বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / ১৭ · ২০১৩০০ / ১,৬৩৯

২০১.
অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি কত ধরনের?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
মালভূমি (Plateaus):
• পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
• মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
• অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা-
(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau) ও
(গ) মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau)।

(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি: এই মালভূমি পর্বতবেষ্টিত থাকে। তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি যার উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমেও পর্বত ঘিরে আছে।
- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া ও তারিম এ ধরনের মালভূমি।

(খ) পাদদেশীয় মালভূমি: উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে তলানি জমে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া পাদদেশীয় মালভূমি।

(গ) মহাদেশীয় মালভূমি: সাগর বা নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির সঙ্গে পর্বতের কোনো সংযোগ থাকে না। স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড, এন্টার্কটিকা এবং ভারতীয় উপদ্বীপ এর অন্যতম উদাহরণ।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২০২.
বাংলাদেশের মোট বিভাগ কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভাগসমূহ:
- বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় 'বিভাগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
• ঢাকা বিভাগ,
• চট্টগ্রাম বিভাগ,
• রাজশাহী বিভাগ,
• খুলনা বিভাগ,
• সিলেট বিভাগ,
• বরিশাল বিভাগ,
• রংপুর বিভাগ,
• ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের পূর্ববর্তী বিভাগ: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী,
- সিলেট বিভাগ: ১৯৫৪ সাল,  
- খুলনা বিভাগ: ১৯৬০ সাল,
- বরিশাল বিভাগ: ১৯৯৩ সাল,
- রংপুর বিভাগ: ২০১০ সাল,
- সর্বশেষ ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০১৫ সাল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২০৩.
নিম্নের কোন করিডোর দ্বারা বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান হতে বিচ্ছিন্ন?
  1. ক) ইস্ট-ওয়েস্ট ইকোনমিক করিডোর
  2. খ) মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোরের অর্থনৈতিক করিডোর
  3. গ) শিলিগুরি করিডোর
  4. ঘ) ইস্ট-ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর হাইওয়ে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর এবং পূর্ব গোলার্ধ উভয় ক্ষেত্রেই অবস্থিত। 
- ভৌগোলিকভাবে, বাংলাদেশের বড় অংশ গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী এবং তাদের উপনদীর সঙ্গমস্থলে উর্বর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপে অবস্থিত। 
- বাংলাদেশ ভারতের রাজ্যগুলোর দ্বারা সীমাবদ্ধ: উত্তর এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা; উত্তরে আসাম; উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয়; পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম। 
- দক্ষিণ-পূর্বে, এটি মিয়ানমারের সাথে একটি ছোট সীমান্ত ভাগ করে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশ বঙ্গোপসাগরে খোলে।
- শিলিগুড়ি করিডোর দ্বারা বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান থেকে এবং উত্তরে সিকিম দ্বারা চীন থেকে বিচ্ছিন্ন।

উৎস: World Atlas
২০৪.
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত কোনটি ?
  1. ভারত - বাংলাদেশ সীমান্ত
  2. ভারত - পাকিস্তান সীমান্ত
  3. পাকিস্তান - চীন সীমান্ত
  4. মিয়ানমার - থাইল্যান্ড সীমান্ত
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমানা ২৭১ কিলোমিটার (২৮০ কিলোমিটার মাধ্যমিক ভূগোল)।
- বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

বাংলাদেশ-ভারত মোট সীমানা ৪১৫৬ কি.মি।

Source: dlrs.gov.bd
২০৫.
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে কী অনুসরণ করতে হবে?
  1. ক) ধ্রুব নক্ষত্র
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) বায়ু প্রবাহের দিক
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি কর। সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে তাই সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করতে হবে।
২০৬.
কোন দুইটি দেশের মাঝে বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত অবস্থিত?
  1. আর্জেন্টিনা-চিলি
  2. চীন-রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  4. রাশিয়া-কাজাখস্তান
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত:
- বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমান্ত।
- এই দুইটি দেশের মাঝে ৮৮৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যা বিশ্বের দীর্ঘতম।

অন্যদিকে, 
- চীন-রাশিয়া সীমান্ত বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম সীমান্ত।
- রাশিয়া-কাজাখস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এবং
- আর্জেন্টিনা-চিলি বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সীমান্ত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২০৭.
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে কিসের সৃষ্টি করে?
  1. ক) সমভূমির
  2. খ) মালভূমির
  3. গ) অগ্ন্যুৎপাতের
  4. ঘ) সমুদ্রের
ব্যাখ্যা
অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকাময় মালভূমি এরূপ নির্গত লাভা দিয়ে গঠিত। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
২০৮.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দেখা যায়?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. মনপুরা
  4. মহেশখালী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ মহেশখালীতে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

 টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ]
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৯.
গ্রিনল্যান্ড কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. দক্ষিণ মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম: গ্রীনল্যান্ড।
- দ্বীপটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- সারা বছর তুষার আবৃত থাকে গ্রীনল্যান্ড।
- গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র হিসাবে শাসন কাজ পরিচালনা করে।
- এর রাজধানী - নুক (Nuuk) এবং ২১ লক্ষ ৬৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার প্রায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২১০.
কোন দ্রাঘিমা রেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১২০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১১.
গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. সেকরিন্টাং
  2. শিলং
  3. নকরেক
  4. জৈন্তিয়া
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য,
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২১২.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. নন্দীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা:
১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা;
২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা;
৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং
৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।

পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া 


সাধারণত একটি ভাষার অনেক উপভাষা থাকে। বাংলা ভাষারও তেমনি অনেকগুলি উপভাষা আছে। উপভাষা হল সেই ভাষার আঞ্চলিক রূপ। ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে কামরূপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের কথ্য ভাষা বাংলা।
১) ঝাড়খণ্ডী উপভাষা
২) রাঢ়ী উপভাষা
৩) সমতট উপভাষা
৪) বরেন্দ্রী উপভাষা
৫) কামরূপী উপভাষা

সমতট উপভাষা আবার দুটো অংশে বিভক্ত। - ১) রাঢ়ী উপভাষার মত এই উপভাষার প্রচলনও এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এর আবার দুটি ভাগ আছে। একটি বিশুদ্ধ সমতটী বা বঙ্গালী ভাষা। এটি ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোহর অঞ্চলে প্রচলিত।
এবং ২) অন্যটি চাটিগ্রামী যা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সন্দীপ, শ্রীহট্ট, কাছাড়, ত্রিপুরা ও চাকমা অঞ্চলে প্রচলিত।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "বরিশাল"ই সবচেয়ে যুক্তি সঙ্গত উত্তর।

