বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৩০১৪০০ / ১,৬৩৯

৩০১.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা কত ঘণ্টা অগ্রগামী?
  1. ক) ৭ ঘন্টা
  2. খ) ৬ ঘন্টা
  3. গ) ৯ ঘন্টা
  4. ঘ) ৮ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
▪ যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় ৬ ঘন্টা বেশি
▪ পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
▪ সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০×৪=৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩০২.
দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল কোথায় অবস্থিত? 
  1. আদিতমারী, লালমনিরহাট
  2. পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
  3. কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
  4. হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা

দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
- যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩০৩.
”তিনবিঘা করিডোর” কোথায় অবস্থিত?
  1. কালীগঞ্জ
  2. হাতিবান্ধা
  3. পাটগ্রাম 
  4. আদিতমারী
ব্যাখ্যা

 তিনবিঘা করিডোর:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
- তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ ঘন্টা পর পর করিডোর দিয়ে বাংলাদেশীদের যাতায়াতের সুযোগ দেয়া হয়।
- অতঃপর করিডোর দিন- রাত খোলা রাখার জন্য দাবী উত্থাপিত হলে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ এপ্রিল থেকে তা সকাল ৬ঃ৩০ মিনিট হতে সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
-  ২০১১ খ্রি. তারিখে ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে স্বাক্ষরিত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশীদের যাতায়াতের জন্য তিনবিঘা করিডোর বর্তমানে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হচ্ছে।

উৎস: লালমনিরহাট জেলা ওয়েবসাইট।

৩০৪.
“পূর্বাশা” দ্বীপের অপর নাম-
  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
  3. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
  4. কুতুবদিয়া দ্বীপ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
⇒ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ (South Talpatti Island) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান (continental shelf) এলাকায় জেগে ওঠা একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
-  বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।

 - বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার (পূর্বতন বৃহত্তর খুলনা জেলা) শ্যামনগর উপজেলাধীন তালপট্টির দক্ষিণে অবস্থানের কারণে এ দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে দক্ষিণ তালপট্টি।

- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার।
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩.৫ কিমি দীর্ঘ এবং পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ কিমি বিস্তৃত।
- ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বীপটির অভ্যুদয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়।
- ভারত নতুন জেগে ওঠা দ্বীপটিকে ‘নিউমুর দ্বীপ’ (The New Moore Island) নামে চিহ্নিত করে।
- সে সময় পশ্চিমবঙ্গে দ্বীপটিকে কখনও ‘নিউমুর’ আবার কখনও ‘পূর্বাশা’ নামে অভিহিত করা হতো। 
- ভারত সরকারও দ্বীপটিকে নিজ রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভূক্ত বলে দাবী করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩০৫.
দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান কোন সমভূমির অন্তর্গত?
  1. ব-দ্বীপ সমভূমি
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান পাদদেশীয় পলল সমভূমির অন্তর্গত।

পাদদেশীয় পলল সমভূমি (Peidmont Alluvial Plain): 
​- অনেক সময় পাহাড়িয়া নদী পাদদেশে পলি সঞ্চয় করতে করতে একটা সময় পাহাড়ের পাদদেশে নতুন বিশাল সমভূমি গড়ে তোলে। 
​- এ ধরনের সমভূমিকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে। 
​- বাংলাদেশের তিস্তা, আত্রাই, করতোয়া সংলগ্ন রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পলল সমভূমি নামে পরিচিত। 
​- এসব নদী উত্তরের হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে সহজেই পাহাড় থেকে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩০৬.
হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ কোন পর্বতমালার উদাহরণ?
  1. স্তূপ পর্বত
  2. ভঙ্গিল পর্বত
  3. আগ্নেয় পর্বত
  4. ক্ষয়জাত পর্বত
ব্যাখ্যা
• পর্বত (Mountains):
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

• ভঙ্গিল পর্বত:
- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩০৭.
ভারতের মেঘালয় রাজ্যটি অবস্থিত বাংলাদেশের-
  1. ক) পশ্চিমে
  2. খ) উত্তরে
  3. গ) দক্ষিণে
  4. ঘ) পূর্বে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের অবস্থান।
- বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমারের আরাকান ও চিন প্রদেশ অবস্থিত।
- বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ রয়েছে?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৯.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা এর অক্ষাংশ কত?
  1. ২০°৩৪′ দক্ষিণ অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা
  4. ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
⇒ যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা তাইলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা এর অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা।

উল্লেখ্য,
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।  
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। ( ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।(৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।

৩১০.
'সাগরকন্যা' কোন অঞ্চলের ভৌগলিক নাম?
  1. ক) টেকনাফ
  2. খ) সেন্টমার্টিন
  3. গ) কুয়াকাটা
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- কুয়াকাটা স্থানীয়ভাবে 'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত।
-  বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে কুয়াকাটার অবস্থান।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় ৩ কিলোমিটার। 
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
সাগর কন্যা বলা হয় কোন জেলাকে?
  1. কক্সবাজার
  2. পটুয়াখালী
  3. বান্দরবান
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
- সাগর কন্যা বলা হয় পটুয়াখালী জেলাকে।
- বাংলার ভেনিস নামে পরিচিত - বরিশাল।
- চট্টগ্রামের পুরাতন ভৌগলিক নাম- সমন্দার।
- কুমিল্লার জেলার পুৃরাতন নাম - ত্রিপুরা।
- বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী - কক্সবাজার

উৎস- প্রথম আলো, বিডিনিউজ, কুমিল্লা জেলা ওয়েব সাইট।
৩১২.
বাংলাদেশে পানিতে সহনীয় মাত্রায় আর্সেনিকের পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.০০১ মিগ্রা/লি
  2. খ) ০.০১ মিগ্রা/লি
  3. গ) ০.০০৫ মিগ্রা/লি
  4. ঘ) ০.০৫ মিগ্রা/লি
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম।

তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম
চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।

সূত্র: দুর্যোগকোষ
৩১৩.
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের কয়টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৩টি 
  2. ৪টি 
  3. ৫টি 
  4. ৬টি 
ব্যাখ্যা

ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চল:
- ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বোঝানো হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। 
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে এদের সংযোগকারী সরু করিডোরটি আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত যা চিকেন'স নেক নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- সেভেন সিস্টার্স অন্তর্ভুক্ত ৪টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সংযোগ রয়েছে।
- এগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা।

উৎস: i) Britannica.
ii) Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।

৩১৪.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান-
  1. ছেড়াদ্বীপ
  2. থানচি
  3. মনাকষা
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা: 
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩১৫.
হরমুজ প্রণালী পৃথক করেছে-
  1. ক) সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন
  2. খ) সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান
  3. গ) সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান
  4. ঘ) সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিবুতি
ব্যাখ্যা

