বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৪২ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৪,২০৮

৩,৫০১.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
• জারক রস বিতরণ করা রক্তের কাজ নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০২.
নিচের কোন উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায় না?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) আখ
  3. গ) মুথা ঘাস
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
C4 উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়। সাধারণত ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারান্থাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C4 পরিচালিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫০৩.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয় - 
  1. বেনথিক শৈবাল
  2. এপিফাইটিক শৈবাল
  3. লিথোফাইটিক শৈবাল
  4. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ উভমুখী
  2. খ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ চক্রাকার
  3. গ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ একমুখী
  4. ঘ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ অনুপস্থিত
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্য বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী। শক্তির উৎস সূর্য। এ উৎস থেকে শক্তি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদক তথা সবুজ উদ্ভিদে প্রবাহিত হয়। উৎপাদক থেকে তা পর্যায়ক্রমে উচ্চশ্রেণীর খাদকের কাছে যায়। খাদকের দেহ থেকে শক্তি পরিবেশে মুক্ত হয়। শক্তি প্রাথমিক উৎসের কাছে আর ফিরে যায় না।
অর্থাৎ বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৫.
কোন রস শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করে?
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) গ্যাস্টিক রস
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয় রস
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে কতকগুলো এনজাইম নিঃস্রাবী ও নালিযুক্ত গ্রন্থি থাকে, এদেরকে এসিনাই বলে ।
- এরা লোবিউল গঠন করে এবং লোবিউল থেকে ছোট ছোট নালিকা বের হয়ে একত্রিত হয়ে ‘উইরসাং’ নালি গঠন করে।
- এই উইরসাং নালি অগ্ন্যাশয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর ডিওডেনামের কাছে অভিন্ন পিত্তথলির সাথে মিলিত হয়ে অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- অগ্ন্যাশয় থেকে এ নালির মাধ্যমে ক্ষরিত রসকে অগ্ন্যাশয়িক রস বলে ।
- অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড বা ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়ক

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫০৬.
পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশ কোনটি?
  1. ক) গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকগ্রন্থি:
- যে সকল গ্রন্থির ক্ষরণ সরাসরি খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে সে সকল গ্রন্থিসমূহকে বলা হয় “পৌষ্টিকগ্রন্থি”।
- মানুষের পরিপাক গ্রন্থিগুলোকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১। পৌষ্টিক নালির বাইরে অবস্থিত কিন্তু পৌষ্টিক নালির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত গ্রন্থি।
যেমন- লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয়।

২। পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশের গ্রন্থি।
যেমন- গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি ও আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫০৭.
মানুষের দেহে মোট কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ৪৪টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৬টি
  4. ঘ) ৪৭টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
৩,৫০৮.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ম্যাংগানিজ
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য পুষ্টি উপাদান বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ১০টি। এরা হলো নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং আয়রন।
- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ৬টি। এরা হলো জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, কপার এবং ক্লোরিন। 

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৩,৫০৯.
উদ্ভিদে বোরনের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি? 
  1. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়
  2. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায়
  3. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১০.
পত্ররন্ধ্রের কার্যকলাপ (খোলা ও বন্ধ) নিয়ন্ত্রণে কোন খনিজ উপাদান দায়ী?
  1. আয়রন
  2. পটাসিয়াম
  3. মলিবডেনাম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে পটাসিয়াম খনিজ উপাদানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পত্ররন্ধ্রের চারপাশে থাকা রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে কোষের ভেতরে অমোসিস প্রক্রিয়ায় পানি ঢোকে বা বের হয়। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন পানি ঢুকে কোষ স্ফীত হয় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম বের হয়ে গেলে পানি বেরিয়ে কোষ শিথিল হয় ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে উদ্ভিদের গ্যাস বিনিময় ও বাষ্পোৎসর্জন নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) পটাসিয়াম।
 
 পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K):
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg):
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe):
- উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn):
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu):
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

• বোরন (B):
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn):
- অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo):
- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl):
- সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫১১.
ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. বাইনারি ফিশন
  2. বাইনারি ফিউশন
  3. ফিশন
  4. ফিউশন
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার জনন : ব্যাকটেরিয়া দুটি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে। যেমন- অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
অযৌন জনন: ব্যাকটেরিয়া সাধারণত অযৌন প্রক্রিয়ায় দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে। I
দ্বিভাজন পদ্ধতি দ্বিভাজন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির স্বাভাবিক, অত্যন্ত সরল এবং দ্রুততম জনন প্রক্রিয়া। দ্বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৫১২.
ভাইরাসের প্রোটিন আবরণকে কী বলে?
  1. প্লাসিড
  2. ক্যাপসিড
  3. সেন্ট্রোমিয়ার
  4. ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের বিভিন্ন গঠন হয়ে থাকে। সাধারণভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ -
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথাঃ
১) প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড, ও,
২) নিউক্লিক এসিড
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৫১৩.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম কী?
  1. সিসি
  2. ইভ
  3. টেট্রা
  4. প্রমিথিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম ইভ (কন্যা সন্তান)।
- এই ক্লোন শিশুর জন্ম হয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

• ক্লোনিং:

- কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ক্লোনিং এর জনক: ড. ইয়ান উইলমুট।
- ড. ইয়ান উইলমুট ক্লোন পদ্ধতিতে প্রথম কোন প্রাণী জন্ম দেন ভেড়া।
- সর্বপ্রথম ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ভেড়ার নাম ডলি।
- ডলির জন্ম হয় ৫ জুলাই, ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। (যুক্তরাজ্যে)।
- বিখ্যাত গায়িকা ডলি পারটনের নামানুসারে ক্লোন মেষ শাবকের নাম রাখা হয় ডলি।
- 'ডলি' আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
- 'ডলি' মারা যায় ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন বিড়ালের নাম সিসি (কার্বন কপি)।
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম টেট্রা।
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন ঘোড়ার নাম প্রমিথিয়া।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. The Guardian (ডিসেম্বর ২৭, ২০০২) and National Library of Medicine।
৩,৫১৪.
ট্রিপসিন এনজাইম _____ পরিপাকে সহায়তা করে।
  1. আমিষ
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. চর্বি
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহাজ্য করে ট্রিপসিন এনজাইম।
- এটি শুধু আমিষের উপর কাজ করে।
- গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা প্যাক রস নামে পরিচিত।
- লালারসে টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৫১৫.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. Physiology
  2. Morphology
  3. Cytology
  4. Genetics
ব্যাখ্যা
অঙ্গসংস্থান (Morphology) : এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাহ্যিক গঠনকে
বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলে। মানুষের দু’টি পা, দু’টি হাত, দু’টি চোখ,
একটি মাথা, একটি মুখ, একটি নাক, গড়ন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনাহলো বহিঃঅঙ্গসংস্থান।
দেহাভ্যন্তরে হাড়, সন্ধি, পেশির বিন্যাস, বিভিন্ন তন্ত্র ইত্যাদি হলো অন্তঃঅঙ্গসংস্থান।