২১৩.
ময়নামতির পূর্বনাম কি?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) রোহিতগিরি
  3. গ) সিংহজানী
  4. ঘ) বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

ময়নামতির প্রাচীন নাম ছিলাে রােহিতগিরি যা দেব রাজাদের রাজধানী ছিলাে।
প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এই স্থানটি বর্তমানে কুমিল্লার ময়নামতির বলে ধারণা করেন।
বাংলাদেশে অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি। এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন। সুতরাং, এর আসল নাম ''ভবদেব মহাবিহার''।
বিহারে মােট ১১৫টি ভিক্ষুকক্ষ ও মধ্যভাগে প্রধান মন্দির সহ অনেকগুলাে মন্দির রয়েছে।
উৎসঃ শালবন বিহারের নাম-ফলক ও বড় কামতা ইউনিয়ন ওয়েবসাইট

২১৪.
আয়তনে প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি -
  1. লালমাই পাহাড়
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 

• 'মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়' প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ভূ-প্রকৃতির অন্তর্গত।
• উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
• এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। 
• আয়তন- ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
• গড় উচ্চতা:  প্রায় ৬-৩০ মিটার। 
• এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
• এখানকার মাটি লালচে এবং কঙ্করময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়।
• এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। 
• বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারি বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ বলা হয় কোন দেশ কে?
  1. সাইপ্রাস
  2. তুর্কিয়ে
  3. রোমানিয়া
  4. বেলারুশ
ব্যাখ্যা
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ:
- অষ্টাদশ শতক নাগাদ তুর্কিয়ে সামরিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সব দিক থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। 
- তাছাড়া এই সময় থেকে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতেও তুরস্ক ব্যর্থ হতে থাকে। 
- এইসব দুর্বলতার জন্যই ব্যঙ্গ করে তুর্কিয়েকে 'ইউরোপের রুগ্ন 'মানুষ' বলা হত।
এছাড়া,
বেলারুশকে সাদা রাশিয়া বলা  হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২১৬.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখার ছেদবিন্দু পড়েছে কোথায়?
  1. ফরিদপুরে
  2. কুমিল্লায়
  3. চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. লন্ডন শহরে
ব্যাখ্যা
 ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা:
- ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখা) ছেদবিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।

অন্যদিকে,
- কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদবিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অবস্থিত।
- এই স্থানেই বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মাণ করা হবে দেশের প্রথম মান মন্দির। 
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, সেখানে কেউ যেতে পারে না।
- এর মধ্যে শুধু দুটি ছেদ বিন্দু পড়েছে স্থলভাগে।
- এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও কেউ যেতে পারে না।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি, লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
২১৭.
ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের কয়টি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৮.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেলা- 
  1. নাটোর 
  2. টাঙ্গাইল
  3. মাদারীপুর
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেলাঃ 
- ঢাকা বিভাগ বাংলাদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এটি দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র।
- এখানে সবচেয়ে বেশি ১৩টি জেলা রয়েছে।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ এ বিভাগে অবস্থিত।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ এবং জেলা হলো ঢাকা।
- এ বিভাগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এ বিভাগে ১১টি জেলা রয়েছে।
- আয়তন অনুযায়ী বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটি এবং জনসংখ্যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা বান্দরবন এ বিভাগে অবস্থিত।
- তাছাড়াও দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর এখানে অবস্থিত।
- কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

২১৯.
প্লাইস্টোসিনকালের গঠিত ভূমিরূপ নয় নিচের কোন জেলা?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকালে বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো।
ক) বরেন্দ্রভূমি: বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। 

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি। সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার । এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২২০.
'বালিশিরা ভ্যালি' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?  
  1. সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

- 'বালিশিরা ভ্যালি' বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে অবস্থিত। 

অন্যদিকে,
- সাজেক ভ্যালি - রাঙামাটি,
- হালদা ভ্যালি অবস্থিত — খাগড়াছড়ি।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম, 
- ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি,
- মিরিঞ্জা ভ্যালি - বান্দরবান জেলা, 
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।

২২১.
মাউন্ট গডউইন (K2) পর্বতশৃঙ্গটি কোন দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. পাকিস্তান-চীন
  2. ভারত-নেপাল
  3. ভারত-পাকিস্তান
  4. নেপাল-চীন
ব্যাখ্যা

কে২: মাউন্ট গডউইন
- বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কে২ বা মাউন্ট গডউইন।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার (২৮,২৫১ ফুট)।
- এটি হিমালয় পর্বতমালার কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির অন্তর্গত।
- এটি পাকিস্তান-চীন সীমান্তে বিস্তৃত।
- পর্বতটি পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল এবং চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল সীমান্তে কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত।
- এই পর্বতটি ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ বা চোগোরি নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এটি জংলী পর্বত নামেও পরিচিত। 
- ১৮৫৬ সালে কর্নেল টিজি মন্টগোমেরি এটি আবিষ্কার করেন এবং কারাকোরাম রেঞ্জের দ্বিতীয় শৃঙ্গ হিসেবে 'K2' নামকরণ করেন।
- পরে, এটি জরিপকারী হেনরি গডউইন-অস্টেনের সম্মানে মাউন্ট গডউইন-অস্টেন নামেও পরিচিত হয়। 
- ১৯৫৪ সালের ৩১ জুলাই ইতালীয় অভিযাত্রী দল প্রথম এর চূড়ায় আরোহণ করেন।

উৎস: Britannica.

