বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৮০১৯০০ / ১,০৫২

৮০১.
কোরিয়ান যুদ্ধ কত সালে আরম্ভ হয়?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯৪৯
  3. গ) ১৯৫০
  4. ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সৃষ্টি হলে ১৯৫০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ১৯৫৩ সালে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৮০২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে ‍নিক্ষেপ করা বোমার নাম-
  1. লিটল বয়
  2. বিগ বয়
  3. রেড সান
  4. ফ্যাট ম্যান
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ:
- ১ম পারমাণবিক হামলা: 
- লক্ষ্য শহর: হিরোশিমা, জাপান।
- তারিখ: ৬ আগস্ট, ১৯৪৫। 
- বোমা নিক্ষেপকারী দেশ: যুক্তরাষ্ট্র।
- বোমার নাম: “Little Boy”
- Enola Gay নামে একটি B-29 বোমারু বিমান।

• দ্বিতীয় পারমাণবিক হামলা
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫।
- নাগাসাকি শহরে, জাপান।
- “Fat Man” নামে দ্বিতীয় বোমা ফেলা হয়। 

• উদ্দেশ্য
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮০৩.
জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করে কবে?
  1. ৯ নভেম্বর, ১৯৪১
  2. ২৪ নভেম্বর, ১৯৪১
  3. ১ ডিসেম্বর, ১৯৪১
  4. ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১
ব্যাখ্যা

পার্ল হারবার আক্রমণ:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে।
- এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
- কৌশলগত দিক দিয়ে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা।
- যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপান ছিল আগ্রাসি একটা দেশ। চীনের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধজয়ের পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধজয়ে জাপান আরও বেশি আগ্রাসি হয়ে ওঠে।
- এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করায় জাপান আরও সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠে।
- ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে জাপান তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৮০৪.
কিউবান বিপ্লব কোন শাসকের পতন ঘটায়?
  1. ফুলগেনসিও বাতিস্তা
  2. চে গুয়েভারা
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. অগাস্তো পিনোশে
ব্যাখ্যা
কিউবা বিপ্লব:
- কিউবার বিপ্লবী মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো।
- কিউবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফুলগেনসিও বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিপ্লবের ময়দানে সক্রিয় হন কাস্ত্রো।
- তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো।

⇒ ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর ফিদেল কাস্ত্রো ও তার বিপ্লবী সহযোগীরা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
- পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন।
- শুরুর দিকেই তাকে কারাবন্দী করে বাতিস্তা সরকার।
- কিউবার মানুষের মুক্তির জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামেন কাস্ত্রো।
- এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃতি পায়।
- ফিদেল কাস্ত্রো তাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি বানানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল তৈরির দায়িত্ব দেন।
- বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তিন বছর পর চে গুয়েভারাকে ‘কাস্ত্রোর মস্তিষ্ক’ বলে আখ্যায়িত করেছিল।
- সংগঠিত হয়ে কাস্ত্রোর বিপ্লবী বাহিনী গেরিলা যুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
- আচমকা হামলায় বাতিস্তা সরকার পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।
- সিয়েরা পর্বতমালা, শহর পেরিয়ে তারা হাভানায় ঢুকে পড়লে বাতিস্তা সরকার পালিয়ে যায়।
- জয়ী হন কাস্ত্রো, জয় হয় বিপ্লবের।
- বিপ্লবের নেতা, ফিদেল কাস্ত্রো, ১৯৫৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছিলেন।
- এই বিপ্লব ফুলগেনসিও বাতিস্তার পতন ঘটায়।

উৎস: Britannica.
৮০৫.
কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাবলো পিকাসো ‘গোয়ের্নিকা’ চিত্রকর্মটি অঙ্কন করেন?  
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. স্পেনের গৃহযুদ্ধ
  3. মার্কিন গৃহযুদ্ধ
  4. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• পাবলো পিকাসো:
- বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিত্রশিল্পীদের একজন পাবলো পিকাসো। 
- তিনি একাধারে ছিলেন দক্ষ ভাস্কর, মৃৎশিল্পী, পোশাক পরিকল্পক ও মঞ্চসজ্জাশিল্পী। 
- পাবলো রুইজ পিকাসোর জন্ম ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর দক্ষিণ স্পেনের ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী মালাগা শহরে।
- তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো 'গোয়ের্নিকা', ‘দ্য ওল্ড গিটারিস্ট’, ‘গার্ল বিফোর আ মিরর’, ‘দ্য উইপিং ওমেন’, ‘উইমেন অব আলজিয়ার্স’, ‘সেলফ পোর্ট্রেট’, ‘থ্রি মিউজিশিয়ানস’, ‘সিটেড বাথার’ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- পিকাসোর আঁকা অসংখ্য বিখ্যাত ছবির একটি বিখ্যাত ছবি হলো ‘গোয়ের্নিকা’। 
- স্পেনের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি ‘গোয়ের্নিকা’ চিত্রকর্মটি অঙ্কন করেন। 
- ১৯৩৭ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জার্মান ও ইতালীয় বিমান বাহিনী স্পেনের গোয়ের্নিকা শহরে ভয়াবহ বোমা হামলা চালায়। সেই নৃশংসতার প্রতিবাদে পাবলো পিকাসো আঁকেন বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘Guernica’, যা যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) Nobel Prize ওয়েবসাইট।

৮০৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কোন ঘটনার মাধ্যমে?
  1. হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা ফেলা
  2. ফ্রান্সে জার্মান হামলা
  3. জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণ
  4. ব্রিটেন কর্তৃক জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
ব্যাখ্যা
- জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
- জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
-  অক্ষশক্তি: জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তি: ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
- সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, যিনি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সূত্র: History.com
৮০৭.
বার্লিনের দেওয়াল কোন সালে নির্মিত হয়েছিল?
  1. ১৯৪৬
  2. ১৯৪৮
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬২
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রাচীর (১৯৬১-১৯৮৯):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি প্রধানত চারভাগে বিভক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চলে যায়।
- স্নায়ুযুদ্ধের ফলে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অধীনের অংশগুলো একত্রিত করে গঠিত হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি) এবং সোভিয়েত ইউনিয়নেরে অধীনের অংশে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি (পূর্ব জার্মানি)। 

উল্লেখ্য,
- পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার ফলে পশ্চিম জার্মানি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি অপেক্ষাকৃত কম উন্নত হওয়ায় এ অংশের জনগণ পশ্চিম জার্মানিতে গমন করা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম জার্মানির পুঁজিবাদের ধাক্কা যেন পূর্ব জার্মানিতে না লাগে এবং অভিবাসন যেন ঠেকানো যায় সে লক্ষ্যে পূর্ব জার্মানি ১৩ আগস্ট, ১৯৬১ সালে বার্লিন শহরের মাঝ দিয়ে প্রাচীর তৈরি করা শুরু করে।
- এ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কি.মি।

⇒ বার্লিন প্রাচীরের পতন:
- ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটে।
- ৩ অক্টোবর, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি) একত্রিত হয়।

উৎস: Britannica.
৮০৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি আত্মসমর্পণ করে-
  1. ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সাল
  2. ৭ মে, ১৯৪৫ সাল
  3. ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সাল
  4. ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সাল
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি আত্মসমর্পণ করে ৭ মে, ১৯৪৫ সালে

• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তি: ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- এ যুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- তাই ৮ মে ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে পালিত হয়।
- জাপান আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয় ১৫ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে।
- জাপান আত্মসমর্পণ করে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৮০৯.
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রধান নেতা কে?
  1. আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনী
  2. আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী
  3. আয়াতুল্লাহ নাসির খোমেনী
  4. আয়াতুল্লাহ ফয়েজুল্লাহ খোমেনী
ব্যাখ্যা

 • ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
- বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা - আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮১০.
'ইউরোমেইডেন বিপ্লব' কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. রোমানিয়া
  2. জর্জিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. চেক প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
ইউরোমেইডেন বিপ্লব ইউক্রেনে সংঘটিত হয়। এই বিপ্লব রেভ্যুলেশন অব ডিগনিটি নামেও পরিচিত।

২০১৩ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের তৎকালীন রাশিয়াপন্থী ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ সরকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যাখ্যান করে। রাশিয়া ও ইউরোশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নে সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে সচেষ্ট হয়।

এতে করে দেশটিতে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ও বিক্ষোভ কারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩০ জনের অধিক নিহত হয়। ২০১৩ সালে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক গণবিক্ষোভ ইউরোমেইডেন বিপ্লব নামে পরিচিত।

ইউক্রেন পার্লামেন্ট ইয়ানুকোভিচকে অভিশংসিত করলে তিনি রাশিয়ার সহায়তা কামনা করেন। এতে করে রাশিয়ার সমর্থনে রুশপন্থী ইউক্রেনীয়রা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, লুহানস্ক ও দোনেস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের ইউরোপপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সশ্বস্ত্র লড়াই শুরু করে।

ফলশ্রুতিতে রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ডনবাস অঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা লুহানস্ক পিপল'স রিপাবলিক এবং দোনেস্ক পিপল'স রিপাবলিক নামে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়।

(তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন এবং ব্রিটানিকা)
৮১১.
ফকল্যান্ড যুদ্ধে বিজয়ী হয় কোন দেশ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ফ্রান্স
  3. যুক্তরাজ্য
  4. জার্মানি 
ব্যাখ্যা
ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: Britannica & History.com.
৮১২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়?
  1. ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯
  2. ১ নভেম্বর, ১৯৩৯
  3. ১ মার্চ, ১৯৩৯
  4. ১ জুলাই, ১৯৩৯
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:

- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
৮১৩.
'আরসা’ কোন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী?
  1. ক) মিয়ানমার
  2. খ) ভারত
  3. গ) নেপাল
  4. ঘ) ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
- মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’।
- আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি' বা আরসা মতে, তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে।
- আরসার সক্রিয় অঞ্চল - উত্তর রাখাইন রাজ্য,বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী স্থান।
- আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি' বা আরসার নেতা - আতাউল্লাহ।

অন্যদিকে,
- আবু সায়াফ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মিন্দানাওয়ের একটি গেরিলা সংগঠন।
- আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মুসলিম গেরিলা সংগঠন রিনামো।

