বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা৯৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা ১২ / ১২ · ১,১০১১,১৯৩ / ১,২০১

১,১০১.
‘বৃষ্টি পড়ে।’ বাক্যে ‘বৃষ্টি' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াকে 'কে' দ্বারা প্রশ্ন করা হয়?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি:
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০২.
'তিলে তৈল হয়।' এখানে 'তিলে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. করণ কারকে
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন-
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : 'তিলে তৈল হয়।'
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১০৩.
"মূর্খে কী না বলে!" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- মূর্খে কী না বলে!- এই বাক্যে ‘মূর্খে’ কর্তৃকারক।
[কারণ কে বলে? প্রশ্ন করলে উত্তর আসে  - মূর্খে। এবং এর সাথে 'এ' বা সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত আছে। সুতরাং এখানে ‘মূর্খে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৪.
"গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

যেমন:
- খোকা বই পড়ে।
- মেয়েরা ফুল তোলে।
- গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।

• এখানে কে চিরদিন পরাধীন থাকে প্রশ্নের উত্তরে 'গুণহীন' পাওয়া যায় তাই গুণহীন কর্তৃকারক।
- 'গুণহীন' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিযুক্ত হয়নি তাই শূন্যবিভক্তি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১০৫.
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।' - বাক্যে 'রাজার' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৬.
কোনটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক
  2. ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক সংজ্ঞা : যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- কারণ কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।
- সংসারে কল্যাণ দান কর। 
- গুরুজনে কর নতি।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও' - বাক্যে সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৭.
‘নাসিমা ফুল তুলেছে' এটি কোন কারক?
  1. ক) অধিকরণ
  2. খ) অপাদান
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

• উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ফুল'। 
অর্থাৎ বাক্যে 'ফুল' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)। 
১,১০৮.
"ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।" - বাক্যে 'বলের' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১০৯.
‘আকাশে মেঘ আছে।’ - এ বাক্যে 'আকাশে' কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• ‘আকাশে মেঘ আছে।’- এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - আকাশে।
তাই ‘আকাশে’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১০.
'লোকে কিনা বলে' - বাক্যের 'লোক' শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
  1. ক) -তে বিভক্তি
  2. খ) -রে বিভক্তি
  3. গ) -এ বিভক্তি
  4. ঘ) -কে বিভক্তি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে -এ বিভক্তি বসেছে।
- এখানে লোক + এ = লোকে শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

• বিভক্তি: 
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বুঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সাথে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- যেমন: -তে, -রে, -এ, -কে, -য়, -য়ে, -য়ের, -এর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১১.
'গুরুজনে কর নতি' এখানে 'গুরুজনে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
সংজ্ঞা: কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন:
- সেলিম বই পড়ে-
[এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।]

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম।
১ . মুখ্য কর্ম: কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয়
মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।
২. গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম। যেমন- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল। এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।

এরূপ-
• গুরুজনে কর নতি। 
[এ বাক্যের কর্ম হলো 'গুরুজন'। কারণ গুরুজনকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে। সুতরাং গুরুজনে কর্মকারক কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. জমি থেকে ফসল পাই।
  2. রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
  3. কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল
  4. ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১১৩.
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। এখানে ‘কুসুম কলি’ কোন কারক ও কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)
----------------
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে।
যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।

=============
কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা অনুসারে দেখা যায় এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।
আবার কুসুম কলিতে শূন্য বিভক্তি যুক্ত আছে। 
তাই বলা যায়, 'কুসুম কলি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১১৪.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. সরোজিনী
  2. সরোবর
  3. সরোজে
  4. সরলরেখা
ব্যাখ্যা
• 'সরোজ' অর্থ- পদ্ম, কমল, অম্বুজ, অরবিন্দ, রাজীব, উৎপল, কুমুদ।
- 'সরোজ' শব্দে 'এ' বিভক্তিযুক্ত হয়ে 'সরোজে' শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
সরোজিনী, সরোবর ও সরলরেখা বিভক্তিহীন শব্দ। 

