বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা ১১ / ১২ · ১,০০১১,১০০ / ১,২০১

১,০০১.
'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

•  ‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ - করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০২.
বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে ব্যক্তিবাচক কর্মপদটিকে কী বলে?
  1. মুখ্য কর্ম
  2. সমধাতুজ কর্ম
  3. গৌণ কর্ম
  4. সকর্মক
ব্যাখ্যা
• বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচক কর্মটিকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম ও ব্যক্তিবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে।
- যেমন -বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
- কাকে দিয়েছেন? আমাকে।
- কী দিয়েছেন? ল্যাপটপ
- আমাকে- (গৌণ কর্ম) ও ল্যাপটপ- (মুখ্য কর্ম)।

• তবে দুইটি একই ধরনের কর্ম থাকলে প্রথম কর্মটিকে উদ্দেশ্য কর্ম ও দ্বিতীয়টিকে বিধেয় কর্ম বলে।
- যেমন- ‘দুধকে মোরা দুগ্ধ বলি, হলুদকে বলি হরিদ্রা’।
- এখানে ‘দুধ’ ও ‘হলুদ’ উদ্দেশ্য কর্ম, ‘দুগ্ধ’ ও ‘হরিদ্রা’ বিধেয় কর্ম।

• কর্তা নিজে কাজ না করে কর্মকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিলে তাকে প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম বলে।
- যেমন : মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৩.
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো, নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে ৭মী
  2. খ) কর্তায় শূন্য
  3. গ) করণে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৫মী
ব্যাখ্যা
- নিম্নরেখ লাইনটি হলো অপাদানে ৫মী কারকের অন্তর্গত।
অপাদান কারক
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-

বিচ্যুত— গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

গৃহীত— সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুখ থেকে দই হয়।

জাত— জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।

বিরত— পাপে বিরত হও।

দূরীভূত— দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে। 

রক্ষিত— পদ থেকে বাঁচাও।

•অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,০০৪.
"কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা হলো।" - এখানে 'কাঁচি দিয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  2. করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
যেমন:
- "কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটা হলো।" - বাক্যেকে ‘কী উপায়ে কাটা হলো?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘কাঁচি দিয়ে’। সুতরাং ‘কাঁচি দিয়ে’ করণ কারকের উদাহরণ।
আবার, এর সাথে - তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 

সুতরাং,
‘কাঁচি দিয়ে’ করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।


উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৫.
"ছিনতাইকারীরা পথিকের মাথায় লাঠি মেরেছে।" - এখানে, 'মাথায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী 
  2. করণে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- ছিনতাইকারীরা পথিকের মাথায় লাঠি মেরেছে (অধিকরণে সপ্তমী)।
- কোথায় মেরেছে? উত্তর: মাথায়। এবং এর সাথে 'য়' অর্থ্যাৎ সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

সুতরাং,
"ছিনতাইকারীরা পথিকের মাথায় লাঠি মেরেছে।" - এখানে 'মাথায়' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কারক বাদ দিতে মতবাদ দিয়েছিলেন?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• কারক ও এর প্রকারভেদ:
বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে নাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
যথা: কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, সম্প্রদান কারক ও অধিকরণ কারক।

তবে,
• মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ) অনুসারে, সম্প্রদান কারককে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- নতুন সংস্করণ অনুসারে, কারক ছয় প্রকার।
- যথা: কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, অধিকরণ কারক ও সমন্ধ কারক।
- ড. হায়াৎ মামুদ তার ভাষা শিক্ষা বইয়ে, নিমিত্ত কারক নামে একটি কারকের শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

• মাধ্যমিক ব্যাকরণের নতুন সংস্করণ এবং হায়াৎ মামুদ সহ অনেক বইয়ে সম্প্রদান কারক নেই।
- কারণ, সম্প্রদান কারকের তাত্ত্বিক বৈধতা স্বীকার্য নয়।
- বাংলায় সম্প্রদান কারকের দরকার নেই - এই কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেকেই বলে গেছেন।

• নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০২১) অনুসারে,
- সম্প্রদান কারককে কর্ম কারকের মধ্যে দেখানো হয়েছে।
- আর সম্বন্ধ পদকে সম্বন্ধ কারক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ- পবিত্র সরকার।
১,০০৭.
"টক দই দিয়ে লাচ্ছি বানানো হয়।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

বাক্যটি - 
- "টক দই দিয়ে লাচ্ছি বানানো হয়।" - নিম্নরেখ শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৮.
'রাজায় রাজায় লড়াই।' - বাক্যের কর্তাটি কোন ধরনের?
  1. ব্যতিহার কর্তা
  2. প্রযোজ্য কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. মুখ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার কর্তা: 
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: 
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।
 
অন্যদিকে, 
প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন: 
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।
 
প্রযোজক কর্তা: 
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
 
মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৯.
'বাবা বাড়িতে আছেন।'- এখানে 'বাড়িতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
• 'ছেলেটি গণিতে দুর্বল' - অধিকরণ কারকে ৭মী ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,০১০.
'বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। বাক্যে 'বিপদে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
  2. অপাদান কারকে সপ্তমী
  3. কর্মকারকে সপ্তমী
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  5. করণকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

 • যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

১,০১১.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপাদন কারকে ষষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ আছে?
  1. ক) বাবাকে বড্ড ভয় পাই
  2. খ) যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়
  3. গ) তিলে তৈল হয়
  4. ঘ) বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকেনা
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে অপাদন কারকে ষষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে  সন্ধে হয়
অপাদান কারক:

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে ।
- গৃহীত : দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই ।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহৃত হয় ৷
যেমন:
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়- অপাদন কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি 
বাবাকে বড্ড ভয় পাই- দ্বিতীয় বিভক্তি 
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকেনা- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি
তিলে তৈল হয়- সপ্তমী বিভক্তি

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।


১,০১২.
'পাকা ধানে মই দেয়া।' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• 'পাকা ধানে' পদটিতে 'ধান' হলো বিশেষ্য পদ এবং 'মই' হলো সেই কাজটি করার মাধ্যম বা যন্ত্র।
- যেহেতু 'মই' দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়, তাই 'মই' শব্দটি করণ কারক নির্দেশ করে।
- এখানে 'মই' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তি যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি। 

• করণ কারক:

- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' 
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,০১৩.
'জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।' - এখানে 'জলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
- জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। অধিকরণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০১৪.
’অসহায়কে সাহায্য করো।’ নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম
কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

অন্যদিকে,
• কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গযুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে' ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,০১৫.
কাউকে স্বত্বত্যাগ করে দান বুঝালে কোন কারক হয়?
  1. ক) অপাদান
  2. খ) সম্প্রদান
  3. গ) অধিকরণ
  4. ঘ) কর্তৃ
ব্যাখ্যা
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। যেমন: অন্ধজনে দেহ আলো।
বস্তু নয়-ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করে না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১,০১৬.
কোনটি কর্তৃ সম্বন্ধের উদাহরণ?
  1. বাঘের ভয়
  2. সাধুর দর্শন
  3. রাজার হুকুম
  4. প্রভুর সেবা
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ:
- ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন-
- মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।
- এখানে 'মতিনের' সঙ্গে 'ভাই'-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু 'যাবে' ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
- জ্ঞাতব্য: ক্রিয়ার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের সম্বন্ধ নেই বলে সম্বন্ধ পদকে কারক বলা হয় না।

কারক সম্বন্ধ:
(১) কর্তৃ সম্বন্ধ: রাজার হুকুম।
(২) কর্ম সম্বন্ধ: প্রভুর সেবা, সাধুর দর্শন।
(৩) করণ সম্বন্ধ: চোখের দেখা, হাতের লাঠি।
(৪) অপাদান সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, বৃষ্টির পানি।
(৫) অধিকরণ সম্বন্ধ: ক্ষেতের ধান, দেশের লোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১৭.
'সারারাত বৃষ্টি ছিল।'- এখানে 'সারারাত' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

​যেমন:
​- পুকুরে মাছ আছে। 
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। 

​এরূপ- 'সারারাত বৃষ্টি ছিল।'- বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সারারাত'। সুতরাং 'সারারাত' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০১৮.
কোনটি কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কোদালে মাটি কাটব
  2. জাহাজ চট্টগ্রাম ছাড়ল
  3. সাপের হাসি বেদেয় চেনে
  4. আমারে তুমি রক্ষা করো
ব্যাখ্যা

'সাপের হাসি বেদেয় চেনে' - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

• এখানে কে চেনে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বেদেয়
• আবার, বেদে শব্দের সাথে 'য়' - সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০১৯.
বিভক্তি যোগে নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) গরুগুলি
  2. খ) পাথরগুলো
  3. গ) গরুরা
  4. ঘ) কুকুরগুলি
ব্যাখ্যা
অপ্রাণী বা ইতর প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ‘রা’ যুক্ত হয় না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়।
যেমন-পাথরগুলো, কুকুরগুলি, গরুগুলি, বিড়ালগুলো ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,০২০.
"শিমুলকে যেতে হবে।" - বাক্যে 'শিমুলকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে দ্বিতীয়া
  2. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  3. কর্তায় দ্বিতীয়া
  4. করণে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০২১.
‘এ কলমে কী করে লিখব।’ বাক্যে ‘কলমে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' - কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

অতএব ‘এ কলমে কী করে লিখব।’ বাক্যটিকে কার দ্বারা লিখব প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কলমে’। তাই ‘কলমে’ করণে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২২.
‘চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।’ বাক্যটিতে ‘চণ্ডালে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ২য়া
  2. অপাদান কারকে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।' বাক্যটিতে 'চণ্ডালে' শব্দটি- কর্মে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

এখানে,
- চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে।
• উল্লেখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চণ্ডালে (চণ্ডালকে)'। 
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হয়েছে।
- সুতরাং 'চণ্ডালে' শব্দটি হবে কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,০২৩.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। - এই বাক্যে ‘মন দিয়া’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- কলমের খোঁচা দিও না। (করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি)।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৪.
অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ দুটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,০২৫.
'সাপুড়ে সাপ খেলায়'- বাক্যটিতে প্রযোজ্য কর্তা কোনটি?
  1. ক) সাপুড়ে
  2. খ) সাপ
  3. গ) খেলায়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'সাপুড়ে সাপ খেলায়'- বাক্যটিতে 'খেলায়' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'সাপুড়ে' প্রযোজক কর্তা এবং 'সাপ' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি

১,০২৬.
'মন্ত্রি' শব্দের বহুবচন কী?
  1. মন্ত্রিগণ
  2. মন্ত্রিবর্গ
  3. মন্ত্রিসব
  4. মন্ত্রিমণ্ডলী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

→ গণ -দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
→ বৃন্দ -সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
→ মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,০২৭.
'নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।' বাক্যে অঙ্কে কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• 'নেহাল অঙ্কে খুব কাঁচা।' বাক্যে 'অঙ্কে' অধিকরণ কারক।

• কারক:

- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।
• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত'-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা অধিকরণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০২৮.
'ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।' - বাক্যে 'তালগাছ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্তায় কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার:
১) মুখ্য কর্ম,
২) গৌণ কর্ম।

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও।
- শুক্রবার স্কুল বন্ধ।
- ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০২৯.
'জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।' - বাক্যে ' নদী থেকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৩০.
ধাতুর সঙ্গে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়?
  1. প্রত্যয় 
  2. বিভক্তি 
  3. ক্রিয়ামূল
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব -শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।

বিভক্তি দুই প্রকার:
১. ক্রিয়া-বিভক্তি ও
২. কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- পড়ু + ই = পড়ি,
- পড়ু + এ = পড়ে,
- পড়ছে পড়ছে,
- পড়বে পড়বে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

১,০৩১.
'মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।'- এখানে 'মেঘ' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:

• বিচ্যুত:
গাছ থেকে পাতা পড়ে।
মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
[কিসের থেকে বৃষ্টি পড়ে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘ থেকে'। সুতরাং  'মেঘ' অপাদান কারক।] 

• গৃহীত:
সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
দুধ থেকে দই হয়।

• জাত:
জমি থেকে ফসল পাই।
খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত: পাপে বিরত হও।

• দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
• নিক্ষেপ: বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,০৩২.
"ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো করণ কারকে সপ্তমী।
--------------------------------
• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উল্লেখ্য,
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গযুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১,০৩৩.
কোনটি করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. তারা বল খেলে।
  3. শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
  4. আমার যাওয়া হয়নি।
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ,’দিয়া’ , ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনসুর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। করণে ৭মী বিভক্তি।

• শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গোঁফে'। এবং 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই, এখানে 'গোঁফে' করণকারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বনে বাঘ আছে। - অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
- তারা বল খেলে। - করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
- আমার যাওয়া হয়নি। - কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৪.
‘আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।’- বাক্যে ‘পাঠেতে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
 
অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
 
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
 
প্রশ্নে প্রদত্ত,
- আপন পাঠেতে মন করহ নিবেশ।
[বাক্যকে কোন বিষয়ে মন নিবেশ কর? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া ‘পাঠেতে’। সুতরাং ‘পাঠেতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তি।]
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৫.
সঠিক উত্তর চিহ্নিত করুন।
'রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন'
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেম
- সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

• বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম কারক।
- এখানে, 'রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের' 'কী' 'সমালোচনা করে গেছেন?' এখানে উত্তর পাওয়া যায় 'নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে' 
- অর্থাৎ বাক্যে 'নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারক' কর্মকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২১ সালের সংস্করণ)।

১,০৩৬.
'পাগলে কিনা বলে' - বাক্যে 'পাগলে' কোন কারকে কোন বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. খ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. গ) কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
  4. ঘ) করণকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'পাগলে কিনা বলে' - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৭.
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।- কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

১,০৩৮.
‘সে আমাকে অঙ্ক শেখাচ্ছে।’ এখানে ‘অঙ্ক‘ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- কৃপা করো দীনজনে।
সে আমাকে অঙ্ক শেখাচ্ছে।

অন্যদিকে,
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৩৯.
‘সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন’ নিম্নরেখ অংশটি যে কারকের উদাহরণ -
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) একটিও নয়
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে,
- পাপে বিরত হও,
- সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু ইত্যাদি।

তেমনিভাবে, সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন; এখানে পাঠশালা পলায়ন মানে হলো পাঠশালা হতে পলায়ন, যা অপাদান কারক।

উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১,০৪০.
গৃহহীনে গৃহ দাও - 'গৃহহীনে' কোন প্রকারের কারক?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
গুরুজনে কর নতি (ভক্তি) - সম্প্রদানে সপ্তমী৷ গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,০৪১.
'কাজের বেলা গোল করো না।' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

•'কাজের বেলা গোল  করো না।' এখানে 'বেলা' অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪২.
‘মাঠে জল থই থই করছে।’- বাক্যে "মাঠে" পদটি কোন অধিকরণ?
  1. ক) ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. গ) বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. ঘ) ভাবাধিকরণ
ব্যাখ্যা
• মাঠে জল থই থই করছে। "মাঠে" পদটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণ।

• অধিকরণ কারক বলতে ক্রিয়া সম্পাদনের সময় এবং আধারকে নির্দেশ করে।
• ক্রিয়াকে "কখন" ও "কোথায়" দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
• অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ '-এ' '-য়' '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

-অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।
- আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:-

