বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৫০১৬০০ / ১,০৫২

৫০১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কত বছর পূর্তিতে 'কর্নার স্টোন অব পিস' স্থাপিত হয়?
  1. ২৫ বছর
  2. ৫০ বছর
  3. ৭৫ বছর
  4. ১০০ বছর
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে ১৯৯৫ সালে জাপানের ওকিনাওয়ায় 'কর্নার স্টোন অব পিস' স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত হয়।
- ওকিনাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চল হল জাপানের দক্ষিণে অবস্থিত ১০০০ কিমি দীর্ঘ রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের দুই তৃতীয়াংশ।
- এটি জাপানের দক্ষিণতম প্রশাসনিক অঞ্চল।
- এর রাজধানী ওকিনাওয়া দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত নাহা নগর।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১, ৮৫, ০০০ সেনা নিয়ে ওকিনাওয়া অধিকার করে।
- প্রশাসনিক অঞ্চলটির এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারান।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৫০২.
ফরাসি বিপ্লবের প্রধান স্লোগান কোনটি ছিল?
  1. সাম্য, ন্যায় ও স্বাধীনতা
  2. স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব
  3. ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা ও ধর্ম
  4. সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও রাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা

⇒ ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।

ফরাসি বিপ্লব:
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৫০৩.
হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?
  1. ক) কেজিবি
  2. খ) ফুয়েবার
  3. গ) গেস্টাপো
  4. ঘ) কিয়াসো
ব্যাখ্যা
• অ্যাডলফ হিটলার:
- ১৮৯৯ সালের এপ্রিল মাসে অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ গ্রামে অ্যাড্লফ হিটলার জন্মগ্রহণ করেন।
- অ্যাডলফ হিটলার ১৯৩৩ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যার পূর্ব পর্যন্ত তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন।
- তার রাজনৈতিক দলের নাম নাৎসী (Nazi) পার্টি।
- হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনী গেস্টাপো নামে পরিচিত।
- হিটলারের আত্মজীবনীর নাম Mein Kamph.
- যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সর্বজনীন বলেছেন- হিটলার।
- হিটলার আত্মহত্যা করেন- ৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে।

সূত্র:- হিস্টোরি ডটকম।
৫০৪.
জেনেভা কনভেনশনের কোন চুক্তিটি যুদ্ধক্ষেত্র বা অবরুদ্ধ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত?
  1. ক) প্রথম জেনেভা কনভেনশন চুক্তি
  2. খ) দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি
  3. গ) তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি
  4. ঘ) চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন চুক্তি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন - ১৯৪৯ (Geneva Convention):
১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'জেনেভা কনভেনশন' স্বাক্ষর হয়।
এর আওতায় স্বাক্ষরিত চুক্তির সংখ্যা - ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল (যুদ্ধকালীন সামরিক, বেসামরিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের রক্ষার জন্য এতে চারটি রক্ষাকবচ/চুক্তি থাকায় এই চুক্তিকে “চারটি রেডক্রস কনভেনশন” বলা হয়।)
স্বাক্ষরিত চারটি চুক্তি হচ্ছে-
১. প্রথম জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - জেনেভা কনভেনশনের প্রথম চুক্তিটি যুদ্ধকালীন সময়ে ভূমি ও স্থল যুদ্ধে আহত ও অসুস্থ সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত।
২. দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - দ্বিতীয় চুক্তিটি সমুদ্রে বা জলের যুদ্ধে আহত, অসুস্থ ও জাহাজডুবির স্বীকার সৈন্যদের প্রতি আচরণ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালের “হেগ চুক্তি সংশােধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন চুক্তি – জেনেভা কনভেনশনের তৃতীয় চুক্তিটি হচ্ছে যুদ্ধ-বন্দিদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত।
৪. চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন চুক্তি - চতুর্থ চুক্তিটি যুদ্ধক্ষেত্র বা অবরুদ্ধ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং history.com।
৫০৫.
‘জেসমিন বিপ্লব’ কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. মিশর
  2. লিবিয়া
  3. তিউনিসিয়া
  4. সুদান
ব্যাখ্যা

- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়।

• জেসমিন বিপ্লব:
- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয় ২০১১ সালে।
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

• ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৫০৬.
রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায় কোনটি?
  1. জুলাই বিপ্লব
  2. সেপ্টেম্বর বিপ্লব
  3. অক্টোবর বিপ্লব
  4. নভেম্বর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে "১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব" (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে ও সমাজতন্ত্রের সূচনা ঘটে।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫০৭.
সাংস্কৃতিক বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. ব্রিটেন
  2. রাশিয়া
  3. চীন
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব চীনে সংঘটিত হয়। 
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution) ছিল একটি বিশাল সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা শুরু করেছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সে তুং ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে, তার শাসনের শেষ দশকে।
- এই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল —  চীনের বিপ্লবী চেতনা পুনর্জাগরণ। 
- সোভিয়েত ধাঁচে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপরীতে চীনকে চালনা করা
- নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিশ্চিত করা
- ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে মাও ধারণা করেন যে রুশ বিপ্লব সঠিক পথে এগোয়নি।
- এতে তার আশঙ্কা জাগে, চীনও সেই একই ভুল পথে এগোচ্ছে, তাই তিনি দেশের শহরগুলোকে বিপ্লবের নামে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেন।

উৎস: Britannica.
৫০৮.
‘অপারেশন সিঁদুর’ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল কবে?
  1. ৪ মে, ২০২৫
  2. ৫ মে, ২০২৫
  3. ৭ মে, ২০২৫
  4. ৯ মে, ২০২৫
ব্যাখ্যা
অপারেশন সিঁদুর:
- গত ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ভারত-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৫ জন ভারতীয় ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হন।
- এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে “অপারেশন সিঁদুর” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত।
- ভারতের অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
- এতে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ১০০ সদস্য নিহত হয়েছে বলে ভারতের দাবি।
- এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ১০ মে “বুনইয়ান-উন-মারসুস” নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে।
- ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এ অভিযানে ভারতের অন্তত ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
- ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
৫০৯.
১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের ফলে কোন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. রাজতন্ত্র
  2. ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র
  3. ইসলামি প্রজাতন্ত্র
  4. গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের ফলে ইরানে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র (Islamic Republic) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।
- আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে একটি ধর্মভিত্তিক, ধর্মতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা চালু হয়।
- এই বিপ্লব ইরানকে পাশ্চাত্যপন্থি রাজতন্ত্র থেকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে, যেখানে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: Britannica.

৫১০.
নীল বিপ্লব কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. জর্জিয়া
  2. মিসর
  3. ইউক্রেন
  4. তিউনিসিয়া
ব্যাখ্যা
নীল বিপ্লব:

- নীল বিপ্লব (Blue Revolution) নামে পরিচিত এই ঘটনাটি ২০১১ সালে মিসরে সংঘটিত হয়।
- এটি আরব বসন্তের (Arab Spring) একটি অংশ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল।
- জনসাধারণের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, এবং গণতন্ত্রের দাবিতে এই বিপ্লব শুরু হয়।
- ২৫ জানুয়ারি ২০১১ সালে কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে (Tahrir Square) বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভ দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ দিনের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পর ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- নীল বিপ্লব আরব বসন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে।

অন্যদিকে,
- ইউক্রেনে ২০০৪ সালে অরেঞ্জ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় রোজ বিপ্লব সংঘটিত হয় ।
- তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
৫১১.
যুক্তরাষ্ট্র কোন যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য ডমিনো তত্ত্ব ব্যবহার করেছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  3. কোরিয় যুদ্ধ
  4. ফিলিপাইন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

ডমিনো তত্ত্ব:
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।

উৎস: History.com

৫১২.
কার নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়?
  1. মোহাম্মদ রেজা পাহলভি
  2. আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী
  3. মোহাম্মাদ মুসাদ্দেক
  4. আনোয়ার সাদাত
ব্যাখ্যা
ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- শেষ ইরানি রাজবংশ ছিল পাহলভী রাজবংশ ছিল।
- ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে দীর্ঘ আটাশ বছর এই রাজবংশ শাসন পরিচালনা করে।
- আর ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব পর্যন্ত স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র হিসেবে ইরান শাসন করে।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ইরানের ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয় ও রেজা শাহ পাহলভী ইরান ছেড়ে পালিয়ে যান।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী:
- ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।
- তিনি একজন ইরানি রাজনীতিবিদ, বিপ্লবী ও শিয়া ধর্মগুরু।
- ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন শাহ সরকারের অত্যাচার, নিপীড়ন ও আমেরিকার পদলেহী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

উৎস: Britannica.
৫১৩.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ পুর্নগঠনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিম্নের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে?
  1. ক) মলোতব পরিকল্পনা
  2. খ) মার্শাল পরিকল্পনা
  3. গ) রুজভেল্ট পরিকল্পনা
  4. ঘ) ট্রুম্যান পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপ পুর্নগঠনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা ‘মার্শাল প্ল্যান বা মার্শাল পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।
- তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল এটি প্রণয়ন করেন। 
- মার্শাল পরিকল্পনার অপর নাম ইউরোপ পুর্নগঠন পরিকল্পনা (European Recovery Program, ERP).
- ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনায় ১৫ বিলিয়নের মার্কিন ডলারের অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয় যার বেশিরভাগই পায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্স।
- ইউরোপ পুর্নগঠনের পাশাপাশি মার্শাল প্লানে পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ, ন্যাটো চুক্তি স্বাক্ষর, সিআইএ এর কর্মপরিধি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিহিত ছিলো।
- মার্শাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে OECD (Organisation for Economic Co-operation and Development) এর জন্ম লাভ হয়। 
- এই পরিকল্পনার পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন মলোতব পরিকল্পনা (Molotov Plan) গ্রহণ করে যা পরবর্তীতে COMECON এ পরিণত হয়। 
 
The Marshall Plan (officially the European Recovery Program, ERP) was an American initiative enacted in 1948 to provide foreign aid to Western Europe.

