বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা ১২ / ১৭ · ১,১০১১,২০০ / ১,৬৩৯

১,১০১.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে?
  1. টাঙ্গাইল-গাজীপুর
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে।
এটি দেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল। এ বনের উদ্ভিদের মধ্যে চাপালিশ, তেলসুর প্রভৃতি প্রধান।
তবে এ বনাঞ্চলের কম বৃষ্টিবহুল এলাকায় পত্রপতনশীল বৃক্ষের উপস্থিতি দেখা যায়।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১,১০২.
পৃথিবীর গলিত অবস্থার পর শীতল হয়ে যে শিলা গঠিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. পাললিক শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. প্রাকৃতিক শিলা
  4. আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

যেমন:
- ব্যাসন্ট,রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১,১০৩.
হাকালুকি হাওরের বিস্তৃতি-
  1. ক) বড়লেখা
  2. খ) কুলাউড়া
  3. গ) ফেঞ্চুগঞ্জ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- হাকালুকি হাওর  বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত। হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১,১০৪.
গারো পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. টাঙ্গাইল
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• গারো পাহাড় – :
- ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তর্গত গারো পাহাড় বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অঞ্চল।
- এখানে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড় রয়েছে, যেগুলোর উচ্চতা আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত।
- পাহাড়ের ঘন সবুজ বন, শান্ত পরিবেশ এবং মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

- গারো পাহাড় ঘন বন-জঙ্গলে আচ্ছাদিত এবং এখানে একটি বিস্তৃত সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার।
- এই সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান শালগাছ জন্মে।
- এছাড়াও অসংরক্ষিত বনও রয়েছে, যেগুলোতেও প্রচুর সেগুন, শাল, বাঁশ, বেতসহ নানা জাতের বৃক্ষ দেখা যায়।

- এখানে নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, বন্য হাতি, ময়না এবং ধনেশ পাখির দেখা মেলে। এ
- ছাড়াও এই পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ কিছু নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে ভোগাই, নিতাই এবং সোমেশ্বরী নদী উল্লেখযোগ্য।

- গারো পাহাড় শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি একটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এলাকা, যা দেশের পরিবেশ ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: হালুয়াঘাট উপজেলা ওয়েব সাইট।
১,১০৫.
'চিকেনস নেক' কোন দুটি অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে?
  1. উত্তর ও দক্ষিণ ভারত
  2. মূল ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারত
  3. মূল ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারত
  4. ভারত ও বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।

⇒ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা চিকেন নেক নামে পরিচিত।
- ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১,১০৬.
নিচের কোনটি বলকান রাষ্ট্র নয়? 
  1. আলবেনিয়া
  2. বুলগেরিয়া
  3. সাইপ্রাস 
  4. ক্রোয়েশিয়া
ব্যাখ্যা

- সাইপ্রাস বলকান রাষ্ট্র নয়।
- সাইপ্রাস হল ভূমধ্যসাগরের একটি দ্বীপ, যা ইউরোপের অন্তর্গত এবং এটি তৃতীয় বৃহত্তম ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র।

বলকান রাষ্ট্র: 

- বলকান রাষ্ট্র বলতে বোঝায় সেই দেশগুলোকে যেগুলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বালকান উপদ্বীপে অবস্থিত।
• বালকান উপদ্বীপভুক্ত দেশসমূহ;
- আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া ,রোমানিয়া (আংশিক) সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া (আংশিক)।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস ও তুরস্ককে বালকান থেকে বাদ দেওয়া হয়।
- পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক এই দেশগুলো পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে অবস্থিত এবং বলকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১,১০৭.
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো-
  1. ক) হালদা নদী
  2. খ) তিস্তা নদী
  3. গ) মেঘনা নদী
  4. ঘ) হাকালুকি হাওড়
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
হালদা নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। সম্প্রতি সরকার এই নদীকে ''বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ'' ঘোষণা করেছে।
উৎসঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট
১,১০৮.
রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. প্লাবনভূমি
  3. পললগঠিত সমভূমি
  4. চলনবিল
ব্যাখ্যা

• রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒ বরেন্দ্রভূমি।

• জনপদগুলোর অবস্থান:
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১০৯.
কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত-
  1. নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া
  2. চট্টগ্রামের বাঁশখালি
  3. খুলনার মংলা
  4. পটুয়াখালীর কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত- পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।

• কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত।

অবস্থান: 
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
- ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
- পূর্বে গজমতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পশ্চিমে কুয়াকাটার বনভূমি, উত্তরে কলাপাড়া জনপদ ও দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, কুয়াকাটা।
১,১১০.
নাগর ও ট্যাংগন কোন নদীর উপনদী?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) সুরমা
ব্যাখ্যা
মহানন্দা
• হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং এর নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বত হতে মহানন্দা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
• ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
•অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার মিলিত হয়েছে।
নাগর, ট্যাংগন ও পুণর্ভবা এর উপনদী।
• বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ কিমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১১১.
'শাহবাজপুর দ্বীপ' বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. মহেশখালী
  2. সেন্ট মার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
শাহবাজপুর দ্বীপ বর্তমানে ভোলা দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ।

ভোলা:
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ভোলা জেলা।
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ যা বাংলা করলে ‘বাংলাদেশের দ্বীপের রাণী’ হয়।

⇒ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ।
- জেলাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
১,১১২.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সংলগ্ন নয়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. কুমিল্লা
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বান্দরবান জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন অবস্থান নয়।

ভারতের রাজ্য: 
• বাংলাদেশের সংলগ্ন জেলা 
- আসাম ৪টি (কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার)
- ত্রিপুরা ৭টি (ফেনী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি)
- মেঘালয়: ৪টি (নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর)
- মিজোরাম: ১টি (রাঙ্গামাটি)
- অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলা ৯টি। যথা: মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর চব্বিশ পরগোনা, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার ও দার্জিলিং।
- বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের চিন প্রদেশের মংডু শহর অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,১১৩.
আয়তন ও জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ-
  1. ক) সুরিনাম
  2. খ) সিচেলিস
  3. গ) আলজেরিয়া
  4. ঘ) নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ হল আফ্রিকা মহাদেশ। আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা অতিক্রম করেছে। এ মহাদেশের উত্তরে ভূ-মধ্যসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ আলজেরিয়া। জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ নাইজেরিয়া। জনসংখ্যায় ও আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ সিচেলিস। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
১,১১৪.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে কোন সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে?
  1. ৮° অক্ষরেখা
  2. ২৮° অক্ষরেখা
  3. ৩৮° অক্ষরেখা
  4. ৪১° অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
• ৩৮° অক্ষরেখা:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে।
- উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে এবং দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

• বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ২৮তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ৮⁰ চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,১১৫.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ কী?
  1. অস্তরীভূত শিলা
  2. স্তরীভূত শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. আদি শিলা
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৬.
রাতারগুল বনের অবস্থান কোথায়?
  1. সিলেট
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. কক্সবাজার
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
রাতারগুল হলো একটি জলাভূমির বন। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
এর আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর। এ বনের প্রধান বৃক্ষের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও পিটালী উল্লেখযোগ্য। এ বনের বৃক্ষ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় আংশিক জলমগ্ন থাকে।
(সূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
১,১১৭.
ডোকলাম উপত্যকা নিম্নের কোন দেশের সাথে সংযুক্ত নয়?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. ভুটান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
ডোকলাম উপত্যকা নেপালের সাথে সংযুক্ত নয়।

