বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৫ / ৪২ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ৪,২০৮

৩,৪০১.
'যকৃত কৃমি' একটি _____________ প্রতিসাম্য প্রাণীর উদাহরণ? 
  1. অরীয় 
  2. গোলীয় 
  3. দ্বি-অরীয়
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় 
ব্যাখ্যা

প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 
 
খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 
 
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 
 
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 
 
ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪০২.
নিচের কোনটি ফাইটোহরমোনের উদাহরণ?
  1. লিগনিন
  2. অক্সিন
  3. ক্লোরোফিল
  4. কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়, কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, সেটাই হচ্ছে হরমোন (Hormone)। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে, যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। তাই দেখা যায়, ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪০৩.
গর্ভাবস্থায় নিচের কোনটি স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি?
  1. ক) ৫০ পাউণ্ড
  2. খ) ২৮ পাউণ্ড
  3. গ) ৪০ পাউণ্ড
  4. ঘ) ১৫ পাউণ্ড
ব্যাখ্যা

স্বাভাবিক উচ্চতা ও ওজনের একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য আদর্শ ওজন বৃদ্ধি হলো গড়ে ২৮ পাউণ্ড।
কিন্তু ওজন বৃদ্ধি 25 থেকে 40 পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সোর্স: https://www.urmc.rochester.edu/

৩,৪০৪.
মেরুরজ্জু থেকে কয় জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়?
  1. ১১ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ৩১ জোড়া
  4. ৪৬ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মেরুরজ্জু (Spinal cord):
- মেরুরজ্জু স্নায়ুতন্ত্রের অংশ। 
- মেরুরজ্জু করোটির পেছনে অবস্থিত ফোরামেন ম্যাগনাম (Foramen magnum) নামক ছিদ্র থেকে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মেরুরজ্জু বা সুষুম্না কাণ্ড মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভেতরের ছিদ্রপথে সুরক্ষিত থাকে।
- মেরুরজ্জুতে শ্বেত পদার্থ এবং ধূসর পদার্থ থাকে। তবে এদের অবস্থান মস্তিষ্কের ঠিক উল্টো। অর্থাৎ শ্বেত পদার্থ থাকে বাইরে আর ভিতরে থাকে ধূসর পদার্থ।
- দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ছিদ্র দিয়ে মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়। এসব ঘাড়, গলা, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ের স্নায়ু। এসব স্নায়ু মিশ্র প্রকৃতির।
- মেরুরজ্জীয় স্নায়ুগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে সংকেত আদান-প্রদান করে।
- এই স্নায়ুগুলো ৮ জোড়া সারভিকাল, ১২ জোড়া থোরাসিক , ৫ জোড়া লাম্বার , ৫ জোড়া স্যাক্রাল এবং ১ জোড়া কক্সিজিয়াল স্নায়ু নিয়ে গঠিত। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৩,৪০৫.
ক্লোরোপ্লাস্টে কোন ধরনের রঞ্জক থাকে?
  1. জ্যান্থফিল
  2. ফাইকোএরিথ্রিন
  3. ফাইকোসায়ানিন
  4. ক্যারোটিনয়েড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪০৬.
সর্বাধিক স্নেহজাতীয় পদার্থ কোন খাদ্যে বিদ্যমান?
  1. দুধ
  2. চিনি
  3. আলু
  4. শিম
ব্যাখ্যা
- দুধে ফ্যাটের পরিমাণ - প্রতি ১০০ গ্রামে ১ গ্রাম। 
- চিনিতে ফ্যাট নেই। 
- আলুতে ফ্যাটের পরিমাণ - প্রতি ১০০ গ্রামে ০.১ গ্রাম।
- শিমে ফ্যাটের পরিমাণ - প্রতি ১০০ গ্রামে ১.২ গ্রাম।

উৎস: USDA
৩,৪০৭.
মানুষের চোখের শ্বেত মন্ডলের সামনের অংশের নাম -
  1. রেটিনা
  2. কর্নিয়া
  3. আইরিস
  4. তারার
ব্যাখ্যা
চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. Cycus
  2. Netum
  3. Genetum
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা জীবন্ত ফসিল বলা হয়। 
যেমন- সাইকাস (Cycus)। 

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত, ফলে এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। 
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৯.
নিচের কোনটি মানবদেহের রাসয়নিক দূত হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) উৎসেচক
  2. খ) হরমোন
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) পেশী
ব্যাখ্যা

যে জৈব-রাসায়নিক তরল শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসরিত হয়ে রক্তরস বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংস প্রাপ্ত হয় তাদের হরমোন বলে।

সে হিসেবে হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৪১০.
অমরা গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
  1. প্রোজেস্টেরন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যাড্রানালিন
  4. ইস্ট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এই গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে এবং যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

• ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এই অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

• অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এবং স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪১১.
কোন প্রাণী জিহ্বার সাহায্যে শোনে?
  1. ঘড়িয়াল
  2. কচ্ছপ
  3. গিরগিটি
  4. সাপ
ব্যাখ্যা

- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

৩,৪১২.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে রক্তের কোন কণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়? 
  1. অনুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪১৩.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের- 
  1. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  3. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪১৪.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়। 
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা। 
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে। 
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে। 
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 

- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১৫.
ব্যাকটেরিওলজির জনক কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট কচ
  3. লুই পাস্তুর
  4. এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে, যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 
- বর্তমানে মাইকোপ্লাজমাকেও ব্যাকটেরিয়া হিসেবে ধরা হয়। 
- ১৯৭০ সালের পূর্বে আর্কিব্যাকটেরিয়া এবং ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য জানা সম্ভব হয়নি কিন্তু ১৯৯৬ সালে একটি আর্কিব্যাকটেরিয়ার জিনোম সিকুয়েন্সিং পর্যবেক্ষণ করার পর এদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে। 
- এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে। যেমন- Escherichia coli। 
- এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। 
- মাটি বা পানি যেখানে জৈব পদার্থ বেশি, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও সেখানে বেশি। 
- জৈবসমৃদ্ধ আবাদি মাটিতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তবে বায়ুস্তরের সবচেয়ে উঁচুতে ব্যাকটেরিয়া থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১৬.
আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ডালিয়া
  2. ঝিঙা
  3. শসা
  4. চন্দ্রমল্লিকা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের আলাে-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
(a) ছোটদিনের উদ্ভিদ(Short Day Plant): পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলাে প্রয়ােজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
(b) বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant): পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলাে প্রয়ােজন। যেমন: লেটুস, ঝিঙা।
(c) আলােক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant): পুষ্পায়নে দিনের আলাে কোনাে প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৪১৭.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. ক) অগ্ন্যাশয়
  2. খ) লিভার
  3. গ) পিটুইটারী গ্ল্যান্ড
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৪১৮.
রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে কোন নালির মাধ্যমে?
  1. ফুসফুসীয় ধমনী
  2. ধমনী
  3. শিরা
  4. কৈশিক জালিকা
ব্যাখ্যা
শিরা (Vein):

