বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৫০১৬০০ / ১,২০১

৫০১.
নিচের কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. পুকুরে মাছ আছে।
  3. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  4. তিলে তৈল আছে।
ব্যাখ্যা
অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০২.
'তর্কে বিরত হও।' এখানে 'তর্কে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন ২ করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- পাপে বিরত হও।

এরূপ-
- তর্কে বিরত হও। 
[বাক্যেকে 'কি হতে/থেকে বিরত হও?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তর্কে'। সুতরাং 'তর্কে' শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৩.
কোন ক্ষেত্রে বিভক্তির প্রয়োজন হয়?
  1. কারক
  2. সন্ধি
  3. প্রকৃতি
  4. সমাস
ব্যাখ্যা
• কারকের ক্ষেত্রে বিভক্তি প্রয়োজন।

বিভক্তি: 
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।
--------------------------
অন্যদিকে, 
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।

• প্রকৃতি: 
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
শব্দের মূলকে বলা হয় প্রকৃতি। 
প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা -
১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি।

২. ক্রিয়া প্রকৃতি: ক্রিয়া প্রকৃতি বা ক্রিয়া মূলের অন্য নাম - ধাতু। 
উদাহরণ - √চল্ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্ - ক্রিয়া প্রকৃতি।

• সমাস: 
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা, 
বই ও পুস্তক = বইপুস্তক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৪.
'রাজায় রাজায় লড়াই' - এ বাক্যে রাজায় রাজায় কী জাতীয় কর্তা?
  1. মুখ্য
  2. প্রযোজ্য
  3. প্রযোজক
  4. ব্যতিহার
ব্যাখ্যা

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: 
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে, 
প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন: 
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।
 
প্রযোজক কর্তা: 
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
 
মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৫.
'বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।' - বাক্যে 'বিকাল পাঁচটায়' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

অন্যদিকে,
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
 যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৬.
‘ইট–পাথরের দালান’ এখানে ‘ইট–পাথরের’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
  3. গ) করণে ষষ্ঠী
  4. ঘ) করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র/সহায়ক উপকরণকে করণ কারক বলা হয়।
এখানে ‘ইট–পাথর’ দিয়ে দালান তৈরি হয় বলে তা করণ কারক।
এর সাথে ‘এর’ বিভক্তি থাকায় এটি করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৭.
সৎ পাত্রে কন্যা দান করিও।’ এখানে সৎ পাত্রে কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকেই কর্মকারক বলে।
যেমন:
- ‘সৎপাত্রে কন্যা দান করিও।’ - বাক্যেটিকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সৎপাত্রে’। অতএব ‘সৎপাত্রে’ কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কন্যাকে স্বত্বত্যাগ করে দান করা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৮.
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
  2. খ) গোয়ালে গরু আছে
  3. গ) সৎপাত্রে কন্যা দান কর
  4. ঘ) পরাজয়ে ডরে না বীর
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
----------------------------------------
• 'গোয়ালে গরু আছে' - বাক্যে অধিকরণ কারকে 'সপ্তমী' বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
এই বাক্যে 'গোয়ালে' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই এটিই অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।  
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৯.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন। “ঘোড়াকে চাবুক মার”
  1. ক) কর্তৃকারকে ৩ য়
  2. খ) কর্তৃকারকে শূন্য
  3. গ) করণে শুন্য
  4. ঘ) করণে ৩য়া
ব্যাখ্যা
ঘোড়াকে চাবুক মার - করণে শুন্য। ঘোড়ায় গাড়ি টানে - কর্তায় সপ্তমী। ঘোড়ায় চরিয়া মর্দ হাতিয়া চলিল - অধিকরণে সপ্তমী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১০.
'ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারক, সপ্তমী বিভক্তি
  3. অপাদান কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 

প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫১১.
‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - নিম্নরেখা শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদন কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