ডোকলাম উপত্যকা:
- ডোকলাম উপত্যকা ভারত, ভুটান এবং চীনের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
- এই এলাকার উত্তরে চীনের চুম্বি উপত্যকা। পশ্চিম প্রান্তে ভারতের সিকিম। দক্ষিণ ও পূর্বে ভুটানের অবস্থান।
- প্রতিটি দেশই ডোকলাম উপত্যকাকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১,১১৮.
নিচের কোন রাষ্ট্রটি বলকান অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) জর্জিয়া
  2. খ) লাটভিয়া
  3. গ) নরওয়ে
  4. ঘ) বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা
বলকান পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বলকান রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এগুলো হলো:
বুলগেরিয়া
আলবেনিয়া
সার্বিয়া
মন্টিনিগ্রো
ক্রোয়েশিয়া
স্লোভেনিয়া
উত্তর মেসিডোনিয়া
বসনিয়া ও হার্জিগোভিনা
কসোভো
গ্রিস
রোমানিয়া ও
তুরস্কের ইউরোপিয়ান অংশ।
অন্যদিকে জর্জিয়া ককেশাস অঞ্চলে, নরওয়ে স্ক্যান্ডেনিভিয়া অঞ্চলে এবং লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এগুলো বাল্টিক অঞ্চলে অবস্থিত।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,১১৯.
নিচের কোনটি কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী দেশ নয়?
  1. ক) তুরস্ক
  2. খ) বুলগেরিয়া
  3. গ) ইউক্রেন
  4. ঘ) সার্বিয়া
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণসাগর ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটির আয়তন প্রায় ৪.৬১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। বসফরাস ও দার্দেনেলিস প্রণালি দ্বারা কৃষ্ণসাগর ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত।

- অ্যাজভ সাগর, কার্চ প্রণালি ও ক্রিমিয়া উপদ্বীপ কৃষ্ণসাগরের অংশ।
- কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত বন্দরসমূহের মধ্যে ওডেসা (ইউক্রেন), নভোরোসিস্ক (রাশিয়া), কনস্ট্যান্টা (রোমানিয়া), বার্না (বুলগেরিয়া), সামসুন (তুরস্ক), মারিয়োপুল (ইউক্রেন) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত দেশসমূহ হলো:

- রাশিয়া
- তুরস্ক
- ইউক্রেন
- রোমানিয়া
- বুলগেরিয়া এবং
- জর্জিয়া।
অন্যদিকে,
- সার্বিয়া বলকান অঞ্চলে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,১২০.
আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি জেলায়
  2. রাঙ্গামাটি জেলায়
  3. বান্দরবান জেলায়
  4. কক্সবাজার জেলায়
ব্যাখ্যা
আলুটিলা গুহা:

অবস্থান:
আলুটিলা গুহা বাংলাদেশের — খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক গুহা।

কিভাবে যাওয়া যায়:
মাটিরাঙ্গা থেকে ১১ কিলোমিটার জেলা শহর পথে। অথবা জেলা শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার পশ্চিমে আলুটিলার অবস্থান।

স্থানীয় নাম:
স্থানীয়রা এই গুহাকে "মাতাই হাকড়" বা দেবতার গুহা বলে থাকেন।

গুরুত্ব:
- আলুটিলা খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উঁচু পর্বত।
- আলুটিলা সুরঙ্গের দৈঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট।

তথ্যসূত্র:
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
- যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
- মাটিরাঙ্গা উপজেলার ওয়েবসাইট।
১,১২১.
পরিবেশ অধিদপ্তর কত সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area - ECA /ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।
- ৩৮ বছরের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমেছে ।

অন্যদিকে:
- সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, এবং সুন্দরবনকে ১৯৯৯ সালে ঘোষণা করে। - জাফলং-ডাউকি নদী ২০১৫ সালে।

তথ্যসূত্র - পরিবেশ অধিদপ্তর।

১,১২২.
ভৌগোলিকভাবে কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) লাইবেরিয়া
  2. খ) তাঞ্জানিয়া
  3. গ) সোমালিয়া
  4. ঘ) মোজাম্বিক
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হর্ন অব আফ্রিকা একটি উপদ্বীপ। এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ইরিত্রিয়া
- সোমালিয়া
- জিবুতি এবং
- ইথিওপিয়া।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
১,১২৩.
কোনটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়?
  1. ত্রিপুরা
  2. আসাম
  3. সিকিম
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত প্রশ্নে সিকিম বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়।

সীমান্তবর্তী ভারতের:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের উত্তরে- ভারতের পশ্চিবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- বাংলাদেশের পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৪.
‘নয় কুড়ি কান্দায় ছয় কুড়ি বিল' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) টাঙ্গুয়ার হাওর
  2. খ) হাকালুকি হাওর
  3. গ) চলন বিল
  4. ঘ) শনির হাওর
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধরমপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। 
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি এবং দ্বিতীয় রামসার সাইট। 
- টাঙ্গুয়ার হাওর ‘নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল’ নামে পরিচিত। 
-  এ হাওরে জীববৈচিত্র্যের মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন জাতের পাখি। 
 
উৎস: প্রথম আলো 
১,১২৫.
ট্রপিক অব ক্যান্সার বাংলাদেশের কয়টি জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer):
- কর্কটক্রান্তি রেখা হলো উত্তর গোলার্ধে বিষুবরেখার সমান্তরালে অবস্থিত একটি কাল্পনিক রেখা যা নিরক্ষরেখার প্রায় ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা প্রধানত ১৭টি দেশ, ৩টি মহাদেশ ও ৬টি জলাশয়ের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- প্রধান দেশসমূহ: আলজেরিয়া, নাইজার, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, চীন, তাইওয়ান, মেক্সিকো, বাহামা, পশ্চিম সাহারা, মৌরিতানিয়া, মালি।
- যেসব এলাকার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা গেছে, সেসব এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় তাপ অনেক বেশি। এখানে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পড়ে। 

উল্লেখ্য,
- কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই রেখার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর অন্তর্গত এবং এখানে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে। 
- এটি বাংলাদেশের ১১টি জেলার উপর দিয়ে ( চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Worldatlas.

