বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৩০১৪০০ / ১,৩০২

৩০১.
বাঁকুড়া জেলার শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে কোন গ্রন্থের পুথি আবিষ্কৃত হয়?
  1. রামায়ণ 
  2. চর্যাপদ 
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২২ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি/ বড়াই।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি- বৈষ্ণব পদাবলির সমর্থা নায়িকা। তাদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৩০৩.
মধ্যযুগের নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৪.
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

অন্যদিকে,
- শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া, নিরঞ্জনের উষ্মা, বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩০৫.
'মালাধর বসু' কোন সুলতানের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌
  2. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৬.
'ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• 'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থটির লেখক - রাধারমণ গোপ।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৭.
"বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্‌
  2. হাসন রাজা
  3. দ্বিজ কানাই
  4. সিরাজ সাঁই
ব্যাখ্যা
• "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:

- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছে - ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩০৮.
মহাকবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন?
  1. ফারসি
  2. হিন্দি
  3. উর্দু
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মহাকবি আলাওল হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খণ্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৯.
"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।- কার রূপের বর্ণনায় পঙক্তিদ্বয় রচিত ?
  1. ক) পদ্মাবতীর
  2. খ) মধুবালার
  3. গ) চন্দ্রাবতীর
  4. ঘ) মৃগাবতীর
ব্যাখ্যা
• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
• তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায় (মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
• প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

পদ্মাবতীর রূপবর্ণনার কিছু অংশ হলো:

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
রামায়ণের অনুবাদক নয় কে?
  1. ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. খ) কৃত্তিবাস
  3. গ) নিত্যানন্দ আচার্য
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য এ ক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখযোগ্য রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝা। বড়ু চন্ডীদাসের পরে তিনিই বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত রামায়ণ বাংলা ভাষায় প্রথম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্য। বর্ণনার হূদয়গ্রাহিতা এবং ভাষার প্রাঞ্জলতাই এর জনপ্রিয়তার কারণ। কৃত্তিবাস ১৫শ শতকের গোড়ার দিকে জীবিত ছিলেন। তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বাঙালি-জীবন প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে। ১৮০২-৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন থেকে মুদ্রিত হয়। মুদ্রণের সঙ্গে সঙ্গে তা সমগ্র বঙ্গদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। কৃত্তিবাসের পরে আরও অনেকে রামায়ণ রচনা করেছেন। সতেরো শতকে ময়মনসিংহের মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতীর রামায়ণগাথা সে অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। উত্তরবঙ্গের অদ্ভুত আচার্য রামায়ণ গায়ক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। নোয়াখালীর দ্বিজ ভবানী দাসের শ্রীরামপাঁচালি কাব্য অধ্যাত্ম্যরামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ হচ্ছে কবীন্দ্র মহাভারত। ১৫১৫-১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কবীন্দ্র পরমেশ্বর এটি রচনা করেন। লস্কর পরাগল খাঁর নির্দেশে রচিত বলে এটি পরাগলী মহাভারত নামেও পরিচিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩১১.
‘সই কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধুয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া’ এ অমর উক্তির রচয়িতা কে?
  1. ভারত চন্দ্র
  2. লুইপা
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১২.
মুহম্মদ কবির কোন ধরনের কাব্যের জন্য পরিচিত?
  1. প্রহসন
  2. প্রণয়োপাখ্যান
  3. ধর্মীয় কাব্য
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

 মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা।
• চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুঁথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৩.
‘জ্ঞানচৌতিশা’ - গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। 
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ, 
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৪.
কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা,
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলো’- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
‘কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা,
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলো’- পঙক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

 - ভারতচন্দ্র রায় মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি যিনি রাজরোষে কারাগারে যান।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৫.
‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কোন শতকে রচিত?
  1. পঞ্চদশ
  2. ষোড়শ
  3. সপ্তদশ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সপ্তদশ শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

• ''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।  

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
'আমীর হামজা(প্রথম অংশ)’ রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ কবীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।

৩১৭.
কৃত্তিবাস ওঝা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নির্দেশে বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন
  3. বাংলা রামায়ণের আদি কবি
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

• তিনি আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন। - এটি সঠিক নয়।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:

- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি 'কৃত্তিবাস ওঝা'।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে 'উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল 'মুখোপাধ্যায়'।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসুদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি - সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৮.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূন্যপুরাণ
  3. পদাবলী কীর্তন
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ হচ্ছে 'শূন্যপুরাণ'।

• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৯.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি কে?
  1. মুহম্মদ খান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. সাবিরিদ খান
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
রাধা কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
⇒ বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
• তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্র জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২১.
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য প্রথম কে রচনা করেন?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
• ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, হানিফা-কয়রাপরী, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, জেবলমুলুক-শামারোখ প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি ফারসি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
• গুলে-বকাওলী, লোরচন্দ্রানী, পদ্মাবতী, মধুমালতী, গদামল্লিকা প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি হিন্দি-আরবি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২২.
মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. কলিমা জালাল
  2. সত্যপীরের পুঁথি
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
ব্যাখ্যা
• মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য - সত্যপীরের পুঁথি।

জঙ্গনামা:

- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৩.
বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যযুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৬০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৪৫০ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৪০০ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যযুগের সময়কাল - ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

শ্রী চৈতন্যদেব:
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ। - শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’। ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৪.
বৃন্দাবন দাস কোন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পরিচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. জীবনীকাব্য
  3. তাত্ত্বিক কাব্য
  4. শৃঙ্গার কাব্য
ব্যাখ্যা
বৃন্দাবন দাস ও বাংলা সাহিত্যের জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৫.
কাশীরাম দাসের অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মেঘদূত
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
মহাভারত প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। এর মূল রচয়িতা (সংস্কৃত ভাষায়) কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।সতের শতকের কবি কাশীরাম দাস মহাভারতের বিখ্যাত, জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। কাশীরাম দাসের মহাভারতের দুটি পঙক্তি- 'মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশারাম দাস ভনে শােনে পুন্যবান।'
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর
৩২৬.
কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত বাংলা রামায়ণ কোন ছন্দে রচিত?
  1. লোকছন্দে
  2. পয়ার ছন্দে
  3. মেয়েলি ছন্দে
  4. লৌকিক ছন্দে
ব্যাখ্যা
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৭.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদ সংখ্যা-
  1. ক) ৫০টি
  2. খ) ৫১টি
  3. গ) ৪৭টি
  4. ঘ) ৪৬টি
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতান্তর আছে।
- সুকুমার সেনের হিসেবে ৫১ টি এবং ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বলেছেন ৫০ টি।
- চর্যাপদ ছিন্নাবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি।
- সুকুমার সেন তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থেও ৫০ জন কবির পদ উল্লেখ করেছেন।
- তবে আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নাই, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- এটা ধরলে পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১টি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২৮.
আরব্য উপন্যাস কাহিনি অবলম্বনে দোনাগাজী চৌধুরীর অনুবাদক কাব্য-
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. গুলে বকাওলী
  3. হানিফা কয়রাপরী
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
• দোনাগাজী চৌধুরী:
- দোনাগাজী চৌধুরী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।
- তাঁর রচিত ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আলেফ-লায়লা বা আরব্য উপন্যাস।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনি অনুলিখিত হয়েছে।
- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. জয়দেব 
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড় চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩০.
প্রথম বাংলায় মহাভারত অনুবাদ করেন কে?
  1. জয়দেব
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা

মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩১.
মালাধর বসু ছিলেন- 
  1. রামায়ণের বাংলা অনুবাদক
  2. ভগবতের বাংলা অনুবাদক
  3. মহাভারতের বাংলা অনুবাদক
  4. মনসামঙ্গল কাব্যের কবি 
ব্যাখ্যা

• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩২.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধারার পদ রচনা করে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. শাক্ত পদাবলী
  2. বৈষ্ণব পদাবলী
  3. জঙ্গনামা পদাবলী
  4. নাথ পদাবলী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন কভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
• 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

তাঁর বিখ্যাত গান-
• ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’, ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’, ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
'নবী বংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

• 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - সৈয়দ সুলতান।

• 'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো -
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৪.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-লীলা
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৫.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) A Code of Gento Laws
  2. খ) The Development of Bengali Language
  3. গ) History of Bengali Language
  4. ঘ) Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচনা করেন 'A Code of Gento Laws' ।
- গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন
- সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
-------------------------
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত  A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।

Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the BengaliLanguage' (১৮০১)
দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature 
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৬.
'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্যটি কোন সাহিত্য ধারার নিদর্শন?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. লোকসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৭.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মঙ্গল কবিরত্ন
  2. নাগরিক কবি
  3. অলঙ্কার কবি
  4. কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩৩৮.
‘কানু ছাড়া গীত নাই’- কোন যুগের সাহিত্যের ক্ষেত্রে সত্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. অন্ধকার যুগে
  4. আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা
• কানু ছাড়া গীত নাই- মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- কানু হলেন কৃষ্ণ।

- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা হলো:
বৈষ্ণব সাহিত্য,
মঙ্গলকাব্য,
অনুবাদ সাহিত্য,
নাথ সাহিত্য,
জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য,
লোক সাহিত্য ধারা ইত্যাদি।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারা গুলোর মধ্যে পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ বৈষ্ণব সাহিত্যধারা।
- এ সময় বাংলায় কৃষ্ণকথা এবং শ্রীকৃষ্ণ অধিক জনপ্রিয় ছিল।
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যগ্রন্থ টি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কাহিনি অবলম্বনে রচিত মধ্যযুগের প্রথম বাংলা ভাষার কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩৩৯.
বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত কবি কে?
  1. কৃষ্ণদাস সেন 
  2. বৃন্দাবন দাস
  3. লোচন দাস
  4. বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

• বৃন্দাবন দাস ও বাংলা সাহিত্যের জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উল্লেখ্য,
- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ''চৈতন্যমঙ্গল''।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত- চৈতন্য-চরিতামৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩৪০.
কোন সাহিত্যকর্মটি ‘রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য একটি সাহিত্যিক মহাকাব্য।
- এটি বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
শ্রীহর্ষ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. সেক শুভোদয়া
  3. প্রাকৃত পৈঙ্গল
  4. নিলপুরাণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘নিলপুরাণ’ (১৭৩৫) সহদেব চক্রবর্তী রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৩৪২.
পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত অনুবাদটি কার রচনা?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কবীন্দ্র পরশ্বের
  3. কাশীরাম দাস
  4. দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা

• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন মহাকাব্যগুলোর অন্যতম।
- এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃত।
- ‘মহাভারত’ শব্দের অর্থ—ভারত বংশের উপাখ্যান।

- এই মহাকাব্য রচনা করেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস (ব্যাসদেব)।
- মহাভারতে মোট ১৮টি পর্ব বা খণ্ড রয়েছে।
- এতে প্রায় ৮৫,০০০ শ্লোক এবং প্রায় ১,৭০,০০০ চরণ বা পঙক্তি সংকলিত হয়েছে।
- কুরুক্ষেত্র যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কৌরব ও পাণ্ডবদের বংশকথা, ধর্ম, নীতি, রাজনীতি এবং মানবজীবনের জটিলতা এই মহাকাব্যের মূল বিষয়বস্তু।
- যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল ১৮ দিন। 

- বাংলা ভাষায় মহাভারতের প্রথম অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরশ্বের।
- তিনি পরাগল খাঁ-এর আদেশে মহাভারতের সারসংক্ষেপ অনুবাদ করেন; তাই এ অনুবাদ ‘পরাগলী মহাভারত’ নামে পরিচিত।
- পরে শ্রীকর নন্দী ছুটি খানের আদেশে মহাভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন, যা ‘ছুটি খানি মহাভারত’ নামে খ্যাত।
- বাংলা সাহিত্যে মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হিসেবে কাশীরাম দাস সর্বাধিক স্বীকৃত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
সৈয়দ সুলতান এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা 'নবীবংশ' কাব্য কোন ভাষা থেকে অনুবাদকৃত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮) এর সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত। 
- গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত। 
- এটি হযরত মুহম্মদের জীবনী কাব্য। 
- এর দ্বিতীয় খন্ডের নাম 'রাসুল চরিত' 

- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা ও
- জয়কুম রাজার লড়াই  । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৪.
‘চন্দ্রাবতী' কোন ধরনের কাব্য?
  1. ধর্মীয় অনুবাদ কাব্য
  2. জীবনী কাব্য
  3. লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য
  4. বীরত্বগাথা কাব্য
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না।মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৫.
বাংলা শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার হিসেবে পরিচিত -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
'দেওয়ানা মদিনা' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) নাথ গীতিকা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  4. ঘ) মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা -  করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকা গুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ  উল্লেখযোগ্য।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
 
৩৪৭.
“না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তুমার ইচ্ছা আমার মরণ।।”
পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) লাইলী-মজনু
  2. খ) ইউসুফ-জুলেখা
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটি শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যের অন্তর্গত। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩৪৮.
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা- কবি সুফিয়া কামাল। 

জন্মেছি এই দেশে
- সুফিয়া কামাল

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।

আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।

এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাসা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।

শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড় গৌরবে মাথা উচু করি
মানুষ হইতে চায়।

উৎস: জন্মেছি এই দেশে কবিতা- সুফিয়া কামাল। 
৩৪৯.
"সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ||"
- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"সুখের লাগিয়া                    এ ঘর বাঁধিনু
              অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে                    সিনান করিতে
                সকলি গরল ভেল ||"
-
পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা জ্ঞানদাস।

- চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জ্ঞানদাস।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দু'শ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- জ্ঞানদাস বাংলা ভাষাকে ভাব প্রকাশের উপযুক্ত বাহন করতে পেরেছিলেন। রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শব্দচিত্র ও ধ্বনিচিত্র এ দুয়ের রূপায়ণে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। বৈষ্ণবদের মধ্যে তিনিই প্রথম সার্থকভাবে দেহ ও মন, রূপ ও স্বরূপের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫০.
বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কবিকণ্ঠহার
  2. কবিরঞ্জন
  3. নব কবিশেখর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