• যেসব নালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত বা সঞ্চালিত হয়, তাকে রক্তনালি বা রক্তবাহিকা বলে।
• গঠন, আকৃতি এবং কাজের ভিত্তিতে রক্তবাহিকা বা রক্তনালি তিন ধরনের - ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।
• ধমনী: অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায়।  
• কৈশিক জালিকা: ক্ষুদ্রতম ধমনি এবং ক্ষুদ্রতম শিরার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। 
• শিরা: যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। 
• শিরার প্রাচীর ধমনির মতো তিন স্তরবিশিষ্ট।
• শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়।
• এদের নালিপথ একটু চওড়া এবং কপাটিকা থাকে।
• ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে আসা শিরাটি ছাড়া অন্য সব শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে।
• ফুসফুসীয় শিরা বা পালমোনারি শিরা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়।
• একইভাবে, পালমোনারি ধমনী কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায়। 
• লসিকা এক রকম হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ ক্ষারীয় তরল যোজক কলা।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যামিক জীববিজ্ঞান বই। 
৩,৪১৯.
ছত্রাকের জেনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন কে?
  1. ক) মাকসুদুল আলম
  2. খ) মোবারক আহমদ খান
  3. গ) ইসমাইল হোসেন খান
  4. ঘ) বজলুর রহমান
ব্যাখ্যা
২০১২ সালে পাটসহ পাঁচশ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য (জেনোম সিকোয়েন্স) উম্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন।
উল্লেখ্য,
- পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।
- পাট থেকে সবুজ চা উদ্ভাবন করেন ইসমাইল হোসেন খান।

উৎসঃ ডেইলি স্টার আর্কাইভ।
৩,৪২০.
HIV সাধারণত কোন মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না? 
  1. রক্ত 
  2. মাতৃ দুধ 
  3. পানি বা খাদ্য 
  4. যৌন সংস্পর্শ 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রামক রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)।
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি রোগ বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রামক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্তগর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। 
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪২১.
নিম্নের কোন উপাদানটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. চর্বি
  2. শর্করা
  3. আমিষ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রক্তের হিমোগ্লোবিন:
- দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র, রক্তকণিকা ইত্যাদি অধিকাংশই আমিষ দ্বারা তৈরি।
- আমিষ দেহের এন্টিবডি উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- আমিষ/ প্রোটিন রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।

⇒ রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪২২.
কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদে ক্লোরোসিস দেখা দেয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

উৎস:  জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪২৩.
ভাইরোলজির জনক-
  1. ক) দিমিত্রি আইভানোভসকি
  2. খ) এফ. সি. বাডেন
  3. গ) ডব্লিউ. এম. স্ট্যানলি
  4. ঘ) আর. এস. শেফারম্যান
ব্যাখ্যা
ভাইরোলজি বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যেখানে ভাইরাসের আকার, গঠন, বংশবিস্তার, রোগতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। W. M. Stanley-কে ভাইরোলজির জনক বলা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩,৪২৪.
যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. রিব ভাজক টিস্যু
  4. প্লেট ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

মাস ভাজক টিস্যু: 
 - যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কাণ্ডের মজ্জা। 

প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৫.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. পারকিনসন'স
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. সিওপিডি
  4. মায়োকার্ডাইটিস
ব্যাখ্যা
পারকিনসন'স ডিজিজ স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত।

• স্নায়ুরোগ:

- স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
- স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
- স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।
- উদাহরণ: স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪২৬.
পিত্তরসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অম্লীয়
  2. নিরপেক্ষ
  3. ক্ষারীয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪২৭.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH কত?
  1. ৭.০
  2. ৭.২
  3. ৭.৪
  4. ৭.৭
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7।
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৮.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
- যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪২৯.
নিচের কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ক) পিঁপড়া
  2. খ) তেলাপোকা
  3. গ) রাজকাঁকড়া
  4. ঘ) মশা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সূত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৩০.
কোষ বিভাজনে সাহায্য করে কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. সেন্ট্রিওল
  4. রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

সেন্ট্রিওল- একটি স্বচ্ছ দানাবিহীন সাইটোপ্লাজম দ্বারা নিমজ্জিত এবং নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থিত দুটি ফাঁপা নলাকার বা দন্ডাকার অঙ্গাণুকে বলা হয় সেন্ট্রিওল। এটি প্রাণী কোষের সেন্ট্রোসোম এলাকায় অবস্থান করে। উদ্ভিদ কোষে সাধারণত এটি থাকে না। তবে নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ কোষ যেমন ছত্রাকে থাকে।
কাজ- কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্ট্রাল-রে গঠন এবং মেরুনির্দেশ করে। কোষ বিভাজনে সাহায্য করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৪৩১.
RNA ভাইরাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. Harpes simplex
  2. Mumps 
  3. Rubella 
  4. Influenza B 
ব্যাখ্যা

- RNA ভাইরাসের উদাহরণ নয়- Harpes simplex.

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 

- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Harpes simplex (Human), Tipula Iridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), Variola (Human), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic, Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Influenza B (Human), পোলিও (মানব), Rubella (Human), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), Mumps (Human), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rabies (dog), Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, filamentous bacteriophage fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।

৩,৪৩২.
গঠনের দিক থেকে ভাইরাস কতটি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৩,৪৩৩.
ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উপাদান কোনটি?
  1. তামা
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. মলিবডেনাম
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
১। নাইট্রোজেন (N)- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
২। ফসফরাস (P)- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
৩। পটাসিয়াম (K)- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।
৪। ম্যাগনেসিয়াম (Mg)- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
৫। আয়রন (Fe)- উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
৬। ম্যাঙ্গানিজ (Mn)ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
৭। তামা (Cu)- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
৮। বোরন (B)- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
৯। দস্তা বা জিংক (Zn)- অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা (Zn) প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
১০। মলিবডেনাম (Mo)- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
১১। ক্লোরিন (CI)- সুগারবীট এর মূল ও কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৩৪.
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম কী? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. অস্ট্রিয়াম
  4. মেনিনজেস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৩৫.
রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন কোনটি?
  1. ইস্ট্রোজেন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. থাইরক্সিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

•  ইনসুলিন হলো রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন।

• ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

অন্যান্য অপশন:
- ইস্ট্রোজেন: ওভারি (ডিম্বাশয়) থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রজনন এবং সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, গ্লুকোজের সাথে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- অ্যাড্রেনালিন: এটি স্ট্রেসের সময় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে অস্থায়ীভাবে রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করে না।
- থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিপাকীয় হার (Metabolic Rate) নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু গ্লুকোজের সরাসরি নিয়ন্ত্রক নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৩৬.
ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে সহায়তা করে কোনটি? 
  1. ক্যাপসিউল
  2. পিলি
  3. মেসোসোম
  4. সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন: 
- ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। 
- একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো- 
(ক) ফ্ল্যাজেলা, 
(খ) ক্যাপসিউল, 
(গ) কোষ প্রাচীর, 
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন, 
(ঙ) মেসোসোম, 
(চ) সাইটোপ্লাজম, 
(ছ) ক্রোমোসোম এবং 
(জ) প্লাজমিড। 
 
