বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৪২ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৪,২০৮

৩,৩০১.
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. হাইপারগ্লাইসেমিয়া
  3. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
  4. অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা

• রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।

• শর্করা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যের প্রভাব:
- আহারে শর্করা কম বা বেশি গ্রহণ উভয়ই দেহের জন্য ক্ষতিকর।
- শর্করার অভাবে দেহে অপুষ্টি দেখা দেয়।
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে দেহে বিপাক ক্রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia):
- রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়।
- এ অবস্থায় বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণসমূহ:
- ক্ষুধা অনুভব করা,
- বমি বমি ভাব,
- অতিরিক্ত ঘামানো,
- হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৩,৩০২.
তরুণাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কী বলা হয়?
  1. কনড্রিন
  2. কলাজেন
  3. হায়ালিন 
  4. ইলাস্টিন
ব্যাখ্যা

তরুণাস্থি বা কোমলাস্থির গঠন (Structure of cartilage): 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে, ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 
- কনড্রিন কনড্রোমিউকয়েড ও কনড্রোঅ্যালবুনয়েড নামক দু'ধরনের প্রোটিন নিয়ে গঠিত। 
- তরুণাস্থির কোষকে কনড্রোসাইট বলে। 
- কনড্রোসাইটগুলো এককভাবে অথবা গুচ্ছাকারে ল্যাকুনা নামক গহ্বরে অবস্থান করে। 
- তরুণাস্থি পেরিকন্ড্রিয়াম নামক আবরণীতে আবৃত থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩০৩.
কোন প্রক্রিয়াটিকে 'Necessary Evil' বা 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' হিসাবে অভিহিত করা হয়?
  1. ব্যাপন
  2. সালোকসংশ্লেষণ
  3. ট্রান্সলোকেশন
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

• প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বা 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' হিসাবে অভিহিত করা হয়।

• প্রস্বেদন (Transpiration):
- প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গ (যেমন পাতা, কাণ্ড এবং অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল) থেকে অতিরিক্ত জল কে বাষ্প বা জলীয় বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে দেয়।
- বেশিরভাগ প্রস্বেদন ঘটে পাতার পৃষ্ঠে অবস্থিত পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উদ্ভিদ শোষিত মোট জলের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত জলীয় বাষ্প হিসেবে পরিবেশে ত্যাগ করে।
- এই প্রক্রিয়া প্রধানত পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal), কিউটিকুলার (Cuticular) এবং লেন্টিকুলার (Lenticular) পথে ঘটে থাকে।

• প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বলার কারণ:
 - প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (Necessary Evil) বলা হয় কারণ এর দুটি বিপরীতমুখী ভূমিকা রয়েছে।
১। প্রয়োজনীয়তা (Necessity):
- এটি শিকড় থেকে বহু উপরে অবস্থিত পাতায় জল ও খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য একটি টান (Transpiration Pull) সৃষ্টি করে।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (কুলিং ইফেক্ট)।
২। অমঙ্গল (Evil):
- এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে তীব্র শুষ্ক পরিবেশে বা উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদ পানিশূন্যতায় ভোগে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রয়োজনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
- এই কারণে, প্রক্রিয়াটি না হলেও নয় (Necessary), আবার অতিরিক্ত হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকরও (Evil)।
- এই দ্বৈত ভূমিকার (অপরিহার্যতা ও ক্ষতিকরতা) জন্য বিজ্ঞানী ইভান জে. কুর্তিস একে 'Necessary Evil' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৩,৩০৪.
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. সোমাটোস্ট্যাটিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস: 
- অগ্ন্যাশয়ের কতগুলো কোষ গুচ্ছাকারে বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপেরে ন্যায় একেকটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি সৃষ্টি করে। এগুলো আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস। 
- α, β, γ নামক তিন ধরনের কোষ নিয়ে এটি গঠিত। 
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোনসমূহের নাম- 
১ । ইনসুলিন
২। গ্লুকাগন এবং 
৩। সোমাটোস্ট্যাটিন। 

আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোনসমূহের কাজ - 
১। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তাকে কমানো, গ্লাইকোজেন সংশ্লেষ বা গ্লাইকোজেনেসিসে সহায়তা। 
২। রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তাকে বাড়ানো, গ্লাইকোজেনোলাইসিসে সহায়তা। 
৩। α ও β কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৫.
ইনসুলিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. শর্করা
  2. প্রোটিন
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ১৯১৬ সালে Sir Edward Sharpy-Schafer সর্বপ্রথম ইনসুলিন আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
- ইনসুলিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা মানুষ সহ সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর অগ্ন্যাশয় বিটা কোষ গুচ্ছ হতে ক্ষরিত হয়।
- ইনসুলিন রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজের উচ্চমাত্রাকে কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে।
- কোন কারণে অগ্নাশয় হতে ইনসুলিন মিশ্রিত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় বা ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এমতাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াবেটিস রোগীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। 
- ১৯৪৫ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সর্বপ্রথম ইনসুলিনের আণবিক গঠন আবিষ্কার করেন।

- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল আমিষ বা প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 
- ইনসুলিন  হরমোনটি তৈরি হয় দেহের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় নামের অঙ্গে।
- ইনসুলিন গ্লাইকোজেন সিম্থেটেজ উৎসেচককে সক্রিয় করে গ্লাইকোজেনেসিস পদ্ধতিতে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন পরিবর্তিত করে যকৃৎ এবং পেশিকোষে জমা রাখে। 
- ইনসুলিন যকৃতে ফসফোরাইলেজ উৎসেচকের সক্রিয়তা হ্রাস করে গ্লাইকোজেন অ্যানালাইসিসের হার হ্রাস করে।
- ইনসুলিন হরমোন অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষণে বাধা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৬.
নিচের কোনটি উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ? 
  1. ডিম 
  2. পনির
  3. শিমের বীচি
  4. কলিজা
ব্যাখ্যা

আমিষ (Protein): 
- আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
- নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
- অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩০৭.
ইউরিয়া সার উদ্ভিদে সরবরাহ করে -
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাজ: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৩,৩০৮.
কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন সম্বন্ধে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. জেনেটিক্স
  2. সাইটোলজি
  3. এনাটমি
  4. শারীরবিদ্যা
ব্যাখ্যা

◉ সাইটোলজি (Cytology) হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে কোষের গঠন, কার্যপ্রণালী, কোষাঙ্গাণু এবং কোষ বিভাজন নিয়ে গবেষণা করা হয়। এটি মূলত কোষতত্ত্ব (Cell Biology)-এর একটি অংশ।

কোষবিদ্যা (Cytology):
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ।
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
জেনেটিক্স - এটি বংশগতির বিজ্ঞান, যেখানে DNA, জিন, মিউটেশন ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
এনাটমি - এটি শরীরের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করে। 
শারীরবিদ্যা - জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩০৯.
“Survival of the fittest” ধারণাটি কার?
  1. ডারউইন
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ল্যামার্ক 
  4. ওয়াটসন
ব্যাখ্যা

◉ “Survival of the fittest” ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

​প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩১০.
মানব দেহে সাধারণভাবে ক্রোমোজোম থাকে-
  1. ২৫ জোড়া
  2. ২৪ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২০ জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া। 

• মানবেদেহে ক্রোমোজোম:
 -মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১১.
আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Apis indica
  2. খ) Periplaneta americana
  3. গ) Bufo melanostictus
  4. ঘ) Plasmodium vivax
ব্যাখ্যা

Apis indica - মৌমাছি
Periplaneta americana - আরশোলা
Bufo melanostictus - কুনোব্যাঙ
Plasmodium vivax - ম্যালেরিয়ার জীবাণু