(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৫১৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নিকট থেকে কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয় -
  1. ক) ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন
  4. ঘ) চীন ও যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে জাপান কোরিয়া দখলে নিয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় কোরিয়া জাপানের অধীনে ছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ কোরিয়া উপদ্বীপকে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করে।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫১৫.
'আরব বসন্ত' সূচনা হয়- 
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

• আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত হলো আরব মুসলিম দেশগুলোতে সংঘটিত হওয়া সিরিজ বা ধারাবাহিক গণঅভ্যুত্থান।
- ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বোয়াজিজি নামে এক ফলবিক্রেতা কর্তৃক নিজ শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিউনেশিয়ায় সর্বপ্রথম গণবিক্ষোভ বা আরব বসন্তের সূত্রপাত ঘটে।
- এর ফলে ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি তিউনেশিয়ার স্বৈরশাসক জাইন এল বেন আলী এর পতন ঘটে।

- পরবর্তীতে এই গণবিক্ষোভ মিসর, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, বাহরাইন ও মরক্কোতে ছড়িয়ে পড়ে।
- লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে গণআন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এই দেশগুলোতে এখনো সংঘাত চলমান রয়েছে।

উৎস: হিস্টোরি.কম এবং দ্যা গার্ডিয়ান রিপোর্ট

৫১৬.
পার্ল হারবার আক্রমণটি কোন বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘটেছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. শীতল যুদ্ধ
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. জাপান–চীন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• পার্ল হারবার আক্রমণ: 
- পার্ল হারবার আক্রমণ সংঘটিত হয় ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত পার্ল হারবারের মার্কিন নৌঘাঁটিতে জাপানের সামরিক বাহিনী হঠাৎ ধ্বংসাত্মক হামলা চালায়।
- এই আক্রমণের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়।
- পার্ল হারবার আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা, যাতে প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য সময় অর্জন করাও ছিল জাপানের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে জাপান একটি আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল।
- চীন ও মাঞ্চুরিয়া দখল এবং রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর জাপানের সামরিক শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।
- এই আগ্রাসী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
- জাপানের সম্প্রসারণবাদী নীতির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে;
- যার ফলে জাপান জ্বালানি তেল ও যুদ্ধাস্ত্র আমদানিতে বাধাগ্রস্ত হয়।
- একাধিক বৈঠক সত্ত্বেও দ্বন্দ্বের সমাধান না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- এই আক্রমণের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মোড় সৃষ্টি করে।
- পার্ল হারবার আক্রমণ তাই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সামরিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: প্রথম আলো, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২।

৫১৭.
সম্প্রতি, ‘ডুরাল্ড লাইন’ সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়েছে কোন দুটি দেশ? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. আফগানিস্তান ও ইরান
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সংঘর্ষ: 
- ১৮৯৩ সালে, ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব স্যার হেনরি মর্টিমার ডুরান্ড এবং আফগানিস্তানের আব্দুর রহমান খানের মধ্যে আলোচনার ফলে ডুরান্ড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা আফগানিস্তান এবং ব্রিটিশ-শাসিত ভারতের মধ্যে সীমানাকে সংজ্ঞায়িত করে।
- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংঘাতের আবহে আরো একবার শিরোনামে উঠে এসেছে সেই ডুরান্ড লাইন, যাকে কেন্দ্র করে বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
- দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংঘর্ষের সূত্রপাত চলতি মাসে (অক্টোবর, ২০২৫) আফগানিস্তান বেশ কিছু সময় ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

- অন্যদিকে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কাছে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান যখন কাবুলে হামলা চালায় সেই সময় তারা দাবি করে এই অভিযানের নিশানায় ছিল টিটিপি।
- আফগানিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়।
- ডুরান্ড লাইনের কাছে থাকা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকেও নিশানা করে আফগানিস্তান।
- এই সংঘাত সমাধানের উদ্দেশ্যে দোহায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান বৈঠকে ডুরান্ড লাইনকে 'কাল্পনিক' বলে আখ্যা দেন আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব।
- তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,
    ''এই সীমান্ত আফগানিস্তান কোনোদিন মেনে নেয়নি এবং এই বিষয়ে কী করণীয় তা নির্ধারণ করবে আফগানরাই।''

তথ্যসূত্র: বিবিসি। (Link)

৫১৮.
যুক্তরাজ্যের এপসম কেন বিখ্যাত?
  1. শ্যুটিং
  2. লন টেনিস
  3. পোলো
  4. ঘৌড় দৌড়
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্য:
- সরকার ব্যবস্থা: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র।
- সংবিধান: অলিখিত।
- সরকার প্রধান: প্রধানমন্ত্রী।
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: ঋষি সুনাক (কনজারভেটিভ পার্টি)।
- প্রথম প্রধানমন্ত্রী: রবার্ট ওয়ালপল।
- প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী: মার্গারেট থ্যাচার।
- যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টোন চার্চিল রাজনীতিবিদ হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন: ১০ নং ডাইনিং স্ট্রিট।
- রাষ্ট্র প্রধান: রানি বা রাজা।
- বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান: রাজা তৃতীয় চার্লস।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ রাজপরিবারের বাসভবন: বাকিংহাম প্যালেস (লন্ডন)।
- বৃটেনের অর্থমন্ত্রীর বাসভবন: ১১ নং ডাইনিং স্ট্রিট।
- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব: ভিক্টোরিয়া ক্রস।
- যুক্তরাজ্যের পতাকে বলা হয়: ইউনিয়ন জ্যাক।

এছাড়াও,
- যুক্তরাজ্যের এপসম প্রাচীন ঘৌড় দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য বিখ্যাত।
- 'Fleet Street' সংবাদপত্র প্রকাশনার জন্য বিখ্যাত একটি সড়ক।
- 'Whitehall' লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি রাস্তা।
- এখানে ব্রিটিশ সরকারের অধিকাংশ প্রশাসনিক ভবন অবস্থিত।
- 'Trafalgar Square' এর অবস্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫১৯.
কাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ইতালি
  2. জার্মানি
  3. জাপান
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
- জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

• অক্ষশক্তি: জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
• মিত্রশক্তি: ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

উল্লেখ্য,
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে, ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে।
- এগুলো ছিল লিটলবয় এবং ফ্যাটম্যান নামের দুইটি পারমাণবিক বোমা যা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে বিস্ফোরন করা হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত।
- এই যুদ্ধে ৭০-৮৫ মিলিয়ন প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

উৎস: History.com
৫২০.
কোন দেশগুলোকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ‘কেন্দ্রীয় শক্তি’ বলা হয়েছিল?
  1. জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও তুরস্ক
  2. ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া
  3. ইতালি, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. ফ্রান্স, তুরস্ক ও জাপান
ব্যাখ্যা

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:

- ১৯১৪ সালে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
- এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক সংঘাত যাতে ইউরোপের বেশিরভাগ অংশের পাশাপাশি এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দূরবর্তী দেশগুলি জড়িত।
- জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং তুরস্ক কেন্দ্রীয় শক্তির অন্তুর্ভুক্ত ছিল।
- ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, জাপান এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রবাহিনীর সাথে লড়াই করেছিল।
- ১৯১৮ সালে কেন্দ্রীয় শক্তির পরাজয়ের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। অর্থ্যাৎ প্রায় ৪ বছর ধরে এই যুদ্ধ চলে।

উৎস: worldatlas.com

৫২১.
শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ কোন দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. জার্মানি এবং ফ্রান্স
  2. ইংল্যান্ড এবং জার্মানি
  3. ফ্রান্স এবং ইতালি
  4. ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ:
- ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৩৩৭ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত।

⇒ ১৩৩৭ সালে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় অ্যাডওয়ার্ড অবৈধভাবে ফ্রান্সের সিংহাসন দাবি করেন।
- এতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যায়, যা ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত চলে।
- ইতিহাসে এটি শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- 'জোয়ান অব আর্ক' ছিলেন ফ্রান্সের সেনাপতি।
- ব্রিটিশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন এই বীর কন্যা। 
- এই যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স।

উৎস: Britannica.
৫২২.
জার্মানি কর্তৃক কোন দেশ আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়?
  1. পোল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. ব্রিটেন
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। 

• অক্ষশক্তি: জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
• মিত্রশক্তি: ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

উল্লেখ্য,
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে, ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে।
- এগুলো ছিল লিটলবয় এবং ফ্যাটম্যান নামের দুইটি পারমাণবিক বোমা যা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে বিস্ফোরন করা হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত।
- এই যুদ্ধে ৭০-৮৫ মিলিয়ন প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

উৎস: History.com

৫২৩.
ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে কোন দুর্গের পতন ঘটে?
  1. লুভর দুর্গ
  2. ভার্সাই দুর্গ
  3. বাস্তিল দুর্গ
  4. সান্তিয়াগো দুর্গ
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৫২৪.
কার নেতৃত্বে ‘বলশেভিক বিপ্লব’ সংঘটিত হয়?
  1. ক) বরিস ইয়েলেৎসেন
  2. খ) ভি আই লেনিন
  3. গ) নিকিতা ক্রশ্চেভ
  4. ঘ) আন্দ্রে ব্রেজনেভ
ব্যাখ্যা
১৯১৭ সালের ২৪ ও ২৫ অক্টোবর (জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে) রাশিয়ায় সংঘটিত বিপ্লব ‘বলশেভিক বিপ্লব’ নামে পরিচিত।
এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন ভি আই লেনিন। এই বিপ্লবের ফলে জারতন্ত্রের উচ্ছেদ হয়ে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়।
লেনিনের নেতৃত্বে ১৯২২ সালে ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠিত হয় যার পতন ঘটে ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর।
(সূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৫২৫.
রাশিয়ার যে শহরে হাসপাতালে আক্রমণ করার পর বাধ্য হয়ে রাশিয়া চেচনিয়ার সাথে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে তার নাম-
  1. ক) Budennovsk
  2. খ) Keldavisk
  3. গ) Dasanova
  4. ঘ) Gariev
ব্যাখ্যা
- The Budyonnovsk hospital hostage crisis took place from 14 to 19 June 1995,
- when a group of 80 to 200 Chechen separatists led by Shamil Basayev attacked the southern Russian city of Budyonnovsk,
- some 110 kilometres (70 mi) north of the border with the de facto independent Chechen Republic of Ichkeria.
- The attack resulted in a ceasefire between Russia and Chechen separatists, and peace talks (which later failed) between Russia and the Chechens.
Source: https://dbpedia.org/
৫২৬.
'অপারেশন বারবারোসা' কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ইরাক-ইরান যুদ্ধ
  2. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
  3. ২য় বিশ্বযুদ্ধ
  4. উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• অপারেশন বারবারোসা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ।
-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪১ সালে ২২ জুন জার্মানীর হিটলার 'অপারেশন বারবারোসা' নামে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন অভিযান শুরু করেছিলেন।
- এই অভিযানে ১৯টি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে।
- সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভিযানে।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্ব নাৎসিদের জয়রথ থামিয়ে অপারেশন বারবারোসাকে ব্যর্থ করে দেয়।
- স্ট্যালিনের নেতৃত্বে মাতৃভূমি রক্ষায় সোভিয়েত জনগণ জার্মানির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- জার্মানরা যেসব সোভিয়েত ভূখন্ড দখল করে, সেখানেও সোভিয়েত জনগণ গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
- স্ট্যালিন সোভিয়েত জনগণ ও সৈন্যদের দেশরক্ষায় ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করেন।
- মূলত সোভিয়েতদের প্রবল প্রতিরোধের ফলেই অপারেশন বারবারোসা ব্যর্থ হয়।