১,১২৬.
নিম্নের কোনটি ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র?
  1. ক) ১ : ১০০০০,০০০
  2. খ) ১ : ১০০০,০০০
  3. গ) ১ : ১০০,০০০
  4. ঘ) ১ : ১০,০০০
ব্যাখ্যা
• স্কেল অনুসারে মানচিত্র দুই প্রকারের। যথা-

১) বৃহৎ স্কেল মানচিত্র: একটি ছোট এলাকা কে অনেক বড় করে দেখানো হয় বলে মানচিত্রে অনেক জায়গা থাকে। এবং অনেক কিছু তথ্য এরূপ মানচিত্রে ভাল ভাবে দেখানো যায়।
যেমন: ১: ১০,০০০

২) ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র: সমগ্র পৃথিবী বা মহাদেশ বা দেশের মতো বড় অঞ্চলকে একটি ছোট কাগজে দেখানো হয় বলে এ প্রকার মানচিত্রে বেশি জায়গা থাকে না। ফলে মানচিত্রে বেশি কিছু দেখানো যায় না।
যেমন: ১ : ১০,০০,০০০

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,১২৭.
কোন জেলাগুচ্ছ সুন্দরবন সংলগ্ন?
  1. বাগেরহাট, নড়াইল ও ঝিনাইদহ
  2. পিরোজপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাট
  3. বরিশাল, খুলনা ও সাতক্ষীরা
  4. সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা:
- সুন্দরবন বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বনভূমি।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।

উল্লেখ্য,
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage বা বিশ্ব ঐতিহ্য' হিসেবে ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ।
১,১২৮.
‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে কোন ভৌগলিক এলাকাটি??
  1. টাঙ্গুয়ার হাওর
  2. বগা লেক
  3. কাপ্তাই হ্রদ
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
• রামসার সাইট:
- ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১মে, ১৯৯২)।
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই, ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: রামসার ওয়েবসাইট।
১,১২৯.
কর্কটক্রান্তি রেখা ও দ্রাঘিমা রেখা বাংলাদেশের কোথায় ছেদ করেছে?
  1. ক) ভাঙ্গা
  2. খ) মধুখালী
  3. গ) কালিয়াকৈর
  4. ঘ) কাশিয়ানী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর দক্ষিণে অতিক্রম করেছে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।
- প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অতিক্রম করেছে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- এই রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ধোপাডাঙ্গা মৌজার একটি ফসলি ক্ষেতের উপর মিলিত হয়েছে।
- এই স্থানকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক।
১,১৩০.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিতে সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. সিলেট অঞ্চলের হাওড়
  2. চলনবিল
  3. মাদারিপুর বিল
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- হাওর এলাকা: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিচু প্লাবন ভূমি।
-  চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩১.
নারিতা বিমানবন্দর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) জাপান
  2. খ) থাইল্যান্ড
  3. গ) মিয়ানমার
  4. ঘ) ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
নারিতা জাপানের একটি বিমানবন্দর। সুবর্ণভূমি থাইল্যান্ডের এয়ারপোর্ট। সল্টলেক এবং ডেনভার এয়ারপোর্ট অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রে।
Source: worldatlas and narita-airport.jp
১,১৩২.
পূর্বাশা কোন দ্বীপের অপর নাম?
  1. ক) দক্ষিণ তালপট্টি
  2. খ) মনপুরা
  3. গ) নিঝুমদ্বীপ
  4. ঘ) হাড়িয়াভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ, পূর্বাশা বা নিউ মুর আইল্যান্ড বঙ্গোপসাগরের অবস্থিত ভারতের ছোটো জনবসতিহীন সাগরমুখী দ্বীপ।
এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত এবং১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৩.
'পেরেজিল দ্বীপ' নিয়ে বিবদমান দেশ দুটি হলো-
  1. ক) রাশিয়া ও জাপান
  2. খ) ইরান ও তুরস্ক
  3. গ) মরক্কো ও স্পেন
  4. ঘ) চীন ও জাপান
ব্যাখ্যা

- 'পেরেজিল দ্বীপ' ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত।
- এই দ্বীপ নিয়ে বিবদমান দুটি হলোঃ মরক্কো ও স্পেন।
- মরক্কোতে দ্বীপটি 'লায়লা দ্বীপ' নামে পরিচিত।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১,১৩৪.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা কোনটি?
  1. মহেশখালী
  2. উখিয়া
  3. কুতুবদিয়া
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা

কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান হলো ছেড়াদ্বীপ।
- এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা হলো টেকনাফ এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- এছাড়া, সর্ব দক্ষিণের জেলা হলো কক্সবাজার।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৫.
বাংলাদেশে সম্প্রতি কোন খনিজ সম্পদটি আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) তেল
  2. খ) লোহা
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে দেশের প্রথম লোহা খনি আবিষ্কার করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অদিদপ্তর বা জিএসবি। ১৮ জুন ২০১৯ এ খনি আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে উন্নত মানের ম্যাগনেটাইট রয়েছে বলে জিএসবি জানায়। বাংলাদেশে সোনা বা তামার খনি নেই। ১৯৮৬ সালে দেশে প্রথম সিলেটের হরিপুরে তেল আবিষ্কৃত হয়।(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ জুন ২০১৯ এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৩৬.
মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ: 
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৭.
নিচের কোনটি স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত?
  1. উত্তরের পাহাড়সমূহ
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  3. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ 
  4. ক ও গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,১৩৮.
থর মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মঙ্গোলিয়া
  2. খ) চিলি
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) নামিবিয়া
ব্যাখ্যা
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা
- আতাকামা মরুভূমি : চিলি
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি : চিলি, আর্জেন্টিনা
- কালাহারি মরুভূমি : নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,১৩৯.
দেশের কোথায় পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমির আধিক্য রয়েছে?
  1. রাঙামাটি
  2. খুলনা
  3. গাজীপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
- পর্ণমোচী বন (Deciduous Forest) এক ধরনের বনাঞ্চল যেখানে শীতের শুরুতে বা শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পর্ণমোচী বা পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
১,১৪০.
ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে-
  1. সকাল ০৯:০০ টা
  2. বিকাল ০৩:০০ টা
  3. সন্ধ্যা ০৬:০০ টা
  4. রাত ০৯:০০ টা
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- ৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের প্রার্থক্য হবে, ৪৫×৪ = ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।
- যেহেতু পূর্বে গেলে সময় বাড়ে সেহেতু ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে বিকেল ৩টা।

আন্তর্জাতিক টাইম জোন:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪১.
কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র?
  1. লাটভিয়া
  2. লিথুয়ানিয়া
  3. এস্তোনিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাল্টিক রাষ্ট্র:
- বাল্টিক রাষ্ট্র বলতে ইউরোপের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল তথা বাল্টিক সাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহকে বুঝায়।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে।
- দেশগুলো হলো: এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া।

এছাড়াও,
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য কিছু আন্তঃসরকার সংস্থা রয়েছে।

⇒ বাল্টিক সাগর:
- বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তরাংশে অবস্থিত।
- এর চারদিকে স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ, ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ড এবং ডেনমার্কের দ্বীপসমূহ অবস্থিত।
- পূর্বে এটি উত্তর মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
- কৃত্রিম শ্বেত সাগর খালের মাধ্যমে এটি শ্বেত সাগরের সাথে যুক্ত।
- বাল্টিক সাগরের সাথে যেসব দেশের সরাসরি সীমানা রয়েছে: ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, সুইডেন।

