বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৯ / ৪২ · ২,৮০১২,৯০০ / ৪,২০৮

২,৮০১.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) ম্যাপল
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

২,৮০২.
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কয় ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ ২ ধরনের। যথা- দেহকোষ এবং জননকোষ (যেযন- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮০৩.
কোন রক্ত কণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. ফাইব্রিনোজেন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- রক্ত হৃদপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি ও কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে (Bone marrow) রক্ত কণিকার জন্ম। 

রক্তের উপাদান (Blood Corpuscles): 
- রক্ত এক প্রকার লাল তরল যোজক কলা। 
- ইহা (ক) রক্তরস ও (খ) রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত। 

(ক) রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- রক্তের শতকরা ৫৫ ভাগই রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি, বাকি অংশে কিছু আমিষ, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এর মধ্যে যে পদার্থগুলো থাকে তা হলো- আমিষ (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন এবং ফাইব্রিনোজেন), গাড়ুকোজ, চর্বি কণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, অ্যান্টিবডি এবং বর্জ্য পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি)। 
- এছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড সামান্য পরিমাণে থাকে। 

(খ) রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়। 
যথা- ১। লোহিত রক্ত কণিকা, ২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা (R.B.C): 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্ত কণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দেহে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম। তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে এর পরিমাণ বেশি থাকে। 
- জীবনের প্রতি মুহুর্তে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে উপন্ন হয়। 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (Anemia) দেখা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮০৪.
'কপিসিং' করা হয় কোন বৃক্ষে?
  1. ক) জারুল
  2. খ) গরান
  3. গ) গর্জন
  4. ঘ) শাল
ব্যাখ্যা
- জারুল একটি বিশাল পত্রঝরা বৃক্ষ।
-  এর বাকল হালকা ছাই রঙের অথবা ফ্যাকাশে বাদামি রঙের। 
- পাতা সরল, শীত মওসুমে জারুলের পাতা লালচে অথবা তামাটে বর্ণ ধারণ করে এবং ক্রমান্বয়ে ঝরে যেতে থাকে।
- সাধারণত বীজের মাধ্যমে জারুল গাছের বংশবিস্তার করা হয়। 
- জারুল গাছের কপিসিং ক্ষমতা খুব ভালো।

সূত্রঃ বনায়ন, অর্থনৈতিক বৃক্ষ পরিচিতি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮০৫.
সর্বপ্রথম ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. ব্রাউন
  2. বেটসন
  3. বার্নেস
  4. আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮০৬.
মানুষের মৃত্যু হয় যদি রক্ত সঞ্চালন—
  1. ক) ৩ মিনিট বন্ধ থাকে
  2. খ) ৪ মিনিট বন্ধ থাকে
  3. গ) ৫ মিনিট বন্ধ থাকে
  4. ঘ) ৬ মিনিট বন্ধ থাকে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন:
- মানবদেহে রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলো হলো হৃদপিন্ড এবং রক্তনালী।
- ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা এ তিন ধরনের রক্তবাহী নালীগুলো প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হৃদপিন্ডের সাথে যুক্ত থেকে রক্ত সঞ্চালনে অংশ নেয়। 
- মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
- হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে। 
- হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮০৭.
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জীব কোনটি? 
  1. সিংহ
  2. তিমি
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. হাতি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: 
- পরিবেশের সকল অজীব বা জড় উপাদানের সাথে জীব উপাদানসমূহের সবসময়ই পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান চলছে। এমনকি জীব পরিবেশে যে উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, তাদের মধ্যেও চলছে এই ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। - বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 
- কোন অঞ্চলের জীব উপাদান ও জড় উপাদানের নির্ভরশীলতার সম্পর্কের নাম বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম। 
- পৃথিবীতে যত প্রকার জীব আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তিমি, আর ক্ষুদ্রতম হলো ব্যাকটেরিয়া। 
- বড় থেকে ক্ষুদ্র সকল জীবই কিন্তু পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত। 
- পরিবেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক আছে। এদের সাথে আবার বায়ু, মাটি ও পানির যে সম্পর্ক তা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছে। 

- জীব জড়ের উপর নির্ভরশীল, আবার একটি জীব অপর একটি জীবের উপর নির্ভরশীল। 
- পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝা যায় যেমন- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সৌরশক্তিকে কাজে লাগায়, যা সালোকসংশ্লেষণ নামে পরিচিত। সালোকসংশ্লেষণ (উদ্ভিদ) এবং শ্বসন (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) পদ্ধতি পরিবেশের বিভিন্ন অজীব ও জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান দুটি উপায়। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে গুকোজ এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনে কাজে লাগে। প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এভাবেই সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৮০৮.
মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থির নাম কী?
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। যকৃত শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বিভিন্ন ধরনের রসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, প্রোটিন উৎপাদন করে, এবং পাচনতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পিত্ত প্রস্তুত করে। যকৃত শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং শক্তি সঞ্চয় ও ব্যবহার নিশ্চিত করে। অন্যান্য বিকল্প যেমন থাইরয়েড একটি ছোট গ্রন্থি, ত্বক একটি অঙ্গ, আর নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, তাই এগুলো বৃহৎ গ্রন্থি হিসেবে বিবেচিত হয় না।

- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) যকৃত।

• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮০৯.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
  3. ফুসফুসের সংকোচন
  4. ফুসফুসের প্রসারন
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- হৃৎপিণ্ড ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে, যা নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে একে সিস্টোল (systole) এবং প্রসারিত হলে একে ডায়াস্টোল (diastole) বলে।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন নিলয় ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১০.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) অ্যালবুমিন
  4. ঘ) অ্যান্টিটক্সিন
ব্যাখ্যা
- রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ হচ্ছে- ইউরিয়া। 

রক্তরস
:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ:
• খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)। 
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ O2, CO2, N2 ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১১.
জাইগোট কী? 
  1. দেহকোষ 
  2. ব্যাকটেরিয়ার কোষ 
  3. একটি কোষের বিভাজন 
  4. নতুন জীবের প্রথম কোষ 
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ: 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ: 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ: 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮১২.
নিচের কোন উদ্ভিদটির মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়?
  1. হলুদ 
  2. আদা 
  3. মিষ্টি আলু
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