উৎস: Britannica.
৫২৭.
কোন মার্কিন রাষ্ট্রপতির সময়ে অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম পরিচালিত হয়?
  1. জো বাইডেন
  2. ডোনাল্ড ট্রাম্প
  3. বারাক ওবামা
  4. জর্জ ডব্লিউ. বুশ
ব্যাখ্যা
এন্ডুরিং ফ্রিডম:
- মার্কিন সরকার কর্তৃক আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।
- তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ।
- আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ অক্টোবর, ২০০১ আফগানিস্তানে আল-কায়েদা এবং তালেবান বাহিনীর বিরুদ্ধে আমেরিকান এবং ব্রিটিশ বোমা হামলার মাধ্যমে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
- এই অভিযানের শুরুতেই তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আল-কায়েদাকে দুর্বল করে দেয়া হয়।
- ২ মে ২০১১ সালে ইউএস নেভি সিল পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনের কম্পাউন্ডে অন্য একটি অভিযান শুরু করে এবং তাঁকে হত্যা করে।
- অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে শেষ হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - ইউএস নেভাল ওয়েবসাইট।
৫২৮.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতায় অনুতপ্ত হয়ে সম্রাট অশোক অহিংস নীতি গ্রহণ করেন?
  1. ক) গান্ধারের যুদ্ধ
  2. খ) কলিঙ্গ যুদ্ধ
  3. গ) কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
  4. ঘ) বন্দিবাসের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক সম্রাট অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এর আটবছর পর তিনি কলিঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। কলিঙ্গরাজ্য উড়িষ্যার উত্তরাংশে অবস্থিত।
- এই যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় সম্রাট অশোকের মনে তীব্র অনুশোচনার সৃ্ষ্টি হয়। এর ফলে তিনি পররাজ্য দখলের নীতি পরিহার করে সৌহার্দ্য ও মৈত্রীর অহিংস নীতি গ্রহণ করেন।
- একই সময়ে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং এর ফলে বৌদ্ধধর্ম তার হাত ধরে বিশ্বধর্মে পরিণত হয়।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫২৯.
কোন যুদ্ধে ধ্বংসলীলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘লীগ অব নেশনস’ এর জন্ম হয়?
  1. ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) তৃতীয় আরব ইসরায়েল যুদ্ধ
  4. ঘ) উপসাগরীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৮) ধ্বংসলীলা মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনীহা ও শান্তির জন্য আগ্রহী করে তোলে। ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্যারিস শান্তি আলোচনার মধ্য দিয়ে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘লীগ অব নেশনস’। উদ্দেশ্য ছিল সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অসামরিকীকরণের মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানো এবং সমঝোতা ও সালিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দ্ব্বন্দ্বের নিরসন করা। ত্রিশের দশকে লীগ অব নেশনস বিভিন্ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। সংস্থাটি থেকে সরে দাঁড়ায় জার্মানি, জাপান, ইতালি, স্পেনসহ আরো কিছু দেশ। সংস্থাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও এড়াতে পারেনি। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিশ্বশান্তি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৬ সালে সংস্থাটির বিলুপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এর স্থলাভিষিক্ত হয় জাতিসংঘ। রেফারেন্সঃ জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে ভেরিফাই করা।
৫৩০.
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কত সালে শুরু হয়?
  1. ২০২১ সালে
  2. ২০২২ সালে
  3. ২০২৩ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:
- ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া।
- মূলত, রাশিয়ার বলয় থেকে বেরিয়ে ইউক্রেনের পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের আকাঙক্ষা ঘিরে রূপ নেয় চূড়ান্ত সংঘাতে।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের সূত্রপাত করে।
- কিয়েভের দাবি যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৮ লাখেরও বেশি রুশ সেনা।
- আর মস্কো বলছে- অন্তত সাত লাখ ইউক্রেনীয় সেনার প্রাণ গেছে তাদের হামলায়।

উৎস: ব্রিটানিকা, বিবিসি।
৫৩১.
জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমার নাম কী?
  1. লিটলম্যান
  2. ফ্যাটবয়
  3. লিটলবয়
  4. ফ্যাটম্যান
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা শহরে ‘লিটলবয়’ নামে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যা ছিল পৃথিবীতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার।
- তার তিনদিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাটম্যান’ নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
- পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তায় জাপানে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি শহর দুটি বসবাসের পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সূত্র: হিস্টোরি ডটকম।
৫৩২.
'অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম' কোন দেশে পরিচালনা করা হয়?
  1. ইরাক
  2. পাকিস্তান
  3. আফগানিস্তান
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
• অপারেশন এনডিউরিং  ফ্রিডম:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।
- তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ।
- আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ অক্টোবর, ২০০১ আফগানিস্তানে আল-কায়েদা এবং তালেবান বাহিনীর বিরুদ্ধে আমেরিকান এবং ব্রিটিশ বোমা হামলার মাধ্যমে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।
- এই অভিযানের শুরুতেই তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আল-কায়েদাকে দুর্বল করে দেয়া হয়।
- ২ মে ২০১১ সালে ইউএস নেভি সিল পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনের কম্পাউন্ডে অন্য একটি অভিযান শুরু করে এবং তাঁকে হত্যা করে।
- অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে শেষ হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
• অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন:
- অপারেশন ওডিসি ডন: লিবিয়া আক্রমণ (২০১১ সাল)। 
- অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম: ইরাকে বহুজাতিক বাহিনীর আক্রমণ (১৯৯১ সাল)। 
- অপারেশন ডেজার্ট ফক্স: ১৯৯৮ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর ইরাক আক্রমণ।

উৎস: ইউএস নেভাল ওয়েবসাইট।
৫৩৩.
'Steam engine' is an invention of which industrial revolution?
  1. 1st Industrial Revolution
  2. 2nd Industrial Revolution
  3. 3rd Industrial Revolution
  4. 4th Industrial Revolution
  5. None of above
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:
- বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর।
- বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে।
- এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে।

⇒ ১ম শিল্প বিপ্লব:
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।

⇒ ২য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৮৭০ সাল।
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধিত হয়।
- এই সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, টেলিগ্রাফ, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, পানিসরবরাহ ইত্যাদির আবিষ্কার হয়।
- এসবের ফলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও জীবনযাপন এর মান বৃদ্ধি পায়।
- বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হতে থাকে যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করে।

⇒ ৩য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট।
- শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব।
- তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
- ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

⇒ ৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।
- যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উৎস: Britannica.
৫৩৪.
লিপজিগের যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ানকে কোন দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়?
  1. ক) সেন্ট হেলেনা
  2. খ) এলবা
  3. গ) রোবেন
  4. ঘ) পেরিজিল
ব্যাখ্যা
১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের ষষ্ঠ কোয়ালিশিনের কাছে পরাজিত হন নেপোলিয়ান। একই বছর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্স দখল করে নেয় কোয়ালিশন। পরবর্তীতে ১৮১৪ সালে নেপোলিয়ানকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
১৮১৫ সালের ওয়াটার লু যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয় হয় ও তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
উৎসঃ worldatlas.com
৫৩৫.
'স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব' স্লোগানটির সাথে জড়িয়ে আছে -
  1. অক্টোবর বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  4. শিল্প বিপ্লব
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান: স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- বিপ্লব সংঘটিত হয়: ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সাল।
- বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে এই বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৩৬.
ভেলভেট বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু
  3. কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  4. রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ভেলভেট বিপ্লব:
- বিপ্লবের নাম: ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution)।
- অন্য নাম: Gentle Revolution।
- সংঘটনকাল: ১৭ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৯।
- সংঘটন স্থান: চেকোস্লোভাকিয়া (বর্তমানে: চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া)।
- বিপ্লবের কারণ: কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি ও সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার জন্য ছাত্র-জনতার শান্তিপুর্ণ আন্দোলন।
- ফলাফল: কমিউনিস্ট শাসনের পতন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা।
 
উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।

৫৩৭.
চাগাই, লুপনোর ও পোখরানের মধ্যে সাদৃশ্য কোথায়?
  1. ক) আণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান
  2. খ) আণবিক অস্ত্র মজুদের স্থান
  3. গ) বোমারু বিমান নির্মাণ কেন্দ্র
  4. ঘ) পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

- চাগাই, লুপনোর ও পোখরান আণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান।
- পোখরান ভারতে অবস্থিত।
- চাগাই পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অবস্থিত।
- লুপনোর চীনের আণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র।

উৎসঃ NDTV, ডন ও শিনহুয়া রিপোর্ট।

৫৩৮.
তারকা যুদ্ধ নামে খ্যাত Strategic Defense Initiative এর প্রস্তাবক ছিলেন -
  1. ক) রিচার্ড নিক্সন
  2. খ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
  3. গ) রোনাল্ড রিগ্যান
  4. ঘ) জর্জ ডব্লিউ বুশ
ব্যাখ্যা
তারকা যুদ্ধ নামে খ্যাত Strategic Defense Initiative এর প্রস্তাবক ছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান। 
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রবর্তিত Strategic Defense Initiative (SDI) এর মূল বিষয়বস্তু ছিল পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত। 
 
Strategic Defense Initiative (SDI), byname Star Wars, proposed U.S. strategic defensive system against potential nuclear attacks—as originally conceived, from the Soviet Union.
- The SDI was first proposed by President Ronald Reagan in a nationwide television address on March 23, 1983.
- Because parts of the defensive system that Reagan advocated would be based in space, the proposed system was dubbed “Star Wars,” after the space weaponry of a popular motion picture of the same name.

Source: Britannica.com
৫৩৯.
সম্প্রতি ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর' এর জবাবে পাকিস্তান পরিচালিত অভিযানের নাম কী? [মে, ২০২৫]
  1. অপারেশন তহাফুজ
  2. অপারেশন সাফাই
  3. অপারেশন রেডলাইন
  4. অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস
ব্যাখ্যা
অপারেশন সিঁদুর:
- ২২ এপ্রিল, ২০২৫ এ ভারত-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন।
- এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে "অপারেশন সিঁদুর" নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত।
- ২৬ জনের সবাই পুরুষ ছিলেন এবং এদের মধ্যে কয়েকজন সদ্যবিবাহিতও ছিলেন।
- এই প্রেক্ষাপটেই এই অভিযানের নাম 'সিন্দুর' রাখা হয়েছে এবং একে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- ভারতের অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
- এতে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার প্রায় ১০০ সদস্য নিহত হয়েছে বলে ভারতের দাবি।
- ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর' এর জবাবে পাকিস্তান পরিচালনা করে অপারেশন 'বুনইয়ান-উন-মারসুস'।
- এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ১০ মে, ২০২৫ সালে 'বুনইয়ান-উন-মারসুস' নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে।
- বুনইয়ান-উন-মারসুসের আক্ষরিক অর্থ ‘লোহার প্রাচীর’।
- ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এ অভিযানে ভারতের অন্তত ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
- ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলার রিপোর্ট।
৫৪০.
'প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্য' বর্তমানে কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিলো জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস, প্রথমপত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে বিজয়ী হয় -
  1. অটোমান সাম্রাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. ব্রিটেন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্রিমিয়ার যুদ্ধ:
- ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলে।
- রাশিয়ার সঙ্গে এই যুদ্ধ চলে তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যের মিত্রশক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সারডিনিয়ার।
- ১৮৫৩ সালে ইউরোপের তুর্কি এলাকায় রাশিয়া আক্রমণ চালালে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।
- রাশিয়া তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত দারদানেলিস প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ জাহাজ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কের খ্রিস্টানদের রক্ষার অজুহাত তুলে এই যুদ্ধ শুরু করে।
- ব্রিটেন ও ফ্রান্স তুরস্কের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
- প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর ১৮৫৬ সালে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- এই যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয়। 
- যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স, ব্রিটেন ও অটোমান সাম্রাজ্য।