- হরমুজ প্রণালী পৃথক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানকে।
- হরমুজ প্রণালী সংযুক্ত করেছে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩১৬.
এডেন কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) জর্ডান
  2. খ) ইয়েমেন
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
- এডেন : ইয়েমেনের সমুদ্রবন্দর
- আকাবা : জর্ডানের সমুদ্রবন্দর
- পোর্ট সুদান : সুদানের সমুদ্রবন্দর
- সুয়েজ, আলেকজান্দ্রিয়া, পোর্ট সৈয়দ : মিশরের সমুদ্রবন্দর।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৩১৭.
মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা নতুন 'সবুজ চর' আয়তন প্রায় কত?
  1. ৬৫ বর্গকিলোমিটার
  2. ৮০ বর্গকিলোমিটার
  3. ৯০ বর্গকিলোমিটার
  4. ৭০ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• সবুজ চর:
-বঙ্গোপসাগরের প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ, যা স্পারসোর গবেষণায় তিন হাজার বছরের পুরোনো বলে উল্লেখ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় ও পলিমাটি জমার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
- ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এর পাশে জেগে উঠেছে জাহাইজ্জার চর (বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর।
- ধীরে ধীরে তিন দ্বীপ এক হয়ে যাচ্ছে।
- মেঘনার মোহনার কাছে জেগে ওঠা প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটারের নতুন ‘সবুজ চর’-এর অর্ধেকের বেশি এখনো বিরান, তবে কিছু এলাকায় চাষাবাদ ও পশুচারণ চলছে।
- স্থানীয় লোকজনের মতে, নতুন এই ভূমি সাগরে ভিটেমাটি হারানো মানুষের কাছে পূর্বপুরুষের ঠিকানা ফিরে পাওয়ার মতো অনুভূতি এনে দিয়েছে।
- ধান, মাছ ও পশুপালনে প্রায় সাত হাজার পরিবার স্বনির্ভর হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link1)

৩১৮.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. একটি দ্বীপ
  2. একটি গিরিখাত
  3. একটি মরুভূমি
  4. একটি নদীর মোহনা
ব্যাখ্যা
→ 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' হলো বঙ্গোপসাগরের-একটি গিরিখাত।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত।

- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে "গঙ্গা খাদ" নামেও ডাকা হয়।
- এর প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার এবং তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে এটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩১৯.
বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ কোনটি?
  1. হাতিয়া
  2. সন্দ্বীপ
  3. মনপুরা
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন যা প্রবাল দ্বীপ নামেও পরিচিত।
- সেন্টমার্টিনের অপন নাম- নারিকেল জিঞ্জিরা।
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী।
- এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩২০.
শূন্য পয়েন্ট ও কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যবর্তী কত মিটার দূরত্বকে ‘No-Man’s-Land’ ধরা হয়?
  1. ১০০ মিটার
  2. ১৫০ মিটার
  3. ১৮০ মিটার
  4. ২০০ মিটার
ব্যাখ্যা

- কাঁটাতারের বেড়া থেকে শূন্য পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫০ মিটার জায়গা নো ম্যানস ল্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত।

- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি, ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নামে পরিচিত।
- এ চুক্তির অন্য সব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় ছিল যে, যদি কোনো দেশ সীমান্ত বরাবর বেড়া দেয়, তবে তা শূন্য পয়েন্ট থেকে নিজ ভূখণ্ডের ১৫০ মিটার ভেতরে নির্মাণ করতে হবে।

• স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪:
- ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী স্থল সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত স্থল সীমানা চূড়ান্ত করা।
- এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ভেতরে থাকা দক্ষিণ বেরুবাড়ি ভারতের দখলে চলে যায় এবং দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অধিকারে আসে।
- ছিটমহল দুটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় পানবাড়ি মৌজার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য তিনবিঘা জমি ভারত বাংলাদেশের অনুকূলে স্থায়ী ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- চুক্তি সইয়ের পরপরই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এটি অনুমোদন করে।

এছাড়াও
- ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত সম্পর্কিত প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
- উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি প্রটোকল নয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছিলো।

- ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করেন।
- ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে ওই প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
- উক্ত প্রটোকলে সীমান্তে অচিহ্নিত অংশগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল এবং অপদখলীয় ভূমি সমস্যার সমাধান করে স্থায়ী সীমানা চিহ্নিত করা হয়।
- এর আওতায় বাংলাদেশের ভেতর থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল ও ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময়ে সম্মত হয়।
- পরবর্তীতে এই চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয়  তথ্য বাতায়ন।

৩২১.
সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা কত?
  1. ২২ মিটার
  2. ২৫ মিটার
  3. ৩২.৫০ মিটার
  4. ৩৭.৫০ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ।
- সমুদ্রতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে ঢাকার উচ্চতা ২৫ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে নারায়নগঞ্জ এবং রাজশাহীর উচ্চতা ৮ মিটার।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩২২.
প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক হ্রদ — বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

• প্রান্তিক হ্রদ:
- বান্দরবান জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের হলুদিয়ার সন্নিকটে প্রায় ২৫.২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রান্তিক হ্রদ গঠিত।

• বান্দরবানে অবস্থিত আরো কয়েকটি হ্রদ:
- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক, 
- কিয়াচলং হ্রদ ইত্যাদি।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
৩২৩.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা নয় কোনটি?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।  ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙ্গামাটি।
- তার মধ্যে - ভারতের সাথে ৩০টি জেলার এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- অর্থাৎ উল্লেখিত প্রশ্নে 'খাগড়াছড়ি' মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা নয়। 

⇒ অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- উত্তরে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৪.
পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল কোথায়?
  1. চাঁদপুর
  2. গোয়ালন্দ 
  3. ভৈরববাজার
  4. চিলমারি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রধান নদীর মিলনস্থল:
- পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল- গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)।
- সুরমা + কুশিয়ারা (মেঘনা)- আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)।
- পদ্মা + মেঘনা মিলনস্থল - চাঁদপুর।
- ব্রহ্মপুত্র + তিস্তার মিলনস্থল- চিলমারি (কুড়িগ্রাম)।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র + মেঘনার মিলনস্থল - ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩২৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি কোনটি?
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রবর্ধন
  3. পাহাড়পুর
  4. সােনারগাঁ
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ।

অন্যদিকে -
পাহাড়পুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩২৬.
কনরাড বিযুক্তি ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরসমূহের মাঝে অবস্থান করে?
  1. সিয়াল ও সিমা
  2. অশ্বমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল
  3. গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল
  4. সিমা ও অশ্বমণ্ডল
ব্যাখ্যা

◉  কনরাড বিযুক্তি ভূ-অভ্যন্তরের সিয়াল ও সিমা স্তরসমূহের মাঝে অবস্থান করে। 

কনরাড বিযুক্তি:
- Sial ও Sima বিভাজনকারী স্তরকে কনরাড বিযুক্তি রেখা বলে।
- অর্থাৎ ভূ-ত্বকের লঘু ও গুরু শিলান্তরদ্বয় সীমারেখায় মিলিত হয়েছে তাকে কনরাড বিযুক্তি (Conrad Discontinuity) বলে।

⇒ সমুদ্র তলদেশের ভূত্বক প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় এবং মহাদেশীয় ভূত্বক ফেলসিক স্তরবিহীন, ব্যাসল্ট-এর প্রধান খনিজ উপাদানের নাম সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ হিসেবে মহাদেশের মেফিক স্তরের নিচে ও গভীর সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যমান। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সে. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

⇒ ওপরের লঘুশিলা ভূ-ত্বকের বাইরের স্তর। এর ওপরেই আমরা গাছপালা ও তৃণাদি জন্মাতে দেখি। এ স্তরে গ্রাণাইড শিলার পরিমাণ বেশি তাই এক গ্রানাইট শিলা স্তর বলা হয়। গ্রানাইটে সিলিকা (Silica) ও অ্যালুমিনিয়ামের (Aluminium) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাই একে সিয়াল (Sial) স্তর বলে। মহাদেশগুলো প্রধানত এ জাতীয় শিলায় গঠিত। 

