বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৪২ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৪,২০৮

৩,৭০১.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন প্রক্রিয়া কোন টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে?
  1. ফ্লোয়েম
  2. কোলেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ:
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে, এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে।
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন।

- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়।
- এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে।
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এই কোষীয় উপাদানগুলোর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০২.
এইডস রোগের মূল কারণ কী?
  1. টিবি ব্যাকটেরিয়া
  2. ম্যালেরিয়া
  3. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রমক রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্তব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্তব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রমক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৩.
Which of the following is not a characteristic of a virus?
  1. ক) Viruses contain DNA or RNA as nucleic acid
  2. খ) Viruses are capable of causing mutation
  3. গ) Viruses are unicellular
  4. ঘ) Genetic recombination occurs in viruses
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য নয় - ভাইরাস এককোষী।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে ।
- ভাইরাস অকোষীয়।এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর,রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়,পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,প্রথম পত্র,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৪.
ভিটামিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অজৈব যৌগ
  2. জৈব রাসায়নিক পদার্থ
  3. অজৈব কঠিন পদার্থ
  4. অজৈব পদার্থ
  5. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
- দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু'প্রকার যথা:

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,
- যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি।
- এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। 

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো-ভিটমিন এ, ডি, ই এবং কে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে,
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৫.
মধুতে কোন ভিটামিন বিদ্যমান?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
১. মধু মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাশয়, কানপাকা, জিহবার ঘা, জন্ডিস, অর্শরোগ, সর্দি, কাশি, শ্বাসরোগসহ বিভিন্ন রোগের উপশম ছাড়াও জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।
২. মধু বলবৃদ্ধিকারক, পুষ্টিকর ও মিষ্টিদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৩. মধুতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন-সি রয়েছে।
৪. মধুতে বিদ্যমান ডেক্সট্রোজ শরীরের দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৫. মধু দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে ।
৬. দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় K, Ca, Mg, S, Fe, Cu, P ইত্যাদি উপাদানের উৎস হিসেবে কাজ করে।

কৃষিবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭০৬.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত মূল নয়?
  1. ক) মুলা
  2. খ) শালগম
  3. গ) গাজর
  4. ঘ) আদা
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৩,৭০৭.
মানবদেহের কোন কোষটি পরিপক্ব অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে?
  1. নিউট্রোফিল
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. হেপাটোসাইট
  4. নিউরন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell - RBC) নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি মানবদেহে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
• নিউট্রোফিল: নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট শ্বেত রক্তকণিকা।
• হেপাটোসাইট: লিভারের কোষ, নিউক্লিয়াস সম্পন্ন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, নিউক্লিয়াস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭০৮.
বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়
  2. খ) এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়
  3. গ) এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
যে সব উদ্ভিদ আকারে ছোট এবং যাদের কাণ্ড নরম হয় তাদেরকে বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – ধান, সরিষা, মরিচ, লাউ, কুমড়া, পুঁই শাক ঘাস, কচু ইত্যাদি।
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সমূহ:
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়।
এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়।
এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না।
উদাহরণ: মরিচ গাছ, লাউ গাছ, ধান, সরিষা ইত্যাদি

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩,৭০৯.
সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গরম হয় না-
  1. ক) বায়ুমণ্ডল
  2. খ) গাছের ফল
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) গাছের পাতা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- বায়বীয় অংশ থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়।
- প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
- শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- কলার চারা লাগানোর সময় প্রস্বেদন রোধ করার জন্য পাতা কেটে ফেলা হয়।

৩,৭১০.
শ্বেত কণিকার গড় আয়ুস্কাল কতদিন?
  1. ১ থেকে ১৫ দিন
  2. ১০ থেকে ২০ দিন
  3. ২০ থেকে ৩৫ দিন
  4. ২৫ থেকে ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

⇒ লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

⇒ শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

⇒ অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১১.
কোষ বিভাজন সর্বপ্রথম কে প্রত্যক্ষ করেন এবং কত সালে?
  1. কার্লএরেকি, ১৯১৮ সালে
  2. মেন্ডেল, ১৯১৯ সালে
  3. ওয়াল্টার ফ্লেমিং, ১৮৮২ সালে
  4. ওয়াটসন ও ক্রিক, ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন:
- বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি কোষের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এককোষী জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ইষ্ট, Navicula শৈবাল প্রভৃতি বার বার বিভাজনের মাধ্যমে একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীবে পরিণত হয়।
- বিশালদেহী একটি বটগাছের সূচনাও কিন্তু একটি মাত্র কোষ জাইগোট হতে। 

- রুডলফ ভিরশাও (Rudolf Virchow, 1858) যথার্থই বলেছেন, গাছ থেকে যেমন গাছের সৃষ্টি হয়, প্রাণী থেকে সৃষ্টি হয় প্রাণীর তেমন কোষ থেকে কেবল কোষেরই সৃষ্টি হতে পারে।
- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বক হতে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়।
- কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

- যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষ বিভাজিত হয়ে একাধিক কোষের সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়।
- যে কোষটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোষ এবং বিভাজনের ফলে যে নতুন কোষ উৎপন্ন হয়, তাকে অপত্য কোষ বলা হয়।
- Walter Flemming (১৮৮২) খ্রিস্টাব্দে সামুদ্রিক সালামান্ডার কোষে প্রথম কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষ করেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১২.
কোন ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়? 
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১৩.
নিচের কোনটি হাইড্রোফিলিক পদার্থ?
  1. সেলুলোজ
  2. মোম
  3. রেজিন 
  4. তেল
ব্যাখ্যা

ইমবাইবিশন (Imbibition): 
- এক খণ্ড শুকনা কাঠের এক প্রান্ত পানিতে ডুবালে ঐ কাঠের খণ্ডটি কিছু পানি টেনে নেবে। কলয়েড জাতীয় শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থ তরল পদার্থ শুষে নেয়, এজন্যই কাঠের খণ্ডটি পানি টেনে নিয়েছে, এ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে। 
- সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন- এগুলো হাইড্রোফিলিক (পানিপ্রিয়) পদার্থ। 
- এরা তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে তা শুষে নেয়, আবার তরল পদার্থের অভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। 
- কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজম কলয়েডধর্মী হওয়ায় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়ে ওঠে। 
- ইমবাইবিশন পানি শোষণের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া। 

