বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা ১১ / ১৭ · ১,০০১১,১০০ / ১,৬৩৯

১,০০১.
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় কত সালে ?
  1. ১৯৬৩
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬২
  4. ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

১৯৬২ খ্রীস্টাব্দে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

-বাঁধের সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

-১৯৬২ ও ১৯৮৮ সালের মধ্যে এখানে সর্বমোট ২৩০ মেগাওয়াট (৩,১০,০০০ অশ্বশক্তি) বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর বসানো হয়।

- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাঁধ ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

-এটি রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি

১,০০২.
বাংলাদেশের মিঠাপানির একমাত্র জলাবন কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাগেরহাট
  2. খ) সিলেট
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মিঠাপানির একমাত্র জলাবন হলো রাতারগুল বনভূমি। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- রাতারগুলের মোট আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর।
- উদ্ভিদের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও মুর্তা উল্লেখযোগ্য।
- শীতকাল ব্যতীত বছরের অন্যান্য সময় এ বন পানিতে নিমজ্জিত থাকে। মুর্তা বা রাতা উদ্ভিদের আধিক্যের জন্যে এই বন রাতারগুল নামে পরিচিত।
- রাতারগুলকে বাংলার আমাজন বলা হয়।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
১,০০৩.
নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ কত?
  1. ১৮০°
  2. ৩৬০°
  3. ৯০°
  4. ০°
ব্যাখ্যা

•  নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ ৯০°।

অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude):
- পৃথিবী পৃষ্ঠে একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঠিক (Absolute) অবস্থান ও উক্ত স্থানের সঠিক সময় জানবার জন্যে ভূ-বিজ্ঞানীগণ সমগ্র পৃথিবীকে মোট দুই ধরনের রেখা দ্বারা বিভক্ত করেছেন।
- এই রেখাসমূহ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখা নামে পরিচিত।

পৃথিবীর অক্ষ ও মেরুদ্বয় (Axis & Poles of Earth):
- পৃথিবী সৌরজগতে অভিগত গোলক আকৃতির মাঝারি একটি গ্রহ।
- পৃথিবীর উত্তর বা দক্ষিণ দিক দিয়ে কাল্পনিক একটি শলাকা প্রবেশ করিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু ছেদ করে অপর প্রান্তে ঠিক নীচের দিকে বের করা হয়।
- উক্ত কাল্পনিক শলাকাটি পৃথিবীর অক্ষরেখা (Axis) এবং ঐ শলাকাটির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত যথাক্রমে উত্তর মেরু (North Pole) ও দক্ষিণ মেরু (South Pole) হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরু বিন্দুর কৌণিক দূরত্ব ৯০°।
- উত্তর মেরুর অক্ষাংশের মান হলো ৯০° উত্তর অক্ষাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি ও ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০৪.
কোন দেশটি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. নাউরু
  2. কেনিয়া
  3. কিউবা
  4. গায়ানা
ব্যাখ্যা
• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া হল একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের উপ-অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে।
- ওশেনিয়ায় মোট ১৪টি দেশ রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম এবং জনবহুল দেশ।

• ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, নিউজিল্যান্ড, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবাতি, টোঙ্গা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, টুভ্যালু, নাউরু।

তথসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,০০৫.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে ভারতের কোন সংযোগ নেই?
  1. ক) পঞ্চগড়
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) গাইবান্ধা
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি:
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে।

গাইবান্ধা সীমান্তবর্তী জেলা নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৬.
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভক্তকারী সীমারেখা কী নামে পরিচিত?
  1. ২৭° মধ্যরেখা
  2. ২৭° অক্ষরেখা
  3. ৩৮° মধ্যরেখা
  4. ৩৮° অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
৩৮° অক্ষরেখা:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে। 
- উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে এবং দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

উৎস: Britannica.
১,০০৭.
নাফ নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ক) মিয়ানমার
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
• নাফ নদী (Knaf):
- নাফ নদীর উৎপত্তি স্থল মিয়ানমার।
- এ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমার সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদীর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত।
- উৎপত্তিস্থল থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হওয়া পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৮.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কোন জেলার সাথে ভারতের কোনো সংযোগ নেই?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. জয়পুরহাট
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

⇒ বান্দরবানের সাথে ভারতের কোন সীমান্ত নেই। 

উল্লেখ্য,
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০৯.
তিস্তা প্লাবনভূমির অন্তর্ভুক্ত নদী কোনটি?
  1. ক) ধরলা
  2. খ) দুধকুমার
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
তিস্তা প্লাবনভূমি:  পশ্চিমে হিমালয়ের পাদদেশীয় সমভূমি এবং পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বৃহৎ ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল। দক্ষিণে বগুড়া জেলার শেরপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত এই ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল প্রাচীন তিস্তা নদীগঠিত একটি প্লাবনভূমি। মোট আয়তন প্রায় ১৩,২৮৩ বর্গ কিলোমিটার। এ অঞ্চলের অধিকাংশ ভূমিই বর্ষা মৌসুমে অগভীরভাবে প্লাবিত হয়। তবে ঘাঘট নদী বরাবর একটি অগভীর অবভূমির (Depression) অবস্থান রয়েছে, যেখানে বন্যার গভীরতা মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে। তিস্তা, ধরলা এবং দুধকুমার  এই তিনটি বৃহৎ নদী তিস্তা প্লাবনভূমিকে ছেদ করেছে। এই নদীত্রয়ের সক্রিয় প্লাবনভূমিসমূহ তাদের বালুতট ও দিয়ারা প্রভৃতিসহ সচরাচর ছয় কিলোমিটারের চেয়ে কম প্রশস্ত।
১,০১০.
কোনটি ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ত্রিপুরা
  2. মণিপুর
  3. নাগাল্যান্ড
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

• সেভেন সিস্টার্স:
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,০১১.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমার মীমাংসা হয়েছে কোন আদালতে?
  1. ক) আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত
  2. খ) স্থায়ী সালিশি আদালত
  3. গ) আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত
  4. ঘ) সমুদ্র আইন আদালত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বনাম ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা হয় নেদারল্যান্ডস এ অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে (Permanent Court of Arbitration-PCA)।
এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায় হয় ২০১৪ সালের ৮ জুলাই।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ ছিল ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার। এই মামলার রায়ে বাংলাদেশ পায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার।
উৎসঃ প্রথম আলো।
১,০১২.
পৃথিবীর গভীরতম খাতের নাম কী?
  1. ক) অ্যারাবিয়ান ট্রেঞ্চ
  2. খ) সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
  3. গ) পুয়ের্তোরিকো সমুদ্রখাত
  4. ঘ) মারিয়ানা সমুদ্রখাত
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে সৃষ্ট গভীর খাত বা গর্তকে সমুদ্রখাত বলে। পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত হলো মারিয়ানা সমুদ্রখাত।
• এর গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার। এটি প্রশান্ত মহাসাগরে গুয়াম দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

অন্যদিকে, 
• পুয়ের্তোরিকো (৮,৫৩৮ মি.) আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি সমুদ্রখাত।
• গঙ্গাখাত বা সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি সমুদ্রখাত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৩.
“বঙ্গবন্ধু দ্বীপ” কোথায় অবস্থিত?
  1. মেঘনা মােহনায়
  2. সুন্দরবনের দক্ষিণে
  3. পদ্মা এবং যমুনার সংযােগস্থলে
  4. টেকনাফের দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ:
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।

⇒ ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- এটি নতুন পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান।

উৎস:১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
১,০১৪.
বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ-ভারত
  2. রাশিয়া-চীন 
  3. রাশিয়া-কাজাখস্তান
  4. যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
ব্যাখ্যা

বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত। এই সীমান্তটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত, যা আলাস্কা থেকে কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত। 

পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
১. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
২. কাজাকিস্তান ও রাশিয়া: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
৩. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
৪. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
৫. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমান্ত হলো স্পেন এবং মরক্কো।

উৎস: World Atlas.

