বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ২০১৩০০ / ১,২০১

২০১.
কোনটি সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন।
  2. জমি থেকে ফসল দেখা যায়।
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  4. শিক্ষককে জানাও।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।

অন্যদিকে, 
ক) শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
খ) ডাক্তার ডাক। - কর্মে শূন্য।
ঘ) গাছ থেকে কাঠ পাই।
"গাছ থেকে" → উৎস থেকে কিছু পাওয়া বোঝাচ্ছে, তাই এটিও অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০২.
‘তিনি চোখে দেখেন না’ বাক্যে ‘চোখে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- করণ শব্দটির অর্থ যন্ত্র , সহায়ক বা উপায়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। 
- 'তিনি' চোখে দেখেন না'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৩.
'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - বাক্যে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

• 'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - বাক্যে 'অন্ধজনে' সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে।

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২০৪.
'কান্নায় শোক কমে'- এ বাক্যে 'কান্নায় কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণকারক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত ‘কান্নায় শোক কমে” বাক্যে  বাক্যে ‘কান্নায়’ হলো অধিকরণ কারক।

- এটি হলো অধিকারণ কারকের মধ্যে ভাবাধিকরণ কারকের অন্তর্গত।

ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
‘আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যটিতে 'বই’ - শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• ‘আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যটিতে 'বই’ - শব্দটি কর্মে শূন্য বিভক্তি। 

কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন -
- সেলিম বই পড়ে।
এ বাক্যের কর্ম হলাে 'বই'। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়ােগে)

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি: ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।'

গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তােমার দেখা পেলাম না।

ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
‘এমন ছেলে  আর দেখিনি’ – বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
১মা বা শূন্য বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক,
- এমন ছেলে আর দেখিনি।

২য়া বিভক্তি:
- ডাক্তারকে ডাক,
- তাকে বল।

৬ষ্ঠী বিভক্তি:
- তোমার দেখা পাইনি।

৭মী বিভক্তি:
- ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
২০৭.
পাপে বিরত হও-এটি কোন কারক? 
  1. কর্তৃকারক
  2. করণকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২০৮.
কর্ম কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. শিক্ষককে জানাও।
  2. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. বাবা বাড়িতে আছেন।
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য, 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 

অন্যদিকে,
"ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।" - সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
"জমি থেকে ফসল পাই।" - অপাদান কারক। 
• বাবা বাড়িতে আছেন। - অধিকরণ কারক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২০৯.
'ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।' কোন কারক?
  1.  কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
• যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ‘দিয়ে’ ‘কতৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১০.
'কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।' - বাক্যে 'কূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

• সপ্তমী বা এ, তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই। কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১১.
'ধোপাকে কাপড় দাও'- এখানে ‘ধোপাকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে চতুর্থী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- কর্তা যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- যেমন:
- ধোপাকে কাপড় দাও। (কর্মে দ্বিতীয়া)।
- যেহেতু এখানে স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া হয়নি তাই এটি কর্মকারক।

- কিন্তু স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া বোঝালে সম্প্রদান কারক হবে।
- যেমন:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
২) উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
২১২.
'পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।' - বাক্যে 'চম্পারে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।

→ কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
- পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৩.
'পাছে লােকে কিছু বলে' - বাক্যে 'পাছে লোকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. খ) কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তর
  3. গ) কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি
  4. ঘ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 

- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৪.
বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে কোন পদের সম্পর্ক থাকলে, তাকে কারক বলে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।
আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২১৫.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১৬.
কোনটি করণ কারকের উদাহরণ?
  1. চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
  2. আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
  3. আমরা রোজ স্কুলে যাই।
  4. জমি থেকে ফসল পাই।
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে

অন্যদিকে,
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমরা রোজ স্কুলে যাই।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৭.
'বাগানে ফুল ফুটেছে।' বাক্যে 'বাগানে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক 
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. অপাদান কারক 
  4. কর্ম কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ,
- বাগানে ফুল ফুটেছে। 
['বাগানে’ শব্দটি কোথায় ফুল ফুটেছে- সেই স্থান বা অবস্থান বোঝাচ্ছে। “যেখানে ক্রিয়া সংঘটিত হয়” সেই স্থানের নির্দেশক পদকে অধিকরণ কারক বলে। সুতরাং 'বাগানে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
কোনটি ষষ্ঠী বিভক্তি?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. এ, য়, তে 
  3. র, এর
  4. হতে, থেকে, চেয়ে
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৯.
'সরিষা হইতে তৈল হয়।'- এখানে 'সরিষা হইতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৫মী 
  2. অধিকরণে ৫মী 
  3. অপাদানে ৫মী 
  4. কর্মে ৫মী 
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- সরিষা হইতে তৈল হয়।
[বাক্যেকে 'কি হতে/থেকে তৈল হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সরিষা হইতে'। সুতরাং 'সরিষা হইতে' শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২০.
"সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।" - এখানে 'সপ্তপুরুষ' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। 
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২১.
‘রেখো মা দাসেরে  মনে।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে তয়া
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যে মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।যেমন:
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়,
- শিক্ষককে জানাও,
- অসহায়কে সাহায্য করো, ইত্যাদি। 

কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়। যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- রেখো মা দাসেরে  মনে

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২২.
আমূল শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নয় মূল 
  2. মূল থেকে
  3. মূল পর্যন্ত
  4. ন মূল
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয়ের সঙ্গে পরপদ বিশেষ্যের সমাস হয় এবং অব্যয় পদের অর্থই প্রধানরুপে প্রতীয়মান হয় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- জীবন পর্যন্ত = আজীবন;
- সমুদ্র পর্যন্ত = আসমুদ্র;
- মূল পর্যন্ত = আমূল;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- পাদ (পা) থেকে মস্তক পর্যন্ত = আপাদমস্তক;
- আদি থেকে অস্ত পর্যন্ত = আদ্যন্ত;
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)। 

২২৩.
'চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।' - এখানে 'কাস্তে' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।

২২৪.
'শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।' - এখানে 'শ্রদ্ধাবান' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২২৫.
'করাতে কাটে কাঠ'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘করাতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব 'করাতে কাটে কাঠ' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাছ কাটে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় কড়াতে। তাই ‘করাতে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
২২৬.
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. ব্যতিহার কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. প্রযোজ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
১. মুখ্য কর্তা:
যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।
যেমন -
- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

২. প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন

৩. প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

৪. ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৭.
"আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।" - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক? 
  1. অপাদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৮.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে 'বাবা' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অপাদান কারক
- 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই - বাক্যে 'বাবা' হলেন ভয়ের কারণ, তাই এটি অপাদান কারক।  
- ভয় পাওয়ার বিষয়টি 'বাবা'-র কাছ থেকে আসছে, তাই 'বাবাকে' শব্দটি অপাদান কারকে 'কে' বা দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- উদাহরণ: মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- উদাহরণ: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বা দিয়ে বিভক্তি
- উদাহরণ: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। 

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- উদাহরণ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- উদাহরণ: লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়।

য় বিভক্তি:
- উদাহরণ: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২২৯.
কোন বাক্যটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. তােমার দেখা পেলাম না।
  3. আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
  4. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
• আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩০.
"তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন।" - এখানে ‘অন্ধকার থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

- তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন। এখানে 'অন্ধকার থেকে' বিচ্যুতির স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করছে, তাই এটি অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩১.
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দাও। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দিলে সুদসহ ফেরত পাওয়া যায়। সুতরাং এটি কর্মকারক হবে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২৩২.
“দুধ থেকে দই হয়”- এখানে ‘দুধ থেকে’ কোন অর্থে অপাদান?
  1. ক) গৃহীত
  2. খ) জাত
  3. গ) আরম্ভ
  4. ঘ) বিচ্যুত
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বিচ্যুত :
- গাছ থেকে আম পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

গৃহীত :
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।

আরম্ভ : রবিবার থেকে পরিক্ষা শুরু।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

২৩৩.
'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ বাক্যটিতে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক।
 যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ –কলম),
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় – সাধনা)।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