 ১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

 - উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
উদাহরণ:
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১,০৪৩.
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয় । বাক্যে ‘ভেড়া’ কোন কারক?
  1. ক) কর্তা কারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
বাক্যে  ভেড়া- করণ কারক।

করণ কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ’দিয়া’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয় । 
যেমন - 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয় ।
 
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
১,০৪৪.
‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা’ - এখানে ‘সর্বাঙ্গে’ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. খ) অধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) কর্তায় সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থ্যাৎ ‘এ’, ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কতিপয় অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণঃ 
তিলে তৈল আছে,
নদীতে মাছ আছে,
বনে বাঘ আছে,
আকাশে চাঁদ উঠেছে,
সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১,০৪৫.
করণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
  2. টাকায় কিনা হয়।
  3. টাকায় টাকা হয়।
  4. ঘোড়ায় চড়ে মর্দ হেঁটে চলল।
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
কেঁদে মরি আঁখিজলে।
ভেড়া দিয়ে
চাষ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
ঘোড়ায় গাড়ি টানে - কর্তা কারকে ৭মী।
টাকায় টাকা হয় - অপাদান কারকে ৭মী।
ঘোড়ায় চড়ে মর্দ হেঁটে চলল- অধিকরণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৬.
'দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।' - এখানে 'দেশ' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. অধিকরণ
  3. কর্ম
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,০৪৭.
ব্যাকরণের কোন অংশে কারক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্বে
  2. খ) অর্থতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
- 'কারক' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

 বাক্যতত্ত্ব:

- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
১,০৪৮.
কোন বাক্যে ভাববাচ্যের কর্তার উদাহরণ দেয়া হয়েছে?
  1. ক) সে গ্রামে যাবে
  2. খ) ছুটি হলে ঘন্টা পড়বে
  3. গ) আমার যাওয়া হবে না
  4. ঘ) তাকে গ্রামে যেতে হবে
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা ৩ রকম হতে পারে।
যেমন-
১/ কর্মবাচ্যের কর্তা (পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে),
২/ ভাববাচ্যের কর্তা (আমার যাওয়া হবে না) এবং
৩/ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (কলমটা লেখে ভালো)।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪৯.
আকাশ মেঘে ঢাকা। - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।

যেমন:
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৫০.
‘অণুতে গঠিত হিমালয়’- বাক্যে ‘অণুতে’ কোন কারক?
  1. করণে সপ্তমী
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- ‘অণুতে গঠিত হিমালয়’- বাক্যেকে ‘কী উপায়ে গঠিত?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘অণুতে’। সুতরাং ‘অণুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে -
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫১.
নিচের কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম রয়েছে?
  1. ক) খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি
  2. খ) বেশ ঘুম হয়েছে
  3. গ) সে ঘুমিয়ে আছে
  4. ঘ) আমি ঘুম থেকে জেগেছি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে সঠিক উত্তর হচ্ছে - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। 
- এখানে ঘুম হচ্ছে কর্ম এবং ঘুমিয়েছি হচ্ছে ক্রিয়াপদ। 

• সমধাতুজ কর্ম: 
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হয়।
- একে ধাত্বর্থকও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৫২.
তিলে তৈল আছে। এটি কোন অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. কালাধিকরণ
  2. আধারাধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. কোনটিই নয়?
ব্যাখ্যা

আধারাধিকরণ কারক তিন প্রকার
ঐকদেশিক - বিরাট স্থানের যে কোন অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমনঃ পুকুরে মাছ আছে।
অভিব্যাপক - উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমনঃ তিলে তৈল আছে।
বৈষয়িক - বিষয় বিশেষে বা কোন বিশেষ গুণে কারও কোন দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমনঃ আমাদের সেনারা সাহসে দূর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,০৫৩.
’জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।’ নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. কর্ম কারকে শূন্য
  4. করণ কারেক শূন্য
ব্যাখ্যা
• জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। নিম্নরেখ শব্দগুলো কর্ম কারকে সপ্তমী।
----------------------------------
• কর্ম কারক:

- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।

•  কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

প্রথমা/শূন্য/অ-বিভক্তি:
⇒ এখানে কোনো বিভক্তি যোগ করা হয় না — তাই একে শূন্য বিভক্তি বা অ-বিভক্তিও বলা হয়।
⇒ সাধারণত যখন কর্মটি সরাসরি ক্রিয়াপদের পরে আসে এবং নির্দিষ্ট হয় না, তখন এই বিভক্তি ব্যবহার হয়।

উদাহরণ:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (এখানে "বই" দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম, তাই শূন্য বিভক্তি)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম। (এখানে গ্রন্থ অর্থে, শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে)

• দ্বিতীয়া বিভক্তি ("কে"):
 কর্মকার নির্দিষ্ট হলে সাধারণত "কে" বিভক্তি ব্যবহার হয়।
উদাহরণ:
- তাকে বল।
- আমায় দেখো।

’রে’ বিভক্তি:
উদাহরণ:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। (— রবীন্দ্রনাথ)

ষষ্ঠী বিভক্তি ("র"):
- এটি সাধারণত কর্তাসূচক বা অধিকার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তবে কোনো-কোনো ক্ষেত্রে কর্মকারেও প্রয়োগ হয়।
উদাহরণ:
- তোমার দেখা পেলাম না। (এখানে "তোমার দেখা" — কর্মের রূপ, ষষ্ঠী বিভক্তি)