১,০১৫.
নিচের কোনটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি?
  1. ক) তিব্বত মালভূমি
  2. খ) পাতাগোনিয়া মালভূমি
  3. গ) কলোরাডো মালভূমি
  4. ঘ) ভারতীয় উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তৃর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে।
অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন প্রকার। যথাঃ
পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি
পাদদেশীয় মালভূমি
মহাদেশীয় মালভূমি।
এদের মধ্যে পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি পর্বত দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এশিয়ার তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি। এটি উত্তরে কুনলুন পর্বতমালা এবং দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত।
এছাড়া তারিম মালভূমি, মঙ্গোলিয়া, বলিভিয়া ও মেক্সিকো পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি।
অন্যদিকে,
দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া এবং উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি হলো পাদদেশীয় মালভূমি।
ভারতীয় উপদ্বীপ, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিনল্যান্ড, সৌদি আরব, এন্টার্কটিকা প্রভৃতি হলো মহাদেশীয় মালভূমি।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০১৬.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের টারশিয়ারিযুগের পাহাড়?
  1. কিওক্রাডং
  2. তাজিনডং
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। 
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১৭.
'কুমিল্লা জেলা' সাম্প্রতিককালের কোন প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত?
  1. পাদদেশীয় সমভূমি
  2. বন্যাপ্রবণ সমভূমি
  3. উপকূলীয় সমভূমি
  4. ব-দ্বীপ সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছন
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:
- হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
- ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি:
- খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
- এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
• উপকূলীয় সমভূমি:
- নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
- এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৮.
গোবি মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) মঙ্গোলিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• গোবি মরুভূমি:
• গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
• মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
• মরুভূমিটি আনুমানিক ১৩ লক্ষ (১২ লক্ষ ৯৫ হাজার) বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট।

• বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া।
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র।
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১,০১৯.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্পেস অবজারভেটরি সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে কোথায়?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) গোপালগঞ্চ
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মিলনস্থল ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্পেস অবজারভেটরি সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে।
- বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিক উপলক্ষ্যে ১০০ মিটার উচু এই টাওয়ারের মাধ্যমে টেলিস্কোপের সাহোয্যে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। মহাকাশ নিয়ে গবেষণারও সুযোগ থাকবে এতে।
(সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
১,০২০.
৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে কী বলে?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. মকরক্রান্তি
  3. কর্কটক্রান্তি
  4. সুমেরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা

অক্ষাংশ:
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে কর্কটক্রান্তি বলে।
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলে সুমেরুবৃত্ত এবং
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে কুমেরুবৃত্ত।
- বিষুবরেখাকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,০২১.
বাংলাদেশের কয়টি জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি সংসদীয় আসনের মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। 
- জেলাগুলো হল রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি। 

উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
১,০২২.
পাদদেশীয় পললভূমি দেখা যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. কুমিল্লা-নোয়াখালী
  2. খুলনা-বাগেরহাট
  3. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
  4. রংপুর-দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছন
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:
- হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
- ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি:
- খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
- এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
• উপকূলীয় সমভূমি:
- নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
- এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৩.
মেসেটা মালভূমি কোন উপদ্বীপে অবস্থিত?
  1. আইবেরীয় উপদ্বীপ
  2. বলকান উপদ্বীপ
  3. স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ
  4. আরব উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা

মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি সুউচ্চ, বিস্তীর্ণ, প্রায় সমতল ভূমিরূপকে মালভূমি বলে।
- সমুদ্র পৃষ্ট হতে মালভূমির উচ্চতা কয়েকশত মিটার হতে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ও ভূ- পৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন ভূমি গঠন প্রক্রিয়ার কারণে মালভূমির সৃষ্টি হতে পারে।
- যেমন: পাত সঞ্চালন, ভূ-আন্দোলন, ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও লাভা সঞ্চয়ের মাধ্যমে মালভূমি গঠিত হয়ে থাকে।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা পাঁচ ভাগ জুড়ে মালভূমি অবস্থিত।

⇒ মেসেটা মালভূমি (Meseta Central):
- মেসেটা মালভূমি স্পেনের একটি বিশাল মালভূমি।
- এটি আইবেরিয়ান উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি বিশাল মালভূমি। 
- এটি একটি চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি।
- এটি প্রায় ২,১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
-  এর গড় উচ্চতা প্রায় ৬৬০ মিটার। 
- স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ এই মালভূমির কেন্দ্রে অবস্থিত। 

উৎস: Britannica.

১,০২৪.
Line of Control কোন দুটি দেশের মধ্যবর্তী সীমারেখা?
  1. ভারত - পাকিস্তান
  2. ভারত - নেপাল
  3. পাকিস্তান - আফগানিস্তান
  4. নেপাল - ভুটান
ব্যাখ্যা
লাইন অফ কন্ট্রোল:
- LOC এর পূর্ণরূপ হল লাইন অফ কন্ট্রোল। 
- LOC হল ভারত ও পাকিস্তান দ্বারা শাসিত প্রাক্তন রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের অংশগুলির মধ্যে সামরিক কমান্ড লাইন। 
- ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের জন্য, নিয়ন্ত্রণ রেখা আইনত স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা নয়, বরং একটি বাস্তব সীমান্ত।
- LOC হল একটি 740 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা যা জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তকে বিভক্ত করে।
- এটি মূলত যুদ্ধবিরতি লাইন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল.
- কিন্তু 3 জুলাই 1972 সালে স্বাক্ষরিত সিমলা চুক্তির পরে এটিকে 'নিয়ন্ত্রণ রেখা' হিসাবে পুনঃনির্ধারিত করা হয়েছিল।

উৎস: Living on the Line of Control, The British Academy.
১,০২৫.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিতে 'সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি” কোথায় দেখা যায়?
  1. চলনবিল
  2. সিলেট অঞ্চলের হাওড়
  3. সুনামগঞ্জ নিচু প্লাবন ভূমি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- হাওর এলাকা: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিচু প্লাবন ভূমি।
-  চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভ, মি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভ, মি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২৬.
'দেখার হাওর' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেখার হাওর:
- 'দেখার হাওর' (ডেকার হাওর) বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- এটি সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ), দোয়ারাবাজার ও ছাতক-এই চার উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত একটি অন্যতম বৃহত্তম ও ফসলি হাওর।
- এই হাওরটি বোরো ধানের জন্য বিখ্যাত এবং স্থানীয়ভাবে একে 'বোরোর শস্য ভাণ্ডার' বলা হয়।
- ভরা বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য মানুষের নজর কাড়ে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা বোরো রোপণ করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

১,০২৭.
ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
  1. আইসোহেলাইন
  2. আইসোথার্ম
  3. আইসোহাইট
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।