→ সুতরাং ভূ-ত্বকের গঠন মোটামুটি নিম্নরূপ:
১. সিয়াল (গ্রানাইট) →এটি ভূ-ত্বকের ওপরের কনরাড বিযুক্তি।
২. সিমা (ব্যাসল্ট)  → এটি ভূ-ত্বকের মধ্যবর্তী স্তর।
৩. অলিভিন  → এটি ভূ-ত্বকের নিচের অংশ।

এছাড়াও, 
- পৃথিবীর অভ্যন্তর তিনটি স্তরে বিভক্ত। স্তর তিনটির মধ্যে সবচেয়ে ওপরের স্তর যেটি গুরুমন্ডলের ওপরে অবস্থিত সেটিকেই অশ্বমন্ডল বলে। এটাই পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণ। এটি নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা ৩০ কি. মি. হতে প্রায় প্রায় ৬৪ কি.মি.। অশ্মমন্ডল যে সকল উপাদানে গঠিত তারমধ্যে সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য।
- কেন্দ্র মন্ডলের বহিঃভাগ থেকে অশ্বমন্ডলের (ভূ-ত্বকের) নিম্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে। এটি পৃথিবীর আয়তনের শতকরা ৮২ ভাগ এবং ওজনের শতকরা ৬৮ ভাগ দখল করে আছে। 
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪৩৪ কি.মি.। পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের এক গোলক অবস্থিত। এই গোলকটির নাম দেয়া হয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রন্ডল বলে। এই স্তরের ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ গ্রাম/সে.মি., যা গুরুমন্ডলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। কেন্দ্রমন্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Nife) বলা হয়। 

উৎস: ভূমিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৭.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন জলভাগের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- গ্রীনিচ থেকে ১৮০° পূর্ব বা পশ্চিমে স্থলভাগকে এড়িয়ে আঁকাবাঁকা পথে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এই রেখাটিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
- অর্থাৎ এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অঙ্কিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারণের এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
Which of the following is the biggest Mangrove forest in the world?
  1. ক) The Ganges
  2. খ) The Mekong
  3. গ) The Sundarbans
  4. ঘ) The Amazon
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে ১০২টি দেশে ম্যানগ্রোভের অস্তিত্ব থাকলেও কেবলমাত্র ১০টি দেশে ৫০০০ বর্গ কিমি এর বেশি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে।
- পৃথিবীর সমগ্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ৪৩% ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজার এ অবস্থিত এবং এদের প্রত্যেকটি দেশে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ২৫% হতে ৬০% ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে।
- বাংলাদেশে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া
৩২৯.
ভূ-অভ্যন্তরের স্তর কতটি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহ:
- পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তর তিনটি স্তরে বিন্যস্ত।

• স্তরগুলো হলো:
অশ্মমন্ডল, গুরুমন্ডল, কেন্দ্রমন্ডল।

- অশ্মমন্ডল - যা সিলিকা ও এ্যালুমিনিয়াম দ্বারা গঠিত এবং এর ৭০০ কি.মি. পর্যন্ত গভীর।
- গুরুমন্ডল - যা সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত। যার গভীরতা প্রায় ৭০০-২৯০০ কি.মি.।
- কেন্দ্রমন্ডল - যা প্রায় ২৯০০ থেকে ৬৩৭৯ কি.মি বিস্তৃত এবং লোহা, নিকেল, পারদ ও সিসা দ্বারা গঠিত। তবে প্রধান উপাদান হলো নিকেল ও লোহা।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
  1. হাতিয়া
  2. ভোলা
  3. সেন্টমার্টিন
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

- গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপ ভোলা ।
- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ এবং একটি জেলা।
- বর্তমান ভোলা একদা বৃহত্তর বরিশাল জেলার একটি মহকুমা ছিল। 
- ১৮৫৪ সালে দ্বীপটি মহকুমায় উন্নীত হয়। 
- ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলার মর্যাদা পায়। 
- ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। 
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। 

এছাড়াও,
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো- সেন্টমার্টিন।
- সেন্টমার্টিনের অপন নাম- নারিকেল জিঞ্জিরা।
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী।
- এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৩১.
বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্র পতনশীল অরণ্যের অঞ্চল নয় কোনটি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল
  3. গাজীপুর 
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলগাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত। পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৩২.
কোনটি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ নয়?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ডেনমার্ক
  3. সুইডেন
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা
স্ক্যান্ডিনেভিয়া:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া ঐতিহাসিকভাবে স্ক্যান্ডিয়া, উত্তর ইউরোপের অংশ।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা: নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
- যথা: আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাতলা জনবহুল উত্তর অঞ্চল, মৎস্য সম্পদের একটি আপেক্ষিক সম্পদ, দীর্ঘ আয়ু এবং উচ্চ স্তরের সাক্ষরতা।

অন্যদিকে,
- সুইজারল্যান্ড স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ নয়।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.
৩৩৩.
বৈরাগীর ভিটা অবস্থিত-
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) মহাস্থানগড়
  4. ঘ) আনন্দ বিহার
ব্যাখ্যা
বৈরাগীর ভিটা:
- বৈরাগীর ভিটা মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর) নগরদুর্গের মধ্যে অবস্থিত একটি মন্দির এলাকা। 
- এলাকাটি মহাস্থানের উত্তর দুর্গ-প্রাকার থেকে ৭৬ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ১৯২৮-২৯ সালে খননের ফলে এখানে পাল যুগের প্রাথমিক ও শেষ পর্যায়ের (আট-নয় ও এগারো শতক) দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। 
- এ মন্দিরদ্বয়ের উত্তরে একটি উন্মুক্ত অঙ্গনে প্রাচীর ঘেরা আরও কয়েকটি স্থাপত্য কাঠামো পাওয়া গেছে।
- প্রত্নস্থলে লুকিয়ে থাকা গভীর গর্তগুলি পালযুগীয় কাঠামোসমূহের নিচে পরবর্তী গুপ্ত যুগের (ছয় শতক) ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন বহন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৪.
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৩৫.
বাংলাদেশের স্থলসীমা মিয়ানমারের কতটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ১টি 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্থান :
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলসীমা ভারতের ৫টি রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- এবং মিয়ানমারের ২টি রাজ্য-রাখাইন (পূর্বনাম আরাকান) ও চিন প্রদেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা-৩২টি।
- এর মধ্যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি।
- এবং মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার)।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশেরই যৌথ সীমান্ত রয়েছে।
- চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে ভারতের কোনো স্থলসীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৩৩৬.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমানা রয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাঙামাটি
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

সীমান্ত জেলা:
- বাংলাদেশে বিভাগ রয়েছে ৮টি এবং জেলা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।
- এছাড়াও, ৬টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

৩৩৭.
চীনের সাথে নিচের কোন দেশটির স্থলসীমান্ত নেই?
  1. থাইল্যান্ড
  2. আফগানিস্তান
  3. লাওস
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
চীনের সাথে ১৪টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
দেশগুলো হলো:
- উত্তর কোরিয়া
- রাশিয়া
- মঙ্গোলিয়া
- কাজাখস্তান
- কিরগিজস্তান
- তাজিকিস্তান
- আফগানিস্তান
- পাকিস্তান
- ভারত
- নেপাল
- ভুটান
- মিয়ানমার
- লাওস
- ভিয়েতনাম।