শারীরবিদ্যা (Physiology) : জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ
এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

কোষবিদ্যা (Cytology) : জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও
বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বংশগতিবিদ্যা (Genetics) : মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায়
আলোচনা করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৫১৬.
সাধারণভাবে, মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় থাকে?
  1. ২১৬
  2. ২০৬
  3. ১২৬
  4. ২৩৬
ব্যাখ্যা

মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) অক্ষীয় কঙ্কাল, 
(২) উপানীয় কঙ্কাল। 

- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঞ্চালিক গঠনকে করোটি বলে। করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- সর্বমোট ১৪টি অস্থি নিয়ে মুখমণ্ডল গঠিত। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫১৭.
নিউক্লিয়াসের সংগঠনের ভিত্তিতে কোষ কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) এক
  4. ঘ) দুই
  5. ঙ) আট
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। আদিকোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত থাকে না এবং প্রকৃত কোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৫১৮.
মানুষের লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহাতে
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃদপিন্ডে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা

• অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
• এদের গড় আয়ু ১২০ দিন।
• হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় রক্ত লাল দেখায়।
• এরা প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।
• রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা বা Anaemia বলে।
• ভিটামিন বি-১২, ফলিক এসিড, আমিষ বা লৌহ স্বল্পতা হলে Anaemia হয়।
• লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।



উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৫১৯.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. ফলিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামিনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামিনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড।

- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।

উৎসঃ ব্রিটানিকা, বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৩,৫২০.
কবে থেকে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা শুরু হয়?
  1. ক) ১৯ শতকের শেষের দিকে
  2. খ) ১৯ শতকের প্রথমার্ধে
  3. গ) ১৮ শতকের শুরুতে
  4. ঘ) ১৮ শতকের শেষার্ধে
  5. ঙ) ১৯ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
১৯ শতকের শেষের দিকে আঙুলের ছাপ ব্যবহার শুরু হয়
উৎসঃতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি- মোঃ মজিবুর রহমান।
৩,৫২১.
আমাদের দেহের গ্রন্থিগুলো তৈরি হয় কোন ধরণের টিস্যুর সাহায্যে?
  1. ক) রিপ্রোডাক্টিভ টিস্যু
  2. খ) মাসক্যুলার টিস্যু
  3. গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
  4. ঘ) কানেক্টিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বা এপিথিলিয়াল টিস্যু বলে৷
আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু নিয়ে গঠিত৷ দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত হয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি
৩,৫২২.
নিচের কোনটি কোষের গুণাবলি রক্ষা করে?
  1. খাদ্যপ্রাণ
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- কেবলমাত্র একটি উপাদান দিয়ে গঠিত-এমন খাদ্যবস্তুর সংখ্যা খুবই কম। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১. আমিষ বা প্রোটিন: এটি ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে। 
২. শর্করা বা শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেট: এটি শক্তি উৎপাদন করে। 
৩. স্নেহ বা চর্বি বা লিপিড: এটি তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া অন্যান্য তিন প্রকার উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। 
যথা- 
১. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: এটি রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
২. খনিজ লবণ: এটি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৩. পানি: পানি দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫২৩.
কুকুরের দেহকোষে ক্রোমোজোমে সংখ্যা-
  1. ক) ১২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ৩০ জোড়া
  4. ঘ) ৩৯ জোড়া
ব্যাখ্যা
All dogs have 78 chromosomes, or 39 pairs of chromosomes (humans have 23 pairs), and one member of each pair comes from each parent. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৫২৪.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়?
  1. Lycopodium
  2. Pteris
  3. Equisetum
  4. Cycas
ব্যাখ্যা
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়- Cycas (সাইকাস), এটি হলো জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদ। 

টেরিডোফাইটা: 

- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৫.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সুপারি
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) জাম
  4. ঘ) পাইনাস
ব্যাখ্যা

সাইকাস এবং পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
এসব উদ্ভিদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলো নগ্ন থাকে। এসব ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ উৎপন্ন করে।
আবৃতবীজী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজ ফলের ভেতর আবৃত অবস্থায় থাকে, তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন: আম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি।

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

৩,৫২৬.
মানবদেহের মেরুদণ্ডে হাড়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ২৬টি।
আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে থাকেঃ
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা 
- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৫২৭.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
  1. লেন্স
  2. কর্নিয়া 
  3. রেটিনা
  4. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
ব্যাখ্যা

ফোবিয়া সেন্ট্রালিস (Fovea centralis):
- অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি রেটিনার একটি অংশে প্রচুর কোণ কোষ দেখা যায়, রড কোষ থাকে না।
- এ অংশকে হলুদ বিন্দু (yellow spot) বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
কাজ: এখানে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

- লেন্স:
- পিউপিলের পিছনে অবস্থিত ও সিলিয়ারী বডির সাথে সাসপেনসরি লিগামেন্টযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ স্থিতিস্থাপক ও দ্বিউত্তল চাকতির মতো অংশকে লেন্স বলে।
লেন্স (Lens) এর কাজ: লেন্সের মাধ্যমে বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার নির্দিষ্ট অংশে প্রতিফলিত হয়।

কর্নিয়া (Cornea):
- স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্নিয়া।
কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

 রেটিনা (Retina):
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী।
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
কাজ: রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২৮.
নিচের কোনটির অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না?
  1. ক) আয়রন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণঃ
নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
পটাসিয়াম (K) এর অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।
ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কঁচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।
সালফার (S) এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাউব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।
বোরন (B) এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

সুত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২৯.
ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনি?
  1. ভার্টিব্রাল ধমনি
  2. ফ্রেনিক ধমনি
  3. সার্ভিকাল ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
 ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩০.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জ্বর
  2. ডায়রিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. কাশি
ব্যাখ্যা

◉ ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

৩,৫৩১.
কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

পুষ্পের রঙিন ও সুন্দর হওয়ার প্রধান কারণ হলো ক্রোমোপ্লাস্ট।
- ক্রোমোপ্লাস্ট হলো প্লাস্টিডের বিশেষ একটি ধরনের অঙ্গাণু যা উদ্ভিদের পুষ্প, ফল, ও কিছুমাত্রিক অংশকে রঙিন ও সুন্দর করে তোলে।
- ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা, হলুদ জাতীয় রঞ্জক যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল সঞ্চিত থাকে, যা পুষ্পকে আকর্ষণীয় রঙ জোগায়।
- ফুলের পাপড়ির রঙ মূলত ক্রোমোপ্লাস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যা পরাগায়নের জন্য পরাগ বাহকদের আকর্ষণ করে।

• প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
- যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।