২২২.
পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একসাথে জুড়ে যে বিশাল একটি মহাদেশ ছিল তার নাম কি?
  1. ক) প্যানথালাসা
  2. খ) প্যানজিয়া
  3. গ) ইউরোশিয়া
  4. ঘ) ওশিয়া
ব্যাখ্যা

প্যানজিয়া প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর একটি একক মহাদেশ। এটি প্যানথালাসা নামক একটি মাত্র মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত ছিল। আজ থেকে ১১০ কোটি বছর পূর্বেও পৃথিবীতে একটি মাত্র মহাদেশ ছিল।
মহাদেশগুলো টেকটোনিক প্লেটের উপর অবস্থিত যারা চলমান। এই গতি রোডেনিয়ার ভগ্নাংশগুলোকে আবার একত্র করে প্রায় ৩০ কোটি বছর পূর্বে গঠন করেছিল প্যানজিয়া তবে এটি পুরোপুরি গঠিত হয় আনুমানিক ২৭ কোটি বছর পূর্বে।

উৎস: Britannica.com

২২৩.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা কত নটিক্যাল মাইল?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
-  অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার এবং
-  ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার অন্তর্ভুক্ত।

[নোট: ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।]

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।

২২৪.
মহাদেশীয় ভূত্বকের স্তরকে কি বলে?
  1. ক) সিয়াল
  2. খ) সিয়াম
  3. গ) শিলা
  4. ঘ) সিমা
ব্যাখ্যা
ভূত্বকের শিলাস্তরগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিয়াল (SIAL) বা হালকা শিলাস্তর এবং সিমা (SIMA) বা ভারী শিলাস্তর। সিয়াল স্তরে থাকে সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম তাই এর নাম সিয়াল। সাধারণত মহাদেশীয় ভূত্বকের স্তরকে সিয়াল বলে। সিমা হলাে ভূ-ত্বকের নিচের অংশ। এটা সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি। তাই এর নাম সিমা। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
২২৫.
কোন ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ রেখা বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. কর্কট ক্রান্তি রেখা
  3. মকর ক্রান্তি রেখা
  4. সুমেরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা

 কর্কটক্রান্তি রেখা:
- ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কর্কট ক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখার অপর নাম ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
- বছরে সূর্য একবার বিষুবরেখা অতিক্রম করে উত্তর গোলার্ধের সর্বশেষ যে স্থান পর্যন্ত পরিক্রমা করে (২৩.৫ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ) আবার বিষুবরেখার দিকে ফিরে আসে, সেই কাল্পনিক রেখাটিকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলে।

অন্যদিকে,
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে উত্তর মেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত নামে অভিহিত করা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৬.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে -
  1. ১ জুলাই, ২০১৫
  2. ৩১ জুলাই, ২০১৫
  3. ১ জুন, ২০১৫
  4. ৩১ জুন, ২০১৫
ব্যাখ্যা
ছিটমহল বিনিময়:
- দুই দেশের যৌথ জরিপ অনুযায়ী ১৬২টি ছিটমহলে সাড়ে ৫৫ হাজারের মত মানুষ ছিল।
- দুই দেশের সরকারের হিসেব অনুযায়ী ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের ৫১টি এবং বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল।
- এর মধ্যে জরিপে বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ছিটমহলে সাড়ে ৪১ হাজার এবং ভারতের মধ্যে থাকা ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাসের তথ্য ছিল।
- ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী - ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের ৬৮ বছর পর দুটি দেশের মধ্যেকার সীমান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে ২০১৫ সালে।
- বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছে ৩১ জুলাই, ২০১৫ তারিখে।
- এর ফলে বাংলাদেশের ভেতরকার ভারতের ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের ভুমি হিসেবে এবং ভারতের ভিতরকার বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

উৎস: ৩১ জুলাই, ২০১৫, বিবিসি বাংলা।
২২৭.
ভাওয়ালের সোপান ভূমি কোন সময়ে গঠিত হয়?
  1. প্লাইস্টোসিনকালে
  2. টারসিয়ারি যুগে
  3. সাম্প্রতিককালে
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
'ঘুমধুম' সীমান্ত কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. সিলেট
  3. চট্টগ্রাম
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ঘুমধুম সীমান্ত:
- ঘুমধুম সীমান্ত বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন।
- এর উত্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন; পশ্চিমে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন, রত্নাপালং ইউনিয়ন, রাজাপালং ইউনিয়ন ও পালংখালী ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ও পূর্বে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪।
২২৯.
ভারতের ছিটমহলগুলোর মধ্যে লালমনিরহাটে কতটি ছিটমহল ছিল? 
  1. ৩টি 
  2.  ১২টি 
  3. ৫২টি 
  4. ৫৯টি 
ব্যাখ্যা

ছিটমহল:
- ছিটমহল হলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা অন্য কোনো দেশের অন্তর্ভুক্ত এলাকা।
- ২০১৫ সালের আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ১৬২টি ছিটমহল ছিল।
- ১ আগস্ট ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ১৬২ টি ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে।
- ভারত বাংলাদেশ এই সীমান্ত চুক্তি মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। 

- ১ আগস্ট ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশ মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের ছিটমহলগুলো পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করে।
- এর আগে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মধ্যে এবং বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের মধ্যে ছিল।
- এই বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের ১১১টি ছিটমহলের নাগরিক।
- আর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের নাগরিক।

ভারতের ছিটমহলগুলোর মধ্যে-
- বাংলাদেশের লালমনিরহাটে ছিল- ৫৯টি;
- পঞ্চগড়ে ৩টি;
- কুড়িগ্রামে ১২টি এবং
- নীলফামারীতে ৪টি অবস্থান করেছিল। 

• বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোর মধ্যে-
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় ৪৭টি এবং জলপাইগুড়িতে ৪টি ছিল।

উৎস: প্রথম আলো এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট।

২৩০.
তিতাস উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোমতী নদীর উত্তরাংশের ৯টি ইউনিয়নকে কর্তন করে ২০০৪ সালে এ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। সুত্রঃ titas.comilla.gov.bd
২৩১.
যুক্তরাষ্ট্রে প্রমাণ সময় রয়েছে-
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ৪টি এবং কানাডাতে ৬টি প্রমাণ সময় রয়েছে।
আমেরিকার মূল ভূ-খণ্ডে ব্যবহার করা সময় অঞ্চলসমূহ:
- পূর্ব মান সময় অঞ্চল: (EST; ইউ টি চি −০৫; Zone R), আটলান্টিক উপকূল ও ওহিয় উপত্যকার পূর্বের তিনভাগের দুভাগ এই সময় অঞ্চলের অন্তর্গত।
- কেন্দ্রীয় মান সময় অঞ্চল: (CST; ইউ টি সি −০৬; Zone S), আমেরিকা উপসাগর উপকূল, মিসিসিপি উপত্যকা,ও গ্রেট প্লেইনস্ এই সময় অঞ্চলের অন্তর্গত।
- পর্বতীয় মান সময় অঞ্চল: (MST; ইউ টি সি −০৭; Zone T), রকি পর্বতমালা অঞ্চল এর অন্তর্গত।
- প্রশান্ত মান সময় অঞ্চল: (PST; ইউ টি সি −০৮; Zone U), প্রশান্ত উপকূল আর নেভাডা এই সময় অঞ্চলের অন্তর্গত।