- মিষ্টি আলু (Sweet potato) হল একটি মূল জাতীয় উদ্ভিদ, যার মূল থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। 

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 

- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮১৩.
উদ্ভিদ কোষে খাদ্যের সঞ্চিত রূপ কোনটি?
  1. প্রোটিন
  2. শ্বেতসার
  3. লিপিড
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮১৪.
নিচের কোনটি মসবর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) নারিকেল
  3. গ) Riccia
  4. ঘ) Fungi
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা বা মসবর্গঃ এ বিভাগে কতক উদ্ভিদকে নরম কান্ড ও পাতার মত অংশে বিভক্ত করা যায় এবং কতক উদ্ভিদ থ্যালোয়েড জাতীয়। উদাহরণঃ Riccia, Marchantia ইত্যাদি।
২,৮১৫.
Rh ফ্যাক্টর কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯৪০
  3. গ) ১৯৩০
  4. ঘ) ১৯৪৫
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালে কাল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইলার এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে সক্ষম হন। মানুষের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লিতে বানরের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লির মত এক প্রকার এন্টিজেন থাকে। এ এন্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
২,৮১৬.
কোন উদ্ভিদে শ্বাসমূল দেখা যায়?
  1. আদা
  2. হলুদ
  3. গরান
  4. রাস্না
ব্যাখ্যা

- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়।
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

২,৮১৭.
ভিটামিন B5 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) নিয়াসিন
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) প্যান্টোথেনিক এসিড
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে -
* পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে। ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়।

* কিন্তু Harvard University এবং  National Institute of Health (US) এর তথ্য অনুসারে ভিটামিন B এর সংখ্যা ৮টি।

B1 - Thiamin (থায়ামিন)
B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
B3 - Niacin/Nicotinamide/Nicotinic acid (নিয়াসিন)
B5 - Pantothenic acid (প্যান্টোথেনিক এসিড)
B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
B7 - Biotin (বায়োটিন)
B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

** প্রথমত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে ১২টি ভিটামিন B এর কথা বলা হয়েছে, যা ভুল।
প্রকৃতপক্ষে ভিটামিন B - ৮টি; এই ৮টি ভিটামিনকে একত্রে ভিটামিন B complex বলা হয়।

** দ্বিতীয়ত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে B5 এর নাম - নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও ভুল।
- ভিটামিন B5 এর নাম হচ্ছে -  Pantothenic acid.
২,৮১৮.
জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেত শনাক্তকরণের কাজে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন? 
  1. ট্রানজিস্টর 
  2. অর্ধপরিবাহী জাংশন 
  3. ভ্যাকুয়াম টিউব 
  4. ক্যাপাসিটার 
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। 
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 

- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। 
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮১৯.
স্তন্যপায়ী প্রাণী নয় কোনটি?
  1. Crocodylus palustris
  2. Balaenoptera musculus
  3. Bos taurus
  4. Loxodonta cyclotis
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris.

অতএব, Crocodylus palustris - স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৮২০.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) স্বভোজী
  2. খ) মৃতজীবী
  3. গ) পরভোজী
  4. ঘ) পরাশ্রয়ী
ব্যাখ্যা
শৈবাল হচ্ছে স্বভোজী জাতীয় উদ্ভিদ। 

- শৈবাল (Algae)  ক্লোরোফিলবহনকারী সরল প্রকৃতির স্বভোজী (autotrophic) অতি প্রাচীন এক উদ্ভিদ দল।
- এদের উদ্ভব সমুদ্রের পানিতে, আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে।
- সেই আদিমকাল থেকেই শৈবাল prokaryotic থেকে eukaryotic আকৃতিতে রূপ ও বৈচিত্র্য লাভ করেছে।
- প্যালিওজোয়িক যুগের শুরু থেকে অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত এরা সমুদ্রে একক আধিপত্য অটুট রেখেছিল।
- সমুদ্রের প্রধান উদ্ভিদ এই শৈবাল।
- এদের দেহ কাঠামো সরল এবং মূল, কান্ড ও পত্রে পৃথকীভূত নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
২,৮২১.
জেনেটিক্স বলতে কী বোঝায়? 
  1. জনন কোষের উৎপত্তি 
  2. জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন 
  3. জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার 
  4. জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): 
- জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭। বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): 
- জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): 
- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮২২.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়-
  1.  মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  2. পাতায়
  3. মূলের অগ্রভাগে
  4. কাণ্ডের অগ্রভাগে
ব্যাখ্যা
• ভাজক টিস্যু:
- বিভাজনে সক্ষম কোষ দ্বারা গঠিত টিস্যুকে ভাজক টিস্যু বলা হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষগুলোকে ভাজক কোষ বলা হয়।
- ভাজক কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং ভাজক টিস্যু থেকেই অন্যান্য স্থায়ী টিস্যুর উৎপত্তি হয়।
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে বৃদ্ধি পায়।

গঠন এবং কাজের উপর নির্ভর করে স্থায়ী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। সরল টিস্যু,
২। জটিল টিস্যু এবং
৩। ক্ষরণকারী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৩.
নিচের কোনটি ভাইরাস গঠিত রোগ নয়?
  1. ক) কোভিড-১৯
  2. খ) ডেঙ্গু জ্বর
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) মাম্পস
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
- এইডস,
- জন্ডিস,
- কোভিড-১৯
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।

• ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: National Institutes of Health (US)