চীনের সাথে থাইল্যান্ডের স্থলসীমান্ত নেই।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৩৩৮.
দুটি স্বাভাবিক চ্যুতির মাঝখানের ভূমি অবনমনের ফলে কোনটি গঠিত হয়?
  1. কবজা উপত্যকা
  2. স্রস্ত উপত্যকা
  3. স্ট্রাইক উপত্যকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• স্রস্ত উপত্যকা: 
- দুইটি স্বাভাবিক চ্যুতির মাঝখানে কোনো ভূ-ভাগ অবনমিত হয়ে যে নিম্নভূমির সৃষ্টি করে তাকে স্রস্ত উপত্যকা বলে।
- স্রস্তউপত্যকার উভয় দিকের চ্যুতিতল দেয়ালের মত দেখায়।
- এর অপর নাম গ্রাবন।
- জার্মানীর রাইন উপত্যকা, ইসরাইলের মরুসাগর প্রভৃতি স্রস্ত উপত্যকার উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৩৯.
লালমাই পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. কুমিল্লা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪০.
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নাম কী?
  1. ক) শ্রীমান্তপুর
  2. খ) পেট্রোপোল
  3. গ) ফুলবাড়ী
  4. ঘ) ডাউকি
ব্যাখ্যা
- বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তে অবস্থিত।
- এর বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ী সীমান্ত অবস্থিত।
-  স্থলপথে আমদানি রপ্তানি সহজ করার জন্য ১২ জানুয়ারি, ২০০২ সালে বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনটিকে স্থলবন্দর ঘোষনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
৩৪১.
আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি?
  1. ক) ভুটান
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) তাইওয়ান
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা

এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হল মালদ্বীপ। এর আয়তন ২৯৮ বর্গ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মুসলিম দেশও বটে। এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
সূত্রঃ ব্রিটানিকা।

৩৪২.
কত ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে কল্পনা করা হয়?
  1. ক) ১৬০°
  2. খ) ১৭০°
  3. গ) ১৮০°
  4. ঘ) ১৮৫°
ব্যাখ্যা
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেন সার্ভিস ওয়েবসাইট
৩৪৩.
সুন্দরবনের সুন্দরি বৃক্ষকে কোন নামে ডাকা হয়?
  1. Red Beautiful Tree
  2. Looking Tree
  3. Blue Fairy Tree
  4. Looking Glass Tree
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
-  সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা জলাভূমির বন হিসেবেও পরিচিত।
- সুন্দরবনের সুন্দরি বৃক্ষকে Looking Glass Tree বলা হয়।
- সুন্দরবনের পূর্বে অবস্থিত বলেশ্বর নদী, যা সুন্দরবনের পূর্ব সীমানা নির্ধারণ করে।
- আর পশ্চিমে অবস্থিত রায়মঙ্গল।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে বিস্তৃত সুন্দরবনের আয়তন ২,৪০০ বর্গমাইল বা ৬২%।

উল্লেখ্য,
• সুন্দরবন যে এলাকাগুলো জুড়ে রয়েছে: সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা।
• সুন্দরবনের অভয়ারণ্য বা restricted area এর মধ্যে রয়েছে: হিরণ পয়েন্ট, আলকী দীপ।

• সুন্দরবনের প্রধান ম্যানগ্রোভ গাছগুলো হলো:
- সুন্দরী, গেওয়া, গড়ান, পশুর, বাইন, হেঁতাল, গোলপাতা, কেওড়া, ধুন্দুল।
-  এই গাছগুলো লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকে এবং বনটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- এখানে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- এছাড়া রয়েছে চিত্রা ও মায়া হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, বন্য শূকর, বিভিন্ন ধরনের পাখি (যেমন মদনটাক, মাছরাঙ্গা, শঙ্খচিল), কুমির, সাপ, গাঙ্গেয় ডলফিন, এবং ভোঁদড়সহ নানা স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণী।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর,
২. বাংলাপিডিয়া।

৩৪৪.
ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিচার করলে পৃথিবীর সমগ্র ভূমিরূপকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপ (The Main Landforms of the Earth): 
- ভূপৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- এর আকৃতি, প্রকৃতি এবং গঠনগত বেশ কিছু পার্থক্য আছে।
- ভূমির এই আকৃতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যকেই ভূমিরূপ বলে।
- ভূপৃষ্ঠের কোথাও রয়েছে উঁচু পর্বত, কোথাও সমতল, কোথাও পাহাড় এবং কোথাও মালভূমি।
- এছাড়া বিভিন্ন স্থানের উচ্চতা, বন্ধুরতা এবং ঢালের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
- ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিচার করলে পৃথিবীর সমগ্র ভূমিরূপকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়
- এগুলো হলো- (১) পর্বত, (২) মালভূমি ও (৩) সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪৫.
বাংলাদেশের পূর্বদিকে ভারতের কোন রাজ্যসমূহ অবস্থিত?
  1. পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়
  2. বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ
  3. ত্রিপুরা ও আসাম
  4. মেঘালয় ও অরুণাচল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা: 
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৬.
বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে -
  1. ক) মকরক্রান্তি রেখা
  2. খ) কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. গ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা এবং ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
এই দু’টি রেখা ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন)

৩৪৭.
নিচের কোন শহরটি দুটি মহাদেশে পড়েছে?
  1. ক) ওরেনবার্গ
  2. খ) ইস্তাম্বুল
  3. গ) কানাককালে
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রাশিয়া ও তুরস্ক দেশ দুটি এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। রাশিয়ার ওরেনবার্গ নগরটি উভয় মহাদেশে পড়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও কানাককালে নগর দুটিও উভয় মহাদেশে পড়েছে।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৪৮.
'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. টেকনাফ
  2. মহেশখালি
  3. হাতিয়া
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
• সোনাদিয়া দ্বীপ:
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

উৎসঃ কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট।
৩৪৯.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে কোন জেলা অবস্থিত?
  1. মেহেরপুর
  2. চুয়াডাঙ্গা
  3. বান্দরবান
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান:

• বাংলাদেশের সর্ব উত্তর:
- স্থান: বাংলাবান্ধা;
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া;
- জেলা: পঞ্চগড়।

• সর্ব দক্ষিণ:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ, সেন্টমার্টিন;
- উপজেলা: টেকনাফ;
- জেলা: কক্সবাজার।

• সর্ব পশ্চিম:
- স্থান: মনাকষা;
- উপজেলা: শিবগঞ্জ;
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

• সর্ব পূর্ব:
- স্থান: আখাইনঠং;
- উপজেলা: থানচি;
- জেলা: বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৫০.
নিচের কোন দেশটি বলকান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ডেনমার্ক
  3. পর্তুগাল
  4. সার্বিয়া
ব্যাখ্যা
- বলকান রাষ্ট্র বলতে বোঝায় সেই দেশগুলোকে যেগুলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বালকান  উপদ্বীপে অবস্থিত।
• বালকান উপদ্বীপভুক্ত দেশসমূহ; 
- আলবেনিয়া
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
- বুলগেরিয়া
- ক্রোয়েশিয়া
- কসোভো
- মন্টেনেগ্রো
- উত্তর মেসিডোনিয়া
- রোমানিয়া (আংশিক)।
- সার্বিয়া।
- স্লোভেনিয়া (আংশিক)।

উল্লেখ্য, 
- গ্রিস ও তুরস্ককে বালকান বাদ দেওয়া হয়।
- পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক এই দেশগুলো পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে অবস্থিত এবং বলকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৫১.
পৃথিবীর মোট জলভাগের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ক) ২.০৫ ভাগ
  2. খ) ০.৯৮ ভাগ
  3. গ) ০.৬৮ ভাগ
  4. ঘ) .০০৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর জলভাগের অবস্থানভিত্তিক বণ্টন:
- সমুদ্র : ৯৭.২৫ ভাগ
- হিমবাহ : ২.০৫ ভাগ
- ভূগর্ভস্থ পানি : ০.৬৮ ভাগ
- হ্রদ : ০.০১ ভাগ
- মাটির আর্দ্রতা : ০.০০৫ ভাগ
- বায়ুমণ্ডল : ০.০০১ ভাগ
- নদী : ০.০০০১ ভাগ
- জীবমণ্ডল : ০.০০০০৪ ভাগ।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৯২)
৩৫২.
নিচের কোন দেশটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয়?
  1. মেক্সিকো
  2. ইকুয়েডর
  3. আর্জেন্টিনা
  4. ভেনেজুয়েলা
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত প্রশ্নে মেক্সিকো হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ। অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয়।