২৩২.
‘হাইল হাওর’ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. মৌলভীবাজার
  3. সুনামগঞ্জ
  4. কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• ‘হাইল হাওর’:
- সিলেটের শষ্যভাণ্ডার বলে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা এবং হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত হাইল হাওর।
- ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র ও জীবন জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি।

- এছাড়াও হাইল হাওর দেশী বিদেশী নানা জাতের পাখি, শামুক, ঝিনুক, ফোকল, ঘাস, শাপলা, শালুক, উকল, হিজল-করচ গাছ ইত্যাদি এবং অন্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল।

তথ্যসূত্র: মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।

২৩৩.
সমুদ্র সমতল হতে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ ভূমিকে বলা হয়-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) পর্বত
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) চ্যুতি
ব্যাখ্যা
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।।
মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৫,১৯০ মিটার। যেমন- পামির মালভূমি। পামির মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৪.
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. কমলগঞ্জ
  2. বড়লেখা
  3. শ্রীমঙ্গল
  4. কুলাউড়া
ব্যাখ্যা

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। 
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৩৫.
পৃথিবীর সর্বাধিক দ্বীপ দেশ কোনটি?
  1. রাশিয়া
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. জাপান
  4. শ্রীলংকা
ব্যাখ্যা
• দ্বীপ দেশ:
→ পৃথিবীতে ৪৭টি দ্বীপ দেশ রয়েছে।
→ পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে, বিশ্বের প্রতিটি মহাসাগরে দ্বীপ দেশ রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ দেশ।
→ গ্রীনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ।
→  ১০টি বৃহত্তম দ্বীপ দেশ হচ্ছে - ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, পাপুয়া নিউ গিনি, জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কিউবা, আইসল্যান্ড।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২৩৬.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিতে 'সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি” কোথায় দেখা যায়?
  1. চলনবিল
  2. সিলেট অঞ্চলের হাওড়
  3. সুনামগঞ্জ নিচু প্লাবন ভূমি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- হাওর এলাকা: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিচু প্লাবন ভূমি।
-  চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভ, মি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভ, মি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৭.
কোথায় 'বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড' অবস্থিত?
  1. ক) সুন্দরবনের উত্তরে
  2. খ) সুন্দরবনের পশ্চিমে
  3. গ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
  4. ঘ) সুন্দরবনের পূর্বে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থিত। 

• বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড:
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচু দ্বীপটি । 

সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
২৩৮.
পৃথিবীতে উচ্চচাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) সাতটি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি।
- এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।
এগুলো হলোঃ
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
২৩৯.
পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে-
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে। এগুলো হলো:
১) চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি),
২) মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি) এবং 
৩) বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)।

- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়। 

উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২৪০.
বাংলাদেশের চারপাশে অবস্থানকারী প্রধান টেকটোনিক প্লেটগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ইউরেশীয় প্লেট 
  2. বার্মা প্লেট
  3. ভারতীয় প্লেট
  4. প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের আশপাশে অবস্থিত প্রধান টেকটোনিক প্লেটগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।

• টেকটোনিক প্লেট:
- ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। 
- প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। 
- দেশের ভেতরে ও সীমানা ঘিরে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার মতো একাধিক ফাটলরেখা (টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারি চ্যুতি বা পিবিএফ) রয়েছে। 
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।
- বাংলাদেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বে ওই দুটি প্লেটের প্রান্তসীমা।
-এই প্লেটগুলোর প্রান্তবর্তী অধিকাংশ ফাটলরেখাই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে কিংবা সংলগ্ন এলাকায়।
- ফলে এসব ফাটলরেখায় বড় কোনো ভূমিকম্পের সৃষ্টি হলে দেশের মধ্যে তার প্রভাব বিধ্বংসী হবে। 

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) প্রথম আলো।

২৪১.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা কত নটিক্যাল মাইল?
  1. ১৫ নটিক্যাল
  2. ১২ নটিক্যাল
  3. ১০ নটিক্যাল
  4. ১৪ নটিক্যাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা (Boundary):
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে  আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪২.
মিয়ানমার বাংলাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ পশ্চিম
  2. দক্ষিণ পূর্ব
  3. উত্তর পূর্ব
  4. উত্তর পশ্চিম
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত:
- মিয়ানমার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বিভক্তকারী নদীর নাম নাফ নদী।
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমানা রেখা মিয়ানমারের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার (১৭০ মাইল)।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের তিনটি জেলার স্থল সীমান্ত আছে।
- তিনটি হলো: রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী  মিয়ানমারের প্রদেশ - রাখাইন।
- মংডু হলো বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে মিয়ানমারের একটি জেলা শহর।
- নাফ নদের মাধ্যমে মংডু ও বাংলাদেশের টেকনাফ শহর আলাদা হয়ে আছে।

উৎস: Britannica.
২৪৩.
'হায়লি গুব্বি' আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
  1. ইথিওপিয়া
  2. নেপাল
  3.  জাপান
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

• হায়লি গুব্বি:
- ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি নামের আগ্নেয়গিরিটি অবস্থিত।
- এটি প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল

উল্লেখ্য,
- ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত থাকা একটি আগ্নেয়গিরিতে গত ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ সালে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
- এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ছাইয়ের বিশাল মেঘ লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমান ও এমনকি ভারতের কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২৪৪.
ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী 'বরেন্দ্রভূমি' কোন যুগের উচু ভূমি?
  1. টারশিয়ারি যুগের
  2. প্লাইস্টোসিনকালের
  3. সাম্প্রতিককালের
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী 'বরেন্দ্রভূমি' প্লাইস্টোসিনকালের উচু ভূমি।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. ক) শিকাগো
  2. খ) ফ্রাঙ্কফুর্ট
  3. গ) ডানজিগ
  4. ঘ) কর্ডোবা
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে।
- প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৫০০ বছর ধরে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা আয়োজিত হয়ে আসছে।
(তথ্যসূত্র: ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট)
২৪৬.
'সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ' কোন পর্বতমালায় অবস্থিত?
  1. হিমালয়
  2. আল্পস
  3. আন্দিজ
  4. রকি
ব্যাখ্যা
সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ:
- সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ সুইস আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ গিরিপথ।
- এটি সুইজারল্যান্ড এবং ইতালির সীমান্তে প্রায় ৮,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটি আল্পস পর্বতমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাস, যা ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।

