বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৭০১৮০০ / ১,৬৩৯

৭০১.
নিচের কোন দেশটি পারস্য উপসাগর তীরবর্তী নয়?
  1. ক) সৌদি আরব
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইয়েমেন
  4. ঘ) কুয়েত
ব্যাখ্যা
- পারস্য উপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত। পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রের সংখ্যা ৮টি।
এগুলো হলো:
- ইরান
- ইরাক
- কুয়েত
- সৌদি আরব
- বাহরাইন
- কাতার
- ওমান ও
- সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- ইয়েমেন পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র নয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৭০২.
৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে কী বলা হয়?   
  1. সুমেরুবৃত্ত
  2. কুমেরুবৃত্ত
  3. মকরক্রান্তি
  4. কর্কটক্রান্তি
ব্যাখ্যা

- কুমেরুবৃত্ত পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত একটি কাল্পনিক অক্ষাংশ রেখা, যা প্রায় ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত। 
- এটি দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ করে।

• অক্ষাংশ:

- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে কর্কটক্রান্তি (Tropic of Cancer) বলে।
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে মকরক্রান্তি (Tropic of Capricorn)।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলে সুমেরুবৃত্ত (Arctic Circle) এবং
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle)।
- বিষুবরেখাকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

৭০৩.
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কোন যুগের ভূমিরূপের উদাহরণ?
  1. টারশিয়ারি যুগের
  2. প্লাইস্টোসিন যুগের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়গুলো মূলত টারশিয়ারি যুগের ভূমিরূপের উদাহরণ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম:

- পার্বত্য চট্টগ্রাম (Chittagong Hill Tracts) দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাপক পাহাড়ি অঞ্চল (২১°২৫´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩°৪৫´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°৫৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৫০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)।
- এর দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমার, উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মিজোরাম এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা অবস্থিত। 

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় হিসেবে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়। 

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০৪.
নিচের কোনটি ক্ষয়জাত সমভূমি?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  3. গ) মেঘনা প্লাবিত সমভূমি
  4. ঘ) হাতিয়া
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুবিস্তৃত ভূমিকে সমভূমি বলে। উৎপত্তিগতভাবে সমভূমি সঞ্চয়জাত ও ক্ষয়জাত দু’ভাবে গঠিত।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়।
ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ:
- বরেন্দ্রভূমি
- মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- অ্যাপালেশিয়ান পাদদেশীয় সমভূমি
- ফিনল্যান্ড
- সাইবেরিয়া প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সুন্দরবন, হাতিয়া ও মেঘনা প্লাবিত সমভূমি হলো নদী দ্বারা সৃষ্ট সঞ্চয়জাত সমভূমি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭০৫.
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি কোন অঞ্চলে বিস্তৃত?
  1. পিরোজপুর
  2. খাগড়াছড়ি
  3. ময়মনসিংহ
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়। 
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৬.
ব্লু লাইন কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী রেখা?
  1. ক) আরব - ইসরাইল
  2. খ) লেবানন - ইসরাইল
  3. গ) সিরিয়া - ইসরাইল
  4. ঘ) লেবানন - সিরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৯ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের শেষে আর্মিস্টিস বর্ডার চুক্তির অংশ হিসাবে লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যে বেশিরভাগ সীমান্ত সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। এই সীমানাকে গ্রীন লাইন বলা হয়।

- ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই দুই দেশের সীমান্ত অবস্থান একই ছিল, যখন ইসরাইল সিরিয়া থেকে গোলান হাইটস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

- ১৯৭৮ সালে, ইসরায়েলি বাহিনী প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের হাতে টিকে থাকা দেশটিতে আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে লেবাননে আক্রমণ করেছিল।

- এই আগ্রাসনের সময় ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। লেবানন সরকার জাতিসংঘের কাছে সহায়তার অনুরোধ করেছিল এবং এই আগ্রাসনটি তখন এই আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যস্থতা করেছিল, যেটি ইসরায়েলকে তার সৈন্য অপসারণের আহ্বান জানায়।
কয়েক বছর পরে, জাতিসংঘ এই দুটি দেশের মধ্যে একটি সীমানা তৈরি করে যা ব্লু লাইন নামে পরিচিত।
- ইসরায়েল তার সৈন্য প্রত্যাহারের আদেশ অনুসরণ করেছে কিনা তা নির্ধারণ করতে এই ব্লু লাইন ব্যবহার করা হয়েছিল।

- ২০০০ সালের মে পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়নি। গ্রীন লাইন এবং ব্লু লাইন প্রায় অভিন্ন, যদিও কোনটিই এই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বা অফিসিয়াল সীমান্ত হিসাবে কাজ করার উদ্দেশ্যে ছিল না।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও হিস্টরি.কম।
৭০৭.
বাংলাদেশ এশিয়ার কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
  2. দক্ষিণ এশিয়া
  3. মধ্য এশিয়া
  4. পূর্ব এশিয়া
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশের অবস্থান ২০°৩৪' উত্তর অক্ষরেখা হতে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১' পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা হতে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে।
- বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭০৮.
টেকনাফ ও তেঁতুলিয়া কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) পঞ্চগড় ও কক্সবাজার
  2. খ) বান্দরবান ও পঞ্চগড়
  3. গ) কুড়িগ্রাম ও কক্সবাজার
  4. ঘ) কক্সবাজার ও পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
টেকনাফ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা। এটি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
আর তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এটি পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭০৯.
কোন দেশটি মেলানেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. ক) কিরিবাতি
  2. খ) নাউরু
  3. গ) পালাউ
  4. ঘ) ফিজি
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সকল দ্বীপকে একত্রে ওশেনিয়া বলে। এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
ওশেনিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলঃ
অস্ট্রেলেশিয়াঃ ১। অস্ট্রেলিয়া ও ২। নিউজিল্যান্ড।
পলিনেশিয়াঃ ১। সামোয়া, ২। টোঙ্গা ও ৩। টুভ্যালু।
মেলানেশিয়াঃ ১। পাপুয়া নিউগিনি, ২। সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ৩। ভানুয়াতু ও ৪। ফিজি।
মাইক্রোনেশিয়াঃ ১। ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া, ২। কিরিবাতি, ৩। নাউরু, ৪। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও ৫। পালাউ।
সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।

৭১০.
ধ্রুবতারার অবস্থানের মাধ্যমে নিম্নের কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. দ্রাঘিমাংশ
  2. অক্ষাংশ
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- যথা:
১। ধ্রুবতারার অবস্থান:
- উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।

২। সূর্যের অবস্থান:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

অন্যদিকে,
দ্রাঘিমাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানে মূল মধ্যরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে।

দ্রাঘিমা রেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমা রেখা বলে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমা রেখা (Latitude)।
- প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একেকটি অর্ধবৃত্ত।

