বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুদ্ধ ও বিপ্লবসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৪০১৫০০ / ১,০৫২

৪০১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল-
  1. ক) ২ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ সালে
  2. খ) ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে
  3. গ) ১১ নভেম্বর ১৯১৪ সালে
  4. ঘ) ২৮ জুন ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
• ১১ নভেম্বর ১৯১৮ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
• ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
• ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৪০২.
ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয়-
  1. কার্ল মার্ক্স
  2. রুশো
  3. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  4. লেনিন
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দূর্গ পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব দশ বছর স্থায়ি হয়েছিল।
- এই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এ সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
- লেখনীর মাধ্যমে বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এই বিপ্লবের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- এবং বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে তিনি ফ্রান্সের একজন প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। 

উৎস: i) ইতিহাস-৪, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কালের কণ্ঠ।
৪০৩.
বাস্তিল দুর্গের পতন হয় কবে?
  1. ১৭৭৯ সালের ১৪ জুলাই
  2. ১৭৮৪ সালের ১৪ জুলাই
  3. ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই
  4. ১৭৯৮ সালের ১৪ জুলাই
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতন হয়। 
- বাস্তিল দুর্গ পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব দশ বছর স্থায়ি হয়েছিল।
- এই বিপ্লবের মূল মন্ত্র ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এ সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
- লেখনীর মাধ্যমে বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।
- রাজশক্তির অপশাসন হটিয়ে মহান ফরাসী বিপ্লব যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করে তারই পথ ধরে ১৭৯২ সালে ফ্রান্সে নতুন একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং প্রথম প্রজাতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
- এরপর ১৮৪৮-এ ২য় প্রজাতন্ত্র, ১৮৭০-এ তৃতীয় প্রজাতন্ত্র, ১৯৪৬-এ চতুর্থ প্রজাতন্ত্র এবং ১৯৫৮ সালে পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের সূত্রপাত হয়।

উৎস: ইতিহাস-৪, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৪, বিএ ও বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
গোলাপ বিপ্লব কোন দেশে সংগঠিত হয়?
  1. কিউবা
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. জর্জিয়া
ব্যাখ্যা

গোলাপ বিপ্লব (Rose Revolution): 
- স্থান ও বছর: জর্জিয়া, ২০০৩।
- মূল নেতৃত্ব: মিখাইল সাকাশভিলি, সাবেক জাস্টিস মিনিস্টার ও UNM প্রধান।
- মূল ঘটনা: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ/বিদ্রোহ, নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা।
- ফলাফল: প্রেসিডেন্ট শেভার্ডনাদজ ক্ষমতা থেকে অবসান; সাকাশভিলি পরবর্তী বছরের নির্বাচনে জয়লাভ।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতিগত বিরোধ প্রশমন।
- গোলাপ বিপ্লব হলো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ, যা পরে টিউলিপ (কিরগিজস্তান) এবং কমলা/অরেঞ্জ (ইউক্রেন) বিপ্লবের সাথে তুলনা করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।

৪০৫.
স্নায়ুযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে কোন সংস্থাটি গঠিত হয়?
  1. ওআইসি
  2. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
  3. আরব লীগ
  4. আফ্রিকান ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে যথাক্রমে পুঁজিবাদী ব্লক ও সমাজতান্ত্রিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই দুই বলয় প্রবল মাত্রায় স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
- এরূপ পরিস্থিতিতে যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্রোজ মার্শাল টিটো, ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দোনেশিয়ার আহমেদ সুকর্ণ, মিশরের গামাল আবদেল নাসের, ঘানার কওয়ামি নক্রুমা প্রমুখ নেতৃত্ববৃন্দ জোট নিরপেক্ষ অবস্থান অবলম্বন করেন।
- এই লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বান্দুং সম্মেলনে NAM (Non-Aligned Movement) গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
- ১৯৬১ সালের ১-৬ সেপ্টেম্বর ২৪টি দেশের অংশগ্রহণে সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার (বর্তমান সার্বিয়া) রাজধানী বেলগ্রেড শহরে প্রথম NAM (The Non-Aligned Movement) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ ন্যাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে।
(তথ্যসূত্রঃ ন্যাম ওয়েবসাইট)
৪০৬.
কোন দেশ থেকে 'আরব বসন্ত'-এর সূচনা হয়?
  1. মিশর
  2. লিবিয়া
  3. তিউনিশিয়া
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
-মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশে ২০১০ সালে শুরু হওয়া গণআন্দোলন যা রাজতন্ত্র ও স্বৈরশাসন উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সংঘটিত হয়।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। 
- তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- ২০১৩ সালের দিকে এসে আরব বসন্তের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
- আরব বসন্তের প্রভাবে তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মরক্কো, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে ক্ষমতা বদল বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি পরিবর্তন ঘটেছে। এখনো এই তথাকথিত আরব বসন্তের জেরে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম। 