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩১২.
শরীরকে সারা দিন গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কোন ভিটামিনের অভাব দেখা যেতে পারে?
  1. ক) ভিটামিন ই
  2. খ) ভিটামিন সি
  3. গ) ভিটামিন ডি
  4. ঘ) ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
- সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৩,৩১৩.
পেশি টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি টিস্যু তিন ধরনের। যথা- ১. ঐচ্ছিক পেশি, ২. অনৈচ্ছিক পেশি এবং ৩. হৃদপেশি। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩১৪.
জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটি কোন ধরনের খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়?
  1. ক) অর্গানিক
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) বোটানিক
  4. ঘ) কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা

শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য।

- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।
- জীবদেহে বিপাকীয় (Metabolic) কাজের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়৷

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৩১৫.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ১০টি
  3. ১৬টি
  4. ২০টি
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যেমন: 
(i) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং 
(ii) মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান ৷

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: 
- নাইট্রোজেন (N),
- পটাশিয়াম (K),
- ফসফরাস (P),
- ক্যালসিয়াম (Ca),
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg),
- কার্বন (C),
- হাইড্রোজেন (H),
- অক্সিজেন (O),
- সালফার (S) এবং 
- লৌহ (Fe)।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে ।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা: 
- দস্তা বা জিংক (Zn),
- ম্যাংঙ্গানিজ (Mn),
- মোলিবডেনাম (Mo),
- বোরন (B),
- তামা বা কপার (Cu) এবং 
- ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩১৬.
প্রাথমিক ভাজক টিস্যু হতে নিচের কোন টিস্যুর সৃষ্টি হয়? 
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. প্রাথমিক অস্থায়ী টিস্যু
  4. প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু
ব্যাখ্যা
ভাজক টিস্যু: 
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে। 
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (যে স্থানে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে। 
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়। 
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- (ক) উৎপত্তি, (খ) অবস্থান, (গ) বিভাজন প্রক্রিয়া এবং (ঘ) কাজ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়। 

 
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যু দুই প্রকার। যথা - 
১। প্রাথমিক ভাজক টিস্যু ও 
২। সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু। 

প্রাথমিক ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রূণাবস্থায় সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক ভাজক টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে ভাজক টিস্যু থাকে। 
- এদের বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। 
- প্রাথমিক ভাজক টিস্যু থেকে 'প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু'র সৃষ্টি হয়। 

সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু: 
- সাধারণভাবে স্থায়ী টিস্যু বিভাজনক্ষম নয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য কোন কোন স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, ফলে যে ভাজক টিস্যু সৃষ্টি করে তাকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলে। 
- যে সব কোষের বিভাজন ক্ষমতা নেই সে সব টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয় বলে এদের সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
- সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু সব সময় পার্শ্বীয়। 
- এ টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ উদ্ভিদ পাশে বৃদ্ধি পায় বা এর বেড় মোটা হয়। 
- ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম, ফেলোজেন বা কর্ক ক্যাম্বিয়াম হচ্ছে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৭.
‘জনন কোষের উৎপত্তি’ কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. ক) কোষবিদ্যা
  2. খ) হিস্টোলজি
  3. গ) ভ্রুণবিদ্যা
  4. ঘ) বিবরতনবিদ্যা
ব্যাখ্যা
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
হিস্টোলজিঃ জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩১৮.
মানুষের চোখের রঙ নিয়ন্ত্রন করে -
  1. আরএনএ
  2. নিউক্লিয়াস
  3. জিন
  4. ক্যারোটিন
ব্যাখ্যা
•  মানুষের চোখের রং DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। 

• নিউক্লিক এসিড:
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বহুন করে।
- তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোও তাদের ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসাবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে।
- ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতাপিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৩১৯.
সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান পাতার ভেতর প্রবেশ করে? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. জলীয় বাষ্প
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলো একটি অপরিহার্য উপাদান, আলোর প্রধান উৎস সূর্য। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের ভিতর দিয়ে পাতায় প্রবেশ করে। 
- এরপর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়া ঘটে ও গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি দুটি প্রথক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। 
যেমন- (১) আলোক পর্যায় ও (২) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৩২০.
কোন ধরনের মাটি চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী?
  1. ক) পলিমাটি
  2. খ) কাদামাটি
  3. গ) বালু মাটি
  4. ঘ) দোআঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
দো-আঁশ মাটি এই মাটি বালু, পলি আর কাদা মাটির সমন্বয়েই তৈরি হয়। দো-আঁশ মাটিতে থাকা বালু, পলি আর কাদা মাটির অনুপাতের উপর নির্ভর করে দো-আঁশ মাটির ধরন কেমন হবে।
দো-আঁশ মাটির একদিকে যেমন পানি ধারণক্ষমতা ভালাে আবার প্রয়ােজনের সময় পানি দ্রুত নিষ্কাশনও হতে পারে। তাই ফসল চাষাবাদের জন্য দো-আঁশ মাটি খুবই উপযােগী।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
৩,৩২১.
গমের মোজাইক ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
  1. ইদুঁরের মাধ্যমে
  2. মাইটের মাধ্যমে
  3. বাতাসের মাধ্যমে
  4. পাখির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• গমের মোজাইক ভাইরাস:
- গমের মোজাইক ভাইরাস একটি সংক্রামক আঙ্গুরীয় ভাইরাস যা গম ফসলকে আক্রমণ করে।
- গমের মোজাইক ভাইরাস মূলত মাইট নামক ক্ষুদ্র পোকাদের মাধ্যমে ছড়ায়।
- আক্রান্ত গাছ থেকে মাইটরা ভাইরাস গ্রহণ করে এবং অন্য সুস্থ গাছে স্থানান্তরিত হয়ে তাদের আক্রান্ত করে।
- মাইটগুলো ভাইরাসযুক্ত গাছের রস শুষে নেয় এবং পরবর্তীতে সুস্থ গাছে স্থানান্তরিত হয়ে তাদের আক্রান্ত করে।
- কৃষকরা মাইটের আক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে যেমন- জৈব পর্যবেক্ষণ, ভাইরাস প্রতিরোধী জাত বা কীটনাশক ব্যবহার করা।

মাইটের বৈশিষ্ট্য:
- মাইট হল অতি ক্ষুদ্র পোকা যা দেখতে অনেকটা গাছের পাতার ধুলোর মতো।
- এরা অদৃশ্য নয়ন অস্ত্র দিয়ে গাছ থেকে রস শুষে নেয়।
- তাদের সরু শরীর ও চলাচল বৈশিষ্ট্যের কারণে এরা গাছের বিভিন্ন অংশে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

মাইট প্রতিরোধের উপায়:
- জৈব পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো কীটনাশক ব্যবহার,
- ভাইরাস প্রতিরোধী গমের জাত চাষ,
- আগাম বীজতলা প্রতিস্থাপন এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা,
- সংক্রামিত গাছ উপড়ে ফেলা এবং জ্বালিয়ে দেওয়া।

উৎস: National Library of Medicine (NIH)।
৩,৩২২.
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) ডিম্বনালি
  2. খ) জরায়ু
  3. গ) ডিম্বাশয়
  4. ঘ) যোনি
ব্যাখ্যা
স্ত্রী প্রজননতন্ত্র:
- ডিম্বাশয় স্ত্রী জননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- স্ত্রীদেহে যে তন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণু উৎপাদন পুরুষ দেহ থেকে আগত শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণুর নিষেক, জাইগোট ও ভ্রুণ বিকাশ সম্পন্ন হয় তাকে স্ত্রী প্রজননতন্ত্র বলে।
- স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে নিম্নলিখিত অংশগুলো থাকে-
১। ডিম্বাশয়। 
২। ডিম্বনালি।
৩। জরায়ু।
৪। যোনি।

