ব্যাখ্যা
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র: ট্যাকোমিটার
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র: ক্রেসকোগ্রাফ
- বায়ুর আদ্রর্তা পরিমাপক যন্ত্র: হাইগ্রোমিটার
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৪ / ৪২ · ২,৩০১–২,৪০০ / ৪,২০৮
• এপিলেপসি মূলত মস্তিষ্কের একটি রোগ।
• এপিলেপসি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ।
- এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
- অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়।
- অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোন কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে।
- তবে ৫-২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।
• কারণ:
- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
- তবে প্রধান কারণ হলো- মস্তিষ্কের অবস্থাগত কারণ, ইসকেমিক' স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, মাথায় আঘাতজনিত কারণ, যেমন মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, এইডস, মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য দ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ:
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো-
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ।
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি।
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ।
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না।
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদ, শৈবাল ও কিছু ব্যাকটেরিয়া সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি (H2O) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ব্যবহার করে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) এবং অক্সিজেন (O2) উৎপন্ন করে। অক্সিজেন খাদ্য তৈরির জন্য আবশ্যক নয়, বরং এটি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত (by-product)।
সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
- তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- মানব দেহের বিভিন্ন তরল উপাদানের pH নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- মানুষের জিহ্বার লালার pH = 6.6.
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH = 2.
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH = 5.5.
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH = 7.
তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• রক্ত কণিকা উৎপাদনের প্রধান স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত নরম টিস্যু, যা রক্তের সব ধরনের কণিকা-লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট-উৎপাদন করে। শিশুর শরীরে অস্থিমজ্জা প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড় যেমন পিঠের হাড় এবং বৃহৎ হাড়ের প্রান্তে থাকে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি প্রধানত পেরিফেরাল হাড়ে সীমিত থাকে। অন্য অঙ্গ যেমন যকৃত, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ নয়; তবে যকৃত কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তে লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে। সুতরাং, রক্তকণিকার জন্মস্থল হিসেবে অস্থিমজ্জাকে প্রধানভাবে চিহ্নিত করা হয়।
- সঠিক উত্তর: ক) অস্থিমজ্জায়।
• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।
• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।
• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।
অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• Budding (কুঁড়ি দ্বারা প্রজনন):
- Budding হলো এক ধরনের অযৌন প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে মূল দেহের গায়ে একটি ছোট কুঁড়ি (bud) তৈরি হয়।
- এই কুঁড়িটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ নতুন জীব হিসেবে পরিণত হয়।
- পরিপক্ব হলে কুঁড়িটি মূল দেহ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে।
- Budding প্রক্রিয়ায় জিনগত বৈচিত্র্য থাকে না, কারণ এটি অযৌন প্রজনন।
- এই প্রক্রিয়া সাধারণত সরল গঠনের প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।
• Hydra-তে Budding:
- Hydra একটি সরল জলজ প্রাণী।
- Hydra-র দেহপ্রাচীরের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কুঁড়ি সৃষ্টি হয়।
- কুঁড়িটি ধীরে ধীরে মুখ ও শুঁড় (tentacle) গঠন করে।
- পরিপক্ব হলে এটি মূল Hydra থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- তাই Hydra-তে Budding প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
• অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
- Euglena প্রধানত দ্বিখণ্ডন (Binary fission) প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।
- তেলাপোকা যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- পরিফেরা (স্পঞ্জ) তে কুঁড়ি সদৃশ প্রক্রিয়া থাকলেও পাঠ্যবই অনুযায়ী আদর্শ উদাহরণ নয়।
সুতরাং, Budding প্রক্রিয়াটি ঘটে Hydra-তে।
সঠিক উত্তর: খ) Hydra.
সূত্র - sciencedirect journal.
• রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম:
- রুই মাছ বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় স্বাদুপানির মাছ।
- এটি মূলত নদী, খাল, বিল ও পুকুরে পাওয়া যায়।
- রুই মাছ কার্প (Carp) জাতীয় মাছের অন্তর্ভুক্ত।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাছটির গঠন, প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।
- রুই মাছের স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নাম হলো Labeo rohita.
• অন্যান্য অপশন গুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
- Catla catla → এটি কাতলা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
- Tenualosa ilisha → এটি ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম।
- Arius gagora → এটি একটি সামুদ্রিক/লবণাক্ত পানির মাছের প্রজাতি।
সুতরাং, রুই মাছের সঠিক বৈজ্ঞানিক নাম হলো Labeo rohita.
সঠিক উত্তর: ঘ) Labeo rohitu.