৪০৭.
ইরাকে কখন মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়?
  1. ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ
  2. ২০০৩ সালের ২০ মার্চ
  3. ২০০৩ সালের ২২ মার্চ
  4. ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ
ব্যাখ্যা
২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়।

ইরাকে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান:
- ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ বাহিনী হামলা চালায় ইরাকে।
- শুরু হয় ইরাক যুদ্ধ।
- পরদিন থেকে অর্থাৎ ২০০৩ সালের ২০ মার্চ দেশটিতে স্থল অভিযান শুরু করে পশ্চিমা বাহিনী।
- মাসখানেকের বেশি চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ।
- ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে এ অভিযানে যুক্ত হন পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সেনারা।

উল্লেখ্য,
- তখন ইরাকের নেতা ছিলেন সাদ্দাম হোসেন।
- যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য অভিযোগ করে, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (ডব্লিউএমডি) মজুত গড়ে তুলেছেন।
- সেই সঙ্গে আল–কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
- তাই সাদ্দামের বিরুদ্ধে শুরু হয় ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ।
- ২০০৩ সালের ১ মে জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।
- তবে তিনি জানান যে যুদ্ধ শেষ হলেও পশ্চিমা সেনারা ইরাক ছাড়বে না। 
- ২০১১ সাল পর্যন্ত ইরাকে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন।

উৎস: United States Navy (.mil) ওয়েবসাইট।
৪০৮.
ট্রাফালগার যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন দেশে?
  1. ইংল্যান্ড
  2. স্পেন
  3. ফ্রান্স
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• ট্রাফালগার যুদ্ধ: 
- ট্রাফালগার যুদ্ধ ছিলো ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী নৌযুদ্ধ।
- ট্রাফালগারের যুদ্ধ স্পেনে, কেপ ট্রাফালগারের উপকূলে সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর স্পেন উপকূলে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়, ফ্রান্স ও স্পেনের মিলিত নৌশক্তির বিরুদ্ধে এডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটেন জয় লাভ করে।
- এই যুদ্ধে ব্রিটেনের বিজয় ও নেলসনের প্রতি সম্মান জানাতে, লন্ডনে নেলসনের সমাধির পাশে ট্রাফালগার স্কয়ার নির্মিত হয়।
- ট্রাফালগার স্কয়ার বর্তমানে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল। 

উৎস: ব্রিটানিকা.কম, হিস্টোরি ওয়েবসাইট।

৪০৯.
ট্রাফালগার যুদ্ধে জয়ী হয় কোন দেশ?
  1. ফ্রান্স
  2. স্পেন
  3. জার্মানি
  4. ব্রিটেন
ব্যাখ্যা
- ট্রাফালগার যুদ্ধে ব্রিটেন জয় লাভ করে।

ট্রাফালগার যুদ্ধ: 

- ট্রাফালগার যুদ্ধ ছিলো ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী নৌযুদ্ধ।
- ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর স্পেন উপকূলে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়, ফ্রান্স ও স্পেনের মিলিত নৌশক্তির বিরুদ্ধে এডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটেন জয় লাভ করে।
- এই যুদ্ধে ব্রিটেনের বিজয় ও নেলসনের প্রতি সম্মান জানাতে, লন্ডনে নেলসনের সমাধির পাশে ট্রাফালগার স্কয়ার নির্মিত হয়।
- ট্রাফালগার স্কয়ার বর্তমানে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল। 

