বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৫০১৬০০ / ১,৬৩৯

৫০১.
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কোনটি?
  1. মাওনা লোয়া
  2. মাউন্ট ইরেবাস
  3. মাউন্ট এটনা
  4. মেরাপি
ব্যাখ্যা

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
- অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ, যা দক্ষিণ মেরুর চারপাশে কেন্দ্রীভূতভাবে অবস্থিত।
- এর স্থলভাগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ৬,৫০০ ফুট (প্রায় ২,০০০ মিটার) পুরু বরফের চাদর দ্বারা আবৃত।
- মহাদেশটি দুইটি উপমহাদেশে বিভক্ত:
- পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা, যা মূলত উঁচু, বরফে ঢাকা মালভূমি নিয়ে গঠিত।
- এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা, যা প্রধানত বরফে ঢাকা পাহাড়ি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।

- অ্যান্টার্কটিকার ভূমির আয়তন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৪.২ মিলিয়ন বর্গকিমি)।
- এটি আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশ দ্বারা ঘেরা।
- মহাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো মাউন্ট ইরেবাস। 
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো মাউন্ট ভিনসন।
- অ্যান্টার্কটিকায় কোনও দেশ নেই।
------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মাওনা লোয়া (Mauna Loa), হাওয়াই: এটি বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- মাউন্ট এটনা (Mount Etna), ইতালি: ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় এবং উঁচু আগ্নেয়গিরি।
- মেরাপি (Merapi), ইন্দোনেশিয়া: এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি

উৎস: Britannica. 

৫০২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের অবস্থান কোথায়?
  1. গাজীপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. মাদারীপুর
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর।
- এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে যার আয়তন প্রায় ৩০ হাজার একর।
- এখানে প্রায় ১৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা এটি বাস্তবায়ন করছে।
(তথ্যসূত্রঃ বেজা ওয়েবসাইট এবং বনিকবার্তা)
৫০৩.
নিম্নের কোনটি সাম্প্রতিককালের ভূ-প্রকৃতির অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পাহাড়
  3. মরুভূমি
  4. সোপান
ব্যাখ্যা

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
 - টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। 
- সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ)ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ)নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫০৪.
এশিয়া মহাদেশের আয়তনে ক্ষুদ্র দেশ কোনটি?
  1. ভুটান
  2. পূর্ব তিমুর
  3. ব্রুনাই
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• এশিয়া (Asia):
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এর আয়তন ১৭,২২৬,২০০ বর্গ মাইল (৪৪,৬১৪,০০০ বর্গ কিমি)।
- মহাদেশটির উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে ভূ-মধ্যসাগর ও ইউরোপ মহাদেশ অবস্থিত।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
- এর মধ্যে আয়তনে চীন বৃহত্তম এবং মালদ্বীপ ক্ষুদ্রতম।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫০৫.
বাংলাদেশে নিচের কোন ধরনের ভূমিরূপের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) চত্বরভূমি
  2. খ) বদ্বীপ
  3. গ) সমভূমি
  4. ঘ) মালভূমি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মালভূমি বা মরুভূমির ন্যায় ভূমিরূপ নেই।
- এদেশের ভূমিরূপের মধ্যে পাহাড়-পর্বত, চত্বরভূমি, প্লাবন সমভূমি, দ্বীপ, চরাঞ্চল, হাওর-বাওর, ব-দ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। এগুলো হলোঃ
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৫০৬.
'ঋজুক' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) খাগড়াছাড়ি
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
• বান্দরবন:
 -বান্দরবান জেলার রুমা বাজার থেকে নদীপথে থানছি যাওয়ার পথে পড়বে ঋজুক ঝর্ণা।
- মার্মা ভাষায় একে রী স্বং স্বং বলা হয়।
- রুমা বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। 

তথ্যসূত্র: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
৫০৭.
নিম্নের কোনটি আগ্নেয় পর্বত?
  1. জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট
  2. ফিলিপাইনের পিনাটুবো
  3. যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী
  4. দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ
ব্যাখ্যা

পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং,
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

⇒ আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে। এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে। 
​- আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত

​অন্যদিকে,
​- জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট: চ্যুতি-স্তূপ পর্বত।
​- যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী: ল্যাকোলিথ পর্বত।
​- দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ:  ভঙ্গিল পর্বত। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৮.
নিচের কোনটি স্রোতজ বনভূমির বৃক্ষ?
  1. ক) বৈলাম
  2. খ) শাল
  3. গ) গোলপাতা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
যে বন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় আবার ভাটার সময় শুকিয়ে যায়, তাকে স্রোতজ বা টাইডাল বনভূমি বলে।
- সুন্দরবন একটি স্রোতজ বনভূমি।
- খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে বিস্তৃত বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.।
- এটি পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী।
এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে:
- গেওয়া
- কেওড়া
- ধুন্দল
- পশুর
- গোলপাতা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৫০৯.
মায়ানমারের কোন দুটি প্রদেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে?
  1. নেপিদ ও চিন
  2. রাখাইন ও চিন
  3. রাখাইন ও কাচিন
  4. চিন ও কাচিন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের সাথে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান)।
- একমাত্র রাঙ্গামাটি জেলার সাথে বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের রাখাইন ও চিন প্রদেশর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।

উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫১০.
পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
  1. পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি
  2. পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান
  3. পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
- পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি;
- পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ;
- পৃথিবীর অবিরাম আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি;
- পৃথিবীর মেরুরেখার সর্বদা একই মুখে অবস্থান;
- পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান।

এছাড়াও,
- সূর্যকে প্রদক্ষিণের সময় পৃথিবী আপন মেরুরেখায় কক্ষপথের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে।
- পৃথিবী ৬৬.৫° কোণ করে চলার কারণে ২১এ মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়।
- ২৩ এ সেপ্টেম্বর পুনরায় ২১ এ মার্চের মতো সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে।
- ২২ এ ডিসেম্বর সূর্য এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১১.
কোথায় 'বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড' অবস্থিত?
  1. ক) সুন্দরবনের পশ্চিমে
  2. খ) সুন্দরবনের উত্তরে
  3. গ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
  4. ঘ) সুন্দরবনের পূর্বে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থিত। 

• বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড:
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচু দ্বীপটি । 

সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৫১২.
বাংলাদেশ কত ডিগ্রি অক্ষরেখার মধ্যে অবস্থিত?
  1. ক) ২০°৩২′ থেকে ২৮°৯২′ উত্তর অক্ষরেখা
  2. খ) ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা
  3. গ) ২৪°৩৪′ থেকে ৩০°৮৮′ উত্তর অক্ষরেখা
  4. ঘ) ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) এবং ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৪১)
৫১৩.
'বাটালি পাহাড়' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙ্গামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• বাটালি পাহাড়: 
- ”বাটালি পাহাড়” চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।
- এটি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হিসেবে স্বীকৃত। 
- চট্টগ্রামের লালখানবাজার, টাইগারপাস ও আমবাগানের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বাটালি পাহাড়ের অবস্থান।
- এই পাহাড়ের চূড়া থেকে একঝলকে পুরো শহরসহ বঙ্গোপসাগর দেখা যায়।
- এই পাহাড় এর চূড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মারকও রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫১৪.
নিচের কোন সীমারেখা ফ্রান্স-জার্মান সীমান্ত বরাবর স্থাপন করা হয়েছিল?
  1. ম্যাজিনো লাইন
  2. ওডার-নিস লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. সনোরা লাইন
ব্যাখ্যা

ম্যাজিনো লাইন:
- ম্যাজিনো লাইন হলো ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা,
- এটা ফ্রান্স-জার্মানি সীমান্ত বরাবর স্থাপন করা হয়েছিল।
- ইউরোপের দুই প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে অবস্থিত এই দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা লাইনটি ১৯৩০-এর দশকে নির্মাণ শুরু করে এবং
- ১৯৩৮ সালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।  

