বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৪ / ৪২ · ১,৩০১১,৪০০ / ৪,২০৮

১,৩০১.
টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট প্রয়োজন?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) মোলিবডেনাম
  3. গ) ম্যাংগানিজ
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিনের প্রয়োজন।
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন।
- টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩০২.
ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ভাষা হবে-
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ইংরেজি
  4. ইটালিক
ব্যাখ্যা
• ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের উল্লেখযোগ্য নিয়মাবলি নিম্নরূপ:

- উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী।
- নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে রোমান।
- দ্বিপদী নাম ছাপার অক্ষরে লিখতে হলে ইটালিক হরফে লিখতে হবে।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital letter এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে।
- হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক পৃথকভাবে দাগ টানতে হবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোন উদ্ভিদের বর্ণনা দিবেন দ্বিপদী নামের শেষে তাঁর নামও সংক্ষিপ্তভাবে সংযোজন করতে হবে।

উল্লেখ্য, Systema Naturae গ্রন্থের দশম সংস্করণে (১৭৫৮) ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে দ্বিপদ নামকরণ নীতি প্রবর্তন করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩০৩.
জীববিজ্ঞানের জনক কে?
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) ঋষি অর্থবান
  4. ঘ) ডারউইন
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় প্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা বা গবেষণার যিনি সূত্রপাত করেন তাকে বিজ্ঞানের ঐ শাখার জনক বলা হয়ে থাকে।

উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২), তাই অ্যারিস্টটল (Aristotle)-কে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তবে এরও বেশ আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ঋিষি অথবান, সুম্ভূত প্রভৃতি ব্যক্তিগণ উদ্ভিদ ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে ছিলেন।


উৎস:  বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৩০৪.
প্রাণী জগতের কয়টি পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত?
  1. ৮ টি
  2. ৪ টি
  3. ২ টি
  4. ১ টি
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

- প্রাণীজগৎ এ মুুুখ্য পর্ব মোট ৯টি।এগুলো হল:

১.পরিফেরা - (Porifera)
২. নিডারিয়া - (Nidaria)
৩. প্লাটিহেলমিনথেস - (Platyhelminthes)
৪. নেমাটোডা - (Nematoda)
৫. অ্যানেলিডা - (Annelida)
৬. আর্থ্রোপোডা - (Arthropoda)
৭. মলাস্কা - (Mollusca)
৮. একাইনোডারমাটা - (Echinodermata)
৯. কর্ডাটা - (Chordata)    

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, গাজী আজমল, গাজী আসমত।
১,৩০৫.
Among these options, which vitamin plays a critical role in the formation of blood clots?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin K
  5. Vitamin E
ব্যাখ্যা
- রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হলো- Vitamin K (ভিটামিন কে)। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- ভিটামিন কে তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে-এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
- কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। 
- রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
- ভিটামিন কে পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ভিটামিন কে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত সমস্যা: 
- ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৬.
উদ্ভিদ নিচের কোন পুষ্টি উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. সালফার
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৭.
চোখ, জিহ্বা ও গলবিলের পেশি কোন ধরনের পেশি?
  1. অরৈখিক পেশি 
  2. মসৃণ পেশি
  3. হৃদপিণ্ড পেশি
  4. ঐচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা, দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৮.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. জন রে 
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. জোহান মেন্ডেল
  4. অ্যারিস্টটল 
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যা শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন মৌলিক একক। 
- তিনি প্রাণিজগতের দ্বিপদ নামকরণ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণের নিয়ম প্রবর্তন করেন; তাই শ্রেণিবিন্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৩০৯.
পিয়ালের বুদ্ধ্যঙ্ক ৪৫। পিয়াল একজন -
  1. স্বাভাবিক ব্যক্তি
  2. মৃদু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
  3. মধ্যম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
  4. চরম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
ব্যাখ্যা
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:

• মৃদু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী:
- এদের মানসিক বয়স বা বুদ্ধি ১৮ বা তদুর্ধ্ব বয়সে সর্বোচ্চ ১১ বছরের স্বাভাবিক শিশুর মত।
- বুদ্ধ্যঙ্ক ৫৫-৬৯ থাকে।
- এদের মনোযোগের মাত্রা কম ফলে এরা ধীর গতিতে শেখে।
- ভাল মন্দের বিচার করার ক্ষমতা কম হলেও এরা স্বনির্ভর জীবনযাপন করতে পারে।

• মধ্যম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী:
- শারীরিক বৈকল্য ও জড়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্তমান থাকে। ১৮ বা তদুর্ধ্ব বয়সে এদের মানসিক বয়স ৫-৮ বছরের শিশুর মতো।
- এদের বুদ্ধ্যঙ্ক ৪০-৫৪ ।
- এরা ভাবের আদান প্রদান করতে পারে ।

• চরম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী:
- শারীরিক অক্ষমতা বা বিকলাঙ্গতা থাকে।
- প্রাপ্ত বয়স্ক বা ১৮ বছর বয়সে এদের মানসিক বয়স ৩ বছরের চেয়েও কম থাকে।
- এদের বুদ্ধ্যঙ্ক ২৪ ।
- অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এরা চলতে পারে না।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১০.
শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. ক) শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন।
  3. গ) রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক বেশি।
  4. ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা:

- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১১.
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট?
  1. ২ প্রকোষ্ঠ
  2. ৪ প্রকোষ্ঠ
  3. ৩ প্রকোষ্ঠ
  4. ৫ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা

স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
১. এদের দেহ রোমে আবৃত থাকে। 
২. পরিণত স্ত্রী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
৩. এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। 
৪. এদের শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
৫. এদের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। 
৬. এদের চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৩১২.
পাটের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Corchorus capsularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা
Corchorus capsularis - পাট।
Oryza sativa - ধান।
Apis indica - মৌমাছি।
Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৩.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের ডাইব্যাক (dieback) রোগটি দেখা যায়?
  1. ম্যাগনেশিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

লৌহ বা আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

ম্যাগনেশিয়াম: 
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৪.
প্যারালাইসিসের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) এইডস
  2. খ) স্ট্রোক
  3. গ) কোভিড-১৯
  4. ঘ) ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা
সাধারণত প্যারালাইসিসের এর জন্য স্ট্রোক দায়ী। 

- স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ।
- রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার, হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা - অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের পেছনে। 
- স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
- প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। 
- এছাড়া স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও পারালাইসিসের কারণ হতে পারে। 

সূত্র- ২২৫ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩১৫.
জিহ্বার কোন অংশে স্বাদ গ্রহণের জন্য স্বাদ কোরক থাকে?
  1. জিহ্বার পেশিতে
  2. জিহ্বার নিচের অংশে
  3. জিহ্বার উপরের আস্তরণে
  4. জিহ্বার অগ্রপ্রান্তের নিচে
ব্যাখ্যা

• জিহ্বার উপরের আস্তরণে স্বাদ কোরক থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা খাদ্যের বিভিন্ন স্বাদ অনুভব করি।

• জিহ্বা (Tongue):
- জিহ্বা হলো মুখগহ্বরে অবস্থিত একটি লম্বা পেশিবহুল অঙ্গ।
- এটি মানুষের স্বাদ ইন্দ্রিয় হিসেবে কাজ করে।
- জিহ্বা দিয়ে আমরা টক, ঝাল, মিষ্টি ও তিতা স্বাদ গ্রহণ করি।
- জিহ্বার উপরিভাগে একটি বিশেষ আস্তরণ (epithelium) থাকে।
- এই আস্তরণের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে স্বাদ কোরক (Taste buds) অবস্থান করে।
- স্বাদ কোরক রাসায়নিক উদ্দীপনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে স্বাদের অনুভূতি পৌঁছে দেয়।
- জিহ্বার বিভিন্ন অংশে স্বাদের সংবেদন তুলনামূলকভাবে ভিন্ন হতে পারে।
 