উৎস: ব্রিটানিকা.কম, হিস্টোরি ওয়েবসাইট।
৪১০.
অপারেশন বারবারোসা কার নেতৃত্বে শুরু হয়?
  1. হিটলার
  2. হিরোহিতো 
  3. স্টালিন 
  4. মুসোলিনি 
ব্যাখ্যা

• অপারেশন বারবারোসা হিটলারের নেতৃত্বে শুরু হয়।

• অপারেশন বারবারোসা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় পূর্ব ফ্রন্টের যুদ্ধ বা জার্মানীর রাশিয়া আক্রমণ।
- ১৯৪১ সালে ২২ জুন জার্মানীর হিটলার 'অপারেশন বারবারোসা' নামে পরিচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন অভিযান শুরু করেছিলেন।
- এই অভিযানে ১৯টি প্যানযার ডিভিশন, ৩ হাজার ট্যাংক, ২৫০০ বিমান এবং ৭০০০ কামান অংশ গ্রহণ করে।
- সর্বমোট ত্রিশ লক্ষ সৈনিক সাথে ৬ লক্ষ মোটরযান এবং ৬-৭ লক্ষ ঘোড়া ব্যবহার হয়েছিল এই অভিযানে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪১১.
বিখ্যাত ওয়াটারলু যুদ্ধক্ষেত্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. বেলজিয়াম
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

ওয়াটারলু যুদ্ধ (Battle of Waterloo):
- ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ান বেনাপোর্ট ও সম্মিলিত ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে বেলজিয়ামের ওয়াটারলু নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

• যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল – ১৮ জুন, ১৮১৫ সাল।
- বিবাদমান পক্ষ – নেপোলিয়ানের নেতৃত্বে ফ্রান্স বাহিনী ও সম্মিলিত ব্রিটিশ বাহিনী
- বিজয়ী - সম্মিলিত ব্রিটিশ বাহিনী।
- বিজিত - ফ্রান্স বাহিনী

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সম্মিলিত বাহিনী গঠিত হয় – বেলজিয়ান, জার্মান ও ডাচ বাহিনীর সমন্বয়ে।
- এই বাহিনী নেতৃত্ব দেন- আর্থার ওয়েলেসলি যিনি ছিলেন ‘প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন'। 
- যুদ্ধে নেপোলিয়ানের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
- ২২ জুন, ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত 'সেইন্ট হেলেনা' দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
- ৫ মে, ১৮২১ সালে নেপোলিয়ান মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সেইন্ট হেলেনা দ্বীপে সমাহিত করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 

৪১২.
জার্মানি কর্তৃক কোন দেশ আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. রাশিয়া
  3. পোল্যান্ড
  4. ব্রিটেন
ব্যাখ্যা

◉ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। এই আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত; এর ফলে ৭০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

সূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।

৪১৩.
The socialist revolution take place in China -
  1. In 1911
  2. In 1912
  3. In 1949
  4. In 1966
  5. In 1976
ব্যাখ্যা
গণচীন:
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।

উৎস: Britannica.
৪১৪.
ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা কে ছিলেন?
  1. চতুর্দশ লুই
  2. ষোড়শ লুই
  3. সপ্তদশ লুই
  4. অষ্টাদশ লুই
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। 
- 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

উৎস: Britannica.

৪১৫.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে কবে?
  1. ১৪ আগস্ট, ১৯৪৫ সাল
  2. ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সাল
  3. ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সাল
  4. ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সাল
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- সময়কাল: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫
- ১৯৩৯ সালে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- ১৯৪১ সালে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ (অপারেশন বারবারোসা) করে।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের ফলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে প্রবেশ করে।
- ১৯৪৪ সাল: নরম্যান্ডি অভিযান (D-Day) এর মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপে মিত্রশক্তির অগ্রগতি।
- ৬ ও ৯ আগস্ট ১৯৪৫: যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা হামলা করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫: জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি হয়।

উৎস: Britannica.
৪১৬.
রাশিয়া কখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে?
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে
  2. খ) ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে
  3. গ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালে
  4. ঘ) ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা
- ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের অভ্যন্তরে হামলা শুরু করে।
 
• রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:
- রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরু করে।
- এই হামলার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত ঘটে।
- ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের তৎপরতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া তার নিরাপত্তাগত স্বার্থে ইউক্রেনে আক্রমণ করে।
- তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন খাদ্যশস্য রপ্তানি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে- ২২ জুলাই, ২০২২।
- ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়- ইউক্রেনকে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ যে নদীর তীরে অবস্থিত- নিপার নদী।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং প্রথম আলো।
৪১৭.
৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি কী?
  1. প্রযুক্তি
  2. উৎপাদনের নতুন গতিসঞ্চার
  3. উৎপাদন ব্যবস্থা
  4. বর্নিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:
- বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর।
- বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে।
- এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে।

⇒ ১ম শিল্প বিপ্লব:
- ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল প্রথম শিল্পবিপ্লব।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।

⇒ ২য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৮৭০ সাল।
- দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধিত হয়।
- এই সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, টেলিগ্রাফ, রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা, পানিসরবরাহ ইত্যাদির আবিষ্কার হয়।
- এসবের ফলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও জীবনযাপন এর মান বৃদ্ধি পায়।
- বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র আবিষ্কার হতে থাকে যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সাহায্য করে।

⇒ ৩য় শিল্প বিপ্লব:
- দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট।
- শুরু হয় ইন্টারনেটভিত্তিক তৃতীয় শিল্পবিপ্লব।
- তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
- ম্যানুয়াল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের।

⇒ ৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিপ্লবকেই বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।
- যেখানে মানুষের আয়ত্তে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট অব থিংস বা যন্ত্রের ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণ রূপেই মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি প্রযুক্তি।
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–এর উৎপত্তি ২০১১ সালে জার্মান সরকারের একটি হাইটেক প্রকল্প থেকে।
- মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লানিং, রোবোটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডেটা অ্যানালাইটিক, হরিজন্টাল ও ভার্টিক্যাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, জিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ইত্যাদির সমন্বয়ে আজকের বিশ্বে যে দ্রুত পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করছি তাই হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।

উৎস: Britannica.
৪১৮.
'D-Day' কবে পালন করা হয়? 
  1. ৫ জানুয়ারি
  2. ৮ ফেব্রুয়ারী
  3. ৭ মে
  4. ৬ জুন
ব্যাখ্যা
'D-Day': 

• 'D-Day' ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৪ সালের ৬ জুন দখলকৃত ফ্রান্স উদ্ধারের জন্য মিত্রবাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে এক অপারেশন পরিচালনা করে যার কোড নাম ছিলো Operation Overlord।
• ১৯৪৪ সালের ৬ই জুন, নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার যৌথ বাহিনীর সদস্য ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলের ৫টি সৈকতে অবতরণ করেন।
৬ জুন দিনটিকে ডি ডে (D-Day) হিসাবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।
৪১৯.
অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন-
  1. ভ. ই . লেনিন
  2. কালমার্কস
  3. মুসোলিনী
  4. নেপোলিয়ন
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক জীবনে এক গুণগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করে বলশেভিক বিপ্লব এর মধ্যদিয়ে।
- রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দল- বলশেভিক পার্টি।
- অক্টোবর মাসে সংঘটিত হয়েছিল বলে এই বিপ্লবকে অক্টোবর বিপ্লব ও বলা হয়ে থাকে ।
- এটি পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবকে বলশেভিক বিপ্লব নামে অভিহিত করা হয়।
- এই বিপ্লবের মূলশক্তি ছিল শ্রমিক শ্রেণি।
 - রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন-  ভ. ই . লেনিন।
- ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব বুর্জোয়া যুগের অবসান ঘটিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। 

কালমার্কস:
-কার্ল মার্কস ছিলেন একজন বিপ্লবী, সমাজবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ এবং অর্থনীতিবিদ। 
- তার বিখ্যাত গ্রন্থ-  দ্যাস ক্যাপিটেল।

মুসোলিনী:
- ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের প্রথমফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসকরা ।
- ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা

উৎস:
১. আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২. Britannica
৪২০.
হিরোশিমা নগরীতে বিস্ফোরিত পারমাণবিক বােমার নাম কী ছিল?
  1. Tomahawk
  2. Agni
  3. Fat Man
  4. Little Boy
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয় এবং নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