এছাড়াও,
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 
- ওডার-নিস লাইন জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত।
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- সনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

৫১৫.
নিচের কোন দেশটি বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী নয়?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) মিয়ানমার
  3. গ) শ্রীলংকা
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ২২ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
- গড় গভীরতা ২,৬০০ মিটার। সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৬৯৪ মিটার।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বা গঙ্গাগাত বঙ্গোপসাগরের একটি বিখ্যাত সমুদ্রখাত।
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশসমূহ:
- বাংলাদেশ
- ভারত
- শ্রীলংকা
- থাইল্যান্ড
- মিয়ানমার ও
- ইন্দোনেশিয়া।
- মালদ্বীপ আরবসাগরে অবস্থিত।
(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৫১৬.
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় কোন দেশটি?
  1. চিলি
  2. ইকুয়েডর
  3. সুরিনাম
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ  - ১২ টি।
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ।
============
- কানাডা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ।
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৫১৭.
হিলি স্থল বন্দরটি বাংলাদেশের কোথায় অবস্থিত?
  1. বিরামপুর, দিনাজপুর
  2. ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর
  3. হাকিমপুর, দিনাজপুর
  4. পাঁচ বিবি, জয়পুর হাট
ব্যাখ্যা
◉ হিলি স্থলবন্দর দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাংলা হিলি সীমান্তে অবস্থিত। এর বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি এলসিএস রয়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরটি ২৬ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়।
 
স্থলবন্দর: 
- স্থলবন্দর সীমান্তে অবস্থিত আন্তদেশীয় পণ্য ও যাত্রী যাতায়াত এবং বিনিময় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। 
- স্থলবন্দরে শুল্ক, অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা বিধান দপ্তর ছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক দপ্তরসমূহের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। 
- স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজতর এবং উন্নতর করাই বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
- দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ।
- এটি যশোর জেলায় অবস্থিত।
- বর্তমানে স্থলবন্দরের মোট সংখ্যা ২৫টি এবং চালুকৃত বন্দরের সংখ্যা ১৫ টি।
- চালুকৃত ১৫টি স্থলবন্দরের মধ্যে বেনাপােল, ভােমরা, আখাউড়া, বুড়িমারী, নাকুগাঁও, তামাবিল ও সোনাহাট স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাস্থবক) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সোনা মসজিদ, হিলি, টেকনাফ, বাংলাবান্ধা ও বিবিরবাজার স্থলবন্দর Build Operate Transfer (BOT) ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

কয়েকটি স্থলবন্দর ও অবস্থান দেওয়া হলো: 
→ হিলি স্থল বন্দর- হাকিমপুর, দিনাজপুর।
→ নাকুগাঁও স্থল বন্দর- নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
→ ভোমরা স্থল বন্দর- সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।
→ সোনামসজিদ স্থল বন্দর- শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
→ বিবির বাজার স্থল বন্দর- কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা।
→ বিরল স্থল বন্দর- বিরল, দিনাজপুর।
→ টেকনাফ স্থল বন্দর- টেকনাফ, কক্সবাজার।
→ হালুয়াঘাট স্থল বন্দর- হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ।
→ আখাউড়া স্থল বন্দর- আখাউড়া, ব্রাম্মণবাড়িয়া।
→ বুড়িমারী স্থলবন্দর- পাট গ্রাম, লালমনিহাট।
→ দর্শনা স্থল বন্দর- দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।
→ তামাবিল স্থল বন্দর- গোয়াইনঘাট, সিলেট।
→ সোনাহাট স্থলবন্দর- ভুরুঙ্গামারী, কুুুড়িগ্রাম।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা – ২০২৩ ও বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৫১৮.
বাংলাদেশে প্লাইস্টোসিন সোপান এর উদাহরণ হিসেবে কোন এলাকাগুলোকে ধরা হয়?
  1. রংপুরের প্লাবনভূমি
  2. সুন্দরবন এবং চট্টগ্রাম পাহাড়
  3. মধুপুর ও বরেন্দ্রের লালাভ বাদামি দ্বীপসমূহ
  4. সিলেটের হাওর এবং কুমিল্লার সমতল 
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিন সোপান: 
- প্লাইসটোসিন সোপান সোপান হচ্ছে সমুদ্রতল প্রান্তে স্তরে স্তরে বেঞ্চি আকৃতির গঠন।
- প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত এই ধরনের সোপান প্লাইসটোসিন সোপান নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর কয়েকটি অংশেই বড় বড় বদ্বীপীয় অঞ্চলে প্লাইসটোসিন বহুমুখী পাললিক সোপান নিয়মিত গড়ে উঠেছে।
- নদীউপত্যকাসমূহ সম্মুখভাগে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বর্তমান সময়ের চেয়ে ১০০ থেকে ১৪০ মিটার নিচে একটি নতুন ভিত্তি সমতল (baselevel) লাভ করেছে।
 - মধুপুর ও বরেন্দ্র এলাকার উত্তর-দক্ষিণ প্রলম্বিত লালাভ বাদামি দ্বীপসমূহ বাংলাদেশে প্লাইসটোসিন সোপানের নমুনা বলে ধারণা করা হয়।
-  মধুপুর-বরেন্দ্র এলাকার প্রাথমিক ভূ-পৃষ্ঠ বর্ষার প্রবল বারিপাত ও অন্যান্য ক্ষয়কারী কার্যক্রমের কারণে উত্তর- প্লাইসটোসিন যুগে ব্যাপকভাবে ব্যবচ্ছেদের শিকার হয়েছে।
- যা থেকে এইসব প্লাইসটোসিন সোপান মুক্ত থেকেছে। পরবর্তীতে এই সব ব্যবচ্ছেদিত উপত্যকা উর্বর পলিমাটিতে পূর্ণ হয়ে যায় যা প্রাথমিক প্লাইসটোসিন সোপান সমূহের চেয়ে অধোভাগে সাম্প্রতিক (recent) প্লাবনভূমির সৃষ্টি করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫১৯.
বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
- বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত। 
- এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
যথা- 
• বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি), 
• তালিবাবাদ (গাজীপুর),
• মহাখালী (ঢাকা) এবং 
• সিলেট।

উৎস
: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। 
৫২০.
বাংলাদেশের উপকূলীয় দ্বীপ 'দক্ষিণ তালপট্টি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) মহেশখালী
  3. গ) সাতক্ষীরা
  4. ঘ) হাতিয়া
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান এলাকায় জেগে ওঠা একটি  উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটির আকৃতি প্রায় গোলাকার এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানি নেমে গেলে এটিকে দেখতে অনেকটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো মনে হয়।
- দক্ষিণ তালপট্টির সরাসরি উত্তরে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড তালপট্টি এবং দক্ষিণে উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর।
- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার।
- জোয়ারভাটার উঠানামায় দ্বীপটির জেগে থাকা ভূ-ভাগের আয়তন প্রায় ৭ বর্গ কিমি থেকে ১৪ বর্গ কিমি পর্যন্ত হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।
- ১৯৭০ সালের নভেম্বরে প্রলয়ঙ্করী  ঘূর্ণিঝড় গাঙ্গেয় বদ্বীপাঞ্চলের দক্ষিণ ভাগে আঘাত হানার ঠিক পর পরই দ্বীপটি প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫২১.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের চত্বর ভূমি?
  1. লালমাই পাহাড়
  2. জৈন্তা পাহাড়
  3. সুন্দরবন
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশের ভূমিরূপ তিন ধরনের।
যথা:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের চত্বরভূমি
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

- উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালগড়ের চত্বরভূমি এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার বছর আগে এরূপ ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে,
- জৈন্তা পাহাড় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো টারশিয়ারি যুগের ভূমিরূপ।
- সুন্দরবন : সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫২২.
What is Micronesia?
  1. Small islands situated in the Oceania area
  2. Process to suck minerals from porous rock
  3. A category of profous rock that contains pertroleum
  4. a motherboard used in samrt phones
  5. None
ব্যাখ্যা
মাইক্রোনেশিয়া:
- মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলটি ফিলিপাইনের পূর্বে এবং নিউগিনি দ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলে মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও নাউরু এ পাঁচটি স্বাধীন দেশ রয়েছে।