উৎস: Britannica.
২৪৭.
গ্রিনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় কত ঘণ্টা আগে?
  1. ক) ৬ ঘণ্টা
  2. খ) সাড়ে ৫ ঘণ্টা
  3. গ) সাড়ে ৬ ঘণ্টা
  4. ঘ) ৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। অন্যদিকে, গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও ভূগোল ও পরিবেশ।
২৪৮.
এশিয়ার কোন অঞ্চলে সারাবছর পরিচলন বৃষ্টি হয়?
  1. মালয়েশিয়া
  2. জাপান
  3. ভারত
  4. নেপাল
ব্যাখ্যা
পরিচলন বৃষ্টি:
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে।
- এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত। 
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেলে ও সন্ধ্যায় এ ধরনের বৃষ্টি হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উল্লেখ্য,
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের অবস্থান:
- দক্ষিন আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূল ও আমাজান নদীর অববাহিকা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার দক্ষিনাংশ, পেরুর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল; মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের আয়ন বায়ু পুষ্ট পানামার নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও কোষ্টারিকা; আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনির উপকূলীয় অঞ্চল ক্যামেরুন, গ্যাবন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোষ্ট, টাঙ্গানিকা, কেনিয়া; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই এবং ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে এ জলবায়ু দেখা যায়।
- এশিয়ার সারা বছর পরিচলন বৃষ্টি হয় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অঞ্চলে।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
কোন দেশটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়?
  1. ক) ডেনমার্ক
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ও নর্ডিক দুটিই উত্তর ইউরোপের বিশেষ অঞ্চল। মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতির প্রকৃতি - এসব কিছুতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক সামঞ্জস্য বিদ্যমান ও ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলঃ (৩টি দেশ) - নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক। উল্লেখ্য, এসকল দেশের যে বিশেষ অঞ্চল রয়েছে, সেগুলোও এই স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের অন্তর্গত।
নর্ডিক অঞ্চলঃ (৫টি দেশ) - ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও Live MCQ content (upcoming)।

২৫০.
অরুণাচল প্রদেশ কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. ভুটান
  3. মিয়ানমার
  4. চীন
ব্যাখ্যা
অরুণাচল প্রদেশ:
- অরুণাচল প্রদেশ উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি স্থলবেষ্টিত রাজ্য।
- এটি ভারতের সেভেন-সিস্টার্সভুক্ত।
- অরুণাচল প্রদেশের দক্ষিণে আসাম, পশ্চিমে ভূটান, উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে চীন এবং পূর্বে মায়ানমার (পূর্বে বার্মা নামে পরিচিত) দ্বারা বেষ্টিত। 
- অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম সীমান্তে চীনের শিজিয়াং প্রদেশ এবং পূর্ব সীমান্তে ভূটানের সাথে সীমান্ত রয়েছে।
- অরুণাচল রাজ্যের রাজধানী: ইটানগর। 
- এই রাজ্যের প্রধান নদী হল ব্রক্ষপু্ত্র যা অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
২৫১.
বাংলাদেশের কোথায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়?
  1. শ্রীমঙ্গল
  2. টেকনাফ
  3. সাজেক
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হলো ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মাস অনুসারে জুলাই মাসে সর্বাধিক (৫২৩.০ মি.মি.) এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন (৯ মি.মি.) বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।

তাছাড়া, 
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা - রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা - সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান - লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান - শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫২.
নিচের কোন জেলাটি হাওরাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) সুনামগঞ্জ
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা নিয়ে হাওর বেসিন বা হাওরাঞ্চল গঠিত।
জেলাসমূহ হলো:
- সিলেট
- সুনামগঞ্জ
- মৌলভীবাজার
- হবিগঞ্জ
- নেত্রকোনা
- কিশোরগঞ্জ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- হাওরাঞ্চলে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে যার মোট আয়তন ৮,৫৮,৪৬০ হেক্টর।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সিলেটে ১০৫টি।
- সবচেয়ে বড় হাওর হলো সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
২৫৩.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোথায় অবস্থিত?
  1. সদরঘাট
  2. জিঞ্জিরা
  3. শরীয়তপুর
  4. চাঁদপুর
ব্যাখ্যা

 বাকল্যান্ড বাঁধ:
- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
- সর্বসাধারণের চাঁদায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল।
- এ প্রকল্পের জন্য প্রথম চাঁদাদাতাদের মধ্যে ছিলেন খাজা আব্দুল গণি এবং ভাওয়াল জমিদার কালীনারায়ণ রায়।
- ১৮৭০ সালে খাজা আব্দুল গণি ওয়াইজ ঘাট থেকে পশ্চিমদিকের এবং বাবু রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস নর্থব্রুক হলের কাছ থেকে পূর্বদিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এইভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মিত হয় এবং পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মিউনিসিপ্যালিটির কাছে হস্তান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সদরঘাট (Sadarghat) বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নদী বন্দর

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৫৪.
ট্রপিক অব ক্যান্সার নিম্নের কোন জেলা দিয়ে অতিক্রম করেনি?
  1. রাজবাড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. ফেনী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার নিম্নের ফেনী দিয়ে অতিক্রম করেনি।

ট্রপিক অব ক্যান্সার:

- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের ১১টি জেলার উপর দিয়ে (চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, রাজবাড়ি, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৫৫.
‘বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি’ কোন ভূ-প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য? 
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ 
  3. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. ক ও খ 
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: 

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম। 
• পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত। 
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। 
• এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে। 
• সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার। 
এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। 
• স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে। 
• রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম। 
• মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ। 

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
- পাদদেশীয় সমভূমি।
- বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
- স্রোতজ সমভূমি। 
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি। 
- ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫৬.
নিচের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) অতিক্রম করেনি?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) নারায়নগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) অতিক্রম করেছে।
চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, ও রাঙ্গামাটি জেলার ওপর দিয়ে এ রেখা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে বরিশাল, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ওপর দিয়ে ৯০° দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে।
উৎসঃ ভূগোল বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি কোনটি?
  1. ক) তিব্বত মালভূমি
  2. খ) গোলান মালভূমি
  3. গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
  4. ঘ) পামীর মালভূমি
ব্যাখ্যা

তিব্বত মালভূমি:
- পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি তিব্বত মালভূমি।
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)। 
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।

⇒ তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।

উৎস: i) Britannica
ii) World atlas.

