বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩ / ৪২ · ১,২০১১,৩০০ / ৪,২০৮

১,২০১.
পাটের আঁশ ছাড়াতে কোন ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. Clostridium
  2. Rhizobium
  3. Escherichia coli
  4. Corynebacterium
ব্যাখ্যা
• পাট শিল্পে ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়।
- ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
- এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও, 
- মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন 'বি', থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
- Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়। যেমন- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০২.
গুরুমস্তিস্ক বলা হয় কোনটিকে?
  1. সেরিব্রাম
  2. মেডুলা অবলংগাটা
  3. করোটি
  4. পনস
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়।

- মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- মস্তিষ্ক তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে। যথা-
১. অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon),
২. মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon) ও
৩. পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০৩.
কোন টিস্যু উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি ঘটায়?
  1. যোজক টিস্যু
  2. পরিবহন টিস্যু
  3. ক্ষরণকারী টিস্যু
  4. ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা

ভাজক টিস্যুর (Meristematic Tissue) কোষগুলো বারবার বিভাজিত হতে পারে, যা উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য (এপিকাল মেরিস্টেম দ্বারা) এবং প্রস্থ (ল্যাটারাল মেরিস্টেম দ্বারা) বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
- অন্যদিকে, যোজক টিস্যু প্রাণিদেহে থাকে এবং পরিবহন ও ক্ষরণকারী টিস্যু হলো উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যু যা সাধারণত বিভাজিত হয় না।

• টিস্যু: 
- একই উৎস থেকে উৎপন্ন নিরবিচ্ছিন্নভাবে একই কাজ সম্পন্নকারী একগুচ্ছ কোষকে টিস্যু বলে। 

• উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- ক) ভাজক টিস্যু ও খ) স্থায়ী টিস্যু। 
ক) ভাজক টিস্যু: 
- উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে অবস্থান করে, বিশেষত কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে অবস্থান করে। 
- ভাজক টিস্যুর কাজ হলো- ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে; এটি উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি ঘটায় এবং ভাজক টিস্যু টিস্যুর উৎপত্তি ঘটায়। 

খ) স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,২০৪.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ক) হ্রদের পানি
  2. খ) ঝরনার পানি
  3. গ) পুকুরের পানি
  4. ঘ) সাগরের পানি
ব্যাখ্যা
আবদ্ধ পানি (যেমন: হ্রদের পানি, পুকুরের পানি) এর চেয়ে দ্রুত চলমান পানিতে (যেমন: পাহাড়ি ঝরনা, নদী) অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। 
Rapidly moving water, such as in a mountain stream or large river, tends to contain a lot of dissolved oxygen, whereas stagnant water contains less.

Source: usgs.gov and others.
১,২০৫.
ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত কোনটির বিভাজনকে বোঝায়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসের
  2. খ) সাইটোপ্লাজমের
  3. গ) রাইবোজোমের
  4. ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়ার
ব্যাখ্যা

ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলা হয় মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়
ধাপগুলাে-
১. প্রােফেজ,
২. প্রাে-মেটাফেজ,
৩. মেটাফেজ,
৪. অ্যানাফেজ ও
৫. টেলােফেজ।
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে মূলত সাইটোকাইনেসিস বলে। নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলােফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়।

১,২০৬.
মানুষের মস্তিষ্কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ক) ১/১০ সেকেন্ড
  2. খ) ১/১০০ সেকেন্ড
  3. গ) ১ সেকেন্ড
  4. ঘ) ১/১০০০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
মানুষের মস্তিষ্কে মূল শব্দের অনুভূতি বা শব্দানুভূতির স্থায়িত্ব কাল বা শ্রুতি রেশ ০.১ সেকেন্ড বা ১/১০ সেকেন্ড।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০৭.
বিএমআই মতে, মোটা হওয়ার প্রথম স্তরের মান হিসেবে কোন মানটি বিবেচনা করা হয়?
  1. ২৫ - ২৯.৯
  2. ৩০ - ৩৪.৯
  3. ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ১৮.৫ - ২৪.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০৮.
নিম্নের কোন জলজ প্রাণিটির ফুলকা নেই?
  1. স্কুইড
  2. তিমি
  3. অক্টোপাস
  4. ক্লাউন মাছ
ব্যাখ্যা

তিমি ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়, তাই তাদের ফুলকা নেই। 
- তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, মাছ নয়।

জলজ প্রাণী:
- জলজ প্রাণী হলো এমন প্রাণী যেগুলো পানিতে বাস করে এবং সাধারণত পানির মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য গ্রহণ এবং প্রজনন করে।
- উদাহরণ: মাছ, তিমি, অক্টোপাস, স্কুইড ইত্যাদি।

ফুলকা ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- ফুলকা হলো পাতলা পর্দাযুক্ত অঙ্গ, যেখানে পানির সংস্পর্শে আসার পর অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড পানি থেকে বের হয়ে যায়।
- সাধারণত মাছ, অক্টোপাস, স্কুইড, ক্রাস্টেসিয়ান (যেমন কাঁকড়া) ইত্যাদি ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়।

ফুসফুস ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন তিমি, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ ইত্যাদি ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস নেয়।
- এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এই প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার জন্য নিয়মিত পানির উপরে ভেসে ওঠে।
- তিমিরা তাদের ফুসফুসে বাতাস ধরে রেখে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকে এবং যখন তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তখন তারা পানির উপরে ভেসে ওঠে এবং "ব্লোহোল" (blowhole) নামক নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেয়।

উল্লেখ্য-
- স্কুইড এবং অক্টোপাস উভয়ই Mollusca পর্বের Cephalopoda শ্রেণীর প্রাণী এবং এদের ফুলকা আছে, যা দিয়ে তারা পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- ক্লাউন মাছ (Clownfish) একটি মাছ এবং মাছের শ্বাসযন্ত্র হিসেবে ফুলকা ব্যবহার করে।

উৎস: 
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,২০৯.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) মৃতজীবী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরভোজী
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শৈবালের বৈশিষ্ট্য : শৈবালে নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়
১। এরা সবাই অপুষ্পক।
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না।
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী।
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী।
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত।
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না।
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২১০.
শুক্রাশয় গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন কোনটি?
  1. অ্যাড্রানালিন
  2. অ্যান্ড্রোজেন
  3. রিলাক্সিন
  4. প্রোজেস্টেরন
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশী বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে। দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোন গ্রন্থি গুলো হলো- পিটুইটারী গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি, শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি, ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি। 
• পিটুইটারী গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন এবং উৎপাদক হরমোন।

• থাইরয়েড গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো থাইরক্সিন হরমোন।

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি - এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো অ্যাড্রানালিন হরমোন।

• শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন ।
 
কাজ - শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায় ।

•ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি - এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন।
কাজ - নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 অমরা নিঃসৃত হরমোন হলো- গোনাডোট্রপিক এবং প্রোজেস্টেরন। 
কাজ- ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১১.
খাদ্য আহারের পর শর্করা পরিপাক হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) ফ্যাটি এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা শ্বেতসার:
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 

