বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৬০১৭০০ / ১,৩০২

৬০১.
'বিচিত্র চিন্তা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি । 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬০২.
বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন-
  1. গোবিন্দদাস
  2. যশোরাজ খান
  3. শংকরদেব
  4. রামানন্দ রায়
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে ‘শংকরদেব’ এবং উড়িষ্যায় ‘রামানন্দ রায়’। তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি।
-  ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬০৩.
মুহম্মদ কবীর রচিত ‘মধুমালতী’ কাব্যে কাহিনির উৎস-
  1. ক) মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) আরবি প্রণয়োখ্যান
  4. ঘ) ভারতীয় উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা।
১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্‌ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর মধুমালতী রচনা করেন।
রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোমান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
কোনটি ঐতিহাসিক উপন্যাস?
  1. ক) রাজসিংহ
  2. খ) মৃত্যু-ক্ষুধা
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাজসিংহ’ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
এখানে রাজপুত রাজা রাজসিংহের সঙ্গে মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ দেখানো হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
৬০৫.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন
  2. সুফিবাদের প্রচার
  3. খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
  4. বাংলা উপমহাদেশের ইতিহাস
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো - গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো - 
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- বাংলাপিডিয়া।

৬০৬.
‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন-
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. নূরনামা
  3. নবীবংশ
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।

- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৭.
''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''- উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ''আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।''
- ''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৮.
'সপ্তপয়কর' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৯.
‘শূন্যপুরাণ’ প্রকাশ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নাগেন্দ্রনাথ বসু
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১০.
'পদাবলি'র প্রথম কবি কে?
  1. ক) শ্রীচৈতন্য
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- পদাবলীর আদিকবি বাঙালী কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলী রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালী কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি চণ্ডীদাস।

যেহেতু এই প্রশ্নে কোন ভাষার সেটা উল্লেখ করা নেই এবং 'জয়দেব' অপশনে নেই; তাই সঠিক উত্তর হিসাবে 'বিদ্যাপতি'কে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬১১.
মধ্যযুগের সাহিত্য 'জ্ঞানপ্রদীপ' রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরিবুল্লাহ
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১২.
শাহ্ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. চোদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতের শতকের
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
-তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৩.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন-
  1. নওয়াজিশ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. আলাওল
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৪.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. ভারতচন্দ্র রায় 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. চণ্ডিদাস 
ব্যাখ্যা

• 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
-' নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৬১৫.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ। পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬১৬.
মহাকাব্য “শাহনামা”র রচয়িতা-
  1. ক) ওমর খৈয়াম
  2. খ) ফেরদৌসী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) শেখ সাদী
ব্যাখ্যা
‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা
৬১৭.
আরাকান রাজসভার কবি নন কে?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৮.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মলুয়া’ পালা:
- মলুয়া পালাটির রচয়িতা কে তা সঠিকভাবে জানা যায় না।
- তবে এর সূচনাতে মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা আছে। তাতে অনেকে মনে করেন যে, পালাটির রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
 
⇒ চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন। 

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য: 
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৯.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি কাকে বলা হয়?
  1. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকেকে
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
  4. মধূসূদন দত্তকে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
• মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৬২০.
কোনটি 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্য?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২১.
‘বিচিত্র নাগে করে দেবী গরায় সুতলি।
শ্বেত নাগে করে দেবী বুকের কাঁচলী।।
অনন্ত নারায়ণে পদ্মার মাথার মণি
বেত নাগে করে দেবী কাকালি কাছুনি।।- কোন কবির রচনা?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত
  2. খ) কানা হরি দত্ত
  3. গ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

কবিতাটি মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরি দত্তের রচনা।
কানা হরি দত্ত পূর্ববঙ্গের অধিবাসী ছিলেন। চৌদ্দ শতকের প্রথম দিকে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়। কবি হরি দত্ত রচিত দেবীর সর্পসজ্জার বর্ণনায় প্রকৃত কবিত্ব ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় মেলে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৬২২.
'হপ্তপয়কর' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাওল।
- হপ্তপয়কর গ্রন্থটি সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোন এক সময়ে রচিত।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৬২৩.
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।' — কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — গ) রামপ্রসাদ সেন।
-------------------
• রামপ্রসাদ সেন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।

• রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২৪.
কোন রাজার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের সূচনা হয়?
  1. গোপাল
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো ৯৫০ - ১২০০  অব্দের মধ্যে। 
- এর পরপরই বাংলা সাহিত্যে নেমে এসেছিলো করুণ অন্ধকার, সে আঁধার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো। 
- ১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা কোন সাহিত্য আমাদের নেই। 
- এই জন্য বাংলা সাহিত্যে এই সময়টাকে বলা হয় অন্ধকার যুগ।
- ১২০০ থেকে ১২০৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাঙলায় আসে মুসলমানেরা।
- অনেকে মনে করেন মুসলমানেরা এত অত্যাচার উৎপীড়ন চালিয়েছিলো যে কারো মনে সাহিত্যের কথা জাগে নি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৬২৫.
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি কোন কাব্যের জন্য দেওয়া হয়?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  3. গ) শূন্যপুরাণ
  4. ঘ) রামায়ণ
ব্যাখ্যা
‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের জন্য দেওয়া হয়।
- মালাধর বসু সংস্কৃত শ্রীমদ্ভাগবত অবলম্বনে পয়ার ছন্দে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক উপাখ্যান  শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। এই কাব্যের জন্য গৌড়েশ্বর তাঁকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এটি ‘মঙ্গল’ বা ‘বিজয়’ জাতীয় পাঁচালি বা আখ্যানকাব্য হিসেবে পরিচিত তাই এর অন্য নাম গোবিন্দমঙ্গল বা গোবিন্দবিজয়।
- এই পাঁচালিকাব্য বাংলার অনুবাদ শাখার ও একটি প্রাচীনতম নিদর্শন বলে অনেকে মনে করেন।
- শ্রীকৃষ্ণবিজয় মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) রচিত একটি আখ্যানকাব্য। এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম
ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৬২৬.
'মধুমালতী' কাব্যের কাহিনী কোন অঞ্চলের?
  1. পারস্য
  2. গ্রিক
  3. ভারতীয়
  4. আরবীয়
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২৭.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল-
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
'হুমায়ুন আজাদের ভাষায় - রাধা ও কৃষ্ণকে নিয়ে মধ্যযুগে সবচেয়ে সৌরভময় ফুল ফুটেছিলো৷ সে ফুলের নাম বৈষ্ণব কবিতা। বৈষ্ণব কবিতা বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
৬২৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে অধ্যাপনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী‌
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুন্শী‌:
- চণ্ডীচরণ মুন্শী‌ অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬২৯.
'চাঁদ সওদাগর' বাংলা কোন কাব্যধারার চরিত্র?
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চাঁদ সওদাগর'- মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র।

মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল  মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
- মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- চাঁদ সওদাগর, সনকা, বেহুলা, লখিন্দর। 

তাছাড়া, 
চন্ডীমঙ্গলের কাব্যের চরিত্র - কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারিশীল।
ধর্মমঙ্গল কাব্যের চরিত্র -কর্পূর সেন, মহামদ পাত্র।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র - ঈশ্বরী পাটনী, হীরা মালিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩০.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে স্বীকৃত-
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড় চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড় চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়। কবি বাশুলি ভক্ত ছিলেন।

- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। অবশ্য পুথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'লেখা থাকায় অনেকে গ্রন্থটিকে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ' নামকরণের পক্ষপাতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩১.
'কবিকণ্ঠহার, নব কবিশেখর' উপাধিতে ভূষিত করা হয় মধ্যযুগের কোন কবি কে?
  1. জয়দেব
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।'
- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল।

- বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৩২.
কবি আলাওল তাঁর 'পদ্মাবতী' কাব্য কার নির্দেশে রচনা করেন?
  1. কেরোশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী কেরোশী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উল্লেখ্য,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
• লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।

• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৩৩.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কবি কঙ্ক
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
⇒ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৪.
জ্ঞানদাসকে আর কী নামে ডাকা হতো? 
  1. গোবিন্দ দাস
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. মদনমোহন
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম।
এজন্য তিনি — মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৬৩৫.
'কৃষ্ণ গুণার্ণব' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো: কৃষ্ণ গুণার্ণব, রামসীতা ও চণ্ডী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৬.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি কোন ভাষার মিশ্রণে রচিত?
  1. সংস্কৃত ও ফারসি
  2. বাংলা ও সংস্কৃত
  3. বাংলা ও পালি
  4. বাংলা ও ফারসি
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৭.
বাংলা লোক সাহিত্যে নিচের কোনটি 'কর্মসঙ্গীত' নামে পরিচিত?
  1. সারি গান
  2. গম্ভীরা
  3. লেটো গান
  4. আলকাপ গান
ব্যাখ্যা
- সারি গান  এক প্রকার  লোকসঙ্গীত, যা শ্রমসঙ্গীত বা কর্মসঙ্গীত নামেও পরিচিত।
- নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান হিসেবেই এর প্রধান পরিচয়।
- মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা টানার তালে তালে এ গান গায় বলেই এর নাম হয়েছে সারি গান।
- দলবদ্ধভাবে গানের তালে তালে কাজ করলে শ্রম লাঘব হয়, কাজে উদ্দীপনা বাড়ে এবং কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।
- এ কারণে শ্রমিকদের মধ্যে সারি গানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
- সারি গানের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় মধ্যযুগের কবি বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণে।
- সেখানে  সঙ্গীত অর্থেই ‘সারি’ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে।
- পরবর্তীকালে মোগল নৌ-সেনাদের নৌকাবাইচের অনুকরণে গ্রামবাংলায়  নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রচলন হলে তাতে এ গানের প্রসার ঘটে। 
উৎস : বাংলা পিডিয়া।
৬৩৮.
'হানিফা কয়রাপরী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত কাব্যটি কার রচনা?
  1. আলাওল
  2. সাবিরিদ খান
  3. নওয়াজিস খান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

----------------
• সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৩৯.
'গুণরাজ খান' কোন সাহিত্যিকের উপাধি? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. মালাধর বসু
  3. ভারতচন্দ্র
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসুর একমাত্র কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'য়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ বঙ্গাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪০.
'গোরাক্ষ বিজয়' কে রচনা করেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শ্যামাদাস সেন
  3. শুকুর মুহাম্মদ
  4. ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া
৬৪১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ভনিতা কয়টি?
  1. ক) ৪০৩ টি
  2. খ) ৪১৮ টি
  3. গ) ৩০৪ টি
  4. ঘ) ৩১৮ টি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। ১৯০৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এতে ১৩টি খন্ড রয়েছে। রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই প্রধান তিনটি চরিত্র। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ৪০৩ টি ভনিতা রয়েছে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৬৪২.
ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি-
  1. মালাধর বসু
  2. কাশীরাম দাস
  3. শ্রীকর নন্দী
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৩.
'জয়নাবের চৌতিশা' - গ্রন্থটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়উপাখ্যান
  4. লোকসাহিত্য 
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৪৪.
মুসলমান রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. লায়লী-মজনু
  2. নূরনামা
  3. ইউসুফ জুলেখা
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য- ইউসুফ জুলেখা।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'।

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:

- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি।
- তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য
- রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৫.
কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘শাহ’ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে, ......
  1. ক) সুলতানী আমলের কবি
  2. খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
  3. গ) তিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
  4. ঘ) তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি। তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্ত্ততি আছে। এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের কাব্যের কবিগণের যে আত্মবিবরণি দেখা যায় তার কাব্যে তা অনুপস্থিত। কবি রাজবন্দনা করলেও কাব্যে তার কোন ব্যক্তিগত পরিচয় পাওয়া যায় নি। 

তার নামের শাহ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে তিনি কোন দরবেশ বংশে জন্মেছিলেন। তার কাব্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ দেখে তাকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম

৬৪৬.
নিচের কোনটি অনুবাদ কাব্য নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লায়লী মজনু
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রাবতী কাব্যটির একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এই কাব্যের একটি খন্ডিত পুঁথি পাওয়া গেছে। এটি সতের শতকে রচিত বলে ধারণা করা হয়।
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না; মনে করা হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা

পক্ষান্তরে
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৭.
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) আলাওল
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
আলাওল
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ সমুহ:
- সিকান্দার নামা
- তোহ্ফা
- সপ্তপয়কর
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান
- রাগতালনামা
- সতীময়ান-লোর-চন্দ্রাণী
[উল্লেখ্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৮.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নয় - 
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. গোবিন্দদাস
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নয় - গোবিন্দদাস। তিনি বৈষ্ণব পদাবলির কবি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৪৯.
'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আবদুল হাকিম
  3. আলাওল
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যগ্রন্থে জীবাত্মা বা প্রাণিকূলের প্রতীক কে?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) বড়ায়ি
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) যশোদা
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
এই গ্রন্থে প্রধান চরিত্র আছে তিনটি। যথা: কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
চরিত্রগুলোর প্রতীক:
- কৃষ্ণ > পরমাত্মা বা ঈশ্বর;
- রাধা > জীবাত্মা বা প্রাণিকূল;
- বড়ায়ি > এ দুয়ের সংযােগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৫১.
রত্নসেন ও নাগমতী কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. লায়লী-মজনু
ব্যাখ্যা

