বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৪০১৫০০ / ১,২০১

৪০১.
‘একখানি মাটির সানকিতে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে।’- এখানে ‘সানকিতে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘একখানি মাটির সানকিতে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে।’- বাক্যকে কোন স্থানে ভাত বাড়িয়া লইয়াছে? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া ‘সানকিতে’। সুতরাং ‘সানকিতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০২.
'দশে মিলে করি কাজ'- এখানে ‘দশে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ৭মী
  2. কতৃকারকে ৭মী
  3. কতৃকার্রকে ২য়া
  4. কতৃকাকে ৪র্থী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
যেমন:
- দশে মিলে করি কাজ।
- এখানে ‘দশে’ হলো কর্তৃকারকে সপ্তমী (এ) বিভক্তি।

• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূন্য, অ;
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে;
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক;
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে;
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে;
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর;
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।
৪০৩.
কোন বাক্যে কর্তায় এ বিভক্তির উদাহরণ দেয়া হয়েছে?
  1. ক) পাগলে কি না বলে
  2. খ) বনে বাঘ থাকে
  3. গ) ফুলে ফুলে বাগান ভারা
  4. ঘ) অন্ধজনে দেহ আলো
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
(কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

সপ্তমী বিভক্তিঃ এ, য়, তে

উদাহরণ-
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (কে খেয়েছে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
পাগলে কি না বলে (কে বলে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
ছাগলে কি না খায় (কে খায়) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৪.
সৎ পাত্রে কন্যা দাও- ‘সৎ পাত্রে’ পদটিতে কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদানে পঞ্চমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. চতুর্থী বা কে বিভক্তি : ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও।)
খ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : সৎ পাত্রে কন্যা দান কর। মৃতজনে দেহ প্রাণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

৪০৫.
অণুতে গঠিত হিমালয়। এখানে ‘অণুতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- অণুতে গঠিত হিমালয়। করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৬.
"বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• "বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'বইয়ের মধ্যে অনেক ছবি আছে।' - বাক্য়ের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বইয়ের মধ্যে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।  
 
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৭.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. এ, য়, তে
  3. হতে, থেকে, চেয়ে
  4. কে, রে
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
→ পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
→ বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
→ আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
→ ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
→ দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৮.
'রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।' এখানে 'রাজায়-রাজায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।

ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার
কর্তা বলে।
যেমন:
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪০৯.
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কোন কারক বলে?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৪১০.
'অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।' এই বাক্যে 'শোকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. কর্ম কারকে ৭মী
  4. কর্তৃকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।' এই বাক্যে 'শোকে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১১.
বাংলা ভাষায় কারক কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্কে বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
১। কর্তা কারক।
২। কর্ম কারক।
৩। করণ কারক।
৪। অপাদান কারক।
৫। অধিকরণ কারক।
৬। সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১২.
"বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখছি হয়।" - বাক্যে 'বাচ্চা কালে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখছি হয়। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৩.
মুখ্য কর্ম সাধারণত কোনটি হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
• কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৪.
বাবা বাড়িতে আছেন। বাক্যে 'বাড়িতে' কোন কারক?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) সম্বন্ধ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
- বাবা বাড়িতে আছেন। বাক্যে 'বাড়িতে' অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৪১৫.
‘মৃতজনে দেহ প্রাণ।’ - এখানে ‘মৃতজনে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- বেগম সাহেবা প্রতিদিন ভাড়ার থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন।
- মৃতজনে দেহ প্রাণ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৬.
‘ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া।’ বাক্যে ‘ঘর থেকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- এ বনে বাঘের ভয় - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় - অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় - অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে - অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• ‘ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া।’- প্রদত্ত বাক্যকে 'কি থেকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ঘর থেকে’। সুতরাং 'ঘর থেকে' অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৭.
‘দুধ থেকে দই হয়।’ বাক্যে ‘দুধ থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত 'হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- দুধ থেকে দই হয়।
(কোথা থেকে পাই? উত্তর পাওয়া যায় ‘দুধ থেকে’। সুতরাং ‘দুধ থেকে’ অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।)