এরূপ বিভক্তি র + অনুসর্গ ‘দ্বারা’ যোগে :
- ‘একটা সামান্য কাজও যদি তোমার দ্বারা হত !’ - এখানে তোমার দ্বারা করণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১২.
'এই জমিতে সোনা ফলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'এই জমিতে সোনা ফলে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৩.
কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. ক) গাছ থেকে কাঠ পাই।
  2. খ) শিক্ষককে জানাও।
  3. গ) মা বাড়িতে আছেন।
  4. ঘ) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উত্স নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, 
শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না = সম্বন্ধ কারক।
বাবা বাড়িতে আছেন = অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৪.
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায় - উক্ত বাক্যে 'পাগলে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
→ কর্তা কারক,
→ কর্ম কারক,
→ করণ কারক,
→ অপাদান কারক,
→ অধিকরণ কারক ও
→ সম্বন্ধ কারক।

• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৫.
নিম্নরেখ কোন শব্দে করণ কারকে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঘোড়াকে চাবুক মার
  2. ডাক্তার ডাক
  3. গাড়ি স্টেশন ছেড়েছে
  4. মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৫১৬.
ভাবাধিকরণে কোন বিভক্তি ধ্রুব? 
  1. ২য়া
  2. ৬ষ্ঠী
  3. ৩য়া
  4. ৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
= কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫১৭.
"আমাদের পুকুরে মাছ আছে।" - এখানে "পুকুরে" কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

• যেমন - 
- আমাদের পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
(কোনো স্থানে কোনো কিছু আছে বোঝালে অধিকরণ কারক হবে।) 

তেমনিভাবে, 
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫১৮.
‘মহানদী’ শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. মহান যে নদী
  2. মহা যে নদী
  3. মহৎ যে নদী
  4. মহীয়সী যে নদী
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
 যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
- মহান যে নবী = মহানবী।

* মহানদী এর ব্যাসবাক্য হিসেবে - 'মহতী যে নদী' সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কিন্তু এটি অপশনে নেই।
অপশন অনুসারে 'মহা যে নদী' ব্যাসবাক্যটিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করছি।
মহান ও মহৎ সাধারণত পুংলিঙ্গবাচক শব্দের সাথে ব্যবহৃত হয়। নদী হচ্ছে স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৯.
‘যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী
  2. কর্মে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বল
যেমন -
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- পাপে বিরত হও।
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রান, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- তিলে তৈল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২০.
অধিকরণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. গাছ থেকে পাতা পড়ে।
  2. ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা
  3. আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. গরুতে দুধ দেয়।
ব্যাখ্যা
• "আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।"
 - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছের নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
অন্যদিকে,
• 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা।'- এখানে 'ফুলের' সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• "গাছ থেকে পাতা পড়ে।" - অপাদান কারক।
• "গরুতে দুধ দেয়।" - কর্তৃকারক।

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২১.
প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে প্রথমা
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। 
------------------------------------------------
প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
কারন, ক্রিয়াকে 'কাকে' দিতে চাই প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে 'প্রিয়জনে', তাই প্রিয়জনে- কর্মকারক।
আবার, এখানে 'প্রিয়জনে' 'এ' বা ৭মী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৫২২.
নিচের কোনটি বিভক্তিযুক্ত শব্দ?
  1. জানালা
  2. আকাশে
  3. কাগজ
  4. পাহাড়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- খ) আকাশে।

ব্যাখ্যা:
"আকাশে" = আকাশ + এ;
"আকাশ" = মূল শব্দ (প্রাতিপদিক);
"এ" = বিভক্তি (সপ্তমী বিভক্তি)।

অন্য অপশনগুলো:
ক) জানালা - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক);
গ) কাগজ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক);
ঘ) পাহাড় - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।

আরো উদাহরণ:
ঘর + এ = ঘরে;
বাগান + এ = বাগানে;
স্কুল + এ = স্কুলে।

সুতরাং "আকাশে" একটি বিভক্তিযুক্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৫২৩.
নিচের কোনটি করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি?
  1. কথায় কথা বাড়ে।
  2. কুকর্মে বিরত হও।
  3. কলমের খোঁচা দিও না।
  4. কাঁথায় শীত মানে না।
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- কলমের খোঁচা দিও না। (করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি)।

অন্যদিকে,
- কথায় কথা বাড়ে। (করণ কারকে ৭মী বিভক্তি)।
- কুকর্মে বিরত হও। (অপাদানে ৭মী বিভক্তি)।
- কাঁথায় শীত মানে না। (করণ কারকে ৭মী বিভক্তি)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৪.
’ছোট মুখে বড় কথা মানায় না’- এখানে ছোট মুখে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে সপ্তমী
  2. খ) অপাদানে সপ্তমী
  3. গ) কর্মে প্রথমা
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ’ছোট মুখে বড় কথা মানায় না’--এখানে ’ছোট মুখে’ অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।