⇒ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ - ১২ টি
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারি ভাষা পর্তুগিজ

তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৩৫৩.
বাংলাদেশের কয়টি বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
- এর মধ্যে ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- অর্থাৎ ২টি বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৩৫৪.
জন স্টুয়ার্ট মিল কোন তত্ত্বের প্রবক্তা?
  1. ক) কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
  2. খ) জাতি রাষ্ট্র
  3. গ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি
  4. ঘ) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
ব্যাখ্যা
• মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]-এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
• মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
• ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

তঅন্যদিকে, 
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।
• ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু সর্বপ্রথম তার 'The Spirit of Laws' গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যার কারণে মন্টেস্কু কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রিবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
কসোভো নগরীর সাথে সার্বীয়দের স্পর্শকাতর সম্পর্কের কারণ কি?
  1. ক) এর রণকৌশলগতা গুরুত্ব
  2. খ) এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি
  3. গ) মুসলিম বিদ্বেষের প্রবণতা
  4. ঘ) আলেবেনীয়দের ঔদ্ধত্য
ব্যাখ্যা
বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকের একেবারে শেষ প্রান্তে সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার বিভিন্ন অংশের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ভেঙে যাওয়া দেশটির কোনো অংশ স্বাধীন হতে চায়, অপর অংশ আবার তাদের পিছু টেনে ধরে। সেই সময়ে আমাদের দেশের মানুষ বসনিয়া-হারজেগোভিনা, সার্বিয়া, কসোভো এসব নামের সাথে পরিচিত হন।


কসোভোর ইতিহাস পাশের পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মতো। বাইজানটাইন ও সার্বিয়ানরা দীর্ঘদিন দেশটি শাসন করেছে। উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুরাদের সময় সার্বিয়ানদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত কসোভো যুদ্ধ হয়। কসোভো সমভূমির এই যুদ্ধ ইতিহাসে ঐতিহাসিক যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।
১৪৫৫ সালে এই অঞ্চলটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। এখানকার আলবেনীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা এতটাই করারোপ করেছিল যে, মানুষের জীবন যাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। উসমানীয়দের বিজয়ের পর আলবেনীয় জনগোষ্ঠী একসাথে ইসলাম গ্রহণ করে।
পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ৫০০ বছর উসমানীয় শাসনের অধীনে ছিল। এ সময় এ অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটে। ফলে উসমানীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় কসোভোতে।


কসোভোর দুই জনগোষ্ঠী আলবেনিয়ান ও সার্ব এদের মধ্যে কখনওই বনিবনা ছিল না। এদের দীর্ঘ দিনের রেষারেষির এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে কসোভো। স্বাধীন কসোভোকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বড় দেশগুলো। এ সময় সার্বিয়ার পেছনে এসে দাঁড়ায় রাশিয়া। রাশিয়ার মদদ পেয়ে সার্বিয়া রাজি হয় না কসোভোর স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে। কসোভোয় বসবাসকারী সার্বরাও কসোভোর স্বাধীনতা চায় না।

১৯৯০-এর দশকে যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পরপরই স্বাধীনতার ইচ্ছা প্রকাশ করে কসোভো। সার্বিয়া এর ‘জবাব’ দেয় কসোভোর আলবেনিয়ান জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর হত্যা-দমন-পীড়ন চালিয়ে। ১৯৯৯ সালে ন্যাটোর সামরিক হস্তেেপ এই হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটে।
কসোভো নগরীর সাথে সার্বীয়দের স্পর্শকাতর সম্পর্কের কারণ -  এর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতি।

কসোভো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা পায় ২০০৮ সালে। এর মধ্য দিয়ে তারা হয় ‘ইউরোপের নবীনতম রাষ্ট্র’।

সূত্রঃ আলজাজিরা রিপোর্ট ও হিস্টরি.কম
৩৫৬.
নিচের কোনটি দ্বীপ দেশ?
  1. নেপাল
  2. লিবিয়া
  3. কাজাখস্তান
  4. শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা
শ্রীলঙ্কা:
- ভারত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত ছোট একটি দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা।
- বিশ্বের কাছে ভারত মহাসাগরের অশ্রু নামে পরিচিত দ্বীপ দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।
- ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি ‘সিলন’ থেকে নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রীলঙ্কা’ হয়।
- ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ সরকার সিলন তথা শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ব্রিটিশরা ১৮১৫ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সিলন তথা শ্রীলঙ্কা শাসন করে। 
- ১৯৭৬ সালে দি লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলম (এলটিটিই) গঠন করেন।
- শ্রীলংকার মুদ্রার নাম: রুপি।
- দেশটির ভাষা: দ্বীপের দুটি প্রধান জাতিগোষ্ঠী, সিংহলি এবং তামিল এবং এর দুটি প্রভাবশালী ধর্ম, বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্ম, 
- দুটি প্রভাবশালী ধর্ম: বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্ম।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে, (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে)।
- রাজধানী: কলম্বো
- বিখ্যাত কয়েকটি স্থান: ক্যান্ডি, সিগিরিয়া, অনুরাধাপুর, জাফনা, এডামস পিক।

উল্লেখ্য,
- নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার একটি হিন্দু রাষ্ট্র।
- কাজাকাস্তান মধ্যে এশিয়ার স্থল বিশিষ্ট দেশ।
- লিবিয়া উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ।

উৎস: Britannica এবং ডেইলিস্টার।
৩৫৭.
আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ জেলা কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
রাঙ্গামাটি জেলা:
- রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ২২-২৭" ও ২৩-৪৪″ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১-৫৬" ও ৯২-৩৩" পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি।
- এই জেলা আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ জেলা।
- দেশের এক মাত্র রিক্সা বিহীন শহর।
- রাঙ্গামাটি জেলায় বাঙ্গালীসহ ১৪টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টির পূর্বের নাম ছিল কার্পাস মহল।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা থেকে১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র - রাঙ্গামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
৩৫৮.
বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক ছিটমহল বিনিময়ের হয় কবে?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা
আয়তন:
- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি  হয়।
- চু্ক্তি  অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক ছিটমহল বিনিময়ের হয়।
- ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডে ১০,০৪১.২৫ একর জমি যোগ হয়েছে।
- বাংলাদেশের টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল,
- অর্থনৈতিক একান্ত অঞ্চল ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং সামুদ্রিক মালিকানা মহীসোপানের শেষ সীমানা পর্যন্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৫৯.
ঢাকা থেকে পশ্চিমে অবস্থিত একটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকায় যখন বিকেল ৩টা তখন সেই স্থানের স্থানীয় সময় কত?
  1. দুপুর ১২ টা
  2. সকাল ৯ টা
  3. রাত ১২ টা
  4. বিকেল ৩ টা
ব্যাখ্যা
• ঢাকা থেকে স্থানটির ব্যবধান = ৪৫°
= (৪৫×৪) মিনিট 
= ১৮০ মিনিট 
= ৩ ঘন্টা