উৎস:
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র।

প্রকারভেদ
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এক শর্করা: এক অণুবিশিষ্ট শর্করা গ্লুকোজ। উৎস: মধু, ফলের রস।
- দ্বি-শর্করা: দু’অণুবিশিষ্ট শর্করা সুক্রোজ, ল্যাকটোজ। উৎস: চিনি ও দুধ।
- বহু শর্করা: বহু অণুবিশিষ্ট শর্করা শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন। উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ পাতা, শাকসবজি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১২.
ভার্টিব্রাল ধমনি দেহের কোন অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. বৃক্ক
  2. ডায়াফ্রাম
  3. পাকস্থলী 
  4. মেরুদণ্ড
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখাসমূহ: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 
- প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ হচ্ছে- 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৩.
নিচের কোনটি সালোকসংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) তাপমাত্রা
  4. ঘ) পাতার সংখ্যা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ-
- ক্লোরোফিল,
- পাতার বয়স এবং সংখ্যা,
- শর্করার পরিমাণ,
- পটাশিয়াম,
- এনজাইম।

সালোকসংশ্লেষণে বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ-
- আলো,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- তাপমাত্রা,
- অক্সিজেন,
- পানি ইত্যাদি।

সালোকসংশ্লেষণ হচ্ছে সবুজ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া। গ্রিক শব্দ photos (অর্থ: আলোক; এখানে সূর্যালোক) ও synthesis (অর্থ: সংশ্লেষণ, বা তৈরি করা) এর সমন্বয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
ক্লোরোফিল হচ্ছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের সবুজ অংশ, বিশেষ করে পাতাতেই ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকে। কান্ড বা মূল এসবে ক্লোরোফিল থাকে না। তাই সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের পাতায় সম্পন্ন হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,২১৪.
বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে কোন ঝিল্লী থাকে? 
  1. পেরিটোনিয়াম
  2. মেনিনজিস
  3. প্লুরা
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• রেচন ও রেচনতন্ত্র: 
- প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রকার জৈবিক (biological) বা শারীরবৃত্তীয় (physiological) কার্যাবলী সংঘটিত হয়। 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন (Excretion) বলে এবং যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র (Excretory system) বলে। 
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। 

বৃক্কের গঠন ও কাজ (Structure and function of kidney): 
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে। 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়। 
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল। 
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে। 
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী। 
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৫.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Oryza sativa
  2. Nymphaea nouchali
  3. Nipa fruticans
  4. Bufo melanostictus
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens.
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis.
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris.
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica.
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis.
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus.
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha.
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa.
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali.

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,২১৬.
অ্যামিবা (Amoeba proteus) কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? 
  1. স্তরবিহীন
  2. একস্তরী
  3. দ্বিস্তরী
  4. ত্রিস্তরী
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
ক) একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ) দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ) ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ) স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৭.
একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত পার্থক্যের ফলে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. প্রাণিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)। 

১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বুঝায়। 
- পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যগণের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- একই প্রজাতি কিন্তু তাদের গড়ন, আকার, রোগ-প্রতিরোধ এবং পরিবেশ প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। কারণ জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। 
- প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্দিষ্ট জিন থাকে। বিভিন্ন কারণে এই জিনের গঠন এবং বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে, তাকেই বলা হয় বংশগতীয় বৈচিত্র্য। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান, রাসায়নিক উপাদান এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই ধীর এবং ধারাবাহিক। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়, তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
- একটি ছোট পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেসব উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 
- বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এক একটি জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২১৮.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. গ্লাইসিন
  2. ভ্যালিন
  3. লিউসিন
  4. থ্রিওনাইন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। 
- এগুলো হলো:
• লাইসিন,
• ট্রিপেটোফ্যান,
• মিথিওনিন,
• ভ্যালিন,
• লিউসিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন ও
• থ্রিওনাইন। 

- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২১৯.
ম্যান্ডেলের ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্রানুযায়ী ফিনোটাইপের অনুপাত কত?
  1. ৯:৩:৩:১
  2. ৩:১
  3. ১:২:১
  4. ৭:৫:৩:১
ব্যাখ্যা
জিনোটাইপ (Genotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা হওয়ার জিন, খাটো হওয়ার জিন।
- জিনোটাইপ বাহ্যিক ভাবে দেখা যায় না।

ফিনোটাইপ (Phenotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা, সুন্দর, খাটো, কালো।
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 

মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং জিনোটাইপের অনুপাত ১ : ২ : .১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপের অনুপাত ৯:৩:৩:১ ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২০.
কোনটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রো খনিজ পুষ্টি উপাদান?
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. সালফার
  4. কপার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২১.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ড্রাগ বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য
  2. এমন পদার্থ যা গ্রহণে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে
  3. কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য
  4. রোগ নিরাময়ের ওষুধ
ব্যাখ্যা

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ড্রাগ হলো এমন পদার্থ যা জীবিত প্রাণী গ্রহণ করলে তার এক বা একাধিক স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।

• মাদকাসক্তি (Drug Addiction):
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ড্রাগের একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা দিয়েছে।
- WHO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ড্রাগ এমন পদার্থ যা গ্রহণ করলে জীবের স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।
- ড্রাগ মানেই সবসময় মাদক নয়, তবে সাধারণ ভাষায় ড্রাগকে মাদক বলা হয়।
- ড্রাগ গ্রহণের ফলে শারীরিক, মানসিক বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
 
• মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা:
- যখন কোনো ব্যক্তি ক্রমাগত ড্রাগ সেবন করে।
- তখন ড্রাগের সাথে তার একটি দৈহিক ও মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
- নিয়মিত ড্রাগ গ্রহণ না করলে সে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়ে।
- এই অবস্থাকেই বলা হয় মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা।
 
• আসক্তি সৃষ্টি করে এমন উল্লেখযোগ্য ড্রাগ:
- বিড়ি ও সিগারেট,
- আফিম ও আফিমজাত পদার্থ,
- হেরোইন,
- মদ,
- পেথিড্রিন,
- বারবিচুরেট,
- কোকেন,
- ভাং, চরস ও ম্যারিজুয়ানা,
- এলএসডি।
- এদের মধ্যে হেরোইন একটি মারাত্মক ড্রাগ।
 
• ড্রাগে আসক্ত হওয়ার কারণ:
- কৌতূহল,
- সঙ্গদোষ,
- হতাশা দূর করার প্রচেষ্টা,
- মানসিক যন্ত্রণা ভুলে থাকার চেষ্টা,
- নিজেকে বেশি কার্যক্ষম মনে করার আকাঙ্ক্ষা,
- পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তির ইচ্ছা,
- পারিবারিক অভ্যাসগত প্রভাব,
- বাবা বা মা মাদকে আসক্ত হলে সন্তানের আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য → WHO-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য → ড্রাগের ব্যাপ্তি এর চেয়ে বেশি।
- রোগ নিরাময়ের ওষুধ → সব ওষুধ ড্রাগ হলেও সব ড্রাগ রোগ নিরাময়ের জন্য নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,২২২.
রাতের বেলা উদ্ভিদে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় না? 
  1. H
  2. O2
  3. N
  4. CO
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়: 
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া। 
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। 
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। 
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান।

- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে। 
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে। 
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২৩.
ডিএনএ-এর ডাবল-হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন কারা?
  1. ডারউইন ও ওয়ালেস
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. মেন্ডেল ও জেনসেন
  4. ল্যামার্ক ও ওয়াটসন
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন (James Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ডিএনএ-এর Double Helix Structure প্রস্তাব করেন।
 
ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো: 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক এবং মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা দেন। 
- এই ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তারা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। 
- ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক। 
- এজন্য জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিককে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনকও বলা হয়। 
- উল্লেখ্য, ডিএনএ প্রথম উপস্থাপন করেন ফ্রেডরিক মাসচার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২৪.
প্রাথমিক জাইলেম কোন টিস্যু থেকে সৃষ্ট হয়? 
  1. প্রোক্যাম্বিয়াম 
  2. প্যারেনকাইমা
  3. ফ্লোয়েম 
  4. স্ক্লেরেনকাইমা 
ব্যাখ্যা