- গাছ থেকে ফল পাই।
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

---------------------------
অন্যদিকে,
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৮.
করণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) টাকায় টাকা হয়।
  2. খ) তার কথা যেন মধুতে মাখা
  3. গ) রফিক তাস খেলে।
  4. ঘ) গ্যাসে গাড়ি চলে।
ব্যাখ্যা
রফিক তাস খেলে।- বাক্যে করণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে । 

করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- আবার, এ, য়, তে বা সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটে। 

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' - এখানে 'ঘরেতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
- মন আমার নাচেরে আজিকে
- খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
- ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। অধিকরণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪২০.
‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। 
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে মুক্তা পাওয়া যায় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে' (ঝিনুক থেকে)। তাই, 'ঝিনুকে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২১.
“সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়”- বাক্যে ‘সাধনায়’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।
- সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে সিদ্ধি লাভ হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সাধনায়’। সুতরাং ‘সাধনায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]


• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২২.
কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে কী যুক্ত হয়?
  1. পদ ও অনুসর্গ
  2. নির্দেশক ও বিভক্তি
  3. বিভক্তি ও অনুসর্গ
  4. উপসর্গ ও প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৩.
'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যটিতে 'জল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য
  3. কর্তা কারকে শূন্য
  4. সম্প্রদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যে 'জল' শব্দটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি),কারণ জল নিজেই ক্রিয়াটি (নামা) সম্পন্ন করছে এবং এর সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন বা প্রত্যয় যুক্ত নেই।

• কর্তৃকারক
:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

• শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "আমি খেলছি" - 'আমি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "পাখি আকাশে উড়ছে" - 'পাখি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ এটি কর্তার কাজ করছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৪২৪.
'ধান থেকে চাল হয়' এই বাক্যে 'ধান' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

• বিভিন্ন অর্থে অপাদানের ব্যবহার:
- স্থানবাচক : তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।
- দূরত্বজ্ঞাপক : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দুশো কিলোমিটারেরও বেশি।
- নিক্ষেপ : বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই, ধান থেকে চাল হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৫.
'লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।' এখানে 'লাঙল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৩য়া বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. কর্তৃ কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।' এখানে 'লাঙল' করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি।

: করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত তৃতীয়া বিভক্তি( 'দ্বারা', "দিয়ে, কর্তৃক) ইত্যাদি যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪২৬.
‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৭.
'আজকে তােমায় দেখতে এলাম জগৎ অনিলা নূরজাহান।' – 'আজকে’ শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
  1. ক) অধিকরণে ২য়া
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ২য়া
  4. ঘ) কর্মে ৫ম
ব্যাখ্যা

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে (স্থান) অধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণঃ
- আজকে হবে না, কালকে আসুন৷
অতএব, প্রদত্ত বাক্যে 'আজকে' শব্দটি অধিকরণ কারণে ২য়া বিভক্তি
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২৮.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার :

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি -
- ছাত্ররা বল খেলে। 
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি: 
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি :
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। 
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।

৪২৯.
"রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।" - এখানে 'রাজার' কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩০.
কোন কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়?
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে, 
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩১.
"সাপকে প্রচণ্ড ভয় পাই" এই বাক্যে 'সাপকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ২য়া
  3. অপাদানে ২য়া
  4. কর্তায় ৪র্থী
ব্যাখ্যা
• "সাপকে প্রচণ্ড ভয় পাই।" এখানে 'সাপকে' - অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি।
- এখানে সাপ দেখে,  ভীত হওয়া বুঝাচ্ছে তাই অপাদান কারক।
- এবং 'কে' বিভক্তি যুক্ত আছে যা '২য়া' বিভক্তির অন্তর্গত।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৩২.
হতে, থেকে, চেয়ে- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? 
  1. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. সপ্তমী বিভক্তি
  3. পঞ্চমী বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:  
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৩.
‘মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে।’— বাক্যটিতে ‘মেয়েরা’ কোন কারক নির্দেশ করে? 
  1. অধিকরণ কারক
  2.  অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