কর্মকারক:
- কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৪.
তোমাকে বাড়ি যেতে হবে। - উক্ত বাক্যে 'তোমাকে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ।
২৩৫.
"সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।" বাক্যে "সূর্যোদয়ে" কোন কারক নির্দেশ করে?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. বিষয়াধিকরণ
  3. কালাধিকরণ
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
ভাবাধিকরণ:
- একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে নির্ভরশীল ক্রিয়াপদটি ভাববাচকে পরিণত হয়ে অধিকরণ হলে, তাকে ভাবাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

অন্যদিকে,
স্থানাধিকরণ:
- যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে স্থানাধিকরণ কারক বলে।
যেমন: জলে কুমির থাকে।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
যেমন: শরতে শাপলা ফোটে।

বিষয়াধিকরণ:
- কোনো বিষয়ে দক্ষতা বা অক্ষমতা প্রকাশে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হলে, তাকে বিষয়াধিকরণ কারক বলে।
যেমন: তিনি ইংরেজিতে ভালো। শফিক গণিতে কাঁচা। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৩৬.
"শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য বিভক্তি 
  2. করণে শূন্য বিভক্তি 
  3. করণে সপ্তমী বিভক্তি 
  4. অধিকরণে শূন্য বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• "শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি। 

• কর্ম কারক:
-  যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- ক্রিয়াকে কি/কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উদাহরণ: "আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।" এখানে 'আমারে' কর্মকারকে ৪র্থী বিভক্তি।

উল্লেখ্য,
'ভুঁই' অর্থ - [বিশেষ্য পদ] ভূমি, মেধ, মাটি; স্থান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২৩৭.
'বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।'- বাক্যে 'বাঘে-মহিষে' কী ধরনের কর্তা?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজ্য কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. প্রযোজক কর্তা
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
রাজায়-রাজায় লড়াই।
বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে,
----------------
• মুখ্য কর্তা:
যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

• প্রযোজ্য কর্তা:
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন:
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে 'মা' প্রযোজক কর্তা, 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, 'চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

• প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৩৮.
‘তিনি ব্যাকরণে  পণ্ডিত’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী
  4. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

- তেমনিভাবে, "তিনি ব্যাকরণে পণ্ডিত"।
এ বাক্যে 'ব্যাকরণে' শব্দে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং, 'ব্যাকরণে' শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী৷ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৯.
জিজ্ঞাসিব জনে জনে। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৪০.
‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যে ‘মেঘে’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' - কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার -
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যটিকে কার দ্বারা ঢাকা জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে’। তাই ‘মেঘে’ করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
'বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।'- এখানে 'ফলে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা / কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি]

• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাহাজে সাগর পার হওয়া যায়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সাগর পার হওয়া যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘জাহাজে’। সুতরাং ‘জাহাজে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪২.
‘পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে।’- বাক্যে ‘পিতামাতাকে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উদ্দেশ্যকর্মে ‘কে’ বিভক্তি:
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে। - বাক্যের ক্রিয়াকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পিতামাতাকে’। 

সুতরাং ‘পিতামাতাকে’ কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
 
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 
 
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
২৪৩.
'ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা' - এ বাক্যে 'অঙ্ক' কোন কারক?
  1. ক) অধিকরণ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) অপাদান
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধার কে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ বলে। ক্রিয়াকে 'কোথায়, কখন, কী বিষয়' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। ‘ছেলেটি কোন বিষয়ে কাঁচা?’ জিজ্ঞেস করা গেলে তাই অঙ্ক অধিকরণ কারক। সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
২৪৪.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে "ছাগল' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২৪৫.
'মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে' বাক্যে 'বৃষ্টি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে সপ্তমী
  2. কর্ম কারকে শূন্য
  3. কর্তা কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারকের প্রকারভেদ:
কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:

১. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।
যেমন:
- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

২. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

৩. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়। ওপরের বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

৪. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৪৬.
'পুকুরে মাছ আছে - এখানে পুকুরে কোন অধিকরণ কারক?
  1. বৈষয়িক অধিকরণ
  2. ভাবাধিকরণ
  3. অভিব্যাপক অধিকরণ
  4. ঐকদেশিক অধিকরণ
ব্যাখ্যা
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।


আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রদান কারককে কোন কারকের অধিভুক্ত বলে মনে করেন?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) কর্তা কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রদান কারককে কর্ম কারকের অধিভুক্ত বলে মনে করেন।
• বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক বিতর্ক :
- ভাষাচার্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সম্প্রদান কারককে গৌণ কর্ম ছাড়া অন্য কিছু বলার কোনো যুক্তি নেই।
- দান ক্রিয়ার মাহাত্ম্য বোঝানোর জন্যই এ কারকটিকে আলাদা করা হয়েছিল।
- দান করা যতই মহৎ কাজ হোক, এতে ক্রিয়ার সঙ্গে কারক পদের সম্পর্কটি বদলে যায় না।
- সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মে স্বত্ব ত্যাগ করে দান করলেই দানগ্রহীতা সম্প্রদানরূপে গণ্য হয়, স্বত্ব ত্যাগ না করলে কর্ম হয়।
- এখানেই সম্প্রদান কারকের অন্তঃসারশূন্যতা ধরা পড়ে।
• তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রদান কারককে কর্ম কারকের অধিভুক্ত বলে মনে করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
২৪৮.
যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন থাকে না, সেসব শব্দে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) ‘এ’ বিভক্তি
  2. খ) ‘তে’ বিভক্তি
  3. গ) ‘য়’ বিভক্তি
  4. ঘ) ‘র’’ বিভক্তি
ব্যাখ্যা

সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল ,ভাব বোঝাতে -এ, -তে, -য়, -য়ে, ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কখনো কখনো বাক্যের সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।

যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -'এ' বা 'এর' বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- এ বিভক্তি: সকালে, দিনাজপুরে, ই-মেইলে, তিলে ইত্যাদি।
- এর বিভক্তি: বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৯.
'ছাগল দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।' এই বাক্যে' ছাগল দিয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৩য়া বিভক্তি
  2. কর্মে ৩য়া বিভক্তি
  3. কর্মে ৫মী বিভক্তি
  4. করণে ৩য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ছাগল দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।' এই বাক্যে' ছাগল দিয়ে' করণে ৩য়া বিভক্তি।

• করণ কারক:

- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- এখানে 'কাস্তে দিয়ে' ও 'ভেড়া দিয়ে' করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
২৫০.
বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে বলে-
  1. সমাস
  2. বিভক্তি
  3. কারক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।

আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

(২০২১) সংস্করণের মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই অনুসারে, কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

অন্যদিকে,
• বিভক্তি: যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• সমাস: সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস।

• বচন: বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৫১.
'৩১ তারিখ থেকে পরীক্ষা শুরু।' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• "৩১ তারিখ থেকে পরীক্ষা শুরু।" এই বাক্যে '৩১ তারিখ' অপাদান কারক।
- এখানে ৩১ তারিখ থেকে পরীক্ষা আরম্ভ বুঝাচ্ছে তাই এটি অপাদান কারক।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

২৫২.
কোন কারকে মূলত ক্রিয়ার স্থান, সময় ইত্যাদি বোঝায়?
  1. কর্তাকারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৩.
'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।'- এখানে পুরাতনে কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।

- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক। এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নের বাক্যটি,
• 'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।'- এখানে 'কোন বিষয়ে শ্রদ্ধা রাখ?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পুরাতনে'। তাই 'পুরাতনে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৪.
‘আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক’ বাক্যে 'বাংলাদেশের' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূণ্য
  2. করণে শূণ্য
  3. কর্মে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আজকে নগদ কালকে ধার।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। অধিকরণে ৬ষ্ঠী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
'সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।' - বাক্যে 'সপ্তপুরুষ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমার দ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ। (কর্তায় শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৬.
ভাবাধিকরণে সবসময় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) ৫মী
  2. খ) ৬ষ্ঠী
  3. গ) ৭মী
  4. ঘ) ৩য়া
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ
অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

কালাধিকরণঃ
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণঃ
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে 'ভাবে সপ্তমী' বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
হাসিতে মুক্তা ঝরে।
জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