২,৮২৪.
নাড়ির স্পন্দন প্রবাহিত হয়-
  1. ক) ধমনীর ভেতর দিয়ে
  2. খ) শিরার ভেতর দিয়ে
  3. গ) স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
  4. ঘ) ল্যাকটিয়ারের ভেতর দিয়ে
ব্যাখ্যা
• নাড়ির স্পন্দন প্রবাহিত হয় ধমনীর ভেতর দিয়ে
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিন্ডে থেকে সারা দেহে বাহিত হয়, তাকে ধমনী বলে।
- ধমনীর প্রাচীরের মধ্যস্তর পেশিবহুল ও পুরু।
- এর রক্তের গতির দিক সাধারণত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন দিকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮২৫.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার Optimum তাপমাত্রা কত? 
  1. ১৫-২২° সেলসিয়াস
  2. ২২-৩৫° সেলসিয়াস
  3. ১৮-২৫° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়।
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ।
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি  সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮২৬.
নিচের কোনটি রক্তরসের জৈব পদার্থ? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. লেসিথিন
  3. আয়োডিন
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, O2, CO2, এবং N2, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 
- জৈব পদার্থগুলো হলো- 
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি। 
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি। 
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি। 
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যাগ্লুটিনিন ইত্যাদি। 
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন। 
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ। 

রক্তরসের কাজ: 
- রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা। 
- টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা। 
- শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা। 
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা। 
- হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা। 
- রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮২৭.
নিচের কোনটি রক্তের গুরুত্বপূর্ণ কাজ?
  1. খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা
  2. জারক রস বিতরণ করা
  3. হরমোন নিঃসরণ করা
  4. কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা
• রক্তরসের কাজ:
-
অক্সিজেন পরিবহন করে।
- রক্ত কণিকাসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
- বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহন করে।
- শ্বসনের ফলে কোষে সৃষ্ট CO₂ কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহন করে।
- রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহন করে। 
- হরমোন পরিবহন করা।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৮.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) রাইবোসোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা।
-  এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

অন্যদিকে, 
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা। হয়।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৯.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস
  2. ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- ভাইরাস হলো এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া , সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, জল  ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে।
- ভাইরাসের আকার সাধারণত ১০ nm থেকে ৩০০ nm পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোগের ভাইরাস:
- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস   
- ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
- গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - ভেরিওলা ভাইরাস 
- হাম রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস 
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩০.
কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
  1. গেওয়া
  2. কেওড়া
  3. সুন্দরী
  4. শাল
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- শাল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।

উৎস: বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
২,৮৩১.
'শিমের বিচি' কোনটির উৎস?
  1. স্টার্চ
  2. প্রোটিন
  3. ফ্যাট
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ।
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৩২.
বংশগতীয় বৈচিত্র্যের প্রধান কারণ কী? 
  1. পরিবেশগত তাপমাত্রা 
  2. জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
  3. প্রজাতির মধ্যে ভিন্নতা 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ প্রজাতির বর্ণনা ও নামকরণ পাওয়া গেছে। এর প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডীত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
যেমন- আনারস একটি প্রজাতি এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে একে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা সম্ভব। 
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকার কারণেই জীবজগতকে লক্ষ লক্ষ প্রজাতিতে বিভক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আবার একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও বৈচিত্র্য থাকে। তাই পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৩৩.
খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছ কয় প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা

খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের প্রকারভেদ:
- খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছকে প্রধানত তিন প্রকারে ভাগ করা যায়।  
- যথা:
- শাকাশী (Herbivorous),
- মাংসাশী (Carnivorous) এবং
- সর্বভুক (Omnivorous)।  

শাকাশী মাছ:
- শাকাশী মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করে।  
- তারা প্রচুর পরিমাণে ফাইটোপ্লাঙ্কটন, জলজ উদ্ভিদ বা শেওলা খায়।  
- যেমন: রুই, কাতলা ইত্যাদি।  

মাংসাশী মাছ:
- মাংসাশী মাছ হলো যারা পুকুরের বা নদীর ছোট ছোট মাছ, পোকামাকড়, জুপ্লাঙ্কটন ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।  
- যেমন: চিতল, বোয়াল ইত্যাদি।  

সর্বভুক মাছ:
- সর্বভুক মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার এবং প্রাণিজ খাবার দুটোই খায়।  
- যেমন: পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ইত্যাদি।  

- সুতরাং, খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের সংখ্যা হলো তিন।  
- সঠিক উত্তর: ক) ৩ প্রকার। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

২,৮৩৪.
ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়-
  1. আমলকিতে
  2. কমলালেবুতে
  3. তেঁতুলে
  4. আপেলে
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে ম্যালিক এসিড বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উল্লেখ্য,
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৮৩৫.
নিচের কোন প্রাণীকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. নিটাম 
  2. প্লাটিপাস 
  3. হাতি 
  4. শিয়াল 
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৩৬.
রক্তের কোন কণিকা মূলত অক্সিজেন পরিবহণের দায়িত্ব পালন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. রক্তরস
ব্যাখ্যা

- রক্তের মধ্যে অক্সিজেন পরিবহণকারী রক্তকণিকা হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC)।
- বৃত্তাকার ও উভয় পাশে গর্তের ন্যায়।
- এর প্রধান উপাদান হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin), যা অক্সিজেনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। 
- রক্তের কণিকা ৩ ধরণের। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

রক্ত কণিকার প্রধাণ কাজ:
- লোহিত রক্তকণিকা: অক্সিজেন পরিবহন করে হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে।
- শ্বেত রক্তকণিকা: যা আমাদের শরীরকে রোগ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে রক্ষা করে।
- অণুচক্রিকা: রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা এবং রক্তপাত বন্ধ করা। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

২,৮৩৭.
লাল টিউলিপের সৌন্দর্য কোন কারণে বৃদ্ধি পায়? 
  1. ফুলে হালকা বৃষ্টি পড়ে 
  2. আলো বেশি পাওয়ার কারণে 
  3. ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে 
  4. ফুলে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের কারণে 
ব্যাখ্যা

- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৩৮.
দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী হিসেবে কাজ করে কোন টিস্যু?
  1. ক) স্নায়ু
  2. খ) এপিথেলিয়াল
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) পেশী
ব্যাখ্যা

আবরণী টিস্যু দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী হিসেবে কাজ করে।

আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue):
এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী। টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়।
এই টিস্যুর আরও চারটি কাজ: অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা (protection), প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা (secretion), বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা (absorption) এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহন (transcellular transport)। আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,৮৩৯.
'DENV' কী ধরণের ভাইরাস?
  1. DNA
  2. RNA
  3. mRNA
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম Dengue virus(DENV)
- ইহা একটি RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.
তথ্যসূত্র: জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
২,৮৪০.
এন্ডোক্রাইনোলজি  হলো-
  1. অঙ্গসংস্থান সম্পর্কিত বিদ্যা
  2. ভ্রূণ সম্পর্কিত বিদ্যা
  3. হরমোন সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. শারীরতত্ত্ব সম্পর্কিত বিদ্যা
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য শাখা:
• অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Morphology) - এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে।

• ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) -  ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology) - জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।


• শারীরবিদ্যা (Physiology) - জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• কোষবিদ্যা (Cytology) - জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• বংশগতিবিদ্যা (Genetics) - মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• বাস্তুবিদ্যা (Ecology) - জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
২,৮৪১.
Which mosquito is the carrier of the Chikungunya virus?
  1. Anopheles
  2. Aedes
  3. Culex
  4. Sand fly
  5. Haemagogus
ব্যাখ্যা

• চিকুনগুনিয়া ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস (Aedes albopictus) এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী প্রধান দুটি প্রজাতি। এই মশাগুলো ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাসের সুপরিচিত বাহক হিসেবেও পরিচিত।

• চিকনগুনিয়া:
- চিকুনগুনিয়া এক ধরণের ভাইরাল সংক্রমণ যেটা এডিস নামের একটি মশার কামড়ানোর ফলে হয়।
- এটি চিকনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) নামক একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাসের কারণে হয়।
-এই মশাটি সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়।
- চিকুনগুনিয়া সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২০২৩ সালের শেষের দিকে এফডিএ (FDA) চিকনগুনিয়ার জন্য প্রথম টিকা হিসেবে IXCHIQ অনুমোদন করে।

• চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ:
১. প্লাটিলেট কমে যায়। শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও চোখ ব্যথা, চোখ থেকে পানি পড়া, অরুচি বা বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দেয়।
২. বিভিন্ন স্থানে হামের মতো র‍্যাশ হতে পারে।
৩. গায়ে রক্ত জমে ছিটা ছিটা দাগ থাকতে পারে।

সূত্র- ব্রিটানিকা। [link]

২,৮৪২.
Mangifera indica কোন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম? 
  1. কলা
  2. আম
  3. পেঁপে
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
• সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
• মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।
২,৮৪৩.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৮৪৪.
শ্বসনে নির্গত হয়-
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন: এটি একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া যখন অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজকে ভেঙ্গে শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় এবং সাথে উপজাত হিসাবে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়।



- শ্বসন প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোষেই ঘটে।
- শ্বসনের জন্য অক্সিজেন আবশ্যক।
- অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজের জারন ঘটে। ফলে শক্তি উৎপন্ন হয় যা জীবদেহ চালনা করে।
- উপজাত হিসাবে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়।

উৎস: মাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই।
২,৮৪৫.
মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশ কোনটি?
  1. নাসিকা
  2. গলবিল
  3. শ্বাসনালী
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের নাম: 
- দেহের যে অঙ্গগুলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, সেগুলোকে একত্রে শ্বাসতন্ত্র বলে।
- যে সকল অঙ্গগুলো নিয়ে মানব শ্বাসতন্ত্র গঠিত তা হলো- নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ (Nasal cavity), গলবিল ও গলনালি (Pharynx), স্বরযন্ত্র (Larynx), শ্বাসনালি (Trachea), বায়ুনালি বা ব্রঙ্কাস (Bronchus), ফুসফুস (Lung) ও মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) ।

নাসারন্ধ্র বা নাসাপথ: 
- মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম নাসিকা। 
- এটা মুখ গহ্বরে উপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার গহ্বর, এর সাহায্যে কোন বস্তুর সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ বোঝা যায়।
- একটি বিশেষ ধরনের স্নায়ু এ অঙ্গকে উদ্দীপিত করে, ফলে গন্ধ পাওয়া যায়।
- একটি পাতলা পর্দা দ্বারা এটি দু'ভাগে বিভক্ত।
- ইহার সম্মুখ ভাগ লোম দ্বারা আবৃত ও পেছনের দিকের অংশ শ্লেষ্মা প্রস্তুতকারী পর্দা দ্বারা আবৃত।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধূলিকণা, রোগ জীবাণু ও আবর্জনা থাকলে তা এ লোম ও পর্দাতে আটকে যায়।
- ফলে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে অনেকটা নির্মল হয়ে যায়।
- এছাড়া শ্বসনের জন্য গৃহীত বায়ু নাসাপথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়। এর ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৬.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃদপিণ্ড?
  1. ক) ক্যাটল ফিস
  2. খ) সিল মাছ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) হাঙ্গর
ব্যাখ্যা
• ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃদপিণ্ড আছে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।
- তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- ক্যাটল ফিস এবং অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৪৭.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
  2. এরা অবীজী উদ্ভিদ।
  3. এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক।
  4. এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা:  
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।  
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৮.
নিচের কোনটি উৎপাদক?
  1. সবুজ উদ্ভিদ
  2. মাটি 
  3. শিকারি পোকা 
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক, জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে এদেরকে উৎপাদক বা প্রাথমিক উৎপাদক বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খল সবসময় একটি উৎপাদক দিয়েই শুরু হয়। 

ইকোলজি: 

- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৪৯.
6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা
রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়।
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথানল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫০.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৫১.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:
- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৫২.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি সরাসরি উৎপন্ন হয়? 
  1. সালফার ও কার্বন 
  2. গ্লুকোজ ও অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,৮৫৩.
গোল কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
  1. অ্যানেলিডা
  2. নেমাটোডা
  3. মলাস্কা
  4. প্লাটিহেলমিনথেস
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- নলাকার দেহ, পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত।
- পৌষ্টিকনালী সম্পূর্ণ, শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
- দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা স্যুডোসিল । বেশির ভাগ একলিঙ্গী।
উদাহরণ- চোখ কৃমি, গোল কৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ চ্যাপ্টা। 
- শিখা কোষ (flame cell) নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ - যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি ইত্যাদি।