[উৎস: হিস্টোরি ডটকম]
৪২১.
কাকে ‘সবুজ বিপ্লবের জনক’ অভিহিত করা হয়?
  1. জুনাকো তাবেই
  2. নোরম্যান বোরলগ
  3. সুভনটে আরহেনিয়াস
  4. গ্রান্ট পাউলি
ব্যাখ্যা
- মার্কিন কৃষিবিদ অধ্যাপক নোরম্যান আর্নেস্ট বোরলগকে ‘সবুজ বিপ্লবের জনক’ বলা হয়।
- তিনি ১৯৭০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- বিংশ শতাব্দীতে নরম্যান বোরলগ কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের গমের ব্যাপক ফলনের মাধ্যমে এ বিপ্লবের সূচনা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৪২২.
Operation Midnight Hammer কী?
  1. যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের পারমানবিক স্থাপনায় হামলা
  2. ইসরাইল কর্তৃক ইরানের তেহরানে হামলা
  3. ইরান কর্তৃক ইসরাইলের হামলা
  4. ইসরাইল কর্তৃক লেবাননে হামলা
ব্যাখ্যা

অপারেশন মিডনাইট হ্যামার (Operation Midnight Hammer):
- Operation Midnight Hammer হলো যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের পারমানবিক স্থাপনায় হামলা।

⇒ ২২ জুন, ২০২৫ তারিখে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র।
- প্রায় ২৫ মিনিট দীর্ঘ এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ১২৫টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৩৭ ঘণ্টা উড়ে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে অংশ সাতটি বি-২ বোমারু বিমান। এই বিমানগুলো ইরানের ৩টি  পরমাণু স্থাপনা ফর্দো, ইস্ফাহান এবং নাতাঞ্জ লক্ষ্য করে ১৪টি বাংকার বাস্টার বোমা ছোড়ে। প্রতিটি বি-২ বোমারু বিমান দুটি করে বাংকার বিধ্বংসী বোমা বহনে সক্ষম। প্রতিটি বোমার ওজন ৩০ হাজার পাউন্ড।
- এ ছাড়া এই অভিযানে অংশ নেয় জ্বালানি ভরার ট্যাংকার ও নজরদারি বিমান।

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি নির্মূল করাই ছিল এই মিশনের লক্ষ্য।

উৎস: i) CSIS.
ii) CNN পত্রিকা। 

৪২৩.
How long was the duration of the 1967 Arab-Israeli war?
  1. 6 days
  2. 13 days
  3. 37 days
  4. 48 days
  5. 54 days
ব্যাখ্যা
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

⇒ ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

⇒ ২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

⇒ ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

⇒ ৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

উৎস: World Atlas.
৪২৪.
হলোকাস্টে নাৎসিরা 'Final Solution to the Jewish Question' নামে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার আনুষ্ঠানিক সমন্বয় হয় কোন কনফারেন্সে?
  1. মিউনিখ কনফারেন্স
  2. ইয়াল্টা কনফারেন্স
  3. ওয়ানসি কনফারেন্স
  4. এভিয়ান কনফারেন্স
ব্যাখ্যা

→ হলোকাস্টে নাৎসিরা 'Final Solution to the Jewish Question' নামে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তার আনুষ্ঠানিক সমন্বয় হয় ওয়ানসি কনফারেন্সে।

হলোকাস্ট:
- হলোকাস্ট ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ও তার সহযোগীদের দ্বারা পরিচালিত ইহুদি গণহত্যা।
- এই সময় প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি পুরুষ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়।
- এছাড়াও লক্ষ লক্ষ রোমা (জিপসি), প্রতিবন্ধী, সমকামী, রাজনৈতিক বিরোধী ও অন্যান্য গোষ্ঠীর লোকও শিকার হয়েছিল।
- এটিকে নাৎসিরা 'ইহুদি সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান' (Final Solution) নামে অভিহিত করত।
- আউশভিৎজ, ট্রেবলিঙ্কা, সোবিবোরের মতো মৃত্যুশিবিরে গ্যাস চেম্বার ও ক্রিমেটরিয়াম ব্যবহার করা হয়।
- অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি আদর্শে ইহুদিদের "অধঃস্তন জাতি" (Untermenschen) ও জার্মান জাতির শত্রু হিসেবে দেখা হতো।
- এটি জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব (Aryan supremacy), Lebensraum (জীবনস্থান) ও ইহুদি-বিদ্বেষের (antisemitism) উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।
- নাৎসি জার্মানির রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে ইহুদি জাতির প্রায় পুরো ইউরোপীয় অংশকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল।
- এটি শুধু যুদ্ধের অংশ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র জাতিগত যুদ্ধ ছিল।