২৫৮.
নিম্নলিখিত কোনটি বলকান অঞ্চলের একটি দেশ?
  1. সুইডেন
  2. ক্রোয়েশিয়া
  3. ফ্রান্স
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা
বলকান রাষ্ট্র:
- বলকান হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি পার্বত্য অঞ্চল।
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ক্রোয়েশিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- রােমানিয়া,
- বুলগেরিয়া,
- সার্বিয়া,
- উত্তর মেসিডোনিয়া,
- স্লোভেনিয়া,
- আলবেনিয়া।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস এবং তুরস্কের কিছু অংশও বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা
২৫৯.
নিচের কোনটি 'পৃথিবীর ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত?
  1. আর্কটিক টুন্ড্রা
  2. কঙ্গো বনভূমি
  3. আমাজন
  4. তৈগা বনভূমি
ব্যাখ্যা

⇒ 'পৃথিবীর ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত আমাজন।

আমাজন:

- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল ।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান ।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে: ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী ।

তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৬০.
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. ইয়েমেন
  2. ইরান
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. ওমান
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব আবহওয়া সংস্থার অধিভুক্ত প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো পরপর প্রয়োগ করা হয়।
- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়-তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলো নামকরণ করে।
- পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- Q, U, X, Y ও Z- এই ৫টি অক্ষর বাদ দিয়ে ইংরেজি বর্ণমালার ২১টি অক্ষর ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।
- 'রিমাল' ছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে আসন্ন উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো হলো- আসনা (পাকিস্তান), ডানা (কাতার), ফেঙ্গাল (সৌদি আরব), শক্তি (শ্রীলঙ্কা), মন্থ (থাইল্যান্ড), সেনিয়ার (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ও দিত্ত্ব (ইয়েমেন)।
- ২০২০ সালে মোট ১৩টি দেশ ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম দেয়।
- ১৩ টি দেশ হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, আরব-আমিরাত এবং ইয়েমেন।
- ডব্লিওএমও-র ভারতীয় উপমহাদেশের এই সদস্য দেশগুলোই নাম দেয়।

উৎস: i) মে ২৬, ২০২৪, The Daily Star বাংলা.
        ii) ১৭ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
২৬১.
র‍্যাডক্লিফ লাইন বলতে কোন দুই দেশের সীমারেখাকে বোঝানো হয়?
  1. ভারত-চীন
  2. ভারত-পাকিস্তান
  3. ফিনল্যান্ড-রাশিয়া
  4. আফগানিস্তান-পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
র‍্যাডক্লিফ লাইন:
- ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার স্যার সিরিল জন র‍্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‍্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয়।
- এর ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।
- ভারত-পাকিস্তানের সীমানাকে র‍্যাডক্লিফ লাইন বলা হয়।

অন্যদিকে -
- ম্যাকমোহন লাইন হলো চীন ও ভারতের মধ্যে কার্যকরী সীমানা।
- ম্যানারহেইম লাইন হলো ফিনল্যান্ড ও রাশিয়াকে বিভক্ত করেছে।
- ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্ত রেখা বা লাইন।

উৎস: Britannica.
২৬২.
'শুভলং ঝর্ণা' নিচের কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. বড়লেখা
  2. কাপ্তাই
  3. বাঘাইছড়ি
  4. বরকল
ব্যাখ্যা

• শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

তথ্যসূত্র: রাঙ্গামাটি জেলা ওয়েবসাইট।

২৬৩.
নিচের কোনটি সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ নয়?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পলল পাখা
  3. জলপ্রপাত
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
ব্যাখ্যা
- পলল পাখা ও পলল কোণ, পাদদেশীয় পলল সমভূমি, প্লাবন সমভূমি, বদ্বীপ প্রভৃতি হলো নদী দ্বারা সৃষ্ট সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ।
-অন্যদিকে
- ভি আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত ও ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত প্রভৃতি নদী দ্বারা সৃষ্ট কতগুলো ক্ষয়জাত ভূমিরূপ।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃ্ষ্ঠা- ৬০/৬১)
২৬৪.
বৈরাগীর ভিটা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) নাটোর
ব্যাখ্যা
বৈরাগী ভিটা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
এটি আনুমানিক ২৫০০ বছর পুরনো। সম্প্রতি এই ভিটায় ১৪০০ বছর আগের একটি স্থাপনার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর পূর্বেও এখানে তিনটি বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়।

সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত
২৬৫.
যশোর জেলায় অবস্থিত বিল কোনটি?
  1. ক) হাইল
  2. খ) ভবদহ
  3. গ) পাথর চাওলি
  4. ঘ) আড়িয়াল
ব্যাখ্যা
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় অবস্থিত - ভবদহ বিল।
অন্যদিকে,
- আড়িয়াল বিল অবস্থিত - মুন্সীগঞ্জ জেলায় ও
- বাইক্কা বিল, হাইল বিল অবস্থিত - মৌলভীবাজার জেলায়।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ওয়েবসাইট।
২৬৬.
নিচের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. ক) লিথুয়ানিয়া
  2. খ) এস্তোনিয়া
  3. গ) বুলগেরিয়া
  4. ঘ) লাটভিয়া
ব্যাখ্যা
বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
বুলগেরিয়া বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২৬৭.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং কোন ভূপ্রকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  2. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়েটারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
যথা-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ।
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান,খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়),যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

• উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৬৮.
পৃথিবীর মোট সঞ্চিত বরফের কত শতাংশ এন্টার্কটিকায় বিদ্যমান?
  1. ৭০ শতাংশ
  2. ৮০ শতাংশ
  3. ৯০ শতাংশ
  4. ৯৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

এন্টার্কটিকায় পৃথিবীর মোট সঞ্চিত বরফের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ বিদ্যমান। ৫৩ লক্ষ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত এই বরফ আচ্ছাদনের গড় গভীরতা প্রায় ৩ মাইল।
পৃথিবীর মোট স্বাদু পানির ৭০ ভাগ এন্টার্কটিকায় বিদ্যমান।
(উৎসঃ ইউএসএ ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট)