----------------
• বিভক্তি:

যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১,১১৫.
"বিপদে মোরে রক্ষা কর।" - বাক্যে 'বিপদে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১১৬.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়' - এখানে 'কান্নায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ভাবাধিকরণে ৭মী
  2. আধার অধিকরণে ৭মী
  3. কালাধিকরণে ৭মী
  4. অপাদান কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়' - এখানে 'কান্নায়' ভাবাধিকরণে ৭মী।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ: 
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন: সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৭.
“বিনা জ্বালে ভাত হয় না।”- বাক্যে ‘জ্বালে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• বিনা জ্বালে ভাত হয় না।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা বা কী উপায়ে ভাত হয় না? জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘জ্বালে’। তাই ‘জ্বালে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]
 
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৮.
'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - বাক্যে 'স্বপন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. করণ কারকে শূন্য
  4. অধিকরণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - বাক্যে 'স্বপন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার স্বপন আধো জাগরণ।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'আমার স্বপন আধো জাগরণ।' - এখানে 'কী আধো জাগরণ?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'স্বপন'। তাই 'স্বপন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৯.
এ বাড়িতে কেউ নেই। - বাক্যে 'এ বাড়িতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে পঞ্চমী
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. করণে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য় ’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: আমি ঢাকা যাব। 
- তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২০.
'রহিম ধোপাকে কাপড় ধুতে দিল।' ইহা কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

'রহিম ধোপাকে কাপড় ধুতে দিল'- কর্মকারক এর উদহারণ। স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া বোঝালে সম্প্রদান কারক হয়। যেমন- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২১.
'ছাগল দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।' এই বাক্যে 'ছাগল দিয়ে' কোন কারক?
  1. ক) সম্বন্ধ কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
- 'ছাগল দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।' এই বাক্যে 'ছাগল দিয়ে' করণ কারক।

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ,’দিয়া’ , ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনসুর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ছাগল দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১,১২২.
'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - বাক্যে 'প্রাসাদ হতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে পঞ্চমী
  2. অধিকরণে সপ্তমী 
  3. অপাদানে সপ্তমী 
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• 'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - বাক্যে 'প্রাসাদ হতে' অধিকরণে পঞ্চমী বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
- প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।

• সপ্তমী বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'প্রাসাদ হতে তাকে ডাকলাম।' - এখানে 'কোথা হতে তাকে ডাকলাম?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'প্রাসাদ হতে'। তাই 'প্রাসাদ হতে' অধিকরণে পঞ্চমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২৩.
‘সবাই বাঘকে ভয় করে।’- বাক্যে ‘বাঘকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• ‘সবাই বাঘকে ভয় করে।’ - বাক্যে ‘বাঘকে’ অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৪.
'বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।'- বাক্যে 'বিশ্বাস থেকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

উদাহরণ-
• বিচ্যুত:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় ইত্যাদি।

• গৃহীত:
- দুধ থেকে দই হয়।
- বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।
[ কি থেকে প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায় 'বিশ্বাস থেকে'। সুতরাং বিশ্বাস থেকে অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাত:
- জমি থেকে আমরা ফসল পাই।
- খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত:
- পাপে বিরত হও।
- মিথ্যা বলা ছাড়।

• দূরীভূত: দেশ থেকে পাপাচার দূর করতে হবে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে আমায় বাঁচাও।
• আরম্ভ: বুধবার থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে।
• ভীত: বাঘে ভীত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৫.
নিজের চেষ্টায় বড় হও। 'চেষ্টায়' কোন কারক?
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) কর্তৃকারক 
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : ছাত্ররা বল খেলে।

খ. তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি : লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

গ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।
   এরূপ-  নিজের চেষ্টায় বড় হও

