বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৯ / ৪২ · ১,৮০১১,৯০০ / ৪,২০৮

১,৮০১.
সীভনল ও সঙ্গীকোষের সমন্বয়ে কোন টিস্যু গঠিত?
  1. ক) জাইলেম টিস্যু
  2. খ) ফ্লোয়েম টিস্যু
  3. গ) তরুক্ষীর টিস্যু
  4. ঘ) গ্রন্থি টিস্যু
ব্যাখ্যা
• সীভনল ও সঙ্গীকোষের সমন্বয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত।
- ফ্লোয়েম টিস্যু মেটাজাইলেম টিস্যুর দুটি বাহুর মাঝখানে অবস্থিত। 
- এতে কোন ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে না।
- ফ্লোয়েমের কাজ পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮০২.
এন্টিবডি তৈরি করে নিচের কোনটি?
  1. Red blood corpuscle
  2. Thrombocyte
  3. B Lymphocyte
  4. Monocyte
ব্যাখ্যা
◉ B Lymphocyte এন্টিবডি তৈরি করে।

শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে।
- শ্বেত রক্ত কণিকায় DNA থাকে।

গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের।
যথা-লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফলোড, টনসিল, প্লীহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা।
- মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় কণিকা।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে, B-লিম্ফোসাইট (B-Lymphocyte) কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবন-দশম শ্রেণি।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৩.
প্রাণীদেহে শুষ্ক ওজনের কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. প্রায় ৭০ ভাগ
  2. প্রায় ৬০ ভাগ
  3. প্রায় ৫০ ভাগ
  4. প্রায় ৪০ ভাগ
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার: 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 

- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৪.
টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত কোন সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়?
  1. জেনেটিক রোগ
  2. বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
  3. সংক্রামক রোগ
  4. হরমোনজনিত রোগ
ব্যাখ্যা

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবি:
- টেস্টটিউব বেবি হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে দেহের বাইরে কৃত্রিমভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়।
- পরবর্তীতে সেই ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং স্বাভাবিকভাবে ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটে।
- এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকেই টেস্টটিউব বেবি বলা হয়।

• ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF):
- টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।
- এখানে “ইন ভিট্রো” বলতে দেহের বাইরে বিশেষ পাত্রে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে বোঝায়।

• টেস্টটিউব বেবির প্রয়োজনীয়তা:
- অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক উপায়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন সম্ভব হয় না।
- ফ্যালোপিয়ান নালির সমস্যা, শুক্রাণুর স্বল্পতা বা অন্যান্য জটিলতার কারণে সন্তান ধারণে ব্যর্থতা দেখা দেয়।
- এসব ক্ষেত্রে টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি সন্তান লাভের একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবির ধাপসমূহ:
- দেহ থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়।
- বিশেষ কালচার মিডিয়ামে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
- উৎপন্ন ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
- এরপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভ্রূণের বৃদ্ধি ও শিশুর জন্ম ঘটে।

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তির গুরুত্ব:
- বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় আক্রান্ত দম্পতিদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে আধুনিক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ।
- পরিবার গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- জেনেটিক রোগ → জেনেটিক রোগ প্রতিরোধে PGT (Preimplantation Genetic Testing) করা যায় IVF-এর সময়, কিন্তু IVF-এর প্রধান উদ্দেশ্য নয়। এটি অতিরিক্ত সুবিধা।
- সংক্রামক রোগ → IVF-এর সাথে সংক্রামক রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
- হরমোনজনিত রোগ → হরমোনজনিত সমস্যা (যেমন PCOS) বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে, কিন্তু IVF-এর প্রধান লক্ষ্য হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা নয়, বরং বন্ধ্যাত্বের সমাধান।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৮০৫.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. স্ট্রোক 
  2. অস্টিওপোরোসিস 
  3. ডায়াবেটিস
  4. অস্টিওআর্থ্রাইটিস
ব্যাখ্যা

• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাকে স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহ ঠিকমত হয় না। রক্ত চলাচল বন্ধ হলে সেই অংশের মস্তিষ্ক কোষগুলি অক্সিজেন ও পুষ্টি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্ট্রোকের প্রধান কারণ হতে পারে মস্তিষ্কের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধা বা কোনো ধমনীর ফেটে যাওয়া। এর ফলে হঠাৎ মাথা ব্যথা, পায়ে বা হাতে দুর্বলতা, কথা বলতে বা বোঝাতে সমস্যা, দৃষ্টি ঝাপসা বা মুখের অঙ্গচলনে অসাম্য দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই স্ট্রোককে দ্রুত সনাক্ত এবং চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ট্রোক।

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮০৬.
পরিপাকনালীর দীর্ঘতম অংশটির নাম কী?
  1. ক) গলবিল
  2. খ) পাকস্থলী
  3. গ) ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. ঘ) বৃহদান্ত্র
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র পরিপাকনালীর সবচেয়ে দীর্ঘতম অংশ এবং তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম। 

ডিওডেনাম- 
এটি পাকস্থলী সংলগ্ন অংশ এবং 'U' আকৃতি বিশিষ্ট। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। এই অংশে সাধারণ পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয় নালি উন্মুক্ত থাকে।

জেজুনাম- 
এটি ডিওডিনামের পরবর্তী নলাকার অংশ। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২-৩ মিটার হয়।

ইলিয়াম- 
এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশে, যা বৃহদন্ত্রের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায়ৎ৩-৪ মিটার হয়। ইলিয়াম যেখানে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে ঐস্থানে ইলিওসিকাল ভালব বলে।

ক্ষুদ্রান্ত্রের কাজ সমূহ- 
১. শোষণঃ  জল, ভিটামিন, খনিজলবন এবং পচিত সরল খাদ্য সমূহ এখানে শোষিত হয়। শর্করা ও প্রোটিনের সরল অংশ রক্তবাহে এবং ফ্যাটের সরল অংশ লসিকাবাহে প্রবেশ করে।
২. খাদ্যবস্তু গ্রহণঃ পাকস্থলী থেকে অর্ধপাচ্য খাদ্য পাকমন্ডকে গ্রহন করে।
৩. আন্ত্রিকরস ক্ষরণঃ ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে আন্ত্রিকরস ক্ষরিত হয়। আন্ত্রিকরস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়।
৪. পরিপাকঃ ক্ষুদ্রান্তে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট পাচিত হয়। এখানে আন্ত্রিক রসে অবস্থিত উৎসেচক অ্যামাইলোজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ, সুক্রেজ, ইরিপসিন, লাইপেজ থাকে।

সূত্র- ৫১ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৮০৭.
বিষাক্ত ছত্রাকে কোন পদার্থটি পাওয়া যায়?
  1. হায়ালুরোনিক এসিড
  2. হিপনোটক্সিন
  3. অ্যামাটক্সিন
  4. অ্যামোক্সিসিলিন
ব্যাখ্যা
• বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়। 

• ছত্রাক:
- ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে।

• কিছু ছত্রাক বিষাক্ত এবং কিছু ছত্রাক এত বিষাক্ত যে এরা মানুষ কিংবা প্রাণীর তাৎক্ষণিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- এসব বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন (amatoxins) নামক পদার্থ থাকে।

• অ্যামাটক্সিন:
- অ্যামাটক্সিন হলো একটি মারাত্মক বিষাক্ত যৌগ যা Amanita phalloides (ডেথ ক্যাপ মাশরুম) এবং কিছু অন্যান্য বিষাক্ত ছত্রাকে পাওয়া যায়।
- এটি RNA পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দিয়ে কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে যকৃত ও কিডনি বিকল হতে পারে।

• ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:
- ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ, সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- এরা মৃতজীবী (saprophytic), পরজীবী (parasitic) বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে।
- এরা সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু বিদ্যমান।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য প্রধানত গ্লাইকোজেন (glycogen), তৈলবিন্দু, কখনো কখনো কিছু পরিমাণ ভলিউটিন ও চবি থাকতে পারে।
- ছত্রাকদেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই।
- এদের জননাঙ্গ এককোষী (unicellular). 
- স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
- হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৮০৮.
সবাত শ্বসনে এক অনু গ্লুকোজ থেকে কত অনু  ATP পাওয়া যায়?
  1. ১২ অনু
  2. ২৪ অনু
  3. ৩৬ অনু
  4. ৩৮ অনু
ব্যাখ্যা
• সবাত শ্বসন:
- যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂, H₂O এবং জৈবনিক শক্তি ও তাপশক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে।
যদি গ্লুকোজ শ্বসনিক বস্তু হয় তাহলে সবাত শ্বসনের রাসায়নিক সংকেত নিম্নরুপ-
C6H12O6+6O2+6H₂O → 6CO₂+12H2O+38ATP+তাপ শক্তি

(C6H12O6+6O2+6H2O+38ADP+38iP → 6CO2+12H2O+38ATP+ তাপশক্তি)

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৯.
ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয় কোনটি?
  1. নিউমোনিয়া
  2. ধনুষ্টংকার
  3. মাম্পস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
এইডস, জন্ডিস, কোভিড-১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, নিপাহ, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা, জিকা জ্বর ইত্যাদি

সুতরাং, মাম্পস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১,৮১০.
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে -
  1. ইনসুলিন
  2. গ্লুকাগন
  3. সোমাটোট্যাস্টিন
  4. গ্যাস্ট্রিন
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
- ইহা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উল্লেখ্য,
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- বাংলাদেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ।
- তাই ইনসুলিনের চাহিদাও ব্যাপক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১১.
জাইগোট কী? 
  1. একটি কোষের বিভাজন 
  2. নতুন জীবের প্রথম কোষ 
  3. এক ধরনের দেহকোষ 
  4. একটি ব্যাকটেরিয়ার কোষ 
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ: 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ: 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ: 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১২.
কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো -
  1. ক) 1 : 2 : 1
  2. খ) 1 : 1 : 2
  3. গ) 2 : 1 : 1
  4. ঘ) 1 : 3 : 1
ব্যাখ্যা
• কার্বোহাইড্রেট এ C : H : O হলো 1 : 2 : 1.

• কার্বোহাইড্রেট:
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানির বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট।
- জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক ও সঞ্চয়ী উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট।
- আমাদের খাদ্য তালিকার প্রধান উপাদানও কার্বোহাইড্রেট।
- কার্বোহাইড্রেটকে হাইড্রেট্স অব কার্বন থেকে নামকরণ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো কার্বনের জলায়ন।
- কার্বোহাইড্রেটের প্রতি অণু কার্বনের সাথে দু 'অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন থাকে।
- কাজেই কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ যেখানে এদের অনুপাত ১:২:১।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৩.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রােগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) রুবিওলা ভাইরাস
  2. খ) অ্যাডেনাে ভাইরাস
  3. গ) ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. ঘ) টিএমভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রােগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনাে ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমােনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গাে- বসন্ত রােগের জন্য দায়ী। 
- টিএমভি ভাইরাস তামাকের 'মোজাইক' রােগের জন্য দায়ী। অ্যাডল্ফ মেয়ার (Adlof  Mayer) ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম তামাক গাছের মোজাইক রোগের কারণ বর্ণনা করেন।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান- ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৮১৪.
মানব শরীরের কোনটিকে রাজগ্রন্থি বলা হয়?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) প্যারাথাইরয়েড
  3. গ) পিটুইটারি
  4. ঘ) মেলানিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের মস্তিস্কের মধ্যভাগে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ডোপামিন, গ্রোথ হরমোন, অক্সিটোসিন, ভ্যাসোপ্রেসিন নামক হরমোন নিঃসরণ ঘটে যা মানবদেহের অনেক জরুরী কাজ যেমন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন, বৃক্কের কাজ নিয়ন্ত্রন, জরায়ুর সংকোচন ইত্যাদি করতে উদ্দীপনা জাগায় ।

তাই পিটুইটারি গ্রন্থিকে গ্রন্থিরাজ বলা হয় ।

উৎস: নবম শেণির জীববিজ্ঞান বই।
১,৮১৫.
রক্তে শ্বেতকণিকার কাজ কী? 
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা 
  2. জীবাণু ধ্বংস করা 
  3. রক্ত জমাট বাঁধা 
  4. খাদ্য সরবরাহ করা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়, রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় আর এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হয় আর এতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে যে রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৬.
প্রাণী কোন প্রক্রিয়ায় CO2 তৈরি করে?
  1. ক) শ্বসন
  2. খ) রেচন
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) অভিস্রবন
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্য স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলে। তাই মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো শ্বসন।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৭.
আমিষ গঠনের একক কোনটি?
  1. ফরমিক এসিড
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠন: 
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। 
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়। 
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। 
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি, শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড: 
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। 
- এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। 
- বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এ সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। 
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। 
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিড হলো- 
১। লাইসিন, 
২। লিউসিন, 
৩। আইসোলিউসিন, 
৪। মিথিওনিন, 
৫। ট্রিপটোফ্যান, 
৬। ভ্যালিন, 
৭। ফিনাইল অ্যালানিন এবং 
৮। থ্রিওনিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৮.
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ______ বলে।
  1. ক) বীজ
  2. খ) ফুল
  3. গ) পরাগায়ন
  4. ঘ) ফল
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ফুল বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৮১৯.
সমগ্র সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পর্যায় : এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।
ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান (১৯০৫) একে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেন।
যথা- (ক) আলোক নির্ভর পর্যায় এবং (খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২০.
উদ্ভিদ কোন মৌলিক উপাদান মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন। বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশিয়ে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। তাই উদ্ভিদ নাইট্রোজেনকে মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে।
১,৮২১.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. ক) মূলে
  2. খ) মজ্জায়
  3. গ) বীজে
  4. ঘ) পাতায়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২২.
ভুট্টায় কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) বায়ু পরাগায়ন
  2. খ) পতঙ্গ পরাগায়ন
  3. গ) প্রাণী পরাগায়ন
  4. ঘ) পানি পরাগায়ন
ব্যাখ্যা
ধান, ভুট্টা, গম, ইক্ষু ইত্যাদিতে বায়ু পরাগায়ন ঘটে।
সূত্রঃ ১১তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১,৮২৩.
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্রুকটোজ
  2. খ) গ্যালাকটোজ
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
দুধ একটি আদর্শ খাবার। এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে। এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে এবং দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
১,৮২৪.
কোন্‌ টিস্যু পেশীকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে? 
  1. তরুণাস্থি 
  2. লিগামেন্ট 
  3. টেন্ডন
  4. অ্যারিওলার টিস্যু
ব্যাখ্যা

- টেন্ডন হলো এক ধরনের শক্ত, তন্তুময় ও শ্বেত বর্ণের যোজক কলা, যা কঙ্কাল পেশীকে হাড়ের (অস্থি) সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত রাখে। এটি পেশীর সংকোচনজনিত শক্তি হাড়ে সঞ্চারিত করে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে 

টেন্ডন (Tendon): 

- মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে, এ শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। 
- ঘন শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেন্ডন গঠিত। এসব টিস্যু শাখা-প্রশাখাবিহীন, তরঙ্গিত এবং উজ্জ্বল শ্বেততন্তু দ্বারা গঠিত। 
- এরা গুচ্ছাকারে পরস্পর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই। 
- আঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁটিগুচ্ছ তৈরি করে। আঁটিগুচ্ছগুলো তন্তুময় টিস্যুগুচ্ছ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আঁটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে। 
- টেন্ডন বেশ শক্ত। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেন্ডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। 
- টেন্ডন দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তাদানে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী (Ligament): 
- পাতলা কাপড়ের ন্যায় কোমল অথচ দৃঢ়, স্থিতিস্থাপক বন্ধনী দ্বারা অস্থিসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, একে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।
- লিগামেন্ট শ্বেততন্তু ও পীততন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।
- লিগামেন্ট অস্থিকে আটকে রাখে। এতে অঙ্গটি সবদিকে সোজা বা বাঁকা হয়ে নড়াচড়া করতে পারে এবং হাড়গুলো স্থানচ্যুত ও বিচ্যুত হয় না। 