• অপাদান কারক: 
• যা থেকে কিছু বিচ্যুত,গৃহীত, জাত,বিরত,আরম্ভ,দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- লোক মুখে শুনেছি।
- ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।
- এখানে উভয় বাক্যেই মুখ শব্দটি অপাদান কারক।
- আর সাথে ‘এ’ বিভক্তি।
- ’এ ’হলো সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৫২৫.
'আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' বাক্যে 'গাছের নিচে' কোন কারক? 
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক 
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা

 • "আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।" বাক্যে 'গাছের নিচে' অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

'আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছের নিচে'।
তাই, শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫২৬.
নিচের কোনটি নামপদ নয়?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ ক্রিয়াপদ ও নামপদ। বাক্যে ক্রিয়া পদ ব্যতীত বাকি সব পদই নাম পদ (যেমনঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫২৭.
'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন। -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।' - বাক্যেটি অপাদান কারকের উদাহরণ।
- বাক্যটি অপাদান কারকে প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি

• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-

• বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
• গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
• জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
• বিরত : পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৫২৮.
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) তিলে তৈল হয়।
  2. খ) তিলে তৈল আছে।
  3. গ) মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।
  4. ঘ) বিপদে মাের রক্ষা কর।
ব্যাখ্যা
মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি

অপাদান কারক
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

- তিলে তৈল আছে = অধিকরন কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৯.
‘সব ঝিনুকে মুক্তা মিলে না’ - বাক্যে 'ঝিনুকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।

---------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। 
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।
→ তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
→ সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে মুক্তা পাওয়া যায় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে' (ঝিনুক থেকে)। তাই, 'ঝিনুকে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩০.
'লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।' - বাক্যে 'জাতিতে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৩১.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন।
কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) কর্মে শূন্য
  3. গ) করণে দ্বিতীয়া
  4. ঘ) অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন: হামিদ বই পড়ে।
 
- 'কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল বাক্যে 'কুসুম কলি' নিজেই ফুটেছে। তাই ‘কুসুম কলি’ কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩২.
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে বলা হয় -
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। 
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। 
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন – ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

কর্তৃকারক: 
-বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। 
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। 
যেমন- হামিদ বই পড়ে। 

কর্ম কারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন- শিক্ষককে জানাও; অসহায়কে সাহায্য করো। 

অপাদান কারক: 
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। 
যেমন- জমি থেকে ফসল পাই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)। 
৫৩৩.
নিচের কোনটি ৬ ভাগে বিভক্ত?
  1. প্রকৃতি
  2. প্রত্যয়
  3. সমাস
  4. কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক থাকে কারক বলে।
- কারক ছয় প্রকার।
যেমন:
১/ কর্তা কারক,
২/ কর্ম কারক,
৩/ করণ কারক,
৪/ অপাদান কারক,
৫/ অধিকরণ কারক ও
৬/ সম্বন্ধ কারক।

অন্যদিকে,
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
১. কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

সমাস মূলত চার প্রকার।
যথা -
- দ্বন্দ্ব সমাস
- কর্মধারয় সমাস
- তৎপুরুষ সমাস ও
- বহুব্রীহি সমাস।

• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা:
(ক) ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু,
(খ) নাম-প্রকৃতি বা সংজ্ঞা-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৩৪.
ভাবে সপ্তমীর উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের সেনারা যুদ্ধে অপরাজেয়
  2. একদা ভানুর প্রভাতে ফুটিল কমল কলি
  3. চন্দ্রোদয়ে কুমুদিনি বিকশিত হয়
  4. প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ
ব্যাখ্যা
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
অনুরূপভাবে,
চন্দ্রোদয়ে কুমুদিনি বিকশিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৫.
'লোকমুখে শুনেছি।' - বাক্যে 'লোকমুখ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- লোকমুখে শুনেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩৬.
'পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েল পাখি।' - বাক্যে 'দোয়েল পাখি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- হামিদ বই পড়ে।
- পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েল পাখি

