বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৪ / ৪২ · ২,৩০১২,৪০০ / ৪,২০৮

২,৩০১.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ক) ক্রনোমিটার
  2. খ) ট্যাকোমিটার
  3. গ) হাইগ্রোমিটার
  4. ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা প্রিমাপক যন্ত্র: ক্রনোমিটার 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র: ট্যাকোমিটার 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র: ক্রেসকোগ্রাফ 
- বায়ুর আদ্রর্তা পরিমাপক যন্ত্র: হাইগ্রোমিটার 
 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩০২.
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া কোনটির উপর নির্ভরশীল? 
  1. রক্ষীকোষদ্বয়ের অবস্থানের উপর
  2. রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর
  3. রক্ষীকোষদ্বয়ের নিউক্লিয়াসের অবস্থান ও গঠনের উপর
  4. রক্ষীকোষদ্বয়ের ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা ও গঠনের উপর
ব্যাখ্যা
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল: 
- রক্ষীকোষদ্বয়ের স্ফীতি অথবা শিথিল অবস্থা পত্ররন্ধ্রের খোলা বা বন্ধ হতে সহায়তা করে। 
- আমরা জানি, পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষদ্বয়ের রন্ধ্র সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পুরু কিন্তু বহির্ভাগের অর্থাৎ বহিঃত্বক কোষ সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পাতলা হয়। 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কারণে রক্ষী কোষে অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- রক্ষীকোষদ্বয় পার্শ্বস্থ বহিঃত্বক কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়। 
- স্ফীতি হওয়ার ফলে রক্ষী কোষের বাইরের পাতলা প্রাচীরের দিকে অতিরিক্ত চাপের টানে ভেতরের পুরু প্রাচীরটি কিছুটা বেঁকে যায় এবং রন্ধ্র খুলে যায়। 
- অপরপক্ষে বহিঃঅভিস্রবণের ফলে রক্ষীকোষদ্বয় স্ফীতি হারিয়ে শিথিল হয়, ফলে রন্ধ্র বন্ধ হয়। 
- কাজেই পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০৩.
কোনটি Fat Soluble Vitamin নহে-
  1. ক) Vitamin A
  2. খ) Vitamin C
  3. গ) Vitamin D
  4. ঘ) Vitamin E
ব্যাখ্যা
Fat-Soluble Vitamins: A, D, E, and K.
২,৩০৪.
কোন রক্ত গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. বি
  2. এ বি
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়।
এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।
এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে
বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৩০৫.
এপিলেপসি মূলত শরীরের কোন অঙ্গের ব্যাধি?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. ফুসফুস
  3. মস্তিষ্ক
  4. যকৃৎ
ব্যাখ্যা

• এপিলেপসি মূলত মস্তিষ্কের একটি রোগ।

এপিলেপসি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ।
- এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
- অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়।
- অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোন কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে।
- তবে ৫-২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

কারণ:
- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
- তবে প্রধান কারণ হলো- মস্তিষ্কের অবস্থাগত কারণ, ইসকেমিক' স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, মাথায় আঘাতজনিত কারণ, যেমন মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, এইডস, মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০৬.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক কোথায় শুরু হয়? 
  1. মুখবিবর 
  2. পাকস্থলী 
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র 
  4. বৃহদান্ত্র 
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য দ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। 
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। 
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০৭.
মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ৬০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  2. ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  3. ১২০-১৪০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  4. ১৪০-১৬০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
ব্যাখ্যা
• ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ:
- ডায়াবেটিস এক প্রকার বিপাকজনিত রোগ।
- মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি।
- রক্তে যদি এ মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে তাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।
- এ রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন হৃদপিন্ড, বৃক্ক, চোখ, ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
- ডায়োবেটিস রোগীদের কারোনারি হৃদরোগ হওয়ায় প্রবণতা বেশি থাকে। যা হৃদপিন্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী স্ট্রোক হয়ে মারা যায়।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্ত চাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্ত চাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্ব লক্ষন।
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে করোনারি হৃদরোগে আক্রান্তহওয়ার সম্বাবনা খুবই বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০৮.
কোনটির প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে?
  1. ইথিলিন
  2. ফরমালিন
  3. লাইকোপেন
  4. জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
• লাইকোপেনের প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে।

• লাইকোপেন:
- লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।
- টমেটোর দেহের টকটকে লাল বর্ণ দেখা যায় লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ইথিলিন:

- ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে।
- ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়।
- কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়।
- ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ।
- দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন।
- এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

• জ্যান্থোফিল:
- হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩০৯.
উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. সূর্যালোক
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

◉ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদ, শৈবাল ও কিছু ব্যাকটেরিয়া সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি (H2O) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ব্যবহার করে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) এবং অক্সিজেন (O2) উৎপন্ন করে। অক্সিজেন খাদ্য তৈরির জন্য আবশ্যক নয়, বরং এটি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত (by-product)।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
- তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৩১০.
রাইবোসোমের প্রধান কাজ কোনটি? 
  1. প্রোটিন সংশ্লেষণ করা
  2. শর্করা তৈরি করা
  3. রোগ প্রতিরোধ করা
  4. ভিটামিন তৈরি করা
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- আবার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়ও রাইবোসোম থাকতে পারে। 
- মুক্ত রাইবোসোম আদি কোষের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 

রাইবোসোমের কাজ: 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন
- রাইবোসোম আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং 
- এ ধরনের সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৩১১.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:

- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:

- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩১২.
মানবদেহের বৃদ্ধি হরমোন কোনটি?
  1. ক) থাইরক্সিন
  2. খ) প্রোল্যাকটিন
  3. গ) এড্রিনালিন
  4. ঘ) সোমাটোট্রফিন
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের বৃদ্ধি হরমোন সোমাটোট্রফিন নামে পরিচিত।
- এটি একধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত।
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়।
- মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এটি উৎপন্ন হয়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়।
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে।
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৩.
হাইড্রা কোন অঙ্গের সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ ও চলাচল করে? 
  1. কর্ষিকা
  2. সিলেন্টরন
  3. ত্বক
  4. অ্যান্টেনা
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- হাইড্রা (Hydra) আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- হাইড্রা কর্ষিকার সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- হাইড্রা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- হাইড্রা মিঠাপানির প্রাণী। 
- হাইড্রা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৪.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH -




ব্যাখ্যা

pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- মানব দেহের বিভিন্ন তরল উপাদানের pH নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- মানুষের জিহ্বার লালার pH = 6.6.
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH = 2.
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH = 5.5.
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH = 7.

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩১৫.
প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে-
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. প্লাস্টিড
  3. সেন্ট্রোসোম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে "সেন্ট্রোসোম"।

• কোষ:
- জীব দেহের গঠন এবং কাজের একককে কোষ বলে।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।

• প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণী কোষে কোনো কোষ প্রাচীর থাকে না, পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না।
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না, থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম সর্বদা বিদ্যমান থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১৬.
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীর নিঃসরণ অঙ্গ কোনটি? 
  1. নেফ্রিডিয়া
  2. সিলোম
  3. স্পিরাকল
  4. মালপিজিয়ান নালিকা
ব্যাখ্যা
আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্ব: 
- আর্থ্রোপোডা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

আর্থ্রোপোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- আর্থ্রোপোডা পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। এদের দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। এদের মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। এদের রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। এদের মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,৩১৭.
নিচের কোনটি জীবাণু ভক্ষণ করে?
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
-  এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।
- এর পরিপাক করা উৎসেচকগুলো একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে, তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
- সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর। 
- বৃহৎ কোষগহ্বর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। 
- প্রাণিকোষে কোষগহ্বর সাধারণত অনুপস্থিত থাকে, তবে যদি কখনো থাকে তবে সেগুলো আকারে ছোট হয়।
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর আবরণীর গায়ে প্রায়ই রাইবোজোম লেগে থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এইসব স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষণের ঘটনা ঘটে। উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই এরা উপস্থিত থাকে।
- এন্ডোপ্লাজমিক মেমব্রেন এর উভয় দিকে অথবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অথবা সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত গোলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানার মত অঙ্গাণুকে রাইবোজোম বলে। 
- রাইবোজমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ। স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।

 সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩১৮.
অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক ১৬৭৫ সালে তার উদ্ভাবিত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
- তিনি এদের "Animalcule" বা ক্ষুদ্র প্রাণী বলে অভিহিত করেন।
- এজন্য তাকে "Father of Bacteriology" বা ব্যাকটেরিওলজির জনক হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়, যা তাকে অনুজীব বিজ্ঞানের জনক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- পরবর্তীতে, ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ এই প্রাণীদের "ব্যাকটেরিয়া" নাম দেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

অন্যদিকে,
- বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
- বিজ্ঞানী রবার্ট হুক কোষ আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে  শরীরবিদ্যার জনক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,৩১৯.
উদ্ভিদের নামকরণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) ICVN
  2. খ) ICUN
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) ICZN
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩২০.
রক্ত কণিকা উৎপাদনের স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকা উৎপাদনের প্রধান স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত নরম টিস্যু, যা রক্তের সব ধরনের কণিকা-লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট-উৎপাদন করে। শিশুর শরীরে অস্থিমজ্জা প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড় যেমন পিঠের হাড় এবং বৃহৎ হাড়ের প্রান্তে থাকে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি প্রধানত পেরিফেরাল হাড়ে সীমিত থাকে। অন্য অঙ্গ যেমন যকৃত, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ নয়; তবে যকৃত কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তে লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে। সুতরাং, রক্তকণিকার জন্মস্থল হিসেবে অস্থিমজ্জাকে প্রধানভাবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থিমজ্জায়।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

২,৩২১.
Biotechnology শব্দটি প্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. কার্ল এরেকি
  2. ক্রিক
  3. ওয়াটসন
  4. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 
- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। 
- Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। 
- গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩২২.
শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জুল
  2. খ) ক্যালরি
  3. গ) বিএমআই
  4. ঘ) বিএএমই
ব্যাখ্যা
খাদ্য শক্তি মূল্য নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে জুল। 

১০০০ জুল = ১ কিলোজুল,
১০০০ কিলোজুল = ১ মেগাজুল,
১ কিলোক্যালরি= ৪১৮০ জুল = ৪.১৮ কিলোজুল ।

বিএমআই (BMI) এবং বিএমআর (BMR) : পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR- Basal Metabolic Rate) মানব শরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে। আর বডি মাস ইনডেক্স (BMI - Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী ।

সূত্র: ৬৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৩.
মানুষের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড রয়েছে কয়টি?
  1. ১৬টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা

অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩২৪.
Budding কোন প্রাণিতে ঘটে?
  1. Euglena
  2. Hydra
  3. তেলাপোকা
  4. পরিফেরা
ব্যাখ্যা

Budding (কুঁড়ি দ্বারা প্রজনন):
- Budding হলো এক ধরনের অযৌন প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে মূল দেহের গায়ে একটি ছোট কুঁড়ি (bud) তৈরি হয়।
- এই কুঁড়িটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ নতুন জীব হিসেবে পরিণত হয়।
- পরিপক্ব হলে কুঁড়িটি মূল দেহ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে।
- Budding প্রক্রিয়ায় জিনগত বৈচিত্র্য থাকে না, কারণ এটি অযৌন প্রজনন।
- এই প্রক্রিয়া সাধারণত সরল গঠনের প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।

Hydra-তে Budding:
- Hydra একটি সরল জলজ প্রাণী।
- Hydra-র দেহপ্রাচীরের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কুঁড়ি সৃষ্টি হয়।
- কুঁড়িটি ধীরে ধীরে মুখ ও শুঁড় (tentacle) গঠন করে।
- পরিপক্ব হলে এটি মূল Hydra থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- তাই Hydra-তে Budding প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
- Euglena প্রধানত দ্বিখণ্ডন (Binary fission) প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।
- তেলাপোকা যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- পরিফেরা (স্পঞ্জ) তে কুঁড়ি সদৃশ প্রক্রিয়া থাকলেও পাঠ্যবই অনুযায়ী আদর্শ উদাহরণ নয়।

সুতরাং, Budding প্রক্রিয়াটি ঘটে Hydra-তে।
সঠিক উত্তর: খ) Hydra.

সূত্র - sciencedirect journal.

২,৩২৫.
নিচের কোনটিকে আদর্শ খাদ্য বলে?
  1. ক) ভাত
  2. খ) মাছ
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) ফল
ব্যাখ্যা
- শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য দুধ অপরিহার্য। দুধ পুষ্টিকর খাদ্যসমূহের অন্যতম।
- পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এটি আদর্শ খাদ্য। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, অজৈব লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ক্লোরিন) ও পানি খাদ্যের সকল উপাদানই দুধে বিদ্যমান।
- দুধের গড় উপাদানে আছে ৮৭.৬% পানি, ৩.৭% চর্বি, ৩.২% প্রোটিন, ৪.২% ল্যাকটোজ ও ০.৭২% খনিজ, ভিটামিন বি-১২ (২৬.১%)। 
- একশ মিলিলিটার দুধ থেকে ৬৫.৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
- এছাড়া দুধে আয়রনের পরিমাণ ০.২৭ মিলিগ্রাম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট, National Library of Medicine.
২,৩২৬.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন কত? 
  1. প্রায় ১০০ গ্রাম
  2. প্রায় ৩০০ গ্রাম
  3. প্রায় ৪০০ গ্রাম
  4. প্রায় ২০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- পেশিবহুল ত্রিকোণাকার, ফাঁপা, চার প্রকোষ্ঠযুক্ত পাম্পের মতো যন্ত্র যার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে। 
- রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ড মানবদেহের পাম্প যন্ত্ররূপে কাজ করে। 
- একটি হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম, তবে স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে তা পুরুষের তুলনায় ১/৩ অংশ কম হয়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ বরাবর অঞ্চলে বাম দিক ঘেঁষে তির্যকভাবে অবস্থিত। 
- এটি দেখতে লালচে রংয়ের ও ত্রিকোণাকার। 
- এর সম্মুখভাব স্টার্নামের দিকে পচাৎভাগ মেরুদণ্ডের দিকে এবং নিম্নভাগ ডায়াফ্রামের উপরে থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি ডান দিকের দ্বিতীয় কশেরুকা থেকে বাম দিকের পঞ্চম কশেরুকা পর্যন্ত তির্যকভাবে অবস্থান করে। 
- হৃৎপিণ্ডে প্রশস্ত সম্মুখভাগ অলিন্দ দ্বারা ও পশ্চাতের মোচাকার অংশটি নিলয় দ্বারা গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৭.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয় -
  1. রবার্ট হুককে
  2. উইলিয়াম হার্ভেকে
  3. অ্যারিস্টটলকে
  4. থিওফ্রাস্টাসকে
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান। 
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক  জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। 
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি।
যথা- 
 ১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক। 
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২৮.
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. Catla catla
  2. Tenualosa Ilisha
  3. Arius gagora
  4. Labeo rohita
ব্যাখ্যা

রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম:
- রুই মাছ বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় স্বাদুপানির মাছ।
- এটি মূলত নদী, খাল, বিল ও পুকুরে পাওয়া যায়।
- রুই মাছ কার্প (Carp) জাতীয় মাছের অন্তর্ভুক্ত।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাছটির গঠন, প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।
- রুই মাছের স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নাম হলো Labeo rohita.

অন্যান্য অপশন গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
- Catla catla → এটি কাতলা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
- Tenualosa ilisha → এটি ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
- Arius gagora → এটি একটি সামুদ্রিক/লবণাক্ত পানির মাছের প্রজাতি।

সুতরাং, রুই মাছের সঠিক বৈজ্ঞানিক নাম হলো Labeo rohita.
সঠিক উত্তর: ঘ) Labeo rohitu.

