বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ১০১২০০ / ৪,২০৮

১০১.
খাদ্যে প্রোটিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা

• কোয়াশিওরক হলো একটি প্রোটিন-অভাবজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় যারা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খায় না।  

- প্রোটিন হলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
- এটি কোষ গঠন, অঙ্গপ্রতঙ্গ বৃদ্ধি, অ্যান্টিবডি ও হরমোন উৎপাদন, এনজাইম কার্যক্রম, এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য।
- প্রোটিনের অভাব হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং কোষ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, এবং এর ফলে কিছু বিশেষ রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিওরকের প্রধান কারণ:
- খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি।
- শিশুদের বৃদ্ধি পর্যায়ে পর্যাপ্ত দুধ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য না পাওয়া।

কোয়াশিওরকের লক্ষণসমূহ:
- পেশী কমজোরি হয়ে যায়।
- শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও ওজন ঠিকমতো হয় না।
- এডিমা বা শরীরে পানি জমে পেট ফোলা দেখা দেয়।
- চুল সহজে ছিঁড়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও ক্ষীণ হয়ে যায়।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।  

১০২.
জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কোন খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহজাতীয় খাদ্য
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়।

• পুষ্টিগত গুরুত্ব (শর্করা/কার্বোহাইড্রেট):
- শর্করা দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
- জীবদেহে বিপাকীয় (Metabolic) কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি কার্বোহাইড্রেট জারণে পাওয়া যায়।
- রক্তে অক্সিজেন কোষে পৌঁছে গ্লুকোজের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি নির্গত করে।
- এই শক্তিই দেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মূল শক্তির উৎস।
 
• গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ:
- গ্লাইকোজেন প্রাণীদেহে খাদ্যঘাটতি বা অধিক পরিশ্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে।
- সেলুলোজ একটি অপাচ্য শর্করা এবং আঁশযুক্ত খাদ্য।
- সেলুলোজ মলত্যাগে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
 
• শর্করার অতিরিক্ত ও ঘাটতির প্রভাব:
- খাদ্যে শর্করার অভাবজনিত রোগ থেকে বাঁচতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় শর্করা গ্রহণ জরুরি।
- শর্করা চাহিদার তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ মেদ হিসেবে জমা হয়।
- এতে স্থূলকায়তা এবং কখনো কখনো বহুমূত্র রোগ দেখা দিতে পারে।
- খাদ্যে প্রোটিন বা ফ্যাটের অভাব হলে শর্করা থেকে এগুলো সংশ্লেষ হতে পারে।
 
• খাদ্য ক্যালরি ও শক্তিমূল্য:
- খাদ্যের শক্তি ক্যালরি বা কিলোক্যালরি (kcal) এককে মাপা হয়।
- ১ ক্যালরি হলো ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপশক্তি।
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি (Food Calorie).
- শর্করা ও প্রোটিনের শক্তিমূল্য প্রায় ৪ kcal/g.
- স্নেহজাতীয় খাদ্য (ফ্যাট)-এর শক্তিমূল্য সবচেয়ে বেশি, ৯ kcal/g.
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং নারীর প্রায় ২০০০ kcal প্রয়োজন।
 
• অন্যান্য অপশন:
- প্রোটিন → দেহগঠন, বৃদ্ধি ও এন্টিবডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- স্নেহজাতীয় খাদ্য → উচ্চ শক্তিমূল্যসম্পন্ন, সঞ্চিত শক্তির উৎস।
- ভিটামিন → শক্তি উৎপাদন নয়, দেহীয় কার্যাবলির সহায়ক।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১০৩.
নিম্নের কোনটি স্বভোজী জীব?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) মাশরুম
  3. গ) ফার্ণ
  4. ঘ) পেনিসিলিয়াম
ব্যাখ্যা

ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি।

ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]

১০৪.
নিচের কোনটি একটি আদর্শ ব্যকটেরিয়ামের অংশ?
  1. ক) ফ্ল্যাজেলা
  2. খ) পিলি
  3. গ) ক্যাপসিউল
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো- ফ্ল্যাজেলা, ক্যাপসিউল, কোষ প্রাচীর, প্লাজমামেমব্রেন, মেসোসোম, সাইটোপ্লাজম, ক্রোমোসোম এবং প্লাজমিড।

ফ্ল্যাজেলা:
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।

• পিলি:
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে।
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।

ক্যাপসিউল:
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে।
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে।
- একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

মেসোসোম:
- ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়।
- এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জন্ডিস
  2. ডায়রিয়া
  3. টাইফয়েড
  4. পোলিও
ব্যাখ্যা

- ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।
- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ:
১। লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড),
২। গ্লুকোজ,
৩। পটাশিয়াম ক্লোরাইড,
৪। সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট।

উৎস: ১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট।

১০৬.
আমরা নিঃশ্বাসে যা গ্রহণ করি -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
আমরা নিঃশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং নিঃশ্বাস ত্যাগ করবার সময় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ত্যাগ করি। 

- শ্বসনের সময় পরিবেশ থেকে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করার পর রক্তের মাধ্যমে দেহের প্রতি কোষে পৌঁছে কোষস্থ খাদ্যকে জারিত করে জৈব শক্তি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে আসে এবং প্রশ্বাসের সময় দেহ থেকে নির্গত হয়। কাজেই অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন একটি জটিল প্রক্রিয়া। 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭ ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ - অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

সূত্র: ১৩৪ পৃষ্ঠা, প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
চোখের লেন্সের ধরণ কোনটি?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. দ্বি-উত্তল
  4.  দ্বি-অবতল
ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের লেন্সটি হলো একটি দ্বি-উত্তল লেন্স, যা উভয় দিকেই উত্তল আকৃতির। 
- এই লেন্সটি অভিসারী লেন্স হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে প্রতিসারিত করে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কোনো বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

দ্বি-উত্তল লেন্স:
- দ্বি-উত্তল লেন্স হলো একটি বিশেষ ধরনের উত্তল লেন্স, যার উভয় পৃষ্ঠই বাইরের দিকে বক্রাকার বা উত্তল আকৃতির।
- এটি অভিসারী (converging) লেন্স হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি এর মধ্য দিয়ে যাওয়া সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস বিন্দুতে) একত্রিত করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি এর মধ্য দিয়ে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে।
- এটি সাধারণত বাস্তব (real) এবং উল্টো (inverted) প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বের তথ্য অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, এবং মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সোজা করে দেখায়।