তথ্যসূত্র - Bitannica.com

৪২৫.
জাপানের হিরোশিমা শহরে কবে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ করা হয়?
  1. ১ আগস্ট ১৯৪৫ সালে
  2. ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে
  3. ৯ আগস্ট ১৯৪৫ সালে
  4. ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
হিরোশিমা: 
- হিরোশিমা জাপানের হোনশু দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি হিরোশিমা উপসাগরের (Inland Sea) প্রধান শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।
- নামের অর্থ "বিস্তৃত দ্বীপ", যা ওটা নদীর ছয়টি শাখার ডেল্টার উপর অবস্থিত।
- ১৬শ শতকে সামন্তপ্রভু মোরি তেরুমোতো শহরটি দুর্গ নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৬৮ সালের পর এটি জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি মিত্রবাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ছিল।
- পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ: ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সাল। 
- মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান সকাল ৮:১৫ মিনিটে প্রথম পরমাণু বোমাটি ফেলেছিল।
- বিস্ফোরণের ফলে শহরের অধিকাংশ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
- ৭০,০০০ এর বেশি মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন, এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তেজস্ক্রিয়তার কারণে আরও বহু মানুষ মারা যান।
- হিরোশিমার উপর পরমাণু বোমা নিক্ষেপ ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম ধ্বংসাত্মক ঘটনা।
- এর ফলে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- বর্তমানে হিরোশিমা শান্তি ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
- আজও হিরোশিমার শান্তি স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর বিশ্ববাসীকে যুদ্ধের বিভীষিকার কথা মনে করিয়ে দেয়।

উৎস: Britannica.
৪২৬.
১৯৯০ সালের কোন তারিখে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি পুনরায় একটি রাষ্ট্র গঠন করে?
  1. ২ অক্টোবর (সকালে)
  2. ২ অক্টোবর (মাঝরাতে)
  3. ১ অক্টোবর (দুপুরে)
  4. ৩ অক্টোবর (মাঝরাতে)
ব্যাখ্যা
১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর (মাঝরাতে) পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি পুনরায় একটি রাষ্ট্র গঠন করে।

বার্লিন প্রাচীর (১৯৬১-১৯৮৯):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি প্রধানত চারভাগে বিভক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চলে যায়।
- স্নায়ুযুদ্ধের ফলে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অধীনের অংশগুলো একত্রিত করে গঠিত হয় ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি) এবং সোভিয়েত ইউনিয়নেরে অধীনের অংশে গঠিত হয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব জার্মানি (পূর্ব জার্মানি)।

উল্লেখ্য,
- পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার ফলে পশ্চিম জার্মানি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- অপরদিকে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি অপেক্ষাকৃত কম উন্নত হওয়ায় এ অংশের জনগণ পশ্চিম জার্মানিতে গমন করা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম জার্মানির পুঁজিবাদের ধাক্কা যেন পূর্ব জার্মানিতে না লাগে এবং অভিবাসন যেন ঠেকানো যায় সে লক্ষ্যে পূর্ব জার্মানি ১৩ আগস্ট, ১৯৬১ সালে বার্লিন শহরের মাঝ দিয়ে প্রাচীর তৈরি করা শুরু করে।
- এ প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কি.মি।

⇒ বার্লিন প্রাচীরের পতন:
- ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটে।
- ৩ অক্টোবর, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি) একত্রিত হয়।

উৎস: Britannica.
৪২৭.
ভ্লাদিমির লেনিন কোন বিপ্লবের নেতা ছিলেন?
  1. জুলাই বিপ্লব
  2. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  3. অরেঞ্জ বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে '১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