স্ত্রী সেক্স হরমোনের প্রভাব-
- স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ডিম্বাশয় থেকে প্রধানতঃ দু'ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। যথা-
• ইস্ট্রোজেন (Oestrogen)।
• প্রোজেস্টেরন (Progesterone)।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২৩.
নিচের কোনটি শৈবালের মধ্যে পাওয়া যায়?
  1. ক) মূল
  2. খ) কাণ্ড
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা

সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরােফিলযুক্ত ও স্বভােজী উদ্ভিদরাই শৈবাল।
- এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে।
- এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।
- এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না।
- এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে।
- ‘স্পাইরােগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়।
- সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- আয়ােডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
- মৎস্য চাষে ফাইটোপ্লাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে এর প্রধান অংশই শৈবাল।
- চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রােগ।
- পুকুরে শৈবাল ওয়াটাররুম সৃষ্টি করে ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।
সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি

৩,৩২৪.
শ্বেত রক্ত কণিকা কীভাবে জীবাণুকে ধ্বংস করে?
  1. হজম প্রক্রিয়ায়
  2. অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে 
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় 
  4. লাল রক্তকণিকার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩২৫.
কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) ফ্লোরোসিস
  2. খ) সাইটোকাইনোসিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) ক্লোরোসিস
ব্যাখ্যা
- কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়- ক্লোরোসিস

ক্লোরোসিস
:
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (chlorosis) বলে।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩২৬.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান কতটি অংশে ভাগ করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) অক্ষীয় কঙ্কাল, 
(২) উপানীয় কঙ্কাল। 

- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঞ্চালিক গঠনকে করোটি বলে। করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- সর্বমোট ১৪টি অস্থি নিয়ে মুখমণ্ডল গঠিত। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২৭.
ক্লোরোপ্লাস্টে প্লাস্টিডের বর্ণ কীরূপ হয়ে থাকে? 
  1. ক) বর্ণহীন
  2. খ) নীল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড তিন ধরণের যথা - ক্রোমোপ্লাস্ট ,লিউকোপ্লাস্ট , ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড কিন্তু সবুজ নয়।
যে সকল প্লাস্টিডে রঞ্জক পদার্থ থাকে না তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে।
সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৩,৩২৮.
হাইড্রার নামকরণ করেছেন কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. লিনিয়াস
  3. থিওফ্রাস্টাস
  4. ট্রেম্বলে
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- Hydra এর নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 

- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩২৯.
যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে কী বলে?
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. রিব ভাজক টিস্যু
  3. মাস ভাজক টিস্যু
  4. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

মাস ভাজক টিস্যু: 
 - যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কাণ্ডের মজ্জা। 

প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩০.
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে গবেষণা দল দেশি পাটের জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করে-
  1. ক) ২০১০ সালে
  2. খ) ২০১২ সালে
  3. গ) ২০১৩ সালে
  4. ঘ) ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে গবেষণা দল দেশি পাটের জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করে ২০১৩ সালে। তাঁর নেতৃত্বে তোষা পাটের জীবনরহস্য ২০১০ সালে এবং ২০১২ সালে পাটের জন্য ক্ষতিকর একধরনের ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করে। সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া পাটের দুটি প্রধান জাতের মধ্যে এটি একটি। সূত্রঃ প্রথম আলো।
৩,৩৩১.
আমিষ পরিপাকে সহায়তা করে কোন এনজাইম?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) রেনিন
  3. গ) টাইরোসিন
  4. ঘ) এমাইলেজ
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট এনজাইম নির্দিষ্ট কাজ করে। যেমনঃ আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে ট্রিপসিন এনজাইম। ট্রিপসিন এনজাইম শুধু আমিষের উপর কাজ করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞানঃসপ্তম শ্রেণী
৩,৩৩২.
সবুজ উদ্ভিদে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য কোন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো অপরিহার্য?
  1. ৩০৫nm - ৮০৯nm
  2. ৩৭০nm - ৯২০nm
  3. ২৫০nm - ৭৫০nm
  4. ৩০০nm - ৮১০nm
ব্যাখ্যা
যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যরে আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ
রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক
সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
♦ সালোক সংশ্লেষণ এর  জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন
ডাই-অক্সাইড।
♦ সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যে কোন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র
৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩৩৩.
ক্লোরোপ্লাস্ট কেন সবুজ বর্ণের হয়?
  1. ক্যারোটিন বেশি থাকে বলে
  2. জ্যান্থোফিল বেশি থাকে বলে
  3. ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে
  4. সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে 

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 

• ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। 


উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৩,৩৩৪.
মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে- 
  1. শ্বেত রক্তকোষ
  2. লোহিত রক্তকোষ
  3. রক্তরস
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে লোহিত রক্তকোষ (Red Blood Cells) প্রধান ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক এক প্রকার লৌহঘটিত রঞ্জক পদার্থ থাকে, এই হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

রক্তরস: 
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। 
- রক্তরসের প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

রক্তকোষ: 
- রক্তকোষ তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। 
- মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৩৫.
নিষেকের পরে ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে কোনটি গঠন করে?
  1. ক) ভ্রূণ
  2. খ) বীজ
  3. গ) ফল
  4. ঘ) ফলত্বক
ব্যাখ্যা

- নিষেকের পরে ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে বীজ গঠন করে।
- নিষেকের পরে ডিম্বাণু পরিবর্তিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে।
- নিষেকের পরে গর্ভাশয় পরিবর্তিত হয়ে ফল গঠন করে।
- নিষেকের পরে গর্ভাশয় প্রাচীর পরিবর্তিত হয়ে ফলত্বক গঠন করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৩৩৬.
মাছির পা থাকে-
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা
• মাছির ৬টি পা থাকে।
- মাছি  Diptera বর্গের একদল পতঙ্গের সাধারণ নাম।
- প্রকৃত মাছিরা Brachycera উপবর্গের সদস্য এবং এদলে আছে ঘরের সাধারণ মাছি, ডাঁশ, ফলের মাছি (Fruit fly), সেটসি (Tsetse) মাছি ইত্যাদি।
- গুটিকয় প্রজাতির ডানাবিহীন মাছি ছাড়া অন্যান্য মাছি কেবল ওড়ার উপযোগী একজোড়া ডানা থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৩৭.
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন-ই
  2. ভিটামিন-কে
  3. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স
  4. ভিটামিন-এ
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৩৮.
ভাইরাসের আবিষ্কারক কে?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. অ্যাডলফ মায়ার
  3. দিমিত্রি ইভানোভস্কি
  4. মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ক
ব্যাখ্যা