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১১.
'Law of the Sea Convention' অনুযায়ী উপকূল থেকে কত দূরত্ব পর্যন্ত Exclusive Economic Zone হিসেবে গণ্য?
  1. ক) 22 নটিক্যাল মাইল
  2. খ) ৪৪ নটিক্যাল মাইল
  3. গ) ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ঘ) ৩৭০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে দেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ৩৭০.৪ কিলোমিটার বা ২০০ নটিক্যাল মাইল
এছাড়া,
- টেরিটোরিয়াল বা রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য : ১২ নটিক্যাল মাইল
- মহীসোপানের দৈর্ঘ্য : ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা)
৭১২.
”বাটালি পাহাড়” কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙ্গামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

- ”বাটালি পাহাড়” চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।
- এটি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হিসেবে স্বীকৃত। 
- চট্টগ্রামের লালখানবাজার, টাইগারপাস ও আমবাগানের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বাটালি পাহাড়ের অবস্থান।
- এই পাহাড়ের চূড়া থেকে একঝলকে পুরো শহরসহ বঙ্গোপসাগর দেখা যায়।
- এই পাহাড় এর চূড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মারকও রয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭১৩.
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ কোনটি?
  1. ডেনমার্ক
  2. সুইডেন
  3. নরওয়ে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা- নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

• নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
অর্থাৎ, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
যথা - আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com ও Britannica.com
৭১৪.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. খাগড়াছড়ি
  3. হবিগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।

⇒ ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

♦ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

♦ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

♦ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৫.
বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৪১৫৬ কি.মি
  2. ৪৮৫৬ কি.মি
  3. ৫১৩৮ কি.মি
  4. ৫৩৩৮ কি.মি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- বাংলাদেশের আয়তন- ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.।
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ- বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫১৩৮ কিলোমিটার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা ৪১৫৬ কি.মি।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: i) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭১৬.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা- 
  1. বাংলাবান্ধা
  2. তেঁতুলিয়া
  3. টেকনাফ
  4.  শিবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
-
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭১৭.
’পাপুয়া নিউ গিনি’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- পাপুয়া নিউ গিনি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- এটি নিউ গিনির পূর্ব অর্ধেক দখল করে আছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- পাপুয়া নিউ গিনিতে বিসমার্ক দ্বীপপুঞ্জ, বোগেনভিল, বুকা (সলোমন দ্বীপপুঞ্জ শৃঙ্খলের অংশ), ছোট ছোট উপকূলীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং অ্যাটলও রয়েছে।
- পাপুয়া নিউ গিনি নিরক্ষরেখার দক্ষিণ থেকে টরেস প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত, যা নিউ গিনিকে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরতম সম্প্রসারণ, কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপ থেকে পৃথক করে।
- দেশের রাজধানী- পোর্ট মোরেসবি,

গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ:
⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি।

⇒ ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সেইসিলিশ, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি।

উৎস: World Atlas, ব্রিটানিকা।

৭১৮.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো কোনটি?
  1. ক) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  2. খ) ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) বৈষাখ-জ্যৈষ্ঠ
  4. ঘ) কার্তিক-জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল, যা এদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু।
এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৯.
'চেঙ্গী নদী' নিচের কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. বান্দরবান 
  2. খাগড়াছড়ি 
  3. সিলেট
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

• চেঙ্গী নদী:
- খাগড়াছড়ির প্রধান নদী চেঙ্গী।
- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এর উৎপত্তি। রাজ্যটির আঠারমুড়া থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এটি মহালছড়িতে এসে কাপ্তাই লেকে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর অববাহিকায় রয়েছে লোগং, পানছড়ি, ভাইবোনছড়া, খাগড়াছড়ি, মাইসছড়ি ও মহালছড়ি।খাগড়াছড়ির মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদীটির নাম চেঙ্গি।
- এটি চিংড়ি নদী নামেও পরিচিত।
- পাহাড়ের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা এই নদীর দৈর্ঘ্য ৯৬ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৭৭ মিটার।

তথ্যসূত্র: মহালছড়ি উপজেলা ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭২০.
পেত্রা নগরী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. সিরিয়া
  3. জর্ডান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

পেত্রা নগরী (Petra):
- পেত্রা হলো জর্ডানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি প্রাচীন নগরী।
- এটি নাবাতীয় রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- নাবাতীয় আরবরা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে পেত্রা নির্মাণ করে।
- পেত্রা শব্দের অর্থ ‘পাথর’ বা ‘শিলা’।
- সম্পূর্ণ শহরটি লালচে বেলেপাথরের পাহাড় কেটে নির্মিত।
- বিখ্যাত স্থাপনাগুলির মধ্যে রয়েছে আল-খাজনে (The Treasury) ও আদ-দেইর (The Monastery)।
- পেত্রার স্থাপত্যে হেলেনিস্টিক ও প্রাচ্য শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়।
- রোমান দখলের পর শহরটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়।
- ১৮১২ সালে সুইস অভিযাত্রী জোহান লুডভিগ বার্কহার্ট পেত্রা পুনরাবিষ্কার করেন।
-  ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পেত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
- ২০০৭ সালে এটি বিশ্বের নতুন সাত আশ্চর্যের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- পেত্রাকে তার লালচে পাথরের জন্য “রোজ-রেড সিটি” বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭২১.
পদ্মা ও যমুনা নদী কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) আজরিমিগঞ্জ
  3. গ) চিলমারি
  4. ঘ) গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

অন্যদিকে,
• সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল (মেঘনা): আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
• পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল: চাঁদপুর
• ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল: চিলমারি (কুড়িগ্রাম)
• পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল: ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭২২.
এশিয়ার কোন দেশটি স্থল বেষ্টিত?
  1. মঙ্গোলিয়া
  2. মায়ানমার
  3. তাইওয়ান
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
এশিয়ার স্থল বেষ্টিত দেশসমূহ:
- এশিয়ার মোট ১২ টি দেশ স্থল বেষ্টিত। স্থল বেষ্টিত দেশগুলো হচ্ছে -
- আফগানিস্তান,
- আর্মেনিয়া,
- আজারবাইজান,
- ভূটান,
- কাজাখস্তান,
- কিরগিস্তান,
- লাওস,
- মঙ্গোলিয়া,
- তাজিকিস্তান,
- তুর্কেমিনিস্তান,
- উজবেকিস্তান।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭২৩.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত? 
  1. বঙ্গোপসাগরে
  2. লোহিত সাগরে
  3. জাভা সাগরে
  4. আরব সাগরে
ব্যাখ্যা

• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যা বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরকে পৃথক করে।
- দুটি প্রধান দ্বীপগুচ্ছ নিয়ে গঠিত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- এই দ্বীপপুঞ্জগুলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এবং ভারতের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭২টি দ্বীপ রয়েছে্

উল্লেখ্য
- ২০০৪ সালে, ভারত মহাসাগরে সংঘটিত হয়।
-  শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে।

উৎস: World Atlas.