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২৯.
উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

২। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

৩। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৩০.
অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) ম্যাংগানিজ
  2. খ) কপার
  3. গ) মােলিবডেনাম
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

ম্যাংগানিজ: ক্লোরােপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়ােজন।
কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োেজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
বােরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বােরন প্রয়ােজন, চিনি পরিবহনে বােরন পরােক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
মােলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মােলিবডেনাম আবশ্যক।
ক্লোরিন: সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়ােজন।

২,৩৩১.
অগ্ন্যাশয় রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. অ্যামাইলেজ
  3. মলটেজ
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়।
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।
মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৩২.
কোন রক্ত কণিকা 'White Blood Cell' নামে পরিচিত?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৩.
কোনটি চা-গাছে রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- চা গাছ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। 
- এ পর্যন্ত ২২টি বিভিন্ন জীবানুঘটিত  রোগ চা গাছে শনাক্ত করা হয়েছে।
- মৌসুমের সব সময়ই চা গাছে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও রোগবালাই এর আক্রমন লেগে থাকে। 
- সাধারনত রোগবালাই, পোকামাকড় ও আগাছার আক্রমনের কারনে চায়ের ফলন গড়ে প্রায় ১০- ১৫% কমে যায়।
- মৌসুমের সময় চায়ের Red rust, Black rot, Dieback, Blight, Charcoal stump rot ইত্যাদি রোগসমূহ বেশ প্রকট থাকে। 
- মৌসুমে মে- জুন মাসে একবার এবং আগস্ট- সেপ্টেম্বর মাসে একবার মোট দুইবার ছত্রাকনাশক যেমন নোইন ৫০ 'ডব্লিউপি (কার্বেন্ডাজিম) ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট ওয়েবসাইট
২,৩৩৪.
মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে কী বলে? 
  1. লিউকোসাইটোসিস
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. করোনারি থ্রম্বোসিস
  4. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েডের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালী অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালী গহ্বর ছোট হয়ে যায়। 
- এই কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিথিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে। এর প্রভাবে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। 
- ধমনির গায়ে ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধপ্রাপ্ত হয়। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 
-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৩৫.
কোনটি জীব-অজীব উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক নির্ণয় করে?
  1. অঙ্গতন্ত্র
  2. জিনবিন্যাস
  3. বাস্তুতন্ত্র
  4. শ্রেণিবিন্যাস
ব্যাখ্যা
• বাস্তুতন্ত্র-
- বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকার জীব ও অজীব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতার একটি পূর্ণাঙ্গ গঠন।
- এখানে উদ্ভিদ, প্রাণী, মাটি, পানি, আলো, তাপমাত্রা ইত্যাদি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে জড়িত এবং একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
বাস্তুতন্ত্র জীব ও অজীব উপাদানগুলোর মধ্যে শক্তি প্রবাহ ও পুষ্টি চক্র সম্পর্ককে বোঝায়। 

অন্যদিকে,
• শ্রেণিবিন্যাস হলো জীবের নামকরণ ও শ্রেণীভুক্তি বিষয়ক। 
• জিনবিন্যাস হলো জীবের জিনের বিন্যাস বা গঠন।
• অঙ্গতন্ত্র হলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকর সমন্বিত গঠন। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,৩৩৬.
সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে কী বলে?
  1. ডাইব্যাক
  2. ক্লোরোসিস
  3. ফ্লোরোসিস
  4. উইল্ট 
ব্যাখ্যা

- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে ডাইব্যাক (Dieback) বলে, যা গাছের শীর্ষ বা প্রান্তীয় অংশ থেকে টিস্যুর মৃত্যু নির্দেশ করে। 

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয় শুধু, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৩৭.
নিচের কোনটি দ্বিস্তরী প্রাণী?
  1. অরেলিয়া
  2. স্কাইফা
  3. মানুষ
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৮.
কঙ্কাল পেশি এক ধরনের- 
  1. অরৈখিক পেশি
  2. হৃদপেশি
  3. ঐচ্ছিক পেশি
  4. অনৈচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু বা মাসকুলার টিস্যু: 
- দেহের কোনো কোনো পেশি ইচ্ছামত চালনা করা যায়। যেমন- হাত বা পায়ের পেশি। 
- আবার দেহের কোনো কোনো পেশি ইচ্ছামতো চালনা করা যায় না। এ ধরনের পেশি নিজের ইচ্ছামতো চলে। যেমন- পাকস্থলির পেশি। 
- পেশি তিন প্রকার। 
যথা- 
১. ঐচ্ছিক পেশি: 
- যে পেশি ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাকে ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- মানবদেহে ঐচ্ছিক পেশির সংখ্যা বেশি। 
- এ পেশি হাড়ের সাথে লেগে থেকে অঙ্গ নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, তাই এধরনের পেশিকে কঙ্কাল পেশিও বলা হয়। 

২. অনৈচ্ছিক পেশি: 
- খাদ্যনালিতে খাদ্য পরিবহনের দায়িত্ব পালন করছে অস্ত্রের পেশি। এ ধরনের পেশির উপর কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। 
অর্থাৎ, যেসব পেশি ইচ্ছামতো সংকুচিত হয় না, তাদের অনৈচ্ছিক পেশি বলে। 

৩. হৃদপেশি: 
- হৃদপেশি নামে আরেক ধরনের পেশি আছে, এ পেশি নিজ ছন্দে পর্যায়ক্রমে সংকুচিত হয়ে দেহের রক্ত সঞ্চালন করে। 
- শুধু হৃদপিন্ড এই পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এই পেশি দেখতে অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজে অনৈচ্ছিক। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৩৩৯.
নিম্নলিখিত কোনটি বাস্তুসংস্থানের সজীব উপাদান?
  1. জলবায়ু 
  2. উৎপাদক 
  3. মাটি 
  4. খনিজ লবণ 
ব্যাখ্যা

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি।
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৪০.
নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে জমে থাকা তরল পদার্থকে কী বলা হয়?
  1. সেরাম
  2. প্লাজমা
  3. শ্লেষ্মা
  4. রক্তরস
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- মানবদেহের ফুসফুস নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

কারণ: 
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে গুড়গুড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৪১.
নিচের কোন অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে? 
  1. কেঁচো
  2. প্রজাপতি
  3. পামরীপোকা
  4. জেলী মাছ
ব্যাখ্যা
- 'জেলী মাছ' একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যার দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। 

অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 

- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী নানা ধরনের হয়। 
যেমন- 
• অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আকারে খুবই ছোটো, এদের খালিচোখে দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যামিবা। 
• একদলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের দেহ অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত থাকে। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 
• আরেক দলভুক্ত প্রাণী, এদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত নয় এবং দেহ সাধারণত শক্ত খোলসে আবৃত থাকে এবং মাংসল পা থাকে। 
যেমন- শামুক ও ঝিনুক। 
• পৃথিবীতে পতঙ্গ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ ও উদর। এদের সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
যেমন- প্রজাপতি, মশা, মাছি, তেলাপোকা, উইপোকা, মৌমাছি ইত্যাদি। 
• অনেক পতঙ্গ আছে যারা উপকার করে। এরা উপকারী পতঙ্গ। 
যেমন: মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি। 
• নানা রকম রোগ ছড়ায় এমন শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
যেমন- মশা ও মাছি। 
• অনেক পতঙ্গ আবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। 
যেমন- উইপোকা, লেদাপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি। 
• এমন কতকগুলো সামুদ্রিক প্রাণী আছে, যাদের ত্বকে কাঁটার মতো অংশ থাকে। 
যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা। 
• আরেক দলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহের ভিতর একটা ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে। এদের দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে এরা খাদ্য গ্রহণ করে আবার বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। 
যেমন- জেলী মাছ, প্রবালকীট। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৩৪২.
Riccia উদ্ভিদের থ্যালাসের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. বিষমপৃষ্ঠ
  2. গোলাকার
  3. একমুখী
  4. সমান পৃষ্ঠ
ব্যাখ্যা
Riccia উদ্ভিদ: 
- Riccia উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই জন্মায়। 
- Riccia একটি বড় গণ। প্রায় ২০০ প্রজাতি নিয়ে এ গণ গঠিত। 
- Hepaticae শ্রেণীর সদস্যদেরকে লিভারওয়ার্ট বলা হয়। এদের দেহকে থ্যালাস বলা হয়। 
- থ্যালাসের আকৃতি মানুষের লিভারের ন্যায় তাই এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে Riccia গণের ৪৫টি প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 
- নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে R. bengalensis, R. dhakensis, R. chittagonensis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