*** ভাইরাসের আবিষ্কারক দিমিত্রি ইভানোভস্কি

- গুটিবসন্ত, পীত জ্বর ইত্যাদি ভাইরাসঘটিত রোগ পৃথিবীতে বহু আগে থেকেই ছিল কিন্তু ভাইরাস সম্পর্কে কোন ধারনাই মানুষের ছিল না।
- বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে প্রথম ভাইরাসঘটিত বসন্ত রোগের কথা উল্লেখ করেন।
- সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত উদ্ভিদ ভাইরাস হলো টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV)। অ্যাডলফ মায়ার ১৮৮৬ সালে তামাক গাছের পাতার ছোপ ছোপ দাগবিশিষ্ট রোগকে মোজাইক রোগ নিয়ে কাজ করেছেন যা টোবাকো মোজাইক রোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
- ভাইরাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব রাশিয়ান বিজ্ঞানী দিমিত্রি ইভানোভস্কি কে দেওয়া হয়। ১৮৯২ সালে তিনি তামাক গাছের রোগ (Tobacco Mosaic Disease) নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে প্রথম ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
- দিমিত্রি ইভানোভস্কি বলেন যে, তামাক গাছের মোজাইক রোগজীবাণু ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্ষুদ্র এবং এ রোগ-বিষকে ভাইরাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন কিন্তু কোন ভাইরাস শনাক্ত করতে পারেননি। তবুও তাঁকেই ভাইরাসের আবিষ্কারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   
- পরে মার্টিনাস বেইজেরিঙ্ক ১৮৯৮ সালে এটিকে "ভাইরাস" নামে অভিহিত করেন এবং এর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৩,৩৩৯.
কোনটি রক্তের প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ? 
  1. ইউরিয়া
  2. ক্রিয়েটিনিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা
- রক্তের প্রোটিন জাতীয় জৈব পদার্থ হলো- ফাইব্রিনোজেন এবং বাকিগুলো হলো প্রোটিনবিহীন জৈব পদার্থ।

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪০.
খাদ্য তৈরীর জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৪১.
কোন কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস পর পর দুইবার বিভক্ত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।
-  এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসটি সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয়।
- ব্যাকটেরিয়া, কতিপয় ঈষ্ট এবং অ্যামিবা প্রভৃতি এককোষী জীবে বিশেষ করে আদিকোষী জীবে এ প্রকার কোষ বিভাজন দেখা যায়।
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়ই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- প্রাণী ও উদ্ভিদের বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন দৈহিক কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। 
- জনন মাতৃকোষে মাইটোসিস ঘটে না। 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র একবার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু’বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়, তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- মিয়োসিস সর্বদা জনন মাতৃকোষে ঘটে।
- দৈহিক কোষে মিয়োসিস কখনই ঘটে না। 

সূত্র: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩৪২.
শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে নিচের কোনটির পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. লৌহ
  2. ফসফরাস
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
• উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
• প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৪৩.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে নিচের কোনটি?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। প্লাস্টিড তিন ধরনের- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।


- ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 


- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে।


- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।


- ক্রোমোপ্লাস্ট: এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।


- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়।


- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।


- লিউকোপ্লাস্ট: যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 


- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
৩,৩৪৪.
মাকড়সার পা আছে -
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
- মাকড়সা arachnids প্রজাতির প্রাণী।
- মাকড়সার আটটি পা এবং শরীর দুটি অংশে বিভক্ত।
- মাকড়সার মধ্যে রেশমের ব্যবহার অত্যন্ত বিকশিত।
- মাকড়সার আচরণ এবং চেহারা বৈচিত্র্যময়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৩৪৫.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. স্নেহ
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. রাফেজ
ব্যাখ্যা
আমিষ হচ্ছে গঠনমূলক খাদ্য উপাদান।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৪৬.
কোলেস্টেরল একধরনের -
  1. অ্যালকোহল
  2. ক্ষার
  3. চর্বি
  4. অ্যালডিহাইড
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়। 
-  যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- 
যথা- 
• উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein- HDL), 
• নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein- LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৪৭.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. টেরিস
  2. নারিকেল
  3. ব্রায়াম
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা

- 'স্পাইরোগাইরা' উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 

- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৩৪৮.
বোরনের অভাবে উদ্ভিদের কোন ধরনের সমস্যা হয়? 
  1. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় 
  2. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  3. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয় 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৪৯.
হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৩,৩৫০.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত?
  1. প্লাসটিড
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিওলাস
  4. ক্রোমাটিন বস্তু
ব্যাখ্যা
• আদিকোষ:
- ব্যাকটেরিয়াতে আদিকোষ থাকে।
- এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম/ক্রোমাটিন বস্তু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার কোষে রাইবোজোম উপস্থিত।
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।

• এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব ।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্রিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোক্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫১.
উদ্ভিদের কোন খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়?
  1. লৌহ
  2. বোরন
  3. সালফার
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৫২.
ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় কত সপ্তাহ থেকে?
  1. ক) চার সপ্তাহ
  2. খ) ছয় সপ্তাহ
  3. গ) আটাশ সপ্তাহ
  4. ঘ) আঠারো সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় ছয় সপ্তাহ থেকে এবং আমৃত্যু এ স্পন্দন চলতে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৩৫৩.
শৈবাল কোন শ্রেণীর উদ্ভিদ?
  1. মসবর্গীয়
  2. সপুষ্পক
  3. সমাঙ্গবর্গীয়
  4.  ফার্নবর্গীয়
ব্যাখ্যা

- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, থ্যালাস (সমাঙ্গদেহী) জাতীয় গঠনবিশিষ্ট স্বভোজী এবং প্রধানত জলজ জীবগোষ্ঠী। এদের দেহকে মূল, কাণ্ড, পাতা বা শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত করা যায় না, তাই এদের সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ বলা হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 

- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৩৫৪.
What is the main protein of milk?
  1. Lipids
  2. Carotene
  3. Lactobumin
  4. Casein
ব্যাখ্যা
♦ প্রোটিন: 
- দুধে তিন শ্রেণির প্রোটিন থাকে। 
যেমন- ক্যাজিন (casein), ল্যাক্ট এলবুমিন (lact albumin) ও ল্যাক্টো গ্লোবুলিন (lactoglobulin). 
- ল্যাক্ট এলবুমিন ও ল্যাকটোগ্লোবুলিনকে সেরাম বা হোয়ে-প্রোটিন (whey protein or serum) বলে। 
- দুধের মোট প্রোটিন (0.9-4.6%) এর মধ্যে 82% হলো ক্যাজিন এবং 18% হলো হোয়ে-প্রোটিন। 
- ক্যাজিন হলো দুধের প্রধান প্রোটিন উপাদান। 
- গ্লুটামিন ও এস্পারাজিন অ্যামাইনো এসিড বাদে অন্য সব অ্যামাইনো এসিড ক্যাজিনে আছে, তাই তরুণ-তরুণীদের দেহ বৃদ্ধির জন্য প্রায় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ দুধের প্রোটিন উৎকৃষ্ট প্রোটিন খাদ্যরূপে বিবেচিত হয়। 
- ক্যাজিন হলো এক প্রকার ফসফোপ্রোটিন। 
- আর্দ্রবিশ্লেষণের ফলে ক্যাজিন ফসফরিক এসিড ও অ্যামাইনো এসিডে বিভক্ত হয়। 
- ক্যাজিন পানিতে অদ্রবণীয়; দুধে এসিড মিশালে ক্যাজিন অধঃক্ষেপরূপে পৃথক হয়ে পড়ে। 
- মায়ের দুধে 0.9% এবং পশুর দুধে 3.2-4.6% প্রোটিন থাকে। 
- আবার দুধের প্রধান প্রোটিন ক্যাজিন চার ধরনের হয়। 
যেমন- αS1 ক্যাজিন, αS2 ক্যাজিন, β ক্যাজিন ও Κ (kappa) ক্যাজিন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৩,৩৫৫.
রক্তরসে পানির পরিমাণ কত?
  1. ৪৫-৫৫%
  2. ৫১-৫২%
  3. ৭০-৭৮%
  4. ৯১ - ৯২%
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।[২০১৭ সংস্করণ]
৩,৩৫৬.
লিনিয়াস-এর দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতিতে প্রথম অংশটি কী নির্দেশ করে?
  1. ফ্যামিলি
  2. অর্ডার
  3. স্পিসিস
  4. জেনাস
ব্যাখ্যা

