বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৭ / ৪২ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ৪,২০৮

৩,৬০১.
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ত্বকের কোন অংশ থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়?
  1. ক) এনড্রোজেন
  2. খ) ইস্ট্রোজেন
  3. গ) কোলেস্টেরল
  4. ঘ) মিনারেল
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন (Cholestane) থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। 
উচ্চশ্রেণির প্রাণিজ কোষের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। 
 
কোলেস্টেরল কোষপ্রাচীর তৈরি এবং রক্ষার কাজ করে। 
প্রতিটি কোষের ভেদ্যতা (Permeability) নির্ণয় করে বিভিন্ন দ্রব্যাদি কোষে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। 
মানবদেহের জনন হরমোন এনড্রোজেন ও ইস্ট্রোজেন তৈরিতে সাহায্য করে। 
অ্যাডরেনাল গ্রন্থির হরমোন ও পিত্তরস তৈরিতে কোলেস্টেরলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কোলেস্টেরল পিত্ত তৈরি করে। 
 
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে চামড়ার কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়, যা রক্তের মাধ্যমে কিডনিতে গিয়ে ভিটামিন 'ডি'র কার্যকর রূপে পরিণত হয় এবং আবার রক্তে ফিরে আসে। 
কোলেস্টেরল মাত্রা দেহের চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনকে (এ, ডি, ই এবং কে) বিপাকে সহায়তা করে।
স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে কোলেস্টেরল ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৩,৬০২.
জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে -
  1. ক) ভিটামিন A এর অভাবে
  2. খ) ভিটামিন C এর অভাবে
  3. গ) ভিটামিন D এর অভাবে
  4. ঘ) ভিটামিন E এর অভাবে
ব্যাখ্যা
 -জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে ভিটামিন E এর অভাবে। 
- পাম তৈল ভিটামিন E এর ভাল উৎস। 
- সস্য দানার তেল, সূর্যমুখী তেল, তুলাবীজের তেল, লেটুস পাতায় ভিটামিন E পাওয়া যায়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৩,৬০৩.
জলজ উদ্ভিদে বড় বায়ুকুঠুরি সম্বলিত প্যারেনকাইমাকে কী বলে?
  1. Aerochyma
  2. Aquenchyma
  3. Alveolchyma
  4. Aerenchyma
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু (Simple tissue): 
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে। 
- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্যারেনকাইমা, 
২। কোলেনকাইমা এবং 
৩। স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা (Parenchyma): 
- উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 
- এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। 
- এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়। 
- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। 
- এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে। 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্যদ্রব্য পরিবহন করা। 

উল্লেখ্য,
- Aerochyma, Aquenchyma, Alveolchyma - বলতে কোনো বৈজ্ঞানিক টার্ম নেই।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬০৪.
'Zakerana dhaka' কোন প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. সাপ
  2. ব্যাঙ
  3. টিকটিকি
  4. কচ্ছপ
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ: 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে।
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo Sapiens.
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

- তরুণ প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার সম্প্রতি নতুন প্রজাতির এক ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন, যা কেবল ঢাকায় পাওয়া যায়।
- ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ হয়েছে Zakerana dhaka । 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাকের হোসেনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই গণের নাম জাকেরানা রাখা হয়েছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৬০৫.
অপুষ্পক উদিভদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সাইকাস
  2. খ) পাইনাস
  3. গ) স্পাইরোগাইরা
  4. ঘ) সুপারি
ব্যাখ্যা

স্পাইরোগাইরা একটি অপুষ্পক উদ্ভিদ। কারণ, এ ধরনের উদ্ভিদে ফুল এবং ফল হয় না। এরা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড, ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এরা সমাঙ্গদেহি উদ্ভিদ।
অপরদিকে, সাইকাস এবং পাইনাস নগ্নবীজী সুপুষ্পক উদ্ভিদ।
সুপারি হল আবৃতবীজী সুপুষ্পক উদ্ভিদ।

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই। 

৩,৬০৬.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কতটি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ২০৪ টি
  2. ২০৬ টি
  3. ২০৫ টি
  4. ২০৮ টি
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত এবং এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে, কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton)। 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর।
- মানুষের একজোড়া অগ্রপদ বা হাত, একজোড়া পশ্চাৎপদ বা পা, বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle) ও শ্রোণিচক্র (Pelvic girdle) নিয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কালতন্ত্র গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৭.
সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-
  1. ০%
  2. ১০ - ১৫%
  3. ৩ - ৬%
  4. ১০০%
ব্যাখ্যা
[তাত্ত্বিকভাবে সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ ১১%। কিন্তু, বাস্তবক্ষেত্রে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা ৩% - ৬%। - FAO Agricultural Services Bulletin - 128] - [লিঙ্ক]

সালোকসংশ্লেষণ: 

- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া


- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়। 
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৮.
শরীরের কোন অংশের মাংশপেশীর কার্যাবলি নষ্ট হওয়াকে কী বলে?
  1. ক) পারকিনসন
  2. খ) প্যারালাইসিস
  3. গ) স্ট্রোক
  4. ঘ) থাইরয়েড
ব্যাখ্যা
শরীরের কোন অংশের মাংসপেশীর কার্যাবলি নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে। প্যারালাইসিস সাধারণত স্ট্রোকের কারণে হয়। এছাড়া মেরুদন্ডের বা ঘাড়ের সুষুম্নাকাণ্ড আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্যারালাইসিস হতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৬০৯.
উদ্ভিদ হরমোনকে কী বলা হয়?
  1. ক) প্ল্যান্টহরমোন
  2. খ) ফাইটোহরমোন
  3. গ) সাইটোহরমোন
  4. ঘ) ফটোহরমোন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে।
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলা হয়। 
- যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৩,৬১০.
ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয় কোনটি?
  1. যক্ষ্মা
  2. কলেরা
  3. টাইফয়েড
  4. মাম্পস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্টিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
• যক্ষ্মা
• নিউমোনিয়া
• কলেরা
• টাইফয়েড
• কলেরা
• ডিপথেরিয়া
• আমাশয়
• ধনুষ্টংকার
• হুপিংকাশি ইত্যাদি।

- মাম্পস ভাইরাস গঠিত রোগ

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৬১১.
উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অপরিণত কোষ দ্বারা গঠিত
  2. কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
  3. কোষের আকার ও গঠন নির্দিষ্ট নয়
  4. যান্ত্রিক কাজে দৃঢ়তা প্রদান করে
ব্যাখ্যা

