বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা ১০ / ১৭ · ৯০১১,০০০ / ১,৬৩৯

৯০১.
’হাকালুকি হাওর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার 
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:

- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। 
- এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯০২.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কোন রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ?
  1. মেঘালয়
  2. ত্রিপুরা
  3. আসাম
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত:
- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা:
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার।
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। 

৯০৩.
কতটি জেলা নিয়ে দেশের হাওর বেসিন গঠিত?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. সাতটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের হাওর বেসিন বা হাওরাঞ্চল গঠিত।
জেলাসমূহ হলো:
- সিলেট
- সুনামগঞ্জ
- মৌলভীবাজার
- হবিগঞ্জ
- নেত্রকোনা
- কিশোরগঞ্জ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- হাওরাঞ্চলে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে যার মোট আয়তন ৮,৫৮,৪৬০ হেক্টর।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সিলেটে ১০৫টি।
- সবচেয়ে বড় হাওর হলো সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৯০৪.
'ভলগা' নদীর অবস্থান কোন দেশে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. রাশিয়া
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

- ভলগা নদী রাশিয়ায় অবস্থিত।

• ভলগা নদী (Volga River):
- উৎপত্তি: মস্কোর উত্তরে ভ্যালডাই হিলস।
-পতিত হয়েছে:  ক্যাসপিয়ান সাগরে, দক্ষিণে প্রায় ৩,৫৩০ কিমি দূরে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,৫৭,০০০ মাইল।
- এটি প্রায় ২০০ উপনদী, ১,৫১,০০০ নদী ও স্থায়ী ও অস্থায়ী নালা সমন্বিত।

- এটি ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং পশ্চিম রাশিয়ার প্রধান নৌপথ।
- এটি রাশিয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল এবং দেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উৎস।
- ভলগা নদীর অববাহিকা ইউরোপীয় রাশিয়ার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি প্রায় রাশিয়ার জনসংখ্যার অর্ধেকের আবাসস্থল।
- অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বিশ্বের প্রধান নদীর মধ্যে গণ্য।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৯০৫.
কোনটি মৃত আগ্নেয়গিরি?
  1. জাপানের ফুজিয়ামা
  2. পোপো আগ্নেয়গিরি
  3. ইতালির ভিসুভিয়াস
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে। এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে। এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

⇒ পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়।
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano)।

• সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ- মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

• সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা।

• মৃত আগ্নেয়গিরি:
- মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৬.
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমির আকৃতি কেমন থাকে?
  1. নদীর বাঁক
  2. ভি আকৃতি
  3. গিরিসংকট
  4. ডি আকৃতি
ব্যাখ্যা

নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (Erosional Features of River):
- নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
- পার্বত্য অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়।

• 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley):
- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমি 'ভি' আকৃতি উপত্যকা হয়ে থাকে।
- পার্বত্য অঞ্চলের শিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন থাকে।
- সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি থাকায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় তলদেশের ক্ষয়সাধন অধিক হয়।
- এ সময় পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যভাগ অধিক ক্ষয় হতে হতে কালক্রমে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের ন্যায় রূপধারণ করে।
- এজন্য এ ধরনের উপত্যকাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
- পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পার্শ্বদিকে ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হলে উপত্যকা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৭.
বাংলাদেশে কোন ধরণের ভূপ্রকৃতি সবচেয়ে বেশি অঞ্চলজুড়ে দেখা যায়?
  1. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
- এটি বাংলাদেশকে কৃষিতে সমৃদ্ধ করেছে।
- হিমালয় পাদদেশীয় সমভূমি, প্লাবন সমভূমি, ব-দ্বীপ সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি, স্রোতজ সমভূমি প্রভৃতি অংশে ভাগ করা যায়।

• বাংলাদেশকে ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৮.
নিচের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে?
  1. পাকিস্তান
  2. চীন
  3. মিয়ানমার 
  4. ভুটান 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত: 
- বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- ভারত এবং অন্যটি মিয়ানমার সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের ঢাকা ও  বরিশাল বিভাগের সাথে কোন সীমান্ত নেই।
- ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সকল জেলার সাথে সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সংযোগ নেই- বান্দরবন ও কক্সবাজার।

উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৯০৯.
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে প্রধানত বাংলাদেশকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. ৪টি 
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি,

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভ, মি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভ, মি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১০.
ইস্ট লন্ডন কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
East London is a city on the Indian Ocean, in South Africa’s Eastern Cape.
Source: britannica.com
৯১১.
তৃণভূমি বায়োম কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  2. খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. গ) মেরু অঞ্চলে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
নাতিশীতােষ্ণ এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫° হতে ৪৫° সে.মি. সে সব অঞ্চলে তৃণভূমি বায়ােম অবস্থিত। (রেফারেন্সঃ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেনীর ভূগোল)
৯১২.
Mount Kinabalu পর্বতমালা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) মালয়েশিয়া
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা

কিনাবালু পর্বত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত একটি বিশিষ্ট পর্বত।
পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে এটির অবস্থান।
কিনাবালু বোর্নিও দ্বীপের ক্রোকার পর্বতশ্রেনীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, মালয় দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত এবং মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ পর্বত।

৯১৩.
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়গুলো কোন ধরনের পাহাড়ের অন্তর্গত?
  1. প্লাইস্টোসিন কালের পাহাড়
  2. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇔ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৪.
মধুপুর গড় অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ-
  1. সেগুন
  2. গর্জন
  3. শাল
  4. মেহগনি
ব্যাখ্যা

মধুপুর গড়:
- মধুপুর গড় বাংলাদেশের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত একটি বৃহৎ উত্থিত এলাকা।
- এই গড়ের দক্ষিণাংশ ভাওয়াল গড় এবং উত্তরাংশ মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি একটি সোপান এলাকা, যা সংলগ্ন প্লাবনভূমির তুলনায় এক থেকে দশ মিটার উঁচু।
- মধুপুর গড়ের মোট বিস্তার ৪,২৪৪ বর্গ কিমি।
- টাঙ্গাইল-গাজীপুর ও নরসিংদীর অধিকাংশ ভূমির গঠন একই রকম, যা মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- বনের প্রধান বৃক্ষ শাল, যার ফলে এই বনের নামকরণ হয় শালবন।
- কোচ এবং মান্ডা (গারো) নামক দুটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাস এই মধুপুর গড়ে, যারা মধুপুরের শালবনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
- কোচ উপজাতী বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

৯১৫.
মৃত আগ্নেয়গিরি 'মাউন্ট পোপা' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. গুয়েতেমালা 
  2. মিয়ানমার 
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. চিলি
ব্যাখ্যা

মৃত আগ্নেয়গিরি 'মাউন্ট পোপা':
- পোপা আগ্নেয়গিরি মিয়ানমারে অবস্থিত।
- এটি মধ্য মিয়ানমারের পেগু পর্বতমালার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।
- এটি একটি বিলুপ্ত বা মৃত আগ্নেয়গিরি।
- এটি প্রায় ৪,৯৮১ ফুট (১,৫১৮ মিটার) উঁচু।
- বিশ্বাস করা হয় এখানে ৩৭ জন আত্মার (Nats) বাস, যাদের জন্য অনেক মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

উৎস: Britannica.