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৭.
সম্বন্ধ কারকে শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. -র
  2. -এর
  3. -য়ের
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:  
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।

এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, ‘-য়ের’, ‘কার’, ‘কে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:    
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না । 
• আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম। 
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৩৮.
‘ভাসছে যেন আলগা স্রোতে।’- এখানে ‘স্রোতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- ফলে বৃক্ষের পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা/ কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

- ভাসছে যেন আলগা স্রোতে।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে ভাসছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় স্রোতে। সুতরাং ‘স্রোতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৯.
'ঘোড়াকে চাবুক মার।' - বাক্যে 'চাবুক' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ২য়া
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- ঘোড়াকে চাবুক মার। (করণে শূন্য বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৪০.
বাড়ী  ঘুরে এস’ বাক্যে নিম্নেরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৩য়া
  3. অপাদানে ১মা
  4. অধিকরণে ১মা
ব্যাখ্যা
 অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।

- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: আমি ঢাকা যাব।, বাড়ী  ঘুরে এস।
- তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫৪১.
কারকে ক্রিয়ার সাথে কোন পদের সম্পর্ক বোঝায়?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪২.
‘ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না’- বাক্যে ‘ছাগল দিয়ে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা’ তৃতীয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া’ তৃতীয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• অতএব ‘ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা মাধ্যম দিয়ে প্রশ্নে করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাগল’। তাই ‘ছাগল দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৩.
সময় তার দেখা মেলা ভার। বাক্যটিতে 'সময়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) করণে শূন্য
  4. ঘ) অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• এ সময় তার দেখা মেলা ভার। বাক্যে 'সময়' হচ্ছে অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- এ সময় তার দেখা মেলা ভার।
- কাজে মন দাও।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৫৪৪.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. কর্তা
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৪৫.
কোন কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৬.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - এখানে 'চোর' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৭.
"হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।" - বাক্যে 'হাতে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।" - বাক্যে 'হাতে' শব্দটি করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)। 
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)। 

• বাক্যটি - "হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।": 
"কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে" প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন - ‘হাতে না মারিয়া ভাতে মারিব।’ - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে মারিব প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘হাতে’।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘এ’ যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং,
এখানে বাক্যে 'হাতে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৮.
নদীর  মাছ সুস্বাদু’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ষষ্ঠী
  2. কর্মে ষষ্ঠী
  3. অপাদানে ষষ্ঠী
  4. অধিকরণে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- নদীর মাছ সুস্বাদু। (অধিকরণে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৯.
কোন কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫০.
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) -র
  2. খ) -এর
  3. গ) -য়ের
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে '-য়ের' বিভক্তি হয়।

যেমন - ভাইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম-দশম শ্রেণি )
৫৫১.
'দুধ থেকে দই হয়।'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে তৃতীয়া
  2. অপাদান কারকে চতুর্থী
  3. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  4. অপাদান কারকে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

দুধ থেকে দই হয়।’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।-অপাদান কারকে পঞ্চমী। 
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।- অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- বিরত: পাপে বিরত হও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৫৫২.
অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) আমার আহারে রুচি নাই
  2. খ) আগামীকাল বাড়ি যাব
  3. গ) আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন
  4. ঘ) কাজে অবসর নিলাম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

'আগামীকাল বাড়ি যাব' - বাক্যে অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি = অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৩.
'মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।' - এখানে 'মহাতেজে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৫৪.
"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে  ২য়া বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 •"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি।
এখানে,
- মানুষকেও' পদটিতে 'মানুষকে' হল পদের মূল অংশ, যার সাথে 'ও' অনুসর্গটি যুক্ত হয়েছে।
- এখানে কাকে যেন দেখতে পায়? এই প্রশ্নের উত্তরে মানুষকে পাওয়া যায়। তাই এটি কর্ম কারক।
-  'ও' একটি সংযোজক অনুসর্গ যা পদের সাথে যুক্ত হয়েছে।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৫.
'ছাদ থেকে মাঠ দেখা যায়।' - বাক্যে 'ছাদ থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৫মী
  2. অপাদানে ৫মী
  3. করণে ৫মী
  4. কর্মে ৫মী
ব্যাখ্যা
• 'ছাদ থেকে মাঠ দেখা যায়।' - বাক্যে 'ছাদ থেকে' অধিকরণে ৫মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