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
২,৮৫৪.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৫৫.
বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ক) 19.75
  2. খ) 19.09
  3. গ) 20.95
  4. ঘ) 21.95
ব্যাখ্যা

বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ ২০.৯৫ শতাংশ। 

কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩৩ শতাংশ। 
পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের জন্য বায়ুতে এ দুইটি গ্যাসের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান 

২,৮৫৬.
শিশুর জন্য "ভিটামিন এ" ক্যাপসুল বছরে কতবার দিতে হয়?
  1. বছরে দুইবার
  2. বছরে তিনবার
  3. বছরে একবার
  4. বছরে চারবার
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১ - ৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
- অর্থাৎ বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয়। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
২,৮৫৭.
কোন খাদ্য উপাদানটি আমাদের শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রােটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।
আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে।
নাইট্রোজেন এবং শেষােক্ত উপাদানগুলাের উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা।
শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
২,৮৫৮.
কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে-
  1. ক) করোনারি ধমনী
  2. খ) পালমোনারি ধমনী
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) ইনমিনেট ধমনী
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি : অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করোনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।
ইনমিনেট ধমনি : এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।
পালমোনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত CO2 সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।
পালমোনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫৯.
কোন পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সরলতম বহুকোষী প্রাণী। দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
কোনাে পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না।
উদাহরণ: Spongilla, Scypha

২,৮৬০.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হল-
  1. ক) ভিটামিন-এ
  2. খ) ভিটামিন-সি
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। সম্ভবত প্রচলিত উত্তর লৌহ।
কিন্তু, লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। পাশপাশি সকল তথ্য দেয়া হল।
--------------------------------
• লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
• ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷

উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
--------------------------------
নিচে নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের (পৃষ্ঠা নং - ৯৪) অংশটি সংযুক্ত করা হল:


যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
২,৮৬১.
কাকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
  1. লুই পাস্তুর
  2. রবার্ট হুক
  3. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুককে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়

• অণুজীববিজ্ঞান:

- অণুজীববিজ্ঞান হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে।
- অণুজীব বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, এবং প্রোটোজোয়া-র মতো অতি ক্ষুদ্র জীবকে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- এই শাখার মূল আলোচ্য বিষয় হল অণুজীবের গঠন, কার্যাবলী, বাস্তুসংস্থান, এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। 

• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক-ই প্রথম অণুজীব আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অণুজীববিজ্ঞান এর গুরুত্ব:
- রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা: অণুজীববিজ্ঞান রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত প্রতিষেধক ও ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করে।  
- খাদ্য সুরক্ষা: খাদ্য উৎপাদনে অণুজীবের ভূমিকা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অণুজীবের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অণুজীবের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- কৃষি: অণুজীব সার তৈরিতে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।  
- শিল্প: বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যেমন - ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বায়োটেকনোলজিতে অণুজীব ব্যবহার করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
২,৮৬২.
মানুষের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. 46
  2. 23
  3. 44
  4. 22
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৬৩.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আদি কোষবিশিষ্ট
  2. বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. DNA অথবা RNA উপস্থিত
ব্যাখ্যা
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
- সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো।
- ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,৮৬৪.
ক্রোমোপ্লাস্টে নিচের কোন রঞ্জকটি থাকে না? 
  1. জ্যান্থফিল 
  2. ক্যারোটিন 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. ফাইকোএরিথ্রিন 
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জকটি থাকে না। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৬৫.
নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) স্পাইরিলাম
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কক্কাস
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা
কোনাে কোনাে ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গােলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে।
যেমন - নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
২,৮৬৬.
Xerophytes বলা হয় কোন উদ্ভিদকে?
  1. জলজ উদ্ভিদকে
  2. মরুজ উদ্ভিদকে
  3. উভচর উদ্ভিদকে
  4. মিষ্টি পানির উদ্ভিদকে
ব্যাখ্যা
• Xerophytes শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "xero" (শুষ্ক) এবং "phyte" (উদ্ভিদ) থেকে, যার অর্থ শুষ্ক পরিবেশে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ।অর্থাৎ মরুজ উদ্ভিদ।
এই উদ্ভিদগুলো শুষ্ক আবহাওয়ায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন অভিযোজন গড়ে তোলে।

অন্যদিকে,
ক) জলজ উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ পানিতে বা জলীয় পরিবেশে জন্মায়, যেমন শাপলা, পদ্ম।

গ) উভচর উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ জল ও স্থল উভয় পরিবেশে বাঁচতে পারে, যেমন হাইড্রিলা, এলোডিয়া।

ঘ) মিষ্টি পানির উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ শুধু স্বাদুপানির জলাশয়ে জন্মায়, যেমন শালুক, কলমি লতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৮৬৭.
বায়ুদূষণের ফলে বায়ুতে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেয়।
 
• বায়ুদূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষিত হলে সেই বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
- এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে অম্লীয় বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
- এই অম্লীয় বৃষ্টি শুধু মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জলজ প্রাণীকেও ক্ষতি করে।
- এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হয়।

• বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা:
- বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়ে যাবে।
- এর ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।
- আবার কোনো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।
- এর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
- এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
- পরিশেষে সার্বিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