৯১৬.
উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি কোন ধরনের মালভূমি?
  1. আগ্নেয়জাত মালভূমি
  2. চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি
  3. পাদদেশীয় মালভূমি
  4. পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি সুউচ্চ, বিস্তীর্ণ, প্রায় সমতল ভূমিরূপকে মালভূমি বলে।
- সমুদ্র পৃষ্ট হতে মালভূমির উচ্চতা কয়েকশত মিটার হতে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ও ভূ- পৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন ভূমি গঠন প্রক্রিয়ার কারণে মালভূমির সৃষ্টি হতে পারে।
- যেমন: পাত সঞ্চালন, ভূ-আন্দোলন, ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও লাভা সঞ্চয়ের মাধ্যমে মালভূমি গঠিত হয়ে থাকে।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা পাঁচ ভাগ জুড়ে মালভূমি অবস্থিত।

⇒ উৎপত্তির ধরণ অনুসারে পৃথিবীর মালভূমি সমূহকে প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন:
• ভূ-গাঠনিক মালভূমি (Tectonic Plateau),
• সঞ্চয়জাত মালভূমি (Depositional Plateau) ,
• ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional Plateau)।

⇒ অবস্থান, আকার-আকৃতি, গঠন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে মালভূমি সমূহকে প্রধানতঃ ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
(ক) পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি বা পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau),
(গ) চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি (Horst Plateau),
(ঘ) লাভা বা আগ্নেয়জাত মালভূমি (Lava Plateau),
(ঙ) ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional or Residual Plateau),
(চ) শীল্ড বা মহাদেশীয় মালভূমি (Shield or Continental Plateau)। 

⇔ পাদদেশীয় মালভূমি:
- উচ্চ পর্বতগাত্র থেকে নদী, হিমবাহ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সমূহ পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির একপাশে সাধারনতঃ সমভূমি বা সমুদ্র থাকে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি একটি পাদদেশীয় মালভূমি।

উৎস: ভূমিরূপ বিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
বাংলাদেশের উষ্ণ পানির ঝর্না কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সীতাকুণ্ড
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) মিলানছড়ি
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উষ্ণ পানির ঝর্না - সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্না - হিমছড়ি, কক্সবাজার।
শৈলপ্রপাত ঝর্না - মিলানছড়ি, বান্দরবান। শুভলং ঝর্না - রাঙামাটি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় অবস্থিত। এর উৎপত্তি বড়লেখা থানার পাথুরিয়া পাহাড় থেকে।
৯১৮.
ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে কোন নদীর উৎপত্তি ঘটেছে?
  1. ক) কঙ্গো নদী
  2. খ) রাইন নদী
  3. গ) ভলগা নদী
  4. ঘ) দানিয়ুব নদী
ব্যাখ্যা
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত। এই পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী যা ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।
- দানিয়ুবকে আন্তর্জাতিক নদী বলা হয়।
অন্যদিকে,
- ভলগা নদীর উৎপত্তি রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে।
- কঙ্গো নদীর উৎপত্তি পূর্ব আফ্রিকান রিফ ও ট্যাঙ্গানিকা হ্রদ থেকে।
- রাইন নদীর উৎপত্তি সুইস আল্পস পর্বত থেকে।
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস এবং ব্রিটানিকা)
৯১৯.
বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে কোনটিকে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. সুন্দরবনকে
  2. বঙ্গোপসাগরকে
  3. মধুপুরের বনভূমিকে
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহকে
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
→ বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমায় বঙ্গোপসাগর এবং তার কূল বরাবর সমতট ভূমিতে গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা সবুজের আস্তরণ।
→ দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন।
→ সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রীষ্ম-অঞ্চলীয় (ম্যানগ্রোভ) বনভূমি। 

তথ্যসূত: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯২০.
বাংলাদেশের লাগা উত্তরে অবস্থিত-
  1. নেপাল ও ভুটান
  2. পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
  3. পশ্চিমবঙ্গ ও কুচবিহার
  4. পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের —পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের অবস্থান।
------------------------------------- 
• বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান:

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাহলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

সীমান্তবর্তী স্থান:
⇒ সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। ( ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

⇒ সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।(৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

⇒ সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

⇒ সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২১.
বাংলাদেশের কোন জেলাকে হিমালয়ের কন্যা বলা হয়?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) নীলফামারী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চগড় জেলা:
- পঞ্চগড় জেলা আয়তন: ১৪০৪.৬২ বর্গ কিমি।
- অবস্থান: ২৬°০০´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°১৯´ থেকে ৮৮°৪৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
- এটি বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা

উৎস: দৈনিক যুগান্তর রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া। 
৯২২.
চট্রগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে-
  1. ক) মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
  2. খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
  3. গ) স্থল বায়ুর প্রভাবে
  4. ঘ) আয়ন বায়ুর প্রভাবে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থানের কারণে সামুদ্রিক ও স্থল বায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়। 
সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে।
 
সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন। 
সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়। 
 
স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি। 
অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়। তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে। 
এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়। আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। 
মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।
 
উৎস : ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯২৩.
ভূপৃষ্ঠের যেকোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য কত হয়?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০° 
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান (Antipode): 
- ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে।
- যেমন- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান। 

