়ে আসে, হেনরির লুপ এখানে নেই।
ঘ) বৃক্কীয় নালিকায়: হেনরির লুপ মূলত ব্রুক্কীয় নালিকায় (renal tubule) অবস্থান করে, যেখানে ইউরিনের পানির শোষণ ও লবণের পুনঃশোষণ হয়।
 
সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৩,৮৯৭.
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. ক) অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
  3. গ) অধিক পরিমাণে বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
  4. ঘ) অধিক পরিমাণে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
৩,৮৯৮.
উদ্ভিদের কোন অংশে শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি?
  1. ফুল ও পাতার কুঁড়িতে
  2. অঙ্কুরিত বীজে
  3. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- জীবের জীবন ধারণ অর্থাৎ চলন, ক্ষয়পুরণ, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি জৈবিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, এ শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তিরূপে (Potential energy) সঞ্চয় করে রাখে। 
- খাদ্যের মধ্যে সঞ্চিত এই ধরনের শক্তি জীব তার জীবন ধারণের জন্য সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- শ্বসনের সময় জীবদেহে এই স্থিতি শক্তি রাসায়নিক শক্তি (ATP) হিসেবে তাপরূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। 
- শর্করাজাতীয় খাদ্যবস্তু ছাড়াও প্রোটিন, ফ্যাট এবং বিভিন্ন জৈব এসিড শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। 
- জীবদেহে এই জটিল যৌগগুলো প্রথমে ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং পরে জারিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় জীবদেহের প্রতিটি কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন চলতে থাকে। 
- তবে উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (ফুল ও পাতার কুঁড়ি, অঙ্কুরিত বীজ, মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ) শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি। 
- সজীব কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
- এ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহ যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত করে সরল দ্রব্যে পরিণত করে এবং শক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৮৯৯.
নিচের প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে কম কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে??
  1. কুকুর
  2. ইদুর
  3. বাদুর
  4. বিড়াল
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা: 20 Hz ~ 20,000 Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা: 4 Hz ~ 45,000 Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা: 45Hz ~ 64,000Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা: 1,000 Hz 91,000 Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা: 2,000 Hz 110,000 Hz
 
সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০০.
একটি আদর্শ নিউরনের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) সিন্যাপস
  4. ঘ) অ্যাক্সন
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ নিউরনের তিনটি অংশ থাকেঃ
কোষদেহ,
ডেনড্রাইট এবং
অ্যাক্সন।
নিউরন কোষ বহুভুজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।