বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

অনুসর্গ

মোট প্রশ্ন৩৫১এই পাতা৫১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

অনুসর্গ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৫১ / ৩৫১

৩০১.
'শরতের পর আসে বসন্ত'। এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে? 
  1. দীর্ঘ বিরতি
  2. বিরতি
  3. অল্প বিরতি
  4. নৈকট্য
ব্যাখ্যা

'শরতের পর আসে বসন্ত'। এখানে 'পর' অনুসর্গটি  “দীর্ঘ বিরতি” অর্থ প্রকাশ করে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:

- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অনুসর্গ:
যেমন-
⇒ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

• অনুসর্গের প্রয়োগ
- পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
- পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে-শরতের পরে আসে বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩০২.
ক্রিয়াপদ থেকে তৈরী হয়েছে কোন অনুসর্গ?
  1. ক) ক্রিয়াপদ অনুসর্গ
  2. খ) ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
  3. গ) ক্রিয়ালগ্ন অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সাধারণ অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে- মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৩.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ নয়?
  1. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  2. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  3. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
  4. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩০৪.
প্রাতিপদিকের পরে অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোনটিতে?
  1. ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর
  2. তোমাকে দিয়ে আমার চলবেনা
  3. দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?
  4. এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না
ব্যাখ্যা

বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো লক্ষ করলে দেখা যাবে যে একমাত্র- দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে? -এই বাক্যটিতে দুঃখ শব্দটি বিভক্তিহীন নামশব্দ।
বাকি গুলোতে "কে" এবং "র" বিভক্তি উপস্থিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৩০৫.
কোনটি অনুসর্গ পদের দৃষ্টান্ত?
  1. যেমন-তেমন
  2. অপর-পর
  3. সাথে-পাশে
  4. কেউ-কোথাও
ব্যাখ্যা
• সাথে ও পাশে নিচে শব্দ দুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- ‘যেমন-তেমন’ সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
- ‘অপর-পর’ অন্যবাচক সর্বনাম পদের উদাহরণ।
- ‘কেউ-কোথাও’ অনির্দষ্ট সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩০৬.
‘বিমান উড়ল ভারত অভিমুখে’- এখানে ‘অভিমুখে’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘বিমান উড়ল ভারত অভিমুখে’- এখানে ‘অভিমুখে’ নাম অনুসর্গ।

⇒ অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

⇒ নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।

নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৩০৭.
কোন অব্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের পরে যুক্ত হয়ে বিভক্তির কাজ করে?
  1. সংযোজক
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুকার
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
• ন ব্যয় = অব্যয়।
• যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
• অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অব্যয়ের প্রকারভেদ:   
• অব্যয় প্রধানত চার প্রকার; 
১. সমুচ্চয়ী,
২. অনন্বয়ী,
৩. অনুসর্গ বা পদান্বয়ী, 
৪. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়। 
------------------------
অনুসর্গ অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা:
- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় ‘পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।
------------------- 
অনন্বয়ী অব্যয়: 
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- যেমন: 
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।   
৩০৮.
অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয় কোথায়?
  1. ক) সাধু ভাষায়
  2. খ) চলিত ভাষায়
  3. গ) কথ্য ভাষায়
  4. ঘ) উপভাষায়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষায় অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়।
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
অনুসর্গ কী করে?
  1. ক) বিভক্তির কাজ করে
  2. খ) শব্দের অর্থ স্পষ্ট করে
  3. গ) শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে
  4. ঘ) বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
যে অব্যয় শব্দগুলাে কখনাে স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনাে শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্যে করে, সেগুলােকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘র’, -- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তােমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১০.
'মাঝে' অনুসর্গটি কোন বাক্যে একদেশিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
  2. সীমার মাঝে অসীম তুমি।
  3. নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
  4. সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
ব্যাখ্যা
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - একদেশিক অর্থে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

• অনুসর্গের প্রয়োগ:
মাঝে:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'। সে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১১.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. পানে
  2. বিনা
  3. লেগে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১২.
অনুসর্গ কী?
  1. অস্বাধীন পদ
  2. ধ্বনি বিভক্তি
  3. শব্দ বিভক্তি
  4. নাম বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
- সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। এগুলো হলো-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

• এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩১৩.
"শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।" - বাক্যে 'সহিত' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সহগামিতা
  2. সমসূত্র
  3. বিরুদ্ধগামিতা
  4. তুলনায়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:
সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩১৪.
কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ। এ বাক্যে 'কেবল' হচ্ছে-
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. ধাতু
  4. প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ। এ বাক্যে 'কেবল' হচ্ছে - অনুসর্গ