সময়ের ব্যবধান হবে ৩ ঘণ্টা 
এখানে যে স্থানটির স্থানীয় সময় নির্ণয় করতে হবে সেটা ঢাকার পশ্চিমে দিকে অবস্থিত। সুতরাং স্থানীয় সময় ঢাকার সময়ের চেয়ে কম হবে কারণ পূর্ব দিকে সূর্য আগে উদিত হয়েছে।
তাই ঢাকার সময়ের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা বিয়োগ করতে হবে।

সেই স্থানটির সময়
= ঢাকার সময় - সময়ের পার্থক্য
= বিকেল ৩ টা -  ৩ ঘণ্টা 
= দুপুর ১২ টা

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩৬০.
আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযুক্ত করেছে -
  1. মাকাসার প্রণালী
  2. সুন্দা প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. মালাক্কা প্রণালী
ব্যাখ্যা
প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী ভারত মহাসাগর (আন্দামান সাগর) কে প্রশান্ত মহাসাগর (দক্ষিণ চীন সাগর) এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ এবং ফানেল আকৃতির, যার প্রস্থ দক্ষিণে মাত্র ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) যা উত্তর দিকে বিস্তৃত হয়েছে প্রায় ১৫৫ মাইল (২৫০ কিমি) সুমাত্রার কাছে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- পক প্রণালী: ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
- মাকাসার প্রণালী: জাভা (ইন্দো) ও সেলিবিস (ইন্দো.) সাগরকে যুক্ত করেছে।
- সুন্দা প্রণালী: ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগর (জাভা সাগর) এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
 
উৎস : World Atlas & Britannica. [link]
৩৬১.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ-পূর্বাংশে
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ অবস্থান:
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাংশে (মাধ্যমিক ভূগোল)/ উত্তর পূর্বাংশে (জাতীয় তথ্য বাতায়ন)। 
- এবং ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
- এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখা
- এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২০৪১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত্র বিস্তৃত।
- ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্থান দেশ ভাগের সময় সীমানা নির্ধারণ করেন ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল র‍্যাডক্লিফ।
- তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্থান তথা বর্তমান বাংলাদেশের মানচিত্র ১৯৪৭ সালেরই তৈরি।
- ব্রিটিশ বাংলার ৬৪ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৩৬২.
লালমাই পাহাড়ের গড় উচ্চতা কত?
  1. ৬-১২ মিটার
  2. ৬-১৮ মিটার
  3. প্রায় ২১ মিটার
  4. প্রায় ৩০ মিটার
ব্যাখ্যা

লালমাই পাহাড়: 
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৩.
”বরেন্দ্রভূমি” কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত?
  1. প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
  2. উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাদদেশীয় সমভূমি
  3. টারশিয়ারি পাহাড়ি অঞ্চল
  4. উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল, প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,এবং প্লাবন সমভূমি 
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 
• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল -  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬৪.
জাপানের বৃহত্তম দ্বীপের নাম কী?
  1. হোনশু
  2. কিউসু
  3. সিকো
  4. হোক্কাইডো
ব্যাখ্যা

হোনশু:
- জাপানের বৃহত্তম দ্বীপের নাম হোনশু।
- এটি জাপান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত।
- রাজধানী টোকিও হোনশু দ্বীপে অবস্থিত।
- হোনশু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়।
- জাপানের বৃহত্তম পর্বত ফুজি এই দ্বীপে অবস্থিত।
- জাপানের সর্ববৃহৎ হ্রদ বিওয়া হনশু দ্বীপে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ারে'র পশ্চিম প্রান্তে চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করায় জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।

উৎস: Britannica.

৩৬৫.
বাংলাদেশের কোন ঋতুকে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়?
  1. ক) শরৎ
  2. খ) বর্ষা
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) বৈশাখ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের 'বর্ষাকাল'কে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়।
- বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল। অর্থাৎ, গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
- বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারাবছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়ে থাকে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি ও যুগান্তর রিপোর্ট।

৩৬৬.
সুনামীর কারণ হলো -
  1. ক) সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  2. খ) ঘূর্ণিঝড়
  3. গ) সমুদ্রের ঢেউ
  4. ঘ) জোয়ার ভাটা
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর - সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।

• সুনামি:
- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৭.
টারশিয়ারি যুগের অর্ন্তভুক্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিলা
  2. খ) জঙ্গল
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) উচু ভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বর্ণনা
• ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা -
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় কী দ্বারা গঠিত?
  1. গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট
  2. বেলেপাথর, শেল ও কর্দম
  3. চুনাপাথর ও মার্বেল
  4. কোয়ার্টজ ও ফেল্ডস্পার
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ন
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৯.
নিচের কোন দেশটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত?
  1. হংকং
  2. মঙ্গোলিয়া
  3. তাইওয়ান
  4. তাজিকিস্তান
ব্যাখ্যা
• মধ্য এশিয়া: 
- মধ্য এশিয়ার দেশ ৫ টি। যথা: 
- কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান, তুর্কমেনিস্তান।
==============
- অপরদিকে - 
- হংকং, তাইওয়ান, মঙ্গোলিয়া হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩৭০.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার মোট দৈর্ঘ্য -
  1. ১৭০ নটিক্যাল মাইল
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৭০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার মোট দৈর্ঘ্য: ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার মোট দৈর্ঘ্য: ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার মোট দৈর্ঘ্য: ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭১.
'এলিফ্যান্ট পয়েন্ট' কোথায় অবস্থিত?
  1. সুন্দরবন
  2. কক্সবাজার
  3. ভোলা
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার জেলা:
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী।
- একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল।
- প্যানোয়া শব্দটির অর্থ ‘হলুদ ফুল’।
- অতীতে কক্সবাজারের আশপাশের এলাকাগুলো হলুদ ফুলে ঝকমক করত।
- 'এলিফ্যান্ট পয়েন্ট' অবস্থিত এ জেলায়।

- এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিঃ এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন ।
- কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি ।
- প্রধান নদনদী: মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ ।
- প্রধান দ্বীপ: মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ্পরীর দ্বীপ, ছেডাঁ দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।

তথ্যসূত্র: কক্সবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
৩৭২.
বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৭০৬ মাইল
  2. ৭০৬ কিলোমিটার
  3. ৭১৬ মাইল
  4. ৭১৬ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪′ উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয়, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- আর দক্ষিণে রয়েছে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর। 
- বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৭৩.
নিচের কোন জেলা দুই দেশের সীমান্তের সাথে যুক্ত আছে?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
→ বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলা দুটি দেশের সীমান্তের সাথে যুক্ত আছে।

সীমান্তবর্তী জেলা:

- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।  
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙ্গামাটি।
- তার মধ্যে - ভারতের সাথে ৩০টি জেলার এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- অর্থাৎ রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।

⇒ অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- উত্তরে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৪.
‘হালদা নদী’ কিসের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) নদী বন্দর
  2. খ) খরস্রোত
  3. গ) প্রচুর ইলিশ
  4. ঘ) মৎস্য প্রজনন
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৩৭৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা মিলিত হয়েছে?
  1. ক) পিরোজপুর
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) মাদারীপুর
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
এই রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ধোপাডাঙ্গা মৌজার একটি ফসলি ক্ষেতের উপর মিলিত হয়েছে।
এই স্থানকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির' নির্মাণ করতে যাচ্ছে।
সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ৩ জুলাই ২০১৯।

৩৭৬.
উত্তর গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয় কখন?
  1. ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
২১ জুন:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।