অন্যদিকে, 
⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

উৎস: Britannica.
৪২৮.
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয় কবে থেকে?
  1. ১০ জানুয়ারি, ২০২৫
  2. ১১ জানুয়ারি, ২০২৫
  3. ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫
  4. ২১ জানুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা
গাজায় যুদ্ধ বিরতি:
- ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে ১ হাজার ২১০ জন নিহত হন।
- হামাসের হামলার পর থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। 
- ইসরায়েলি সহিংসতায় প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন লাখেরও বেশি মানুষ। 
- ১৫ মাস ধরে চলা নৃশংস সহিংসতার পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরায়েল ও হামাস।
- কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়।
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে।

উল্লেখ্য,
- গাজায় যুদ্ধবিরতি হবে তিন ধাপে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ চলবে ৪২ দিন।
- চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস, যাদের মধ্যে সব নারী, শিশু ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষরা রয়েছেন।
- চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরের বিষয়ে আলোচনাগুলো প্রথম ধাপের ১৬তম দিনের মধ্যে শুরু হবে। সেখানে অবশিষ্ট সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
- তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট মৃতদেহগুলোর ফেরত দেওয়া এবং গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরুর কথা রয়েছে। এই কাজ মিশর, কাতার ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি। [Link]
৪২৯.
গাজার পুনর্গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তদারকির জন্য প্রস্তাবিত কমিটির নাম কী?
  1. Board of Reconstruction 
  2. Board of Peace
  3. Gaza Peace Council
  4. International Gaza Authority
ব্যাখ্যা

গাজা বোর্ড অব পিস (Board of Peace) :
- বোর্ড অব পিস হলো ২০২৫-২৬ সালের গাজা যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক কমিটি।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন তদারকি, পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়া তদারকির জন্য গঠিত হয়েছে। 
- এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা দাবির দ্বিতীয় ধাপের (Phase II) অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করার পর, দ্বিতীয় ধাপে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানোই হবে মূল লক্ষ্য। সেই প্রেক্ষাপটেই ‘গাজা বোর্ড অফ পিস’ গঠনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মূলত এটি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রধানদের বোর্ড।
- এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে গাজায় শান্তিপ্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন তদারক করা।

⇒ ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮০৩ দিয়ে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilization Force) অনুমোদন করেছে।
- জানুয়ারি ৮, ২০২৬ তারিখে সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত ও বুলগেরীয় কূটনৈতিক নিকোলাই স্লাদেনভ ‘বোর্ড অব পিস’-এর মহাপরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। 
- উল্লেখ্য যে, টনি ব্লেয়ার প্রথমে সদস্য হিসেবে আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু ইরাক যুদ্ধে ভূমিকার কারণে আরব দেশগুলোর আপত্তিতে তাকে পূর্ণ সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে গাজায় মার্কিন মধ্যস্ততায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি গণহত্যার যুদ্ধ অঞ্চলজুড়ে নিহতের সবশেষ সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

উৎস: i) Reuters.
ii) Al Jazeera.

৪৩০.
আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. আব্রাহাম লিঙ্কন
  2. জন এফ কেনেডি
  3. জিমি কার্টার
  4. ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
ব্যাখ্যা
- আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় (১৮৬১-১৮৬৫) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকন।

• আমেরিকার গৃহযুদ্ধ:
- আব্রাহাম লিঙ্কন ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকা থেকে দাস প্রথা বিলোপ করার ঘোষণা দেন।
- সরকারের দাস প্রথা বিলোপ করার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা মূলত মার্কিন ফেডারেল সরকার আর বিপ্লবী ১১টি দাস-নির্ভর প্রদেশের মাঝে সংগঠিত হয়।
- এই ১১টি প্রদেশ পূর্বেই নিজেদেরকে মূল যুক্তরাষ্ট্র হতে আলাদা ঘোষণা করেছিল এবং নামকরণ করেছিল ‘কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা’ এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন জেফারসন ডেভিস।
- ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয় লিংকনের বিখ্যাত ‘Emancipation Proclamation’ যার ফলে সকল দাস আইনগতভাবে দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়।
- মার্কিন সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়।

• আব্রাহাম লিংকন:
-  আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির নেতা।
- তিনি ছিলেন ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
- তিনি দাস প্রথা বিলোপ করেন।
- আব্রাহাম লিঙ্কন ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল এক কনফেডারেট সমর্থক আততায়ীর হাতে নিহত হন।
- তার গেটিসবার্গের ভাষণ (Gettysburg Address) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত ভাষণ।
- আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়।