এছাড়াও,
⇒ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জকে ভৌগোলিকভাবে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- যথা: মাইক্রোনেশিয়া; মেলানেশিয়া; পলিনেশিয়া।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু; পালাউ; কিরিবাতি; মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়া।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ; ফিজি; ভানুয়াতু; ও পাপুয়া নিউগিনি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা; টুভ্যালু ও সামোয়া।

উৎস: World Atlas.
৫২৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর?
  1. হিলি স্থলবন্দর
  2. বিবির বাজার স্থলবন্দর
  3. বেনাপোল স্থলবন্দর
  4. সোনামসজিদ স্থলবন্দর
ব্যাখ্যা
বেনাপোল স্থল বন্দর:
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল স্থল বন্দর।
- বেনাপোল স্থল বন্দর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে অবস্থিত।
- মোট ৮৬.৬৮ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- স্থলবন্দরটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি/রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে কাজ করে।।
- বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত।
- দেশের স্থল বাণিজ্যের প্রায় ৯০% এ বন্দরের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

অন্যদিকে -
- হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- সোনামসজিদ স্থল বন্দর হলো বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি স্থল বন্দর, যা রাজশাহী বিভাগের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ১৯ কিমি উত্তরে শাহাবাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- কুমিল্লার বিবির বাজার(গোমতী নদী সংলগ্ন) দেশের ১৩তম স্থলবন্দর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৫২৪.
এশিয়া মহাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দুর নাম কি?
  1. বেবা অন্তরীপ, তুরস্ক
  2. আগামীকাল দ্বীপ, রাশিয়া
  3. পানামা দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া
  4. ফ্রীগেলি অন্তরীপ, রাশিয়া
ব্যাখ্যা

সর্ব দক্ষিণের বিন্দুর নাম পানামা দ্বীপ যা ইন্দোনেশিয়াতে অবস্থিত।
Pamana Island, 11°00′36″S 122°52′37″E, is the southernmost point of Asia, located in the Lesser Sunda Islands, East Nusa Tenggara province of Indonesia. Legend has it that all its inhabitants were massacred in the 17th century and their bodies disposed of in the lake. It is a tourist attraction offering a variety of deers, bird species and its beautiful beaches.

সর্ব পূর্বের বিন্দু আগামীকাল দ্বীপ,রাশিয়া।
সর্ব পশ্চিমের বিন্দু বেবা অন্তরীপ,তুরস্ক।
সর্ব উত্তরের বিন্দু ফ্রীগেলি, রাশিয়া।

উৎস: Britannica.com and World atlas.com

৫২৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী -
  1. তিস্তা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. সুরমা নদী
  4. পদ্মা নদী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে শুরু হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত।
- এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী। 
- প্রধান উপনদী হলো কাসালং, হালদা, বোয়ালখালী।
- কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৬.
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
  1. তেলুসর
  2. গর্জন
  3. সেগুন
  4. গজারি
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত বনভূমি ‘শালবন’ নামে পরিচিত।
- শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ।
- এছাড়া অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে: পলাশ, সিধা জারুল, বহেড়া, হরীতকী, শীলকরই, শিমুল ইত্যাদি।
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৫২৭.
বাংলাদেশে মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি বিদ্যমান?
  1. ক) ১৫.৩৫
  2. খ) ১৬.২০
  3. গ) ১৭.২৬
  4. ঘ) ২০.৭২
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ২৫,৪৭৫ বর্গ কিলোমিটার বনভূমি রয়েছে যা দেশের মোট আয়তনের ১৭.২৬ শতাংশ।
- মাধ্যমিক ভূগোল বইয়ের তথ্যমতে বনভূমির পরিমাণ ১৭ শতাংশ।
(সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫২৮.
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. যশোর 
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. পঞ্চগড়
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

• বাংলাবান্ধা বন্দর: 
- বাংলাবান্ধা বন্দরটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত। 
- মূলত ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে এ বন্দরের মাধ্যমে যোগসূত্র রয়েছে বাংলাদেশের।
- দুই যুগের বেশি সময় ধরে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে আসছে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় এ স্থলবন্দরে।
 - ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এবং নেপাল ও ভুটানের সীমান্তবর্তী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাবক হয়ে উঠছে বাংলাবান্ধা।

- ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাবান্ধা বন্দরটি বহুদেশীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। 
- বন্দরটির সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ৫০৩ কিলোমিটার। 
- আর ভুটানের রাজধানী থিম্পুর দূরত্ব ২৮৬ কিলোমিটার ও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দূরত্ব ৪৯৪ কিলোমিটার। 
- এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ নগরী শিলিগুড়ির দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। 
- ভারতের অন্যতম পর্যটন স্পট দার্জিলিং ও সিকিমের দূরত্ব যথাক্রমে ৭৭ ও ১৫৪ কিলোমিটার। 
- ফলে তিনটি দেশের সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের কারণে এ বন্দরের কার্যক্রম বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: বনিক বার্তা ও বাসস। 

৫২৯.
ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ৪ ঘণ্টা
  2. ৬ ঘণ্টা
  3. ৮ ঘণ্টা
  4. ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
প্রতিপাদ স্থান (Antipode):
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- যেমন ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০°।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৫৩০.
বাংলাদেশের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভারতের কোন রাজ্যের সাথে?
  1. মেঘালয়
  2. আসাম
  3. পশ্চিমবঙ্গ
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে।

• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত: 

- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা: 
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। 
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। 
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার। 
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

• পশ্চিমবঙ্গ: 
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
-  এই সীমান্ত বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলার সাথে সংযুক্ত, যেমন রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা, এবং দিনাজপুরের  এলাকা। 
- পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সীমান্তের কারণে এটি দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচিত।

∴ সুতারাং সঠিক উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ,পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সীমান্তের কারণে এটি দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড।

৫৩১.
পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া ও কাজাখস্তান
  2. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন ও রাশিয়া 
  4. আর্জেন্টিনা ও চিলি
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত রয়েছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।
- এই দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮,৮৯৩ কিলোমিটার। 
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম অসামরিক বা অরক্ষিত সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।

উল্লেখ্য, দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত:
১. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
২. রাশিয়া ও কাজাখস্তান: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
৩. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
৪. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
৫. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

উৎস: World Atlas.

৫৩২.
’মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়’ বাংলাদেশের কোন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় অঞ্চল
  2. প্লাইস্টোসিন কালের সোপান
  3. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  4. পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

’মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়’ বাংলাদেশের’ প্লাইস্টোসিন কালের সোপান’ অঞ্চলের অন্তর্গত।

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:

⇒ ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং 
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।

২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি,মধ্যভাগের টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 
 
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
'কংস' নদীর উৎপত্তিস্থল কোন পাহাড়ে?
  1. গারো পাহাড়
  2. লুসাই পাহাড়
  3. সীতা পাহাড়
  4. কংস পাহাড়
ব্যাখ্যা

• কংস নদী বা কংশ নদী বা কংসবতী নদী বা কংসাই নদী: 

- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার একটি নদী। 
- ভারতের শিলং মালভূমির পূর্বভাগে তুরার কাছে গারো পাহাড়ে এ নদীর উৎপত্তি। 
- উৎস থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হওয়ার পর শেরপুর জেলার উত্তর ভাগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কিমি উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। 
- সেখান থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে। কংস ও সোমেশ্বরীর মিলিত স্রোত বাউলাই নদী নামে পরিচিত। 

• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৪.
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কতটি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
রাজ্যগুলো হলো: 
- আসাম,
- মিজোরাম,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয় ও
- পশ্চিমবঙ্গ।