তরুণাস্থি: 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে। ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 

অ্যারিওলার টিস্যু: 
- অ্যারিওলার টিস্যু একটি শিথিল যোজক কলা যা প্রধানত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখতে এবং ত্বকের নিচে কুশনিং হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৫.
কোনটি রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) কোলেস্টেরল
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড
  3. গ) ফ্যাটি এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ। এটি রক্তে স্নেহ পদার্থের বাহক হিসেবে কাজ করে।
স্নেহ ও প্রোটিনের যৌগকে বলা হয় লাইপোপ্রোটিন। লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে স্নেহের উপস্থিতির মাত্রার ভিত্তিতে একে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
একটি হল উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন High Density Lipoprotein সংক্ষেপে HLD এবং নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন Low Density Lipoprotein বা LDL। রক্তে LDL বেশি থাকা শরীরের জন্যে ক্ষতিকর।
অন্যদিকে রক্তে HLD এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্যে উপকারি।

(সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি)
১,৮২৬.
উৎস অনুযায়ী আমিষ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
আমিষের উৎস: আমরা আগেই জেনেছি মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমরা আমিষ পাই।

উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের:
১. প্রাণিজ আমিষ;
২. উদ্ভিজ্জ আমিষ।

• প্রাণিজ আমিষ:
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় ।

• উদ্ভিজ্জ আমিষ:
ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৮২৭.
মানুষের রক্তকে কয়টি গ্রুপে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- O, A, B এবং AB।
রক্তের গ্রুপ: লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ বলে।
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
• O রক্তের গ্রুপ: O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই কিন্তু রক্ত রসে a ও b দুই ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে। O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে।
• AB রক্তের গ্রুপ: AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারন সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহন করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে।
• A রক্তের গ্রুপ: A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।
• B রক্তের গ্রুপ: B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৮.
কোন প্রাণির হৃৎপিণ্ড তিনটি?
  1. ক) ব্যাঙ
  2. খ) অক্টোপাস
  3. গ) তেলাপোকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ক্যাটল ফিস এবং অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।
• অন্যদিকে, ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।

তাছাড়া, 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।
- তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮২৯.
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম কী? 
  1. Homo sapiens 
  2. Apis indica 
  3. Periplaneta americana
  4. Copsychus saularis
ব্যাখ্যা

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
• আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

১,৮৩০.
শ্রম বিভাজন অনুসারে মৌমাছি কে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
মধু ও মোমের জন্য মৌমাছি সকলের নিকট খুবই প্রিয়। এছাড়াও এরা ফসলের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ফলন অনেক বাড়িয়ে দেয়। মধু ও মোম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে মৌমাছি পালন করার বিদ্যাকে মৌমাছি পালনবিদ্যা (Apiculture) বলা হয়। সাধারণতঃ প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌমাছি সংগ্রহ করে এনে মৌবাক্সে মৌচাকের উপযোগী কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন করাকে মৌমাছি চাষ বলা হয়। মৌমাছি একটি সামাজিক পোকা। এরা কলোনী তৈরি করে একসাথে বসবাস করে। এই পোকার মধ্যে শ্রমবিভাজন দেখা যায়।

শ্রমবিভাজন অনুসারে এই পোকাদের ৩টি শ্রেণি বা কাস্টে বিভক্ত করা হয়। যথা –
(১) রাণী মৌমাছি
(২) কৰ্মী বা শ্রমিক মৌমাছি
(৩) পুরুষ মৌমাছি।

উৎস: কৃষিবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৩১.
পাখির দ্বারা পুষ্পরেণু বহন করাকে কী বলে? 
  1. Ornithophily
  2. Anemophily
  3. Entomophily
  4. Hydrophily
ব্যাখ্যা
• অর্নিথোফিলি (Ornithophily):
- যখন কোনো উদ্ভিদের পরাগ (pollen) পাখির মাধ্যমে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই পরাগসংস্থান প্রক্রিয়াকে অর্নিথোফিলি বলে।
- এই ধরনের ফুলগুলো সাধারণত উজ্জ্বল রঙের ও মিষ্টি ঘ্রাণযুক্ত হয়, যাতে পাখিরা আকৃষ্ট হয়। যেমন: হিবিসকাস, বাবলা, কৃষ্ণচূড়া প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
- এনেমোফিলি (Anemophily): বাতাসের মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: ধান, গম।
- এন্টোমোফিলি (Entomophily): কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পরাগসংস্থান। যেমন: মৌমাছি, প্রজাপতি, পিপঁড়ে।
- হাইড্রোফিলি (Hydrophily):  পানির মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: জলজ উদ্ভিদ যেমন ভালিসনেড়িয়া।

উৎস: Collins Dictionary ও ব্রিটানিকা।
১,৮৩২.
In absorption of insolation, the most significant part is played by
  1. ক) Ozone
  2. খ) Carbon dioxide
  3. গ) Haze
  4. ঘ) Oxygen
ব্যাখ্যা
ওজোন এর ভূমিকা: 
- সূর্যের আলোর একটি বৃহৎ অংশ হলো UV রশ্মি যা মানবদেহে ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।
- স্ট্রেটোস্ফিয়ার অঞ্চলে অবস্থিত ওজোন সূর্যের এই UV রশ্মির প্রায় ৯৯% শোষণ করে ফেলে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠে UV রশ্মি কম আসে। জীবকূল রক্ষিত হয়।
- এভাবেই ওজোন স্তর UV রশ্মিকে শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে বাধা দেয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৮৩৩.
ক্রোমোজোম প্রথম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. রবার্ট হুক
  2. ওয়াল্ডেয়ার
  3. স্ট্রাসবার্গার
  4. গ্রেগর মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৪.
নিচের কোনটি মলাস্কা পর্বের প্রাণী?
  1. ক) তারা মাছ
  2. খ) জোক
  3. গ) ঝিনুক
  4. ঘ) কাঁকড়া
ব্যাখ্যা
মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত দেহ নরম।
- দেহটি শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত।
- পেশীবহুল পা দিয়ে চলাচল করে।
- ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
- যেমন: শামুক, ঝিনুক। 

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান। 
১,৮৩৫.
মানুষের ভ্রূণীয় স্তর কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৬.
কোষের লাইসোজোমের কাজ কোনটি?
  1. খাদ্য তৈরি
  2. জীবাণু ভক্ষণ
  3. শক্তি উৎপাদন
  4. আমিষ সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। 
- লাইসোজোম উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।
- এর পরিপাক করার উৎসেচকগুলো একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে, তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
- দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এর আশেপাশের অঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কোষটিই মারা যায়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৩৭.
Which acid is mainly present in tomatoes?
  1. Carbonic acid
  2. Tartaric acid 
  3. Folic acid
  4. Lactic acid
  5. Oxalic acid
ব্যাখ্যা

- টমেটোতে প্রধানত অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) উপস্থিত থাকে, যদিও টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক অ্যাসিড থাকে, তবে অক্সালিক অ্যাসিডকে সাধারণত প্রধান অ্যাসিড হিসেবে গণ্য করা হয়। 

জৈব এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড থাকে। 
- আপেল ও আনারসে ম্যালিক এসিড থাকে। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারের সকল সফট ড্রিংকসে যা থাকে তা প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