হিন্দি কবি মালিক জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদরূপে বাঙালি কবি আলাওল রচিত পদ্মাবতী। এর চরিত্র - রত্নসেন, গন্ধর্ব সেন, চম্পাবতী, নাগমতী, হিরামন পাখি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৬৫২.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন কে?
  1. সহদেব চক্রবর্তী
  2. সুকুর মামুদ
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. জায়সী
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:

 ১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোরক্ষবিজয়ের পুথি অষ্টাদশ শতকে, বাংলায় সহদেব চক্রবর্তী ও রামাই পণ্ডিতের  'ধর্ম পুরাণে' বা 'অনিল পুরাণে' পাওয়া যায়।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর  'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,।

৬৫৩.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন কে?
  1. জমিদার কৃষ্ণকান্ত
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. রাজা রঘুনাথ রায়
  4. রাজা শিবসিংহ
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৪.
‘কবিরাজ’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি ছিল?
  1. গোবিন্দদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. মালধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদের অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৫.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি? 
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. মৃত্যু খণ্ড
  3. বৃন্দাবন খণ্ড
  4. যমুনা খণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়-  মৃত্যু খণ্ড। 

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- ১. কৃষ্ণ (পরমাত্মা), ২. রাধা (জীবাত্মা), ৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড ও
১৩. বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৫৬.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা

মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা- কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম- পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক- কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৭.
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

জ্ঞানদাস রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়ে গেল।

- রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।

 - রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৫৮.
বৈষ্ণবগীতিকাব্যের গ্রন্থ 'মাথুর ও মুরলীশিক্ষা' রচনা করেন কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. লোচনদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত "মাথুর" এবং "মুরলীশিক্ষা" বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি অমূল্য গ্রন্থ, যা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. ময়ূরভট্ট
  3. হৃদয়রাম
  4. গোবিন্দরাম
ব্যাখ্যা
⇒ ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬০.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. বিদ্যাপতি
  3. শেখ ফয়েজুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা-
  1. ক) শেখ চান্দ
  2. খ) কাজী শেখ মনসুর
  3. গ) সৈয়দ সুলতান
  4. ঘ) মীর মুহম্মদ শফী
ব্যাখ্যা
• সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা- 'সৈয়দ সুলতান'। 

• সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন। 
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর  নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই  উল্লেখযোগ্য। 
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬২.
মৈমনসিংহ গীতিকার দু-একটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. সৌরভ
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- এর দু-একটি পালা কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'সৌরভ' পত্রিকায়।
- মূলত গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ান ভাবনা
- দস্যু কেনারামের পালা
- রূপবতী
- কঙ্ক ও লীলা
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৩.
দীনেশচন্দ্র কত সালে 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৮২৬ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬৪.
আরাকান রাজসভার কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন-
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) শেখ মরদন
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
- আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৬৫.
'চন্দ্রাবতী' কী?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. পদাবলী
  4. পালাগান
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

-----------------------------------
উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী নামে ময়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। 

• আরও উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে। এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।

• এছাড়াও, ১৯৩২ সালে দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ প্রকাশ করেন। পূর্ববঙ্গ-গীতিকার চতুর্থ খণ্ডের ২য় ভাগে এ রামায়ণ স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৬.
আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) হানিফার-লড়াই
  2. খ) রাগতালনামা
  3. গ) সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হাকিম
- সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
- সিকান্দারনামা,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৭.
"গাজীবিজয়" - কাব্যটি কোন মধ্যযুগের কবি রচনা করেন?
  1. সৈয়দ হামজা 
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ সুলতান 
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয়ও
- গাজীবিজয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬৮.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. কবিগান
  2. পালাগান
  3. বটতলার পুথি
  4. পুথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'এন্টনি ফিরিঙ্গি 'কবিগান' এর জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন।

• তাঁর একটি বিখ্যাত গান -

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৯.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. সেক শুভদয়ার
  3. মুক্তল হোসেন
  4. কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৬৭০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখন্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
ব্যাখ্যা

 • ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’:
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্যকর্ম।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস, যিনি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কবি হিসেবে স্বীকৃত।
-এই কাব্য ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
-কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী :
-যেখানে কৃষ্ণের জন্ম, বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, এবং অবশেষে মথুরায় গমন—এই তিনটি পর্যায়ে কাহিনী বিন্যস্ত।
-‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি — রাধা, কৃষ্ণ, ও বড়াই (যিনি রাধার সহচরী ও প্রণয়-দূতিকা হিসেবে উপস্থিত)।
- এটি ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামেও পরিচিত।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ড - জন্ম খণ্ড।
 - এই কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
♦ জন্ম খণ্ড,
♦  তাম্বুল খণ্ড,
♦ দান খণ্ড,
♦ নৌকা খণ্ড,
♦ ভার খণ্ড,
♦  ছত্র খণ্ড,
♦ বৃন্দাবন খণ্ড,
♦  কালিয়দমন খণ্ড,
♦ যমুনা খণ্ড,
♦  হার খণ্ড,
♦ বাণ খণ্ড,
♦ বংশী খণ্ড ও
♦ বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৬৭১.
"আমার সন্তান" কবিতাটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
• "আমার সন্তান" কবিতাটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

'আমার সন্তান' কবিতাটি আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা সম্পাদিত 'মানসিংহ-ভবানন্দ' উপাখ্যানে'র 'অন্নদার ভবানন্দ ভবনে যাত্রা' কবিতার সম্পাদিত অংশ 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অংশবিশেষ। বাঙালি মায়ের নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে সন্তানের কল্যাণ কামনার চিরন্তন মানসিকতার বিষয়টি মুখ্য হয়ে এ কবিতায় ফুটে উঠেছে। কবিতাটিতে মধ্যযুগের শেষ পর্বের ভাষা-বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মধ্যযুগের সামাজিক প্রথা, সংস্কার, পৌরাণিক চরিত্র ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যাবে এই কবিতার মাধ্যমে। দেবীকর্তৃক ভক্তকুলের মনোবাঞ্ছনা পূরণের ধরন এবং রূপকের মাধ্যমে সমস্ত বাঙালি সন্তানের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আশীর্বাদের বিষয়টি নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই কবিতায়।

কবিতার কিছু অংশ:
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ॥

তথাস্তু বলিয়া দেবী দিলা বরদান।
দুধে ভাতে থাকিবেক তোমার সন্তান॥

----------------------
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭১২ সালে হুগলি জেলার ভুরশুট পরগনার পেঁড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় ভুরশুট পরগনার জমিদার ছিলেন, কিন্তু বর্ধমানের রাজার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়ে সপরিবারে ভারতচন্দ্রের মামাবাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকেই ভারতচন্দ্র মাত্র কুড়ি বছর বয়সের মধ্যে সংস্কৃত ব্যাকরণ, অভিধান ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

জীবনের বহু উত্থান-পতনের পর ভারতচন্দ্র নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজপরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন ও সভাকবি হন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেন এবং রায়গুণাকর খেতাব পান।

সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষার মিশ্রণে নতুন এক বাগভঙ্গি এবং তাতে শব্দ, ছন্দ ও অলঙ্কার প্রয়োগ ছিল তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যকে তুলনা করেছেন 'রাজকণ্ঠের মণিমালা'র সঙ্গে। তিনি ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সত্যপীরের পাঁচালী,
- রসমঞ্জরী,
- অন্নদামঙ্গল,
- নাগাষ্টক,
- গঙ্গাষ্টক,
- চণ্ডীনাটক।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
মধ্যযুগের কোন কবির সাহিত্য রচনার ভাষা ছিল সংস্কৃত?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. চণ্ডীদাস 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

• জয়দেব:
- কবি জয়দেব জাতিতে বাঙ্গালি হলেও, তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় প্রসিদ্ধ কবি। তাঁর সাহিত্যের ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই বলে ধারণা করা হয়। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
---------------------
• চণ্ডীদাস:
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

• গোবিন্দদাস:

সম্ভবত ষোল শতকের তৃতীয় দশকে গোবিন্দদাসের জন্ম এবং সতের শতকের দ্বিতীয় দশকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় সাত শ পদ রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু বাংলা পদ থাকলেও অধিকাংশ পদ ব্রজবুলিতে রচিত। বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে তিনি বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন, বিদ্যাপতির অলঙ্কার ও চিত্রকল্প তাঁকে বিমুগ্ধ করেছিল।