২,৮৬৮.
চালে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?
  1. ক) সুক্রোজ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) গ্যালাকটোজ
  4. ঘ) ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করার শ্রেণীবিভাগঃ
১. এক অণু বিশিষ্ট শর্করা -- গ্লুকোজ
উৎসঃ ফলের রস, মধু ইত্যাদি
২. দুই অণু বিশিষ্ট শর্করা -- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎসঃ চিনি ও দুধ
৩. বহু অণু বিশিষ্ট শর্করা -- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎসঃ চাল, আটা, আলু, সবুজ পাতা, শাকসবজি
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
২,৮৬৯.
দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কি?
  1. ক) হিউমেরাস
  2. খ) ফিমার
  3. গ) এনামেল
  4. ঘ) রেডিও আলনা
ব্যাখ্যা
• দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল। মানব শরীরের কঠিনতম কলা।
- যা হাইড্রোক্সিপাটাইট স্ফটিক (ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট আয়ন) দ্বারা গঠিত।
- হিউমেরাস লম্বা দেহ, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রান্ত নিয়ে গঠিত। এটির উপর দিকে গোলাকার মস্তক বিদ্যমান।
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি। ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী অস্থি।
- রেডিও আলনা অস্থিটি রেডিয়াস ও আলনা নামক পৃথক অথচ পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ দুটি অস্থি নিয়ে গঠিত। রেডিয়াস লম্বা এবং মস্তক বর্তমান। অন্যদিকে আলনা লম্বা ও নলাকার।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৭০.
কোন উপাদান উদ্ভিদের বিপাক ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে? 
  1. বোরন 
  2. লৌহ 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ: 
- উদ্ভিদের কোনো পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে বিশেষ লক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভিদ তা প্রকাশ করে। এ লক্ষণগুলোকে বলা হয় অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms)। 
- এ লক্ষণ দেখে বুঝা যায়, কোন উদ্ভিদ বা ফসলে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে। 
- নিচে কিছু উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ উল্লেখ করা হলো- 
১। ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

২। লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

৩। সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

৪। বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৭১.
'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব'  এ মতবাদ প্রদান করেন কে? 
  1. গ্রেগর মেন্ডেল
  2. জর্জ কুভিয়ে
  3. চার্লস ডারউইন
  4. জিন ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা

বিবর্তনবাদ: 
- ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদের  একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন ইংল্যান্ডের সাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন।
-  ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of species by means of natural selection) নামে একটি বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
• মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয় তার কারণ তিনিই প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে জিন ও বংশগতি সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন।
- ল্যামার্ক 'বায়োলজি' শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলোসোফিক জুওলজিক' (Philosophic Zoologique) নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৭২.
শিশুর খাদ্যে নিচের কোনটির ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া দেখা যায়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. গন্ধক
ব্যাখ্যা
রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া: 
- আয়রন বা লৌহ, লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের গঠন উপাদান।
- শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়ের খাদ্যে লৌহের ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা দেখা যায়।
- সাধারণত শিশুদের পেটে কৃমি হলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
এর লক্ষণগুলো হলো-
• দুর্বলতাবোধ, মাথা, গা ঝিমঝিম করা।
• বুক ধড়ফড় করা।
• মাথা ঘোরানো, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠা।
• ওজন হ্রাস ও খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়।

প্রতিকার: 
- লৌহ সমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল, মাংস, ডিমের কুসুম, যকৃৎ ও বৃক্ক ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া।
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।
- রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে হৃৎপিন্ডের দ্রুত রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২,৮৭৩.
নিচের কোনটিতে ফ্রুকটোজ পাওয়া যায়?
  1. ক) আম
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) কলা
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
শর্করা আমাদের শরীরে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। বেশ কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেমনঃ ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি শ্বেতসার এর উৎস। গ্লুকোজের উৎস হলো আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদি৷ আম, পেঁপে, কলা ইত্যাদিতে থাকে ফ্রুকটোজ৷ আবার বেল, কলা, আম, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৭৪.
বায়ু পরাগায়ণ ঘটে কোনটিতে?
  1. ক) সূর্যমুখী
  2. খ) ধান 
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
যে সকল ফুলের পরাগায়ণ বাতাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদেরকে বায়ু পরাগায়ণ বলে। যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ইত্যাদি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
২,৮৭৫.
দূর্বাঘাস সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এসব হার্ব সাধারণত দুই-বছরকাল জীবিত থাকে
  2. সাধারণত এরা একবার ফল দিয়ে মারা যায়
  3. প্রথম বছরে দৈহিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হয় ও দ্বিতীয় বছরে ফল ও ফুল হয়
  4. ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়
ব্যাখ্যা
• দূর্বাঘাসের ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ বলতে এমন উদ্ভিদকে বোঝায়, যা দুই বছরের বেশি সময় ধরে জীবিত থাকে এবং বারবার ফুল, ফল, পাতা ও কান্ড গজায়।
উদাহরণ- দূর্বাঘাস, আদা, হলুদ ইত্যাদি। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
- এরা বছরে এক বা একাধিকবার ফুল ও ফল ধারণ করতে পারে।
- ভূ-নিম্নস্থ রাইজোম (Rhizome) ও স্টোলন (Stolon) থেকে প্রতিবছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 
- এরা সারা বছরই বৃদ্ধি পায়।

• দূর্বাঘাস "বারমুডা গ্রাস" একটি বহুবর্ষজীবী (perennial) ঘাস। 

• দূর্বাঘাস:

- এটি ঘাসজাতীয় একটি উদ্ভিদ, যা সারাবিশ্বে বহুল পরিচিত। 
- এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Cynodon dactylon. 
- এটির শিকড় মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষয় রোধ করে।
- এর ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড (রাইজোম) থেকে প্রতি বছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- FAO.
২,৮৭৬.
জীবদেহের অকেজো কোষকে কোন প্রক্রিয়ায় লাইসোসোম ধ্বংস করে?
  1. ক) ফ্যাগোসাইটোসিস
  2. খ) অটোফ্যাগি
  3. গ) অটোলাইসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস বা, স্ববিগলন প্রক্রিয়ায় লাইসোসোম ধ্বংস করে।
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণুকে লাইসোসোম ধ্বংস করে।
জীবে তীব্র খাদ্য অভাব দেখা দিলে কোষের উপাদান ও অঙ্গানুকে বিগলিত করে অটোফ্যাগি প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করবার মাধ্যমে জীবকে টিকে থাকতে সহায়তা করে লাইসোসোম।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৮৭৭.
রক্ত প্রধানত কোন দুটি উপাদানে গঠিত?
  1. প্রোটিন ও চর্বি
  2. হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেন
  3. যোজক কলা ও পেশি কলা 
  4. রক্তরস ও রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