• ক্রোমোপ্লাস্ট:
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৩২.
সালোকসংশ্লেষনের জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে কোন উপাদান গ্রহন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪ টি।
পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড (এই দুটি প্রধান), সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৫৩৩.
মানুষের শরীরে মোট কতধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩৬
  3. গ) ৫৬
  4. ঘ) ৬৬
ব্যাখ্যা
মানুষের শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৫৩৪.
কোন ধরনের খাদ্য থেকে একই পরিমাণ খাওয়ার পরেও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি আহরণ করা যায়?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) শ্বেতসার
ব্যাখ্যা

এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলােক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)। খাদ্যের ক্যালরিকে কিলােক্যালরি দিয়ে বােঝানাে হয়।
উদাহরণ দেওয়ার জন্য বলা যায়, শর্করা এবং প্রােটিনের ক্যালরি প্রায় সমান, ৪ kcal/g।
স্নেহজাতীয় খাদ্যে অর্থাৎ ফ্যাটের ক্যালরি সবচেয়ে বেশি— এর পরিমাণ ৯ kcal/g। একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বােঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়ােজন।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৫৩৫.
জীবের বংশগতিতে নিচের কোনটি অবদান রাখে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে।

ক্রোমোজোম হচ্ছে নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত কোষের একটি জটিল অঙ্গ, যার মধ্যে জীবের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। ক্রোমোজোমকে বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক বলা হয়।

ক্রোমোজমের কাজসমূহ- 
১। ক্রোমোজোম পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত করে।
২। নিউক্লিয়াসের আকার-আকৃতি প্রদান করে।
৩। প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন প্রজাতির বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
৫। সেন্ট্রোমিয়ার নিউক্লিয়ার বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৩,৫৩৬.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকতে প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন?
  1. ৫.০ মিলিগ্রাম
  2. ০.৫ মিলিগ্রাম
  3. ০.০৫ মিলিগ্রাম
  4. ০.০০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের দরকার হয়। 
- আর তারা এই অক্সিজেন পায় পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন থেকে। 
- জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫.০ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার
- এই অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে গেলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে। 
- যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাচঁতেই পারবে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩৭.
একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে কোন্‌ বক্তব্যটি সঠিক? 
  1. নির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা 
  2. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
  3. অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন 
  4. প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি
ব্যাখ্যা

- টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন অবস্থা। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে (Beta cells) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে অগ্ন্যাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা একেবারেই সামান্য তৈরি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। 

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- ইনসুলিন একটি হরমোন, এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে, এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের। যথা- টাইপ-1 এবং টাইপ-2। 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- এই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। 

- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন-ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 
- পূর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয়। এ ধারণাটি সঠিক নয়। ছোট-বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 
- তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই কোনো ব্যক্তির বাবা, মা, দাদা, দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। 
- বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়, ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩৮.
সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Allium cepa
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Corchorus capsularis
ব্যাখ্যা
Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩৯.
কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু ৩ ধরনের। যথা:
- স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু এবং
- কলামনার আবরণী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪০.
উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) সবুজ কচি কাণ্ড
  2. খ) ফলের সবুজ ত্বক
  3. গ) ফুলের বৃন্ত
  4. ঘ) পাতার সবুজ অংশ
ব্যাখ্যা

- পাতার সবুজ অংশ, সবুজ কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি ও বৃন্ত, ফলের সবুজ ত্বক, থ্যালয়েড সবুজ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ থ্যালাস, কখনো কখনো সাইটোপ্লাজম (কতিপয় সায়ানোব্যাক্টেরিয়াতে সুগঠিত প্লাস্টিড না থাকায়) হলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গসমূহ।
- এদের মধ্যে পাতার সবুজ অংশ হলো উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৫৪১.
নিচের কোনটি পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা? 
  1. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  2. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয়ে যাওয়া
  3. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪২.
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে কোন দুটি হরমোন নির্গত হয়?
  1. ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
  3. থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন
  4. গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স (Islets of Langerhans) থেকে প্রধানত যে দুটি হরমোন নির্গত হয় তা হলো ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন।

ইনসুলিন: অগ্ন্যাশয়ের বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

গ্লুকাগন: আলফা (α) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
এই দুটি হরমোন একসাথে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লুকোজ হোমিওস্ট্যাসিস)। 

অন্যদিকে,
ক) ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন: অ্যাড্রেনালিন হরমোন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়, অগ্ন্যাশয় থেকে নয়।

গ) থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন: থাইরক্সিন এবং ক্যালসিটোনিন হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

ঘ) গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন: গ্রোথ হরমোন এবং প্রোল্যাকটিন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪৩.
উদ্ভিদে ক্লোরোসিস দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন (N):
•নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
•ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা •পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 

ফসফরাস (P):
 •ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
 •পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 

পটাশিয়াম (K):
পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
•বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে।
•পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
•উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

ক্যালসিয়াম (Ca): ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল, বিশেষ করে পাতার কিনারা বরাবর অঞ্চলগুলো মরে যায়। পাতা কুঁকড়ে যায়, ফুল | ফোটার সময় উদ্ভিদের কাণ্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয় ।

লৌহ (Fe): লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয় । | কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৩,৫৪৪.
নিম্নের কোন জোড়া ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে? 
  1. সেন্ট্রোমিয়ার
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ
  3. অটোজোম
  4. সেক্স ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৫.
নিচের জোড়গুলো বিবেচনা করুন-
ভিটামিন              অভাবজনিত রোগ
i) ভিটামিন -D      রিকেট (Ricket)
ii) ভিটামিন E       রাতকানা (Night blindness)
উপরের কোন জোড়টি সঠিকভাবে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শুধু i
  2. শুধু ii
  3. i ও ii উভয়
  4. i ও ii কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- ভিটামিন এ -এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় কিন্তু অপশনে ভিটামিন ই দেওয়া যা সঠিক নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৪৬.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. কুমির
  2. টিকটিকি
  3. কচ্ছপ
  4. নীল তিমি
ব্যাখ্যা
• Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- নীল তিমি,
- বাদুড়,
- ডলফিন,
- মানুষ,
- বানর

• Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী:
- ঘড়িয়াল,
- কুমির,
- কচ্ছপ,
- সাপ,
- টিকটিকি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৪৭.
সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-
  1. ক) ০%
  2. খ) ১০ - ১৫%
  3. গ) ৩ - ৬%
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা

সহজ ভাষায় বললে,
তাত্ত্বিকভাবে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ ১১%
কিন্তু, বাস্তবক্ষেত্রে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা ৩% - ৬%

সঠিক উত্তর গ) ৩ - ৬% সরাসরি নিচের ডকুমেন্টে উল্লেখ করা আছে।

FAO Agricultural Services Bulletin - 128
Chapter 1 -
Biological energy production
[Official Website Link]