অন্যদিকে, 
- রেজিন সাধারণত হাইড্রোফোবিক (জলবিরোধী) বা পানিতে অদ্রবণীয় হয়।
- মোম একটি লিপিড এবং এটি হাইড্রোফোবিক, অর্থাৎ এটি পানির সাথে মেশে না।
- তেলও একটি হাইড্রোফোবিক পদার্থ। তেল এবং পানি একসাথে মেশে না, তেল পানির উপর ভাসে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭১৪.
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে।

• ভিটামিন ই:
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

• ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
- ভিটামিন বি১ এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৫.
বৃক্ক যে পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে তার নাম কী?
  1. ক) রেনাল ক্যাপসুল
  2. খ) প্লুরা
  3. গ) পেরিকার্ডিয়াম
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম নামক ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।

মেরুদণ্ডী প্রাণী তথা মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি। মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে। প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমের বিচির মতাে এবং এর রং লালচে হয়। বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস (Hilus) বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটর বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে। 
 
বৃক্কের কাজসমূহ- 
১. বিপাকজাত দূষিত পদার্থগুলোকে মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়া। 
২. দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা। 
৩. রক্তের উপাদানের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখতে সহায়তা করা। 
৪. ভিটামিন ‘ডি’-কে কার্যকর রূপে পরিণত করা। 
৫. রেনিন তৈরি করা।
৬. ইরাইথ্রোপয়েটিন তৈরি করা, যা লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। 
৭. রক্তের বিক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়তা করা। 

সূত্র- ১৪৪ পৃষ্ঠা,  জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৬.
'অস্টিয়া' থাকে কোন পর্বের প্রাণিদের?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) পরিফেরা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) অ্যানিলিডা
ব্যাখ্যা
পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত।
- এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভন্ত্যরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭১৭.
মানবদেহে রক্ত সংবহনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের
  2. খ) মানুষের ক্ষেত্রে বৃক্কীয় পোর্টাল সংবহন অনুপস্থিত
  3. গ) পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় শিরা থেকে
  4. ঘ) মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। অর্থাৎ রক্ত হৃদপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক নালির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সম্পন্ন করে।
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্রে দ্বি-চক্রীয় সংবহন অর্থাৎ সিস্টেমিক ও পালমোনারি চক্র দেখা যায়। মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়, যথা- সিস্টেমিক, পালমোনারি, পোর্টাল এবং করোনারি।
- যে সংবহনে রক্ত হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বাম অলিন্দে ফিরে আসে, তাকে পালমোনারি বা ফুসফুসীয় সংবহন বলে। পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় ধমনি থেকে আর শেষ হয় পালমোনারি শিরার মাধ্যমে বাম অলিন্দে ফেরত আসার মাধ্যমে।
- মেরুদণ্ডী প্রাণীতে সাধারণত যকৃত এবং বৃক্কীয়- এ দুধরনের পোর্টাল সংবহন দেখা যায়। তবে রেনাল পোর্টাল সংবহন মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীতে অনুপস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭১৮.
কোন জাতীয় খাদ্য দেহে শুধু নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৯.
ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করেন কে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. রবার্ট হুক
  3. লিউয়েন হুক
  4. লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২০.
চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা কোনটির অভাবে?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) স্নেহ পদার্থ
  4. ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা দেয়৷ ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়৷ দীর্ঘদীন স্নেহ পদার্থের অভাব হলে শরীরের সঞ্চিত প্রোটিন ক্ষয় হয় এবং দেহের ওজন কমে যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭২১.
স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের কাজ কী? 
  1. রোগ প্রতিরোধ 
  2. দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
  3. কোষের গঠন 
  4. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও তার উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনো খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(a) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(b) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(c) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(d) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
(e) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(f) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- উপরে উল্লেখ করা খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(g) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭২২.
মানবদেহে কোন রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. অনুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক) লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে বলে রক্ত লাল দেখায়। 
- মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ। 
- পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে রক্তকণিকার পরিমাণ বেশি থাকে। 
- মানুষের দেহে প্রতি ১২০ দিনে লোহিত রক্তকনিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় এবং বেশি দিন বাঁচে। 

খ) শ্বেত রক্তকণিকা: 
- মানুষের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অনেক কম। 
- লাল অস্থিমজ্জা ও লসিকাগ্রন্থিতে শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। 
- এদের রং নেই কিন্তু নিউক্লিয়াস আছে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে ৫-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশি দিন বাঁচে এবং সংখ্যায় বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্তকণিকা রক্তে প্রবেশকারী রোগজীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ) অনুচক্রিকা: 
- অনুচক্রিকা আকারে ছোট, গোলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার অণুচক্রিকা থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অনুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৩.
ইনসুলিনের কাজ কী?
  1. গ্লুকোজ উৎপাদন হ্রাস করা
  2. গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করা
  3. প্যানক্রিয়াসকে রক্ষা করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কিছু খাই এটি গ্লুকোজে পরিনত হয়ে রক্তে আসে। প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নির্গত হয় যা রক্তের গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করে। কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন করতে পারে না বা শরীরের ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারেনা। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক পরিমান ৪ - ৬ mmole/L।

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
৩,৭২৪.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
  1. ক) ভেসেল
  2. খ) সীভ নল
  3. গ) সঙ্গী কোষ
  4. ঘ) বাস্ট তন্তু
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম টিস্যু:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ।
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা- 
(A) সীভ নল, 
(B) সঙ্গী কোষ,
(C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং
(D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু।
- এই ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ হলো- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনো কখনো খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭২৫.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়?
  1. ব্যাপন 
  2. শ্বসন 
  3. বাষ্পীভবন 
  4. প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহের ভেতর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির নির্গমন হয় তাকে প্রস্বেদন বলে।

• প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা-
১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

প্রস্বেদনের গুরুত্বসমূহ: 
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। 
- প্রস্বেদন কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, ফলে উদ্ভিদ সহজে মূল দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে।
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদদেহ ঠান্ডা থাকে এবং পাতায় আর্দ্রতা বজায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭২৬.
বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে-
  1. ক) ক্রোমোজোমে
  2. খ) লাইসোজোমে
  3. গ) রাইবোজোমে
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমে
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের কাজ হলো বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য বহন করা যা ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত জিনের কারণে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৭২৭.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) রক্তরস
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা। এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
৩,৭২৮.
যকৃতের সাথে কোন অঙ্গ সংযুক্ত থাকে? 
  1. ডিওডেনাম 
  2. পিত্তথলি 
  3. লিভারডাক 
  4. ডায়াফ্রাম 
ব্যাখ্যা