উৎস: Britannica.
৫৪২.
ইতিহাসের বিখ্যাত ছয় দিনের যুদ্ধের প্রতিপক্ষ ছিলেন-
  1. যুক্তরাষ্ট্র - জাপান
  2. যুক্তরাষ্ট্র - জার্মান
  3. ফ্রান্স - রাশিয়া
  4. আরব - ইসরায়েল
ব্যাখ্যা
ছয় দিনের যুদ্ধ বা তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ:
- মুসলিম রাষ্ট্র ফিলিস্তিনে অনৈতিকভাবে ও জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে ইসরায়েলকে চাপিয়ে দেওয়ার পর থেকে আরব দেশগুলোর সাথে ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার।
- সেগুলোর মধ্যে ১৯৬৭ সালের জুন মাসের যুদ্ধটি অন্যতম।
- ইতিহাসে এ যুদ্ধ জুন যুদ্ধ বা তৃতীয় আরব ইসরায়েল যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৭ সালের জুন মাসে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক তৃতীয় আরব- ইসরায়েল যুদ্ধ। 
- জুনের ৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসান ঘটে ১০ জুন।
- ৬ দিন ব্যাপী বিদ্যমান থাকায় একে ৬ দিনের যুদ্ধও বলা হয়।
- যুদ্ধের দুই পক্ষ ছিল ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বের তিন দেশ।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৫৪৩.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ শক্তির দেশ কোনটি?
  1. ক) বুলগেরিয়া
  2. খ) জাপান
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরী কর্তৃক সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় বা অক্ষ শক্তির দেশ
• জার্মানি (প্রুশিয়া সাম্রাজ্য), 
• তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য), 
• অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য ও 
•‍ বুলগেরিয়া, 
• হাঙ্গেরী। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির দেশ
• ফ্রান্স, 
• ব্রিটেন, 
• জাপান, 
• যুক্তরাষ্ট্র, 
• ইতালি, 
• সার্বিয়া, 
• মন্টিনিগ্রো প্রভৃতি। 
- ২৮ জুন ১৯১৯ ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানি এবং মিত্রপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 
- এ চুক্তি অনুযায়ী জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত করা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা, হিস্টোরি ডটকম এবং ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৪.
"অপারেশন রাইজিং লায়ন" কোন দেশে পরিচালিত হয়?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. সিরিয়া
  4. ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

‘অপারেশন রাইজিং লায়ন':
- ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো সামরিক অভিযানটির নাম 'অপারেশন রাইজিং লায়ন'।
- 'রাইজিং লায়ন' নামটি বাইবেলের একটি অনুচ্ছেদে সিংহের প্রতীকী পরাক্রমকে তুলে ধরে, ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
- ১৩ জুন ২০২৫-এর ভোরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' পরিচালনা করে।
- ইসরায়েল প্রথমে 'ড্রোন' দ্বারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা, এরপর প্রধান পারমাণবিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা করে।

উল্লেখ্য:
- এই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
- এই হামলার নাম দেয়া হয় 'অপারেশন টু প্রমিজ থ্রি’।
- ইরান পাল্টা জবাবে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

৫৪৫.
জেসমিন বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. তিউনিসিয়া
  2. চেকোস্লোভাকিয়া
  3. জর্জিয়া
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা

জেসমিন বিপ্লব:
- জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- প্রথমে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়।
- পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়।
- এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের মোট ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক। পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন।  নভেম্বরে ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ মনসুর আল হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক গাদ্দাফির পতন ঘটেছে। এ ছাড়া আলজেরিয়া, বাহরাইন, ইরান, মরক্কোয় বড় ধরনের বিদ্রোহ হয়। তবে লেবানন, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব, সুদান এবং পশ্চিম সাহারায় বড় ধরনের না হলেও বিক্ষোভ দেখা যায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৫৪৬.
'ভ্লাদিমির লেনিন' নিম্নের কোন বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন?
  1. ক) ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  2. খ) নভেম্বর বিপ্লব
  3. গ) জানুয়ারি বিপ্লব
  4. ঘ) অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে “১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব” (Russian Revolution of 1917) বলা হয়।

• ফেব্রুয়ারি বিপ্লবঃ
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে - রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন - আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লবঃ
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে - রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন - ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎসঃ হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম
৫৪৭.
১৯৭৯ সালের ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন কে?
  1. শাহ পাহলভী
  2. আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি
  3. আয়াতুল্লাহ দাউদ খান
  4. ইব্রাহিম রাইসি
ব্যাখ্যা
ইরানের ইসলামিক বিপ্লব:
- এই বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালে। 
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
- বিপ্লবের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রে আবির্ভূত হয় ইরান।
- শেষ রাজা ছিলেন শাহ পাহলভী।
- ইরানের বিপ্লবের নায়ক ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।
- তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। 
 
উৎস: Britannica.
৫৪৮.
কত সালে ফরাসি বিপ্লব শেষ হয়?
  1. ১৭৯৮
  2. ১৮৮৯
  3. ১৭৯২
  4. ১৭৯৯
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯ – ১৭৯৯):
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। 
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লব শেষ হয়- ১৭৯৯ সালে।

উৎস: Britannica.

৫৪৯.
'পিস স্ট্যাচু' কোথায় অবস্থিত?
  1. নাগাসাকি
  2. নিউইয়র্ক
  3. হো চি মিন সিটি
  4. হিরোশিমা
ব্যাখ্যা
পিস স্ট্যাচু: 

• অবস্থান: জাপানের নাগাসাকির শান্তি পার্কে।
• নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে 'শান্তি পার্ক' স্থাপন করা হয়।
• ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানে ২টি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
• একটি হিরোশিমায় 'লিটল বয়' ৬ আগস্ট, ১৯৪৫।
• অপরটি নাগাসাকিতে 'ফ্যাট ম্যান' ৯ আগস্ট ১৯৪৫।
• ১৯৪০ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
• জাপান কর্তৃক পার্ল হারবর আক্রমণের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে সরাসরি ২য় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
• অন্যদিকে, স্ট্যাচু অব পিস (Statue of Peace) অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে জাপানি দূতাবাসের সামনে।
• করনারস্টোন অব পিসের অবস্থান – জাপানের ওকিনাওয়ায়।
• ওকিনাওয়ার যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে নির্মাণ ।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং Live Mcq লেকচার।
৫৫০.
মধ্যপ্রাচ্যে কখন প্রথম তেলঅস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
তেল অস্ত্র:
- ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে বিমানযোগে অস্ত্র পাঠাতে শুরু করলো তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো পাল্টা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল তেলকেই।
- তারা তখন তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
- তারা ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তাদানকারী সব দেশে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
- ১৯৭৩ সালে ইরাকের তেল সংক্রান্ত ফেডারেল আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন ড. ফাদিল চালাবি।
- তিনি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো একতরফাভাবে তেলের দাম নির্ধারণ করবে।
- এতে তেল কোম্পানিগুলোর কোন ভুমিকাই থাকবে না।

⇒ তেল অবরোধ:
- বড় বড় তেলক্ষেত্রগুলো ছিল সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত এসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে।
- কিন্তু সেই তেল উত্তোলন করছিল সেই বড় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো, তেলের দামও নির্ধারণ করছিল তারাই।
- আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে বিমানযোগে অস্ত্র পাঠাতে শুরু করলো তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো পাল্টা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল তেলকেই।
- তারা কমিয়ে দিল তেলের উৎপাদন, বাড়িয়ে দিল তেলের দাম, আর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তাদানকারী সব দেশে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিল।
- ১৯৭৩ সালে তেল রপ্তানিকারী আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু শিল্পোন্নত দেশের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
- তারা ঠিক করলো, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোই তেলের দাম নির্ধারণ করবে।
- আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
- এর পরিণামে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ।
- এর সুদুরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে।
- এভাবেই আরবরা তেল অবরোধ করে।

উৎস: i) World Atlas.
ii) BBC.
৫৫১.
Against which country was 'Operation Desert Storm' conducted?
  1. USA
  2. Afghanistan
  3. Palestine
  4. Iran
  5. None of above
ব্যাখ্যা
অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম চালিত হয় ইরাকের বিরুদ্ধে।

অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম:

- 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইরাক এবং ৩৪টি দেশের জাতিসংঘ অনুমোদিত যৌথ বাহিনীর মধ্যে।
- ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন এবং কুয়েতি ভূ-খন্ড দখলের প্রেক্ষিতে ইরাক বাহিনীর হাত থেকে কুয়েতকে মুক্ত করাই ছিল সে যুদ্ধের উদ্দেশ্য।
- ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক কর্তৃক কুয়েত আক্রান্ত হলে ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকের উপর বিমান হামলা শুরু করে।
- ইরাকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধই ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত।
- বহুজাতিক বাহিনীর আক্রমণের মুখে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরাকি বাহিনী পরাজয় বরণ করে।
- এই যুদ্ধ প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
৫৫২.
স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান দুই শক্তির মধ্যে কোন দুটি দেশ ছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান
  3. জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ফ্রান্স ও জার্মানি
ব্যাখ্যা
স্নায়ুযুদ্ধ:
- স্নায়ুযুদ্ধ বলতে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বোঝায়না।
- 'যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব অথচ যুদ্ধ নয়' এ অবস্থাকে রসিকজনেরা বলেন, ঠান্ডাযুদ্ধ। এর কেতাবি নাম স্নায়ুযুদ্ধ।
- ১৯৪০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৮০ দশকের শেষ অব্দি চলমান এই যুদ্ধ ইতিহাসে স্নায়ু যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৪৫ সালে।
- স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান দুই শক্তির মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধ অবসান হয়েছিলো ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে।
- সোভিয়েত ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া শক্ত অবস্থান নিয়েই টিকে আছে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে।

⇒ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তিতে পরিণত হয়।
- এ সময়ে মার্শাল প্ল্যানের (১৯৪৭) মাধ্যমে ইউরোপ পুনর্গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাধ্যমে দুটো বিপরীত বৈশ্বিক শক্তি ও আদর্শের বিকাশ ঘটে।
- পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিম ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- এই দুই শিবিরেই গঠিত হয়েছিল দুটি সামরিক জোট।
- একটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো), অন্যটি ওয়ারশ জোট।
- পুরো স্নায়ুযুদ্ধের কালজুড়ে মধ্য ইউরোপের উভয় পক্ষের দেশগুলো পরস্পরের দিকে তাক করে রেখেছিল পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
৫৫৩.
ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়- 
  1. ১৭৮৯ সালে 
  2. ১৭৯১ সালে 
  3. ১৭৯৫ সালে 
  4. ১৮০০ সালে 
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব ইউরোপ ও পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।
- এর মূল স্লোগান ছিল “স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী”।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ ও পতনের মধ্য দিয়ে এই বিপ্লবের সূচনা হয়
- খাদ্যের অভাব ও দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিবাদে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ এতে অংশ নেয়।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়।
- বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- লুই নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের প্রতিনিধি ছিলেন।
- বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে দীর্ঘদিনের নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়।
- এবং তার পরিবর্তে প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। 
- ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্স নয়—সমগ্র ইউরোপ ও আধুনিক বিশ্বের রাজনৈতিক চিন্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লবের পেছনে দার্শনিকদের বড় ভূমিকা ছিল।
- রুশো ও ভলতেয়ার তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও যুক্তিবাদের ধারণা ছড়িয়ে দিয়ে বিপ্লবের মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তোলেন।
- এই বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর উত্থান ঘটে। 
- এজন্য তাঁকে অনেক সময় “ফরাসি বিপ্লবের শিশু” বলা হয়।   
- এই বিপ্লবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চের ওপর, যাকে তার গোঁড়ামি ত্যাগ করে নিজেকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করতে বাধ্য হতে হয়।