অন্যদিকে, 
- প্রোটিন ও চর্বি: এগুলো রক্তরসের মধ্যে দ্রবীভূত পুষ্টি উপাদান মাত্র, রক্তের প্রধান গাঠনিক অংশ নয়।
- হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেন: হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি উপাদান এবং অক্সিজেন রক্ত দ্বারা পরিবাহিত একটি গ্যাস।
- যোজক কলা ও পেশি কলা: রক্ত নিজেই একটি তরল যোজক কলা; তবে পেশি কলা রক্তের অংশ নয়, এটি শরীরের অন্য একটি টিস্যু তন্ত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৮.
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. মেডুলা অবলংগাটা
  2. সেরেবেলাম
  3. থ্যালামাস
  4. পনস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ 'থ্যালামাস' অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

পশ্চাৎ মস্তিষ্ক:
- এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
(ক) সেরেবেলাম,
(খ) মেডুলা অবলংগাটা এবং
(গ) পনস।

• সেরেবেলাম:
- পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেরেবেলাম যা সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত।
- দুটি কুণ্ডলীকৃত সমগোলার্ধ নিয়ে গঠিত যারা ভার্নিস নামে একটি ক্ষুদ্র যোজকের সাহায্যে যুক্ত।
- এটি বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা নিয়ে গঠিত।
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

• মেডুলা অবলংগাটা:
- এটি পনস ও সুষুম্মাকাণ্ডের মধ্যবর্তী অনেকটা ত্রিকোণাকার পুরু গঠন বিশেষ।
- এটি সুষুম্মাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করে।
- এটি পৌষ্টিক নালির পেরিস্টালসিস, রক্তনালির সংকোচন- শ্লথন, হৃদস্পন্দন, ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণ, লালাগ্রন্থির ক্ষরণ, মলমূত্র ত্যাগ, বমি ইত্যাদি শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

• পনস:
- এটি সেরেবেলামের অঙ্কভাগে মেডুলার সামনের দিকে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি পিণ্ডাকার গঠন।
- এটি সেরেবেলাম ও মেডুলাকে মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করে।
- স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৭৯.
লসিকায় সাধারণত কী অনুপস্থিত থাকে? 
  1. প্রোটিন
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. অ্যান্টিবডি
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা (Tissue) রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে, এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে, এ সব নালিকে "লসিকা নালি" (Lymph vessels) বলে। অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে "লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮০.
ক্রোমোসোমে শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. ক) ৪৫
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৫৫
  4. ঘ) ৬৫
ব্যাখ্যা

প্রোটিন হল ক্রোমোসোমের মূল কাঠামো গঠনকারী রাসয়নিক উপাদান। এ কাঠামোতে নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো বিন্যাস্ত থাকে। ক্রোমোজমে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৫৫ ভাগ। এছাড়াও ক্রোমোজমে দুই ধরনের প্রোটিন পাওয়া যায়। যথা- হিস্টোন এবং নন-হিস্টোন।
নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিনে গঠিত যেসব তন্তুর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাকে ক্রোমোজোম বলে। একটি নিউক্লিয়াসে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। এর প্রধান উপাদান DNA।
ক্রোমোজোমের কাজ-
১. DNA তথা জিন অণু ধারণ করে।
২. প্রজাতির বৈশিষ্ট্যকে বংশপরম্পরায় বহন করে।
৩. প্রাণীর লিঙ্গ নির্ধারণে এর ভূমিকা সর্ববিদিত।
৪. কোষের সংশ্লেষ কাজের সঙ্গে এর পরোক্ষ সম্পর্ক আছে।
৫. জীবের সব বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৮৮১.
Cycas-এর পাতায় বিশেষ কোন টিস্যু পাওয়া যায়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. প্যারেনকাইমা টিস্যু 
  3. ট্রান্সফিউশন টিস্যু 
  4. এয়ারেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা- ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- গ্রিক Gymnos অর্থ হলো naked = নগ্ন এবং spermos অর্থ হলো seed = বীজ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। Cycas-এর পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

২,৮৮২.
নিম্নের কোন খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ বেশি?
  1. ক) ঘি
  2. খ) গরুর দুধ
  3. গ) খাসির মাংস
  4. ঘ) ইলিশ মাছ
ব্যাখ্যা

100 গ্রাম ঘি এ মোট 900 কিলোক্যালরি শক্তি আছে।
অন্যদিকে, 100 গ্রাম গরুর দুধ, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ এ শক্তি আছে যথাক্রমে 67 কিলোক্যালরি 194 কিলোক্যালরি এবং 273 কিলোক্যালরি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৮৩.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগায়িত উদ্ভিদ? 
  1. কদম 
  2. জবা 
  3. ধান 
  4. শিমুল 
ব্যাখ্যা

- বায়ু পরাগী উদ্ভিদ হচ্ছে ধান। 

পরাগায়নের মাধ্যম: 

- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৮৪.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ গ্যাস?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮৮৫.
ইনসুলিন কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. ক) পিত্তাশয়ে
  2. খ) পাকস্থলীতে
  3. গ) ইন্টারফেরনে
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়ে
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি হচ্ছে প্যানক্রিয়াস।
- প্যানক্রিয়াস(pancrea) হল মানুষের একটি অংগ যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। পাকস্থলী যেখানে শেষ হয়, ডিওডেনাম সেখানে শুরু হয়। আর ডিওডেনামের পিছনেই এটির অবস্থান।
 
এটা মূলত দুই ধরনের কাজ করে: 
১) খাদ্য হজমের জন্য পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস তৈরি করে পাকস্থলীতে সরবরাহ করে।
২) ইন্সুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
 


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৮৮৬.
মধুতে খুব বেশি পরিমানে থাকে -
  1. ক) কপার
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মধু ভালো শক্তি প্রদানকারী খাদ্য। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। কারণ এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে।
- মধু ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
- ১ চা চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।
- রক্তশূন্যতা কমাতে মধু সহায়ক। মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। কারণ এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।
- হাঁপানি রোধে এবং ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে সহায়তাকারী।
- মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুমে কাজ করে।
 