•  তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৫১.
‘পণ্ডিত ঠাকুর’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৫২.
কোন কবির রচনা ধারাকে অনুসরণ করে জ্ঞানদাস পদ রচনা করতেন?
  1. গোবিন্দদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. দ্বীজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। 
​- প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৩৫৩.
মধ্যযুগের আদি কবি-
  1. ক) বড়ু চন্ডীদাস
  2. খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
  3. গ) দীন চন্ডীদাস
  4. ঘ) চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি।

চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়: 

১. বড়ু চন্ডীদাস
২. দ্বিজ চন্ডীদাস
৩. দীন চন্ডীদাস ও 
৪. চন্ডীদাস

- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকে চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)। তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণির ব্রাহ্মণ।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৪.
বিদ্যাপতি রচিত 'নীতিশিক্ষা' বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. পুরুষপরীক্ষা
  2. কীর্ত্তিলতা
  3. দানবাক্যাবলী
  4. গঙ্গাবাক্যাবলী
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি: 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজসভার একজন বিখ্যাত কবি, যিনি চতুর্দশ শতকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন। মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁর রচনায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, বিদ্যাপতিকে ‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

• ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে বিদ্যাপতিকে বোঝায়। যেমন কোকিল তার সুমধুর গান দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, তেমনই বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদাবলি ও গীতিকবিতা রচনা করে সবার হৃদয় জয় করেন। এই কারণে তাঁকে মৈথিল কোকিল নামে অভিহিত করা হয়।

• বিদ্যাপতি একজন বৈষ্ণব কবি ছিলেন এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলিগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
• পুরুষপরীক্ষা (নীতিশিক্ষা),
• লিখনাবলী (পত্র লেখার রীতি),
• কীর্ত্তিলতা (ইতিহাস),
• ভূ-পরিক্রমা (ভূগোল),
• দানবাক্যাবলী (দানসংক্রান্ত),
• দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী (স্মৃতিমূলক),
• শৈবসর্বস্বসার,
• বিভাগসার (স্মৃতিমূলক),
• গঙ্গাবাক্যাবলী (তীর্থস্থান),
• কীর্তিপতাকা (অবহট্ঠ ভাষায় রচিত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৫.
'মহুয়া' পালার চরিত্র নয় কোনটি?
  1. নদের চাঁদ
  2. হুমরা বেদে
  3. কমলা
  4. সাধু
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা: 
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৬.
রামপ্রসাদ সেন রচিত পদগুলোকে কী বলা হয়?
  1. শ্যামা সঙ্গীত
  2. রামপ্রসাদী
  3. শাক্ত পদাবলি
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন রচিত পদগুলোকে বলা হয়- শ্যামা সঙ্গীত, রামপ্রসাদী, শাক্ত পদাবলি। 
----------------- 
• রামপ্রসাদ সেন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:
- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

• রামপ্রসাদ সেনের একটি বিখ্যাত গান-

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৭.
'সত্যপীরবিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. ভবানী দাস
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
• 'সত্যপীরবিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ। 

শেখ ফয়জুল্লাহ:

- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৫৮.
'মধুমালতী' কাব্যটি কোন কবির কাব্যের অবলম্বনে রচিত?
  1. মালিক মুহম্মদ জায়সী
  2. হিন্দি কবি মনঝন
  3. আলাওল
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন।
- তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৯.
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান ধারার প্রবর্তক-
  1. সাবিরিদ খান
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
শাহ মুহাম্মদ সগীর:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪ -এর শেষে থেকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন।
- পনের শতকের প্রথমে ”ইউসুফ জোলেখা” কাব্য রচনা করার মাধ্যমে তিনি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধরার প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩৬০.
নিচের কোনটি চম্পুকাব্য?
  1. গীতগোবিন্দম্
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. শূন্যপুরাণ
  4. ভাগবত
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
-গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন। 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের  অন্তর্গত একটি কবিতা।

অন্যদিকে, 
• গীতগোবিন্দম্: জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য: মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• 'ভাগবত' পুরাণ বিষ্ণুভক্তি বা বৈষ্ণবধর্মকেন্দ্রিক। বিশেষত ভগবান কৃষ্ণের লীলা, গোপীগণ ও ভক্তির মাহাত্ম্য এখানে বিশদভাবে বর্ণিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬১.
মহর্ষি বাল্মীকি কোন ভাষায় 'রামায়ণ' রচনা করেন?
  1. সংস্কৃত ভাষায়
  2. হিন্দি ভাষায়
  3. ব্রজবুলি ভাষায়
  4. অসমীয়া ভাষায়
ব্যাখ্যা
• মহাকাব্য "রামায়ণ":
- রামায়ণ প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য। এর রচনাকাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক।

- অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্রের জীবন-কাহিনি এর মুখ্য বিষয়। কাব্যটি সপ্তকাণ্ড বা সাত খণ্ডে বিভক্ত।

- আদিকাণ্ডে রামের জন্ম ও বাল্যজীবন; অযোধ্যাকাণ্ডে অযোধ্যা থেকে রামের নির্বাসন; অরণ্যকাণ্ডে রাম-লক্ষ্মণ-সীতার বনবাস ও রাবণ কর্তৃক সীতাহরণ; কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ডে বানররাজ সুগ্রীবের সঙ্গে রামের মিত্রতা; সুন্দরকাণ্ডে রামের সসৈন্যে লঙ্কা গমন; লঙ্কাকাণ্ডে রাম-রাবণের যুদ্ধ, যুদ্ধে রাবণের পরাজয় ও সবংশে মৃত্যু, রাম কর্তৃক সীতা উদ্ধার ও রাবণভ্রাতা বিভীষণকে লঙ্কার রাজা করে সদলে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন; এবং উত্তরকাণ্ডে রামচন্দ্র কর্তৃক সীতাবিসর্জন, লব-কুশের জন্ম, রাম-সীতার পুনর্মিলন এবং মৃত্যু এ বিষয়গুলি বর্ণিত হয়েছে। এই সপ্তকাণ্ডের প্রতিটি আবার একাধিক সর্গ বা অধ্যায়ে বিভক্ত। 

- চতুর্দশ শতকে কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত।

- পরে ষোড়শ শতকে আসামের কবি মাধব কন্দলী এবং শঙ্করদেব যৌথভাবে প্রাচীন অসমীয়া ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন। সতেরো শতকে অদ্ভুত আচার্য (নিত্যানন্দ) রচিত অদ্ভুতাচার্য রামায়ণ উত্তরবঙ্গে বেশ জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু পরে কৃত্তিবাসী রামায়ণ সে স্থান দখল করে।

- একই শতকে আরও অনেক বাঙালি কবি রামায়ণ রচনা করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- দ্বিজ লক্ষ্মণ, কৈলাস বসু, ভবানী দাস, কবিচন্দ্র চক্রবর্তী, মহানন্দ চক্রবর্তী, গঙ্গারাম দত্ত ও কৃষ্ণদাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা-
  1. মালাধর বসু
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. কবি কঙ্ক
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতাব্দীর কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- ‘চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য। সম্ভবত মানিক দত্ত এই কাব্যধারার প্রথম কবি।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৩.
দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. নসীরানাম 
  4. নূরনামা
ব্যাখ্যা

 দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।

সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী':

- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
- তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।
- তিনি তাঁর রচনায় রামায়ণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে অনুষঙ্গ ব্যবহারে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৪.
বিদ্যাপতি কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. আরাকান রাজসভা
  2. গৌড় রাজসভা
  3. মিথিলা রাজসভা
  4. নবদ্বীপ রাজসভা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।

৩৬৫.
'মনসাবিজয়' কাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. দ্বিজ মদন
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেন।

• মনসাবিজয়':
- মধ্যযুগের 'মনসাবিজয়' কাব্যটি রচনা করেছেন- 'বিপ্রদাস পিপিলাই'।
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই।
- তিনি বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল(পদ্মপুরাণ) রচনার প্রায় এক বৎসর পরে তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।

অপরদিকে, 
দ্বিজ মদন - চণ্ডীমঙ্গলের কবি।
ঘনরাম চক্রবর্তী - ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
'আমীর হামজা' কাব্যের প্রথম অংশ রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ হামজা 
  2. দৌলত কাজী 
  3. শাহ্ গরীবুল্লাহ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

'আমীর হামজা':
- 'আমীর হামজা' মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য।
- এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়।
- এর প্রথম অংশ শাহ্‌ গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন।
- কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর পিতৃব্য ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের বিরোধ ও যুদ্ধ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু।

------------------------
• শাহ্‌ গরীবুল্লাহ:
- শাহ্‌ গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৭০-১৭৭০) দোভাষী পুথি রচয়িতা। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
- সেগুলি হলো: ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা, সোনাভান, সত্যপীরের কথা এবং আমীর হামজা (১ম খণ্ড)।
- কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬৭.
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া? আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- লাইনটির রচয়িতা 'দ্বিজ চণ্ডীদাস'।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 

 চণ্ডীদাসরে বিখ্যাত উক্তি:
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?

আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেন: 
- বড়ু চণ্ডীদাস
- দ্বিজ চণ্ডীদাস
- দীন চণ্ডীদাস
- চণ্ডীদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?
  1. বাঁকুড়া জেলা
  2. নেপালের রাজগ্রন্থগার
  3. বগুড়া জেলা
  4. কৃষ্ণনগর
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৯.
বাংলায় রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কে? 
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. বাল্মীকি
  3. চন্দ্রাবতী
  4. গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন মহাকাব্য।
- এটি  বিশ্বের চারটি জাত মহাকাব্যের অন্যতম।
- ‘রামায়ণ’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- রামের যাত্রা। 

- মহাকাব্যটির রচয়িতা বাল্মীকি।
- তাঁর পূর্বনাম রত্নকার, যিনি একসময় দস্যু ছিলেন।
- ‘বাল্মীকি’ শব্দের অর্থ উইপোকার ঢিবি। 

- রামায়ণ ৩২ অক্ষরবিশিষ্ট অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত;
- এতে রয়েছে ৫০০টি সর্গ, ২৪,০০০ শ্লোক ও ৪৮,০০০ পঙক্তি।
- গ্রন্থটি সাতটি কাণ্ডে বিভক্ত—
- আদিকাণ্ড,
- অযোধ্যাকাণ্ড,
- অরণ্যকাণ্ড,
- কিষ্কিন্ধাকাণ্ড,
- সুন্দরকাণ্ড,
- যুদ্ধ/লঙ্কাকাণ্ড ও উত্তরকাণ্ড। 

- বাংলা সাহিত্যে রামায়ণের প্রথম অনুবাদক পঞ্চদশ শতকের কবি কৃত্তিবাস ওঝা
- তিনি গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম নারী অনুবাদক চন্দ্রাবতী।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি; তাঁর পিতা কবি দ্বিজ বংশীদাস।

- রামায়ণের প্রধান চরিত্র রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, দশরথ, রাবণ, বিভীষণ ও হনুমান।
- বিষ্ণুর অবতার রামের দ্বারা রাক্ষস রাবণবধকে কেন্দ্র করে এই মহাকাব্যে মানবজীবনের কর্তব্যবোধ, ধর্মবোধ, নৈতিকতা, প্রেম, ত্যাগ ও অস্তিত্বের জটিল প্রশ্ন গভীরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৭০.
‘কবিরাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় মধ্যযুগের কোন কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল - কবিকঙ্কন।
• কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো - কবিকন্ঠহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭১.
বাংলা ভাষায় রচিত মধ্যযুগের কোনো লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল 
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. বৈষ্ণব পদাবলী 
  4. সেক শুভোদয়া 
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।

- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো- জন্ম খণ্ড, তাম্বুল খণ্ড, দান খণ্ড, নৌকা খণ্ড, ভার খণ্ড, ছত্র খণ্ড, বৃন্দাবন খণ্ড, কালিয়দমন খণ্ড, যমুনা খণ্ড, হার খণ্ড, বাণ খণ্ড, বংশী খণ্ড ও বিরহ খণ্ড।

অন্যদিকে, 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়। সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

• মনসামঙ্গল ও বৈষ্ণব পদাবলী কোনো একক লেখনের রচনা নয়। এই দুইটি গ্রন্থে একাধিক কবির পদ ও ভণিতা রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩৭২.
কবিওয়ালা ছিলেন না কে?
  1. ক) গোঁজলা গুই
  2. খ) হুরু ঠাকুর
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
আঠার শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা ও মুসলিম সমাজে শায়েরের উদ্ভব ঘটে।
কবিওয়ালাদের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো গোঁজলা গুই, হুরু ঠাকুর, এন্টনি ফিরিঙ্গি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৩.
হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির কাব্যের অনুবাদ কোনটি?
  1. চন্দ্রবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. লায়লী-মজনু
  4. ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৪.
'রামায়ণ' - কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত ভাষায়
  2. সান্ধ্য ভাষা
  3. ব্রজবুলি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭৫.
‘শূণ্যপুরাণ’ গ্রন্থটি মোট কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত? 
  1. ২৫টি
  2. ৪১টি
  3. ৫১টি
  4. ৬১টি
ব্যাখ্যা

শূণ্যপুরাণ:
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে “সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি” বলে অভিহিত করেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
♦ চণ্ডীদাস:
-  চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩৭৭.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা
  2. মিথিলার রাজসভা
  3. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  4. আরাকান রাজসভা
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি।
- তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) কেউই না
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যে অনেকগুলি প্রণয়বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩৭৯.
'কবীন্দ্র' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জয়দেব 
  3. বিদ্যপতি
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮০.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থটি বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন কে?
  1. মণীন্দ্রমোহন বসু
  2. সুকুমার সেন
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ সেক শুভোদয়া: 
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। 
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮১.
‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের লেখক কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. চন্দ্রাবতী
  3. কেরেশী মাগন ঠাকুর 
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ 
ব্যাখ্যা