এছাড়াও, 
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট ৩০টি জেলা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত ৩টি জেলা যুক্ত রয়েছে।  
- রাঙামাটি জেলা ভারত এবং মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা।  

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও প্রথম আলো।
৫৩৫.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কোন জেলার সাথে ভারতের কোনো সংযোগ নেই?
  1. বান্দরবান
  2. দিনাজপুর
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
তার মধ্যে -
- ভারতের সাথে ৩০টি জেলার এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানের সাথে ভারতের কোন সংযোগ নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৩৬.
বাংলাদেশের শীতলতম স্থান কোনটি?
  1. সৈয়দপুর
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. হিলি
  4. তেঁতুলিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

⇒ বাংলাদেশের শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।

উল্লেখ্য,
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৩৭.
Environmental Refugee কারা?
  1. ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিজ বাস্তুভিটা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  2. বন্যার কারণে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  3. জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  4. নদী ভাঙ্গনের ফলে ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• Environmental Refugee(পরিবেশগত শরণার্থী)
জলবায়ু শরণার্থী হলো এমন মানুষ যাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের কারণে তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্প্রদায় ছেড়ে যেতে হয়। জলবায়ু শরণার্থীরা পরিবেশগত শরণার্থী নামে পরিচিত অভিবাসীদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ "পরিবেশগত শরণার্থী" শব্দটি এমন অনেক বাক্যাংশের মধ্যে একটি যা তাদের চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল ‍জিওগ্রাফি এবং climatemigration.[লিংক]

৫৩৮.
তিব্বত মালভূমির দক্ষিণে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?
  1. কুনলুন পর্বতমালা
  2. হিমালয় পর্বতমালা
  3. কারাকোরাম পর্বতমালা
  4. হেংতুয়ান পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

তিব্বত মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)। 
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।

• তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।

উল্লেখ্য,
- কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা: কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্বতব্যবস্থাটি অনেক সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীর সমন্বয়ে গঠিত, যার গড় উচ্চতা ৫০০০ থেকে ৬০০০ মিটার। মূল অংশটি সিনচিয়াং ও কাশ্মীরের সীমান্তে অবস্থিত। এটি চীনের বৃহত্তম নদী - ইয়াংজি নদীর জন্মস্থান।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.

৫৩৯.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল নয় কোনটি?
  1. ক) রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট
  2. খ) টাঙ্গাইল ও গাজীপুর
  3. গ) গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর
  4. ঘ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো - 

বরেন্দ্র ভূমি:
• উত্তরবঙ্গের পদ্মা-যমুনার দোআঁশ অঞ্চলের মধ্যভাগে নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এ সুবিশাল বরেন্দ্র ভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন ৩২৪ বর্গ কি.মি. এবং বঙ্গ অববাহিকায় এটি সর্ববৃহৎ প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি।
• এ এলাকার ভূমি অসমতল এবং মাটি লাল ও কাঁকরময়। বরেন্দ্র ভূমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
• উত্তরে সাবেক ব্রহ্মপুত্র নদ হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগে দ্বিতীয় বৃহত্তর উচ্চভূমি। এ উচ্চ উত্থিত অঞ্চলটির মোট আয়তন ৪,১০৫ বর্গ কি.মি. (১,৫৮৫ বর্গ মাইল)।
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশ মধুপুর গড় এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত।
• এর মাটির রং লাল এবং কংকর মিশ্রিত। ফলে গজারী বন ছাড়া অন্যান্য কৃষি ফসলের জন্য এ মাটি অনুপযুক্ত।
• এ অঞ্চলের ভূমি সমুদ্র হতে গড়ে প্রায় ৬ হতে ৩০ মিটার (১০ হতে ১০০ ফুট) উঁচু।

ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়
• কুমিল্লা শহরের ৮ কি.মি. (৫ মাইল) পশ্চিমে ময়নামতি ও লালমাই পাহাড় অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গ কি.মি.। গড় উচ্চতা ২১ মিটার (৭০ ফুট)। স্থানভেদে এর উচ্চতা ৪৬ মিটার (১৫০ ফুট) হয়ে থাকে।
• এর মটির রং লাল। তাই একে লালমাই পাহাড় বলা হয়। এটি হস্ট শ্রেণীভুক্ত পাহাড় এবং বালি, নুড়ি, কংকর ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

অন্যদিকে,
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।
 
তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪০.
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩‌ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত ৪ প্রকার। যথা:
১. ভঙ্গিল পর্বত,
২. আগ্নেয় পর্বত,
৩. চ্যুতি-স্তুপ পর্বত ও
৪. ল্যাকোলিথ পর্বত।

- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাঁজ। পৃথিবীর উচ্চতম অধিকাংশ পর্বত এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪১.
’দিবা রাত্রি হ্রাস-বৃদ্ধি’ ঘটে কিসের ফলে?
  1. বার্ষিক গতি
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. আহ্নিক গতি
  4. মৌলিক গতি
ব্যাখ্যা
• আহ্নিক গতির ফল (Results of Rotation):
-পৃথিবীতে দিবারাত্রি সংঘটন।
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্ট।
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি।
- সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ সৃষ্টি।

•বার্ষিক গতির ফল (The results of Revolution):বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১)দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন।

• দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
(ক) পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি;
(খ) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ;
(গ) পৃথিবীর অবিরাম আবর্তন পরিক্রমণ গতি;
(ঘ) পৃথিবীর মেরুরেখার সর্বদা একই মুখে অবস্থান;
(ঙ) পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৫৪২.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত জেলা কোনটি?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
কক্সবাজার: 
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত জেলা কক্সবাজার। 
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী ।
- একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল। প্যানোয়া শব্দটির অর্থ ‘হলুদ ফুল’।
- অতীতে কক্সবাজারের আশপাশের এলাকাগুলো এই হলুদ ফুলে ঝকমক করত। 
- এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিঃ এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন ।
- কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৪৩.
পালাউ দ্বীপটি কোন অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত? 
  1. মাইক্রোনেশিয়া
  2. মিলেনেশিয়া
  3. পলিনেশিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- পালাউ দ্বীপটি মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু, পালাউ, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ,মারিয়ানা।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, ফিজি, ভানুয়াতু, পাপুয়া নিউগিনি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু
- সামোয়াত

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

৫৪৪.
'কালাহারি মরুভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোমালিয়া
  2. খ) নামিবিয়া
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
• কালাহারি মরুভূমি:
- কালাহারি মরুভূমির অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা এবং নামিবিয়া জুড়ে।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি। সাহারা মরুভূমিকে আফ্রিকার দুঃখ বলা হয়।
- পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
- সোনোরান মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
৫৪৫.
'লালমাই পাহাড়' এর ভূপ্রকৃতি কোন ধরনের?
  1. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইস্টোসিন কালের সোপান সমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় সমূহ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

• লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
 • এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৪৬.
ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত কোন রাজ্যের রাজধানী 'ইম্ফল'?
  1. আসাম
  2. অরুনাচল
  3. নাগাল্যান্ড
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের মাধ্যমে রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- আগে এসব রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।

⇒ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী -
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা, 
৬. মণিপুর - ইম্ফল,
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।
৫৪৭.
বাংলাদেশের সর্বউত্তরের স্থান কোনটি?
  1. ক) জায়গীর জোত
  2. খ) মনাকাষা
  3. গ) আখানইঠং
  4. ঘ) ছেঁড়া দ্বীপ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগ­ঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান(জেলা), থানচি(উপজেলা), আখানইঠং(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে- কক্সবাজার(জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন(ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড়(জেলা), তেতুলিয়া(উপজেলা), বাংলাবান্ধা(ইউনিয়ন), জায়গীর জোত(স্থান)।
সূত্রঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৪৮.
'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
• 'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
• হামহাম, ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
• আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৫৪৯.
হিরকানিয়ান বনভূমি নিচের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরান
  2. তুরস্ক
  3. আজারবাইজান
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