২২ ডিসেম্বর:
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত। তাই সেদিন উত্তর গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয়। 
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।

দিন-রাত্রি সমান:

- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৭.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারী যুগের পাহাড় নেই?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) খাগড়াছড়ি
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

এগুলো হলো:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।

- এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী।
- আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
- দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
৩৭৮.
বাংলাদেশের উপর দিয়ে নিচের কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  2. খ) ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  3. গ) ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ঘ) ৯০.৫° উত্তর অক্ষারেখা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- এছাড়া দেশের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে। রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে ছেদ করেছে।
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৭৯.
স্টবাক জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ক্যালিফোর্নিয়া
  2. খ) ভেনিজুয়েলা
  3. গ) সুইজারল্যান্ড
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
প্রায় ৩০০ মিটার উচ্চতা সহ স্টবাক জলপ্রপাতটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৩৮০.
আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ-
  1. মাউন্ট এলব্রাস
  2. মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো 
  3. মাউন্ট ডেনালি
  4. মাউন্ট অ্যাকনকাগুয়া
ব্যাখ্যা

• কিলিমাঞ্জারো পর্বত
- কিলিমাঞ্জারো পর্বত তানজানিয়ায় অবস্থিত, 
- মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো হল আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ যার উচ্চতা ৫,৮৯৫ মিটার (১৯,৩৪০ ফুট)। 
- এই রাজকীয় পর্বতটি একটি তুষারাবৃত আগ্নেয়গিরি।
- এটি তিনটি ভিন্ন শৃঙ্গ নিয়ে গঠিত: Kibo, Mawenzi, এবং Shira।
- কিলিমাঞ্জারোর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো Kibo, যার উচ্চতা প্রায় ৫,৮৯৫ মিটার (১৯,৩৪০ ফুট)।

উৎস: National Geographic Society এবং ব্রিটানিকা।

৩৮১.
ভারতের সাথে কোন দেশের স্থলসীমান্ত নেই?
  1. ভুটান
  2. শ্রীলঙ্কা
  3. মিয়ানমার
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
ভারত:
- ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- আয়তনে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- রাজধানী: নয়া দিল্লি।
- মুদ্রা: রুপি।
- দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত।

⇒ ভারতের স্থল সীমান্ত:
- ভারতের সাথে ৭টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
- দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ৪১৪২ কিলোমিটার
- পাকিস্তানের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ৩১৯০ কিলোমিটার।
- চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ২৬৫৯ কিলোমিটার।
- নেপালের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ১৭৫১ কিলোমিটার।
- মিয়ানমারের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ১৬৪৩ কিলোমিটার।
- ভুটানের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ৪৩৪ কিলোমিটার।
- আফগানিস্তানের সাথে ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ১০৬ কিলোমিটার।

এছাড়াও,
- ভারতের সাথে শ্রীলঙ্কার স্থলসীমান্ত নেই।
- ভারত ও শ্রীলঙ্কা পক প্রণালী দ্বারা পৃথক হয়েছে।

উৎস: World Atlas.
৩৮২.
Which of the following is the longest marine drive in the world?
  1. ক) Cox's Bazar -Teknaf
  2. খ) Mumbai
  3. গ) Nova-Scotia
  4. ঘ) Cachi
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
An 80-kilometer road from Cox's Bazar to Teknaf along the Bay of Bengal is billed as the world's longest Marine Drive. Prime Minister Sheikh Hasina inaugurated the coastal road in 2017, at the 28th-kilometer point of the road at Inani. Bangladesh Army constructed the Marine Drive under the supervision of the Roads and Highways Department. 

Source: News Report
৩৮৩.
নিচের কোন জেলায় প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপ দেখা যায়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. কুমিল্লা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।  

অন্যদিকে -
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
বাংলাদেশের কোন বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়?
  1. পার্বত্য বনাঞ্চাল
  2. গরান বনভূমি
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের পার্বত্য বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কারণে বাংলাদেশে চিরহরিৎ অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
- উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা জন্ম নেয়।
- এসব গাছের পাতা একসঙ্গে ফোটে না, ঝরেও না। ফলে বনগুলো সারা বছর সবুজ থাকে। 
-  বাংলাদেশের দক্ষিণ–পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে এরূপ বনভূমি অধিক মাত্রায় দেখা যায়।

• গরান বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাংশে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার–ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়।
- এ ধরনের উদ্ভিদ প্রধানত সুন্দরবনে বেশি জন্ম নেয়।
- স্যাঁতসেঁতে লোনা পানিতে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, ধুন্দল, কেওড়া, বায়েন, গরান ইত্যাদি বৃক্ষ জন্মায়।
- বাংলাদেশে মোট ৪,১৯২ বর্গকিলোমিটার স্রোতজ বা গরান বনভূমি রয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৩৮৫.
পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকতের দৈঘ্য কত?
  1. ক) ৮৫ কি.মি.
  2. খ) ১৪৫ কি.মি.
  3. গ) ১২৫ কি.মি.
  4. ঘ) ১২০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কি.মি.
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। 
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
• এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
• এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
• এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান।

তথ্যসূত্র: কক্সবাজার জেলা ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট।
৩৮৬.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল কোনটি?
  1. চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম এর বনাঞ্চল
  2. সুন্দরবন
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. বরেন্দ্র বনভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমি 
- একটি দেশের মোট আয়তনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক।
- কিন্তু বাংলাদেশের মোট আয়তনের মাত্র ১৫.৫৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে।
- এর মধ্যে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪ শতাংশ।
- একক বনভূমি হিসাবে দেশের বৃহত্তম বনভূমি - সুন্দরবন (৬০১৭ বর্গ কিমি)।
- দেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল - চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম এর বনাঞ্চল।
- বাংলাদেশের মোট বনভূমি - ২২.৪২ লক্ষ হেক্টর (৫৫.৪ লক্ষ একর)।

- দিন দিন এদেশে বনভূমির পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকি।
- এই থেকে পরিত্রাণে জাতীয় পর্যায়ে রক্ষনাবেক্ষন এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও বৃক্ষরোপন বৃদ্ধি ও বৃক্ষনিধন হ্রাসে আমাদের সচেতন হতে হবে।

⇒ একক বন হিসাবে বৃহত্তম বন - সুন্দরবন যার বাংলাদেশ অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ কি.মি প্রায়।

তথ্যসূত্র - পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩৮৭.
বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ কোনটি?
  1. ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো
  2. নেদারল্যান্ডস
  3. গাম্বিয়া
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
মালদ্বীপ:
- এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হল মালদ্বীপ।
- এর আয়তন প্রায় ১১৬ বর্গ মাইল।
- ভারতীয় উপমহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের দেশ মালদ্বীপ।
- শ্রীলঙ্কা থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল পশ্চিম-দক্ষিণে ১ হাজার ২০০টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ।
- দ্বীপটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- মালদ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ।
- এ দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র দুই দশমিক তিন মিটার।
- এর মধ্যে ২৫০টি দ্বীপ ব্যবহারযোগ্য।
- এতে রয়েছে ২৮টি অ্যাটোল।
- বিষুবরেখার কাছে অবস্থিত হওয়ায় মালদ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ হিসেবে পরিচিত।
- দেশটিতে মাত্র একটি ঋতু।
- সারাবছরের গড় তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

উৎস: i) World Atlas.
ii) Britannica.
৩৮৮.
কীসের সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়?
  1. সন্ধ্যাতারা
  2. ধ্রুবতারা
  3. ধূমকেতু
  4. লুব্ধক
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো-
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে।
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ১০০ (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিষুবলম্ব)।