• জিহ্বার কাজ:
- খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করা।
- খাদ্য গিলতে সাহায্য করা।
- খাদ্যবস্তুকে নেড়েচেড়ে দাঁতের নিকট পৌঁছে দেওয়া।
- খাদ্যবস্তুকে লালার সাথে মিশ্রিত করতে সহায়তা করা।
- কথা বলতে সাহায্য করা।
 
• জিহ্বার যত্ন:
- দাঁত ব্রাশ করার সময় নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত।
- শিশুদের জিহ্বা পরিষ্কার না করলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
- জ্বর বা কিছু রোগে জিহ্বার উপর সাদা বা হলদে পর্দা পড়তে পারে।
- এ সময় পানিতে লবণ গুলে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়।
- জিহ্বায় ঘা বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- জিহ্বার পেশিতে → পেশি জিহ্বার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- জিহ্বার নিচের অংশে → লালাগ্রন্থির নালির অবস্থান থাকে।
- জিহ্বার অগ্রপ্রান্তের নিচে → রক্তনালি ও স্নায়ুর উপস্থিতি বেশি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৩১৬.
পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
  1. B1
  2. B2
  3. B3
  4. B6
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে, ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খাবারে ভিটামিন B কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর উৎস এবং অভাবজনিত রোগ নিচে দেওয়া হলো- 
১। থায়ামিন (B1): 
• উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, ডাল, তেলবীজ, বাদাম, যকৃৎ, টাটকা ফল ও সবজি। প্রাণিজ উৎসের মাঝে রয়েছে যকৃত, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি। 
• অভাবজনিত রোগ: দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

২। রাইবোফ্ল্যাভিন (B2): 
• উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। 

৩। নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3): 
• উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাকসবজি। 
• অভাবজনিত রোগ: ভিটামিন B3 এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়, পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া। 

৪। পাইরিডক্সিন (B6): 
• উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 

৫। কোবালামিন বা (B12) সায়ানোকোবালামিন: 
• উৎস: যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, পনির, বৃক্ক প্রভৃতি। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে রক্তস্বল্পতা রোগ দেখা দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১৭.
উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে থাকে -
  1. ভাজক টিস্যু
  2. স্থায়ী টিস্যু
  3. জটিল টিস্যু
  4. ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা
• ভাজক টিস্যু: 
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে। 
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (যে স্থানে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে। 
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়। 
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

• স্থায়ী টিস্যু:
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন যে টিস্যুগুলো বিভাজনে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় স্থায়ী টিস্যু।
- ভাজক টিস্যুগুলো বিভাজন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিণত হয়।
- স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন, পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা, দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
- স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। যথা- সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু এবং নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু৷

উৎস:
১. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৮.
কত শতাংশ স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. ২৫% 
  2. ২০%
  3. ১০%
  4. ৫০%
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা পাওয়াকে স্ট্রোক বলে। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন- স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৩১৯.
কোনটির ভাঙ্গনের ফলে বিলিরুবিন তৈরি হয়?
  1. পিত্তথলি
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শ্বেত রক্তকণিকা
  4. অনুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

বিলিরুবিন তৈরি হয় লোহিত রক্তকণিকা ভাঙ্গনের ফলে।

বিলিরুবিন:
- বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ-বাদামী পিগমেন্ট, যা পুরানো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকার ভাঙ্গনের ফলে তৈরি হয়।
- যকৃত (লিভার) এই বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করে এবং পিত্তের (bile) মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
- লোহিত রক্ত কণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।
- এই বিলিরুবিন তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় জন্ডিস।
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
- বিলিরুবিন মূলত প্লীহা ও যকৃতের ম্যাক্রোফেজেসে (যেখানে পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়) উৎপন্ন হয়।

লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells):
-  লোহিত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইরিথ্রোসাইট (Erythrocyte)।
- এদের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পরিবহন করা এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে আনা।
-  লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) নামক একটি বিশেষ প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। হিমোগ্লোবিন রক্তকে লাল দেখায়।
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকাগুলোতে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না।
- এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ১২০ দিন।
- লোহিত রক্তকণিকা মূলত অস্থি মজ্জা (Bone marrow) থেকে উৎপন্ন হয়।
- পুরানো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলি প্লীহা (spleen) এবং যকৃত (liver) এ ভেঙে যায়। এই ভাঙ্গনের ফলেই হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১,৩২০.
নিচের কোনটি প্রাণীপরাগী ফুল?
  1. ক) কচু
  2. খ) ধান
  3. গ) পাতাশেওলা
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
যেমন- ধান।
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
যেমন- পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১,৩২১.
বিবর্তন বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের পুনর্জন্ম
  2. জীবের মৃত্যুর প্রক্রিয়া
  3. চলমান কোনো পরিবর্তন যা নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে
  4. কোনো জীবের দ্রুত পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- আধুনিক মানুষের ধারণা অনুযায়ী, জীব সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিবর্তন, যা গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে। 
- ল্যাটিন শব্দ “Evolveri” থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম 'ইভোলিউশন' শব্দটি ব্যবহারের জন্য পরিচিত। 
- বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো একটি ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরলতর উদবংশীয় জীবগুলো পরিবর্তিত হয়ে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটায়
- যখন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলা হয় জৈব বিবর্তন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩২২.
Which hormone is responsible for increasing the level of glucose in the bloodstream?
  1. Insulin 
  2. Melatonin
  3. Testosterone
  4. Glucagon
  5. Vasopressin
ব্যাখ্যা

• গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, তখন এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে ভেঙে ফেলে রক্তে সরবরাহ করে, যা শরীরের শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে।

- খাবার গ্রহণের দীর্ঘ বিরতিতে, যখন রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়, তখন গ্লুকাগন যকৃতে গ্লাইকোজেনোলাইসিস (Glycogenolysis) প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ নিশ্চিত করে।
- মস্তিষ্ক তার শক্তির জন্য সরাসরি গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, গ্লুকাগন মূলত হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা নিম্ন রক্তশর্করা জনিত জটিলতা থেকে আমাদের রক্ষা করে।
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার (যেমন: ভাত, রুটি, ফল) পরিপাক হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে গ্লুকোজ হিসেবে শোষিত হয়।
- রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে ইনসুলিন তা যকৃৎ এবং পেশিতে 'গ্লাইকোজেন' হিসেবে জমা রাখে, যা বিপদের সময় বা না খেয়ে থাকলে শক্তির জোগান দেয়।

অন্যান্য অপশন:
- Insulin: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং এটি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
- Melatonin: মেলাটোনিন ঘুম ও জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- Testosterone: টেস্টোস্টেরন মূলত পুরুষের প্রজননতন্ত্রের বিকাশ ও গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
- Vasopressin: ভ্যাসোপ্রেসিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্কের মাধ্যমে পানি পুনঃশোষণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। [link]

১,৩২৩.
রজঃচক্রের সূচনাকে কী বলা হয়?
  1. মেনোপজ
  2. ইমপ্লান্ট্যাশন
  3. মেনার্কি
  4. গ্যাস্ট্রুলেশন
ব্যাখ্যা
• রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়। 