৭২৪.
সিলেটের পূর্ব নাম কী?
  1. ক) জালালাবাদ
  2. খ) নাসিরাবাদ
  3. গ) বরেন্দ্রভূমি
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
• সিলেটের পূর্ব নাম জালালাবাদ। 

• সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমবাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি সিলেট জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- প্রাচীন শ্রীহট্টে বিপুল হারে বাঙালি অভিবাসন হয়েছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- মোগল যুগে পাঠান বীর খাজা ওসমান সিলেটের স্থানীয় সামন্তদের সহায়তায় আক্রমণকারী মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
- ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের সময়ে সিলেটে বিদ্রোহীরা বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়।

সূত্র:  সিলেট জেলা ওয়েবসাইট। 
৭২৫.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ২৯,০১৩ ফুট
  2. ২৯,০৩২ ফুট
  3. ২৯,৪৮৮ ফুট
  4. ২৯,৭৩২ ফুট
ব্যাখ্যা
এভারেস্ট পর্বত:
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উৎস: i) Britannica.
ii) National Geographic.
৭২৬.
'কিউসু দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. শ্রীলঙ্কা
  3. মালদ্বীপ
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বীপরাষ্ট্র জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো: শিকোকু, কিউসু, হনসু ও হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৭২৭.
সিকিমের পর্বত থেকে বাংলাদেশের কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে? 
  1. মনু
  2. করতোয়া
  3. কর্ণফুলী
  4. সাঙ্গু
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৮.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় ও প্লাইস্টোসিনকালের সোপান ব্যতীত বাংলাদেশের বাকি অংশ কী রূপ?
  1. উপকূলীয় ভূমি
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. পার্বত্য অঞ্চল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৯.
ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে বলা হয় -
  1. Isobar line
  2. Isotherm line
  3. Isohyet line
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩০.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাবটি পড়ে?
  1. লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩১.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি
  2. সেন্টমার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থান - আখাইনঠং।
→ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
→ সর্ব দক্ষিণের স্থান - ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
→ সর্ব পশ্চিমের স্থান - মনাকষা।

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৭৩২.
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে কোন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. কুষ্টিয়া
  2. কুড়িগ্রাম 
  3. লালমনিরহাট
  4. গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:

- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এটি প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্রনদ কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- দেওয়ানগঞ্জের কাছে নদটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়েছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ভৈরববাজারের দক্ষিণে এটি মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- বংশী ও শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি। 

৭৩৩.
বঙ্গভঙ্গ হয় কখন?
  1. ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ বা বঙ্গ-বিভক্তি  করেন ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন।
ঐ সময় সমগ্র বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বঙ্গ প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- উপমহাদেশের এক তৃতীয়াংশ লোকের বসবাস ছিল এ অঞ্চলে। কার্জন এত বড় এলাকাকে একটি মাত্র প্রশাসনিক ইউনিটের অধীনে রাখা যুক্তিযুক্ত মনে করেন নি। রাজধানী কলকাতা থেকে সুদূর পূর্বাঞ্চলের আইন শৃংখলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুচারুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। তাই প্রশাসনিক কারণে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে দু’ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করেন। পূর্ব ও উত্তর বঙ্গকে আসামের সাথে সংযুক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটা নতুন প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকরী হয় ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে। 
- কিন্তু ১৯১১ সালে, প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। 

 তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলায়
  2. খ) বাগেরহাটে
  3. গ) চট্টগ্রামে
  4. ঘ) কক্সবাজারে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী। এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
সূত্র : প্রথম আলো।
৭৩৫.
রামু উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
রামু উপজেলা কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।

এছাড়াও -
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান তিনটি পার্বত্য চট্রগ্রামের জেলা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৩৬.
নিম্নের কোনটি সত্য নয়?
  1. ইরাবদী ভারতের দীর্ঘতম নদী
  2. গোবি মরুভূমি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত
  3. রাঙ্গামাটির ছাদ বলা হয় সাজেক ভ্যালিকে
  4. থর মরুভূমির অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে
ব্যাখ্যা
• সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ

• গোবি মরুভূমি:
- গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- গোবি মরুভূমি দৈর্ঘ্য - ১০০০ মাইল (১৬০০ কিমি) এবং প্রস্থ - ৩০০ থেকে ৬০০ মাইল (৫০০ থেকে ১০০০ কিমি)।
- এই মরুভূমির আয়তন আনুমানিক ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

⇒ থর মরুভূমির অবস্থান: ভারত ও পাকিস্তান।

⇒ ইরাবদী মিয়ানমারের দীর্ঘতম নদী।
- এন'মাই এবং মালি নদীর সঙ্গম থেকে এই নদী উদ্ভূত।

অন্যদিকে,
- ইরাবতী ভারতের একটি নদী। 
- এটি পাঞ্জাব অঞ্চলের সিন্ধু প্রণালীর ছয়টি নদীর একটি।

উৎস: Britannica.
৭৩৭.
দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জুলাই
  2. জানুয়ারি
  3. এপ্রিল
  4. মার্চ
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere) পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও, এই গোলার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশসহ কিছু অঞ্চল রয়েছে।
- এখানকার ঋতু ও জলবায়ু উত্তর গোলার্ধের থেকে ভিন্ন।
- প্রতি বছর ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত হয়। 
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা ডটকম।
৭৩৮.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক কোন সীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
• এর মধ্যে ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
• ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৭৩৯.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয় কবে?
  1. ১ আগস্ট, ২০১৬ সাল
  2. ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
  3. ৩০ আগস্ট, ২০২৪ সালে
  4. ১ জুলাই, ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যা ও সমাধান:

• ছিটমহল দ্বারা এমন অঞ্চল বা ভূখণ্ডকে বোঝায় যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অবস্থিত অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই অন্য রাষ্ট্রের এ ধরণের ছিটমহল রয়েছে। যেমন ভারত- বাংলাদেশ ছিটমহল।
• বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যার উদ্ভব হয়: ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে।
• সমস্যা-সমাধানে মুজিব-ইন্ধিরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
• চুক্তি কার্যকর হয়: ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে।

ছিটমহল বিনিময়ের ফলাফল:
• বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি বলে আর কোনো ছিটমহলের অস্তিত্ব নেই। 
• প্রথম বাংলদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় কুড়িগ্রামের দশিয়ারছড়া ছিটমহলে,
• দশিয়ারছড়া ছিটমহলের বর্তমান নাম মুজিব-ইন্ধিরা ইউনিয়ন,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট। 
৭৪০.
সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ হয় কোন দুটি দেশের মধ্যে?
  1. ক) মিশর ও ইসরাইল
  2. খ) সিরিয়া ও ইসরায়েল
  3. গ) ইসরাইল ও লেবানন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সিনাই উপদ্বীপ মিশরে অবস্থিত ত্রিভুজ আকৃতির একটি উপদ্বীপ।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। ১৯৭৩ সালে মিশর সিনাই উপদ্বীপ দখলে নিতে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়।
১৯৮২ সালে চুক্তির আওতায় ইসরাইল তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