অন্যদিকে,
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ব. এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
১,০২৮.
ডারবান সমুদ্রবন্দর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সিরিয়া
  2. ইরাক
  3. জর্ডান
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
ডারবান সমুদ্রবন্দর:
- ডারবান সমুদ্রবন্দরটি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি সাব সাহারান আফ্রিকার বৃহত্তম এবং ব্যস্ততম শিপিং টার্মিনাল বা বন্দর।

⇒ বিশ্বের কিছু গুরত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর:
- আকাবা: জর্ডানের সমুদ্র বন্দর।
- লাতাকিয়া: সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর।
- আকিয়াব: মিয়ানমারের সমুদ্রবন্দর।
- আন্টওয়ার্প: বেলজিয়ামের সমুদ্রবন্দর।
- লা গুয়েরা: ভেনেজুয়েলার সমুদ্রবন্দর।
- ইরাকের সমুদ্র বন্দর: বসরা।

উৎস: Britannica.
১,০২৯.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়?
  1. ক) চিকনাগুল  
  2. খ) পিরামিড
  3. গ) গারো পাহাড়  
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ  হচ্ছে— মোদকমুয়াল (১,০০০ মিটার) ও পিরামিড (৯১৫ মিটার), তাজিওডং (বিজয়),কিওক্রাডং।
⇒ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
⇒  এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
⇒বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
⇒বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে কিওক্রাডং, যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার।
⇒ এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।
⇒উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ :চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি
১,০৩০.
কেওক্রাডং পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্রগ্রাম
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
কেওক্রাডং পর্বত : 
- কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত।
- বান্দরবানের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
- কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে।
- মারমা ভাষায় কেও মানে 'পাথর', কাড়া মানে 'পাহাড়' আর এবং ডং মানে 'সবচেয়ে উঁচু'।
- অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়।
- অধুনা রাশিয়া কর্তৃক পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্ত এবং জিপিএস গণনা থেকে দেখা গেছে এর উচ্চতা ৯৭৪ মিটার (৩,১৯৬ ফুট)।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৩১.
'মিন্দানাও দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ফিলিপাইন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. থাইল্যান্ড
  4. শ্রীলংকা
ব্যাখ্যা
• মিন্দানাও:
- মিন্দানাও হলো ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি আয়তনে প্রায় ৯৭,৫৩০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।
- এটি চারপাশে প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন সাগর দ্বারা বেষ্টিত, যেমন:

- পূর্বে: ফিলিপাইন সাগর। 
- দক্ষিণে: সেলেবেস সাগর। 
- পশ্চিমে: সুলু সাগর। 
- উত্তর-পশ্চিমে: বোহল সাগর। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,০৩২.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?
  1. শায়েস্তাগঞ্জ
  2. শিবগঞ্জ
  3. আলী নগর
  4. তারাগঞ্জ
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১,০৩৩.
ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তরেখার নাম কি?
  1. ডুরান্ড রেখা
  2. র‍্যাডক্লিফ রেখা
  3. ইন্দো-চীন-লাইন
  4. ম্যাকমোহন রেখা
ব্যাখ্যা
- ম্যাকমোহন লাইন ও লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তরেখা।

- ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যকার নির্ধারিত সীমান্ত।
- র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা।


উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,০৩৪.
পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি?
  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. সন্দ্বীপ
  3. দক্ষিণ তালপট্টি
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- এই দ্বীপের অপর নাম পূর্বাশা দ্বীপ বা নিউ মুর আইল্যান্ড।

- এটি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান (continental shelf) এলাকায় জেগে ওঠা একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটি মূলত গঙ্গা-পদ্মা নদীপ্রণালী-এর বিভিন্ন শাখা নদীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গড়ে উঠেছে।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূল স্রোতধারা দ্বীপটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে রেডক্লিফ রোয়েদাদের ভিত্তিতে।
- রেডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী নদী বিভাজিত সীমান্তের ক্ষেত্রে ‘নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি’ (Mid-channel flow principle)-কে দুই দেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ‘নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি’ (Thalweg doctrine) অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় সীমানা-বিভাজক হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা সুস্পষ্টভাবেই দক্ষিণ তালপট্টির পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- এসকল বিষয় বিবেচনা করে খুলনা জেলা প্রশাসন এবং জরিপ বিভাগ দ্বীপটিকে নিজ প্রশাসনিক সীমানায় অন্তর্ভূক্ত করে দলিলপত্রে দ্বীপটিকে দক্ষিণ তালপট্টি নামে নথিভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৫.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ইরাবদী মায়ানমারের একটি নদী
  2. গােবী মরুভূমি ভারতে অবস্থিত
  3. থর মরুভূমি ভারতের পশ্চিমাংশে অবস্থিত
  4. সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশে অবস্থিত
ব্যাখ্যা
গোবি মরুভূমি:
- গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- গোবি মরুভূমি দৈর্ঘ্য - ১০০০ মাইল (১৬০০ কিমি) এবং প্রস্থ - ৩০০ থেকে ৬০০ মাইল (৫০০ থেকে ১০০০ কিমি)।
- এই মরুভূমির আয়তন আনুমানিক ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

অন্যদিকে,
• সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ।

এছাড়াও,
⇒ মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান।

⇒ ইরাবদী মিয়ানমারের দীর্ঘতম নদী। 

উৎস: Britannica.
১,০৩৬.
সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. টেকনাফ
  2. কক্সবাজার
  3. পটুয়াখালী
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।
১,০৩৭.
বঙ্গবন্ধু মানমন্দিরের অবস্থান কোথায়?
  1. ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে
  2. ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যবিন্দুতে
  3. ২৩.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা ও ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখার ছেদবিন্দুতে
  4. ২৩.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা ও ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখার মধ্যবিন্দুতে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু মানমন্দির
- ২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কট ক্রান্তি রেখা বলে।
- এ রেখাটি ১১টি জেলার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এগুলো হল চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা , রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ , নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমারেখাও বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করে।
- কর্কট ক্রান্তি(২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখা) এবং ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ছেদ করেছে।
- এই ছেদবিন্দুতেই নির্মাণ করা হবে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির।
- প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ দুপুর ১২টার সময় কেউ যদি এই স্থানে দাঁড়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকে তাহলে আবিষ্কার করবে সূর্য ঠিক মাথার উপর এবং সেজন্য সেখানে তার কোনো ছায়া পড়ছে না। 

উল্লেখ্য, 
- পৃথিবীতে তিনটি পূর্ব পশ্চিম বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো কর্কট ক্রান্তি, মকর ক্রান্তি ও বিষুব রেখা।
- ঠিক এ রকম চারটি উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো শূন্য ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ২৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা।
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে মহাসাগরে।
- এর মধ্যে শুধু দুইটি ছেদবিন্দু পড়েছে স্থলভাগে। এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে আর অন্য বিন্দুটি বাংলাদেশে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। 

তথ্যসূত্র- একটি স্বপ্ন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
১,০৩৮.
জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে কয় শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুই শ্রেণিতে
  2. তিন শ্রেণিতে
  3. চার শ্রেণিতে
  4. ছয় শ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh):
বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

⇒ বাংলাদেশের বনভূমি:
১)ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,০৩৯.
নিম্নের কোন দেশটি ‘মেলানেশিয়া’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টুভ্যালু
  2. সামোয়া
  3. ভানুয়াতু
  4. টোঙ্গা
ব্যাখ্যা