• ‘চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা — কেরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে।
- তবে মাগন ঠাকুর — আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না।
- মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

- উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতী নামে ময়মনসিংহ গীতিকার একজন মহিলা কবি রয়েছেন যিনি প্রথম রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
- আরও উল্লেখ্য, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে মৈমনসিংহ-গীতিকায় নয়ানচাঁদ ঘোষ নামে একজন কবির পালা রয়েছে।
- এই পালাটি বিভিন্ন নামে পরিচিত - ‘জয়-চন্দ্রাবতী’, 'চন্দ্রাবতী চরিত', 'চন্দ্রাবতী উপাখ্যান'।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলার পুরনারী - দীনেশচন্দ্র সেন।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮২.
নিচের কোনটি কবি আলাওলের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. সিকান্দার নামা
  2. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  3. সপ্তপয়কর
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা

• কবি আলাওলের রচিত গ্রন্থ নয় - মধুমালতী।
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।

আলাওল:
- আলাওল আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮৩.
'নাগরিক কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. আলাওল
  4. বিজয়গুপ্ত
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৪.
বিজয় গুপ্ত কার শাসনামলে কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নাসিরুদ্দিন নুসরত শাহ
  3. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  4. হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
বিজয় গুপ্ত:
- কবি বরিশাল জেলার বর্তমান গৈলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এ গ্রামের প্রাচীন নাম ফুল্লশ্রী।
- কবি তাঁর কাব্যে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন:

স্থানগুণে যেই জন্মে সেই গুণময়।
হেন ফুল্লশ্রী গ্রামে নিবসে বিজয়।।

- বাংলা সাহিত্যে সুস্পষ্ট সনতারিখ যুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত।
- কবির কাব্যের উল্লিখিত একটি শ্লোক থেকে অনুমিত হয় তিনি গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের আমলে ১৪৯৪ সালে কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৫.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে ‘চণ্ডী' কার স্ত্রী ছিলেন?
  1. ব্রহ্মা
  2. শিব
  3. চাঁদ সওদাগর
  4. বিষ্ণু
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'চণ্ডী' দেবতা - শিবের স্ত্রী ছিলেন

চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি রয়েছে।

কাহিনি সংক্ষেপ:
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৬.
দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামে খ্যাত ছিলেন মধ্যযুগের কোন কবি?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. লোচনদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।

গোবিন্দদাসের উপাধিগুলো হলো-
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তির কিছু অংশ:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৭.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কার অনুরোধে 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য রচনা করেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  4. রাজা রঘুনাথ রায়
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং
- এটি এ শ্রেণির কাব্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৮.
আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন-
  1. বিদ্যাপতি 
  2. চণ্ডীদাস 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়:
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী। মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।

- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য। 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- ভারতচন্দ্র ছিলেন 'ব্যাকরণ অভিধান সাহিত্য নাটক অলঙ্কার সঙ্গীত শাস্ত্রের অধ্যাপক এবং পুরাণ-আগম-পারসী-নাগরী -বেত্তা।'

- ভারতচন্দ্রের জন্মকাল নিয়ে মতানৈক্য আছে। ঈশ্বরগুপ্ত কর্তৃক উল্লেখিত ১৭১২ সাল সঠিক জন্মসাল নয়। বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান মিলিয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, ভারতচন্দ্র আঠার শতকের গোড়ার দিকে ১৭০৫ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য সর্বশেষ তথ্য বিবেচনা করে ১৭০৭ সালে ভারতচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল বলে মনে করেন। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বর্তমান বর্ধমান বিভাগের ভুরসুট পরগনায় আধুনিক হাওড়া জেলার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

- চল্লিশ বৎসর বয়সে ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি নিযুক্ত হন। তাঁর মাসিক বেতন হয় চল্লিশ টাকা। কবি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে প্রতিদিন কবিতা রচনা করে শোনাতেন। তাঁর কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা তাঁকে 'গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন এবং প্রচুর ভূসম্পত্তি উপহার দেন। 

- ভারতচন্দ্র মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। কবি গ্রন্থোৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিকে দেবীর আদেশ, অন্যদিকে রাজার আদেশে কাব্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি ছিলেন ব্রজবুলি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

• চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৮৯.
পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য কোনটি?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. মোহাম্মদ নামা
  3. সেক শুভদয়া
  4. নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য - সেক শুভদয়া।
- এটি পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য।
- গ্রন্থটির অধ্যায় মোট ২৫ টি।
- এটি সংস্কৃত গদ্যে ও পদ্যে রচিত চম্পুকাব্য।
- গবেষকদের মতে এর রচনাকাল ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে।
- এটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বের নাম 'শূন্যপুরাণ।
- এর কোনটি বাংলা ভাষায় রচিত নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯০.
মধ্যযুগের কোন কবির কাব্যে উপন্যাসের লক্ষণ ফুটে উঠেছে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যে উপন্যাসের লক্ষণ ফুটে উঠেছে। 

