বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৭০১৮০০ / ১,২০১

৭০১.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ? 
  1. এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
  2. ফারুক ফুটবল খেলে।
  3. তিলে তৈল আছে।
  4. বনে সিংহ আছে। 
ব্যাখ্যা

- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই'। 
- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
-  এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে;
- অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই’ বাক্যটিতে 'কুকুরের' হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• ‘ফারুক ফুটবল খেলে’ প্রশ্নে ‘ফারুক’ কর্তাকারকে শুন্য বিভক্তি।
• 'তিলে তৈল আছে'- অভিব্যাপক আধারাধিকরণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
• ‘বনে সিংহ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি 'এ'  বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭০২.
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. ষষ্ঠী
  2. তৃতীয়া
  3. দ্বিতীয়া
  4. প্রথমা
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য পরিবর্তনের নিয়ম:
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় প্রথমা, কর্মে দ্বিতীয়া বা শূন্য বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং
(২) ক্রিয়া কর্তা অনুযায়ী হয়।

যেমন:
• কর্মবাচ্য: দস্যুদল কর্তৃক গৃহটি লুণ্ঠিত হয়েছে।
• কর্তৃবাচ্য: দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।

• কর্মবাচ্য: হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।
• কর্তৃবাচ্য: হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০৩.
'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়' বাক্যে রাজায় রাজায় কোন ধরনের কর্তৃকারক?
  1. ক) প্রযোজ্য কর্তা
  2. খ) ব্যতিহার কর্তা
  3. গ) সাধন কর্তা
  4. ঘ) উক্ত কর্তা
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
-মূখ্য কর্তা 
- প্রযোজক কর্তা 
- প্রযোজ্য কর্তা 
- ব্যতিহার কর্তা 

• ব্যতিহার কর্তা :
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০৪.
'প্রাণপণে চেষ্টা কর।' বাক্যে 'চেষ্টা' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে শূন্য
  2. কর্ম কারকে শূন্য 
  3. সম্বন্ধ কারকে শূন্য 
  4. অপাদান কারকে শূন্য 
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- মিথ্যারে করো না উপাসনা। 
- পাহাড় নড়ায় সাধ্য কার? 

এরূপ- 
- প্রাণপণে চেষ্টা কর।
[বাক্যকে  'কী করে?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চেষ্টা'। সুতরাং, 'চেষ্টা' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৫.
"গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।" - এখানে ‘গাঁয়ে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. কর্মে ৭মী বিভক্তি
  4. অধিকরণে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক: 
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার-
• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:  কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।
------------------------
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, 
'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।' বাক্যটিতে 'কে' মানে না প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাঁয়ে'।
এবং এখানে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
তা বলা যায়,
'গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০৬.
'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে'- এখানে 'ঘাটে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। অধিকরণ তিন প্রকার।
যথা:
১. কালাধিকরণ, 
২. আধারাধিকরণ, 
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন:
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

• সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
- 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭০৭.
শব্দের শেষে 'ই-কার' ও 'উ-কার' থাকলে সাধারণত কোন বিভক্তি হয়?
  1. -এ বিভক্তি
  2. -তে বিভক্তি
  3. -য় বিভক্তি
  4. -য়ে বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

♣ বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 

• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। 

- যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 

• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে।  

২. -কে, -রে বিভক্তি। 
৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।  
৭০৮.
'নিজের চেষ্টায় বড় হও' - এখানে 'নিজের' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
আবার, কীসে/ কীসের সাহায্যে/ কার সাহায্যে দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে করণ কারক পাওয়া যায়।
করণ কারকের সংজ্ঞা অনুসারে, 
• 'নিজের চেষ্টায় বড় হও' - এখানে 'নিজের' করণ কারক।

আবার, 
এই কারকে সাধারণত "দ্বারা”, “দিয়ে", "কর্তৃক" ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭০৯.
'সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে'- বাক্যটির কারক চিহ্নিত কর।
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্তৃকারক
  4. ঘ) করনকারক
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই। সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১০.
সকলে মিলে দেশটাকে গড়ি।
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  2. কর্তৃকারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ১মা
  4. অধিকরণ কারকে ২য়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।
- পণ্ডিতে পণ্ডিতে লড়াই করে। (কে লড়াই করে? (পণ্ডিতে- কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি)।