⇒ প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০°।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। 
- কোনো স্থান ৪০° উত্তর অক্ষাংশে ও ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত হলে এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ হবে ৪০° দক্ষিণ এবং দ্রাঘিমাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৪.
বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী রাজ্যে কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি। যথা-
- কক্সবাজার,
- রাঙ্গামাটি ও
- বান্দরবান।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। সেগুলি হল- 
- রাখাইন প্রদেশ (Rakhaing) ও
- চিন (chin) প্রদেশ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯২৫.
নিম্নের কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) সোমালিয়া
  2. খ) নাইজেরিয়া
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) ইরিত্রিয়া
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ হলো একটি উপদ্বীপ।
- হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত দেশসমূহ হলো:
১। ইরিত্রিয়া
২। সোমালিয়া
৩। জিবুতি এবং
৪। ইথিওপিয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৯২৬.
নদী বিহীন দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. বাহামাস
  3. সিরিয়া
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
• নদী বিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিংক ]
৯২৭.
টারশিয়ারি যুগের ভূ-গঠনের পাহাড় বাংলাদেশের কোন স্থানে রয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. মৌলভীবাজার
  3. টাঙ্গাইল
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

⇒ ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৮.
কোন জেলাকে 'সাগর কন্যা' বলা হয়?
  1. বরিশাল
  2. কক্সবাজার
  3. পটুয়াখালী
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
 সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
-এছাড়া বাংলার ভেনিস বলা হয় বরিশাল জেলাকে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯২৯.
জাপানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
  1. হনসু
  2. ওকিনাওয়া
  3. শিকোকু
  4. কিউসু
ব্যাখ্যা
জাপান:
- জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- পূর্বনাম: নিপ্পন।
- রাজধানী: টোকিও।
- প্রধান দ্বীপ: হোক্কাইডো, হনসু, শিকোকু, কিউসু ও ওকিনাওয়া।
- জাপানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ: হনসু।

উল্লেখ্য,
- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়।
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ বিওয়া হ্রদ এই দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Worldatlas.
৯৩০.
বাংলাদেশের কয়টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি এবং জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের ৬ টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- একটি জেলার সাথে উভয় দেশের সীমানা রয়েছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি।
- তবে ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নামে  নতুন দুইটি প্রস্তাবিত বিভাগ রয়েছে

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট ও যুগান্তর পত্রিকা।
৯৩১.
নিচের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. এস্তোনিয়া
  2. লিথুয়ানিয়া
  3. সুইডেন
  4. লাতবিয়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুইডেন বাল্টিক রাষ্ট্র নয়।

বাল্টিক রাষ্ট্র:
- উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের পূর্বতীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে;
- এস্তোনিয়া,
-  লিথুয়ানিয়া,
- লাতবিয়া।
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।

• সুইডেন:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত উত্তর ইউরোপের দেশ সুইডেন।
- পশ্চিমে নরওয়ে, উত্তর-পূর্বে ফিনল্যান্ড।
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে আছে যথাক্রমে বাল্টিক সাগর ও বথনিয়া উপসাগর।
- আয়তনের সুইডেন উত্তর ইউরোপের বৃহত্তম দেশ।
- ইউরোপের পঞ্চম বৃহত্তম এবং বিশ্বের ৫৫তম বৃহত্তম দেশ।
- ডেনমার্ক, জার্মানি, পোল্যান্ড, রাশিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া এবং এস্তোনিয়ার সঙ্গে সুইডেনের সমুদ্রসীমা রয়েছে।

উৎস: Britannica.
৯৩২.
ইউরোপ মহাদেশ আয়তনে বিশ্বের কততম?
  1. পঞ্চম
  2. চতুর্থ
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
মহাদেশ:
• পৃথিবীতে মোট ৭টি মহাদেশ রয়েছে। এদের মধ্যে আয়তন অনুসারে-
• প্রথম – এশিয়া (৪.৪৫৭৯ কোটি বর্গ কিমি)
• দ্বিতীয় – আফ্রিকা (৩.০৩৭ কোটি বর্গ কিমি)
• তৃতীয় – উত্তর আমেরিকা (২.৪৭০৯ কোটি বর্গ কিমি)
• চতুর্থ – দক্ষিণ আমেরিকা (১.৭৮৪ কোটি বর্গ কিমি)
• পঞ্চম – অ্যান্টার্কটিকা (১.৪২ কোটি বর্গ কিমি)
• ষষ্ঠ – ইউরোপ (১.০১৮ কোটি বর্গ কিমি)
• সপ্তম – অস্ট্রেলিয়া (০.৮৫২৫ কোটি বর্গ কিমি)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৯৩৩.
বাংলাদেশ কোন দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ২০°৩৮′–২৬°৩৪′ উত্তর
  2. ২০°৩৪′–২৬°৩৮′ উত্তর
  3. ৮৮°০১′–৯২°৪১′ পূর্ব
  4. ৮৮°৪১′–৯২°০১′ পূর্ব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৩৪.
হিমছড়ি কোন শহরের নিকট অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
• হিমছড়ি: 
- হিমছড়ি কক্সবাজার জেলার উপকন্ঠে অবস্থিত।
- জেলা সদর হতে ৯ কিঃমিঃ দূরে হিমছড়ি অবস্থিত।
- পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণা সমন্বিত হিমছড়ি অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এক পর্যটন স্পট।
- পর্যটন মৌসুমে এখানে পর্যটকদের আনাগোণা বেশি পরীলক্ষিত হয়।
- এখানে কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা (প্রসবণ) রয়েছে।
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হিমছড়িসহ আশে পাশে অনেক পর্যটন স্পট দারুণভাবে ক্ষতিসাধন হয়।
- সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌর্ন্দয অতিসহজে উপভোগ করা যায়।

------------------- 
আরো কয়েকটি ঝর্ণা: 
মাধবকুন্ড: 
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় অবস্থিত।

হামহাম: 
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

শুভলং: 
- রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।

খৈয়াছড়া: 
- চট্টগ্রামের মিরসরাই-এ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, হিমছড়ি, coxsbazar.gov.bd.
৯৩৫.
কোন দুইটি দেশ ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে?
  1. ক) আর্জেন্টিনা ও ঘানা
  2. খ) কলম্বিয়া ও পেরু
  3. গ) সুরিনাম ও পেরু
  4. ঘ) ইকুয়েডর ও চিলি
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ব্রাজিল। এছাড়াও জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। ইকুয়েডর ও চিলি ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
৯৩৬.
কিওক্রাডাং -এর উচ্চতা প্রায়-
  1. ক) ১০১০ মিটার
  2. খ) ১৫৩০ মিটার
  3. গ) ১২৩০ মিটার
  4. ঘ) ১৩৬৪ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। এগুলো মূলত রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত। অন্যতম উচ্চ পাহাড়চূড়া কেওক্রাডং এর উচ্চতা ১২৩০ মিটার আর সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া তাজিংডং এর উচ্চতা ১২৩১ মিটার। দুটি চূড়াই বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৯৩৭.
‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আড়াইহাজার
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
- ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’ ময়মনসিংহ জেলার পার্ক রোডে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
অন্যদিকে,
- ‘শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর’ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত যা ১৯৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৯৩৮.
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত কোথায় অবস্থিত?
  1. নেপালের হিমালয়ে
  2. চীনের তিব্বত অঞ্চলে
  3. পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে
  4. ভারতের অরুণাচলে
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত:
- বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গিরিখাত ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত যা চীনের তিব্বত অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি ব্রহ্মপুত্র গিরিখাত নামেও পরিচিত।
- এই গিরিখাতের গভীরতা সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৭১৪ ফুট এবং এটির দৈর্ঘ্য ৩১৩ মাইলের বেশি।