• মিলেনেশিয়া: 
"মেলানেশিয়া" শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "কালো দ্বীপ"।
- মেলানেশিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল যা প্রায় ২,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
• এই অঞ্চলের দেশগুলো হলো:
১. পাপুয়া নিউগিনি,
২. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ,
৩. ভানুয়াতু এবং
৪. ফিজি।

• ওশেনিয়া মহাদেশ:

- অঞ্চলভিত্তিক ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া ১. অস্ট্রেলিয়া।
- নিউজিল্যান্ড- ১. নিউজিল্যান্ড।
- মাইক্রোনেশিয়া ১. মাইক্রোনেশিয়া, ২. কিরিবাতি ৩. নাউরু, ৪. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ৫. পালাউ।
- বৃহত্তম দ্বীপ গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যার পরিমাপ ৫৬১ বর্গ কিমি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু ও
- সামোয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১,০৪০.
ভারতের কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. মেঘালয়
  3. ত্রিপুরা
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি: ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪০৯৭ কিলোমিটার।
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ২২১৭ কিলোমিটার।
- অন্যদিকে আসাম (২৬৭.৫ কিলোমিটার), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি), ত্রিপুরা (৮৫৬ কিলোমিটার)।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) PIB ওয়েবসাইট।

১,০৪১.
কর্ণফুলির প্রধান উপনদী -
  1. ক) হালদা
  2. খ) কাসালং
  3. গ) বোয়ালখালি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী
• কর্ণফুলী নদী আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এরপর রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী।
• এ নদীর দৈর্ঘ্য ২৭৪ কিলোমিটার। কর্ণফুলির প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা ও বোয়ালখালি
• রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
• দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪২.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) জানুয়ারি
  2. খ) মার্চ
  3. গ) এপ্রিল
  4. ঘ) জুলাই
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস : এপ্রিল
- শীতলতম মাস : জানুয়ারি
- বৃষ্টিবহুল মাস : জুলাই
- উষ্ণতম স্থান : লালপুর (নাটোর)
- শীতলতম স্থান : শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)।
(তথ্যসূত্রঃ নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
১,০৪৩.
বাংলাদেশের সঙ্গে নিম্নলিখিত কোন দেশের Maritime boundary বিদ্যমান রয়েছে?
  1. ক) মিয়ানমার
  2. খ) থাইল্যান্ড
  3. গ) নেপাল
  4. ঘ) দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সাথে সমুদ্রসীমা আছে দুটি দেশেরঃ ভারত এবং মিয়ানমার। তাদের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে কয়েকবছর আগে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয় নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত Permanent Court Arbitration (PCA) বা স্থায়ী সালিশী আদালতে। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ এ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত শুনানি শেষে ৭ জুলাই ২০১৪ রায় প্রদান করে। এতে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমার মধ্যে বাংলাদেশ ১৯,৪৬৭ এবং ভারত ৬,১৩৫ বর্গকিমি এলাকা পায়। এর আগে ২০১২ সালে ১৪ই মার্চ ITLOS বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমার রায় প্রদান করে। Permanent Court Arbitration (PCA) ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা ১২২ টি। বাংলাদেশ ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল এর সদস্য হয়।

উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল

১,০৪৪.
’গ্রিনল্যান্ড’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. এন্টার্কটিকা মহাসাগর
  2. আর্কটিক মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• গ্রিনল্যান্ড :
- গ্রিনল্যান্ড হল বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। 
- বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি তার বিশাল হিমবাহের জন্য পরিচিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- রাজধানী: নুউক।
- অফিসিয়াল ভাষা: গ্রিনল্যান্ডিক (ড্যানিশ এবং ইংরেজিও সাধারণত কথ্য)
- গ্রিনল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অংশ গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান হিসেবে সুরক্ষিত।

উৎস: National Geographic Kids,
১,০৪৫.
সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত ২৫টি ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের কোন স্থানটি?
  1. ক) বাগেরহাট
  2. খ) বরগুনা
  3. গ) সাতক্ষীরা
  4. ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন স্থাপনার জন্য বিশ্ববিখ্যাত ২৫টি ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদের শহর বাগেরহাট।
- মসজিদের শহর বাগেরহাট এ তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র স্থান। 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে থাকা সাংস্কৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্য এসব স্থানের তালিকা করেছে ‘ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ওয়াচ’।
- ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ওয়াচ মূলত ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড (ডব্লিউএমএফ) দিয়ে পরিচালিত একটি প্রকল্প।
- বিশ্বজুড়ে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেসব স্থান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভারসাম্যহীন পর্যটন ও কম প্রচারের কারণে পিছিয়ে পড়ছে; সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে সহায়তা দেওয়া এবং এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে ডব্লিউএমএফ।
- সম্প্রতি ডব্লিউএমএফ ২০২২ সালের এ তালিকা প্রকাশ করেছে।
- ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পরপর তারা এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে। 

তথ্যসূত্র- সাম্প্রতিক সমাচার এপ্রিল ২০২২।
১,০৪৬.
ময়মনসিংহের পূর্বনাম কী ছিল?
  1. ক) নসিরাবাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) বিক্রমপুর
  4. ঘ) পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানের পূর্বনাম:
মুন্সীগঞ্জের পূর্বনাম - বিক্রমপুর
বগুড়ার পূর্বনাম - পুণ্ড্রনগর
বাগেরহাটের পূর্বনাম - খলিফাবাদ
খুলনার পূর্বনাম - জাহানাবাদ
বরিশালের পূর্বনাম - চন্দ্রদ্বীপ/ ইসমাইলপুর
চট্টগ্রামের পূর্বনাম - ইসলামাবাদ
ময়মনসিংহের পূর্বনাম - নসিরাবাদ
১,০৪৭.
'শুভলং ঝর্ণা' কোথায় অবস্থিত?
  1. বাঘাইছড়ি
  2. বিলাইছড়ি
  3. লংগদু
  4. বরকল
ব্যাখ্যা
শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান- হ্রদ, চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বৌদ্ধ বিহার, পর্যটন ঝুলন্তত ব্রিজ, ফুরামোন পর্বত, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৮.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) বেলেপাথর
  2. খ) কাঁকর
  3. গ) ব্যাসল্ট
  4. ঘ) বালি
ব্যাখ্যা
বেলেপাথর, কয়লা,শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর, কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ। জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে। (রেফারেন্স - বাংলাপিডিয়া)
১,০৪৯.
ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?
  1. সমোষ্ণ রেখা
  2. সমচাপ রেখা
  3. সমবর্ষণ রেখা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

সূত্র: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫০.
হিমালয় পর্বতমালা কোন দুটি ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ইউরেশীয় এবং আফ্রিকান
  2. ভারতীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয়
  3. ইউরেশীয় এবং ভারতীয়
  4. আফ্রিকান এবং অ্যান্টার্কটিক 
ব্যাখ্যা