Riccia এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য: 
- এদের দেহ অর্থাৎ থ্যালাস মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত নয়। 
- থ্যালাস সবুজ, শায়িত, চ্যাপ্টা এবং বিষমপৃষ্ঠ। 
- থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং মধ্য শিরাবিশিষ্ট। 
-  প্রতিটি শাখার শীর্ষদেশে খাঁজ বিদ্যমান থাকে। 
- থ্যালাসের নিচের পৃষ্ঠে দু'প্রকার এককোষী রাইজয়েড এবং বহুকোষী স্কেল (শল্ক) বিদ্যমান। 
- থ্যালাসটি অভ্যন্তরীণভাবে সালোকসংশ্লেষণ এবং সঞ্চয়ী অঞ্চলে বিভক্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৩.
ডুমুর কোন জাতীয় ফল?
  1. ক) রসালো ফল
  2. খ) সরল ফল
  3. গ) যৌগিক ফল
  4. ঘ) গুচ্ছ ফল
ব্যাখ্যা

- ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- সরস ফল, গুচ্ছ ফল ও যৌগিক ফল।
- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি যৌগিক ফল।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৩৪৪.
নিচের কোনটি ম্যাক্রোমৌল?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) বোরন
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) মারকারি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
- মুখ্য উপাদানগুলো হল: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার।

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬ টি।
- গৌণ উপাদান হলো: দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, বোরন, তামা এবং ক্লোরিন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩৪৫.
নিচের কোন অঙ্গটির গঠনতন্ত্রের একক হচ্ছে অ্যালভিওলাস?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) কংকালতন্ত্র
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা

ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট পুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনাে ঘর্ষণ হয় না।
ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলােকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। বায়ুথলিগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতাে অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে।
বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। বায়ু প্রবেশ করলে এগুলাে বেলুনের মতাে ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান

২,৩৪৬.
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন নয় কোনটি?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin D
  3. Vitamin E
  4. Vitamin C
ব্যাখ্যা
• স্নেহে দ্রবণীয়  ভিটামিনগুলি হল:
- ভিটামিন A – দৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ভিটামিন D – ক্যালসিয়াম শোষণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক।
- ভিটামিন E – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
- ভিটামিন K – রক্ত জমাট বাঁধা এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি হল: 
- ভিটামিন C ।
- ভিটামিন B1 (থায়ামিন) ।
- ভিটামিন B2 (রিবোফ্ল্যাভিন) ।
- ভিটামিন B3 (নিয়াসিন) ।
- ভিটামিন B5 (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড) ।
- ভিটামিন B6 (পিরিডক্সিন) ।
- ভিটামিন B7 (বায়োটিন) ।
- ভিটামিন B9 (ফোলেট/ফলিক অ্যাসিড) ।
- ভিটামিন B12 (কোবালামিন) ।

উৎস: (এসএসসি প্রোগ্রাম),বিজ্ঞান,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৭.
‘নব্য ডারউইনিজম’ কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. বিবর্তন
  3. জৈব চিকিৎসা
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
- ‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি বিবর্তন বা অভিব্যক্তি'র সঙ্গে সম্পর্কিত। 

বিবর্তন: 

- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৮.
'ছয় সপ্তাহ' বয়সে নিচের কোন টিকাটির জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. ক) BCG
  2. খ) DT Vaccine
  3. গ) TT Vaccine
  4. ঘ) DPT-Ι
ব্যাখ্যা
- 'ছয় সপ্তাহ' বয়সে DPT-Ι টিকার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী ৬টি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৯.
ব্যাকটেরিয়া কী?
  1. জড়বস্তু
  2. প্রাণী
  3. উদ্ভিদ
  4. অণুজীব
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। 
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি । 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা: 
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। 
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। 
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়। 
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২,৩৫০.
নিম্নের কোন রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে?
  1. ক) অ্যান্থ্রাক্স
  2. খ) বার্ড ফ্লু
  3. গ) জলাতঙ্ক
  4. ঘ) ফিতাকৃমি
ব্যাখ্যা
জলাতঙ্ক রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে। 

- জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক।
- এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন।
- জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণের পর থেকে উপসর্গ দেখা দেয়ার সময় সাধারণত এক থেকে তিন মাস।
- ৬ই জুলাই, ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
২,৩৫১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়? 
  1. ভিটামিন
  2. আমিষ
  3. শর্করা
  4. স্নেহ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গুকোজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৩৫২.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ?
  1. Pteris
  2. Psilotum
  3. Lycopodium
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
Psilotum
Lycopodium
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৩.
রক্তে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে -
  1. ক) লোহিত রক্ত কণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) রক্তরস
ব্যাখ্যা

রক্তের প্রধান উপাদান হলাে রক্তরস বা প্লাজমা।
সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% হলাে রক্তকনিকা।
রক্তরসের ৯০% হলাে পানি এবং বাকি ১০% হলাে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান।
রক্তকনিকা ৩ প্রকার।
যথাঃ এরিথ্রোসাইট বা লােহিত রক্তকনিকা,
লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকনিকা এবং
থ্রম্বােসাইট বা অনুচক্রিকা।
সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

২,৩৫৪.
পানি পরাগায়ণ ঘটে কোন উদ্ভিদে?
  1. ক) সূর্যমুখী
  2. খ) ধান
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) পাতা শ্যাওলা 
ব্যাখ্যা
যে সকল ফুলের পরাগায়ণ পানির মাধ্যমে হয়ে থাকে তাকে পানি পরাগায়ণ বলে। যেমন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা প্রভৃতি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
২,৩৫৫.
Rheumatic fever is caused by-
  1. ক) Streptococcus
  2. খ) Staphylococcus
  3. গ) Enterococcus
  4. ঘ) Diplococcus
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হয়৷ এর লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৩৫৬.
ভিটামিন 'এ' এর অভাবে শিশুদের কোন রোগ হয়?
  1. ক) খর্বাকৃতি
  2. খ) বুদ্ধিহীনতা
  3. গ) অন্ধত্ব
  4. ঘ) কম ওজন
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরপথ্যালমিয়া নামক রোগ হয়ে থাকে।

- ভিটামিন এ এর অভাব পূরণ না হলে এই রোগটির মাত্রা ও তীব্রতা বাড়তেই থাকে।
- জেরপথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিন্ম মাত্রা হচ্ছে রাতকানা
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৩৫৭.
সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে নির্গত হয় কোনটি?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) O2 ও পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা এবং অক্সিজেন। কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয় শর্করা তৈরির জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৩৫৮.
আমিষ পরিপাকে পাচক রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ট্রিপসিন
  2. পেপসিন
  3. প্রোলিডেজ
  4. ইলাস্টেজ
ব্যাখ্যা
পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো - 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 