- ‘মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে।— বাক্যটিতে ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক নির্দেশ করে।
 
কর্তৃকারক:
- যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- এখানে প্রশ্ন করলে- কে দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা। 
- তাই ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক।

-
কর্তৃকারকের কিছু উদাহরণ:
• রহিম গান গায়- (কে গান গায়? → রহিম)।
- রহিম কর্তৃকারক।
• মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে- (কারা দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা)।
- মেয়েরা কর্তৃকারক।
• আমি চা খাই (কে চা খায়? → আমি)।
- আমি কর্তৃকারক।
• অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন-  (কে পরীক্ষা নিয়েছেন? → অধ্যাপক)।
- অধ্যাপক কর্তৃকারক।
- তারা সিনেমা দেখছে (কে দেখছে? → তারা)। 
- তারা কর্তৃকারক।

অন্যদিকে,
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
- অপাদান কারক - কোনো কিছুর উৎস, বিচ্যুতি, বিরতি, আরম্ভ বা রক্ষা নির্দেশ করে এবং যা দেখে কেউ ভীত বা প্রভাবিত হয়।
- করণ কারক - কাজের উপায় বা যন্ত্র বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৪৩৪.
গুণহীনে ত্যাগ কর’ -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) অধিকরণে ৭মী
  3. গ) সম্প্রদানে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় 'গুণহীনে'৷
অর্থাৎ বাক্যে 'গুণহীনে' একটি কর্মকারক।
আর শব্দের শেষে ''এ, (য়), য়, তে, এতে'' থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হয়।
অতএব, বাক্যটিতে ''গুণহীনে'' কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩৫.
‘শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।’- বাক্যে ‘শাক দিয়ে’ কোন কারক?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. অধিকরণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. করণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘শাক’। সুতরাং ‘শাক দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৬.
‘করণ’ শব্দটির অর্থ -
  1. যা থেকে কিছু বিচ্যুত হয়
  2. যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান
  3. যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়
  4. ক্রিয়া সম্পাদনের সময়
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৭.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘-কে' বিভক্তি হয়।

যেমন
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে রে’ বিভক্তি হয়।
যেমন
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৪৩৮.
'নদীতে এখন জোয়ার আসবে।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'নদীতে এখন জোয়ার আসবে।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- নদীতে এখন জোয়ার আসবে

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'নদীতে এখন জোয়ার আসবে।' - এখানে 'কোথায় এখন জোয়ার আসবে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'নদীতে'। তাই 'নদীতে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৯.
'বাস টার্মিনাল ছেড়েছে' বাক্যটিতে ‘টার্মিনাল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য 
  3. কর্ম কারকে শূন্য
  4. অপাদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

'বাস টার্মিনাল ছেড়েছে' বাক্যটিতে ‘টার্মিনাল' অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা থেকে? কী থেকে? কিসের থেকে?—এই প্রশ্নগুলো করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক। 
- যেমন— বাস টার্মিনাল ছেড়েছে।
- এখানে ‘টার্মিনাল’ থেকে বাসটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
- ‘টার্মিনাল’ শব্দে কোনো বিভক্তি যুক্ত না থাকায় এটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

------------------
অপাদান কারক:
- অপাদান কারক হলো সেই কারক, যেখান থেকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন হয়, উৎপত্তি ঘটে, শুরু হয় বা দূরে সরে যায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা থেকে? কী থেকে? কিসের থেকে?—এই প্রশ্নগুলো করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই অপাদান কারক। 

-----------
অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক- 
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলা হয়।
- অর্থাৎ, যে কাজটি করে তাকেই কর্তা বা কর্তৃকারক বলা হয়।
- কর্তৃকারক শনাক্ত করতে বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কে?’ বা ‘কারা?’ প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- যেমন— পাগলে কিনা বলে।
- এখানে ‘কে কিনা বলে?’ প্রশ্নের উত্তরে ‘পাগল’ পাওয়া যায়।
- তাই ‘পাগল’ হলো কর্তৃকারক।
এই বাক্যেটি কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি। 

