বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা ১০ / ১৩ · ৯০১১,০০০ / ১,৩০২

৯০১.
'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  3. হানিফার লড়াই
  4. নূরনামা
ব্যাখ্যা

'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

আবদুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০২.
আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মানিক দত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। মধ্যযুগের 'শেষ বড়' কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী'।

অন্যদিকে, 
• 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানাহরি দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৩.
মধ্যযুগে রচিত ‘চন্দ্রাবতী’ একটি-
  1. ক) নাটক
  2. খ) পালাগান
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) পদাবলী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতীকোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ
- মধ্যযুগে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের বিকাশে কোরেশী মাগন ঠাকুরের অবদান অবিস্মরণীয়।
- তিনি আলাওলের কাব্যচর্চার পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি নিজেও রচনা করেন অমর কাব্য - চন্দ্রাবতী
- এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।

• কোরেশী মাগন ঠাকুর ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি বিখ্যাত রোসাঙ্গ রাজসভার বাঙালি কাবি ছিলেন।

• কবি আলাওল মাগন ঠাকুরের আশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পদ্মাবতী’ (১৬৫২) কাব্য রচনা করেন।
• এছাড়াও আলাওলের সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনার পৃষ্ঠপোষকতাও করেন কোরেশী মাগন ঠাকুর।
--------------
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সাথে "চন্দ্রাবতী" নামটি নানাভাবে জড়িয়ে আছে।
উল্লেখ্য,
ময়মনসিংহ গীতিকার একটি পালার নামও "চন্দ্রাবতী"। তবে এটি মূলত গীতিকা হিসাবেই বিবেচিত।
আবার, "চন্দ্রাবতী" নামে মধ্যযুগে ১ জন মহিলা কবি ছিলেন যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি ও রামায়ণের অনুবাদক হিসাবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯০৪.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ:
- তিনি মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৫.
কোন কবি বাঙ্গালি হওয়া সত্ত্বেও বাংলা ভাষার কবি নন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা

- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি।
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর লিখিত গীতিকাব্য 'গীতগোবিন্দ'।
- বাকি তিনজনই মধ্যযুগের বাংলা ভাষার কবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯০৬.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কে রচনা করেছেন?
  1. শ্যামদাস সেন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

• শুকুর মাহমুদ:
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৭.
'জঙ্গনামা' কাব্যগুলোতে মূলত ফুটে উঠেছে?
  1. রোমান্স
  2.  ধর্মীয় যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. দৈনন্দিন জীবন যাপন 
  4. ঐতিহাসিক প্রণয়
ব্যাখ্যা

জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৮.
'লায়লী মজনু' কাব্যটি কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. রুমি
  2. ওমর খৈয়াম
  3. হাফিজ
  4. জামি
ব্যাখ্যা
'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯০৯.
আখ্যানমূলক কাব্য 'রসুল বিজয়' রচনা করেন কে?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. আলাওল
  4. সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
সাবিরিদ খান:
- তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
- 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান।
- এ কাব্য রচনায় তিনি প্রচলিত কাহিনি অবলম্বন করেছেন।
- বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি কালিকামঙ্গলের অন্তর্গত।

সাবিরিদ খান তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন: 
- বিদ্যাসুন্দর,
- রসুল বিজয় ও
- হানিফা-কয়রাপরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. দ্বিজমাধব
  2. মুহম্মদ কবির
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

মুহম্মদ কবির:
- মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১১.
বৈষ্ণব পদাবলির "পূর্বরাগ" এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. রাধারমন গোপ
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে "পূর্বরাগ" এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা হলেন "চণ্ডীদাস"।

• পূর্বরাগ:
- রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় পর্যায়/ভাগ।

• চণ্ডীদাস:
চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

অন্যদিকে,
জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
• গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ দাস।
• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৯১২.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্য প্রথম রচনা করেন কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) ক্ষেমানন্দ
  4. ঘ) নারায়ন দেব
ব্যাখ্যা
 - বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব।
- নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৩.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. জাহ্নবী দেবী
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।
-----------------
উল্লেখ্য,
বাংলাপিডিয়া অনুসারে,
জ্ঞানদাস নিত্যানন্দের ভাবশিষ্য এবং তাঁর পত্নী বৈষ্ণব সমাজের নেত্রীস্থানীয় জাহ্নবীদেবীর মন্ত্রশিষ্য ছিলেন।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম অনুসারে,
তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন বলে- চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
তিনি বিদ্যাপতির আলঙ্কারিক রীতি পরিত্যাগ করে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের সহজ, সরল ও মরমী রীতিতে পদ রচনা করেছেন।
------------------
জ্ঞানদাস আধ্যাত্মিকভাবে নিত্যানন্দ ও জাহ্নবীদেবীর শিষ্য হলেও কাব্যরচনায় তিনি চণ্ডীদাসের ভাবধারা অনুসরণ করেন। তাঁর কবিতায় বিদ্যাপতির জটিল অলঙ্কারের পরিবর্তে চণ্ডীদাস ও নরহরি সরকারের মতো সহজ, মার্জিত ও মরমীয় ভাষা দেখা যায়। তাই ধর্মীয় দীক্ষায় তিনি নিত্যানন্দের শিষ্য হলেও সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণে তিনি চণ্ডীদাসের ‘ভাবশিষ্য’।পরীক্ষায় অপশন বিবেচনায় উত্তর করতে হবে।