এরূপ-
- সকলে মিলে দেশটাকে গড়ি।- এই বাক্যে ‘সকলে’ কর্তৃকারক।

[ সকলে মিলে দেশটাকে গড়ি।- বাক্যেটিকে কারা মিলে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সকলে মিলে’। সুতরাং এখানে ‘সকলে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৭১১.
'অহংকার পতনের মূল।'- বাক্যে  'অহংকার' শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক  
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• 'অহংকার পতনের মূল।'- বাক্যে  'অহংকার' শব্দটি করণ কারক।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' 
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭১২.
প্রশ্ন 8-10: কারক ও বিভক্তি বিশ্লেষণ করুন:
তার হাতের লেখা চমৎকার।
  1. কর্ম কারকে ১মা
  2. অধিকরণ কারকে ৪র্থী
  3. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  4. কর্তৃকারকে ২য়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৩.
"মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ।" - এ বাক্যে "মেঘে মেঘে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• "মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ।" - এ বাক্যে "মেঘে মেঘে" করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।  

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• বাক্যটি - মেঘে মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ।
- এখানে "কিসের দ্বারা ঢেকে গেছে?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে মেঘে'।
- এবং ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'মেঘে মেঘে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭১৪.
"সুন্দরবনে বাঘের ভয় আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• "সুন্দরবনে বাঘের ভয় আছে।" - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সুন্দরবনে'।
তাই,
'সুন্দরবনে' - শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭১৫.
'শনিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'শনিবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৫মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. অধিকরণ কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• 'শনিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'শনিবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭১৬.
'ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।' - এখানে 'বল' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্তা 
  3. কর্ম 
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৭১৭.
‘এই নদীর মাছ বড়।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ২য়া
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) করণে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
ষষ্ঠী বিভক্তি হচ্ছে - র, এর।
'এই নদীর মাছ বড়' বাক্যে 'নদী' স্থানকে বুঝায় এবং এর সাথে 'র' যুক্ত আছে;
তাই এটি অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৮.
'মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।’- এখানে ‘মেঘ থেকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. অপাদান কারকে ৫মী
  2. অধিকরণ কারকে ৫মী
  3. করণ কারকে ৫মী
  4. কর্মকারকে ৫মী 
ব্যাখ্যা

মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
-----------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।

• বাক্য: ‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়’।
- এখানে ‘মেঘ থেকে’ শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
-  কারণ, যদি প্রশ্ন করা হয়- কিসের থেকে বৃষ্টি হয়, তাহলে উত্তর হবে মেঘ থেকে।
- এই বাক্যে কোন কিছুর উৎপত্তি বুজাচ্ছে। 
- এখানে ৫মী বিভক্তির চিহ্ন ‘থেকে’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়’ বাক্যটিতে 'মেঘের থেকে' হচ্ছে- অপাদানে ৫মী বিভক্তি।
-----------------------------------------
- অপাদান কারকের কিছু উদাহরণ:
- যেমন:
 • বাস স্টেশন ছেড়েছে।
- বাক্যে 'স্টেশন' থেকে বাসটি বিচ্যুত হয়েছে। 
- এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।

• এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই 'কুকুরের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭১৯.
'বোনে বোনে বেশ মিল।' - বাক্যে 'বোনে বোনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. কর্তায় ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'বোনে বোনে বেশ মিল।' - বাক্যে 'বোনে বোনে' কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার। যথা:
১. মুখ্য কর্তা,
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
- বোনে বোনে বেশ মিল। - বাক্যে 'বোনে বোনে' - তে ৭মী বিভক্তি ব্যবহার হওয়ায়, এটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭২০.
'গানে গানে মন ভরেছে।' - এখানে 'গানে গানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। 
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার:
 - 'এ' বিভক্তি: 
গানে গানে মন ভরেছে। 
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল। 
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: 
চেষ্টায় সব হয়। 
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২১.
’এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা' - উক্তিটিতে 'মধুতে' শব্দটি কোন কারক কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. করণে সপ্তমী
  4. অপদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
- করণ কারক :
• ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
- যেমন : নীরা কলম দিয়ে লেখে। 

বাক্যটি - এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।
বাক্যকে 'কী দ্বারা' বা 'কীসের উপায়ে' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় মধুতে। সুতরাং মধুতে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার :
-  প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি -
- ছাত্ররা বল খেলে। 
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি :
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি :
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

- এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- চেষ্টায় সব হয়।
- এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৭২২.
”রাজিব সাহেব অফিসে আছেন।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• ”রাজিব সাহেব অফিসে আছেন।” নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৭২৩.
"পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।"- এখানে 'শিলাতলে' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. কর্ম 
  3. করণ 
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• "পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।" - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'শিলাতলে'।
তাই,
'শিলাতলে' শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭২৪.
"সৎপাত্রে কন্যা দান কর।" - এখানে "সৎপাত্র" কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৭২৫.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।' - এখানে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মে ২য়া
  4. কর্তায় ২য়া
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেমন:
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭২৬.
'আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।' - এখানে 'বাংলাদেশের' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আজকে নগদ কালকে ধার।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
বিষের জ্বালায় বিশ্ব জুড়ে- এর কারক ও বিভক্তি কি?
  1. ক) করণে ৭মী
  2. খ) কর্তায় শূন্য
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) কর্মে ২য়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• এখানে 'জ্বালায়'- করণে ৭মী।  
৭২৮.
অধিকরণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুধ থেকে ঘি হয়
  2. খ) তিল থেকে তেল হয়
  3. গ) নদীতে মাছ আছে
  4. ঘ) জল থেকে বিদ্যুৎ হয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
অধিকরণ কারকের উদাহরণঃ
তিলে তৈল আছে
নদীতে মাছ আছে
বনে বাঘ আছে
আকাশে চাঁদ উঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৭২৯.
‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’- বাক্যে ‘জনে জনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মকারকে ৭মী
  2. খ) করণ কারকে ২য়া
  3. গ) কর্মকারকে ৩য়া     
  4. ঘ) করণ কারকে ২য়া
ব্যাখ্যা
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয় - দুধকে(উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা(বিধেয় কর্ম)। 

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
- ১মা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক, বই এনো, বাঘে মানুষ খায়। 
- ২য়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক, তাকে বল।
- ৬ষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
- ৭মী বিভক্তি: ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩০.
‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।’- এখানে ‘মেঘ থেকে’ কোন কারক
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩১.
'ভিখারিকে ভিক্ষা দাও'- এখানে 'ভিখারীকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে ৫মী
  2. খ) কর্মে ২য়া
  3. গ) সম্প্রদানে ৪র্থী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
'ভিখারিকে ভিক্ষা দাও' বাক্যে 'ভিখারিকে' শব্দটি সম্প্রদানে ৪র্থী বিভক্তি। 

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।  
- সমিতিতে চাঁদা দাও। 
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
কয়েকটি অপাদান কারকের উদাহরণ হচ্ছে -
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- টাকায় টাকা হয়। 
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩২.
'গাছের ফল পেকেছে'- এখানে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. -র
  2. -এর 
  3. -য়ের
  4. -এ
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
 বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
যেমন- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ + এ বিভক্তি), মা (মা +০ বিভক্তি), শিশুকে (শিশু + কে বিভক্তি), চাঁদ (চাঁদ + 0 বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তিগুলো ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:

• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: : ০, অ, এ, (য়), তে, এতে। 
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: : ০, অ, কে, রে । 
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। 
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: : এ (য়ে, য়), হইতে, *থেকে, *চেয়ে, *হতে।।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) 

৭৩৩.
'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে শূন্য বিভক্তি
  2. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক বা কর্তৃকারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

-'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে।- এই বাক্যে জল কর্তৃকারক।
কারণ নামার ক্রিয়া জল নিজেই সম্পাদন করছে। সুতরাং জল এখানে মুখ্য কর্তায় শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩৪.
বিভক্তি মূলত কী?
  1. বলক
  2. যোজক
  3. লগ্নক
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
যেমন: -এ, -তে,-য়, -য়ে, -কে, -রে, -র, -এর,-য়ের ইত্যাদি।

- লোকে কি না বলে! এই বাক্যে 'লোক' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-এ' বিভক্তি।
- সে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গরু চরাতে গেছে। - এই বাক্যে 'ছেলে' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-কে'
বিভক্তি।
- বাড়ির পুকুরের পাড়ে বড়ো ভাইয়ের কলাবাগান। এই বাক্যে 'বাড়ি', 'পুকুর' এবং 'ভাই' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-র', '-এর' এবং '-য়ের' বিভক্তি।

অন্যদিকে,
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

যোজক:
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

নির্দেশক:

- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, জন, টুকু। নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৩৫.
'কে, রে'- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. ষষ্ঠী বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৩৬.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - এখানে 'সাধনায়' করণ কারক।
----------------- 
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩৭.
কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 'কুসুমকলি' কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃকারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) কর্মকারক 
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন: হামিদ বই পড়ে।
 