অন্যদিকে, 
- কার্বনিক এসিড হলো CO2 + H2O দ্রবণে তৈরি হওয়া অ্যাসিড যা মূলত সোডা বা carbonated drinks-এ থাকে। 
- ফলিক অ্যাসিড হলো একটি ভিটামিন B9, যা সবজি ও ফল-এ থাকে। 
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সাধারণত দুগ্ধজাত পণ্য বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে এটি প্রধান অ্যাসিড নয়। 
- টারটারিক অ্যাসিড মূলত আঙ্গুরে পাওয়া যায়, এটি টমেটোতে প্রধান অ্যাসিড নয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৩৮.
ত্বকের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে দেহকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে?
  1. মেলানিন
  2. লাইসোজাইম
  3. কেরাটিন
  4. হিস্টিওসাইট
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৯.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) গ্লাইকোজেন
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
ব্যাখ্যা
• যকৃত (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৪০.
উদ্ভিদের কোন উপাদানগুলোকে প্রাথমিক পুষ্টি উপাদান বলে?
  1. ক) N, P, K
  2. খ) C, H, O
  3. গ) Ca, Mo, S
  4. ঘ) As, Hg, Si
ব্যাখ্যা
(ক) মুখ্য পুষ্টি উপাদান (Macro or Major Nutrient Element)
যে সমস্ত মৌল উপাদান (খনিজ) উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাকে মুখ্য পুষ্টি উপাদান বলে। মুখ্য পুষ্টি উপাদান নয়টি। যথা : C, H, O, N, P, K, Ca, Mg, S। 
মুখ্য পুষ্টি উপাদান আবার দুই প্রকার। 
যথা— (১) অ-খনিজ উপাদান যেমন: C, H, O এবং (২) খনিজ উপাদান যেমন: N, P, K, Ca, Mg, S। 
 
মুখ্য পুষ্টি উপাদানকে নিম্নোক্ত দুভাগেও ভাগ করা হয় :
(i) প্রাথমিক উপাদান (Primary Element) : মুখ্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যে উপাদানগুলো বেশি পরিমাণে উদ্ভিদ দ্বারা গৃহিত হয় তাদেরকে প্রাথমিক উপাদান বলা হয়। যেমন: N, P এবং K এ তিনটিকে প্রাথমিক খনিজ পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। আবার যেহেতু এদেরকে সচরাচর সারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, তাই এদেরকে সার উপাদানও বলা হয়।
(ii) মাধ্যমিক উপাদান (Secondary element) : মুখ্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যে উপাদানগুলো উদ্ভিদ দ্বারা কম পরিমাণে গৃহিত হয় তাদেরকে মাধ্যমিক উপাদান বলা হয়। এইগুলো হলো Ca, Mg
পুষ্টিতত্ত্বের বিচারে এ শ্রেণিকরণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ফসল উৎপাদনের জন্য যেখানে প্রতি হেক্টর জমি হতে প্রতিটি মুখ্য উপাদান কয়েক কেজি হতে কয়েকশত কেজি পরিমাণ পরিশোষিত হয়, সেখানে প্রতিটি গৌন উপাদান মাত্র কয়েক গ্রাম হতে কয়েকশত গ্রাম পরিশোষিত হয়। সুতরাং সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপাদান সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।
 
উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৪১.
সবাত শ্বসনে ATP তৈরি হয় -
  1. ক) ২৮ অণু
  2. খ) ৩৮ অণু
  3. গ) ৪৮ অণু
  4. ঘ) ৫৮ অণু
ব্যাখ্যা
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়−
যথাঃ
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration); অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration); অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়।

* সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে সর্বমোট ছয় অণু কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ছয় অণু পানিএবং ৩৮ অনু ATP উৎপন্ন করে।

উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১,৮৪২.
নিউক্লিক এসিড গঠিত হয়-
  1. সুগার + ফসফেট দিয়ে
  2. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
  3. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
  4. প্রোটিন + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক এসিড:
- নিউক্লক এসিড গঠিত হয় মূলত শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক দিয়ে।
- নিউক্লক এসিড মূলত দুই প্রকার:

• DNA :
- DNA এর পুরো নাম Deoxyribo Nucleic Acid.
- এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট পেন্টোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন ও সাইটোসিন) থাকে।

• RNA :
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল ও সাইটোসিন) দ্বারা গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৪৩.
মানব দেহের কোন অংশে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. হার্টে
  2. গলায়
  3. ফুসফুসে
  4. নাকে
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া একটি মানবদেহের ফুসফুসের রোগ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

ফুসফুস রোগের কারণ: 
- নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

ফুসফুস রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তার্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয় ও মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

ফুসফুস রোগের প্রতিকার: 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। 
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। 
- বেশি করে পানি পান করা। 

ফুসফুস রোগের প্রতিরোধ: 
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। 
- ধূমপান পরিহার করা। 
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা। 
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪৪.
রাফেজ প্রধানত কী জাতীয় খাদ্য? 
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. চর্বি
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 

• শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তন্তুময় অংশ অর্থাৎ সেলুলোজই হচ্ছে রাফেজ। 
• এগুলো জটিল শর্করা।
• গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে। কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না।
• মানুষ রাফেজ হজম করতে পারে না বলে পরিপাকতন্ত্রে এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়।
• সব ধরনের সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল, ফলের খোসা, শস্যদানার বহিরাবরণ হচ্ছে রাফেজের ভালো উৎস।
• রাফেজ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের হয়।

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব: 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৪৫.
মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে কোন ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়?
  1. Zero dose
  2. Measles vaccine
  3. Tetanus toxoid
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা

• মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে টিটেনাস টক্সয়েড (Tetanus toxoid) ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়। এটি একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী ভ্যাকসিন যা গর্ভবতী মহিলাকে দেওয়া হলে নবজাতকেও টিটেনাস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ভ্যাকসিনটি মা-এর শরীরে প্রতিরক্ষা শক্তি তৈরি করে এবং শিশুর জন্মের সময় তার শরীরে সেই প্রতিরক্ষা স্থানান্তরিত হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ডোজে দেওয়া হয়। ফলে মা ও শিশু দুজনেই টিটেনাস রোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

- সঠিক উত্তর: গ) Tetanus toxoid.

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৬.
ল্যাকটিক এসিড নিচের কোনটিতে পাওয়া যায়?
  1. দই
  2. পালংশাক
  3. লেবু
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা

দই তৈরির প্রক্রিয়ায় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিড এ রূপান্তরিত করে।
- এই ল্যাকটিক এসিডই দইয়ের টক স্বাদ এবং ঘন গঠনের জন্য দায়ী।

ল্যাকটিক এসিড:
- ল্যাকটিক এসিড হলো এক ধরনের জৈব যৌগ, যা একটি কার্বোক্সিলিক এসিড। এর রাসায়নিক সূত্র হলো C3H6O3
- এটি সাধারণত দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) এবং অন্যান্য শর্করা থেকে গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- এটি দই ও অন্যান্য গাঁজনকৃত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এটি খাদ্যকে জমাট বাঁধাতে এবং স্বাদ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- তীব্র শারীরিক কাজের সময় (যেমন: ব্যায়াম), শরীরে অক্সিজেন সীমিত হলে গ্লুকোজ ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি দেয়।
- ল্যাকটিক এসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

উল্লেখ্য-
- পালংশাক→ অক্সালিক এসিড।
- লেবু → সাইট্রিক এসিড।
- ভিনেগার → অ্যাসেটিক এসিড।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৮৪৭.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Spirogyra
  2. Pteris
  3. Chara
  4. Agaricus
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
• Psilotum, 
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৮.
পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত পদার্থ হল-
  1. বেনেডিক্ট দ্রবণ
  2. ম্যাগনেসিয়াম দ্রবণ
  3. অ্যালকোহল
  4. ফেহলিং দ্রবণ
ব্যাখ্যা

◉ পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য পাতার সবুজ রঙ (ক্লোরোফিল) অপসারণ করতে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: একদিন অন্ধকারে রাখা টবে লাগানো সবুজ পাতাবিশিষ্ট একটি গাছ, কালো কাগজ, ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল, ১% আয়োডিন দ্রবণ, ক্লিপ প্রভৃতি।
আলো