ফ্ল্যাজেলা: 
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত। 
- ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। 
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। 
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে। 

ক্যাপসিউল: 
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। 
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। 
- একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে। 

সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন: 
- কোষ প্রাচীরের ঠিক নিচে সাইটোপ্লাজমকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অবস্থান করে। 
- এটি একটি সজীব ঝিল্লী। 
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত। 
- এর সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক মেটাবোলিক কাজ করে। 

মেসোসোম: 
- ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়। 
- এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৭.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে? 
  1. ভিটামিন ‘কে’
  2. ভিটামিন ‘সি’ 
  3. ভিটামিন ‘বি’
  4. ভিটামিন ‘ডি’
ব্যাখ্যা

- 'ভিটামিন কে' রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৩৮.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) কমলা
  2. খ) নীল
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা

- সাধারণত লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
- কিন্তু সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারনত ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার এবং ৬৮০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৩৯.
নিচের কোনটি মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত?
  1. অডিটরি স্নায়ু
  2. ট্রকলিয়ার স্নায়ু
  3. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
  4. হাইপোগ্লোসাল স্নায়ু
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত "অডিটরি স্নায়ু"।

•  স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
- একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

• করোটিক স্নায়ু:

- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- আমরা যে স্বাদ, গন্ধ, কথা শুনতে এবং অনুভূতি অনুভব করি তাতে করোটিক স্নায়ু সহায়তা করে।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।

• নিম্নে আরো কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
(১) অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(২) অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(৩) অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৪) ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
(৫) ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
(৬) অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৭) ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
(৮) অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
(৯) গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
(১০) ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
(১১) স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
(১২) হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি), গাজী আজমল ও গাজী আসমত।
৩,৪৪০.
নিচের কোনটি শ্বসন প্রক্রিয়ার বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) পানি
  4. ঘ) অজৈব লবণ
ব্যাখ্যা
- শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই রকম হতে পারে।

 

- বাহ্যিক প্রভাবক:

তাপমাত্রা
: ২০° সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫° সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসন হার কমে যায়। শ্বসনের জন্য উত্তম তাপমাত্রা ২০° সেলসিয়াস থেকে ৪৫° সেলসিয়াস।

অক্সিজেন: সবাত শ্বসনে পাইরুবিক এসিড জারিত হয়ে CO₂ ও H₂O উৎপন্ন করে। কাজেই অক্সিজেনের অভাবে সবাত শ্বসন কোনোক্রমেই চলতে পারে না।
পানি: পরিমিত পানি সরবরাহ শ্বসন ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু অত্যন্ত কম কিংবা অতিরিক্ত পানির উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

আলো: শ্বসন কার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলা আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O₂ গ্রহণ ও  CO₂ ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড: বায়ুতে CO₂ -এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার একটু খানি কমে যায়।

- অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:

খাদ্যদ্রব্য
: শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য (শ্বসনিক বস্তু) ভেঙ্গে  শক্তি, পানি এবং CO₂ নির্গত করে, তাই কোষে খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরণ শ্বসন হার নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎসেচক: শ্বসন প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এনজাইমের ঘাটতি শ্বসনের হার কমিয়ে দেয়।

কোষের বয়স: অল্প বয়স্ক কোষে, বিশেষ করে ভাজক কোষে প্রোটোপ্লাজম বেশি থাকে বলে সেখানে বয়স্ক কোষ থেকে শ্বসনের হার বেশি হয়।

অজৈব লবণ: কোনো কোনো লবণ শ্বসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করলেও কোষের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কোষের ভিতরে অজৈব লবণ থাকতে হয়।

কোষমধ্যস্থ পানি: বিভিন্ন শ্বসনিক বস্তু দ্রবীভূত করতে এবং এনজাইমের কার্যকারিতা প্রকাশের জন্য পানির প্রয়োজন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৪৪১.
On the Origin of Species গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) Jean-Baptiste Lamarck
  2. খ) Charles Darwin
  3. গ) Alfred Russel Wallace
  4. ঘ) Gregor Mendel
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ হয়নি
৩,৪৪২.
মানবদেহে ইনসুলিন নিঃসরণ করে ___। 
  1. থাইরয়েড
  2. যকৃত
  3. কিডনি
  4. অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

• ইনসুলিন হলো মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

- রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করিয়ে শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এটি দেহকে সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।

• অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিনের সম্পর্ক:
- প্যানক্রিয়াস হলো একটি অঙ্গ যা পেটের পিছনের দিকে অবস্থান করে।
- এটি দুটি প্রধান কাজ করে; এটি পাচন শক্তি নিঃসরণ এবং হরমোন নিঃসরণ উভয় কাজ করে।
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে ল্যাংগারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামে বিশেষ কোষ থাকে।
- এই ল্যাংগারহ্যান্স এর মধ্যে বিটা কোষ (Beta cells) ইনসুলিন হরমোন উৎপন্ন করে।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করায় এবং গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (যকৃত ও মাংসপেশিতে) বা চর্বি হিসেবে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৩,৪৪৩.
ম্যালপিজিয়ান নালিকা কোন পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ?
  1. Echinodermata
  2. Platyhelminthes
  3. Arthropoda
  4. Annelida
ব্যাখ্যা
•  Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।

• আথ্রোপোডা (Arthropoda):
- এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সকল পরিবেশে বাস করতে সক্ষম। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃপরজীবী ও বহিঃপরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্বলে, স্বাদু পানিতে ও সমুদ্রে বাস করে। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে।
- দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
- মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
- নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আরণী দ্বারা আবৃত।
- দেহে রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমােসিল নামে পরিচিত।
- উদাহরণ : প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশােলা, কাঁকড়া ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
• Echinodermata পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য এবং এদের রেচনতন্ত্র নেই।
• Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩. অষ্টম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
৩,৪৪৪.
শরীরে পানি কত ভাগ কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়?
  1. ১৬%
  2. ১২%
  3. ১৪%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা

• মানব শরীরের প্রায় ৬০%- ৭৫% জল দিয়ে গঠিত। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহন এবং পদার্থবিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানি কমে গেলে ডিহাইড্রেশন হয়। যদি শরীরের মোট পানির পরিমাণের প্রায় ১০%–১৬% কমে যায়, তখন মারাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষভাবে, শরীরে প্রায় ১০% পানি হ্রাস হলে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়ে এবং মানুষ সংজ্ঞা হারাতে পারে। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, অজ্ঞান হওয়া সম্ভব এবং জীবনসংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