◉ দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতিতে প্রথম অংশ জেনাস (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশ স্পিসিস (Species) নির্দেশ করে।
যেমন, Homo sapiens নামে, Homo হলো Genus, এবং sapiens হলো Species।

দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।

নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ (Genus) নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক (Species) পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৫৭.
শৈত্য প্রবাহের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) ভার্নালাইজেশন
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফ্লোরিজেন
  4. ঘ) অক্সিন
ব্যাখ্যা

- শৈত্য প্রবাহের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
- অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।
- কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।
- পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৩৫৮.
ফ্লোয়েম টিস্যুর অংশ নয় কোনটি? 
  1. সীভ নল
  2. সঙ্গী কোষ
  3. ট্রাকিড
  4. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার।
যথা- ১) ফ্লোয়েম টিস্যু ও ২) জাইলেম টিস্যু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৯.
জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণার শাস্ত্রকে কী বলা হয়?
  1. Paleontology
  2. Archaeology
  3. Fossilogy 
  4. Anthropology
ব্যাখ্যা

- প্যালিওন্টোলজি (Paleontology) হলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে জীবাশ্ম বা ফসিল (fossil) নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়নের শাস্ত্র

জীবাশ্ম: 

- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- Paleobotany হলো জীববিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে প্রাচীন উদ্ভিদের জীবাশ্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়, এটি জীবাশ্মবিদ্যার (Paleontology) একটি উপশাখা। 

অন্যদিকে, 
- Fossilogy শব্দটি বিজ্ঞানে প্রচলিত বা স্বীকৃত কোনো শাখা নয়। 
- Archaeology হলো প্রাচীন মানুষের বস্তু, স্থাপনা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণা। 
- Anthropology হলো মানুষের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার শাস্ত্র।। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।

৩,৩৬০.
নিচের কোনটি গাজরের মূলে পাওয়া যায়?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. এমাইলোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে ক্রোমোপ্লাস্ট পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৬১.
পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল কোনটি?
  1. র‍্যাফলেশিয়া
  2. ফণিমনসা
  3. রক্তজবা
  4. লরেন্স
ব্যাখ্যা
• র‍্যাফলেশিয়া (Rafflesia arnoldii) হলো পৃথিবীর বৃহত্তম একক ফুল।
- এটি বিশেষভাবে পরিচিত তার বিশাল আকার এবং দুর্গন্ধের জন্য।

• ফুল: 
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ।
২. বৃতি। 
৩. দলমন্ডল। 
৪. পুংস্তবক। 
৫. স্ত্রীস্তবক।
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলা হয়। 
- যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল।  যেমন গোলাপ, ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে, যেমন কুমড়া আবার দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভাড ম্যাগাজিন।
৩,৩৬২.
নিচের কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. ক) সেরেবেলাম
  2. খ) হাইপোথ্যালামাস
  3. গ) কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা
  4. ঘ) সেরেব্রাল পেডাঙ্কল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সেরেব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস হলো অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেব্রাল পেডাঙ্কল, কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা, সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট হলো মধ্যমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংটা, পনস হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৩৬৩.
বৃহদন্ত্র : কোলন :: ক্ষুদ্রান্ত : ?
  1. ইলিয়াম
  2. মলাশয়
  3. কোলন
  4. সিকাম
ব্যাখ্যা
• পরিপাক নালি:
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত।

• পরিপাক নালির অংশসমূহ:
- মুখছিদ্র,
- মুখবিবর,
- গলবিল,
- অন্ননালি,
- পাকস্থলি,
- ক্ষুদ্রান্ত্র,
- বৃহদন্ত্র।

• ক্ষুদ্রান্ত:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত।
• এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

• বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
• বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
- সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ।
- সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়।
- এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬৪.
রক্তরসে শতকরা জৈব ও অজৈব পদার্থের পরিমাণ কত?
  1. ক) ৮-৯%
  2. খ) ১০-১৫%
  3. গ) ৮২-৮৬%
  4. ঘ) ৯১-৯২%
ব্যাখ্যা
রক্তরস হল রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি ঈষৎ হলুদাভ তরল যা সাধারণত দেহের বিভিন্ন প্রকার রক্তকোষ ধারণ করে। মানব দেহের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগই হল রক্তরস। রক্তরসে শতকরা প্রায় ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% জৈব ও অজৈব পদার্থ থাকে। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৩৬৫.
ডিমের কুসুমে কোন প্রোটিন বিদ্যমান?
  1. অ্যালবুমিন
  2. গ্লোবিউলিন
  3. গ্লুটেনিন
  4. হিস্টোন
ব্যাখ্যা
• গ্লোবিউলিন (Globulin): 
- জাতীয় প্রোটিন পানিতে দ্রবীভূত হয় না কিন্তু লবণের দ্রবণে দ্রবীভূত হয়।
- উচ্চতাপে গ্লোবিউলিন সহজে জমাট বাঁধে।
- যেমন: ডিমের কুসুম (অভোগ্লোবিউলিন), রক্তরস (সিরাম গ্লোবিউলিন), চোখের লেন্স (ক্রিস্টালিন গ্লোবিউলিন), মাংসপেশি (মায়োসিন গ্লোবিউলিন) ইত্যাদি গ্লোবিউলিন প্রোটিনের উদাহরণ। 

অন্যদিকে,
- গ্লুটেলিন (Glutelin): এসব প্রোটিন লঘু অম্লিয় ও ক্ষারিয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়। এ প্রোটিনগুলো উত্তাপে জমাট বাঁধে না। যেমন-ধানের অরাইজেনিন এবং গমের গুটেলিন।
- হিস্টোন (Histone): এ জাতীয় প্রোটিন পানি অথবা পাতলা ক্ষার বা এসিড দ্রবণে দ্রবীভূত হয় এবং উত্তাপে সহজে জমে না। হিস্টোনে ক্ষারীয় অ্যামিনো এসিড যেমন-আরজিনিন ও লাইসিন থাকে। 
- অ্যালবুমিন (Albumin): যে সব প্রোটিন পানিতে বা লবণের দ্রবণে সহজে দ্রবীভত হয়ে ঘোলাটে দ্রবণ তৈরি করে তাদের অ্যালবুমিন বলে।যেমন- ডিমের সাদা অংশ, রক্তরস ও লসিকার সিরাম।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩,৩৬৬.
সালোকসংশ্লেষণ কোন শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে? 
  1. তড়িৎশক্তি
  2. আলোকশক্তি
  3. তাপশক্তি
  4. যান্ত্রিকশক্তি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। উদ্ভিদে সঞ্চিত এই খাদ্যের উপরেই মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (biochemical) বিক্রিয়া। 
যেমন: 

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- বায়ুমণ্ডলে 0.03% এবং পানিতে 0.3% CO2 আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত দ্রব্য (by-product)। 
- এটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxidation-reduction process), এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৬৭.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের শরীরে রক্তের pH এর মান কত থাকে?
  1. প্রায় ৭
  2. প্রায় ৭.৮
  3. প্রায় ৭.৪
  4. প্রায় ৬ - ৭ এর মধ্যে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
দেহের বিভিন্ন তরল পদার্থের মধ্যে রক্ত একটি উৎকৃষ্ট বাফার দ্রবণ। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH = ৭.৪ এর কাছাকাছি থাকে। তাই রক্ত সামান্য ক্ষারীয় প্রকৃতির বাফার দ্রবণ। রক্তের pH কোনো কারণে ০.৫ এর বেশি পরিবর্তিত হলে জীবন সংকটাপন্ন হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৩৬৮.
দুগ্ধ চিনি কোনটি?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) সুক্রোজ
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) ম্যালটোজ
ব্যাখ্যা
• দুগ্ধ চিনি ল্যাকটোজ।
- ল্যাকটোজ একটি ডাইস্যাকারাইড বা দ্বি-আণবিক শর্করা
- একটি ল্যাকটোজ দুটি অণু এক অণু গ্যালাকটোজ এবং এক অণু গ্লুকোজ দ্বারা গঠিত।
- দুধের ২ থেকে ৪ শতাংশ শর্করা হল ল্যাকটোজ।