হিমালয় পর্বতমালা:
- হিমালয় এশিয়ার একটি পর্বতমালা।
- এটি অনেকগুলো পর্বতের সমন্বয়ে গঠিত যা তিব্বতীয় মালভূমি থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে পৃথক করেছে।
- ভূ-তত্ত্ববিদদের ধারণা অনুযায়ী, ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে।
- বিশ্বের তিনটি প্রধান নদী- সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উৎপত্তি হয়েছে এই পর্বতমালা থেকেই।
- হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উল্লেখ্য,
- হিমালয় পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে হিন্দুকুশ এবং কারাকোরাম পর্বতমালা এবং উত্তরে তিব্বতের উচ্চ ও বিশাল মালভূমি অবস্থিত ।
- হিমালয় পর্বতমালা মূলত ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান এই দেশগুলতে বিস্তৃত ।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।

১,০৫১.
কোন দেশকে মার্বেলের দেশ বলা হয়?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) ইতালি
  3. গ) কোরিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা

- ইতালি কে বলা হয় মার্বেলের দেশ। এছাড়া ইতালিকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্রও বলা হয়।
- ইতালি ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলা হয়।

১,০৫২.
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে আলাস্কা কোন প্রণালী দ্বারা এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. ডেনমার্ক প্রণালী
  3. ইংলিশ চ্যানেল
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

উত্তর আমেরিকা: 
- উত্তর আমেরিকা হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর অধিকাংশ অঞ্চল আর্কটিক সার্কেল এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যে অবস্থিত।
- মহাদেশটি উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, পূর্বে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

- উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব দিকে, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড নামের দুটি বড় দ্বীপ আছে। এই দ্বীপগুলোকে মূল ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই দ্বীপগুলোকে মহাদেশের মূল অংশ থেকে আলাদা করেছে একটি জলরাশি, যাকে ডেনমার্ক প্রণালী বলা হয়।
- আর উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে, আলাস্কা নামের অংশটি এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে খুব সরু বেরিং প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। 

- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট ম্যাককিনলে (ডেনালি);
- এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০,৩১০ ফুট (৬,১৯০ মিটার)।
- আর সর্বনিম্ন স্থান হলো ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮২ ফুট (৮৬ মিটার) নীচে অবস্থিত।
- এই মহাদেশের বিখ্যাত জলপ্রপাত হলো নায়াগ্রা জলপ্রপাত, যা নায়াগ্রা নদীর উপর অবস্থিত এবং উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান।

- উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম দেশ (আয়তনে) হলো কানাডা, এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র।
- আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে ক্ষুদ্রতম দেশ হলো সেন্ট কিটস এবং নেভিস।

- মহাদেশে মোট ২৩টি স্বাধীন দেশ অবস্থিত, যেগুলোকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
• উত্তর আমেরিকা: ৩টি দেশ – মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা।

• মধ্য আমেরিকা: ৭টি দেশ – এল সালভেদর, হন্ডুরাস, বেলিজ, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা। 

• ক্যারিবিয়ান অঞ্চল: ১৩টি দেশ – বাহামা, বার্বাডোস, কিউবা, ডোমিনিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডা।

উৎস: World Atlas ও Britannica. 

১,০৫৩.
নিচের কোনটি নদীবন্দর নয়?
  1. চিলমারী
  2. ছাতক
  3. তামাবিল
  4. ইলিশা
ব্যাখ্যা
নদীবন্দর (River ports):
- নদীবন্দরের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গোয়ালন্দ, বরিশাল, খুলনা, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, আরিচা, আজমিরীগঞ্জ ও মাদারিপুর উল্লেখযোগ্য।
- চিলমারী নদী বন্দর, ছাতক নদী বন্দর, ইলিশা নদী বন্দর।
- বাণিজ্য, পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ করে বাংলাদেশ নৌপথ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
- তামাবিল একটি স্থল বন্দর। 
- তবে গোয়াইনঘাট নদীবন্দর রয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৫৪.
বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য-
  1. ৬ ঘন্টা
  2. ৫ ঘন্টা
  3. ৫.৫ ঘন্টা
  4. ৪ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রমাণ সময়:
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য ৬ ঘন্টা অগ্রবর্তী।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে
- গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৫৫.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ কোনটি?
  1. চর কুকরি মুকরি
  2. সেন্ট মার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত - সেইন্টমার্টিন দ্বীপ।
• সেন্ট মার্টিন:
- এটি একটি ইউনিয়ন যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত।
- ''সেইন্টমার্টিন দ্বীপ'' বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এর আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- স্থানীয়দের কাছে এটি ''নারিকেল জিঞ্জিরা'' নামে পরিচিত। এর 'ছেড়াদ্বীপ' বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের স্থান।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান - চাঁপাইনবাবগঞ্জ (জেলা), শিবগঞ্জ (উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড় (জেলা), তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং( স্থান)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৬.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
- এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
- ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
- ১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।
(সূত্রঃ ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট)
১,০৫৭.
ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিভাগে বর্তমানে জেলার সংখ্যা ১৩টি।
এগুলো হলো:
- ঢাকা
- নারায়ণগঞ্জ
- গাজীপুর
- মুন্সিগঞ্জ
- মানিকগঞ্জ
- নরসিংদী
- কিশোরগঞ্জ
- টাঙ্গাইল
- মাদারীপুর
- শরীয়তপুর
- ফরিদপুর
- রাজবাড়ী
- গোপালগঞ্জ।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১,০৫৮.
নিচের কোন জেলাটি ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. জামালপুর
  3. শেরপুর
  4. কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
চারটি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত।
এগুলো হলো:
ময়মনসিংহ
নেত্রকোনা
শেরপুর এবং
জামালপুল।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা বৃহত্তর ময়মনসিংহের অংশ হলেও ঢাকা বিভাগে রয়ে যায়। ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগের গেজেট প্রকাশিত হয়।
(সূত্র: ময়মনসিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট)
১,০৫৯.
GMT-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Global Mean Time
  2. Greenwich Mean Time
  3. General Meridian Time
  4. Great Mean Time
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৬০.
মধ্য আমেরিকার কোন দেশে স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই?
  1. ক) কোস্টারিকা
  2. খ) নিকারাগুয়া
  3. গ) কলাম্বিয়া
  4. ঘ) এস সালভাদর
ব্যাখ্যা

কোস্টারিকা দেশটির নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী নেই। দেশটির সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির পুলিশ বাহিনীর উপর ন্যস্ত।
১৯৪৮ সালে গৃহযুদ্ধ বাধে দেশটিতে। যুদ্ধ-বিগ্রহের ক্ষতি ও ভয়াবহতার স্মৃতি তাদের সেনাবাহিনী ছাড়া পথচলার স্বপ্ন দেখায়। তখন থেকেই দেশটিতে কোনো সেনাবাহিনী গড়ে ওঠেনি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা

১,০৬১.
মধ্য এশিয়ার দেশের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মধ্য এশিয়ার দেশ:
- মধ্য এশিয়ার দেশের সংখ্যা ৫টি।
• কাজাখস্তান,
• কিরগিজস্তান,
• তাজিকিস্তান,
• তুর্কমেনিস্তান এবং
• উজবেকিস্তান।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
১,০৬২.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাচঁ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-গাঠনিক অবস্থা এবং গঠন সময় অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
নিম্নে ভূ-প্রকৃতির প্রকারভেদ দেখানো হলো-
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৩.
ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ে?
  1. ২০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- তৃঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়।
যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১,০৬৪.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে কী হয়?
  1. সূর্য পৃথিবীর নিকটতম হয়
  2. চাঁদের তাপ বৃদ্ধি পায়
  3. দিন ও রাত হয়
  4. ঋতু পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬৫.
সিলেটের ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট কোন নদীর উৎসের কাছে অবস্থিত?
  1. কুশিয়ারা
  2. ধলাই
  3. মেঘনা
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা

• ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট:
- সিলেট নগরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ।
- ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো থেকে যে নদীর উৎপত্তি হয়ে ভোলাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সেই নদীর নাম ধলাই নদ।
- পাহাড় থেকে ঝর্ণার পানির স্রোতে এই নদী বেয়েই সাদা পাথর নেমে আসে।
- ধলাই নদের উৎসমুখের এই জায়গার নাম ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট।
- পরিবেশবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম।
- কেননা স্বচ্ছ পানির এ আধার এই এলাকার বেশ কিছু স্থানের খাবার পানির চাহিদা মেটায়।
- পানির মধ্যে অক্সিজেন সংশ্লেষ করাও এর কাজ যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘সোলার অ্যাকুয়াটিক ন্যাচারাল প্রসেস অব ট্রিটমেন্ট’ বলা হয় বলে জানান হাবিব।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর। (লিংক)

১,০৬৬.
বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে -
  1. ২০.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ২৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৮৮.৫° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

⇒ কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,০৬৭.
দেশের প্রথম সাফারি পার্ক 'ডুলা হাজরা' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. বরিশাল
  3. কক্সবাজার
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক 
- দেশের প্রথম সাফারি পার্ক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাতে অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ।
- এটি ১৯৮০-৮১ সালে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চালু হয়েছিল।
- বর্তমানে এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নানা জীবজন্তুর নির্ভয় আবাসস্থল।
-  এর আয়তন ৯০০ হেক্টর। 
- ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে ও এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তি, মায়াহরিণ, সম্বরহরিণ, চিত্রাহরিণ, প্যারা হরিণ প্রভৃতি প্রাণীও রয়েছে। এই পার্কে স্বাদু পানির কুমির যেমন আছে , তেমনি আছে লোনা পানির কুমির।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০৬৮.
বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় কয়টি রোগ প্রতিরোধের টিকা প্রদান করা হচ্ছে?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসুচি) কর্মসূচির আওতায় ১০টি রোগ প্রতিরোধের টিকা প্রদান করা হচ্ছে
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, পোলিও, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
- বর্তমানে সারা দেশে সকল প্রকার টিকা গ্রহণকারী শিশুদের হার ৯৭.২ শতাংশ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
;
১,০৬৯.
টারশিয়ারি যুগের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা কত?
  1. ৫৫০ মিটার
  2. ৫৭০ মিটার
  3. ৬১০ মিটার
  4. ৬৫০ মিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি :
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭০.
কোন সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়?
  1. ২৫,০০০ বছর পূর্বে
  2. ৩০,০০০ বছর পূর্বে
  3. ২৭,০০০ বছর পূর্বে
  4. ২৮,০০০ বছর পূর্বে
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
-প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি ।

-  ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলে।

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়।

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল - উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% ভাগ নিয়ে টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
-  দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি :
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তৃীর্ণ সমভূমি।
- সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।  
-সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়-
- যেমন- দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্বান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশবিশেষ।
- কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা।
-  ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি গঠিত।


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,০৭১.
লাতাকিয়া শহরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ইরান
  2. সিরিয়া
  3. লেবানন
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
সিরিয়া:
- লাতাকিয়া, আলেপ্পো শহর সিরিয়ায় অবস্থিত।
- আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র।
- সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত।
- আয়তন: ৭১,৪৯৮ বর্গ মাইল (১৮৫,১৮০ বর্গ কিমি)।
- রাজধানী: দামেস্ক।
- ভাষা: আরবি।
- ধর্ম: ইসলাম (প্রধানত সুন্নি)।
- মুদ্রা: সিরিয়ান পাউন্ড।

সূত্র - Britannica.com
১,০৭২.
নিম্নের কোনটি আগ্নেয় পর্বত নয়?
  1. হেনরী পর্বত
  2. ফুজিয়ামা পর্বত
  3. কিলিমানজারো পর্বত
  4. ভিসুভিয়াস পর্বত
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য ম্যাগমা লাভা হিসাবে উদগিরিত হয়ে চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- পরবর্তীতে জমে ঠান্ডা হয়ে যে শিলাস্তূপের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- লাভার প্রকৃতির ওপর আগ্নেয় পর্বতের বিস্তৃতি ও আকৃতি নির্ভর করে।
- আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূ-আলোড়নের জন্য ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশের ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই, ধাতু ইত্যাদি প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।
- এই উত্তপ্ত লাভা ফাটলের চতুর্দিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি করে।
- যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ল্যাকোলিথ পর্বত:
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৩.
’ম্যাজিনো লাইন’ কোন দুই দেশের মধ্যে একটি সীমারেখা?
  1. ইরাক ও ইরান
  2. ফ্রান্স ও জার্মানি
  3. কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড
  4. ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা

ম্যাজিনো লাইন:
- ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে একটি সীমারেখা। 
- ম্যাজিনো লাইন ছিল ফ্রান্সের একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ,
- যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও ইতালির সীমান্ত বরাবর নির্মাণ করা হয়েছিল।
- এটি সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক অদম্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ হিসেবে বিবেচিত হতো।
- তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী এই লাইনকে পাশ কাটিয়ে এবং ভেঙে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

অপরদিকে,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- সনোরা লাইন: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১,০৭৪.
বাংলাদেশের সীমান্তের সাথে মিয়ানমারের কয়টি অঙ্গরাজ্য অবস্থিত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের সাথে মিয়ানমারের ২টি প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে মিয়ানমারের এই ২ প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে।
- এগুলো হলো: রাখাইন রাজ্য ও চিন রাজ্য। 

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৭৫.
GMT-এর পূর্ণরূপ -
  1. Greenwich Main Time
  2. Global Main Time
  3. Greenwich Mean Time
  4. Global Mean Time
ব্যাখ্যা
 গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭৬.
‘শাত-ইল-আরব’কে কেন্দ্র করে কোন দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলেছিল?
  1. ক) সৌদি আরব ও ইরাক
  2. খ) ইরান ও ইরাক
  3. গ) সিরিয়া ও ইরান
  4. ঘ) ইরাক ও কুয়েত
ব্যাখ্যা
‘শাত-ইল-আরব:
‘শাত-ইল-আরব’ জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- এর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ইরাক ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে। 
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ  হলেছিল
- তাঁর আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

তথ্যসূত্র: হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
১,০৭৭.
'দাহনা' কোন দেশের মরুভূমি? 
  1. ইরাক
  2. সৌদি আরব 
  3. মিশর 
  4. ইয়েমেন
ব্যাখ্যা

• মরুভূমি: 
যে স্থানের বৃষ্টিপাত ২৫ সে.মি. এর কম এবং বাস্পীভবন থেকে বৃষ্টিপাত কম তাকে মরুভূমি বলে। 
মরুভূমি ২ ধরনের। 
শীতল মরুভূমি – উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু ও লাদাখ । 
উষ্ণ মরুভূমি – দস্ত ই লুত।

উল্লেখযোগ্য মরুভূমি: 
- দক্ষিণ মেরু মরুভূমি – পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শীতল মরুভূমি। 
- সাহারা মরুভূমি - পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি (আফ্রিকার দুঃখ)। 
- অ্যারাবিয়ান মরুভূমি: 
   • রাব আল খালি - সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। 
   • আন নাফুদ – সৌদি আরব 
   • দাহনা-সৌদি আরব
- গোবি মরুভূমি - মঙ্গোলিয়া এবং চীন । 
- কালাহারি – আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)। 
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি – অস্ট্রেলিয়া। 
- সোনোরান মরুভূমি – যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো । 
- থর মরুভূমি – ভারত ও পাকিস্তান ।

তথ্যসূত্র: Britannica.