• রজঃচক্র:
- স্ত্রীলোকের সমগ্র যৌন জীবনকালে প্রতি ২৮ দিন (২৪-৩২ দিন) অন্তর ৩-৫ দিন ধরে জরায়ুর অন্তঃস্থ স্তর বা এন্ডোমেট্রিয়ামের অবক্ষয়ের ফলে রজঃস্রাব এবং পরে দেহের অন্যান্য জননাঙ্গসমূহের যেমন-ডিম্বাশয়, জরায়ু ইত্যাদির যে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে তাকে রজঃচক্র বলে। 

• রজঃচক্রের মূল বিষয়গুলো হলো:  
→ পিরিয়ড বা মাসিক স্রাব:
- এটি রজঃচক্রের প্রথম পর্যায়, যেখানে জরায়ুর ভেতরের স্তর (এন্ডোমেট্রিয়াম) ভেঙে রক্ত ও টিস্যু আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
→ ডিম্বাশয় চক্র:
- ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিপক্ক হয় এবং ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) ঘটে, অর্থাৎ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়ে আসে।
→ জরায়ু চক্র:
- ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে জরায়ুর ভেতরের স্তরটি ভেঙে যায় এবং মাসিক চক্র আবার শুরু হয়।

• সাধারণত, রজঃচক্র ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়।
- তবে এটি ভৌগলিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন হতে পারে। 

• প্রথম রজচক্রকে অর্থাৎ রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়।
- যৌন জীবনকালের শেষে রজঃচক্রের নিবৃত্তি বা বন্ধ হওয়াকে মেনোপজ (menopause) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৩২৪.
'মানুষ' কোন স্তরী প্রাণী?
  1. একস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. ত্রিস্তরী
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 

ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩২৫.
জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোন ধরনের টিস্যুর অন্তর্গত?
  1. সরল টিস্যু
  2. জটিল টিস্যু
  3. ভাজক টিস্যু
  4. ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
ক) ভাজক টিস্যু: 
- উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে অবস্থান করে, বিশেষত কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে অবস্থান করে। 
- ভাজক টিস্যুর কাজ হলো- ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে; এটি উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি ঘটায় এবং ভাজক টিস্যু টিস্যুর উৎপত্তি ঘটায়। 

খ) স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৩২৬.
নিচের কোনটি সংক্রামক রোগ নয়?
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) অ্যানথ্রাক্স
  3. গ) ক্যান্সার
  4. ঘ) কলেরা
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, পরজীবী ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট রোগগুলো যা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে খাবার, পানি, বায়ু, সংস্পর্শ ইত্যাদি নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলে।
ধনুষ্টংকার, জলবসন্ত, এইডস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, কলেরা, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদি হলো সংক্রামক রোগ।
- যে রোগগুলো সাধারণভাবে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে না তাকে অসংক্রামক রোগ বলে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ, ক্যান্সার ইত্যাদি হলো অসংক্রামক ব্যাধি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩২৭.
কোন রোগে অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. হিমোফিলিয়া
  3. ম্যালেরিয়া
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
◉ থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রক্তরোগ, যেখানে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ঘটে। এই রোগে অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) অতিরিক্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের চেষ্টা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হাড় বিকৃতির ঝুঁকি বাড়ায়।

থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা।
- থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে।
- আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
হিমোফিলিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।
ম্যালেরিয়া: Plasmodium পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ।
যক্ষ্মা: Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা। 
১,৩২৮.
কোনটি Multiple fruit?
  1. স্ট্রবেরি
  2. আনারস
  3. সরিষা
  4. গাজর
ব্যাখ্যা
আনারস একটি Multiple fruit.

- যৌগিক ফল (Multiple fruit): সমগ্র পুষ্পমঞ্জরী হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

• ফল (Fruits)
- প্রকৃত ফল (True fruit): গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আম, জাম, লিচু।

- অপ্রকৃত ফল (False fruit): গর্ভাশয় ব্যতীত অন্য অংশ থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আপেল, কাঁঠাল।

- সরল ফল (Simple fruit): একটি পুষ্প হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন আম, ধান।

-গুচ্ছিত ফল (Aggregate fruit): একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- আতা, স্ট্রবেরি।

- যৌগিক ফল (Multiple fruit): সমগ্র পুষ্পমঞ্জরী হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- লিগিউম (Legume): ফল উপর থেকে নিচে দুটি কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন- শিম, মটর।

- ক্যাপসুল (Capsule): ফল উপর থেকে নিচে বহু কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন- ধুতুরা, ঢেঁড়স, পাট।

- ক্যারিঅপসিস (Caryopsis): ফল এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং একটি মাত্র বীজযুক্ত। ফলত্বক ও বীজত্বক পরস্পর সংলগ্ন থাকে।
যেমন-  ধান, গম।

- সিলিকুয়া (Siliqua): শুষ্ক বিদারী ফল যা পরিপক্ব হলে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমশ ফেটে যায়। এই ফল লম্বা ও নলাকার হয়।
যেমন- সরিষা, মূলা।

- বেরি (Berry): ফল এক বা একাধিক গর্ভপত্রী এবং বহুবীজী। এদের বহিঃত্বক পাতলা। অন্তঃত্বক ও মধ্যত্বক সংযুক্ত থাকে।
যেমন কলা, টমেটো।

- সাইজোকার্প (Schizocarp): শুষ্ক অবিদারী ফল।
যেমন- ধনে, গাজর।

- সরোসিস (Sorosis): এক্ষেত্রে স্পাইক বা স্প্যাডিক্স মঞ্জরীটি একটি একক রসালো যৌগিক ফলে পরিণত হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- পেপো (Pepo): বহু বীজযুক্ত সরস ফল যাদের অমরাবিন্যাস বহুপ্রান্তীয় এবং গর্ভাশয় অধোগর্ভ। বহিঃত্বক চামড়ার মতো এবং বীজগুলো অমরার সাথে সংযুক্ত।
যেমন- কুমড়া, শসা।

- ড্রপ (Drupe): এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়তে একক বীজযুক্ত ফলের সৃষ্টি হয়। এর বহিঃত্বক পাতলা, মধ্যত্বক রসালো ও পুরু এবং অজ্ঞত্বক কাষ্ঠল।
যেমন- আম, কুল ও আমড়া।

-  হেসপেরিডিয়াম (Hesperidium): সরস অবিদারী ফল। ফলের অন্তঃত্বক রসালো ও কোয়া গঠন করে।
যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,৩২৯.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. অ্যাক্সন 
  2. নিউরন
  3. নেফ্রন 
  4. ডেক্সন 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩০.
জিনতত্ত্বের জনক কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) কার্ল করেন্স
  4. ঘ) জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
মেন্ডেল এর সূত্র অনুযায়ী জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশগতিতে সঞ্চারণের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকেই মেন্ডেলতত্ত্ব বলে।
মেন্ডেলতত্ত্ব আধুনিক জেনেটিক্স এর প্রধান ভিত্তি। একারণেই মেন্ডেলকে জেনেটিক্স এর জনক বলা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩১.
কোন উদ্ভিদের পুষ্পায়নে আলো কোনো প্রভাব ফেলে না?
  1. তামাক
  2. আফিম
  3. টমেটো
  4. সয়াবিন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ বিকাশের ক্ষেত্রে আলো ও উষ্ণতার প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। 
- এ সকল উদ্দীপনার ফলে বিভিন্ন সংশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন উপাদান উৎপন্ন হয়ে নতুন অঙ্গের সৃষ্টি করে এবং কোষের উপাদানগুলো নিচের দিকে স্থানান্তরিত হয়। 
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩২.
বিবর্তনের উপর ১ম বিশ্লেষণীতত্ত্ব -
  1. চার্লস ডারউইনের
  2. ল্যামার্কের
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াসের
  4. এরিস্টটলের
ব্যাখ্যা
বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
সর্বপ্রথম, জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
-হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বির্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, ২০২১
১,৩৩৩.
পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে-
  1. ক) স্ক্লেরাইড
  2. খ) ভেসেল
  3. গ) জাইলেম
  4. ঘ) ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

- ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে।
- জাইলেম খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে।‌
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩৪.
চাল কোন জাতীয় খাদ্য বলে বিবেচিত?
  1. কার্বোহাইড্রেট জাতীয়
  2. স্নেহজাতীয়
  3. ধাতব লবণ জাতীয়
  4. ভিটামিন জাতীয়
ব্যাখ্যা
- চাল শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বলে বিবেচিত। 

শর্করা বা শ্বেতসার: 

- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হল এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। 
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 

- সাধারণত চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে একে চাল, আটা, আলু ইত্যাদির সাথে রান্না করে খাোয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৫.
কোন ভিটামিন এ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে? 
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন কে 
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা

ভিটামিন ই: 
- বাদাম, অংকুরিত ছোলা, বীজ জাতীয় খাদ্য, পামতেল, সূর্যমুখী তেল, লেটুস পাতা ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস। 
- ভিটামিন ই হচ্ছে এটি একটি এ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করে, ত্বক সুস্থ রাখে, সন্তান জন্মদান ক্ষমতা দেয়। 
- ভিটামিন ই-এর অভাবে জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে। 
- প্রাপ্ত বয়স্কদের দৈনিক ৫-১০ মিলিগ্রাম এবং শিশু-কিশোরদের ১০-৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই-এর প্রয়োজন হয়। 

ভিটামিন কে: 
- সবুজ শাক সবজি, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা, ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি ভিটামিন কে-এর ভালো উৎস। 
- ভিটামিন কে রক্তপাত নিরাময়ে সাহায্য করে। 
- ভিটামিন কে-এর অভাবে গর্ভবতী মহিলাদের রক্তপাত বেশি হয়। 
- শিশুদের দৈনিক ২০ মাইক্রোগ্রাম, প্রাপ্ত বয়স্কদের ৪০ মাইক্রোগ্রাম এবং গর্ভবতীদের ১-২ মিলিগ্রাম ভিটামিন কে-এর প্রয়োজন হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৬.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. ক) ৪৫ ভাগ
  2. খ) ৫৭ ভাগ
  3. গ) ৭৩ ভাগ
  4. ঘ) ৮৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩৩৭.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. TMV
  2. HIV
  3. TIV
  4. Flavi
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridescent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৩৩৮.
জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে কোনটি রক্ষা করে?
  1. ক) কোষগহবর
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা
লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।

একক পর্দা আবৃত পাচক উৎসেচক যুক্ত অতি সূক্ষ্ম থলিবৎ কোষীয় অঙ্গাণু, যা কোষীয় বস্তুর পাচনে এবং জীবাণু ধ্বংসে অংশগ্রহণ করে তাদের লাইসোজোম বলে।  

লাইসোজোমের কাজসমূহ-
১. এরা ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে। 
৩. লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৫. এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়। 
৬. টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে।
৭. ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। 


সূত্র: ২৫ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৯.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'যকৃত কৃমি' কী ধরনের প্রাণী?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. অপ্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য: 

প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।
খ. অরীয় প্রতিসাম্য- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।
ঙ. অপ্রতিসাম্য- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।



উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৪০.
হিমোগ্লোবিন কী জাতীয় পদার্থ?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) লৌহ
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ জাতীয় রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যত দেখা দেয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,৩৪১.
প্রাণিজগতের বংশসম্বন্ধীয় বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. জেনেটিক্স 
  2. ইকোলজি 
  3. আর্কিওলোজি 
  4. ইভোলিউশন 
ব্যাখ্যা

জেনেটিক্স: 
- জেনেটিক্স বা বংশগতি হলো বাবা-মা হতে সন্তান-সন্ততিতে জিনগত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরিত হওয়া যার মাধ্যমে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের অনেক সামঞ্জস্যতা দেখা যায়।
- জীবের বংশগতি নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে বলা হয় জেনেটিক্স (Genetics) বা বংশগতিবিদ্যা। 

ইভোলিউশন: 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 

ইকোলজি: 
- প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে ইকোলজি বা বাস্তবিদ্যা বলে। 

আর্কিওলোজি: 
- বস্তুগত নিদর্শনের ভিত্তিতে অতীত পুনঃনির্মাণ করার বিজ্ঞানকেই আর্কিওলোজি বা প্রত্নতত্ত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪২.
ছোট দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রমল্লিকা
  2. খ) ঝিঙ্গা
  3. গ) লেটুস
  4. ঘ) সূর্যমূখী
ব্যাখ্যা
দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হলে ছোট দিনের উদ্ভিদে ফুল ফোটে। যেমন: আলু, ইক্ষু, কসমস, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট। এদের বড় রাতের উদ্ভিদও বলা হয়।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,৩৪৩.
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম-
  1. ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
  2. খ) স্ত্রী Aedes aegypti মশকী
  3. গ) স্ত্রী aedes albopictus মশকী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৩৪৪.
রক্তের লোহিত কণিকার প্রধান কাজ কোনটি? 
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা 
  2. রোগ প্রতিরোধ করা 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করা 
  4. নাইট্রোজেন পরিবহন করা 
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্তকণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৫.
পাকস্থলিতে শর্করা পরিপাকের জন্য কোন এনজাইম থাকে? 
  1. মলটেজ
  2. পেপসিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

মলটেজ: 
- ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৬.
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
  1. তেলুসর
  2. গর্জন
  3. সেগুন
  4. গজারি
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত বনভূমি ‘শালবন’ নামে পরিচিত।
- শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ।
- এছাড়া অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে: পলাশ, সিধা জারুল, বহেড়া, হরীতকী, শীলকরই, শিমুল ইত্যাদি।
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
১,৩৪৭.
ফল ও বীজ উৎপাদনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. অঙ্কুরোদগম
  2. পরাগায়ন 
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. আলোক সংশ্লেষণ 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন হচ্ছে ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা-
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়। 
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 
 
২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উল্লেখ্য যে, 
- সরিষা ও কুমড়ায় স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন দুইভাবেই পরাগ সংযোগ ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৩৪৮.
ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ কোন ভিটামিনগুলোর শোষণে সাহায্য করে?
  1. ভিটামিন A ও C
  2. ভিটামিন B ও C
  3. ভিটামিন A, D, E, K
  4. ভিটামিন D ও B
ব্যাখ্যা

স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন-A, D, E, এবং K শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে।

• স্নেহ পদার্থ:
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়।
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত।
- ফ্যাটি অ্যাসিডেরবৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে।
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। যেমন-মাছ ও মাংসের চর্বি।
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড।
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। যেমন সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি।
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড।
- তেল ও চর্বি অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দেহের প্রয়োজনীয় তাপ ও শক্তির ভালো উৎস।
- ১ গ্রাম স্নেহ পদার্থ হতে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্যাটই সর্বোচ্চ।

• স্নেহ পদার্থের কাজ:
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা।
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে।
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে।
৬। স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন-এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪৯.
মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় কত শতাংশ ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত?
  1. ২.০%
  2. ০.৫%
  3. ৫.০%
  4. ৮.০%
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের মোট ওজনের গড়ে প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত হয়। 

ক্যালসিয়াম: 

- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) হলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৫০.
ইনসুলিন কী?
  1. এক প্রকার ভিটামিন
  2. এক প্রকার মানব হরমোন 
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫১.
চোখের জন্য উপকারী ভিটামিন কোনটি, যা সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূলে পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

• চোখের যত্ন:
- চোখ মানুষের একটি কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
- সঠিকভাবে যত্ন না নিলে চোখে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও সংক্রমণ হতে পারে।
- চোখ সুস্থ রাখতে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।
 
• চোখের যত্ন নেওয়ার উপায়:
- ঘুম থেকে উঠে এবং বাইরে থেকে আসার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়া উচিত।
- চোখ মোছার সময় অবশ্যই পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতে হবে।
- নিয়মিত সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূল খেতে হবে।
- এসব খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে, যা চোখের জন্য উপকারী।
- ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- পর্যাপ্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে রাতকানা রোগ এড়ানো যায়।
 
• ভিটামিন এ:
- ভিটামিন এ চোখের রেটিনা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
- এটি অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা উন্নত করে।
- ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা ও চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- ভিটামিন বি → স্নায়ু ও শক্তি উৎপাদনে সহায়ক।
- ভিটামিন সি → রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ভিটামিন ডি → হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
 
 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৩৫২.
যে কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. আদি কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. দেহ কোষ
  4. রাইবোজোম কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell । 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- প্রকৃত কোষ এবং আদি কোষ। 
১। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 
- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

২। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৩.
E.coli এক ধরনের-
  1. ভাইরাস
  2. শৈবাল
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে।
- যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- গাঠনিক, উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 

- ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে।
- এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে।
যেমন- Escherichia coli 
- এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৪.
Fungi-এর কোষ প্রাচীর সাধারণত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. পেকটিন
  2. সেলুলোজ
  3. কাইটিন
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
Fungi: 
- এদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। 
যথা- 
• এরা সাধারণত বহুকোষী এবং দেহ মাইসেলিয়া দ্বারা গঠিত। 
• এদের দেহ সাধারণত শাখান্বিত, ফিলামেন্ট সিনোসাইটিক (ব্যবধায়ক প্রাচীরবিহীন)। 
এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত। 
• সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণ কণিকা অনুপস্থিত তাই এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে না বলে এরা মৃতজীবি বা পরজীবি হিসেবে বাস করে। 
• এরা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে। 
• এদের পরিবহন টিস্যু নেই। 
• হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, অল্প কিছু সংখ্যক জলজ। 
উদাহরণ- Mucor, Agaricus ও Penicillium ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৫.
এক গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে কত কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়?
  1. প্রায় ৬ কিলোক্যালরি
  2. প্রায় ৭ কিলোক্যালরি
  3. প্রায় ৪ কিলোক্যালরি
  4. প্রায় ৯ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- কর্মশক্তি পরিমাপের একক হলো ক্যালরি। 
- পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্য হতে উৎপন্ন তাপ বা শক্তি ক্যালরি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
- আমরা জানি যে ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- এ হিসাবে আমাদের দেহের শক্তি চাহিদাও কিলোক্যালরি দিয়ে নির্ণয় করা হয়। 
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট হতে উল্লেখযোগ্য ও যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম তেল বা চর্বি হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৬.
প্রাণী কোষে সাধারণত কোন অঙ্গানুটি থাকে না?
  1. সেন্ট্রোসোম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. প্লাস্টিড
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না।
- পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে। 
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন। 
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না; থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে। 
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৭.
কোষের সজীব অংশের রক্ষা করা কোনটির কাজ?
  1. ক) কোষপ্রাচীর
  2. খ) প্রোটোপ্লাজম
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

কোষের সজীব অংশের রক্ষা করা এবং কোষের সীমারেখা নির্দেশ করা কোষপ্রাচীরের প্রধান কাজ।
কোষ প্রাচীর বলতে কোষের সেই অংশকে বুঝানো হয় যা উদ্ভিদকোষের সর্বাপেক্ষা বাইরের দিকে থাকে। কোষের প্রোটোপ্লাজম যে শক্ত, পুরু, সেলুলোজ নির্মিত নির্জীব আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে কোষ প্রাচীর বলে।

কোষপ্রাচীরের কাজ-
কোষ প্রাচীর কোষকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে। কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
পানি ও খনিজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্র: বিজ্ঞান বই, সপ্তম শ্রেণি। 

১,৩৫৮.
নিচের কোন বীজে মৃৎগত অঙ্কুরোদগম হয়?
  1. ক) রেডি
  2. খ) মিষ্টি কুমড়া
  3. গ) আম
  4. ঘ) সীম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে।
বীজের অঙ্কুরোদগম প্রধানত তিন প্রকার।
যথা-
ক) মৃদগত
খ) মৃদভেদী এবং
গ) জরায়ুজ।
মৃদগত অঙ্কুরোদগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশনঃ
যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাদি কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে ভ্রূণ মুকুল মাটির ওপরে কিন্তু বীজপত্র মাটির নিচে থেকে যায় তাকে মৃৎগত অঙ্কুরোগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশন বলে।
যেমন- আম, ছোলা, মটরশুটি, ধান, গম ইত্যাদি।

মৃদভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশনঃ
যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাবকাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বীজপত্র বীজত্বক ফেটে মাটি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে তাকে মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশন বলে।
যেমন- তেঁতুল, লাউ, পিঁয়াজ, কুমড়া, শিম ইত্যাদি।

জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বা ভিভিপেরাস জারমিনেশনঃ
লোনা মাটির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে বিশেষ অঙ্কুরোদগম দেখা যায় তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
যেমন- সুন্দরী, গরান, কেওড়া, কাকড়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৩৫৯.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
  1. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. দ্রুত রোগ নিরাময় করা
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

এন্টিবায়োটিক: 
- এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক: 
১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে। 
২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়: 
১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা। 
২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা। 
৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া। 
৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৬০.
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি? 
  1. আন্ত্রিক গ্রন্থি
  2. লালাগ্রন্থি
  3. যকৃত গ্রন্থি
  4. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬১.
ডোপামিন তৈরীর কোষ নষ্ট হয় কোন রোগের ফলে?
  1. ক) গ্রেগরি ডিজিজ
  2. খ) পারকিনসন ডিজিজ
  3. গ) আলঝেইমার
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে যার একটি হল ডোপামিন। ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগে আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
১,৩৬২.
একমাত্র কোন সরীসৃপ প্রাণী হাঁটার সময় Vertical limb ব্যবহার করে?
  1. Turtle (কচ্ছপ)
  2. Lizard (টিকটিকি)
  3. Snake (সাপ)
  4. Crocodile (কুমির)
ব্যাখ্যা
- একমাত্র সরীসৃপ প্রাণী কুমির হাঁটার সময় Vertical limb ব্যবহার করে। 
 
- The only living reptiles that use a vertical limb posture in walking are the crocodiles. 
- When walking on land, crocodiles hold themselves high on all four legs.
- The characteristic sinusoidal (side-to side) flexure of the body is caused by the movement of a front leg in concert with the opposing hind leg during each step.
- A cantilevered tail also balances the body. 
- When moving quickly into the water from a bank, crocodiles slide on their bellies and push themselves forward with the feet. Crocodiles are also capable of galloping short distances.
 