২৬৯.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের অচিহ্নিত সীমান্ত এলাকা কোনটি?
  1. ক) তামাবিল
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) মুহুরীর চর
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ত্রিপুরা (ভারত) সেক্টর
- বাংলাদেশ-ত্রিপুরা (ভারত) সেক্টরের আর্ন্তজাতিক সীমানার মোট দৈর্ঘ্য ৮৭৪ কি.মি.।
- এ সেক্টরে  ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার  মুহুরী নদী এলাকায় ২ কি.মি. ছাড়া অবশিষ্ট সকল সীমান্তে পিলার নির্মাণের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ১০-১১ নভেম্বর ২০১১, জরিপ মৌসুমে যৌথ জরিপ করে মুহুরী নদী এলাকার ইনডেক্স ম্যাপ প্রস্তুত করে উভয় দেশের কারিগরী পর্যায়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
- এ সেক্টরের মোট ২.০০ কি.মি. অমিমাংসীত মুহুরীর চর এলাকায় ভারতের বিলোনিয়া শহর রক্ষা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা রিলে করা হয়েছে।
- উভয় দেশের সরকারের সম্মতি পেলে সরজমিনে পাকা পিলার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পত্রের মাধ্যমে ভারতের সংসদে চুক্তি এবং প্রটোকল অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত অমিমাংসিত এলাকায় কোন ধরনের কর্মসূচী প্রনয়ণ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

উৎস: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২৭০.
নিচের কোন এলাকার জলবায়ু অধিক মৃদুভাবাপন্ন?
  1. বান্দরবান
  2. রাজশাহী
  3. ঢাকা
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।

উল্লেখ্য,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৭১.
লালমাই পাহাড় নিচের কোনটির অন্তর্ভুক্ত?
  1. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  2. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়।
- এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭২.
চলন বিল (Chalan Beel) কোথায় অবস্থিত?
  1. পাবনা ও নাটোর
  2. নাটোর ও বগুড়া
  3. সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া
  4. সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা
চলন বিল:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল।
- এটি রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
- শুকনা মৌসুমে এসব বিলে জল থাকে না।
- জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলনবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
- বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলেমিটারে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৩.
হালদা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
• হালদা ভ্যালি অবস্থিত — খাগড়াছড়ি।

অন্যদিকে,
- সাজেক ভ্যালি - রাঙামাটি,
- বালিশিরা ভ্যালি - মৌলভীবাজার, 
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম, 
- ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি,
- মিরিঞ্জা ভ্যালি - বান্দরবান জেলা, 
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
২৭৪.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি
  4. তাজিনডং
ব্যাখ্যা
- তাজিনডং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।

অন্যদিকে, 
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়: 

• বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

•মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৫.
বর্তমানে দেশের মোট পৌরসভা কয়টি?
  1. ক) ৩৩০টি
  2. খ) ৩২৯টি
  3. গ) ৩২৮টি
  4. ঘ) ৩২৭টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে দেশে মোট পৌরসভা ৩৩০টি
- সর্বশেষ পৌরসভা শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
২৭৬.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে কোনটি অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি
  2. আখাইনঠং
  3. শিবগঞ্জ
  4. মনাকষা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাইলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।
•  সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। (৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।
• সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং। (৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।
• সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
 সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৭.
কোনটি পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি?
  1. গাঙ্গেয় সমভূমি
  2. সিন্ধু সমভূমি
  3. মধ্য ইউরোপের সমভূমি
  4. পূর্ব আফ্রিকান সমভূমি
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

⇒ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

• মধ্য ইউরোপের সমভূমি
- পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি মধ্য ইউরোপের সমভূমি।
- ইউরাল পর্বত থেকে শুরু করে পিনেরীজ পর্বতমালা এবং দক্ষিণে আল্পস পর্বত থেকে উত্তরদিকে স্ক্যান্ডেনিভিয়া পর্যন্ত এই সমভূমি বিস্তৃত।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে কত দূরে অবস্থিত?
  1. ক) ১৯.৩ কিমি
  2. খ) ২১.০ কিমি
  3. গ) ২৪.৭ কিমি
  4. ঘ) ১৬.৫ কিমি
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা বাঁধ:
- কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।
- বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত থেকে মাত্র ১৬.৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা নামক স্থানে গঙ্গা নদীর উপর এই বাঁধ অবস্থিত।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।
- ১৯৬১ সালে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় – ১৯৭০ সালে।
- তবে ব্যবহার উপযোগী করতে পুরোপুরিভাবে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে।
- পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় ১৯৭৫ সালে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো নিউজ।
২৭৯.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান কোনটি?
  1. তামাবিল
  2. বাংলাবান্ধা
  3. দর্শনা
  4. বেনাপোল
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

২৮০.
'গাবখান চ্যানেলের' অবস্থান বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ঝালকাঠি
  2. ঝিনাইদহ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা

• গাবখান চ্যানেল:
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে গাবখান চ্যানেল।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- এর ঝালকাঠি অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার। 

- ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে।
- ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৮১.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. নদী স্রোত অঞ্চলে
  2. শুষ্ক অঞ্চলে
  3. কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  4. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াঝড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনাঞ্চাল বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮২.
‘ফরিদপুর‘ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) রাঢ়
ব্যাখ্যা
 বঙ্গ জনপদ:
-  প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে বঙ্গ জনপদ ছিলো অন্যতম।
 - বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি। 
- অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
২৮৩.
নিচের কোন দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ?
  1. ক) অস্ট্রেলিয়া
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
⇒ বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার ।

• ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, দশম শ্রেণি- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৪.
'বাংলার দার্জিলিং' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. চিম্বুক
  2. তাজিনডং
  3. কেওক্রাডাং
  4. সাকা হাফং
ব্যাখ্যা

চিম্বুক পাহাড়:
- বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী হিসেবে পরিচিত চিম্বুক পাহাড়।
- বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়। 
- এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড়।
- বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত এই চিম্বুক পাহাড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৮৫.
আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) মকরক্রান্তি রেখা
  2. খ) নিরক্ষরেখা
  3. গ) কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে গ্যাবন, কঙ্গো, কেনিয়া ও সোমালিয়ার উপর দিয়ে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বা শূন্য ডিগ্রি অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে,
- আফ্রিকার উত্তরাংশ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বা সাড়ে তেইশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
- আফ্রিকার দক্ষিণ ভাগ দিয়ে মকরক্রান্তি রেখা বা সাড়ে তেইশ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বা ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২৮৬.
বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণি ভূ-তাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ হচ্ছে-
  1. প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. টারশিয়ারী যুগের
  3. মায়োসিন যুগের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের।

• বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব তিন ধরণের।যথা-
-  টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।
- বাংলাদেশে অবস্থিত টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোকে আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত।যথা-

i) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

ii) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
মধুপুর ভাওয়ালের গড় কোন ভূ- অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
  3. টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল
  4. উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল, প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,এবং প্লাবন সমভূমি ।
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল - উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ গড় উচ্চতা - ৬১০ মিটার।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তারাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড় গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা - ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড় গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৮৮.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় বাংলাদেশের কোন পাহাড়টি সৃষ্টি হয়েছে?
  1. তাজিনডং
  2. মোদকমুয়াল
  3. কেওক্রাডং
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কেওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উল্লেখ্য,
- বান্দরবান জেলার বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত পাহাড় 'মোদক মুয়াল' যা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়। এটিও হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৯.
একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা ভিত্তিরেখা থেকে সর্বোচ্চ কত হতে পারে?
  1. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  2. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  3. ৩০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তিরেখা থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।

মহীসোপান:

- মহীসোপান হল সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত একটি ঢালু অঞ্চল, যা মহাদেশীয় প্রান্ত থেকে গভীর সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত।
- এটি সাধারণত মহাদেশীয় প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে গভীর সমুদ্রীয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এই অঞ্চলটি সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল হিসাবেও পরিচিত।
- মহীসোপানের গড় সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার এবং মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহাদেশের উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়।
- মহাদেশের উপকূল পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

⇒ মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়।
- আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেশন অনুযায়ী, একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের ( Continental shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
- কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র তার ভিত্তিরেখা (baseline) থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অথবা ২,৫০০ মিটার গভীরতার আইসোবাথ (isobath) থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান (continental slope) ভোগ করতে পারবে।
- এটি মূলত আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) এর আওতায় আসে, যা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর মহীসোপান ও মহাদেশীয় শেলফের অধিকার নির্ধারণ করে।
- এই নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলি তাদের উপকূল থেকে মহীসোপান বা মহাদেশীয় শেলফের বিশেষ অংশে অর্থনৈতিক বা গবেষণামূলক অধিকার দাবি করতে পারে।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) UNCLOS ওয়েবসাইট। [link]
২৯০.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত-
  1. কালা পাহাড়
  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  3. চিম্বুক পাহাড়
  4. লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ: 
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯১.
'ফুরমোন পাহাড়' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবন
  3. সিলেট
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

রাঙামাটি বাংলাদেসশের সবচেয়ে দর্শনীয় জেলাগুলোর অন্যতম। 
রাঙামাটি জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান:
- ঝুলন্ত ব্রিজ
- যমচুক
- রাজবন বিহার
- ফুরমোন পাহাড়
- কাপ্তাই লেক
- শুভলং ঝর্না

উৎস: রাঙামাটি জেলা ওয়েবসাইট।

২৯২.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. রংপুর
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সবগুলো জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
- এই দুটি বিভাগের প্রতিটি জেলা সীমান্তবর্তী। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার। এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের সাথে ভারতের কোন সীমান্ত সংযোগ নেই।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।

• চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
• খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
• রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
• রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
• ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
• সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা: সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯৩.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের কতটি রাজ্য রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
- এগুলো হলো: মেঘালয়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, দশম শ্রেণি- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৪.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ১০২ কিলোমিটার
  2. খ) ১১২ কিলোমিটার
  3. গ) ১২০ কিলোমিটার
  4. ঘ) ২০১ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার।

উৎস: parjatan.gov.bd
২৯৫.
নিচের কোন জেলায় 'ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়'- এর বনভূমি নেই?
  1. গাজীপুর
  2. টাঙ্গাইল
  3. হবিগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শালবন  এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।
- বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৯৬.
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয়:
  1. টারশিয়ারি যুগে
  2. প্লাইস্টোসিন যুগে
  3. কোয়াটারনারী যুগে
  4. সাম্প্রতিক কালে
ব্যাখ্যা
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বা প্রাচীন ভূমিরূপ গঠিত হয় টারশিয়ারি যুগে। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৭.
About how much of the Sundarbans region is covered by mangrove forest?
  1. ক) Two-fifths
  2. খ) One-fifths
  3. গ) Three-fifths
  4. ঘ) Four-fifths
ব্যাখ্যা
- Sundarbans, a vast tract of forest and saltwater swamp forming the lower part of the Padma (Ganges)-Brahmaputra River delta in southeastern West Bengal state, northeastern India, and southern Bangladesh. 
- The name Sundarbans is thought to be derived from Sundari, the name of the large mangrove trees that are most plentiful in the area.
- Mangrove forests constitute about two-fifths of the Sundarbans region’s overall surface area, with water covering roughly half of that area.
 
Source: Britannica
২৯৮.
বরেন্দ্রভূমি দেশের কোন অঞ্চলে বিস্তৃত?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  2. পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. উত্তর-পূর্বঅঞ্চলে
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৯.
বাংলাদেশের কয়টি জেলার সাথে 'সুন্দরবন' সংযুক্ত আছে?
  1. ক) ৪ (চার) টি
  2. খ) ৫ (পাঁচ) টি
  3. গ) ৬ (ছয়) টি
  4. ঘ) ৭ (সাত) টি
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের ৫টি জেলার সাথে 'সুন্দরবন' সংযুক্ত আছে।
- সুন্দরবনের সাথে যুক্ত জেলাগুলো হলো: খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালি, বরগুনা।

- সুন্দরবন বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বনভূমি।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

উল্লেখ্য,
যে বাংলাপিডিয়া বা নবম দশম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে সুন্দরবন বাংলাদেশের তিনটি জেলায় বিস্তৃত এমনটি বলা আছে।
তবে যেহেতু অপশনে ০৩ (তিন)টি না থাকার কারণে মানচিত্র এবং অন্যান্য উৎস বিবেচনায় এনে, অধিকতর উপযুক্ত উত্তর হিসেবে ০৫ (পাঁচটি) জেলা নেয়া হয়েছে।  

তথ্যসূত্র: বাগেরহাট জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৩০০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম, বৃহত্তম, প্রশস্ত এবং গভীরতম নদী মেঘনা।
- মেঘনা হিমালয় বলয় বহির্ভূত (Non-Himalayan) নদী।
- মেঘনা মূলত সুরমা, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও গঙ্গার মিলিত স্রোতধারা।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া; ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।