যকৃত: 
- মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার একটি অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৭২৯.
নিচের কোনটি রক্তের প্লাজমা প্রোটিন?
  1. ক্রিয়েটিনিন
  2. ইউরিয়া
  3. জ্যানথিন
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা

রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭৩০.
ফুলের কোন কোন অংশ সরাসরি প্রজনন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে?
  1. দল ও বৃতি
  2. দল ও বৃন্ত
  3. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
  4. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

◉ ফুলের প্রজনন অঙ্গ হলো পুংস্তবক (Androecium) এবং স্ত্রীস্তবক (Gynoecium)।

প্রজনন অঙ্গ (ফুল):  
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩১.
Which blood cell is primarily responsible for destroying microbes through the process of phagocytosis?
  1. Red blood cells
  2. Neutrophils
  3. Lymphocytes
  4. Platelets
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 

- এই রক্ত কণিকার Neutrophils ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩২.
আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?
ব্যাখ্যা
- কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু (Epithelium tissue) তিন প্রকার। 
যথা- 
১. স্কোয়ামাস (আইশাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 

২. কিউবয়ডাল (ঘনাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 

৩. কলামনার (স্তম্ভাকৃতি ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ কাজ করে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৩.
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তিনটি 'D' দ্বারা কী বুঝানো হয়? 
  1. Diet, Detox, Drug
  2. Disease, Diet, Discipline
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Doctor, Diet, Diagnosis
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়। 
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 । 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug
(১) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(২) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(৩) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩৪.
উদ্ভিদে সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন হয় কোন অংশের মাধ্যমে?
  1. ক) পত্ররন্ধ্র
  2. খ) কিউটিনের আবরন
  3. গ) লেন্টিসেল
  4. ঘ) মূল
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে।
- শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয় ৷
- অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায় ৷
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া।

এ কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন ও
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃত্তি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stora, বহুবচন stomata) বলে।
- কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৫.
RNA -তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ কোন ক্ষারক অনুপস্থিত থাকে?
  1. অ্যাডিনিন
  2. থায়ামিন
  3. গুয়ানিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। 
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৬.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. অধিক পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গত হয়
  4. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছ হতে রাতের বেলা উদ্ভিদের শ্বসনের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ রাতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
- এ সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাই রাতের বেলা গাছের নিচে অক্সিজেনের ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 
৩,৭৩৭.
মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন কত?
  1. ০.৮০ কেজি
  2. ১.০০ কেজি
  3. ১.৩৬ কেজি
  4. ২.৫০ কেজি
ব্যাখ্যা

- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন লিঙ্গ এবং বয়স ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন সাধারণত শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% হয়। গড়ে একজন পুরুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,৩৩৬ - ১,৩৪৫ গ্রাম এবং একজন নারীর মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১,১৯৮ - ১,২২২ গ্রাম। এই গড় মান বিবেচনা করলে মানুষের মস্তিষ্কের গড় ওজন ১.৩৬ কেজি (১৩৬০ গ্রাম) ধরা হয়। 

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩৮.
কোন ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দেয়?
  1. ক) ভিটামিন-সি
  2. খ) ভিটামিন-ডি
  3. গ) ভিটামিন বি-১
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৯.
প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো?
  1. ক) খাদ্য লবণ
  2. খ) চিনি
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) তেল  
ব্যাখ্যা
খাদ্য সংরক্ষণ :
খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না করা অথবা কাঁচা উভয় প্রকার খাদ্য দ্রব্যকে সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহার করা হয়। 

প্রিজারভেটিভস :
যে সব রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তুতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাদ্যবস্তু রক্ষিত থাকে, এদেরকে ফুড প্রিজারভেটিভস বা প্রিজারভেটিভস বলা হয়।

• প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো - খাদ্য লবণ 

SOURCE: রসায়ন ২য় পত্র ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩,৭৪০.
এক অনু গ্লুকোজ জারণের ফলে কত অনু ATP উৎপন্ন হয়?
  1. ৩২ অনু
  2. ৩৪ অনু
  3. ৩৬ অনু
  4. ৩৮ অনু
ব্যাখ্যা

• গ্লুকোজের জারণ (Glucose Respiration):
- গ্লুকোজ জারণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষ খাদ্য থেকে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
- এটি প্রধানত তিনটি ধাপে ঘটে: গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস সাইকেল, এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন।
- প্রতিটি ধাপে ATP উৎপাদনের পরিমাণ ভিন্ন হয়, এবং সর্বমোট ATP উৎপাদন গ্লুকোজের একটি অণু থেকে নির্ধারিত হয়।

• গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis):
- গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজের প্রথম ধাপ, যা সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
- এখানে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ২ অণু ATP উৎপন্ন হয় (নেট লাভ)।
- পাশাপাশি ২ অণু NADH তৈরি হয়, যা পরবর্তী ধাপে আরও ATP উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

• ক্রেবস সাইকেল (Krebs Cycle):
- ক্রেবস সাইকেল মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
- একটি গ্লুকোজের অণু থেকে ২ অণু পাইরুভেট আসে, যা ক্রেবস সাইকেলে প্রবেশ করে।
- প্রতিটি গ্লুকোজের জন্য এখানে ২ অণু ATP, ৬ অণু NADH এবং ২ অণু FADH2 তৈরি হয়।

• ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (Electron Transport Chain):
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন মাইটোকন্ড্রিয়ার ইনার মেমব্রেনে ঘটে।
- NADH এবং FADH2 থেকে ATP উৎপাদনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩২–৩৪ ATP উৎপন্ন হয়।
- গ্লুকোজের একটি অণু সম্পূর্ণ অক্সিডেশনের পর সর্বমোট প্রায় ৩৮ ATP উৎপন্ন হয়।

সুতরাং, একটি গ্লুকোজ অণু জারণের ফলে উৎপন্ন মোট ATP সংখ্যা হলো ৩৮।  
সঠিক উত্তর: ঘ) ৩৮ অনু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪১.
নিউক্লিওটাইডের পলিমারকে বলা হয় -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) অ্যাডেনিন
  4. ঘ) থাইমিন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক অ্যাসিড (ইংরেজি: Nucleic acid) হল জীবকোষের সবচাইতে বড়, অশাখান্বিত, অধিক আণবিক ভরবিশিষ্ট ও পলিমার জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ যা জীবের বিভিন্ন প্রকারের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটি মূলত অসংখ্য নিউক্লিওটাইডের পলিমার। প্রতিটি নিউক্লিওটাইডের তিনটি অংশ থাকে। এগুলো হলো: ৫-কার্বন বিশিষ্ট শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক।
.........................................................