৫৫৪.
'অপারেশন ওভারলর্ড’ অভিযানের মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জর্জ এস প্যাটন
  2. বার্নার্ড মন্টগোমারি
  3. ডগলাস ম্যাকআর্থার
  4. ডি আইজেনহাওয়ার
ব্যাখ্যা
• অপারেশন ওভারলর্ড (Operation Overlord):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত নরম্যান্ডি যুদ্ধের সাংকেতিক নাম ছিল- অপারেশন ওভারলর্ড।
- অপারেশন ওভারলর্ড এর আওতায় জার্মানির দখল করা এলাকায় মিত্র বাহিনীর হামলার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই অভিযানের দায়িত্ব ছিলেন মার্কিন জেনারেল ডি আইজেনহাওয়ার।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অপারেশন:
• অপারেশন গেরোনিমো (Operation Geronimo):
- আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যে গোপন অপারেশনটি পরিচালিত হয়েছিল, তার কোড নাম 'অপারেশন গেরোনিমো'।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সি সিল্ক'-এর সদস্যরা ২০১১ সালের ২ জুন ভোরবেলায় পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের একটি ভবনে এই অপারেশনটি পরিচালনা করে।
- ওই ভবনে বিন লাদেনকে পাওয়া যায় এবং তাকে হত্যা করা হয়।
- পরে তার মৃতদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়।
- দীর্ঘ ১০ বছর মার্কিন গোয়েন্দারা তাকে খুঁজছিল।

• অপারেশন ডিপ ফ্রিজ (Operation Deep Freeze-ODF):
- এন্টারটিকা মহাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব অভিযান পরিচালিত করেছে তা ‘অপারেশন ডিপ ফ্রিজ' নামে পরিচিত।

• অপারেশন অডিসি ডন (Operation Odyssey Dawn):
- লিবিয়ায় মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক মিলিটারি অপারেশনস-এর কোড নাম অপারেশন অডিসি ডন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যই ছিল এই মিলিটারি অপারেশনস্।

• অপারেশন ওভারলর্ড (Operation Overlord):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত নরম্যান্ডি যুদ্ধের সাংকেতিক নাম ছিল- অপারেশন ওভারলর্ড।

উৎস: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ - তারেক শামসুর রেহমান এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৫৫৫.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল কোন দেশটি?
  1. স্পেন
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. জাপান
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
-  ফ্রান্স আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল।
- আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৩ বছর (১৭৭৫-১৭৮৩) স্থায়ী হয়।
- আমেরিকা ও ফরাসি সৈন্য দ্বারা ব্রিটিশ সেনাপতি কর্নওয়ালিস অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ১৭৮১ সালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন ।
- ১৭৮২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব গৃহীত হয় ।
- ১৭৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসানের জন্য চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা প্যারিস শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫৫৬.
‘অরেঞ্জ বিপ্লব' কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
অরেঞ্জ বিপ্লব:
- ‘অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ঘটনা।
- এটি সংঘটিত হয়েছিল ২০০৪ সালে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ আন্দোলনের সুত্রপাত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৫৭.
আরব বসন্ত কোন বিপ্লবের ফলাফল?
  1. ক) জেসমিন বিপ্লব
  2. খ) টিউলিপ বিপ্লব
  3. গ) রোজ বিপ্লব
  4. ঘ) অরেঞ্জ বিপ্লব
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত জেসমিন বিপ্লবের ফলাফল।
জেসমিন বিপ্লব তিউনিসিয়ায় সংঘটিত হওয়া একটি জনপ্রিয় বিপ্লব।
- এতে দুর্নীতি, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক দমন -পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- জিন আল-আবিদাইন বেন আলী ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করবেন।
- পরবর্তীতে এই গণবিক্ষোভ মিসর, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, বাহরাইন ও মরক্কোতে ছড়িয়ে পড়ে। লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে গণআন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
- ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘বোয়াজিজি’ নামে এক ফলবিক্রেতা কর্তৃক নিজ শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তিউনেশিয়ায় আরব বসন্তের সূত্রপাত ঘটে।
এর ফলে ১৪ মার্চ ২০১১ আরব বিশ্বে সর্বপ্রথম তিউনেশিয়ার স্বৈরশাসক ‘জাইন এল বেন আলী’ এর পতন ঘটে।
- গণমাধ্যমে "জেসমিন বিপ্লব" নামে পরিচিত হওয়া বিদ্রোহের সাফল্য মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে একই ধরনের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা
৫৫৮.
প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৭৭–১৮৭৮ সালে
  2. ১৮৮২–১৮৮৩ সালে
  3. ১৮৯৪–১৮৯৫ সালে
  4. ১৯০৪–১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ (First Sino-Japanese War):
- প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮৯৪–১৮৯৫ সালে।

• প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ ১৮৯৪ সালের ২৫ জুলাই শুরু হয়ে ১৮৯৫ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল।
- কোরিয়া অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চীনের কিং রাজবংশ এবং জাপান সাম্রাজ্যের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 
- দীর্ঘ প্রায় এক বছর স্থায়ী এই যুদ্ধে জাপানের বিজয় হয় এবং শিমোনোসেকি চুক্তির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। 

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ ১৯৩৭ সালে শুরু হয়ে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চলেছিল। 

উৎস: Britannica.

৫৫৯.
কত সালে আরব বসন্ত শুরু হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত (Arab Spring):
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায় আরব বসন্তের সূচনা হয়েছিল।
- তাই তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম ২০১১ সালে প্রথম মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত গণআন্দোলনকে “আরব বসন্ত” ( Arab Spring ) আখ্যা দেয়।
- ২০১৩ সালের দিকে এসে আরব বসন্তের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
- আরব বসন্তের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে যেমন তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মরক্কো, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে - ক্ষমতা বদল বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি পরিবর্তন ঘটেছে।
- এই তথাকথিত আরব বসন্তের জেরে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৬০.
রুয়ান্ডা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কত সালে?
  1. ১৯৯৩ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

রুয়ান্ডা গণহত্যা:
- ১৯৯৪ সালের এপ্রিল-জুলাই মাসে রুয়ান্ডা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।
- মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় আট লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল সংখ্যালঘু তুতসি সম্প্রদায়ের।
- গণহত্যা পরিচালনাকারীরা ছিল হুতু সম্প্রদায়ের।
- গণহত্যার প্রভাবে রুয়ান্ডায় যেসব পরিবর্তন এসেছিল তার অন্যতম একটি হলো দেশটিতে ইসলাম ধর্মের উত্থান।
- রুয়ান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানাকে বহনকারী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূত্রপাত হয়েছিল এই গণহত্যার।
- প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংখ্যাগুরু হুতু সম্প্রদায়ের।
- প্রেসিডেন্ট হাবিয়ারিমানাকে হত্যার পেছনে তুতসিদের হাত আছে বলে দোষারোপ করেছিল হুতুরা।
- আর তারপরই হুতু চরমপন্থিরা তুতসিদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের নির্বিচারে হত্যা করে।
- মধ্যপন্থি কিছু হুতু যারা তুতসিদের কাউকে কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন তারাও হত্যার শিকার হন।
- গণহত্যার পর মূলত ক্ষমতা নেয় তুতসি বাহিনী।

তথ্যসূত্র: Britannica.com

৫৬১.
বলশেভিক বিপ্লবের তাত্ত্বিক উন্নয়ন ঘটান কে?
  1. ক) ভি.আই লেনিন
  2. খ) চার্লস্‌ ওয়েন
  3. গ) কার্ল মার্ক্স
  4. ঘ) মিখাইল বাকুনিন
ব্যাখ্যা
বলশেভিক বিপ্লবের তাত্ত্বিক উন্নয়নঃ অনেক সীমাবদ্ধতা হেতু তাত্ত্বিক পক্ষে বিপ্লবের পদ্ধতিগত দিক ও পরিসীমা নির্ধারণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে প্রাথমিক দিকের সমাজতন্ত্রীদের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রী বলা হয়। তাদের সমাজতান্ত্রিক মতবাদের নানা ক্ষেত্রে বাস্তব ও পরিপূর্ণ রূপরেখা, যৌক্তিক প্রয়োগ পদ্ধতি এবং সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে সফলতা অর্জনের পথ পরিক্রমা নিশ্চিত করেন ''কার্ল মার্কস''। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক খ্যাত কার্ল মার্কসের নির্দেশিত পথকে সামনে রেখেই ১৯ শতকের শেষদিকে ইউরোপের নানা দেশে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ধরনের সমাজতান্ত্রিক দল। বলতে গেলে রাশিয়ার বলশেভিক পার্টি তেমনিভাবেই গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল। এক্ষেত্রে লেনিন মার্কসের নির্দেশিত পথে কাজ করেন বলেই সফলতার মুখ দেখে বলশেভিক আন্দোলন।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (২য় পত্র - উন্মুক্ত) বোর্ড বই।
৫৬২.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ‘Bay of Pigs Invasion’ অভিযানের লক্ষ্য ছিল কোন শাসককে উৎখাত করা? 
  1. সাদ্দাম হোসেন
  2. হুগো চাভেজ
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. হোসনি মোবারক
ব্যাখ্যা

• Bay of Pigs Invasion: 
- Bay of Pigs Invasion হলো ১৯৬১ সালের ১৭-১৯ এপ্রিল কিউবার দক্ষিণ উপকূলে (Bay of Pigs-এ) ঘটে যাওয়া একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযান।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের CIA-নেতৃত্বাধীন এবং প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির অনুমোদিত অপারেশন ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর কমিউনিস্ট সরকারকে উচ্ছেদ করা।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর কিউবা মার্কিন-বিরোধী হয়ে ওঠে।
- কাস্ত্রো মার্কিন কোম্পানির সম্পত্তি জাতীয়করণ করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়।
- প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সময় ১৯৬০ সালে CIA অ্যান্টি-কাস্ত্রো অপারেশন শুরু করে।
- কেনেডি ক্ষমতায় আসার পর এটি অনুমোদন করেন। 
- আক্রমণকারী বাহিনী ছিল প্রায় ১,৪০০ জন নির্বাসিত কিউবান নাগরিক, যাদের CIA গুয়াতেমালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। 
- তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা প্রশিক্ষিত এবং মার্কিন সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত ছিল।
- আক্রমণকারী বাহিনী কাস্ত্রোর সেনাদের দ্বারা পরাজিত হয়।
- এই ঘটনা অক্টোবর ১৯৬২-এর কিউবা সংকটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৫৬৩.
নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার নাম কী?
  1. ডেস্ট্রয়ার
  2. প্যাট্রিয়ট
  3. লিটল বয়
  4. ফ্যাট ম্যান
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক বোমা লিটল বয় এবং ফ্যাটম্যান:

⇒ লিটল বয়:
- ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী হিরোশিমা শহরের ওপর লিটল বয় নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- এটি ছিল বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র, যা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।
- বিস্ফোরণের সময় প্রায় ৭০,০০০-৮০,০০০ মানুষ তাৎক্ষণিক মারা যায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও হাজার হাজার মানুষ তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে মৃত্যুবরণ করে।

⇒ ফ্যাটম্যান:
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫, তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্র নাগাসাকি শহরের ওপর ফ্যাটম্যান নামক দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- এতে প্রায় ৪০,০০০-৭৫,০০০ মানুষ মারা যায় এবং অনেক মানুষ আহত ও তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

⇒ লিটল বয় ও ফ্যাটম্যানের প্রভাব:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এই বোমাগুলোর ব্যবহারে জাপান আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
- এটি প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র ব্যবহারের নজির স্থাপন করে।
- মানব ইতিহাসে এই ঘটনাগুলো ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী, যা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে।
- পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের আদেশ দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান।
- লিটল বয় এবং ফ্যাটম্যান পারমাণবিক অস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতার নজির স্থাপন করেছে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৫৬৪.
ফরাসি বিপ্লব প্রায় কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় ৪ বছর
  2. প্রায় ৫ বছর
  3. প্রায় ৮ বছর
  4. প্রায় ১০ বছর
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লবের সময়কাল: ১৭৮৯-১৭৯৯ সাল।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

⇒ ১৭৯৯ সালে, নেপোলিয়নের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, বিপ্লবী ধারার শেষ হয় এবং একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা শুরু হয়, যার মধ্যে শাসন ব্যবস্থা বেশ কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পায়।

উৎস: i) History.com
ii) Office of the Historian (.gov). [link]
৫৬৫.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. স্ট্যানলি বাল্ডউইন
  2. অ্যান্থনি ইডেন
  3. হ্যারল্ড উইলসন
  4. উইনস্টন চার্চিল
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।

৫৬৬.
রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায় কোনটি?
  1. জুলাই বিপ্লব
  2. আগস্ট বিপ্লব
  3. সেপ্টেম্বর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণে।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com

৫৬৭.
চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয় কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৩৯ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
• গণচীন:
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৬৮.
'হায়াত তাহরির আল-শাম' (এইচটিএস) কোন দেশে তৎপর রয়েছে?
  1. কেনিয়া
  2. সিরিয়া
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
তাহরির আল-শাম:
- সিরিয়ার শীর্ষ বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)।
- হায়াত তাহরির আল-শামের গঠিত হয় ২০১৭ সালে, ইদলিব শহরে।
- আলেপ্পোর পশ্চিশাঞ্চলীয় গ্রামাঞ্চল, লাত্তইকয়া পর্বতমালা ও উত্তর পশ্চিম হামার আল-গাব সমভূমি অন্তর্ভুক্ত।
- গঠিত হওয়ার পর থেকে তাদের একমাত্র ব্রত ‘বাশার সরকারের উৎখাত’। 
- আইন আল-বায়দা ও নবী ইউনূসে সফলভাবে দুটি অপারেশন করেছে এইচটিএস।
- সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এইচটিএস-এর ২৩ জন যোদ্ধার হত্যাকাণ্ডের নথিভুক্ত করে।

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৫৬৯.
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে তুরস্ককে কোন দেশ সমর্থন করে?
  1. ব্রিটেন, জাপান ও চীন
  2. ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জাপান
  3. ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি
  4. ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সার্দিনিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে তুরস্ককে সমর্থন করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সার্দিনিয়া।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ:
- ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলে।
- রাশিয়ার সঙ্গে এই যুদ্ধ চলে তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যের মিত্রশক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সার্দিনিয়া।
- ১৮৫৩ সালে ইউরোপের তুর্কি এলাকায় রাশিয়া আক্রমণ চালালে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।

উল্লেখ্য,
- রাশিয়া তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত দারদানেলিস প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ জাহাজ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কের খ্রিস্টানদের রক্ষার অজুহাত তুলে এই যুদ্ধ শুরু করে।
- ব্রিটেন ও ফ্রান্স তুরস্কের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
- সার্দিনিয়া মিত্রজোটে যোগ না দেয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ ১৮৫৫ সালের বসন্তকাল অবধি বন্ধ থাকে।
- এরপর মিত্রবাহিনী সেভাস্তোপোল দখল করে নেয়।
- প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর ১৮৫৬ সালে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- এই যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয়।
- যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স, ব্রিটেন ও অটোমান সাম্রাজ্য।

এছাড়াও,
- যুদ্ধের চেয়ে রোগে ভুগেই এ যুদ্ধে বেশি সৈন্যের ক্ষতি হয়।
- অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা ও সৈন্যদের দুরবস্থার মধ্যে সেবার আলো হাতে নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ান ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।
- তিনি তাদের জন্য যথাযথ হাসপাতাল গড়ে তোলেন।

উৎস: Britannica.
৫৭০.
বাস্তিল দূর্গ পতন হয়-
  1. ১৮ জুলাই, ১৭৮৯
  2. ১৪ জুলাই, ১৭৮৯
  3. ১৭ সেপ্টম্বর, ১৭৭৯
  4. ২৫ নভেম্বর, ১৮৯১
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দূর্গ পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব দশ বছর স্থায়ি হয়েছিল।
- এই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এ সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
- লেখনীর মাধ্যমে বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এই বিপ্লবের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- এবং বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে তিনি ফ্রান্সের একজন প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। 

উৎস: i) ইতিহাস-৪, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কালের কণ্ঠ।
৫৭১.
ভিয়েতনামকে ১৭° অক্ষরেখা বরাবর উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করা হয় কোন চুক্তির অধীনে? 
  1. ভার্সাই চুক্তি
  2. টোকিও চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. হেগ চুক্তি
ব্যাখ্যা

- জেনেভা চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনামকে ১৭ ডিগ্রি অক্ষরেখা বরাবর বিভক্ত করা হয়।

• জেনেভা চুক্তি (১৯৫৪):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধ।
- ভিয়েতনামের মুক্তি সংগ্রামের দুটি পর্ব: প্রথমটি ফরাসি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম এবং দ্বিতীয়টি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম।
- বামপন্থী নেতা হো-চি-মিন এর নেতৃত্বে প্রবল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম গড়ে ওঠে।
- হো-চি-মিন এর ভিয়েতমিন বাহিনীর কাছে ফরাসি বাহিনী পরাজিত হয়।
- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে দিয়েন-বিয়েন-ফু এর যুদ্ধে ফরাসি বাহিনী প্রধান জেনারেল গিয়াপ এর চূড়ান্ত পরাজয় এবং আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্বের অবসান ঘটে।
- এই প্রেক্ষিতে ২১ জুলাই, ১৯৫৪-এ জেনেভায় আহত এক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে দু'পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১৭⁰ অক্ষরেখা বরাবর ভিয়েতনামকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- উত্তর ভিয়েতনামে থাকবে হো চি মিন এর ভিয়েতমিন বাহিনীর কর্তৃত্ব।
- দক্ষিণ ভিয়েতনামে আপাতত ফরাসি বাহিনী থাকবে।

অন্যদিকে,
- পারিস্য শান্তি চুক্তির উদ্দেশ্য: ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো। এবং এর মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৫৭২.
নিম্নের কোন যুদ্ধটি 'সুয়েজ যুদ্ধ' নামে পরিচিত?
  1. ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  2. ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  3. ৩য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  4. ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- মিশর সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে সুয়েজ খাল সংকট তৈরি হয়।
- ফলে ১৯৫৬ সালের ২৯ অক্টোবর - ৬ নভেম্বর ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধের ফলাফল: সুয়েজ খালের ওপর পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসেরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। 
- এটি 'সুয়েজ যুদ্ধ' নামেও পরিচিত।

উৎস: i) Al Jazeera. [link]
ii) Britannica.
৫৭৩.
ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়-
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮৮ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- ভেলভেট বিপ্লব: সংঘটিত হয় চেকোগ্লোভাকিয়ায় ১৯৮৯ সালে।
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৭৪.
কোন বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে?
  1. অরেঞ্জ বিপ্লব
  2. ফরাসি বিপ্লব
  3. রুশ বিপ্লব
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৭৫.
কোনটি আবিষ্কারের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়?
  1. বিদ্যুৎ
  2. কম্পিউটার
  3. সেমি কনডাক্টর
  4. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:
- বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর।
- বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে।

⇒ ১ম শিল্প বিপ্লব:
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।

⇒ ২য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৮৭০ সাল।
- এই সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, টেলিগ্রাফ, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, পানিসরবরাহ ইত্যাদির আবিষ্কার হয়। এসবের ফলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও জীবনযাপন এর মান বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হতে থাকে যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করে।

⇒ ৩য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট।
- শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

⇒ ৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।
- যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

উৎস: Britannica.
৫৭৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিতে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. সেভার্স চুক্তি
  2. লুজেন চুক্তি
  3. ভার্সাই চুক্তি
  4. প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা

• ভার্সাই চুক্তি:
- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- এই চুক্তির জন্য জার্মানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- চুক্তির খসড়ার মূল নকশা করেন চারজন নেতা যারা ইতিহাসে বিগ ফোর হিসেবে খ্যাত। তারা হলেন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট - উড্রো উইলসন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী - ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী - জর্জ ক্লেমেনসো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী - ভিটোরিও অরল্যান্ডো।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

তথ্যসূত্র: History.com 

৫৭৭.
কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাপানের হিরোশিমায় আণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘোষণা দেন?
  1. ক) হ্যারি এস ট্রুম্যান
  2. খ) জন এফ কেনেডি
  3. গ) আব্রাহাম লিংকন
  4. ঘ) জর্জ ওয়াশিংটন
ব্যাখ্যা
- হ্যারি এস ট্রুম্যান: জাপানের হিরোশিমায় আণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘোষণা দেন।

এছাড়া, 

জর্জ ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের ১ম প্রেসিডেন্ট।
আব্রাহাম লিংকন: 
→ ১৬তম প্রেসিডেন্ট।
→ যুক্তরাষ্ট্রে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ করেন।
→ বিখ্যাত উক্তি: ‘Democracy is a government of the people, by the people and for the people.’ 
→ ২ মিনিটের বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণ দেন: ১৮৬৩ সালে।

উড্রো উইলসন: জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠায় ১৪ দফা ঘোষণা করেন।
ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট: 
→ জাতিসংঘের নামকরণ করেন।
→ ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। 
→ ৪ বার নির্বাচিত হয়ে ১২ বছর ক্ষমতায় থাকেন।
→ ৪র্থ মেয়াদে ৩ মাস ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৪৫ সালে মারা যান।

জন এফ কেনেডি: কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটকালীন প্রেসিডেন্ট।
রিচার্ড নিক্সন:
→ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
→ ওয়াটারগেট কেলেংকারির সাথে জড়িত ছিলেন।


তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫৭৮.
কে বলশেভিক বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন না?
  1. আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি
  2. ভ্লাদিমির লেনিন
  3. লিওন ট্রটস্কি
  4. উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে '১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: Britannica.
৫৭৯.
ফরাসি বিপ্লব কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৪ জুলাই, ১৭৮৭
  2. ১৪ জুলাই, ১৭৮৩
  3. ১৪ জুলাই, ১৭৮৯
  4. ১৪ জুলাই, ১৭৮১
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। 
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

উৎস: Britannica.
৫৮০.
‘অরেঞ্জ বিপ্লব' কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. কানাডা
  3. ইউক্রেন
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
অরেঞ্জ বিপ্লব:
- ‘অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ঘটনা।
- এটি সংঘটিত হয়েছিল ২০০৪ সালে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫৮১.
কোন যুদ্ধে ডমিনো তত্ত্ব ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. উপসাগরীয় যুদ্ধ
  2. কোরিয়ান যুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ভিয়েতনাম যুদ্ধ-এ যুক্তরাষ্ট্র ডমিনো তত্ত্ব ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেছিল।

ডমিনো তত্ত্ব:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।

৫৮২.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট?
  1. আইসেন হাওয়ার
  2. উড্রো উইলসন
  3. জর্জ লয়েড
  4. দ্বিতীয় উইলহেম
ব্যাখ্যা
মিত্রবাহিনীর জয়লাভ:
- ১৯১৮ সালের গ্রীষ্ম ও শরৎ: মিত্রবাহিনী বিভিন্ন স্থানে জার্মান বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন পায়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা রণাঙ্গনে পা রাখতেই যুদ্ধের মোড় পরিবর্তন শুরু হয়।​
- নানা স্থানে এগিয়ে থাকা জার্মান সৈন্যরাও ধীরে ধীরে পিছু হটতে থাকে।​
- ১৯১৭ সালের ৬ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সরাসরি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।​
- ১৯১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রো-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করে।​
- মিত্রবাহিনী সার্বিয়া দখল করে নিলে ৩০ সেপ্টেম্বর বুলগেরিয়া শান্তিচুক্তিতে সই করে।​
- ৩১ অক্টোবর তুর্কি সুলতান যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হন।​
- ৩ নভেম্বর অস্ট্রিয়া যুদ্ধ পরাজিত হয়ে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়।​
- রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের পাশাপাশি মিত্রবাহিনীর সুগঠিত আক্রমণ দেখে কাইজার দ্বিতীয় উইলহেম হল্যান্ডে পালিয়ে যান।​
- ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর জার্মানির আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মিত্রবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।​

• অস্ত্রসমর্পণ:
- জার্মানির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: ১৯১৮ সালের ৩ অক্টোবর জার্মানি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।​
- অস্ত্রবিরতি চুক্তি: ১১ নভেম্বর কম্পেইনের বনাঞ্চলে একটি রেলওয়ের বগিতে স্বাক্ষরিত হয় জার্মান-মিত্রবাহিনী অস্ত্রবিরতি চুক্তি।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৩.
'Operation True Promise 1' কী?
  1. ইসরায়েল কর্তৃক সিরিয়ায় পরিচালিত অপারেশন
  2. ইসরায়েল কর্তৃক লেবাননে পরিচালিত অভিযান
  3. ইরান কর্তৃক ইসরায়েলে পরিচালিত অপারেশন
  4. ইরান কর্তৃক জর্ডানে পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
ইরান-ইসরাইল সংকট ২০২৪:
সংকটের শুরু: ১ এপ্রিল, ২০২৪ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলা চালায় ইসরায়েল.
Operation True Promise 1: ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ইরান কর্তৃক ইসরায়েলে পরিচালিত অপারেশন।
Operation Iron Shield: ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের হামলা প্রতিহত করা।

ইরানকে সহায়তা করে:
→ ইরাক: পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস;
→ লেবানন: হিজবুল্লাহ গ্রুপ;
→ ইয়েমেন: হুতি গোষ্ঠী।

ইসরায়েলকে সহায়তা করে:
→ যুক্তরাষ্ট্র: United States Central Command (CENTCOM);
→ যুক্তরাজ্য: Royal Air Force;
→ জর্ডান: বিমান ও নৌ-বাহিনী;
→ ফ্রান্স: নৌ-বাহিনী।

উল্লেখ্য,
- ১ অক্টোবর, ২০২৪ ইরান Operation True Promise 2 নামে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
- যার জবাবে ২৬ অক্টোবর ইসরায়েল 'Operation Days of Repentance' নামে ইরানে হামলা চালায়।

তথ্যসূত্র- নিউজ প্রতিবেদন। [Link]
৫৮৪.
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের স্থায়িত্বকাল কত ছিল?
  1. ১৮৬০–৬৫ সাল
  2. ১৮৬১–৬৪ সাল
  3. ১৮৬১–৬৫ সাল
  4. ১৮৬১–৬৬ সাল
ব্যাখ্যা
আমেরিকার গৃহযুদ্ধ: 
- আমেরিকার গৃহযুদ্ধ (১৮৬১–৬৫) ছিল চার বছরের যুদ্ধ। 
- এটি আমেরিকার উত্তরের রাজ্যগুলোর 'ইউনিয়ন' এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর 'কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা' এর মধ্যে সংঘটিত হয়। 
- ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ১১টি দক্ষিণী রাজ্যগুলো কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা গঠন করে।
- গৃহযুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে চলে আসা দাসপ্রথার পক্ষে এবং বিপক্ষে মতাদর্শের চূড়ান্ত সংঘর্ষ।
- উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য এবং দাসপ্রথা সমর্থনকারী দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে বিরোধ রাজনৈতিক সমঝোতায় নিয়ন্ত্রিত হলেও,
১৮৫০-এর দশকের শেষ দিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দাসপ্রথা সম্প্রসারণের প্রশ্নে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
- ১৮৬০ সালে দাসপ্রথা-বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য আব্রাহাম লিঙ্কন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- তার নির্বাচনের ফলে দক্ষিণের ১১টি রাজ্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
- আমেরিকান গৃহযুদ্ধ ইউনিয়নের বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৮৬৫ সালের এপ্রিল মাসে ভার্জিনিয়ার অ্যাপোম্যাটিক্স কোর্ট হাউসে কনফেডারেট জেনারেল রবার্ট ই. লি ইউনিয়ন জেনারেল ইউলিসিস এস. গ্রান্টের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
- কনফেডারেট বাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ ঘটে ২ জুন, টেক্সাসের গ্যালভেস্টনে।
- এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথার অবসান ঘটানোর এবং জাতীয় ঐক্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: Britannica. 
৫৮৫.
Who was the leader of the Bolshevik Revolution?
  1. Karl Marx
  2. Napoleon
  3. Vladimir Lenin
  4. Joseph Stalin
  5. Aleksandr F. Kerensky
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে '১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতা ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

উৎস: Britannica.
৫৮৬.
অক্ষ শক্তির নেতৃত্বে ছিলেন না কে?
  1. এডলফ হিটলার
  2. হ্যারি এস ট্রুম্যান 
  3. বেনিতো মুসোলিনি
  4. হিরোহিতো
ব্যাখ্যা
অক্ষশক্তি - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরোধী জোট:
- অক্ষশক্তি ছিল একটি সামরিক জোট, যা জার্মানি, ইতালি, এবং জাপানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।
- এই জোটের উৎপত্তি ঘটে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে একাধিক চুক্তির মাধ্যমে। ১৯৩৬ সালের ২৫ অক্টোবর, রোম-বার্লিন অক্ষ ঘোষণা করা হয়, যেখানে জার্মানি ও ইতালি দাবি করে যে পৃথিবী এখন থেকে রোম-বার্লিন অক্ষের উপর আবর্তিত হবে।
- পরবর্তীতে, ১৯৩৬ সালের ২৫ নভেম্বর, জার্মানি এবং জাপান সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট স্বাক্ষর করে, যা অক্ষশক্তির কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করে।
- এই জোটের লক্ষ্য ছিল তাদের সামরিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নেতৃবৃন্দ 
অক্ষ শক্তি`: 
- এডলফ হিটলার
- বেনিতো মুসোলিনি
- হিরোহিতো

মিত্র শক্তি`:
- যোসেফ স্টালিন
- উইনস্টোন চার্চিল
- ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
- হ্যারি এস ট্রুম্যান

উৎস: Britannica.
৫৮৭.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশটি মিত্রশক্তির সমর্থক ছিল?
  1. জার্মানি
  2. বুলগেরিয়া
  3. রাশিয়া
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War - I)
- গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রধানত ইউরোপে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত এই যুদ্ধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ “মহাযুদ্ধ” বা “The Great War” নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- এই যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব প্রথম সামরিক শক্তির সর্বগ্রাসী চেহারা প্রত্যক্ষ করে। এর আগে কোন যুদ্ধে এতো প্রাণহানি ঘটে নি।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
- সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩৭ লাখ প্রাণহানি ঘটে রাশিয়ার।
- এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের বহু দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে নড়বড়ে অবস্থানে চলে যায়।

- যুদ্ধ সংঘটনকাল -- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ থেকে ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।
- যুদ্ধ সংঘটন স্থান -- ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য।
- অক্ষশক্তি -- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
- মিত্রশক্তি -- রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।
- ফলাফল -- মিত্রশক্তির বিজয়।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম।
৫৮৮.
ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় কাকে?
  1. ভলতেয়ার
  2. রোবেসপিয়ের
  3. নেপোলিয়ন
  4. দান্তে
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব ও নেপোলিয়ন:
- ফরাসি বিপ্লব শুরু হয় ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই, বাস্তিল দুর্গ পতনের মাধ্যমে।
- বিপ্লবের মূল স্লোগান ছিল “স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব”, যার প্রবক্তা ছিলেন দার্শনিক জাক রুসো। 
- এই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে ফরাসি বিপ্লবের সন্তান বা শিশু বলা হয়।
- তিনি বিপ্লবের আদর্শ (নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অবসান, নাগরিক অধিকার) ধারণ করে সামরিক নেতা হয়ে ওঠেন।
- নেপোলিয়ন কর্সিকায় বিপ্লবের প্রচারে অংশগ্রহণ করেন এবং বিপ্লবের অস্থিরতাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে প্রথমে সামরিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
- পরবর্তীতে তিনি ফ্রান্সের সম্রাট হন এবং বিপ্লবের কিছু আদর্শ ও প্রশাসনিক কাঠামো ইউরোপে ছড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি বিপ্লব ছিল মূলত একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন।
- কিন্তু এর ফলস্বরূপ ফরাসি বিপ্লবী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৭৯২ থেকে ১৮০২ সাল পর্যন্ত, যেখানে ফ্রান্স গ্রেট ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
- বিপ্লবের সময় ১৭৯২-১৮০২ সাল পর্যন্ত ফরাসি বিপ্লবী যুদ্ধ চলে, যা দুটি পর্বে বিভক্ত ছিল: 
- প্রথম মোর্চার যুদ্ধ (১৭৯২-১৭৯৭);
- দ্বিতীয় মোর্চার যুদ্ধ (১৭৯৮-১৮০২)।
• ফরাসি জ্ঞানদীপ্তি যুগের দার্শনিক ভলতেয়ার সরাসরি বিপ্লবে অংশ না নিলেও তার স্বাধীনচিন্তা, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও স্বৈরাচারের বিরোধী ভাবনা বিপ্লবের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করেছিল। 
- তাকে ফরাসি বিপ্লবের প্রাণপুরুষ বলা হয়।
• রোবেসপিয়ের জাক রুসোর দর্শনের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন এবং 'প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ স্বাধীন'—এই ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন।
- তাকে ফরাসি বিপ্লবের নায়ক বলা হয়।