জটিল টিস্যু: 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এই টিস্যু উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
-  জটিল টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে। 

জাইলেম (Xylem) টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যু দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক জাইলেম টিস্যু ও গৌণ জাইলেম টিস্যু। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২৫.
মশা দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ক) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  2. খ) ফাইলেরিয়া
  3. গ) পীতজ্বর
  4. ঘ) গোদ
ব্যাখ্যা
- মশা এক প্রকার পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পানিতে এরা জন্মায়। এনেফিলিস, কিউলেক্স ও অ্যাডিস এই তিন প্রকার মশা হয়ে থাকে।

- ফাইলেরিয়া রোগের সাধারণ নাম হলো গোদ। বিভিন্ন প্রজাতির কিউলেক্স মশকী এই রোগের বাহক। এ রোগের প্রধান লক্ষণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: হাত, পা ইত্যাদি ফুলে যাওয়া।

- পীতজ্বর ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি ব্যাধী। বিভিন্ন প্রজাতির অ্যাডিস মশকী এ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস প্রাণীর দেহে সংক্রমিত করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রচন্ড জ্বর ও তাপের সাথে মাথায় যন্ত্রণা অনুভুত হয়। মুখ ফুলে যায় এবং মুখ লালচে রং ধারণ করে।

- ভাইরাস অতি সূক্ষ, কোষবিহীন রোগ সৃষ্টিকারী জীব। এরা পোষক জীবকোষে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে থাকে। হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত, এইডস প্রভৃতি নানাবিধ মারাত্মক রোগ বিভিন্ন ভাইরাস দিয়ে সংগঠিত হয়।

 সূত্র: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৬.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. ডেঙ্গু
  3. কলেরা
  4. প্লেগ
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ।
- এর অর্থ হল বিষ।
- ভাইরাস বলতে এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুকে বোঝায়।
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: এইডস, জন্ডিস, কোভিড - ১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা ইত্যাদি।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকা(Platelet) এর মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অপরদিকে,
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং ব্রিটানিকা।
১,২২৭.
কুকুরের মুখে দাঁতের সংখ্যা কত?
  1. ক) ২৮
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ৪৪
ব্যাখ্যা
• কুকুরের দুই সেট দাঁত থাকে।
- তাদের চোয়ালের উপরে ২০টি এবং নীচে ২২টি দাঁত থাকে। 
- ২৮টি দাঁত ছয় থেকে আট সপ্তাহ বয়সের মধ্যে ফুটে ওঠে কুকুরছানার। 
- ছয় থেকে সাত মাস বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরের ৪২টি দাঁত হয়।
- তবে কুকুর Chow Chow অন্য সব কুকুরের থেকে ভিন্ন। তাদের ৪৪টি দাঁত আছে। 

* অপশনে ৪২ না থাকায় কুকুরের মুখে দাঁতের সংখ্যা ৪৪টি সঠিক উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,২২৮.
দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) আলু
  3. গ) তামাক
  4. ঘ) আউশ ধান
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-

১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়।
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৯.
উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. বোরন
  2. ক্লোরিন
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন: 

ম্যাঙ্গানিজ: 
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন। 

কপার: 
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

বোরন: 
- উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 

মোলিবডেনাম: 
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক। 

ক্লোরিন: 
- সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩০.
লিউকোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. মূলে
  2. ভ্রূণে
  3. জনন কোষে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩১.
প্রতিটি জীবদেহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. পেশি 
  2. নেফ্রন অণু 
  3. টিস্যু 
  4. কোষ 
ব্যাখ্যা

- কোষ হলো জীবনের মৌলিক গাঠনিক ও কার্যকরী একক। কিছু জীব এককোষী, আবার কিছু জীব বহুকোষী, কিন্তু প্রত্যেকের ভিত্তি হল কোষ। 

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ। 

(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩২.
কোন মৌলটি DNA তে নেই?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. ফসফরাস
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
- DNA (ডিএনএ) মৌলগঠনে সোডিয়াম (Na) থাকে না। 
- DNA একটি নিউক্লিক এসিড, যা নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। 
- DNA (ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) একটি দ্বি-সূত্রাকার অণুযৌগ যা জীবনের মৌলিক একক। 

১। নাইট্রোজেনযুক্ত বেজ: 
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে। 
যথা- এডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন। 
- পুরিন বেজ: এডিনিন ও গুয়ানিন। 
- পাইরিমিডিন বেজ: সাইটোসিন ও থাইমিন। 

২। পেন্টোজ সুগার: 
- এটি ৫ কার্বন পরমাণুর সাইক্লিক সুগার যা বেজগুলোর সাথে বন্ধিত। 

৩। ফসফেট গ্রুপ: 
- ফসফরাস ও অক্সিজেন পরমাণুর একটি গ্রুপ যা ডি-অক্সিরাইবোজ মলিকিউলগুলোর মধ্যে বন্ধন তৈরি করে। 

- DNA এর দুটি সূত্র বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে বন্ধিত থাকে এবং এদের মধ্যে বেজ-জোড় গঠন করে। 
- এডিনিন সর্বদা থাইমিনের সাথে এবং গুয়ানিন সর্বদা সাইটোসিনের সাথে বন্ধন গঠন করে। 
- এই গঠনে সোডিয়াম (Na) কোনো ভূমিকা রাখে না। 

সুতরাং, DNA মৌলগঠনে সোডিয়াম উপস্থিত থাকে না, অপরদিকে নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস এবং অক্সিজেন DNA এর মৌলিক গঠনে অবশ্যই উপস্থিত থাকে। 
১,২৩৩.
নিচের কোনটি প্রোটিনের উৎস নয়?
  1. ক) মাছ
  2. খ) মাংস
  3. গ) শিম
  4. ঘ) ভুট্টা
ব্যাখ্যা
ভুট্টা শর্করা জাতীয় খাদ্য। 

আমাদের শরীর যেসব খাবার থেকে শক্তি সঞ্চয় করে, তার একটি হচ্ছে শর্করা জাতীয় খাবার। যার মধ্যে রয়েছে স্টার্চ বা শ্বেতসার , চিনি এবং আঁশ।
আলু, আটা, চাল ও পাস্তার মধ্যে অনেক শ্বেতসার জাতীয় শর্করা রয়েছে।
প্রোটিন হলো অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি, যা কোষের “বিল্ডিং ব্লকস” হিসাবে কাজ করে।
প্রেটিন শরীরে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যেমন: প্রোটিন কোষগুলিতে বেশিরভাগ কাজ করে এবং দেহের টিস্যু এবং অঙ্গগুলির গঠন, কার্যকারিতা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়।
মাংস, মাছ, হাঁস-মুরগি, ডিম, শিং এবং দুগ্ধজাত খাবারের মতো অনেক খাবারেই প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

১,২৩৪.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড। 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- প্লাস্টিড খাদ্য প্রস্তুত করে, খাদ্য সঞ্চয় করে, পরাগায়নে সাহায্য করে এবং ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। 
যথা- 
১। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। 
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 

২। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে, এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়। 
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। 
যেমন- হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হয়, তবে বড় বড় উদ্ভিদে সাধারণত লেন্স আকৃতির হয়। 
- এটি প্রধানত সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। 
- মাটির নিচের অংশ তথা- রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। 
- এটি খাদ্য সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৫.
'রুপান্তরিত' পাতার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নারিকেল পাতা
  2. খ) শল্কপত্র
  3. গ) জবা পাতা
  4. ঘ) গোল পাতা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,২৩৬.
পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ক) ৩ লিটার
  2. খ) ৫ লিটার
  3. গ) ৬ লিটার
  4. ঘ) ৮ লিটার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার
ফুসফুস (Lungs): মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে।
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট।
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে।
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৭.
পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী-
  1. বিলিরুবিন
  2. জারক রস
  3. ভিটামিন
  4. পিত্তরস
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin):
- বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ, যা লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ভাঙনের ফলে উৎপন্ন হয়।
- এটি প্রধানত যকৃত (লিভার) দ্বারা প্রক্রিয়াকরণ হয়ে পিত্তরসে (Bile) প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে নিঃসৃত হয়।
- বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণেই পিত্তরস হলুদ-সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,২৩৮.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি?
  1. ডিপিটি
  2. টিটি
  3. এমএমআর
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা:

• যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
• কারণ: সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।
• লক্ষণ: 
- রোগীর ওজন কমতে থাকে, আস্তে আস্তে শরীর দুর্বল হতে থাকে।
- সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে।
- খুসখুসে কাশি হয় এবং কখনো কখনো কাশির সাথে রক্ত যায়।
- রাতে ঘাম হয়, বিকেলের দিকে জ্বর আসে। দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।
- বুকে পিঠে ব্যথা হয়।
- অজীর্ণ ও পেটের পীড়া দেখা দেয়।

• যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
• টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
• ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
• ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
• টিটি (Tetanus Toxoid) প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় মায়েদের গর্ভাবস্থায় শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং WHO এর ওয়েবসাইট।
১,২৩৯.
কোন বিজ্ঞানী ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন?
  1. ক) Watson & Crick
  2. খ) Strasburger
  3. গ) Gregor Mendel
  4. ঘ) H.Henking
ব্যাখ্যা
• ক্রোমোজোম (Chromosome ) বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
• এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত।
বিজ্ঞানী Strasburger (1875) প্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন
• প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে এর ডিপ্লয়েড (দুই সেট ক্রোমোজোম, যার একসেট পিতা থেকে আসে এবং আর একসেট মাতা থেকে আসে) সংখ্যা 2 হতে 1600 পর্যন্ত হতে পারে।
•একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত 3.5 থেকে 30.0 মাইক্রন এবং প্রস্থে 0.2 থেকে 2.0 মাইক্রন হয়ে থাকে। (1 মাইক্রন = 1/1000 মিমি)। • ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical basis of heredity) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,২৪০.
নিচের কোনটি ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঘটায় না?
  1. ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
  2. খ) এডিস এজিপটাই
  3. গ) এডিস এলবোপিকটাস
  4. ঘ) ‘খ’ এবং ‘গ’ উভয়ই
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,২৪১.
সুন্দরবনে কয় প্রকারের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ পাওয়া যায়?
  1. ক) ২৭ প্রজাতির
  2. খ) ৩০ প্রজাতির
  3. গ) ৩৫ প্রজাতির
  4. ঘ) ৩৭ প্রজাতির
ব্যাখ্যা
‘সুন্দরবন’ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
সুন্দরবনে মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্য ৩৫টি প্রজাতি হলো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের।
সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী ও গেওয়া।
এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে:
- গরান
- কেওড়া
- ধুন্দল
- বাইন
- গোলপাতা
- ওড়া
- পশুর প্রভৃতি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
১,২৪২.
ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  2. খ) পৌষ্টিকনালী
  3. গ) হৃদপেশী
  4. ঘ) হাতের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের হাত এবং পায়ের পেশী ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ।

- মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন এবং অসংখ্য তন্তুর সমন্বয়ে গঠিত যে টিস্যু সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম তাকে পেশি বলে ।
- মানবদেহে পেশি যথাক্রমে তিন প্রকার । ১) কঙ্কাল পেশী ২) হৃদ পেশী ৩) মসৃণ পেশী।

- পেশির কাজসমূহ- 
১) দেহের নির্দিষ্ট আকার গঠন করা।
২) শক্তি সংরক্ষন করা।
৩) হৃদপেশী দেহে রক্ত সঞ্চালনে সহয়তা করে।
৪) দেহের অঙ্গগুলিকে রক্ষা করা।
৫) দেহের আকৃতি দান করা ও অস্থি চলাচলে সহায়তা করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,২৪৩.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. প্রোটিন
  2. লিপিড
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৪.
জুটন কী?
  1. ক) পাট থেকে তৈরি ঢেউটিন
  2. খ) পাট থেকে তৈরি পলিথিন
  3. গ) পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র
  4. ঘ) পাটের ফাইবার থেকে তৈরি বোতল
ব্যাখ্যা
জুটন: 
- জুটন হচ্ছে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র।
- এর আবিষ্কারক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- এখানে পাট ও সুতার অনুপাত ৭০ : ৩০।
- এ প্রক্রিয়ায় তুলার আঁশের তৈরি বস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এক ধরনের নতুন বস্ত্র উদ্ভাবনের জন্য পাট ও তুলার আঁশ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশানো হয়।

জুটিন:

- পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান।
- পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin).
- তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস।
- তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
১,২৪৫.
চিকুনগুনিয়া রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. কনভিডেসিয়া
  2. ইক্সচিক
  3. পিসিভি
  4. কোভিশিল্ড
ব্যাখ্যা
চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন
- মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশ্বে প্রথম টিকা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
- বিশ্বে অনুমোদন দেওয়া টিকাটির নাম ‘ইক্সচিক’।
- চিকুনগুনিয়া মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ রোগের উপসর্গ হল জ্বর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
-  ‘ইক্সচিক’ নামের এই টিকা তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। 
- চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেক জ্বর আসে। এছাড়াও থাকে গাঁটে গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা।
- আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশে এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে বেশি।

সূত্র- বিবিসি। 
১,২৪৬.
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে কোন ধরনের টিস্যু বিদ্যমান?
  1. ক) Cuboidal Epithelial Tissue
  2. খ) Squamous Epithelial Tissue
  3. গ) Columnar Epithelial Tissue
  4. ঘ) None of the above
ব্যাখ্যা

বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু বিদ্যমান।

এ ধরনের টিস্যুগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপ্টা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। এ টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে।
কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুগুলো ঘনাকার অর্থাৎ, কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণী কাজে লিপ্ত থাকে।
কলামনার আবরণী টিস্যুগুলো দেখতে স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীর অন্ত্রের অন্ত্রপ্রাচীরের কোষগুলো প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ এর কাজ করে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,২৪৭.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

- রক্তরসের দুইটি প্রধান উপাদান হলো পানি এবং কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থ জৈব এবং অজৈব উভয় ধরনের হতে পারে।
- লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, তামা, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অজৈব পদার্থ।
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, বিলিরুবিন, হরমোন ইত্যাদি রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,২৪৮.
আয়োডিন প্রধানত কোন উপাদানে সবচেয়ে বেশি থাকে? 
  1. আপেল 
  2. গাজর 
  3. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  4. বাদাম
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ: 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক। 
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। 
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস ও খাবার লবণে ক্লোরিন থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৯.
এককোষী জীবের উদাহরণ কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. মানুষ 
  3. ব্যাকটেরিয়া 
  4. বৃক্ষ 
ব্যাখ্যা