সপ্তমী বিভক্তি ("এ"):
উদাহরণ:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
(— এখানে "জনে জনে" বলার মাধ্যমে সবার প্রতি কর্মপ্রয়োগ বোঝানো হয়েছে; ব্যাপকতা বা 'বীপ্সা' বোঝাতে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১,০৫৪.
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) করণে ষষ্ঠী
  3. গ) অধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
এটি ভাবাধিকরণের উদাহরণ। এখানে সূর্যোদয় একটা কাজ, আর এই কাজে সাহায্যে অন্ধকার দূর হওয়ার কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে। অর্থাৎ একটি কাজ অন্য একটি কাজের ওপর নির্ভর করছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,০৫৫.
"জ্যোৎস্নাতে আলোকিত এই রাত্রি।" এখানে 'জ্যোৎস্নাতে' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'করণ' কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় হিসেবে যা ব্যবহৃত হয় তা-ই করণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াকে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী দিয়ে'-এ প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন-
- আমরা কানে শুনি।
[কি দিয়ে শুনি? কান দিয়ে। 'কান' করণ কারক।]

- জ্যোৎস্নাতে আলোকিত এই রাত্রি। 
[কীসের দ্বারা আলোকিত এই রাত্রি?- প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জ্যোৎস্নাতে'। 'জ্যোৎস্নাতে' করণ কারকে সপ্তমী বভক্তি।]

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- সে তাস খেলে ইত্যাদি।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- 'মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন'।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- ফলে ফুলে ঘর ভরেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৬.
"আমারে করহ তোমার বীণা।" - এখানে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারক সপ্তমী
  2. কর্মকারকে সপ্তমী
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী
  4. করণকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন- শিক্ষককে জানাও; অসহায়কে সাহায্য করো। 

- "আমারে করহ তোমার বীণা।" 
[বাক্যটিতে ‘কী করহ?’ দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘আমারে’।
সুতরাং, 'আমারে' কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৭.
সম্বন্ধ পদ বাক্যে কোথায় বসে?
  1. ক) বিশেষ্যের পূর্বে
  2. খ) বিশেষণের পূর্বে
  3. গ) বিশেষ্যের পরে
  4. ঘ) বিশেষণের পরে
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ পদ বাক্যে বিশেষ্যের পূর্বে ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১,০৫৮.
’আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।’ বাক্যে নিম্নেরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৫৯.
ক্রিয়া সংগঠনের কাল বা আধারকে বলা হয়-
  1. ক) সম্প্রদান কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কাল বা আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। যেমনঃ 'সে রোজ স্কুলে যায়', 'আমি বিকেলে খেলাধুলা করি' বাক্যদ্বয়ে স্কুল (স্থান) এবং বিকেল (সময়) হলো অধিকরণ কারক। অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) যুক্ত হয়। অধিকরণ কারক তিনপ্রকার। যথা- কালাধিকরণ, আধারাধিকরণ এবং ভাবাধিকরণ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৬০.
'সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা' -এখানে 'ঔষধ' কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. সম্প্রদানে শূন্য 
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য 
  4. কর্তৃকারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।

যেমন:
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
 - সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৬১.
তখনকার দিনে মোবাইল ছিল না। বাক্যে 'তখনকার' কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নে 'তখনকার' শব্দে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে।

• সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
-  সম্বন্ধ কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- সম্বন্ধ কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র', -এর', ‘-য়ের', ‘-কার', ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন-
আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
তখনকার দিনে মোবাইল ছিল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১,০৬২.
"ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।" - বাক্যে 'ঘরেতে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে। ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৬৩.
নিচের কোনটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
  2. বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?
  3. লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব। 
  4. প্রভাতে সূর্য ওঠে।
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অন্যদিকে,
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। = অপাদান কারক।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে? = কর্তৃকারক।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব। = করণ কারক।

- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক, 
২. অভিব্যাপক এবং 
৩. বৈষয়িক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৬৪.
'রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।'- বাক্যে 'গীতাঞ্জলি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যে মুখ্য ও গৌণ উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

যেমন:
- রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।
[ বাক্যকে কী লিখেছেন? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গীতাঞ্জলি'। সুতরাং, গীতাঞ্জলি কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।]

এরূপ কিছু উদাহরণ-
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,০৬৫.
"সৎপাত্রে কন্যা দান কর।" - এখানে 'সৎপাত্র' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. সম্প্রদান
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৬৬.
ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. রোদে
  2. নদীতে
  3. মেঘলা
  4. বইয়ের
ব্যাখ্যা
• ‘বই’ শব্দে ‘এর’ ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ ‘বইয়ের’।

-----------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১,০৬৭.
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিলো। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দবর্গটি কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৬৮.
'এই মাতৃহীন শিশুটি গেল তার কাকির কাছে।' - বাক্যে 'শিশুটি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- এই মাতৃহীন শিশুটি গেল তার কাকির কাছে। (কর্তায় শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৯.
'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?'- এখানে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. -তে
  2. -এ
  3. -এর
  4. শূণ্য 
ব্যাখ্যা

'বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?'- এখানে বাক্যটিতে বুলবুলিতে (বুলবুলি+ তে বিভক্তি) যুক্ত হয়েছে।