- 'কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল বাক্যে 'কুসুম কলি' নিজেই ফুটেছে। তাই ‘কুসুম কলি’ কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৮.
'তিলে তৈল আছে।' এই বাক্যে নিম্নরেখ পদটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. অপাদান কারকে ৭মী
  4. অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা

• 'তিলে তৈল আছে'- এখানে 'তিলে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ,
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : তিলে তৈল আছে (তিলের সারা অংশব্যাপী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৩৯.
তাকে দিয়ে কিছু হবে না। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মে দ্বিতীয়া
  3. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. করণে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- তাকে দিয়ে কিছু হবে না। (কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া)।

• এখানে কাকে "দিয়ে কিছু হবে না" প্রশ্নের উত্তরে 'তাকে' পাওয়া যায় তাই "তাকে" কর্তৃকারক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪০.
"এর অধীনে দায়িত্বভার অর্পণ করুন।" - এখানে, 'অধীনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  2. করণকারকে সপ্তমী
  3. কর্মকারকে সপ্তমী
  4. অপাদানকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন:
- অসহায়কে সাহায্য করো। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- শিক্ষককে জানাও। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)।
- তাঁকে বল। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।

• "এর অধীনে দায়িত্বভার অর্পণ করুন।" - এখানে, 'অধীনে' কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। (কারণ, ক্রিয়াকে "কার অধীন" দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়।)

আরো কয়েকটি কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ- 
১। বাবা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
২। আমি চিনি গাে চিনি তােমারে [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ] 
৩। ঈদের চাঁদ উঠেছে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৪। কোন কাননে ফুটল ফুল। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৫। গুরুজনে কর নতি। [ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি ] 
৬। বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৭। ডাক্তারকে ডাক। [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ]  
৮। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ]  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।

৭৪১.
"কুকর্মে বিরত হও।" - এখানে 'কুকর্মে' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪২.
বাঘের ভয়ে সকলে ভীত। 'বাঘের' কোন কারক?
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) কর্মকারক
ব্যাখ্যা
যা থেকে কিছু বিচ্যূত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
দুধ থেকে দই হয়।
পাপে বিরত হও।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তিঃ বোটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তিঃ বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
ষষ্ঠী বা এর বিভক্তিঃ বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বা এ বিভক্তিঃ বিপদে মোরে করিবে ত্রান, এ নহে মোর প্রার্থনা।
তিলে তৈল হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি।
৭৪৩.
বজ্রে তোমার বাজে বাঁশী?’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) করণে ১মা
ব্যাখ্যা

অপাদান কারকঃ
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন - গাছ থেকে পাতা পড়ে। পাপে বিরত হও। বুধবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে, বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি। এখানে ‘বজ্রে’ শব্দটিতে ৭মী বিভক্তি ‘এ’ থাকায় তা অপাদানে ৭মী।
এরকম আরো উদাহরণ (৭মী বিভক্তি) -
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়। ইত্যাদি।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভিক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৭৪৪.
'বনে বাঘ আছে।'- এখানে 'বনে' কোন অধিকরণ কারক?
  1. বৈষয়িক অধিকরণ
  2. কালাধিকরণ
  3. ঐকদেশিক অধিকরণ
  4. অভিব্যাপক অধিকরণ
ব্যাখ্যা
• যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩.বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
• পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)। 
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)। 
• আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪৫.
'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।' - বাক্যে 'আলোয়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।' - বাক্যে 'আলোয়' করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি:
'এ' বিভক্তি:
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

'তে' বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

'য়' বিভক্তি:
আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে আঁধার কাটিয়া যায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়'। তাই, 'আলোয়' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৬.
"ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৪৭.
'মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।'- এখানে 'বৃষ্টি' কোন কারক?
  1. কর্তৃ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারকের প্রকারভেদ:
কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:

১. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।
যেমন:
- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

২. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

৩. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়। ওপরের বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

৪. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৪৮.
ছাদ থেকে নদী দেখা যায়’ - বাক্যে ‘ছাদ’ কোন কারক ?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্তা কারক
  4. ঘ) কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
'ছাদ থেকে নদী দেখা যায়'- এটি অধিকরণ কারক
নদী, ছাদ থেকে দেখা যায় । অর্থাৎ ক্রিয়াটি ছাদেই ঘটছে ।তাই এটি অধিকরণ কারক ।