- আমরা জানি, আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না।
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৫৯.
লবনাক্ত মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করলে কী পরিবর্তন হয়?
  1. ক) লবণাক্ততা কমে যায়
  2. খ) লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়
  3. গ) পরিবর্তন হয় না
  4. ঘ) মাটি অম্লীয় হয়
ব্যাখ্যা
- জৈব সার জমিতে প্রধানত নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং সালফার সরবারহ করে।
- জৈব সার ভূমিক্ষয় রোধ করে।
- জৈব সার প্রয়োগে জমিতে ফসলের ফলন বৃদ্ধির সাথে সাথে গুণগত মান ও বৃদ্ধি পায়।
- লবণাক্ত মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির লবণাক্ততা কমে যায়। অনেক দেশে লবণাক্ত মৃত্তিকা সংশোধনের কাজে জৈব সার ব্যবহৃত হচ্ছে।

 সূত্র: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬০.
দেহকোষের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন-
  1. ক) কার্বোহাইড্রেট
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) স্নেহদ্রব্য
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রোটিন:
- খাদ্য উপাদানসমূহের মধ্যে আমিষ বা প্রোটিন অন্যতম যা কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- আমিষের গঠন একক হলো আ্যামাইনো অ্যাসিড।
- একাধিক আ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে প্রোটিন গঠিত হয়।
- উৎস অনুসারে প্রোটিন ২ প্রকার। যথা:
১. প্রাণিজ প্রোটিন ও
২. উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।  
- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির, ডাল, বাদাম, শিমের বিচি, সয়াবিন, মটরশুটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস।
- দেহকোষ ও পেশি গঠন, ক্ষয়পূরণ, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬১.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মূলরোমের সাহায্যে মাটি হতে পানি শোষণ করে?
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. অভিস্রবণ
  4. ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 
- তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬২.
‘Anatomical Exercise on the motion of heart and blood in animals’ গ্রন্থের প্রণেতা কে?
  1. ক) ক্রিশ্চিয়ান বার্নাড
  2. খ) চার্লস ডারউইন
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) এস সি এফ হ্যানিমেন
ব্যাখ্যা
William Harvey(1578-1657), English physician who was the first to recognize the full circulation of the blood in the human body and to provide experiments and arguments to support this idea. His classic book ‘Anatomical Exercise on the Motion of the Heart and Blood in Animals’ published in 1628 and established the circulation of the blood. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৩৬৩.
প্রোটিন গঠনে কতটি অ্যামাইনো এসিড অংশগ্রহণ করে?
  1. ৮ টি
  2. ১২ টি
  3. ১৫ টি
  4. ২০ টি
ব্যাখ্যা
• মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে।

• অ্যামাইনো এসিড:
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

• ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড গুলো:
- লাইসিন,
- ট্রিপেটোফ্যান,
- মিথিওনিন,
- ভ্যালিন,
- লিউসিন,
- আইসোলিউসিন,
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬৪.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে।

দ্বিপদ নামকরণ:
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক।
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি।

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়।
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে।
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens ।
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৬৫.
হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়-
  1. ডায়াস্টল
  2. সিস্টল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
• হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
• হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে বলে সিস্টোল।
• হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সম্প্রসারণকে বলে ডায়াস্টোল।

image source: cvphysiology.com

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬৬.
মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বলে-
  1. ক) Close circulatory system
  2. খ) Close circuitry system
  3. গ) Close centrifugal system
  4. ঘ) Open centrifugal system
ব্যাখ্যা
মানবদেহের রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে এ ধরনের রক্তসংবহনতন্ত্রকে Close circulatory system বা বদ্ধ সংবহনতন্ত্র বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৩৬৭.
নিচের কোনটি মানবদেহের লুপ্তপ্রায় অঙ্গ?
  1. ফ্লিপার
  2. ককসিক্স
  3. অ্যাপেন্ডিক্স
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

- বিভিন্ন জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বাহ্যিক গঠনকে অঙ্গসংস্থান বলে। এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের আলোচনাকে তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান বলে।

(ক) সমসংস্থ অঙ্গ:
- পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, সিলের অগ্রপদ, ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের হাত-এর সবগুলোই সমসংস্থ অঙ্গ।
- আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের অর্থাৎ সকল প্রাণীর জন্যই এখানকার অস্থিগুলো উপর থেকে নিচের দিকে পরপর সাজানো রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে, সেটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য ঘটেছে।
- পাখি ও বাদুড়ের 'অগ্রপদ' ওড়ার জন্য, তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য, ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য ও মানুষের অগ্রপদ কোনো জিনিস ধরা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।

(খ) সমবৃত্তি অঙ্গ:
- বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে, সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন-পতঙ্গ কিংবা বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে অর্থাৎ বাদুড় এবং পতঙ্গ দুটিই প্রয়োজনের তাগিদে উড়তে সাহায্য করার উপযোগী অঙ্গ তৈরি করেছে। 
- এরকম সমবৃত্তি অঙ্গগুলো জৈব অভিব্যক্তি সমর্থন করে।

(গ) লুপ্তপ্রায় অঙ্গ:
- জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো কিছু জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। 
- প্রাণীদেহের মধ্যে বহু লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। মানুষের সিকাম এবং সিকাম-সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিক্সটি নিষ্ক্রিয়, কিন্তু স্তন্যপায়ীভুক্ত তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন- ঘোড়া কিংবা গিনিপিগের) দেহে এগুলো সক্রিয়।
- মানুষের দেহে লেজ নেই, তবু মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে ককসিক্স নামক লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। এই ককসিক্স মানুষের পূর্বপুরুষে সুগঠিত ছিল। 
- লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বহনকারী প্রাণীটির উৎপত্তি ঘটেছে এমন উদবংশীয় প্রাণী থেকে, যার দেহে একসময় উক্ত অঙ্গটি সক্রিয় ছিল।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৩৬৮.
পরিপক্ক ডিম্বাণুর অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ডিম্বাণু ঝিল্লী
  3. গ) গ্রীবা
  4. ঘ) সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
মানুষের ডিম্বাণুর গঠন:
- গ্রীবা পরিপক্ক ডিম্বাণুর অংশ নয়।
- স্ত্রী জননকোষের নাম ডিম্বাণু। এটি মোটামুটি গোলাকার এবং ১২০-১৫০ মাইক্রন ব্যাসবিশিষ্ট ।
- ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকলের উওসাইট (oocyte) বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে পরিপক্ক ডিম্বাণুতে পরিণত হয়।
- প্রতিটি পরিপক্ক ডিম্বাণুকে তিনটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) ডিম্বাণু ঝিল্লী।
(খ) নিউক্লিয়াস।
(গ) সাইটোপ্লাজম।

• ডিম্বাণু ঝিল্লি:
- লিপোপ্রোটিন সমৃদ্ধ প্লাজমা মেমব্রেন দ্বারা ডিম্বাণু আবৃত থাকে।
- প্লাজমা মেমব্রেনের বাইরে জোনা পেলুসিডা নামক একটি প্রাইমারি আবরণ বিদ্যমান।

• সাইটোপ্লাজম:
- ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজম উত্তপ্লাজম নামে পরিচিত।
- এতে প্রচুর গলগি বড়ি, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও কর্টিক্যাল গ্রানিউল থাকে।

• নিউক্লিয়াস:
- ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস বেশ বড়, তবে কেন্দ্র থেকে একটু সরে অবস্থান করে।
- নিষেকের সময় নিউক্লিয়াসটি কেন্দ্রে আসে।
- এতে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক (n) ক্রোমোসোম থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬৯.
কোন অঙ্গাণুটি প্রাককেন্দ্রিক এবং সুকেন্দ্রিক উভয়ধরনের কোষে থাকে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
প্রাককেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে৷
সুকেন্দ্রিক কোষে রাইবোজোম সহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,৩৭০.
সবুজ উদ্ভিদ কোথায় খাদ্য তৈরি করে?
  1. ক) কাণ্ডে
  2. খ) মাটিতে
  3. গ) শিকড়ে
  4. ঘ) পাতায়
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য।
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোক সংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে।
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ।
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়।
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি।
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
২,৩৭১.
মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে কোন প্রকার জৈবিক শক্তি সঞ্চিত থাকে?
  1. NADPH
  2. GTP
  3. ADP
  4. ATP
ব্যাখ্যা

• মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র। এটি খাদ্য থেকে শক্তি উত্তোলন করে তা এমন এক আকারে সংরক্ষণ করে, যা কোষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী জৈবিক অণু হলো ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)। ATP-এ থাকা রাসায়নিক শক্তি কোষের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়, যেমন প্রোটিন সংশ্লেষণ, সংকোচন, এবং সক্রিয় পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ায় খাদ্য অণুগুলো অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ATP-তে রূপান্তরিত হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে NADPH প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্টে শক্তি পরিবহনের কাজে লাগে, GTP কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংকেত বা প্রোটিন সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, আর ADP হলো ATP-এর পূর্বাবস্থা। তাই ATP হলো মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী।
 
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭২.
হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে রাখা আবরণটির নাম কী? 
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। 
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 

- হৃৎপিণ্ড তিন স্তরে গঠিত। 
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 
- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৩৭৩.
নিচের কোনটি অদানাদার শ্বেতকণিকা নয়?
  1. মনোসাইট
  2. লিম্ফোসাইট
  3. বেসোফিল
  4. সবগুলোই অদানাদার শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা (Leucocytes): 
- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes. 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে। 
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১। 
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়। 

• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১। দানাদার শ্বেত কণিকা (Granulocyte): 
- নিউক্লিয়াসের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও রঞ্জকধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দানাদার শ্বেত কণিকাসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) নিউট্রোফিল (Neutrophil): 
- কোষের দানাগুলো সূক্ষ্ম ও বেগুনি রঙের। কোষসমূহ আকারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। 
- পরিণত কোষে নিউক্লিয়াস ২-৭ টি ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। 
 
খ) ইওসিনোফিল (Eosinophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাধারণত নিউক্লিয়াস ২ খণ্ডে বিভক্ত, সাইটোপ্লাজমে অপেক্ষাকৃত বড় দানা থাকে। 
 
গ) বেসোফিল (Basophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাইটোপ্লাজমের দানাগুলো ক্ষারধর্মী রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় এবং স্থূল ধরনের। 
- বেসোফিল হেপারিন উপাদান ধারণ করে। 
 
২। অদানাদার শ্বেতকণিকা (Agranulocyte): 
- আকার ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে অদানাদার শ্বেত কণিকাকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) মনোসাইট: 
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন। 
- কোষগুলো মোটামুটি গোলাকার। 
- আকৃতিতে সর্ববৃহৎ। 
 
খ) লিম্ফোসাইট: 
- লিম্ফোসাইটের সাইটোপ্লাজমে কোনো দানা থাকে না। 
- লিম্ফোসাইট আবার দুই প্রকার। 
• বড় লিম্ফোসাইট এবং 
• ছোট লিম্ফোসাইট। 
 
শ্বেত কণিকার কাজ: 
- শ্বেত কণিকা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। 
যথা: 
১। ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। 
২। লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে। 
৩। বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে। 
৪। এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে। 
৫। হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,৩৭৪.
কোন পেশি রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সহায়তা করে?
  1. ক) ডেলটয়েড
  2. খ) ট্রাইসেপ
  3. গ) নিউরন
  4. ঘ) কার্ডিয়াক
ব্যাখ্যা
মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
২,৩৭৫.
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট সালফারের ক্ষেত্রে নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সালফারের অভাবে ডাইব্যাক রোগ হয়।
  2. সালফারের অভাবে গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  3. সালফারের অভাবে কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৭৬.
নিচের কোন তন্ত্রটি খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) স্নায়ুতন্ত্র
  2. খ) শ্বসনতন্ত্র
  3. গ) রেচনতন্ত্র
  4. ঘ) পরিপাকতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
যে শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা হয়, তাকে পরিপাক ক্রিয়া বলে। পরিপাক সংশ্লিষ্ট যত ধাপ বা অংশ আছে, সব মিলেই পরিপাকতন্ত্র (Digestive System)।

নিম্নে কিছু অঙ্গের নাম ও তাদের কার্যকর্ম দেওয়া হলো:
অন্ননালি - পেশী সংকোচনের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য এ নালীপথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে।
পাকস্থলি - বিভিন্ন এনজাইম এবং এসিডের মাধ্যমে জটিল খাদ্য ভাঙ্গে।
যকৃত - পাচক রস উৎপন্ন করে যা ফ্যাটকে ভাঙ্গে।
পিত্তথলি - পাচক রস সংরক্ষন করে এবং প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
অগ্ন্যাশয় - একধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরন করে যা খাদ্যকে ভাঙ্গে।
ক্ষুদ্রান্ত্র - খাদ্য শোষণ করে শরীরের জন্য।
বৃহাদান্ত্র - পানি ও লবন শোষণ করে।
মলাশয় - উচ্ছিষ্ট সরবরাহ করে।
অ্যাপেনডিক্স - চিহ্নিত অঙ্গ (এর কোনে কাজ মানব শরীরে নেই, এটি একটি অতিরিক্ত অঙ্গ)।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,৩৭৭.
নিচের কোনটি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী?
  1. বাদুড়
  2. শুশুক
  3. গিরগিটি
  4. তিমি
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩৭৮.
হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে কী কাজ করে? 
  1. হরমোন উৎপাদন করে 
  2. অক্সিজেন সরবরাহ করে 
  3. জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে 
  4. রক্ত পরিবহন করে 
ব্যাখ্যা

পাকস্থলী: 
-বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলী। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলীর প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।

- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭৯.
হরমোন নিঃসরণ করা পিটুইটারি গ্রন্থিকে কী বলা হয়?
  1. রক্ত কেন্দ্র
  2. প্রভু গ্রন্থি
  3. শ্রবণ কেন্দ্র
  4. স্নায়ু কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন নামক জৈবরাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে। এটি নালিবিহীন গ্রন্থি হওয়ায় হরমোন সরাসরি রক্ত বা লসিকা প্রবাহে ক্ষরিত হয়।
- এসব গ্রন্থি রক্তবাহিকা-সমৃদ্ধ জালিকায় পরিবৃত থাকে।

• পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland): 

- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি বা প্রভু গ্রন্থি (Principal / Master gland) বলে।
- কারণ একদিকে, পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা যেমন বেশি, অন্যদিকে বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি।
- এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী গ্রন্থি।

• অবস্থান ও আকৃতি:
- এ গ্রন্থি চোখের পিছনে মস্তিষ্কের নিম্নভাগে একটি ক্ষুদ্র বৃন্তের (ইডনফান্ডিবুলাম) সাহায্যে যুক্ত থাকে।
- পিটুইটারি গ্রন্থি প্রায় ১ সে.মি. ব্যাস সম্পন্ন. বর্ণ লালচে ধূসর, দেখতে মটর দানার মতো, ০.৫ গ্রাম ওজনবিশিষ্ট একটি গ্রন্থি।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
২,৩৮০.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কোনটি প্রয়োজন নেই ?
  1. ক) অণুচক্রিকা
  2. খ) হরমোন
  3. গ) ফিব্রিনােজেন
  4. ঘ) প্রোথোম্বিন
ব্যাখ্যা
• রক্ত জমাট বাঁধার জন্য হরমােনের প্রয়ােজন নেই।
- অণুচক্রিকা বা অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে।
- রক্তে ফিব্রিনােজেন, প্রোথোম্বিন, অনুচক্রিকা ও ক্যালসিয়াম আয়ন থাকে।
- যখন কোনাে স্থান কেটে যায় ও রক্ত গড়িয়ে পড়ে তখন ফিব্রিনোজেন ও অন্যান্য উপাদান মিলে জালের মত আবৃত সৃষ্টি করে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৮১.
মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ কত?
  1. ৩-৪ লিটার
  2. ৪-৬ লিটার
  3. ৮-৯ লিটার
  4. ১-২ লিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

- লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
- যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৮২.
RNA তে কোন নাইট্রোজেন বেইজ টি অনুপস্থিত?
  1. অ্যাডেনিন
  2. গোয়ানিন
  3. থায়মিন
  4. ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
• RNA :
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক নিয়ে গঠিত।

• নাইট্রোজেন বেইজগুলো হলো:
- অ্যাডিনিন(A),
- গুয়ানিন(G),
- ইউরাসিল(U) ও
- সাইটোসিন(C).