- যে ধরনের কোষকলা বা টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম এবং পরিণত তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে। স্থায়ী কলার কোষের আকার ও গঠন নির্দিষ্ট। খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সঞ্চয়, খাদ্য-পানি-খনিজ লবণ পরিবহন, বিভিন্ন অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান করা ইত্যাদি স্থায়ী টিস্যুর কাজ।
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম তাকে ভাজক টিস্যু বলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে এ ধরনের টিস্যু অবস্থান করে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে সবচেয়ে বেশি ভাজক টিস্যু থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৬১২.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ৫০টি
  2. ৫২টি
  3. ৫১টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৩.
ক্যারোলাস লিনিয়াস রচিত বইয়ের নাম কী?
  1. ক) Species Plantaram
  2. খ) Sapiens
  3. গ) Philosophia Botanica
  4. ঘ) Historia Plantarum
ব্যাখ্যা
ভুলে অপশন দুইটা দেয়া। তবে, Plantarum বানানটি ভুলের কারনে গ) Philosophia Botanica কে সঠিক ধরা হল।
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন। এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। উৎসঃ জীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত বই হলো ‘Philosophia Botanica’।
৩,৬১৪.
নিচের কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন?
  1. ক) লিম্ফোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) ইওসিনোফিল
  4. ঘ) বেসোফিল
ব্যাখ্যা

- শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র দানার উপস্থিতির ভিত্তিতে শ্বেত রক্তকণিকা দুধরনের - গ্র‍্যানিউলোসাইট এবং অ্যাগ্রানুলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার সে সব কণিকাকে গ্র‍্যানিউলোসাইট বলে। নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল এবং বেসোফিল হলো গ্র‍্যানিউলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন, তাদেরকে অ্যাগ্রানুলোসাইট বলে। মনোসাইট এবং লিম্ফোসাইট হলো এ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৬১৫.
ক্রোমোপ্লাস্টে কোনটির আধিক্য থাকে?
  1. ক্লোরোফিল
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. লাইকোপিন
  4. ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।
ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে
ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি
পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৬১৬.
The basic structural and functional unit of the nervous system is called:
  1. Axon
  2. Dendrite
  3. Synapse
  4. Neuron
  5. Glial cell
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬১৭.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টি করে?
  1. রুবিওলা ভাইরাস
  2. অ্যাডেনো ভাইরাস
  3. ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. টুংরো ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রোগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনো ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গো- বসন্ত রোগের জন্য দায়ী।
- টুংরো ভাইরাস ধানের টুংরো রোগের জন্য দায়ী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৬১৮.
ক্রোমোপ্লাস্টে কোন ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে?
  1. জ্যান্থফিল
  2. ক্যারোটিন
  3. ফাইকোসায়ানিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন, জ্যান্থফিল এবং ফাইকোসায়ানিনের মতো বিভিন্ন রঙিন রঞ্জক পদার্থ থাকে যা ফুল ও ফলের বিচিত্র বর্ণ সৃষ্টি করে।

• প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের - ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

• ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

• ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

• লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১৯.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট কোনটি?
  1. ক) দুইটি বীজপত্র থাকে
  2. খ) প্রধান মূল থাকে
  3. গ) পাতার শিরাবিন্যাস জালিকাকার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ : যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — আম , জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট, কলা ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। উপরের সবগুলো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩,৬২০.
মানবদেহের কোন হরমোন দাঁড়ি ও গোফ গজাতে সাহায্য করে?
  1. রিলাক্সিন
  2. প্রোজেস্টেরন
  3. টেস্টোস্টেরণ
  4. অ্যাড্রানালিন
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২১.
কোনটি নাইট্রোজেনের অভাব জনিত লক্ষণ?
  1. পাতা বেগুনি রং ধারণ করে
  2. পাতা হলুদ রং ধারণ করে
  3. পাতায় মৃত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২২.
প্রোটিন মূলত -
  1. ক) শর্করার পরিবর্তিত রূপ
  2. খ) অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার
  3. গ) নাইট্রিক এসিডের পলিমার
  4. ঘ) কার্বনের একটি রূপভেদ
ব্যাখ্যা
প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।

ভৌত,রাসায়নিক গুনাবলি এবং দ্রবনীয়তার ভিত্তিতে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা :-
ক) সরল প্রোটিন ৷
খ) যুগ্ম প্রোটিন ৷
গ) উৎপাদিত প্রোটিন ৷

দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে সরল প্রোটিনকে আবার ৭ ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা :-
১) অ্যালবিউমিন
২) গ্লোবিউলিন 
৩) গ্লুটোলিন 
৪) প্রোলামিন
৫) হিস্টোন
৬) প্রোটামিন
৭) স্ক্লোরোপ্রোটিন

যুগ্ম প্রোটিনকেও আবার ৬ ভাগে ভাগ করা যায় ৷
যথা :-
১) নিউক্লিওপ্রোটিন
২) গ্লাইকোপ্রোটিন বা মিউকোপ্রোটিন
৩) লিপোপ্রোটিন
৪) ক্রোমোপ্রোটিন 
৫) মেটালোপ্রোটিন
৬) ফসফোপ্রোটিন 

প্রোটিনের কাজ সমূহ- 
- দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণ হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
- তাপ শক্তি উৎপাদন।
- দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা।
- অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা হল প্রোটিনের অন্যতম কাজ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২৩.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সহায়তা করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২৪.
কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কোন প্রক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে?
  1. অন্তঅভিস্রবণ
  2. বহিঅভিস্রবণ
  3. প্রস্বেদন
  4. শ্বসন
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ দু'ধরনের।
যথা -
১. অন্তঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঅভিস্রবণ ঘটে।
- অন্তঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরােমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শােষণ করতে পারে।
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

২. বহিঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঅভিস্রবণ ঘটে।
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিম্বা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

- অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভিদের কোষ থেকে কোষান্তরে পানির চলাচল ঘটে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২৫.
মাশরুম এক ধরণের-
  1. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. ফাঙ্গাস
  3. স্ব-জীবী উদ্ভিদ
  4. অর্কিড
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২৬.
প্রতি চাকে কয়টি কর্মী মৌমাছি থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) অসংখ্য
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা

- মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম।
- প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে।
- মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে।
- তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬২৭.
সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না -
  1. পাতায়
  2. শাখা-প্রশাখায়
  3. সবুজ কাণ্ডে
  4. মূলে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল, বায়ুস্থ অক্সিজেন এবং পানির সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং অক্সিজেন তৈরী হয় তাকেই সালোকসংশ্লেষণ বলে। 


- সালোকসংশ্লেষণ এর জন্য ক্লোরোফিল আবশ্যক।
- ক্লোরোফিল থাকে ক্লোরোপ্লাস্টে। 
- এর বর্ণ সবুজ।
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে ক্লোরোফিল থাকে।
- মূলে কোনো ক্লোরোফিল থাকে না, তাই মূলে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না। মূল সাধারণত খাদ্য সঞ্চয় করে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২৮.
নিম্নের কোনটি ফুলের প্রজনন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে? 
  1. দল ও বৃতি
  2. দল ও বৃন্ত
  3. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
  4. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা
প্রজনন অঙ্গ: ফুল 
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২৯.
DNA is found in :
  1. ক) Chromosome
  2. খ) Golgi Complex
  3. গ) Ribosome
  4. ঘ) Lysosome
ব্যাখ্যা
- জেনেটিক্স বা বংশগতির ভৌত ভিত্তি হলো ক্রোমোজোম৷ আর রাসায়নিক ভিত্তি হলো ডিএনএ (DNA) যার পূর্ণরূপ Deoxyribo Nucleic Acid.
- DNA থাকে ক্রোমোজোমের ভেতর আর ক্রোমোজোম থাকে নিউক্লিয়াসের ভেতর।
- বিজ্ঞানী Watson ও Crick ১৯৫৩ সালে DNA অণুর Double Helix বা দ্বিসূত্র কাঠামোর বর্ণনা দেন৷