উৎসঃ Aljajera.com

৭৪১.
পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানীর নাম কী?
  1. প্যারিস
  2. লাপাজ
  3. বোগোতা
  4. কিটো
ব্যাখ্যা
বলিভিয়ার রাজধানী:
-বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজ পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানী।
-দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের একটি দেশ যা আন্দিজ পর্বতমালায় অনেক উঁচুতে অবস্থিত।
-এজন্য দেশটিকে পৃথিবীর ছাদ নামে অনেক সময় ডাকা হয়।
-সরকারিভাবে বলিভিয়ার রাজধানীর নাম শুক্রে,তবে লাপাজ দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী ও বলিভিয়া সরকারের প্রধান কর্মস্থল।
-প্রায় ৩৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম রাজধানী।

অন্যদিকে,
-দ্বিতীয় উচ্চতম রাজধানী হচ্ছে ইকুয়েডরের কিটো।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
৭৪২.
দক্ষিণ গোলার্ধে কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ৪৫° এবং বিষুবলম্ব ১০° দক্ষিণ। ঐ স্থানের অক্ষাংশ কত?
  1. ৩৫° দক্ষিণ
  2. ৪৫° দক্ষিণ
  3. ৫৫° দক্ষিণ
  4. ২৫° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশ নির্ণয় করার সূত্র হলো:
- অক্ষাংশ = ৯০°−(মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি) + বিষুবলম্ব (দক্ষিণ হলে -, উত্তর হলে +)। 

- এখানে, মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি = ৪৫°,
- বিষুবলম্ব = ১০° দক্ষিণ।

∴ অক্ষাংশ = ৯০°− ৪৫°+ ১০°
= ৪৫°+১০°
=৫৫°দক্ষিণ অক্ষাংশ  

- অতএব, ঐ স্থানের অক্ষাংশ = ৫৫° দক্ষিণ।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৩.
বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
  1. করিমগঞ্জ
  2. পেট্রাপোল
  3. বজ্রপুর
  4. ডাউকি
ব্যাখ্যা
• তামাবিল স্থলবন্দর:
- গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা তামাবিল।
- তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
- তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি শহরটি অবস্থিত।
- তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সূত্র: গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট।
৭৪৪.
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমির আকৃতি কেমন থাকে?
  1. 'ভি' আকৃতি
  2. নদীর বাঁক
  3. গিরিসংকট
  4. বর্তুলাকার গর্ত
ব্যাখ্যা
নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (Erosional Features of River):
- নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
- পার্বত্য অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়।
- নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ অনেক ধরণের হয়।
- যেমন:
১. 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley),
২. জলপ্রপাত (Waterfall),
৩. গিরিসংকট (Ravine),
৪. গিরিখাত (Gorge),
৫. নদীপ্রপাত (Rapid),
৬. নদীর বাঁক (Meanders),
৭. বর্তুলাকার গর্ত (Pot Holes) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
⇒ 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley):
- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমি 'ভি' আকৃতি উপত্যকা হয়ে থাকে।
- পার্বত্য অঞ্চলের শিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন থাকে।
- সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি থাকায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় তলদেশের ক্ষয়সাধন অধিক হয়।
- এ সময় পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যভাগ অধিক ক্ষয় হতে হতে কালক্রমে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের ন্যায় রূপধারণ করে।
- এজন্য এ ধরনের উপত্যকাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
- পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পার্শ্বদিকে ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হলে উপত্যকা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৫.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব আইন কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৮ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৫৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব আইন (১৯৫০ খ্রি.)
গণদাবির কারণে মুসলিম লীগ সরকার ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব বিল উপস্থাপন করে। বহুবিতর্কের পর ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিলটি আইনে পরিণত হয়। এ আইনের ফলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭৪৬.
 'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. টেকনাফ
  2. হাতিয়া
  3. মহেশখালি
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা

• সোনাদিয়া দ্বীপ:
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

উৎস: কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট।

৭৪৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বদ্বীপ অবস্থিত?
  1. উত্তর-পূর্ব
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

• ব-দ্বীপ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।
- কুষ্টিয়া, যশোর, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ এবং খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ফরিদপুর এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলো এ অঞ্চলের উপর অথবা পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ফলে সর্বদা এ অঞ্চল নদী বিধৌত পলি দ্বারা প্লাবিত।
- নদীর মোহনায় অনেকগুলো দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও তালপট্টি।
- এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো হল পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ, কপোতাক্ষ, মধুমতি ইত্যাদি।
- ফলে পূর্ব অংশের ভূমি প্রায় প্রতিবছর প্লাবিত থাকে।
- অপরদিকে, খুলনা ও পটুয়ালালি জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রধান বনাঞ্চল সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৮.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় নিম্নের কোন পাহাড়টির সৃষ্টি হয়েছে?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিককালের পাহাড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৯.
'চির শান্তির শহর' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ভেনিস
  2. নিউইয়র্ক
  3. এথেন্স
  4. রোম
ব্যাখ্যা
• চির শান্তির শহর:
- 'চির শান্তির শহর' নামে পরিচিত ইতালির রাজধানী রোম।

এছাড়াও,
- The city of flowering trees: জিম্বাবুয়ের হারারেকে।
- City of Golden gate: যুক্তরাষ্ট্রের স্যানফ্রান্সিসকো।
- City of light: ফ্রান্সের প্যারিস।
- City of motor cars: যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট।
- City of canals: ইতালির ভেনিস।
- Pink city: ভারতের জয়পুর।
- Big apple: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।

উৎস: Britannica.
৭৫০.
নিচের কোনটি দ্বারা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত?
  1. বেলেপাথর, শেল ও কদম
  2. মার্বেল ও গ্রানাইট
  3. কাদা মাটি
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫১.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান 'আখাইনঠং' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান: 

• সর্ব উত্তরের অবস্থান
- স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

• সর্ব পূর্বের অবস্থান
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা: বান্দরবান।

• সর্ব পশ্চিমের অবস্থান
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

• সর্ব দক্ষিণের অবস্থান
- স্থান: ছেড়াদ্বীপ (সেন্ট মার্টিন দ্বীপ)।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৫২.
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন কত?
  1. ৩৬০°
  2. ০°
  3. ৯০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন- ৯০° কোন।

• অক্ষরেখা (Latitude):
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে।
- এই নিরক্ষরেখাকে ০° ধরে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে দুই মেরু পর্যন্ত ৯০° বা এক সমকোণ ধরা হয়।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য নিরক্ষরেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো অক্ষরেখা।
- এই অক্ষরেখাগুলো আসলে কল্পনা করা হয়েছে।
- এদের সমাক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে (Angular Distance) ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে।
- একই গোলার্ধের একই অক্ষাংশ মানসমূহের সংযোগ রেখাকে অক্ষরেখা বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৭৫৩.
দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ কোনটি? [মার্চ, ২০২৬] 
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. বলিভিয়া
  3. সুরিনাম
  4. পেরু
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকা হলো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
- এটি উত্তরে এবং উত্তর-পশ্চিমে ক্যারিবিয়ান সাগর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত।
- মহাদেশের মোট আয়তন প্রায় ৬,৮৭৮,০০০ বর্গমাইল (১৭,৮১৪,০০০ বর্গকিমি)।

- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ১২টি সার্বভৌম দেশ রয়েছে।
- প্রধান দেশগুলো হলো:
- আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, প্যারাগুয়ে, পেরু, সুরিনাম, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলা। 
- এর মধ্যে ব্রাজিল বৃহত্তম দেশ, আর সুরিনাম ক্ষুদ্রতম দেশ।
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ হলো সুরিনাম।
- এটি ১৯৭৫ সালের ২৫ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এই মহাদেশের স্থলবেষ্টিত (landlocked) দেশ হলো- বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে।

- দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আন্দিজ পর্বতমালা।
- এর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত চিলি পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে সরু দেশ।
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো অ্যাকনকাগুয়া পর্বত (আর্জেন্টিনা)।
- এবং নিম্নতম স্থান হলো লাগুনা দেন কার্বন (আর্জেন্টিনা)
- বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ হলো টিটিকাকা হ্রদ, যা দক্ষিন আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্তে অবস্থান করে।
- এই মহাদেশের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট হলো আমাজন বন। 
- তাছাড়া এই মহাদেশেই অবস্থিত ইকুয়েডর চির বসন্তের দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica ও World Atlas. 

৭৫৪.
নিচের কোন দেশটির সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত নেই?
  1. চীন
  2. উজবেকিস্তান
  3. ভারত
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
- আফগানিস্তান মধ্য দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
- দেশটির সাথে মোট ৬টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
এগুলো হলো:
- পাকিস্তান
- ইরান
- তুর্কমেনিস্তান
- তাজিকিস্তান
- উজবেকিস্তান এবং
- চীন।
- ভারতের সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত নেই। তবে পাকিস্থান অধিকৃত কাশ্মিরের গিলগিট-বালটিস্তানের সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭৫৫.
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. নেপাল ও চীন
  2. ভারত ও ভুটান
  3. নেপাল ও ভারত
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ:
- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ ভারত এবং নেপালের সীমান্তে অবস্থিত। 
- এটি পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্য এবং পূর্ব নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার।
- এই পর্বতটি গ্রেট হিমালয় পর্বতমালার অংশ।

উৎস: Britannica.

৭৫৬.
কোন রেখা প্রবাহিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে, ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৭.
তারুয়া সমুদ্র সৈকত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম
  3. ভোলা
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
তারুয়া সমুদ্র সৈকত:
- তারুয়া সমুদ্র সৈকত (Tarua Sea Beach) ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত ঢালচরের সর্ব দক্ষিণের ভূখন্ড।
- প্রায় ৭কি.মি. দীর্ঘ এই তারুয়া সমুদ্র সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে বিসস্তূর্ণ চারণভূমি, যার শেষ হয়েছে তারুয়া সৈকত সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনে।
- হরিণ, বণ্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়া সহ বৈচিত্র্যময় প্রাণীর বসবাস এই দ্বীপে।
- ১৯৬৫ সালের দিকে জেগে উঠা চরফ্যাশন শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন এ চরটি ঢালচর ভেঙ্গে পূর্ব ঢালচর হিসাবে পরিচিত হলেও এটিকে পরে তারুয়া সমুদ্র সৈকত নাম করণ করেন স্থানীয়রা।
- তারুয়া দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৫৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ কোনটি?
  1. লালমাই পাহাড়
  2. মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  3. গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়শ্রেণী
ব্যাখ্যা
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলোঃ
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৫৯.
আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয় কোনটি?
  1. কিওক্রাডং
  2. লালমাই
  3. তাজিনডং
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
i) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

ii) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

অন্যদিকে,
- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনযুগের পাহাড়। এটি আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬০.
কোন দুটি দেশের সীমান্তে মহাকালী নদীটির অবস্থান?
  1. ক) বাংলাদেশ ও ভারত
  2. খ) ভারত ও চীন
  3. গ) ভারত ও নেপাল
  4. ঘ) বাংলাদেশ ও মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
- মহাকালী নদী ভারত ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি দেশ দুটির মাঝে সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।
- ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত নদীটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে নেপালের সাথে ভারতের দ্বন্দ্ব চলছে।

সূত্র:- আনন্দবাজার।
৭৬১.
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কারণ -
  1. ক) ভূমির ঢাল নেই বলে
  2. খ) বায়ুর চাপ নিম্নাঞ্চলে বেশি হওয়ায়
  3. গ) সমুদ্র পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ায়
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে
ব্যাখ্যা
• পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে। যেমন - গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
• তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
• একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না। এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬২.
ভৌগোলিক ভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার মধ্যে দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. মাগুড়া
  2. নাটোর
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৩.
নিচের কোন বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে?
  1. বরিশাল
  2. সিলেট
  3. খুলনা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা হল ৬৪।
→ সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে ৩২ টি। এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ভারত ও মিয়ানমার এর সাথে।
→ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০ টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার।
→ এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
→ ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ডিএমপি নিউজ (১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।
৭৬৪.
Which of the following naval route is known as the Suez Canal of Bangladesh?
  1. ক) Gabkhan Channel
  2. খ) Rabnabad Channel
  3. গ) Kornofuli Channel
  4. ঘ) Hatiya Channel
ব্যাখ্যা
গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ।
• ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত।
- যেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে।
- এ সেতুর নির্মাণশৈলী একে দেশের অন্যান্য সেতু থেকে আলাদা করেছে।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার  সুয়েজখাল নামে পরিচিত।

সূত্র: ঝালকাঠি জেলার ওয়েবসাইট
৭৬৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত স্থান কোনটি?
  1. মনাকষা
  2. শিবগঞ্জ
  3. শিবচর
  4. বাংলাবান্ধা 
ব্যাখ্যা

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমের বিভাগ: রাজশাহী।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমের জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমের উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমের স্থান: মনাকষা।

উল্লেখ্য, 
• সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের বিভাগ: রংপুর।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা: তেতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের স্থান হলো: বাংলাবান্ধা।

• সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের বিভাগ: চট্টগ্রাম।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের জেলা: বান্দরবান।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা: থানচি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের স্থান হলো আখাইনঠং।  

• সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের  বিভাগ: চট্টগ্রাম।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের উপজেলা: টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের স্থান: ছেঁড়াদ্বীপ।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৭৬৬.
বাংলাদেশের কতটি “ছিটমহল” ভারতের ভৌগোলিক সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ১৬২টি
  2. খ) ১১১টি
  3. গ) ৫১টি
  4. ঘ) ১০১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের ভূখন্ডের ভিতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭৬৭.
'মাউন্ট এলব্রুস' কোন মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরোপ
  3. ওশেনিয়া
  4. এন্টার্কটিকা
ব্যাখ্যা
ইউরোপ মহাদেশ:
- ইউরোপ মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে ষষ্ঠ।
- ইউরোপ মহাদেশের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভুমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর, পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
- ইউরোপ মহাদেশ ৪৫টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- এর মধ্যে ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটি।
- এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশে রাশিয়ার অবস্থান হলেও এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ভলগা (৩,৬৮৭ কিলোমিটার)।
- ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এলব্রুস।