উৎস: ডয়েচভেলে, প্রথম আলো এবং ব্রিটানিকা।
৮১৪.
Operation 'Al-Aqsa Flood' was operated to which country?
  1. Palestine
  2. Lebanon
  3. Syria
  4. Israel
  5. Iran
ব্যাখ্যা
হামাস কর্তৃক ইসরায়েল অভিযান:
- ৭ অক্টোবর, ২০২৩ ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। 
- সাতই অক্টোবর ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। 
- গাজা উপত্যকা থেকে হামাস কর্তৃক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযানের নাম 'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড'।
- ইসরায়েলে হামাস হামলা চালানোর পরপরই গাজা উপত্যকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাতে শুরু করে তেল আবিব।
- আনুষ্ঠানিক স্থল অভিযান বা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণা আসে ২৮শে অক্টোবর, অর্থাৎ হামলা শুরুর ২১ দিন পর।
- মানবিক সহায়তার জন্য গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৭শে অক্টোবর একটি প্রস্তাব পাস হয়।
- এ সময় প্রস্তাবের পক্ষে ১২০টি দেশ এবং বিপক্ষে ১৪টি দেশ ভোট দেয়।
- এছাড়া ভোটদানে বিরত ছিল ৪৫টি সদস্য দেশ।

উল্লেখ্য,
- আল আকসা মসজিদ জেরুজালেমে অবস্থিত।
- হামাস সদস্য ইজেত আল-রাশক জানান, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা লড়ছেন।

উৎস: i) ৮ অক্টোবর, ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
         ii) ৭ নভেম্বর, ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৮১৫.
কোন চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়?
  1. ভিয়েনা চুক্তি
  2. ২য় ভার্সাই চুক্তি
  3. প্যারিস শান্তি চুক্তি
  4. ইয়াল্টা চুক্তি
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
 
• যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট:
- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
 
• মিত্রশক্তি জোট:
- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধের ফলাফল:
- মিত্র শক্তির বিজয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৮ জুন, ১৯১৯ সালে।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।
 
উৎস: i) Britannica.
          ii) History.com
৮১৬.
যুদ্ধ সম্পর্কিত আচরণ বিষয়ক প্রথম জেনেভা কনভেনশন গৃহীত হয় কখন?
  1. ক) ১৮৬৪ সালে
  2. খ) ১৮৯২ সালে
  3. গ) ১৯০৬ সালে
  4. ঘ) ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক আইন যা যুদ্ধকালীন মানবাধিকার এবং মানবিক আচরণ সংক্রান্ত কিছু মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে।
- এই কনভেনশনগুলি মূলত যুদ্ধবন্দী, আহত বা অসুস্থ সেনা সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

⇒ মূল জেনেভা কনভেনশনগুলো:
১. প্রথম কনভেনশন (১৮৬৪): আহত ও অসুস্থ সেনা সদস্যদের সুরক্ষা এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে।
২. দ্বিতীয় কনভেনশন (১৯০৬): সমুদ্রে যুদ্ধরত সেনাদের সুরক্ষা ও তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় কনভেনশন (১৯২৯): যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি মানবিক আচরণ।
৪. চতুর্থ কনভেনশন (১৯৪৯): সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা, বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র বা দখলদারিত্বের সময়।

উল্লেখ্য,
• কনভেনশনের সংশোধন ও আধুনিকায়ন:
- ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কনভেনশনগুলোর সংস্করণ আরো উন্নত ও আধুনিক করা হয় এবং ১৯৭৭ ও ২০০৫ সালে আরও প্রোটোকল যুক্ত করা হয়।
- এর মাধ্যমে যুদ্ধের সময় মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

⇒ প্রটোকলসমূহ:
• প্রটোকল:
- ১৯৭৭ সালে; ১; আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি রক্ষার্থে গৃহীত হয়।
• প্রটোকল: ২;
- ১৯৭৭ সালে; অ-আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গকে রক্ষার সাথে সম্পর্ক।
• প্রটোকল: ৩;
- ২০০৫ সালে; অতিরিক্ত স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রতীক পরিগ্রহ করা সংক্রান্ত বিষয়ে গৃহীত হয়।

উৎস: INTERNATIONAL COMMITTEE OF THE RED CROSS.
৮১৭.
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয় কবে?
  1. ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫
  2. ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫
  3. ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫
  4. ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি:
- ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয় হামাস এবং ইসরায়েলের এই যুদ্ধ
- এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
- ১৫ মাসের সহিংসতা ও গণহত্যার পর গত ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়।
- তিনটি ধাপের চুক্তির প্রথম ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করবে হামাস, বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ৪২ দিনের মধ্যে মুক্তি দেওয়া হবে।
- দ্বিতীয় ধাপে, ইসরায়েল তাদের সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেবে।
- মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।
৮১৮.
অরেঞ্জ বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল -
  1. ওডেসা
  2. লভিভ
  3. লুহানস্ক
  4. কিয়েভ
ব্যাখ্যা
অরেঞ্জ বিপ্লব:
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত।
- অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ঘটনা।
- ‘অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- সংঘটিত হয়: ২০০৪ সালে।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮১৯.
নিচের কোন দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইতালি
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস।

♦ উল্লেখ্য:
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

তথ্যসুত্র: Britannica & History.com

৮২০.
"বাস্তিল দুর্গ" কোন বিপ্লবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
  1. অক্টোবর বিপ্লব
  2. অরেঞ্জ বিপ্লব
  3. ফরাসি বিপ্লব
  4. শিল্পবিপ্লব
ব্যাখ্যা

বাস্তিল দুর্গ:
- বাস্তিল দুর্গ ফরাসি বিপ্লবের (French Revolution) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের জনগণ এই দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করে।
- এটি ছিল রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ও নিপীড়নের প্রতীক।
- দুর্গটিতে রাজবিরোধী নাগরিকদের আটক করে রাখা হতো।
- বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়।
- ফ্রান্সে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয় এবং অভিজাততন্ত্রের অবসান ঘটতে থাকে।
- ১৪ জুলাই ‘বাস্তিল দিবস’ হিসেবে ফ্রান্সে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে রাজা ষোড়শ লুই-এর স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
- রাজা জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দেন এবং এই সময় থেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা আইনসভার হাতে চলে যায়।

সূত্র: Britannica.

৮২১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির পক্ষে ছিল-
  1. জার্মানি
  2. হাঙ্গেরি
  3. ইতালি
  4. অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা

• বিবাদমান পক্ষ: 
- মিত্র শক্তি: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, সার্বিয়া, জাপান
- কেন্দ্রীয় শক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল: 
- মিত্র শক্তির বিজয় হয়।
- ২য় ভার্সাই চুক্তি: ১৯১৯ সালের ২৮ জুন স্বাক্ষরিত।
- স্থান ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের হল অব মিররে।
- পক্ষ জার্মানি বনাম মিত্র শক্তি।
- আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি।
• বেলফোর ঘোষণা: 
- ব্যারন রথচাইল্ডের (ব্রিটিশ ইহুদী নেতা) কাছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোরের চিঠি।
- মূল কপিটি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।
- এ ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম।

উৎস: হিস্টোরি. কম.।

৮২২.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশ নিরপেক্ষতা নীতি অনুসরণ করেছিল?
  1. জার্মানি
  2. অস্ট্রিয়া 
  3. সার্বিয়া 
  4. সুইডেন
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ ছিল সুইডেন।
- সুইডেন তার নিরপেক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুইডেন নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯১৪ সালে এবং এর পরিমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালে।
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
- এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দখল করা এবং আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- এই যুদ্ধে অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

৮২৩.
পার্ল হারবার আক্রমণের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. উড্রো উইলসন
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
  3. হ্যারি এস. ট্রুম্যান
  4. ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার
ব্যাখ্যা

পার্ল হারবার আক্রমণ:
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবার আক্রমণের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম প্রেসিডেন্ট এবং ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করে। 

• উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি। ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে। এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানি নৌবাহিনী হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটিতে অতর্কিত বিমান হামলা চালায়। জাপানের এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

উল্লেখ্য,
- চীন-জাপান যুদ্ধ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সম্প্রসারণের জন্য জাপানের তেল ও অন্যান্য সম্পদ দরকার ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের উপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জাপান প্যাসিফিক ফ্লিটকে নিষ্ক্রিয় করতে এই আক্রমণ করে, যাতে তারা দক্ষিণে অগ্রসর হতে পারে।
- এই আক্রমণের ফলে প্রায় ২,৪০০ মার্কিন সৈন্য ও নাগরিক নিহত হয়, আহত হয় ১,১০০ এরও অধিক। অসংখ্য যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত ও বিমান ধ্বংস হয়। এর পরদিন ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট কংগ্রেসে বলেন: "a date which will live in infamy" এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

উৎস: Britannica.

৮২৪.
হিটলার কর্তৃক কোন দেশ আক্রমণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ?
  1. ক) অস্ট্রিয়া
  2. খ) সার্বিয়া
  3. গ) পোল্যান্ড
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
হিটলার কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল জার্মানির নাৎসি বাহিনী ও সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব। এডলফ হিটলার কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ থেকে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৮২৫.
রুশ বিপ্লবের ফলে কোন রাজবংশের পতন ঘটে?
  1. রোমানভ
  2. হোহেনজোলার্ন
  3. বোরবোঁ
  4. হ্যাবসবার্গ
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- মোট দুইটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (মার্চ, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রোমানভ রাজবংশের পতন ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়। 
- একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব (নভেম্বর, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।
- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং ক্ষমতা দখল করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- লেনিন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের একনায়ক হয়ে ওঠেন।

উল্লেখ্য,
- রুশ বিপ্লবের ফলে ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- বিপ্লবের পরে রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ (১৯১৭-১৯২২) শুরু হয়, যেখানে রেড আর্মি (বোলশেভিক সমর্থিত) এবং হোয়াইট আর্মি (বিপ্লব বিরোধী) একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
- রেড আর্মির বিজয়ের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
৮২৬.
 কোন দেশে সর্ব প্রথম ‘ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়?
  1. ফিলিস্তিন
  2. রাশিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষেপণাস্ত্র:
- ওরেশনিক, রাশিয়ায় যার অর্থ ‘হ্যাজেল ট্রি’ (বিশেষ ধরনের একটি বৃক্ষ) এক নতুন মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
- ‘আরএস–২৬ রুবেজ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় ওরেশনিক।
- ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতিতে যেতে পারে।
- এ ক্ষেপণাস্ত্রের তিন থেকে ছয়টি ওয়ারহেড (ক্ষেপণাস্ত্রের মুখ বা যে অংশ বিস্ফোরক থাকে) রয়েছে।
- ইউক্রেনের নিপ্রোতে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম ব্যবহার করে রাশিয়া।