১,০৭৮.
Which one of the following districts has no border with Myanmar?
  1. Khagrachari
  2. Bandarban
  3. Rangamati
  4. Cox's Bazar
  5. None
ব্যাখ্যা
• 'খাগড়াছড়ি' জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমান্ত নেই।

সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে - 
 → একটি ভারত এবং
 → অপরটি মিয়ানমার।

 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা -৩২টি।
 → ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
 → মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত থাকা জেলাগুলো হলো - কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৯.
What percentage of the total area must be forested to maintain the natural balance of a country or region?
  1. ক) 20%
  2. খ) 25%
  3. গ) 30%
  4. ঘ) 26%
ব্যাখ্যা
• বনভূমি:
- সাধারণভাবে বনভূমি বলতে স্বাভাবিকভাবে কোনো অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের যে অসংখ্য বৃক্ষের সমারোহ দেখা যায় তাকে বুঝায়। আর বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় সেগুলোকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশ বা অঞ্চলের প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক।

• বনভূমির প্রকারভেদ : মৃত্তিকার গুণাগুণ এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বনভূমিসমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি
২. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি এবং
৩.  স্রোতজ  বনভূমি বা সুন্দরবন।

• পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়
যথা-
- মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি। 
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি : ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
 এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।

• রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি : রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি
অবস্থিত।
- এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল।
- এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত।
- এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্বপরিচয়।
১,০৮০.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. ময়মনসিংহ
  2. চট্টগ্রাম
  3. রংপুর
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা

সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশে মোট বিভাগ ৮টি তার মধ্যে ২টি বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী।
- বিভাগগুলো হলো - ময়মনসিংহ ও সিলেট।
- ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
- সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়। রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী। এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০৮১.
ম্যাকমোহন লাইন কোন কোন দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে?
  1. চীন ও রাশিয়া
  2. চীন ও ভারত
  3. ভারত ও পাকিস্তান
  4. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
ম্যাকমোহন লাইন ভারত ও চীনের সীমানা নির্ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তান,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,
- তিন বিঘা করিডোর: ভারত ও বাংলাদেশ,
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC ): ভারত ও পাকিস্তান,
- লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC ): ভারত ও চীন,
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৬তম প্যারালাল: নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ২৪তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ২৮তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ৩৭তম প্যারালাল: ভারত ও মায়ানমার,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ৪৯তম প্যারালাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা,
- ৮° চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,
- ইংলিশ চ্যানেল: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স,
- ওডার-নাইসে লাইন: পূর্বতন পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ড,
- গ্রেট চ্যানেল: ভারত (আন্দামান, নিকোবর) ও সুমাত্রা,
- ডানকান প্যাসেজ: গ্রেট আন্দামান ও লিটন আন্দামান,
- ম্যাগিনট লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- সিগফ্রেড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- হিনডেন বার্গ লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।

উৎস: i) Britannica.
        ii) WorldAtlas.
১,০৮২.
তিয়েন আনমেন স্কয়ার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হংকং
  2. খ) বেইজিং
  3. গ) সাংহাই
  4. ঘ) ম্যাকাও
ব্যাখ্যা
ত্রিশ বছর আগে, ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে বিশাল এক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা দমন করে চীনের ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টি। ধারণা করা হয়, তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল দশ লাখ মানুষ।
উৎসঃ বিবিসি
১,০৮৩.
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
  1. সন্ধ্যা
  2. হাড়িয়াভাঙ্গা
  3. তেতুলিয়া
  4. আড়িয়াল খাঁ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ 'হাড়িয়াভাঙ্গা' নদীর মোহনায় অবস্থিত।

• দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- পূর্ববাশা বা নিউ মুর আইল্যান্ড বঙ্গোপসাগরের অবস্থিত ভারতের ছোটো জনবসতিহীন সাগরমুখী দ্বীপ। 
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত এবং১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। 
- নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৪.
'চিকেন নেক' চিহ্নিত অঞ্চলটি ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. পশ্চিম বঙ্গ
  2. অরুণাচল
  3. মেঘালয়
  4. মনিপুর
ব্যাখ্যা

 • চিকেন নেক:
- চিকেন নেক বলতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাকি ভারতের একমাত্র স্থল যোগাযোগ পথ বোঝানো হয়, যেটি একটি সংকীর্ণ ভৌগোলিক করিডোর।
- এর প্রকৃত নাম সিলিগুড়ি করিডোর।
- এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার সিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত।
- প্রস্থ: মাত্র ১৭-২৪ কিলোমিটার (সবচেয়ে সরু স্থানে)
- এই সরু পথই ভারতের মূল ভূখণ্ডকে ৭টি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের (যাকে একত্রে "সেভেন সিস্টার্স" বলা হয়) সাথে যুক্ত করে রেখেছে।
- এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চল।
- যদি এই পথ কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

উৎস: এটলাস রিপোর্ট।

১,০৮৫.
পৃথিবীর মণ্ডল তিনটির নাম হচ্ছে-
  1. ক) অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও বারিমণ্ডল
  2. খ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও বারিমণ্ডল
  3. গ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল
  4. ঘ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়।
এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলো এর কেন্দ্রের দিকে জমা হয়। আর হালকা উপাদান গুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মণ্ডল বলে।
ভূ-গর্ভের রয়েছে ৩টি মণ্ডল। যথা- অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৬.
নিম্নের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে?
  1. চীন
  2. পাকিস্তান
  3. থাইল্যান্ড
  4. মায়ানমার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৮৭.
'পুন্ড্রনগর' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। 

উৎস: বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৮.
খাইবার গিরিপথ কোথায় অবস্থিত?
  1. পাকিস্তান-ইরান
  2. ইরান-আফগানিস্তান
  3. আফগানিস্তান-চীন
  4. পাকিস্তান-আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
খাইবার গিরিপথ:
- স্পিন ঘর পর্বতের উত্তরাংশের অবস্থিত খাইবার গিরিপথ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এর মধ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত
- প্রাচীন সিল্ক রোডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই গিরিপথটি মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ।
- কৌশলগত সামরিক স্থান হিসেবেও এ পথ পরিচিত।
- খাইবার পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৫১০ ফুট উঁচু। দৈর্ঘ্য ৫৩ কিলোমিটার।
- গিরিপথের উত্তরে মুল্লাগোরি উপজাতিদের বসবাস।
- দক্ষিণে বসতি স্থাপন করেছে আফ্রিদি উপজাতিরা।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক রিসোর্স লাইব্রেরী এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১,০৮৯.
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ কোনটি?
  1. গ্রীনল্যান্ড
  2. আইসল্যান্ড
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. বাংলাদেশ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ।