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ কেবল: কেবল তোমার জন্যই আমার এ দুর্ভোগ
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর, কেবল ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৫.
'আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?' - এখানে 'বাবদ' কী পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. অনুসর্গ 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• 'আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?' - এখানে 'বাবদ' একটি অনুসর্গ। 

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:

যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্যে করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে' ‘র’, -- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।।

ফারসি অনুসর্গ: বাংলা ভাষায় ফারসি অনুসর্গের মধ্যে রয়েছে দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
যেমন:
- বৃষ্টির দরুন খেলা পণ্ড হয়ে গেল।
- আমাকে এটার বদলে ওটা দিন।
- খেলা চলছে আবাহনী বনাম মোহামেডান।
- আমাকে কী বাবদ টাকাটা দিলেন?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩১৬.
কোন বাক্যটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
  1. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  2. তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. মাথার উপরে নিল আকাশ।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• জন্য: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩১৭.
অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: 
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
 
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?
 
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩১৮.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. উপরে
  2. থেকে
  3. কাছে
  4. দ্বারা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে;
- থেকে;
- দিয়ে;
- ধরে;
- বলে;

অন্যদিকে,
• সাধারণ অনুসর্গ:

যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে;
- কাছে;
- জন্যে;
- দ্বারা;
- বনাম;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৩১৯.
'কার কাছে গেলে জানা যাবে?' - বাক্যে 'কাছে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
  3. সাধারণ অনুসর্গ
  4. বিশেষ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩২০.
সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ কোনটি?
  1. মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
  2. তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

অন্যদিকে,
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি। 
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩২১.
দূর্ভাগ্যবশত সভায় উপস্থিত হতে পারিনি- এখানে 'বশত' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণে
  2. ব্যাপার
  3. সঙ্গে
  4. সহকারে
ব্যাখ্যা

'বশত' এখানে কারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। দূর্ভাগ্যের কারণে সভায় উপস্থিত হতে পারেনি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৩২২.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - বাক্যে 'মাঝে' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হযেছে?
  1. সংশয়
  2. মধ্যে
  3. অনুমান
  4. ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের ব্যবহার:

‘সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৩.
"গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ।" - এখানে অনুসর্গ 'ছাড়া' কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. মধ্যে
  2. দূরে
  3. নিমিত্তে
  4. দিকে
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। (এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ)।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? (এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ)।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ। - 'দূরে' অর্থে 'ছাড়া'অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩২৪.
বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত অনুসর্গ কোনটি?
  1. মধ্যে
  2. বিনা
  3. পর্যন্ত
  4. ভিন্ন
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে এগুলো হলো:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে - প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩২৫.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়
  2. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে
  3. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে - ’এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না’ বাক্যে।

• অনুসর্গ:
- অনু’ কথাটির অর্থ পরে , আর ‘সর্গ’ মানে সৃষ্টি বা ব্যবহার।
- সুতরাং সাধারণভাবে অনুসর্গ বলতে বোঝায় যা পরে ব্যবহৃত হয়।
- উপসর্গ যেমন ধাতুর আগে বসে, অনুসর্গ তেমন পদের পরে বসে।
- যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে পৃথকভাবে বসে শব্দ বিভক্তির মতো তাদের কারক-সম্বন্ধ নির্ধারণ করে, তাদের অনুসর্গ বলা হয়।
- কেবল বিভক্তির মতো কারক-সম্বন্ধ নির্দেশ করলে তবেই তাদের অনুসর্গ বলে।

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে:সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩২৬.
অসমাপিকা ক্রিয়ার প্রকার নয় কোনটি?
  1. ক) সম্যক অসমাপিকা
  2. খ) ভাবী অসমাপিকা
  3. গ) ভূত অসমাপিকা
  4. ঘ) শর্ত অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া দুই প্রকার:
- সমাপিকা ক্রিয়া,
- অসামাপিকা ক্রিয়া।

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৭.
“আজ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার খেলা” - এখানে ‘বনাম’ শব্দটি কোন প্রকার অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) সংস্কৃত অনুসর্গ
  2. খ) আবর্তিত অনুসর্গ
  3. গ) বিবৃত অনুসর্গ
  4. ঘ) ফারসি অনুসর্গ
ব্যাখ্যা

ব্যুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গগুলিকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায় 
১। নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
২। ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ঐতিহাসিক উৎস অনুসারে বিশেষ্য অনুসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- ক. সংস্কৃত অনুসর্গ, খ. বিবৃত অনুসর্গ, গ. ফারসি অনুসর্গ। 

সংস্কৃত অনুসর্গ: সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। যেমন; প্রাণের অপেক্ষা প্রিয় কি আর আছে?