উৎস - প্রথম আলো ও ডন পত্রিকা রিপোর্ট।

৮২৭.
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসে -
  1. ক) সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে
  2. খ) সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে
  3. গ) রোজ বিপ্লবের মাধ্যমে
  4. ঘ) ইস্তিখারা বিপ্লবের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৪৯ সালে।
- এর নেতা ছিলেন মাও সেতুং।
- এর মাধ্যমে চীনে পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান হয় এবং সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৮২৮.
 শিল্প বিপ্লব সর্বপ্রথম কোন দেশে শুরু হয়?
  1. ফ্রান্স
  2. ইতালি
  3. ব্রিটেন
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

- শিল্প বিপ্লব ১৮ শতকে ব্রিটেনে শুরু হয়েছিল এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।।
- শিপ্ল বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজ শহুরে কলকারখানা নির্ভর সমাজে পরিবর্তিত হতে থাকে।
- এই পরিবর্তন মানবজীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।
- আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধের ইংল্যান্ডের সমাজের এরূপ পরিবর্তনকে আর্নল্ড টয়েনবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন হিসেবে অভিহিত করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা

৮২৯.
২০১১ সালে তিউনেশিয়ায় সংঘটিত বিপ্লব কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিউলিপ বিপ্লব
  2. খ) জেসমিন বিপ্লব
  3. গ) রোজ বিপ্লব
  4. ঘ) অরেঞ্জ বিপ্লব
ব্যাখ্যা
জেসমিন বিপ্লব – তিউনেশিয়া (২০১১)
রোজ বিপ্লব – জর্জিয়া (২০০৩)
টিউলিপ বিপ্লব – কিরগিজস্তান (২০০৫)
অরেঞ্জ বিপ্লব – ইউক্রেন (২০০৪-০৫)।
(সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৮৩০.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে কত সালে?
  1. ১৯৩৯ সালে
  2. ১৯৪০ সালে
  3. ১৯৪১ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- এই যুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন।

- ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করে।
- যার ফলে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করে।

উৎস: হিস্টরি.কম

৮৩১.
কোন দেশে 'অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয়?
  1. লিবিয়া
  2. ইতালিত
  3. ইউক্রেন
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

অরেঞ্জ বিপ্লব:
- 'অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ঘটনা।
- এটি সংঘটিত হয়েছিল ২০০৪ সালে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ আন্দোলনের সুত্রপাত।
- ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী  ইউশচেঙ্কো (Yushchenko) দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান।
- প্রতিবাদকারীরা ইউশচেঙ্কোর প্রচারণার রঙে (কমলা) সজ্জিত হয়ে রাজপথে নামেন।
- ডিসেম্বর ৩ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে নতুন ভোটের আদেশ দেয়।
- নতুন নির্বাচনে ইউশচেঙ্কো ৫২% ভোট পেয়ে জয়ী হন।

উল্লেখ্য, 
- ২০০৪ সালের অরেঞ্জ বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের মাইদান আন্দোলন পর্যন্ত ইউক্রেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়ার প্রভাব, এবং ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]

৮৩২.
'জোয়ান অব আর্ক' নামটি কোন যুদ্ধের সাথে জড়িত?
  1. শতবর্ষ যুদ্ধ
  2. ২য় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ফরাসি যুদ্ধ
  4. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
শতবর্ষ যুদ্ধ:
- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৩৩৭ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত।
- 'জোয়ান অব আর্ক' ছিল ফ্রান্সের সেনাপতি।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড এই যুদ্ধ শুরু করেন ফ্রান্সের সিংহাসনের দাবিতে।
- এই যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স। 

উৎস: Britannica.
৮৩৩.
ওয়াটারলু যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট
  3. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  4. উল্লিখিত কেউ নয়
ব্যাখ্যা

ওয়াটারলু যুদ্ধ:
- বিখ্যাত ওয়াটারলু যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়াম অবস্থিত।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- ওয়াটার লু যুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্র ছিল বেলজিয়াম।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছিল।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ওয়াটার লুর যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম - আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন)

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৮৩৪.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তর্ভূক্ত ছিলো না নিচের কোন দেশ?
  1. বেলজিয়াম
  2. সার্বিয়া
  3. অস্ট্রিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ( ১৯১৪-১৯১৮):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডট কম।
৮৩৫.
বলশেভিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. ফ্রেডরিক এঙ্গেলস
  2. ভ্লাদিমির লেনিন
  3. মিখাইল গর্বাচেভ
  4. মাও সেতুং
ব্যাখ্যা

• রুশ বিপ্লব: 
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। 
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব। 
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯৯৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে। 
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়। 
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে। 
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: History.com & Britannica.com

৮৩৬.
ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution) সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ক) ২০০৫
  2. খ) ১৯৮৯
  3. গ) ২০১১
  4. ঘ) ২০০৩
ব্যাখ্যা
ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution)
▪ সংঘটন কাল: ১৭ নভেম্বর - ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ সাল।
▪ সংঘটন স্থান - চেকোস্লোভাকিয়া (বর্তমানে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া)।
▪ বিপ্লবের কারন - কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি ও সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার জন্য ছাত্র-জনতার শান্তিপুর্ণ আন্দোলন। এই ▪ বিপ্লবকে Gentle Revolution-ও বলা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
• ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
• জেসমিন বিপ্লব : তিউনেশিয়া (২০১১)।
• রোজ বিপ্লব : জর্জিয়া (২০০৩)।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম।
৮৩৭.
জাপানের নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমা ফেলা হয়েছিল-
  1.  ৬ অগাস্ট, ১৯৪৫
  2. ৯ আগস্ট, ১৯৪৫
  3. ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
  4. ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

লিটলবয়:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে।
- নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।

ফ্যাটম্যান:
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ সালে এডলফ হিটলার কতৃক পোল্যান্ড আক্রমনের মাধ্যমে।
- মিত্রশক্তি ছিলো - ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন।
- অক্ষশক্তি ছিলো - জাপান, জার্মানি, ইতালি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে।


উৎস: ব্রিটানিকা
৮৩৮.
ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী প্রধান সংস্থা কোনটি ছিল?
  1. আরব লীগ
  2. ওপেক
  3. জাতিসংঘ
  4. ওআইসি
ব্যাখ্যা

ইরান-ইরাক যুদ্ধ:
- ইরান-ইরাক যুদ্ধ  ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর একটি।
- প্রধান কারণ: সীমান্ত বিরোধ (বিশেষ করে শাত-ইল-আরব জলপথ), ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতা দখলের ভয়, ধর্মীয় (সুন্নি-শিয়া) ও জাতিগত (কুর্দি) সমস্যা, তেল নিয়ন্ত্রণ।
- যুদ্ধে ইরাকের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ - ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল।
- ফলাফল: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি।

উল্লেখ্য, 
- ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন “শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান” দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
- দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ।

উৎস: Britannica.

৮৩৯.
কৌশলগত বিপজ্জনক অস্ত্র হ্রাসকরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার NEW START এর মেয়াদ কত সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  3. গ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭
  4. ঘ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
ব্যাখ্যা
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল কৌশলগত বিপজ্জনক অস্ত্র হ্রাসকরণের লক্ষ্যে New START (The New Strategic Arms Reduction Treaty) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১০ বছর মেয়াদী চুক্তিটি কার্যকর হয় ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
- এটির মেয়াদ ২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হলে পুনরায় মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

(সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)
৮৪০.
'শিল্প বিপ্লব’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. ক) লুইস হেনরী
  2. খ) জেরোমি ব্লাংকি
  3. গ) ব্লাংকি গুস্তাভো
  4. ঘ) নিকোলাস সার্কোজি
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:

- শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন জেরোমি ব্লাংকি।
- অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমে ইংল্যান্ডে এবং পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে উৎপাদনব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়, তাই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত।
- ১৮৪৫ সালে আবার শিল্প বিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন জার্মান সমাজতন্ত্রী দার্শনিক ফ্রেডরিখ অ্যাঙ্গেলস।
- ১৮৮০ থেকে ৮১ সালে শিল্প বিপ্লব কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর লেখা ‘Lectures on the Industrial Revolution in England’ গ্রন্থে ব্যবহারের মাধ্যমে।
- ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার নানা রকম কারণের মধ্যে একটি বড় কারণ ছিল পুঁজির জোগান। 
- ১৭৬০ সালে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে শিল্পায়নের সূত্রপাত। ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে যা ব্যাপক কলেবরে বৃদ্ধি পায়।
- ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে আলোকিত বিশ্ব।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ,২৩ জুন ২০২১।
৮৪১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।  

​প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ সাল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, ইতালি, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

সূত্র - ব্রিটানিকা।

৮৪২.
ডমিনো তত্ত্ব কোন প্রেসিডেন্টের সময় প্রথম ইন্দোচিনে প্রয়োগ করা হয়?
  1. হ্যারি এস. ট্রুম্যান
  2. রোনাল্ড রিগান
  3. ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  4. জন এফ. কেনেডি
ব্যাখ্যা

ডমিনো তত্ত্ব:
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।

⇒ ভিয়েতনাম যুদ্ধ:
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধ বিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম সামরিক সংঘাতগুলির একটি।
- ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর স্থায়ী হয়েছিল এই যুদ্ধ।
- এটি ছিল উত্তর ভিয়েতনাম (সমাজতান্ত্রিক) ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের (মার্কিন-সমর্থিত) মধ্যে সংঘটিত একটি গৃহযুদ্ধ।
- এতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
- দক্ষিণ ভিয়েতনামে মার্কিন-সমর্থিত শাসকদের পরাজয় এবং ভিয়েতনামের উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগেই কমিউনিস্ট শক্তির বিজয়ের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।
- প্যারিস শান্তি চুক্তি বা Paris Peace Accords-এর মাধ্যমে দীর্ঘ ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ু যুদ্ধকালীন নীতির অংশ ছিল।
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ হলো Domino Theory-এর বাস্তব প্রয়োগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- ডমিনো তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।

উৎস: History.com

৮৪৩.
সম্প্রতি কোন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়?
  1. মালিতে
  2. সোমালিয়াতে
  3. রুয়ান্ডায়
  4. কঙ্গোতে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন:
- ২০১২ সালের এক বিদ্রোহের পর থেকে সহিংসতা প্রতিরোধে লড়াই করছে মালি।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালে মিনুসমা মিশন চালু করেছিল।

- মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ১৩ হাজার কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য ‘মিনুসমা’ নামের মিশনটিতে কর্মরত ছিলেন।
- এ মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ জনগণকে বিদ্রোহী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো থেকে নিরাপত্তা দেয়া।
- আফ্রিকার দেশ মালিতে চালুর এক দশক পর বন্ধ হয়ে গেল জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন। 

উৎস: UN Website এবং বণিক বার্তা পত্রিকা রিপোর্ট।
৮৪৪.
মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লবের পরে কোন শাসকের পতন ঘটেছিল?
  1. মোহাম্মদ মুরসি 
  2. আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
  3. হোসনি মুবারক
  4. আনোয়ার সাদাত
ব্যাখ্যা

মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লব:
- মিশরের তাহরির স্কোয়ারে বিপ্লবের পরে হোসনি মুবারক-এর পতন ঘটেছিল।

উল্লেখ্য,
- মিশরে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন হোসনি মুবারক, যিনি একদিকে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করলেও, তার শাসনামলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে যায়।
- ২০১১ সালে, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও অন্যান্য আরব দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে, মিশরের জনগণও প্রতিবাদে নেমে আসে।
- ২৫ জানুয়ারি, ২০১১, মিশরের পুলিশ দিবসে, বিরোধী আন্দোলনকারীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের দাবী ছিল মুবারকের সরকারের পতন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার।
- এই প্রতিবাদ মিশরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে কেন্দ্রীভূত হয়ে ওঠে, যা বিপ্লবের প্রধান স্থান হয়ে ওঠে।
- ১৮ দিনের প্রতিরোধ এবং চাপের পর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১-এ হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন।

উৎস: BBC.

৮৪৫.
স্নায়ু যুদ্ধের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কোন দুই দেশ?
  1. জাপান ও রাশিয়া
  2. চীন ও জাপান
  3. যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া
  4. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  5. যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
স্নায়ু যুদ্ধ (Cold War): 
- স্নায়ু যুদ্ধ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান খোলা কিন্তু সীমাবদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রচারমূলক, যেখানে সামরিক সংঘাত তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
- ইংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েল ১৯৪৫ সালে প্রথম "Cold War" শব্দটি ব্যবহার করেন।
- অরওয়েলের মতে, এটি ছিল এমন এক পারমাণবিক স্থবিরতা, যেখানে একাধিক পরাশক্তি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে ধ্বংস করতে সক্ষম অস্ত্রের মালিক হবে।
- শীতল যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল এবং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্বব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করেছে।

উৎস: Britannica.
৮৪৬.
ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে কোন শাসক ক্ষমতাচ্যুত হয়?
  1. মিখাইল গর্বাচেভ
  2. নিকিতা ক্রুশ্চেভ
  3. দ্বিতীয় নিকোলাস
  4. পিটার আই
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হল -
• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও
• বলশেভিক বিপ্লব।

⇒ এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়: ফেব্রুয়ারি বিপ্লব।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাস ক্ষমতাচ্যুত হয়।
- তাঁকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণে রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয়।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন: ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
৮৪৭.
আরব বসন্ত কোথায় শুরু হয়েছিল?
  1. মিশর
  2. তিউনিশিয়া
  3. লিবিয়া
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত (Arab Spring):
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম ২০১১ সালে প্রথম মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত গণআন্দোলনকে “আরব বসন্ত” ( Arab Spring ) আখ্যা দেয়।
- ২০১৩ সালের দিকে এসে আরব বসন্তের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
- আরব বসন্তের প্রভাবে তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মরক্কো, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে - ক্ষমতা বদল বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি পরিবর্তন ঘটেছে।
- এখনো এই তথাকথিত আরব বসন্তের জেরে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮৪৮.
ইউরোপের কোন দেশে সর্বপ্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়?
  1. ইতালি
  2. ইংল্যান্ড
  3. ফ্রান্স
  4. জার্মানী
ব্যাখ্যা
প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল - ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়। ১৮৩৭ সালে শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি সমাজতান্ত্রিক লেখক জেরোমি ব্লাংকি। ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' শব্দটি ব্যবহার করেন। এর পর থেকে এটি জনপ্রিয় হতে থাকে।       
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্টে্র শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে। এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে। ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। 

সূত্র:- ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
৮৪৯.
ওয়াটার’লু যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি ছিলেন-
  1. ক) রডারিক ফার্দিনান্ড
  2. খ) সিন ফ্রে
  3. গ) আর্থার ওয়েলেসলি
  4. ঘ) অ্যাডমিরাল নেলসন
ব্যাখ্যা
১৮১৫ সালের ১৮ জুন বেলজিয়ামের ওয়াটার লু নামক স্থানে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ ‘ওয়াটারলু যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
এই যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলি ফ্রান্সের সম্রাট নেপােলিয়ান বােনাপোর্টকে পরাজিত করেন।
পরবর্তীতে নেপােলিয়ানকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। এই দ্বীপেই ১৮২১ সালে নেপােলিয়ান মারা যান।
উৎসঃ history.com
৮৫০.
কোন যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ানকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়?
  1. ক) লিগনির যুদ্ধ
  2. খ) লিপজিগের যুদ্ধ
  3. গ) ট্রাফালগার যুদ্ধ
  4. ঘ) ওয়াটারলু যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের ষষ্ঠ কোয়ালিশিনের কাছে পরাজিত হন নেপোলিয়ান। একই বছর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্স দখল করে নেয় কোয়ালিশন। ১৮১৪ সালে নেপোলিয়ানকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। কিছুদিন পরই নেপোলিয়ান সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতার করতে অষ্টদশ লুইয়ের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী পাঠানো হয়। কিন্তু নাটকীয়ভাবে সৈন্যদলটি নেপোলিয়ানের সঙ্গে হাত মিলায়। তারা ফিরে এসে ফ্রান্স দখল করেন এবং নেপোলিয়ান আবার ফ্রান্সের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৮১৫ সালের ওয়াটার লু যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয় হয় ও তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। সূত্র- একাডেমিক বই এবং অন্যান্য।
৮৫১.
রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে কী বলা হয়?
  1. জানুয়ারি বিপ্লব
  2. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  3. অক্টোবর বিপ্লব
  4. বলশেভিক বিপ্লব
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
৮৫২.
ফকল্যান্ড যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? 
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা

• ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্ট্রি ডট কম। 

৮৫৩.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিচের কোন দেশটি মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো?
  1. ক) জাপান
  2. খ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্ব‍যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

অক্ষশক্তির দেশসমূহ হলো:
- জাপান
- জার্মানি ও
- ইতালি।

মিত্রশক্তির দেশসমূহ হলো:
- যুক্তরাজ্য
- ফ্রান্স
- যুক্তরাষ্ট্র
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)
- চীন
- পোল্যান্ড প্রভৃতি।

- স্পেন, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ বা মিত্র শক্তির পক্ষাবলম্বন না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিকট জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৮৫৪.
প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা কোন আবিষ্কারের মাধ্যমে হয়েছিল?
  1. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. কম্পিউটার
  3. বিদ্যুৎ
  4. সেমি কনডাক্টর
ব্যাখ্যা

• শিল্প বিপ্লব:
- বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর।
- বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে।

⇒ ১ম শিল্প বিপ্লব:
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। 
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।

⇒ ২য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৮৭০ সাল।
- এই সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, টেলিগ্রাফ, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, পানিসরবরাহ ইত্যাদির আবিষ্কার হয়।
- এসবের ফলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও জীবনযাপন এর মান বৃদ্ধি পায়।
- বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হতে থাকে যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করে।

⇒ ৩য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট।
- শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব।
- তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
- ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

⇒ ৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।
- যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: Britannica.

৮৫৫.
ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়ন কার নিকট পরাজিত হন?
  1. অ্যাডমিরাল নেলসন
  2. আর্থার ওয়েলেসলি
  3. রবার্ট ওয়ালপোল
  4. লর্ড লিনলিথগো
ব্যাখ্যা
- ১৮১৫ সালের ১৮ জুন বেলজিয়ামের ওয়াটারলু নামক স্থানে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ঐতিহাসিক ওয়াটারলু যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে ফ্রান্সের তৎকালীন শাসক নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ব্রিটিশ সেনাপতি প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলির নিকট পরাজিত হন।
- এর ফলে নেপোলিয়ানকে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- এই দ্বীপেই ১৮২১ সালের ৫ মে নেপোলিয়ান বোনাপার্ট মারা যান।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৮৫৬.
কাদের বিরুদ্ধে তাবুকের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল?
  1. কুরাইশদের
  2. রোমানদের
  3. পারস্যদের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

তাবুকের যুদ্ধ:
- তাবুকের যুদ্ধ সংগঠিত হয় ৬৩১ খ্রিস্টাব্দ (৯ম হিজরী)।
- এটি ছিল মুসলমান এবং রোমান বাহিনীর মধ্যকার মহানবী (স.) জীবদ্দশায় পরিচালিত শেষ অভিযান।
- রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস মুসলিম শক্তিকে দমন করতে শাম ও আরব সীমান্তে ৪০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করেন।
- পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্যকে যুদ্ধে পরাজিত করে মুসলিম ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
- বাকি ৩টি যুদ্ধ মুসলমান এবং মক্কার কুরাইশদের সাথে সংগঠিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস (১ম পত্র), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৫৭.
আরব বসন্তের ফলে প্রথম ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপ্রধান কে ছিলেন?
  1. মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি
  2. জাইন আল-আবিদিন বেন আলী 
  3. হোসনি মুবারক
  4. আলী আবদুল্লাহ সালেহ
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে সূচিত এই গণবিক্ষোভ ক্রমেই প্রসারিত হয় অন্যান্য দেশে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে।

⇒ তিউনিসিয়া: আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বুয়াজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় জনগণ শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ডাক দেয়।
- ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রাষ্ট্রপতি জাইন আল-আবিদিন বেন আলী পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

⇒ মিশর: দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৮ দিনের আন্দোলনের পর ১১ ফেব্রুয়ারি মুবারক পদত্যাগে বাধ্য হন। বিপ্লব চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল হয়। দুর্নীতির মামলায় কিছুদিন আটক থাকলেও ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।

⇒ ইয়েমেন: উত্তর ইয়েমেন ও পরে একীভূত ইয়েমেন শাসন করা সালেহ উপজাতীয় ও সামরিক রাজনীতির কৌশলী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের আন্দোলনের পর ২০১২ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। 