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩০.
রক্তরস শ্বসনের ফলে কোষে উৎপন্ন CO2 -কে নিচের কোন রূপে ফুসফুসে পরিবহণ করে?
  1. পানি রূপে
  2. গ্লুকোজ রূপে
  3. অক্সিজেন রূপে
  4. বাইকার্বনেট রূপে
ব্যাখ্যা
রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন (যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O2, CO2, এবং N2, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ)। 
- জৈব পদার্থগুলো হলো- 
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি। 
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। 
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি। 
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি। 
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন। 
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ। 

রক্তরসের কাজ: 
১. রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা। 
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা। 
৩. রক্তরস শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা। 
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা। 
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা। 
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩১.
হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে কোন রোগটি দেখা দেয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. স্কার্ভি
  3. অ্যানিমিয়া 
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ:
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান।
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে।
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে।
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg।
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে।
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি।
- আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে  মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগ দেখা দেয়
- রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, হাত-পা ফোলা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বুক ধরফড় করা ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩২.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড় গঠন, রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

এছাড়াও,
- আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস।
- ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকান্ড ব্যাহত হয় এবং গলগন্ড, বামনত্ব, প্রভৃতি দেখা দেয়।

উৎস:- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৩.
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে কত?
  1. ২০ - ৩০ বার
  2. ৪০ - ৫০ বার
  3. ৭০ - ৮০ বার
  4. ৬০ - ৭০ বার
ব্যাখ্যা
• একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার।

• হৃদচক্র:
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।
- এক বারের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার, গড়ে ৭৫ বার।
- হৃদপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে হৃদচক্র বা কার্ডিয়াক চক্র বলে।

• কার্ডিয়াক চক্র চলাকালীন হৃদপিন্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবহন হয় তা পর্যায়ক্রমিক ৪টি দশায় সম্পন্ন হয়। যথা-
১. অলিন্দের সংকোচন (Atrial diastole),
২. অলিন্দের সম্প্রসারণ (Atrial systole),
৩. নিলয়ের সংকোচন (Ventricular systole) ও
৪. নিলয়ের সম্প্রসারণ (Ventricular diastole)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৩৪.
কোনটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি
  3. পিটুইটারী গ্রন্থি
  4. থাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

বর্তমান যুগে প্রতিটি মানুষই মানসিক চাপে দিন পার করছেন। মানসিক চাপের কারণে ‘অ্যাড্রেনাল’ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এমন হরমোন (এড্রেনালিন হরমোন) যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:
১) কিডনির রোগ।
২) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থির টিউমার।
৩) ধমনীর বংশগত রোগ।
৪) গর্ভধারণ অবস্থায় অ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রিঅ্যাকলাম্পসিয়া হলে।
৫) অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।
লেখক: অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, ডিন, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠ্য বই, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স অনুযায়ী উচ্চ রক্ত চাপ সৃষ্টিতে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুটারি গ্রন্থি উভয়েরই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভূমিকা আছে। তবে 'অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি' থেকে নিঃসৃত 'অ্যাড্রেনালিন হরমোন' প্রত্যক্ষ ভাবে উচ্চ রক্ত চাপ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তাই বেস্ট অলটারনেটিভ হিসেবে 'অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি' বা, 'এড্রেনালিন হরমোন' -ই সঠিক উত্তর। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৩৫.
উদ্ভিদের পাতায় কোন ধরণের ভাজক টিস্যু দেখা যায়?
  1. ক) মাস ভাজক টিস্যু
  2. খ) রিব ভাজক টিস্যু
  3. গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পাতায় প্লেট ভাজক টিস্যুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যু তিন ধরণের হয়ে থাকে। যথা-
প্লেট ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষ মাত্র দুটি তলে (plane) বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো প্লেটের মতো করে সজ্জিত হয়, তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে অঙ্গটি আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন - উদ্ভিদের পাতা। 

মাস ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষবিভাজন সৰ তলে (plane) ঘটে থাকে, ফলে সৃষ্ট কোষ সমষ্টি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত না থেকে কোষপুঞ্জ গঠন করে, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলা হয়।
এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গটি ঘনত্বে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন- বর্ধনশীল ভ্রূণ, রেণুথলি, এন্ডোস্পার্ম ইত্যাদিতে এ ধরণের টিস্যু লক্ষ্য করা যায়। 

রিব ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো রৈখিক সজ্জাক্রমে একসারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের ন্যায় দেখায়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়।
এ প্রকার কোষ বিভাজনের ফলে একসারি কোষ সৃষ্টি হয়; যেমন- বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডের মজ্জা রশ্মিতে এ ধরণের টিস্যু লক্ষ্য করা যায়।

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
-  কোষগুলো জীবিত এবং বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন হয়।
- কোষগুলো সাধারণত আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজাকার হয়। 
- এই টিস্যু কোষগুলো সেলুলোজ নির্মিত পাতলা কোষপ্রাচীরবিশিষ্ট হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না।
- কোষগুলো অনেক ঘনভাবে থাকে, তাই এদের মধ্যে আন্তকোষীয় ফাঁক থাকে না।

সূত্র: ২০৬ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৬.
মানুষের হৃদপিণ্ডে প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয় কোনটিকে?
  1. পারকিঞ্জি তন্তু
  2. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড
  3. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড
  4. বান্ডল অব হিজ
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের কিছু রূপান্তরিত হৃদপেশি মায়োজেনিক প্রকৃতির জন্য দায়ী। এ বিশেষ ধরনের পেশিগুলোকে সম্মিলিতভাবে সংযোগী টিস্যু বা জাংশনাল টিস্যু বলে। ৪ ধরনের জাংশনাল টিস্যুর মধ্যে রয়েছেঃ
- সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড: একে পেসমেকার বলা হয়, কারণ হৃদপিণ্ডে প্রতিটি উত্তেজনার তরঙ্গ এখানেই সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী উত্তেজনার তরঙ্গ সৃষ্টির উদ্দীপক হিসাবেও কাজ করে।
- অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোডের অনুরূপ গঠন বৈশিষ্ট্যের অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার টিস্যু AV বান্ডেল নামক বিশেষ পেশিতন্তু গুচ্ছের সাথে যুক্ত থাকে। AV বান্ডেল এর মাধ্যমে হৃদউদ্দীপনার ঢেউ অ্যাট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে প্রবাহিত হয়।
- বান্ডল অব হিজ: এটি AV নোড থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে ভেন্ট্রিকলের প্রাচীরে সঞ্চারিত করে।
- পারকিঞ্জি তন্তু: এ তন্তুগুলো বান্ডল অব হিজ থেকে উৎপন্ন হয়ে ভেণ্ট্রিকলের প্রাচীরে জালক সৃষ্টি করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৩৭.
দুটি প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাত -
  1. ক) দোঁয়াশ
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) সংকর
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
দুটি প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাতকে বলা হয় সংকর। 
যেমন :
দুটি সংকর জাতের মোরগ- ‘রূপালী’ (সাদা লেগহর্ন মুরগা  ফাওমি মুরগি) ও ‘সোনালী’ (আর আই আর মুরগা  ফাওমি মুরগি) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে সুঅভিযোজিত হয়ে আছে।