পঞ্চমী বিভক্তি:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
- ছাদ থেকে মাঠ দেখা যায়

• সপ্তমী বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় / কোথা দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'ছাদ থেকে মাঠ দেখা যায়।' - এখানে 'কোথা থেকে মাঠ দেখা যায়?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাদ থেকে'। তাই 'ছাদ থেকে' অধিকরণে ৫মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৬.
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্ত?
কপোল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে।
  1. ক) কর্মে শূন্য
  2. খ) করণে ৩য়া
  3. গ) অধিকরণে শূন্য
  4. ঘ) কর্মে ২য়া
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন -
সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।

"কপোল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে।" এখানে কপোল বা গাল-কে আশ্রয় করে ক্রিয়া (ভিজে যাওয়া) সম্পাদিত হয়েছে। 
- এবং এতে কোনো বিভক্তি ব্যবহৃত হয় নি। 
- তাই এটি কর্মে শূন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৭.
'নদীতে জোয়ার এখন।' বাক্যে 'নদীতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে শূন্য
  4. অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

• 'নদীতে জোয়ার এখন।' বাক্যে 'নদীতে' অধিকরণে ৭মী।

• অধিকরণ কারক:

- প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- ছেলেরা মাঠে খেলে।
- ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে।
- বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
- ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন: পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে। কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: শফিক চাটগাঁ থাকে। তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।
- তৃতীয়া বিভক্তি: পথ দিয়ে চল। বড় রাস্তা দিয়ে যেও।
- পঞ্চমী বিভক্তি : ছাদ থেকে পানি পড়ে। বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।
- সপ্তমী বিভক্তি: আহারে রুচি নেই। এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫৫৮.
'বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখেছি।'- বাক্যে 'বাচ্চা কালে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• 'বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখেছি'- বাক্যেকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'বাচ্চা কালে'। সুতরাং 'বাচ্চা কালে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৯.
কারক’ পড়ায় তারক ঠাকুর। দাগাঙ্কিত শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. সম্প্রদান
  3. কর্তা
  4. করণ
ব্যাখ্যা
• 'কারক' পড়ায় তারক ঠাকুর। - দাগাঙ্কিত শব্দটি কর্ম কারক

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• 'কারক' পড়ায় তারক ঠাকুর। - বাক্যে 'কারক'কে আশ্রয় করে তারক ঠাকুর ক্রিয়া সম্পন্ন করায়, 'কারক' কর্ম কারক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬০.
'প্রভাতে সূর্য উঠে'- এখানে 'প্রভাতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) করণে সপ্তমী
  3. গ) অধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
যেমন,
প্রভাতে সূর্য উঠে।
(এতে 'এ' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)
শরতে শাপলা ফোটে।
(এতে 'এ' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)
আজকে নগদ কালকে ধার।
(এতে 'কে' বিভক্তি থাকায়, এটি অধিকরণ কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬১.
কোন বাক্যটিতে কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি হয়েছে?
  1. শিক্ষককে জানাও।
  2. গুরুজনে কর নতি।
  3. বাঁশি বাজে।
  4. তাঁকে বল।
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন:
- অসহায়কে সাহায্য করো। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- শিক্ষককে জানাও। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)।
- তাঁকে বল। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।

আরো কয়েকটি কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ- 
১। বাবা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
২। আমি চিনি গাে চিনি তােমারে [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ] 
৩। ঈদের চাঁদ উঠেছে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৪। কোন কাননে ফুটল ফুল। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৫। গুরুজনে কর নতি। [ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি ] 
৬। বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৭। ডাক্তারকে ডাক। [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ]  
৮। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ]  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
৫৬২.
"দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।" এখানে 'দেশ থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ৫মী
  2. অধিকরণ কারকে ৫মী
  3. কর্ম কারকে ৫মী
  4. অপাদান কারকে ৫মী
ব্যাখ্যা
• "দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।" এখানে 'দেশ থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন-

- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৬৩.
'জমি থেকে ফসল পাই'- বাক্যে 'জমি থেকে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্তাকারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• 'জমি থেকে ফসল পাই'-  অপাদান কারকের উদাহরণ।
 
 অপাদান কারক: 
- যে কারকে কোনকিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ ও দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই। 
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৪.
'এ বাড়িতে কেউ নেই।'- বাক্যে 'বাড়িতে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।

অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ কারকে অন্যান্য বিভক্তি
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি বরিশাল যাবো।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬৫.
‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’- বাক্যে ‘ঘোড়ায়’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’- বাক্যেকে (কোথায় চড়িয়া?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ঘোড়ায়’। সুতরাং ‘ঘোড়ায়’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৬.
কোন বানানটি ভুল?
  1. বাজিকর
  2. ম্লানত্ব
  3. আপমর
  4. আপিস
  5. অবমর্শ
ব্যাখ্যা

• 'আপমর' বানানটি ভুল।
শুদ্ধ বানান - আপামর।

অন্যদিকে,
সঠিক বানান :
- ম্লানত্ব, 
- বাজিকর
- আপিস 
- অবমর্শ।

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫৬৭.
'টাকায় সবই হয়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী
  2. অপাদান কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ৭মী
  4. কর্ম কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন-
- 'টাকায় সবই হয়' বাক্যে 'টাকায়' হচ্ছে সবকিছু হওয়ার উপায়।

একইভাবে,
- টাকায় বাঘের দুধ মিলে;
- সাধনায় সব হয়;
- ফলে বৃক্ষের পরিচয়;
- ব্যায়ামে শরীর ভালো থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৮.
“ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও” - বাক্যে ‘ক্ষুদার্ত’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) সম্প্রদান কারকে শুণ্য বিভক্তি
  2. খ) সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. গ) সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
“ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও” - বাক্যে ‘ক্ষুদার্ত’ সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি

সম্প্রদান কারক:

যাকে স্বত ত্যাগ করে কিছু দেওয়া হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে । কাকে দান করা হলো ? প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটই সম্প্রদান কারক।

• সম্প্রদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির বদলে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত হয় । চতুর্থী বিভক্তি সাধারণত আর কোথাও যুক্ত হয় না । ‘কে/রে' বিভক্তি দুটি সম্প্রদান কারকের সঙ্গে থাকলে তা চতুর্থী বিভক্তি । 

• অন্য কোনো কারকের সঙ্গে থাকবে তা দ্বিতীয়া বিভক্তি হিসেবে গণ্য হয় । তবে কোথাও নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে তা চতুর্থী বিভক্তি হিসেবে গণ্য করতে তার যেমন - বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল । (নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তি)।

সম্প্রদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
- ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক। (কাকে ভিক্ষা দাও? ভিক্ষুক) : এখানে ভিক্ষুক সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 
- ক্ষুদার্তকে খাদ্য দাও। (কাকে দান করা হলো? অসহায়কে) : সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি।
- অন্ধজনে দেহ আলো। (কাকে দান করা হলো? অন্ধজনে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (কাকে দান করা হলো? সমিতিতে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৫৬৯.
‘বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত 'বুলবুলিতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
⇒'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে' - বাক্যে 'বুলবুলিতে' কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- তবে কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না।

• কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
‘কুকর্মে বিরত হও।’- এখানে ‘কুকর্মে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭১.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোর' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭২.
কোনটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. লোকে কিনা বলে
  2. তুমি যে আমার কবিতা
  3. গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা
  4. জলে বাষ্প হয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন: 
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা। (অধিকরণ কারকে সপ্তমী)।

অন্যদিকে,
- লোকে কিনা বলে। (কর্তা কারকে সপ্তমী)।
- তুমি যে আমার কবিতা। (কর্তা কারকে ষষ্ঠী)।
- জলে বাষ্প হয়। (করণে কারকে সপ্তমী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৩.
"বসন্তে কোকিল ডাকে।"- এ বাক্যে বসন্তে কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক 
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন-
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
- বসন্তে (সময়) কোকিল ডাকে। 

• "বসন্তে নানা রকম কোকিল ডাকে।"
-এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কখন' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - ‘বসন্তে’। 