অন্যদিকে,
• DNA এর  নাইট্রোজেনঘটিত বেইজ:
- অ্যাডিনিন(A),
- গুয়ানিন(G),
- থাইমিন(T).
- সাইটোসিন(C).
অতএব, থাইমিন RNA এর নাইট্রোজেনঘটিত বেইজ নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৩৮৩.
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. স্পারমাটোফাইটা
  2. ফাইকোফাইটা
  3. ব্রায়োফাইটা
  4. অ্যানজিওস্পার্মোফাইটা
ব্যাখ্যা
স্পারমাটোফাইটা: 
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়। 
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ। 
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। 
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট। 
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত। 
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮৪.
অ্যাডিনো ভাইরাস দ্বারা মানুষের দেহে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডেঙ্গু
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) গুটিবসন্ত
  4. ঘ) নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাস:
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি সবই ভাইরাসজনিত রোগ।
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়।
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন ( যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। 
- আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে। 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩৮৫.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

• জীববৈচিত্র্যক বা Biodiversity মূলত তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৮৬.
নিচের কোনটি স্ব-পরাগায়নের উদাহরণ?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. শিম
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন (Pollination):
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের অথবা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলা হয়। - পরাগায়ন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্ব-পরাগায়ন।
• পর-পরাগায়ন ।

স্ব-পরাগায়ন (self-pollination):
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুলের গর্ভমুন্ডে অথবা একই গাছের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
- স্ব-পরাগায়নে অংশগ্রহণকারী দুটি ফুলের জিনোটাইপ (জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী বস্তুসমষ্টি) একই রকম থাকে।
- প্রকৃতিতে অল্প সংখ্যক উদ্ভিদে স্ব- পরাগায়ন ঘটে।
- তুলা, শিম, টমেটো, কানশিরা প্রভৃতি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন পরিলক্ষিত হয়।

পর-পরাগায়ন (cross-pollination):
- একটি ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পর-পরাগায়ন বলে।
- পর-পরাগায়নে অংশগ্রহণকারী দুটি ফুলের জিনোটাইপ কিছুটা ভিন্নতর হয়।
- প্রকৃতিতে বেশিরভাগ উদ্ভিদে পর-পরাগায়ন পরিলক্ষিত হয়।
- ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, আম, কাঁঠাল, শিমুল ইত্যাদি উদ্ভিদে পর-পরাগায়ন ঘটে।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮৭.
মানবদেহে কোন এনজাইম স্নেহজাতীয় (চর্বিযুক্ত) খাদ্য হজমে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. পেপসিন
  2. মল্টেজ
  3. লাইপেজ
  4. ল্যাকটেজ
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমের প্রধান এনজাইম।
- এটি ট্রাইগ্লিসারাইড (চর্বি) ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে। যা মানবদেহে স্নেহজাতীয় খাদ্যের পুষ্টির শোষণে গুরুত্বপূর্ণ।।
- মানবদেহে প্রধানত অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে লাইপেজ নিঃসৃত হয়।
- ছোট অন্ত্রে (ডিওডেনাম) সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- লাইপেজ এনজাইমের অভাবে চর্বি সঠিকভাবে হজম হতে পারে না, যার ফলে পুষ্টির অভাব, পেটে অস্বস্তি এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে,
- পেপসিন: প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা পেটের অ্যাসিডিক পরিবেশে প্রোটিনকে পেপটাইডে ভেঙে দেয়। এটি স্নেহজাতীয় খাদ্যের হজমে কাজ করে না।
- মল্টেজ: কার্বোহাইড্রেট হজমের এনজাইম, যা ম্যলটোজকে তরলাকার ঘন শর্করায় ভেঙে দেয়। এটি চর্বি হজমে কার্যকর নয়।
-  ল্যাকটেজ: দুধে থাকা ল্যাকটোজ (দুগ্ধশর্করা) হজম করতে সাহায্য করে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

২,৩৮৮.
কোনটির অভাব পূরণে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস
  2. জিংক
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাজ: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
২,৩৮৯.
কোনটি আদর্শ ফুলের অংশ নয়?
  1. ক) পুষ্পাক্ষ
  2. খ) পাপড়ি
  3. গ) পুংকেশর
  4. ঘ) উপবৃতি
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি অংশ।
১. পুষ্পপক্ষ, 
২. বৃতি, 
৩. দল বা পাপড়ি, 
৪. পুংকেশর ও 
৫. গর্ভকেশর। 

কখনো কখনো ফুলে এই ৫টি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে একে উপবৃতি বলে। জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখ যায়।

সূত্র: ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,৩৯০.
Adult Cell- ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. ক) শেলী
  2. খ) ডলি
  3. গ) মলি
  4. ঘ) নেলী
ব্যাখ্যা
''Dolly the sheep'' was the first mammal to be cloned using adult cell cloning.

- কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন।
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।

Source: cloningandgeneticengineering.weebly.com
২,৩৯১.
কোন উপাদানগুলো অঙ্কুরোদগমের জন্য প্রয়োজন?
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন, আলো ও অক্সিজেন
  3. তাপ, পানি ও অক্সিজেন
  4. পানি ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
অঙ্কুরোদগম:
বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে।
যথাযথভাবে অঙ্কুরোধগম হওয়ার জন্য পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।
অঙ্কুরোদগম প্রধানত ৩ প্রকার।
যথা -
১. মৃদগত অঙ্কুরোদগম
২. মৃদভেদী অঙ্কুরোধগম ও
৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।

উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৯২.
এইচআইভি ভাইরাস প্রধানত কোন কোষকে আক্রমণ করে?
  1. বি-লসিকা কোষ
  2. অণুচক্রিকা
  3. বেসোফিল
  4. T4 লসিকা কোষ
ব্যাখ্যা

◉ এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) মূলত CD4+ T lymphocytes বা T4 লসিকা কোষ-কে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (immune system) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা অন্যান্য প্রতিরক্ষা কোষকে সক্রিয় করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

​AIDS:
- AIDS হলো Acquired (অর্জিত) Immune (ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) Deficiency (ডেফিসিয়েন্সি বা হ্রাস) Syndrome (সিনড্রোম বা অবস্থা) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
Human Immunodeficiency Virus, সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্তকণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। এইডস বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত (pandemic) একটি ভয়াবহ যৌন রোগ যা প্রতিনিয়ত আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

​আক্রমণের ধাপ:
- HIV ভাইরাসের envelope এ থাকা gp120 প্রোটিনের মাধ্যমে এটি CD4 receptor-এর সাথে যুক্ত হয়।
- ভাইরাস কোষে প্রবেশ করে এবং নিজের প্রতিলিপন করে।
- ধীরে ধীরে T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস হয়ে যায়।
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে চূড়ান্ত অবস্থায় সাধারণ রোগেও মৃত্যু হতে পারে।

​প্রতিরোধ:
- নিরাপদ যৌনমিলন করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধান মেনে চলা।
- যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
- অস্বাভাবিক যৌনমিলন, বহুগামিতা, সহকামিতা এবং পতিতাগামিতা পরিহার করা।
- যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা।
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা।
- এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ধারণ অথবা সন্তানকে বুকের দুগ্ধ পান করানো থেকে বিরত রাখা।
- রক্ত গ্রহণের আগে HIV সংক্রমিত কিনা তা পরীক্ষা করা।
- ইনজেকশন গ্রহণের সময় পরিশোধিত বা নতুন সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