আধারাধিকরণঃ
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিকঃ
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য(নৈকট্য) অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (ঘাটের কাছে)
'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। (দুয়ারের কাছে)
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপকঃ
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)

৩. বৈষয়িকঃ
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

 
২৫৭.
"এক যে ছিলো রাজা।" - এখানে 'রাজা' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

​কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২৫৮.
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। বাক্যে কোন কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যে 'ভেড়া দিয়ে' করণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে।

• করণ কারক
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৫৯.
'ডাক্তার ডাক' এই বাক্যে 'ডাক্তার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
  3. কর্ম কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার ডাক' এই বাক্যে 'ডাক্তার' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি। 
• কর্মকারক:

- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

• কর্ম দুই প্রকার:
- মুখ্য কর্ম,
- গৌণ কর্ম।
যেমন- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)।

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি, রে বিভক্তি :
- তাকে বল।
- 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি :
- তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি :
- 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে'।(বীপ্সায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬০.
'এ দেহে প্রাণ নেই।' - বাক্যে 'দেহ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

​যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- দেহে প্রাণ নেই।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬১.
খেজুর রসে গুড় হয়।” -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-

• বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
• গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
• জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
• বিরত : পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০২১৯ সালের সংস্করণ।
২৬২.
"রাখাল গোরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।" - এখানে 'রাখাল' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- "রাখাল গোরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।" - এই বাক্যে ‘রাখাল’ কর্তৃকারক।
[কারণ "কে" পাল লয়ে যায় মাঠে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'রাখাল'। সুতরাং এখানে ‘রাখাল’ কর্তৃকারকের উদাহরণ।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৩.
নিচের যেটি সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়-
  1. ক) র
  2. খ) এর
  3. গ) রা
  4. ঘ) কার
ব্যাখ্যা

 -ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন—মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি:
- সম্বন্ধ পদে ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে। যথা : আমি + র = আমার (ভাই), খালিদ + এর = খালিদের (বই)।

- সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা- আজি + কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)।

সুতরাং 'রা' সম্বন্ধ পদের বিভক্তি নয়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২৬৪.
'পাপী পশুর অধম।'- বাক্যে 'পশুর' কোন কারক? 
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
  3. করণ কারকে ৪র্থী 
  4. কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- পাপী পশুর অধম। 
[ বাক্যকে কি হতে বা কিসের থেকে অধম? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পশুর'। সুতরাং 'পশুর' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।- অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।- অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড়।- অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
-বিপদে মোর রক্ষা কর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৫.
'পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়াল পাখি।' - বাক্যে 'পাখি' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- হামিদ বই পড়ে।
- পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়াল পাখি

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৬.
“আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি।”- এ বাক্যে ‘ধানে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
অন্যভাবে বলা যায়, ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

প্রদত্ত বাক্যটি-
“আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি।”
- বাক্যকে কীসের দ্বারা ভরেছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ধানে’। সুতরাং ‘ধানে’ করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৭.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।'- এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- মনি ইংরেজিতে কাঁচা, কিন্তু অঙ্কে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৮.
র, এর - কোন প্রকারের বিভক্তি?
  1. ক) ৬ষ্ঠী
  2. খ) ২য়া
  3. গ) ৫মী
  4. ঘ) ৭মী
ব্যাখ্যা
প্রথমা বিভক্তি : ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি : ০, অ, কে, রে, এ, য়, তে।
তৃতীয়া বিভক্তি : ০, অ, এ, তে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
চতুর্থী বিবক্তি : দ্বিতীয়ার মতো।
পঞ্চমী বিভক্তি : এ, হইতে, থেকে, চেয়ে, হতে।
ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি : এ, য়, তে, এতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৬৯.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি 'সম্বন্ধ কারক' এর উদাহরণ। 

• 'সম্বন্ধ কারক':
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের', ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা।
আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭০.
শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে-এ বিভক্তির রূপভেদ হয়?
  1. __তে
  2. __য়ে
  3. __এ
  4. __কে
ব্যাখ্যা

বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 

• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। 
- যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 

• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে।  

২. -কে, -রে বিভক্তি। 
৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

২৭১.
'তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।'-এখানে ‘চোখ দিয়ে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৩য়া
  2. করণে ৩য়া
  3. অধিকরণে ৩য়া
  4. কর্তায় ৩য়া
ব্যাখ্যা
• 'তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।'-এখানে ‘চোখ দিয়ে‘ অপাদান কারকে তৃতীয়া বিভক্তি। 

-------------------
• অপাদান কারক:

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• তৃতীয়া বা 'দ্বারা / দিয়ে / কতৃক' বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।- বাক্যে জল পড়া বিচ্যুত অর্থ প্রকাশ করে। 

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭২.
'উঁচু ভূমির ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যটিতে 'জল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদান কারকে শূন্য
  2. কর্তা কারকে শূন্য
  3. কর্ম কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

'উঁচু ভূমির ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যে 'জল' শব্দটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি);
- কারণ জল নিজেই ক্রিয়াটি (নামা) সম্পন্ন করছে এবং এর সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন বা প্রত্যয় যুক্ত নেই।
-----------------------------------------------
কর্তৃকারক:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "আমি খেলছি" - 'আমি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "পাখি আকাশে উড়ছে" - 'পাখি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ এটি কর্তার কাজ করছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২৭৩.
'ছানা থেকে মিষ্টি হয়।' এখানে 'ছানা' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ছানা থেকে মিষ্টি হয়।

[বাক্যেটিকে 'কি থেকে মিষ্টি হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছানা'। সুতরাং 'ছানা' অপাদান কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২৭৪.
নিচের কোনটি শব্দ গঠনের পদ্ধতি নয়?
  1. সন্ধির মাধ্যমে
  2. কারকের মাধ্যমে
  3. শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে
  4. উপসর্গযোগে
ব্যাখ্যা

শব্দ গঠন পদ্ধতি:
- সন্ধির মাধ্যমে
- সমাসের সাহায্যে
- উপসর্গযোগে
- প্রত্যয়যোগে
- অনুসর্গযোগে
- বিভক্তিযোগে
- পদ পরিবর্তন দ্বারা
- শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে
- পদাশ্রিত নির্দেশক যোগ করে।

- উপর্যুক্ত প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠিত হলেও মূলত সমাস, প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে প্রধানত শব্দ গঠিত হয়।
অন্যদিকে,
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। এটি শব্দ গঠনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৭৫.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন : 'সারারাত বৃষ্টি হয়েছে'
  1. ক) করণে ৩য়া
  2. খ) কর্তৃকারকে ৩য়া
  3. গ) অধিকরণে শূন্য
  4. ঘ) কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'সারারাত বৃষ্টি হয়েছে' - বাক্যে 'সারারাত' বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
- কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
বাঘকে ভয় পায় না কে? এ বাক্যে “বাঘকে” কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
ভীত - বাঘকে ভয় পায় না কে?
বিচ্যুত - গাছ থেকে পাতা পড়ে।
গৃহীত - সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
জাতঃ জমি থেকে ফসল পাই।
বিরতঃ পাপে বিরত হও।
দুরীভূতঃ দেশ থেকে পংগপাল চলে গেছে।
রক্ষিত - বিপদ থেকে বাঁচাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

২৭৭.
'মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।' - বাক্যে ‘মাঝরাত্রে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার। 
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। (অধিকরণে সপ্তমী)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৮.
করণ কারকে সপ্তমা বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ছাত্ররা বল খেলে।
  2. খ) মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।
  3. গ) চেষ্টায় সব হয়।
  4. ঘ) লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
ব্যাখ্যা

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : ছাত্ররা বল খেলে।

খ. তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি : লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

গ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

২৭৯.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• 'তোমার দেখা পেলাম না।' - কর্মকারক

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮০.
'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।' এখানে 'দুয়ারে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