অন্যদিকে -
- এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট।
- আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কিলিমাঞ্জারো।
- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট ডেনালি।
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম অ্যাকাঙ্কাগুয়া।
- ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম পুসাক জায়া।
- এন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম ভিনসন ম্যাসিফ।

উৎস: World Atlas.
৭৬৮.
কোনটি সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান নয়?
  1. ক) শিক্ষা
  2. খ) শিল্পায়ন
  3. গ) বাসস্থান
  4. ঘ) নগরায়ন
ব্যাখ্যা
• বাসস্থানের তুলনায় শিক্ষা, শিল্পায়ন এবং নগরায়ন সামাজিক পরিবর্তনের সাথে বেশি সম্পৃক্ত।
• তাই সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান নয় বাসস্থান।
• কেননা বাসস্থান হলো মানুষের মৌলিক উপাদান।
•  শিক্ষা, শিল্পায়ন ও নগরায়ন হলো সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান।
এছাড়াও

• সমাজ পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
• এর অন্যতম কারণ হলো শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৯.
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা -
  1. ১২ কিলোমিটার
  2. ২২.২২ কিলোমিটার
  3. ৪২.০৪ কিলোমিটার
  4. ২২২ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭০.
জেদ্দা সমুদ্রবন্দর কোন সাগরের তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পারস্য উপসাগর
  2. খ) ওমান উপসাগর
  3. গ) লোহিত সাগর
  4. ঘ) আকাবা উপসাগর
ব্যাখ্যা
- জেদ্দা সমুদ্রবন্দর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। এটি সৌদি আরবের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর।
লোহিত সাগরের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরসমূহ:
- পোর্ট সুদান (সুদান)
- পোর্ট সুয়েজ (মিশর)
- পোর্ট হুদাইদাহ (ইয়েমেন)
- পোর্ট আসেব (ইরিত্রিয়া)।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭৭১.
'সােয়াচ অব নাে গ্রাউন্ড' কী?
  1. একটি দেশের নাম
  2. ম্যানগ্রোভ বন
  3. একটি দ্বীপ
  4. সাবমেরিন ক্যানিয়ন
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৭২.
বাংলাদেশের কয়টি জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের ১১টি জেলার উপর দিয়ে ( চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও,
- কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের ওপর দিয়ে গিয়েছে।
- এটি পার্শ্ববর্তী ভারতের গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, ঝাড়খন্ড, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গেছে।
-  যেসব এলাকার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা গেছে, সেসব এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাপ অনেক বেশি।
- এখানে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পড়ে। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৭৭৩.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?
  1. থানচি
  2. তেঁতুলিয়া
  3. শিবগঞ্জ
  4. মনাকষা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
সর্ব উত্তর:
- স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

• সর্ব পূর্ব:
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা: বান্দরবান।

• সর্ব পশ্চিম:
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

• সর্ব দক্ষিণ:
- স্থান: ছেড়াদ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৭৪.
তেঁতুলিয়া উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. পঞ্চগড়
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
তেঁতুলিয়া উপজেলা:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা হচ্ছে তেঁতুলিয়া উপজেলা।
- এই উপজেলা পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত।
- এর উত্তরে ভারত, পূর্বে ভারত ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভারত এবং পশ্চিমে ভারত সীমান্ত।
- এ উপজেলা প্রায় ২৬০২৪’ ও ২৬০৩৮’উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০২০’ ও ৮৮০৩২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- উপজেলা ইংরেজী ১৮৬০ সন হতে ১৮৬৯ সন পর্যন্ত রংপুর জেলার একটি মহুকুমা হিসেবে প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা লাভ করে।
- শিল্প, বাণিজ্য ও নদী বন্দর হিসেবে তেঁতুলিয়া ছিল সুবিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৭৫.
নিচের কোন দেশটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত নয়? 
  1. জ্যামাইকা 
  2. গ্রানাডা
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. হাইতি
ব্যাখ্যা

- ভেনিজুয়েলা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত নয়।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের একটি দেশ।

• ক্যারিবিয়ান দেশসমূহ:

- উত্তর আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের সার্বভৌম দেশ: মোট ১৩টি। যথা-
- হাইতি,
- জামাইকা,
- সেন্ট কিটস ও নেভিস,
- সেন্ট লুসিয়া,
- সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস,
- ত্রিনিদাদ ও টোবাগো,
- অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা
- বাহামাস
- বার্বাডোস।
- কিউবা
- ডমিনিকা
- ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র
- গ্রানাডা।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭৭৬.
’চর আলেকজান্ডার’ কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. ফেনী
  2. লক্ষ্মীপুর
  3. নোয়াখালী
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন চরসমূহ:
- সুন্দরবনের চরসমূহ: দুবলার চর, পাটনি চর।
- লক্ষ্মীপুর জেলার চরসমূহ: চর গজারিয়া, চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলার চরসমূহ: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি
- নোয়াখালী জেলার চরসমূহ: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলার চর: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলার চর: নির্মল চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৭৭.
কোন জেলার উত্তর সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে 'সুসাং পাহাড়' অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বান্দরবন
ব্যাখ্যা
- সুসাং পাহাড়  ভারতের পশ্চিম মেঘালয়ের গারো পাহাড়-এর দক্ষিণমুখী সম্প্রসারিত পাহাড়শ্রেণী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে এটি পশ্চিমে কুরি বিল থেকে পূর্বে ভোগাই নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- গারো পাহাড়ের পাদদেশীয় এই সুসাং পর্বতমালা গারো পাহাড় উদ্ভূত নদনদী সৃষ্ট উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন  প্রলম্বিত টিলা দ্বারা গঠিত।
- গারো পাহাড়, খাসিয়া পাহাড় ও জৈন্তিয়া পাহাড় নিয়ে গঠিত সুউচ্চ শিলং ম্যাসিফ-এর (Shillong massif) দক্ষিণ দিকের সরু পাহাড়-টিলার একটি অংশ বাংলাদেশ ভূখন্ডে ঢুকেছে।
- প্রায় ১৮ কিলোমিটার প্রলম্বিত বৃহৎ ডাউকি চ্যুতি (Dauki fault) এই পাদদেশীয় পাহাড়সমূহকে মেঘালয় মালভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭৭৮.
ইতালির ভিসুভিয়াস ও কেনিয়ার কিলিমানজারো কোন শ্রেণির পর্বত?
  1. ভঙ্গিল
  2. ক্ষয়জাত
  3. সঞ্চয়জাত
  4. আগ্নেয়
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