 
৩,৫৪৮.
তরুণাস্থি কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) তরল যোজক টিস্যু
  2. খ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  3. গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
  4. ঘ) স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরুণাস্থি- এরা এক ধরনের নমনীয় কঙ্কাল যোজক টিস্যু। এদের মাতৃকা কঠিন অথচ কোমল হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে বড় ফাঁকা স্থান থাকে।
যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাকের ও কানের পিনার তরুণাস্থি, হিউমেরাস, ফিমার ইত্যাদি অস্থির দু’প্রান্তে অবস্থিত তরুণাস্থি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৯.
স্নায়ুতন্ত্রকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ১ ভাগে
  2. খ) ২ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও এর অসংখ্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে স্নায়ুতন্ত্র। স্নায়ুতন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় - মেরুদন্ডী প্রাণিতে।
মেরুদন্ডী প্রাণীরা আজ পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী। এ আধিপত্যের অন্যতম কারণ - উন্নত মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক এবং একক হচ্ছে - নিউরন। অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক গঠিত।
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central nervous system)
২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral nervous system)

উৎসঃ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

তবে, মাধ্যমিক (উন্মুক্ত) ও অষ্টম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বইতে স্নায়ুতন্ত্রকে ৩ ভাগে বিভক্ত দেখানো হয়েছে।
যথা - কেন্দ্রীয়, প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয়।

তবে, এই ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান বোর্ড বইগুলো অধিকতর গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ২ ভাগকে সঠিক উত্তর ধরে নিচ্ছি।

৩,৫৫০.
ভাইরাস সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি সঠিক? 
  1. এদের যেকোনো সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট মিডিয়ামে কালচার করা যায় 
  2. এদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে ডিএনএ এবং আরএনএ থাকে 
  3. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
  4. ভাইরাস হল অণুবীক্ষণিক জীবন্ত প্রাণী
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস নিজেরা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে বা বংশবিস্তার করতে পারে না। তারা জীবন্ত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবিস্তার করে, তাই ভাইরাসকে বলা হয় অবশ্যিক অন্তঃকোষীয় পরজীবী। অন্যদিকে, ভাইরাসে DNA অথবা RNA থাকে কিন্তু উভয়টি একসাথে কখনো থাকে না। 

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনোও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনোও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
যেমন- 
• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- ভাইরাসের মধ্যে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫১.
যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন
  2. খ) গ্লুকাগন
  3. গ) থাইরক্সিন
  4. ঘ) অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
টেস্টোস্টেরন পুরুষের যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন। তবে, নারীদের স্বাস্থ্যগত অনেক দিকের সঙ্গেও এই হরমোনের প্রভাব রয়েছে।
৩,৫৫২.
ডেনড্রাইটের মূল কাজ কী?
  1. অন্য নিউরনকে পুষ্টি প্রেরণ করা
  2. স্নায়ু উদ্দীপনা সংরক্ষণ করা
  3. অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
  4. স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করা
ব্যাখ্যা

- ডেনড্রাইটের প্রধান কাজ হল অন্য নিউরন বা পরিবেশ থেকে স্নায়বিক সংকেত বা তথ্য গ্রহণ করা এবং তা নিউরনের কোষদেহের দিকে পরিচালিত করা। 

নিউরনের গঠন: 
- প্রতিটি নিউরন কোষদেহ এবং প্রলম্বিত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
(a) কোষদেহ (Cell body): 
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত।  এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে। 

(b) প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। 
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের। 
(i) ডেনড্রন (Dendron): 
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে।
- ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে। 

(ii) অ্যাক্সন (Axon): 
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তদুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে, একে মায়েলিন (Myelin) বলে। অ্যাক্সনের শেষ মাথা অ্যাক্সন টারমিনালে বিভক্ত হয়ে যায়, এবং এই টারমিনালগুলো দিয়ে সিন্যাপস মারফত অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে স্নায়ু তাড়না প্রেরণ করা হয়। 
- বহুসংখ্যক অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৫৩.
জলজ উদ্ভিদের কোন টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে?
  1. কোলেনকাইমা
  2. প্যারেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. একটিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- i. প্যারেনকাইমা, ii. কোলেনকাইমা এবং iii. স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা: 
- প্রায় সমান ব্যাসবিশিষ্ট, সাধারণত পাতলা বা পুরু প্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা এ টিস্যু গঠিত। 
- এ প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম হয়। 
- আকৃতিতে এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এ টিস্যুর কোষসমূহের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। 
- এ জাতীয় কোষে ঘন প্রোটোপ্লাজম থাকে এবং এরা জীবিত টিস্যু। 
- উদ্ভিদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকাংশ অংশ বিশেষ করে কোমল অংশ এ টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়। 
- পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে যাকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে তেল, ট্যানিন এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ জমা থাকে। 

কাজ: 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা, ক্লোরেনকাইমা ও মেসোফিল টিস্যুর কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা। 
- জলজ উদ্ভিদের অ্যারেনকাইমা উদ্ভিদকে বা তার অংশবিশেষকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে, ত্বকে অবস্থিত প্যারেনকাইমা প্রতিরক্ষা ও দৃঢ়তা প্রদান করে, জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে অবস্থিত প্যারেনকাইমা খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরি খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে, অন্যান্য টিস্যুর সাথে মিলে দৃঢ়তা প্রদান করে, মুকুল উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে এবং স্ফীত ও রসালো উদ্ভিদে পানি সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৪.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদে যে রোগ দেখা দেয়, তাকে কী বলে? 
  1. রুট রট 
  2. মোল্ড 
  3. ব্লাইট 
  4. ডাইব্যাক 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৫৫.
নিচের কোনটি জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ক্রোমাটিন জালিকা
  3. গ) নিউক্লিউপ্লাজম
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার ঝিল্লী
ব্যাখ্যা

ক্রোমাটিন জালিকা জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে।

ক্রোমাটিন জালিকা (Chromatin reticulum):
কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাট হয় তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়।

ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। কোনো একটি জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যা ওই জীবের জন্য নির্দিষ্ট। এসব ক্রোমোজোমে বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে। পুরুষানুক্রমে বংশের বৈশিষ্ট্য বহন করা ক্রোমোজোমের কাজ।

কোষ জীবদেহের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) গঠনের একক। এককোষী ও বহুকোষী প্রাণীদের কোষে কাজ ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। পৃথিবীর আদি সব ধরনের ক্রিয়াকলাপ যেমন খাদ্যগ্রহণ, দেহের বৃদ্ধি ও প্রজনন ওই এক কোষের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে। বহুকোষী প্রাণীদের দেহকোষের মাঝে ভিন্নতা আছে, আছে বৈচিত্র্যতা।

মানবদেহে নানা ধরনের কোষ আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত। মানবদেহের স্নায়ুকোষ জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। দেহের যে কোনো অংশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা, আবার মস্তিষ্কের কোনো বার্তা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছে দেওয়াই এদের কাজ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৫৫৬.
সাধারণত কোন তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে?
  1. 10°-15° C
  2. 15°-25° C
  3. 30°-40° C
  4. 20°-35° C
ব্যাখ্যা
শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 

শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI2 ও MgCl2 এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩,৫৫৭.
বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. Yeast
  2. Agaricus
  3. Penicillium
  4. Mucor
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:

• ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, পরভোজী বা মৃতজীবী।
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
• উদাহরণ: মিউকর (Mucor), ঈস্ট (Yeast), ব্যাঙের ছাতা/ মাশরুম (Agaricus), পেনিসিলিয়াম (Penicillium)। 
• বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়।
• আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
• এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক।
• Penicillium notatum থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কার করা হয়।
• পেনিসিলিনটি কান, নাক এবং গলার ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
• এছাড়া এটি সাইনাস, ত্বক, নিম্ন শ্বাস নালীর, পেট, অন্ত্র, কিডনি এবং মূত্রাশয়ের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য দায়ী। 

- অপরদিকে, 
• রুটি শিল্পে, পাউরুটি ফোলাতে, মদ্য শিল্পে, খাদ্য উপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ঈস্ট ব্যবহার করা হয়।
• ছত্রাক বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। ধানের পাতায় বাদামী রোগ, আলুর লেটুব্লাইট, আখের লালপচা, চা গাছের ব্লিস্টার বাইট ইত্যাদি রোগের জন্য ছত্রাক দায়ী।    

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৮.
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ কতভাগ?
  1. ক) ৯০
  2. খ) ৯৩
  3. গ) ৯৫
  4. ঘ) ৯৮
ব্যাখ্যা

প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ হয়ে থাকে।
প্রোটোপ্লাস্টের নির্জীব অংশ বাদে অবশিষ্ট অংশটিই প্রোটোপ্লাজম অর্থাৎ, কোষের সমস্ত সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। অন্যভাবে, কোষের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল, কলয়ডালধর্মী সজীব পদার্থকে প্রোটোপ্লাজম বলে। গ্রিক শব্দ protos-প্রথম, plasma-আকার থেকে Protoplosm শব্দটির উৎপত্তি।

আবিষ্কার ও নামকরণ : বিজ্ঞানী পারকিনজি (Purkinje, ১৮৪০) সর্বপ্রথম প্রোটোপ্লাজম কথাটি ব্যবহার করেন। প্রোটোপ্লাজমই যে প্রাণের ভৌত ভিত্তি সে সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বিজ্ঞানী ম্যাক্স সূজ (Max Schultze, ১৮৬৩) এবং টমাস হাক্সলে (Thomas Huxley, ১৮৬৮)।

প্রোটোপ্লাজমের ভৌত বৈশিষ্ট্য:
ক. প্রোটোপ্লাজম অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলি সদৃশ অর্ধতরল আঠালো পদার্থ।
খ. এটি দানাদার ও কলয়ডালধর্মী।
গ. ইহা কোষস্থ পরিবেশ অনুযায়ী জেলি থেকে তরলে এবং তরল থেকে জেলিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘ. প্রোটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি থাকে।
ঙ. উত্তাপ, অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রোটোপ্লাজম জমাট বাধেঁ।

প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য-
রাসায়নিকভাবে প্রোটোপ্লাজমে জৈব এবং অজৈব পদার্থ আছে। এতে অধিক পরিমাণে আছে পানি। জৈব পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে বিভিন্ন ধরণের প্রোটিন, এরপর আছে কার্বোহাইড্রেট ও লিপিড ও ভিটামিন। এছাড়াও আছে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, কপার, ইত্যাদি।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩,৫৫৯.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড?
  1. ক) হাঙ্গর
  2. খ) ক্যাটল ফিস
  3. গ) সিল মাছ
  4. ঘ) কচ্ছপ
ব্যাখ্যা
ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাস উভয়ের তিনটি করে হৃৎপিন্ড আছে।
তাছাড়া ব্যাঙের হৃদপিন্ডে ৩টি প্রকোষ্ঠ এবং মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪ টি প্রকোষ্ঠ আছে।
৩,৫৬০.
Vitamin B9 কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সাইট্রিক এসিড
  2. খ) এসকরবিক এসিড
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত এক প্রকার বি ভিটামিন। 
ফলিক এসিডের অন্য নাম ভিটামিন বি ৯। 
এর কাজ:
- রক্তকণিকা তৈরিতে অংশ নেয়।
- বংশগতির অন্যতম উপাদান ডিএনএ (DNA) গঠনে কাজ করে।
- কোষ গঠন ও বিভাজনে কাজ করে।

 কলিজা, মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি এর ভালো উৎস।
 
Folate is the natural form of vitamin B9, water-soluble and naturally found in many foods. It is also added to foods and sold as a supplement in the form of folic acid; this form is actually better absorbed than that from food sources—85% vs. 50%, respectively. Folate helps to form DNA and RNA and is involved in protein metabolism.

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; https://www.hsph.harvard.edu/
৩,৫৬১.
সবচেয়ে বেশী পটাশিয়াম পাওয়া যায়-
  1. পেয়ারায়
  2. পাকা কলায়
  3. আমে
  4. ডাবে
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম (k): 
- খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি ইত্যাদি পটাশিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। 
- পটাশিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। 
- পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। 
- হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। 
- পটাশিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। 
- হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। 
- মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫৬২.
মানবদেহে শারীরিক চাপ ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে সহায়তাকারী হরমোন কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরক্সিন
  4. অ্যাডরেনালিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির পরিচিতি: 
১। পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland): 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি, কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি। দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট। এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), এডরেনোকর্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে। 

২। থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland): 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত। 

৩। প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি (Parathyroid gland): 
- একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 

৪। থাইমাস গ্রন্থি (Thymus gland): 
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে। শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়। এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন (thymosin) হরমোন নিঃসরণ হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়। 

৫। অ্যাডরেনাল বা সুপ্রারেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland): 
- অ্যাডরেনাল গ্রন্থি কিডনির উপরে অবস্থিত। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন (adrenalin) এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোর একটি। 

৬। আইলেটস অফ ল্যাংগারহ্যানস (Islets of langerhans): 
- আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস অগ্ন্যাশয়ের মাঝে অবস্থিত, এই কোষগুচ্ছ শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এর নালিহীন কোষগুলো ইনসুলিন (insulin)ও গ্লুকাগন (glucagon) নিঃসরণ করে যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