• বিভক্তি:

 বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
যেমন- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ + এ বিভক্তি), মা (মা +০ বিভক্তি), শিশুকে (শিশু + কে বিভক্তি), চাঁদ (চাঁদ + 0 বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তিগুলো ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: : ০, অ,। 
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: : ০, অ, কে, রে । 
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। 
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: : এ (য়ে, য়), হইতে, *থেকে, *চেয়ে, *হতে।।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) 

১,০৭০.
বাঁশি বাজে। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
এটি কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা। অর্থাৎ কর্মই কর্তার মতো কাজ করছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,০৭১.
'পারভেজ পাথরের ঘায়ে আহত হলো।' এখানে 'ঘায়ে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।

তেমনিভাবে,
- পারভেজ পাথরের ঘায়ে আহত হলো। 
[প্রদত্ত বাক্যটিকে 'কী দ্বারা আহত হলো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঘায়ে বা আঘাতে'। সুতরাং এখানে ঘায়ে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭২.
মৃত জনে দেহ প্রাণ’ নিম্নরেখ পদটি কোন কারেক কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্ম, দ্বিতীয়া
  2. খ) কর্ম সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদান চতুর্থ
  4. ঘ) সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'মৃত জনে দেহ প্রাণ' বাক্যে 'মৃত জনে' সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি।

• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত ত্যাগ করে কিছুদেওয়া হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে ।
- কাকে দান করা হলো ? প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটিই সম্প্রদান কারক ।
- সম্প্রদান কারকের নিয়ম অন্যান্য নিয়মের মতোই সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকেই এসেছে ।

• সম্প্রদান কারকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিভক্তির প্রয়োগ :
- ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক । (কাকে ভিক্ষা দাও? ভিক্ষুক) : এখানে ভিক্ষুক সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- অসহায়কে খাদ্য দাও । (কাকে দান করা হলো? অসহায়কে) : সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি।
- অন্ধজনে দেহ আলো । (কাকে দান করা হলো? অন্ধজনে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সমিতিতে চাঁদা দাও । (কাকে দান করা হলো? সমিতিতে) : সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
১,০৭৩.
‘শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে’। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘–এ’, ‘–য়’, ‘-য়ে’, ‘-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে (অধিকরণে সপ্তমী)। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৪.
করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়?
  1. র 
  2. এর 
  3. কে 
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
 যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• করণ কারকে অনুসর্গ ব্যবহারের পূর্বে মূল সর্বনাম শব্দের সঙ্গে — "র; এর; কে" বিভক্তি যোগ করে নিতে হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে - 
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৭৫.
কোনটি প্রথমা বিভক্তির বহুবচন?
  1. এর
  2. এরা
  3. দিগকে
  4. দিগের
ব্যাখ্যা
• প্রথমা বিভক্তির বহুবচন - এরা

বাংলা শব্দ-বিভক্তি:
- শূন্য (০) বিভক্তি (অথবা অ-বিভক্তি), এ, (য়), তে (এ), কে, রে,) র, (এরা) এ কয়টিই খাঁটি বাংলা শব্দ বিভক্তি।
- এ ছাড়া বিভক্তি স্থানীয় কয়েকটি অব্যয় শব্দও কারক-সম্বন্ধ নির্ণয়ের জন্য বাংলায় প্রচলিত রয়েছে।
যেমন - দ্বারা, দিয়ে, হতে, থেকে ইত্যাদি।

- বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার: প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী।
- একবচন এবং বহুবচন ভেদে বিভক্তিগুলোর আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়।

বিভক্তির আকৃতি:
একবচন:
- প্রথমা: ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
- দ্বিতীয়া: ০, অ, কে, রে (এরে), এ, য়, তে।

বহুবচন:
- প্রথমা: রা, এরা, গুলি (গুলো), গণ।
- দ্বিতীয়া: দিগে, দিগকে, দিগেরে, *দের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৬.
‘আমাদের একটি গল্প বলুন।’ বাক্যে 'আমাদের' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্মে ষষ্ঠী
  3. কর্মে ২য়া
  4. অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- আমাদের একটি গল্প বলুন। (কর্মে ষষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,০৭৭.
জল পড়ে, পাতা নড়ে – নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) কর্মে শূন্য
  4. ঘ) করণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৭৮.
'শিমুলকে যেতে হবে।' - বাক্যে 'শিমুলকে' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। তবে কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৭৯.
প্রিয়জনে যাহ দিতে চাই তাই দিই দেবতারে। কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন-
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) সম্প্রদানে ষষ্ঠী
  4. ঘ) অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। 
------------------------------------------------
“প্রিয়জনে যাহা দিতে চাই তাই দিই দেবতারে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,০৮০.
বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত কোন বিভক্তি বসে?
  1. -য়ে বিভক্তি
  2. -রে বিভক্তি
  3. -য়ের বিভক্তি
  4. -র বিভক্তি
ব্যাখ্যা
বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

♣ বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে তে বিভক্তি হয়। যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 
• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে। 

২. -কে, -রে বিভক্তি; 
• বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত -কে এবং -রে বিভক্তি বসে।
• ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
• যেমন: শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি। 

৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি;
• বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে -র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়। 
• সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে। 
• যেমন: রাজার প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবীর, তনুর, বধূর। 

• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন – বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ের বিভক্তি হয়। যেমন – ভাইয়ের বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৮১.
ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চুলার
  2. আজহারকে
  3. মদিনায়
  4. সকালে
ব্যাখ্যা

• 'চুলার' ষষ্ঠী বিভক্তিযোগে গঠিত শব্দ।
• চুলা + র = চুলার; এখানে র ষষ্ঠী বিভক্তি।

বিভক্তি:

- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৮২.
‘বাড়ির পুকুরের পাড়ে বড় ভাইয়ের কলার বাগান ‘ - বাক্যে পুকুর শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি জড়িত ?
  1. ক) ‘-য়ের’
  2. খ) ‘-র’
  3. গ) ‘-এর’
  4. ঘ) ‘-রের’
ব্যাখ্যা
বাক্যে পুকুর শব্দের সাথে ‘-এর’ বিভক্তি জড়িত ।
• বাক্যের মধ্যে শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছুলগ্নক যুক্ত হয় ,
সেগুলোকে বিভক্তি বলে ।
যেমন - - এ , -তে , -য় , -য়ে , -কে , - রে , -র , - এর , -য়ের ইত্যাদি ।
সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে -এ, -তে, -য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো ,,
কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
- যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন – সকালে, দিনাজপুরে, ই-
মেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি।
- শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। যেমন – হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে, রামতেু ,, ইত্যাদি।
- আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি ।
- শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে ।
- ই-কারান্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে
বাক্যে গৌণকর্মে রর্মে সঙ্গে সাধারণত -কে এবং -রে বি ভক্তি বসে । ক্রি য়াকে 'কাকে ' প্রশ্ন করলে যে শব্দ
পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বি ভক্তি যুক্ত হয়। যে মন – শি শুকে , দরি দ্রকে , আমাকে , আমারে ইত্যাদি ।
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে -র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয় ।
সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে। যেমন – রাজার, প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবির, তনরু, বধূর।
যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের শেষে -এর বিভক্তি হয়। যেমন – বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি।
শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ের বিভক্তি হয়। যেমন – ভাইয়ের, বইয়ের, লাউয়ের, মৌয়ের ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতির্মি ( নবম - দশম শ্রেণি )
১,০৮৩.
'জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে 'মাছ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?  
  1. কর্তা কারকে শূন্য
  2. কর্ম কারকে শূন্য
  3. অধিকরণ কারকে শূন্য
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- 'জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে 'মাছ' শব্দটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি)। 
----------------------------
কর্মকারক-
- কর্মকারক বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তি বা বস্তু, যার ওপর কর্তার করা কাজটি পড়ে।
- সহজভাবে বলা যায়, কর্তা যা করে—সেই কাজটি যাকে নিয়ে হয়, তাকেই কর্মকারক বলে।
- কর্মকারক নির্ণয়ের জন্য ক্রিয়াকে ধরে “কী?” বা “কাকে?” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্মকারক।

- যেমন—
- “রিমা ফুল তুলছে” বাক্যে প্রশ্ন করলে কী তুলছে? উত্তর আসে ফুল—তাই ‘ফুল’ হলো কর্মকারক।
- আবার “ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা করছেন” বাক্যে কাকে পরীক্ষা করছেন? প্রশ্নের উত্তরে রোগীকে আসে—এটিও কর্মকারক।

- অর্থাৎ, কর্তার কাজের প্রভাব যার ওপর পড়ে বা যে ব্যক্তি/বস্তু সেই কাজের ফল ভোগ করে, তাকেই কর্মকারক বলা হয়।
-------------------------------
"জেলে ভাই মাছ ধরে মেঘের ছায়ায়"—
- বিশ্লেষণ:
• মাছ: 
- 'মাছ' হচ্ছে- ক্রিয়ার কর্ম, কারণ জেলে (কর্তা) যা ধরে তা হলো মাছ।
- যেহেতু ‘মাছ’ শব্দটির সঙ্গে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই এটিকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি) হিসেবে ধরা হয়।

• জেলে:
- জেলে নিজেই মাছ ধরার কাজটি করে তাই জেলে কর্তা, অর্থাৎ কর্তৃকারক।
- এখানে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই 'জেলে'- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (প্রথমা বিভক্তি)।

• মেঘের ছায়ায়:
- মেঘের ছায়ায় স্থান নির্দেশ করছে। 
- ‘ছায়ায়’ অংশটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি (‘-য়’ যুক্ত)।
- ‘ছায়ায়’ অংশটি ‘ধরে’ ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং কর্তা ‘জেলে’-এর সঙ্গে যুক্ত, তাই সরাসরি ক্রিয়ার সঙ্গে মিল রেখে অধিকরণ কারকের ভূমিকা পালন করছে।
---------------------------------
শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "জেলে মাছ ধরে" - "জেলে'' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।

• "ধোপাকে কাপড় দাও" - 'কাপড়' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ কোনো চিহ্ন নেই,
- এবং যদি প্রশ্ন করা হয় 'ধোপাকে কি দাও'- তাহলে উত্তর আসবে 'কাপড়'; 
- তাই 'কাপড়' কর্মকারক। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১,০৮৪.
"জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।" - বাক্যটিতে 'জ্ঞানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে দ্বিতীয়া
  2. সম্প্রদানে চতুর্থী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷
- করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।