কাজের ধারা: অন্ধকারে রাখা সবুজ পাতাবিশিষ্ট গাছটির একটি পাতার উভয় পাশের মাঝামাঝি অংশে কালো কাগজ দ্বারা আবৃত করুন। একটি ক্লিপ দ্বারা এমনভাবে আটকে দিন যাতে ঐ অংশে সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারে। এরপর গাছসহ টবটিকে সূর্যালোকে রেখে দিন। একঘণ্টা পর পাতাটিকে গাছ থেকে ছিড়ে ফেলুন। একে ক্লোরোফিল মুক্ত করার জন্য ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহলে সিদ্ধ করুন। এবার সিদ্ধ করা বর্ণহীন পাতাটিকে আয়োডিন দ্রবণে ডুবিয়ে রাখুন।

পর্যবেক্ষণ: আয়োডিন দ্রবণ থেকে পাতাটিকে তুলে ফেললে দেখা যাবে যে, কালো কাগজ দিয়ে আবৃত অংশ ছাড়া পাতার বাকি সবটুকু অংশই নীল (গাঢ় বেগুনি বা কালো) বর্ণ ধারণ করেছে। ক্লোরোফিল অপসারণের পর আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করা হয় → যাতে শ্বেতসার (Starch) আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

• অ্যালকোহল মূলত ক্লোরোফিল অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাতে অন্যান্য পরীক্ষাগুলো সহজে করা যায়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) বেনেডিক্ট দ্রবণ - এটি গ্লুকোজ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
ঘ) ফেহলিং দ্রবণ - এটি শর্করা (Reducing Sugar) শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৪৯.
পর-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়
  2. পরাগরেণুর অপচয় কম হয়
  3. বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়,
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়,
বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।

দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়।
তবে এটি বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫০.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে বলা হয়-
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) স্পাইনাল কর্ড
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,৮৫১.
নিচের কোনটি জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয়?
  1. ভ্যাসেকটমি
  2. IVF
  3. Tubectomy
  4. লাইগেশন
ব্যাখ্যা
• IVF জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয় বরং এটি কৃত্তিম গর্ভধারণের পদ্ধতি। 

• Birth control:
- জন্মনিরোধক (Birth control) হলো এমন পদ্ধতি যা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করে। 

• জন্মনিরোধের জন্য দুইটি পদ্ধতি রয়েছে।
যথা-
- অস্থায়ী পদ্ধতি।
- স্থায়ী পদ্ধতি। 

• অস্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের অস্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- কনডম, বড়ি, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি।

• স্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- ভ্যাসেকটমি , লাইগেশন, টিউবেকটমি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• IVF বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন হলো কৃত্তিম গর্ভধারণ পদ্ধতি।
- এটি একটি প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে দেহের বাইরে পরীক্ষাগারে (in vitro) নিষিক্ত করা হয় এবং এরপর নিষিক্ত ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৮৫২.
‘শিমের বিচি’ কোন্ ধরনের খাদ্য?
  1. আমিষ
  2. শ্বেতসার
  3. স্নেহ জাতীয়
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
আমিষের উৎস: 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা - 
১. প্রাণিজ আমিষ ও 
২. উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ।
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৩.
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগটি হয়ে থাকে। 

- অস্টিওপোরোসিস হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।
- এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
- সাধারণত বয়স্ক নারী এবং পুরুষ এর মাঝে এ রোগটি দেয়া দেয়। 

সূত্র- ১৯৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৫৪.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং
  2. সেল ক্লোনিং
  3. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। 
যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৫৫.
রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে যাওয়াকে কী বলে? 
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. পলিসাইথিমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
• রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা:
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন-
• পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
• অ্যানিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের বংশগত রক্তের রোগ।
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৬.
কোন উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ু দ্বারা হয়? 
  1. শিমুল
  2. কুমড়া
  3. ধান
  4. কদম
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে, যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা পাখি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়, এ সময়ে পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। 
- এই বাহকটি যখন একই প্রজাতির অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগরেণু ঐ ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে তাদের অজান্তে পরাগায়নের কাজটি হয়ে যায়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, একে অভিযোজন বলা হয়।
- বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা যা নিম্নরূপ: 
১। পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

২। বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন- ধান। 

৩। পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। 
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। 
-  স্ত্রীফুলের বৃত্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃত্ত ছোট। 
- পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন- পাতাশ্যাওলা। 

৪। প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৫৭.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে কোনটি?
  1. ক) লিফ রোল
  2. খ) লিফ ব্লাইট
  3. গ) লিফ কার্ল
  4. ঘ) লিফ বেইন
ব্যাখ্যা
ধানের পাতা ধ্বসা (leaf blight) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে। এছাড়া আলুর লিফরোল (পাতা কুঁচকাইয়া যাওয়া), পেঁপের লিফকার্ল, ক্লোরোসিস (পাতায় হলুদাভ দাগ) ইত্যাদি রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৮৫৮.
গর্ভাবস্থায় কোনটির ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন D
  3. ভিটামিন B9
  4. ভিটামিন B1
ব্যাখ্যা
• গর্ভাবস্থায় ভিটামিন B9 বা ফলিক এসিডের ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়। 

• অ্যানিমিয়া:
- গর্ভাবস্থায় যখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয় না তখন সাধারণত অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়ে থাকে।
- RBC তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 ।

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ:
- ক্লান্তি, দুর্বলতা, 
- ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখ, 
- শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথা। 

• গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব:
→ ভ্রূণের নিউরাল টিউব গঠনে সহায়তা:
- ফলিক অ্যাসিড গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুরজ্জু (neural tube) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  
→ জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ:
- পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করলে নিউরাল টিউব ত্রুটি যেমন স্পাইনাল বিফিডা এবং অ্যানেনসেফালি (Anencephaly) হওয়ার ঝুঁকি কমে।  
→ কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধি:
- ফলিক অ্যাসিড কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায়, এটি ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে।  
→ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি:
- ফলিক অ্যাসিড লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।  
→ প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য:
- ফলিক অ্যাসিড প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র:
- Unicef.
- World Health Organization (WHO): Anaemia in pregnancy.
১,৮৫৯.
কোন উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌ ঘটে?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) তেঁতুল
  3. গ) কেওড়া
  4. ঘ) গর্জন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
- উদাহরণ: সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৮৬০.
ফলের রং হলুদ হওয়ার জন্য দায়ী -
  1. ক) জ্যান্থোফিল
  2. খ) ক্যারোটিন
  3. গ) লাইকোপেন
  4. ঘ) ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
জ্যান্থোফিল - হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্যারোটিন - কমলা বর্ণের জন্য দায়ী।
লাইকোপেন - লাল বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্লোরোফিল - সবুজ বর্ণের জন্য দায়ী।
১,৮৬১.
স্নেহ পদার্থের কাজ কি?
  1. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে
  2. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে
  3. শরীরের ক্ষত পূনর্গঠনের কাজ করে
  4. ত্বকের মসৃণতা এবং সজীবতা বাজায় রাখে এবং চর্মরোগ প্রতিরোধ করে
ব্যাখ্যা
- স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা দেয়৷ 
- ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়৷ 
- দীর্ঘদীন স্নেহ পদার্থের অভাব হলে শরীরের সঞ্চিত প্রোটিন ক্ষয় হয় এবং দেহের ওজন কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৬২.
নিচের কোন রোগটির জন্য ব্যাকটেরিয়া দায়ী?
  1. ক) আনডিউলেটেড ফিভার
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) পীত জ্বর
  4. ঘ) টুংরো রোগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলিই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এ ছাড়াও এনথ্রাক্স, মেনিনিজাইটিস, কুষ্ঠ, আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।
- AIDS, ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, SARS, জলাতঙ্ক, গুটি বসন্ত, জলবসন্ত, ভাইরাল নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, পীত জ্বর, গো- বসন্ত, এনোজেনিটাল ক্যান্সার, তামাক, সিম, গোল আলু ইত্যাদির মোজাইক রোগ, কলার বানচি টপ রোগ, ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৮৬৩.
লাউয়ে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ক) ভিটামিন - এ
  2. খ) ভিটামিন - সি
  3. গ) ভিটামিন - কে
  4. ঘ) ভিটামিন - ই
ব্যাখ্যা
লাউয়ের পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে রয়েছে -
• কার্বোহাইড্রেট ২.৫ গ্রাম,
• প্রোটিন ০.২ গ্রাম,
• ফ্যাট ০.৬ গ্রাম,
 ভিটামিন সি ৬ গ্রাম,
• ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম,
• ফসফরাস ১০ মিলিগ্রাম,
• পটাশিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম,
• নিকোটিনিক অ্যাসিড ০.২ মিলিগ্রাম।

এ ছাড়া এতে রয়েছে খনিজ লবণ, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রনসহ আরও নানা উপাদান।
লাউয়ের ৯৬ শতাংশ পানি।

সূত্র: প্রথম আলো।
১,৮৬৪.
ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যাপসিউল
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) কোষ প্রাচীর
  4. ঘ) প্লাজমিড
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো-
 
- ফ্ল্যাজেলা
- ক্যাপসিউল
- কোষ প্রাচীর
- প্লাজমামেমব্রেন
- মেসোসোম
- সাইটোপ্লাজম
- ক্রোমোসোম
- প্লাজমিড

ফ্ল্যাজেলা - ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।

ক্যাপসিউল - ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে । এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয় । এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে। 

• কোষ প্রাচীর - ক্যাপসিউলের নিচেই জড় কোষ প্রাচীর অবস্থিত। কোষ প্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান দিয়ে গঠিত। কোষ প্রাচীর সাধারণত ১০-২৫um (মাইক্রোমিটার) পুরু হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া কোষের নির্দিষ্ট আকার ও দৃঢ়তা দান করে। কোষ প্রাচীরে প্রায় ১um ব্যাসের অনেকগুলো ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এ সমস্ত ছিদ্রের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক পদার্থসমূহ চলাচল করে।

• সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন - কোষ প্রাচীরের ঠিক নিচে সাইটোপ্লাজমকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অবস্থান করে। এটি একটি সজীব ঝিল্লী। সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত। এর সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক মেটাবোলিক কাজ করে।

• মেসোসোম - ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়। এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।

• সাইটোপ্লাজম - সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে। এটি সাধারণত বর্ণহীন। এতে কোষ গহবর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে। ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন- ১। রাইবোসোম (70S), ২। ক্রোম্যাটোফোর, ৩। কোষ গহ্বর এবং ৪ । ভলিউটিন।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৬৫.
নিচের কোনটি রঞ্জক পদার্থহীন?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের প্লাস্টিড ৩ ধরনেরঃ
- ক্লোরোপ্লাস্ট- সবুজ রঙের;
- ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ব্যতীত অন্যান্য রঙের  এবং ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থির জন্য পুষ্প, পাতা, ফল ও বীজ সুন্দর হয়।এবং
 -লিউকোপ্লাস্ট- রঞ্জক পদার্থহীন।

সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৮৬৬.
‘জার্মপ্লাজম মতবাদ’ এর প্রবক্তা হলেন-
  1. ক) অগাস্ট ভাইসম্যান
  2. খ) আর্নেস্ট হেকেল
  3. গ) লুই পাস্তুর
  4. ঘ) ল্যাভয়সিয়ে
ব্যাখ্যা
Germ-plasm theory, concept of the physical basis of heredity expressed by the 19th-century biologist August Weismann. According to his theory, germ plasm, which is independent from all other cells of the body (somatoplasm), is the essential element of germ cells (eggs and sperm) and is the hereditary material that is passed from generation to generation. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৮৬৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে 'হোয়াইট গোল্ড' নামে পরিচিত?
  1. ক) গলদা চিংড়ি
  2. খ) মৎস্য
  3. গ) পোশাক শিল্প
  4. ঘ) ঔষধ
ব্যাখ্যা
- প্রতিবছর গলদা চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্যে বাংলাদেশে গলদা চিংড়িকে সাদা সোনা বা হোয়াইট গোল্ড বলা হয়।
- চিংড়ি রপ্তানি করে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।
- চিংড়ি চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ায় দেশের খুলনা অঞ্চলকে বাংলাদেশের কুয়েত সিটি নামে ডাকা হয়।
- দেশের অধিকাংশ চিংড়ি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। 
 
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট এবং বনিকবার্তা।
১,৮৬৮.
পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে কোন খনিজ উপাদান?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) পটাসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ:
- গলগণ্ড, রক্তাস্বল্পতা খনিজ লবণের অভাবে দেহে এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এছাড়া লোহা, আয়োডিন, দস্তা, তামা ইত্যাদি খনিজ লবণ আমাদের দেহের জন্য অতি সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত।


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৬৯.
কোনটি Fat Soluble Vitamin-
  1. ক) Vitamin A
  2. খ) Vitamin D
  3. গ) Vitamin K
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
Fat-Soluble Vitamins: A, D, E, and K.
১,৮৭০.
থাইমিন কোথায় পাওয়া যায়?
  1. আর এন এ (RNA)
  2. জিন
  3. লোকাস
  4. ডি এন এ (DNA)
ব্যাখ্যা
ডি এন এ তে থাকে এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন।
আর এন এ তে থাকে এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন এবং ইউরাসিল।

সুত্রঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮৭১.
সুষম খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যেমন ০- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
- এদের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হলো খাদ্যের মুখ্য উপাদান।
- আর ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলো সহায়ক উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮৭২.
কোন প্রাণীকে ডেভিল মাছ বলে?
  1. ক) তিমি
  2. খ) অক্টোপাস
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) ডলফিন
ব্যাখ্যা
- অক্টোপাস সামুদ্রিক প্রাণী। 
- এটি মলাস্কা পর্ব ও সেফালোপডা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 
- অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড রয়েছে। 
- অক্টোপাসের বাহ্যিক গঠন ভীতির সৃষ্টি করে বলে একে ডেভিল ফিশ বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা
১,৮৭৩.
সাপ কোন বর্গের প্রাণি?
  1. Crocodillia
  2. Squamata
  3. Rhyncocepalia
  4. Chelonia
ব্যাখ্যা

• সাপের বর্গ (Snake Classification):
- সাপ হলো Reptilia (সাপ, ছিপোকা, কুমির ইত্যাদি) প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, তবে আরও বিশেষভাবে এটি Squamata বর্গের অন্তর্গত।
- Squamata বর্গের প্রাণীর মধ্যে সাপ এবং ছিপোকা থাকে।
- এই বর্গের প্রাণীর লাঠির মতো শক্তি ও নমনীয় ত্বক থাকে, যা তাদের চামড়ার আকার পরিবর্তনে সাহায্য করে।
- Crocodillia বর্গের প্রাণীর মধ্যে কুমির অন্তর্ভুক্ত, Rhyncocepalia প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির ছিপোকা, আর Chelonia বর্গের মধ্যে কচ্ছপ অন্তর্ভুক্ত।
- সাপের শারীরিক গঠন, চলাচল পদ্ধতি এবং দাঁতের ধরন অনুযায়ী এটি Squamata বর্গের সঠিক উদাহরণ।  

সুতরাং, সাপের সঠিক বর্গ হলো - খ) Squamata.