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যে উপন্যাসের প্রভাব: 
- মুকুন্দরামের কাব্য মানবজীবনরসে পূর্ণ।
- স্বভাবগত কবিত্ব শক্তির প্রসাদে তাঁর কাব্যে উপন্যাসের বর্ণনা-নৈপুণ্য, নাটকের দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং বিচিত্র জীবনরসের প্রকাশ ঘটেছে।
- বস্ত্ততান্ত্রিক ঔপন্যাসিকদের অগ্রদূত মুকুন্দরামের মুরারি শীল, ভাঁড়ুদত্ত ও ফুল্লরা চরিত্র বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি।
- এসব কারণে তাঁর চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এক অভিনব সৃষ্টি। 
--------------
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- রাজা রঘুনাথ রায় তাঁকে গুরুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাঁর অনুরোধে বিখ্যাত পাঁচালি চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং
- এটি এ শ্রেণির কাব্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। 
-------------------
অন্য অপশনে, 
• মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
•  চৈতন্য পরবর্তী যুগের বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম প্রধান পদকর্তা হলেন জ্ঞানদাস।
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯১.
‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) মহাকবি আলাওল
  2. খ) আবদুল হাকিম
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  5. ঙ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম (১৬২০-১৬৯০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মুসলমান কবি।
আবদুল হাকিম প্রধানত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি ছিলেন।

‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।
কবি এই কবিতায় তাঁর গভীর উপলব্ধি ও বিশ্বাসের কথা নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন।

তাঁর কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা 
- নূরনামা 
- দুররে মজলিশ 
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক 
- হানি-ফার লড়াই 



[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি ।]
৩৯২.
"নাথসাহিত্য" কোন যুগের সাহিত্যধারা?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯৩.
মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন কে?
  1. মুরারি গুপ্ত
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
• কৃত্তিবাসের রামায়ণ:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি। তিনি  রাজশাহী জেলার অন্তর্গত প্রেমতলীর নিকটে, মতান্তরে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার গঙ্গাতীরবর্তী ফুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- বাল্মীকির রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করে কবি কৃত্তিবাস মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন।

- কালের আবর্তে এই অমর কবির প্রকৃত সৃষ্টিরূপ, তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় বিলীন হয়ে গেলেও, তিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যে অবিনশ্বর ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে ড. সুকুমার সেন 'অসমসাহসিকতার নামান্তর' বলে অভিহিত করেছেন।

- কৃত্তিবাসের কবিকীর্তি আশ্রয় করেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে অনুবাদকর্মের সগৌরব সূত্রপাত ঘটেছিল। বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।

- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে  শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়। তারপর জয়গোপাল তর্কালঙ্কারের সম্পাদনায় ১৮৩০-৩৪ সালে দু খণ্ডে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে অদ্যাবধি রামায়ণের যতগুলি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির মধ্যে শ্রীরামপুরের প্রথম সংস্করণের পাঠই সর্বোত্তম বলে মনে করা হয়।

- কৃত্তিবাসের পরে আরও অনেকে বাংলায় রামায়ণ রচনা করেছেন, কিন্তু খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তাঁকে কেউ অতিক্রম করতে পারেননি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৪.
শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. পঞ্চদশ
  2. ষোড়শ
  3. সপ্তদশ
  4. দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৫.
'নবীবংশ' গ্রন্থের কোন খণ্ডটি পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত?
  1. প্রথম খণ্ড
  2. উপসংহার
  3. দ্বিতীয় খণ্ড
  4. শেষ খণ্ড
ব্যাখ্যা

'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খণ্ড রসুল চরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনিকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো-
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯৬.
চণ্ডীদাস কোন সাহিত্য ধারার আদি কবি?
  1. নাথসাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৭.
বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন? 
  1. মিথিলার
  2. নবদ্বীপের
  3. বর্ধমানের
  4. বৃন্দাবনের
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি। 
- মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়। 
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯৮.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মানিক দত্ত

চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৯৯.
‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর,
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।।' - পঙক্তিটি মিথিলার কবি বিদ্যাপতি রচিত "বর্ষাবিরহের" একটি পদ।

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০০.
কোন রাজসভা কর্তৃক ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. আরাকান রাজসভা
  2. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা
  3. রোসাঙ্গ রাজসভা
  4. কৃষ্ণনগর রাজসভা
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।