উৎস: ব্রিটানিকা 
১,৩৬৩.
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় - 
  1. অ্যামাইটোসিস
  2. ক্লোরোসিস
  3. ফ্লোরোসিস
  4. মিয়োসিস
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬৪.
উদ্ভিদের পুষ্টি শোষণের জন্য কোনটির প্রয়োজন?
  1. আলো
  2. পানি
  3. মাটি
  4. বায়ু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বেচে থাকার জন্য পানি প্রয়ােজন। উদ্ভিদের দেহের প্রায় ৯০ ভাগ পানি।
উদ্ভিদ খাদ্য তৈরিতেও পানি ব্যবহার করে।
মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ ও বিভিন্ন অংশে পরিবহনের জন্য উদ্ভিদের পানি প্রয়ােজন। পানি ছাড়া উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শােষণ করতে পারে না।
প্রচণ্ড গরমে পানি উদ্ভিদের দেহ শীতল করতে সাহায্য করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
১,৩৬৫.
উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী জৈব রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. ফাইটোহরমোন
  2. অক্সিন
  3. জিবেরেলিন
  4. প্রোটোহরমোন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে।
উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

১,৩৬৬.
পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে কোন পর্বে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. Mollusca
  2. Cnidaria
  3. Nematoda
  4. Echinodermata
ব্যাখ্যা
Echinodermata পর্ব: 
- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০। 
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।  
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন। 

Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য। 
২। এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত। 
৩। এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
৪। মস্তক অনুপস্থিত। 
৫। দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান। 
৬। এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। 
৭। রেচনতন্ত্র নেই। 
উদাহরণ: Astropecten (এস্ট্রোপেকটেন), Echinus (একাইনাস), Cucumaria (কুকুমারিয়া) ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,৩৬৭.
কোন বিজ্ঞানীর মতে 'পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে'?
  1. ল্যামার্ক
  2. জেনোফেন
  3. ডারউইন
  4. ভাইসম্যান
ব্যাখ্যা
ল্যামার্কিজম (Lamarckism): 
- ফরাসী প্রকৃতি বিজ্ঞানী Jcan Baptist Lamarck (১৭৪৪-১৮২৯), ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ফিলোসফিক জুলজিক (Philosophic Zoologique) গ্রন্থে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি (theory of inheritance of acquired character) নামক বিবর্তন সম্পর্কীত মতবাদ প্রকাশ করেন। 
- ল্যামার্কের মতবাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পরিবেশের প্রভাবের ফলেই বিবর্তন সংঘটিত হতে পারে। 
- পরিবেশের প্রভাবে জীবের দৈহিক গঠনের পরিবর্তন হয়। 
- তাঁর মতে বিবর্তন কতিপয় রীতি-নীতি মেনে চলে। এই রীতি-নীতিগুলোই বিবর্তনের ক্রম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। 
- ল্যামার্ক তাঁর বিবর্তন তত্ত্বেও এ রীতি-নীতিগুলোই ব্যাখ্যা করেছেন। 
- আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে Dodson, 1960 ল্যামার্কের একজন বিশিষ্ট সমর্থক। 
- Dodson ল্যামার্কবাদকে চারটি সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন যা ল্যামার্কীয় সুত্র বলেও পরিচিত। 
সূত্র ১. জীবদেহ এবং দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আকারে ক্রমবর্ধিত হওয়ার একটি লক্ষণ সর্বদাই পরিলক্ষিত হয়। 
সূত্র ২. জীবন ধারণের প্রয়োজনে কোন নতুন চাহিদা এবং এ চাহিদার ফলে জীবন অভ্যাসের যে পরিবর্তন হয় তার ফলেই নতুন প্রত্যঙ্গের উৎপত্তি হয়। 
সূত্র ৩. কোন একটি অঙ্গ প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হলে তা উন্নত এবং সুগঠিত হয়, কিন্তু ব্যবহৃত না হলে ক্রমান্বয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ সুত্রটি ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র ৪. কোন একটি জীবের দেহে উন্নতি বা ক্ষয়প্রাপ্তির মাধ্যমে যে সকল পরিবর্তন সাধিত হয় তা অর্জিত বৈশিষ্ট্যরূপে অঙ্গীভূত হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে (Generation) সঞ্চারিত ও বিকশিত হয়। এ সূত্রটি অর্জিত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারণের সূত্র (Law of inhertance of acquired character) নামে অভিহিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৮.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২১ জোড়া
  2. ১৮ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২০ জোড়া
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম:
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৯.
জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Cytology
  2. Ecology
  3. Physiology
  4. Embryology
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো - 

অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 

শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): 
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বংশগতিবিদ্যা (Genetics): 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বিবর্তন (Evolution): 
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল। কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। 
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৭০.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Embryology 
  2. Evolution 
  3. Microbiology 
  4. Mycology
ব্যাখ্যা

– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution
 
অন্যদিকে, 
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology, 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭১.
পরিবহন টিস্যুর অপর নাম কী?
  1. প্যারেনকাইমা টিস্যু
  2. সরল টিস্যু
  3. জটিল টিস্যু
  4. ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু (Complex tissues): 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে। 

জাইলেম (Xylem): 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৭২.
ব্যাঙের ছাতার আরেক নাম কি?
  1. ক) মিউকর
  2. খ) এগারিকাস
  3. গ) স্পাইরোগাইরা
  4. ঘ) ক্লোরেলা
ব্যাখ্যা
- পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা জন্মাতে দেখা যায়। এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। 

- বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে। এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা।

- স্পাইরোগাইরা, ক্লোরেলা সবুজ শৈবালের উদাহারণ। এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে বলে এরা সবুজ হয়।

সূত্র: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৩.
দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Corvus splendens
  2. Passer domesticus
  3. Copsychus saularis
  4. Nymphaea nouchali
ব্যাখ্যা
- Copsychus saularis - দোয়েল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম:
- Oryza sativa - ধান;
- Mangifera indica - আম;
- Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল;
Apis indica - মৌমাছি;
- Allium cepa - পেঁয়াজ;
- Nymphaea nouchali - শাপলা, 
Periplaneta americana আরশোলা;
- Panthera tigris - রয়েল বেঙ্গল টাইগার;
- Hilsa ilisha - ইলিশ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৭৪.
মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কী?
  1. রেডিও আলনা
  2. ফিমার
  3. এনামেল
  4. চুল
ব্যাখ্যা
• এনামেল:
- মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল।
- এনামেল হল মানবদেহের দাঁতের উপরিভাগে থাকা একটি কঠিন, সাদা স্তর যা দাঁতের অভ্যন্তরীণ অংশকে সুরক্ষা দেয়।
- এটি হাইড্রোক্সিপাটাইট স্ফটিক (ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট আয়ন) দ্বারা গঠিত।
- যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন ও শক্ত পদার্থে পরিণত কর

অন্যদিকে,
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি। ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী অস্থি।তবে এটি এনামেলের মতো কঠিন নয়।
- রেডিও আলনা অস্থিটি রেডিয়াস ও আলনা নামক পৃথক অথচ পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ দুটি অস্থি নিয়ে গঠিত।
- রেডিয়াস লম্বা এবং মস্তক বর্তমান।অন্যদিকে আলনা লম্বা ও নলাকার।
- চুল মূলত ক্যারাটিন (Keratin) দিয়ে তৈরি, যা শক্ত কিন্তু এনামেলের মতো কঠিন নয়।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ও ব্রিটানিকা।
১,৩৭৫.
রক্তের কোন উপাদান আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌছে দেয়?
  1. ক) শ্বেত কণিকা
  2. খ) বেসোফিল
  3. গ) গ্র‍্যানুলোসাইট
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা

নিঃশ্বাস প্রশ্বাস বা শ্বসন প্রক্রিয়ায় আমরা বাতাস থেকে যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, সেটি ফুসফুসে আমাদের রক্তের সাথে মিশে যায়।
রক্তের লােহিত কণিকা এই অক্সিজেন আমাদের শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৭৬.
ভ্যাক্সিন বা টিকা কে আবিষ্কার করেন?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. রবার্ট কচ
  3. লুই পাস্তুর
  4. জ্যাকব হেইন
ব্যাখ্যা
• টিকা আবিষ্কারের ইতিহাস:
- বসন্তের প্রথম টিকা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮ শতকের শেষভাগে ১৭৯৬ সালে।
- এডওয়ার্ড জেনার এ টিকা আবিষ্কার করেন।
- এটিই ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল টিকা।
- পোলিও টিকার আবিষ্কারক জোনাস এডওয়ার্ড সক।
- যক্ষার জীবাণু আবিষ্কার করেন রবার্ট কচ।
- বিসিজি (যক্ষার টিকা) আবিষ্কার করেন ক্যালসাট ও গুয়োচিন।

উৎস:  ব্রিটানিকা।
১,৩৭৭.
সমুদ্র তারা কোন ধরনের প্রতিসাম্যযুক্ত প্রাণী? 
  1. অরীয়
  2. দ্বি-অরীয়
  3. দ্বি-পার্শ্বীয়
  4. অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৮.
রুটি তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Pseudomonas
  2. খ) Saccharomyces
  3. গ) Clostridium
  4. ঘ) Nitrosomonas
ব্যাখ্যা
রুটি তৈরির কারখানায় Saccharomyces cerevisiae ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়। 

- ব্যাকটেরিয়াকে এককোষী প্রোটিন (single cell protein) হিসেবে পশু ও মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এ ধরণের জৈব প্রযুক্তিতে একদিকে যেমন বর্জ্য পদার্থের পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা করে, অন্যদিকে মানুষসহ অন্যান্য পশুর প্রোটিনের চাহিদা পুরন হয়।
- কাগজ ও কাগজের মন্ড (pulp এবং paper industry) থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে বিভিন্ন ইস্ট (যেমন- Torula, Saccharomyces ইত্যাদি) জন্মায়, যেগুলো অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশে এ ধরণের জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক নয়, তবে চিনি কল থেকে উৎপন্ন পরিত্যক্ত বর্জ্য ঝোলাগুড় (molasses) কে আমরা মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করে Saccharomyces cerevisiae কে ব্যাপক ভাবে চাষ করতে পারি।

সূত্র: ৪০১ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।       
১,৩৭৯.
কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O-এর অনুপাত কত? 
  1. ১ : ১ : ২
  2. ১ : ২ : ১
  3. ১ : ৩ : ২
  4. ১ : ৩ : ১
ব্যাখ্যা
কার্বোহাইড্রেট: 
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানির বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট। 
- জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক ও সঞ্চয়ী উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট। 
- আমাদের খাদ্য তালিকার প্রধান উপাদানও কার্বোহাইড্রেট। 
- কার্বোহাইড্রেটকে হাইড্রেট্স অব কার্বন থেকে নামকরণ করা হয়েছে, এর অর্থ হলো কার্বনের জলায়ন। 
- কার্বোহাইড্রেটের প্রতি অণু কার্বনের সাথে দুই অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন থাকে। 
- কাজেই কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেনের (O) সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ যেখানে এদের অনুপাত ১ : ২ : ১। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮০.
নীল তিমি কোন শ্রেণির প্রাণী?
  1. স্তন্যপায়ী
  2. পক্ষীকুল
  3. মৎস্যকুল
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা
Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- নীল তিমি
- বাদুড়, 
- ডলফিন, 
- মানুষ, 
- বানর ইত্যাদি। 

Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী: 
- ঘড়িয়াল, 
- কুমির, 
- কচ্ছপ, 
- সাপ, 
- টিকটিকি ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৮১.
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা -
  1. মেরিকালচার
  2. পিসিকালচার
  3. সেরিকালচার
  4. এপিকালচার
ব্যাখ্যা

- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা : এপিকালচার।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যা :  সেরিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা : পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা : প্রণকালচার।
- উদ্যান বিষয়ক বিদ্যা : হর্টিকালচার।
- পাখীপালন বিষয়ক বিদ্যা : এভিকালচার।
- সামুদ্রিক মৎস পালন বিষয়ক বিদ্যা : মেরিকালচার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,৩৮২.
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অবাত শ্বসন
  2. খ) সবাত শ্বসন
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়−
যথাঃ
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration); অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration); অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়।

- সবাৎ শ্বসনই উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বভাবিক শ্বশন প্রক্রিয়া। 

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৮৩.
ভাইরাসের কোন বৈশিষ্ট্যটি জীব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ভাইরাস অকোষীয় 
  2. ভাইরাসে কোষঝিল্লী অনুপস্থিত 
  3. ভাইরাসে DNA বা RNA থাকে 
  4. ভাইরাসে রাইবোসোম থাকে না 
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৪.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. বাঁশ
  3. নারকেল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় এখানে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৫.
প্রাণী টিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• প্রাণী টিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত ৪ ধরনের হয়। যথাঃ
- আবরণী টিস্যু,
- যোজক টিস্যু,
- পেশি টিস্যু এবং
- স্নায়ু টিস্যু।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৬.
শিরার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্তে পুষ্টি সরবরাহ করা
  2. রক্তের প্রবাহ দ্রুত করানো
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিণ্ডে নিয়ে আসা
  4. অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহে পৌঁছে দেওয়া
ব্যাখ্যা
শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে। 
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে। 
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়। 
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে। 
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে। 
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট। 
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৭.
জীববিজ্ঞানের জনক কে?
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. থিওফ্রাসটাস
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের জনক: 
- বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় প্রথম বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা বা গবেষণার যিনি সূত্রপাত করেন তাকে বিজ্ঞানের ঐ শাখার জনক বলা হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল, তাই অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তবে এরও বেশ আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ঋিষি অথর্বান, সুম্ভূত প্রভৃতি ব্যক্তিগণ উদ্ভিদ ও চিকিৎসা শাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে ছিলেন।
এছাড়া,
- ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণের জনক।
- থিওফ্রাসটাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতিবিদ্যার জনক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৮.
BMI = 30 - 34.9 kg/m2 হলে মানুষটি কোন শ্রেণীর?
  1. স্থূলতার ৩য় স্তর
  2. স্থূলতার ২য় স্তর
  3. স্থূলতার ১ম স্তর
  4. অতিরিক্ত ওজন
ব্যাখ্যা

• BMI বা Body Mass Index হলো ওজন ও উচ্চতার অনুপাত মাপার একটি সূচক, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নির্ধারণে সাহায্য করে। যখন BMI 30 থেকে 34.9 kg/m2 এর মধ্যে থাকে, তখন এটি স্থূলতার ১ম স্তর (Obesity Class I) হিসেবে চিহ্নিত হয়। অর্থাৎ, এই পরিসরে একজন ব্যক্তির শরীরের অতিরিক্ত চর্বি রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যেমন হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। তবে এটি অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার উচ্চতর স্তরের চেয়ে কম।
- সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্প গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো: গ) স্থূলতার ১ম স্তর।

 
• বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী।

বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়:
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)