উৎস : বাংলাপিডিয়া 
৩,৬৩৮.
একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত কতটি ধাপ আছে?
  1. ক) ছয়টি
  2. খ) সাতটি
  3. গ) আটটি
  4. ঘ) নয়টি
ব্যাখ্যা
প্রজাতি হলো বৈশিষ্ট্যের সর্বাধিক মিলসম্পন্ন একদল জীব যারা আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে উর্বর প্রজন্ম তৈরিতে সক্ষম, যেমন- মানুষ। পৃথিবীর সব মানুষ গঠন ও জনন বৈশিষ্ট্যে সর্বাধিক মিলসম্পন্ন, তাই পৃথিবীর সব মানুষ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক এবং সর্বনিম্ন ধাপ। একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যথা- রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ এবং প্রজাতি।
[সূত্র: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৬৩৯.
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন নয় কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. সোমাটোস্ট্যাটিন
  4. থাইমোসিন
ব্যাখ্যা
- 'থাইমোসিন' হলো থাইমাস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন। 

আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস:  
- অগ্ন্যাশয়ের কতগুলো কোষ গুচ্ছাকারে বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপেরে ন্যায় একেকটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি সৃষ্টি করে। এগুলো আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস। 
- α, β, γ নামক তিন ধরনের কোষ নিয়ে এটি গঠিত। 
- আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন: 
১ । ইনসুলিন, 
২। গ্লুকাগন এবং 
৩। সোমাটোস্ট্যাটিন। 
- রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তাকে কমানো, গ্লাইকোজেন সংশ্লেষ বা গ্লাইকোজেনেসিসে সহায়তা। 
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তাকে বাড়ানো, গ্লাইকোজেনোলাইসিসে সহায়তা। 
- α ও β কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪০.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়-
  1. ধমনী
  2. শিরা
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
শিরা (Vein):

• যেসব নালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত বা সঞ্চালিত হয়, তাকে রক্তনালি বা রক্তবাহিকা বলে।
• গঠন, আকৃতি এবং কাজের ভিত্তিতে রক্তবাহিকা বা রক্তনালি তিন ধরনের - ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।

• ধমনী: অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায়।  
• কৈশিক জালিকা: ক্ষুদ্রতম ধমনি এবং ক্ষুদ্রতম শিরার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। 
• শিরা: যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। 
• শিরার প্রাচীর ধমনির মতো তিন স্তরবিশিষ্ট।
• শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়।
• এদের নালিপথ একটু চওড়া এবং কপাটিকা থাকে।
• ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে আসা শিরাটি ছাড়া অন্য সব শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে।
ফুসফুসীয় শিরা বা পালমোনারি শিরা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়।
• একইভাবে, পালমোনারি ধমনী কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায়। 
• লসিকা এক রকম হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ ক্ষারীয় তরল যোজক কলা।



উৎস: মাধ্যামিক জীববিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।   
৩,৬৪১.
‘ডিম্বাণু থেকেই সকল জীবের সূত্রপাত হয়’- এই মতবাদের প্রবক্তা?
  1. ক) লুই পাস্তুর
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অগাস্ট ভাইসম্যান
  4. ঘ) চার্লস রবার্ট ডারউইন
ব্যাখ্যা
- ‘ডিম্বাণু থেকেই সকল জীবের সূত্রপাত হয়’ এই মতবাদের প্রবক্তা উইলিয়াম হার্ভে।
- ‘জীব থেকে জীবের উৎপত্তি হয়’ বা ‘বায়োজেনেসিস তত্ত্ব’ এই মতবাদের প্রবক্তা লুই পাস্তুর;
- ‘জার্মপ্লাজম মতবাদ’ এর প্রবক্তা অগাস্ট ভাইসম্যান; এবং
- ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ’এর প্রবক্তা চার্লস রবার্ট ডারউইন।
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৬৪২.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি কোনটি?
  1. পিটুইটারি গ্রন্থি
  2. থাইরয়েড গ্রন্থি
  3. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  4. থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

• হরমোন:
- মানুষ এবং বিভিন্ন প্রাণীর দেহে একধরনের বিশেষ নালিবিহীন গ্রন্থি থাকে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত এ ধরনের রসকে হরমোন বলে।
- হরমোন পরিবহণের জন্য পৃথক কোনো নালি নেই। হরমোন রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে, জৈবিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।
- সুস্থ দেহের চাহিদা অনুসারে গ্রন্থি থেকে অবিরত ধারায় হরমোন নিঃসৃত হয়। তবে প্রয়োজন অপেক্ষা কম অথবা বেশি পরিমাণ হরমোন নিঃসৃত হলে শরীরে নানারকম অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

•মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির (অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি) পরিচিতি, কাজ ও নিঃসৃত হরমোন:

পিটুইটারি গ্রন্থি: 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি।
- দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট।
- এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH) ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।
- এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত।
- এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি: 
একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত।ঃ
- এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি:
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে।
- শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়।
- এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়।
- পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৩,৬৪৩.
কোষকে কী বলা হয়?
  1. শুধু প্রাণকেন্দ্র
  2. জীবদেহের গঠন ও কাজের একক
  3. প্রোটোপ্লাজমের অংশ 
  4. কেবল প্রজননযোগ্য অংশ
ব্যাখ্যা

- কোষ (Cell) হলো সকল জীবিত প্রাণীর ক্ষুদ্রতম এবং মৌলিক একক যা স্বাধীনভাবে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ১৮৩৯ সালে বিজ্ঞানী স্লাইডেন এবং সোয়ান প্রদত্ত 'কোষ তত্ত্ব' (Cell Theory) অনুযায়ী, প্রতিটি জীব এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত এবং কোষই হলো জীবের গঠনগত ও কার্যগত প্রধান মাধ্যম। 

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত অর্থাৎ কোষ ই জীবদেহ গঠনের একক। কোষের ভেতরে জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। 
- কোষ হচ্ছে জীবদেহের গাঠনিক ও কার্যকরী একক যা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত, বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি দিয়ে আবৃত, স্বনির্ভর ও আত্ম প্রজননশীল। 

কোষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
- জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গাঠনিক ও আণবিক উপাদান কোষে থাকে। 
- প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ভেতরে গ্রহণ করতে পারে এবং এই কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। 
- সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে উঠতে পারে। 
- চারপাশে যেকোনো উত্তেজনার প্রতি সাড়া দিতে পারে। 
- একটি Homeostatic অবস্থা বজায় রাখতে পারে। 
- কাল পরিক্রমায় অভিযোজিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৩,৬৪৪.
নিচের কোন রোগটি রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না? 
  1. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  2. ডায়াবেটিস 
  3. বসন্ত 
  4. জন্ডিস 
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে কোনো মাধ্যমে আশেপাশের অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের সংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুংয়েঞ্জা, হাম, বসন্ত, জন্ডিস ইত্যাদি। 

অসংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না তাদের অসংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। 

- সংক্রামক বা অসংক্রামক সব ধরনের রোগ প্রতিকার করার চাইতে প্রতিরোধ করাই সকলের দায়িত্ব। 
- টিকা গ্রহণ, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, ব্যক্তিগত সুঅভ্যাস গঠন, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে সতর্কতা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, কীট-পতঙ্গ ও বিষাক্ত প্রাণি হতে সাবধানতা অবলম্বন, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অজ্ঞতা দূর, রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৫.
নিচের কোনটি ম্যাক্রো মৌল?
  1. ক) বোরন
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) মারকারি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
- মুখ্য উপাদানগুলো হল: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার।

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬ টি।
- গৌণ উপাদান হলো: দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, বোরন, তামা এবং ক্লোরিন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৪৬.
শ্বসন প্রক্রিয়ার হার কমানোর জন্য কোন উপাদানটির ঘনত্ব বাড়ানো উচিত?
  1. পানি
  2. উষ্ণতা
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 
শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI ও MgCl এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩,৬৪৭.
কোন অঙ্গাণু কোষের শক্তির আধার হিসেবে কাজ করে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. কোষগহ্বর
  4. সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- একে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বলা হয়, কারণ এই অঙ্গাণুর অভ্যন্তরে শক্তি উৎপাদনের প্রায় সকল বিক্রিয়া ঘটে থাকে। 
- এরা দন্ডাকার, বৃত্তাকার বা তারকাকার হতে পারে। 
- এরা দুই স্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি দিয়ে আবৃত্ত থাকে, বাইরের স্তর মসৃণ কিন্তু ভিতরের স্তরটি ভাঁজযুক্ত। 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে শক্তি উৎপাদন করা। 
- তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তির আধার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৬৪৮.
জীবের নামকরণ করা হয় কোন ভাষায়?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় লিখতে হয়

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬৪৯.
মানবদেহে কয় জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ৪৬
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে। 

• মানবদেহে ২ ধরণের ক্রোমোজোম থাকে। যথা-
→ অটোজোম:
- এগুলো শারীরবৃত্তীয় , ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোন ভূমিকা নেই। 

সেক্স ক্রোমোজোম:
- এরা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুইটি । এগুলো X ও Y  নামে পরিচিত।
- পুরুষে XY সেক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং নারীতে থাকে XX সেক্স ক্রোমোজোম। 

• মানবদেহের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি।
• এর মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম এবং ১ জোড়াকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৬৫০.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. কলেরা
  2. টিটেনাস
  3. টাইফয়েড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস:
- ভাইরাস হলো অতি ক্ষুদ্র সংক্রামক জীবাণু যা নিজে নিজে বংশবিস্তার করতে পারে না; জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রণা ব্যবহার করে প্রতিলিপি তৈরি করে। তাই একে অবশ্য-পরজীবী (obligate intracellular parasite) বলা হয়।
- সাধারণত একটি ভাইরাসের তিনটি প্রধান অংশ থাকে: জেনেটিক উপাদান (DNA বা RNA), ক্যাপসিড (প্রোটিনের আবরণ),
এনভেলপ (লিপিড স্তর)। 
- ভাইরাসের আকার সাধারণত ২০ - ৩০০ ন্যানোমিটার।
- ভাইরাসের কোষীয় গঠন নেই (কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, অঙ্গাণু অনুপস্থিত)।
-  জীবিত ও অজীবের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।
- ভাইরাস হোস্ট কোষ ছাড়া বিপাকীয় কার্যকলাপ করতে পারে না।
- ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তনশীল (মিউটেশন বেশি)।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

♦ কলেরা, টিটেনাস ও টাইফয়েড তিনটিই হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। অপশনে কোন ভাইরাস ঘটিত রোগের নাম নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে কোনটিই নয়

উৎস: 
১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। Microbiologysociety [Link]

৩,৬৫১.
ফানজাই-এর কোষপ্রাচীর সাধারণত কোন উপাদান দিয়ে গঠিত? 
  1. কাইটিন
  2. সেলুলোজ
  3. গ্লাইকোজেন
  4. পেপটাইডোগ্লাইকান
ব্যাখ্যা
ফানজাই (Fungi): 
- ফানজাই এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।  
- এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
- এইগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
- এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
- এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
- এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫২.
শিমগাছ মাটিতে কোন উপাদান বৃদ্ধি করে?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা: 
১। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
২। নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে
৩। পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৩,৬৫৩.
পরিবেশ দূষণের কোন অংশটির কারণে বিশ্বে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায়?
  1. ক) শব্দ দূষণ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) মাটি দূষণ
  4. ঘ) বায়ুদূষণ
ব্যাখ্যা
বায়ুদূষণ:

- বিশ্বে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায় বায়ুদূষণের কারণে।
- ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ ও সিসার বিষক্রিয়ায় ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ মারা গেছেন। তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মারা গেছেন বায়ুদূষণে।
- দূষণের কারণে মৃত্যুর হার গত ২ দশকে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, মে ১৮, ২০২২।
৩,৬৫৪.
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) দই
  2. খ) ছোট মাছ
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস।
কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে।
দুধ, মাছ, মাংস, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে তে পটাশিয়াম থাকে।
আয়োডিনের উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান (পৃষ্ঠা নং - ৯৪)।
৩,৬৫৫.
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে কোন ধরনের প্রাণীদের?
  1. ক) কর্ডাটা
  2. খ) মলাস্কা
  3. গ) এনেলিডা
  4. ঘ) নেমাটোডা
ব্যাখ্যা

নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে এনেলিডা পর্বের প্রাণীদের।
এদের দেহ নলাকার, খন্ডকায়িত।
যেমন- কেঁচো, জোঁক।
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী

৩,৬৫৬.
পানিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা য়ায-
  1. ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে
  2. ফিটকিরি দ্বারা থিতিয়ে
  3. অঙ্গার ও বালি স্তরের মধ্য দিয়ে
  4. পানিকে পরিস্রুত করে প্রবাহিত করে, ক্লোরিন মিশিয়ে
ব্যাখ্যা
- সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি।
- নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলাে - 