উল্লেখ্য,
- ইয়ারলাং সাংপো নদীর উৎপত্তিস্থল কৈলাস পর্বতের কাছে। সেখান থেকে এই নদী পূর্ব দিকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল বয়ে গেছে এবং তিব্বতের পেই গ্রামের কাছে গিরিখাতে প্রবেশ করার আগে হিমালয়ের উত্তর অংশে প্রবাহিত হয়েছে।

উৎস: World Atlas. 

৯৩৯.
ব্ল্যাক ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. নরওয়ে
  3. জার্মানি
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
• পর্বত (Mountains):
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

• ভঙ্গিল পর্বত:
- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। 

• আগ্নেয় পর্বত:
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে আপ্লেয়জাত সমভূমি সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে।
- এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে।
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো-
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

• চ্যুতি-স্থপ পর্বত:
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভুত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভুত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়।
- ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে। ভুত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়।
- চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।

- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪০.
বাংলাদেশের সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা কোনটি? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২৪)
  1. বাগেরহাট 
  2. বান্দরবান 
  3. রাঙ্গামাটি 
  4. খাগড়াছড়ি 
ব্যাখ্যা

• মোট বনাঞ্চল - ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর বা ২৫,৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।

সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা (৫টি)
- রাঙ্গামাটি = ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর;
- বান্দরবান =  ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর;
- বাগেরহাট = ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর;
- খাগড়াছড়ি = ৫৫৪,১১৬.২১ একর;
- খুলনা =  ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২৪।

৯৪১.
বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্র সীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়?
  1. Permanent Court of Justice
  2. International Tribunal for the Law of the Sea
  3. International Court of Justice
  4. Permanent Court of Arbitration
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: 
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।

অন্যদিকে, 
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
৯৪২.
বাংলাদেশের কত ভাগ ভূমি নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি?
  1. প্রায় ৯০ ভাগ
  2. প্রায় ৮০ ভাগ
  3. প্রায় ৬৫ ভাগ
  4. প্রায় ৭০ ভাগ
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: 
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। ।
- সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৪৩.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময়কালীন পাহাড়সমূহ বাংলাদেশের বর্তমান মোট ভূমির কত অংশ জুড়ে বিস্তৃত ?
  1. ৮ %
  2. ১০ %
  3. ১১ %
  4. ১২ %
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি
- অপার্থিব সৌন্দর্যের এই বাংলাদেশ ঋতু-রুপে যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি তার ভুমিরুপেরও আছে বৈচিত্র্য। 
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা - 
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিন কালের সোপান ভূমি।
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২% অংশ জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ রয়েছে। 
- আজ থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি বৎসর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এই টারশিয়ারি যুগ আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত  বিস্তৃত। 
- অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা –
১. উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর পাহাড়।
২. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এর পাহাড়।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি , ময়মনসিংহ ও টাংগাইলের মধুপুর , গাজীপুরের  ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিন কালে ( আজ থেকে প্রায় ২৫০০০ বছর পূর্বে) গঠিত ভূমিরূপ । বাংলাদেশের মোট ভূমির ৮% এই যুগে গঠিত । 
- বাকি ৮০% ভূমিই সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র – ভূগোল ও পরিবেশ (বাউবি), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম দশম শ্রেণি)।
৯৪৪.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান কোথায় দেখা যায়?
  1. সিলেট
  2. লালমাই
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমিতে প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।  এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি। সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

অন্যদিকে,
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৫.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা মোট কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।

- সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।

৯৪৬.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে মিয়ানমারের স্থলসীমান্ত রয়েছে?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) ফেনী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- এদের মধ্যে ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে মিয়ানমারের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৯৪৭.
সমুদ্র সমতল থেকে নিচের কোন জেলার উচ্চতা সবচেয়ে বেশি?
  1. বগুড়া
  2. দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছন
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি,
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি,
• স্রোতজ সমভূমি,
• উপকূলীয় সমভূমি,
• ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৮.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা যায়।
 এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়/পর্বতঃ তাজিনডং (১২৮০মি.), কেওক্রাডং, মোদকমুয়াল, পিরামিড, চিম্বুক]

• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়/টিলাঃ চিকনাগুল, খাসিয়া, জয়ন্তিয়া]।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:

- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৯.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোন নদী অবস্থিত?
  1. ক) গোমতী
  2. খ) তিতাস
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা

নদী-মাতৃক বাংলাদেশের মধ্য- পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তিতাস-বিধৌত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮৬০ ইং সালে মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ত্রিপুরা জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল। ভারত বিভাগের পর কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা হিসেবে থাকে। ১৯৮৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা-সাহিত্যে দেশের অন্যতম অগ্রণী জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, ব্যারিস্টার এ রসুল, নবাব স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা, কথা সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্ল বর্মণ, কবি আবদুল কাদির, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ বহু জ্ঞানী গুনীর জন্মধন্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ড, সালদা গ্যাস ফিল্ড, মেঘনা গ্যাস ফিল্ড দেশের এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস সরবরাহ যোগায়। আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ২য় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের ইউরিয়া সারের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প কারখানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্প সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং দলমত নির্বিশেষে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল মিলন মেলা হিসেবে এ দেশের মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
উৎসঃ বাংলাদশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৯৫০.
দেশের মোট ভূমির শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৮ ভাগ
  2. ২৩ ভাগ
  3. ২৫ ভাগ
  4. ২৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু ২০১৩-২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
কোনটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা ?
  1. পার্পল লাইন
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. লাইন অব কন্ট্রোল
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা

Durand Line:
- ডুরান্ড লাইন একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত, যা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে ১,৬০০ মাইল (২,৬০০ কিমি) দীর্ঘ।
- এটি ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতে এবং আফগানিস্তানের আমিরাতের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ডুরান্ড লাইনটির নামকরণ করা হয়েছে স্যার হেনরি মর্টিমার ডুরান্ডের নামে, যিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন।
- ডুরান্ড লাইন এর পশ্চিম প্রান্ত ইরানের সীমানায় এবং পূর্ব প্রান্ত চীনের সীমানায় শেষ হয়।
- ১২টি আফগান প্রদেশ এবং ৩টি পাকিস্তানি প্রদেশ ডুরান্ড লাইনের পাশে অবস্থিত।
- ১৮৯৪-১৮৯৬ সালে আফগান-ব্রিটিশ যৌথ জরিপের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়।
- ডুরান্ড লাইন পশতু অঞ্চলের দুই ভাগ সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যতে বিরোধের কারণ হয়।
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর পাকিস্তান ডুরান্ড চুক্তির উত্তরাধিকারী হয়।

এছাড়াও,  বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]

৯৫২.
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়গুলো কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিলা
  2. খ) ঝুপড়ি
  3. গ) ঢিবি
  4. ঘ) শিলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৫৩.
বরেন্দ্রভূমির অন্তর্ভুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি
• রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত।
• এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। এটি বঙ্গ অববাহিকায় স্নাইস্টোসিনকালের সর্ববৃহৎ উচ্চভূমি।
• প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির গড় উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
• এ অঞ্চলের মৃত্তিকা অসমতল। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উচ্চভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এছাড়া পাট, ভু্ট্টা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৪.
'ম্যাকনামারা লাইন' কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমারেখা?
  1. ক) ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া
  2. খ) ভারত ও চীন
  3. গ) উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
  4. ঘ) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত সীমারেখা:
- ম্যাকনামারা লাইন - উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম।
- ম্যানারহেইম লাইন - ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীন।
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- সনোরা লাইন - যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৫৫.
নিচের কোনটি মিঠাপানির জলমগ্ন বনভূমি?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) প্যারাবন
  3. গ) রাতারগুল
  4. ঘ) শালবন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মিঠাপানির একমাত্র জলাবন বা জলমগ্ন বনভূমি বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল বনভূমি। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। রাতারগুলকে বাংলার আমাজন বলা হয়।
- রাতারগুলের মোট আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর। এই বনের উদ্ভিদের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও মুর্তা উল্লেখযোগ্য।
- শীতকাল ব্যতীত বছরের অন্যান্য সময় এ বন পানিতে নিমজ্জিত থাকে। মুর্তা বা রাতা উদ্ভিদের আধিক্যের জন্যে এই বন রাতারগুল নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- সুন্দরবন হলো প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। প্যারাবন হলো সৃজিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। শালবন একটি পত্রপতনশীল বনভূমি।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৯৫৬.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে?
  1. কুতুবদিয়া
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. মহেশখালী
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
মহেশখালী দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে।

মহেশখালী দ্বীপ:
- মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ।
- এটি বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত। 

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:

- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৭.
তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে -
  1. ক) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি থেকে
  2. খ) হিমালয়ের পাদদেশ থেকে
  3. গ) ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চল থেকে
  4. ঘ) আরাকান পাহাড় থেকে
ব্যাখ্যা
• তিস্তা :
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৮.
'পলল পাখা' জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে-
  1. ক) নদীর উৎপত্তিস্থলে
  2. খ) নদীর মোহনায়
  3. গ) নদীর নিম্ন অববাহিকায়
  4. ঘ) পাহাড়ের পাদদেশে
ব্যাখ্যা
- 'পলল পাখা' জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে পাহাড়ের পাদদেশে।
- পার্বত্য কোনো অঞ্চল থেকে হঠাৎ করে কোনো নদী যখন সমভূমিতে পতিত হয় তখন শিলাচূর্ণ, পলিমাটি প্রভৃতি পাহাড়ের পাদদেশে সমভূমিতে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাতপাখার ন্যায় ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়।
- এ কারণে এরূপ পললভূমিকে পলল কোণ বা পলল পাখা বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৯.
হিলি স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. শেরপুর
  2. লালমনিরহাট
  3. দিনাজপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
হিলি স্থলবন্দর:
- পানামা-হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত।
- হিলি স্থলবন্দর দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপেজলার বাংলা হিলি সীমান্তে অবস্থিত।
- এর বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি এলসিএস রয়েছে।
- ১২ জানুয়ারি ২০০২ তারিখ হিলি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।
- ০৯ অক্টোবর ২০০৫ তারিখ স্থলবন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে পানামা-হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড মধ্যে Concession Agreement (CA) স্বাক্ষরিত হয়।
- CA অনুযায়ী পোর্ট অপারেটর ০১ জানুয়ারি ২০১০ তারিখ স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে;
- রাজধানী ঢাকা হতে হিলি স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ২৮৫ কি.মি.।

স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান:
- বেনাপোল স্থলবন্দর: বেনাপোল, শার্শা, যশোর।
- বুড়িমারী স্থলবন্দর: পাটগ্রাম, লালমনিরহাট।
- আখাউড়া স্থলবন্দর: আখাউড়া, বাহ্মনবাড়িয়া।
- ভোমরা স্থলবন্দর: ভোমরা, সাতক্ষীরা সদর।
- নাকুগাঁও স্থলবন্দর: নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
- তামাবিল স্থলবন্দর: গোয়াইনঘাট সিলেট।
- সোনাহাট স্থলবন্দর: ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
- দর্শনা স্থলবন্দর: দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।
- বিলোনিয়া স্থলবন্দর: বিলোনিয়া, ফেনী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
৯৬০.
টাঙ্গুয়ার হাওড় কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সিরাজগঞ্জ
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হাকালুকি হাওড় - মৌলভীবাজার ও সিলেট অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর।
টাঙ্গুয়ার হাওড় - সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
হাইল হাওড় - মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
বুরবুক - জৈন্তাপুর, সিলেট। এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম হাওড়।
উৎস : বাংলাপিডিয়া
৯৬১.
বায়ুমন্ডলে কোন উপাদানের পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান সমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ ভাগ
- অক্সিজেন : ২০.৭১ ভাগ
- আরগন : ০.৮০ ভাগ
- জলীয়বাষ্প : ০.৪১ ভাগ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড : ০.০৩ ভাগ
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ ভাগ এবং
- অন্যান্য গ্যাস : ০.০২ ভাগ।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৭০)
৯৬২.
থর মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. চীন ও মঙ্গোলিয়া
  4. চিলি ও আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা

থর মরুভূমি (Thar Desert): 
- অন্য নাম: Great Indian Desert।
- অবস্থান: দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম ভারত (রাজস্থান) এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ।
- ভৌগোলিক ধরন: উপকূলীয় বা আধা-শুষ্ক মরুভূমি।
- আয়তন: প্রায় ২০০,০০০ বর্গকিমি।
- উচ্চতা: সমুদ্র সমতল থেকে ২০০-৩০০ মিটার।
- আবহাওয়া: শুষ্ক, বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০-৫০০ মিমি, গ্রীষ্মে অত্যন্ত গরম, শীতে শীতল।
- প্রধান নদী: লুনা নদী।
- পৃথিবীর প্রধান শুষ্ক মরুভূমির একটি, পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

• বিশ্বের অন্যান্য মরুভূমিসমূহ:
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা
- আতাকামা মরুভূমি : চিলি
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি : চিলি, আর্জেন্টিনা
- ভিক্টোরিয়া মরুভূমি : অস্ট্রেলিয়া।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৯৬৩.
নিচের কোন দেশটি মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পালাউ
  2. পাপুয়া নিউগিনি
  3. ফিজি
  4. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চল দেশসমূহ:
-
মাইক্রোনেশিয়া, 
- কিরিবাতি, 
- নাউরু, 
- মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, 
- পালাউ, 
- গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৫৬১ বর্গ কিলোমিটার।

মেলানেশিয়া:

- "মেলানেশিয়া" শব্দটি এসেছে গ্রীক ভাষা থেকে। 
- Melan = কালো,
- Nesos = দ্বীপ,
- অর্থাৎ “কালো দ্বীপপুঞ্জ”।
- এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- প্রায় ২,০০০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
• মেলানেশিয়ার দেশসমূহ:
- পাপুয়া নিউগিনি,
- সলোমন দ্বীপপুঞ্জ,
- ভানুয়াতু,
- ফিজি, 
 
• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া মূলত চারটি ভৌগোলিক অঞ্চলে বিভক্ত:
- অস্ট্রেলেশিয়া, 
- মেলানেশিয়া, 
- মাইক্রোনেশিয়া, 
- পলিনেশিয়া, 

• অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চলের দেশ: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড। 
 • পলিনেশিয়া অঞ্চল দেশসমূহ: টোঙ্গা, টুভালু, সামোয়া।
[উল্লেখ্য: গুয়াম একটি স্বাধীন দেশ নয়; এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ অঞ্চল।]

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৯৬৪.
বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
  1. ৪,৭১৯
  2. ৪,১৫৮
  3. ৫,১৪৬
  4. ৫,১৩৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ।

- বাংলাদেশের আয়তন: ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

এছাড়াও,
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলে অবস্থিত।
- সমুদ্রতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে ঢাকার উচ্চতা ২৫ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে নারায়নগঞ্জ এবং রাজশাহীর উচ্চতা ৮ মিটার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৬৫.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্গত? 
  1. খাগড়াছড়ি পাহাড় 
  2. লালমাই পাহাড়
  3. কেওক্রাডং পর্বত
  4. তাজিনডং পর্বত
ব্যাখ্যা

•প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

•টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উল্লেখ্য
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
- খাগড়াছড়ি পাহাড়, কেওক্রাডং পর্বত ও তাজিনডং পর্বত টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬৬.
Bangladesh is in the _____ Hemisphere.
  1. ক) Southern
  2. খ) Western
  3. গ) Northern
  4. ঘ) None of the above
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। 
- ভৌগোলিকভাবে, বাংলাদেশের বড় অংশ গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী এবং তাদের উপনদীর সঙ্গমস্থলে উর্বর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপে অবস্থিত। 
- বাংলাদেশ ভারতের রাজ্যগুলোর দ্বারা সীমাবদ্ধ: উত্তর এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা; উত্তরে আসাম; উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয়; পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম। 
- দক্ষিণ-পূর্বে, এটি মিয়ানমারের সাথে একটি ছোট সীমান্ত ভাগ করে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশ বঙ্গোপসাগরে খোলে।
- শিলিগুড়ি করিডোর দ্বারা বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান থেকে এবং উত্তরে সিকিম দ্বারা চীন থেকে বিচ্ছিন্ন।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস 
৯৬৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে প্লাইস্টোসিনকালের উচ্চভূমি রয়েছে?
  1. কক্সবাজার 
  2. টাঙ্গাইল
  3. হবিগঞ্জ
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

- ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ভূপ্রকৃতির বিস্তারিত ব্যাখ্যায় সমগ্র দেশটিকে ২৪টি উপ-অঞ্চল এবং ৫৪টি একক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি ।

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি :
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল-
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড় ( টাঙ্গাইল)। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল -  
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% ভাগ নিয়ে টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল গঠিত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।  

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯৬৮.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় কোনটি?
  1. আসাম
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. রাজস্থান
ব্যাখ্যা
- রাজস্থান বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়। 

- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য হচ্ছে ৫টি।
এগুলো হলো -
→ ত্রিপুরা,
→ আসাম,
→ মিজোরাম,
→ মেঘালয় ও
→ পশ্চিমবঙ্গ।

সীমান্তবর্তী স্থান:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত।
- পূর্ব দিকে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার রয়েছে।
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং ভারতীয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সীমানা রয়েছে, পাশাপাশি মিয়ানমারেরও অবস্থান রয়েছে।
- পশ্চিম দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩০টি, এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩টি। বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলা হলো একমাত্র জেলা, যেটা ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানার সঙ্গে সংযুক্ত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৯.
বাংলাদেশের একমাত্র কোন জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা রয়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. মৌলভীবাজার
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি: ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা।
- ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৭০.
নিচের কোনটি রিছাং ঝর্ণা নামে পরিচিত?
  1. ক) আলুটিলার ঝর্ণা
  2. খ) শৈলপ্রপাত ঝর্ণা
  3. গ) শুভলং ঝরণা
  4. ঘ) তৈদুছড়া ঝরনা
ব্যাখ্যা
আলুটিলার ঝর্ণা  রিছাং ঝর্ণা নাম পরিচিত।
জেলা সদর থেকে আলুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১কিঃ মিঃ।
মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ঝর্ণা, ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। 