অধিকরণ তিন প্রকার।
যথা:
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ,
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন:
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
- 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। [ কথায় দাঁড়ায়ে প্রার্থী? (দুয়ারের কাছে)।]
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৮১.
’ডাক্তার ডাক’ বাক্যে ডাক্তার শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
  2. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্মকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ’ডাক্তার ডাক, বাক্যে ডাক্তার শব্দটি- কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

• কর্মকারক :
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
- যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।

• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: 
• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ডাক্তার ডাক,
- আমাকে একখানা বই দাও
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম,
- নজরুল পড়লাম,

•  দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি, রে বিভক্তি : 
- তাকে বল,
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ,
- এ নহে মোর প্রার্থনা,

•  ষষ্ঠী বা র বিভক্তি:
- তোমার দেখা পেলাম না।

• সপ্তমীর এ বিভক্তি:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
২৮২.
‘ট্রেন ঢাকা ছাড়ল' এখানে 'ঢাকা' কোন কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কর্মে
  2. করণে
  3. অপাদানে
  4. অধিকরণে
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন ঢাকা ছাড়ল। 

এই বাক্যে 'ঢাকা স্টেশন' থেকে ট্রেনটি বিচ্যুত হয়েছে বোঝাচ্ছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। 
- তাই 'ঢাকা' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৩.
'মশা মারতে কামান দাগা।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. করণ কারকে শূন্য
  4. অধিকরণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'মশা মারতে কামান দাগা।' - নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- মশা মারতে কামান দাগা

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'মশা মারতে কামান দাগা।' - এখানে 'কী মারতে কামান দাগা?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মশা'। তাই 'মশা' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৪.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন।
ঘোড়া গাড়ি টানে।
  1. ক) কর্মে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্তায় শূন্য
  3. গ) কর্মে শূন্য
  4. ঘ) করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

বাক্যে যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মকারক।
কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তির উদাহরণঃ
- চোর ধরা হয়েছে। ঘোড়া গাড়ি টানে। রতনে রতন চেনে। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৫.
নিচের কোনটি ‘উৎপন্ন’ অর্থে ব্যবহৃত অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. মেঘে বৃষ্টি হয়।
  2. ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. তিলে তৈল হয়।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।
দূরীভূত: দেশ থেকে বিপদ চলে গেছে।
উৎপন্ন: তিলে তৈল হয়।
ভীত: সুন্দরবনে বাঘের ভয় আছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৮৬.
আজকে নগদ কালকে ধার’ বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ২য়া
  2. অপাদানে ৫মী
  3. কর্তায় ২য়া
  4. করণে ২য়া
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন,
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে,
- আজকে নগদ কালকে ধার, ইত্যাদি। (অধিকরণে ২য়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৭.
"কোথা থেকে এসেছ?" - এখানে 'কোথা থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক :
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
-  গাছ থেকে পাতা পড়ে । (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- নদী থেকে জল পাই। (কোথা থেকে পাই? নদী থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বিপদ থেকে বাঁচাও। (কী থেকে বাঁচাও? বিপদ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বাঘকে ভয় পায় না কে? (কী হতে ভয় বের হলো? বাঘ হতে) : অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন। (কোথা থেকে পলায়ন? স্কুল থেকে) : অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কোথা থেকে এসেছেন? চট্টগ্রাম থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
- বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। (কীসে থেকে ফেলা হয়েছিল? বিমান থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

• "কোথা থেকে এসেছ?" - এ বাক্যে "কোথা থেকে" অপাদানে (কারণ, এখানে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে) কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২৮৮.
'তোমার দ্বারা কিছু হবে না' বাক্যটিতে কোন কারকের প্রয়োগ লক্ষণীয়?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
‘তোমার দ্বারা কিছু হবে না' বাক্যটিতে করণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে।
করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
অন্যদিকে,
অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই ।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল ।
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন ।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
২৮৯.
'দিব তোমা শ্রদ্ধাভক্তি।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা

- তোমা' (তোমাকে) পদটি এখানে যাকে কিছু দান করা হচ্ছে তাকে বোঝাচ্ছে।
- বাক্যে যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান, অর্চনা, বা সাহায্য করা হয়, সেই পদটি সম্প্রদান কারক হয়।
- এখানে 'শ্রদ্ধাভক্তি' স্বত্ব ত্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি সম্প্রদান কারক।