জীবের বৈশিষ্ট্য: 
- জীবদেহ জীবকোষ (Cell) দ্বারা গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি জীব মাত্র একটি কোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা এককোষী (Unicellular) জীব। 
- বৃক্ষ, গুল্ম, পশু-পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব অসংখ্য জীবকোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা বহুকোষী (Multicellular) জীব। 
- জীবকোষে সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- নিউক্লিয়াসসহ অন্যান্য কোষাঙ্গাণু প্রোটোপ্লাজমে অবস্থান করে। তাই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। 
- জড়বস্তু কোন জীবকোষ দ্বারা গঠিত নয় এবং জড়বস্তুতে কোন প্রোটোপ্লাজম নেই। 
- জীবের বংশবৃদ্ধির (Reproduction) তথা শিশু জীব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকে যা জড়বস্তুতে নেই। 
-  জীবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় (Physiological) কার্যকলাপ, যেমন- শ্বসন, পরিপাক, বৃদ্ধি, উত্তেজনায় সাড়া দেয়া, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- জড় বস্তুতে কোন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ঘটে না। 
- জীবের মৃত্যু আছে, জড় বস্তুর মৃত্যু নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫০.
কোন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফায ভাইরাস
  2. রোটা ভাইরাস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- ফায ভাইরাস, ব্যাকটেরিওফায (bacteriophage) নামে পরিচিত, এটি এক ধরনের ভাইরাস যা বিশেষভাবে ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং মেরে ফেলে। কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদির ওষুধ তৈরিতে এই ফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফায ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ফায থেরাপি (phage therapy) বলা হয় এবং এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হচ্ছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫১.
কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?
  1. ক) ভিটামিন কে
  2. খ) ক্যাপসিসিন
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) চিলিক্যাল
ব্যাখ্যা
ক্যাপসিসিনের কারণে মরিচে ঝাল লাগে। ক্যাপসিসিন গন্ধহীন একধরনের অ্যালকালয়েড। যে মরিচে যত বেশি ক্যাপসিসিন থাকে সে মরিচ তত বেশি ঝাল।
১,২৫২.
ফাইটোহরমোনের মধ্যে কোনটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে? 
  1. সালফার
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. অক্সিন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে 'অক্সিন' ই একমাত্র ফাইটোহরমোন, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। 

ফাইটোহরমোন: 

- উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত হয় এক বিশেষ ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এর প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং বিভিন্ন অঙ্গের সৃষ্টি হয়। 
- জৈব পদার্থটি উদ্ভিদের সকল কাজকেই নিয়ন্ত্রণ করে, এ পদার্থকে হরমোন বা প্রাণরস বলা হয়। 
- এ হরমোনটি উদ্ভিদদেহে তৈরি হয় ও অবস্থান করে বিধায় একে ফাইটোহরমোন বলা হয়। 
- একে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক রাসায়নিক বস্তুও বলা হয়। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে এগুলো উদ্ভিদের কোষে উৎপাদিত হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কলাসমূহের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে সক্ষম। 
- এরা কোন পুষ্টি দ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্র মাত্রায় উৎপন্ন হয়ে কোষের ভিন্নতা সৃষ্টি ও দেহের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। 
- উদ্ভিদে যে সব ফাইটোহরমোন পাওয়া যায় সেগুলো হলো- অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক অ্যাসিড এবং ইথিলিন। 
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এদেরকে পস্টুলেটেড হরমোন (Postulated hormone) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৩.
নিচের কোনটি ভাইরাসের গঠন উপাদান?
  1. লিপিড
  2. প্রোটিন
  3. ফ্লাজেলা
  4. পলিস্যাকারাইড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ-
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।
ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণটি হলো ক্যাপসিড। এ প্রোটিন আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার (capsomere) বলে। এ ক্যাপসোমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের। কোনো কোনো প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপোপ্রোটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলোমার (pelpomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপোভাইরাস (lipovirus) বলে।
নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড। নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা- DNA (ডি অক্সি-রাইবো নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১,২৫৪.
কোনটি  জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. Cycas
  2. Pinus
  3. Netum
  4. Royal Plam
ব্যাখ্যা

• জীবন্ত জীবাশ্ম বা “living fossil” হলো এমন উদ্ভিদ বা প্রাণী যা পৃথিবীতে বহু মিলিয়ন বছর ধরে কম পরিবর্তিত অবস্থায় টিকে আছে। এই প্রজাতিগুলি প্রায় প্রাচীন রূপে বর্তমানেও বিদ্যমান থাকে। প্রশ্নে যে চারটি উদ্ভিদ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে Cycas জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। Cycas উদ্ভিদটি প্রায় ২ কোটি বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এবং এর গঠন ও জীবনচক্র প্রায় অপ্রচলিত অবস্থায় রয়ে গেছে। অন্যদিকে Pinus, Netum এবং Royal Palm তুলনামূলকভাবে আধুনিক উদ্ভিদ এবং জীবন্ত জীবাশ্মের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই প্রাচীন গঠন ও ইতিহাসের কারণে Cycas পরিচিত জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে।

• জীবন্ত জীবাশ্ম :
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ:
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত।
- এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৫.
'স্ট্রোক' আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে- এটি কী?
  1. হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  2. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা
  3. হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
  4. ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধার ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ।

• স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়।

• স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন: উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

• লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা,
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া,
- কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া,
- মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া,
- শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া,
- মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

• প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা,
- যারা উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপনকরা,
- সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৫৬.
কোন খাদ্য উপাদানটিতে স্নেহ পদার্থ থাকে না?
  1. ভুট্টার তেল
  2. ডিমের কুসুম
  3. ঘি
  4. ডিমের সাদা অংশ
ব্যাখ্যা
• ডিমের সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 

• স্নেহ:
- সুষম খাদ্য উপাদানের মধ্যে স্নেহ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা।
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে।

• উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের, যথা
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ এবং
- প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

→ উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ:
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থের মধ্যে সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।

→ প্রাণিজ স্নেহপদার্থ:
- চর্বি, ঘি ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ থাকে কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,২৫৭.
ধানের পাতা ধ্বসা রোগের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পোকা
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়। ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়।
অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। একে ব্লাইট বা মড়ক বলা হয়।
যেমন- ধানের পাতা ধ্বসা রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae
১,২৫৮.
উদ্যান বিষয়ক বিদ্যা কোনটি?
  1. হর্টিকালচার
  2. এপিকালচার
  3. সেরিকালচার
  4. এভিকালচার
ব্যাখ্যা

- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা : এপিকালচার।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যা : সেরিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা : পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা : প্রণকালচার।
- উদ্যান বিষয়ক বিদ্যা : হর্টিকালচার।
- পাখীপালন বিষয়ক বিদ্যা : এভিকালচার।
- সামুদ্রিক মৎস পালন বিষয়ক বিদ্যা : মেরিকালচার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,২৫৯.
‘ORS’ ব্যবহৃত হয় —
  1. গ্যাস দূর করতে
  2. পানিশূন্যতা রোধে
  3. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
  4. হজম বাড়াতে
ব্যাখ্যা
• পানিশূন্যতা হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন দেহে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও লবণের ঘাটতি ঘটে। 

এর কারন
- ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা)
- বমি
- অতিরিক্ত ঘাম
- জ্বর
- অল্প পানি পান করা

ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য। 
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।

ORS-এ থাকা উপাদান
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- গ্লুকোজ
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড
-সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