উৎস:
১. Britannica;
২. ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৯.
‘State and Revolution’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) ভ্লাদিমির লেনিন
  2. খ) মিখাইল গর্বাচেভ
  3. গ) উইন্সটন চার্চিল
  4. ঘ) কার্ল মার্ক্স
ব্যাখ্যা
ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন 

- পরিচয়: রুশ কমিউনিস্ট পার্টি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা।
- বিদেশ থেকে প্রকাশিত তাঁর পত্রিকার নাম: ইসক্রা।
- বলশেভিক পার্টির প্রতিষ্ঠা: ১৯০৩।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ:
→ Imperialism: The Highest Stage of Capitalism
→ Materialism and Empirio Criticism
→ Philosophical Notebook
→ State and Revolution


তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫৯০.
'Blood and Iron Policy' প্রবর্তন করেন কে?
  1. বিসমার্ক
  2. হিটলার
  3. মুসোলিনি
  4. নিকোলাস
ব্যাখ্যা

• অটো ভন বিসমার্ক:
- অটোভন বিসমার্ক আধুনিক জার্মানির জনক।
- জার্মানিতে ১৮৭১ সালে ক্ষমতায় বসেন অটোভন বিসমার্ক।
- তিনি জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলর।
- তাঁর হাত ধরে জার্মান রাজ্যগুলো একক রাষ্ট্রের পতাকাতলে জড়ো হয়।
- ইউরোপে অন্যতম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জার্মানি।
- Blood and Iron Policy-এর প্রবক্তা অটো ভন বিসমার্ক।

উৎস: i) Britannica. 
         ii) History Flame.

৫৯১.
ইরাকে কত সালে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা

ইরাক যুদ্ধ:
- ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
- যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে বিমান হামলা এবং ২০ মার্চ থেকে স্থল হামলা শুরু করেছিল। 
- ইরাক যুদ্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর (যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ডসহ) দ্বারা সাদ্দাম হোসেনের ইরাক শাসনের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান। মাসখানেকের বেশি চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ।
- ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের কাছে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র (উইপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন)’ আছে অভিযোগে দেশটিতে আগ্রাসন চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। 
- এটি 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' নামেও পরিচিত।
- ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন টনি ব্লেয়ার।

উল্লেখ্য,
- তখন ইরাকের নেতা ছিলেন সাদ্দাম হোসেন। যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য অভিযোগ করে, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (ডব্লিউএমডি) মজুত গড়ে তুলেছেন। সেই সঙ্গে আল–কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। তাই সাদ্দামের বিরুদ্ধে শুরু হয় ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ।
- ২০০৩ সালের ১ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।

⇒ ইরাক যুদ্ধের ফলাফল ছিল সাদ্দাম হোসেনের পতন, ব্যাপক মানবিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন।
- এরপর দীর্ঘ আট বছর ধরে বিদ্রোহ ও দখলদারিত্বের দ্বিতীয় পর্ব চলে এবং ২০১১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে।

উৎস: United States Navy (.mil) ওয়েবসাইট।

৫৯২.
'চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব' কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ১৫ বছর
  2. ৯ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution):
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।

উৎস: Britannica.
৫৯৩.
ওয়াটার লু’র যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপোলিয়নকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়?
  1. সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
  2. সেন্ট এলবা দ্বীপে
  3. রোবেন দ্বীপে
  4. কর্সিকা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
ওয়াটার লু’র যুদ্ধ:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে নেপোলিয়ন ফ্রান্সের সম্রাট হন।
- ১৮১৪ সালে প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়াসহ বেশ কিছু দেশের সেনাবাহিনী ফ্রান্স আক্রমণ করে এবং নেপোলিয়নকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেন্ট এলবা দ্বীপে নির্বাসন দেয় (প্রথম নির্বাসন)।
- তবে তিনি আবার ফ্রান্সের ক্ষমতায় আসেন।
- ১৮১৫ সালের ১৮ জুন ওয়াটার লু’র যুদ্ধ সংঘটিত হয় বেলজিয়ামের ওয়াটারলু নামক স্থানে।
- নেপোলিয়ন প্রায় ৭২ হাজার সৈন্য নিয়ে ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলির নেতৃত্বে ৬৮ হাজার সৈন্যবিশিষ্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হন।
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বাহিনী ও সম্মিলিত ব্রিটিশ-প্রুশিয়ান বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়।
- ওয়াটার লু’র যুদ্ধে ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে নেপোলিয়নের পরাজয় হয় এবং নেপোলিয়ন শাসনের অবসান ঘটে।
- এরপর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় (দ্বিতীয় নির্বাসন) ।

উৎস: i) কালের কণ্ঠ।
ii) Britannica.
৫৯৪.
কোন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় “ডমিনো তত্ত্ব” প্রয়োগ করেছিলো?
  1. কোরীয় যুদ্ধ
  2. ইন্দোচীন যুদ্ধ
  3. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  4. আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।
- ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-১৯৭৫) এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

উৎস: History.com
৫৯৫.
কোনটি ইরানের মিসাইল নয়?
  1. ফাতেহ
  2. ফজর
  3. কাওসার
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

- বাবর ইরানের মিসাইল নয়।

বিভিন্ন দেশের মিসাইল সম্পর্কিত তথ্য -
• ইরান:
- ফাতেহ,
- ফজর,
- কাওসার।

• পাকিস্তান:
-ঘোরি,
- বাবর,
- শাহিন,
- গজনভি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫৯৬.
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয় -
  1. ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত
  2. ১৯৪৬-৪৮ সাল পর্যন্ত
  3. ১৯৪৭-৪৯ সাল পর্যন্ত
  4. ১৯৪৮-৫০ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারটি বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
- ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৪৭-৪৯ সাল পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় যুদ্ধ হয় ১৯৬৫-৬৬ সাল পর্যন্ত,
- তৃতীয় যুদ্ধ হয় ১৯৭১ সালে,
-  চতুর্থ যুদ্ধ ১৯৯৯ সালে।
 
উৎস Britannica.com
৫৯৭.
'অপারেশন রাইজিং লায়ন' কোন দেশের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ইরান
  3. ইসরায়েল
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা

‘অপারেশন রাইজিং লায়ন':
- ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো সামরিক অভিযানটির নাম 'অপারেশন রাইজিং লায়ন'।
- 'রাইজিং লায়ন' নামটি বাইবেলের একটি অনুচ্ছেদে সিংহের প্রতীকী পরাক্রমকে তুলে ধরে, ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
- ১৩ জুন ২০২৫-এর ভোরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' পরিচালনা করে।
- ইসরায়েল প্রথমে 'ড্রোন' দ্বারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা, এরপর প্রধান পারমাণবিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা করে।

→ উল্লেখ্য:
- এই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
- এই হামলার নাম দেয়া হয় 'অপারেশন টু প্রমিজ থ্রি’।
- ইরান পাল্টা জবাবে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

৫৯৮.
দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে লড়াই করে -
  1. ক) ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ফ্রান্স ও ব্রিটেন
  3. গ) পর্তুগাল ও ব্রিটেন
  4. ঘ) ব্রিটেন ও হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- চীনে সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার ঘটে ১৭ শতকে। সেখানে বাণিজ্য বিস্তারে এগিয়ে ছিল পর্তুগিজরা। তারা দক্ষিণ চীনের ম্যাকাও
বন্দর দখল করে বাণিজ্য পরিচালনা করে।
- ধীরে ধীরে ইংরেজ, ফরাসি ও ডাচ কোম্পানি চীনের সমুদ্র উপকূল ধরে বসতি স্থাপন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যান্টন, হংকং, তাইওয়ান প্রভৃতি এলাকায় ইঙ্গ-ফরাসি প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
-  ১৮৩৯ সালে চীন সরকার ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নানকিংয়ের সন্ধিতে স্বাক্ষর করে। 
- তার শর্তানুযায়ী সমুদ্র উপকূলের পাঁচটি বন্দর ইংরেজ কোম্পানির দখলে চলে যায়। 
- এই সময়ে চীনে ইংরেজদের আফিম ব্যবসা ও আফিম বাণিজ্যের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের সংগ্রামের ফলে ঘটে যায় প্রথম ইঙ্গ-চীন যুদ্ধ ও নানকিং সন্ধি।
- পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে ১৮৫৬ সালের দিকে  ইংরেজ ও ফরাসি কোম্পানির তাবেদার জনৈক ফরাসি ধর্মযাজককে কৃত অপরাধের জন্য চীন সরকার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে । 
- এর প্রতিবাদে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যৌথভাবে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এটাকে দ্বিতীয় চীন যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
- তিয়েন্তসিন সন্ধির মাধ্যমে এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলেও সন্ধির শর্তানুসারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চীন। 
- উপকূলবর্তী এগারোটি চীনা বন্দরে ইংরেজ ও ফরাসি শক্তির কর্তৃত্ব সুদৃঢ় হয় এ সন্ধির মাধ্যমে। 
 
Opium Wars, two armed conflicts in China in the mid-19th century between the forces of Western countries and of the Qing dynasty, which ruled China from 1644 to 1911/12.
The first Opium War (1839–42) was fought between China and Britain, and 
the second Opium War (1856–60), also known as the Arrow War or the Anglo-French War in China, was fought by Britain and France against China. 
In each case the foreign powers were victorious and gained commercial privileges and legal and territorial concessions in China. The conflicts marked the start of the era of unequal treaties and other inroads on Qing sovereignty that helped weaken and ultimately topple the dynasty in favour of republican China in the early 20th century.
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ব্রিটানিকা । 
৫৯৯.
হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমা কবে ফেলা হয়?
  1. ৮ আগস্ট ১৯৪৫ সাল
  2. ৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল
  3. ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সাল
  4. ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সাল
ব্যাখ্যা
হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি:
- ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করলেও জাপানের সম্রাট হিরোহিতোর বাহিনী ছিল নাছোড়বান্দা।
- তারা সমান তালে লড়ে যাচ্ছিল মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে।
- যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবারে হামলার জন্য মিত্রবাহিনীর অন্যতম অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের চরম ক্ষোভ ছিল জাপানের ওপর।
- মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনার নজির স্থাপন করে ৬ ও ৯ আগস্ট যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয় লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামের দুটি ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক বোমা।
- ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হিরোশিমায় প্রথম বোমাটি নিক্ষেপ করা হলে তাৎক্ষণিক প্রাণ যায় ১ লাখ বিশ হাজার মানুষের। আর তার দ্বিগুণ মানুষ মারা যায় এর একটু পরে।
- স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের এ পাশবিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
- এনোলা গে নামের বিমানটি থেকে হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়।
- জাপানিরা ১৫ আগস্ট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
বলশেভিক বিপ্লব এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?   
  1. জোসেফ স্টালিন
  2. ভ্লাদিমির লেনিন
  3. কার্ল মার্ক্স 
  4. মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা

• বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন - ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে - রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে - রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন - আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।