অর্থ্যাৎ,
ধর্মীয় দীক্ষা পেয়েছেন নিত্যানন্দ–জাহ্নবীর কাছ থেকে — (আধ্যাত্মিক/বৈষ্ণবধর্মীয় গুরু)
কাব্যিক অনুপ্রেরণা নিয়েছেন চণ্ডীদাসের কাছ থেকে — (সাহিত্যিক গুরু/ভাবশিষ্যতা)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৯১৪.
“গুলে বকাওলী’' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সাবিরিদ খান
  2. মুহাম্মদ মুকিম
  3. আব্দুল হাকিম
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

''গুলে বকাওলী'' গ্রন্থের রচয়িতা মুহাম্মদ মুকিম ও নওয়াজিস খান ।
গুলে বকাওলী গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত ''তাজূউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি'' এর অনুবাদ গ্রন্থ ।

-লাইলি-মজনু দৌলত উজির বাহরাম খান এর অনুবাদ গ্রন্থ।
এটি একটি ফারসি প্রেমাখ্যান ।

-নূরনামা, কারবালা ও শহরনামা আব্দুল হাকিমের রচনা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৯১৫.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. ক) দ্বিজ বংশীদাস
  2. খ) বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৬.
শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি ছিলেন 
  1. ১৮ শতকের
  2. ১৭ শতকের
  3. ১৬ শতকের
  4. ১৫ শতকের
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- আনুমানিক ১৪-এর শেষে থকে ১৫ শতকের মধ্যে তাঁর জন্ম।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯১৭.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি জয়দেব সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. জয়দেব বাংলা ভাষার কবি।
  2. রাজা সেনের সভা কবি ছিলেন।
  3. জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম।
  4. লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম ছিলেন।
ব্যাখ্যা
• জয়দেব:
- জয়দেব বাংলা ভাষার কবি নন। তিনি সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম;
- অপর চারজন হলেন গোবর্ধন আচার্য, শরণ, ধোয়ী ও উমাপতিধর।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা গীতগোবিন্দম্।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯১৮.
রোসাঙ্গ রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন-
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• রোসাঙ্গ রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন - কোরেশী মাগন ঠাকুর।

• আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- আরাকানকে বাংলা সাহিত্যে রোসাঙ্গ নামে অভিহিত করা হয়।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৯.
আবুল ফজলের “রেখাচিত্র” কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) আত্মজীবননী
  2. খ) ভ্রমন কাহিনী
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র, লেখকের রোজনামচা, দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজলের আত্মজীবনী। তাঁর রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯২০.
'লায়লী মজনু' কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. ফেরদৌসি
  2. মালিক মোহাম্মদ জায়সী
  3. কবি রুমি
  4. কবি জামি
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ
শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

দৌলত উজির বাহরাম খান:

- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লাইলী-মজনু' কাব্যটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্যধারায় একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসাবে স্থান পেয়েছে।
- তিনি সাহিত্যসৃষ্টি করার ক্ষেত্রে 'জমিদার নিজাম শাহ' এর পৃষ্ঠপােষকতা লাভ করেন।
- কবি তার কাব্যে যে আত্মপরিচয় লিখে গেছেন, তা থেকে তেমন বিস্তারিত তথ্য অবগত হওয়া যায় না। কবির ব্যক্তিজীবনের পরিচয় থেকে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামের ফতেহবাদ বা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- কবির পিতা মোবারক খান চট্টগ্রামের অধিপতির কাছ থেকে ‘দৌলত উজির’ উপাধি পেয়েছিলেন। কবির পূর্বপুরুষ হামিদ খান গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের প্রধান আমত্য।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- নিজাম শাহ গৌড়ের নৃপতি থাকাকালিন বাহরাম খান তাঁর ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যটি রচনা করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খানের দুটি আখ্যানকাব্য হলো:
• লায়লী-মজনু ও
• ইমাম-বিজয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৯২১.
রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য ‘চন্দ্রাবতী'র রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না।মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২২.
‘রায়গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত করাহয় কোন কবি কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় : 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খন্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৩.
মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ৫০ জন
  2. ৪৫ জন
  3. ৬২ জন
  4. ৬৫ জন
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা।
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধ্যান পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, দ্বিজমাধম,ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৪.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রাজা নরোত্তম রায়
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য
  4. শ্রীজীব গোস্বামী
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৫.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. পদুমাবৎ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মনসামঙ্গল কাব্য
  4. লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৬.
বিদ্যাপতি কোন ধারার কবি?
  1. ক) বৈষ্ণবপদাবলি
  2. খ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) চরিত সাহিত্য
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি। এর নায়ক নায়িকা - রাধা ও কৃষ্ণ।
উল্লেখযোগ্য বৈষ্ণব পদাবলি রচয়িতা - বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৯২৭.
'রুপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর' কার রচনা?
  1. চণ্ডিদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. লোচনদাস
ব্যাখ্যা
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জ্ঞানদাস।