• কর্মকারক- 
- যাকে অবলম্বন করে বা আশ্রয় নিয়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে কর্মকারক বলা হয়।
- কর্মকারক শনাক্ত করতে বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কী?’ বা ‘কাকে?’ প্রশ্ন করতে হয়।
- যেমন— ‘বিহগে ললিত গান শিখায়েছ ভালবেসে’।
- প্রশ্ন: শিখানো কাকে অবলম্বন করে হয়েছে?
- উত্তর: বিহগকে।
- অতএব, ‘বিহগ’ হলো কর্মকারক।

• করণকারক- 
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককে করন কারক বলা হয়।
- ক্রিয়াপদকে ‘কিসের দ্বারা?’ বা ‘কি দিয়ে?’ প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
- যেমন— মন দিয়ে করো সবে বিদ্যা অর্জন।
- প্রশ্ন: কি দিয়ে বিদ্যা অর্জন করো?
- উত্তর: মন দিয়ে।
- অতএব, ‘মন দিয়ে’ হলো করণ কারক।
- এই বাক্যটি করণ কারকে তৃতীয়া  বিভক্তি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৪০.
‘আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।’ - বাক্যে ‘আমার জামার’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক: 
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।

- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ এবং এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৪১.
‘এ সফরে বাঁধা দিও না।’- বাক্যে ‘সফরে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা

⇒ অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
যেমন:
• এ সফরে বাঁধা দিও না।

[বাক্যটিকে কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে বাঁধা দিও না দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সফরে’। অতএব এখানে সফর অধিকরণ কারক এবং শব্দে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় ‘সফরে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৪২.
'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - এখানে 'কোথায় কাঁঠাল?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছে'। তাই 'গাছে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৩.
'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।' - বাক্যে ‘পুরাতনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ। (অধিকরণে সপ্তমী)।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৪.
'খিলিপান দিয়ে ওষুধ খাবে।' - 'খিলিপান দিয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. অধিকরণে তৃতীয়া
  3. করণে তৃতীয়া
  4. কর্তায় তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য় ’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: আমি ঢাকা যাব।
- তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪৫.
'তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।' - বাক্যে 'তোমাদ্বারা' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কারণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৬.
কারক কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
কারক সম্পর্ক বােঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৪৪৭.
"তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।" - এখানে 'জলে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে কিসের দ্বারা বা কি দ্বারা (কি দিয়ে) প্রশ্ন করলে উত্তরে করণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন-
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় – সাধনা)

এরূপ-
- তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
[বাক্যকে কি দিয়ে / দ্বারা মার ভিজায়ে রেখেছি? প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'জলে'। সুতরাং জলে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪৪৮.
'কথায় কথা বাড়ে।'- বাক্যে 'কথায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অপাদানে শূন্য
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।(উপকরণ = কলম)।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায় (উপায় = সাধনা)।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।(উপকরণ = সাবান)।

এরূপ- 
- কথায় কথা বাড়ে।
[বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কথায়'। সুতরাং 'কথায়' য়-বিভক্তি যুক্ত হয়ে করণে ৭মী কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৪৯.
কর্মকারকে ২য়া বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আমি চিনি গাে চিনি তােমারে
  2. খ) কোন কাননে ফুটল ফুল
  3. গ) গুরুজনে কর নতি।
  4. ঘ) বিপদে যেন করিতে পারি জয়
ব্যাখ্যা
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ- 
১। বাবা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
২। আমি চিনি গাে চিনি তােমারে [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ] 
৩। ঈদের চাঁদ উঠেছে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৪। কোন কাননে ফুটল ফুল। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৫। গুরুজনে কর নতি। [ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি ] 
৬। বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৭। ডাক্তারকে ডাক। [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ]  
৮। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ]  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫০.
'আকাশে চাঁদ উঠেছে।' - বাক্যে 'আকাশ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

​যেমন:
​- পুকুরে মাছ আছে। 
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে

​এরূপ- 'আকাশে চাঁদ উঠেছে।'- বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আকাশে'। সুতরাং 'আকাশে' অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫১.
'তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধু' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- তবু যেন তা মধুতে মাখা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৫২.
'ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।' বাক্যে 'ফেরদৌসী কর্তৃক' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় তৃতীয়া
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ঘ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৪৫৩.
'তিলে তৈল আছে' বাক্যে আধারাধিকরণের কোন প্রকার বোঝানো হয়েছে? 
  1. ঐকদেশিক
  2. অভিব্যাপক
  3. বৈষয়িক
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) অভিব্যাপক

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)। 

৪৫৪.
'আমাকে যত খুশি সাজা দিও।' - বাক্যে 'আমাকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি:
- তাকে বল।
- আমাকে যত খুশি সাজা দিও
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৫.
ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত পদকে কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. কারক
  3. সন্ধি
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ কারক: কারক শব্দের অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় প্রকার:
১. কর্তৃ কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪.সম্বন্ধ/ সম্প্রদান কারক,
৫. অপাদান কারক,
৬. অধিকরণ কারক।

অন্যদিকে,
⇒ বিশেষণ পদ:

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণ পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১. নাম বিশেষণ।
২. ভাব বিশেষণ।

⇒ সমাস:
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের ক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন:
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- বই ও পুস্তক = বইপুস্তক।

⇒ সন্ধি: পাশাপাশি দ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার। যথা:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যাঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৫৬.
'একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।' - এখানে 'ফটোগ্রাফওয়ালা' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।
- একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪৫৭.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন : ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায় ।
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) করণে শূণ্য
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কাল বা আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
যেমনঃ 
ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায়।
- হতে, থেকে, চেয়ে - পঞ্চমী বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৮.
"শিশুটি খেলা করে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তৃকারকে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- শিশুটি খেলা করে। 
এখানে, 'ক্রিয়াকে কী দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'খেলা'।
সুতরাং, 'খেলা' এখানে কর্ম কারক। এবং এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ )।
৪৫৯.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নিমরাজি
  2. উপহার
  3. স্টেশন
  4. জগতে
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী।

• 'জগৎ' শব্দে 'এ' সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ 'জগতে'।

---------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৪৬০.
‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অধিকরণে পঞ্চমী
  4. সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ সম্প্রদানে কারকে সপ্তমী বিভক্তি

সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬১.
'তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।' এখানে 'তেষ্টায়' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ বা উপায়কে বলা হয় করণ কারক।
- অন্যভাবে বলা যায়, কর্তা যে পদের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলা হয় করণ কারক।
- ক্রিয়াপদকে কিসের দ্বারা, কিসের সাহায্যে বা কী উপায়ে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।

যেমন:
- সুজলা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়। (উপায়-সাধনায়)
- অহংকারে পতন ঘটে।

এরূপ-
- তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।
[প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যের ক্রিয়াকে কিসের কারণে বা দ্বারা? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তেষ্টায়'। অতএব 'তেষ্টায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬২.
'আমার যাওয়া হয়নি।' - বাক্যে 'আমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
 
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
 
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৩.
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপদান কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
৪৬৪.
'গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।' বাক্যে 'গগনে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।  
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কোথায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় গগনে। সুতরাং 'গগনে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
৪৬৫.
‘এ জমিতে সোনা ফলে।’- বাক্যে জমিতে কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন-
আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

প্রদত্ত ‘এ জমিতে সোনা ফলে।’ বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় জমিতে। সুতরাং ‘জমিতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
'ছেলে কাঁদে'- এখানে 'ছেলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে দ্বিতীয় বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)
 
- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।
 
কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে।
- ছেলে কাঁদে। [বাক্যেকে কে কাঁদে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ছেলে।]