সঠিক উত্তর: গ) ১০%
 
- উল্লেখ্য, অধিকাংশ মানুষ ৩–৪% পরিমাণ শরীরের জল কমে গেলেও তা সহজেই সহ্য করতে পারে এবং এতে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয় না। ৫–৮% হ্রাস হলে ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। মোট শরীরের জলের ১০% এর বেশি হ্রাস হলে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, যা তীব্র তৃষ্ণার সঙ্গে যুক্ত থাকে। শরীরের জলের ১৫–২৫% ক্ষতি হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

 • মানবদেহ ও পানি:
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান।
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না।
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি।
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন।
পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে।
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং
- বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৪৫.
মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Amphibia
  2. Aves
  3. Mammalia
  4. Pisces
ব্যাখ্যা
- মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ Pisces শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
- Amphibia এ শ্রেণির প্রাণীরা প্রথম স্থলচর মেরুদণ্ডী। মূলত স্থলচর হলেও জননকালে ডিম পাড়তে এরা পানিতে আসতে বাধ্য হয়। মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর প্রায় সব বসবাসযোগ্য স্থানে উভচর পাওয়া যায়। বর্তমানে এদের প্রজাতির সংখ্যা ৭,১৭১।
- Aves শ্রেণিভুক্ত প্রাণিদের পাখি বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।
- বিবর্তনের দিক থেকে Mammalia সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি। বর্তমানে প্রায় ৬০০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. [springer.com]
৩,৪৪৬.
tRNA- এর 'ক্লোভার-লিফ' মডেল কে প্রণয়ন করেন?
  1. ক) James Watson
  2. খ) R.Holley
  3. গ) Gregor Mendel
  4. ঘ) Walther Flemming
ব্যাখ্যা

tRNA- এর 'ক্লোভার-লিফ' মডেল R.Holley ও তার সহকর্মীরা ১৯৬৫ এ মডেল প্রণয়ন করেন।

এ মডেল অনুযায়ী tRNA এর বাহ্যিক গঠন ক্লোভার পাতার ন্যায় এবং এতে পাঁচটি বাহু থাকে। বাহুগুলো হল- এমাইনো এসিড বাহু, T বাহু, D বাহু, অতিরিক্ত বাহু এবং অ্যান্টিকোডন বাহু।
অপরদিকে, Walther Flemming ১৮৮২ সালে ক্রোমোসোম আবিষ্কার করেন 
Gregor Mendel হলেন বংশগতিবিদ্যার জনক।
James Watson and Francis Crick ১৯৫৩ সালে DNA এর ডাবল হেলিক্স আবিষ্কার করেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৪৪৭.
ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে-
  1. ক) স্থলে
  2. খ) জলে
  3. গ) বাতাসে
  4. ঘ) সর্বত্র
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে। এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে। যেমন- Escherichia coli। এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। মাটি বা পানি যেখানে জৈব পদার্থ বেশি, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও সেখানে বেশি। জৈবসমৃদ্ধ আবাদি মাটিতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে বায়ুস্তরের সবচেয়ে উঁচুতে ব্যাকটেরিয়া থাকে না।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৩,৪৪৮.
ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য তার যে গঠন দায়ী তা হলো—
  1. পিল্লি
  2. ফ্লাজেলা
  3. শীথ
  4. ক্যাপসুলস
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার তার যে গঠন দায়ী হলো ফ্ল্যাজেলা। 
- ফ্ল্যাজেলা: ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত। 
- ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করা। 
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে রাখতে পিলি সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৪৯.
ডারউইনবাদ কিসের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার
  2. পরিবেশগত চাপ
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  4. জীন পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনিজম মূলত প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) মতবাদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
- উল্লেখ্য: 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' হলো ল্যামার্কবাদের মূল ভিত্তি।

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব:
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক -বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
- জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন।
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫০.
অণুচক্রিকা (Platelet) সম্পর্কে কোনটি সঠিক? 
  1. এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে 
  2. এতে নিউক্লিয়াস থাকে 
  3. এটি দীর্ঘায়ু কোষ যা প্রায় ৬ মাসের উপড়ে বেঁচে থাকে
  4. এটি সম্পূর্ণরূপে অস্থিমজ্জার অংশ নয়
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইটকে ইংরেজিতে প্লেটলেট (Platelet) বলে। অণুচক্রিকাগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় দেড় থেকে সাড়ে চার লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা সাধারণত আরো বেশি বা কম হয়। 

- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। 
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। 
- থ্রমবিন পরবর্তীকালে রক্তরসের প্রোটিন-ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাঁধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। 
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষতস্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। 
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫১.
প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে কীভাবে সাহায্য করে? 
  1. উদ্ভিদকে ঠান্ডা রাখে
  2. কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে
  3. পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সহায়ক হয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য, তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। 
- শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়, এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়। 
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। 
যথা- ১. পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন, ২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

প্রস্বেদনের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়, এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি "Necessary evil"। 
- তবুও প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত থাকে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণের সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। এটি উদ্ভিদদেহকে ঠান্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। - প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। 
- পাতায় প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় পানির যে টান সৃষ্টি হয়, তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণ ও উদ্ভিদের শীর্যে পরিবহনে সাহায্য করে। 
- উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের মতো পরিবেশে তেমন কোনো প্রভাব রাখে না। তবে পানিচক্রে বাষ্পীভবনে, অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের পানি জলীয়বাষ্প হিসেবে বায়ুমন্ডলে প্রেরণ করতে স্থলজ উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে। 
- প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৫২.
নিচের কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদের বৈশিষ্ঠ নয়?
  1. স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন হয়।
  2. উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না।
  3. দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
  4. শুষ্ক পরিবেশে বেশি জন্মে।
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে।
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এরা সমাঙ্গঁদেহী উদ্ভিদ। যথা: স্পাইরোগাইরা।
- আবার কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। তবে সাধরণত উদ্ভিদের ন্যায় মূল নেই। মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড রয়েছে।
- এদের স্যাঁতসেঁতে ইট, মাটি, দেয়াল ও গাছের বাকলে জন্মাতে দেখা যায়।
- এ ছাড়া পানিতে ভাসমান অবস্থায়ও এদের দেখা যায়। সাধারণত এরা পুরাতন ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে ঠাসা ঠাসিভাবে জন্মে। যেমন : মস।
- ফার্ন অপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে সর্বোন্নত উদ্ভিদ।
- ফার্নের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। বাড়ির পাশে স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এরা প্রচুর পরিমাণে জন্মে। যেমন: ঢেঁকিশাক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৪৫৩.
রক্ত কণিকার উৎপত্তি কোথায় ঘটে?
  1. ফুসফুস 
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. অস্থিমজ্জা
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকার উৎপত্তি প্রধানত অস্থিমজ্জাতে ঘটে। অস্থিমজ্জা হল হাড়ের মধ্যবর্তী স্পঞ্জ জাতীয় অংশ, যা লাল ও হলুদ মজ্জা দ্বারা গঠিত। লাল অস্থিমজ্জা মূলত রক্তকণিকা উৎপাদনের জন্য দায়ী। এখানে স্টেম সেল বা মূল কোষ থাকে, যেগুলো থেকে লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা এবং রক্তের অন্যান্য কোষ গঠিত হয়। শিশু ও তরুণদের হাড়ের অধিকাংশ অংশে লাল অস্থিমজ্জা থাকে, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কিছুটা কমে যায় এবং হলুদ মজ্জার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই রক্ত কণিকার উৎপত্তি অস্থিমজ্জাই।