উৎস: Britannica.
১,১৪২.
ভারতীয় কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন সীমান্ত নেই?
  1. মিজোরাম
  2. পশ্চিমবঙ্গ
  3. ত্রিপুরা
  4. নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- নাগাল্যান্ড সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
- এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা।
- মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুনাচল এর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৪৩.
ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের মধ্যে কোনগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই?
  1. মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম
  2. পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মিজোরাম
  3. মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল
  4. আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত: 
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
- এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা।
- এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে: আসাম, মিজোরাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা।
- মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুনাচল এর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই। 
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪৭১১ কি.মি।
- বাংলাদেশ-ভারতের সীমারেখা ৩৭১৫ কি.মি বা বিজিবি’র তথ্য মতে, ৪১৫৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমারেখা ২৮০ কি.মি. বা বিজিবি’র তথ্য মতে, ২৭১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি: ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।

এছাড়া,
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে।
- অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা।
- ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৪৪.
বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি 'ওজোস দেল সালাদো' কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. চিলি-আর্জেন্টিনা
  2. পেরু-বলিভিয়া 
  3. ইকুয়েডর-কলম্বিয়া
  4. ভেনেজুয়েলা-ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

ওজোস দেল সালাদো: 
- ওজোস দেল সালাদো হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- এটি আর্জেন্টিনা-চিলি সীমান্তে আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত। 
- এর উচ্চতা ৬,৮৯৩ মিটার। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত এবং আতাকামা মরুভূমির পূর্বে অবস্থিত একটি স্ট্র্যাটো-আগ্নেয়গিরি। 
- উল্লেখযোগ্যভাবে, ওজোস দেল সালাদোতে বিশ্বের সর্বোচ্চ হ্রদ রয়েছে, যা ৬,৩৯০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- এটি হিমালয়ের বাইরে বিশ্বের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি এবং সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি বা 'ভলক্যানিক সেভেন সামিট'-এর অংশ। 

উৎস: World Atlas.

১,১৪৫.
‘Parrot of India’ বা 'তোতা-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. ক) তানসেনকে
  2. খ) আমীর খসরুকে
  3. গ) আবুল ফজলকে
  4. ঘ) গালিবকে
ব্যাখ্যা

১) তানসেনকে সঙ্গীত সম্রাট বলা হয়। তার একমাত্র উপাধি ছিল "মিয়া", মানে হল জ্ঞানী ব্যাক্তি।
২) আমীর খস্রু কে বলা হয় "Parrot of India" তোতা-ই-হিন্দ।
৩) বিখ্যাত নেত্রী সরোজিনী নাইডু, তিনি বিশিষ্ট কবিও ছিলেন। তাঁর রচিত কবিতা সংগ্রহ The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন।
১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।

১,১৪৬.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র -
  1. ক) পুণ্ড্রনগর
  2. খ) ময়নামতি
  3. গ) সোনারগাঁও
  4. ঘ) পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা

পুন্ড্রনগর বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র।
এর প্রাচীনত্ব খ্রিস্টপূর্ব চার শতকের বলে ধরে নেওয়া হয়। পুন্ড্রনগরের (গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে ‘পুন্ড্রবর্ধনপুর নামে উল্লিখিত) ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে বগুড়া জেলার মহাস্থান-এ আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া

১,১৪৭.
আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) কবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহীত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৮.
”ডিবির হাওর” কোথায় অবস্থিত?
  1. ফেঞ্চুগঞ্জ
  2. গোলাপগঞ্জ
  3. গোয়াইনঘাট
  4. জৈন্তাপুর
ব্যাখ্যা

• ডিবির হাওর:
- সিলেটের জৈন্তাপুরে জৈন্তরাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওর, ইয়াম, হরফকাটা কেন্দ্রী বিলসহ রয়েছে চারটি বিল৷
- বিলগুলোকে কেন্দ্র করেই নাম করা হয়েছে ডিবির হাওর৷ 
-  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে রাম সিংহের বিলগুলো শাপলার সিজনে শাপলার রাজ্যে রূপ নেয়৷
- বিলে ফুটে থাকে অজস্র লাল শাপলা।
- লতা- পাতা-গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত-হাজারো লাল শাপলা হার মানায় ভোরের সূর্যের আলোকেও। 
- সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি৷ 
- ভোরের আলোয় শাপলার হাসি আরও আলোকিত করে দেয় বিলগুলোকে৷ 
- প্রকৃতি তার নিজ হাতে লাল শাপলার হাসিতে সাজিয়ে দেয় বিলগুলোকে৷ 
- বেড়াতে আসা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুদের মনের দুয়ার খুলে দেবে এই শাপলা বিল।। 
- একটি ধ্বংসপ্রায় মন্দির আছে।

উৎ]স: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

১,১৪৯.
প্রথম উপকূলীয় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয় কখন?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে উঠা চরাঞ্চলে সর্বপ্রথম ১৯৬৬ সাল থেকে উপকূলীয় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম ‍শুরু করে।
এর আওতায় বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী এবং পিরোজপুর জেলায় প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর জমিতে উপকূলীয় বনায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া আরো ৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে উপকূলীয় বনায়ন কার্যক্রম চালু রয়েছে।
(সূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১,১৫০.
বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের কোন কোন রাজ্য রয়েছে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা
  2. মেঘালয় ও মিজোরাম
  3. আসাম ও ত্রিপুরা
  4. পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের তিনটি রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম।

বাংলাদেশের সীমা:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য;
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার;
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণপূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

১,১৫১.
নিচের কোন দেশটি ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অবস্থিত নয়?
  1. ক) এস্তোনিয়া
  2. খ) আলবেনিয়া
  3. গ) রোমানিয়া
  4. ঘ) স্লোভেনিয়া।
ব্যাখ্যা
বাল্টিক দেশ (৩টি): এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া ও লাটভিয়া।
এগুলো বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত দেশ। বাল্টিক সাগরতীরবর্তী আরো কয়েকটি দেশ রয়েছে।

বলকান দেশ (১০টি): আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, মন্টিনিগ্রো, মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও স্লোভেনিয়া।
বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত দেশসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,১৫২.
কোন মহাদেশে পৃথিবীর চারটি গোলার্ধের প্রতিটির অংশ রয়েছে?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. আফ্রিকা
  3. ইউরোপ
  4. এশিয়া
ব্যাখ্যা
গোলার্ধ:
- নিরক্ষরেখা নামক একটি কাল্পনিক রেখা উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধকে বিভক্ত করে।
- বিষুবরেখাকে 0° অক্ষাংশও বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর মাঝখানে পূর্ব এবং পশ্চিমে চলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তরে অবস্থিত স্থানগুলি উত্তর গোলার্ধের অংশ।
- নিরক্ষরেখার দক্ষিণে স্থানগুলি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।

⇒ উত্তর গোলার্ধের মধ্যে রয়েছে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার মূল ভূখণ্ড।
- আফ্রিকার প্রায় অর্ধেক এবং দক্ষিণ আমেরিকার একটি ছোট অংশও উত্তর গোলার্ধে রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- আফ্রিকাই একমাত্র মহাদেশ যেখানে পৃথিবীর চারটি গোলার্ধের প্রতিটিতে অংশ রয়েছে।