• দিয়া বিভক্তি:
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০৮৫.
'শিহাব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।' এখানে 'ব্যাকরণে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।

অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
• 'শিহাব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যাকরণে’। এখানে ‘ব্যাকরণে’ শিহাবের ভালো হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৮৬.
'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
----------------------------------------
• 'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
এই বাক্যে 'বাড়িতে' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই এটিই অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।   
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৮৭.
‘ঘোড়া গাড়ি  টানে’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• ‘ঘোড়া গাড়ি টানে’ - কর্মকারক

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- ঘোড়া গাড়ি টানে

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'ঘোড়া গাড়ি টানে।' - এখানে 'ঘোড়া কী টানে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাড়ি'। তাই 'গাড়ি' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৮.
‘রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।' বাক্যটিতে 'নজরুল’ - শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্মে প্রথমা
  3. করণে প্রথমা
  4. অধিকরণে প্রথমা
ব্যাখ্যা
• ‘রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।' বাক্যটিতে 'নজরুল’ - শব্দটি কর্মে প্রথমা। 

কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন -
সেলিম বই পড়ে।
এ বাক্যের কর্ম হলাে 'বই'। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়ােগে)

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি: ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।'

গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তােমার দেখা পেলাম না।

ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৯.
'আমাকে যেতে হবে'। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ২য়া
  2. খ) কর্মে ২য়া
  3. গ) অপাদানে ২য়া
  4. ঘ) অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
আমাকে যেতে হবে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি- কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯০.
'লোকে কিনা বলে।' - এখানে 'লোক' শব্দের সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. ষষ্ঠী বিভক্তি
  4. সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'লোকে কিনা বলে।' - এখানে 'লোক' শব্দের সাথে সপ্তমী "এ" বিভক্তি যুক্ত আছে।

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯১.
নিচের কোন বাক্যে কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ রয়েছে?
  1. ক) রাখাল গরু চড়ায়।
  2. খ) মামাকে ডাকতে হবে।
  3. গ) রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।
  4. ঘ) আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।
ব্যাখ্যা
• মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- রাখাল গরু চড়ায়।- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- মামাকে ডাকতে হবে।- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।- কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।-  কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১,০৯২.
'তিলে তৈল হয়' বাক্যে 'তিলে' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
'তিলে তৈল হয়' - অপাদানে সপ্তমী
কিন্তু 'তিলে তৈল আছে'-- অধিকরণে সপ্তমী।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ

অপাদান কারক
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৩.
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তাকারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

অর্থ্যাৎ,
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারক এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৪.
"সমিতিতে চাঁদা দাও।" - বাক্যে 'সমিতিতে" কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৫.
'বিপদ থেকে বাঁচাও।' এখানে 'বিপদ থেকে' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. করণ কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
• বিচ্যুত: 
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

• গৃহীত: 
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।

• জাত: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত: পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
[কী থেকে বাঁচাও প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বিপদ থেকে। এখানে 'বিপদ থেকে'  অপাদান কারকে পঞ্চমী বভক্তি।]
• আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১,০৯৬.
'রেখ মা দাসেরে মনে।' বাক্যে 'দাসেরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃ কারকে ২য়া
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী 
  3. কর্ম কারকে ২য়া 
  4. কর্তৃ কারক ৬ষ্ঠী 
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

এরূপ- 
- রেখ মা দাসেরে মনে।
[বাক্যে 'দাসকে' কেন্দ্র করে মনে রাখার ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং, 'দাসেরে' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৭.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কলম
  2. দুধ
  3. আকাশ
  4. ঘরে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- ঘ) ঘরে।

• 'এ’ – সপ্তমী বিভক্তি।
অর্থ্যাৎ: ঘর + এ = ঘরে (বিচক্তযুক্ত শব্দ)। 

বিভক্তি
বিভক্তি হলো শব্দের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত অংশ যা ব্যাকরণিক সম্পর্ক প্রকাশ করে।

"ঘরে" = ঘর + এ
"ঘর" = মূল শব্দ (প্রাতিপদিক);
"এ" = বিভক্তি (অধিকরণ কারকের বিভক্তি);

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) কলম - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।
খ) দুধ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।
গ) আকাশ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।

বিভক্তিযুক্ত শব্দের উদাহরণ:
ঘর + এ = ঘরে;
বই + তে = বইতে;
ছেলে + র = ছেলের;
মা + কে = মাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১,০৯৮.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।' - এখানে 'গাছ' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাই।

• অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদ ধরে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে' 'কীসের থেকে' এসব প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
[কোথা থেকে? (গাছ থেকে), তাই 'গাছ' অপাদান কারক।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৯৯.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।' এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক 
  2. অধিকরণ কারক 
  3. কর্ম কারক 
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

এরূপ-
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। 
[বাক্যকে কোন বিষয়ে অপরাজেয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় যুদ্ধে। সুতরাং 'যুদ্ধে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১০০.
'বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।' এই বাক্যে 'বাড়ি থেকে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।
ছাদ থেকে পানি পড়ে। 
বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ। 


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, ভাষা- শিক্ষা , ড.হায়াৎ মামুদ ]