চোখে দ্বি-উত্তল লেন্সের কার্যকারিতা:
- চোখের লেন্স হলো একটি প্রাকৃতিক, নমনীয় এবং স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। 
- এর মূল কাজ হলো বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করা, যাতে একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উপযোজন (Accommodation) প্রক্রিয়া:
- চোখের লেন্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উপযোজন ক্ষমতা। এটি চোখের সিলিয়ারি পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্স পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায় এবং রেটিনার উপর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- আর কাছের বস্তু দেখার সময় লেন্সটি মোটা হয়ে যায়, যার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং রেটিনার উপর প্রতিবিম্ব সঠিকভাবে গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিই উপযোজন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য-
- উত্তল: এটি লেন্সের একটি সাধারণ প্রকার, কিন্তু চোখের লেন্সের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ধরণ হলো দ্বি-উত্তল।
- অবতল: এটি একটি অপসারী লেন্স এবং এটি দৃষ্টি ত্রুটি (যেমন: মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য চশমায় ব্যবহৃত হয়, চোখে নয়।
- দ্বি-অবতল: এটি অবতল লেন্সের একটি প্রকারভেদ এবং এটিও সাধারণত চশমা ও কিছু বিশেষ আলোকীয় যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১০৮.
আমিষ তৈরি হয় -
  1. ক) ফ্যাটি এসিড দিয়ে।
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড দিয়ে।
  3. গ) ফলিক এসিড দিয়ে।
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড দিয়ে।
ব্যাখ্যা
অ্যামাইনো এসিড
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিন গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড। (উৎস: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড। (উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান)
- মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে। (উৎস: ব্রিটানিকা)
১০৯.
কোনটি স্ব-পরাগী ফুল?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান-
  1. ক) লিগনিন
  2. খ) কুইনিন
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) হেমিসেলুলোজ
ব্যাখ্যা
[কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সেলুলোজ। তবে কাগজে হেমিসেলুলোজও ব্যবহৃত হয়। অপশনে সেলুলোজ না থাকায় হেমিসেলুলোজ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।]

কাগজ তৈরির মূল উপাদান তন্তুজাতীয় বস্তু। এটি হতে পারে উদ্ভিদ কিংবা অন্য কিছু। কাগজ তৈরির সেলুলোজের প্রাথমিক উৎস কাঠ। বিশেষ করে আঁশযুক্ত উদ্ভিদ। বাঁশ, মালবেরি বা তুঁতগাছ ও প্যাপিরাস উদ্ভিদ থেকে বিশেষভাবে মণ্ড তৈরি করে যান্ত্রিক উপায়ে চাপ প্রয়োগ করে তারপর তৈরি করা হয় কাগজ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. ওপেন হ্যামার
  2. আর্কিমিদিস
  3. জন ডাল্টন
  4. চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ, ২ মার্চ ২০১৯।
১১২.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ecology
  2. খ) Endocrinology
  3. গ) Cytology
  4. ঘ) Embryology
ব্যাখ্যা

এন্ডোক্রিনোলজি শখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।

- ইকোলজি শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
- সাইটলজি শাখায় জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলী ও বিভাজন সম্পর্কে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
- ভ্রূণবিদ্যা শাখায় জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি, গঠন, বিকাশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১১৩.
নিচের কোনটি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ?
  1. হেপাটাইটিস বি
  2. এইডস
  3. হেপাটাইটিস এ
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা
• বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ:
যক্ষ্মা (TB),করোনা ভাইরাস (COVID-19),ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu),হাম (Measles),হুপিং কাশি (Whooping Cough/Pertussis)

• খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমণ:
- হেপাটাইটিস এ,
- হেপাটাইটিস ই,
- কলেরা,
- টাইফয়েড,
- ডায়রিয়া ।

• সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- সিফিলিস, গনোরিয়া (যৌন সংক্রমিত রোগ - STDs)
- জন্ডিস (Hepatitis B, C)
- চিকেনপক্স (Varicella)
- স্কেবিস (Scabies - চর্মরোগ)

• প্রাণী বা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- ম্যালেরিয়া (Anopheles মশা)
- ডেঙ্গু (Aedes মশা)
- জিকা ভাইরাস (Zika - Aedes মশা)
- রেবিস (Rabies - কুকুর কামড়)

• রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS)
- হেপাটাইটিস বি, সি (Hepatitis B, C)

উৎস: WHO website.
১১৪.
ক্রোমোজোমে কত ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড রয়েছে?
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন:
- বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে ক্রোমোজোম গঠিত।
- ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে- (১) নিউক্লিক অ্যাসিড, (২) প্রোটিন এবং (৩) অন্যান্য উপাদান ।
- ক্রোমোজোমে দুই ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড রয়েছে। যথা-
• ডিএনএ (DNA)।
• আরএনএ (RNA)।

ডিএনএ (DNA):
- এটি হলো সকল জীবের আদি বস্তু যার অবস্থান সর্ব প্রকার জীব কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে।
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন।
- ১৯৬২ সালে তাঁরা এ যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- এর প্রতিটি একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। এর একটি সূত্র অন্যটির পরিপূরক। 
- এতে পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, নাইট্রোজেনঘটিত বেস বা ক্ষারক এবং ফসফেট থাকে। 

আরএনএ (RNA):
- অধিকাংশ আরএনএতে একটি হেলিক্স থাকে।
- এটি একটিমাত্র পলিনিউক্লিয়োটাইড শৃঙ্খলে ভাঁজ হয়ে থাকে।
- আরএনএ পাঁচ কার্বনযুক্ত রাইবোজ শর্করা ও ফসফেট নির্মিত একটি মাত্র পার্শ্ব কাঠামো দ্বারা গঠিত।
- যার চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক ডিএনএ এর ন্যায়, পার্থক্য শুধু পাইরিমিডিন ক্ষারকে।
- আরএনএতে পাইরিমিডিন গঠনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন থাকে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম সাহায্য করে পেশীর-
  1. প্রসারণে
  2. সংকোচনে
  3. শক্তিবর্ধনে
  4. বৃদ্ধিতে
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

পটাসিয়াম: 
- পটাসিয়াম পেশির সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 
- পটাসিয়ামের ভালো উৎস হলো- মাছ, দুধ, ডাল, আখের গুড় ও শাকসবজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
১১৬.
২০১০ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা কোন উদ্ভিদের জন্ম রহস্য আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ধান
  2. খ) গম
  3. গ) পাট
  4. ঘ) তুলা
ব্যাখ্যা
ড. মাকসুদুল আলম ছিলেন একজন বাংলাদেশী জিনতত্ত্ববিদ। তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা।
২০১০ সালের ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
উৎসঃ বিবিসি এবং ডয়েচ ভেলে
১১৭.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কোন ভিটামিন প্রয়োজন?
  1. A
  2. D
  3. K
  4. E
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন- কে রক্ত তঞ্চন (Blood Clotting) করার প্রয়োজনীয় প্রোটিন ফিব্রিনোজেন তৈরি করে। এর অভাবে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
- ভিটামিন- ডি এর অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ হতে পারে।
- ভিটামিন- এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১১৮.
হিমোগ্লোবিন হলো- 
  1. Fat
  2. Antigen
  3. Platelet 
  4. Protein
ব্যাখ্যা
• হিমোগ্লোবিন:
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- হিমোগ্লোবিনথাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের
- সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৯.
হিমোগ্লোবিন প্রধানত কীভাবে অক্সিজেন পরিবহন করে? 
  1. সরাসরি কোষের মাধ্যমে
  2. বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে
  3. অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে
  4. প্লাজমায় দ্রবীভূত অবস্থায়
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন করে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে, কারণ হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেনকে লোহিত রক্তকণিকায় ধরে রাখে এবং অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক একটি যৌগ তৈরি করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহন করে এবং কোষে ছেড়ে দেয়।