৭। গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি: 
- এটি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণগুলো বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধির পাশাপাশি জননচক্র এবং যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। জনন অঙ্গ থেকে পরিণত বয়সের পুরুষ-দেহে টেস্টোস্টেরন (testosterone) এবং স্ত্রী-দেহে ইস্ট্রোজেন (estrogens) হরমোন উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৬৩.
শক্তি পিরামিডের শীর্ষে অবস্থান করে নিচের কোনটি?
  1. ক) খাদক
  2. খ) চূড়ান্ত খাদক
  3. গ) উৎপাদক 
  4. ঘ) সেকেন্ডারি খাদক
ব্যাখ্যা
- একটি বাস্তুতন্ত্রের নির্দিষ্ট এলাকাতে এবং নির্দিষ্ট সময়কালে বিভিন্ন খাদ্যস্তরের জীব কর্তৃক ব্যবহৃত মোট শক্তির হিসেব অনুযায়ী অঙ্কিত লৈখিক চিত্রকে শক্তির পিরামিড বলা হয়।
- সাধারণত কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকা এবং এক বছর সময়কালের একক হিসেবে ব্যবহৃত শক্তির হিসাব করা হয়। 
- কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকায় এক বছর সময়কালে প্রথম খাদ্যস্তরের জীব তথা উৎপাদক যে পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করে, তা দ্বিতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি, আবার দ্বিতীয় স্তরের সংগৃহীত শক্তি তৃতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি।
-  চতুর্থ স্তরের জীব সবচেয়ে কম শক্তি ব্যবহার করে। এজন্য উৎপাদক পিরামিডের ভূমিতে এবং চূড়ান্ত খাদক শীর্ষে অবস্থান করে
- খাদ্য শৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ সব সময়ই একমুখী। এ শক্তি প্রবাহকে কখনো বিপরীতমুখী করা যায় না। প্রতিটি ধাপে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ শক্তি কমে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম। 
৩,৫৬৪.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কোন এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে? 
  1. লাইপেজ
  2. ট্রিপসিন
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৫.
স্ব-পরাগায়নের ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. একই ফুলে ঘটতে পারে।
  2. বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়।
  3. উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।
ব্যাখ্যা
• পরাগায়ন:
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলা হয়।
- ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত পরাগায়ন।
- পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা-
১. স্ব-পরাগায়ন এবং
২. পর-পরাগায়ন।

• স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।
- স্ব- পরাগায়নের  জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না।
- স্ব- পরাগায়নের ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না এবং প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৬.
সবচেয়ে বড় ঘাস কোনটি?
  1. লাউগাছ
  2. বাঁশ
  3. শিমগাছ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বাঁশ:
- সবচেয়ে বড় ঘাসের নাম বাঁশ।
- বাঁশ বহুল ব্যবহূত কয়েক প্রজাতির ফাঁপা কান্ড বিশিষ্ট ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ।
- কাষ্ঠল বৃক্ষের ন্যায় বৈশিষ্ট্য থাকায় অনেক সময় এটিকে Bambusaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাঁশের পর্বের মধ্যভাগ সুস্পষ্ট ফাঁপা।
- রাইজোম থেকে বাঁশের নতুন কুঁড়ি গজায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে। 
- পরিপুষ্ট বাঁশের রং ধূসর বা হলুদ।
- সাধারনত এই বাঁশ ড্রাগন বাম্বু, জায়েন্ট বাম্বু নামে পরিচিত।
- এর গড় উচ্চতা ৬৫ থেকে ৮২ফিট হয় (২০ থেকে ২৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।
৩,৫৬৭.
রাবার কোন ধরনের টিস্যু?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) ভাজক টিস্যু
  3. গ) স্থায়ী টিস্যু
  4. ঘ) তরুক্ষীয় টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু থেকে তরুক্ষীর (ষধঃবী) নিঃসৃত হয় তাদেরকে তরুক্ষীর টিস্যু বলা হয়। তরুক্ষীর দুধের মত একরকম সাদা, হলুদ অথবা বর্ণহীন আঠালো তরল পদার্থ। তরুক্ষীরে শ্বেতসার, আমিষ, চর্বি, আঠা উৎসেচক ইত্যাদি থাকে।
যেমন: রাবার, আকন্দ, ছাতিম, আফিম ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ জীববিজ্ঞান বই, এসএসসি লেভেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৮.
অস্থি ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে কোনটি?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
  3. গ) লৌহ ও ফসফরাস
  4. ঘ) জিঙ্ক
ব্যাখ্যা

- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি

৩,৫৬৯.
আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ট্রিপসিন
  2. টায়ালিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. লাইপেজ
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৭০.
কোনটির অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়?
  1. ভিটামিন B1
  2. ভিটামিন B12
  3. ভিটামিন B2
  4. ভিটামিন B3
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 

• থায়ামিন (B1)- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
• রাইবোফ্ল্যাভিন (B2)- এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
• নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়।
• এই রোগের উপসর্গগুলি হল স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া), উদরাময় এবং চর্মরোগ বা ডার্মাটাইটিস। 
• পিরিডক্সিন (B6) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
• ফলিক এসিড (B9) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ ব্যাহত হয়।
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগ দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
৩,৫৭১.
কানের পিনা হচ্ছে -
  1. তরুণাস্থি
  2. অস্থি
  3. অস্থিসন্ধি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।  

• তরুণাস্থি (Cartilage):

- তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নরম এবং স্থিতিস্থাপক। এটি যোজক কলার ভিন্নরূপ।
- এর কোষগুলো একক বা জোড়ায় জোড়ায় খুব ঘনভাবে স্থিতিস্থাপক মাতৃকাতে বিস্তৃত থাকে।
- তরুণাস্থি কোষগুলো থেকে কন্ড্রিন নামক এক ধরনের শক্ত, ঈষদচ্ছ রাসায়নিক বস্তু বের হয়। 
- সব তরুণাস্থি একটি তন্তুময় যোজক কলা নির্মিত আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিকন্ড্রিয়াম বলে। এই আবরণটি দেখতে চকচকে সাদা, তাই আমরা সাধারণত তরুণাস্থিকে সাদা, নীলাভ এবং চকচকে দেখতে পাই।
- আমাদের দেহে কয়েক রকম তরুণাস্থি আছে (যেমন কানের পিনার তরুণাস্থি)। তরুণাস্থি বিভিন্ন অস্থির সংযোগস্থলে, কিংবা অস্থির কিছু অংশে উপস্থিত থাকে।

• অস্থিসন্ধি (Joint):
- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে।
- প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- সন্ধিস্থল বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৩,৫৭২.
একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন ফলকে কী বলা হয়? 
  1. অপ্রকৃত ফল
  2. গুচ্ছ ফল
  3. সরল ফল
  4. যৌগিক ফল
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 

ফলের প্রকারভেদ: 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে, যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে, যেমন-আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে, যেমন- আম। 
- এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- সরল ফল দুই প্রকার। 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 
খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। যেমন-শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) যৌগিক ফল: 
- একটি মঞ্জরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল। 

 ৩) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫৭৩.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) লিউকোসাইট
  3. গ) প্লেইটলেট
  4. ঘ) হেপারিন
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। হেপারিন রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৭৪.
ভাইরাসঘটিত রোগ নয় কোনটি?
  1. পোলিও
  2. টাইফয়েড
  3. জন্ডিস
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা

টাইফয়েড হলো একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও,
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- টাইফয়েড,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৩,৫৭৫.
সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের কতটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। 
- বায়ুমণ্ডলের CO2 পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। 
- আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP, NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO2 বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ক্যালভিন চক্র, 
২। হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং 
৩। ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৬.
নিচের কোনটি চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ?
  1. পিউপিল
  2. আইরিশ
  3. রেটিনা
  4. অন্ধবিন্দু
ব্যাখ্যা

• চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ হলো রেটিনা (গ)। রেটিনা চোখের ভেতরের পেছনের অংশে অবস্থিত এক সূক্ষ্ম ঝিল্লি, যেখানে আলোর রশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য আলোকগ্রাহী কোষ বা ফটোরিসেপ্টর (রড ও কোণিকা) থাকে, যা আলো ও রঙ শনাক্ত করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত থেকেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। অন্যদিকে পিউপিল হলো আলো প্রবেশের পথ, আইরিশ রঙ নিয়ন্ত্রণ করে, আর অন্ধবিন্দুতে কোনো আলোকসংবেদী কোষ নেই। তাই রেটিনাই একমাত্র অংশ যা সরাসরি আলো অনুভব করতে সক্ষম।

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৩,৫৭৭.
অস্থি মূলত কোন ধরণের কলার রূপান্তরিত রূপ? 
  1. স্নায়ুকলা
  2. যোজককলা
  3. পেশিকলা
  4. আবরণী কলা
ব্যাখ্যা
অস্থি (Bone): 
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। 
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা। 
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে। 
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। 
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। 
- বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। 
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। 

- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে। 
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 
- এসব খাবারের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
- সূর্যের আলো ত্বকে অবস্থিত কোলেস্টেরলের এমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়, যা যকৃৎ এবং বৃক্কে আরও কিছু ধারাবাহিক পরিবর্তনের পর ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা উচিত। 
- যারা সবসময় ঘরে বসে থাকেন বা সারা শরীর আবৃতকারী পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৮.
Which organ produces bile?
  1. Brain
  2. Kidney
  3. Gallbladder
  4. Liver
  5. Stomach
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8-8.6

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ:
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
৩,৫৭৯.
মানুষের চোখে রড কোষের কাজ কী?
  1. রং দেখা
  2. অন্ধকারে দেখা
  3. আলোর প্রতিসরণ
  4. চোখের আকৃতি বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

- মানুষের চোখে প্রধানত দুই ধরনের আলোক সংবেদনশীল কোষ থাকে রড (Rod) এবং কোন (Cone)
- এই কোষগুলো চোখের রেটিনাতে অবস্থান করে এবং আলো শোষণ করে আমাদের দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করে।

• রড কোষ হলো এমন কোষ যা বিশেষভাবে কম আলো, রাত, বা অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা প্রদান করে।


• রড কোষের বৈশিষ্ট্য ও কাজ:
- অন্ধকারে দৃষ্টি: রড কোষ খুবই সংবেদনশীল, তাই দুর্বল আলো বা অন্ধকারে দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে।
- রং শনাক্ত করতে অক্ষম: রড কোষ কেবল আলোর উপস্থিতি এবং তীব্রতা শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রং চিনতে পারে না। ফলে অন্ধকারে সবকিছু ধূসর বা সাদাটে দেখা যায়।
- চলমান ও নরম আলোর জন্য উপযুক্ত: রড কোষ রাতের আলোতে বা কম আলোতে সৃজনশীল এবং অঙ্গভঙ্গি সমন্বয় করতে সাহায্য করে।

• কোন কোষের সঙ্গে তুলনা:
- কোন কোষ সাধারণ আলোতে রং এবং সূক্ষ্ম বিবরণ দেখতে সাহায্য করে।
- কোন কোষ রঙের তিনটি প্রকার শনাক্ত করতে পারে লাল, সবুজ, নীল।
- রড কোষ কেবল গ্রেস্কেল বা কালো-সাদা আলোর মাত্রা শনাক্ত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রড কোষ হলো রাতের বা দুর্বল আলোতে দৃষ্টি রক্ষাকারী কোষ, যা আমাদের অন্ধকারে দৃষ্টি এবং পরিবেশের আলো অনুযায়ী চোখের অভিযোজন নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

৩,৫৮০.
বৃদ্ধি ও অযৌন জননের জন্য কোন কোষ বিভাজন অপরিহার্য?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) এমাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) মেটাফেজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৫৮১.
নিচের কোনটি জাইলেম টিস্যু?
  1. সীভ নল
  2. সঙ্গী কোষ
  3. বাস্ট তন্তু
  4. ট্রাকিড
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- 
১. জাইলেম টিস্যু ও 
২. ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল,  জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮২.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য কোন গ্যাস দায়ী?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

গ্রীনহাউজ গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 
৩,৫৮৩.
নিচের কোনটিকে কোষের 'Protein Factory' বলা হয়?
  1. নিউক্লিওলাস
  2. প্লাস্টিড
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৫৮৪.
ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয় কোন অংশ থেকে?
  1. ক) শুক্রাশয়
  2. খ) অগ্নাশয় গ্রন্থি
  3. গ) ডিম্বাশয়
  4. ঘ) থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্ট্রেরণ ও রিলাক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
৩,৫৮৫.
৮ টি সংখ্যার গড় ১৫। একটি সংখ্যা যুক্ত করলে গড় হয় ১৭, নতুন সংখ্যাটি কত?
  1. ২৫
  2. ২৯
  3. ৩৩
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৮ টি সংখ্যার গড় ১৫। একটি সংখ্যা যুক্ত করলে গড় হয় ১৭, নতুন সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
৮ টি সংখ্যার গড় ১৫
∴ ৮ টি সংখ্যার সমষ্টি = (১৫ × ৮)
= ১২০

আবার,
৯ টি সংখ্যার গড় ১৭
∴ ৯ টি সংখ্যার সমষ্টি = (১৭ × ৯)
= ১৫৩

∴ নতুন সংখ্যাটি = (১৫৩ - ১২০)
= ৩৩
৩,৫৮৬.
মেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. কেঁচো
  2. ব্যাঙ
  3. কাঁকড়া 
  4. প্রজাপতি 
ব্যাখ্যা

- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৫৮৭.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে সকল প্রাণী অ্যানিম্যালিয়া জগতের অন্তর্ভুক্ত। অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।
এই নয়টি পর্বের প্রথম আটটি পর্বের প্রাণীরা অমেরুদণ্ডী এবং শেষ পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী।
(উৎসঃ ৪১ থেকে ৫০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান থেকে নেয়া)

৩,৫৮৮.
উদ্ভিদ তার সালোকসংশ্লেষনের সময় নিচের কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে?
  1. ইনফ্রারেড
  2. দশ্যমান আলো
  3. আল্ট্রা ভায়োলেট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ তার সালোকসংশ্লেষনের সময় ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। 
- ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি হয়। 
- আমরা ইনফ্রারেড আলো দেখতে পারি না, কিন্তু ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের সাহায্যে দেখা যায়। 
- গাছপালা দ্বারা প্রতিফলিত ইনফ্রারেড আলোর পরিমাণ সঠিকভাবে পরিমাপ করে, আমরা সেই গাছপালা স্বাস্থ্যের অবস্থা নিরূপণ করতে পারি।
 