বিষুবলম্ব:
সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটাই সেদিনের সূর্যের বিষুবলম্ব।
কোনো একদিন দক্ষিণ গোলার্ধে মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ৫০০ এবং বিষুবলম্ব ১২০ দক্ষিণ হলে ঐ স্থানের অক্ষাংশ হবে-
অক্ষাংশ = ৯০°- (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিষুবলম্ব) ৯০০ (৫০০+ ১২০) ১০০ ৬২০= ২৮° দক্ষিণ।
স্থানটি যদি উত্তর গোলার্ধে হয় তবে উত্তরবাচক বিষুবলম্ব যোগ করতে হবে এবং দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে। দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব যোগ এবং উত্তরবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে।

২। ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয় ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
এর সাহায্যে শুধু উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি ০০ এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০° হয়।
সুতরাং উত্তর গোলার্ধে কোনো স্থানের অক্ষাংশ ধ্রুবতারার উন্নতির সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৮৯.
২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব কী হবে?
  1. বৃষ্টিপাত বন্ধ
  2. চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি 
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের নিম্নতা
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে। 
- বিশেষত হিমালয়ের হিমবাহ গলায় শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব বাড়বে।
- আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ চরম জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়বে।
- এর প্রভাব উচ্চ তাপমাত্রা, বন্যা, গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানেও দেখা দেবে।
- জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।-
- জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ কোটি কোটি মানুষের জন্য জল সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বাস্তুচ্যুতি সৃষ্টি করবে।
- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- IPCC-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ খরায় উদ্বাস্তু হতে পারে। 

উৎস: The Business Standard.[লিঙ্ক]

৩৯০.
'বরেন্দ্রভূমি' বলতে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে বোঝনো হয়?
  1. মধুপুর ও ভাওয়াল গড় 
  2. সমতট অঞ্চল
  3. সিলেট অঞ্চল
  4. রাজশাহী অঞ্চল
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯১.
কোনটি ভারতীয় সেভেন সিস্টার্সভুক্ত অঙ্গরাজ্য নয়?
  1. সিকিম
  2. নাগাল্যান্ড
  3. অরুণাচল
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

সিকিম ভারতীয় সেভেন সিস্টার্সভুক্ত অঙ্গরাজ্য নয়।

সিকিম:

- ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য সিকিম।
- সিকিম পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার পাদদেশে অবস্থিত।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত।
- সিকিমের রাজধানীর নাম গ্যাংটক।
- সিকিম প্রথমে স্বাধীন অঞ্চল হিসেবে থাকলেও বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্রের অংশ হয়।

উল্লেখ্য,
সেভেন সিস্টার্স:
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: Britannica.

৩৯২.
'বরেন্দ্রভূমি' কোন ভূতাত্ত্বিক কালের সোপান?
  1. প্লাইস্টোসিন
  2. টারশিয়ারি
  3. মায়োসিন
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্রভূমি:
​- বরেন্দ্রভূমি হলো প্লাইস্টোসিন (Pliostocene) কালের সোপান। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের পুরোনো পলল দ্বারা গঠিত।
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

⇒ ​প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

​• - ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
মাটির উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
মাটির প্রধান উপাদান ৪টি। যথা - খনিজ পদার্র্থ, জৈব পদার্থ, পানি ও বায়ু।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা গবেষণা ইনিস্টিটিউট - ঢাকা।
‘হোয়াইট ক্লে’- নেত্রকোনার বিজয়পুরে প্রাপ্ত সাদা রঙের একধরনের উষ্ণ মাটি।
হিউমাস হলো একধরনের জৈব সার যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে পীট মাটি দেখতে পাওয়া যায়- ফরিদপুরে।
৩৯৪.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান- 
  1. মনাকষা
  2. আখাইনঠং
  3. ছেঁড়া দ্বীপ
  4. বাংলাবান্ধা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া
-জেলা: পঞ্চগড়।
- সর্ব দক্ষিণের স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
- উপজেলা: টেকনাফ
-জেলা: কক্সবাজার
- সর্বপশ্চিমের:- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাপাইনবাবগঞ্জ।
- সর্বপূর্বের স্থান : আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা: বান্দরবান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৯৫.
ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরকে সংযুক্ত করেছে কোন প্রণালি?
  1. ক) ডোভার প্রণালি
  2. খ) জিব্রাল্টার প্রণালি
  3. গ) কার্চ প্রণালি
  4. ঘ) পক প্রণালি
ব্যাখ্যা
- ডোভার প্রণালি ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পৃথক রেছে।
- পক প্রণালি বঙ্গোপসাগরকে পক উপসাগরের সাথে যুক্ত করেছে এবং ভারত ও শ্রীলংকাকে পৃথক করেছে।
- কার্চ প্রণালি অ্যাজব সাগর ও কৃষ্ণসাগরকে যুক্ত করেছে এবং রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে পৃথক করেছে।
-  জিব্রাল্টার প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র:- ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৩৯৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) টাঙ্গাইল
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ও ধূসর হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলের মাটি হতে সহজেই পৃথক করা যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান বা উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে প্লাইস্টোসিনকালের এসব সোপান বর্ণনা করা হলো:- 

বরেন্দ্রভূমি 
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। এটি বঙ্গ অববাহিকায় স্নাইস্টোসিনকালের সর্ববৃহৎ উচ্চভূমি। প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির গড় উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মৃত্তিকা অসমতল। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উচ্চভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এছাড়া পাট, ভু্ট্টা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। এখানকার মাটি লালচে এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৭.
বাংলাদেশের শীতলতম জেলা কোনটি?
  1. পঞ্চগড়
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

শীতলতম:
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।

তথ্যসূত্র - বাংলিপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩৯৮.
পৃথিবীর বহিরাবরণকে বলা হয়-
  1. ক) শিলা
  2. খ) কেন্দ্রমণ্ডল
  3. গ) ভূ-ত্বক
  4. ঘ) গুরুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। ভূ-অভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
ভূত্বকের প্রধান উপাদান অক্সিজেন (৪২.৭%)।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৯.
হালদা ভ্যালী কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্টগ্রাম
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাহাড়- গারো পাহাড়।
- বাংলাদেশের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা- ২০৫০ ফুট।
- আলু টিলা পাহাড়- খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- লালমাই পাহাড়- কুমিল্লায় অবস্থিত।
- ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে- কুলাউড়া পাহাড়ে।
- কুলাউড়া পাহাড় অবস্থিত- মৌলভীবাজার জেলায়।
- চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে বাস করে- মারমা উপজাতি।
- ‘কালা পাহাড়’ বা ‘পাহাড়ের রাণী’ বলা হয়- চিম্বুক পাহাড়কে (৩য় উচ্চতম)।
- হিন্দুদের তীর্থ স্থানের জন্য বিখ্যাত- চন্দ্রনাথের পাহাড়।
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম- তাজিংডং বা বিজয় বা মদক মুয়াল।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ- কেওক্রাডং।
- কাপ্তাই লেক থেকে প্লাবিত রাঙ্গামাটির উপত্যকা হল- ভেঙ্গি ভ্যালী।
- সাঙ্গু ভ্যালী অবস্থিত- চট্টগ্রামে।
- হালদা ভ্যালী অবস্থিত- খাগড়াছড়িতে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪০০.
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ কোনটি?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  2. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  3. প্লাইস্টোসিনকালের প্লাবন সমভূমি
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।