⇔ দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।
- দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ অংশ এবং সমস্ত অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.
১,১৫৩.
বাংলাদেশের পূর্বে কোন ভারতীয় রাজ্যের অবস্থান নয়?
  1. আসাম
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা: 
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫′) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. বা ৫৬, ১৭৭ বর্গমাইল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৫৪.
সারদা পুলিশ একাডেমি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) করতোয়া
  2. খ) আত্রাই
  3. গ) মহানন্দা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
নদীর তীরবর্তী স্থান/শহর...
সারদা - পদ্মা, নারায়ণগঞ্জ - শীতলক্ষ্যা।
বরিশাল - কীর্তনখোলা, ঢাকা - বুড়িগঙ্গা।
কক্সবাজার - নাফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া - তিতাস।
চাঁদপুর - মেঘনা, বান্দরবান - শংখ।
মাদারীপুর - আরিয়াল খাঁ, পিরোজপুর - বলেশ্বর।
১,১৫৫.
ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ভূত্বক নামে পরিচিত। ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।

মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা সিয়াল (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা সিমা (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৫৬.
প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গৌড় নগরী:
- ধারণা করা হয় যে, গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়। আর হয়ত এই গৌড় নগরকে ঘিরেই পরে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিল। 
- গৌড় নামটি সুপ্রাচীন হলেও এর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা কষ্টসাধ্য। বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই  গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- গৌড় বাংলার এককালীন রাজধানী এবং অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি নগর যার অবস্থান বর্তমান ভারত-বাংলাদশে সীমান্তর্বতী অঞ্চল। এটি লক্ষণাবতী বা লখনৌত  নামেও পরিচিত।
- প্রাচীন এই দূর্গনগরীর অধকিাংশ পড়ছে র্বতমান ভারতরে পশ্চমিবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদশেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। 
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন। 
আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে
প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল- কর্ণসুবর্ণ। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, (HSC Programme), বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৭.
'বরেন্দ্রভূমি' কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  2. পাদদেশীয় সমভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  4. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫৮.
অক্ষাংশ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে কোন কাল্পনিক রেখা ব্যবহৃত হয়?
  1. কর্কটক্রান্তি
  2. মকরক্রান্তি
  3. বিষুবরেখা
  4. মূল মধ্যরেখা
ব্যাখ্যা

• অক্ষাংশ ও অক্ষরেখা:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 

• নিরক্ষরেখা (Equator): 
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
-  ভূ-গোলাককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা। 
- এই অক্ষরেখার অপর নাম সমূহ হলো- বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)। 
- বিষুবরেখা রেখা থেকে অক্ষাংশ গণনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫৯.
পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের বিস্তৃতি কত কিলোমিটার?
  1. ক) ৪৪০ কিলোমিটার
  2. খ) ৪৮০ কিলোমিটার
  3. গ) ৫০০ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৪৬০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
⇨ বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।
⇨ পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃতি ৪৪০ কিলোমিটার এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃতি প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার।
⇨ দেশের দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রসার ঘটলে অথার্ৎ ভূ-ভাগ জেগে উঠলে ভবিষ্যতে আয়তন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।
⇨ বাংলাদেশের মোট সীমারেখা ৪,৭১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সাথে সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সাথে ২৮১ কিলোমিটার।
⇨ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
⇨ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)।    

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬০.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
▪ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
▪ এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
▪ স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
▪ তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। 
তাজিংডং এর উচ্চতা:
▪ ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
▪ ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]। 
▪ ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।
▪ বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
▪ বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,১৬১.
ফয়েজ লেক কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রাঙ্গামাটি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ফয়েজ লেক: 
- ফয়েজ লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলি রেলস্টেশনের অদূরে খুলশী এলাকায় অবস্থিত একটি মানবসৃষ্ট হ্রদ।
- লেকটি ১৯২৪ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির তত্ত্বাবধায়নে খনন করা হয়।
- এই লেকটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল রেল কলোনিতে বসবাসকারী লোকদের কাছে পানি পৌঁছানো।
- সেসময় এটি পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল।
- পরবর্তীতে লেকটিকে ব্রিটিশ রেল প্রকৌশলী ফয়-এর নামে নামকরণ করা হয় যিনি এর নকশা তৈরিতে সহায়তা করেন।
- ৩৩৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট।
- বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণী থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেক সৃষ্টি করেছে।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এইসব পাহাড় শ্রেণী দুপিটিলা স্তর সমষ্টির শিলা দ্বারা গঠিত। ফয়স লেকের পাশেই আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল।

এছাড়াও,
- বান্দরবান জেলায় অবস্থিত:
- প্রান্তিক হ্রদ।
- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক,
- কিয়াচলং হ্রদ ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৬২.
'মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কেনিয়া
  2. তানজানিয়া
  3.  রুয়ান্ডা 
  4. উগান্ডা
ব্যাখ্যা

কিলিমাঞ্জারো পর্বত:
- কিলিমাঞ্জারো আগ্নেয় পর্বত তানজানিয়াতে অবস্থিত।
- এটি উত্তর-পূর্ব তানজানিয়াতে কেনিয়ার সাথে সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি একটি মৃত আগ্নেয়গিরি।
- এটি আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বত।
- মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর উচ্চতা প্রায় ৫,৮৯৫ মিটার (১৯,৩৪০ ফুট)।

উল্লেখ্য,
- কিলিমাঞ্জারো তিনটি শৃঙ্গ দ্বারা গঠিত: কিবো, মাওয়েঞ্জি এবং শিরা।
- উচ্চতর শৃঙ্গটির নাম কিবো। কিবোর জ্বালামুখ সর্বদাই বরফে আবৃত থাকে।

উৎস: Britannica.

১,১৬৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. সৌদি আরব
  2. ব্রুনাই
  3. সিঙ্গাপুর
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
সৌদি আরব নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয়।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:

- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়। 

উৎস:  ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
‘ওয়েস্টফ্যালিয়া’ (Westphalia) অঞ্চলটি বর্তমানে কোন দেশের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ডেনমার্ক
  2. জার্মানি
  3. ফ্রান্স
  4. সার্বিয়া
ব্যাখ্যা

ওয়েস্টফালিয়া :
- উত্তর-পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক অঞ্চল।
- বর্তমান ফেডারেল ভূমি (রাজ্য) নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার একটি বৃহৎ অংশ নিয়ে গঠিত ।

• প্রাচীনস্যাক্সনরা তিনটি প্রধান দলে বিভক্ত ছিল: 
- ওয়েস্টফালিয়ান, 
- অ্যাংগ্রিয়ান (জার্মান: Engern), 
 - ইস্টফালিয়ান (Ostfalen)।

- ওয়েস্টফালিয়ানরা, যারা প্রায় ৭০০ খ্রিস্টাব্দে এমস এবং হান্টে নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেছিল।
- এর আর্চবিশপরা১১৮০ সালে কোলন ওয়েস্টফালিয়াকে ডাচি হিসেবে গ্রহণ করে, কিন্তু ডাচি মূলত কোলনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল।
 