এই উপাদানগুলো শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)। 
১,২৬০.
সূর্যের প্রখর উত্তাপে গরম হয় না কোনটি?
  1. ক) গাছের পাতা
  2. খ) বায়ুমন্ডল
  3. গ) ফল
  4. ঘ) মাটি
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন। 
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৬১.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক
  2. গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  4. দের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা:
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না। এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ।

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য:
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী।
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র।
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত।
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না। মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না ।
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে।
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে।
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
নিচের কোন উদ্ভিদের পাতার পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়? 
  1. মিষ্টি আলু
  2. ডালিয়া 
  3. পাথরকুচি
  4. কাঁকরোল
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৩.
What vitamin is not naturally present in significant amounts in eggs and milk?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin D
  3. Vitamin B12
  4. Vitamin C
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা
• ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি ছাড়া সকল ভিটামিন রয়েছে।  
 
- ভিটামিন ‘এ’ : দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
 
- ভিটামিন ‘বি’: ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম,
শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

- ভিটামিন ‘সি’: পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস,
কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

- ভিটামিন ‘ডি’: ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
 
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন ‘ই’ ও ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৪.
'মাশরুম' বিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. Pyrology
  2. Cytology
  3. Mycology
  4. Myology
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ mজ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৬৫.
রক্তে pH এর মাত্রা কত?
  1. ক) ৪.৬
  2. খ) ৫.৮
  3. গ) ৭.৪
  4. ঘ) ১০.২
ব্যাখ্যা
রক্ত :
• রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
• রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪
• সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস।
• অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান
মানব দেহের রক্ত প্রধানত:রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৬৬.
একই ফুলে বা একই গাছের অন্য ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তর হলে তাকে কী বলে? 
  1. স্ব-পরাগায়ন 
  2. প্রাকৃতিক পরাগায়ন 
  3. কৃত্রিম পরাগায়ন 
  4. পর-পরাগায়ন 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৬৭.
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
- বংশগতি বস্তুর মুখ্য উপাদান হলো ক্রোমোসোম।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রত্যেক কোষের নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে।
- ক্রোমোসোমের আকার সাধারণত লম্বা। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
- এ সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম চার প্রকার। যথা- মধ্যকেন্দ্রিক, উপ মধ্যকেন্দ্রিক, উপ প্রান্তকেন্দ্রিক এবং প্রান্তকেন্দ্রিক।
- ক্রোমোসোমের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
(১) নিউক্লিক অ্যাসিড,
(২) প্রোটিন এবং
(৩) অন্যান্য উপাদান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৮.
মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড কয়টি?
  1. ২০টি
  2. ১৬টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইনো এসিড:
- অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- দেহগঠনে আমিষ সহায়তা করে থাকে।
- এ পর্যন্ত আমাদের শরীরে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে।
- এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হলো:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১,২৬৯.
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক কারা?
  1. ছোট মাছ
  2. ফাইটোপ্ল্যাংকটন
  3. জুপ্ল্যাংকটন
  4. সামুদ্রিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
◉  ফাইটোপ্ল্যাংকটন হলো অণুজীবীয় জলজ উদ্ভিদ, যা সূর্যালোক ব্যবহার করে প্রকাশ-সংস্লেষণ (Photosynthesis) করে খাদ্য তৈরি করে।
- এরা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক, কারণ তারা নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের পরবর্তী স্তরের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।
- জুপ্ল্যাংকটন, ফাইটোপ্ল্যাংকটন খেয়ে বেঁচে থাকে।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 

উৎপাদক :
উৎপাদক হচ্ছে পুকুরে বসবাসকারী সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব। পানিতে ভাসমান জীবদেরকে প্লাঙ্কটন (plankton) বলে। প্লাঙ্কটন জাতীয় ক্ষুদ্র উদ্ভিদকে উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন বা ফাইটোপ্লাঙ্কটন (phytoplankton) বলে। এ ছাড়া পানিতে অবস্থিত সবুজ শেওলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এ সমস্ত উদ্ভিদকে উৎপাদক বলে ।

প্রথম স্তরের খাদক :
পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রাকার পোকা, মশার শুককীট, প্রাণি প্লাঙ্কটন (zoo plankton) ইত্যাদি প্রথম স্তরের খাদক হিসেবে কাজ করে। এ সমস্ত খাদক নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং সরাসরি উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ।

দ্বিতীয় স্তরের খাদক :
এরা প্রথম স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ছোট ছোট মাছ, জলজ পতঙ্গ, চিংড়ি, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় স্তরের খাদক :
শোল, বোয়াল, ভেটকি প্রভৃতি বড় আকারের মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি তৃতীয় স্তরের খাদক। এরা দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

বিয়োজক : 
পুকুরের পানিতে ভাসমান অথবা নিচের কাদায় বিভিন্ন ধরনের অনুজীব (যেমন : ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস ইত্যাদি) বাস করে, এদেরকে বিয়োজক জীব বলা হয়। এরা জীবিত বা মৃত খাদক প্রাণিদের আক্রমণ করে ও পচন ঘটায়, ফলে উৎপাদকের রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭০.
কোলাজেন কী?
  1. একটি কার্বোহাইড্রেট
  2. একটি প্রোটিন
  3. একটি লিপিড
  4. একটি নিউক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
- কোলাজেন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন যা আমাদের ত্বক, চুল, নখ এবং সংযোগকারী টিস্যুগুলির গঠন প্রদান করে।
- আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোলাজেনের উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেয় যেমন বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখা।
- কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা তারুণ্য এবং স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেসব প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তার মধ্যে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- রান্না করলে উত্তাপে প্রোটিন জমাট বাঁধে, পেশির কোলাজেন, ইলাস্টিন ইত্যাদি নরম হয়ে জিলাটিনে পরিণত হয়। প্রোটিনের এই রূপান্তর পরিপাকে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,২৭১.
জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম-
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) লোকাস
  4. ঘ) নার্ভ
ব্যাখ্যা

- জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
- এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
- ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।
- সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে।
- আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,২৭২.
নিচের কোন উদ্ভিদে অগুচ্ছ মূল দেখা যায়?
  1. ক) কেয়া
  2. খ) ধান
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) সুপারি
ব্যাখ্যা
অস্থানিক মূল হতে পারে দুই ধরনের, যেমন- গুচ্ছ মূল এবং অগুচ্ছ মূল। 
- যেসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, তাকে অগুচ্ছ মূল বলে। 
কেয়া গছের ঠেশমূল, বটের ঝুরিমূল এ ধরনের অগুচ্ছ মূল। 

- ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি উদ্ভিদের থাকে গুচ্ছ মূল।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি
১,২৭৩.
প্রকৃতিতে কত ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়।

• প্রাণী-বৈচিত্র্য:
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-
১. জিনগত বৈচিত্র্য:
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।

২. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
- উদাহরণ: তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৪.
বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক -
  1. ক্রোমোজোম
  2. জিন
  3. ডিএনএ
  4. আরএনএ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম। 
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
- ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৫.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. প্রজাপতি
  2. মাছ
  3. ব্যাঙ 
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

- প্রজাপতি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী কারণ এর কোনো মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া নেই। 

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এই কোষগুলোতে প্লাস্টিড থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,২৭৬.
জীবন্ত জীবাশ্ম নিচের কোনটি? 
  1. শুশুক
  2. ম্যানিস
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭৭.
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন মূলত কোথা থেকে ঘটে?
  1. পাতার উপরের পৃষ্ঠ
  2. পাতার নিচের পৃষ্ঠ
  3. কাণ্ডের বাইরের আবরণ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।