Nucleic acids are polynucleotides—that is, long chainlike molecules composed of a series of nearly identical building blocks called nucleotides. Each nucleotide consists of a nitrogen-containing aromatic base attached to a pentose (five-carbon) sugar, which is in turn attached to a phosphate group.
Source: Britannica
৩,৭৪২.
কোন শাখায় জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা করা হয়?
  1. Ecology
  2. Entomology
  3. Genetics
  4. Evolution
ব্যাখ্যা
১। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৩। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪৩.
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য প্রধানত কোন হরমোনটি দায়ী? 
  1. টেস্টোস্টেরন 
  2. প্রজেস্টেরন 
  3. ইস্ট্রোজেন
  4. ইনসুলিন 
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল পরিবর্তনের কারণ: 
- সাধারণত ছেলেমেয়েদের ১১-১৯ বছরের সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। 
- এ সময়ে ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়। 
- তবে আবহাওয়া, স্থান, খাদ্য গ্রহণের ধরন ও পরিমাণ ও মানের তারতম্যের কারণে একেকজনের বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা একেক রকম হতে পারে। 
- বয়ঃসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তন ঘটে, তার জন্য দায়ী হরমোন নামক একশ্রেণির রাসায়নিক পদার্থ, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন শরীরের ভিতরে স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- ছেলে ও মেয়েদের শরীরের হরমোনের মাত্রা ভিন্ন, এ কারণে তাদের শরীর ও মনে যে পরিবর্তন হয় সেটিও ভিন্ন। 
- মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত দুটি হরমোন। এ হরমোন দুটোর নাম হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন। 
- এসব হরমোনের প্রভাবে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পরিবর্তন ঘটে। এ হরমোনের কারণে মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক শুরু হয়। 

- বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য যে হরমোন দায়ী, তার নাম হলো টেস্টোস্টেরন। 
- এ হরমোনের প্রভাবে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। 
- ছেলেদের গলায় স্বর ভারী হয়, মুখে দাড়ি ও গোঁফ গজায়, দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪৪.
'মানুষ' কোন স্তরী বিশিষ্ট প্রাণী? 
  1. একস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. ত্রিস্তরী
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৫.
শিম জাতীয় উদ্ভিদে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে?
  1. Rhizobium
  2. Escherichia coli
  3. Bacillus
  4. Nitrobacter
ব্যাখ্যা
• কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
- পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)
৩,৭৪৬.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে-
  1. ক) জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন আনা সম্ভব
  2. খ) জীবের ডিএনএতে গাঠনিক পরিবর্তন আনা সম্ভব
  3. গ) জিন ক্লোনিং করা সম্ভব
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি : অধিকাংশ জীবের জেনেটিক উপাদান হলো DNA। বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, প্রোটিন এবং RNA অণুর সংম্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী তথ্য DNA অণুতেই সন্নিবেশিত থাকে।
মানব কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন জীবের DNA এর পরিবর্তন করে নতুন প্রকৃতির DNA সমন্বয় করার কৌশল ইতিমধ্যে সফলতার সাথে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির দ্বারা জীবের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যে টেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের DNA তে প্রত্যাশিত গাঠনিক পরিবর্তন আনা যায় (রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরির মাধ্যমে) সে টেকনোলজি বা পদ্ধতিকে রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি বলে। একই জিনের (DNA অণু) অসংখ্য কপি তৈরি হওয়াকে জিন ক্লোনিং বলা হয়।
জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৭.
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১৬টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।
- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।
- মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৭৪৮.
প্রাণীদেহে প্রোটিন কোন উপাদান থেকে গঠিত?
  1. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  2. গ্লুকোজ
  3. গ্লিসারল
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

প্রোটিন মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (Amino Acid) দিয়ে গঠিত। প্রাণীদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাধ্যমে হয়, যা কোষের গঠন, এনজাইম, হরমোন এবং অন্যান্য জৈবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিন বা আমিষের গঠন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক অ্যামাইনো অ্যাসিড।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড:
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
১। লাইসিন।
২। লিউসিন।
৩। আইসোলিউসিন।
৪। মিথিওনিন।
৫। ট্রিপটোফ্যান।
৬। ভ্যালিন।
৭। ফিনাইল অ্যালানিন।
৮। থ্রিওনিন।

উৎস - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৯.
শ্বসন প্রক্রিয়ার কোন ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটেনা?
  1. ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র
  2. ক্রেবস চক্র
  3. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
  4. গ্লাইকোলাইসিস
ব্যাখ্যা
- শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- এর প্রথম ধাপ (গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো) মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না
- তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria):
- মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
- ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে থাকে।এদের ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে, এদের অক্সিজোম (oxisomes) বলে।
- অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো (enzymes) সাজানো থাকে।
- মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স (matrix)।
- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
- শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্র (তৃতীয় ধাপ) মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়।
- ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫০.
অ্যামিবায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন সংগঠিত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

অ্যামাইটোসিস হল জীবদেহের এক ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা প্রধানত নিম্ন শ্রেনির জীবে (যেমন- এক কোষী প্রাণি - ব্যাক্টেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি) দেখা যায়। একে ক্যারিওস্টেনোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা হয়। একে অনেক সময় দ্বিবিভাজনও বলা হয়।

মাইটোসিস হল কোষ চক্রের একটি ধাপ যেখানে প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোম দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। মাইটোসিস দ্বারা কোষ বিভাজন জিনগতভাবে সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অভিন্ন কোষের জন্ম দেয় যেখানে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা বজায় থাকে।

• মিয়োসিস বা মায়োসিস ( ইংরেজি-meiosis) এক বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৩,৭৫১.
কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে কী বলে?
  1. পর্ব
  2. পর্বমধ্য
  3. পত্রমূল
  4. পত্রকক্ষ
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৭৫২.
রক্তে অক্সিজেনের পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে-
  1. ক) CO
  2. খ) CO2
  3. গ) CH4
  4. ঘ) CI2
ব্যাখ্যা
- গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন, কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে কার্বোক্সি হিমোগ্লোবিন তৈরী করে, যা ফুসফুস থেকে সমস্ত শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে বাঁধা সৃষ্টি করে
- এ কারণে কার্বন মনোক্সাইড বিষাক্ত।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।  
৩,৭৫৩.
পেনিসিলিন এন্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Bacillus polymyxa
  3. গ) Streptomyces griseus
  4. ঘ) Streptomyces rimosus
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অণুজীবদ্বারা উৎপন্ন এন্টিবায়োটিক -