পরিস্রাবণ: পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশন: যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটন: পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতন: যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। 

এখানে, অপশনের অন্যান্য উপাদানগুলো দিয়েও পানি জীবাণুমুক্ত করা যায়, কিন্তু পানিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা যায় পানিকে পরিস্রুত করে প্রবাহিত করে এবং ক্লোরিন মিশিয়ে। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন (ঘ) পানিকে পরিস্রুত করে প্রবাহিত করে, ক্লোরিন মিশিয়ে কে নেয়া হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫৭.
কোন পদার্থ উদ্ভিদদেহে কলয়েডধর্মী পদার্থ হিসেবে বিদ্যমান? 
  1. শর্করা
  2. স্টার্চ
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ইমবাইবিশন: 
- অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। 
- উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। 
যথা- স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। 
- এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। 
- কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে, তাকে ইমবাইবিশন বলে। 
- আর শোষণকারী পদার্থটিকে হাইড্রোফিলিক পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬৫৮.
পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদান সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. আয়রন
  2. মলিবডেনাম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
• নাইট্রোজেন (N): নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P): নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
পটাসিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
আয়রন (Fe): উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu): টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
• বোরন (B): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
মলিবডেনাম (Mo): অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl): সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কোন খনিজ উপাদান?

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৯.
রক্তনালীতে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য দায়ী কোনটি?
  1. হেপারিন
  2. হিস্টোমিন
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। 
- রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে। আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে। 
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। 
- হেপারিন (Heparin) রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে। 
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৬০.
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সালফারের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি?
  1. বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়
  2. কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়
  3. ডাইব্যাক রোগ হয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। 
- পাতার সরু শিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

বোরন (B): 
- এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬১.
ফুলের অত্যাবশকীয় অংশ কোনটি?
  1. ক) বৃতি
  2. খ) পুংস্তবক
  3. গ) দলমণ্ডল
  4. ঘ) পুষ্পাক্ষ
ব্যাখ্যা
আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবক থাকে।
যথাঃ পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক ফুলের অত্যাবশকীয় অংশ৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬২.
কোন ধমনি কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুসফুসে পরিবহন করে?
  1. ইলিয়াক ধমনি
  2. পালমোনারি ধমনি
  3. মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সকল রক্তনালির মাধ্যমে সাধারণত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সারাদেহে বাহিত হয় তাদের ধমনি বলে। কিন্তু পালমোনারি বা ফুসফুসীয় ধমনি এর ব্যতিক্রম, এটি কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুসফুসে পরিবহন করে।
এছাড়া, 
- ইলিয়াক ধমনি পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে।
- মেসেন্টেরিক ধমনি অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
- সিলিয়াক ধমনি পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৬৩.
অণুচক্রিকা (Platelet) মূলত কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. লোমকোষ 
  2. লিভার 
  3. অস্থিমজ্জা 
  4. হৃৎপিণ্ড 
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬৪.
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক কোনটি?
  1. ক) পাতার বয়স
  2. খ) ক্লোরোফিলের পরিমাণ
  3. গ) আলো
  4. ঘ) পাতার গঠন
ব্যাখ্যা
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক:
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক গুলি হলো -
- আলো,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- পানি ও
- তাপমাত্রা। 

সালোক সংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:
সালোক সংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক গুলি হলো -
- ক্লোরোফিলের পরিমাণ,
- পাতার বয়স,
- শর্করার পরিমাণ,
- পাতার গঠন,
- কয়েকটি ধাতুর উপস্থিতি ইত্যাদি।

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬৫.
উদ্ভিদে মোট প্রস্বেদের সবচেয়ে বড় অংশ কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে? 
  1. মূল প্রস্বেদন
  2. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  3. কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
  4. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৬৬.
মানব দেহের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া সচল রাখে-
  1. ক) ঐচ্ছিক পেশি
  2. খ) অনৈচ্ছিক পেশি
  3. গ) কার্ডিয়াক পেশি
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্‍্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬৭.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. টেট্রা
  2. ডলি
  3. প্রমিথিয়া
  4. ইভ
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:

• কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।



• ক্লোনিং এর জনক: ড. ইয়ান উইলমুট।
• ড. ইয়ান উইলমুট ক্লোন পদ্ধতিতে প্রথম কোন প্রাণী জন্ম দেন : ভেড়া।
• সর্বপ্রথম ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ভেড়ার নাম : ডলি।
• ডলির জন্ম হয় : ৫ জুলাই, ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। (যুক্তরাজ্যে)।
• বিখ্যাত গায়িকা ডলি পারটনের নামানুসারে ক্লোন মেষ শাবকের নাম রাখা হয় ডলি।
• 'ডলি' আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
• 'ডলি' মারা যায়: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন বিড়ালের নাম: সিসি (কার্বন কপি)।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম: টেট্রা।
• বিশ্বের প্রথম ক্লোন ঘোড়ার নাম: প্রমিথিয়া।
• এই ক্লোন শিশুর জন্ম হয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
• প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম দেয়া হয়: ইভ (কন্যা সন্তান)।



Image Source: Jmaes and Institute 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং The Guardian (ডিসেম্বর ২৭, ২০০২) and National Library of Medicine।   
৩,৬৬৮.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?
  1. ক) হরমোন
  2. খ) লালা
  3. গ) পিত্তরস
  4. ঘ) পেপসিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে উদরীয় গহ্বর ডিওডেনামের দুটি বাহুর মাঝ অংশে গোলাপি বর্ণের এবং অনিয়মিত আকৃতির একটি মিশ্র গ্রন্থি।
এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ সে. মি.।
অগ্ন্যাশয়ের সম্মুখ ভাগ প্রশস্ত কিন্তু পশ্চাৎ ভাগ ক্রমশ সরু।
অগ্ন্যাশয়ে দু’ধরনের গ্রন্থি আছে।
যথা- ক. অন্তঃক্ষরা (হরমোন ক্ষরণকারী) গ্রন্থি ও
খ. বহিঃক্ষরা (এনজাইম নিঃস্রাবী) গ্রন্থি।
অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড বা ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৩,৬৬৯.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে -
  1. লাইসোসোম
  2. রাইবোসোম
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ- শক্তি উৎপাদন করে, শ্বসনের জন্য এনজাইম ও কো-এনজাইম ধারণ করে, স্নেহ বিপাকে সাহায্য করে, নিজস্ব ডিএনএ ও আরএনএ উৎপন্ন করে, শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করে।