প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার কিছু অংশ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- অধিকাংশ পানি বাষ্পাকারে বের হয়।
- তবে কিছু পানি উদ্ভিদদেহ থেকে পানি হিসেবেই বের হয়।
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে।
- প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: প্রস্বেদন তিন প্রকার।
- যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

 • পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- এছাড়া কচি কান্ডেও অনেক পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়েই বেশির ভাগ প্রস্বেদন ঘটে।
- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে।
- শিরা ও উপশিরার মধ্য দিয়ে পানি প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ সমূহে পৌঁছায়।
- স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো আলগাভাবে সাজান থাকে।
- কোষগুলোর মাঝে অনেক আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা অঞ্চলেই শোষিত হয়।
- উদ্ভিদ বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষণ করে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে বায়ু প্রথমে পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে।
- এখান থেকে বায়ু প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর আন্তঃকোষীয় ফাঁকাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
- প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর বহিঃপৃষ্ঠ সব সময় ভেজা থাকে এবং এজন্য ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়।
- এ রকম অবস্থায় উদ্ভিদ যেমন বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, বায়ুও তেমন উদ্ভিদ কোষের ভেজা পৃষ্ঠদেশ থেকে পানি জলীয় বাষ্পরূপে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কোষ থেকে নেয়া পানি জলীয় বাষ্পরূপে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাইরের বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে সংঘটিত হয় বলে এ ধরনের প্রস্বেদনকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।

কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিন এর আবরণকে কিউটিকল বলা হয়।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে কান্ডের বাইরের আবরণ (বহিঃত্বক অথবা কর্ক) কোন কোন জায়গায় ফেঁটে যায়।
- এতে কান্ডের ভেতরের কোষ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়।
- এ উন্মুক্ত জায়গাগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৮.
কোন উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি?
  1. স্থলজ উদ্ভিদ
  2. জলজ উদ্ভিদ
  3. ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদ
  4. সব ক্ষেত্রে সমান
ব্যাখ্যা
পাতার মেসােফিল টিস্যু সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শােষণ করে পাতার মেসােফিল টিস্যুর ক্লোরােপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসােফিল টিস্যুর ক্লোরােপ্লাস্টে পৌঁছে।
জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালােকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭৯.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যায়?
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮০.
কোনটি প্লাস্টিডের কাজ নয়?
  1. খাদ্য সঞ্চয় করা 
  2. দেহকে বর্ণময় করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ করা 
  4. খাদ্য তৈরি করা
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিডের কাজ নয়- প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় রাইবোজোম নামক অঙ্গাণুতে। 

প্লাস্টিড: 

- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮১.
কোন অঙ্গে O2 এবং CO2 এর বিনিময় ঘটে?
  1. ব্রঙ্কিউল
  2. ব্রঙ্কাস
  3. ট্রাকিয়া
  4. অ্যালভিওলাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাসের গঠন: 
- ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয় কোষে গঠিত ও কৈশিক-জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলকে অ্যালভিওলাস (বহুবচনে-অ্যালভিওলাই) বলে।
- মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তনের তল জুড়ে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি)-এরও বেশি সংখ্যক অ্যালভিওলাই রয়েছে। 
- প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, মাত্র ০.১µm পুরু, এর বহির্দেশ ঘন কৈশিকজালিকা-সমৃদ্ধ। 
- কৈশিকনালিকাগুলো পালমোনারি ধমনি থেকে সৃষ্টি হয় পরে পুনর্মিলিত হয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। 
- প্রাচীরটি আর্দ্র স্কোয়ামাস (আঁইশাকার) এপিথেলিয়াম নির্মিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুও রয়েছে। 
- শ্বসনের সময় সংকোচন-প্রসারণ সহজতর হয়। 

- অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্ট (detergent)-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, যে পদার্থকে সারফেকট্যান্ট (surfactant) বলে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের তরল পদার্থের পৃষ্ঠটান (surface tension) কমিয়ে দেয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস কম পরিশ্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। 
- এ পদার্থ বাতাস ও অ্যালভিওলাস-প্রাচীর সংলগ্ন তরল পদার্থে O2 ও CO2-এর দ্রুত বিনিময়ে সাহায্য করে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাসে আগত জীবাণুও (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। 
- ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানবভ্রূণে সর্বপ্রথম সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়। 
- এ কারণে ২৪ সপ্তাহের আগে মানবভ্রূণকে স্বাধীন অস্তিত্বের অধিকারী গণ্য করা হয় না। 
- অনেক দেশে তাই এ সময়কাল পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,২৮২.
ডিএনএ এর নাইট্রোজেন বেস নয় কোনটি?
  1. অ্যাডেনিন
  2. গুয়ানিন
  3. থাইমিন
  4. ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA। DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথা- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন।
অপরদিকে,
RNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেসের শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৩.
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে কী বলে?
  1. Flora
  2. Fauna
  3. Red List
  4. Hotspot
ব্যাখ্যা
হটস্পট:

- পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল বা এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেইসব অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট বলে।
- ১৯৮৮ সালে ড. সাবিনা ভির্ক সর্বপ্রথম হটস্পট শব্দটি প্রথম প্রচলন করেন।
- মায়ার্সের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক ৩৪টি হটস্পট রয়েছে।
- ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩৬টি জীববৈচিত্র্যের হট স্পট রয়েছে। 
- ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চল, মাদাগাস্কার দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহে উল্লেখযোগ্য হটস্পট রয়েছে।
- এছাড়াও উল্লেখযোগ্য জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব হিমালয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মাইক্রোনেশিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মালয়েশিয়ান উপদ্বীপ, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, আমাজোনিয়া ইত্যাদি।
- আফ্রিকার কঙ্গো, নাইজার ও জাম্বেসী নদী অববাহিকার গভীর অরণ্যে সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- জীবকূলের ভিন্নতা এবং জটিল প্রতিবেশগত পরিবেশ জীবমণ্ডলকে একক (unique), ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জীববৈচিত্র্যতার ভিন্নতাও (Biodiversity varities) পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখে।


অন্যদিকে, 
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- Fauna বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।

উৎস: বিবিএ প্রোগ্রাম, পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
১,২৮৪.
রিকেটস রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. ভিটামিন A-এর অভাব
  2. ভিটামিন B-এর অভাব
  3. ভিটামিন D-এর অভাব
  4. ভিটামিন K-এর অভাব
ব্যাখ্যা

• রোগ: রিকেটস,
- মূল কারণ: ভিটামিন D-এর অভাব,
- প্রধান প্রভাব: হাড় দুর্বল ও বেঁকে যাওয়া,
- প্রতিরোধ: সূর্যালোক ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য।

• রিকেটস (Rickets):
- রিকেটস কোনো ভাইরাসজনিত বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়।
- ভিটামিন D-এর অভাবে এ রোগ হয়ে থাকে।
- দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ, দাঁত ও হাড়ের গঠনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন D অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

• ভিটামিন D-এর উৎস:
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙরের তেলে প্রচুর ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা কোলেস্টেরল থেকেও ভিটামিন D তৈরি হয়।
- তবে ভিটামিন D তৈরির শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় কিডনিতে।

• রিকেটস রোগের লক্ষণ:
- দেহের হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- শিশুদের হাঁটা শেখার সময় গিট খুলে যাওয়া।
- হাড় বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া।
- অনেক ক্ষেত্রে দেহের কাঠামো ঠিক না থাকা।
- হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও কবজি সরু হয়ে যাওয়া।

