বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৭ / ৪২ · ১,৬০১১,৭০০ / ৪,২০৮

১,৬০১.
আদিকোষে নিচের কোনটি থাকে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. প্লাস্টিড
  3. রাইবোজোম
  4. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। 
- এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য আছে যেমন, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা - 
১। আদিকোষ এবং 
২। প্রকৃত কোষ। 

আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): 
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। 
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। 
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। 
- অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০২.
কোন প্রাণীটিতে মেরুদণ্ড অনুপস্থিত?
  1. কুমির
  2. তাঁরামাছ
  3. পাখি
  4. সাপ
ব্যাখ্যা
• তাঁরামাছে মেরুদণ্ড অনুপস্থিত।

• মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যে সকল কর্ডেট প্রাণীদের দেহে মেরুদণ্ড থাকে তাদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। সাধারনত Chordata পর্বের Vertebrata উপ-পর্বের প্রাণীদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। 
- যেমন- কুমির, পাখি, সাপ। 

অন্যদিকে,
• অমেরুদণ্ডী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীদের দেহে মেরুদণ্ড থাকে না তাদেরকে অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়।

 তাঁরামাছ একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী (Invertebrate), যার দেহে কোনো মেরুদণ্ড (Vertebral column) নেই।

• তাঁরামাছের বৈশিষ্ট্য:
- এটি একাইনোডারমেটা (Echinodermata) পর্বের অন্তর্গত।
- সমুদ্র তারার (sea star)  বা তাঁরা মাছের কারনেই Echinodermata পর্ব সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে।
- এরা  ত্রিস্তরী, প্রকৃত-সিলোমেট ও অঙ্গ-তন্ত্র মাত্রার গঠন সম্বলিত প্রজাতি। সকল একাইনোডার্ম সদস্যের ন্যায় এরাও কাঁটাময় ত্বকবিশিষ্ট।
- ত্বকের নিচে শায়িত চুনময় অন্তঃকঙ্কাপিক প্লেট (calcareous endoskeletal plates) থেকে এসব কাঁটা উদগত হয়। কাঁটাগুলো বহিঃকঙ্কাল, আর প্লেটগুলো হচ্ছে অন্তঃকঙ্কাল। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১,৬০৩.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়? 
  1. লৌহ 
  2. বোরন 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- এই খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০৪.
এক গ্রাম ফ্যাট হতে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়-
  1. ক) ৯.০ kcal
  2. খ) ৯.8 kcal
  3. গ) ৯.৩ kcal
  4. ঘ) ৯.৬ kcal
ব্যাখ্যা
ক্যালরি:
- কর্মশক্তি পরিমাপের একক হলো ক্যালরি। 
- পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্য হতে উৎপন্ন তাপ বা শক্তি ক্যালরি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
- আমরা জানি যে ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- এ হিসাবে আমাদের দেহের শক্তি চাহিদাও কিলোক্যালরি দিয়ে নির্ণয় করা হয়। 
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট হতে উল্লেখযোগ্য ও যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম তেল বা চর্বি হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৫.
উদ্ভিদ কোষের কোন অংশে সালোক সংশ্লেষণ হয়?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. টোনোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড। •
- সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যেকোনো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র ৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে।
- সালোক সংশ্লেষণকারী কেমোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়ার সালোক সংশ্লেষণে পানির প্রয়োজন হয় না।
- ফার্ন, নগ্নবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদসমূহের সালোক সংশ্লেষণের প্রধান স্থান হল পাতার মেসোফিল টিস্যুর কোষে অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্ট।

- লিউকোপ্লাস্ট প্রধানত খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য দায়ী এবং সাধারণত সালোক সংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে না।
- ক্রোমোপ্লাস্ট বিভিন্ন রঙের পিগমেন্ট (যেমন ক্যারোটিনয়েড) উৎপাদন ও সঞ্চয় করে, যা ফল ও ফুলের রঙ তৈরিতে সাহায্য করে। 
- টোনোপ্লাস্ট হলো ভ্যাকুয়োলের ঝিল্লি, যা ভ্যাকুয়োলকে ঘিরে রাখে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৬.
মানবদেহের কোন অঙ্গে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. প্যানক্রিয়াস
  2. যকৃত
  3. প্লীহা
  4. কিডনি
ব্যাখ্যা

• যকৃত:
- যকৃত হলো দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- পেটের উপরিভাগে ডানদিকে যকৃত অবস্থিত।
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি।
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়।
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে।
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে।
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে।
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে।
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে।
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে।

উৎস:গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬০৭.
অ্যালভিওলাসের প্রতিটি লোবিউলে কত সংখ্যক অ্যালভিওলি থাকে?
  1. ৪০-৫০টি
  2. ৫০-৮০টি
  3. ২০-৩০টি
  4. ৮০-১০০টি
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৮.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরভোজী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরাশ্রয়ী
  4. ঘ) মৃতজীবী
ব্যাখ্যা
শৈবাল হচ্ছে স্বভোজী  জাতীয় উদ্ভিদ। 

- শৈবাল (Algae)  ক্লোরোফিলবহনকারী সরল প্রকৃতির স্বভোজী (autotrophic) অতি প্রাচীন এক উদ্ভিদ দল।
- এদের উদ্ভব সমুদ্রের পানিতে, আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে।
- সেই আদিমকাল থেকেই শৈবাল prokaryotic থেকে eukaryotic আকৃতিতে রূপ ও বৈচিত্র্য লাভ করেছে।
- প্যালিওজোয়িক যুগের শুরু থেকে অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত এরা সমুদ্রে একক আধিপত্য অটুট রেখেছিল।
- সমুদ্রের প্রধান উদ্ভিদ এই শৈবাল।
- এদের দেহ কাঠামো সরল এবং মূল, কান্ড ও পত্রে পৃথকীভূত নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১,৬০৯.
পাতা শ্যাওলা পরাগায়নের জন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে?
  1. পানি
  2. পতঙ্গ
  3. বায়ু
  4. প্রাণী
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১০.
মানুষের অস্থায়ী (দুধ) দাঁতের সংখ্যা কত? 
  1. ১৬ টি
  2. ১৮ টি
  3. ২০ টি
  4. ৩২ টি
ব্যাখ্যা
দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন: 
(i) কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
(ii) ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
(iii) অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
(iv) পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের 8 টি কর্তন দাঁত, 4 টি ছেদন দাঁত, 8 টি অগ্রপেষণ দাঁত, 8 টি পেষণ দাঁত এবং 0-4 টি আক্কেল দাঁত থাকে। 

দাঁতের গঠন: 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
(i) মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ; 
(ii) মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
(iii) গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১১.
উদ্ভিদের কোন অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট এর সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে?
  1. ক) কাণ্ড
  2. খ) পাতা
  3. গ) মূল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট এর সংখ্যা অনেক বেশি।

পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি ও অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়।
পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজেই ঘটে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

১,৬১২.
মানবশিশুর দুধদাঁত কয়টি? 
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি 
  4. ২০টি
ব্যাখ্যা
• দাঁত:
- শিশুর দাঁত, দুধ-দাঁত বা প্রাথমিক দাঁতগুলিকে ক্ষণস্থায়ী দাঁত বলা হয়।
- মানুষের দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি।
- পরিণত মানুষের চোয়ালে মোট দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
- মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত উপস্থিত থাকে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৬১৩.
ভাইরাসের দেহে অনুপস্থিত অঙ্গাণু নিচের কোনটি?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবােসােম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। অর্থাৎ, একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৪.
What is the structural or functional unit of kidney?
  1. Medulla
  2. Neuron
  3. Nephron
  4. Renin
  5. None of them
ব্যাখ্যা
মানুষের বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের | ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৫.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়-
  1. লালারস
  2. পেপসিন
  3. পিত্তরস
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় হরমোন বা প্রাণরস।
মানবদেহে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পন্ন ও নিয়ন্ত্রণে এরা অত্যাবশ্যকীয়।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে রয়েছে- পিটুইটারী, হাইপোথ্যালামাস, থাইরয়েড, থাইমাস, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ইত্যাদি।
১,৬১৬.
নবজাতকের ত্বকের pH কত?
  1. ক) ৫ এর কাছাকাছি
  2. খ) ৬ এর কাছাকাছি
  3. গ) ৭ এর কাছাকাছি
  4. ঘ) ৮ এর কাছাকাছি
ব্যাখ্যা
বাজারে মুখ ধােয়ার জন্য যেসব প্রসাধন সামগ্রী পাওয়া যায় তার pH-এর মান থাকে সাধারনত ৫.৫। এর কারণ আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH ৪-৬ এর মধ্যে থাকে।
তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে।
তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযােজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৬১৭.
'এনজিওপ্লাস্টি' কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হৃদরোগ
  2. খ) স্নায়ুরোগ
  3. গ) রেচনতন্ত্রের রোগ
  4. ঘ) পারকিনসন
ব্যাখ্যা
হৃদরোগের চিকিৎসায় পেসমেকার, ওপেন হার্ট সার্জারি, করোনারি বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি ব্যবহৃত হয়।

পেসমেকার
- হৃৎপিন্ডে ডান অ্যাট্রিয়াম-প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত, বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে তাকে পেসমেকার বলে।

ওপেন হার্ট সার্জারি
- শল্যচিকিৎসক যখন রোগীর বুক কেটে উন্মুক্ত করে হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন তখন সে প্রক্রিয়াকে ওপেন হার্ট সার্জারি বলে ।

করোনারি বাইপাস সার্জারি
- এক বা একাধিক করোনারি ধমনির ল্যুমেন (গহ্বর) রূদ্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহের অন্য অংশ থেকে (যেমন-পা থেকে) একটি সুস্থ রক্তবাহিকা (ধমনি বা শিরা) কেটে এনে বৃদ্ধ ধমনির পাশে স্থাপন করে রক্ত সরবরাহের যে বিকল্প পথ সৃষ্টি করা হয় তাকে করোনারি বাইপাস বলে । করোনারি বাইপাস সৃষ্টির সামগ্রিক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটিকে করোনারি বাইপাস সার্জারি বলা হয়।

এনজিওপ্লাস্টি
- বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিন্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেন (গহ্বর)-যুক্ত বা রূদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে।
- এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা।
- বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা), হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় এনজিওপ্লাস্টি।
- ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ অ্যানডেস গয়েন জিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
১,৬১৮.
কোনটি অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে?
  1. ভার্নালিন
  2. ইথিলিন
  3. অক্সিন
  4. ফ্লোরিজেন
ব্যাখ্যা
- পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
- শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
- অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।
- কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান
১,৬১৯.
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রের অঙ্গাণু কোনটি?
  1. মস্তিষ্ক
  2. যকৃত
  3. ফুসফুস
  4. বৃক্ক
ব্যাখ্যা
অঙ্গ: 
- এক বা একাধিক টিস্যু দিয়ে তৈরি এবং একটা নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ (Organ) বলে। 
অর্থাৎ, কোনো অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে এবং সেই অঙ্গ কোনো না কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। 
- দেহের অঙ্গসমূহ নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Morphology) বলে। 
- নিচে মানবদেহের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য তন্ত্রের ধারণা দেওয়া হলো- 
১। পরিপাকতন্ত্র (Digestive system): 
- এই তন্ত্র খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যাংশ নিষ্কাশনের সাথে জড়িত। 
- পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ থাকে। যথা: পৌষ্টিক নালি (digestive canal) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)। 
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে পৌষ্টিক নালি গঠিত। 
- মানুষের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। এসব গ্রন্থির নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

২। শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system): 
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত। 
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে। এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে। 

৩। স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system): 
- দেহের বাইরের এবং ভিতরের উদ্দীপনা গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা এই তন্ত্রের কাজ। 
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। 
- এছাড়া স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র নামে স্নায়ুতন্ত্রের আরও একটি অংশ আছে। 
- স্নায়ুতন্ত্রের এই অংশ দেহের অনৈচ্ছিক পেশির কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। 

৪। রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২০.
নিচের কোনটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে? 
  1. ক) পেরিকার্ডিয়াম
  2. খ) যকৃত    
  3. গ) পলুরা 
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম 
ব্যাখ্যা
পেরিকার্ডিয়াম নামক পদার্থটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে। 

- দেহের যে প্রকোষ্ঠময় পেশল অঙ্গের নিরবিছিন্ন ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের কারণে সমগ্র দেহে রক্ত সংবাহিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- মানুষের হৃদপিণ্ড বক্ষগহ্বরে মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ-বরাবর বাম দিকে একটু বেশি বাঁকা হয়ে অবস্থিত।
- এটি দেখতে ত্রিকোণাকার; গোঁড়াটি চওড়া ও ঊর্ধ্বমুখী থাকে, কিন্তু সূচালো শীর্ষ দেশ নিচের দিকে পঞ্চম পাঁজরের ফাঁকে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাতলা দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। এর নাম পেরিকার্ডিয়াম।
- পেরিকার্ডিয়াম এর বাইরের দিক তন্তুময় পেরিকার্ডিয়াম এবং এর ভেতরের দিক সেরাস পেরিকার্ডিয়াম নামে পরিচিত।
- সেরাস পেরিকার্ডিয়াম আবার দুই স্তরে বিভক্ত, বাইরের দিকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভেতরের দিকে ভিসেরাল স্তর।
- প্যারাইটাল ও ভিসেরাল স্তর দুটির মাঝখানের পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড নামক তরল পদার্থ থাকে।
- হৃৎপিন্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি ও যোজক টিস্যু নিয়ে গঠিত। এর প্রাচীর গঠনকারী পেশীকে কার্ডিয়াক পেশি বলে।

সূত্র: National Library of Medicine Website [লিঙ্ক]
১,৬২১.
নিচের কোনটিকে হ্যাপ্লয়েড কোষ বলা হয়?
  1. ক) দেহ কোষ
  2. খ) আদি কোষ
  3. গ) জনন কোষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
- যথা: দেহ কোষ এবং জনন কোষ।
দেহ কোষ:
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। 
- যেমন: পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি।
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। 
- তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড কোষ বলা হয়। 
জনন কোষ: 
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। 
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। 
- যেমন: শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি। 
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক।
- তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড কোষ বলা হয়। 
১,৬২২.
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন-
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. বন্ধ হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদনের বাহ্যিক প্রভাবক:
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে প্রস্বেদনের হারও ওঠা-নামা করে।
- অধিক তাপে পানি সহজেই বাষ্পে পরিণত হতে পারে বলে প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- ফলে প্রস্বেদনের হারও দ্রুততর হয়।
- তাপমাত্রা কমে গেলে তাই স্বাভাবিক নিয়মেই প্রস্বেদনের হারও কমে যায়।

উল্লেখ্য,
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায় এবং বেশি থাকলে হার কমে যায়।
- আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়, ফলে প্রস্বেদনের হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অন্ধকারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকায় এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ুচাপ বৃদ্ধিতে বাষ্পীয়ভবন ক্রিয়া হ্রাস পায়, ফলে প্রস্বেদন কমে যায়। আবার বায়ুচাপ কমে গেলে বাষ্পীয়ভবন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং প্রস্বেদনের হারও বেড়ে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৩.
গুটি কলমের মাধ্যমে জন্মানো উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. জবা 
  2. পুদিনা 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আম 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: 
- কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। 
যথা- 
১। শাখা কলম দ্বারা: 
- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন উদ্ভিদ জন্মায় না কিন্তু উদ্ভিদের শাখা কেঁটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি। 

২। গুটি কলমের মাধ্যমে: 
- অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায় তখন শিকড়সহ শাখাটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি। 

৩। দাবা কলমের মাধ্যমে: 
- এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২৪.
কোন ধরনের শর্করা দেহে সরাসরি শোষিত হয়? 
  1. দ্বি-শর্করা
  2. বহু শর্করা
  3. সরল শর্করা
  4. আঁশজাতীয় শর্করা
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের সারণিতে এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো- 

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না, এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৫.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু?
  1. Fluid Connective Tissue
  2. Skeletal Connective Tissue
  3. Cuboidal Epithelial Tissue
  4. Fibrous Connective Tissue
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)
- রক্তের উপাদান দুইটি। 
যথা - রক্তরস ও রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরে রক্তরসের ৯১-৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। 
১,৬২৬.
বিষধর সাপ কামড় দিলে ক্ষত স্থানে কয়টি দাঁতের চিহ্ন থাকে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বিষধর সাপের বিষথলী সংযুক্ত থাকে সামনের দিকের দুটি উচু দাঁতের সাথে। এইধরনের সাপ কামড়ালে তাই দুটো দাঁতই আক্রান্ত ব্যাক্তির মাংসপেশিতে ঢুকে যায় বলে পাশাপাশি দুটো দাঁতের দাগ দেখা যায়।
১,৬২৭.
নিবেশিত ফলক বা ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক পাওয়া যায়-
  1. ক) হৃদপেশিতে
  2. খ) মসৃণ পেশিতে
  3. গ) ঐচ্ছিক পেশিতে
  4. ঘ) অনৈচ্ছিক পেশিতে
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডি প্রাণীদের হৃদপিন্ড এক ধরনের বিশেষ অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। এ বিশেষ ধরনের পেশিকে বলা হয় হৃদপেশি। এদের কোষগুলো নলাকৃতির (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির ন্যায়), শাখান্বিত এবং আড়াআড়ি দাগযুক্ত। এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে নিবেশিত ফলক বা ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক থাকে। এদের সংকোচন এবং প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। অর্থাৎ হৃদপেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির ন্যায় কিন্তু কাজ অনৈচ্ছিক পেশির ন্যায়। কাজ- এরা একটা ছান্দিক গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৬২৮.
অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নির্গত না হলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) স্কার্ভি
  2. খ) বহুমূত্র রোগ
  3. গ) গলগণ্ড
  4. ঘ) রিকেটস
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- আমরা যখন কিছু খাই, এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৪.০-৬.০ mMole\l কিংবা (৭০-১১০ মি.গ্রা./ডেসি.লি.)।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,৬২৯.
আদিকোষী বা প্রোক্যারিওটা অণুজীবের উদাহরণ হল-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
এক্যারিওটা বা অকোষীয়ঃ এসব অণুজীব এতই ছোট যে তা সাধারণ আলোক অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না। এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন- ভাইরাস।
প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষীঃ যেসব অণুজীবের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয় তারাই এ রাজ্যের সদস্য। সুগঠিত কেন্দ্রিকা না থাকায় এদের কোষকে আদিকোষ বলা হয়। যেমন- ব্যাকটেরিয়া।
ইউক্যারিওটা বা প্রকৃতকোষীঃ যেসব অনুজীব কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত তাদেরই প্রকৃত কোষ বলে। শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ ধরনের অণুজীব।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
১,৬৩০.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) লিউয়েন হুক
  3. গ) এহরেনবার্গ
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন । 
- তিনি তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- জার্মান বিজ্ঞানী  এহরেনবার্গ  ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।

সূত্র:
১. ব্রিটানিকা
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১,৬৩১.
What is the name of the outer layer of the heart?
  1. Endocardium
  2. Myocardium
  3. Mesocardium
  4. Epicardium
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশীকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩২.
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কোনটি?
  1. অক্সালো অ্যাসেটিক অ্যাসিড (OAA)
  2. ৩ -ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)
  3. ম্যালিক অ্যাসিড
  4. ৩- ফসফোগ্লিসার‍্যাল্ডিহাইড
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড। 

• C3 উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্য শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।

•  C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে। 
- C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে।। 
- কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট। 
- ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে।
- ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ। 
- বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়। 

• C3 চক্রের কার্যাবলী:  
- কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়।
- কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
- শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
- RuBP পুনরুদ্ধার: গ্লুকোজ তৈরির পর RuBP অণু পুনরায় C3 চক্রে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৬৩৩.
অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমজোমের আকার কেমন হয়?
  1. V
  2. I
  3. L
  4. J
ব্যাখ্যা
• সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমের আকার:
- সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন আকার ধারণ করে।

- মেটাসেন্ট্রিক: ইংরেজি V অক্ষরের মত।
- সাবমেটাসেন্ট্রিক: ইংরেজি L অক্ষরের মত।
- অ্যাক্রোসেন্ট্রিক: ইংরেজি J অক্ষরের মত।
- টেলোসেন্ট্রিক: ইংরেজি I অক্ষরের মত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৪.
রক্ত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. ফুসফুস
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
• সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম।

• রক্ত:

- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।
১,৬৩৫.
Hydra কোন পরিবেশে বাস করে? 
  1. মরুভূমি 
  2. শুষ্ক মাটি 
  3. মিঠা পানি 
  4. লবণাক্ত পানি 
ব্যাখ্যা

হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- Hydra এর নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- Hydra ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 

- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৩৬.
খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে - 
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
- সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরির এ প্রক্তিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। 
- খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল। 
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহণ করে সূর্য থেকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৩৭.
নিচের কোনটি আবর্জনাভূক প্রাণি?
  1. ক) শালিক
  2. খ) শকুন
  3. গ) ঘুঘু
  4. ঘ) দোয়েল
ব্যাখ্যা
আবর্জনাভুক (Scavenger) :
• কতিপয় মাংসাশী প্রাণি আছে যারা শুধুমাত্র তৃণভোজী প্রাণি খেয়ে বেঁচে থাকে না, এদের পাশাপাশি মাংসাশী প্রাণিও খায়। যেমন- হায়েনা, কুকুর, শিয়াল, শুকুন, কাক প্রভৃতি প্রাণি যে কোনো প্রাণির মৃতদেহকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
• এ জন্য এদেরকে বলা হয় আবর্জনাভুক।
• এরাও তৃতীয় স্তরের খাদক দলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৮.
মানুষের দৈহিক গঠনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়-
  1. ক) জিনগত বৈচিত্রের কারণে
  2. খ) প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের কারণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity)- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোঁলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৩৯.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?
  1. লালা
  2. পিত্তরস
  3. পেপসিন
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় হরমোন।

• 'গ্রন্থি':

- যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে।
- মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে-

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়, টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা।
২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি- ঘর্মগ্রন্থি, ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি, মেবোমিয়ান গ্রন্থি, যকৃত এবং মিউকাস।

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি: প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
- এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।

• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:
- কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়।
• ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত।
• এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪০.
কোন রাসায়নিকের প্রভাবে ফলের রং হলুদ হয়? 
  1. লাইকোপেন
  2. ক্যারোটিন
  3. জ্যান্থোফিল
  4. ক্লোরোফিল 
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা) ও জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এবং ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৬৪১.
কোনটি উচ্চ রক্ত চাপের লক্ষণ?
  1. বুক ধড়ফড় করা
  2. অল্প পরিশ্রমে হাঁপানি উঠা
  3. নাক দিয়ে রক্ত পড়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্ত চাপ: 
- উচ্চ রক্ত চাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্ত চাপকে উচ্চ রক্ত চাপ বলা হয়।
- এক জন পূর্ণ বয়ষ্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সিস্টোলিক চাপ ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ বা এর নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। 
- এ রক্ত চাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখন তাকে উচ্চ রক্ত চাপ বলে।

উচ্চ রক্ত চাপের লক্ষণ:
- মাথা ব্যথা, বিশেষ করে মাথার পেছন দিকে ব্যথা করা। 
- মাথা ঘোরা, ঘাড় ব্যথা। 
- বুক ধড়ফড় করা ও দুর্বল বোধ করা। 
- রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়া, 
- অনিদ্রা এবং 
- অল্প পরিশ্রমে হাঁপানি উঠা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪২.
সন্ধামালতি কোন ধরনের রুপান্তরিত মূল?
  1. ক) কন্দাকৃতি
  2. খ) রূপান্তরিত প্রধান মূল
  3. গ) অস্থানিক মুল
  4. ঘ) শাখা মূল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল কখনও বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। আকৃতিগত দিক থেকে এরা চার প্রকার যথা- ১। মূলাকৃতিমূল, ২। গাজরাকৃতিমূল ৩। শালগমাকৃতিমূল এবং ৪। কন্দাকৃতিমূল।
মূলাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূল মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের মধ্যভাগ মোটা কিন্তুদুই প্রান্ত ক্রমশ: সরু। যেমন - মূলা।
গাজরাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই, প্রধান মূলটি মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ: সরু হয়ে যায়। যেমন - গাজর।
শালগমাকৃতি মূল: এই ক্ষেত্রে প্রধান মূলটির উপরের অংশ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে গোলাকার এবং নিচের অংশ হঠাৎ করে সরু হয়ে যায়। যেমন - শালগম।
কন্দাকৃতি মূল: খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে কখনও কখনও প্রধান মূলটি অনিয়মিত ভাবে মোটা হয়। এদের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই। যথা- সন্ধামালতি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৬৪৩.
কোনটি শৈবালের চলনে সহায়তা করে?
  1. অ্যান্টেনা
  2. ফ্লাজেলা
  3.  সিলিয়া
  4. ছদ্মপদ
ব্যাখ্যা

*** শৈবালের চলনে সহায়তা করে ফ্লাজেলা

• শৈবাল:
- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, স্বভোজী জলজ উদ্ভিদ যাদের মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই।
- এরা সালোকসংশ্লেষণ করে এবং এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে, যেমন: শেওলা।
- এদের দেহ মূলত সেলুলোজ নির্মিত এবং এরা পরিবেশের আর্দ্র স্থানে জন্মে।

• শৈবালের গঠন:
- শৈবালের গঠনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: বাহ্যিক গঠন এবং কোষীয় গঠন।
- এরা আণুবীক্ষণিক থেকে অনেক দীর্ঘাকার হয়। বাদামি শৈবাল ৬০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ বা লম্বা হয়।
- এককোষী শৈবাল যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে তারা সচল, যেমন- Chlamydomonas এবং যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে না তারা নিশ্চল হয়, যেমন- Chlorella।
- অনেক প্রজাতি রয়েছে যারা কলোনি করে থাকে। প্রত্যেক কলোনিতে অনেকগুলো কোষ থাকে, যেমন- Volvox।
- বহু প্রজাতি রয়েছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। 
- শৈবালের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান।

- প্রোটোজোয়া-প্যারামিসিয়ামের চলন অঙ্গ হচ্ছে সিলিয়া।
- অ্যামিবার চলন অঙ্গ হচ্ছে ছদ্মপদ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪৪.
ফানজাইদের কোষপ্রাচীর কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. পেকটিন
  3. প্রোটিন
  4. কাইটিন 
ব্যাখ্যা

ফানজাই (Fungi): 
- ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। 
• এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
• এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
• এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
• এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
• এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৪৫.
দশ বছর বয়সের পর কত বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) ৩-৪ বছর
  2. খ) ১-৫ বছর
  3. গ) ২-৩ বছর
  4. ঘ) ৩-৮ বছর
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল হল শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করার মধ্যবর্তী সময় ।
এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে ।
আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানসিক আবেগের তীব্রতার উত্থান পতন ঘটে। এর ইংরেজি Adolescence ।
দশ বছর বয়সের পর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে। 

এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা আকস্মিক লম্বা হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। 
বয়ঃসন্ধিকালে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় - 
- শারীরিক পরিবর্তন
- মানসিক পরিবর্তন
- আচরণগত পরিবর্তন 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৬৪৬.
অ্যামিনো এসিড নিচের কোনটির গাঠনিক একক?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) ফ্যাট
  3. গ) স্টার্চ
  4. ঘ) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।
১,৬৪৭.
কোষ বিভাজনের সময় প্রাণী কোষের নিম্নোক্ত কোন উপাদানটির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) কোষঝিল্লি
  2. খ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. গ) গলগি বস্তু
  4. ঘ) সেন্ট্রোজোম
ব্যাখ্যা

প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদের সেন্ট্রিওল বলে। সেন্ট্রিওলের চারপাশে অবস্থিত গাঢ় তরলকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার এবং সেন্ট্রোস্ফিয়ারসহ সেন্ট্রিওলকে সেন্ট্রোজোম বলে।
সেন্ট্রোজোমে থাকা সেন্ট্রিওল কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার রে তৈরি করে। এছাড়া স্পিন্ডল যন্ত্র সৃষ্টিতেও সেন্ট্রোজোমের অবদান রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ফ্লাজেলা সৃষ্টিতে এরা অংশগ্রহণ করে।

১,৬৪৮.
ফলিক এসিড কোন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম?
  1. ভিটামিন বি১
  2. ভিটামিন বি৯
  3. ভিটামিন বি৬
  4. ভিটামিন বি৩
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত বিভিন্ন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম।
- B1 - Thiamin (থায়ামিন)। 
- B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)। 
- B3 - Niacin (নিয়াসিন)। 
- B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)। 
- B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)। 
- B7 - Biotin (বায়োটিন)। 
- B9 - Folate [folic acid) (ফোলেট, ফলিক এসিড)। 
- B12 - Cobalamin (কোবালামিন)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৪৯.
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়? 
  1. রিলাক্সিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যান্ড্রোজেন
  4. টেস্টোস্টেরন
ব্যাখ্যা

মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৫০.
প্রোটিনের কোন রাসায়নিক পদার্থটি দেহে বৃদ্ধি সাধন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
- প্রানি কোষের অন্যতম উপাদান হচ্ছে প্রোটিন। 
- প্রোটিনে নাইট্রোজেন থাকার কারণে দেহের বৃদ্ধিসাধন করে এবং ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের অভাব পূরণ করতে পারে। 
- প্রাণিজ প্রোটিনে অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড থাকার কারণে একে সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা হয়। 
- অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড কম থাকার কারণে উদ্ভিজ আমিষ অসম্পূর্ণ প্রোটিন হিসেবে চিহ্নিত। 
- প্রয়োজন অনুপাতে সময়মত প্রোটিন গ্রহণ অপরিহার্য।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৫১.
নিউক্লিয়াসের ভিতরের তরল ও স্বচ্ছ পদার্থ কোনটি?
  1. নিউক্লিওপ্লাজম
  2. ক্রোমাটিন তন্তু
  3. নিউক্লিওলাস
  4. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াস: 
- প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তুটি নিউক্লিয়াস। 
- নিউক্লিয়াস কোষের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নবীন কোষে এদের অবস্থান কোষের কেন্দ্রে, পরিণত কোষে এদের স্থান পরিবর্তন হতে পারে। 
- এরা গোলাকার তবে কখনও কখনও উপবৃত্তাকার বা নলাকার হতে পারে। 
- কোনো কোনো কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- একটি নিউক্লিয়াস প্রধানত (১) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন (২) নিউক্লিওপ্লাজম (৩) ক্রোমাটিন তন্তু ও (৪) নিউক্লিওলাস নিয়ে গঠিত। 

নিউক্লিয়ার মেমব্রেন: 
- এটি নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে। এই আবরণী সাইটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসের ভিতরের বস্তুগুলোকে আলাদা করে রাখে। একই সাথে এটি তরল পদার্থের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। 

নিউক্লিওপ্লাজম: 
- নিউক্লিয়াসের ভিতরের তরল ও স্বচ্ছ পদার্থটিই নিউক্লিওপ্লাজম। এর মধ্যে ক্রোমাটিন তন্তু ও নিউক্লিওলাস থাকে। 

ক্রোমাটিন তন্তু: 
- নিউক্লিয়াসের ভিতরে সুতার ন্যায় কুণ্ডলী পাকানো বা খোলা অবস্থায় যে অঙ্গাণুটি রয়েছে তাই ক্রোমাটিন তন্তু বলে। এটি জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়। এরা কোষের বৃদ্ধি বা যেকোনো ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। 

নিউক্লিওলাস: 
- নিউক্লিয়াসের ভিতরে বিন্দুর ন্যায় অতিক্ষুদ্র যে অঙ্গাণুটি ক্রোমাটিন তন্তুর সাথে লেগে থাকে, সেটিই নিউক্লিওলাস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬৫২.
নিচের কোনটি স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৫৩.
ইনসুলিন কোন ধরনের যৌগ?
  1. লিপিড
  2. নিউক্লিক এসিড
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি প্রোটিনজাত হরমোন
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৫৪.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 
• বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট। প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।  নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।
 
Lightening is a potent fertilizing agent. Every time it strikes, nitrogen in the atmosphere is combined with hydrogen or oxygen to form ammonium and nitrate, two forms of nitrogen. The nitrogen then goes into solution in atmospheric moisture and is washed to the ground in rainfall. Plants then absorb nitrogen from the ground and utilize it for growth. Since it is a key constituent in chlorophyll, the green pigment of plants, nitrogen causes a greening of the plant.
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu.
১,৬৫৫.
মাছ অক্সিজেন নেয়-
  1. ক) মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
  2. খ) পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
  3. গ) পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
  4. ঘ) পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
ব্যাখ্যা
মাছ ফুলকার সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহন করে বেঁচে থাকে।
১,৬৫৬.
কোনটি সালোকসংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) তাপমাত্রা
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবকসমূহ : সালোকসংশ্লেষণ কতগুলো প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলো বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ এ দু’ধরনের হয়।
বাহ্যিক প্রভাবকগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলো, কার্বন ডাই অক্সাইড, পানি, তাপমাত্রা, অক্সিজেন, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি।
অভ্যন্তরীণ প্রভাবকের মধ্যে রয়েছে- পাতার বয়স, পাতার অন্তর্গঠন, ক্লোরোফিল, শর্করার পরিমাণ, প্রোটোপ্লাজম, পটাসিয়াম, এনজাইম ইত্যাদি। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৭.
জরায়ুর সংক্রমণ জনিত গর্ভপাতের জটিলতা-
  1. ক) খিঁচুনি
  2. খ) মাথাব্যাথা
  3. গ) বমি
  4. ঘ) রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা
জরায়ুর গায়ের আবরণী কলাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এর সংক্রমণকে এন্ড্রোমেট্রাইটিস বলে।
জরায়ুর সংক্রামকজনিত গর্ভপাতের প্রথম ও প্রধান জটিলতা রক্তক্ষরণ।
১,৬৫৮.
হার্টের কোন প্রকোষ্ঠ ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে?
  1. বাম নিলয়
  2. বাম অলিন্দ
  3. ডান নিলয়
  4. ডান অলিন্দ
ব্যাখ্যা
মানব হৃদয় মোট ৪টি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত:
• ডান অলিন্দ (Right atrium): দেহ থেকে অশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে।
• ডান নিলয় (Right ventricle): সেই অশুদ্ধ রক্ত ফুসফুসে পাঠায় বিশুদ্ধ করার জন্য।
• বাম অলিন্দ (Left atrium): ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে। এটি পালমোনারি ভেইন (pulmonary vein) এর মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে।
• বাম নিলয় (Left ventricle): বাম অলিন্দ থেকে বিশুদ্ধ রক্ত পায় এবং দেহের অন্যান্য অংশে সরবরাহ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৬৫৯.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা হলো -
  1. ক) জিওলোজি
  2. খ) অ্যানথ্রপলোজি
  3. গ) এনটোমলজি
  4. ঘ) নিউরোলজি
ব্যাখ্যা
জিওলজি- ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান।
এনথ্রপলজি - নৃ বিজ্ঞান।
এনটোমলজি - কীট পতঙ্গ বিদ্যা।
নিউরোলজি - স্নায়ু বিষয়ক বিদ্যা।
ইকোলজি - বাস্তুসংস্থান।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৬৬০.
কোন প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে? 
  1. জোঁক
  2. কেঁচো
  3. মশা
  4. শামুক
ব্যাখ্যা
- 'মাছি'র দেহে প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে। 

অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী নানা ধরনের হয়। 
যেমন- 
• অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আকারে খুবই ছোটো, এদের খালিচোখে দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যামিবা। 
• একদলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের দেহ অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত থাকে। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 
• আরেক দলভুক্ত প্রাণী, এদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত নয় এবং দেহ সাধারণত শক্ত খোলসে আবৃত থাকে এবং মাংসল পা থাকে। 
যেমন- শামুক ও ঝিনুক। 
• পৃথিবীতে পতঙ্গ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ ও উদর। এদের সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
যেমন- প্রজাপতি, মশা, মাছি, তেলাপোকা, উইপোকা, মৌমাছি ইত্যাদি। 
• অনেক পতঙ্গ আছে যারা উপকার করে। এরা উপকারী পতঙ্গ। 
যেমন: মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি। 
• নানা রকম রোগ ছড়ায় এমন শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
যেমন- মশা ও মাছি। 
• অনেক পতঙ্গ আবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। 
যেমন- উইপোকা, লেদাপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি। 
• এমন কতকগুলো সামুদ্রিক প্রাণী আছে, যাদের ত্বকে কাঁটার মতো অংশ থাকে। 
যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা। 
• আরেক দলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহের ভিতর একটা ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে। এদের দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে এরা খাদ্য গ্রহণ করে আবার বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। 
যেমন- জেলী মাছ, প্রবালকীট। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬৬১.
অণুচক্রিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. প্লাজমায়
  2. যকৃতে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. হৃদপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬২.
ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. স্ট্রাসবুর্গার
  3. ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ক্রেমার
ব্যাখ্যা
• ক্রোমোজোম (Chromosome):
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত।
- বিজ্ঞানী স্ট্রাসবুর্গার (Strasburger) (1875) প্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে এর ডিপ্লয়েড (দুই সেট ক্রোমোজোম, যার একসেট পিতা থেকে আসে এবং আর একসেট মাতা থেকে আসে) সংখ্যা 2 হতে 1600 পর্যন্ত হতে পারে।
- একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত 3.5 থেকে 30.0 মাইক্রন এবং প্রস্থে 0.2 থেকে 2.0 মাইক্রন হয়ে থাকে। (1 মাইক্রন = 1/1000 মিমি)।
- ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া।
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical basis of heredity) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৬৩.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি স্তবক থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা

• ফুল:
- প্রজননের রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ হলো ফুল।
- ফুল উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি স্তবক থাকে। যথা:

১। পুষ্পাক্ষ:

- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।

২। বৃতি:

-  ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যাংশ বলে।
- প্রধান কাজ ফুলের ভেতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, এবং পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করা।
- সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।

৩। দলমন্ডল:

- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
- অনেক সময় ফুলের পাপড়ি কোন কোন পোকামাকড়কে বসে মধু খেতে সাহায্য করে।

৪। পুংস্তবক:

- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫। স্ত্রীস্তবক:

- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) জীব বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৪.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত কয়টি ধাপ আছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে মূলত আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যেমন- রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি।

সূত্রঃ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই নবম-দশম শ্রেণি

১,৬৬৫.
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের কোথায় খাদ্য তৈরি হয়?
  1. মূলে
  2. ফুলে
  3. পাতায়
  4. কাণ্ডে
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ: 
- একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায়। 
১। মূল: 
- উদ্ভিদের পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন অংশই মূল। 
- সাধারণত মনে করা হয় উদ্ভিদের মাটির নিচের অংশই মূল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ বক্তব্যটি সত্য তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কাণ্ড, পত্র, ফুল, ফল মাটির নিচের জন্যে, যেমন-আদা, হলুদ, পিয়াজ ইত্যাদি। 
বিটপ: 
- উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। 
- বিটপে কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে। 
- কাণ্ডে পর্ব, পর্বমধ্য ও শীর্ষ মুকুল থাকে। 
- ফুলগুলো পাতার কক্ষে উৎপন্ন হয়। 
- ফুলে বৃতি, দল, পুংকেশর ও গর্ভাশয় থাকে। 

২। কাণ্ড: 
- প্রধান মূলের সাথে লাগানো মাটির উপরে উদ্ভিদের অংশটি কাণ্ড। কাণ্ডের গায়ে পর্ব ও পর্ব মধ্য থাকে। পর্ব থেকে পাতা উৎপন্ন হয়। কাণ্ড পাতা ও শাখা প্রশাখার ভার বহন করে। 

৩। পাতা:
- শাখা প্রশাখার গায়ে সৃষ্ট চ্যাপ্টা সবুজ অঙ্গটিই পাতা বা পত্র। পাতায় খাদ্য তৈরি হয়। 

৪। ফুল: 
- পত্র কক্ষে সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল হয়। এই ফুল থেকে ফল হয়। 

৫। ফল: 
- ফুল বুড়ো হয়ে ঝরে যায়। ঝরা ফুলের গোড়ায় ফুলের যে অংশটি থেকে যায় তা বড় হয়ে ফল সৃষ্টি করে। গর্ভাশয়ই বড় হয়ে ফলে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬৬৬.
ভেসেল কোন উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান? 
  1. জিমনোস্পার্ম 
  2. ব্রায়োফাইট 
  3. টেরিডোফাইট 
  4. অ্যানজিওস্পার্ম 
ব্যাখ্যা

ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 
- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৭.
যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস কোথায় জমা থাকে?
  1. পাকস্থলীতে
  2. ক্ষুদ্রান্ত্রে
  3. বৃহদান্ত্রে
  4. পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ বা লিভার থেকে পিত্তরস উৎপন্ন এবং নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত হওয়ার পর এই পিত্তরস পিত্তনালীর মাধ্যমে গিয়ে পিত্তথলিতে (Gallbladder) জমা থাকে এবং সেখানে ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে যখন চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তখন পিত্তথলি থেকে এই রস ক্ষুদ্রান্ত্রে এসে মেশে এবং চর্বি হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্রান্ত্র হলো যেখানে পিত্তরস কাজ করে, কিন্তু এটি এখানে জমা থাকে না। 

যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৮.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়? 
  1. দস্তা 
  2. ফসফরাস 
  3. বোরন 
  4. কপার 
ব্যাখ্যা

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬ টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: 
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ বা আয়রন (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৬৯.
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে নির্গত হয় -
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. ATP
  4. শর্করা
ব্যাখ্যা
শ্বসন:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যদ্রব্য (শর্করা, প্রোটিন, লিপিড ইত্যাদি) এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাহায্যে জারণের মাধ্যমে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিণত হয়; 
- এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলা হয়
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা জীবের শক্তি ব্যয়কারী জৈবনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজমে শ্বসন ক্রিয়া সংঘটিত হয়।
- তবে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।
- শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়;
- যথা: সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটি সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে
- ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭০.
শুক্রাণু এক ধরনের -
  1. ক) দেহকোষ
  2. খ) স্নায়ুকোষ
  3. গ) ত্বককোষ
  4. ঘ) জননকোষ
ব্যাখ্যা
-  শুক্রাণু ও ডিম্বাণু হচ্ছে জননকোষ।
- পুং জনন কোষকে শুক্রাণু ও স্ত্রী জনন কোষকে ডিম্বাণু বলা হয়।
- একটি পরিণত শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে। যথা:  ১। মস্তক, ২। মধ্যখন্ড, ৩। লেজ ।
- স্ত্রী প্রজননতন্ত্র পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা:  ১। ডিম্বাশয় ২। ফেলোপিয়ান নালী ৩। জরায়ু ৪। যোনি ৫। বহিঃযৌনাঙ্গ।
- লোহিত রক্তকণিকা, ত্বককোষ, স্নায়ুকোষ ইত্যাদি দেহকোষ।


সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭১.
কোনো জীব থেকে অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট জীবকে বলে-
  1. ক) অণুজীব
  2. খ) ভ্রুণ
  3. গ) ক্লোন
  4. ঘ) জীন
ব্যাখ্যা
কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন। সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
১,৬৭২.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজে এরিল নামক স্তর পাওয়া যায় না? 
  1. লিচু
  2. শাপলা
  3. সফেদা
  4. জায়ফল
ব্যাখ্যা
বীজ সৃষ্টি: 
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উভয় প্রকার উদ্ভিদে ডিম্বক থেকে বীজ সৃষ্টি হয়। 
- নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়। 
- ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। 
- রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। 
- এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল বলে। 
- লিচু ও জায়ফলে এরিল পাওয়া যায়। 
- শাপলা বীজেও এরিল থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৩.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Agaricus
  2. Chara
  3. Psilotum
  4. Spirogyra
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
• Pteris, 
Psilotum
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৪.
Vertebrata প্রাণীর প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
  1. বৃক্ক 
  2. ত্বক 
  3. ফুসফুস 
  4. শ্বাসনালী 
ব্যাখ্যা

উপপর্ব-ভার্টিব্রাটা: 
- Vertebrata (ল্যাটিন vertebratus = মেরুদণ্ড)- কর্ডাটা পর্বের যে সকল প্রাণীর ভ্রূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থি অথবা অস্থি গঠিত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তারা Vertebrata উপপর্বের প্রাণি। 
- অস্থিময় বা তরণাস্থিময় ক্রেনিয়াম (cranium) এর ভিতর মস্তিষ্ক অবস্থান করে বলে এর অপর নাম Cranita । 
- এদেও প্রজাতির সংখ্যা ৬৫,৭৮৯টি। 

বৈশিষ্ট্য: ১। নটোকর্ড অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় কশোরুকাবিশিষ্ট মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত। 
২। পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড গঠন করে। 
৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। 
৪। মেসোডার্মাল বৃক্ক (kidney) প্রধান রেচন অঙ্গ। 
৫। পার্শ্বীয় জোড়া উপাঙ্গ (পাখনা বা পদ) চলন অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৫.
রক্তের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন ও চর্বি 
  2. ভিটামিন ও খনিজ 
  3. প্লাজমা ও রক্তকোষ 
  4. লোহা ও গ্লুকোজ 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- প্রাণীদেহের রক্ত একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যেটি মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তে লাল রঙয়ের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্তের প্রধান উপাদানগুলো হলো রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকোষ। 
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকোষ। 
- রক্তরসকে আলাদা করলে এটি হালকা হলুদ বর্ণের দেখায় এবং রক্তকোষগুলো এই রক্তরসে ভাসমান থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৭৬.
নিচের কোনটি C4 উদ্ভিদ?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) ডাটাশাক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দু’জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট।
এ চারকার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।

যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৭.
পিত্তরসের প্রধান রঞ্জক পদার্থ কোনটি?
  1. বিলিরুবিন
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. কোলেস্টেরল
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
- রক্তের লোহিত কণিকা তার আয়ু শেষে (১২০ দিন পর) প্লীহায় জমা হতে থাকে। প্লীহায় উপস্থিত ম্যাক্রোফেজ মেয়াদোত্তীর্ণ লোহিত রক্তকণিকাকে ভক্ষণ করে।
- ফলশ্রুতিতে হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকা থেকে বাইরে বের হয়ে আসে এবং বিলিরুবিন নামক রঞ্জক পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
- এই রঞ্জক পদার্থ যকৃতে যেয়ে আরো রূপান্তরিত হয়ে বিলিরুবিন হয় এবং পিত্তরস এর মাধ্যমে দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica
১,৬৭৮.
কার্বোহাইড্রেটে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজনের অনুপাত কত?
  1. ক) ১ : ১ : ২
  2. খ) ১ : ২ : ১
  3. গ) ৪ : ৪ : ১
  4. ঘ) ২ : ১ : ১
ব্যাখ্যা
শর্করা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হল এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- যার প্রতিটি অণুতে কার্বনের(C) সাথে হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O) থাকে।
- এতে কার্বন(C), হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O)- এর অনুপাত ১ : ২ : ১।
১,৬৭৯.
মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) পরিপাকে সহায়তা করা
  2. খ) শ্বসনে সহায়তা করা
  3. গ) সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শ্বসনে সহায়তা করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
মাইটোকন্ড্রিয়া হল প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে থাকে। তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইত্যাদি সংঘটিত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।

শ্বসন: 
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন বলে। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়।

শ্বসনের তাপমাত্রা:
• শ্বসনের জন্য সাধারণত উত্তম তাপমাত্রা ২০°C - ৪৫°C সেলসিয়াস।
• ১০°C  সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫°C  সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসনের হার কমে যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১,৬৮০.
ব্যাকটেরিয়া কোন কিংডমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) ইউক্যারিওটা
  3. গ) প্রোটিস্টা
  4. ঘ) ফানজাই
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া মনেরা কিংডমের অন্তর্ভুক্ত৷ এরা এক কোষী জীব৷ এদের কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
১,৬৮১.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদানের মধ্যে পড়ে?
  1. আয়রন
  2. নাইট্রোজেন
  3. দস্তা
  4. বোরন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যেগুলো উদ্ভিদের প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন- নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), এবং পটাশিয়াম (K) ইত্যাদি। 

উদ্ভিদের খনিজ ও পুষ্টি উপাদান: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৬৮২.
বৃক্কের আবরণীকে বলা হয় -
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) ক্যাপসুল
  4. ঘ) পেরিঅস্টিয়াম
ব্যাখ্যা
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ যার সাহায্যে দেহের ৮০% রেচন কার্য সম্পন্ন হয়।
- বৃক্ক এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। একে ক্যাপসুল বলা হয়।
- ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স (Cortex) বলে। এর ভেতরের অংশকে মেডুলা (Medula) বলা হয়। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে, 
» ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
» হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
» অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) ও জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৬৮৩.
কোন পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই?
  1. Echinodermata
  2. Annelida
  3. Arthropoda
  4. Platyhelminthes
ব্যাখ্যা
• Echinodermata পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই।

• Echinodermata:

- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী।
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০।
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন।

• Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য।
- এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
- এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- মস্তক অনুপস্থিত।
- দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান।
- এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক।
- রেচনতন্ত্র নেই।
- উদাহরণ: Astropecten (এস্ট্রোপেকটেন), Echinus (একাইনাস), Cucumaria (কুকুমারিয়া) ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
- Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৬৮৪.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. সীমাবদ্ধ এনজাইম
ব্যাখ্যা
• সীমাবদ্ধ এনজাইম:
- সীমাবদ্ধ এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৬৮৫.
পাথরকুচি কিসের মাধ্যমে জনন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে?
  1. ক) যৌন জনন
  2. খ) কলম
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) রাইজোম
ব্যাখ্যা
পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জননঃ
কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়৷
যেমন- পাথরকুচি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
১,৬৮৬.
রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে কী বলা হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. লিউকোসাইট 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. রক্তকোষ 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬৮৭.
লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য কোন ক্রোমোজোম দায়ী?
  1. অটোসোম
  2. সেক্স ক্রোমোজোম
  3. সব ক্রোমোজোম
  4.  ২২ জোড়া অটোসোম
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৮৮.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক তন্তু?
  1. রেয়ন
  2. ভিসকাস
  3. অ্যাসবেটস্‌
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক তন্তু:
- প্রাকৃতিক উৎস এবং খনিজ হতে যে সমস্ত তন্তু পাওয়া যায় সেগুলোকে প্রাকৃতিক তন্তু বলা হয়। যেমন - তুলা, পাট, উল, সিল্ক ও অ্যাসবেসটস ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক তন্তু।
- এই জাতীয় তন্তুর মধ্যে কার্পাস তুলা বা কটন সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রাকৃতিক তন্তু।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত বস্ত্রাদির অর্ধেকেরও বেশি চাহিদা মেটানো হয় প্রাকৃতিক তন্তু থেকে।

প্রাকৃতিক তন্তুকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা
১) উদ্ভিজ তন্তু
২) প্রাণিজ তন্তু এবং
৩) খনিজ তন্তু।

উদ্ভিজ তন্তু: উদ্ভিদ থেকে যে সব তন্তু পাওয়া যায় সেগুলোকে উদ্ভিজ তন্তু বলে। পাট, তুলা ইত্যাদি এ জাতীয় তন্তুর উদাহরণ।

প্রাণিজ তন্তু: প্রাণিজ উৎস থেকে যে সব তন্তু পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ তন্তু বলে। পশম বা উল এবং রেশম প্রাণিজ তন্তুর উদাহরণ।
- পশম জাতীয় তন্তু তৈরি হয় ভেরা বা মেষ, খরগোশ, উট এবং বিভিন্ন এ জাতীয় পশুর লোম বা চুল থেকে।
- উলের তন্তুর তল অমসৃণ থাকায় এর মধ্যে বাতাস আঁটকে থাকে। তাই উলের তৈরি পোশাক পরলে বেশ গরম অনুভূত হয়।
- পলু পোকা নামে এক জাতীয় পোকার গুটি থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়।
- প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে শক্ত। তুতে নামক গাছের পাতা খেয়ে রেশম পোকা গুটি বাধে। সে গুটি থেকে সিল্ক আহরণ করা হয়। বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার রেশম পৃথিবী বিখ্যাত।

খনিজ তন্তু: খনিতে কঠিন শিলার স্তরের ভাঁজে ভাঁজে জমা এক প্রকার আঁশ থেকে যে তন্তু পাওয়া যায় তাকে খনিজ তন্তু বলে।
- অ্যাসবেসটস (Asbestos) ধাতব তন্তু এ জাতীয় তন্তুও উদাহরণ।
- ইনসুলেশন, অগ্নিরোধক ও শব্দরোধক ইত্যাদিতে তন্তু হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
- এই তন্তু অগ্নিনিরোধক হিসেবে জাহাজ এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হতো।
- কিন্তু এ তন্তুতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রয়েছে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে। তাই এর ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে,
- রেয়ন ও ভিসকাস হলো কৃত্রিম (সেলুলোজিক) তন্তু।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৯.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক) ক্যালোরিমিটার
  2. খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. গ) অক্সানোমিটার
  4. ঘ) পোটোমিটার
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

অপশনগুলোর মধ্যে অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো  ক্যালরিমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৯০.
'বেরিবেরি' রোগ হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
  1. ক) ভিটামিন বি-১
  2. খ) ভিটামিন বি-২
  3. গ) ভিটামিন বি-৬
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
- দেহে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) এর চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এর অভাবে স্নায়ু দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। 
- ভিটামিন বি-২ এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়। 
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূণ্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়। 

সূত্র: সধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯১.
প্রতিটি নিউরনের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ু টিস্যু বা নার্ভ টিস্যু বলে। স্নায়ু টিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন।
মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। প্রতিটি নিউরনে তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা - কোষদেহ, ডেনড্রন এবং এক্সন।

রেফারেন্সঃ
Neurons are made up of three major parts: a cell body, or soma, which contains the nucleus of the cell and keeps the cell alive; a branching treelike fiber known as the dendrite, which collects information from other cells and sends the information to the soma; and a long, segmented fiber known as the axon, which transmits information away from the cell body toward other neurons or to the muscles and glands.
#Source: University of Minnesota, Open Library.

A neuron has three main parts: dendrites, an axon, and a cell body or soma
#Source: Queensland Brain Institute, The University of Queensland.

Some of the sources like Molecular Cell Biology, 4th edition by Harvey Lodish states that there are 4 major parts of a Neuron cell.
"Although the morphology of various types of neurons differs in some respects, they all contain four distinct regions with differing functions: the cell body, the dendrites, the axon, and the axon terminals"

And, a basic source too,
Neurons are composed of three main parts: dendrites, a cell body, and an axon.
#Source: Khan Academy Lecture.
-----------
নবম দশমের অনুসারে দেখলেও প্রশ্নে প্রধান অংশ কয়টি এটা চাওয়া হয়নি। মোট কয়টি অংশ থাকে সেটা চাওয়া হয়েছে।

এটাতে মতভেদ থাকতে পারে। এরকম হাজারটা প্রশ্ন চাকরির পরীক্ষায় এসেছে, হাজারটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং হবে। কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে প্রশ্নকর্তা কোনটাকে ঠিক ধরবেন। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে, এরকম প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তা যেটাকে ঠিক ধরেছেন সেটাই সঠিক হবে।
এতো প্রশ্নের মধ্যে এমন কয়েকটা থাকবেই যেগুলোর উত্তর একেকজন একেভাবে ধরেন। মূল প্রশ্নে যদি এমন বিভ্রান্তি থাকে তাহলে এখানেও থাকতে পারে।

১,৬৯২.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. ক) ডলি
  2. খ) মলি
  3. গ) ইভ
  4. ঘ) ইয়ান
ব্যাখ্যা
প্রথম ক্লোন মানব শিশু (কন্যা শিশু) এর নাম ইভ।
সূত্রঃ ২৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১,৬৯৩.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে আর কী নামে ডাকা হয়? 
  1. রেপ্লিকেশন
  2. জিন ক্লোনিং
  3. ট্রান্সক্রিপশন
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৪.
নিচের কোনটি ছত্রাক নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) ইউগ্লেনা
  4. ঘ) মাশরুম
ব্যাখ্যা
ইউগ্লেনা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব। এদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত। এরা এককোষী, একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ও মাশরুম এইগুলো ছত্রাক বা ফানজাই রাজ্যের জীব। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,৬৯৫.
লুপ অফ হেনলি শরীরের নিম্নলিখিত কোন অঙ্গের অংশ?
  1. প্লীহা
  2. হৃৎপিন্ড
  3. যকৃৎ
  4. বৃক্ক
ব্যাখ্যা
• লুপ অফ হেনলি হলো বৃক্কের (Kidney) নেফ্রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের মূল কার্যকরী একক, যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে প্রস্রাব উৎপাদন করে।
- লুপ অফ হেনলি নেফ্রনের একটি লুপের মতো অংশ, যা প্রস্রাব গঠন ও রক্তের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

লুপ অফ হেনলির কার্যক্রম:
- জল পুনরায় শোষণ:
- লুপ অফ হেনলি রক্তের পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এটি শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রস্রাবে পানির ঘনত্ব বাড়ায় বা কমায়।

- ইলেকট্রোলাইট শোষণ:
- সোডিয়াম (Na⁺) এবং ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়নের পুনঃশোষণ ঘটায়।

- প্যাথওয়ে:
- এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ডিসেন্ডিং লিম্ব (Descending limb): যেখানে পানি পুনঃশোষণ হয়।
- অ্যাসেন্ডিং লিম্ব (Ascending limb): যেখানে ইলেকট্রোলাইট শোষণ হয়।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- ক) প্লীহা (Spleen):
- প্লীহা রক্ত সঞ্চালন এবং ইমিউন সিস্টেমের জন্য কাজ করে।

- খ) হৃৎপিন্ড (Heart):
- হৃৎপিন্ড রক্ত পাম্প করার জন্য দায়ী।

- গ) যকৃৎ (Liver):
- যকৃৎ বিপাক প্রক্রিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৬৯৬.
Which is the largest part of the human brain?
  1. Thalamus
  2. Cerebrum
  3. Hypothalamus
  4. Medulla oblongata
  5. Cerebellum
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৭.
বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার-
  1. অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. কমে যায়
  4. বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদের প্রস্বেদনের হার বৃদ্ধি পায়। কারণ, প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের পাতার ছিদ্র (স্টোমাটা) দিয়ে জলীয় বাষ্পের ক্ষরণ। যদি বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা কম থাকে, অর্থাৎ বায়ু শুকনো থাকে, তাহলে পাতার ভিতরের জলীয় বাষ্প এবং বাইরের বায়ুর মধ্যে আর্দ্রতার পার্থক্য বেড়ে যায়। এই পার্থক্য যত বেশি, জলীয় বাষ্পের প্রবাহ তত তীব্র হয়। ফলে উদ্ভিদ বেশি জল হারায় এবং প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রস্বেদন কমে যায়। তাই আর্দ্রতা কমলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। সঠিক উত্তর হলো ঘ) বেড়ে যায়।
 
প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ অব্যাহতভাবে তার মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করে এবং সেই পানি পাতা পর্যন্ত পৌছায়। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত পানির সামান্য অংশই তার বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় খরচ হয় এবং বেশির ভাগই (শতকরা ৯৯ ভাগ পর্যন্ত) বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়।
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। 
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। 
- বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলেছেন। 
- গ্যানং পটোমিটার এর সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়। 

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: 
- যে পথে পানি বাষ্পাকারে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর হতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সে পথের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে প্রস্বেদনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- 
(১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১,৬৯৮.
বংশগতির বাহক জিনের রাসায়নিক কী দিয়ে তৈরি?
  1. অ্যামিনো অ্যাসিড
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ডিএনএ
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

◉ জিন আসলে DNA-এর একটি অংশ। DNA হলো নিউক্লিক অ্যাসিড, যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর ভেতরে চারটি নাইট্রোজেন বেস (A, T, G, C) নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে, যা জিনগত তথ্য নির্ধারণ করে।

• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৯৯.
শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ কোনটি? 
  1. বর্গ 
  2. শ্রেণি 
  3. গণ 
  4. প্রজাতি 
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 

- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৭০০.
ভিটামিন - ই এর কাজ -
  1. জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে
  2. নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে
  3. অকাল বার্ধক্য রোধ করে
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন - ই (Vitamin - E):

• ভিটামিন - ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
• এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

- ভিটামিন - ই এর উৎস:
• সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন - নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস। শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
• ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

- ভিটামিন - ই এর কাজ:
•  ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
• জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
• নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
• নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
• অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
• ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

- ভিটামিন - ই এর অভাবজনিত অবস্থা: 
• নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
• ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• গর্ভপাত হতে পারে।
• অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।