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ]
১,১২৬.
"ছাগলে কী না খায়।" - এখানে 'ছাগল' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১২৭.
‘বন্যেরা বনে সুন্দর’-বাক্যে ‘বনে’ কোন কারকের উদাহরণ
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৮.
কোনটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ?
  1. বৎসর খুব বন্যা হয়েছে।
  2. দুধ থেকে দই হয়।
  3. বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।
  4. কালির দাগ সহজে ওঠে না।
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে ।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ,’দিয়া’ , ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনসুর্গ যুক্ত হয় ।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর। (করণ কারকে শূন্য)।

অন্যদিকে,
- কালির দাগ সহজে মুখে না। (করণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)।
- দুধ থেকে দই হয়। (অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি)।
- এ বৎসর খুব বন্যা হয়েছে। (অধিকরণে শূন্য)। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২৯.
"সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।" - বাক্যে 'সপ্তপুরুষ' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন: 
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩০.
‘বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।’ বাক্যে 'বাড়ি থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে পঞ্চমী
  2. করণে পঞ্চমী
  3. কর্মে পঞ্চমী
  4. কর্তায় পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আজকে নগদ কালকে ধার।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ। (অধিকরণে পঞ্চমী)। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৩১.
"ফুলে ফুলে ভরে গেছে স্মৃতিসৌধের বেদি।" - এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ‘ফুলে ফুলে ভরে গেছে স্মৃতিসৌধের বেদি।’ - এখানে " ফুলে ফুলে" করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• "ফুলে ফুলে ভরে গেছে স্মৃতিসৌধের বেদি।" - এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক। এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি - 'এ' যুক্ত হয়েছে।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৩২.
'পুলিশ ডাক।' - বাক্যে 'পুলিশ' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৩৩.
পাগলে কিনা বলে।” নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন
 - আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

• কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
 পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,১৩৪.
‘জনম তব কোন মহাকূলে?’- বাক্যে ‘মহাকূলে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জনম তব কোন মহাকূলে?’- বাক্যেকে কখন বা কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘মহাকূলে’। সুতরাং ‘মহাকূলে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৫.
ছেলেরা মারবেল খেলে। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) অধিকরণ
  4. ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
মারবেল খেলার জন্য মারবেল নামক উপকরণ দরকার পড়ে। তাই এটি করণ কারক।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,১৩৬.
'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী' - এ বাক্যে 'দুয়ার' শব্দটি কোন ধরনের অধিকরণ?
  1. অভিব্যাপক অধিকরণ
  2. আধারাধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. ঐকদেশিক অধিকরণ
ব্যাখ্যা
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন -
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন -
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
- দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৭.
‘বাবাকে বড্ড ভয় পাই।’- বাক্যে ‘বাবাকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. অপাদানে দ্বিতীয়া
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৮.
'কাঁচের জিনিস সহজে ভাঙ্গে' বাক্যে 'কাঁচের' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি ঘটেছে ?
  1. কর্মে ষষ্ঠী
  2. করণে ষষ্ঠী
  3. সম্বন্ধে ষষ্ঠী
  4. নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
করণ কারক: করণ শব্দের অর্থ  যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান  সহায়, তা-ই করণ কারক। 
কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে । 

নিম্নে করণ কারকের বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ দেখানো হল:
- প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি। 
- পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: কাঁচের জিনিস সহজে ভাঙ্গে। 
- সপ্তমি বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৩৯.
'আলিফ অর্থনীতিতে ভালো।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'আলিফ অর্থনীতিতে ভালো।'এখানে 'অর্থনীতিতে' শব্দটি ক্রিয়ার বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা  হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বৈষয়িক আধারাধিকরণ :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উল্লেখ্য,
আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী,
- ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপকআধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৪০.
"মধুতে তার কণ্ঠ মাখানো।" — এখানে ‘মধুতে’ কোন কারকে, কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘
করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