• প্রতিরোধ ও করণীয়:
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ ও জনসম্মুখ থেকে রক্ষা করে শিশুকে কিছু সময় রোদে রাখা উচিত।
- সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন D তৈরি হয়।
- সারাদিন শিশুকে ঘরের ভেতরে রাখা বা শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে রাখলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় না।
- এর ফলে ভিটামিন D-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রিকেটস রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,২৮৫.
জগদীশ চন্দ্র বসু নিম্নের কোন যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন?
  1. ক) কার্ডিওগ্রাফ
  2. খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. গ) স্টেথোস্কোপ
  4. ঘ) ক্রোনোমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রেস্কোগ্রাফ  যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন জগদীশ চন্দ্র বসু। 

- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন।
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন।
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে  জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
- জীবপদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তিনি উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ।
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন।
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয়. বৈদ্যুতিক।
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

সূত্র: ৩৩৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৬.
কোন রোগে মাড়ি দিয়ে রক্ত ও পুঁজ পড়ে?
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেট
  3. ম্যানিনজাইটিস
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- স্কার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যাহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষধামন্দা অলসতা খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রিকেট রোগটি ভিটামিন D এর অভাবে হয় এবং এটি হাড়ের দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত।
- ম্যানিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের চারপাশের মেমব্রেনের প্রদাহজনিত রোগ, এটি মাড়ির সমস্যার সাথে সম্পর্কিত নয়।
- বেরিবেরি হলো ভিটামিন B1 (থায়ামিন) এর অভাবে হওয়া একটি রোগ, যা প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে।

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৭.
শ্বেত রক্তকোষে কোন পদার্থ নেই? 
  1. প্রোটিন 
  2. DNA 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. নিউক্লিয়াস 
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্তকোষ বা লিউকোসাইট: 
- শ্বেত কোষের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই, এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কোষের গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকোষ, ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এটি জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শ্বেত কোষগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত শ্বেত কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা সাধারণত বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্ত কোষে DNA থাকে। 
- শ্বেত রক্তকণিকায় প্রোটিন থাকে, কারণ এগুলো কোষের অংশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৮.
বাইলজি শব্দের প্রবর্তক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) জ্যাঁ ল্যামার্ক
  4. ঘ) লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা

- ফরাসি প্রকৃতিবিদ জ্যাঁ বাতিস্ত ল্যামার্ক জীবিত বস্তু সংক্রান্ত অনেকগুলো শাস্ত্রের ধারক নাম হিসেবে 'Biology' শব্দের প্রচলন করেন।
- তাঁকে বাইলজি শব্দের প্রবর্তক বলা হয়।
- এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- অনুজীব বিজ্ঞানের জনক বলা হয় এন্টনি ভন লিউয়েনহুককে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৯.
গর্ভবতী মায়ের কমপক্ষে কতবার গর্ভকালীন সেবা নেওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) দুইবার
  2. খ) তিনবার
  3. গ) চারবার
  4. ঘ) পাঁচবার
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং নিরাপদ প্রসব ও নবজাতকের জন্য যে নিয়মিত সেবা প্রদান করা হয় তাকে গর্ভকালীন সেবা বলা হয়।
গর্ভবতী মায়ের কমপক্ষে ৪ বার গর্ভকালীন সেবা নেয়া প্রয়ােজন।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
১,২৯০.
জটিল টিস্যু কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
- ভাজক টিস্যু ও
- স্থায়ী টিস্যু।

স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার।
যথা:
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।

সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা:
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা ও
- স্ক্লেরেনকাইমা।

জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা:
- জাইলেম ও
- ফ্লোয়েম।

ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা:
- তরুক্ষীর টিস্যু ও
- গ্রন্থির টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৯১.
ডিমের সাদা অংশে স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ -
  1. ক) ১১-১৩%
  2. খ) ৭-৯%
  3. গ) ২-৩%
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ডিমের সাদা অংশে ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ প্রায় ০%
- ডিমের সাদা অংশে 'অ্যালবুমিন' নামক প্রোটিন থাকে।
- ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন।
- এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে। 



Source: Britannica & healthline.com
১,২৯২.
শারীরবৃত্তীয় বিপাকে ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে কী বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই–অক্সাইড
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৩.
রক্তের কোন কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে?
  1. প্লাজমায়
  2. রক্তরসে
  3. লোহিত রক্ত কণিকায়
  4. শ্বেত রক্ত কণিকায়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা - 
• খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
• রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
• দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
• নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
• রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
• দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
• রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৪.
উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির কতটুকু সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাত্র ০.১%
  2. মাত্র ০.০১%
  3. মাত্র ০.০০১%
  4. মাত্র ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির মাত্র ০.০১% সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৫.
নিচের কোনটি মেরুদন্ডী প্রাণী?
  1. মানুষ
  2. হাইড্রা
  3. তারা মাছ
  4. কাঁকড়া
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী:
- প্রাণীজগতে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত।
- এদের ভ্রূণীয় দশায় নটোকর্ড থাকে। 
মেরুদণ্ডের উপস্থিতিতে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
ক। মেরুদণ্ডহীন প্রাণী- যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই তাদেরকে মেরুদণ্ডহীন প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা, তারা মাছ, সমুদ্র শশা, কাঁকড়া ইত্যাদি।
খ। মেরুদণ্ডী প্রাণী- যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড রয়েছে তাদেরকে মেরদণ্ডী প্রাণী বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, সি হর্স্‌ ইত্যাদি।


উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
১,২৯৬.
নিচের কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের 'ডাইব্যাক' নামক রোগটি হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. আয়রন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। - পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৯৭.
উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ নয় কোনটি?
  1. বাদাম তেল
  2. ডালডা
  3. সয়াবিন তেল
  4. ভুট্টার তেল
ব্যাখ্যা
• স্নেহ:
- সুষম খাদ্য উপাদানের মধ্যে স্নেহ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে। 

উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের, যথা
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ এবং
- প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

⇒ উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ:
-উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থের মধ্যে সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
-ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।

⇒ প্রাণিজ স্নেহপদার্থ:
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

অর্থাৎ ডালডা উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ নয়, বরং প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,২৯৮.
নিচের কোন পাখি উড়তে পারে না?
  1. পেঙ্গুইন
  2. দোয়েল
  3. হাঁস
  4. কবুতর
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,২৯৯.
নিচের কোন জীব মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ইউগ্লেনা
  2. মাশরুম
  3. অ্যামিবা
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ: 
• জীবজগৎ: আদিকোষ জীব (রাজ্য-১ মনেরা) + প্রকৃতকোষী জীব (রাজ্য-২ প্রোটিস্টা, রাজ্য-৩ ফানজাই, রাজ্য-৪ প্লান্টি এবং রাজ্য-৫ এ্যানিমেলিয়া)। 
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ক) জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না খ) এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩০০.
কোনটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ নয়?
  1. হেপাটাইটিস
  2. গনোরিয়া
  3. কুষ্ঠ
  4. টাইফয়েড জ্বর
ব্যাখ্যা

• হেপাটাইটিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ নয়; এটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণজনিত রোগ। হেপাটাইটিস ভাইরাস (যেমন- হেপাটাইটিস A, B, C) লিভারকে আক্রান্ত করে এবং এর ফলে লিভারের প্রদাহ, জন্ডিস, দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে, গনোরিয়া Neisseria gonorrhoeae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা, কুষ্ঠ Mycobacterium leprae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এবং টাইফয়েড জ্বর Salmonella typhi ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিসই একমাত্র রোগ যা ব্যাকটেরিয়া নয়, বরং ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট।

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।