লাইসোসোমের কাজ-
১। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণু ভক্ষণ।
২। তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিলে কোষস্থ উপাদান ও অঙ্গাণুকে বিগলিত করে ধ্বংস করে যাকে অটোফ্যাগি বলে।
৩। পর্যাপ্ত পরিমাণ এনজাইম থাকায় এরা প্রায় সব ধরনের জৈবিক বস্তু হজম করতে পারে।
৪। এরা জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে। ফলে সম্পূর্ণ কোষটিই পরিপাক হয়ে যেতে পারে।
৫। বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিঃসরণ করে
রাইবোসোমের কাজ-
১। রাইবোসোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্যকরে।
২। এছাড়া স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করে।
নিউক্লিয়াসের কাজ- 
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের কার্য কলাপের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
এটি বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে মাতাপিতার জন্মগত বৈশিষ্ট্যাবলী সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। প্রকৃতপক্ষে নিউক্লিয়াস এর ভেতরে যে ক্রোমোসোম থাকে তারাই বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক ও বাহক।
সূত্রঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৬৭০.
হৃৎপিণ্ড কয় প্রকোষ্ট বিশিষ্ট?
  1. ক) এক প্রকোষ্ঠ
  2. খ) দুই প্রকোষ্ঠ
  3. গ) এক জোড়া প্রকোষ্ঠ
  4. ঘ) দুই জোড়া প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। এরমধ্যে পাতলা প্রাচীর যুক্ত অলিন্দদ্বয়(ডান ও বাম অলিন্দ) উপরে এবং পুরু প্রাচীর বিশিষ্ট নিলয়দ্বয় নিচে অবস্থিত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৬৭১.
বায়ু পরাগী ফুলের একটি উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরিষা
  2. ধান
  3. শিমুল
  4. পাতাশ্যাওলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭২.
প্রোটিনের মূল উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে, তাই প্রোটিন বা আমিষের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন

• আমিষ বা প্রোটিন:

- প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির্দিষ্ট অনুক্রমে অনেকগুলি আলফা অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল পলিমার তৈরি করে এবং তা সঠিকভাবে ভাঁজ হয়ে একটি প্রোটিন তৈরি হয়।
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রনও সামান্য পরিমাণে থাকে।
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৩.
কোনটি প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ? 
  1. জ্যানথিন
  2. অ্যামোনিয়া
  3. ইউরিয়া
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ হলো- ফাইব্রিনোজেন এবং বাকিগুলো হলো প্রোটিনবিহীন জৈব পদার্থ। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৪.
ফলিত জীববিজ্ঞানের শাখা কোনটি?
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) জীবভূগোল
  3. গ) পরজীবীবিদ্যা
  4. ঘ) কোষবিদ্যা
ব্যাখ্যা
ফলিত জীববিজ্ঞান এর শাখা হল: জীবাশ্মবিজ্ঞান, পরজীবীবিদ্যা, জীবপরিসংখ্যানবিদ্যা, মৎস্যবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, অণুজীববিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জিনপ্রযুক্তি, প্রাণরসায়ন, ফার্মেসি ইত্যাদি।
অন্যদিকে অঙ্গসংস্থান, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, কোষবিদ্যা, জীবভূগোল, বংশগতিবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা, ভ্রূণবিদ্যা, এন্ডোক্রাইনোলজি, জীবভূগোল ইত্যাদি হল ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৭৫.
কোনটি হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। যথা-
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।  

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৭৬.
এনজিনা মানুষের শরীরের কোন অঙ্গে হয়?
  1. ক) মস্তিষ্ক
  2. খ) নাক
  3. গ) হৃৎপিন্ড
  4. ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
৩,৬৭৭.
সালোক সংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো-
  1. ১০-১৫%
  2. ১-২ %
  3. ৭০-৮০%
  4. ২০- ৩০%
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছরিয়ে পড়ে।
- তবে কিছু কিছু উদ্ভিদ যেমন আখের ক্ষেত্রে সালোক সংশ্লেষণের কর্মদক্ষতা ৩.৫% ও হয়ে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,৬৭৮.
ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন নেই?
  1. ক) ডি
  2. খ) সি
  3. গ) বি
  4. ঘ) এ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
ডিম ও দুধে কোন ভিটামিন-সি নেই।
৩,৬৭৯.
কোন কণিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. রক্তরস
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শ্বেত রক্তকণিকা
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক. লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে। 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে পৌঁছায়। 
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ। 
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। 

খ. শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। 
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। 
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো। 
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়। 
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৬৮০.
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয়-
  1. ক) মৃৎগত অঙ্কুরোদগম‌
  2. খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌
  3. গ) মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম‌
  4. ঘ) লবণাক্ততা অঙ্কুরোদগম‌
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম। বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়। যেমন- সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৮১.
স্নায়ু কোষের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় থাকে না-
  1. ক) সেন্ট্রিওল
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ বহুভাজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৬৮২.
রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে কী বলে? 
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্রম্বোসিস
  4. থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত হচ্ছে প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন- 

(i) পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

(ii) অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

(iii) লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

(iv)লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

(v) থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

(vi) পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- পারপুরা অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

(vii) থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৮৩.
জবা কি জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. বীরুৎ
  3. গুল্ম
  4. উপগুল্ম
ব্যাখ্যা

• জবা হচ্ছে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।

• বীরুৎ: 
- বীরুৎ ছোট ও নরম কাণ্ডবিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদ। যেমন: ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
- বীরুৎ বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী। 

• গুল্ম:
- গুল্ম হলো মাঝারি আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদ।
- এদের শাখা-প্রশাখা মাটির কাছাকাছি থেকে বের হয়। 
যেমন: জবা, রঙ্গন, গোলাপ ইত্যাদি।

• উপগুল্ম:
- উপগুল্ম গুল্মের চেয়ে ছোট হয়, তবে এতে কিছুটা কাষ্ঠল ভাব থাকতে পারে। যেমন: কালকাসুন্দা, দাদমর্দন।

• বৃক্ষ:
- বৃক্ষ  হলো বিশাল, কাষ্ঠল এবং সাধারণত একটি প্রধান কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ। যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৩,৬৮৪.
নিচের কোনটি ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন সি
  3. গ) ভিটামিন বি১
  4. ঘ) ভিটাবিন বি৫
ব্যাখ্যা
ভিটামিন:
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু’প্রকার -
যথা :
১) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-oluble vitamins).
২) স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন (Fat-soluble vitamins).