⇒ লিবিয়া: ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন গাদ্দাফি। তেলসম্পদের ওপর ভর করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন তিনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনগাজিতে মানবাধিকারকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়, যা দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ন্যাটো অভিযানের সহায়তায় বিদ্রোহীরা আগস্টে ত্রিপোলি দখল করে। অক্টোবরের ২০ তারিখ নিজ শহর সির্তে পালানোর সময় বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ে নিহত হন গাদ্দাফি।

⇒ সিরিয়া: ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল-আসাদ। ২০১১ সালে দেরা শহরে স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে সিরীয় সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ে। দামেস্কে বিদ্রোহীরা ঢোকার পর বাশার আল-আসাদ পরিবারসহ প্লেনে করে রাশিয়ার মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আশ্রয় নেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৮৫৮.
সম্প্রতি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ মোকাবেলায় ইসরায়েল কোন বাহিনী গঠন করে?
  1. ক) প্যাট্রিয়ট গার্ড
  2. খ) ন্যাশনাল গার্ড
  3. গ) ডিফেন্স গার্ড
  4. ঘ) কমব্যাট প্ল্যাটুন
ব্যাখ্যা
- ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে এখন প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
- ইসরায়েলে গঠিত হচ্ছে নতুন এক সশস্ত্র 'ন্যাশনাল গার্ড' বাহিনী।
- এ বাহিনী ইসরায়েলের উগ্র-জাতীয়তাবাদী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- এই সশস্ত্র বাহিনীটি সারা ইসরায়েল জুড়ে মোতায়েন করা হবে এবং “জাতীয়তাবাদী অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং প্রশাসনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগানো হবে।“

উৎস: BBC বাংলা, ২ এপ্রিল, ২০২৩।
৮৫৯.
সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে কোন দেশ বিজয়ী হয়?
  1. ব্রিটেন
  2. স্পেন
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- ১৭৫৬ সালে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মধ্যে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এই যুদ্ধে স্পেন ফ্রান্সের পক্ষে যোগ দেয়।
- ১৭৬৩ সালে প্যারিস ট্রিটি এর মাধ্যমে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। চুক্তি অনুযায়ী স্পেন ও ফ্রান্স ব্রিটেনের নিকট তাদের বিভিন্ন উপনিবেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৮৬০.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কত তারিখে 'ভারত-পাকিস্তান-২০২৫' যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল?
  1. ৮ মে, ২০২৫
  2. ১০ মে, ২০২৫
  3. ১১ মে, ২০২৫
  4. ১৭ মে, ২০২৫
ব্যাখ্যা

পাকিস্তান- ভারত যুদ্ধ-২০২৫:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১০ মে, ২০২৫ তারিখে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ২২ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
- এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে, ২০২৫ “অপারেশন সিঁদুর” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। ভারতের অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ১০০ সদস্য নিহত হয়েছে বলে ভারতের দাবি।
- অপারেশন সিঁদুর-এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ১০ মে “বুনইয়ান-উন-মারসুস” নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এ অভিযানে ভারতের অন্তত ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

• ১০ মে, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান এএই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
- অবশেষে চার দিনের মাথায় ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
 
উৎস: i) BBC. 
ii) The Guardian.

৮৬১.
কোন শতকে বিশ্বে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়?
  1. সপ্তদশ শতকে
  2. আঠারো শতকে
  3. পঞ্চদশ শতকে
  4. উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• প্রথম শিল্প বিপ্লব:
⤇ আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ন সংঘটিত হয়, তাকে শিল্প বিপ্লব বলা হয়।
⤇ প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত।
⤇ ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
⤇ ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব’ (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন। এর পর থেকে এটি জনপ্রিয় হতে থাকে।
⤇ ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
⤇ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে। এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে। ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

উৎস: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।
৮৬২.
কত সালে 'গোলাপ বিপ্লব' (Rose Revolution) সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২০০৫
  2. খ) ২০০৩
  3. গ) ২০০৮
  4. ঘ) ২০১১
ব্যাখ্যা
গোলাপ বিপ্লব (Rose Revolution)
২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সমষ্টিকে গোলাপ বিপ্লব বলে।
▪ ২০০৩ সালে সাবেক জাস্টিস মিনিস্টার এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল মুভমেন্ট (UNM) এর প্রধান মিখাইল সাকাশভিলি জর্জিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন যাকে "গোলাপ বিপ্লব" বলা হয়।
▪ এর ফলে প্রেসিডেন্ট শেভার্ডনাদজের  শাসনের অবসান হয়। সাকাশভিলি পরের বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং অবিলম্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন এবং জাতিগত বিরোধের বিরুদ্ধে দেশকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেন

অন্যদিকে, 
• ক্ষমতাবদলকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনে সংঘটিত কিছু সরকার বিরোধী আন্দোলনকে “কমলা বিপ্লব” বা অরেঞ্জ রেভুলুশ্যন বলে।  
• ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
• জেসমিন বিপ্লব : তিউনেশিয়া (২০১১)। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ডট কম।
৮৬৩.
‘জাপাদ-২০২৫’ নামক সামরিক মহড়া চালিয়েছে - 
  1. রাশিয়া ও চীন
  2. জাপান ও ভারত
  3. চীন ও পাকিস্তান
  4. রাশিয়া ও বেলারুশ
ব্যাখ্যা

• জাপাদ-২০২৫:
- জাপাদ-২০২৫ হলো রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া।
- এই মহড়া ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শুরু হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ শেষ হয়।
- এই মহড়ায় প্রায় ১ লাখ সেনা অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ভারী অস্ত্র, বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে ব্যাপক সামরিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রতিনিধিরা মহড়া দেখতে বেলারুশে উপস্থিত ছিলেন।
- মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি প্রদর্শন।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিবেদন।

৮৬৪.
নাগার্নো-কারাবাখ যুদ্ধে কোন দেশ মধ্যস্থতা করেছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. চীন
ব্যাখ্যা
নাগার্নো-কারাবাখ:
- 'নাগার্নো-কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত। কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা। বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

⇒ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান:
- স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর, ২০২০।
- স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- মধ্যস্থতাকারী: রাশিয়া।
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ১০ নভেম্বর, ২০২০।

উৎস: i) Britannica.
ii) বিবিসি বাংলা।
৮৬৫.
কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে কোন শাসক ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. ফুলগেনসিও বাতিস্তা
  2. অগাস্তো পিনোশে
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. রাফায়েল ত্রুহিয়ো
ব্যাখ্যা

• কিউবা বিপ্লব:
- কিউবার বিপ্লবী মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো।
- কিউবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিপ্লবের ময়দানে সক্রিয় হন কাস্ত্রো।
- তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো।
- ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি ও তার বিপ্লবী সহযোগীরা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
- পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন।
- শুরুর দিকেই তাকে কারাবন্দী করে বাতিস্তা সরকার। কিউবার মানুষের মুক্তির জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামেন কাস্ত্রো।
- এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃতি পায়।
- ফিদেল কাস্ত্রো তাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি বানানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল তৈরির দায়িত্ব দেন। আচমকা হামলায় বাতিস্তা সরকার পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।
- সিয়েরা পর্বতমালা, শহর পেরিয়ে তারা হাভানায় ঢুকে পড়লে বাতিস্তা সরকার পালিয়ে যায়।
- বিপ্লবের ধাক্কায় ১৯৫৯ সালে পতন ঘটে কিউবার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একনায়ক ফ্লুজেনসিও বাতিস্তার, ১ জানুয়ারি বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
- জয়ী হন কাস্ত্রো, জয় হয় বিপ্লবের।
- বিপ্লবের নেতা, ফিদেল কাস্ত্রো, ১৯৫৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কিউবা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। কিউবা ৪০০ বছর ধরে স্পেনের একটি উপনিবেশ ছিল।
- কিউবা আশপাশের অনেকগুলো ছোট দ্বীপের সঙ্গে মিলে কিউবা প্রজাতন্ত্র গঠন করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৮৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কোন দেশটি অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. রাশিয়া
  4.  জাপান
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

• যুদ্ধে কেন্দ্রীয় অক্ষশক্তি জোট:
- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।

• মিত্রশক্তি জোট:
- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৮ জুন, ১৯১৯ সালে।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com

৮৬৭.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশ নিরপেক্ষ ছিল?
  1. বেলজিয়াম
  2. যুগোশ্লোভিয়া
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুরো যুদ্ধ জুড়ে মাত্র ১৪টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল।
- দেশগুলো হলো: সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, ভ্যাটিকান সিটি, লিচেনস্টাইন, অ্যান্ডোরা, মোনাকো, সৌদি আরব, সান মারিনো ।
- উল্লেখ্য যে, সুইজারল্যান্ড সবচেয়ে বেশি নিরপেক্ষ দেশ ছিল যে সশস্ত্র নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছিল।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ যুদ্ধ।
- হিটলারের আগ্রাসী নাৎসি জার্মানি যখন ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণ করে, তখন এই যুদ্ধ শুরু হয়। 
- এই যুদ্ধে মিত্রশক্তি আর অক্ষশক্তি নামে দুটি বিপরীত সামরিক জোটের সৃষ্টি হয়। 
- প্রায় ত্রিশটি দেশের ১০ কোটিরও বেশি সামরিক সদস্য এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- গণহত্যা ও প্রথম পারমানবিক বোমার প্রয়োগে ৫ থেকে ৮ কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

• মিত্রশক্তি: ১৯৪১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একত্রে বৃহৎ তিন নামে পরিচিত হয় এবং চীন মিলে মিত্রশক্তি গঠন করে। পরবর্তীতে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা চেকোস্লাভিয়া, ইথিওপিয়া, গ্রীস, ভারত, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড এবং যুগোশ্লোভিয়া এই জোটে যোগ দেয়।
• অক্ষশক্তি: অক্ষশক্তির প্রধান তিনটি রাষ্ট্র হলো জার্মানি, ইতালি এবং জাপান। এই বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির সাথে সাথে তাদের ইউরোপ, আফ্রিকা, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কলোনিগুলোও অক্ষশক্তির অংশ হয়ে যায়।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল:
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- কম্পিউটার, জেট ইঞ্জিন এবং পারমাণবিক শক্তির মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও শিল্পের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
- দুই পরাশক্তি আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এর মধ্যে শীতল যুদ্ধ শুরু হয়।
- হলোকাস্ট: ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা ছিল হলোকাস্ট। হিটলারের নাৎসি শাসনের সময় প্রায় ৬ মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল। মানব বর্বরতার ভয়াবহতা এখনো এই হলোকাস্টের দ্বারা স্পষ্টভাবে আলোকিত করা হয়েছে।
- মানচিত্রের পরিবর্তন: যুদ্ধের কারনে পৃথিবীর মানচিত্র পরিবর্তিত হয়ে যায়। পুরানো সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে নতুন জাতি গড়ে ওঠে।
- এ যুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রয়োগ ছিল পারমানবিক বোমা। এর ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়েই জার্মানি ও জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৫ সালে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র ইউরোপ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ছোট ছোট রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পশ্চিম ইউরোপের দেশ সমূহ নিয়ে NATO গঠিত হয়। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: i) History.com
ii) Worldatlas.