উৎস : কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট
২,৮৮৭.
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান -
  1. ক) আরএনএ
  2. খ) ডিএনএ
  3. গ) ডিএনএ ও হ্যালিক্স
  4. ঘ) আরএনএ ও হ্যালিক্স
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান- DNA।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- DNA এর পূর্ণনাম- Deoxyribonucleic acid.
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর ডাবল হেলিক্সের বর্ণনা দেন।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
২,৮৮৮.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা দরকার?
  1. ক) ১০ মিলিগ্রাম
  2. খ) ৫ মিলিগ্রাম
  3. গ) ৮ ডেসিগ্রাম
  4. ঘ) ৪ পিকোগ্রাম
ব্যাখ্যা

কোনো কারণে যদি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে যায়, তাহলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে।
যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাঁচতেই পারে না। জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৮৮৯.
ছত্রাকের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. নিউক্লিয়াস সুগঠিত
  2. কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত
  3. কোনো কোনো প্রজাতিতে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে
  4. কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া উপস্থিত
ব্যাখ্যা

অধিকাংশ ছত্রাকই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
- দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
- এগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন নামক বস্তু দিয়ে গঠিত।
- কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। সুকেন্দ্রিক হওয়ায় এদের কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া উপস্থিত থাকে।
- তবে Trichomonas, Monocercomonoides ইত্যাদি প্রোটোজোয়া সুকেন্দ্রিক কোষ হলেও এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া নেই।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৮৯০.
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যেকল উপাদান খুব অল্প পরিমাণে লাগে তাদের কী বলে?
  1. ম্যাক্রোমৌল
  2. মাইক্রোমৌল
  3. অ্যাক্টিভ মৌল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে মাত্র ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- ১৬টি উপাদানের মধ্যে ১০টি ম্যাক্রোমৌল এবং ৬ টি মাইক্রো মৌল।

• ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
২,৮৯১.
কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো—
  1. ক) 1 : 1 : 2
  2. খ) 1 : 2 : 1
  3. গ) 2 : 1 : 1
  4. ঘ) 1 : 3 : 1
ব্যাখ্যা
• কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো 1 : 2 : 1.

কার্বোহাইড্রেট:
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানির বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট।
- জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক ও সঞ্চয়ী উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট।
- আমাদের খাদ্য তালিকার প্রধান উপাদানও কার্বোহাইড্রেট।
- কার্বোহাইড্রেটকে হাইড্রেট্স অব কার্বন থেকে নামকরণ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো কার্বনের জলায়ন।
- কার্বোহাইড্রেটের প্রতি অণু কার্বনের সাথে দু 'অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন থাকে।
- কাজেই কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ যেখানে এদের অনুপাত ১ঃ২ঃ১।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮৯২.
অবাত শ্বসন কোষের কোন অংশে ঘটে?
  1. ক) রাইবোসোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
শ্বসন : যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। শ্বসন একটি তাপমোচী প্রক্রিয়া।

• শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে, দিন ও রাত্রির সর্বসময়ে, ঘটে।
• কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইট্রোকনড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়।
• অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে
• সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয় ।
• সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকনড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রুপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৮৯৩.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত?
  1. ২০-২৫° সেলসিয়াস
  2. ২০-৩০° সেলসিয়াস
  3. ২২-৩৫° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণে কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৯৪.
নিচের কোনটি একটি ম্যাক্রো উপাদান? 
  1. সালফার (S)
  2. তামা (Cu)
  3. দস্তা (Zn)
  4. মোলিবডেনাম (Mo)
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৯৫.
কোন রাজ্যের জীবগুলোর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না? 
  1. মনেরা
  2. প্রোটিস্টা
  3. প্লান্টি
  4. ফানজাই
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৮৯৬.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম কী?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) পিটুইটারি
  3. গ) প্যারাথাইরয়েড
  4. ঘ) থাইমাস
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি।  

- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এই গ্রন্থিটি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে।
- মানব শরীরে পিটুইটারি গ্রন্থির ওজন ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থির ৩টি অংশ আছে। 
যথাঃ– (১) সম্মুখ অংশ (Anterior Lobe) (২) মধ্য অংশ (Intermediate lobe) (৩) পশ্চাৎ অংশ ( Posterior lobe)।

পিটুইটারি গ্রন্থির কাজসমূহ- 
১. বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ।
২. জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কার্য নিয়ন্ত্রণ।
৩. মাতৃদেহে দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৯৭.
নিচের উদ্ভিদগুলোর মধ্যে কোনটির অঙ্গজ প্রজনন পাতার মাধ্যমে হয়? 
  1. পিঁয়াজ
  2. আদা
  3. কচুরিপানা
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেমন-পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা দেখলে বুঝা যায়, তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 
(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট। পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 
(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 
(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হলো কচুর শাখা কাণ্ড। এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 
(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 
(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

৪. পাতার মাধ্যমে: 
- কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন- পাথরকুচি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৮৯৮.
কোষের প্রাণশক্তি বলা হয়-
  1. নিউক্লিয়াসকে
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াকে
  3. রাইবোজোমকে
  4. লাইসোজোমকে
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস অব সেল বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮৯৯.
মানুষের অগ্ন্যাশয় রসে কোন ধরনের এনজাইম থাকে?
  1. অ্যামাইলেজ
  2. লাইপেজ
  3. ট্রিপসিন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 

• অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি।
• এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে।
• অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।
• অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়।
• অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে।
• এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে।
• তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অপরদিকে, 
- লালা রসে থাকে টায়ালিন ও মলটেজ নামক এনজাইম। 
- পাকস্থলি রসে শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- আন্ত্রিক রসে থাকে অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ নামক এনজাইম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,৯০০.
স্ফিগমোম্যানোমিটার কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. খ) নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. গ) রক্তচাপ
  4. ঘ) স্নায়ুচাপ
ব্যাখ্যা
স্ফিগমোম্যানোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই