ব্যাখ্যা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনােব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি।
একাইনােডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা ইত্যাদি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলাে- কেঁচো, জোঁক ইত্যাদি।
হোমো সেপিয়েন্স মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৫ / ৪২ · ১,৪০১–১,৫০০ / ৪,২০৮
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনােব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি।
একাইনােডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা ইত্যাদি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলাে- কেঁচো, জোঁক ইত্যাদি।
হোমো সেপিয়েন্স মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
পরিপাক নালি:
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত।
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র (ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম), বৃহদন্ত্র (সিকাম, কোলন ও মলাশয়) দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত।
• পাকস্থলি:
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মাঝখানে বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি।
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি।
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- পাকস্থলির প্রাচীর পেশীবহুল এবং নলাকার গ্রন্থি সমৃদ্ধ।
• কাজ:
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- গ্যাস্ট্রিন হরমোন গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। গ্যাস্ট্রিক জুসের ৯৯.৪৫% পানি।
- পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে নিঃসৃত HCI জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
- মিউসিন HCI-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে।
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো HCI-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• যকৃৎ (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এর রং লালচে খয়েরি।
যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে। এ কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে। পিত্তরসের মধ্যে পানি, পিত্ত-লবণ, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ প্রধান।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে। এখানে পিত্তরস জমা হয়। পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তরস ডিওডেনামে এসে পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়। পিত্তরসে কোনো উৎসেচক বা এনজাইম থাকে না।
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই পরিবেশ খাদ্য পরিপাকের অনুকূল। কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
• গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি (Gastric glands):
গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, অ্যামাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা পাচক রস নামে পরিচিত।
• আন্ত্রিকগ্রন্থি (Intestinal glands):
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে ভিলাইয়ে আন্ত্রিকগ্রন্থি থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসের নাম আন্ত্রিক রস।
উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
মৌমাছির জাত:
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে।
যেমন- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ।
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন লক্ষ করা যায়।
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে।
রাণী মৌমাছি গঠন:
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে।
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়।
- এদের উদর বেশ প্রশস্ত।
- এদের ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্ত ক্রমশ সরু।
- এ সরু প্রান্তে বাঁকানো হুল থাকে যা রূপান্তরিত ওভিপজিটর।
- এদের প্রোবোসিস ও রেণুখলি থাকে না, পদ ক্ষুদ্রাকৃতির, ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ, মোম ও মধু সৃষ্টি করতে পারে না, লালাগ্রন্থি নেই।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes):
- ইনসুলিন একটি হরমোন, এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে, এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে।
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের। যথা- টাইপ-1 এবং টাইপ-2।
- টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন অবস্থা। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে (Beta cells) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে অগ্ন্যাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা একেবারেই সামান্য তৈরি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়।
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়।
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে।
- এই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।
- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- লক্ষণগুলো হলো ঘন-ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি।
- পূর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয়। এ ধারণাটি সঠিক নয়। ছোট-বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
- তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই কোনো ব্যক্তির বাবা, মা, দাদা, দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি।
- বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়, ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যেমন-
ফসফরাস:
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়।
পটাশিয়াম:
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে।
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম।
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হয়।
নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়।
- জীবকোষের DNA, RNA প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
লসিকাতন্ত্র:
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়।
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে।
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে।
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” বলে।
- অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে।
লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়- পোলিও, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।
• ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।
উল্লেখ্য,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• রক্তরস বা প্লাজমা:
- রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন O2, CO2 এবং নাইট্রোজেন জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
- জৈব পদার্থগুলো হলো:
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি।
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্ড্রুটিনিন ইত্যাদি।
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন।
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ।
• রক্তরসের কাজগুলো হচ্ছে:
১. রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা।
৩. শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।
- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
- এরা মাটির নিচে বাস করে।
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে উপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে।
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্যাখ্যা:
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু বলা হয়।
মায়ের অপুষ্টি, মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণে শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে।
উৎসঃ প্রথম আলো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আর্কাইভ।
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর।
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- 'Fauna' বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- তাই Fauna অর্থ প্রাণিকূল এবং Flora অর্থ উদ্ভিদকূল।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
গ) দোয়েল পাখি
দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali, ইত্যাদি।
উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
- জৈবপ্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- কার্ল এরেকি ছিলেন একজন হাঙ্গেরিয়ান কৃষি প্রকৌশলী।
- 'বায়োটেকনোলজি' শব্দটি ১৯১৯ সালে তিনি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন।
- কেউ কেউ তাকে জৈবপ্রযুক্তির ''পিতা'' বলে মনে করেন।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
স্যূটিমোল্ড রোগের কারণে ফল গাছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- এ রোগের আক্রমনে পাতায়, ফলে ও কান্ডে কাল ময়লা জমে। মিলিবাগ বা সাদা মাছির আক্রমন এ রোগ ডেকে আনে।
- প্রোপিকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন টিল্ট ৫ মিলি/১ মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।
উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
ব্যাখ্যা:
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C3 চক্র অনুসরণ করে ধান, গম, বার্লি, আম, জাম, কাঁঠালসহ ৮৫% উদ্ভিদ।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C4 চক্র অনুসরণ করে ভুট্টা, ইক্ষু, সরগাম, ক্র্যাব ঘাস, মিল্ল্যাত, কাউন, চিনা, গিনি ঘাস ইত্যাদি।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ক্রাসুলেসিয়ান এসিড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে Crassulacae গোত্রের (পাথরকুচি গোত্র) উদ্ভিদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
কোষের ভিতরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রােটোপ্লাজম বলে একে জীবনের ভিত্তি বলা হয়।
এর তিনটি অংশ, যথা – কোষ ঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
এইডস রোগ:
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)।
- এটি একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়।
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)।
- AIDS রোগের সংক্রমণ করে এক ধরনের ভাইরাস যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV)।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- নগ্নবীজী (Gymnosperm) এবং আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বীজের আবরণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় (ovary) থাকে না এবং ফল উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় থাকে যা নিষিক্তকরণের পর ফলে পরিণত হয়।
অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।
সপুষ্পক উদ্ভিদ:
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি।
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে।
- এরা প্রধানত দুই ধরনের।
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে।
উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
- কাগজ তৈরির প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো সেলুলোজ। এটি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের মূল উপাদান যা সাধারণত কাঠ, বাঁশ, তুলা বা ঘাসের মতো উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
সেলুলোজ:
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত।
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে।
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ।
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%।
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়।
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে।
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম।
- সেলুলোজের কাজ হচ্ছে উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করা।
সেলুলোজের ব্যবহার:
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হিসেবে থাকে।
- সেলুলোজকে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়।
- সেলুলোজকে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পুষ্টি উপাদানে শক্তি:
- খাদ্য দেহে পুষ্টি এবং শক্তি প্রদান করে।
- খাদ্যের ছয়টি প্রধান উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ এবং চর্বি জাতীয় উপাদানগুলি প্রধানত শক্তি সরবরাহ করে।
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি তাপ শক্তি হিসেবে পরিচিত, যার একক হলো ক্যালরি।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ শক্তি প্রয়োজন, তা এক ক্যালরি হিসাবে গণ্য হয়।
- এক ক্যালরি পরিমাপকে কিলোক্যালরি বলা হয়।
- দেহের মাংসপেশির সংকোচন ও সম্প্রসারণের উপর শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।
- একজন ব্যক্তির দৈনিক শক্তির চাহিদা মূলত তিনটি বিষয় দ্বারা নির্ধারিত হয়।
• মৌলবিপাক (Basal Metabolic Rate- BMR),
• দৈহিক পরিশ্রমের ধরন এবং
• খাদ্যের প্রভাব।
- এদের পাশাপাশি শারীরিক বৃদ্ধি, অবস্থা এবং আবহাওয়ার প্রভাবেও শক্তির চাহিদা পরিবর্তিত হয়।
- খাদ্য শক্তির আন্তর্জাতিক একক হিসেবে জুল (Joule) ব্যবহার করা হয়।
• ১০০০ জুল = ১ কিলোজুল,
• ১০০০ কিলোজুল = ১ মেগাজুল,
• ১ কিলোক্যালরি = ৪১৮০ জুল = ৪.১৮ কিলোজুল।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।
উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আমাশয় (Dysentery):
- Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রোটোজোয়া, সিগেলা (Shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণে আমাশয় হয়।
- ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম না হওয়া আমাশয় রোগের লক্ষণ।
- আমাশয় হলে প্রয়োজনে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে।
- এ রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে তা হলো-
• বিশুদ্ধ পানি পান করা,
• শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধৌত করা,
• মল ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া,
• স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা,
• খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।