৮৬৮.
‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ প্রধানত কোন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে?
  1. ইরাক যুদ্ধ
  2. সিরিয়া গৃহযুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং (Coalition of the willing):
- ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ হলো রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে গঠিত একটি জোট।
- এটি ইউক্রেনকে শক্তিশালী সমর্থন, শান্তি চুক্তি রক্ষা এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদানের জন্য কাজ করে।
-  ২ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘Coalition of the Willing’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
- এর লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনে শান্তি বজায় রাখা এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আক্রমণ প্রতিরোধ করা।
- সদস্য: ৩৫টি দেশ (ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়াও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, তুরস্ক ইত্যাদি)।

⇒ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  
- NATO মহাসচিব মার্ক রুটে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) শীর্ষ কর্মকর্তারা, এবং জোটভুক্ত ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
- উদ্দেশ্য: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা।

উৎস: i) The Guardian.
ii) NATO ওয়েবসাইট।

৮৬৯.
২০১১ সালে মিশরের তাহরির স্কোয়ারে কত দিনের বিপ্লব সংঘটিত হয়?
  1. ৬ দিন
  2. ১১ দিন
  3. ১৮ দিন
  4. ৩৬ দিন
ব্যাখ্যা
২০১১ সালে মিশরের তাহরির স্কোয়ারে ১৮ দিনের বিপ্লব সংঘটিত হয়।

মিশরের বিপ্লব: তাহরির স্কোয়ারে ১৮ দিন

- মিশরের তাহরির স্কোয়ারে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি বিপ্লব শুরু হয়।

⇒ মিশরে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিলেন হোসনি মুবারক, যিনি একদিকে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করলেও, তার শাসনামলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে যায়।
- ২০১১ সালে, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও অন্যান্য আরব দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে, মিশরের জনগণও প্রতিবাদে নেমে আসে।
- ২৫ জানুয়ারি, ২০১১, মিশরের পুলিশ দিবসে, বিরোধী আন্দোলনকারীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। তাদের দাবী ছিল মুবারকের সরকারের পতন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার।
- এই প্রতিবাদ মিশরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে কেন্দ্রীভূত হয়ে ওঠে, যা বিপ্লবের প্রধান স্থান হয়ে ওঠে।

⇒ ১৮ দিনের মধ্যে, লাখ লাখ মানুষ সেখানে জড়ো হয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে।
- তারা মুবারকের সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, এবং দ্রুতই আন্দোলনটি এক গণতান্ত্রিক সংগ্রামে পরিণত হয়।
- ১৮ দিনের প্রতিরোধ এবং চাপের পর, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১-এ হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন।

⇒ এই বিপ্লব "আরব বসন্ত" নামে পরিচিত আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন উজ্জীবিত করে।
- এটি ছিল মূলত স্বৈরশাসন, দুর্নীতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ। 

উৎস: BBC.
৮৭০.
চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ কী নামে পরিচিত?
  1. ক) Gulf War
  2. খ) Arab Revolt in Palestine
  3. গ) Yom Kippur War
  4. ঘ) Six-Day War
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (Yom Kippur War)
যুদ্ধ সংঘটন কাল: ৬ অক্টোবর ২৫ অক্টোবর, ১৯৭৩ সাল। 
এই যুদ্ধকে চতুর্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ বলা হয়। 
এই যুদ্ধ "Yom Kippur War" নামে পরিচিত। 
প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষসমূহ – ইসরায়েল এবং মিশর ও সিরিয়ার নেতৃত্বে আরও কয়েকটি আরব দেশ।
ফলাফল – ইসরায়েল বিজয়ী।  এই যুদ্ধে দখলকৃত অঞ্চল মিলিয়ে ইসরায়েলের আয়তন আগের তুলনায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়।

মিশর ও সিরিয়া ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে তাদের হারানো অঞ্চল ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে দুই দিক থেকে ইসরায়েল আক্রমণ করে। 
মিশর সিনাই উপদ্বীপে ও সিরিয়া গোলান মালভূমি অঞ্চলে প্রায় একই সময়ে ইহুদীদের সবচেয়ে পবিত্র রাতে (Yom Kippur)
অতর্কিত হামলা শুরু করে।
প্রথম দিকে ইসরায়েল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও পরে ইসরায়েল ঘুরে দাঁড়ায়। পাল্টা আক্রমণ করে ইসরায়েলি বাহিনী এরিয়েল শেরনের নেতৃত্ব কায়রো ও দামেস্কের কাছাকাছি পর্যন্ত চলে আসে। সৌদি আরব, জর্ডান, ইরাক প্রভৃতি রাষ্ট্র সিরিয়া ও মিশরের সাহায্যে সৈন্য প্রেরণ করে।

আরব রাষ্ট্রগুলো এই যুদ্ধের সময় ‘তেল অস্ত্র’ প্রয়োগ করে। তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলো একই সাথে ৫% তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
২৫ অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ইসরায়েল গোলান মালভূমির আরও বেশ
কিছু অঞ্চল নিজেদের দখলে নেয়।
১৯৭৮ সালে ক্যাম্প-ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সাথে মিশরের ৩০ বছর ধরে চলা যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়।
এর ফলে প্রথম আরব দেশ হিসাবে মিশর ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় এবং বিনিময়ে সিনাই উপদ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
 
উৎস: ব্রিটানিকা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 
৮৭১.
কোন বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে?
  1. ফরাসি বিপ্লব
  2. রুশ বিপ্লব
  3. শিল্প বিপ্লব
  4. চীনা বিপ্লব
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮৭২.
২০২৫ সালের ১৭ মে গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলের নতুন বৃহৎ সামরিক অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন আয়রন সোর্ড
  2. অপারেশন আল আকসা ফ্লাড
  3. অপারেশন গিডিয়ন্স চ্যারিওটস
  4. অপারেশন ব্রেকিং ডন
ব্যাখ্যা
- ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ 'অপারেশন গিডিয়ন্স চ্যারিওটস' নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
- এই অভিযানের লক্ষ্য গাজার কৌশলগত এলাকার দখল নেয়া।
- ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের হিব্রু ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট থেকে যে পোস্টটি দিয়েছে, সেখানে এই অভিযানের নাম দিলেও ইংরেজি ভাষার পোস্টে এই অভিযানের নাম ব্যবহার করেনি।
- 'অপারেশন গিডিয়ন্স চ্যারিওটস' এটি একটি বাইবেলের যোদ্ধার নামে রাখা।

উৎস: BBC NEWS বাংলা (১৭ মে ২০২৫)
৮৭৩.
ওয়াটারলু যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম কী?
  1. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  2. জেনারেল আইসেন হাওয়ার
  3. ডিউক অব ওয়েলিংটন
  4. আর্চডিউক চার্লস
ব্যাখ্যা
- ওয়াটারলু যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম ডিউক অব ওয়েলিংটন।  

ওয়াটারলু যুদ্ধ: 

- ওয়াটারলু যুদ্ধ বেলজিয়ামে সংঘটিত হয়েছিল ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট পরাজিত হন।
- তাঁর পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়,
- সেখানে তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণ ছিল আর্সেনিকের বিষক্রিয়া।

উল্লেখ্য, 
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট এবং একজন দক্ষ সেনাপ্রধান।
- তিনি ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স ইউরোপের একটি শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। নেপোলিয়নকে ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয়। 
- তবে ওয়াটার লু যুদ্ধে পরাজয়ের পর আরথার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন) নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে তাঁর পতন ঘটে।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 
৮৭৪.
কোন জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. শাত-ইল আরব
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. সুয়েজ খাল
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা
ইরান-ইরাক যুদ্ধ:
- ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০ সালে।
- শাত-ইল আরব জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ - ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল।
- ফলাফল: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি।

উল্লেখ্য,
- ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন “শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান” দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
- দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ।
- ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

⇒ শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

উৎস: Britannica.
৮৭৫.
যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. জর্জ ওয়াশিংটন
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. থিওডোর রুজ্‌ভেল্ট
  4. উড্রো উইল্‌সন
ব্যাখ্যা

• আমেরিকার গৃহযুদ্ধ:
- আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় (১৮৬১-১৮৬৫) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন।
- তিনি ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকা থেকে দাস প্রথা বিলোপ করার ঘোষণা দেন।
সরকারের দাস প্রথা বিলোপ করার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা মূলত মার্কিন ফেডারেল সরকার আর বিপ্লবী ১১টি দাস-নির্ভর প্রদেশের মাঝে সংগঠিত হয়।
এই ১১টি প্রদেশ পূর্বেই নিজেদেরকে। মূল যুক্তরাষ্ট্র হতে আলাদা ঘোষণা করেছিল এবং নামকরণ করেছিল 'কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা' এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন জেফারসন ডেভিস।
- ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয় লিংকনের বিখ্যাত 'Emancipation Proclamation' যার ফলে সকল দাস আইনগতভাবে দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়।
মার্কিন সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়।

উৎস:  ব্রিটানিকা, ইউএস ন্যাশনাল আর্কাইভস এবং হিস্টোরি ডটকম।

৮৭৬.
Operation Peace Spring পরিচালনা করে কোন দেশ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ইরান
  3. তুরস্ক
  4. ইসরায়েল
ব্যাখ্যা
Operation Peace Spring:
- ৯ অক্টোবর, ২০১৯ সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্ক যে অভিযান শুরু করে তা অপারেশন পিস স্প্রিং নামে পরিচিত।
- এই অপারেশন সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া গ্রুপ ওয়াইপিজে এবং ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে চালানো হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরিয়ান শরনার্থীদের জন্যে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলা। 