Penicillium sp - পেনিসিলিন
Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন। 
Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন। 
Streptomyces rimosus - টেট্রাসাইক্লিন।
৩,৭৫৪.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. এরিস্টটল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. আল কেমি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ জগৎ

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
- যথা, 

১. ট্রি বা বৃক্ষ,
২. শ্রাব বা গুল্ম,
৩. আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং
৪. হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭৫৫.
Natural protein এর কোড নাম-
  1. Protein-P 53
  2. Protein-P 51
  3. Protein-P 49
  4. Protein-P 54
ব্যাখ্যা
প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার, যা উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত জটিল জৈব যৌগ। প্রোটিনকে সাধারণত আমিষও বলা হয়। এটি মূলত পেপটাইড বন্ধনে সংযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের একটি শৃঙ্খল, যা জীবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনের বিশেষ একটি প্রাকৃতিক ধরনের কোড নাম P-49 নামে পরিচিত, যা দেহের জটিল জৈবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। এটি দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং কোষের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
৩,৭৫৬.
নিচের কোন এনজাইম দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য পরিপাক ঘাটায়?
  1. ম্যাল্টেজ
  2. সুক্রোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. লাইপেজ
ব্যাখ্যা

দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখা এনজাইম (Lactase):

- দুগ্ধজাত খাদ্যের প্রধান শর্করা হলো ল্যাকটোজ (Lactose)।
- এই ল্যাকটোজকে ভাঙার জন্য বিশেষভাবে যে এনজাইমটি কাজ করে তা হলো ল্যাক্টেজ।
- ল্যাক্টেজ ল্যাকটোজকে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে ভেঙে ফেলে, যাতে শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
- ল্যাক্টেজের ঘাটতি থাকলে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে পরিপাক হয় না।
- এর ফলে গ্যাস, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়।

অন্যান্য এনজাইম কেন সঠিক নয়:

- ম্যাল্টেজ: মল্টোজ নামক শর্করা পরিপাকে সাহায্য করে, দুগ্ধজাত খাদ্যে নয়।
- সুক্রোজ: এটি একটি শর্করা, এনজাইম নয়।
- লাইপেজ: চর্বি বা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে, ল্যাকটোজ নয়।

সুতরাং, দুগ্ধজাত খাদ্য পরিপাকে ঘাটতি ঘটায় যে এনজাইমটির অভাব, তা হলো ল্যাকটোজ।
সঠিক উত্তর: গ) ল্যাকটোজ। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

৩,৭৫৭.
খাদ্যের প্রকৃতিতে নিম্নলিখিত কোনটি একটি বিশুদ্ধ খাদ্য? 
  1. গ্লুকোজ
  2. খিচুড়ি
  3. দুধ
  4. পেয়ারা
ব্যাখ্যা
পুষ্টির উপাদানে তাপশক্তি নির্ণয়: 
- প্রতিদিন নানা রকম পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা হয়। 
- ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, মাংস থেকে শুরু করে ফলমূল, শাকসবজি, পানীয় ইত্যাদির কোনোটিই বাদ যায় না, তাই পুষ্টি উপাদানে শক্তি পরিমাপ করতে হলে এর প্রকৃতি জেনে নিতে হবে। 
যেমন- 
পুষ্টির প্রকৃতি, মিশ্রখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাদ্য: 
- খাদ্যের প্রকৃতি বলতে এটা কি মিশ্রখাদ্য, নাকি বিশুদ্ধ খাদ্য তাকে বোঝায়। 
- মিশ্রখাদ্যে একের অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। 
যেমন: দুধ, ডিম, খিচুড়ি, পেয়ারা ইত্যাদি। 
- অন্যদিকে বিশুদ্ধ খাদ্যে শুধু একটি উপাদান থাকে। 
যেমন: চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি যাতে শর্করা ছাড়া অন্য কিছু থাকে না। 

পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ নির্ণয়: 
- পুষ্টি উপাদানের প্রকৃতি জানার পর ঐ খাদ্যে কী কী উপাদান কী পরিমাণে আছে তা জেনে নিতে হবে। 
- তবে বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ খাদ্য মূল্যতালিকা দেখে জেনে নিতে হয়। 

ক্যালরি নির্ণয়: 
- খাদ্যের পুষ্টি উপাদান ও তার পরিমাণ জানার পর শর্করা, প্রোটিন ও চর্বির ক্যালরি বের করতে হয়। 
- এক্ষেত্রে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির ক্যালরি মূল্য শূন্য ধরে হিসাব করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫৮.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) বিট
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

৩,৭৫৯.
রক্তচাপ পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. থার্মোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়। 
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৬০.
রক্ত শূন্যতার অপর নাম কী?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. সিরোসিস
  4. জন্ডিস
ব্যাখ্যা

• রক্ত শূন্যতার অপর নাম - অ্যানিমিয়া। 

• অ্যানিমিয়া:
- অ্যানিমিয়া (Anemia) হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে হিমোগ্লোবিন এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- হিমোগ্লোবিন একটি আয়রন-সমৃদ্ধ প্রোটিন, যা লোহিত  রক্তকণিকায় থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়, তখন পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না তখন সে অবস্থা কে  বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তশুন্যতা । 
- এর ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায় । 

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ- 
- দুর্বলতা ও অবসাদ
- মাথা ঘোরা
 - শ্বাসকষ্ট
- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া। 
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা। 

• আনিমিয়ার কারণ- 
- আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া (Iron Deficiency Anemia)। 
- ভিটামিন B12 বা ফোলেটের ঘাটতি। 
- দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত (যেমন: ঋতুস্রাব, পেপটিক আলসার)। 

• এ সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য পর্যাপ্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

• আয়রনের উৎস - 
- প্রাণিজ উৎস: লিভার, গরুর মাংস, ডিম, মাছ। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: পালংশাক, কলাই, মসুর ডাল, কিশমিশ। 
- আয়রন শোষণে সহায়ক: ভিটামিন C (লেবু, আমলকি)। 

অপশন আলোচনা-
ক) লিউকেমিয়া – রক্তের ক্যানসার, যেখানে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
খ) অ্যানিমিয়া – রক্তে হিমোগ্লোবিন বা লাল রক্তকণিকার অভাবের কারণে রক্ত শূন্যতার অবস্থা।
গ) সিরোসিস – যকৃতের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়জনিত রোগ, যা রক্ত শূন্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
ঘ) জন্ডিস – ত্বক ও চোখ হলদেটে হয়ে যাওয়া, প্রধানত লিভারের সমস্যা থেকে ঘটে।