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১,৮৭৪.
ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় কি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ATP
  2. খ) ADP
  3. গ) NADP
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP সৌর শক্তি গ্রহণ করে ATP এ পরিণত হয়। আলোর উপস্থিতিতে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলা হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭৫.
জীব বিজ্ঞানের কোন শাখায় কীট পতঙ্গ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ইকোলজি
  2. খ) এন্টোমোলজি
  3. গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ঘ) মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা
- ইকোলজি: এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইকোলজির বাংলা প্রতিশব্দ হলো বাস্তুবিদ্যা


- এন্ডোক্রাইনোলজি: জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।


- এন্টোমোলজি: কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি


- মাইক্রোবায়োলজি: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি


- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: এ শাখায় জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।


-জেনেটিক্স: জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
১,৮৭৬.
প্যানক্রিয়াস থেকে কোন হরমোন রক্তে গ্লুকোজ কমায়?
  1. গ্লুকাগন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৭.
পাকা টমেটোর রং লাল হওয়ার জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোফিল
  2. খ) লাইকোপিন
  3. গ) জ্যানথোফিল
  4. ঘ) ক্যারোটিন
ব্যাখ্যা
ক্যারোটিন -  কমলা বর্ণের জন্য দায়ী।
জ্যান্থোফিল - হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।
লাইকোপিন - লাল বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্লোরোফিল - সবুজ বর্ণের জন্য দায়ী।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৭৮.
খাদ্যের উপাদান মোট কতটি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে তাদেরকেই খাদ্য বলে যেগুলো জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে অর্থাৎ এক কথায় দেহের পুষ্টি সাধন করে। 
- খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদেরকে একসঙ্গে পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস ( Nutrients) বলে। 
যেমন - গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা- 
১। খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩। খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

- খাদ্যের উপাদান মোট ছয়টি (৬) টি। 
যথা- 
• শর্করা, 
• আমিষ, 
• স্নেহ, 
• ভিটামিন, 
• খনিজ লবণ এবং 
• পানি। 
- এগুলোর মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ (ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। 
- খাদ্যের শর্করা ও স্নেহকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭৯.
রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় -
  1. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  2. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
  3. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  4. লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮০.
ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম কী? 
  1. রেটিনল
  2. এসকরবিক এসিড
  3. টোকোফেরল
  4. নিকোটিনামাইড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (Vitamin C): 
- ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। 
- এটি তাপ, আলো, বাতাস ও ক্ষারে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। 
- টাটকা শাক-সবজি ও ফল-মূল ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস। 
- টক জাতীয় ফল যেমন- কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙা, আঙুর, আনারস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া, লেটুস পাতা, কাঁচা মরিচও ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 

এসকরবিক এসিডের কাজ: 
১। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী জারণরোধী ভিটামিন। 
২। ভিটামিন সি নিজে জারিত হয়ে অন্যান্য উপাদানের জারণ প্রতিরোধ করে। (সাধারণভাবে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হওয়াকে জারণ বলে।) 
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
৪। ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। 
৫। দেহের পেশি, কলা ও অস্থির সংযোজক কলা তৈরিতে সহায়তা করে। 
৬। ভিটামিন সি অন্ত্রে লৌহের শোষণ এবং হিমোগ্লোবিনে লৌহ যুক্তকরণে সাহায্য করে। 
৭। ত্বক, দাঁত, মাড়ি প্রভৃতির দৃঢ়তা রক্ষা করে। 
৮। রক্তবাহী নালীর প্রাচীর মজবুত করতে সহায়তা করে। 

এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষুধামন্দা, অলসতা, খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রেটিনল হচ্ছে ভিটামিন A-এর একটি রূপ। 
- টোকোফেরল হলো ভিটামিন E-এর রাসায়নিক নাম। 
- নিকোটিনামাইড হলো ভিটামিন B3 (নিয়াসিন)-এর একটি রূপ। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮১.
যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ বা শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদেরকে বলা হয়- 
  1. এপিফাইটিক শৈবাল 
  2. ফাইটোপ্লাঙ্কটন 
  3. বেনথিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল 
ব্যাখ্যা

শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮২.
নিচের কোনটি DNA-এর নাইট্রোজেন বেস?
  1. হিস্টিডিন
  2. গুয়ানিন
  3. গ্লুটামিন
  4. ট্রিপটোফান
ব্যাখ্যা

গুয়ানিন হলো DNA এর চারটি নাইট্রোজেন ক্ষারের মধ্যে একটি।
- DNA-এর নাইট্রোজেন ক্ষারগুলি দুই ধরনের:
১। পিউরিন: অ্যাডেনিন (A) ও গুয়ানিন (G),
২। পাইরিমিডিন: সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T)।
- গুয়ানিন সর্বদা সাইটোসিনের সাথে তিনটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন (G≡C) গঠন করে, যা DNA স্ট্র্যান্ডকে স্থায়িত্ব প্রদান করে।
- এই গঠনে গুয়ানিন DNA-এর দ্বিসূত্রক কাঠামো ও জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

• ডিএনএ (DNA):
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান।
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%।
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে।
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গোয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড।

• আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid.
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়।
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,৮৮৩.
কোনটিকে কোষের প্রাণশক্তি বলা হয়?
  1. ক) প্লোটোপ্লাজম
  2. খ) ক্রোমোজোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক, প্রাণকেন্দ্র বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
যদিও, মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
এটি কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে।
কিন্তু, কোষে সংগঠিত সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় নিউক্লিয়াস দ্বারা।
তাই, নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণশক্তি বলা যায়।

এছাড়াও,
রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
১,৮৮৪.
ICBN এর পূর্ণরূপ হলো-
  1. International Code of Botanical Nomenclature
  2. International Code of Bioligical Nomenclature
  3. International Code of Botanical Nomenculture
  4. International Code of Biological Nomenclature
ব্যাখ্যা
ICBN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Botanical Nomenclature।
- এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত নিয়মবিধি যা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ICBN অনুযায়ী নামকরণের কয়েকটি নীতিমালা দেয়া হল :
- প্রজাতির উপরের ছয়টি স্তরের নাম হবে একপদী (uninomial).
- প্রজাতির নাম হবে দ্বিপদী (binomial)। প্রথম পদ হল গণ নাম এবং দ্বিতীয় পদ হল প্রজাতিক পদ।
- নামকে বৈধভাবে প্রকাশিত (validly published) হতে হবে।
- গোত্র বা গোত্রের নিচে যে কোনো ট্যাক্সনের জন্য একটি মাত্র শুদ্ধ নাম থাকবে।
-  উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদের সব অক্ষরই ছোট হাতের হবে।
- বৈজ্ঞানিক নাম ছাপার অক্ষরে ইটালিক (ডান দিকে একটু বাঁকা) বা মোটা অক্ষরের হবে। হাতে লিখলে সাধারণত নামের নিচে একটি বা পৃথকভাবে দুটি দাগ টেনে দিতে হবে।
- বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) লিখতে হয়। যেমন- Mangifera infica খ. এখানে খ হচ্ছে লিনিয়াস-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- যদি একাধিক বিজ্ঞানী একই উদ্ভিদকে বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন (Law of Priority) অনুসারে বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও IAPT Website.
১,৮৮৫.
সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় জারক পদার্থ কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাইঅক্সাইড
  3. গ্লুকোজ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। 
- উৎপন্ন হয় শর্করা এবং অক্সিজেন। কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয় শর্করা তৈরির জন্য। 
- এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়। এটি একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কার্বন-ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
 
6CO2 + 12H2O —→ C6H12O6 + 6O2 + 6H2O
 
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
 
 [সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১,৮৮৬.
অ্যামিবার চলনে সহায়তা করে -
  1. ক) পিল্লি
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) শীথ
  4. ঘ) ক্ষণপদ
ব্যাখ্যা
• অ্যামিবা ও এন্টামিবা এককোষী প্রাণি।
- সকল জীবিত প্রাণী কোষ নামক এক বা একাধিক একক নিয়ে গঠিত। 
- শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত জীবগুলোকে এককোষী জীব বলা হয়।
- এদের চলন অঙ্গ ক্ষণপদযুক্ত। 
- এদের দেহে কোনো অক্ষীয় তন্তু থাকে না।

অ্যামিবা:
- প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য অ্যামিবা এককোষী প্রাণী। এদের দেহ ক্ষুদ্রাকার।
- অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায়না। ক্ষণপদ এর সাহায্যে অ্যামিবা গ্রহণ ও চলাচল করে।
- এদের দেহে পানিগহ্বর, খাদ্যগহ্বর ও সংকোচন গহ্বর থাকে।
- এদের সারা দেহ একটি পাতলা পর্দা দ্বারা ঘেরা থাকে। একে প্লাজমালেমা বলা হয়।
- আ্যামিবা পানিতে, স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে, পুকুরের তলার পচা জৈব আবর্জনার মধ্যে জন্মে।