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
১। পটাশিয়াম:
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে।
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম।
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
২। নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়।
৩। ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে।
৪। ফসফরাস:
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়।
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ম্যাংগানিজ: ক্লোরােপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়ােজন।
কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োেজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
বােরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বােরন প্রয়ােজন, চিনি পরিবহনে বােরন পরােক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
মােলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মােলিবডেনাম আবশ্যক।
ক্লোরিন: সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়ােজন।
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়।
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।
যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।
মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে ডাইব্যাক (Dieback) বলে, যা গাছের শীর্ষ বা প্রান্তীয় অংশ থেকে টিস্যুর মৃত্যু নির্দেশ করে।
সালফার:
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয় শুধু, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
বাস্তুসংস্থানের উপাদান:
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি।
যথা-
ক. সজীব উপাদান:
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান।
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা-
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক।
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক।
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়।
খ. জড় উপাদান:
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান।
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা-
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান।
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান।
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
নিউমোনিয়া (Pneumonia):
- মানবদেহের ফুসফুস নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে।
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।
কারণ:
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ।
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে।
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।
লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে গুড়গুড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- সরস ফল, গুচ্ছ ফল ও যৌগিক ফল।
- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি যৌগিক ফল।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট পুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনাে ঘর্ষণ হয় না।
ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলােকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। বায়ুথলিগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতাে অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে।
বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। বায়ু প্রবেশ করলে এগুলাে বেলুনের মতাে ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান
রক্তের প্রধান উপাদান হলাে রক্তরস বা প্লাজমা।
সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% হলাে রক্তকনিকা।
রক্তরসের ৯০% হলাে পানি এবং বাকি ১০% হলাে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান।
রক্তকনিকা ৩ প্রকার।
যথাঃ এরিথ্রোসাইট বা লােহিত রক্তকনিকা,
লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকনিকা এবং
থ্রম্বােসাইট বা অনুচক্রিকা।
সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী
- বিভিন্ন জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বাহ্যিক গঠনকে অঙ্গসংস্থান বলে। এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের আলোচনাকে তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান বলে।
(ক) সমসংস্থ অঙ্গ:
- পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, সিলের অগ্রপদ, ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের হাত-এর সবগুলোই সমসংস্থ অঙ্গ।
- আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের অর্থাৎ সকল প্রাণীর জন্যই এখানকার অস্থিগুলো উপর থেকে নিচের দিকে পরপর সাজানো রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে, সেটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য ঘটেছে।
- পাখি ও বাদুড়ের 'অগ্রপদ' ওড়ার জন্য, তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য, ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য ও মানুষের অগ্রপদ কোনো জিনিস ধরা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।
(খ) সমবৃত্তি অঙ্গ:
- বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে, সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন-পতঙ্গ কিংবা বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে অর্থাৎ বাদুড় এবং পতঙ্গ দুটিই প্রয়োজনের তাগিদে উড়তে সাহায্য করার উপযোগী অঙ্গ তৈরি করেছে।
- এরকম সমবৃত্তি অঙ্গগুলো জৈব অভিব্যক্তি সমর্থন করে।
(গ) লুপ্তপ্রায় অঙ্গ:
- জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো কিছু জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।
- প্রাণীদেহের মধ্যে বহু লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। মানুষের সিকাম এবং সিকাম-সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিক্সটি নিষ্ক্রিয়, কিন্তু স্তন্যপায়ীভুক্ত তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন- ঘোড়া কিংবা গিনিপিগের) দেহে এগুলো সক্রিয়।
- মানুষের দেহে লেজ নেই, তবু মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে ককসিক্স নামক লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। এই ককসিক্স মানুষের পূর্বপুরুষে সুগঠিত ছিল।
- লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বহনকারী প্রাণীটির উৎপত্তি ঘটেছে এমন উদবংশীয় প্রাণী থেকে, যার দেহে একসময় উক্ত অঙ্গটি সক্রিয় ছিল।
উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
• মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র। এটি খাদ্য থেকে শক্তি উত্তোলন করে তা এমন এক আকারে সংরক্ষণ করে, যা কোষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী জৈবিক অণু হলো ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)। ATP-এ থাকা রাসায়নিক শক্তি কোষের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়, যেমন প্রোটিন সংশ্লেষণ, সংকোচন, এবং সক্রিয় পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ায় খাদ্য অণুগুলো অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ATP-তে রূপান্তরিত হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে NADPH প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্টে শক্তি পরিবহনের কাজে লাগে, GTP কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংকেত বা প্রোটিন সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, আর ADP হলো ATP-এর পূর্বাবস্থা। তাই ATP হলো মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী।