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬৯.
যে বিজ্ঞান জীবাশ্ম সম্বন্ধে আলোচনা করে -
  1. ফসিওলজি
  2. মরফোলজি
  3. প্যালিয়েন্টোলজি
  4. ফাইটোজেনি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি । 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭০.
উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর কী দিয়ে গঠিত? 
  1. কাইটিন 
  2. লিগনিন 
  3. পেকটিন 
  4. সেলুলোজ 
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে।
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ।
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%।
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গগ্লুকোজে পরিণত করা যায়।
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে।
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম।
- সেলুলোজের কাজ- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- কাগজ ও বস্ত্র শিল্প: সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান।​ 
- অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্ম: সেলুলোজ অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্ম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।​ 
- নাইট্রেট বিস্ফোরক: সেলুলোজ নাইট্রেট করে বিস্ফোরক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যেমন স্মোকলেস পাউডার।​ 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী: সেলুলোজের ডেরিভেটিভস, যেমন সেলুলোজ অ্যাসিটেট, আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রীর লেপন ও প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।​ 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গ: কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী পরজীবী মাইক্রোঅর্গানিজমগুলি সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭১.
নিচের কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে থাকে?
  1. ক) লিফরোল
  2. খ) লিফকার্ল
  3. গ) ক্লোরোসিস
  4. ঘ) লিফ ব্লাইট
ব্যাখ্যা
ধানের পাতা ধ্বসা (leaf blight) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে। এছাড়া আলুর লিফরোল (পাতা কুঁচকাইয়া যাওয়া), পেঁপের লিফকার্ল, ক্লোরোসিস (পাতায় হলুদাভ দাগ) ইত্যাদি রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩,৩৭২.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) বট
  2. খ) তালিপাম
  3. গ) বৈলাম
  4. ঘ) তালগাছ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উচ্চতম বৃক্ষ হলো বৈলাম। এই বৃক্ষ ২৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।
- বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার ডুলাহাজাড়ায় বৈলাম বৃক্ষ দেখা যায়।
- বৃক্ষটি বর্তমানে বিপন্নের পথে।

সূত্রঃ দৈনিক সমকাল রিপোর্ট।
৩,৩৭৩.
একটি আদর্শ ফুলের অংশ নয় কোনটি?
  1. দলমণ্ডল
  2. বৃতি
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. বৃন্ত
ব্যাখ্যা
• আদর্শ ফুলের বিভিন্ন অংশ:
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- (ক) পুষ্পাক্ষ, (খ) বৃতি, (গ) দলমণ্ডল, (ঘ) পুংস্তবক এবং (ঙ) স্ত্রীস্তবক।

• পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে বলা হয় পুষ্পাক্ষ।
- এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

• বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি। এর প্রতিটি খণ্ডকে বৃত্যংশ বলা হয়।
- সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।

• দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খণ্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- এরা সাধারণত রঙ্গিন হয়।

• পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ।

• স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী,
৩,৩৭৪.
'প্রিয়ন' কী?
  1. ক) আলোক যন্ত্র
  2. খ) এন্টিবায়োটিক
  3. গ) সংক্রামক সত্তা
  4. ঘ) মহাজাগতিক পদার্থ
ব্যাখ্যা

- 'প্রিয়ন' হলো ভাইরাসের মতোই একপ্রকার সংক্রামক সত্তা যা PrP (Prion Protein) নামক প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি ।
- এটিকে 'transmissible spongiform encephalopathies' নামক স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার জন্য দায়ী করা হয়।
- প্রিয়ন গবাদি পশুর 'Mad cow disease' ও 'scrapie' রোগ সৃষ্টি করে।
- এটি মানুষের 'Creutzfeldt–Jakob disease' (CJD), 'Gerstmann–Sträussler–Scheinker syndrome', fatal familial insomnia, এবং 'kuru' - এসব ভয়ানক মারণব্যাধির কারণ।

Source: Centers for Disease Control and Prevention and National Library of Medicine.

৩,৩৭৫.
'মিষ্টি আলু' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) স্নেহ জাতীয়
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা

শর্করার শ্রেণীবিভাগঃ
১. এক অণু বিশিষ্ট শর্করা -- গ্লুকোজ
উৎসঃ ফলের রস, মধু ইত্যাদি
২. দুই অণু বিশিষ্ট শর্করা -- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎসঃ চিনি ও দুধ
৩. বহু অণু বিশিষ্ট শর্করা -- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎসঃ চাল, আটা, আলু, সবুজ পাতা, শাকসবজি
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)

মিষ্টি আলুতে প্রচুর শর্করা এবং চিনি থাকে।
এটি শরীরে শক্তি জোগান দেয়।
কাজে-কর্মেও গতি আসে।
এ ছাড়াও মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
উৎসঃ প্রথম আলোর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিপোর্ট।

৩,৩৭৬.
চোখের কোন স্তরটি আলোক সংবেদী?
  1. রেটিনা
  2. স্ক্লেরা
  3. কর্নিয়া 
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

- রেটিনা হলো মানুষের চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড ও কোণ নামক দুই ধরনের বিশেষ আলোক সংবেদী কোষ থাকে, যা আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং আমাদের দেখতে সাহায্য করে। 

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৩,৩৭৭.
কোন উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে? 
  1. মস
  2. টেরিস
  3. স্পাইরোগাইরা
  4. এগারিকাস
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৩৭৮.
কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে প্রস্বেদন কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন:
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়।
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়।
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩,৩৭৯.
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্ত কণিকা
  2. খ) অনুচক্রিকা
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,৩৮০.
মুক্তা হল ঝিনুকের--
  1. ক) খোলসের টুকরা
  2. খ) চোখের মণি
  3. গ) প্রদাহের ফল
  4. ঘ) জমাট হরমোন
ব্যাখ্যা
পার্ল অয়েস্টার নামের বিশেষ ধরনের ঝিনুক থেকে মুক্তা পাওয়া যায়। যখন কোনো বালুকণা বা এমন ছোট কোনো উপাদান ঝিনুকের খোলে ঢুকে পড়ে, যার দরুন ঝিনুকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুক নেকর বা শুক্তিপুট (মাদার অব পার্ল নামে পরিচিত) নামের এক ধরনের পদার্থ দিয়ে ওটা ঢেকে ফেলে। কয়েক বছরের মধ্যে এর ওপরের একটার পর একটা আবরণ পড়ে। আর এভাবেই তৈরি হয় মুক্তা। সাধারণত পাঁচ বছরের পুরনো ঝিনুক থেকে মুক্তা সংগ্রহ করা হয়।
৩,৩৮১.
কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারে না?
  1. ক) শুশুক
  2. খ) তিমি
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) ডলফিন
ব্যাখ্যা
- ডলফিল বা শুশুক, তিমি জলজ প্রাণি হওয়ার পর ও শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুতে আসতে হয়। কারন তাদের ফুলকার পরিবর্তে ফুসফুস থাকে।
- অর্থাৎ, হাঙ্গর বায়ুতে শ্বাস নিতে পারে না।
৩,৩৮২.
ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. ক) Vibrio cholerae
  2. খ) Plasmodium vivax
  3. গ) Clostridium tetani
  4. ঘ) Measles morbillivirus
ব্যাখ্যা

ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম- Plasmodium vivax

কলেরা জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম- Vibrio cholerae
ধনুষ্টঙ্কার রোগের জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম- Clostridium tetani
হাম রোগের জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম - Measles morbillivirus

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৩৮৩.
কোন পর্বের প্রাণীতে শিখা কোষের উপস্থিতি দেখা যায়?
  1. আর্থ্রোপোডা 
  2. নিডারিয়া 
  3. একাইনোডার্মাটা 
  4. প্লাটিহেলমিনথেস
ব্যাখ্যা

• প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীতে শিখা কোষের উপস্থিতি দেখা যায়। 

• প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes):
Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminth শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে।
- এ পর্বের প্রাণীরা চ্যাপ্টা কৃমি নামে পরিচিত।
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে।
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে।
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত।

• প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ।
- বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী।
- দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
- দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
- দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত।
- উদাহরণ: যকৃৎ কৃমি, ফিতা কৃমি।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজি আজমল।

৩,৩৮৪.
সালোকসংশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. লাল আলোতে সালোক সংশ্লেষণ কম হয়।
  2. কেলভিন চক্রের অপরনাম C4 চক্র।
  3. জলজ উদ্ভিদে স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় বেশি হয়।
  4. C3 উদ্ভিদে C4 উদ্ভিদের তুলনায় বেশি হয়।
ব্যাখ্যা
• জলজ উদ্ভিদে স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় বেশি সালোকসংশ্লেষণ হয়।

• কারণ:
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
 
অন্যদিকে,
- একক আলো হিসেবে লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।
- কেল্ভিন চক্রের অপরনাম C3 চক্র।
- C4 উদ্ভিদে C3 উদ্ভিদের তুলনায় বেশি সালোকসংশ্লেষণ  হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৮৫.
হৃৎপিণ্ডের বহিঃস্তরের নাম কী?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের বহিঃস্তরকে এপিকার্ডিয়াম বলে।

• হৃৎপিণ্ডের গঠন:
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা-
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম:
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত।
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে।
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম:
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে।
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম:
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর।
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে।
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৮৬.
ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করা হয় কোন গাছের কাঠ থেকে?
  1. ক) উইলো গাছ
  2. খ) পাইন গাছ
  3. গ) সেগুন গাছ
  4. ঘ) ইউক্যালিপটাস গাছ
ব্যাখ্যা
উইলো গাছের কাঠ থেকে ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করা হয়। 
- ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহারের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬২৪ সালে।
- সবচেয়ে পুরোনো বলে স্বীকৃত ব্যাটটি প্রদর্শিত হচ্ছে লন্ডনের ওভালের একটি সংগ্রহশালায়।
- এটি ১৭২৯ সালে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- সে সময় সাধারণত উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হতো ক্রিকেট ব্যাট।
- ১৮০০ শতকের আগেও ক্রিকেট ব্যাটের আকার ছিল অনেকটা এখনকার হকিস্টিকের মতো।
-  ১৮৩৫ সালে ক্রিকেট ব্যাটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ঠিক করা হয় ৩৮ ইঞ্চি। 

উৎসঃ প্রথম আলো
৩,৩৮৭.
একটি নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন কত?
  1. ১.৫-২.০ কেজি
  2. ২.৫-৩.০ কেজি
  3. ৩.৫-৫.০ কেজি
  4. ৫.৫-৬.০ কেজি
ব্যাখ্যা
শিশুর বিকাশ: 
- শিশুর বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 
- শিশুর বয়স বাড়ার সাথে তার ওজন ও উচ্চতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি তার অঙ্গ সঞ্চালন, শক্তি, সামর্থ্যও বৃদ্ধি পায়। 
- তার দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং মাথার আকার ও গঠনের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। 
- মাথার (মগজ) বর্ধনের ফলে শিশুর শিক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সাথে তার স্মৃতিশক্তি ও যুক্তির ক্ষমতাও বাড়ে। 
- এই ভাবেই শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠে। 
- একজন পূর্ণদেহী মানুষ হতে একটি শিশুকে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। 
- একেক ধাপের পরিণতি পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
১। জন্মপূর্বকাল (Prenatal Period): 
- সূচনামুহূর্ত থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত সময়কাল। 
- মাতৃগর্ভের অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্যন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। 
- এই সময়কাল বেশ সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এই সময়ের বর্ধন খুব দ্রুত। কারণ এই সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হয় মানব কাঠামো এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। 
- নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ২.৫-৩.০ কেজি। 
- একটি সুস্থ সদ্যজাত শিশু জন্মের পরই চিৎকার করে কাঁদে। 
- তারা দিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টাই ঘুমায়। 
- কান্নাই তাদের একমাত্র অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। 

২। নবজাতকাল (Neonatal Period): 
- শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে নবজাতকাল শুরু হয় এবং শেষ হয় ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর। 
- কাজেই অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে নবজাতকাল বেশ সংক্ষিপ্ত। 
- এই ধাপে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং খাপ খাইয়ে চলার প্রচেষ্টা শুরু হয়। 
- একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করার সময় নবজাত শিশুর অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৮.
ধনুষ্টঙ্কার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. Bordetella pertussis
  2. Clostridium tetani
  3. Corynebacterium diphtheriae
  4. Bacillus dysenteriae
ব্যাখ্যা

• রোগ: ধনুষ্টঙ্কার, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৮৯.
একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল কিভাবে সাজানো থাকে?
  1. বৃত্তাকার ভাবে
  2. সমান্তরাল অবস্থায়
  3. বিক্ষিপ্তভাবে
  4. কোনো ভাস্কুলার বান্ডেল নেই
ব্যাখ্যা

একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে সাজানো থাকে।

একবীজপত্রী উদ্ভিদ:
একবীজপত্রী উদ্ভিদ হলো সেই সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ যাদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।

একবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে।
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাগুলো সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- এদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত তিন বা ছয়টির গুণিতক হয়।
উদাহরণ: ধান, গম, ভুট্টা, কলা, নারকেল, ঘাস ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৩,৩৯০.
পেপটিক আলসার সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Providencia spp.
  2. খ) Acinetobacter baumannii
  3. গ) Flavobacterium spp.
  4. ঘ) Helicobacter pylori
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন (1951-বর্তমান) ও ব্যারি মার্শালের (1937-বর্তমান) গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপােড়া খাবার খাওয়া, বিষন্নতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া।

এজন্য তাঁরা 2005 সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। আগে ভাবা হতাে, পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনাে ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। তাঁর ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল নিজে H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন!