- ১৬৪৪ থেকে ১৬৪৮ সাল পর্যন্ত ওয়েস্টফালিয়ান শহর মুনস্টার এবং ওসনাব্রুক শান্তি সম্মেলন আয়োজন করে যা আশি বছরের যুদ্ধ এবং ত্রিশ বছরের যুদ্ধের জার্মান পর্বের মীমাংসা করে । এর ফলে ওয়েস্টফালিয়ার শান্তি আধুনিক ইউরোপীয় জাতি-রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরিতে অবদান রাখে।

উৎস: ব্রিটনিকা।

১,১৬৫.
২১ শে মার্চ দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় উত্তর গোলার্ধে কোন ঋতু বিরাজ করে?
  1. বর্ষাকাল
  2. শরৎকাল
  3. গ্রীষ্মকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী ২২শে ডিসেম্বরের পর নিজ কক্ষপথে অগ্রসর হতে হতে ২১শে | মার্চ এমন অবস্থানে পৌঁছায় যখন সূর্য রশ্মি নিরক্ষরেখা বরাবর লম্বভাবে পতিত হয়৷
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়।
- এই সময়কালে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৬.
কোনটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সীমানা হিসাবে গণ্য হয়?
  1. অ্যাটলাস পর্বতমালা
  2. কারাকোরাম পর্বতমালা
  3. ইউরাল পর্বতমালা
  4. পিরিনিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
⇒ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে বিবেচিত- ইউরাল পর্বতমালা। 

⇒ ইউরাল পর্বতমালা:
- ইউরাল পর্বত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সীমানা।
- এটি রাশিয়ায় অবস্থিত এবং দেশটিকে ইউরোপীয় ও এশীয় অংশে বিভক্ত করেছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার।

 অন্যদিকে, অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পর্বতমালা:
- কারাকোরাম পর্বতমালা দক্ষিণ এশিয়ার অংশ এবং এটি পাকিস্তান, ভারত, ও চীনের মধ্যে বিস্তৃত।
- পিরেনিজ পর্বত স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে সীমান্ত তৈরি করেছে।
- অ্যাটলাস পর্বতমালা মরক্কো, আলজেরিয়া এবং তিউনিসিয়ার মধ্যে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ওয়েবসাইট।
১,১৬৭.
জাপানের ফুজিয়ামা কোন ধরনের আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) সক্রিয়
  2. খ) মৃত
  3. গ) নিস্তেজ
  4. ঘ) সুপ্ত
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে ছিদ্রপথ পা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
- জাপানের ফুজিয়ামা সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।
- হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।
- ইরানের কোহিসুলতান মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) মৌলভীবাজার
  2. খ) হবিগঞ্জ
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- এটি আবিষ্কার করেছিলো বার্মা ওয়েল কোম্পানি।
- ১৯৫৭ সালে ক্ষেত্রটি থেকে উৎপাদন শুরু হয়।
(তথ্যসূত্র: পেট্রোবাংলা ও বাংলাপিডিয়া)
১,১৬৯.
ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত-
  1. চিম্বুক পাহাড়
  2. গারো পাহাড়
  3. কালা পাহাড়
  4. ময়নামতি পাহাড়
ব্যাখ্যা
- ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত - গারো পাহাড়।
-   হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুন্ডে অবস্থিত।
-  কালাউড়া পাহাড় মৌলভীবিাজার জেলায় অবস্থিত।
- ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

• তাছাড়া ও,
কুমিল্লায় লালমাই পাহাড়, শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, চন্ডি মন্দিরসহ ৫৪টি টিবি ও বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। 

উৎস: কুলাউড়া উপজেলা, বান্দরবান জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা, সীতাকুন্ড উপজেলা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
১,১৭০.
স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
- SPARRSO (স্পারসো) এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organisation (মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র)।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

উৎসঃ স্পারসোর ওয়েবসাইট।
১,১৭১.
'সাগরকন্যা' বাংলাদেশের কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. কক্সবাজার
  2. কুয়াকাটা
  3. ভোলা
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। 
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালি জেলায় অবস্থিত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত অবলকন করা যায়।

উৎস: পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট। 

১,১৭২.
What is the dividing line between Mexico and the United States?
  1. ক) Line of Control
  2. খ) The Durand Line
  3. গ) Sanora Line
  4. ঘ) The McMahon Line
ব্যাখ্যা
 • সনােরা লাইন:
- সনােরা লাইন হলাে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা।

এছাড়াও-
- ভারত-চীনের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা - ম্যাকমোহন লাইন-
- ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা- লাইন আব কন্ট্রোল
- ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা ডুরাল্ড লাইন। (বর্তমানে এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত রেখা)

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,১৭৩.
কোনটি 'ট্রপিক অব ক্যান্সার' নামে পরিচিত?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে -
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- সুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
- কুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
নীল নদের অববাহিকায় কয়টি দেশ অবস্থিত?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ১২ টি
  4. ঘ) ১৩ টি
ব্যাখ্যা
- নীল নদ হলো বিশ্বের দীর্ঘতম নদী, যাকে আফ্রিকান নদীর জনক বলা হয়।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,১৩২ মাইল (৬,৬৫০ কিলোমিটার)।
- নীলনদ অববাহিকায় ১১ টি দেশ অবস্থিত - তানজানিয়া, ইরিত্রিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।

অপরদিকে,
- আমাজন হলো বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০৯,১০৩ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় বলে একে বিশ্বের বৃহত্তম (largest) নদী বলা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ দীর্ঘতম নদীসমূহের তালিকা নিম্নরূপ :
১) নীল নদ - ৬,৬৫০ কিমি
২) আমাজন নদী - ৬,৪০০ কিমি
৩) ইয়াংসিকিং -৬,৩০০ কিমি
৪) মিসিসিপি/মিসৌরি নদী - ৬,২৭৫কিমিত

উৎস: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,১৭৫.
কামচাটকা উপদ্বীপ নামটি কোন মহাদেশের সাথে জড়িত?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) ইউরোপ
  4. ঘ) আটলান্টিক
ব্যাখ্যা
শীতল কামচাটকা স্রোতের প্রভাবে এশিয়ার পূর্ব উপকূলে কামচাটকা উপদ্বীপের শীতলতা বৃদ্ধি পায়। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
১,১৭৬.
গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে কোন রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. মূল মধ্যরেখা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমা রেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমা রেখাকে মূলমধ্য রেখা হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

⇒ গ্রিনিচ মান:

- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৭.
পাদদেশীয় পলল সমভূমি বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. উত্তর দক্ষিণাঞ্চল
  2. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর পশ্চিমাঞ্চল
  4. দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা

পাদদেশীয় পলল সমভূমি:
- পাদদেশীয় পলল সমভূমি মূলত পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত।
- অবস্থান: বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা: প্রায় ৩০.৫ মিটার।
- পাদদেশীয় পলল সমভূমির মোট আয়তন: প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার।

• অন্তর্ভুক্ত জেলা
- পঞ্চগড়
- ঠাকুরগাঁও
- দিনাজপুর
- নীলফামারী
- লালমনিরহাট
- কুড়িগ্রাম
- রংপুর
- গাইবান্ধা