উৎসঃ খাগড়াছড়ি জেলা ওয়েবসাইট।
৯৭১.
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) টেকনাফ
  4. ঘ) সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গাজীপুরে অবস্থিত। এটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত।
উৎসঃ গাজীপুর জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৯৭২.
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কোন সীমান্তটি অবস্থিত?
  1. ম্যাকমোহন লাইন
  2. লাইন অব ডিমারকেশন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. সনেরা লাইন
ব্যাখ্যা

Durand Line:
- ডুরান্ড লাইন হচ্ছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী একটি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এটি ১৮৯৩ সালে স্যার মরটিমার ডুরান্ড ও আফগান আমির আবদুর রহমান খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
- এই সীমান্তটি প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

৯৭৩.
জাপানের রাজধানী টোকিও কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. কিউসু
  2. হনসু
  3. শিকোকু
  4. হোক্কাইডো
ব্যাখ্যা
দ্বীপরাষ্ট্র জাপান:
- জাপান পূর্ব এশিয়ার উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো: শিকোকু, কিউসু, হনসু ও হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত। যা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘর্ষ এবং পরাজয়ের পর, জাপান অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।
- এটি এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক এবং বাণিজ্যিক শক্তি।
- জাপান তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং সাংস্কৃতিক কারণে একটি অনন্য দেশ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৯৭৪.
হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের ভারতীয় অংশের নাম কি ?
  1. ক) পেট্রোপোল
  2. খ) ডাউকি
  3. গ) বিলোনিয়া
  4. ঘ) খোয়াই
ব্যাখ্যা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবস্থিত বাল্লা স্থলন্দরের ভারতীয় অংশের নাম খোয়াই, যা ত্রিপুরা জেলায় অবস্থিত।
এছাড়া পেট্রোপোল, ডাউকি ও বিলোনিয়ার স্থলবন্দরের বাংলাদেশী নাম যথাক্রমে বেনাপোল, তামাবিল এবং বিলোনিয়া।
উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও সরকারি ওয়েবসাইট।
৯৭৫.
বাংলাদেশের সাথে কয়টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে - 
→ একটি ভারত এবং
→ অপরটি মিয়ানমার।

- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হচ্ছে - কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা হচ্ছে রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭৬.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান’ বনভূমি কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বৃহত্তর খুলনা বিভাগ প্রাকৃতি সম্পদে সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান’ বনভূমি সুন্দরবন এ বিভাগে অবস্থিত।
- এ বিভাগের দক্ষিণাংশ জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান।
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ‘‘ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট’’ বা লবনাক্ত জলাভূমির বন।
- পৃথিবীতে এটি একটি বিরল জাতির বন।
- এ বনটি বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি।
- এ বন থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় হয়।
- এ বন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা প্রভৃতি জেলাকে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯৭৭.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ-
  1. সেন্টমার্টিন
  2. মহেশখালী
  3. কুতুবদিয়া
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
- ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- এর আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং সহ বেশ কিছু দর্শণীয় স্থান রয়েছে মহেশখালীতে।

অন্যদিকে,
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৯৭৮.
'দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা' ছিটমহল কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) নীলফামারী
  3. গ) কুড়িগ্রাম
  4. ঘ) ঠাকুরগাঁও
ব্যাখ্যা
• লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ খ্রি. তারিখে ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে স্বাক্ষরিত চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশীদের যাতায়াতের জন্য তিনবিঘা করিডোর বর্তমানে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হচ্ছে।
- ২০১৫ সালের ছিটমহল মিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র: লালমনিরহাট জেলার ওয়েবসাইট 
 
৯৭৯.
কোনটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশ?
  1. ক) ভুটান
  2. খ) চীন
  3. গ) মিয়ানমার
  4. ঘ) নেপাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- একটি দেশ ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট
৯৮০.
উত্তর-পূর্বাঞ্চল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী নদী দুইটির নাম কী?
  1. ক) সুরমা ও কুশিয়ারা
  2. খ) সুরমা ও তিতাস
  3. গ) কুশিয়ারা ও তিতাস
  4. ঘ) সুরমা ও কালনী
ব্যাখ্যা
• ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে
- উত্তর দিক দিয়ে আগত শাখা সুরমা পশ্চিমে অবস্থিত ছাতক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এরপর আজমিরিগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর মিলিত প্রবাহ কালনী নামে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উল্লেখযোগ্য উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী, কাসনি এবং শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- বাংলাদেশের মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮১.
ব-দ্বীপ সমভূমি বাংলাদেশের কোন কোন জেলা নিয়ে গঠিত? 
  1. রংপুর–দিনাজপুর
  2. দিনাজপুর–জামালপুর
  3. ফরিদপুর–যশোর
  4. ময়মনসিংহ–রংপুর
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে। এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়। এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে। দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি: হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি: ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি: খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি। এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
• উপকূলীয় সমভূমি: নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি। এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি: ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮২.
ম্যাকমোহন লাইন কোন দুই দেশের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করে?
  1. ভারত ও চীন
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. চীন ও নেপাল
  4. ভারত ও নেপাল
ব্যাখ্যা
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।

বিভিন্ন দেশের সীমানা:

- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।

সূত্র: National Geographic ওয়েবসাইট।
৯৮৩.
বাংলাদেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ এলাকা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ নিয়ে গঠিত?
  1. প্রায় ৮%
  2. প্রায় ১২%
  3. প্রায় ৫৬%
  4. প্রায় ৭৯%
ব্যাখ্যা

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৪.
নিচের কোন জেলায় প্লাইস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়?
  1. বান্দরবান 
  2. কুষ্টিয়া 
  3. কুমিল্লা 
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৫.
'বোমাং সার্কেল' পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন জেলা?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্টগ্রাম
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

• পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল রয়েছে ৩টি।
• এগুলো হলোঃ
- চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি জেলা),
- মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি জেলা) এবং
- বোমাং সার্কেল (বান্দরবান জেলা)
• পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
• সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়।
উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৯৮৬.
ভূত্বকের গড় গভীরতা কত?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
- মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৮৭.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাসের নাম?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. এপ্রিল
  4. জুন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

উল্লেখ্য,
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: নারায়নগঞ্জ।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৮৮.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কত সমুদ্রসীমা নটিক্যাল মাইল?
  1. ১৫ নটিক্যাল
  2. ১২ নটিক্যাল
  3. ১০ নটিক্যাল
  4. ৮ নটিক্যাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা (Boundary):
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে  আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৯.
'ব-দ্বীপ' কোন ধরনের সমভূমি?
  1. সঞ্চয়জাত
  2. হিমবাহ
  3. ক্ষয়জাত
  4. কার্স্ট
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে। 
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

⇒ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

⇒ অবস্থান ও গঠনপ্রণালির ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সমভূমিকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১) ক্ষয়জাত সমভূমি,
২) হৈমবাহিক সমভূমি,
৩) কার্স্ট সমভূমি,
৪) সঞ্চয়জাত সমভূমি.