- সঠিক উত্তর: গ) অস্থিমজ্জা।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

৩,৪৫৪.
কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?
  1. ডারউইন
  2. লুই পাস্তুর
  3. প্রিস্টলী
  4. ল্যাভয়সিয়ে
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। 
- তিনি ছিলেন ফ্রেঞ্চ রসায়নবিদ এবং অণুজীববিজ্ঞানী। 
- ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন এবং টিকাজগতে বিপ্লব ঘটান। 
- এছাড়াও তিনি মুরগির কলেরা, গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স, পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: ব্রিটনিকা।
৩,৪৫৫.
লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার হয়-
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা বেড়ে গেলে
  2. খ) অণুচক্রিকা কমে গেলে
  3. গ) শ্বেত রক্তকণিকা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে
  4. ঘ) শ্বেত রক্তকণিকা কমে গেলে
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি৷
৩,৪৫৬.
যকৃত কোন ভিটামিন সঞ্চয় করতে পারে না?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
- যকৃতের ভিটামিন সি সঞ্চয় করা সম্ভব নয়, কারণ ভিটামিন সি (আসকর্বিক অ্যাসিড) একটি জলে-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা শরীরের মাধ্যমে সহজে ফেলে দেওয়া হয়। 

যকৃত: 

- দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত পেটের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত। 
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। 
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। 

- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে। 
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। 
- যকৃত ভিটামিন এ, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। 
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে। 
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। 
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। 
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৭.
নিম্নলিখিত কোনটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট?
  1. Zn
  2. N
  3. Cu
  4. Mo
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন (N) একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। 

(a) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান (macro-nutrient বা macro-element):
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। ম্যাক্রো উপাদান 9 টি, যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S)।

(b) মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান (micro-nutrient বা micro-element):
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট 7 টি, যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), ক্লোরিন (Cl) এবং লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫৮.
আমিষের গঠন একক কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. কার্বন
  4. ম্যালিক এসিড
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (০₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়।
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- উৎস অনুসারে আমিষ দুই প্রকার-
• প্রাণিজ আমিষ।
• উদ্ভিজ্জ আমিষ।

⇒ আমিষের কাজ:
• দেহ কোষ ও পেশি গঠন।
• ক্ষয়পূরণ।
• দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি।
• দেহকে এডিমা (শরীরে পানি জমা) হতে রক্ষা করা।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৫৯.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কোনটি?
  1. ৫০-১০০ mg/dl
  2. ১০০-২০০ mg/dl
  3. ১৫০-২৫০ mg/dl
  4. ২৫০-৩৫০ mg/dl
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl. 
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে। 
- মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 
-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। 
- LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬০.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
ফুল:
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের একটি যৌন প্রজনন অঙ্গ।
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
- এর যে কোনো একটি অংশ না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
- এটি আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা-
• পুষ্পাক্ষ,
• বৃতি,
• দলমন্ডল,
• পুংস্তবক,
• স্ত্রীস্তবক।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬১.
আরশোলা কোন পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী? 
  1. ক) Annelida
  2. খ) Arthropoda
  3. গ) Mollusca
  4. ঘ) Platyhelminthes
ব্যাখ্যা

আরশোলা Arthropoda পর্বের প্রাণী।
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল দিয়ে দেহ আবৃত এবং সম্পূর্ণ জীবনকালে পুরানো বহিঃকঙ্কালটি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিত্যক্ত হয় এবং পর্যায়ক্রমে নতুন বহিঃকঙ্কাল গঠিত হয়।
২. বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত দেহের প্রতি খণ্ডকে পার্শ্বীয় সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ (Jointed appendages) বর্তমান।
৩. হিমোসিল (Haemocoel) নামক প্রকৃত সিলোম উপস্থিত যা রক্ত তথা দেহ তরলে (Body fluid) পূর্ণ।
৪. মস্তকের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি পুঞ্জাক্ষি (Compound eye) বর্তমান।
৫. এদের রেচন অঙ্গ হচ্ছে সবুজ গ্রন্থি (Green glands) অথবা মালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)।
৬. শ্বসন চলে দেহপ্রাচীর (Body surface), ফুলকা (Gills), ট্রাকিয়া (Tracheae) অথবা গ্রন্থ-ফুসফুস (Book-lungs) এর মাধ্যমে।
৭. সাধারণত একলিঙ্গ (Dioecious)। এদের নালীযুক্ত প্রজনন অঙ্গ বর্তমান। অনেকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) প্রক্রিয়ায় বংশ বিস্তার করে থাকে।
৮. নিষেক সাধারণত অভ্যন্তরীণ, পরিস্ফুটন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে এক বা একাধিক লার্ভা দশা দেখতে পাওয়া যায়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩,৪৬২.
উদ্ভিদে প্রধানত কোথায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে?
  1. মূল 
  2. কাণ্ড 
  3. পাতা 
  4. ফুল 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। 
- এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়, খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৬৩.
DNA কাঁটার জন্য বিশেষ কোন এনজাইম ব্যবহার করা হয়? 
  1. লাইগেজ এনজাইম
  2. লেকটেজ এনজাইম
  3. লাইপেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো - 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৪.
এ্যাজোলা কী? 
  1. পাহাড়ি আগাছা
  2. শস্যজাতীয় উদ্ভিদ
  3. মাটির নিচের উদ্ভিদ
  4. ভাসমান জলজ পানা
ব্যাখ্যা
এ্যাজোলা: 
- এ্যাজোলা হচ্ছে ভাসমান জলজ পানা, যা পুকুর, ডোবা, নালা, ধানের জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- এ্যাজোলার দৈহিক ওজন প্রতি ৫ দিনে দ্বিগুন হতে পারে। 
- এ্যাজেলা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে। 
- বোরো ধানের জমিতে অতি সহজ ও সফলভাবে এ্যাজোলা চাষ করা যায়। 
- এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা ও গুনাগুনের উন্নয়ন ঘটায়। 
- এ্যাজোলা ব্যবহার করলে সালফার ও জিংকের ঘাটতিও দূর হয়। 
- এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা এ্যাজোলি (Anabaena asollae) নামক নীলাভ সবুজ শেওলার একটি প্রজাতি মিথোজীবীরূপে বাস করে যা বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন সংযোজন করে এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে জমা করে। 
- এ এ্যাজোলা মাটিতে চাষ দিয়ে মেশালে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৫.
নিচের কোনটি আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ফুলের গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয়
  2. এদের এন্ডোস্পার্ম ট্রিপ্লয়েড
  3. এদের জাইলেম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে
  4. বীজ ফলের ভেতরে থাকে
ব্যাখ্যা
আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
১। এদের ফুল হয়।
২। ফুলের গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয়।
৩। বীজ আবৃত অবস্থায় অর্থাৎ ফলের ভেতরে থাকে ।
৪। এদের কোন অবস্থায়ই আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয় না।
৫। এদের দ্বিনিষেক ঘটে।
৬। এদের এন্ডোস্পার্ম (বীজের শাঁস) ট্রিপ্লয়েড, নিষেকের পর তৈরি হয়।
৭। এদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল থাকে।
৮। এদের ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৬.
প্রাণিদেহের তরল যোজক কলা কোনটি?
  1. ক) কোমলাস্থি
  2. খ) লসিকা
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) ঘাম
ব্যাখ্যা