সুতরাং, এখানে 'বসন্তে' অধিকরণ কারক এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৪.
খনিতে সোনা পাওয়া যায়।’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) অপাদানে সপ্তমী
  3. গ) করণে ২য়া
  4. ঘ) কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে ‘খনি’ থেকে ‘সোনা’ উৎপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই তা অপাদান কারক।
এতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৫.
'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।'- এখানে 'আলোয়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
যেমন:
- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
[এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'। সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।]

এরূপ-
- আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।
বাক্যটিকে 'কীসের দ্বারা আঁধার কাটিয়া যায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়'। সুতরাং 'আলোয়' করণে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫৭৬.
যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন' যাকাতের শব্দটি কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. সম্প্রদান
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
• 'যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন' বাক্যে 'যাকাতের' শব্দটি সম্প্রদান কারক। 

সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন। (সম্প্রদানে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৭.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।'- এখানে 'গাছ থেকে' কোন কারক?
  1. করণে পঞ্চমী
  2. অপাদানে পঞ্চমী
  3. কর্মে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।-অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।- অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- বিরত: পাপে বিরত হও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫৭৮.
সমন্ধ কারকের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. তোমার ঘড়িটা সুন্দর।
  2. আর কত চেষ্টা করবে?
  3. দ্রুত সেখানে যাও।
  4. চেষ্টায় কী না হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো ক) তোমার ঘড়িটা সুন্দর।

ব্যাখ্যা:
"তোমার ঘড়িটা সুন্দর" বাক্যে 'তোমার' শব্দটি সম্বন্ধ পদ (সম্পর্ক নির্দেশক)।

সম্বন্ধ পদ চিহ্নিতকরণ:
প্রশ্ন: কার ঘড়ি?
উত্তর: তোমার।
এখানে, 'তোমার' = সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি ('র')।

সম্বন্ধ পদের বৈশিষ্ট্য:
- দুটি বিশেষ্যের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করে।
- সাধারণত র, এর বিভক্তি যুক্ত হয়।

অন্য বাক্যগুলোর বিশ্লেষণ:

খ) আর কত চেষ্টা করবে- 'কত' সংখ্যাবাচক বিশেষণ।
গ) দ্রুত সেখানে যাও- 'দ্রুত' ক্রিয়া বিশেষণ।
ঘ) চেষ্টায় - করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

তাই সঠিক উত্তর ক) তোমার ঘড়িটা সুন্দর।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭৯.
’রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে’- বাক্যটিতে কর্মসূচক শব্দ কোনটি?
  1. নিহাল
  2. সাহায্য
  3. রিশাদকে
  4. করেছে
ব্যাখ্যা

’রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে’- বাক্যটিতে কর্মসূচক শব্দ = রিশাদকে।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়। 
যেমন-
শিক্ষককে জানাও।
রিশাদকে নিহাল সাহায্য করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৫৮০.
‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
‘অহঙ্কার পতনের মূল‘ বাক্যে ‘অহঙ্কার‘ শব্দটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

• করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। 

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা' বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে' বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) করণে পঞ্চমী
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে; এখানে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী । 

কর্ম কারক
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে ।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন-
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায় ।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো ।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫৮২.
'শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।' নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. করণ কারকে শূন্য বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ : যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ -কলম)
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। (করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৩.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. সরোবরে
  2. চশমা
  3. সরোজ
  4. চম্পক
ব্যাখ্যা
• সরোবর (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: বড় পুষ্করিণী; দিঘি; হ্রদ; পদ্ম, শাপলা প্রভৃতি ফুলযুক্ত পুষ্করিণী (ফুটিয়াছে সরোবরে কমলনিকর)।

• ‘সরোবর’ শব্দে ‘এ’ সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ ‘সরোবরে’।

-----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৫৮৪.
বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায় - এই বাক্যে 'বাঘে - মহিষে' কোন ধরনের কর্তা?
  1. মুখ্য কর্ত
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
-মূখ্য কর্তা 
- প্রযোজক কর্তা 
- প্রযোজ্য কর্তা 
- ব্যতিহার কর্তা 

ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই,
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৫.
‘পথ দিয়ে চল।’- বাক্যে ‘পথ দিয়ে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে- এসব দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: শফিক রাজশাহী থাকে।
- তৃতীয় বিভক্তি: পথ দিয়ে চল।
- পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- সপ্তমী বিভক্তি: আহারে রুচি নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮৬.
'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' - এখানে 'গুণহীন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. করণকারকে শূন্য বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- গরু ঘাস খায়। - কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- 'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' - কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি। ('কে থাকে পরাধীন? - গুণহীন)
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।
- পাছে লোকে কিছু বলে। ( ৭মী বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৭.
‘মাঝরাতে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।’- বাক্যে ‘মাঝরাতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কারণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘মাঝরাতে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।’- বাক্যে ‘মাঝরাতে’ বাক্যটি ক্রিয়া সম্পাদন হওয়ার কাল কে নির্দেশ করতেছে। সুতরাং ‘মাঝরাতে’ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৮.
“নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা”- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা

কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমনঃ রাকিব অঙ্কে কাচা কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
তেমনিভাবে, নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।
এবং, অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি যুক্ত হয়।
সুতরাং, 'অঙ্কে' শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৯.
ফুলে ফুলে সাজিয়েছে ঘর- এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1.  অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক। এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি - 'এ' যুক্ত হয়েছে।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৯০.
‘এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেনো তা মধুতে মাখা’ - এখানে মধুতে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৫মী
  4. ঘ) কর্মে ৫মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক
- ‘করণ’ শব্দটির অর্থ- যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেনো তা মধুতে মাখা।
- এখানে ‘মধুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫৯১.
"তাকে বল।" বাক্যে 'তাকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৯২.
'তোমার মহিমা জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা।' - বাক্যে 'অক্ষরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
তোমার মহিমা জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা। - করণ কারকে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৩.
ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কী বলে?
  1. ক্রিয়ার কাল
  2. নির্দেশক
  3. কারক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার।
যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৪.
'এ জমিতে সোনা ফলে।' - বাক্যে 'জমিতে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ জমিতে সোনা ফলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫৯৫.
'কলমের খোচা দিও না' এই বাক্যে 'কলমের' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  3. কর্তৃ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'কলমের খোচা দিও না' এই বাক্যে 'কলমের' করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• ৬ষ্ঠী বিভক্তি - র, এর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৬.
'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু'- এখানে 'লোভে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাওয়া যায়। 
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।

• অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদকে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে', 'কীসের থেকে' এসৰ প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- বিপদে মোরে রক্ষা করো।
[(কোথা থেকে?- বিপদ থেকে)। তাই 'বিপদে' অপাদান কারক।]

যেমন:
- সুখের চেয়ে শান্তি ভালো।
- লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে (কী থেকে মৃত্যু?) প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লোভে'। সুতরাং 'লোভে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।]

অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- গাড়ি ঢাকা ছাড়ল।
- বাড়ি ঘুরে এসো।

দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- সবাই বাঘকে ভয় করে।
- বাবাকে ভয় করি না।

সপ্তমী বিভক্তি:
- দুধে ছানা হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯৭.
বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় রকম হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৫৯৮.
‘কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা’ - এখানে ‘কাব্য’ এর কারক বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. কর্তায় শূণ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷ ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' সৃষ্টি করা দিয়ে প্রশ্ন করলে, উত্তর পাওয়া যায় 'কাব্য'৷
অর্থাৎ বাক্যে ‘কাব্য' একটি কর্মকারক। 

প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : বাক্যের কোন পদে যখন কোন বিভক্তি যুক্ত হয়না বা দৃশ্যমান হয়না, সেই আপাত বিভক্তিহীন শব্দে যে বিভক্তি থাকে তাই শূন্য বিভক্তি। একবচন শব্দের সাথে ০, অ,(য়) যুক্ত থাকলে শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন - আমাকে এক খানা বই দাও।

• অতএব ‘কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা’ এই বাক্যে ‘কাব্য’ কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৯৯.
'সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না'- এখানে 'সাদা মেঘে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অপাদানে শূন্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।’- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে বৃষ্টি হয় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে' (মেঘ থেকে)। তাই, 'মেঘে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
পাপে বিরত হও।’ -কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'পাপে বিরত হও' - বাক্যে 'পাপে' - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।