তথ্যসূত্র: 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড)। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা। 

৩,৭৬১.
মানুষের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB.
• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে।

• O রক্তের গ্রুপ:
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

• AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

• A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

• B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং ০ রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬২.
শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে কোনটি?
  1. ক) পেপসিন
  2. খ) ট্রিপসিন
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক:
- পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
- এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে।
- এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে।
- পাচকরসের এনজাইম দিয়ে শর্করা এবং আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়।
- যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্ত-লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান।
- লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
- স্নেহৰিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে।
- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে।
- আন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে।
- আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
- অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করার পরিণত করে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৩.
মানুষের রক্তে সাধারণত কত শতাংশ LDL থাকে?
  1. ৫৫%
  2. ৬০%
  3. ৬৫%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরল তিন প্রকার। 
- একটিকে এলডিএল (Low density lipoprotein) বলা হয়। অনেকে একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়। 
- রক্তে এইচডিএল (High density lipoprotein) কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। HDL হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- তৃতীয় ধরনের লিপোপ্রোটিনকে ট্রাই গ্লিসারাইড বলা হয়। এ কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

অপকারিতা: 
- রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়।
যেমন-
ক। অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস (ধমনিতে রক্ত চলাচলের জায়গা কমে যাওয়া)।
খ। করোনারি হৃদরোগ বেড়ে যায়।
গ। হৃদপিন্ডের ক্রিয়াকলাপের ব্যাঘাত ঘটে।
ঘ। হৃদপিন্ডের রক্ত চলাচল কমে যাবার ফলে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়।

উপকারিতা: 
ক। কোলেস্টেরল কোষ প্রাচীর তৈরি ও রক্ষার কাজ করে।
খ। কোষের ভেদ্যতা নির্ণয় করে বিভিন্ন দ্রব্যাদি কোষে প্রবেশ বা বাধা প্রদান করে।
গ। মানব দেহের জনন হরমোন এন্ড্রোজেন ও ইস্ট্রোজেন তৈরিতে সাহায্য করে।
ঘ। অ্যাডরেনাল গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে কোলেস্টেরল ব্যবহৃত হয়।
ঙ। কোলেস্টেরল পিত্ত তৈরি করে। 
চ। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে চামড়ায় কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'D' তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৪.
রাইবোজোমের কাজ কী?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।

কাজ- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৬৫.
কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস
  2. খ) কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস
  3. গ) জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস
  4. ঘ) আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। থিয়োফ্রাস্টাস এবং লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক অঙ্গসংস্থানিক সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। বেনথাম-হুকার এর শ্রেণিবিন্যাস প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে তাদের উৎপত্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিবর্তন ধারা অনুযায়ী আদি হতে আধুনিক ক্রমধারায় সাজিয়ে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। এঙ্গলার-প্রান্টল, হাচিনসন, বেসি, ক্রনকুইস্ট, তাখতাইয়ান প্রমুখ বিজ্ঞানীর দেয়া শ্রেণিবিন্যাস জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ঃ কোষ, এমনকি এর অঙ্গাণুর গঠন ও জীববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার আধুনিক তথ্য ব্যবহার করে তৈরি শ্রেণিবিন্যাসকেই আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস বলে। মারগুলিস এর শ্রেণিবিন্যাসটি একটি আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৬.
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে কোন ধরনের প্রাণীদের?
  1. ক) এনেলিডা
  2. খ) নেমাটোডা
  3. গ) কর্ডাটা
  4. ঘ) মলাস্কা
ব্যাখ্যা
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে এনেলিডা পর্বের প্রাণীদের। এদের দেহ নলাকার, খন্ডকায়িত। যেমন কেঁচো, জোঁক।
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী
৩,৭৬৭.
সমগ্র জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে এ ভাগ করবার প্রস্তাব করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) Margulis
  2. খ) R.H. Whittaker
  3. গ) Carl Linnaeus
  4. ঘ) Louis Pasteur
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালে R.H. Whittaker সমগ্র জীবজগতকে ফাইভ কিংডম্যা ভাগ করবার প্রস্তাব করেন।
পরবর্তীকালে, Margulis ১৯৭৪ সালে R.H. Whittaker এর প্রদত্ত শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন।

R.H. Whittaker এ প্রস্তাবকৃত ফাইভ এনিমেল কিংডম রাজ্যগুলো হল- Monera, Fungi, Plantae, Animalia, Protista.

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৭৬৮.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. সাইন্যাপস
  4. নিউরোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body): প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন: কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) EBSCO Link

৩,৭৬৯.
কোন জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) খনিজ
ব্যাখ্যা
ক্যালরি:
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি।
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি।
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে।
- শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়। খাদ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকে । আমরা খাবার থেকেই শক্তি পাই।
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৩,৭৭০.
ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রেপ্টোকক্কাস
  2. অ্যাসিটোব্যাকটর
  3. ল্যাক্টোব্যাকটেরিয়া
  4. ই.কোলাই 
ব্যাখ্যা

- ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter), যা অ্যালকোহলকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ভিনেগার তৈরি করে। 

সিরকা বা ভিনেগার: 

- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন (H+) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৭১.
প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ কোনটি?
  1. নিউরন
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. ডিম্বাণু
  4. মায়োসাইট
ব্যাখ্যা
- প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ ডিম্বাণু।
- প্রাণিদেহের দীর্ঘতম কোষ নিউরন। 
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৭৭২.
একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় _____।
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোএনার্জি
  3. গ) আইসোম্যাস
  4. ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): যেসব নিউক্লাইডের প্রোটন সংখ্যা (Z) সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা (Z) ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ৷
আইসােটোন (Isotone): যে সব নিউক্লাইডের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান তাদের বলা হয় আইসােটোন৷
আইসােবার (Isobar): যে সব নিউক্লাইডের ভর সংখ্যা (A) সমান তাদের বলা হয় আইসােবার।
আইসােমার (Isomer): একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় আইসােমার।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