•  হিরকানিয়ান বনভূমি: 
- এটি আজারবাইজানের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ইরানের গোলেস্তান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই বনভূমি কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় এক হাজার কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে আছে। 
- ইরানের তিনটি প্রদেশ (গিলান, মাজানদারান ও গোলেস্তান) এবং আজারবাইজানের দুটি জেলা (লেনকোরান ও আস্তারা) জুড়ে অবস্থান করছে।

উল্লেখ্য,
- ৫ জুলাই ২০১৯ সালে ইউনেস্কো ইরানের উত্তরাঞ্চলের হিরকানিয়ান বনভূমিকে 'বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা'য় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট।

৫৫০.
নিম্নের কোন মালভূমিটি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পামীর মালভূমি
  2. পাতাগোনিয়া মালভূমি
  3. তিব্বত মালভূমি
  4. কলোরাডো মালভূমি
ব্যাখ্যা
কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি পামীর মালভূমি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- পাতাগোনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার পাদদেশীয় মালভূমি।
- তিব্বত, তারিম, বলিভিয়া ও মেক্সিকো হলো পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি।

উৎস: Britannica.
৫৫১.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ?
  1. টেকনাফ দ্বীপ
  2. ছেঁড়া দ্বীপ
  3. মহেশখালী দ্বীপ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান হলো ছেড়াদ্বীপ।
- এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা হলো টেকনাফ এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- এছাড়া, সর্ব দক্ষিণের জেলা হলো কক্সবাজার।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং। বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি। দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ। বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি। 

৫৫২.
মিয়ানমারের কোন কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে?
  1. আরাকান ও কাচিন
  2. আরাকান ও শান
  3. আরাকান ও চিন
  4. আরাকান ও ইরাবতী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমানা
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্তদৈর্ঘ্য ২৭১ কিমি।
- রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার; এই তিন জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমানা রয়েছে।
- মিয়ানমারের আরাকান ও চিন; এই দুই রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে।
- নাফ নদী এই দুই দেশকে পৃথক করেছে।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত - ৫১৩৮ কিমি।
- উপকূলীয় সীমানা - ৭১১ কিমি।
- ভারতের সাথে সীমান্তদৈর্ঘ্য - ৪১৫৬ কিমি।চ
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে। এগুলো হলো,
১. পশ্চিমবঙ্গ,
২. আসাম,
৩. ত্রিপুরা,
৪. মেঘালয়,
৫. মিজোরাম

তথ্যসূত্র- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৫৫৩.
যমুনা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) ধলেশ্বরী
  3. গ) পুনর্ভবা
  4. ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
- করতোয়া ও আত্রাই নদী হলো যমুনার উপনদী।
- ধলেশ্বরী নদী হলো যমুনার শাখা নদী।
অন্যদিকে,
- মহানন্দা ও পুনর্ভবা হলো গঙ্গা/পদ্মার উপনদী।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
৫৫৪.
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত ‘মাউন্ট ফুজি‘ কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. শিকোকু
  2. কিউসু
  3. হনসু
  4. হোক্কাইডো
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৫৫৫.
পৃথিবীর বৃহত্তম নিরক্ষীয় বনাঞ্চল-
  1. কঙ্গোলিজ রেইনফরেস্ট
  2. আমাজন রেইনফরেস্ট
  3. হার্ট অব বোর্নিও
  4. পূর্ব অস্ট্রেলিয়ান তাপমাত্রা বন
ব্যাখ্যা

আমাজন বনভূমি:
- পৃথিবীর বৃহত্তম নিরক্ষীয় বনাঞ্চল- আমাজন বনভূমি।
- এই বনভূমি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আমাজন প্রায় ২,১২৩,৫৬২ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নদীটিও আমাজন নদী হিসেবে পরিচিত।

⇒ আমাজন রেইনফরেস্ট ৯টি দেশে বিস্তৃত।
- দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- আমাজন বনের ৬৪ শতাংশ অঞ্চল শুধুমাত্র ব্রাজিলেই অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় আমাজন বনে।
- এই কারনে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

উৎস: World Atlas.

৫৫৬.
বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহ কয়টি প্রধান ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের নদীগুলি প্রতিবছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন টন পলি বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে যার ফলে সমুদ্রমুখ বরাবর গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভূমি।
- মৌসুমি বায়ু প্রবাহকালীন নদীগুলি সাগরে অতিরিক্ত পানি নির্গমন করে থাকে।
- এভাবে বিশাল নদী প্রণালীসমূহ একই সঙ্গে দেশের জন্য আশীর্বাদ আবার বিপর্যয় সৃষ্টিকারীও বটে।
- বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়:
        -  (১) ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী প্রণালী
        -  (২) গঙ্গা-পদ্মা নদী প্রণালী
        -  (৩) সুরমা-মেঘনা নদী প্রণালী এবং
        -  (৪) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীমালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫৫৭.
পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?
  1. ২১ জুন
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২২ ডিসেম্বর
  4. ২৫ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

অন্যদিকে, 
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.

৫৫৮.
নিচের কোনটির উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়?
  1. ক) অক্ষরেখা
  2. খ) মেরুবৃত্তীয় রেখা
  3. গ) দ্রাঘিমারেখা
  4. ঘ) বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
- দ্রাঘিমারেখার উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়।
- পুরো পৃথিবীকে মোট ৩৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- মূল মধ্যরেখা বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে প্রমাণ সময় বিবেচনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে যোগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- মূল মধ্যরেখার পশ্চিমদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে সময় বিয়োগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৪১)
৫৫৯.
আকসাই কোন দুইটি দেশের মধ্যে বিতর্কিত অঞ্চল?
  1. চীন ও নেপাল
  2. চীন ও ভারত
  3. ভারত ও বাংলাদেশ
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
বিতর্কিত অঞ্চল আকসাই:
- আকসাই ভারত ও চীন এর মধ্যকার এক বিতর্কিত অঞ্চল।
- ১৯৬২ সালের যুদ্ধে আকসাই চীন দখল করেছিল বলে দাবি জানিয়ে আসছে চীন।
- কিন্তু ভারত সেই দাবি মানতে নারাজ।
- ভারতের মতে, এটি ভারতের জম্মু এবং কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের অংশ।
- অপর পক্ষ চীন এর মতে, আকসাই চীন তাদের জিনজিয়াং প্রদেশের অংশ।
- ২০২৩ সালে চীন নতুন যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে গোটা অরুণাচল প্রদেশকে চীনের অংশে ঢোকানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আকসাই চীনকেও।
- এছাড়াও তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরকেও চীন তাদের অংশ বলে দাবি করেছে।
- চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস ‘এক্স’ হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) মারফত জানিয়েছে যে, 'চীনের সীমারেখা ও আন্তর্জাতিক নীতি মেনেই এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।'

তথ্যসূত্র: ১) ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। লিঙ্ক
২) প্রথমআলো (২৯ আগস্ট ২০২৩) লিঙ্ক
৫৬০.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
  2. খ) ইউরোপের দক্ষিণ -পশ্চিমে
  3. গ) ইউরোপের পূর্ব-পশ্চিমে
  4. ঘ) ইউরোপের উত্তর-পূর্বে
ব্যাখ্যা
মহীসােপানঃ পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরুপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসােপান বলে।
মহীসােপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
ইউরােপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসােপান অবস্থিত। মহীসােপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম উত্তর অংশ উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দেখতে পাওয়া যায়।
(রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
৫৬১.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়কে 'পাহাড়ের রানী' বলা হয়?
  1. লালমাই পাহাড়
  2. চিম্বুক পাহাড়
  3. কেওক্রাডাং পাহাড়
  4. তাজিনডং পাহাড়
ব্যাখ্যা
চিম্বুক পাহাড়:
- বাংলাদেশের পাহাড়ী সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড়ের রানী হিসেবে সর্বোধিক পরিচিত চিম্বুক পাহাড়।
- এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড়।
- বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৫০০ ফুট।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত এই চিম্বুক পাহাড়।
- এ পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে।