উৎস: nasa.gov
৩,৫৮৯.
বাঘের হৃৎপিণ্ড কয় প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণির প্রাণীর দেহ লোমে আবৃত থাকে; ব্যতিক্রমি স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া এরা সবাই সন্তান প্রসব করে; উষ্ণ রক্তের প্রাণী; চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে; শিশুরা মাতৃ দুগ্ধ পান করে বড় হয়; এবং এদের হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উদাহরণ : মানুষ, উট, বাঘ। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
৩,৫৯০.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. এন্টোমোলজি
  2. সাইটোলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ইকোলজি
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): 
- জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): 
- জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

ফলিত জীববিজ্ঞান: 
- এ শাখায় রয়েছে জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখা নিচে উল্লেখ করা হলো- 
১। জীবাশ্মবিজ্ঞান (Palaeontology): 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

২। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

৩। পরজীবীবিদ্যা (Parasitology): 
- পরজীবিতা, পরজীবী জীবের জীবনপ্রণালি এবং রোগ সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

৪। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

৫। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): 
- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

- এছাড়াও এ শাখায় মৎস্যবিজ্ঞান (Fisheries), কৃষিবিজ্ঞান (Agriculture), চিকিৎসাবিজ্ঞান (Medical Science), প্রাণরসায়ন (Biochemistry), পরিবেশবিজ্ঞান (Environmental Science), সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান (Marine Biology), বনবিজ্ঞান (Forestry), জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology), ফার্মেসি (Pharmacy), বন্য প্রাণিবিদ্যা (Wildlife), জীবপরিসংখ্যানবিদ্যা (Biostatistics), বায়োইনফরমেটিকস্ (Bioinformatics) ইত্যাদি শাখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯১.
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. লাইসোজোম
  2. গ্যাস্ট্রিক জুস
  3. সিলিয়া
  4. লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
• প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- ত্বক,
- লোম,
- লাইসোজাইম এনজাইম
- সিলিয়া,
- কানের মোম,
- অশ্রু, শ্লেষ্মা ও লালা,
- পাকস্থলির অ্যাসিড ও এনজাইম,
- রেচন ও জনন অঙ্গের অ্যাসিড,
- মাইক্রোবায়োম, 

• দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- ফ্যাগোসাইটস,
- ন্যাচারাল কিলার কোষ,
- কমপ্লিমেন্ট তন্ত্র,
- সাইটোকাইনস,
- ইন্টারফেরন,
- অ্যাকিউট ফেজ প্রোটিন,
- প্রদাহ,
- জ্বর,
- রক্ত তঞ্চন,
• সুনির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর গঠন করে
- স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অর্জিত অনাক্রম্যতা)

• তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:

- লিম্ফোসাইটস,
- অ্যান্টিবডি,
- স্মৃতিকোষ,

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯২.
কোনটির প্রধান কাজ দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ:
- মাছ, ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাদ্য এগুলো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য।
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য ইত্যাদি প্রাণিজ প্রোটিন।
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 

প্রোটিনের কাজ:
১। প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২। দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩। দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৫৯৩.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী? 
  1. Mangifera indica
  2. Corchorus capsularis
  3. Oryza sativa
  4. Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
• আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
• মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

৩,৫৯৪.
ইনসুলিন হচ্ছে একটি -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) অ্যামাইনো এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন হচ্ছে এক ধরনের হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত হয়।
- ইনসুলিন মূলত অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি সরল প্রােটিন।
- রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নির্গমন বৃদ্ধি করে দেয়।
- ইনসুলিন অনুতে ৪৮/৫১টি এমাইনো এসিড থাকে।

"A peptide is a short chain of amino acids. The amino acids in a peptide are connected to one another in a sequence by bonds called peptide bonds. Typically, peptides are distinguished from proteins by their shorter length, although the cut-off number of amino acids for defining a peptide and protein can be arbitrary."
Source: Nature.com

তাই প্রশ্নের ধরন অনুসারে,
সঠিক উত্তর - খ) প্রোটিন।
তবে, যদি অপশনে প্রোটিন না থাকে তাহলে "অ্যামাইনো এসিড" উত্তর হবে।

৩,৫৯৫.
কোলেস্টেরল দেহের কোথায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ত্বকে
  2. মগজে
  3. বৃক্কে
  4. পাকস্থলীতে
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯৬.
কোন ধরনের রক্ত কণিকার ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই?
  1. ক) লোহিত কণিকা
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শ্বেতরক্তকণিকার  ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই। 

- রক্তরসে উপস্থিত বর্ণহীন, বিভিন্ন আকৃতির নিউক্লিয়াসযুক্ত বৃহদাকৃতির রক্তকোশগুলিকে শ্বেতরক্তকণিকা বলে।

শ্বেত রক্ত কণিকা-
- শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
- শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
- শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
- শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৫৯৭.
৭৫ কেজি ওজন বিশিষ্ট একজন বয়স্ক মানুষের প্রতি মিনিটে কত বার শ্বাস-প্রশ্বাস সংঘটিত হয়?
  1. ৮ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১২ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
শ্বাসক্রিয়া: 
- যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায় তাকে শ্বাসক্রিয়া (Breathing) বলে। 
- নির্দিষ্ট সময়ে যে আয়তনের বায়ু ফুসফুসের মধ্যে আসা-যাওয়া করে তাকে ফুসফুসীয় বায়ুপ্রবাহ বা পালমোনারি ভেন্টিলেশন বলে। 
- ৭৫ কেজি ওজন বিশিষ্ট বয়স্ক মানুষে প্রতি মিনিটে ১২ বার প্রশ্বাস-নিশ্বাস সংঘটিত হয়। 
- এ সময়ে ফুসফুসের মধ্যে প্রায় ৬ লিটার বায়ু আসা-যাওয়া করে। 
- বক্ষ ও উদর গহ্বরের মধ্যবর্তী পেশিক্ষয় অনুপ্রস্থ পর্দা (ডায়াফ্রাম) এবং পর্কাশুর ( Ribs) মধ্যবর্তী স্থানসমূহে বিদ্যমান ইন্টারকস্টাল পেশির যুগপৎ সংকোচন-শ্লথে শ্বসনক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- মানুষের শ্বসন কৌশল দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। 
যথা- 
(ক) শ্বাস গ্রহণ ও 
(খ) শ্বাস ত্যাগ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৮.
অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে অক্সিজেন কোষে কোন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে? 
  1. অভিস্রবণ
  2. পরিবহন
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen): 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। 
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে। 
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 
• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে। 
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে। 
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯৯.
কোন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়? 
  1. খণ্ডায়ন 
  2. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
  3. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদন 
  4. অযৌন রেণু সৃষ্টি 
ব্যাখ্যা

অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬০০.
'বাঁধাকপি'তে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি 
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন এ - দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন বি - ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদাম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদ্পিণ্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ।
- ভিটামিন সি - পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন ডি - ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।