সুতরাং এখানে ‘ছেলে’ কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
 
• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।
 
• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।
 
• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।
 
• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৭.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্তায় ৬ষ্ঠী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি:  আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৮.
‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যে ‘চোখ’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যকে কি হতে বা কোথা হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চোখ’। সুতরাং ‘চোখ’ অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৯.
'কারক' শব্দটির অর্থ?
  1. ক) যা পদকে সম্পাদন করে
  2. খ) যা সমাস সম্পাদন করে
  3. গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
  4. ঘ) যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- কারক (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক, 
- করণ কারক,
- অপাদান কারক, 
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৭০.
‘ছাদ থেকে পানি পড়ে।’- বাক্যে ‘ছাদ’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
⇒ 'ছাদ থেকে পানি পড়ে।'-বাক্যে পানি ছাদ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে তাই ‘ছাদ’ অপাদান কারক আর পানি নিজে নিজে পড়ছে কেউ তাকে ফেলছে না তাই পানি কর্তৃকারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
যা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) বিজ্ঞপ্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) অনুজ্ঞা
  4. ঘ) কারক
ব্যাখ্যা
• কারক শব্দটির অর্থ হলো- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৭২.
অপাদান কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. গ্যাসে গাড়ি চলে।
  2. বনে বাঘ থাকে।
  3. খেজুর রসে গুড় হয়।
  4. জিজ্ঞাসিব জনে জনে
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

অন্যদিকে, 
• করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
বনে বাঘ থাকে।- অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
• 'জিজ্ঞাসিব জনে জনে।' প্রশ্নে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৩.
'তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।' - এখানে 'তোমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  4. করণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।  (সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী)

অন্যদিকে,
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭৪.
‘জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।’- বাক্যে ‘জ্ঞানে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৪৭৫.
‘বিপদে অধীর হইও না।’- বাক্যে বিপদে কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

এরূপ-
• ‘বিপদে অধীর হইও না।’
- [বাক্যকে (কখন অধীর হইও না?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘বিপদে’। সুতরাং বিপদে অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৬.
‘পাছে লোকে কিছু বলে।’ - এখানে ‘লোকে’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে ‘কে’ বা ‘কারা’ যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন: 
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।
- পাছে লোকে কিছু বলে। ( ৭মী বিভক্তি)।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২) বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
‘দুটো পাখি দেখছি’- বাক্যে ‘পাখি’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্ম কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• সাধারণত পশুপাখি বা সচেতন পদার্থের ক্ষেত্রে কর্মে শূন্য বিভক্তি হয়:
- দুটো পাখি দেখছি।
- সে ভাত খেয়েছে।
- দাঁত মাজো।

অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৪৭৮.
'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• 'নাইবা তুমি এলে।' বাক্যে 'তুমি' কর্তৃকারক।

• কর্তৃকারক:

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
  খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা – কর্তৃকারক)
  মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)

কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার:
1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়।
  উদাহরণ: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
  উদাহরণ: রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।
4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে।
  উদাহরণ: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৪৭৯.
বাক্যে গৌণ কর্মের সঙ্গে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. -র
  2. -এ 
  3. -কে
  4. -তে
ব্যাখ্যা

• -কে, -রে বিভক্তি:
⇒ বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত-কে এবং-রে বিভক্তি বসে।
- ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন : শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -এ, -তে, -য়, -য়ে বিভক্তি
⇒ সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে-এ, -তে,-য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়।
- কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।

• -র, -এর,-য়ের বিভক্তি
- বাক্যের মধ্যে পরবর্তীশব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে-র, -এর এবং-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
- সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে-র বিভক্তি বসে।
- যেমন: রাজার, প্রজার,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪৮০.
কোন বাক্যে কর্তায় 'এ' বিভক্তির উদাহরণ রয়েছে? 
  1. পাগলে কি না বলে।
  2. বনে বাঘ থাকে।
  3. গুরুজনে কর নতি।
  4. অন্ধজনে দেহ আলো।
ব্যাখ্যা

পাগলে কি না বলে। বাক্যে পাগলে কর্তায় ৭মী।

• কর্তা কারক:

ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে।
বাক্যের উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তিযুক্ত হয় না।
যেমন -
- অনেক গুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিলো।
- আমাকে যেতে হবে
- রাজা প্রজা পালন করে

অন্যদিকে,
- বনে বাঘ থাকে। - অধিকরণ শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
- গুরুজনে কর নতি - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।
- অন্ধজনে দেহ আলো - সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮সংস্করণ)।