- এটি আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে অপাদান কারক । আসলে তা নয় ।
- কারণ এ বাক্যের ‘নদী’ কিন্তু ছাদ থেকে বের হয় নি। তাই এটি অপাদান কারক নয় ।

এরূপ কিছু উদাহরণ -
বিপদ থেকে বাঁচাও - অপাদান কারক
বিপদে বাঁচাও - অধিকরণ কারক
গাছ থেকে ফল পাই - অপাদান কারক
গাছে ফল থাকে - অধিকরণ কারক

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৭৪৯.
এ দেহে প্রাণ নেই। - বাক্যের ‘দেহে' শব্দটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৩য়া
  3. অপাদানে ৫মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই। (অধিকরণে সপ্তমী)।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫০.
'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে' বাক্যে 'কপোল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে' বাক্যে 'কপোল' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
 
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।
 
(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।
 
(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।
 
(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)
 
• বাক্যস্থিত ক্রিয়াকে কী / কাদের / কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তাই কর্ম কারক।
- 'কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে’ - এখানে 'কী ভাসিয়া গেল নয়নের জলে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'কপোল'। তাই 'কপোল'  কর্মে শূন্য বিভক্তি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫১.
রুটিতে পেট ভরে। কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) করণে সপ্তমী
  3. গ) ভাবাধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
এখানে রুটি একটি উপকরণ, যার সাহায্যে কাজটি হচ্ছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
 
 
৭৫২.
"চেঙ্গিস খান যুদ্ধে অপরাজেয়" কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক 
  3. অপাদান কারক
  4.  সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

• 'চেঙ্গিস খান যুদ্ধে অপরাজেয়'- বাক্যে ‘যুদ্ধে’ অধিকরণ কারক।

• বৈষয়িক অধিকরণ কারক :
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৫৩.
"ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।" - বাক্যে ঘাটে কোন ধরণের আধারাধিকরণ?
  1. অভিব্যাপক
  2. বৈষয়িক
  3. ঐকদেশিক 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ঐকদেশিক 
- এই বাক্যে 'ঘাটে' শব্দটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ কারক। এখানে 'ঘাট' স্থানটি একটি নির্দিষ্ট অংশকে বোঝায়, যেখানে নৌকাটি বাঁধা আছে। অর্থাৎ, এটি পুরো স্থান জুড়ে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অংশে (ঘাটের কাছে বা ঘাটে) সংঘটিত হয়েছে।  

আধারাধিকরণ
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৭৫৪.
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কোন কারক বলে।
  1. করণকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. কর্মকারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক: 
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। 

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। 
যেমন,
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। (এখানে কে ফুটবল খেলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'ছেলেরা'। তাই, ছেলেরা কর্তৃকারক)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)। 
৭৫৫.
‘চোর ধৃত হয়েছে।’- বাক্যে ‘ধৃত’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
[এখানে, 'কাকে সাহায্য করো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অসহায়কে'। সুতরাং, 'অসহায়কে' এখানে কর্ম কারক।]

- চোর ধৃত হয়েছে।
[বাক্যকে ‘কি হয়েছে?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ধৃত’ হয়েছে। সুতরাং, ধৃত কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৬.
অপ্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে কোন বিভক্তি হবে?
  1. কে
  2. রে
  3. শূন্য
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিভক্তি যোগের নিয়ম:
(ক) অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়।
যেমন: পাথরগুলো, গরুগুলি।

(খ) অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তর 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা: কলম দাও।

(গ) স্বরাস্ত শব্দের উত্তর 'এ' বিভক্তির রূপ হয় – 'য়' বা 'য়ে'। 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন – মা+এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে।

(ঘ) অ-কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র' স্থলে 'এর' যুক্ত হয়।
যেমন – লোক + রা = লোকেরা। বিদ্বান (ব্যঞ্জনান্ত) রা= বিদ্বানেরা। মানুষ এর = মানুষের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫৭.
'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. করণে কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. করণে কারকে প্রথমা বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে প্রথমাবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)। 

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' নজরুল। লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়। এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৫৮.
তিলে তৈল আছে - কোন কারক?
  1. অভিব্যাপক
  2. বৈষয়িক
  3. ঐকদেশিক
  4. কালাধিকরণ
ব্যাখ্যা

প্রথাগত ব্যাকরণগুলােতে আধারাধিকরণ কারককে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন :

(ক) ঐকদেশিক : বিরাট স্থানের যে কোনাে অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
বলে। যেমন : পুকুরে মাছ আছে।