বাক্যটি- মধুতে তার কণ্ঠ মাখানো।
কণ্ঠ কী দ্বারা মাখানো?
উত্তর: মধুতে ⇒ মধু দ্বারা, অর্থাৎ করণ কারক।
➤ এবং ‘মধুতে’ শব্দে ‘তে’ বিভক্তি ⇒ সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪১.
নিচের কোনটি অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
  2. সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
  3. ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
  4. তিলে তৈল আছে।
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- তিলে তৈল আছে।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৪২.
'তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।' - এখানে 'চোখ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. করণ
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। 

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল। 
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই। 
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। 
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে। 
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত। 
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১৪৩.
পণ্ডিতমশাই গণিতে পাকা-এটি কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

এরূপ-
• পণ্ডিতমশাই গণিতে পাকা।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে পাকা?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গণিতে'। এখানে 'গণিতে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। এটা বিষয়াধিকরণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৪৪.
'অর্থে অনর্থ ঘটায়।' - বাক্যে 'অর্থে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)

• কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার

'এ' বিভক্তি:
- অর্থে অনর্থ ঘটায়।
-গাঁয় মানে না, আপনি মোড়ল।
- পাগলে কী না বলে,ছাগলে কী না খায়।

•'য়' বিভক্তি
- ঘোড়া গাড়ি টানে।

•'তে' বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
-বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?

• 'অর্থে অনর্থ ঘটায়।'
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কে অনর্থ ঘটায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অর্থে'। তাই, 'অর্থে' কর্তয় ৭মী বিভক্তি।

অন্যদিকে, 'অর্থে অনর্থ ঘটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে অনর্থ ঘটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অর্থে'।
তাই, 'অর্থে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৫.
ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই কোন কারকের?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন –
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪৬.
'আমার যাওয়া হবে না'-  বাক্যে আমার কোন কারক? 
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 
- যেমন:
গরুতে দুধ দেয়। 
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?   
গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।  
আমার যাওয়া হবে না। 
বাঁশি বাজে। 
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।  
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।  
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম। 
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।  
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
১,১৪৭.
'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যে 'চিত্ত' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যে 'চিত্ত' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির

• 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ সেথা শির।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কী যেথা ভয়শূন্য?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চিত্ত'। তাই, 'চিত্ত' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৮.
'শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।' - এখানে 'গোফে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪৯.
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ আছে কোন বাক্যটিতে?
  1. ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল
  2. কাজের পরিচয় ফলে বোঝা যায়
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা একলা জেগে রই
  4. আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

 প্রশ্নে প্রদত্ত,
''আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস'' এই বাক্যে ''আকাশে'' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝিয়েছে এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে। তাই ‘আকাশে’ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

আবার,
- বাক্যের ক্রিয়াকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলেও ‘আকাশে’ উত্তর পাওয়া যায়। সুতরাং ‘আকাশ’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণে সপ্তমী কারক।

অন্যদিকে,
• 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে 'ফুলের' সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
• কাজের পরিচয় ফলে বোঝা যায়।- কাজের পরিচয় কী দ্বারা বোঝা যায় ফল দ্বারা। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
১,১৫০.
সৎপাত্রে কন্যা দান কর - এখানে 'সৎপাত্রে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) সম্প্রদানে চতুর্থী
  2. খ) সম্প্রদানে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে শূন্য
  4. ঘ) নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয় তাকে ( সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়-ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
চতুর্থী বা কে, রে, এরে বিভক্তিযুক্ত কতগুলো সম্প্রদান কারকের উদাহরণ হলো : ভিখারিকে পয়সা দাও। শীতার্তকে বস্ত্র দাও। সৎপাত্রকে কন্যা দাও।
সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তিযুক্ত কতগুলো সম্প্রদান কারকের উদাহরণ হলো : সৎপাত্রে কন্যা দান কর, সমিতিতে চাঁদা দাও, অন্ধজনে দেহ আলো।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৫১.
জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে। - বাক্যে নিম্নরেখ অংশের কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন -
  1. অপাদানে পঞ্চমী
  2. করণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৫২.
"জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়।" - এখানে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫৩.
'অহংকারে পতন হয়।' এখানে 'অহংকার' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. অপদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)। 
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)। 
•  'অহংকার পতনের মূল।' এখানে 'অহংকার' দ্বারা মানুষের পতন হয় তাই এখানে অহংকার করণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৫৪.
‘তিনি চোখে দেখেন না’ -এখানে 'চোখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন,
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে। সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