• জ্ঞানদাস:
সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্য। তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেম বেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।  ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য। তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬৭৩.
কৃত্তিবাস রামায়ণের অন্য নাম কী?
  1. রামাভিষেক
  2. শ্রীরাম পাঁচালি
  3. রামবিলাস
  4. রামচরিতমানস
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৪.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. কলিমা জালাল
  4. মদনকুমার ও মধুমালা
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।

• 'মধুমালতী' কাব্য:

- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

অন্যদিকে, 
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এর অংশবিশেষ 'কলিমা জালাল'। এটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ধারার গ্রন্থ নয়।
• 'দেওয়ানা মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 
• 'মদনকুমার ও মধুমালা' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৭৫.
ইউসুফ জোলেখা প্রণয়-কাব্যটি অনুবাদ করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. মাগন ঠাকুর
  3. আজম শাহ
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬৭৬.
'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।' - এটি কার উক্তি?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

• চণ্ডীদাস এর বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।'
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৬৭৭.
"সেক শুভোদয়া" গ্রন্থটি কার কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শেখ জালালুদ্দীন
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. রাজা শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৮.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - 
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কাশীরাম দাস
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা

- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৭৯.
রামায়ণ রচনায় কৃত্তিবাসকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছিলেন-
  1. ক) সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম
  2. খ) রুকনুদ্দীন বারবক শাহ
  3. গ) ইসলাম খান
  4. ঘ) পরাগলী খা
ব্যাখ্যা
রামায়ণের প্রথম অনুবাদকই এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক; তার নাম কৃত্তিবাস। কৃত্তিবাস কখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কোন রাজার আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন, এ নিয়ে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বেশ বড় এক বিতর্ক রয়েছে। কারণ তার দীর্ঘ এক আত্মপরিচিতিতে রাজার সবকিছু বর্ণনা করলেও তিনি রাজার নামটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছিলেন৷ আজ মনে করা হয় কবি কৃত্তিবাস তাঁর আত্মপরিচিতিতে যে-রাজার ইঙ্গিত করেছেন, তাঁর নাম রুকনুদ্দিন বারবক শাহ।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ
৬৮০.
'শূন্যপুরাণ' রচনা করেছেন -
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

• শূন্যপুরাণ: 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৮১.
'কবিকন্ঠহার' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি
  1. গোবিন্দদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে,
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ ও ‘কবীন্দ্র’ উপাধি দেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৮২.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. পদ্মাবতী
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮৩.
'ছুটি খাঁনী' মহাভারত খ্যাত গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. শ্রীকর নন্দী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
ব্যাখ্যা
• 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত:
- চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খান মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খাঁ সভাসদ শ্রীকর নন্দীকে মহাভারত অনুবাদের নির্দেশ দেন।
- ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল ‘অশ্বমেধ পর্বের’ অংশ নিয়ে শ্রীকর নন্দী 'ভারত পাঁচালী' রচনা করেন।
- শ্রীকর নন্দী রচিত ভারত পাঁচালী 'ছুটি খাঁনী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- কেউ কেউ বলে পরাগলী মহাভারতের অসম্পূর্ন অংশ সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীকর নন্দী।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

• দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’:
- ‘মহাভারত' কাব্যের মূল রচয়িতা হচ্ছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস। ‘মহাভারত' কাব্যগ্রন্থ টি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।


• কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৮৪.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থে বাংলার কোন শাসকের সময়কালের বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. শশাঙ্ক
  2. লক্ষণ সেন
  3. বখতিয়ার খলজী
  4. আলাউদ্দীন খলজী
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- সেক শুভোদয়া বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের এবং মিশ্র অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থ।
- অনেক গবেষকের মতে, গ্রন্থটির রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে। এরপর পুথি খণ্ডিত।
- জাললুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক) রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। রাজা লক্ষ্মণ সেন সেককে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত করেন। গ্রন্থটিতে উক্ত সেক সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়।

- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskrit' বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু 'কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন।
- পরে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৫.
'কবি' উপন্যাসে নিতাইচরণ কোন সম্প্রদায়ের লোক?
  1. বণিক
  2. ব্রাহ্মণ
  3. ডোম
  4. কায়স্থ
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৮৬.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) দৌলত কাজী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত উজির
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৬৮৭.
কোন খণ্ডটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) বৃন্দাবন
  2. খ) কালিয়দমন
  3. গ) জন্ম
  4. ঘ) সুখ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে 'সুখ' শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোনো খণ্ড নয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাছে কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এই পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষায় কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ এখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- কাব্যেগ্রন্থটির প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খন্ড হচ্ছে -
- জন্ম খন্ড, তাম্বুল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৮.
মণীন্দ্রমোহন বসু 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশ করেন?
  1. ব্রাহ্মণ
  2. ভারতী
  3. নারায়ণ
  4. কায়স্থ
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৮৯.
'ভাঁড়ুদত্ত' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. মনসাবিজয়
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯০.
সাতজন পরির থেকে শোনা সাতটি গল্পের সংকলিত গ্রন্থ-
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) তোহফা
  3. গ) সপ্তপয়কর
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
⇒ 'সপ্ত পয়কর' কাব্য:
- সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি ‘হফত্ পয়কর’ কাব্যের বাংলা অনুবাদ।
- 'সপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। 
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন হচ্ছে 'সপ্তপয়কর' কাব্যটি। 
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯১.
"কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥" - পঙক্তিটির রচয়িতা কে রচয়িতা-
  1. ক) ভারতচন্দ্র
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
- বড়ু চণ্ডীদাস আমাদের প্রথম মহাকবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

- তাঁর কবিতা থেকে কিছু অংশ হলো:
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নইকুলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।।
আকুল শরীর মোর বেআকুল মন।
বাঁশীর শবদেঁ মো আউলাইলোঁ রান্ধন॥
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি সে না কোন জনা।
দাসী হআঁ তার পাত্র নিশিবোঁ আপনা ॥...
অঝর ঝরএ মোর নয়নের পাণী।
বাঁশীর শবদেঁ বড়ায়ি হারায়িলোঁ পরাণী ॥

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৬৯২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪১০ টি
  2. ৪১৭ টি
  3. ৪১৮ টি
  4. ৪৫০ টি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
-  রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। 
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া 
২)বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৩.
'দৌলত কাজী' রচিত কাব্য কোনটি ?
  1. ক) লাইলী-মজনু
  2. খ) সতীময়না-লোরচন্দ্রানী
  3. গ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮):
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাজীবংশে তাঁর জন্ম বলে অনুমান করা হয়।
- তিনি বাল্যকালেই নানা শাস্ত্রে শিক্ষা লাভ করেন; কিন্তু স্বদেশে স্বীকৃতি না পেয়ে আরাকানে চলে যান এবং আরাকানরাজের সভাকবির মর্যাদা পান।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়।
- কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।
- হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. আলাওল 
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান 
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬৯৫.
বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য- 
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. গাজীবিজয়
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা

'জয়নবের চৌতিশা':
• শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'।
- এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।
- এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৬৯৬.
'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।' - মন্তব্যটি করেছেন কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
 - গঙ্গার তীরে নদীয়া জেলার ফুলিয়া গ্রামে মুখুটি বংশে ১৩৯৮, মতান্তরে ১৪০৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- কৃত্তিবাস ওঝা চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি, 'শ্রীরাম পাঁচালি' তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।
- কৃত্তিবাসের কৃতিত্ব হলো, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম রামায়ণ  রচনা করেন।
- বাল্মীকির রামায়ণকে সামনে রাখলেও তিনি মহাকাব্যটি অনুবাদ করে মূলত পুনঃরচনাই করেন।
- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৭.
'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের লেখক কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. মালাধর বসু 
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

• মালাধর বসু: 
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম  'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
- তাঁর একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৮.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. শ্রীচৈতন্য-বন্দনা
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়। 
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'। 
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷ 
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬৯৯.
কোন কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়।
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০০.
'রসিক নায়ক/ গুণীজন তোষক/ শ্রীযুক্ত আগুন/ দাতা' এই কবিতার চরণ কার রচনা?
  1. ক) ফকির লালন
  2. খ) পবন দাস বাউল
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
কবি আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যের 'জীবন-তত্ত্ব' অংশের শেষ চরণে এই পংক্তিটি পাওয়া যায়:

"রসিক নায়ক, গুণীজন তোষক, শ্রীযুক্ত মাগন দাতা।"

এই চরণে কবি মানবজীবনের বিভিন্ন গুণাবলির প্রশংসা করেছেন। 

'পদ্মাবতী' কাব্যটি আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।

উৎস: 'পদ্মাবতী' কাব্য।