- তরল যোজক কলার মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। তরল যোজক কলা দুই ধরনের- রক্ত এবং লসিকা।
- কোমলাস্থি ও অস্থি হলো স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।
- মূত্র ও ঘাম হলো দেহ থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থ।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৩,৪৬৭.
জীবদেহের কোথায় শ্বসন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসে
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
  3. গ) কোষ গহ্বরে
  4. ঘ) ক্রোমোজোমে
ব্যাখ্যা

মাইট্রোকন্ডিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। মাইট্রোকন্ডিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৬৮.
ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের হওয়ার জন্য প্রধানত দায়ী -
  1. ক) ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড।
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়।

প্লাস্টিডের কাজ:
খাদ্য প্রস্তুত করে, খাদ্য সঞ্চয় করে, পরাগায়নে সাহায্য করে এবং ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে।

উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। যথা— ক্রোমোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
(A) ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে । এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

(B) ক্লোরোপ্লাস্ট- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে। এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়। এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। যেমন- হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন। ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হয়, তবে বড় বড় উদ্ভিদে সাধারণত লেন্স আকৃতির হয়। এটি প্রধানত সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে।

(C) লিউকোপ্লাস্ট- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। মাটির নিচের অংশ, তথা রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। এটি খাদ্য সঞ্চয় করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৯.
কোন উদ্ভিদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে? 
  1. ইস্ট
  2. ধান
  3. পাইনাস
  4. সরিষা
ব্যাখ্যা
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
 
নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কিন্তু ডিম্বক থাকে। 
- ফলস্বরূপ নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হলেও গর্ভাশয় না থাকায় কোনো ফল তৈরি হয় না। 
- এজন্য এদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- সাইকাস, পাইনাস, থুজা ইত্যাদি এ ধরনের উদ্ভিদ। 

অন্যদিকে, 
- ধান, সরিষা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ, এদের বীজ ফলের ভিতরে থাকে। 
- ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক, এদের কোনো বীজ তৈরি হয় না। 
- ইস্ট স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭০.
কোষঝিল্লির গঠন কোন মডেল দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. Fluid Mosaic Model
  2. Double Helix Model
  3. Cell Theory
  4. Osmotic Model
ব্যাখ্যা

• কোষঝিল্লি হলো একটি দ্বিস্তরীয় লিপিড যার মধ্যে প্রোটিন অণুগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। S. J. Singer ও G. L. Nicolson ১৯৭২ সালে প্রস্তাব করেন যা ফ্লুয়িড মোজাইক মডেল হিসেবে পরিচিত।

- কোষঝিল্লি হলো কোষের বহিঃস্তর যা কোষের ভেতরের উপাদানকে বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা করে রাখে।
- এটি আর্ধভেদ্য, অর্থাৎ কিছু পদার্থকে প্রবেশ করতে দেয় এবং কিছু পদার্থকে বাধা দেয়।
- কোষের ভিতরে বাইরে পানি, আয়ন ও পুষ্টির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষঝিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর মূল ধারণা:
- তরল: বোঝায় যে ঝিল্লির গঠনটি স্থির নয়, বরং চলমান ও নমনীয়।
- মোজাইক: বোঝায় প্রোটিন ও লিপিড অণুর ছকছক বিন্যাস, যা একে মোজাইক চিত্রের মতো দেখায়।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর বৈশিষ্ট্য:
- ঝিল্লি নমনীয় ও গতিশীল।
- প্রোটিনগুলো লিপিড স্তরের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- কোষঝিল্লি selective permeability প্রদর্শন করে।
- এটি communication, transport ও recognition প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
 
 তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৩,৪৭১.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন কতটুকু?
  1. ক) প্রায় ২-৩ কেজি
  2. খ) প্রায় ১.৫-২ কেজি
  3. গ) প্রায় ০.৫-১ কেজি
  4. ঘ) প্রায় ৩-৪ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver):
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়।
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত।
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি।
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত।
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে।
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা।
- পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ।
- এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে।
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই।
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭২.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) মুথা ঘাস
  3. গ) ভুট্টা
  4. ঘ) ধান
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদ: ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়।
যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

Cউদ্ভিদ: যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৩.
প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে প্রধানত কোন রোগ হতে পারে?
  1. স্কার্ভি 
  2. ডায়াবেটিস
  3. অস্টিওমালেসিয়া
  4. হার্ট অ্যাটাক
ব্যাখ্যা

- প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে যে রোগটি হতে পারে তা হলো অস্টিওমালেসিয়া, যা হাড় নরম ও দুর্বল করে তোলে এবং হাড়ে ব্যথা ও পেশী দুর্বলতার কারণ হয়; এটি শিশুদের রিকেটসের প্রাপ্তবয়স্কদের রূপ, যেখানে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 

ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি -এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওমালেসিয়া রোগ হয়, যেখানে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। 
- দৈনিক চাহিদার থেকে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে, যার ফলে বমি, দুর্বলতা, মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি, হাড়ের ব্যথা এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- স্কার্ভি (Scurvy) ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাব ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 
- দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন ডি-এর অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৭৪.
উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. নিঃসরণ
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিসরণ
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৫.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে শিরাবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  2. সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  3. শিরা-উপশিরা গুলো পরস্পর আলাদা থাকে
  4. রেটিকুলেট ভিনেশন দেখা যায় না
ব্যাখ্যা
• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা বা রেটিকুলেট শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 

• পত্রফলকের শিরাবিন্যাস:
পত্রফলকে মধ্যশিরা (অথবা একাধিক প্রধান শিরা), শিরা, উপশিরা থাকে। যে নির্দিষ্ট রীতিতে শিরা-উপশিরাগুলো পত্রফলকে বিন্যস্ত থাকে তাকে শিরাবিন্যাস বলে।
-ফলকের শিরাবিন্যাস উদ্ভিদ শনাক্তকরণে কাজে লাগে। 

• পাতার শিরাবিন্যাস ২ প্রকার। যথা:
→  রেটিকুলেট ভিনেশন (Reticulate venation) বা জালিকা শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরা-উপশিরা ও এদের শাখা-প্রশাখাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি জালের মতো সৃষ্টি করলে তাকে জালিকা শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
- শিরাগুলো শাখান্বিত হয়ে জালের মতো আকৃতি তৈরি করে।
- উদাহরণ- আম, জাম, শিমের পাতা।