সম্প্রদান কারক: 

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)

(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"

জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২৯০.
'কুকর্মে বিরত হও।' - বাক্যে 'কুকর্মে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯১.
জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে জেলে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে প্রথমা
  2. কর্মকারকে প্রথমা
  3. কর্মকারকে সপ্তমী
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে 'জেলে' কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তির উদাহরণ। 

• কর্তৃকারক: 

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার-
• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ। 
- দ্বিতীয়া বিভক্ত:  কে, রে। 
- তৃতীয়া বিভক্শূ:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। 
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে। 
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে। 
- ষষ্ঠী বিভক্তি:  র, এর। 
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে। 
------------------------
• উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, 
- 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে কে মাছ ধরে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জেলে'।
- তাই, 'জেলে' কর্তৃকারক। 
- এবং এখানে প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  
তা বলা যায়, 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়' বাকে 'জেলে' কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তির উদাহরণ।    

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯২.
'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে 'স্টেশন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। 
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

ভাবাধিকরণ:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৯৪.
"শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।" -  এখানে ‘গোঁফে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ২য়া
  3. করণে ৭মী
  4. কর্তৃকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গোঁফে'। এবং 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই, এখানে 'গোঁফে' করণকারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২৯৫.
‘বাড়ি থেকে মাঠ দেখা যায়’ এখানে ‘বাড়ি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে পঞ্চমী
  2. খ) অপাদানে পঞ্চমী
  3. গ) কর্মে পঞ্চমী
  4. ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• 'বাড়ি থেকে মাঠ দেখা যায়'- এটি অধিকরণ কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক: ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

মাঠ, বাড়ি থেকে দেখা যায় । অর্থাৎ ক্রিয়াটি বাড়িতেই ঘটছে। তাই এটি অধিকরণ কারক ।

- এটি আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে অপাদান কারক। আসলে তা নয়।
- কারণ এ বাক্যের ‘মাঠ’ কিন্তু 'বাড়ি' থেকে বের হয় নি। তাই এটি অপাদান কারক নয়।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই। সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।

এরূপ কিছু উদাহরণ:
বিপদ থেকে বাঁচাও - অপাদান কারক।
বিপদে বাঁচাও - অধিকরণ কারক।
গাছ থেকে ফল পাই - অপাদান কারক।
গাছে ফল থাকে - অধিকরণ কারক।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
২৯৬.
আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. করণ কারকে শূন্য
  4. অপাদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'আমার গানের মালা (মুখ্য কর্ম) আমি করবো কারে (গৌণ কর্ম) দান' - এখানে 'কী আমি করবো কারে দান' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মালা'। তাই 'মালা' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৭.
নিচের কোনটি কর্মকারকের উদাহরণ?
  1. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  2. ছাগলে কী না খায়।
  3. সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
  4. অর্থ অনর্থ ঘটায়।
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

"সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।"
• উল্লেখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সম্পত্তি'। 
অর্থাৎ বাক্যে 'সম্পত্তি' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
(ক) আকাশে চাঁদ উঠেছে। → এটি অধিকরণ কারক।
(খ) ছাগলে কী না খায়। → এটি কর্তৃকারক।
(ঘ) অর্থ অনর্থ ঘটায়। → এটি কর্তৃকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
২৯৮.
‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’- বাক্যে ‘বাতাসে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• অতএব ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’- বাক্যটিকে কী উপায়ে নড়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘বাতাসে’। সুতরাং ‘বাতাসে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৯.
"রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।" - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. করণ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে। রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি:  আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০০.
"ভুট্টা থেকে তেল তৈরি হয়।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

সে অনুসারে,
'ভুট্টা থেকে তেল তৈরি হয়।' - বাক্যে 'ভুট্টা থেকে' অপাদান কারকের উদাহরণ।
কারণ, তেল তৈরির উৎস বা জাত হলো ভুট্টা।
আবার, 'হতে, থেকে, চেয়ে' - পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।
তাই, 'ভুট্টা থেকে' - অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।
---------------

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।