• প্রধান নদী
- তিস্তা
- করতোয়া
- আত্রাই

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৮.
দেশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমিতে কোন বৃক্ষের আধিক্য রয়েছে?
  1. গেওয়া
  2. গজারি
  3. গর্জন
  4. কড়ই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে।
এ বনের উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে চাপালিশ, তেলসুর, গর্জন, উড়িআম, ঢাকিজাম, সিভিট, সেগুন, গামার, চম্পা, জারুল, বৈলাম প্রভৃতি।
এছাড়া এ বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়।
অন্যদিকে গেওয়া গাছ সুন্দরবনে এবং গজারি ও কড়ই সাধারণত শালবনে দেখতে পাওয়া।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বনবিভাগ)
১,১৭৯.
লিলি ফুলের দেশ- 
  1. মিশর
  2. কানাডা
  3. তাইওয়ান
  4. বাহরাইন
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com

১,১৮০.
আলুটিলা পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
- আলুটিলা পাহাড় খাগড়াছড়িতে অবস্থিত। 
- খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮কিঃ মিঃ পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চূড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
- খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
- আলুটিলা গুহা অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র। 
- আলুটিলা বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট। 
- এ পর্যটন কেন্দ্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বিশ্রাম কক্ষ ও বসার সু-ব্যবস্থাসহ গুহায় যাওয়ার পথে সিঁড়ি করা হয়েছে।
- পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে খাগড়াছড়িকে দেখা যায়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১,১৮১.
কোন গ্রহকে পশ্চিমাকাশে 'সন্ধ্যাতারা' এবং পূর্বাকাশে 'শুকতারা' রূপে দেখা যায়?
  1. মঙ্গল 
  2. বুধ
  3. বৃহস্পতি
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা

• শুক্র (Venus): 
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। 
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় 'শুকতারা'। 
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় 'সন্ধ্যাতারা'। 
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮২.
লেনিনগ্রাড এর বর্তমান নাম কী?
  1. ক) প্রোট্রোগ্রাড
  2. খ) সেন্ট পিটার্সবার্গ
  3. গ) পিটার্সবার্গ
  4. ঘ) মস্কো
ব্যাখ্যা
- লেনিনগ্রাড এর বর্তমান নাম সেন্ট পিটার্সবার্গ। 
- সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর।
- সেন্ট পিটার্সবার্গ রাশিয়ার মস্কো থেকে প্রায় 400 মাইল (640 কিমি) উত্তর-পশ্চিমে। 
- এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর।
- 1703 সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ রাশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা 
১,১৮৩.
বাংলাদেশের কোন জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত হলেও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নেই?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. সিলেট
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

বান্দরবান জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করলেও ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
--------------------------- 
• সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- এর মধ্যে ৩০টি জেলা ভারতের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত; 
- আর ৩টি জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে—এগুলো হলো বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার।

- এই তিন জেলার মধ্যে রাঙামাটি একটি বিশেষ জেলা;
- কারণ এটি বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যেখানে ভারত (ত্রিপুরা ও মিজোরামের অংশ) এবং মিয়ানমার—উভয় দেশের সঙ্গেই সীমান্ত রয়েছে;
- ফলে রাঙামাটি একটি ত্রি-সীমান্ত সংযোগকারী জেলা হিসেবে পরিচিত।

- অন্যদিকে, বান্দরবান জেলা কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে, ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
- একইভাবে, কক্সবাজারও শুধুমাত্র মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত;
- ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই, কারণ জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ বঙ্গোপসাগরের দিকে উন্মুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,১৮৪.
এশিয়ার ভূখণ্ডে ইউরোপের সাথে সীমারেখা নির্ধারণ করে কোন পর্বতমালা?
  1. হিমালয়
  2. আর্কটিক সার্কেল
  3. ককেশাস 
  4. ইউরাল
ব্যাখ্যা

এশিয়া মহাদেশ:
- এশিয়া মহাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ। 
- এর মোট আয়তন প্রায় ৪৪,৬১৪,০০,০০০ বর্গকিমি (এশিয়ান রাশিয়া এবং ককেশীয় দ্বীপপুঞ্জসহ, তবে নিউ গিনি বাদে), যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
- এটি পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। 
- এশিয়া মহাদেশে স্বাধীন দেশ আছে ৪৪ টি আর সার্বভৌম দেশ হচ্ছে ৪৯ টি। 
- এশিয়া মহাদেশের সর্বশেষ স্বাধীন রাষ্ট্র হলো পূর্ব তিমুর।
- পূর্ব তিমুর ২০০২ সালের ২০ মে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

- ভূগোলিক বৈশিষ্ট্যে এশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী হলো ইয়াংসিকিয়াং (চীন)।
- বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৫০ মিটার বা ২৯,০৩৫ ফুট) এশিয়ায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থান হলো মৃত সাগর, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
- এছাড়া, বিশ্বের গভীরতম মহাদেশীয় হ্রদ বৈকাল হ্রদ এশিয়ায় অবস্থিত, যার গভীরতা ১,৬২০ মিটার।
- এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি হলো গোবি মরুভূমি।
- আর বৃহত্তম সাগর হলো দক্ষিণ চীন সাগর।

- ভূখণ্ডের সীমারেখা নির্ধারণে ইউরাল পর্বতমালা ইউরোপের সাথে এশিয়ার সীমানা চিহ্নিত করে।
- এশিয়ার কিছু দেশ দ্বীপপুঞ্জ আকারে রয়েছে- যেমন জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া।
- আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম দেশ হলো চীন। 
- আর আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হলো মালদ্বীপ।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- এশিয়ার দেশগুলো অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টিত:
• দক্ষিণ এশিয়া:
- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান। 

• পূর্ব এশিয়া:
- চীন, জাপান, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান। 

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, তিমুর

• পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য):
- ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইয়েমেন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইসরায়েল

• মধ্য এশিয়া ও অন্যান্য:
- কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, রাশিয়া। 

উৎস: Britannica. 

১,১৮৫.
ইসরাইল ও জর্ডানকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. পার্পল লাইন
  2. সনােরা লাইন
  3. গ্রিন লাইন
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা

• গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যকার সীমারেখা।

এছাড়াও-
- ভারত-চীনের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা - ম্যাকমোহন লাইন।
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা- সনােরা লাইন।
- ইসরাইল ও সিরিয়াকে বিভক্তকারী সীমারেখা - পার্পল লাইন হলো  

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,১৮৬.
বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত নিম্নের কোন স্টেশনে রেকর্ড করা হয়?
  1. সিলেট
  2. টেকনাফ
  3. কক্সবাজার
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেটে রেকর্ড করা হয়।

বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি:
- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান তিনটি প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়।
- যথা শীতকাল, গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকাল।
- সাধারণত বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুও বলা হয়।
- ক্রান্তীয় জলবায়ুর প্রধান প্রকৃতি হলো বছরের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ঋতু যথা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তের আবির্ভাব।
- শীতপ্রধান এবং গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো বাংলাদেশের তাপমাত্রা কখনই চরমভাবাপন্ন হয় না।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- তবে সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রাজশাহী অঞ্চলের লালপুরে (১১৭.৫ সেন্টিমিটার) এবং সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেট অঞ্চলের লালখানে (৬৩৭.৫ সেন্টিমিটার) পরিলক্ষিত হয়।