৪৮১.
‘বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু’। বাক্যটির ‘চিনিপাতা’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।
যেহেতু, এখানে চিনিপাতা মানে [চিনিপাতা দই (বিশেষ্য) চিনিসহযোগে প্রস্তুত দধি।] চিনি দ্বারা পাতা দই-কে বুঝাচ্ছে, তাই এটিও করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮২.
'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' কোন কারকে?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

• 'এ সুতায় কাপড় হয় না।' এই বাক্যে 'সুতায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)। 

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' নজরুল। লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়। এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৮৩.
"সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।" - বাক্যে 'সোমবার' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ 
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। 
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

• "সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।" - বাক্যে 'সোমবার থেকে' অপাদান কারক। কারণ, 'থেকে' অনুসর্গটি দিয়ে ক্রিয়ার আরম্ভ বা শুরু বোঝানো হয়েছে, যা অপাদান কারকের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

অপাদান কারক: যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ বা রক্ষিত হয়, তা অপাদান কারক।
উদাহরণ: এই বাক্যে 'সোমবার' থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, অর্থাৎ পরীক্ষার আরম্ভের সময় বা উৎস নির্দেশ করছে।
বিভক্তি: এখানে 'থেকে' অনুসর্গটি অপাদান কারকে 'পঞ্চমী বিভক্তি' নির্দেশ করছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৮৪.
'খেজুর রসে গুড় হয়।' এখানে 'রসে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক 
  4. কর্তা কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ-
 জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
[ বাক্যকে কি থেকে গুড় হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'রসে'। সুতরাং 'রসে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৫.
'পাপে বিরত হও।' এখানে 'পাপে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও। 
[ বাক্যকে কোথা হতে বা কিসের বিরত হও? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাপে' ৷ সুতরাং 'পাপে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৬.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
  5. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
অধিকরণ তিন প্রকার:
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) 

৪৮৭.
‘এ বাড়িতে কেউ নেই।’ বাক্যে ‘বাড়িতে’ কোন কারকের দৃষ্টান্ত?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে- এসব দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: শফিক রাজশাহী থাকে।
- তৃতীয় বিভক্তি: পথ দিয়ে চল।
- পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- সপ্তমী বিভক্তি: আহারে রুচি নেই। এ বাড়িতে কেউ নেই।

• এ বাড়িতে কেউ নেই।- বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বাড়িতে। সুতরাং ‘বাড়িতে’ এ বিভক্তি যোগে অধিকরণ কারকে সপ্তমী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৮.
পাপী পশুর চেয়ে অধম। কোন কারক?
  1. ক) অপাদান
  2. খ) করণ
  3. গ) কর্তৃ
  4. ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
তুলনা করে থাকলে যেটির সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত আছে সেটি অপাদান, অন্যটি কর্তৃকারক হবে। যেমন :
 
কর্তৃকারক
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
করিমের চেয়ে রহিম ভালো।
পাপী পশুর চেয়ে অধম।

অপাদান কারক 
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
করিমের চেয়ে রহিম ভালো।
পাপী পশুর চেয়ে অধম।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪৮৯.
অর্থ  অনর্থ ঘটায়’ - এর কারক ও বিভক্তি কী?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে ২য়া
  3. অপাদানে ২য়া
  4. কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
 যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
- অর্থ  অনর্থ ঘটায়। (কর্তায় শূন্য)। 

• যদি বলে:
- অর্থে অনর্থ ঘটায়।
- তাহলে করণে ৭মী হবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি ২০২১ সংস্করন।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯০.
"বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।" - বাক্যে 'বুলবুলিতে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।

কারক:

মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯১.
‘গীর্জায় গিয়ে যীশু ভজে সে' যীশু কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) কর্মে ২য়া
  3. গ) কর্মে ৭মী
  4. ঘ) কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
যেমন:
‘গীর্জায় গিয়ে যীশু ভজে সে।

এখানে, যীশুকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদন হয়েছে। বাক্যটিকে কী ভজে সে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘যীশু’। এবং যীশু শব্দে কোনো বিভক্তি ব্যবহৃত হয়নি। সুতরাং ‘যীশু’ কর্মে শূন্য বিভক্তি।
৪৯২.
"সেবায় প্রকৃত তৃপ্তি আসে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্মকারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক৷