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো - ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যেমন- থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো - ভিটমিন এ, ভিটমিন ডি, ভিটমিন ই এবং ভিটমিন কে।

- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৫.
লাইসোজাইম কী ধ্বংস করে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

- রক্তস্থিত রাসায়নিক পদার্থ: রক্তের কিছু রাসায়নিক পদার্থ জীবাণু বিনাশে অংশগ্রহণ করে।
যেমন-
- লাইসোজাইম: এটি এক রকম মিউকোলাইটিক পলিস্যাকারাইড জাতীয় পদার্থ, যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
- বেসিক পলিপেপটাইড: এই পদার্থটি কোনো কোনো গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে ও তাদের নিষ্ক্রিয় ও বিনষ্ট করে।
- প্রোপারডিন: এটি একটি বৃহদাকার প্রোটিন যা গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াগুলো বিনষ্ট করে।
- অ্যান্টিবডি: এরা রক্তের স্বাভাবিক অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে এরা উৎপন্ন হয় এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রতিবিষকে ধ্বংস করে।
- প্রাকৃতিক কিলার সেল: এরা এক ধরনের লিম্ফোসাইট, এরা বিভিন্ন বিজাতীয় কোষ, টিউমার কোষ প্রভৃতিকে বিনষ্ট করে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৬.
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়? 
  1. Azotobacter
  2. Pseudomonas
  3. Rhizobium
  4. Clostridium
ব্যাখ্যা
• পাট শিল্পে ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়।
- ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
- এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও,
- মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন 'বি', থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
- Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকওব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়।
- যেমন- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T)
- এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৭.
পুষ্টি (Nutrition) বলতে কী বোঝায়?
  1. খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান
  2. একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  3. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ
ব্যাখ্যা

• একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া — কারণ পুষ্টি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্য হজম ও শোষিত হয়ে দেহের চাহিদা পূরণ করে।

• পুষ্টি (Nutrition):
- পুষ্টি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
- খাদ্য গ্রহণের পর তা হজম হয়ে রক্তের মাধ্যমে শোষিত হয়ে দেহের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে।
- পুষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি কার্য সম্পন্ন হয়।
- খাদ্য ও পুষ্টি বিষয় দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, কারণ খাদ্য গ্রহণের ফলেই দেহে পুষ্টি সাধিত হয়।
- পুষ্টির অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

• খাদ্য (Food):
- যা আহার করার পর হজম ও শোষিত হয়ে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে তাকে খাদ্য বলে।
- খাদ্য হজম হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে।
- আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করি, যেমন ভাত, রুটি, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল, পানি ইত্যাদি।

• খাদ্যের সাধারণ কাজ:
- দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
- দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করা।
- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

• খাদ্য উপাদান (Nutrients):
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বলে।
- খাদ্য উপাদান ছয়টি — প্রোটিন, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি।
- প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে প্রধান বা ম্যাক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক বা মাইক্রো পুষ্টি উপাদান বলা হয়।
- পানি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য এবং দেহের প্রায় ৬০-৭০% পানি দ্বারা গঠিত।

• অন্যান্য অপশন:
- খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান → খাদ্য উপাদান বা Nutrients বোঝায়।
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা → ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বোঝায়।
- দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ → শক্তির চাহিদা বা ক্যালরি প্রয়োজন বোঝায়।
 
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৮.
Pulmonary শিরা পরিবহন করে -
  1. ক) অক্সিজেন যুক্ত রক্ত
  2. খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) নাইট্রোজেন যুক্ত রক্ত
ব্যাখ্যা

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৯.
রক্ত সংগ্রহ করার জন্য কোণ শিরা সবচেয়ে উপযুক্ত?
  1. ক) মিডিয়ান কিউবিটাল
  2. খ) র‍্যাসিলিক
  3. গ) সেফালিক
  4. ঘ) ফিমোরাল
ব্যাখ্যা
রক্ত সংগ্রহ করা হয় সাধারণত মিডিয়ান কিউবিটাল শিরা থেকে ।

মানুষের এনাটমিতে, মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন (বা মিডিয়ান বেসিলিক ভেইন) হলো হাতের উপরের দিকের একটি ভাসাভাসা শিরা। এটি সিফালিক শিরা এবং বেসিলিক শিরাকে সংযুক্ত করে। চাপ প্রয়োগ করা হলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি নিয়মিতভাবে ভেনিপাংচার (রক্ত নেওয়ার) জন্য এবং শিরায় ক্যানুলা ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে প্রশস্ত লুমেনের কারণে সুই ঢোকানোর সময় স্থির থাকে।
৩,৬৯০.
মূল নেই কোন উদ্ভিদে?
  1. ফণিমনসা
  2. বীরুৎ
  3. মিউকর
  4. সাইকাস
ব্যাখ্যা
- মিউকর এক ধরণের ছত্রাক। 
- মিউকরের মূল হয় না, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড (Rhizoids) থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। 
- এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে, এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ন ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- ফণিমনসা, বীরুৎ ও সাইকাস উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ড আছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৬৯১.
নিচের কোন সারটি জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে?
  1. টিএসপি
  2. এমওপি
  3. ইউরিয়া
  4. এসএসপি
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে।
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে।
- কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) মাটিতে পটাশিয়ামের অভাবে ব্যবহার করা হয়।
- টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও এসএসপি (সিংগেল সুপার ফসফেট) মাটিতে ফসফরাসের অভাবে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৩,৬৯২.
রূপান্তরিত পাতার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নারিকেল পাতা
  2. খ) আকর্ষী
  3. গ) জবা পাতা
  4. ঘ) গোল পাতা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৬৯৩.
ধানের “টুংরো রোগ” - কোনটির কারনে হয়?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পরজীবী
ব্যাখ্যা

ধানের রোগঃ
১. বাদামি দাগ রোগ
কারণ - বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক
২. ব্লাস্ট রোগ (Blast)
কারণ - পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক
৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot)
কারণ - স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক
৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight)
জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
৫. টুংরো (Tungro)
কারণ - রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস
৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra)
কারণ - ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।

৩,৬৯৪.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. মস
  2. মটরশুটি
  3. সাইকাস
  4. ফাণ
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৫.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Chlamydomonas
  2. Spirogyra
  3. Oedogonium
  4. Pithophora
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
• সর্পিলাকার (Spirogyra), 
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩,৬৯৬.
অস্টিয়া কোন পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীরে দেখা যায়?
  1. পরিফেরা
  2. নিডারিয়া
  3. নেমাটোডা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পরিফেরা:
- প্রাণী বিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে এ পর্বের প্রাণিদের চিহ্নিত করা হয়।
- দেহে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় এদের ছিদ্রাল প্রাণীও বলা হয়।
- এই পর্বের সদস্যদেরকে সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৩৬ সালে Grant সর্বপ্রথম এই পর্বটির নামকরণ করেন। 
- এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক প্রজাতির সন্ধান পওয়া গেছে।
- এদের কিছু প্রজাতি মিঠাপানির, অন্যরা সকলেই সামুদ্রিক। এই পর্বের প্রাণীরা পানির তলদেশে বা ভাসমান কোন বস্তুর সাথে সংলগ্ন থাকে।

বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।
- এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল বা ফাইব্রাস নামক প্রোটিনে তৈরি স্পঞ্জিন সমন্বয়ে গঠিত।

উৎস: ১)জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৯৭.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. হাইড্রিলা
  2. কচ্ছপ
  3. বক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৮.
মানুষের রক্তে প্রধানত কত ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৫ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ৪ ধরনের
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এই দুই ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB।
O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

• A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

• B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

• AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৯৯.
অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. পাখি
  3. মাছি 
  4. মাছ 
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। 
- সাধারণত একোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৭০০.
পাতা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য হওয়ার কারণ নয় কোনটি? 
  1. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা বেশি।
  2. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
  3. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকে।
  4. পাতা অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত করে।
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।