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন।
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন।
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন।
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিপাকতন্ত্র খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
যে শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা হয়, তাকে পরিপাক ক্রিয়া বলে। পরিপাক সংশ্লিষ্ট যত ধাপ বা অংশ আছে, সব মিলেই পরিপাকতন্ত্র (Digestive System)।
নিম্নে কিছু অঙ্গের নাম ও তাদের কার্যকর্ম দেওয়া হলো:
অন্ননালি - পেশী সংকোচনের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য এ নালীপথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে।
পাকস্থলি - বিভিন্ন এনজাইম এবং এসিডের মাধ্যমে জটিল খাদ্য ভাঙ্গে।
যকৃত - পাচক রস উৎপন্ন করে যা ফ্যাটকে ভাঙ্গে।
পিত্তথলি - পাচক রস সংরক্ষন করে এবং প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
অগ্ন্যাশয় - একধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরন করে যা খাদ্যকে ভাঙ্গে।
ক্ষুদ্রান্ত্র - খাদ্য শোষণ করে শরীরের জন্য।
বৃহাদান্ত্র - পানি ও লবন শোষণ করে।
মলাশয় - উচ্ছিষ্ট সরবরাহ করে।
অ্যাপেনডিক্স - চিহ্নিত অঙ্গ (এর কোনে কাজ মানব শরীরে নেই, এটি একটি অতিরিক্ত অঙ্গ)।
সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
পাকস্থলী:
-বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলী।
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি।
- পাকস্থলীর প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে।
- মিউসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে।
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।
- লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
- যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• জীববৈচিত্র্যক বা Biodiversity মূলত তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।
বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• লাইপেজ হলো চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমের প্রধান এনজাইম।
- এটি ট্রাইগ্লিসারাইড (চর্বি) ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে। যা মানবদেহে স্নেহজাতীয় খাদ্যের পুষ্টির শোষণে গুরুত্বপূর্ণ।।
- মানবদেহে প্রধানত অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে লাইপেজ নিঃসৃত হয়।
- ছোট অন্ত্রে (ডিওডেনাম) সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- লাইপেজ এনজাইমের অভাবে চর্বি সঠিকভাবে হজম হতে পারে না, যার ফলে পুষ্টির অভাব, পেটে অস্বস্তি এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে,
- পেপসিন: প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা পেটের অ্যাসিডিক পরিবেশে প্রোটিনকে পেপটাইডে ভেঙে দেয়। এটি স্নেহজাতীয় খাদ্যের হজমে কাজ করে না।
- মল্টেজ: কার্বোহাইড্রেট হজমের এনজাইম, যা ম্যলটোজকে তরলাকার ঘন শর্করায় ভেঙে দেয়। এটি চর্বি হজমে কার্যকর নয়।
- ল্যাকটেজ: দুধে থাকা ল্যাকটোজ (দুগ্ধশর্করা) হজম করতে সাহায্য করে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
উৎস:
১।বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।
◉ এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) মূলত CD4+ T lymphocytes বা T4 লসিকা কোষ-কে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (immune system) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা অন্যান্য প্রতিরক্ষা কোষকে সক্রিয় করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
AIDS:
- AIDS হলো Acquired (অর্জিত) Immune (ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) Deficiency (ডেফিসিয়েন্সি বা হ্রাস) Syndrome (সিনড্রোম বা অবস্থা) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
Human Immunodeficiency Virus, সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্তকণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। এইডস বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত (pandemic) একটি ভয়াবহ যৌন রোগ যা প্রতিনিয়ত আরো বিস্তৃত হচ্ছে।
আক্রমণের ধাপ:
- HIV ভাইরাসের envelope এ থাকা gp120 প্রোটিনের মাধ্যমে এটি CD4 receptor-এর সাথে যুক্ত হয়।
- ভাইরাস কোষে প্রবেশ করে এবং নিজের প্রতিলিপন করে।
- ধীরে ধীরে T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস হয়ে যায়।
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে চূড়ান্ত অবস্থায় সাধারণ রোগেও মৃত্যু হতে পারে।
প্রতিরোধ:
- নিরাপদ যৌনমিলন করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধান মেনে চলা।
- যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
- অস্বাভাবিক যৌনমিলন, বহুগামিতা, সহকামিতা এবং পতিতাগামিতা পরিহার করা।
- যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা।
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা।
- এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ধারণ অথবা সন্তানকে বুকের দুগ্ধ পান করানো থেকে বিরত রাখা।
- রক্ত গ্রহণের আগে HIV সংক্রমিত কিনা তা পরীক্ষা করা।
- ইনজেকশন গ্রহণের সময় পরিশোধিত বা নতুন সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করা।
উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
• স্নায়ুকোষের অবস্থান (Neuron Position):
- স্নায়ুকোষ হলো স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক একক, যা সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণ করতে সক্ষম।
- এটি সাধারণত মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে অবস্থান করে, যা গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যায়ের মধ্যস্তর হিসেবে পরিচিত।
- স্নায়ুকোষের অবস্থান পেশী বা বহিঃত্বক কোষের মধ্যে নয়।
- মুখছিদ্রের চারপাশে কিছু স্নায়ু গঠন থাকতে পারে, কিন্তু প্রধান স্নায়ুকোষের কেন্দ্র নয়।
- স্নায়ুকোষের এই অবস্থান ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠন নিশ্চিত করে।
সুতরাং, স্নায়ুকোষের অবস্থান হলো - গ) মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে।
তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়।
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে-
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।
• মিউসিন:
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
• টায়ালিন:
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।
• মলটেজ:
- ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাস উভয়ের তিনটি করে হৃৎপিন্ড আছে।
তাছাড়া ব্যাঙের হৃদপিন্ডে ৩টি প্রকোষ্ঠ এবং মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪ টি প্রকোষ্ঠ আছে।