-----------------------
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২৮.
কোন কবি কে ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মনিক দত্ত
  2. খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকে মধ্যযুগের/বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়।
- উল্লেখ্য, আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হলেন শামসুর রাহমান। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৯.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ সম্পর্কিত 'বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রামগতি ন্যায়রত্ন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
যুগবিভাগ সম্পর্কে বিভিন্ন মত:
- বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতেরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের শাসক ও ধর্মমতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কেউ কেউ যুগবিভাগ করেছেন বলে এই মতানৈক্য প্রত্যক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও আধুনিক কালের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস রচনার গৌরব পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্নের প্রাপ্য
- ১৮৭৩ সালে তিনি 'বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সাহিত্য সম্বন্ধে ধারাবাহিক আলোচনা করেন। তাঁর

ইতিহাস তিনটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল:
১. আদ্যকাল অর্থাৎ প্রাক-চৈতন্য পর্ব। এই অংশে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও কৃত্তিবাসের আলোচনা আছে।
২. মধ্যকাল অর্থাৎ চৈতন্যযুগ থেকে ভারতচন্দ্রের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. ইদানীন্তন কাল-ভারতচন্দ্র থেকে রামগতি ন্যায়রত্নের সমকালীন কবি সাহিত্যিকদের বিবরণ রয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৩০.
হিন্দি এবং ফারসি কাব্য থেকে কোন কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে?
  1. নাথসাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. পদাবলি
  4. প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• হিন্দি ও ফারসি কাব্য থেকে 'প্রণয়োপাখ্যান" কাব্য ধারার প্রচলন হয়েছে।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগ ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
- অনেকে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য।
- মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর পঞ্চদশ শতকে প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য 'ইউসুফ-জোলেখা' রচনা করেন।
- মধ্যযুগের অন্যতম বিশিষ্ট নিদর্শন অনুবাদ সাহিত্য।
মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন,
- ইউসুফ-জোলেখা,
- রামায়ণ,
- মঙ্গলকাব্য,
- ডাক ও খনার বচন,
- নূরনামা ইত্যাদি।
- বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়: মধ্যযুগে।
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
১. সংস্কৃত থেকে,
২. হিন্দি সাহিত্য থেকে,
৩. আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন।
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।

• পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৩১.
নিচের কোনটি মহাকবি আলাওলের গ্রন্থ নয়?
  1. পদ্মাবতী
  2. সেকান্দার নামা
  3. নূরনামা
  4. হপ্ত পয়কর
ব্যাখ্যা

- আলাওলের গ্রন্থ নয় 'নূরনামা'।
- নূরনামা’ আবদুল হাকিমের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- মহাকবি আলাওলের কাব্যগ্রন্থগুলাে হলাে: • পদ্মাবতী (১৬৪৮), • হস্ত পয়কর (১৬৬৫), • সেকান্দার নামা (১৬৭৩) ইত্যাদি।
- এরা দুজনই মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ।

৯৩২.
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- কোন কবির রচনা?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- লাইনটির রচয়িতা 'দ্বিজ চণ্ডীদাস'
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 

 চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি: 
- 'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেন: 
- বড়ু চন্ডীদাস
- দ্বিজ চন্ডীদাস
- দীন চন্ডীদাস
- চন্ডীদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৩.
"রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. কানাহরি দত্ত
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্য ধারার কবি নন  "কানাহরি দত্ত"।
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি-কানাহরি দত্ত।

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯৩৪.
নিচের কে মধ্যযুগের কবি নন?
  1. আর্যদেব
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
জয়দেব, বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাস -- মধ্যযুগের কবি।
- উল্লেখ্য, তিনজনই বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
অন্যদিকে,
- আর্যদেব প্রাচীনযুগের কবি।
- আর্যদেবপা - চর্যাপদের ৩১নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৫.
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর সময়কে কী বলে?
  1. ক) অন্ধকার যুগ
  2. খ) অন্তঃমধ্য যুগ
  3. গ) অবক্ষয় যুগ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯৩৬.
আলাওল রচিত ‘তোহফা’ — কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?”
  1. আত্মচরিত
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. প্রণয়কাব্য
  4. নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) নীতিকাব্য।
- 'তোহফা' কাব্যটি মূলত পাঠকদের নৈতিক চেতনা বৃদ্ধি ও সৎ পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে রচিত।
--------------------
• 'তোহফা' কাব্য:
'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।

- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন: মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

----------------
আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৭.
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জ্ঞানদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
• জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
• পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতায়-
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর'

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩৮.
কোনটি গদ্যপদ্যে মিশ্রিত একপ্রকারের চম্পুকাব্য?
  1. গুলে বকাওলী
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৯.
'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল' পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ (মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
- অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৪০.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের কবির রামপ্রসাদ সেনের রচনা। 

• রামপ্রসাদ সেন:

- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন। একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।

-তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।


তাঁর বিখ্যাত উক্তি-
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'

তাঁর রচিত বিখ্যাত গান-
- "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাপতি বৈষ্ণব পদাবলী রচয়িতা। তিনি পদসঙ্গীত ধারার প্রবর্তক এবং অবাঙালি কবি।
• গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন। তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত।
•  বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৪১.
কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী কাব্যের নাম কী?
  1. ক) শ্রীচৈতন্যভাগবত
  2. খ) শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
  3. গ) চৈতন্যমঙ্গল
  4. ঘ) গৌরাঙ্গবিজয়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী কাব্যের নাম - শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত। 

চৈতন্যচরিতকাব্য চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক কাব্যধারা।
- এটি মধ্যযুগীয়  বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এর মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে প্রথম তথ্যানুসৃতি ও ইতিহাস-চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী মুরারি গুপ্তের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত (১৫৩৬-১৫৪০) কাব্য।
- এটি রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়। 
- বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত (১৫৪৬-১৫৫০) বাংলায় রচিত পথম চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য।
- লোচনদাস এবং জয়ানন্দ দাস রচিত কাব্যের নাম - চৈতন্যমঙ্গল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪২.
এন্টনি ফিরিঙ্গির প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. এডওয়ার্ড অ্যান্টনি
  2. জন অ্যান্টনি​
  3. অ্যান্টনি হেনরি​
  4. এন্টনি হেন্সম্যান
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান:

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৩.
গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. শ্রীজীব গোস্বামী
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. শ্রীজীব আচার্য
  4. বিদ্যাপতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ এবং ‘কবিরাজ’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৪.
লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কোনটিকে?
  1. রূপকথা
  2. গীতিকা
  3. গল্প
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি।

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা:
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৫.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. মালাধর বসু 
  2. বিদ্যপতি 
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের (১৮৭৮-১৯৩৪) জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৪৬.
'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা-
  1. ক) নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. খ) দ্বিজ ঈশান
  3. গ) দামোদর দাস
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

- ময়মনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
- 'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
- দস্যু কেনারামের পালা ও মলুয়া গীতিকা দুটির রচয়িতাও চন্দ্রাবতী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।

৯৪৭.
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?" - কার রচনা?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) নিধুবাবু
ব্যাখ্যা
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"-  লাইনগুলোর রচয়িতা রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু। 
--------------

নিধুবাবু (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।

- নিধু বাবু বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।
৯৪৮.
​নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?​
  1. চৈতন্যচরিতামৃত
  2. মাণিকচন্দ্রের গান
  3. গোপীচন্দ্রের গান
  4. ময়নামতীর গান
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে,
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী - 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪৯.
আলাওল রচিত 'তোহফা' কোন ধরনের কাব্য?
  1. আত্মজীবনী
  2. প্রণয়কাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা

• 'তোহফা' কাব্য:
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৬৪ সালে এ কাব্য সমাপ্ত করেন। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে কবি বলেছেন:মুই আলাওল হীনদৈববশ অনুদিনবিধি বিড়ম্বিল বৃদ্ধকাল।ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধীয় তত্ত্বোপদেশপূর্ণ এ গ্রন্থটি শ্রীমন্ত সোলেমানের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
- তোহফা গ্রন্থটি কাব্যাকারে রচিত হলেও ধর্মীয় নীতিকথাই এতে রূপ লাভ করেছে।
- ধর্মীয় তত্ত্বমূলক ও নৈতিক উপদেশাত্মক কাব্য তোহফা পঁয়তাল্লিশ অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এর বিভিন্ন অধ্যায়ে মুসলমানদের ধর্ম আচার-আচরণ কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
- তৌহিদ, ইমান, এল্ম, শাস্ত্রব্যবস্থা, এবাদত, বিবাহ ইত্যাদি ধর্মীয় সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পয়ার ছন্দে রূপ দিয়ে আলাওল মুসলমানদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এর মর্যাদা দিয়েছেন।

আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫০.
মধ্যযুগের কবি শুকুর মাহমুদ কোন জেলার অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি। তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ। তার রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯৫১.
শ্রীচৈতন্যদেব কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হুগলি
  2. নবদ্বীপে
  3. চম্পকপুর
  4. সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামে
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৯৫২.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. নওয়াজিশ খান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
⇒ 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারা:
• অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, নওয়াজিশ খান, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মুহম্মদ কবীর প্রমুখ।
• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামিক বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য। মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

• মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য। নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৩.
কোন কাব্যে আলাওল ব্যক্তিগত জীবনের কথা লিখেছেন?
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্তপয়কর
  3. সিকান্দরনামা
  4. তোহ্‌ফা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) পদ্মাবতী।

• আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের রূপায়ণ:
আলাওল, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি, তাঁর ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে — ব্যক্তিগত জীবনের কিছু উল্লেখ করেছেন। এ কাব্যের প্রথম অংশে, আলাওল তাঁর জীবনের দুঃখ, আরাকানে আগমন, হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যুদের) সঙ্গে যুদ্ধ এবং রোসাঙ্গে রাজ-আসোয়ার হিসেবে জীবনযাপনের বিবরণ দিয়েছেন। এই অংশটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও জীবনের ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটায়। ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের প্রস্তাবনা ও অন্যান্য অংশে এই ধরনের ব্যক্তিগত উল্লেখ বেশি প্রকাশ পায়, যা তাঁর অন্যান্য কাব্যের তুলনায় স্বতন্ত্র।

• 'পদ্মাবতী' কাব্যে আত্মকথায় কবি লিখেছেন - 

মুলুক ফতেয়াবাদ গৌড়েতে প্রধান।
তথাতে জালালপুর অতি পুণ্য স্থান।
বহু গুণবন্ত বৈসে খলিফা ওলেমা।
কথেক কহিব সেই দেশের মহিমা ।
মজলিস কুতুব তথাত অধিপতি। মুই দীন হীন তান অমাত্য সন্ততি ॥ কার্যহেতু যাইতে পন্থে বিধির ঘটন।
হার্মাদের নৌকা সঙ্গে হৈল দরশন ।
বহু যুদ্ধ আছিল শহীদ হৈল তাত। রণক্ষতে ভোগযোগে আইলু এথাত ।
কহিতে বহুল কথা দুঃখ আপনার।
রোসাঙ্গে আসিয়া হৈলু রাজ-আসোয়ার।
বহু বহু মুসলমান রোসাঙ্গে বৈসন্ত। সদাচারী, কুলীন, পণ্ডিত, গুণবন্ত।
সবে কৃপা করন্ত সম্ভাষি বহুতর। তালিম আলিম বলি করন্ত আদর।


‘পদ্মাবতী’ কাব্য সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য:

• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
এদের মধ্যে- 
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 
---------------------
• সাহিত্যিক পরিচিতি: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।
---------------------

অন্যান্য অপশন সম্পর্কিত তথ্য:

(খ) হপ্তপয়কর:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

(গ) সিকান্দরনামা:
- এটি ১৬৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি নিজামির গ্রন্থের সরল অনুবাদ।

(ঘ) তোহফা:
- এটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক কাব্য।
- 'তোহফা' গ্রন্থটি কবি আলাওলের পঞ্চম রচনা। এই কাব্য বিখ্যাত সুফী সাধক শেখ ইউসুফ গদা দেহলভীর 'তোহফাতুন নেসায়েহ্' নামক ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

৯৫৪.
গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল।
ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি 
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। 

- বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর যথার্থ সমাধান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যত মতানৈক্যই থাকুক না কেন চৈতন্য পূর্ববর্তী পদাবলির চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভা সম্পর্কে কোনও মতবিরোধের অবকাশ নেই। চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

- চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতন্ময় কৃষ্ণপ্রেম- সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে। তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান।

- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে। তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন। চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।

চণ্ডীদাসের কতগুলো পঙ্‌ক্তি প্রবাদের মতো-
১. কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে। 
২. তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ। 
৩. চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
৪. গড়ন ভাঙিতে সই আছে কত খল। ভাঙিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল॥ 
৫. বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা। সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা॥
৬. ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।
৭. পিরীতি আঠা ননদী কাঁটা পড়শী হৈল ফাঁসী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৯৫৫.
'নব কবিশেখর' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. জ্ঞানদাস 
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।

- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।

- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। অপরদিকে স্মার্ত পণ্ডিত হিসেবে মিথিলার শিথিলীকৃত ব্রাহ্মণ সমাজকে নতুন করে নিয়মপাশে বদ্ধ করার প্রয়োজনে স্মৃতি সংহিতার বিধিনিষেধকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন।

- কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

অন্যদিকে, 
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৯৫৬.
'মানসিংহ এবং ভবানন্দ' চরিত্র দুটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কারক কে?
  1. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. বসন্তরঞ্জন রায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।  মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯৫৮.
বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ কোন সময়কালকে বলা হয়?
  1. ১৪৫১–১৫০০
  2.  ১৩৫১–১৪৫০
  3. ১২০১–১৩৫০ 
  4.  ১১০১–১২০০
ব্যাখ্যা

• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

• অন্ধকার যুগের কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৫৯.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি কে ছিলেন?
  1. আলাওল
  2. আবদুল করিম খন্দকার
  3. দৌলত কাজী
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি - দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৯৬০.
'টপ্পা' কী?
  1. এক ধরনের গান
  2. বাদ্যযন্ত্র
  3. নাচের মুদ্রা
  4. বিশেষ ধরনের খেলা
ব্যাখ্যা
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 

বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬১.
কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. সেক শুভোদয়া
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
- 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬২.
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মনসুর বয়াতি
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর 
  4. দৌলত কাজী
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ গ্রন্থটির প্রধান রচয়িতা- দৌলত কাজী। 
--------------------
• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী (আনুমানিক ১৬০০-১৬৩৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি।
- তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছোটবেলায়ই বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন।
- তবে স্বদেশে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি না পাওয়ায় আরাকান রাজ্যে চলে যান।
- সেখানে তিনি রাজদেবহর অশ্বারোহী এবং সভাকবির মর্যাদা লাভ করেন।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সমরসচিব আশরফ খানের নির্দেশনায় দৌলত কাজী সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত ছিলেন।
--------------------- 
‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’:
- দৌলত কাজী রচিত ‘সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ (১৬২২-১৬৩৮) একটি মধ্যযুগীয় রোমান্টিক আখ্যানকাব্য।

- কাব্যটির মূল উপজীব্য হলো সামন্তপতি লোর, চন্দ্রানী এবং ময়নার প্রেম, লোরের পরকীয়া প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত ময়নাবতীর সঙ্গে পুনর্মিলন। এটি হিন্দি কবি মিয়া সাধনের ‘মৈনাসৎ’ কাব্য অবলম্বনে লেখা হয়েছে। দৌলত কাজী কাব্যের দুই-তৃতীয়াংশ রচনা করার পর মৃত্যু হলে, কবি আলাওল ১৬৫৯ সালে বাকি অংশ সম্পূর্ণ করেন। কাব্যটি মানবিক জীবনরস, সংযমী বর্ণনা এবং শিল্পসৌন্দর্য দ্বারা সমৃদ্ধ, যেখানে গ্রামীণ সমাজ, প্রেম ও সতীত্বের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলের বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। 
- মনসুর বয়াতি- দেওয়ানা মদিনা পালার রচয়িতা।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর- পদ্মাবতী গ্রন্থের রচয়িতা। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৬৩.
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে? 
  1. কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব 
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কাশীরাম দাস
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

• ​মহাভারত:
​- মহাভারত রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়। মূল রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় রচনা করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তার রচিত মহাভারতের নাম 'বিজয়পান্ডবকথা' অথবা 'ভারত পাঁচালী'।
- কাব্যটি ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত ৷
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম কাশীরাম দাস।
- শ্রীকর নন্দী অনুদিত মহাভারত 'ছুটিখানী' মহাভারত নামেও পরিচিত।
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬৪.
'জৈগুনের পুঁথি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কৃষ্ণরাম দাস
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য ধারার অন্যতম কবি।
• তাঁর গ্রন্থসমূহ হলোঃ
- জৈগুনের পুঁথি,
- হাতেম তাই ও
- আমির হামজা (দ্বিতীয় অংশ)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।

৯৬৫.
মধ্যযুগের বিখ্যাত 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না, 
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৬.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি -
  1. আলাওল
  2. মুহম্মদ কবীর
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৭.
ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী ছিলেন?
  1. বিজয়নগর
  2. সিংহল
  3. আরাকান
  4. উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র - ধনপতি সওদাগর।
- ধনপতি সওদাগর উজানী নগরের অধিবাসী ছিলেন |
- ভাড়ুদত্ত, ফুল্লরা, ধনপতি সওদাগর প্রভৃতি চন্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র |
- চন্ডী দেবীর কাহিনী অবলম্বনে রচিত চন্ডীমঙ্গল কাব্য দেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল |
- মানিক দত্ত চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি |

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৯৬৮.
আব্দুল হাকিমের 'বঙ্গবাণী' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  2. নূরনামা
  3. দুররে মজলিশ
  4. হানিফার লড়াই
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হাকিম:
- কবি আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি  ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।   