- সমগ্র বাংলাদেশ সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল, সীমিত উঁচুভূমি এবং নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে গঠিত।
- এদেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল।
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- জলবায়ুর উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি।
- তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আগমন ঘটে।
- বিভিন্ন ঋতুতে এ দেশের জলবায়ুর তারতম্যের কারণে আমরা কখনো গরম আবার কখনো শীত অনুভব করি।
- জলবায়ুর কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,০৯০.
পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি জেলা আছে?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৫ টি
  3. গ) ৭ টি
  4. ঘ) ৯ টি
ব্যাখ্যা
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত।
- আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। 
- জেলাগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,০৯১.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত - 
  1. সেন্টমার্টিন
  2. দক্ষিণ তালপট্টি
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থান - আখাইনঠং।
→ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
→ সর্ব দক্ষিণের স্থান - ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
→ সর্ব পশ্চিমের স্থান - মনাকষা।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৯২.
'মধুপুর ও ভাওয়াল' গড়ের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা
  3. গ) কুমিল্লা, সিলেট ও চট্রগ্রাম
  4. ঘ) রাজশাহী, নওগাঁ এবং রংপুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ও ধূসর হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলের মাটি হতে সহজেই পৃথক করা যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান বা উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে প্লাইস্টোসিনকালের এসব সোপান বর্ণনা করা হলো:- 

বরেন্দ্রভূমি 
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। এটি বঙ্গ অববাহিকায় স্নাইস্টোসিনকালের সর্ববৃহৎ উচ্চভূমি। প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির গড় উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মৃত্তিকা অসমতল। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উচ্চভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এছাড়া পাট, ভু্ট্টা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। এখানকার মাটি লালচে এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৩.
সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে কোন দেশে?
  1. কানাডা
  2. চীন
  3. রাশিয়া
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
বিশ্বে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪.০৬ বিলিয়ন হেক্টর যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩১ ভাগ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায় ৮১৫ মিলিয়ন হেক্টর যা পৃথিবীর প্রায় ২০.১ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বাধিক বনভূমি রয়েছে ব্রাজিলে (৪৯৭ মিলিয়ন হেক্টর - ১২.২ শতাংশ)। তৃতীয় কানাডা (৩৪৭ মিলিয়ন হেক্টর - ৮.৫ শতাংশ)।
(উৎসঃ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ওয়েবসাইট)
১,০৯৪.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. টারশিয়ারি যুগ
  2. সাম্প্রতিককাল
  3. প্লাইস্টোসিন কাল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি প্লাইস্টোসিন কালে সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। 
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
-  সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,০৯৫.
'বোর্নিও দ্বীপে'র অধিকাংশ মালিকানা কোন দেশের?
  1. মালয়েশিয়া
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. ব্রুনাই
  4. পালাউ
ব্যাখ্যা
• বোর্নিও দ্বীপ:
- যার আয়তন ২,৮৮,৮৬৯বর্গ মাইল।
- এর শাসন ও অঞ্চল ব্রুনাই এবং মালয়েশিয়ার সাথে ভাগ করা হয়।
- ইন্দোনেশিয়া এই দ্বীপের ৭৩% মালিকানাধীন। মালয়েশিয়ার ২৬% এবং ব্রুনাই ১% এই দ্বীপের মালিক।
- দ্বীপের ইন্দোনেশিয়ান অংশটিকে প্রায়শই কালিমান্তান হিসাবে উল্লেখ করা হয়। 

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,০৯৬.
'চর কুকড়ি মুকড়ি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. পটুয়াখালী
  3. বরিশাল
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

উল্লেখ্য,
- সংশ্লিষ্ট দ্বীপের জন্ম হয় আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে, তৎকালীন ব্রিটিশ রাজ পুত্রের জন  মানবহীন এবং গভীর বনের মধ্যে কুকুর ও মেকুর (বিড়াল) এর সাথে ১৮৮২ খ্রিঃ সাক্ষাতের পর উহার নাম করন করা হয় কুকরী মুকরী।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন ওয়েবসাইট।  [লিঙ্ক]
১,০৯৭.
ঢাকা থেকে কোনো একটি স্থান ৪০°২০′ পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত। ঢাকায় যখন সকাল ৭টা, তখন উক্ত স্থানের স্থানীয় সময় কত?
  1. সকাল ৯টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  2. সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
  3. সকাল ২টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  4. সকাল ৫টা ২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

•  স্থানীয় সময়:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান থেকে যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে।
- সূর্য একই সময় একাধিক দ্রাঘিমার ওপর অবস্থান না করায় বিভিন্ন দ্রাঘিমায় স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট;
- এবং প্রতি ১′ (মিনিট) দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড।

- এখানে দ্রাঘিমার ব্যবধান ৪০°২০′ পশ্চিম।
- সময়ের পার্থক্য = (৪০ × ৪) মিনিট + (২০ × ৪) সেকেন্ড, 
= ১৬০ মিনিট + ৮০ সেকেন্ড, 
= ১৬১ মিনিট ২০ সেকেন্ড [৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট], 
= ২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 

- স্থানটি ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত, তাই সেখানে সময় ঢাকার তুলনায় কম হবে।

- অতএব,
- স্থানীয় সময় = ৭:০০:০০ − ২:৪১:২০ [০ সেকেন্ড থেকে ২০ সেকেন্ড বিয়োগ সম্ভব নয়, তাই ১ মিনিট ধার নিই],
∴ ৭:০০:০০ → ৬:৫৯:৬০; 
- এখন বিয়োগ করি —
- ৬:৫৯:৬০ - ২:৪১:২০ 
- ৬০ − ২০ = ৪০ সেকেন্ড,
- ৫৯ − ৪১ = ১৮ মিনিট, 
- ৬ − ২ = ৪ ঘণ্টা।
- অর্থাৎ ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

সুতরাং, উত্তর: সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৮.
পার্বত্য চট্রগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় সমূহ কোন যুগের সৃষ্ট?
  1. ক) মায়োসিন যুগের
  2. খ) সাম্প্রতিককালের
  3. গ) প্লাইস্টোসিনকালের
  4. ঘ) টারশিয়ারী যুগের
ব্যাখ্যা
উচ্চতা ও ভূমিরূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি

টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহ আবার দুইভাগে বিভক্ত। 
ক. দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলা এবং চট্রগ্রাম জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত)
খ. উত্তর- পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০৯৯.
মিরিঞ্জা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
মিরিঞ্জা ভ্যালি:
- মিরিঞ্জা ভ্যালি বান্দরবান জেলার লাম উপজেলায় অবস্থিত।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ ফিট উপরে মিরিঞ্জা পাহাড়।

উল্লেখ্য,
- বান্দরবান এর লামা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। 
- এখানের অপরম্নপ প্রাকৃতিক শোভা, বয়ে চলা পাহাড়ী আঁকা-বাঁকা মাতামুহুরী নদী, দুঃখি ও সম্মুখ পাহাড়ের উঁচু চুড়া, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থমান হিসেবে পরিচিত সাবেক বিলছড়ি মহামুনি বৌদ্ধ বিহার ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ইত্যাদি দেশ-বিদেশের ভ্রমন বিলাসী পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে। 

উৎস: i) ৭ অক্টোবর ২০১৯, প্রথম আলো।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১০০.
বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ?
  1. ২০.৬%
  2. ১৮.৬%
  3. ২৫.৬%
  4. ১৫.৬%
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
-  বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি।
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বন অধিদপ্তর [লিংক]।