উল্লেখ্য,
- চিম্বুক পাহাড়কে বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী বলা হয়।
- চিম্বুক পাহাড়কে কালাপাহাড়ও বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৬২.
সোনাহাট স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. লালমনিরহাট
  2. শেরপুর
  3. মেহেরপুর
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্তমানে ঘোষিত স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৪টি।
- এর মধ্যে চালু বন্দরের সংখ্যা ১২টি।
- সোনাহাট স্থলবন্দর : ভুরুঙ্গমারী (কুড়িগ্রাম)
- বুড়িমারী স্থলবন্দর : পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
- নাকুগাঁও স্থলবন্দর : নলিতাবাড়ী (শেরপুর)
- ‍মুজিবনগর স্থলবন্দর : মুজিবনগর (মেহেরপুর) প্রক্রিয়াধীন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেম স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট)
৫৬৩.
‘দুবলার চর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) ফেনী
  3. গ) সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলে
  4. ঘ) ভোলা জেলায়
ব্যাখ্যা

দুবলার চর: সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। এর অন্য নাম জাফর পয়েন্ট। এটি মৎস্য আহরণ, শুটকী উৎপাদন ও উপকূলীয় সবুজ বেস্টনীর জন্য বিখ্যাত।
রাজশাহী - নির্মল চর
ফেনী - মুহুরীর চর
নোয়াখালী - চর শ্রীজনী, চর শাহাবাজী,
লক্ষীপুর - চর আলেকজেন্ডার, চর গজারিয়া
ভোলা - চর মানিক, চর নিউটন, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর মনপুরা, চর নিজাম।

 
৫৬৪.
পাল শাসনামলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি 'জগদ্দল বিহার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. কুমিল্লা
  3. নওগাঁ
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা
রাজা রামপাল কর্তৃক নির্মিত পাল শাসনামলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি 'জগদ্দল বিহার'।এটি নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।
অন্যদিকে শালবন বিহার (সর্বপ্রাচীন) কুমিল্লার ময়নামতিতে অবস্থিত।
বাসু বিহার অবস্থিত বগুড়ার শিবগঞ্জে।
উয়ারী বটেশ্বর অবস্থিত নরসিংদীতে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫৬৫.
ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত দেশ কোনটি?
  1. হাঙ্গেরি
  2. বেলারুশ 
  3. অস্ট্রিয়া
  4. লিচেনস্টাইন
ব্যাখ্যা

• ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্থলবেষ্টিত দেশ হল বেলারুশ (Belarus)।

- বেলারুশের আয়তন প্রায় ২০৭,৬০০ বর্গ কিলোমিটার ।
- চেক প্রজাতন্ত্রের আয়তন প্রায় ৭৮,৮৬৭  বর্গ কিলোমিটার।
- হাঙ্গেরির আয়তন প্রায় ৯৩,০২৮ বর্গ কিলোমিটার।
- লিচেনস্টাইনের আয়তন প্রায় ১৬০  বর্গ কিলোমিটার।
- ইউরোপের ১৪টি স্থলবেষ্টিত দেশ

• ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশসমূহ:
- অ্যান্ডোরা;
- অস্ট্রিয়া;
-  বেলারুশ;
-  চেক প্রজাতন্ত্র;
- হাঙ্গেরি;
-  লিচেনস্টাইন;
- লুক্সেমবার্গ;
- মাল্দোবা;
- উত্তর ম্যাসেডোনিয়া;
- সান মারিনো;
- সার্বিয়া;
- স্লোভাকিয়া;
- সুইজারল্যান্ড;
- ভ্যাটিকান সিটি;

উৎস: World Atlas and the Government of Belarus.

৫৬৬.
‘চির শান্তির শহর’ নামে পরিচিত -
  1. ক) কিটো
  2. খ) রোম
  3. গ) নাটাল
  4. ঘ) হেগ
ব্যাখ্যা
চির শান্তির শহর নামে পরিচিত রোম। এছাড়া রোমকে সাত পাহাড়ের শহর ও নিরব শহরও বলা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৫৬৭.
স্পারসো-এর গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন দ্বীপ ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে?
  1. সন্দ্বীপ, জাহাইজ্জার চর, ভাসানচর
  2. হাতিয়া, উড়িরচর, সন্দ্বীপ
  3. সন্দ্বীপ, নির্মল চর, নিঝুমদ্বীপ
  4. হাতিয়া, সন্দ্বীপ, সুবর্ণচর
ব্যাখ্যা

তিন যুগ ধরে সন্দ্বীপ, জাহাইজ্জার চর (বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর—এই তিন দ্বীপ ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) তাদের গবেষণায় এই চিত্র তুলে ধরেছে।

এক হচ্ছে তিন দ্বীপ:
- বঙ্গোপসাগরের একটি প্রাচীন দ্বীপ হলো সন্দ্বীপ, যা স্পারসোর গবেষণায় তিন হাজার বছরের পুরোনো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই দ্বীপটি বহু বছর ধরেই ক্ষয় ও পলিমাটি জমার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সন্দ্বীপের পাশেই জেগে উঠেছে জাহাইজ্জার চর (বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর।

⇒ ২০০৬ সালে মেঘনা মোহনার পলিমাটি জমে সৃষ্টি হয় ভাসানচর। এখানে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের জন্য ঘরবাড়ি ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

⇒ গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় ভৌগোলিক গঠন, বিশেষ করে মেঘনা মোহনার দক্ষিণাংশে দ্বীপের সৃষ্টির ইতিহাস ও বিস্তৃতি ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অত্যন্ত গতিশীল ছিল।
- সন্দ্বীপ একটি পুরোনো দ্বীপ হলেও স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচর তুলনামূলকভাবে নতুন এবং ক্রমাগত পলিমাটি জমে বিস্তৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের ভূমির গঠনকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: ১. পাহাড়ি অঞ্চল (১২%), ২. গড়াঞ্চল (৮%) এবং ৩. পলল ভূমি (৮০%)। বাংলাদেশ আসলে গড়ে উঠেছে বড় বড় নদী দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পলি দিয়ে।
- এই পলির বেশির ভাগই সাগরে গিয়ে পড়ে, আর কিছু অংশ সঞ্চিত হয়ে গড়ে ওঠে ভূমি।

উৎস: i) বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৫৬৮.
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ K2 কোন পর্বতমালায় অবস্থিত?
  1. কারাকোরাম
  2. আন্দিজ
  3. আল্পস
  4. রকি
ব্যাখ্যা

কে২: মাউন্ট গডউইন
- কে২ বা কেটু (K2) এভারেস্ট পর্বতের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার (২৮,২৫১ ফুট)।
- এটি হিমালয় পর্বতমালার কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির অন্তর্গত।
- কে২ পাকিস্তান-চীন সীমান্তে বিস্তৃত।
- পর্বতটি উত্তর পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের বালতিস্তান ও চীনের জিনজিয়াং রাজ্যের ট্যাক্সকোরগান তাজিকের দফদার টাউনশিপের মধ্যে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এটি জংলী পর্বত নামেও পরিচিত। 
- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে উচ্চতায় ২০০ মিটার ছোট হলো কে২। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া। একে ‘স্যাভেজ পর্বত’ও বলা হয়।
- বিশ্বের মাত্র ১৪টি পর্বতমালার মধ্যে কে২ একটি, যেটির উচ্চতা ৮ হাজার মিটারেরও বেশি।
- কে২ পর্বতশৃঙ্গের সবচেয়ে কুখ্যাত স্থান হলো ‘বাটলনেক’ বা বরফপ্রপাত।

উৎস: Britannica.