• এন্টামিবা:
এন্টামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যভূক্ত আরেক ধরনের এককোষী জীব।
- খালি চোখে এদের দেখা যায়না।
- এদের দেহ কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নাই।
- এদের দেহ স্বচ্ছ জেলীর ন্যায়। 

• অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার তার যে গঠন দায়ী হলো ফ্ল্যাজেলা

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
১,৮৮৭.
দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির কত শতাংশ শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) ৪০%-৫০%
  2. খ) ৫০%-৬০%
  3. গ) ৬০%-৭০%
  4. ঘ) ৭০%-৮০%
ব্যাখ্যা
•শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান খাদ্য বা প্রধান পুষ্টি উপাদান। •দেহের শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদানের মধ্যে শর্করা অপরিহার্য।
•প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন খাদ্যসমূহের বেশিরভাগই শর্করা জাতীয় খাদ্য।
•আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি ও তাপশক্তির ৬০%-৭০% শক্তি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা হয়।
•১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
•শর্করার শ্রেণিবিভাগ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শর্করাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. এক-শর্করা (Monosaccharide),
২. দ্বি- শর্করা (Disaccharide),
৩. বহু-শর্করা (Polysaccharide)

উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৮৮.
উচ্চ রক্তচাপের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) ঘর্ম গ্রন্থি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরি হওয়া বেড়ে গেলে হাইপার টেনশন বা উচ্চ-রক্তচাপ হয়।
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা অ্যাড্রেনালিন, অ্যালডোস্টেরন ও কর্টিসলসহ নানাবিধ হরমোন তৈরি করে থাকে। এটি সুপ্রারিনাল গ্রন্থি (suprarenal gland) নামেও পরিচিত। এরা বৃক্কের উপরিভাগে অবস্থিত।

- পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, TSH ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয় । এই গ্রন্থি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে ।
- ঘাম গ্রন্থিগুলিকে সাধারণত তথাকথিত একক্রাইন ঘাম গ্রন্থি বলা হয়। তাদের কাজটি ঘাম নিঃসরণ করা, যা তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ভারসাম্য আমাদের শরীরের।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান

১,৮৮৯.
নিচের কোনটিকে জীব ও জড়ের সেতুর সেতুবন্ধন বলে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সকল অনুজীব
ব্যাখ্যা
প্রাণ-রসায়নবিদগণ ভাইরাসের জড়-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন, আর অনুজীব বিজ্ঞানিগণ ভাইরাসের জীব-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন। এজন্য ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৮৯০.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১,৮৯১.
নিচের কোনটি মানবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। - মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লিহা-তে সঞ্চিত থাকে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় আবার সমপরিমাণ তৈরি হয়।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।

• অণুচক্রিকা:
- এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন। এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে। যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯২.
প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) লাইসোজোম
  3. গ) ক্রোমোজোম
  4. ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯৩.
নিচের কোনটি ​স্তন্যপায়ী প্রাণী? 
  1. বাদুড় 
  2. টিকটিকি 
  3. কুমির 
  4. কচ্ছপ 
ব্যাখ্যা

সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৮৯৪.
ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের শীর্ষে অবস্থান করে
  2. খ) উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়
  3. গ) এই টিস্যুর কোষ বিভাজনে অক্ষম
  4. ঘ) ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে। ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে।
- ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য:-  
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়,
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়,
- উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের শীর্ষে অবস্থান করে। 

উৎস- এইচ.এস. সি উদ্ভিদবিজ্ঞান  (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
১,৮৯৫.
আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো -
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
আলুর লেট ব্লাইট রোগ: 
- আলুর লেট ব্লাইট (নাবিধসা বা মড়ক) রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনোটাইপ (জিনের বিন্যাস) ও ফিনোটাইপ (বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য)। 
- এই শনাক্তকরণের গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. রসিদুল ইসলাম। 
- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৯০ শতাংশ জমিতে ছত্রাকটির যে জিনোটাইপ পাওয়া গেছে সেটি হলো ‘ইইউ-১৩-এ২’, যেটি ব্লু-১৩ হিসেবেও পরিচিত। 
- আলুর মড়ক রোগ ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। 
- এই রোগের কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা ইত্যাদি ক্ষতি হচ্ছে। 
- মূলত এই ক্ষতি কমাতেই ২০১৪ সাল থেকে ছত্রাকের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ শনাক্তকরণ এবং এর জৈবিক ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনের কাজটি শুরু করা হয়। 
- ওই সময় দেশের ১৫টি জেলা থেকে মড়ক রোগাক্রান্ত মোট ৯০টি আলুর পাতার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। 

- এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্লু-১৩ জিনোটাইপের ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। 
- জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই মূলত মড়ক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। 
- এ সময় সংক্রমণ তীব্র মাত্রায় হতে থাকলে ছত্রাকনাশক (ডাইথেন এম-৪৬ বা ইন্ডোফিল এম-৪৫) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ বার ৬ থেকে ৭ দিন পর পর এমনভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে, যাতে গাছ ভালোভাবে ভিজে যায়। 
- মড়ক হলো একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমেও এটি এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- একটি গাছ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগটি পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সময় প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা না নিলে ছত্রাক আক্রমণের তীব্রতার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা থাকে সর্বোচ্চ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ।
- তবে রোগ সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে ‘সাইমোক্সানিল ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ বা ‘সাইমোক্সালিন ও ডাইমেথোমর্ফ মিশ্রণ’ অথবা ‘ডাইমেথোমর্ফ ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩ থেকে ৪ বার ৪ থেকে ৫ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। 

উৎস: Bachelor of Agriculture Education প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৪)।
১,৮৯৬.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়? 
  1. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. শর্করা ও পানি
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও শর্করা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 

- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৯৭.
কোনটি পরিবহন টিস্যুতন্ত্রের অন্তর্গত?
  1. ক) জাইলেম
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা
  3. গ) এরেনকাইমা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবহন টিস্যু তন্ত্র (Vascular Tissue System): জাইলেম ও ফ্লোয়েম এর সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্রকে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলা হয়।
সমস্ত ভাস্কুলার উদ্ভিদের ও পাতার শিরা উপশিরায় এ টিস্যুতন্ত্র থাকে। এ টিস্যুতন্ত্র খাদ্যের উপাদান ও তৈরি খাদ্য পরিবহন করে বলে একে সংযোজনকারী টিস্যুতন্ত্রও (Conducting tissue system) বলা হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৮.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) লেটুস
  2. খ) পালংশাক
  3. গ) ঝিঙা
  4. ঘ) সয়াবিন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
• বড় দিনের উদ্ভিদ:
- আফিম,
- যব,
- মূলা,
- পালংশাক,
- লেটুস
- ঝিঙা,
- মটরশুটি ইত্যাদি।

• ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- শিম
- আলু
- ডালিয়া
- সাজিনা
- ইক্ষু
- সয়াবিন
- পাট
- আম
- সূর্যমুখী
- চন্দ্রমল্লিকা,

• নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- আউশ ধান
- কার্পাস
- শসা
- টমেটো
- সূর্যমুখী

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

১,৮৯৯.
নেফ্রন কী? 
  1. বৃক্কের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ
  2. অন্ত্রের পুষ্টি শোষণ একক
  3. লিভারের প্রধান কার্যকারী একক
  4. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
ব্যাখ্যা

নেফ্রনের গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়, এদেরকে নেফ্রন (nephron) বলে। 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক। 
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.। 
- প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. রেনাল করপাসল (Renal corpuscle), 
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Proxinal convoluted tubule), 
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু (Descending limb of Henle's loop), 
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু (Ascending limb of Henle's loop), 
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule) ও 
৬. সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০০.
'Flora' বলতে কী বুঝায়?
  1. মৎস্যকূল
  2. প্রাণিকূল
  3. উদ্ভিদকূল
  4. পক্ষীকূল
ব্যাখ্যা
Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
'Fauna' বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।
Fauna অর্থ প্রাণিকূল এবং Flora অর্থ উদ্ভিদকূল।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।