উল্লেখ্য,
- এর আগে ২০১৮ সালে তুরস্ক সফলভাবে কুর্দি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: European Parliament ওয়েবসাইট।
৮৭৭.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ফ্রান্সের পুতুল সরকারের নাম ছিল -
  1. মার্শাল পেতা
  2. জ্যাক মিরাক
  3. দ্যগল
  4. এর্ডওয়ার্ড বালাদুর
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ফ্রান্সের পুতুল সরকার:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে সর্বাত্মক যুদ্ধ (Total War) বলা হয়।
- স্থল, জল ও অন্তরীক্ষতো বটেই, সমুদ্রগর্ভেও যুদ্ধ বিস্তৃত হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু যুদ্ধের প্রস্তুতিতে কিছু সময় ব্যয় হলে হিটলার পোল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়ে দখল করে নেন।
- হিটলার ১৯৪০ সালে মে মাসে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম ও হল্যান্ড আক্রমণ করলেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের হাতে জার্মানির পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর কাম্পেই-এর বনাঞ্চলে যে রেলগাড়ির মধ্যে জার্মান প্রতিনিধিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়েছিল, হিটলারের আদেশে সেই রেলগাড়ির কামরাটি ঠিক সেই স্থানেই আনা হয় এবং ১৯৪০ সালের ২১ জুন কামরার অভ্যন্তরে ফরাসি প্রতিনিধিগণ জার্মান সেনাপতি কাইটেলের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- হিটলার স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
- দক্ষিণ ফ্রান্সে ভিচি (Vichy) নামে একস্থান নামে মাত্র স্বাধীন ফরাসি সরকার জার্মানির তাঁবেদার হয়ে ক্ষীণ অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখলো মার্শাল পেতা হন বাঁ এই পুতুল সরকারের প্রধান।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস-২, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৮.
আরব বসন্তের ফলে কোন দেশে জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল?
  1. তিউনিসিয়া
  2. মিশর 
  3. লিবিয়া
  4. ইয়েমেন
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে সূচিত এই গণবিক্ষোভ ক্রমেই প্রসারিত হয় অন্যান্য দেশে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে।

⇒ তিউনিসিয়া: আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বুয়াজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় জনগণ শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের ডাক দেয়।
- ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রাষ্ট্রপতি জাইন আল-আবিদিন বেন আলী পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৮৭৯.
শতবর্ষ যুদ্ধে কোন দেশ বিজয়ী হয়?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. স্পেন
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

শতবর্ষ যুদ্ধ:
- যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল।
- এই যুদ্ধ শুরু হয় - ১৩৩৭ সালে।
- 'জোয়ান অব আর্ক' ছিল ফ্রান্সের সেনাপতি।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড এই যুদ্ধ শুরু করেন ফ্রান্সের সিংহাসনের দাবিতে।
- এই যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স।
- পরাজিত হয় যুক্তরাজ্য।
- ১৪৫৩ সালে এই যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮৮০.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সম্রাট কে ছিলেন?
  1. ক) তাইসো
  2. খ) হিরোহিতো
  3. গ) আকিহিতো
  4. ঘ) নারোহিতো
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান
▪ যুক্তরাষ্ট্র - ফ্রাঙ্কলিন ডি.রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান (প্রেসিডেন্ট)
▪ সোভিয়েত ইউনিয়ন - জোসেফ স্ট্যালিন (প্রেসিডেন্ট/নেতা)
▪ যুক্তরাজ্য - উইনস্টন চার্চিল (প্রধানমন্ত্রী)
▪ ফ্রান্স - চার্লস ডি গল (প্রবাসী সরকারের প্রধান)
▪ জার্মানি - এডলফ হিটলার (চ্যান্সেলর/ফুয়েরার)
▪ জাপান - হিরোহিতো (সম্রাট)
▪ ইতালি - বেনিতো মুসোলিনী ও পিয়েত্রো বাডুগোল্লি (প্রধানমন্ত্রী)।

তথ্যসূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।
৮৮১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কে পার্ল হারবার আক্রমণ করেছিল?
  1. জার্মানি
  2. চীন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

পার্ল হারবার আক্রমণ:
- পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- এটি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে। এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।

উল্লেখ্য,
- পার্ল হারবারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের যুদ্ধজাহাজের সারি লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে একের পর টর্পেডো ছোড়া হচ্ছিল জাপানি যুদ্ধবিমান থেকে। সেই সঙ্গে চলে প্রচণ্ড বোমা হামলা ও মেশিনগান থেকে গুলিবর্ষণ। হামলা চালানো হয় সেখানকার বিমানঘাঁটিতেও।
- দুই ধাপে এ হামলায় অংশ নেয় জাপানের ৩৫৩টি যুদ্ধবিমান। দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ১৬টি। ধ্বংস হয়ে যায় মার্কিন বাহিনীর ১৮৮টি যুদ্ধবিমান।
- জাপানের এই হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৪০০ জন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক। আহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০।
- মার্কিন পাল্টা হামলায় নিহত হন ৬৪ জাপানি সেনা।

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

৮৮২.
কোন শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়?
  1. ঊনবিংশ শতাব্দীতে
  2. অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  3. পঞ্চদশ শতাব্দীতে
  4. সপ্তদশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়। 

- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল - ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব’ (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- এর পর থেকে এটি জনপ্রিয় হতে থাকে।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে। ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

সূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম, ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৮৩.
'বেলফোর ঘোষণা' কোনটির সাথে জড়িত?
  1. ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা
  2. ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা
  3. পিএলও প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা:
- বেলফোর ঘোষণা হলো ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন নেতা ব্যারন রথচাইল্ডের কাছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জেমস বেলফোরের লেখা একটি চিঠি।
- বেলফোর ঘোষণার সাথে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা সরাসরিভাবে জড়িত।
- ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব এ জে বেলফো ব্রিটিশ জায়নিষ্ঠ ফেডারেশনের সভাপতি লর্ড রথচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।
- তিনি ফিলিস্তিনে একটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরির প্রস্তাব দেন।
- ঐ চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- ইতিহাসে এটি বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।
- ১৯২২ সালে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) বেলফোর ঘোষণা অনুমোদন করে।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইন অধ্যুষিত আরব এলাকা বিভক্তির মধ্যে দিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখন্ডে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮৮৪.
বক্সারের যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. উড়িষ্যা
  2. লখনৌ
  3. বিহার
  4. ঝাড়খন্ড
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় -  বিহারে।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্ব দেন- মেজর মনরো।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮৫.
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে কোন দুইটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়?
  1. ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা
  2. আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেন
  3. স্পেন ও যুক্তরাজ্য
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা

ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- যুদ্ধের নাম: ফকল্যান্ড যুদ্ধ (Falklands War)। 
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২ এপ্রিল ১৯৮২ থেকে ১৪ জুন ১৯৮২।
- পক্ষসমূহ: যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা। 
- যুদ্ধ সংঘটনের স্থান: ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডুইচ দ্বীপ।  
- ফলাফল: যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- যুদ্ধের কারণ: আর্জেন্টিনার সামরিক সরকারের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা।
- যুদ্ধের সূচনা: ২ এপ্রিল ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডুইচ দ্বীপে আক্রমণ করে।
- যুক্তরাজ্যের অবস্থান: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- সকল নৌযুদ্ধে হেরে আর্জেন্টিনা ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে আত্মসমর্পনে সম্মত হয়।
- যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ১৯৮৩ সালে আর্জেন্টিনায় সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।    

উৎস: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।   

৮৮৬.
কোন দেশে 'ভেলভেট বিপ্লব' (Velvet Revolution) সংঘটিত হয়েছিল?
  1. তিউনিশিয়া
  2. স্লোভারিয়া
  3. জর্জিয়া
  4. স্লোভাকিয়া
ব্যাখ্যা
ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution):
- ভেলভেট বিপ্লব ১৯৮৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে চেকোস্লোভাকিয়ায় (বর্তমানে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া) সংঘটিত হয়।
- এটি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটায়।
- এই বিপ্লবকে Gentle Revolution-ও বলা হয়ে থাকে।
- ১৬ নভেম্বর, ব্রাটিস্লাভা শহরে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেয়।
- ১৭ নভেম্বর, প্রাগে একটি ছাত্র মিছিল হয়, যা সরকার অনুমোদন করেছিল।
- মিছিলটি ৫০ বছর আগে জার্মান অধিকৃত প্রাগের ছাত্র বিক্ষোভকে স্মরণ করতে আয়োজিত হয়েছিল।
- ছাত্ররা কমিউনিস্ট শাসনের সমালোচনা শুরু করলে পুলিশ তাদের প্রতি নৃশংস আচরণ করে।
-  এই ঘটনার পর ভেলভেট বিপ্লব শুরু হয় এবং এটি শিল্পাঞ্চলে শক্তি সঞ্চয় করে।
- "সিভিক ফোরাম" নামে একটি বিরোধী দল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়।
- ২৭ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণ মুক্ত নির্বাচন এবং একদলীয় শাসনের অবসান দাবি করে।
- ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভ হুসাক পদত্যাগ করেন।
- ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে ভ্যাক্লাভ হাভেল (Václav Havel) অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৯০ সালের জুলাইয়ে হাভেল (Havel) চেকোস্লোভাকিয়ার প্রথম noncommunist নেতা হন।

অন্যদিকে, 
- রোজ বিপ্লব: জর্জিয়া, ২০০৩, নির্বাচনী কারচুপির প্রতিবাদে।
- জেসমিন বিপ্লব: তিউনিশিয়া, ২০১১, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে।
- টিউলিপ বিপ্লব: কিরগিজস্তান, ২০০৫, নির্বাচনী কারচুপির প্রতিবাদে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
৮৮৭.
কোন ঘটনাটি কার্টার মতবাদের প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছিল?
  1. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  2. কিউবা মিসাইল সংকট
  3. ইরান ইসলামি বিপ্লব
  4. সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

কার্টার মতবাদ (Carter Doctrine):
- কার্টার ডকট্রিন হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কর্তৃক ঘোষিত একটি পররাষ্ট্রনীতি।
- ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কার্টার ডকট্রিন ঘোষণা করেন।
- কার্টার ডকট্রিন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।
- পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের নিরাপদ প্রবাহ রক্ষা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্টার ডকট্রিন অনুসরণ করে।

• ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আগ্রাসন ও আক্রমণ কার্টার মতবাদের (Carter Doctrine) প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছিল।
- এই আক্রমণের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সোভিয়েত প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায়মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঘোষণা করেন যেকোনো বাহ্যিক শক্তি পারস্য উপসাগরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তা প্রতিহত করবে।
- এই নীতি ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অস্ত্র সীমাবদ্ধতা আলোচনা (SALT- II) পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এই ডকট্রিনের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Rapid Deployment Joint Task Force গঠন করে। 

উৎস: i) Britannica.
ii) Office of the Historian (.gov) ওয়েবসাইট। 

৮৮৮.
ওয়াটারলু যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৮ জুন, ১৭৯৮
  2. ১৮ জুন, ১৮১৫
  3. ২২ জুন, ১৮১৫
  4. ৫ মে, ১৮২১
ব্যাখ্যা

ওয়াটারলু যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ১৮ জুন, ১৮১৫ সাল।
- স্থান: ওয়াটারলু, বেলজিয়াম। 
- বিবাদমান পক্ষ- নেপোলিয়ানের নেতৃত্বে ফ্রান্স বাহিনী ও সম্মিলিত ব্রিটিশ বাহিনী।
- বিজয়ী - সম্মিলিত ব্রিটিশ বাহিনী।
- বিজিত - ফ্রান্স বাহিনী।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সম্মিলিত বাহিনী গঠিত হয়- বেলজিয়ান, জার্মান ও ডাচ বাহিনীর সমন্বয়ে।
- এই বাহিনী নেতৃত্ব দেন- আর্থার ওয়েলেসলি যিনি ছিলেন ‘প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন'।
- যুদ্ধে নেপোলিয়ানের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
- ২২ জুন, ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত 'সেইন্ট হেলেনা' দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- ৫ মে, ১৮২১ সালে নেপোলিয়ান মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে সমাহিত করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 

৮৮৯.
'ধনতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো সাম্রাজ্যবাদ' কথাটি কে বলেছেন?
  1. ক) হিটলার
  2. খ) চেম্বারলিন
  3. গ) স্টালিন
  4. ঘ) লেনিন
ব্যাখ্যা
- প্রথম মহাযুদ্ধের কয়েক দশক পূর্ব থেকে ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে বাণিজ্যের প্রসার এবং এ জন্য ঔপনিবেশ বিস্তার নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা হয়।
- ইউরোপের শিল্পায়িত বৃহৎ ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলির উৎপাদন এ সময় বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। 
- ফলে উদ্বৃত্ত পণ্য রফতানির জন্য নতুন বাজারের প্রয়োজন দেখা দেয়। 
- তাই দেখা যায় ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো শিল্পপণ্য রফতানি এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগের জন্য পুরনো উপনিবেশের সম্প্রসারণ এবং নতুন ঔপনিবেশ স্থাপনের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে।
- ইতিহাসে এই বিষয়টাকে সাম্রাজ্যবাদ (Imperialism) বলা হয়। 
- মার্কস থেকে লেনিন পুঁজিবাদী অর্থনীতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে উদ্বৃত্ত পণ্য সংকট সৃষ্টি করে। 
- লেনিন সাম্রাজ্যবাদকে ধনতন্ত্রের আধুনিক সর্বোচ্চ পর্যায় (Highest stage of Capitalism) বলে অভিহিত করেছেন। 
 
উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস -২, এসএসইএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯০.
'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' পরিচালনা করে কোন দেশ?
  1. ইসরায়েল
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ইরান
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
অপারেশন মিডনাইট হ্যামার:
- ২১ জুন মধ্যরাতে (২২ জুন), ২০২৫ ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’।
- প্রায় ২৫ মিনিট দীর্ঘ এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ১২৫টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৩৭ ঘণ্টা উড়ে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে অংশ সাতটি বি-২ বোমারু বিমান।
- এই বিমানগুলো ইরানের ফরদো এবং নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় ১৪টি বাংকার বাস্টার বোমা ছোড়ে।
- একইসময়ে ইস্পাহানে অবস্থিত আরেকটি পরমাণু স্থাপনায় সাবমেরিন থেকে প্রায় দুই ডজন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
- অভিযানের পর একে অভাবনীয় এক সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
- যদিও ইরান প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
- সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার শঙ্কায় ইরান নাকি বহুল আলোচিত ফরদো ঘাঁটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু আগেই সরিয়ে নিয়েছে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট।
৮৯১.
'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড' শুরু হয় কবে?
  1. ৫ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  2. ৬ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  3. ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  4. ৮ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা
অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড:
- ইসরাইলে হামাস ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে আক্রমণের মধ্য দিয়ে দুইদেশের সংঘাত শুরু হয়।
- এ লড়াইয়ের নাম দেয়া হয়েছে 'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড'।
- বস্তুত বন্যার জলের মতই সশস্ত্র হামাস বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে।
- এর আগে ২০২১ সালে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ১১ দিন ধরে সংঘাত চলেছিল।
- হামাস সদস্য ইজেত আল-রাশক জানান, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা লড়ছেন।
- ইহুদিদের এখন উৎসব পর্ব চলছে।
- সেই উৎসবের শেষ দিনে এই আঘাত হেনেছে হামাস।
- ইসরায়েলের বন্দর শহর তেল আবিবের উত্তরে পর্যন্ত রকেট হামলা করা হয়েছে।
- সেই সাথে হামাসের সশস্ত্র বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের দক্ষিণে।

তথ্যসূত্র - ৮ অক্টোবর, ২০২৩, বিবিসি বাংলা ও দৈনিক যুগান্তর, ০৩ নভেম্বর ২০২৩।
৮৯২.
ইসরাইল কত সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
ইসরাইল ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
⇒ ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

⇒ ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

⇒ ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

⇒ ৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

উৎস: World Atlas.
৮৯৩.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষ অবলম্বন করেনি কোন দেশ?
  1.  জার্মানি
  2. ইতালি
  3. স্পেন
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্ব‍যুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্ব‍যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। 
- অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

• অক্ষশক্তির দেশসমূহ হলো:
- জাপান
- জার্মানি ও
- ইতালি।

• মিত্রশক্তির দেশসমূহ হলো:
- যুক্তরাজ্য
- ফ্রান্স
- যুক্তরাষ্ট্র
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)
- চীন
- পোল্যান্ড প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, 
- স্পেন
- পর্তুগাল, 
- সুইজারল্যান্ড, 
- ভ্যাটিকান সিটি, 
- আয়ারল্যান্ড, 
- সুইডেন, 
- তুরস্ক প্রভৃতি দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ বা মিত্র শক্তির পক্ষাবলম্বন না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিকট জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম।

৮৯৪.
জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন কতটি দেশের মধ্যে শতবর্ষ যুদ্ধ হয়েছিল?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘের ছয়টি মূল অঙ্গসংস্থার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদ অন্যতম।
- বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব এই পরিষদের উপর ন্যস্ত।
- এটিকে জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রভাবশালী অঙ্গসংস্থা বিবেচনা করা হয়।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫টি।
- এর মধ্যে পাঁচটি হলো স্থায়ী সদস্য এবং দশটি অস্থায়ী সদস্য।

• পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হলো:
- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স। এর মধ্যে একমাত্র এশীয় দেশ হচ্ছে চীন।
- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল।
- এখানে ইংল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অন্তর্গত একটি দেশ তাই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে উত্তর নেওয়া হয়েছে
- পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
- ভেটো অর্থ আমি ইহা মানি না।
- ভেটো ক্ষমতার জন্যে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত যেকোন প্রস্তাব পাশের জন্যে এই পাঁচটি দেশের প্রত্যেকটির সম্মতির প্রয়োজন হয়।
- নিরাপত্তা পরিষদে যেকোন প্রস্তাব পাশের জন্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য ও চারটি অস্থায়ী সদস্যসহ কমপক্ষে ৯টি সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন হয়।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
৮৯৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
  2. ফ্রেডেরিখ অ্যাবেট
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা
• উড্রো উইলসন:
- যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ তম প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি ১৪ দফা বিশিষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন।
- তাতে ছিল ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার ও জাতিপুঞ্জ গঠনের আহ্বান।
- এই প্রস্তাবনার ১৪ নং পয়েন্টে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৯১৪-১৯১৮ সাল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধান:
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী: জর্জ লয়েড।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট: উড্রো উইলসন।
- রাশিয়ার জার: দ্বিতীয় নিকোলাস।
- জাপানের সম্রাট: যুসোহিতো।

উৎস: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৮৯৬.
কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট কত দিন যাবৎ স্থায়ী হয়েছিল? 
  1. ৭ দিন
  2. ১৩ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

• কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট:
- কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (Cuban Missile Crisis) অক্টোবর ১৯৬২ সালে ঘটে।
- এতে সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ. কেনেডি এবং সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নিকিতা ক্রুশ্চেভ।
- ১৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ১৩ দিন ধরে চলা এই সংকট শীতল যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তগুলোর একটি ছিল, যা বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
- শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৮৯৭.
রুশ বিপ্লব কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে?
  1. পুঁজিবাদ
  2. রাজতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র
  4. সামন্তবাদ
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে "১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব" (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।

• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৯৮.
যে বিপ্লবের মাধ্যমে আরব বসন্তের সূচনা হয় -
  1. রোজ বিপ্লব
  2. জেসমিন বিপ্লব
  3. অরেঞ্জ বিপ্লব
  4. ভেলভেট বিপ্লব
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জেসমিন বিপ্লব:
- সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- প্রথমে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়।
- পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়।
- এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের মোট ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৮৯৯.
কোন দেশ থেকে রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা হয়?
  1. জার্মানি
  2. ইতালি
  3. তিউনিসিয়া
  4. ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
রেনেসাঁ:
- ফরাসি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি  স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।
- মধ্যযুগে ইউরোপের সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির পুনর্জাগরণকে রেনেসাঁ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে প্রথম রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ইতালির অন্যান্য শহর এবং ইউরোপের অপরাপর দেশে বিস্তার লাভ করে।
- ইউরোপে রেনেসাঁ শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীতে।
- ১৪শ থেকে ১৬শ শতককে রেনেসাঁর সময়কাল বিবেচনা করা হয়।
- তৎকালীন সময়ে ইউরোপীয় বিত্তবান ও ধনিক শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতার ফলে রেনেসাঁ সংঘটিত হয়

উৎস: Britannica.
৯০০.
নেপোলিয়ানকে কোন মহাসাগরের দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
- তিনি ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
- ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে তিনি ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন।
- ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।