রক্ত: 

- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২০.
ইস্ট হচ্ছে এক ধরনের -
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১২১.
ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কয় কার্বনবিশিষ্ট?
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
কোনটিকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়?
  1. পনস
  2. মেডুলা
  3. সেরিব্রাম
  4. সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- পনসকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২৩.
কোন বিজ্ঞানীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় 'পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে'?
  1. ল্যামার্ক
  2. ডারউইন
  3. ভাইসম্যান
  4. জেনোফেন
ব্যাখ্যা
ল্যামার্কিজম (Lamarckism): 
- ফরাসী প্রকৃতি বিজ্ঞানী Jcan Baptist Lamarck (১৭৪৪-১৮২৯), ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ফিলোসফিক জুলজিক (Philosophic Zoologique) গ্রন্থে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি (theory of inheritance of acquired character) নামক বিবর্তন সম্পর্কীত মতবাদ প্রকাশ করেন। 
- ল্যামার্কের মতবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। 
- পরিবেশের প্রভাবে জীবের দৈহিক গঠনের পরিবর্তন হয়। 
- তাঁর মতে বিবর্তন কতিপয় রীতি-নীতি মেনে চলে। এই রীতি-নীতিগুলোই বিবর্তনের ক্রম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। 
- ল্যামার্ক তাঁর বিবর্তন তত্ত্বেও এ রীতি-নীতিগুলোই ব্যাখ্যা করেছেন। 
- আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে Dodson, 1960 ল্যামার্কের একজন বিশিষ্ট সমর্থক। 
- Dodson ল্যামার্কবাদকে চারটি সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন যা ল্যামার্কীয় সুত্র বলেও পরিচিত। 

সূত্র ১. জীবদেহ এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আকারে ক্রমবর্ধিত হওয়ার একটি লক্ষণ সর্বদাই পরিলক্ষিত হয়। 

সূত্র ২. জীবন ধারণের প্রয়োজনে কোন নতুন চাহিদা এবং এ চাহিদার ফলে জীবন অভ্যাসের যে পরিবর্তন হয় তার ফলেই নতুন প্রত্যঙ্গের উৎপত্তি হয়। 

সূত্র ৩. কোন একটি অঙ্গ প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হলে তা উন্নত এবং সুগঠিত হয়, কিন্তু ব্যবহৃত না হলে ক্রমান্বয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ সুত্রটি ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত। 

সূত্র ৪. কোন একটি জীবের দেহে উন্নতি বা ক্ষয়প্রাপ্তির মাধ্যমে যে সকল পরিবর্তন সাধিত হয় তা অর্জিত বৈশিষ্ট্যরূপে অঙ্গীভূত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে (Generation) সঞ্চারিত ও বিকশিত হয়। এ সূত্রটি অর্জিত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের সূত্র (Law of inhertance of acquired character) নামে অভিহিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২৪.
সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Cocos nucifera
  2. খ) Heritiera fomes
  3. গ) Sonneratia apetala
  4. ঘ) Avicennia alba
ব্যাখ্যা
কেওড়া (Sonneratia apetala),
সুন্দরী (Heritiera fomes),
বাইন (Avicennia alba),
রাইজোফোরা (Rhizophora),
পশুর (Xylocarpus mekongensis),
নারিকেল (Cocos nucifera),
সুপারি (Areca catechu),
গাব (Diospyros peregrina),
বিলাতি গাব (Diospyros discolor)

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. রবার্ট হুক
  3. থিওফ্রাস্টাস
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
• অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• জীববিজ্ঞান:

- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান।
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। যথা-
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক।
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
এইচআইভি (HIV) কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ডেঙ্গু
  2. এইডস
  3. জলাতংক
  4. পোলিও
ব্যাখ্যা

• HIV ভাইরাস মানুষের AIDS রোগের সৃষ্টি করে।

• ভাইরাসজনিত রোগ (উদাহরণ):

- এইচআইভি (HIV):
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: এইডস।

- র‌্যাবিস ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: জলাতঙ্ক।

- ডেঙ্গু ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: ডেঙ্গু।

- পোলিও ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: পোলিওমাইলাইটিস।

- ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস:
- পোষক: গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ,
- রোগ: পা ও মুখের ক্ষত।



উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২৭.
সেলুলোজ কোন ধরনের শর্করা অণু দ্বারা গঠিত?
  1. ফ্রুক্টোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. β-D গ্লুকোজ
  4. α-D গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 
- সেলুলোজের কাজ হচ্ছে উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করা। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হিসেবে থাকে। 
- সেলুলোজকে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়। 
- সেলুলোজকে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৮.
কোন জোড়াটি বেমানান?
  1. যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ
  2. হোমিওপ্যাথি: হ্যানিম্যান
  3. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
  4. এনাটমি : ভেসলিয়াস
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক জোড়াটি সঠিক নয়। 

ব্যাকটেরিয়া: 

- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

অন্যদিকে, 
- যক্ষ্মা ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মাইকো-ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক জীবাণু দিয়ে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। ড. রবার্ট কচ ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মানির বার্লিনে যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন। 
- ক্রিস্টিয়ান ফ্রিডরিখ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান জার্মানির একজন বিখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন, তাকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক বলা হয়।
 - আন্দ্রেয়াস ভেসলিয়াস ছিলেন একজন বেলজিয়ান অ্যানাটমিস্ট এবং চিকিৎসক। তাকে আধুনিক শারীরবিদ্যার জনক বলে মনে করা হয় এবং তার কাজ ধরে  আধুনিক চিকিৎসার সূচনা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১২৯.
T2 ভাইরাসের দেহকে কয়টি অংশে ভাগ করা হয়?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা
T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের গঠন
- প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যে সকল ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে T2 ব্যাকটেরিওফায সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাস। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। 
- তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণকারী। 
- এটি সর্বাধিক পরিচিত ব্যাঙাচি আকৃতির একটি DNA ভাইরাস। 
- বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ১৯১৭ সালে ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায ভাইরাস নাম দেন। 
- T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। মাথা ও 
২। লেজ। 

মাথা
- মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত। 
- এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ nm (ন্যানোমিটার) এবং প্রস্থ ৬৫ nm। 
- মাথার স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বিসূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। 
- ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিয়োটাইড দিয়ে DNA গঠিত। 
- এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। 
- মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা বলে মনে হয়। 