মান নির্দেশিকা:
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার।
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৮৯.
কোন রঙের আলোতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
আলোক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয়।
আবার, সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয় না।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯০.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. জলাতঙ্ক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে
সক্ষম হয়েছেন। যথা-
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯১.
কোনটি অনৈচ্ছিক পেশি?
  1. ক) হাতের পেশি
  2. খ) পায়ের পেশি
  3. গ) বুকের পেশি
  4. ঘ) হৃৎপিন্ডের পেশি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ডের পেশি দেখতে ঐচ্ছিক পেশির মত হলেও কাজ করে অনৈচ্ছিক পেশির মত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩৯২.
মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণে দায়ী অণুজীবটি কী?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণ:
-  নাইট্রেট জাতীয় উপাদান মাটিকে উর্বর করে থাকে।
- কিন্তু কতিপয় ব্যাকটেরিয়া মাটিস্থ নাইট্রেটকে ভেঙ্গে মুক্ত নাইট্রেটে পরিণত করে মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস করে ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

তাছাড়াও
- খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ও বিষাক্তকরণ:
- ব্যাকটেরিয়া নানা রকম টাটকা ও সংরক্ষিত খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ঘটিয়ে আমাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি সাধন করে।
- যেমন Clostridium botulinum নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বটুলিন নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে।
- এতে মানুষের দেহে বটুলিজম রোগ সৃষ্টি হয় যার ফলে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে।

পানি দূষণ:
-  বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া পানিকে দূষিত করে এবং দূষিত পানি নানা প্রকার রোগের সৃষ্টি করে।
- যেমন-কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া প্রভৃতি দূষিত পানি পানের মাধ্যমে হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া যেমন কলিফর্ম, ফিকাল কলিফর্ম, Salmonella, Shigella, Bacillus, Pseudomonas, Vibrio, Escherichia coli প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পানি দূষিতকরণের জন্য দায়ী।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯৩.
ভাইরাসের দেহে উপস্থিত থাকে কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. নিউক্লিক এসিড
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা

ভাইরাস হলো অকোষীয়। ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।
কোনো সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস কিংবা অন্যান্য কোষীয় অঙ্গানু ভাইরাসে উপস্থিত থাকে না।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৯৪.
কোন গাছে ভাইরাস মোজাইক রোগ উৎপন্ন করে?
  1. ধান গাছে
  2. তামাক গাছে
  3. বেগুন গাছে
  4. পাট গাছে
ব্যাখ্যা
- 'তামাক গাছে' মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস। 

টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV): 
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস। 
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ। 
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm. 
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত। 
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়। 
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে। 
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৫.
কোন ভিটামিনের অভাবে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়? 
  1. ভিটামিন-কে
  2. ভিটামিন-ই
  3. ভিটামিন-বি
  4. ভিটামিন-সি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন: 
- 'ভিটামিন-ই' এর অভাবে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়, বন্ধ্যাত্ব হয়, জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু হয়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। 
- ভিটামিন-বি এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন-কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৬.
উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া কোনটি?
  1. অবাত শ্বসন
  2. সবাত শ্বসন
  3. অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসন
  4. আনারোবিক শ্বসন
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন বা অ্যারোবিক রেসপিরেশন। 

• শ্বসন: 

- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলা হয়।
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়।

• শ্বসনের প্রকারভেদ:
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা:
- সবাত শ্বসন (Aerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে। 
- অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়া মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে।

• সবাত শ্বসন:
- যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত আক্সজেনের প্রয়োজন হয় এবং শুসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO2, H2O ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে।
- অক্সিজেনের উপস্থিতি অর্থাৎ বায়ুর উপস্থিতির প্রয়োজন হয় বলে এ শ্বসনকে সবাত শ্বসন বলা হয়। 
- এটি হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া। 

• সবাত শ্বসনের প্রধান ধাপগুলো হলো:
- গ্লাইকোলাইসিস,
- পাইরুভেট জারণ,
- ক্রেবস চক্র,
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৩৯৭.
ভুট্টার জেইন (Zein) কী ধরনের প্রোটিন? 
  1. সম্পূর্ণ প্রোটিন
  2. অসম্পূর্ণ প্রোটিন 
  3. দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন  
  4. উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট প্রোটিন 
ব্যাখ্যা

প্রোটিন: 
- 'প্রোটিন' শব্দটা গ্রিক শব্দ প্রোটিওজ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো সর্বপ্রথম অবস্থান। 
- যেখানেই প্রাণের অস্তিত্ব সেখানেই থাকে প্রোটিন। তাই প্রোটিন ছাড়া কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব না। 
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ জগতে প্রোটিন একটা প্রধান অংশ, এজন্য প্রোটিনকে মুখ্য উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- সব প্রোটিনই কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন নিয়ে গঠিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সালফার, ফসফরাস, লৌহ ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ যুক্ত থাকে। 
- প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাঙলে প্রথমে অ্যামাইনো এসিড এবং পরে কার্বন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়। 

প্রোটিনের শ্রেণি বিভাগ: 
- উৎস অনুযায়ী প্রোটিনকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
(১) প্রাণিজ প্রোটিন: যে প্রোটিনগুলো প্রাণিজগৎ থেকে পাওয়া যায় তাকে প্রাণিজ প্রোটিন বলে। যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি প্রাণিজ প্রোটিন। 
(২) উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: উদ্ভিদ জগৎ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে। যেমন- ডাল, বাদাম, সয়াবিন, সিমের বিচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 

- অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে ৩ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(১) সম্পূর্ণ বা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন: 
- যেসব প্রোটিনে অত্যাবশকীয় অ্যামাইনো এসিডগুলো দেহের প্রোটিন গঠনের উপযোগী অনুপাতে বর্তমান থাকে সেই প্রোটিনকে সম্পূর্ণ প্রোটিন বা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন বলে। মাছ, মাংস ইত্যাদি প্রাণিজ প্রোটিনে অত্যাবশ্যক অ্যামাইনো এসিডগুলো দেহের প্রোটিন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে বর্তমান থাকে। এজন্য এই প্রাণিজ প্রোটিনগুলো সম্পূর্ণ বা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন। 

(২) আংশিক পূর্ণ বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন: 
- কোনো কোনো প্রোটিনে একটা বা দুইটা অত্যাবশ্যক অ্যামাইনো এসিড দেহ গঠনের জন্য উপযোগী অনুপাতে থাকে না ফলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এইসব প্রোটিনকে কম উপযোগী বা আংশিক পূর্ণ বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন বলে। যেমন-চাল, ডাল, আটা, বাদাম, আলু ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্ভিদজাত প্রোটিনে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডগুলো কম পরিমাণে থাকে। যেমন-ডালে মেথিওনিন, চালে লাইসিনের পরিমাণ কম থাকে। 

(৩) অসম্পূর্ণ বা তৃতীয় শ্রেণির প্রোটিন: 
- যে প্রোটিনে দেহের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল অ্যামাইনো এসিডগুলো পরিমিত পরিমাণে বিদ্যমান থাকে না সেগুলোকে অসম্পূর্ণ প্রোটিন বলে। যেমন- ভুট্টার প্রোটিন জেইন (Zein)। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৮.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত স্যুগার হল-
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) সুক্রোজ
  4. ঘ) গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
যকৃৎ (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে। রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩৯৯.
কোনটি উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে পরিচিত? 
  1. ফার্ন
  2. নিটাম
  3. নারিকেল
  4. স্ফোনোডন
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। আর ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪০০.
আয়রনের অভাবে পাতার ক্লোরোসিস কোথায় শুরু হয়? 
  1. মূল কাণ্ড 
  2. পুরো পাতা 
  3. শিরার মধ্যবর্তী অংশ 
  4. পাতা কিনারা 
ব্যাখ্যা

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। 
- পাতার সরু শিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।