আবার,
‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা কীসের সাহায্যে দেখেন জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চোখে’। এবং 'চোখে' শব্দটিতে '৭মী' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 
তাই,
‘চোখে’ করণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার -
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫৫.
বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে। এখানে 'বিহগে' কোন কারক?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন: বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে।
এখানে শেখানো বিহগকে অবলম্বন করে সম্পাদিত হয়েছে। 
তাই বিহগে এখানে কর্মে সপ্তমী। 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
১,১৫৬.
জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে চাবুক মার।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়। ('কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া  - জ্ঞানে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,১৫৭.
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - অপাদান কারকের উদাহরণ।

---------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
------------------------ 
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫৮.
মেঘে বৃষ্টি হয়’ -কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না' - বাক্যে 'মেঘে' অপাদানে ৭মী।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫৯.
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল। নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', -এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,১৬০.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,১৬১.
নিচের কোনটিতে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়নি?
  1. ক) এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয়
  2. খ) গাড়ি ‘স্টেশন’ ছাড়ে
  3. গ) ‘ডাক্তার’ ডাক
  4. ঘ) ‘সারারাত’ বৃষ্টি হয়েছে
ব্যাখ্যা
এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয় বাক্যে ‘কলমে’ শব্দটিতে করণ কারকে ৭মী বা এ বিভক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি ‘স্টেশন’ ছেড়েছে, ‘ডাক্তার’ ডাক এবং ‘সারারাত’ ‍বৃষ্টি হয়েছে বাক্যে স্টেশন, ডাক্তার, এবং সরারাত শব্দগুলো যথাক্রমে অপাদান, কর্ম এবং অধিকরণ কারকে শূণ্য বিভক্তি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬২.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৩.
‘কারক’ (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ?
  1. ক) যা পদকে সম্পাদন করে
  2. খ) যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
  3. গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
  4. ঘ) যা সমাস সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা
কারক (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
যেমন-জলে কুমির থাকে = অধিকরণ কারক।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬৪.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধানায়।' - এখানে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন,
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬৫.
"সে তরবারিতে যুদ্ধ করল।" - এখানে 'তরবারিতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- ফলে বৃক্ষের পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা/ কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

- ভাসছে যেন আলগা স্রোতে।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে ভাসছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় স্রোতে। সুতরাং ‘স্রোতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

তেমনিভাবে,
• বাক্যটি - সে তরবারিতে যুদ্ধ করল।
- [বাক্যটিকে কী উপায়ে যুদ্ধ করল? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় তরবারিতে। এটি যুদ্ধ করার মাধ্যম বা উপকরণ (তরবারি) নির্দেশ করছে। এবং এর সাথে 'এ' বা 'সপ্তমী' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং ‘তরবারিতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
--------------------
• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৬.
গুণহীনে ত্যাগ কর। - বাক্যে ''গুণহীনে'' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) অধিকরণে ৭মী
  3. গ) সম্প্রদানে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় 'গুণহীনে'৷ অর্থাৎ বাক্যে 'গুণহীনে' একটি কর্মকারক।
আর শব্দের শেষে ''এ, (য়), য়, তে, এতে'' থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হয়। অতএব, বাক্যটিতে ''গুণহীনে'' কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,১৬৭.
‘জলে বাষ্প হয়।’- বাক্যে ‘জলে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৮.
'রফিক তাস খেলে।' বাক্যে 'তাস' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক 
  2. অপাদান কারক 
  3. করণ কারক 
  4. সম্বন্ধ কারক 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। 'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়। তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ): তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ): তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি: রফিক তাস খেলে। 
- করণ কারকে এ-বিভক্তি: গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি: তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৯.
“ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।” — এই বাক্যে ‘ঝিনুক থেকে’ অংশটি অপাদান কারকে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎপন্ন
  2. পতিত
  3. গৃহীত
  4. বিচ্যুত
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৭০.
'টাকায় বাঘের দুধ মেলে।' এখানে 'টাকায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। এসব ক্ষেত্রে বাক্যের ক্রিয়াকে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী দিয়ে'-এ প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন:
- টাকায় বাঘের দুধ মেলে।
[ বাক্যকে কীসের দ্বারা বা কী দিয়ে বাঘের দুধ মেলে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় "টাকায়'। সুতরাং টাকায় করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।] 

করণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ-
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: ছেলেরা ফুটবল খেলে। সে তাস খেলে ইত্যাদি।
• তৃতীয়া বিভক্তি: 'মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন'।
• সপ্তমী বিভক্তি: ফলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,১৭১.
"সামীপ্য অর্থে" কোন ধরনের অধিকরণ কারক হয়?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. কালাধিকরণ
  3. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা :
- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্যে অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭২.
'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যে 'অহংকারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যে 'অহংকারে' করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা 'এ' বিভক্তি:
অহংকারে পতন ঘটে
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'অহংকারে পতন ঘটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে পতন ঘটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অহংকারে'। তাই, 'অহংকারে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৩.
আধারাধিকরণ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- সফিক অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৪.
"আমি কি ডরাই সথি ভিখারী রাঘবে?" রাঘবে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি-
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৫মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- গাছ হতে ফলটি পড়ল।
- 'আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে?' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

যেহেতু প্রশ্নোক্ত বাক্যে রাঘবকে দেখে ভীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই তা অপাদান কারক।
- আর 'রাঘবে' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৭৫.
'রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী' বাক্যে 'পদাশ্রয়ে' শব্দটি-
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
পাভেল বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী - অধিকরণে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৬.
“তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।”- এখানে ‘চট্টগ্রাম’কোন কারক?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে অপাদানের ব্যবহার
ক. স্থানবাচক : তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।
খ. দূরত্বজ্ঞাপক : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দুশো কিলোমিটারেরও বেশি।
গ. নিক্ষেপ : বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১,১৭৭.
'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠদুপুরের পাঠশালা পলায়ন'। স্ফীত হরফের পদটির কারক ও বিভক্তি হলো-
  1. কর্মে প্রথমা
  2. অধিকরণে পঞ্চমী
  3. অপাদানে শূন্য
  4. সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
যা থেকে কোন কিছু উৎপন্ন, গৃহীত, বিচ্যুত, পতিত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত, রক্ষিত,ভীত,সচকিত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন -
আকাশ হতে বৃষ্টি নামল।

• ক্রিয়াপদকে ‘কোথা থেকে,’ ‘কী থেকে’, ‘কীসের থেকে’ বা ‘কী হতে বের হলো’ প্রভৃতি প্রশ্ন করার পর যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটি অপাদান কারক।
যেমন -
'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠদুপুরের পাঠশালা পলায়ন'। - (কোথা থেকে পলায়ন? পাঠশালা থেকে)। তাই, এখানে 'পাঠশালা' - অপদান কারকের উদাহরণ। এবং এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং, 'পাঠশালা' - অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৭৮.
‘চেষ্টায় সব হয়।’- বাক্যে ‘চেষ্টায়’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

‘চেষ্টায় সব হয়।’- বাক্যে ‘চেষ্টায়’ করণ কারক।

• করণ কারক:

যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।

[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৭৯.
'ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।' - এখানে 'বল' কোন কারক? 
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১৮০.
'আজকে তোমায় দেখতে এলাম জগৎ আলো নূরজাহান' চিহ্নিত শব্দটি কারক বিভক্তি হবে
  1. ক) করণে ৫মী
  2. খ) অধিকরণে ২য়া
  3. গ) অপাদানে ২য়া
  4. ঘ) কর্মে ১মা
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কোথায়, কখন, কী বিষয়' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারকে ২য়া অর্থাৎ 'কে' 'রে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
১,১৮১.
বসন্তে কোকিল ডাকে -এ বাক্যে ‘বসন্তে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্মকারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন-
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
- বসন্তে কোকিল ডাকে। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ ও মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,১৮২.
'দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।' - বাক্যে 'তোমা' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮৩.
‘গরুতে গাড়ি টানে।’- ‘গরুতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃ কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৮৪.
‘বনে বাঘ আছে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ৭মী
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৫মী
  4. ঘ) কারকে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
• ‘বনে বাঘ আছে’- বাক্যটি কোন কারকে কোন বিভক্তি নির্ণয় করি:
- বাক্যটিকে কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি হবে।
- কী আছে? দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বাঘ আছে। অতএব বাঘ কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
-
আবার কে আছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বাঘ আছে। সেক্ষেত্রে বাঘ কর্তৃকারকও হয়। 

[প্রদত্ত অপশনে কর্মকারক বা কর্তৃকারক না থাকায় ‘বন’কে কারক নির্ণয়ক শব্দ হিসেবে সঠিক উত্তর অপশন (ক) গ্রহণ করা হলো।]

----------------------
• অধিকরণ কারক:

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
যেমন: 
- ‘বনে বাঘ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।
- 'এ দেহে প্রাণ নেই।'- এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায়' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় দেহে, তাই এটি অধিকরণ কারক। 
- ‘পুকুরে মাছ আছে।’-  (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ‘ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।’- (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৫.
'ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।'- বাক্যে 'লাঠি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে শূন্য 
  2. আপাদান কারকে শূন্য 
  3. সম্বন্ধ কারকে শূন্য 
  4. করণ কারকে শূন্য 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ কারক। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)
[ বাক্যেকে কীসের দ্বারা মেরেছে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লাঠি দ্বারা'। সুতরাং 'লাঠি' করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'- নজরুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৬.
"বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।" - বাক্যে নিম্নরেখ অংশটি কোন কর্তা?
  1. প্রযোজ্য
  2. মুখ্য
  3. প্রযোজক
  4. ব্যতিহার
ব্যাখ্যা

ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে,
প্রযোজ্য কর্তা:
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন:
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে 'মা' প্রযোজক কর্তা, 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, 'চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

মুখ্য কর্তা:
যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৭.
'এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।' - বাক্যে 'সন্তান হতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. অধিকরণে পঞ্চমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. করণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায় বা উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ। অর্থাৎ কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।

যেমন:
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৮৮.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'। - বাক্যে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. কর্মকারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
  3. কর্তৃকারক, প্রথমা বিভক্তি
  4. কর্তৃকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে 'আমারে' উত্তর পাওয়া যায় এবং 'রে' বিভক্তিটি দ্বিতীয় বিভক্তি। 

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মের প্রকার:
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম।
- উদাহরণ: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- তাকে বল।

রে বিভক্তি:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১,১৮৯.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।' বাক্যে 'শোক' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

 কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য, 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
এখানে ক্রিয়াকে কী দ্বারা প্রশ্ন করলে 'শোক' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'শোক' কর্ম কারক।

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১,১৯০.
'পরিষদ দলে বলে তার শতগুণ।' - বাক্যে 'পরিষদ দলে' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমার দ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- পরিষদ দলে বলে তার শতগুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯১.
'ফুলে ফুলে সাজিয়েছে ঘর'- এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে তৃতীয়া
  2. করণে সপ্তমী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে'- এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হয়েছে।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯২.
বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য শব্দের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। 
যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৯৩.
কোনটি অধিকরণ কারক?
  1. বাবা বাড়িতে আছেন।
  2. জমি থেকে ফসল পাই।
  3. কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
  4. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় দেখা হবে।

অন্যদিকে,
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।