লেজ
- মাথার পরবর্তী লম্বা সরু অংশটিকে বলা হয় লেজ। 
- লেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫-১১০ nm এবং ব্যাস প্রায় ১৫-২৫ nm। 
- লেজের উপরিভাগে সুস্পষ্ট চাকতির ন্যায় একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের ন্যায়। 
- এর অভ্যন্তরে কোন DNA থাকে না। 
- লেজের নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মত স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্ত্র থাকে। 
- লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্ত্র সবই প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- এতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা পোষক কোষের আবরণ বিনষ্ট করতে পারে। 
- স্পর্শক তন্ত্রর সাহায্যে ভাইরাস পোষকের দেহে অবস্থান করে এবং কাঁটা দিয়ে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ কোনটি?
  1. ক) রিকেটস
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) গলগন্ড
  4. ঘ) রক্তশূন্যতা
ব্যাখ্যা
গলগন্ড (Goitre):
- গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ
- খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে।
- যে সকল এলাকার মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম সে সকল এলাকার শিশুদের এমন রোগ বেশি দেখা যায়।
যেমন- সমুদ্র থেকে দূরের (যেমন : জামালপুর, রংপুর ইত্যাদি) এলাকার মাটিতে লবণের পরিমাণ কম তাই এ সকল এলাকার শিশুদের বেশি পরিমাণে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।
- গলগন্ড দু'প্রকার। যথা-

(ক) সরল গলগন্ড:
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়।
- ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।

লক্ষণ:
- আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।

প্রতিরোধ:
- যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড:
- অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।

লক্ষণ:
- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।

প্রতিরোধ:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩১.
উদ্ভিদ কোন পুষ্টি উপাদান বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. পটাশিয়াম
  2. কার্বন 
  3. হাইড্রোজেন 
  4. সালফার 
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ তার বৃদ্ধির জন্য মোট ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান গ্রহণ করে। এর মধ্যে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) উদ্ভিদ প্রধানত বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। উদ্ভিদ তার শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস হলো খনিজ উপাদান যা উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে পানির সাথে শোষণ করে।

• পুষ্টি উপাদানের উৎস: 

- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩২.
উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনী?
  1. ক) সিলিয়াক ধমনি
  2. খ) ইলিয়াক ধমনি
  3. গ) মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. ঘ) ভার্টিব্রাল ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনিঃ -
দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে।
যেমন -

১. আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে।
২. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৩. সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৪. ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদন্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
৫. সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
৬. ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
৭. বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
৮. মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
৯. জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
১০. ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৩৩.
ভেসেল (Vessel) কোন শ্রেণির উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান?
  1. জিমনোস্পার্ম
  2. শৈবাল
  3. অ্যানজিওস্পার্ম
  4. টেরিডোফাইট
ব্যাখ্যা

• ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 
- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম (আবৃতবীজী) উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ecology
  2. খ) Endocrinology
  3. গ) Cytology
  4. ঘ) Embryology
ব্যাখ্যা

এন্ডোক্রিনোলজি শখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
ইকোলজি শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
সাইটলজি শাখায় জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলী ও বিভাজন সম্পর্কে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
ভ্রূণবিদ্যা শাখায় জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি, গঠন, বিকাশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১৩৫.
মাইটোটিক ডিভিশন হয়-
  1. ক) সোমাটিক সেল এ
  2. খ) নিওরোন এ
  3. গ) লেট স্টেজ অব sex cell এ
  4. ঘ) cardiac muscle
ব্যাখ্যা
যে কোষ বিভাজনে একটি সোমাটিক সেল বা দেহ কোষের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে সমআকৃতি এবং সমগুণসম্পন্ন দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টির মাধ্যমে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয় সেই কোষ বিভাজনকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১৩৬.
কোন ভিটামিনটি সূর্য কিরণ থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) D
  2. খ) C
  3. গ) B
  4. ঘ) A
ব্যাখ্যা
একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এই ভিটামিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়।
বাঁধাকপি, যকৃত, তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
১৩৭.
বিএমআই এর আদর্শ মান কত? 
  1. ২৫-২৯.৯ কেজি/মি
  2. ১৫-১৮.৪ কেজি/মি
  3. ১৮.৫-২৪.৯ কেজি/মি
  4. ৩০-৩৪.৯ কেজি/মি
ব্যাখ্যা
বিএমআর ও ব্যয়িত শক্তির সম্পর্ক: 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- বিএমআই মান বয়স, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের গঠনের উপর নির্ভরশীল। 
- দৈনিক খাদ্য চাহিদার সাথে বিএমআই এর মান নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। 
- বিএমআই শরীরে ৬০-৭৫ ভাগ শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, শরীর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মাত্র ১০-২০ শতাংশ ও শ্রমের মাধ্যমে ২০-৩০ শতাংশ শক্তি পেয়ে থাকে। 
- মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিএমআই এর মান কমতে থাকে, আবার অনেকেই শুকনো থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। এতে বিএমআই মান আরও কমে যায়, ফলে আর শুকানো যায় না। তাই খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ না কমিয়ে যদি প্রতিদিন পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করা হয় তাতে বিএমআই মান বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে শরীরকে সুস্থ সবল রাখা যাবে। 
- বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়: বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)  । 

মান নির্দেশিকা: 
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান। 
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার। 
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে কোনটির সাহায্য?
  1. ক) পিল্লি
  2. খ) ফ্লাজেলা
  3. গ) শীথ
  4. ঘ) ক্যাপসুলস
ব্যাখ্যা
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। 
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে। 
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৯.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য -
  1. শর্করা
  2. গ্লাইকোজেন
  3. মাইক্রোভিলাই
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার বা শর্করা। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
কোন উদ্ভিদ পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল থেকে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে? 
  1. আলু 
  2. হলুদ 
  3. পাথরকুচি 
  4. আদা 
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন।

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪১.
ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য কোন মশা দায়ী?
  1. স্যান্ড ফ্লাই
  2. অ্যানোফিলিস
  3. কিউলেক্স
  4. এডিস
ব্যাখ্যা

• ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য প্রধানভাবে অ্যানোফিলিস মশা দায়ী। এটি একটি প্রজাতির মশা যা ম্যালেরিয়ার পারাসাইট Plasmodium বহন করে এবং মানুষকে কামড় দিয়ে সংক্রমণ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের দিকে সক্রিয় থাকে এবং পরিষ্কার জলাশয় বা পুকুরে ডিম দেয়। কামড়ের সময়, এই মশা শরীরে থাকা Plasmodium স্পোরোজয়াইট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করায়, যা পরবর্তীতে লিভার ও রক্তকোষে আক্রমণ চালায়। অন্য মশা প্রজাতি যেমন কিউলেক্স, এডিস বা স্যান্ড ফ্লাই বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে, কিন্তু ম্যালেরিয়ার জন্য অ্যানোফিলিসই প্রধান বাহক। তাই ম্যালেরিয়ার নিয়ন্ত্রণে অ্যানোফিলিস মশার বৃদ্ধির স্থান ও কামড় প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, 
- ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার প্রজাতি হলো- এডিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 
- কালাজ্বরের জীবাণুবাহী মশা- স্যান্ড ফ্লাই। 
- Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৪২.
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে কী পরিমাণে চর্বির প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ১০-২০ গ্রাম
  2. খ) ৫০-৬০ গ্রাম
  3. গ) ১৫০-১৮৫ গ্রাম
  4. ঘ) ৮০-১০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের : উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।
সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখীর তেল ভোজ্যতেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।
চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৪৩.
মিউকর (Mucor) কী?
  1. এক ধরনের শৈবাল
  2. এক ধরনের ছত্রাক
  3. এক ধরনের ভাইরাস
  4. এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:
- প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে ছত্রাক থ্যালোফাইটা বিভাগের অন্তর্গত কিন্তু পঞ্চরাজ্য (five kingdom) শ্রেণিবিন্যাসে ছত্রাক প্রজাতিসমূহ পৃথক fungi রাজ্যের অন্তর্গত।
- Fungi (একবচনে fungus)-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে ছত্রাক।
- সত্যিকার ছত্রাক হলো ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত হেটেরোট্রফিক সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- ছত্রাক সম্বন্ধে স্টাডি করাকে বলা হয় মাইকোলজি (Mycology) বা ছত্রাকতত্ত্ব।
- এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৯০,০০০ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া গিয়েছে।
- যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৪.
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কি বলা হয়?
  1. ক) কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র
  2. খ) প্রোটিন ফ্যাক্টরি
  3. গ) কোষের প্রাণশক্তি
  4. ঘ) কোষের মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউজ বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণশক্তি ও কোষের মস্তিষ্কও বলা হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
১৪৫.
নিচের কোনটি এক শর্করার (Monosaccharide) উদাহরণ? 
  1. শ্বেতসার
  2. সুক্রোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা

- গ্লুকোজ একটি এক শর্করা (Monosaccharide), অর্থাৎ এটি শর্করার সবচেয়ে সরল রূপ এবং একে আর্দ্রবিশ্লেষণ (hydrolysis) দ্বারা আরও সরল উপাদানে ভাঙা যায় না। এটি জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। 

শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৬.
সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) সবুজ উদ্ভিদ
  4. ঘ) অ্যামিবা
ব্যাখ্যা

- সালোকসংশ্লেষণ শুধু সবুজ উদ্ভিদেই ঘটে থাকে যাদের ক্লোরোফিল আছে। শ্বসন সকল সজীব কোষে ঘটে থাকে।
- ছত্রাক, ভাইরাস, অ্যামিবা ইত্যাদিতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না, কারণ এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না।
- সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই সংঘটিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৪৭.
স্ক্যাপুলার কোন অংশ হিউমেরাসের মস্তকের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে?
  1. ক্ল্যাভিকল
  2. স্ক্যাপুলার কাঁটা
  3. অ্যাক্রোমিয়ন 
  4. গ্লিনয়েড গহ্বর 
ব্যাখ্যা

বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle): 
- মানুষের দেহের দুই পাশে স্কন্ধ অঞ্চলে দুটি বক্ষ অস্থিচক্র অবস্থিত। 
- এরা পরস্পর থেকে পৃথকভাবে অবস্থান করে। 
- এদের একজোড়া ক্ল্যাভিকল ও একজোড়া স্ক্যাপুলা থাকে। 
- ক্ল্যাভিকল বাঁকা অস্থি, এ অস্থির কোন মজ্জাগহ্বর নেই। 
- প্রতিটি স্ক্যাপুলা প্রশস্ত চ্যাপ্টা ত্রিকোণাকার অস্থি। 
- এটি বক্ষ পিঞ্জরের উপরের প্রান্তের দু'পাশে অবস্থিত। 
- এর পশ্চাৎ তলে আনুভূমিকভাবে একটি কাঁটা থাকে একে স্ক্যাপুলার কাঁটা বলে। 
- স্ক্যাপুলার যে অংশে হিউমেরাসের মস্তক সংলগ্ন থাকে তাকে গ্লিনয়েড গহ্বর বলে। 
- স্ক্যাপুলার পার্শ্বীয় প্রান্তের বর্ধিত অংশকে অ্যাক্রোমিয়ন বলে। 
- বাহুর পেশিকে সংযোগ দেয়া ও হিউমেরাসকে সঞ্চালন করা বক্ষ অস্থিচক্রের প্রধান কাজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৮.
সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. Bateson
  2. Mendel
  3. Karl Correns
  4. de Vries
ব্যাখ্যা

Genetics শব্দের উৎপত্তি:
- Genetics শব্দটি জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা বংশগতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে।
- এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী William Bateson।
- তিনি 1905 সালে প্রথম “Genetics” শব্দটি প্রবর্তন করেন।
- Genetics শব্দটি গ্রিক শব্দ “Genesis” থেকে এসেছে, যার অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম।
- Bateson মূলত Mendel-এর কাজকে ভিত্তি করে Genetics শাস্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- যদিও Gregor Mendel বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন, তিনি “Genetics” শব্দটি ব্যবহার করেননি।
- Karl Correns এবং de Vries Mendel-এর কাজ পুনরাবিষ্কার করেন, কিন্তু শব্দটির প্রবর্তক নন।

সুতরাং, সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন William Bateson.
সঠিক উত্তর: ক) Bateson.

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

১৪৯.
শর্করা কোন উপাদানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়? 
  1. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  2. কার্বন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫০.
ফিতা কৃমি কি ধরনের প্রাণী?
  1. ক) মৃতজীবী
  2. খ) আংশিক পরজীবী
  3. গ) বহিঃজীবী
  4. ঘ) অন্তঃপরজীবী
ব্যাখ্যা
পরজীবী এক ধরনের জীব যা মানুষ সহ অন্যান্য পশুপাখির দেহে বসবাস করে। পরজীবী দুই ধরনের। বহিঃপরজীবী এবং অন্তঃপরজীবী।
দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বা অন্তঃপরজীবীর উদাহরণঃ ফিতাকৃমি (Tapeworms), সুতাকৃমি (Threadworm), গোলকৃমি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৫১.
চা-পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) E
  2. খ) K
  3. গ) B Complox
  4. ঘ) A
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫২.
ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী মশার গণ হলো-
  1. ক) Aedes
  2. খ) Mansonia
  3. গ) Culex
  4. ঘ) Anopheles
ব্যাখ্যা
Malaria is a life-threatening disease caused by parasites that are transmitted to people through the bites of infected female Anopheles mosquitoes. It is preventable and curable. সূত্রঃ World Health Organization.
১৫৩.
'প্লেগ' সৃষ্টিকারী অনুজীব কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
• প্লেগ (Plague) :
- এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা Yersinia pestis নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
- এটি প্রধানত ইঁদুরের মত প্রাণীর দেহে থাকা ফ্লি (প্যারাসাইট) মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে এটি মহামারির রূপ নিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছিল

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫৪.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ফুসফুস সর্বোচ্চ কত লিটার বায়ু ধারণ করতে পারে?
  1. ২ লিটার
  2. ৪ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
ব্যাখ্যা

• একজন পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ মানুষের ফুসফুসের মোট বায়ু ধারণ ক্ষমতা (Total Lung Capacity) গড়ে প্রায় ৬ লিটার। 
- তবে ব্যক্তিভেদে, বিশেষ করে উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ফুসফুস (Lungs): 
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে। 
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে। 
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
জীবদেহে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোথায় সঞ্চিত হয়?
  1. অগ্নাশয়
  2. পিত্ততলি
  3. প্লীহা
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
- জীবদেহে অতিরিক্ত গ্লুকোজ  সঞ্চিত হয় যকৃতে।
- যকৃত বক্ষপিঞ্জরে মধ্যচ্ছেদের নিচের অংশে অবস্থিত। 
- যকৃৎ দেহের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। 
- এটি ২টি খণ্ডে বিভক্ত: ডান এবং বাম।
- প্রাণীদেহে বিপাকে ও অন্যান্য কিছু শারীরবৃত্তীয় কাজে যকৃত প্রধান ভূমিকা পালন করে। 
- ক্ষুদ্রান্ত থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে।
- রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে।
- যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা গুলো হল: 
১. গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়
২. রক্ত সঞ্চয়
৩. ভিটামিন সঞ্চয়
৪. খনিজদ্রব্য সঞ্চয়
৫. পিত্তরস সঞ্চয়
৬. লিপিড ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেনের উৎস -
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. বায়ু
  3. মিথেন
  4. পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের উৎসঃ
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে উৎপন্ন অক্সিজেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পানি থেকে আসে, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে নয়।
অক্সিজেনের রেডিও আইসোটোপ (18O2) ব্যবহার করে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

জল এ কার্বন ডাই অক্সাইড যখন পাতার মধ্যে আসে তখন ক্লোরোপ্লাস্ট ( সবুজ প্লাসটিড) সূর্যালোকের সাহায্যে গ্লুকোজ বানায়।
অক্সিজেন পাতা থেকে হাওয়ায় বেরিয়ে যায় ।

নিচে equation দেয়া হল :-

6CO2 + 12H2O —→ C6H12O6 + 6O2 + 6H2O

সুত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৭.
মানুষের চামড়ার রং নিয়ন্ত্রন করে -
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) ক্রোমোজোম
  4. ঘ) ক্যারোটিন
ব্যাখ্যা
» জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন। এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে। সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

• মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।

উৎস:
জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।


[বি. দ্র. - এই প্রশ্নের উত্তর অপশনের উপর নির্ভর করে। অপশন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জিন, ক্রোমোজোম, DNA এই ৩টার মধ্যে সর্বোত্তম উত্তর হবে জিন। তারপরে ক্রোমোজোম। তবে, অপশনে শুধু DNA থাকলে উত্তর DNA দেয়া যেতে পারে।
এখানে, অপশনে অনুসারে উত্তর জিন ধরা হয়েছে।]
১৫৮.
উদ্ভিদ কোষে সাধারণত কত ধরনের প্লাস্টিড থাকে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড। 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। 
- প্লাস্টিডের উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- প্লাস্টিডের কাজ হলো- খাদ্য প্রস্তুত করে, খাদ্য সঞ্চয় করে, পরাগায়নে সাহায্য করে এবং ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। 
যথা- ক্রোমোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 
১। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। 
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 

২। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে, এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়। 
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। 
যেমন- হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হয়, তবে বড় বড় উদ্ভিদে সাধারণত লেন্স আকৃতির হয়। 
- এটি প্রধানত সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। 
- মাটির নিচের অংশ, তথা রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। 
- এটি খাদ্য সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
হৃদপিন্ডকে রক্ত সরবারহ করে-
  1. ক) ইনমিনেট ধমনি
  2. খ) করোনারি ধমনি
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) পালমোনারি ধমনি
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি: 
- হৃদপিন্ডের নিজের জন্যও পুষ্টি এবং অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- এ চাহিদা পূরণ করা হয় করোনারি সংবহনের মাধ্যমে।
- সিস্টেমিক ধমনির গোড়া থেকে সৃষ্ট করোনারি ধমনির মাধ্যমে হৃদপিন্ডের প্রাচীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সংবাহিত হয়।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত করোনারি শিরার মাধ্যমে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। 

ইনমিনেট ধমনি:
- এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি।
- এটি অভিন্ন কারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমোনারি ধমনি:
- দেহ থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমোনারি শিরা: 
- ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবারহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১৬০.
HIV কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটোরিয়া
  3. রোগের নাম
  4. ফসলের জাত
ব্যাখ্যা
• HIV:
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• এইডস রোগ:
- ‘AIDS’ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)।
- এটি একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬২.
কোন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে? 
  1. দেহকোষে
  2. প্রাককেন্দ্রিক কোষে
  3. জননকোষে
  4. আদিকোষে
ব্যাখ্যা
জীবকোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- কোনো কোনো বিজ্ঞানী জীবকোষকে জীবদেহের গঠন ও জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 
- লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
(a) আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): 
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না, এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। 
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়। 

(b) প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
১। দেহকোষ (Somatic cell): 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

২। জননকোষ (Gametic cell): 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৩.
কোন হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে? 
  1. অক্সিন 
  2. সাইটোকাইনিন
  3. জিবেরেলিন 
  4. ফ্লোরিজেন 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 

- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৪.
একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৫ - ৬ সেন্টিমিটার
  2. ১০ - ১২ সেন্টিমিটার
  3. ৩ - ৪ সেন্টিমিটার
  4. ১৫ - ১৭ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০ - ১২ সেন্টিমিটার।

• বৃক্কের গঠন ও কাজ:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত।
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম বলে।
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৬৫.
তামাকে সর্বাপেক্ষা বিষাক্ত বস্তুর নাম কি?
  1. সায়ানইড
  2. নিকোটিন
  3. আয়োডিন
  4. কার্বাইড
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া। 
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে। 
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে। 
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। 
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড। 

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। 
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
কোন কোন কোষে মাইটোসিস বিভাজন ঘটে না? 
(i) প্রাণীর স্নায়ুটিস্যুর স্নায়ুকোষে
(ii) স্তন্যপায়ী প্রাণীর লোহিত রক্তকণিকা
(iii) উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যু

নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) i ও ii
  2. খ) i ও iii
  3. গ) ii ও iii
  4. ঘ) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস সংঘটিত হওয়ার স্থান:
- প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত (উন্নত জীব কোষ) দেহকোষ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। 
- উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশ যথা কান্ড ও মূলের অগ্রভাগ, ভ্রুণ মুকুল, ভ্রুণ মূল পুষ্পমুকুল, অগ্রমুকুল, বর্ধনশীল পত্র ইত্যাদির ভাজক টিস্যুর কোষ এ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। 
- প্রাণির স্নায়ুকোষ ছাড়া সকল দেহকোষও এ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Evolution 
  2. Entomology
  3. Ethology
  4. Mycology
ব্যাখ্যা

• বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 
- Evolution বা বিবর্তনবিদ্যা জীববিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যেখানে সময়ের সাথে জীবের বংশগতিমূলক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজাতির উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। চার্লস ডারউইন এই ধারার প্রধান প্রবক্তা।
 
অন্যদিকে, 
- পতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Entomology।
- প্রাণীর আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Ethology।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৬৮.
Which of the following is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Femur
  4. Ulna
  5. Fibula
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার। একে Thigh Bone বলা হয়।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

• এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

উল্লেখ্য:
- Stapes: এটি কানের ভেতরে অবস্থিত মানবদেহের ক্ষুদ্রতম অস্থি (হাড়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

১৬৯.
Panthera Leo কিসের নাম?
  1. ক) বাঘ
  2. খ) ভাল্লুক
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) সিংহ
ব্যাখ্যা
সিংহের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera Leo.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১৭০.
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে কোন রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে?
  1. ক) এইডস
  2. খ) এইডিস মশা দ্বারা আক্রান্ত জ্বর
  3. গ) স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ
  4. ঘ) ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগ
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
BMI কি নির্দেশ করে?
  1. ক) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির সূচক নির্দেশ করে
  2. খ) পেশী ও চর্বির সূচক নির্দেম করে
  3. গ) উচ্চতা ও স্থুলতার সূচক নির্দেশ করে
  4. ঘ) শক্তির খরচের সূচক নির্দেশ করে
ব্যাখ্যা
বিএমআই (BMI)
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী।

বিএমআই (BMI) মান নির্ণয় :
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)

মান নির্দেশিকা
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার।
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. ব্রায়াম
  2. টেরিস
  3. নারিকেল
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৭৩.
কচুর ফুলের পরাগায়ন ঘটে-
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পানির সাহায্যে
  3. গ) পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
  4. ঘ) প্রাণীর সাহায্যে
ব্যাখ্যা
প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। পতঙ্গ পরাগী ফুল জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল ধান, গম, ইক্ষু ইত্যাদি। পানি পরাগী ফুল পাতা শেওলা। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৭৪.
BMI কী নির্দেশ করে?
  1. মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
  2. পেশি ও চর্বির সূচক
  3. উচ্চতা ও স্থূলতার সূচক
  4. শক্তি খরচের সূচক
ব্যাখ্যা
বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী।

বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়:
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)

মান নির্দেশিকা
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার।
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি? 
  1. মেলানিন
  2. থাইরোসিন
  3. ইনসুলিন
  4. এড্রিনালিন
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৬.
ভিটামিন A-এর অভাবে কোন রোগ হতে পারে? 
  1. স্কার্ভি 
  2. রিকেটস 
  3. জেরোফথ্যালমিয়া 
  4. অ্যানিমিয়া 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন A: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে। 

ভিটামিন A-এর কাজ: 
- ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলো হলো- 
১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার: 
- ভিটামিন A-এর অভাবে জেরোফথ্যালমিয়া রোগ হয়। 
- শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এই রোগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 
- অতিরিক্ত ভিটামিন A গ্রহণ করলেও তা ক্ষতিকারক হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৭.
“গাছের প্রাণ আছে”- কে প্রমাণ করেন?
  1. চার্লস ডারউইন
  2. জগদীশ চন্দ্র বসু
  3. আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
জগদীশ চন্দ্র বসুর উল্লেখযেযাগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন, এবং ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা।
উদ্ভিদের জীবনচক্র তিনি প্রমাণ করেছিলেন।
তিনি গাছেরও যে প্রাণ আছে এটা আবিষ্কার করেন।
বেতার যন্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসাবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
যদিও বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন মার্কনি, কারণ জগদীশ বসু এটার আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট করেননি।
উৎসঃ বিবিসি।
১৭৮.
Normal FHR (Fetal heart rate) কত?
  1. ১০০-১৫০ beats/minute
  2. ১৬০-১৮০ beats/minute
  3. ১২০-১৬০ beats/minute
  4. ১২০-১৪০ beats/minute
ব্যাখ্যা
ভ্রূণ (Fetus) এর হার্টবিট কে fetal heart beat বলে। 
Fetal heart beat গর্ভের শিশুর শারীরিক অবস্থা প্রকাশ করে।

Normal ranges for FHR are 120 to 160 bpm. Many international guidelines define ranges of 110 to 160 bpm which seem to be safe in daily practice. 
১৭৯.
মানুষের মুখবিবরে কত জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে?
  1. এক 
  2. দুই 
  3. তিন 
  4. চার 
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত, এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
মানবদেহের মস্তিষ্কের কোন গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত হরমোন উৎপন্ন হয়?
  1. থাইমাস
  2. থাইরয়েড
  3. পিটুইটারি
  4. এড্রেনাল
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মানবদেহের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এই হরমোন উৎপন্ন হয়। 
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
অমরা (Placenta) কোন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. রেচন
  2. প্রজনন
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. খাদ্য হজম
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 

- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮২.
সাবক্লেভিয়াল ধমনির কোন শাখা মেরুদণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে? 
  1. মেসেন্টেরিক ধমনি 
  2. সিলিয়াক ধমনি 
  3. ভার্টিব্রাল ধমনি 
  4. ইলিয়াক ধমনি 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।  
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩.
কোন অবস্থার কারণে জন্ডিস হয়?
  1. দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি 
  2. রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া
  4. রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা
ব্যাখ্যা

জন্ডিস হলো একটি শারীরিক অবস্থা, যা রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রার কারণে হয়।
-  বিলিরুবিন হলো লাল রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার পর উৎপন্ন একটি হলুদ বর্জ্য পদার্থ।
- সাধারণত, যকৃত (liver) এই বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- যখন যকৃত সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না বা বিলিরুবিন অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি হয়, তখন এটি রক্তে জমা হতে থাকে, যার ফলস্বরূপ ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়।

বিলিরুবিন:
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে।
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্তকণিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিন হলো যকৃতে তৈরি হওয়া পাচক তরল পদার্থ অর্থাৎ পিত্তরস বা বাইলের (bile) একটি উপাদান, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে।
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য-
- রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে লিউকোপেনিয়া বলা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু জন্ডিসের কারণ নয়।
-  রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা। এটি একটি বিপাকীয় সমস্যা, জন্ডিসের সাথে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
- দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি: এই অবস্থাকে পলিসাইথেমিয়া বলা হয়। এটি রক্তকে অতিরিক্ত ঘন করে তোলে এবং রক্ত জমাট বাঁধাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এর সাথেও জন্ডিসের কোনো সম্পর্ক নেই।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১৮৪.
বোরনের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি?
  1. উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়
  2. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  3. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  4. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হওয়া
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে। 
- প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়। 
- কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়। 
- তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. খনিজ লবণ
  2. ভিটামিন
  3. স্নেহ
  4. আমিষ
ব্যাখ্যা