→  প্যারালেল ভিনেশন (Parallel venation) বা সমান্তরাল শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরাগুলো পরস্পর যুক্ত না হয়ে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকলে তাকে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 
- শিরাগুলো সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে।
- উদাহরণ-  ধান, গম, ঘাস। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৪৭৬.
লাল টিউলিপ ফুলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে কোনটির আক্রমণে?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৭.
কোন উদ্ভিদের পাতা থেকে নতুন গাছ জন্মায়?
  1. পাথরকুচি
  2. ডালিয়া
  3. ওলকচু
  4. ফণীমনসা
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৮.
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের দেহ কেমন আকৃতির? 
  1. গোলাকার
  2. লম্বাটে
  3. চ্যাপ্টা
  4. শুঁড়বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৭৯.
কোন পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক?
  1. ক) মলাস্কা
  2. খ) একাইনোডার্মাটা
  3. গ) নিডারিয়া
  4. ঘ) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

এই পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক। পৃথিবীর সকল মহাসাগরে এবং সকল গভীরতায় এদের বসবাস করতে দেখা যায়। এরা অধিকাংশ মুক্তজীবী।
দেহত্বক কাঁটাযুক্ত। দেহ পাঁচটি সমান ভাগে বিভক্ত।
পানি সংবহনতন্ত্র থাকে এবং নালিপদের সাহায্যে চলাচল করে। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে, অঙ্কীয় ও পৃষ্ঠদেশ নির্ণয় করা যায় কিন্তু মাথা চিহ্নিত করা যায় না।
উদাহরণ: তারামাছ, সমুদ্র শশা।

৩,৪৮০.
কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীটি ডিম দেয়?
  1. ক) কচ্ছপ
  2. খ) সীল
  3. গ) বাদুর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রায় সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন- বাদুড়, ক্যাঙ্গারু, সীল ইত্যাদি সন্তান প্রসব করে।
কিন্তু একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাটিপাস ডিম পাড়ে । প্লাটিপাসকে জীবন্ত জীবাশ্মও বলা হয়ে থাকে।

কচ্ছপ স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪৮১.
DNA কী?
  1. ক) ক্রোমোজোম
  2. খ) জাইগোট
  3. গ) নিউক্লিওপ্লাজম
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮২.
কোন হরমোনের প্রভাবে মানুষের মাথার চুল পড়ে যায়?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন হরমোন
  2. খ) অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন
  3. গ) সোমাটোট্রফিন হরমোন
  4. ঘ) প্যারাথাইরয়েড হরমোন
ব্যাখ্যা

নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ - অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন।
- এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে।
- যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদেরই বেশি করে চুল পড়ে।
- নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে।

অন্যদিকে, 
- অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রভাবে ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়।
- টেস্টোস্টেরন হরমোনের জন্য দাড়ি গোঁফ গজায়।
- প্যারাথাইরয়েড হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট। 

৩,৪৮৩.
পনির তৈরিতে ব্যবহৃত এনজাইমের নাম-
  1. ক) পেপেইন
  2. খ) রেনিন
  3. গ) ক্যাটালেজ
  4. ঘ) পেকটিন
ব্যাখ্যা
- পনির হলো দুধ থেকে উৎপাদিত দুগ্ধ আমিষ জাতীয় খাদ্য।
- পনিরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন রয়েছে।
- পনির দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে অন্যতম পণ্য যা রেনিন নামক এনজাইম দুধের ননীকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং পরে ননী থেকে পনির তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) এর ওয়েবসাইট।
৩,৪৮৪.
আমিষ বেশি আছে কোনটিতে?
  1. ক) মুগ ডাল
  2. খ) মসুর ডাল
  3. গ) খাসির মাংস
  4. ঘ) ইলিশ মাছ
ব্যাখ্যা
ইউএসডিএ (USDA) ওয়েবসাইট অনুসারে,
রান্নার পূর্বে মসুর ডালে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষের পরিমাণ ২৬ গ্রাম। 
অপরদিকে, সিদ্ধ মসুর ডালে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষের পরিমাণ ৯ গ্রাম। 
 
রান্নার পূর্বে খাসির গোশতে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষের পরিমাণ ২১ গ্রাম। 
সিদ্ধ খাসির গোশতে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষের পরিমাণ ২৭ গ্রাম। 
 
পুষ্টিবিদগণ রান্না করার পর বা সিদ্ধ করার পর তার পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে থাকে, সেই বিবেচনায় মসুর ডালের তুলনায় খাসির গোশতে আমিষের পরিমাণ বেশি। 
 
============
অপরদিকে,
কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) অনুসারে,
খাদ্যের আমিষের প্রধান উৎস হলো দানাশস্য, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ। এদের মধ্যে আমিষের মাত্রার তারতম্য রয়েছে। 
দানা শস্যের আমিষের পরিমাণ শতকরা ৬-১২ ভাগ যা ডাল শস্যে ২০-২৫ ভাগ। 
মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে আমিষের পরিমাণ যথাক্রমে শতকরা ১৮-২৫, ১৬-২৫, ১০-১৪ এবং ৩-৪ ভাগ। 

 
 
চার্টে মাংস (লাল) এর তুলনায় ডাল বীজে আমিষের শতকরা হার বেশি দেওয়া রয়েছে বলে ডালবীজকে উন্নতমানের আমিষ বলা যাবে না। কারণ 
 প্রাণীজ আমিষে কোন কোন অ্যামাইনাে অ্যাসিডের কিছুটা ঘাটতি থাকলেও সবগুলো অ্যামাইনাে অ্যাসিডই মোটামুটি ভালো পরিমাণে বিদ্যমান থাকে বলে মাছ, মাংস, ডিম এসব আমিষের উত্তম উৎস। উদ্ভিজ্জ আমিষে এক বা একাধিক অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনাে অ্যাসিডের ঘাটতি থাকায় এদের আমিষ মান উন্নত নয়।
 
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা ইত্যাদি প্রাণীজ আমিষে প্রচুর অ্যামাইনাে অ্যাসিড পাওয়া যায় বলে এদের জৈব মূল্য বেশি।

ডাল, চিনা বাদাম, চাল, আটা, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ, প্রাণীজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর। উদ্ভিজ্জ আমিষে অ্যামাইনাে অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এর জৈব মূল্য কম তাই এটি নিম্নমানের আমিষ।
 
তাই আমরা বলতে পারি, খাসির মাংস যেহেতু প্রাণীজ আমিষ, তাই পুষ্টিগুণ বিবেচনায় মসুর ডালের তুলনায় একে উন্নতমানের আমিষ বলা যায়। 

উৎস: ইউএসডিএ (USDA) ওয়েবসাইট; কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট; জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৩,৪৮৫.
বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ এর অধিক
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু:

বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার-
১. ভাজক টিস্যু ও
২. স্থায়ী টিস্যু।

১. ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে।
- গঠন ভাজক টিস্যু সাধারণত অত্যন্ত ক্ষুদ্র, আয়তাকার, ডিম্বাকার বা বহুভূজাকার।
- এদের কোষে অধিক পরিমান সাইটোপ্লাজম থাকে এবং এতে কোন গহ্বর থাকে না অথবা থাকলেও অত্যন্ত ক্ষুদ্র।
- এদের নিউক্লিয়াস বেশ বড়, কোষ প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা এবং দুটি কোষের মধ্যে আন্তকোষীয় ফাঁক থাকেনা। 

২. স্থায়ী টিস্যু (Permanent Tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে অক্ষম এবং আকার, আকৃতি ও বিকাশে স্থায়িত্ব লাভ করেছে তাকে স্থায়ী টিস্যু বলা হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের ফলে স্থায়ী টিস্যু তৈরী হয় বিশেষ অবস্থা ছাড়া এইসব স্থায়ী টিস্যু আর বিভাজিত হতে পারেনা।
- প্রাথমিক শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু (primary permanent tissue) এবং সেকেন্ডারী পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে সেকেন্ডারী স্থায়ী টিস্যু (secondary permanent tissue) বলা হয়।


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৪৮৬.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৮৭.
মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা কতটি?
  1. ৩১ টি
  2. ৩২ টি
  3. ৩৩ টি
  4. ৩৪ টি
ব্যাখ্যা
• মেরুদন্ড :
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত।
- এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮৮.
বহিঃক্যারোটিড ধমনির কোনটি গলবিলে রক্ত বহন করে? 
  1. লিঙ্গুয়াল ধমনি
  2. ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
  3. অক্সিপিটাল ধমনি
  4. সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি
ব্যাখ্যা
বহিঃক্যারোটিড ধমনি: 
- এটি মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বহিঃক্যারোটিড ধমনি থেকে উৎপন্ন শাখাগুলো- 
সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি ও ল্যারিংক্সে রক্ত বহন করে। 
লিঙ্গুয়াল ধমনি: জিহ্বা ও সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থিতে রক্ত বহন করে। 
ফেসিয়াল ধমনি: মুখমণ্ডল, চোখ, সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং মুখমণ্ডলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি: গলবিলে রক্ত বহন করে। 
- এছাড়া বহিঃক্যারোটিড ধমনি আন্তঃম্যাক্সিলারি ও সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল ধমনিতে বিভক্ত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৮৯.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া নিষেধ?
  1. অ্যাসিটামিনোফেন
  2. স্যালাইন
  3. এসপিরিন
  4. প্যারাসিটামল
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে। 
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৪৯০.
কোনটিকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়?
  1. ক) মেন্ডেলের ১ম সূত্র
  2. খ) মেন্ডেলের ২য় সূত্র
  3. গ) বিবর্তনবাদ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। একে পৃথকীকরণ সূত্র বা মনোহাইব্রিড ক্রসের সূত্রও বলে।

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । একে স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্রও বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৪৯১.
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কোন প্রাণীর ‘জিনগত নকশা‘ উন্মোচন করেছেন?
  1. ক) গরু
  2. খ) ভেড়া
  3. গ) ছাগল
  4. ঘ) মহিষ
ব্যাখ্যা
প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।

বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: প্রথম আলো ও অন্যান্য পত্রিকা রিপোর্ট
৩,৪৯২.
জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় বেশি কেন?
  1. কারণ জলজ উদ্ভিদে ক্লোরোফিলের সংখ্যা বেশি থাকে 
  2. কারণ জলজ উদ্ভিদে বেশি সূর্যালোক পড়ে 
  3. কারণ জলজ উদ্ভিদে পানি কম থাকে 
  4. কারণ পানিতে দ্রবীভূত CO2-এর পরিমাণ বেশি থাকে 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। উদ্ভিদে সঞ্চিত এই খাদ্যের উপরে মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (biochemical) বিক্রিয়া। 
যেমন-

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে। 
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- বায়ুমণ্ডলে 0.03% কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানিতে 0.3% কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপজাত দ্রব্য (by-product)। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxidation-reduction process), এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৯৩.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস দেখা যায়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৯৪.
নিচের কোনটি বর্ণাধার নামে পরিচিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) কোষগহ্বর
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত প্রাণিকোষে প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিডকে বলা হয় বর্ণাধার। পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায়, তা সবই এই প্লাস্টিডের কারণে। সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৩,৪৯৫.
কেঁচোর রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে –
  1. ক) শ্বেতকণিকায়
  2. খ) লোহিত
  3. গ) রক্তরসে
  4. ঘ) কোনোটাতেই না
ব্যাখ্যা
- কেঁচো, যাকে অ্যাঙ্গেলওয়ার্মও বলা হয়, লুমব্রিকাস প্রজাতির সদস্য।
- সতেরোটি স্থানীয় প্রজাতি এবং ১৩ টি প্রবর্তিত প্রজাতি (ইউরোপ থেকে) পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায়, যার মধ্যে এল. টেরেস্ট্রিস সবচেয়ে সাধারণ। কেঁচো মাটির  আর্দ্রতা এবং জৈব উপাদান টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
- অধিকাংশ প্রজাতি লালচে বাদামী, তবে কিছু কেঁচো (যেমন, Allolobophora chlorotica, গ্রেট ব্রিটেনের স্থানীয়) সবুজ।
- এল. টেরেস্ট্রিসের লালচে আভা, তার রক্তরসে পিগমেন্ট হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির ফলে।

উৎস: ব্রিটানিকা 
৩,৪৯৬.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত নয়?
  1. ক) প্লাস্টিড
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিওলাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং নিউক্লিওলাস থাকে না।
সূত্রঃ ৩৮তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৩,৪৯৭.
শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. খনিজ লবণ
  3. ভিটামিন
  4. শর্করা
ব্যাখ্যা

• শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে ভিটামিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, এবং ভিটামিন এ ইমিউন সেলের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ফলমূল ও সবজিতে থাকে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায় এবং ইমিউন সিস্টেমের ব্যালান্স বজায় রাখে। ভিটামিন এ চোখ, ত্বক ও শ্বেতরক্তকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যাতে শরীর বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।

- সঠিক উত্তর: গ) ভিটামিন।
 
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 
 
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৯৮.
নিচের কোনটি মানবদেহে অবস্থিত সাইনাস নয়?
  1. Nasal sinus
  2. Frontal sinus
  3. Maxillary sinus
  4. Sphenoid sinus
ব্যাখ্যা
• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 

- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৯.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ক) টিকটিকি
  2. খ) জিরাফ
  3. গ) ডাইনোসর
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

৩,৫০০.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
  1. ক) রেস্পিরেশন
  2. খ) ফটোলাইসিস
  3. গ) ফসফোরাইলেশন
  4. ঘ) ফটোপিরিওডিজম
ব্যাখ্যা
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফটোলাইসিস। উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]