বিবৃত অনুসর্গ:
 বিবৃত অর্থাৎ তদ্ভব অনুসর্গের মধ্যে রয়েছে;আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি। যেমন, “আমার কাছে এর জবাব নেই।”

ফারসি অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি অনুসর্গ এর মধ্যে রয়েছে- দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি। যেমন, “আজ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার খেলা” 

উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

৩২৮.
'এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।' - বাক্যে 'জন্য' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিমিত্তে
  2. নিকট
  3. প্রতি
  4. সক্ষমতা
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের ব্যবহার:
কাছে: 'নিকট' অর্থে = আমার কাছে আর কে বলবে?
জন্য: 'নিমিত্তে' অর্থে = এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য
পানে: প্রতি, দিকে অর্থে = ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন।
পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে = রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩২৯.
সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলো-
  1. রাজপথ 
  2. ধানক্ষেত
  3. গ্রামছাড়া
  4. তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 

বিভক্তিলোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসঃ 
- দুঃখকে প্রাপ্ত= দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত 
- পথের রাজা = রাজপথ 
- গোলায় ভরা =গোলাভরা 
 -গাছে পাকা = গাছপাকা

সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া

অলুক তৎপুরুষ সমাসঃ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ সমাস।
যেমনঃ
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]


 
৩৩০.
'অনুসর্গ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।
- এছাড়া ,কারক, সমাস, উপসর্গ, অনুসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয় ইত্যাদি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩১.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ নেই?
  1. ক) মন দিয়ে পড়ালেখা করলে চাকরি হবে।
  2. খ) আমি তোমার সাথে থাকব না।
  3. গ) তুমি আছ বলেই আমার ভরসা।
  4. ঘ) সে বাড়ি ফিরবে না বলে পণ করেছে।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি।
যেমন : 
- মন দিয়ে কাজ করা উচিত।
- তুমি আছ বলেই আমার ভরসা। 
- সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে। 
- আপনি সাহায্য করেছন বলেই কাজটা হলো।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বোর্ড বই
৩৩২.
বাংলা ব্যাকরণে কয় ধরনের অনুসর্গ রয়েছে?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে ।
যেমন,
সে কাজ ছাড়া কিছু বোঝে না। - এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ?- এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৩.
নিচের কোন বাক্য সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. খ) মন দিয়ে কাজ কর।
  3. গ) তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. ঘ) কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
৩৩৪.
বৃষ্টির দরুন খেলা পন্ড হয়ে গেল। এখানে দরুন হলো -
  1. বিবর্তিত অনুসর্গ
  2. ফারসি অনুসর্গ
  3. সংস্কৃত অনুসর্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি অনুসর্গের মধ্যে রয়েছে:
- দরুন 
- বদলে 
- বনাম 
- বাদে 
- বাবদ 
- বরাবর 

এ ধরণের কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ-উদাহরণ:
দরুন: বৃষ্টির দরুন খেলা পন্ড হয়ে গেল।
বদলে: বাবা রাতে ভাতের বদলে রুটি খান। 
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকার খেলা। 
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
৩৩৫.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. চেয়ে
  2. পানে
  3. তরে
  4. আম
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলো- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
• অপরদিকে আম আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৬.
নিম্নের কোনটি অপরগুলো থেকে ভিন্নার্থক?
  1. ক) অগ
  2. খ) নাগ
  3. গ) গিরি
  4. ঘ) অর্দ্রি
ব্যাখ্যা
'অগ', 'গিরি', 'নগ' ও 'অর্দ্রি' = 'পর্বত' এর সমার্থক। 
 'পর্বত' এর সমার্থক শব্দগুলো হলো: নগ, শৈল, পাহাড়, ভূধর, মহীধর, শৃঙ্গধর, ধরাধর, বসুধাধর ইত্যাদি।
'নাগ' = 'সাপ' এর সমার্থক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৭.
তুমি না বলেছিলে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে? - 'না' কী অর্থে প্রকাশ করেছে?
  1. ক) না-বাচক
  2. খ) প্রশ্নবোধক
  3. গ) হ্যাঁ-বাচক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৮.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ রয়েছে?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  4. ভালো করে খেয়ে নাও।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩৩৯.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ভালো করে খেয়ে নাও ৷
  2. খ) বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  3. গ) আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা
  4. ঘ) মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
ব্যাখ্যা
- 'আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।'- বাক্যটিতে 'বনাম' সাধারণ অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• অন্যান্য অপশন:
মন দিয়ে লেখাপড়া করো। 
ভালো করে খেয়ে নাও ৷
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
উপরের তিনটি বাক্য ক্রিয়া অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩৪০.
সাধারণ অনুসর্গ রয়েছে কোন বাক্যটিতে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ ২ প্রকার:
- সাধারণ অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ 