আমিষ (Protein): 
- আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
- নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
- অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৬.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো-
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ভিটামিন-সি
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ভিটামিন-এ
ব্যাখ্যা
নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান (পৃষ্ঠা নং - ৯৪)



ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। সম্ভবত প্রচলিত উত্তর লৌহ। কিন্তু, লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। পাশপাশি সকল তথ্য দেয়া হল।
----------
লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎসঃ ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎসঃ ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
১৮৭.
নিচের কোনটি RNA-এর নাইট্রোজেন বেস?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) ইউরাসিল
  3. গ) পিরিডক্সিন
  4. ঘ) অ্যাসপারজিন
ব্যাখ্যা
- জীবের রাসায়নিক গঠনের উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল।
- থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি   
১৮৮.
নিচের কোনটি সঠিক খাদ্য শৃঙখল?
  1. ঘাস ফড়িং → ঘাস → সাপ → ব্যাঙ
  2. ব্যাঙ → ঘাস ফড়িং → ঘাস → সাপ
  3. সাপ → ঘাস ফড়িং → ঘাস → ব্যাঙ
  4. ঘাস → ঘাস ফড়িং → ব্যাঙ → সাপ
ব্যাখ্যা
সকল প্রাণীই শক্তির জন্য প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
উদ্ভিদ সূর্যের আলাে ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। পােকামাকড় উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার ব্যাঙ পোকামাকড়কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। একইভাবে সাপ ব্যাঙ খায় এবং ঈগল সাপ খায়। এভাবেই শক্তি উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে প্রবাহিত হয়। বাস্তুসংস্থানে উলি থেকে।
প্রাণীতে শক্তিপ্রবাহের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াই হলাে খাদ্যশৃঙ্খল। সবুজ উদ্ভিদ থেকেই প্রতিটি খাদ্য শৃঙ্খলের শুরু।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
১৮৯.
'কমা' আকৃতির ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Spirillum
  2. Bacillus
  3. Vibrio
  4. Sarcina
ব্যাখ্যা
• ভাইব্রিও (Vibrio) বা কমা (Comma):
- সামান্য বাঁকা বা কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা বলে।
- উদাহরণ:` Vibrio cholerae

অন্যদিকে,
- ব্যাসিলাস (Bacillus) বহুবচনে ব্যাসিলি pl. Bacilli]:
- বেলুনাকার বা দন্ডাকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস বলে।

- স্পাইরিলাম (Spirillum) বহুবচনে স্পাইরিলা, pl. spirillal:
- সর্পিলাকারে কুন্ডলিত বা প্যাঁচানো আকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম বলে।

- সারসিনা (Sarcina) :
- এক্ষেত্রে গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া একত্রে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে।
উদাহরণ: Sarcina aurantiaca.

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১৯০.
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক কোনটি? 
  1. অ্যালভিওলাস
  2. ট্র্যাকিয়া
  3. ব্রঙ্কিওল
  4. ব্রঙ্কাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Bacillus dysenteriae
  3. Clostridium tetani
  4. Vibrio cholerae
ব্যাখ্যা
• টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে Salmonella typhosa.

• কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা: 
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteriae.
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.

উৎস:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৯২.
কোন পর্বের প্রাণীদেহে শিখাকোষ পাওয়া যায়?
  1. Porifera
  2. Platyhelminthes
  3. Nematoda
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন।
- এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। 
- এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। 
- সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। 
- ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। 
- এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৯৩.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
বর্ণহীন প্লাস্টিডের কাজ কী?
  1. ক) খাদ্য সঞ্চয় করা
  2. খ) খাদ্য পরিবহন করা
  3. গ) খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিডগুলোকে বর্ণাধারও বলা হয়।
- সাধারণত প্রাণী কোষে প্লাস্টিড থাকে না।
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায় তার সবই এই প্লাস্টিডের কারণে।
- সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
- অন্যান্য রঙের প্লাস্টিডগুলো উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গকে রঙিন করে আকর্ষণীয় করে তোলে।
- বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৯৫.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. Netum
  2. Cycus
  3. Pteris
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা জীবন্ত ফসিল বলা হয়। 
যেমন- সাইকাস (Cycus)। 

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত, ফলে এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। 
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৬.
Which vitamin deficit is the cause of scurvy?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড: 
- ভিটামিন সি টক স্বাদ বিশিষ্ট। 
- টাটকা শাকসবজি ও ফলে ভিটামিন সি থাকে। 
- আমলকি, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, কাঁচা, মরিচ, লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, টমেটো, আনারস, কামরাঙা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 
- শুকনা ফল ও টিনজাত খাদ্যে ভিটামিন সি থাকে না। 

কাজ: 
১। দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
২। ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। 
৩। ক্ষতস্থান দ্রুত পুনর্গঠন করে। 
৪। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫। আমিষ ও স্নেহ পদার্থ বিপাকে সাহায্য করে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন সি -এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, ত্বকে ঘা হয়, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। 
- দাঁত দুর্বল হয়ে অকালে ঝরে পড়ে। 
- অস্থির গঠন মজবুত হয় না। 
- রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায় ও সহজে ঠান্ডা লাগে। 
- এছাড়া চুল পড়ে ও অরুচি হয়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন 'এ' এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'কে' এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। 
- ভিটামিন 'ই' এর অভাব থেকে পেশির দুর্বলতা, অসাড়-ভাব বা চলাফেরায় সমস্যা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৭.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ায় অযৌন জনন ঘটে? 
  1. খণ্ডায়নের মাধ্যমে
  2. দেহ অঙ্গের মাধ্যমে
  3. স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে
  4. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। যথা - 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
যকৃত কৃমি কোন ধরনের প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে? 
  1. অরীয় প্রতিসাম্য 
  2. অপ্রতিসাম্য 
  3. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য 
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য 
ব্যাখ্যা

প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

গ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

ঘ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঙ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৯.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'অ্যামিবা' কী ধরনের প্রাণী?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. অপ্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য: 

প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus).
খ. অরীয় প্রতিসাম্য- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus).
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa).
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica).
ঙ. অপ্রতিসাম্য- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus).



উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০০.
ফলগাছ চাষাবাদ বিদ্যাকে কি বলা হয়ে থাকে ?
  1. ক) পমোলজি
  2. খ) ফাইকোলজি
  3. গ) মাইকোলজি
  4. ঘ) পেট্রলজি
ব্যাখ্যা
ফলগাছ চাষাবাদ বিদ্যাকে বলা হয়ে থাকে  - পমোলজি। অন্য়দিকে –

শৈবাল সংক্রান্ত বিদ্যা  - ফাইকোলজি
ছত্রাক সংক্রান্ত বিদ্যা- মাইকোলজি
শিলাতত্ত্ব বিদ্যা - পেট্রলজি

SOURCE: জীব বিজ্ঞান ,এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।