৩,৭৭৩.
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর দেহে কী সমস্যা দেখা দেয়? 
  1. ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে যায়
  2. দেহে প্রোটিন শোষণ কমে যায়
  3. গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়
  4. অতিরিক্ত লাল রক্তকণিকা উৎপাদন হয়
ব্যাখ্যা
বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭৪.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) দুধ ও ডিম
ব্যাখ্যা
দুধ, ডিম, কলিজা, মাশরুম থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
Source:ods.od.nih.gov
৩,৭৭৫.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়? 
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭৬.
হামের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন-
  1. এমআর ভ্যাকসিন
  2. বিসিজি ভ্যাকসিন
  3. ওপিভি ভ্যাকসিন
  4. ডিপিটি ভ্যাকসিন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
• এমআর(MR) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে,
- বিসিজি(BCG) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি(DPT) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- ওপিভি(OPV) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় পোলিও রোগের বিরুদ্ধে।

উৎস: www.dghs.gov.bd
৩,৭৭৭.
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের “পাওয়ার হাউস” বলা হয় কেন? 
  1. এটি ক্লোরোফিল সংরক্ষণ করে
  2. এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ করে
  3. এটি শক্তি উৎপাদন করে
  4. এটি পানি তৈরি করে
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৮.
উদ্ভিদের কোন অঙ্গাণুর মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. রাইবোসোম
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিডের একটি প্রকারভেদ হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যেখানে ক্লোরোফিল থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য-
- নিউক্লিয়াস: এটি কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এখানে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় (কোষের শক্তির ঘর)।
- রাইবোসোম: এটি প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৭৯.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ কোনটি?
  1. ক) অগ্রমস্তিষ্ক
  2. খ) পশ্চাৎমস্তিষ্ক
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্ক
  4. ঘ) সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
• মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা:
১) অগ্রমস্তিষ্ক,
২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

• অগ্রমস্তিষ্ক:
অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা: 
- সেরেব্রাম,
- থ্যালামাস ও
- হাইপোথ্যালামাস।

মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রামকে গুরুমস্তিষ্কও বলা হয়।

• মধ্যমস্তিষ্ক:
হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

• পশ্চাৎমস্তিষ্ক:
এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
- সেরেবেলাম,
- মেডুলা অবলংগাটা এবং
- পনস।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮০.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. ক) বেলে মাছ
  2. খ) পালং শাক
  3. গ) খাশির মাংস
  4. ঘ) মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
In general, red meats (beef, pork and lamb) have more saturated (bad) fat than chicken, fish and vegetable proteins such as beans. Saturated and trans fats can raise your blood cholesterol and make heart disease worse. - USA Heart Association
৩,৭৮১.
নিচের কোনটিকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়?
  1. ক) সরল টিস্যুকে
  2. খ) স্থায়ী টিস্যুকে
  3. গ) জটিল টিস্যুকে
  4. ঘ) ভাজক টিস্যুকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকারের কোষ সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু গঠিত হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৭৮২.
'' The Origin of Species by means of natural selection'' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ওয়ালেস
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) ডারউইন
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
•ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত •১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন।
• তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত।
• সমুদ্রে ভ্রমণকালীন সময়ে ডারউইন, চার্লস লায়েল লিখিত ‘The Principles of Geology' নামক বইটিতে প্রস্তাবিত তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। উক্ত বইটিতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে ডারউইন নিজেও প্রস্তাবিত ভূ-তত্ত্বীয় পরিবর্তন এর চিহ্ন লক্ষ করেন। গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণকালে ডারউইন প্রত্যেক দ্বীপের পাখি ও কচ্ছপকে কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখতে পান। 
• ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণর মাধ্যমে ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিবর্তনের মতবাদকে যৌথ নামে ‘Darwin-Wallace's Theory' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭৮৩.
নিচের কোনটি একপ্রতিসম ফুল?
  1. শিম
  2. জবা
  3. ধুতুরা
  4. অর্কিড
ব্যাখ্যা

- শিম হলো একপ্রতিসম ফুল।
- জবা ও ধুতুরা হলো বহুপ্রতিসম ফুল।
- কলাবতী ও অর্কিড হলো অপ্রতিসম ফুল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭৮৪.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন ধাপে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়?
  1. ক) প্রো-মেটাফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) অ্যানাফেজ
  4. ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে। এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
৩,৭৮৫.
মানবদেহের কোন অঙ্গে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) তৈরি হয়?
  1. অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)
  2. লিম্ফ নোড (Lymph Node)
  3. প্লীহা (Spleen)
  4. প্যানক্রিয়াস (Pancreas)
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা প্রধানত অস্থি মজ্জার (Bone Marrow) মধ্যে তৈরি হয়।

লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- লোহিত রক্তকণিকা (RBCs) সহ দেহের সমস্ত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে হেমাটোপোয়েসিস (Hematopoiesis) বলা হয়।
- RBC তৈরির প্রক্রিয়াকে বিশেষভাবে ইরিথ্রোপোয়েসিস (Erythropoiesis) বলা হয়।
- প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)-এর মধ্যে ঘটে।

অন্যান্য অপশন:
- প্লীহা (Spleen) হলো লোহিত রক্তকণিকার সঞ্চয়স্থান এবং কবরস্থান, যেখানে পুরাতন RBCsগুলি ধ্বংস হয়।
- লিম্ফ নোড হলো লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের অংশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় হজম সহায়ক এনজাইম এবং হরমোন (যেমন ইনসুলিন) নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৬.
পাইরিডক্সিন নিম্নের কোনটি?
  1. B1
  2. B2
  3. B6
  4. B12
ব্যাখ্যা

পাইরিডক্সিন (Pyridoxine):
- পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এটি মূলত ভিটামিন B6 নামে পরিচিত।
- এই ভিটামিন শরীরের প্রোটিন বিপাক, অ্যামিনো অ্যাসিডের রূপান্তর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- হিমোগ্লোবিন তৈরি এবং লোহিত রক্তকণিকার কার্যক্রমে পাইরিডক্সিনের ভূমিকা রয়েছে।
- পাইরিডক্সিনের অভাবে রক্তস্বল্পতা, ত্বকের সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন B1 (থায়ামিন):
- ভিটামিন B1 শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
- এটি কার্বোহাইড্রেট বিপাকে সহায়তা করে।
- তবে এটি পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন):
- ভিটামিন B2 কোষের বৃদ্ধি এবং শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
- চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
- এটিও পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B12 (কোবালামিন):
- ভিটামিন B12 স্নায়ুকোষ ও রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক।
- এটি ডিএনএ সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু পাইরিডক্সিন ভিটামিন B12 নয়।

- সুতরাং, পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন B6.
- সঠিক উত্তর: গ) B6.

সূত্র - sciencedirect journal.