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৯৬৯.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের ধারা ছিল না কোনটি?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. গদ্য
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. জীবনী সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় বিভক্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য দিয়ে মধ্যযুগের শুরু।
- পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, বৈষ্ণব পদাবলি, জীবনী সাহিত্য, নাথসাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, লোকসাহিত্য ইত্যাদি সাহিত্যসৃষ্টি এই যুগকে পরিসরে ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করেছে।
- এ যুগের সমগ্র পরিসর জুড়েই কাব্যের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষণীয়।
- তখন পর্যন্ত বাংলা গদ্যের বিকাশ হয়নি।
- তাই বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ পর্যন্ত গদ্যের কোন স্থান নেই। বাঙালি চিরদিন গদ্যে কথাবার্তা বললেও সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবে আধুনিক-পূর্ব যুগ পর্যন্ত কাব্যই সর্বত্র মর্যাদা পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৭০.
নাথ সাহিত্য ধারার কাব্য কোনটি?
  1. কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান
  2. লাউসের কাহিনি 
  3. গোরক্ষবিজয়
  4. ধনপতি উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।

সংগ্রাহকরা হলেন-
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)। এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।

- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।

অন্যদিকে,
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের দুইটি উপাখ্যান রয়েছে- ১. দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি ২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর। 
• ধর্মমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত লাউসের কাহিনি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭১.
দৌলত কাজী 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটি অসমাপ্ত রেখে মারা গেলে কে এটি শেষ করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯৭২.
মহাকবি আলাওল কোন শতকের কবি?
  1. পঞ্চদশ
  2. সপ্তদশ
  3. ষোড়শ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৩.
'সেক শুভোদয়া' কোন ধরনের কাব্য?
  1. জীবনীকাব্য 
  2. চম্পুকাব্য
  3. পদাবলি
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’। ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।

- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৭৪.
কোন গ্রন্থটি আলাওল কর্তৃক রচিত নয়?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) তোহ্ফা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা

আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত। সেগুলির মধ্যে -
- আখ্যানকাব্য হচ্ছে পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯৭৫.
কোন লেখকের পূর্বে আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি?
  1. ক) দোম এন্তোনিও
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহরে রোমান লিপিতে মনোএল দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ এবং ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ বা বাঙলা-পর্তুগীজ অভিধান
তবুও তিনি এই অভিধান গ্রন্থেই অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এর একটি অধ্যায় সংযুক্ত করেন। এ কারণেই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৭৬.
নিচের কোনটি রামায়ণ সপ্তকাণ্ডের অন্তর্গত নয়?
  1. যুদ্ধকাণ্ড
  2. সুন্দরকাণ্ড
  3. অযোধ্যাকাণ্ড
  4. আরণ্যকাণ্ড
ব্যাখ্যা

• রামায়ণ সপ্তকাণ্ডের অন্তর্গত নয় - যুদ্ধকাণ্ড।

রামায়ণ:

- রামায়ণ আদি মহাকাব্য।
- শিল্পসম্মত ও আলঙ্কারিক কাব্যকৃতি রূপে রামায়ণই প্রথম কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- রামায়ণ মহাকাব্যে আর্য-সভ্যতা ও সংস্কৃতির সর্বাত্মক বিকাশের রূপ ফুটে উঠেছে।
- রামায়ণ সপ্তকাণ্ডে বিভক্ত। কাণ্ডগুলো হল বাল, অযোধ্যা, আরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর কাণ্ড।
- চব্বিশ হাজার অনুষ্টুপ শ্লোকে এটি রচিত। দুই কাণ্ডে রামকে বিষ্ণুর অবতার বলে নির্দেশ করে ভক্তি দেখানো হয়েছে।
- কিন্তু বাকি পাঁচটি কাণ্ড সংহত ও মহাকাব্যের রীতি অনুসারে রচিত এবং এগুলোতে রাম বীর ও আদর্শ চরিত্র রূপে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৭৭.
দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা মতে, 'মহুয়া' পালা কে রচনা করেন?
  1. নয়নচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ কানাই
  3. চন্দ্রবতী
  4. দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৮.
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম -
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্যের নাম - মনসাবিজয়

বিপ্রদাস পিপিলাই:  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর 'মনসাবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিপ্রদাস পিপিলাই এর কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল হক ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭৯.
‘বিদ্যাসুন্দর' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য-
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

অন্যদিকে,
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮০.
'জঙ্গনামা' কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. রোমান্স ধর্মী
  2. যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. লোক সাহিত্য
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮১.
'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবদুল হাকিম
  2. সাবিরিদ খান
  3. আলাওল
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য: 
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান। 
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত। 
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

• সাবিরিদ খান: 
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন। 
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮২.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) শাহ্‌ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) সৈয়দ সুলতান
  3. গ) মনসুর বয়াতি
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৩.
কোনটি 'মর্সিয়া' সাহিত্য নয়?
  1. জয়নালের চৌতিশা
  2. ইমামগণের কেচ্ছা
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. আফৎনামা
ব্যাখ্যা
'মর্সিয়া' সাহিত্য: 
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা

অন্যদিকে,
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস’ সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৪.
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- গোবিন্দ দাস। 

গৌরচন্দ্রিকা: 
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা। 

অন্যদিকে, 
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- চন্ডীদাস। 
- শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা-রামপ্রসাদ সেন। 
- বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি- বিদ্যাপতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯৮৫.
একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. শ্রুতিফল
  2. দেবখণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. বন্দনা
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল

অন্যদিকে,
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- এর মধ্যে একটি হচ্ছে - তাম্বুল খণ্ড।
 
উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৯৮৬.
"শ্রীকৃষ্ণবিজয়" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. মালাধর বসু
  3. কাশীরাম দাশ
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু বা গুণরাজ খানের 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়':
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন। 

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৯৮৭.
'কালিকামঙ্গল' কাব্যটি কোন মঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ
- কালিকামঙ্গল
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৮.
'মুক্তল হোসেন' কাব্যটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ
- মুহম্মদ খান 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:

- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৮৯.
আবুল ফজলের গ্রন্থ কোনটি?
  1. আয়না
  2. শুভবুদ্ধি
  3. জিঞ্জির
  4. মন্ত্র
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল-এর প্রবন্ধগ্রন্থ 'শুভবুদ্ধি'। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে ।
- বিচিত্র কথা
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
- সমকালীন চিন্তা
- মানবতন্ত্র
- শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ
- বিদ্রোহী কবি নজরুল
- একুশ মানে মাথা নত না করা ইত্যাদি আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

'আয়না' ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থ।
'জিঞ্জির' ১৯২৮ সালে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।
'মন্ত্র' ১৯০২ সালে প্রকাশিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৯০.
খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে -
  1. জ্যোতিশাস্ত্র
  2. ঋতু
  3. আবহাওয়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. জীবনীখণ্ড
  2. নৌকাখণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. জন্মখণ্ড
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অংশ নয় - জীবনীখণ্ড।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কত খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছে?
  1. দ্বাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ
  4. প দশ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কর্তৃক আবিষ্কৃত বড়ু চন্ডীদাসের রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের নির্ভরযোগ্য দ্বিতীয় নিদর্শন ও মধ্যযুগের প্রথম নিদের্শন।
- এটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়। এটি চতুর্দশ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছে।
- এটি ১৯০৯ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯৯৩.
'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মদুসূদন দত্ত 
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• হিন্দি 'পদুমাবৎ' এর অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা 'আলাওল'।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯৪.
আলাওল রচিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. সিকান্দরনামা
  2. তোহফা
  3. পদ্মাবতী
  4. হপ্ত পয়কর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯৯৫.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী?
  1. নিমাই
  2. কৃষ্ণচৈতন্য
  3. গৌরাঙ্গ মিশ্র
  4. বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৬.
পুঁথি সাহিত্যর প্রথম ও সার্থক কবি ছিলেন-
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ 
  3. মুহম্মদ কবীর 
  4. দোনা গাজী 
ব্যাখ্যা

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সোনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯৭.
'শৈবসর্বস্বসার' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জয়দেব
  3. গ) চন্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি 'শৈবসর্বস্বসার' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৮.
চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?
  1. আলাওল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মুকুন্দদাস
  4. মুক্তারাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস- 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৯.
‘ফুল্লরার বারমাস্য’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত গ্রন্থ?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
‘ফুল্লরার বারমাস্য’ হলো চন্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত।

- এখানে ‘ফুল্লরা’ হলো চণ্ডীমঙ্গলের অন্তর্গত একটি অন্যতম প্রধান নায়িকা চরিত্র।
- বারমাস্য বা বারোমাসী শব্দের অর্থ বারোমাস অর্থাৎ পুরো একটি বছরের বিবরণ।
- প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লৌকিক কাহিনি বর্ণানায় নায়ক-নায়িকাদের বারো মাসের সুখ-দুঃখের বিবরণ প্রদানের রীতি দেখা যায়।
- এই কারণে এই ধরণের গ্রন্থকে বারমাস্য বা বারোমাসী বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০০.
'পদ্মাবতী' - কোন সাহিত্য ধারার উল্লেখযোগ্য কাব্য?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. নাথ সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- আরাকান রাজসভার কবিগণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন।
- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর একটা অংশ আরাকান রাজসভার কবিগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল।
- কবি দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর ও আলাওলের মত প্রতিভাশালী কবি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, কোরেশী মাগন ঠাকুরের চন্দ্রাবতী এবং আলাওলের পদ্মাবতী ও সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাব্য।
- আরাকান রাজসভার কবিগণের বিস্ময়কর প্রতিভা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিকতা অতিক্রম করে মানবীয় ভাবধারায় সমৃদ্ধ করেছে।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।