২,৩৯৩.
স্নায়ুকোষের অবস্থান কোথায়?
  1. বহিঃত্বকে
  2. পেশী আবরনী কোষে
  3. মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে
  4. মুখছিদ্রের চারপাশে 
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকোষের অবস্থান (Neuron Position):
- স্নায়ুকোষ হলো স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক একক, যা সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণ করতে সক্ষম।
- এটি সাধারণত মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে অবস্থান করে, যা গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যায়ের মধ্যস্তর হিসেবে পরিচিত।
- স্নায়ুকোষের অবস্থান পেশী বা বহিঃত্বক কোষের মধ্যে নয়।
- মুখছিদ্রের চারপাশে কিছু স্নায়ু গঠন থাকতে পারে, কিন্তু প্রধান স্নায়ুকোষের কেন্দ্র নয়।
- স্নায়ুকোষের এই অবস্থান ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠন নিশ্চিত করে।  

সুতরাং, স্নায়ুকোষের অবস্থান হলো - গ) মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে।  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

২,৩৯৪.
শর্করা পরিপাককারী এনজাইম কোন রসে থাকে না? 
  1. আন্ত্রিক রসে 
  2. অগ্ন্যাশয় রসে 
  3. লালা রসে 
  4. পাকস্থলি রসে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

মলটেজ: 
- ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৯৫.
জীবের বংশগতীয় উপাদান হল -
  1. ক) এনজাইম
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) DNA
  4. ঘ) RNA
ব্যাখ্যা
জীবের বংশগতীয় উপাদান হল DNA

- DNA এর পূর্ণরুপ হলো Deoxyribonucleic acid.
- ডিএনএ হলো একটি অণু যা কোনও জীবের বিকাশ, বাঁচতে এবং পুনরূত্পাদন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ধারণ করে।
- DNA ক্রোমােজোমের স্থায়ী পদার্থ।
- মার্কিন বিজ্ঞানী Watson এবং ইংরেজ বিজ্ঞানী Crick ১৯৫৩ সালে প্রথম DNA অণুর ডাবল হেলিক্স (Double helix) বা দ্বি-সূত্রী কাঠামাের বর্ণনা দেন এবং এ কাজের জন্য তাঁরা নােবেল পুরস্কার পান।
- DNA-ই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং বাহক, ইহা জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সরাসরি বহন করে মাতাপিতা থেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়।
- DNA বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: ২১৭ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৬.
উদ্ভিদের ভেসেল টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. শর্করা সঞ্চয়ন
  2. খাদ্য পরিবহন
  3. জলীয় বাষ্প পরিবহন
  4. পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন
ব্যাখ্যা
ভেসেল (Vessels): 
- ভেসেল কোষগুলো খাটো চোঙের মতো। 
- কোষগুলো একটির মাথায় আরেকটি সজ্জিত হয় এবং প্রান্তীয় প্রাচীরটি গলে গিয়ে একটি দীর্ঘ নলের মতো অঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে কোষরসের উপরে ওঠার জন্য একটি সরু পথ সৃষ্টি হয়ে যায়। 
- প্রাথমিক অবস্থায় এ কোষগুলো প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ থাকলেও পরিণত বয়সে এরা মৃত এবং প্রোটোপ্লাজমবিহীন হয়। 
- ভেসেলের প্রাচীর ট্রাকিডের মতো বিভিন্নরূপে পুরু হয়, যেমন- সোপানাকার, সর্পিলাকার, বলয়াকার, কৃপাঙ্কিত ইত্যাদি। 
- ভেসেল সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার লম্বা হয়। তবে বৃক্ষ বা আরোহী উদ্ভিদে আরও অনেক লম্বা হতে পারে। 
- এদের প্রধানত গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সব অঙ্গে দেখা যায়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের মধ্যে উন্নত উদ্ভিদ, যেমন নিটামে (Gnetum) প্রাথমিক পর্যায়ের ভেসেল থাকে। 
- পানি এবং খনিজ লবণ পরিবহন এবং অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা এর প্রধান কাজ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৯৭.
কার্ডিয়াক পেশির কাজের ধরণ কোন পেশির মতো? 
  1. ত্বকীয় পেশি
  2. কঙ্কাল পেশি
  3. ঐচ্ছিক পেশি
  4. অনৈচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle): 
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। 
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। 
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে। 
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে। 
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৯৮.
কোন উদ্ভিদ অংশ প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত? 
  1. কাণ্ডের মজ্জা
  2. মূলের ত্বক
  3. পাতার মেসোফিল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- ক) প্যারেনকাইমা, খ) কোলেনকাইমা এবং গ) স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা: 
- এ টিস্যু প্রায় সমান ব্যাসবিশিষ্ট, সাধারণত পাতলা বা পুরুপ্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এ প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম হয়। 
- আকৃতিতে এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এ টিস্যুর কোষসমূহের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। 
- এ জাতীয় কোষে ঘন প্রোটোপ্লাজম থাকে এবং এরা জীবিত টিস্যু। 
- উদ্ভিদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকাংশ অংশ বিশেষ করে কোমল অংশ এ টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়। 
- পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে যাকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে তেল, ট্যানিন এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ জমা থাকে। 

কাজ:
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা, ক্লোরেনকাইমা ও মেসোফিল টিস্যুর কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা। 
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে অবস্থিত প্যারেনকাইমা খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরি খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে। 
- অন্যান্য টিস্যুর সাথে মিলে দৃঢ়তা প্রদান করে, মুকুল উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে এবং স্ফীত ও রসালো উদ্ভিদে পানি সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯৯.
গাইনিসিয়ামের প্রতিটি অংশকে কী বলা হয়?
  1. গর্ভাশয়
  2. কার্পেল
  3. স্তবক
  4. পুষ্পাক্ষ
ব্যাখ্যা
গাইনিসিয়ামের প্রতিটি অংশকে কার্পেল বলা হয়।

• গাইনিসিয়াম (Gynoecium) বা স্ত্রীস্তবক:
- ফুলের সবচেয়ে ভেতরের স্তবক (চতুর্থ স্তবক) হলো গাইনিসিয়াম বা স্ত্রীস্তবক।
- এ স্তবকের প্রতিটি সদস্যকে বলা হয় কার্পেল (carpel), স্ত্রীকেশর বা গর্ভপত্র।

• গর্ভপাদ পুষ্প (Hypogynous):
- পুষ্পাক্ষ উত্তল হয় এবং গর্ভাশয় এর কেন্দ্রে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক ক্রমান্বয়ে গর্ভাশয়ের নিচে সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অধিগর্ভ গর্ভাশয় (superior ovary)।
- যেমন: সরিষা, জবা, ধান ফুল।

• গর্তকটি পুষ্প (Perigynous):
- পুষ্পাক্ষ অবতল বা পেয়ালাকৃতি হয় এবং গর্ভাশয় এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক গর্ভাশয়কে ঘিরে ক্রমান্বয়ে পেয়ালার কিনারায় সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অর্ধ-অধিগর্ভ গর্ভাশয় (half superior ovary)।
- যেমন: শিম, গোলাপ ফুল।

• গর্ভশীর্ষ পুষ্প (Epigynous):
- পুষ্পাক্ষ প্রসারিত হয়ে পেয়ালাকৃতি ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ের পাদদেশে সংযুক্ত থাকে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক গর্ভাশয়ের উপরে পর্যায়ক্রমে সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অধোগর্ভ গর্ভাশয় (inferior ovary)।
- যেমন: কুমড়া, পেয়ারা ফুল।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,৪০০.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড?
  1. ক) কচ্ছপ
  2. খ) সিল মাছ
  3. গ) ক্যাটল ফিস
  4. ঘ) হাঙ্গর
ব্যাখ্যা

ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাস উভয়ের তিনটি করে হৃৎপিন্ড আছে।
তাছাড়া ব্যাঙের হৃদপিন্ডে ৩টি প্রকোষ্ঠ এবং মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪ টি প্রকোষ্ঠ আছে।