৫৬৯.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি। এর মধ্যে ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
৫৭০.
‘The Land of a Thousand Smiles’ বলা হয় কোন দেশকে?
  1. ক) থাইল্যান্ডকে
  2. খ) ফিলিপাইনকে
  3. গ) ইন্দোনেশিয়াকে
  4. ঘ) জাপানকে
ব্যাখ্যা
ফিলিপাইনের উপনাম “The Pearl of the Orient Sea”; আফগানিস্তান “Graveyard of Empires বা সাম্রাজ্যের কবরস্থান'' নামে পরিচিত। থাইল্যান্ড ''The Land of a Thousand Smiles” নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এর ঐতিহাসিক ঐশ্বর্যের পাশাপাশি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ এবং আকর্ষণীয় সংস্কৃতির কারণে এই দেশকে ''The Land of a Thousand Smiles” নামে অভিহিত করা হয়। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
৫৭১.
নিচের কোনটি সেভেন সিস্টার্স এর অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. নাগাল্যান্ড
  3. মেঘালয়
  4. অরুণাচল
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:

- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য 'সেভেন সিস্টার্স' নামে পরিচিত।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য যেগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত এবং ভারতের সাথে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে যুক্ত।
- শিলিগুড়ি করিডোর চিকেন নেক নামে পরিচিত।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের মাধ্যমে রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।


উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট ও ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫৭২.
ভারতের কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা নেই?
  1. ত্রিপুরা
  2. মিজোরাম
  3. আসাম
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা

• ভারতের মণিপুর রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা নেই।

• বাংলাদেশের স্থল সীমানা:

- ভারতের মোট ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশে সীমান্ত রয়েছে।
রাজ্যগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয়,
- মিজোরাম এবং
- আসাম।

- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,
- উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম,
- পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মায়ানমার,
- বাংলাদেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৫৭৩.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. মোজাবে মরুভূমি: যুক্তরাষ্ট্র
  2. কালাহারি মরুভূমি: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা
  4. গোবি মরুভূমি: তিব্বত ও চীন
ব্যাখ্যা
গোবি মরুভূমি:
- চীনে গোবি মরুভূমি অবস্থিত।
- গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- এর আয়তন আনুমানিক ১৩ লক্ষ (১২ লক্ষ ৯৫ হাজার) বর্গকিলোমিটার।

কয়েকটি মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি, আর্জেন্টিনা।
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান।
- মোজাবে মরুভূমি: যুক্তরাষ্ট্র।
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা।
- আতাকামা মরুভূমি : চিলি।
- কালাহারি মরুভূমি: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া।

উৎস: Britannica.
৫৭৪.
বাংলাদেশের কয়টি বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
সীমান্ত জেলা:
- বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
- জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- যার ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- কিন্তু ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে। 

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৫৭৫.
বঙ্গবন্ধু মান মন্দিরের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়
- এই স্থানেই বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মাণ করা হবে দেশের প্রথম মান মন্দির।
- ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ‘একটি স্বপ্ন’ প্রবন্ধে মানমন্দির নির্মাণের কথা বলেন। 

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।
৫৭৬.
“ক্যকপ্রাং” ঝরনা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবন
  4. ঘ) কক্সবাজাৱ
ব্যাখ্যা
“ক্যকপ্রাং” ঝরনা অবস্থিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে।
মারমা ভাষায় ‘ক্যকপ্রাং’ শব্দের অর্থ ‘পাথরের এলাকা’ বা ‘পাথরের চাঁই’।
৫৭৭.
বরেন্দ্রভূমি বাংলাদেশের কোন ভূ-প্রাকৃতিক সময়ে গঠিত?
  1. টারশিয়ারি যুগে
  2. সাম্প্রতিককালে
  3. প্লাইস্টোসিনকালে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৮.
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ কোনটি?
  1. ক) আমাজন বদ্বীপ
  2. খ) সুন্দরবন
  3. গ) দানিয়ুব বদ্বীপ
  4. ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ
ব্যাখ্যা
বদ্বীপ মূলত একটি নদীর অনুপ্রস্থভাবে অতিক্রম করা ধারা-উপধারা বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত ভূমি, যা আকৃতিতে কমবেশি ত্রিভুজাকার প্রান্তিক প্লাবনভূমি।
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই বদ্বীপের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৪৬,৬২০ কিমি,
যা সমগ্রদেশের মোট এলাকার মোটামুটি এক তৃতীয়াংশের সামান্য কিছু কম (প্রায় ৩২%)। 

উৎস: বাংলা পিডিয়া
৫৭৯.
'সাজেক ভ্যালি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান 
  2. রাঙামাটি 
  3. খাগড়াছড়ি 
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক রুইলুই পাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।
- এখানে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।
- সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন।
- এর আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
- সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ।

উৎস: রাঙ্গামাটি জেলার ওয়েবসাইট।

৫৮০.
আঞ্চলিক ভিত্তিতে জীবন প্রত্যাশা (Life expectancy) সবচেয়ে বেশি-
  1. ক) মোনাকো
  2. খ) উত্তর আমেরিকায়
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) মধ্য এশিয়ায়
ব্যাখ্যা
২০২০ সালের বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে,
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশ -
১. হংকং - ৮৪.৯৩ বছর
২. জাপান - ৮৪.৬৫ বছর
৩. মোনাকো - ৮৪.৩৭ বছর
৪. সুইজারল্যান্ড - ৮৩.৮৪ বছর
৫. সিঙ্গাপুর - ৮৩.৭৩ বছর

অপশনগুলোর মধ্যে জাপানের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি।
৫৮১.
কোনটি নদীবিহীন দেশ?
  1. ইরাক
  2. সিরিয়া
  3. মোনাকো
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
• নদীবিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫৮২.
UNESCO সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

 সুন্দরবন:
- সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখন্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ।
- এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ।
- ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে।
- UNESCO ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবংম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালের ২১শে মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উৎস: বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট।

৫৮৩.
বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়া মহাদেশের-
  1. পূর্ব- উত্তরাংশে
  2. দক্ষিণাংশে
  3. দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে
  4. উত্তরাংশে
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশের অবস্থান:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
- এ দেশ ২০°৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে
- এবং ৮৮°০১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫৮৪.
বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ কত? (জুন- ২০২৫)
  1. ৩৫ লক্ষ ৭৬ হাজার হেক্টর
  2. ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর
  3. ২৭ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর
  4. ২৫ লক্ষ ৮৫ হাজার হেক্টর
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর।
- যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।

• জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
•. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বন অধিদপ্তর {লিংক} ।
৫৮৫.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' নিম্নের কোন ভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. সিলেট অববাহিকা
  2. কুমিল্লা–ত্রিপুরা সমভূমি
  3. মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ
  4. গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র–মেঘনার প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা: 
ক) কুমিল্লার বা ত্রিপুরার সমভূমি
খ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি
গ) সিলেট অববাহিকা: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার পূর্বদিকের সামান্য কিছু অংশ নিয়ে সিলেট অববাহিকা অঞ্চল গঠিত। এই এলাকার দক্ষিণাঞ্চলের হ্রদগুলোকে হাওড় বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এ অববাহিকার উচ্চতা প্রায় ৩ মিটার। বর্ষার সময় এ এলাকাটি পানিতে প্লাবিত হয়। হাকালুকি দেশের বৃহত্তম হাওড়।
ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি: বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত। এই অঞ্চলেও বেশ কিছু বিল ও হাওড় আছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' এই এলাকাতে অবস্থিত। এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার সময় পানিতে প্লাবিত হয়।
ঙ) ব-দ্বীপ: বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সমভূমিকে ব-দ্বীপ বলা হয়। এ ব-দ্বীপ অঞ্চলটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালীর সমস্ত অংশ এবং রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা অঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৬.
পৃথিবীর সব স্থানে দিন-রাত্রি সমান হয় কত তারিখে?
  1. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর ও ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

• ২২ ডিসেম্বর:
- উত্তর গোলার্ধ: সবচেয়ে ছোট দিন + সবচেয়ে বড় রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধ: সবচেয়ে বড় দিন + সবচেয়ে ছোট রাত।