(খ) অভিব্যাপক : উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক
আধারাধিকরণ বলে। যেমন : তিলে তৈল আছে (তিলের সারা অংশব্যাপী)।

(গ) বৈষয়িক : বিষয় বিশেষে কোনাে বিশেষ গুণে কারাে কোনাে দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন : সফিক অঙ্কে কাঁচা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৭৫৯.
‘চক্ষুতে জলের ধারা বহিল।’- বাক্যে ‘চক্ষুতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
 যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো: 
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 

• ‘চক্ষুতে জলের ধারা বহিল।’-  প্রদত্ত বাক্যকে 'কোথা হতে জলের ধারা বহিল' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চক্ষুতে’। সুতরাং 'চক্ষুতে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬০.
'বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে'- এখানে 'মায়ে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।

• ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
 - 'বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে।' এই বাক্যে 'মায়ে' কর্তৃকারক।
[বাক্যটিকে "কে না সম্ভাষে?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- 'মায়ে'। সুতরাং এখানে 'মায়ে' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬১.
বিপদে যেন করিতে পারি জয়। এখানে 'বিপদে' কোন কারক?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন: বিপদে যেন করিতে পারি জয়।  
এখানে জয় করার কাজ বিপদকে অবলম্বন করে সম্পাদিত হয়েছে। 
তাই বিপদে এখানে কর্মে সপ্তমী। 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৭৬২.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।'- 'কান্নায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ৭মী
  2. অধিকরণ কারকে ৭মী
  3. কর্ম কারকে ৭মী
  4. কর্তৃ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৬৩.
কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  2. পুকুরে মাছ আছে।
  3. বনে বাঘ আছে।
  4. তিলে তৈল আছে।
ব্যাখ্যা

অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৬৪.
'সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে।'- এখানে 'সৌন্দর্যে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তৃ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে। 
[বাক্যকে 'কোনো বিষয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সৌন্দর্যে'। তাই বাক্যে 'সৌন্দর্য' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৬৫.
‘কারক বিশ্লেষণ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্বে
  2. খ) শব্দতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
যেহেতু সবগুলো পদ নিয়েই একটা বাক্য এবং কারক নির্ণয় বা বিশ্লেষণে বাক্যের প্রয়োজন, বাক্যের অর্থ-পরিস্থিতি প্রয়োজন তাই কারক বিশ্লেষণ বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হওয়া অধিক যুক্তিসংগত।
যদিও মাধ্যমিক পুরাতন বইয়ে ও বিভিন্ন গাইডে কারককে শব্দতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।



উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)

৭৬৬.
'আহারে রুচি নেই।'- এখানে 'আহারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নের বাক্যটি,
- আহারে রুচি নেই।
 [এখানে 'কোন বিষয়ে রুচি নেই?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আহারে'। তাই 'আহারে' অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

৭৬৭.
'বনে বাঘ আছে।' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৬৮.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. দুনিয়া 
  2. কাকামশায়
  3. ঝাপসা 
  4. গহনায় 
ব্যাখ্যা

• গহনা (বিশেষ্য পদ),
- এটি হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- অলংকার,
- ভূষণ।

এখনে, গহনায় শব্দটির সাথে 'য়' সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 
----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।

৭৬৯.
'এক যে ছিলো রাজা।' - বাক্যে 'রাজা' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অপাদানে শূন্য
  3. কর্তায় দ্বিতীয়া
  4. কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭০.
করণ কারক কী বোঝায়?
  1. যিনি ক্রিয়া সম্পাদন করেন
  2. যেখানে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়
  3. যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়
  4. যাকে ক্রিয়ার ফল ভোগ করতে হয়
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' 
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৭৭১.
"ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।" - এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তাকারক
  2. করণ কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

----------------- 
• করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। 

যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
-ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার:

'এ' বিভক্তি: 
→ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। 
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

'তে' বিভক্তি: 
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল। 
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

'য়' বিভক্তি: 
→ চেষ্টায় সব হয়। 
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭২.
'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।'- এই বাক্যে ‘কুড়াল দ্বারা’ কোন কারক?
  1. ক) সম্প্রাদান কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক
 
যেমন:
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার –
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৩.
‘অহি নকুলকে এক খাঁচায় ধরে রেখেছে।’ বাক্যে 'অহি নকুলকে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- আমাদের একটি গল্প বলুন।
- অহি নকুলকে এক খাঁচায় ধরে রেখেছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৪.
‘বিপদে যেন করিতে পারি জয়।’- বাক্যে বিপদে কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক: 
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
 
কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ: 
- রেখো মা দাসেরে মনে। [কর্মকারকে রে/দ্বিতীয়া বিভক্তি]
- বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি]
- কোন কাননে ফুটল ফুল। [কর্মকারকে শুন্য বিভক্তি ]
- ডাক্তারকে ডাক। [কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি] 
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৭৫.
"বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।" - এখানে 'গৌণ কর্ম কোনটি?
  1. বাবা
  2. আমাকে
  3. কলম
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৭৬.
ট্রেন ঢাকা পৌঁছেছে।- বাক্যে 'ঢাকা' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
• যদি কোনো স্থান থেকে কোনো কিছু ত্যাগ করেছে, ছেড়ে গেছে বোঝায় তবে অপাদান আর যদি কোনো স্থানে কোনো কিছু আছে বোঝায় বা পৌঁছেছে বোঝায় তবে অধিকরণ।
- যেমন:
• অপাদান কারক
- ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে।
• অধিকরণ
- ট্রেন ঢাকা পৌঁছেছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
৭৭৭.
অধিকরণ কারকে অনুসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যটিতে?
  1. বন্যেরা বনে সুন্দর
  2. ছাদে পানি আছে
  3. ঘরের মধ্যে কে রে?
  4. কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল
ব্যাখ্যা
"ঘরের মধ্যে কে রে?" - বাক্যটিতে অধিকরণ কারকে অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে । বাক্যটিতে 'মধ্যে' অনুসর্গ রয়েছে।

অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে  - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৮.
'বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।'- বাক্যটির 'চিনিপাতা' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।
যেহেতু, এখানে চিনিপাতা মানে [চিনিপাতা দই (বিশেষ্য) চিনিসহযোগে প্রস্তুত দধি।] চিনি দ্বারা পাতা দই-কে বুঝাচ্ছে, তাই এটিও করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭৯.
সামীপ্য অর্থে কোন অধিকরণ হয়?
  1. ঐকদেশিক
  2. ভাবাধিকরণ
  3. বৈষয়িক
  4. অভিব্যাপক
ব্যাখ্যা
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। 
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

• সামীপ্যে অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮০.
'ভোরে সূর্য ওঠে।'- এখানে 'ভোরে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- ভোরে সূর্য ওঠে।
[কখন সূর্য ওঠে? ভোরে। সুতরাং, ভোরে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৮১.
'সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না।'- এখানে 'ঝিনুকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না।
[বাক্যকে কিসের থেকে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে'। তাই 'ঝিনুকে' শব্দটি অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮২.
‘পাপী পশুর অধম’- বাক্যে ‘পশু’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: 
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। 

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- পাপী পশুর অধম।
[বাক্যকে ‘পাপী কি থেকে উধম?’ প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পশুর’ থেকে। সুতরাং ‘পশুর’ অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ: 
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি। 
 
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৩.
'জলে কুমির থাকে' বাক্যে 'জলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
- জলে কুমির থাকে। (কোথায় আছে? জলে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৪.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. গাছ থেকে কাঠ পাই।
  2. জিজ্ঞাসিব জনে জনে।
  3. গৃহহীনে গৃহ দাও।
  4. বনে বাঘ আছে।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

- গাছ থেকে কাঠ পাই। (গাছ থেকে কাঠ উৎপন্ন হয়েছে। তাই গাছ থেকে অপাদান কারক)


অন্যদিকে,
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।
• গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি৷
• ‘বনে বাঘ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৭৮৫.
গগণে উঠিল রবি, লোহিত বরণ- গগণে কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. ক) অপাদানে শূণ্য
  2. খ) অপাদানে সপ্তমী
  3. গ) করলে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• 'গগণে উঠিল রবি, লোহিত বরণ' - বাক্যে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু -এ বিভক্তি যুক্ত হইয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি প্রকাশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
‘বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু’। বাক্যটিতে ‘চিনিপাতা’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
  5. কর্তা 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।
যেহেতু, এখানে চিনিপাতা মানে [চিনিপাতা দই (বিশেষ্য) চিনিসহযোগে প্রস্তুত দধি।] চিনি দ্বারা পাতা দই-কে বুঝাচ্ছে, তাই এটিও করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।

৭৮৭.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তৃ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৮.
"বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল।" - বাক্যে "স্কুলে" শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।

- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• "বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল।" - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'স্কুলে'।
তাই,
'স্কুলে' শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৯.
'গৌরবির ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল।' - এখানে 'ভয়ে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- গৌরবির ভেতর টা ভয়ে শুকিয়ে গেল। 
[এখানে 'ভয়ে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯০.
'হতে', 'থেকে' অনুসর্গ কোন কারকে ব্যবহৃত হয়?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

অন্যদিকে,
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৭৯১.
"সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।" — বাক্যটিতে 'সূর্যোদয়ে' কোন অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. স্থানাধিকরণ
  2. বিষয়াধিকরণ
  3. কালাধিকরণ
  4. ভাবাধিকরণ
ব্যাখ্যা
ভাবাধিকরণ:
- যদি একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, এবং নির্ভরশীল ক্রিয়াপদটি ভাববাচকে পরিণত হয়ে অধিকরণ হয়, তবে তাকে ভাবাধিকরণ কারক বলে।

যেমন: 
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
→ এখানে 'অন্ধকার দূরীভূত হওয়া' ‘সূর্যোদয়ের’ ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭৯২.
"খেজুর রসে গুড় হয়।" - এখানে কী বোঝাতে অপাদান কারক হয়েছে?
  1. বিচ্যুত
  2. গৃহীত
  3. জাত
  4. দূরীভূত
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৩.
'লোকে তো কত কথাই বলে।' - বাক্যে 'লোকে' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্তা বা কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ে।

কর্তায় ‘এ’ বিভক্তির প্রয়োগ:
- লোকে তো কত কথাই বলে।
- পাগলে কী না বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৪.
গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা। -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন-
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭৯৫.
কেবল চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি পড়ল।
  1. করণ কারকে ২য়া
  2. অপাদান কারকে ৩য়া
  3. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণ কারকে ৪র্থী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- কেবল চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি পড়ল।

[ ‘কেবল চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি পড়ল।’ বাক্যকে কি হতে বা কিসের থেকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চোখ দিয়ে’। সুতরাং ‘চোখ দিয়ে’ অপাদান কারকে তৃতীয় বিভক্তির উদাহরণ।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয়।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।- অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয়।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড়।- অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।- অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৬.
কোনটিতে অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।'
  2. আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
  3. গরুতে দুধ দেয়।
  4. বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে - আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক, 
২. অভিব্যাপক এবং 
৩. বৈষয়িক।

বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন -
- পাভেল ইংরেজিতে কাঁচা, কিন্তু অঙ্কে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়

অন্যদিকে,
• 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।' - কর্মকারক।
গরুতে দুধ দেয়। - কর্তৃকারক।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। - অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৭.
'লাঠির দ্বারা সাপটি মারা পড়ল।' - বাক্যে নিম্ন অংশটি কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।
- লাঠির দ্বারা সাপটি মারা পড়ল।

[প্রদত্ত বাক্যটিকে 'কী দ্বারা সাপটি মারা পড়ল?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লাঠি'। তাই এটি করণ কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯৮.
"চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।" - এখানে ‘ছবি’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূণ্য
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

• "চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।" - 
বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' আঁকা দিয়ে প্রশ্ন করলে, উত্তর পাওয়া যায় 'ছবি'৷
অর্থাৎ,
বাক্যে ‘ছবি' একটি কর্মকারক। 

• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি :
- বাক্যের কোন পদে যখন কোন বিভক্তি যুক্ত হয়না বা দৃশ্যমান হয়না, সেই আপাত বিভক্তিহীন শব্দে যে বিভক্তি থাকে তাই শূন্য বিভক্তি।
- একবচন শব্দের সাথে ০, অ,(য়) যুক্ত থাকলে শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন - আমাকে এক খানা বই দাও।

• অতএব,
‘চিত্রকরের কাজ হচ্ছে ছবি আঁকা।’ এই বাক্যে ‘ছবি’ কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৯.
কোনটি কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ?
  1. আমার যাওয়া হয়নি।
  2. এক যে ছিলো রাজা
  3. বশিরকে যেতে হবে।
  4. ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তিবশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮০০.
কলমটা লেখে ভালো। - বাক্যে 'কলমটা' -
  1. কর্মবাচ্যের কর্তা
  2. ভাববাচ্যের কর্তা
  3. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা
  4. কর্ম-ভাববাচ্যের কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যেমন -
১. কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): কলমটা লেখে ভালো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।