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪১.
নিচের কোনটি অনুসর্গ না?
  1. ক) পরি
  2. খ) তরে
  3. গ) পরে
  4. ঘ) বই
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বহু অনুসর্গ আছে। যেমন - প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
পরি সংস্কৃত উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩৪২.
'গান দিয়ে মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে রাখতো সে।' বাক্যটিতে 'দিয়ে' হলো-
  1. উপসর্গ 
  2. প্রত্যয় 
  3. ধাতু 
  4. অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• 'গান দিয়ে মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে রাখতো সে।' বাক্যটিতে 'দিয়ে' হলো একটি ​অনুসর্গ। 

​---------------
​• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে ।
বাংলা কিছু অনুসর্গ আছে এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে, চেয়ে, অপেক্ষায়, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তি রূপে ব্যবহৃত হয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসর্গের উদাহরণ:
হইতে, হতে, চেয়ে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৪৩.
'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল'। -এখানে 'মাঝে' কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. মধ্যে
  3. ক্ষণকাল
  4. একদেশিক
ব্যাখ্যা

'মাঝে' অনুসর্গের প্রয়োগ:
- মধ্যে অর্থে - 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
- একদেশিক অর্থে - এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ক্ষণকাল অর্থে - নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

অন্যদিকে,
মাঝারে: ব্যাপ্তি অর্থে - 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৪.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আপন, তুমি
  2. খ) বলে, কয়ে
  3. গ) অভিমুখে, কাছে
  4. ঘ) জোরে, আস্তে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে অভিমুখে, কাছে অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৪৫.
কোনটি সাধারণ অনুসর্গ?
  1. কাছে
  2. দিয়ে
  3. করে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৬.
হতে, থেকে, চেয়ে - এগুলো প্রধানত কী?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
হতে, থেকে, চেয়ে- এগুলো পঞ্চমী বিভক্তি হিসেবে চিনি, আবার দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক তৃতীয়া বিভক্তি হিসেবে চিনি।
এগুলো মূলত অনুসর্গ।
- কিন্তু এগুলো বিভক্তি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রশ্নে বিভক্তি ও অনুসর্গ দুইটাই থাকলে অনুসর্গ উত্তর করাই শ্রেয়।
- অনুসর্গ না থাকলে বিভক্তি উত্তর করতে হবে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
৩৪৭.
'অনুসর্গ' সম্পর্কে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
  2. কখনো স্বাধীন পদ রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  3. ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে
  4. কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা
• 'অনুসর্গ' সম্পর্কে শুদ্ধ নয় - ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে।

• অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৮.
"নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• "নৌকাটি দক্ষিণের অভিমুখে যাত্রা করল।" - এখানে 'অভিমুখে' অনুসর্গ পদ।

---------------
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 

৩৪৯.
বাংলা ভাষায় কোন শব্দ্টি অনুসর্গ এবং উপসর্গ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) পরা
  2. খ) প্রতি
  3. গ) বিনা
  4. ঘ) অতি
ব্যাখ্যা

পরা, প্রতি, অতি সংস্কৃত উপসর্গ।
প্রতি, বিনা, সহ, পাছে, মধ্যে, মাঝে, পরে - এগুলো অনুসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি

৩৫০.
সাধারণ অনুসর্গ রয়েছে কোন বাক্যে?
  1. মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
  2. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  3. তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫১.
‘সময় ছিল না বলে যেতে পারিনি’- বাক্যে ‘বলে’ কোন পদ?
  1. ক) যোজক
  2. খ) আবেগ
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পেদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে এগুলোকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সময় ছিল না বলে যেতে পারিনি।
উপরের বাক্যে ‘বলে একটি অনুসর্গ।

• বাংলা ভাষায় প্রচুর অনুসর্গ রয়েছে। যেমন- প্রতি, বিনা, বিহীন, ব্রতীত, বশত, বাবদ, বলে, সহ, সহকারে, সাথে , সঙ্গে, মনে, সহিত, অপেক্ষ, অধিক, অবধি, ছাড়া, জন্যে, উপর, চেয়ে, কর্তৃক, দ্বারা, নিমিত্ত, নিচে, থেকে, হইতে, অপেক্ষা, মধ্যে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।