• "সেবায় প্রকৃত তৃপ্তি আসে।"- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জ্ঞানে', তাই এটি করণ কারক।
• "সেবায় প্রকৃত তৃপ্তি আসে।" - করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯৩.
অণুতে গঠিত হিমাচল’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে সপ্তমী
  2. খ) অধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) অপাদানে শূণ্য
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- "করণ শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। সুতরাং করণ কারক অর্থ কার্য সম্পাদনের যন্ত্র বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
যেমন:
'অণুতে গঠিত হিমাচল'- (কী উপায়ে/ কিসের দ্বারা? অণুতে): এটি করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
 
• করণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
- দস্যুদল গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (কী দিয়ে মেরেছে? লাঠি): করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি।
- পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে। (কী দিয়ে লিখছে? কলম দিয়ে): করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- কীর্তিমান হয় কর্মে। (কী উপায়ে হয়? কর্মে): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ধনে ধনে ঘর ভরেছে। (কী দিয়ে ভরেছে? ধনে ধনে): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- এ কাগজে ভালো লেখা হবে না। (কী দিয়ে ভালো লেখা হবে না? কাগজে): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪৯৪.
কোনটি সম্প্রদান কারক নয়? 
  1. ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।
  2. ধোপাকে কাপড় দাও।
  3. অন্ধজনে দেহ আলো।
  4. সমিতিতে চাঁদা দাও।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) ধোপাকে কাপড় দাও।
- যদি স্বত্বত্যাগ না করে - তবে এটি কর্মকারক হিসেবে গণ্য হবে।
- তাই বাক্যটি কর্মকারক ২য়া বিভক্তি। 

সম্প্রদান কারক: 
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)

(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"

জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৪৯৫.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' - বাক্যে 'সূর্যোদয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ভাবাধিকরণে ৭মী
  2. কালাধিকরণে ৭মী
  3. অপাদান কারকে ৭মী
  4. আধারাধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

অন্যদিকে,
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯৬.
‘সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে’- বাক্যে ‘সুপ্তি থেকে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃকারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) সম্বন্ধ কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন: হামিদ বই পড়ে। 

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন –
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৯৭.
'কলমের খোঁচা দিও না'- বাক্যে 'কলমের' কোন কারক? 
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
♣ করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।  
- যেমন:  
• এ সুতায় কপড় হয় নাহ। 
কথায় কথা বাড়ে।  
কাঁথায় শীত মানে না। 
কলমের খোঁচা দিও না। 
• এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি।     
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• ছাত্ররা বল খেলে। 
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।   
মন দিয়া সব করে বিদ্যা উপার্জন। 
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।    
চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৮.
"গাছ থেকে পাতা পড়ে" বাক্যে 'গাছ থেকে' কোন ধরনের কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• "গাছ থেকে পাতা পড়ে" বাক্যে 'গাছ থেকে' - অপাদান কারক।
- কারণ, এটি ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে (গাছ থেকে পাতা পড়ে), অর্থাৎ কোন একটি নির্দিষ্ট স্থান বা উৎস থেকে কিছু বিচ্যুত হচ্ছে।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৯৯.
'সৎপাত্রে কন্যা দান কর।' - বাক্যে 'সৎপাত্রে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. সম্প্রদান
  3. অপাদান
  4. করণ
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০০.
'আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ'- বাক্যে 'পাঠেতে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে তৃতীয়া
  2. করণ কারকে পঞ্চমী
  3. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  4. অপাদান কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ’আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ' - বাক্যে ''পাঠে'' শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

------------------ 
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

• বাক্যটি ’আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ': 
- এই বাক্যে ক্রিয়া সম্পাদন হয় (পাঠে মন দিতে বলা হয়েছে) ‘পাঠ’ আধারকে কেন্দ্র করে।
- এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে সপ্তমী (তে) বিভক্তি।
- তাই, বাক্যটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি -৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।