উল্লেখ্য,
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: নারায়নগঞ্জ।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          iii) ২৪ জুন, ২০২৪, বণিক বার্তা। 
১,১৮৭.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
  1. গোল্ডেন ওয়েজ
  2. গোল্ডেন ভিলেজ
  3. গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল
  4. গোল্ডেন ক্রিসেন্ট
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল:
- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি (মায়ানমার ,থাইল্যান্ড ,লাওস) দেশের সীমান্তে অবস্থিত আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল।
- এদের অবস্থানগত আকৃতি ত্রিভুজের মত।

অন্যদিকে -
- গোল্ডেন ক্রিসেন্ট: আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে অবস্থিত আফিম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল।
- গোল্ডেন ওয়েজ: বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল সীমান্ত যা মাদক পাচার ও চোরাচালানের জন্য বিখ্যাত ।
- গোল্ডেন ভিলেজ: বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ২৬ টি গ্রামকে গাঁজা উৎপাদনের জন্য 'গোল্ডেন ভিলেজ' বলা হয়।

উৎস: Britannica.
১,১৮৮.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাঁশশালী
  2. খ) উখিয়া
  3. গ) রামু
  4. ঘ) টেকনাফ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর টেকনাফ। 
টেকনাফ স্থল বন্দরটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত।
এই বন্দরের বিপরীতে মায়ানমারএর মংডু স্থল বন্দর অবস্থিত।

 সূত্রঃ বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ- এর ওয়েবসাইট।
১,১৮৯.
টারশিয়ারি যুগের অর্ন্তভুক্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিলা
  2. খ) জঙ্গল
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) উচু ভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বর্ণনা
• ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা -
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
• উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯০.
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা -
  1. ১২ নটিক্যাল
  2. ২২.২২ নটিক্যাল
  3. ২২০ নটিক্যাল
  4. ৩৬০ নটিক্যাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯১.
সেন্ট এলবা দ্বীপ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক) উত্তর মহাসাগর
  2. খ) ভূমধ্যসাগর
  3. গ) দক্ষিণ আটলাটিক মহাসাগর
  4. ঘ) ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- সেন্ট এলবা দ্বীপ ভূমধ্যসাগরের টিরহেনিয়ান সাগরে অবস্থিত।
- এই দ্বীপে ১৮১৪ সালে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিলো।
- দ্বীপটি বর্তমানে ইতালির অন্তর্ভুক্ত। এটির আয়তন ৮৬ বর্গ মাইল।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,১৯২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা কোনটি?
  1. ক) তেঁতুলিয়া
  2. খ) টেকনাফ
  3. গ) শিবগঞ্জ
  4. ঘ) থানচি 
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের:
স্থান: বাংলাবান্দা
উপজেলা: তেঁতুলিয়া
জেলা: পঞ্চগড়।

• বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণের:
স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ
উপজেলা: টেকনাফ
জেলা: কক্সবাজার

• বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের: 
স্থান: আখাইনঠং
উপজেলা: থানচি 
জেলা: বান্দরবান 

• বাংলাদেশের সবচেয়ে পশ্চিমের: 
স্থান: মনাকষা 
উপজেলা: শিবগঞ্জ 
জেলা: চাপাইনবাবগঞ্জ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৯৩.
বাংলাদেশের  সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় কোনটি?
  1. মিজোরাম
  2. মেঘালয়
  3.  পশ্চিবঙ্গ
  4. বিহার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য - ৫টি।
- যথা: আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

⇒ সীমান্তবর্তী স্থান:

- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়- বিহার।
- উত্তরে- ভারতের পশ্চিবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- পূর্বে- ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৪.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) পার্বত্য চট্রগ্রামের বনভূমি
  2. খ) সুন্দরবনের বনভূমি
  3. গ) টাইডাল বনভূমি
  4. ঘ) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
ব্যাখ্যা
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি :
-  ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত।
- এ বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্গত এবং এর আয়তন ৮৭৫ বর্গ কিমি প্রায়।

অন্যদিকে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
- বরেন্দ্র বনভূমি হচ্ছে ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৫.
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত কবে রায় দেন?
  1. ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে
  2. ১৪ই মার্চ, ২০১২ সালে
  3. ১৪ই মে, ২০১২ সালে
  4. ১৪ই জুন, ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- মিয়ানমার ও ভারতের দাবিকৃত সমদূরত্ব পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ১৩০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবন্ধ হয়ে পড়েছিল।
- তাতে বাংলাদেশ পেত ৫০,০০০ বর্গকিলোমিটারের কম জলসীমা।
- বঙ্গোপসাগরের জলসীমা নির্ধারণ ও সমুদ্র সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৪ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে মিয়ানমারের বিপক্ষে জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে এবং ভারতের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে।
⇒ ১৪ই মার্চ, ২০১২ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের ন্যায্যভিত্তিক দাবির পক্ষে ঐতিহাসিক রায় পায়।
- এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ প্রায় এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জলসীমা পেয়েছে।

এছাড়াও,
- এ রায়ের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপকে উপকূলীয় বেজলাইন ধরে ১২ নটিক্যাল মাইল রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র এলাকা (Territorial sea) এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone) পেয়েছে।
- প্রাপ্ত এই জলরাশি ও তলদেশে এবং তার বাইরে মহীসোপান এলাকার সকল খনিজ সম্পদে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
-  এই হিসেবে উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সাগরের তলদেশে বাংলাদেশের মহীসোপান রয়েছে (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,১৯৬.
বাংলাদেশের সমুদ্রতট রেখার দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৭১০ কিলোমিটার
  2. ৭১২ কিলোমিটার
  3. ৭১৬ কিলোমিটার
  4. ৭৩৬ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- সমুদ্রতট রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য ১২ নটিক্যাল মাইল।
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৯৭.
চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি নিচের কোন জেলায় দেখা যায়?
  1. কুমিল্লা
  2. রাঙামাটি 
  3. রংপুর 
  4. দিনাজপুর 
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত। পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,১৯৮.
যমুনা নদী কোথায় পতিত হয়েছে?
  1. ক) পদ্মায়
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে
  3. গ) ব্রহ্মপুত্র
  4. ঘ) মেঘনায়
ব্যাখ্যা
• যমুনা (Jamuna): 
- জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম নদী।
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
- এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 

অন্যদিকে, 
- মেঘনা নদীর উপনদীগুলো হলো - শীতলক্ষ্যা, গোমতি, ডাকাতিয়া, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৯.
নিচের কোন জেলায় প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ রয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. নাটোর
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০০.
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. চীন
  2. লাটভিয়া
  3. সুইডেন
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• সুইডেন রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ নয়।

- রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ ১৪টি। যথা-
• আজারবাইজান।
• বেলারুশ।
• চীন।
• এস্তোনিয়া।
• ফিনল্যান্ড।
• জর্জিয়া।
• কাজাখস্তান।
• লাটভিয়া।
• লিথুয়ানিয়া।
• মঙ্গোলিয়া।
• উত্তর কোরিয়া।
• নরওয়ে।
• পোল্যান্ড।
• ইউক্রেন।

উৎস: Worldatlas.com.