• ২১ জুন:
- উত্তর গোলার্ধ: সবচেয়ে বড় দিন + সবচেয়ে ছোট রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধ: সবচেয়ে ছোট দিন + সবচেয়ে বড় রাত।

• ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর: পৃথিবীর সব স্থানে দিন-রাত্রি সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী।

৫৮৭.
নদী বিহীন দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. সিরিয়া
  3. লিবিয়া
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
• নদী বিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫৮৮.
পানামা খালের খনন কাজ তত্ত্বাবধান করে কোন দেশ?
  1. ক) যুক্তরাজ্য
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) পানামা
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
- পানামা খালটির নির্মাণ কাজ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
-  ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৫৮৯.
নিম্নলিখিত কোনটির ওপর বাংলাদেশ অবস্থিত?
  1. ট্রপিক অব ক্যপ্রিকন
  2. ট্রপিক অব ক্যানসার
  3. ইকুয়েটর
  4. আর্কটিক সার্কেল
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যানসার:
- কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার বাংলাদেশের ১১টি জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে- চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
ভেঙ্গি ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. মৌলভীবাজার 
  3. খাগড়াছড়ি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• কাপ্তাই থেকে প্লাবিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপত্যকা এলাকা — ভেঙ্গি ভ্যালি।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত। 

• উল্লেখযোগ্য ভ্যালি বা উপত্যকা এবং এদের অবস্থানসমূহ: 
- বালিশিরা ভ্যালি: মৌলভীবাজার,
- হালদা ভ্যালি: খাগড়াছড়ি, 
- সাজেক ভ্যালি: রাঙামাটি,
- সাঙ্গু ভ্যালি: চট্টগ্রাম,
- মাইনমুখী ভ্যালি: রাঙামাটি, 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৯১.
একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত অঞ্চলসমূহকে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় তার নাম-
  1. আইসােপ্লিথ
  2. আইসোহাইট
  3. আইসােহ্যালাইন
  4. আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯২.
জিব্রাল্টার সংলগ্ন দেশ কোনটি?
  1. শ্রীলংকা
  2. ফ্রান্স
  3. ইরান
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার:
- ভূমধ্যসাগরের তীরে স্পেন উপকূলে ব্রিটিশ শাসিত একটি ভূখণ্ড জিব্রাল্টার।
- অঞ্চলটি ব্রিটিশদের অন্যতম সামরিক ও নৌঘাঁটি।
- এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে ‘রক অব জিব্রাল্টার’, যার পাদদেশে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের বসবাস।

⇒ জিব্রাল্টার নামটি নেওয়া হয়েছে আরবি জবাল তারিক বা তারিকের পাহাড় থেকে। 
- ১৭০৪ সালে স্পেনের কাছ থেকে জ্রিব্রাল্টার দখল করে ব্রিটিশরা।
- এর পর থেকেই অঞ্চলটি ব্রিটিশদের দখলে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি রয়েল নেভির গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল।

⇒ জিব্রাল্টার প্রণালি বা স্ট্রেইট অব জিব্রাল্টার নামে পরিচিত প্রণালিটির পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর আর পূর্বে ভূমধ্যসাগর।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
- আর পৃথক করেছে ইউরোপের স্পেন এবং আফ্রিকার মরক্কোকে।
- জিব্রাল্টার প্রণালির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৪.৩ কিলোমিটার।
- বর্তমানেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস:  Britannica.
৫৯৩.
বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ জেলা কোনটি?
  1. চাঁদপুর
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা

ভোলা ব-দ্বীপ:
- ভোলা জেলা হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।
- এই জেলার অন্তর্গত মনপুরা দ্বীপে পর্তুগিজরা বসবাস করত।
- ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- ভোলা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়: ১৯৮৪ সালে।
- ভোলা নোয়াখালী জেলার অধীনে সাব-ডিভিশন হিসেবে স্বীকৃতি পায়: ১৮৪৫ সালে।
- বর্তমানে ভোলা জেলায়- উপজেলা: ৭টি ও ইউনিয়ন: ৭০টি
- বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ: সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের স্থানীয় নাম: নারিকেল জিঞ্জিরা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশকে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক]

৫৯৪.
ভারত-পাকিস্তানের সীমান্ত রেখার নাম কী?
  1. ম্যাকমোহন লাইন
  2. ম্যানারহেইম লাইন
  3. র‍্যাডক্লিফ লাইন
  4. ডুরান্ড লাইন
ব্যাখ্যা
র‍্যাডক্লিফ লাইন:
- ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার স্যার সিরিল জন র‍্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‍্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয়।
- এর ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।
- ভারত পাকিস্তানের সীমানাকে র‍্যাডক্লিফ লাইন বলা হয়।

অন্যদিকে -
- ম্যাকমোহন লাইন হলো চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকরী সীমানা।
- ম্যানারহেইম লাইন হলো ফিনল্যান্ড ও রাশিয়াকে বিভক্ত করেছে।
- ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্ত রেখা বা লাইন।

উৎস: Britannica.
৫৯৫.
আরিচা ফেরিঘাট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ
  2. খ) রাজবাড়ী
  3. গ) মানিকগঞ্জ
  4. ঘ) মাদারীপুর
ব্যাখ্যা

ফেরীঘাটের অবস্থান...
আরিচা - মানিকগঞ্জ, পাটুরিয়া - মানিকগঞ্জ।
মাওয়া - মুন্সিগঞ্জ, কাওরাকান্দি - মাদারীপুর।
দৌলতদিয়া - রাজবাড়ী, বাহাদুরবাদ - জামালপুর।
জগন্নাথগঞ্জ - জামালপুর, নগরবাড়ি - পাবনা।

৫৯৬.
ডেড সী কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক এবং গ্রিস
  2. জর্ডান এবং ইসরায়েল 
  3. লেবানন এবং সিরিয়া 
  4. ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা

• ডেড সী:
- ডেড সী, যা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ।
- জর্ডান এবং ইসরায়েল এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
-  সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৪৩০.৫ মিটার নিচে অবস্থিত,
- যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নভূমির স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত।
- এর লবণাক্ততা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি।
- এই হ্রদের একটি প্রধান পানির উৎস হলো জর্ডান নদী,
- তবে এর কোনো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ নেই।
- ফলে এটি প্রধানত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়।
-  এই হ্রদে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই।
- শুধুমাত্র শৈবাল এবং কিছু আণুবীক্ষণিক জীব ছাড়া আর কিছু বেঁচে থাকতে পারে না।
 
উৎস: World Atlas. 

৫৯৭.
বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ২৫.১১° সেলসিয়াস
  2. খ) ২৬.০১° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০.০২° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৩২.১৩° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বালাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) গ্রীষ্মকাল, (খ) বর্ষাকাল ও (গ) শীতকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫৯৮.
'তিনবিঘা করিডোর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কুড়িগ্রাম
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
তিনবিঘা করিডোরঃ
লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা। এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।

- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং
- ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
- ২০১৫ সালের ছিটমহল মিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎসঃ লালমনিরহাট জেলার ওয়েবসাইট।
৫৯৯.
বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানই এক বিস্তীর্ণ-
  1. ক) প্লাবন সমভূমি
  2. খ) ক্ষয়ীভূত সমভূমি
  3. গ) অস্তরীভূত সমভূমি
  4. ঘ) পার্বত্যভূমি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জেলা ব্যতীত মােটামুটি সমগ্র বাংলাদেশই পদ্মা, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমি। প্লাবন সমভূমির মধ্যে অনেক ধরনের সঞ্চয়জাত ভূমিরুপ দেখা যায়।
৬০০.
কত ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ কে ককর্টক্রান্তি বলা হয়?
  1. ক) ২০.৫°
  2. খ) ২১.৫°
  3. গ) ২২.৫°
  4. ঘ) ২৩.৫°
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।