⇒ আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য ম্যাগমা লাভা হিসাবে উদগিরিত হয়ে চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- পরবর্তীতে জমে ঠান্ডা হয়ে যে শিলাস্তূপের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- লাভার প্রকৃতির ওপর আগ্নেয় পর্বতের বিস্তৃতি ও আকৃতি নির্ভর করে।
- আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূ-আলোড়নের জন্য ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশের ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই, ধাতু ইত্যাদি প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।
- এই উত্তপ্ত লাভা ফাটলের চতুর্দিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি করে।
- যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৯.
SPARSO প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৪
  2. খ) ১৯৮০
  3. গ) ১৯৮৪
  4. ঘ) ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।
৭৮০.
মাউন্ট এভারেস্ট কোন দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে গঠিত হয়েছে? 
  1. ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান
  2. ইউরেশিয়ান প্লেট ও আফ্রিকান প্লেট 
  3. প্যাসিফিক প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেট
  4. ইন্ডিয়ান প্লেট ও অ্যান্টার্কটিক প্লেট 
ব্যাখ্যা

• এভারেস্ট পর্বত:
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উল্লেখ্য,
- ইউরেশিয়ান প্লেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটিনেন্টাল প্লেট, যা ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: i) ব্রিটানিকা। 
ii) National Geographic।

৭৮১.
'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয় কোনটি?
  1. বালু নদী
  2. গুলশান-বারিধারা লেক
  3. তুরাগ নদী
  4. নিঝুম দ্বীপ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- 'নিঝুম দ্বীপ 'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয়।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৭৮২.
’পালংকি’ কোন পর্যটন এলাকার প্রাচীন নাম?
  1. কক্সবাজার
  2. কুয়াকাটা
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
•  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত:
→ কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্যটন শহর।
→  এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
→ কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
→ এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। 
→ আধুনিক কক্সবাজারের নাম রাখা হয়েছে ল্যাঃ কক্স (মৃত্যু ১৭৯৮) এর নামানুসারে যিনি ব্রিটিশ আমলে ভারতের সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। এককালে কক্সবাজার পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন নাম হচ্ছে পালংকি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কপোরেশন।
৭৮৩.
জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমারেখা নির্ধারিত হয়েছিলো কোন রেখার সাহায্যে?
  1. ক) সিগফ্রিড লাইন
  2. খ) হিন্ডেনবার্গ লাইন
  3. গ) ওডেরনিস লাইন
  4. ঘ) ম্যাজিনো লাইন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি কর্তৃক জার্মানি ও পোল্যান্ডের মাঝে নিরূপিত সীমারেখা হলো ওডারনিস লাইন (Oder–Neisse Line)।
এছাড়া,
- সিগফ্রিড লাইন (Siegfried Line): জার্মানি ও ফ্রান্স
- হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line): জার্মানি - ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, উত্তর পূর্ব ফ্রান্স সীমান্ত)।
- ম্যাজিনো লাইন (Maginot Line): জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা

সূত্র: ব্রিটানিকা এবং History.com ওয়েবসাইট।
৭৮৪.
নিচের কোন দেশটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) মরিশাস
  2. খ) পূর্ব তীমুর
  3. গ) মাল্টা
  4. ঘ) সামোয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে মরিশাস আফ্রিকা মহাদেশের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। মরিশাস ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস।
অন্যদিকে,
- পূর্ব তীমুর এশিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র
- মাল্টা ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত ইউরোপের একটি দ্বীপরাষ্ট্র
- সামোয়া ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭৮৫.
পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে -
  1. ক) ২২ ডিসেম্বর
  2. খ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ২১ জুন
  4. ঘ) ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
• সবচেয়ে বড়ো দিন ২১ জুন।
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত।
- বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- আবার ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৮৬.
‘গর্জনশীল চল্লিশ’-এর অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. ৪০° থেকে ৫০° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. ৪০° থেকে ৪৭° উত্তর অক্ষাংশ
  4. ৪০° থেকে ৫০° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

গর্জনশীল চল্লিশ:
- দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি।
- তাই এখানে পশ্চিমা বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়।
- ৪০° - ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চলে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি থাকে।
​- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৭.
কোন দেশ দুটি মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মিশর
  2. সিরিয়া
  3. তুরস্ক
  4. আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা
তুরস্ক:
- তুরস্ককে বলা হয় ইউরেশিয়ান রাষ্ট্র।
- এটি দুইটি মহাদেশে অবস্থিত।
- এর ইস্তানবুল শহরের একাংশ পড়েছে ইউরোপে এবং বাকি অংশ পড়েছে এশিয়ায়।
- এটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে বসফরাস প্রণালী দ্বারা।
- তাই ইস্তানবুল শহরকে ইউরেশিয়ান শহর বলা হয়।
- ইস্তানবুল শহরের পূর্বনাম কনস্ট্যান্টিনোপল।

উৎস: Britannica.
৭৮৮.
চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজারের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. ক) সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  2. খ) প্লাইস্টোসিন কালের পাহাড়
  3. গ) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।

• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
১।টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২।প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩।সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
• এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
• এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো: ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
• এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
• এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
• প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৯.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা কোনটি?
  1. মেহেরপুর
  2. যশোর
  3. রাঙ্গামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

রাঙ্গামাটি জেলা:
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা- রাঙ্গামাটি।
- এর আয়তন: ৬১১৬ বর্গ কিলোমিটার।
- রাঙ্গামাটি জেলার ভৌগলিক অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের ২১৫০° হতে ২৩-৪৫০।
- এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ৯১৪৫° হতে ৯২-৫৩০।
- এ জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান- ছেড়া দ্বীপ (না থাকলে সেন্টমার্টিন হবে)।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান- আখাইনঠং (থানচি, বান্দরবন)।
- বাংলাদেশের পশ্চিমের স্থান- মনাকসা (শিবগড়, চাঁপাই নবাবগঞ্জ)।
- বাংলাদেশের বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান- জায়গীর জোত, বাংলা বান্ধা।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিভাগ- চট্টগ্রাম।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৯০.
’গরান বৃক্ষ' কোন বনভূমির অন্তর্গত?
  1. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
  2. স্রোতজ বনভূমি
  3. পার্বত্য বনভূমি
  4. চিরহরিৎ বনভূমি
ব্যাখ্যা
’গরান বৃক্ষ' স্রোতজ বনভূমির অন্তর্গত।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:

- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ খুলনা এবং দক্ষিণ পূর্বাংশে নোয়াখাসী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিজ্জ জন্মায় তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়।
 - প্রধানত সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদ বেশি জন্ম নেয়।
- স্যাঁতসেঁতে লোনা পানিতে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, ফুন্দল, কেওড়া, বাইন, গরান, গোলপাতা ইত্যাদি বৃক্ষ এ বনভূমির অন্তর্গত।
-উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৯১.
উত্তর আমেরিকার সর্বনিম্ন বিন্দু -
  1. ভালডেস পেনিনসুলা
  2. বেন্টলে স্যাবগ্লাসিয়াল
  3. ডেথ ভ্যালি
  4. লেক আয়ার
ব্যাখ্যা
ডেথ ভ্যালি:
- এটি উত্তর আমেরিকার সর্বনিম্ন বিন্দু।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত।
- ডেথ ভ্যালি প্রায় ১৪০ মাইল (২২৫ কিমি) দীর্ঘ।
- উপত্যকাটি পশ্চিমে প্যানামিন্ট রেঞ্জ দ্বারা এবং পূর্বে অমরগোসা রেঞ্জের কালো এবং গ্রেপভাইন পর্বত দ্বারা আবদ্ধ।
- এটি গ্রেট বেসিন এবং মোজাভে মরুভূমির মধ্যে অনির্ধারিত সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
- এটি উষ্ণতম এবং শুষ্ক অঞ্চল।

অন্যদিকে -
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বনিম্ন বিন্দু ভালডেস পেনিনসুলা।
- ওশেনিয়া মহাদেশের সর্বনিম্ন বিন্দু লেক আয়ার।
- আন্টার্কটিকার সর্বনিম্ন বিন্দু: বেন্টলে স্যাবগ্লাসিয়াল।

উৎস: Britannica.
৭৯২.
নিচের কোনটি আকস্মিকভাবে ভূপৃষ্ঠ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া?
  1. ক) অপসারণ
  2. খ) নগ্নীভবন
  3. গ) অগ্ন্যুৎপাত
  4. ঘ) অবক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিকভাবে ভূপৃষ্ঠ পরির্তনের প্রক্রিয়া দুটো। এগুলো হলো:
- আকস্মিক পরিবর্তন ও
- ধীর পরিবর্তন।
আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত

(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৯৩.
নিচের কোনটিকে মানচিত্রের সংকলন গ্রন্থ বলা হয়ে থাকে?
  1. ক) Cadastral Map
  2. খ) Topographical Map
  3. গ) Wall Map
  4. ঘ) Atlas Map
ব্যাখ্যা
ভূ-চিত্রাবলী ((Chorographical or Atlas Map): ভ‚-প্রকৃতি, জলবায়ু, উদ্ভিজ্জ, কৃষিজ, খনিজ, শিল্প, শহর, যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যাদি বিভিন্ন রং ও চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একে মানচিত্রের সংকলন গ্রন্থ বলা হয়ে থাকে।
ভ‚-চিত্রাবলী সবচেয়ে ছোট স্কেলে অঙ্কন করা হয়। এ মানচিত্রের স্কেল সাধারণত ১: ১,০০,০০০ বা ১: ১০,০০,০০০ হিসেবে দেখানো হয়।

উৎস: এস.এস.সি. ভূগোল ও পরিবেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৯৪.
উত্তর আমেরিকার কোন অঞ্চলকে প্রায়শই "পশ্চিমের জিব্রাল্টার" বলা হয়?
  1. অন্টারিও
  2. কুইবেক
  3. মন্টানা
  4. আলবার্টা
ব্যাখ্যা

কুইবেক অঞ্চল:
- উত্তর আমেরিকার কুইবেক অঞ্চল এবং তার রাজধানী কুইবেক সিটি প্রায়শই “পশ্চিমের জিব্রাল্টার” (Gibraltar of the North) নামে পরিচিত।
- এর কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান।
- সেন্ট লরেন্স নদীর তীরে উঁচু পাথুরে স্থল (Cap Diamant) হওয়ায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবে দুর্ভেদ্য, যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের সময় সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

- কুইবেক কানাডার পূর্বভাগের বৃহত্তম প্রদেশ, আয়তনে ফ্রান্সের তিনগুণ এবং দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল প্রদেশ।
- এটি ১৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত, যার মধ্যে নর্ড-দ্য-কুয়েবেক, সেন্ট লরেন্স লো-ল্যান্ডস এবং অ্যাপলাচিয়ান আপল্যান্ডস উল্লেখযোগ্য।
- এর প্রধান ভাষা ফরাসি, যা অঞ্চলটির অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় নিশ্চিত করে।
- কুইবেকের অর্থনীতি মূলত খনিজ সম্পদ, জলবিদ্যুৎ ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল।

- ১৬০৮ সালে স্যামুয়েল ডি শ্যাম্পলেইন এই অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এই অঞ্চলটি উত্তর আমেরিকার প্রাচীন ইউরোপীয় বসতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- সব মিলিয়ে, কুইবেক অঞ্চল তার ভৌগোলিক দুর্ভেদ্যতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সমৃদ্ধ সম্পদ এবং অনন্য সংস্কৃতির কারণে “পশ্চিমের জিব্রাল্টার” হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica. 

৭৯৫.
ভারত এবং মায়ানমার থেকে কতটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. ক) ৫৮
  2. খ) ৫৪
  3. গ) ৫৫
  4. ঘ) ৫৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং মায়ানমার থেকে ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
জলতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই এ নদীগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭৯৬.
নিচের কোনটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র?
  1. ক) ভিয়েতনাম
  2. খ) কম্বোডিয়া
  3. গ) লাওস
  4. ঘ) মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত দেশসমূহের মধ্যে লাওস একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
পৃথিবীর স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে রয়েছে:

এশিয়া:
- নেপাল, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, ভুটান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান।

আফ্রিকা:
- ইথিওপিয়া, লেসোথ, জিম্বাবুয়ে, জায়ারে, নাইজার, চাঁদ, মালি, দক্ষিণ সুদান প্রভৃতি।

দক্ষিণ আমেরিকা:
- বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে।

ইউরোপ:
- সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, সার্বিয়া, বেলারুশ, কসোভো, চেক রিপাবলিক, ভ্যাটিকান সিটি, স্লোভাকিয়া, মলদোভা, উত্তর মেসিডোনিয়া, সানম্যারিনো, অ্যান্ডোরা, হাঙ্গেরি প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৭৯৭.
পৃথিবীতে উচ্চচাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি।
- এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।
এগুলো হলোঃ
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
৭৯৮.
বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে কত ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত?
  1. ১২০ ডিগ্রি
  2. ৮০ ডিগ্রি
  3. ৯০ ডিগ্রি
  4. ৬০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায়,

গ্রিনিচ মান সময়:

- Greenwich Mean Time (GMT) একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রণীত সময় পদ্ধতি।
- গ্রিনিচ মান মন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রিনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায়,
- বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।

৭৯৯.
সাজেক ভ্যালি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক রুইলুই পাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।
- এখানে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।
- সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন।
- এর আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
- সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ।

তথ্যসূত্র: রাঙ্গামাটি জেলার ওয়েবসাইট।

৮০০.
মেঘনা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. ক) মনু
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা
মেঘনা:
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল হচ্ছে ২৯,৭৮৫ বর্গকিলােমিটার।
- মেঘনার উপনদী = মনু, বাউলাই, তিতাস, গােমতী। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।