⇒ সঞ্চয়জাত সমভূমি:
- বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- নদী, বায়ুপ্রবাহ ও হিমবাহের মাধ্যমে উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পলিমাটি, কাঁকর, বালু, কর্দম প্রভৃতি নিম্নস্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে সঞ্চয়জাত সমভূমি বলে।
- এ জাতীয় সমভূমি যে কোনো ভূমির তুলনায় অধিক উর্বরতাসম্পন্ন। 
- 'ব-দ্বীপ' এক ধরনের সঞ্চয়জাত সমভূমি।

⇔ ব-দ্বীপ:
- নদীর গতিপথের সর্বশেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সমুদ্রে পতিত হওয়ার পূর্বে নদীর গতি সর্বাধিক মন্থর থাকে এবং পানিতে পলির পরিমাণ থাকে সর্বাধিক।
- ফলে নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়।
- এ পলি সঞ্চিত হতে হতে বাংলা মাত্রাহীন 'ব' এর মতো যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে.
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, পাকিস্তানের সিন্ধু, মিশরের নীল, ব্রহ্মদেশের ইরাবতী, চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো, উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি, ইতালির পো প্রভৃতি নদীর মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯০.
'কয়লা' কোন ধরণের শিলা?
  1. ক) পাললিক শিলা
  2. খ) প্রাথমিক শিলা
  3. গ) আগ্নেয় শিলা
  4. ঘ) রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
 • শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ- চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়,
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেলে পরিণত হয় , 
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইটে পরিণত হয়, 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯১.
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি কোনটি?
  1. ক) সাহারা
  2. খ) সোনোরান
  3. গ) কালাহারি
  4. ঘ) পাটাগোনিয়ান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি। সাহারা মরুভূমিকে আফ্রিকার দুঃখ বলা হয়।
পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
কালাহারি মরুভূমিও আফ্রিকায় অবস্থিত।।
সোনোরান মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অবস্থিত।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
৯৯২.
'হাইল হাওর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. নেত্রকোনা
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

হাইল হাওর:
​- 'হাইল হাওর' মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।

⇒ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত ‘হাইল হাওর’।
- এই বিশাল জলাধারে রয়েছে ১৪টি বিল এবং পানি নিষ্কাশনের ১৩টি নালা।
- মোট আয়তন ১০ হাজার হেক্টর।
- প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৯৩.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা কত কিঃমিঃ?
  1. ৫১৩৮ কিঃমিঃ 
  2. ৪৩৭১ কিঃমিঃ
  3. ৪১৫৬ কিঃমিঃ
  4. ৩৯৭৮ কিঃমিঃ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমানা ২৭১ কিলোমিটার (২৮০ কিলোমিটার মাধ্যমিক ভূগোল)।
- বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৯৯৪.
তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশ নয় কোনটি?
  1. উজবেকিস্তান
  2. চীন
  3. কিরগিজস্তান
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
রাশিয়া তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশ নয়। 

তাজিকিস্তান:
- তাজিকিস্তান মধ্য এশিয়ার একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ।
- ১৯৯১ সালের আগে পর্যন্ত দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল।
- আঞ্চলিক সীমান্ত: তাজিকিস্তান আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান এবং চীন দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- রাজধানী: দুশানবে।
- ভাষা: তাজিক।
- প্রধান ধর্ম: ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- তাজিকিস্তান এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর স্বাধীনতা লাভ করে।
- এরপর থেকে দেশটি বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে গৃহযুদ্ধের (১৯৯২-১৯৯৭) সময়।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com
৯৯৫.
বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) মিসিসিপি
  3. গ) আমাজন
  4. ঘ) ইয়াংসিকিয়াং
ব্যাখ্যা
বৃহত্তম ও প্রশস্ততম নদী আমাজন। বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীলনদ। এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং। মিসিসিপি-মিসৌরি যুক্তরাষ্ট্র তথা উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম নদী।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৯৯৬.
'পারকী' সমুদ্র সৈকত কোথায় অবস্থিত? 
  1. চট্টগ্রাম
  2. কক্সবাজার
  3. বরগুনা 
  4. পটুয়াখালী 
ব্যাখ্যা

• পারকী সমুদ্র সৈকত: 
- স্থানীয় ভাষায় “পারকীর চর” আর পর্যটনীয় ভাষায় “পারকী বীচ" বা সৈকত”। 
- চট্টগ্রাম শহর থেকে “পারকী বীচের” দূরত্ব প্রায় ২৫ কিঃমিঃ।
-  এটা মূলত কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীর মোহনার পশ্চিম তীরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এবং পূর্বদক্ষিণ তীরে পারকী সমুদ্র সৈকত।
- এটি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ার থানার অর্ন্তগত একটি উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত।
- চট্টগ্রাম সার কারখানা ও কাফকো যাওয়ার পথ ধরে এই সৈকতে যেতে হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯৯৭.
নিচের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেনি?
  1. মাগুরা
  2. ফরিদপুর
  3. জামালপুর
  4. রাজবাড়ি
ব্যাখ্যা

- জামালপুর জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেনি।

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

• কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - 
- চুয়াডাঙা,
- ঝিনাইদহ,
- মাগুরা,
- রাজবাড়ি,
- ফরিদপুর,
- ঢাকা,
- মুন্সীগঞ্জ,
- নারায়ণগঞ্জ,
- কুমিল্লা,
- খাগড়াছড়ি ও
- রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৯৯৮.
বাংলাদেশের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
• নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র অবস্থিত কক্সবাজারে।
- 'বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট' ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্নে অবস্থিত।

- ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট) চাঁদপুর জেলার বাবুরহাটে অবস্থিত।
- এই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৎস্যচাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
৯৯৯.
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
ব্যাখ্যা

• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে — ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের। এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং
মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

• অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারী পাহাড়কে — দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়,
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়।

• বাংলাদেশের মোট ভূমির,
- ১২% টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- ৮% প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
- ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০০০.
মহামায়া লেক কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- মহামায়া লেক চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি কৃত্রিম লেক।
- এটির মোট আয়তন প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)