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৩,৩৯১.
Flora বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) উদ্ভিদকূলকে
  2. খ) প্রাণীকুলকে
  3. গ) পক্ষিকুলকে
  4. ঘ) মৎস্যকুলকে
ব্যাখ্যা

- প্রাণিকুল (ইংরেজি: fauna) বলতে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সময়ে প্রাকৃতিকভাবে জীবিত প্রাণি এবং তাদের জীবনকে বোঝায়।
- উদ্ভিদের জন্য সংশ্লিষ্ট শব্দটি হলো উদ্ভিদকুল (flora)।
- উদ্ভিদকুল, প্রাণিকুল এবং জীবনের অন্যান্য রূপ যেমন ছত্রাককে সম্মিলিতভাবে জীবন হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান

৩,৩৯২.
শিশু জন্মের পরপরই বা ১৪ দিনের মধ্যে কোন রোগের টিকা দেয়া হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. নিউমোনিয়া
  3. রুবেলা
  4. হাম
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ফ্যাক্ট-শিট অনুযায়ী শিশু জন্মের পরপরই যক্ষ্মা বা টিবি প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেয়া হয়। 
- শিশু জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি টিকা দিতে হয়। যথা-
• পোলিওর প্রতিষেধক ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন-ওপিভি,
• নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক নিউমোককাল কনজুগেট ভ্যাকসিন-পিসিভি এবং
• পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা।

 - শিশুর জন্মের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার একটি করে ডোজ অর্থাত চার সপ্তাহ বিরতিতে একেকটি টিকার তিন ডোজ সম্পন্ন করা হয়।
- পেন্টাভ্যালেন্ট হল ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), হিমোফিলিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সমবেত একটি টিকা।
- শিশুর বয়স নয় মাস থেকে ১৫ মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক এমআর টিকা দেয়া হয়।
- শিশুর ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হয়।

উৎস: bbc
৩,৩৯৩.
আমাশয় রোগের জন্য দায়ী নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Entamoeba histolytica
  2. খ) Staphylococcus aureus
  3. গ) Staphylococcus epidermidis
  4. ঘ) Staphylococcus haemolyticus
ব্যাখ্যা

আমাশয় রোগের জন্য দায়ী Entamoeba histolytica নামক ব্যাকটেরিয়া। 

আমাশয় (Dysentery) অন্ত্রে সংক্রমনের কারণে প্রদাহজনিত পেট ব্যাথা ও শ্লেষ্মা বা রক্তসহ পাতলা পায়খানা সৃষ্টিকারী রোগ। আমাশয় প্রধানত দুপ্রকার, অ্যামিবিয় আমাশয় বা অ্যামিবিয়াসিস আর ব্যাসিলারি আমাশয় বা শিগেলোসিস।

অ্যামিবীয় আমাশয় (Amoebic dysentery, Amoebiasis) Entamoeba histolytica হল এককোষী পরজীবীঘটিত আমাশয়। এ এককোষী জীবাণু অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি আক্রমণ করে এবং রোগ শুরু হলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্থানে স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেগুলি থেকে শ্লেষ্মা, পচা দেহকোষ, অ্যামিবা-কোষ নির্গত হয়। রোগ লক্ষণে থাকে পেটব্যথা, ঘন ঘন শ্লেষ্মা সহকারে ঘন ঘন মলত্যাগ (দিনে ৩০ বার বা ততোধিক হতে পারে), মলত্যাগে যন্ত্রনা, বমি ও সাধারণ দৌর্বল্য।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৩৯৪.
মুক্তা হলো ঝিনুকের -
  1. খোলসের টুকরা
  2. চোখের মণি
  3. প্রদাহের ফল
  4. জমাট হরমোন
ব্যাখ্যা
• মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।

• মুক্তা:
- মুক্তা (Pearl) বা মতি এক ধরনের মূল্যবান রত্ন, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়।
- মাসেল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা তৈরি হয়।
- মুক্তার রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন, ক্যালসাইট, এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
- যখন ঝিনুক খোলস ফাঁক করে খাবার গ্রহণ করে, তখন যদি বালুকণা বা অন্য কোনো কঠিন বস্তু তার দেহে প্রবেশ করে এবং তা ঝিনুকের পক্ষে বের করা সম্ভব না হয়, তখন ঝিনুকের শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
- ঝিনুকের দেহ থেকে ক্ষরিত সাদা ঘন আঠালো রস কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধে।
- এই জমাট বাঁধা পদার্থ ধীরে ধীরে মুক্তায় পরিণত হয়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) হলো একটি রাসায়নিক যৌগ, যা মূলত কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- এটি মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক এবং ডিমের খোসার প্রধান উপাদান, এবং শিলার মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই এবং রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৩৯৫.
পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত কয় প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জড় পরিবেশ ও জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত এরূপ আন্তঃসম্পর্ককে বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
বাস্তুসংস্থানকে আবার বাস্তুতন্ত্র বা প্রকৃতি বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তবে বাস্তুসংস্থানকে সচরাচর প্রকৃতি বলা হয় ৷
 পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত দু'ধরনের। যথা-
১. স্থলজ বাস্তুসংস্থান
২. জলজ বাস্তুসংস্থান 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৯৬.
লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ কোনটি?
  1. হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটি
  2. অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি, যা অপরিণত ও অকার্যকর শ্বেত রক্ত কণিকা হিসেবে অস্থি মজ্জা ও রক্তে জমা হয়ে স্বাভাবিক রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত করে। 

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 

- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৯৭.
পানিতে দ্রবীভুত ভিটামিন কোনটি?
  1. ক) রেটিনল
  2. খ) টোকোফেরল
  3. গ) ফাইলোকুইনন
  4. ঘ) ফলিক এসিড
ব্যাখ্যা
• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন ফলিক এসিড

দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিটামিনকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়:
১. পানিতে দ্রবীভুত ভিটামিন এবং
২. তৈল জাতীয় পদার্থে দ্রবীভুত ভিটামিন।



ফলিক এসিড:
- ফলিক এসিড (Folic acid) অন্যতম ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
- একই জৈবিক গুণসম্পন্ন কয়েক ধরনের ফলিক এসিড পাওয়া যায়।

ফলিক এসিডের উৎস:
- কলিজা, বৃক্ক, মাংস, মাছ, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ও বিচিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড পাওয়ার যায়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৯৮.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা? 
  1. সেলুলোজ
  2. সুক্রোজ
  3. শ্বেতসার
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৯৯.
নিষেকক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত প্রজনন কোনটি?
  1. অ্যাগামোস্পার্মি
  2. পার্থেনোজেনেসিস
  3. অযৌন জনন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপুংজনি (Parthenogenesis)- নিষেক ছাড়া একটি গ্যামিট হতে ভ্রূণ সৃষ্টি তথা নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস বলে। পার্থেনোজেনেসিস দু’ধরনের হতে পারে। যথা- হ্যাপ্লয়েড এবং ডিপ্লয়েড ।

অ্যাগামোস্পার্মি : নিষেক ছাড়া কার্যক্ষম বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অ্যাগামোস্পার্মি বলে। ইহা এক ধরনের অযৌন জনন প্রক্রিয়া।

অযৌন জনন : দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।

সূত্রঃ উদ্ভি্দবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০০.
রাফেজের গঠন উপাদান কী?
  1. প্রোটিন
  2. গ্লুকোজ
  3. সেলুলোজ
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
রাফেজ বা আঁশ: 
- রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাবার হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
- রাফেজ প্রধানত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। 
- শস্যবীজ, ডাল, আলু, খোসাসমেত টাটকা ফল এবং শাকসবজি রাফেজের প্রধান উৎস। এগুলো ছাড়াও শুকনা ফল, জিরা, ধনে, মটরশুঁটি প্রভৃতিতে বেশ ভালো পরিমাণ রাফেজ পাওয়া যায়। এই খাবারগুলোর দীর্ঘ তন্তুময় অংশকে রাফেজ বলে। 
- রাফেজ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর। 
- রাফেজ দেহে কোনো পুষ্টি জোগায় না সত্যি কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তবে ঠিক কীভাবে এ রোগগুলো প্রতিরোধ করে তা এখন পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানা যায়নি। 
- রাফেজ সরাসরি খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে, এটি হজম হয় না। 

রাফেজভুক্ত খাবারের গুরুত্ব: 
১. এটি পরিপাকে সহায়তা করে। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
২. শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
৩. এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। 
৪. বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমাতে এটি কাজ করে। 
৫. রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে। 
- এ কারণে প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত, শাকসবজি ও ফল থেকে এ পরিমাণ আঁশ পাওয়া সম্ভব। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।