৩,৭৮৭.
নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) করচ
  2. খ) হিজল
  3. গ) ডুমুর
  4. ঘ) গজারী
ব্যাখ্যা

গজারির অপর নাম শাল। গাছ কাটার পর গোড়া থেকে চারা গজানোর কারণে এর নাম গজারি হয়েছে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে এ গাছ জন্মায়। আমাদের ভাওয়াল ও মধুপুরের গজারি বনই দেশের বৃহত্ পত্রঝরা বনাঞ্চল।
লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে। তবে পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না।

অন্যদিকে,
করচ, হিজল ও ডুমুর - জলজ উদ্ভিদ।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮৮.
Virus শব্দটির অর্থ কি?
  1. ক) মিষ্টি
  2. খ) বিষ
  3. গ) ক্ষুদ্র বস্তু
  4. ঘ) ক্ষুদ্র জীবাণু
ব্যাখ্যা
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
৩,৭৮৯.
বায়ুথলিকে কি বলা হয়?
  1. ক) ব্রঙ্কাস
  2. খ) অ্যালভিকিওল
  3. গ) ব্রঙ্কিউল
  4. ঘ) ট্রাকিয়া
ব্যাখ্যা
দুটি ফুসফুস বক্ষগহ্বরের মধ্যে দুপাশে অবস্থিত। ইহা স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল। ডান ফুসফুস তিন খন্ডে ও বাম ফুসফুস দু’খন্ডে বিভক্ত। প্রতিটি ফুসফুসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ু প্রকোষ্ঠ বা বায়ু থলি থাকে। এ বায়ুথলিগুলোর মধ্যে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। বায়ুথলিগুলিকে অ্যালভিওলাসও বলা হয়। প্রতিটি ব্রঙ্কিউলের শেষপ্রান্তে অ্যালভিওলাস থাকে।
৩,৭৯০.
অপ্রকৃত ফল কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) চালতা
  3. গ) কাঁঠাল
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯১.
মানবদেহে রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তা বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?
  1. থাইরক্সিন
  2. গ্লুকাগন
  3. ইনসুলিন
  4. ইস্ট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• গ্লাইকোজেনোলাইসিস- 
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস হলো যকৃত (liver) ও পেশি (muscle) কোষে জমাকৃত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, যা শরীরের শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য ঘটে।

• রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয় ।
- এর ফলে গ্লাইকোজেনোলাইসিস এর মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয় । ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয়।

• অগ্ন্যাশয় এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে ইনসুলিনের পাশাপাশি গ্লুকাগন হরমোনও নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে শর্করা কমাতে কাজ করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৩,৭৯২.
নিচের কোনটি ভিটামিন এ এর কাজ নয়?
  1. ক) দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা সজীব রাখা
  2. খ) হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ
  3. গ) দেহের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত করা
  4. ঘ) দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করা
ব্যাখ্যা
প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়।
উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারােটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে।
ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলাে হলাে:

১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে।
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করে।
৫. দেহে রােগ সংক্রমণ প্রতিরােধ করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৭৯৩.
বংশগতিবিদ্যার প্রধান বিষয় কী? 
  1. প্রাণের বিকাশ 
  2. কীটপতঙ্গের জীবন 
  3. জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
  4. কোষের গঠন ও কার্যাবলি 
ব্যাখ্যা
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৯৪.
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রস্বেদন 
  2. নিঃসরণ 
  3. শ্বসন 
  4. অভিসরণ 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৫.
শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোন রোগ হয়?
  1. রাতকানা
  2. স্কার্ভি
  3. কোয়াশিয়রকর
  4. রিকেট
ব্যাখ্যা

• শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।

• প্রোটিন বা আমিষ:
- প্রোটিন দেহের একটি অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান।
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ প্রোটিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাদ্য প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস।
- ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস।
 
• প্রোটিনের কাজ:
- দেহের বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা।
- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
- দেহে শক্তি উৎপন্ন করতে সহায়তা করা।
- প্রোটিন থেকে দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি তৈরি হয়।
 
• প্রোটিনের অভাব ও কোয়াশিয়রকর:
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ দেখা দেয়।
- এ রোগে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।
- শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে।
- কোয়াশিয়রকর সাধারণত দীর্ঘদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য না পেলে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রাতকানা → ভিটামিন এ-এর অভাবে সৃষ্ট রোগ।
- স্কার্ভি → ভিটামিন সি-এর অভাবে হয়।
- রিকেট → ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৭৯৬.
মানুষের জিহ্বার লালার pH=?
  1. 2
  2. 4.5
  3. 6.6
  4. 8.4
ব্যাখ্যা
pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- মানব দেহের বিভিন্ন তরল উপাদানের pH নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- মানুষের জিহ্বার লালার pH = 6.6.
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH = 2.
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH = 5.5.
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH = 7.

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৭.
What happens during the process of photosynthesis?
  1. Reduction of water
  2. Oxidation of carbon dioxide
  3. Oxidation of oxygen
  4. Oxidation of water
  5. Carbon dioxide is produced
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে পানির (H2O) জারণ ঘটে। 

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই - অক্সাইড (CO2) এবং পানি ব্যবহার করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)।

• সালোকসংশ্লেষণের স্থান:
- ক্লোরোপ্লাস্ট ই হলো সালোকসংশ্লেষণের স্থান।
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে এটি ঘটে, কারণ সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।

• সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া।
- পানি (H2O)থেকে অক্সিজেন মুক্ত হয়। ফলে পানির জারণ ঘটে।
- অন্যদিকে, CO2 এর সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়, ফলে CO2 এর বিজারণ ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব:
→ খাদ্য উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ হলো উদ্ভিদ কর্তৃক খাদ্য তৈরির প্রধান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত শর্করা উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং অন্যান্য প্রাণীও খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।  
→ বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহ:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত হল অক্সিজেন। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রাণী এবং মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য।  
→ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা:
- সালোকসংশ্লেষণ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।  
→ শক্তি উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ সৌর শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা জীবজগতের জন্য শক্তির প্রধান উৎস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৭৯৮.
কয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন তৈরি হয়?
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ২০
ব্যাখ্যা
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।
৩,৭৯৯.
যকৃত কোন রস তৈরি করে?
  1. পিত্তরস
  2. লালারস
  3. আন্ত্রিক রস
  4. গ্যাস্ট্রিক রস
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০০.
নিচের কোন বইটির রচয়িতা ক্যারোলাস লিনিয়াস?
  1. Species Plantarum
  2. Philosophia Plantarum
  3. Historia Plantarum
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
- ১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত বই হলো ‘Philosophia Botanica’।

• দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।