উৎস: ব্রিটানিকা, ইউএস ন্যাশনাল আর্কাইভস।
৪৩১.
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব কে দেন?
  1. মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী
  2. আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী
  3. মসউদ রাজা
  4. শেখ মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা

ইসলামী বিপ্লব (১৯৭৯):
- নেতৃত্ব: আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী। 
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে। 
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- ফলাফল: মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন। 
- বিশেষ ঘোষণা: ১ এপ্রিল, ১৯৭৯ সালে ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৪৩২.
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেন স্বাধীনতা লাভ করে-
  1. ক) ১৯৮৯ সালে
  2. খ) ১৯৯০ সালে
  3. গ) ১৯৯১ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

- ২৩ জুন, ১৯১৭ সালে ইউক্রেন গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা দেয়।
- ১৯১৮ সালে ইউক্রেনে বলশেভিক সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চার সদস্যের অন্যতম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ইউক্রেন আত্মপ্রকাশ করে।
- ২৪ আগস্ট, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেন স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৬ মার্চ, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কৃষ্ণ সাগরের উত্তর উপকূলের ছোট দ্বীপ ক্রিমিয়ায় অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সাথে একীভূত হওয়ার পক্ষে রায় দেন।
- ১৭ মার্চ, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে।
- ১৮ মার্চ, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।
- ২১ মার্চ, ২০১৪ সালে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বল্পায়ু রাষ্ট্র ক্রিমিয়া রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।

৪৩৩.
আলজিয়ার্স চুক্তি বাতিলের পরে কোন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল?
  1. ইরান-ইরাক যুদ্ধ
  2. আফগান যুদ্ধ
  3. ছয় দিনের যুদ্ধ
  4. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

আলজিয়ার্স চুক্তি:
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ইরাক এবং ইরান।
- চুক্তির বিষয়: শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মীমাংসা।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ই জুন, ১৯৭৫।
- চুক্তি অনুমোদন হয়: ১৯৭৬ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: আলজির্য়াস, আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। 

উল্লেখ্য,
- আলজিয়ার্স চুক্তি অকার্যকর হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ সালে ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমনের মধ্য দিয়ে। এরপর ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। 

⇒ শাত-ইল-আরব:
- এটি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়। বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

উৎস: Britannica.

৪৩৪.
চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. মাও সেতুং
  2. ডেং জিয়াওপিং
  3. চিয়াং কাইশেক
  4. সান ইয়েৎ সেন
ব্যাখ্যা
চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution):
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।
- এই বিপ্লব প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হয়।
- সমগ্র চীনকে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই
বিপ্লব শুরু হয়। 
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান নেতা ছিলেন মাও সেতুং। 

⇒ ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

অন্যদিকে -
- সান ইয়েৎ সেন ছিলেন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
- চিয়াং কাইশেক চীনের পুঁজিবাদ তন্ত্রের প্রবর্তক।

উৎস: Britannica.
৪৩৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশ নিরপেক্ষ ছিল?
  1. সুইডেন
  2. অস্ট্রিয়া
  3. সার্বিয়া
  4. বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ ছিল সুইডেন।
- সুইডেন তার নিরপেক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুইডেন নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com

৪৩৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এডওয়ার্ড হিথ
  2. উইনস্টন চার্চিল
  3. নেভিল চেম্বারলেন
  4. মার্গারেট থ্যাচার
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেভিল চেম্বারলেন।
- নেভিল চেম্বারলেন ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৩৮ সালে তিনি মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে জার্মানির নেতা আডল্ফ হিটলারের সঙ্গে সান্ত্বনামূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল। তবে ১৯৪০ সালের মে মাসে নরওয়েজিয় সংকটের কারণে জাতীয় সংসদে তার প্রতি আস্থা কমে যায়। এর ফলে, ১৯৪০ সালের ১০ মে রাজা ষষ্ঠ জর্জ উইনস্টন চার্চিলকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চার্চিলের নেতৃত্বে ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধকালীন সময়ে তার অসাধারণ নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। ১৯৫৩ সালে সাহিত্যে তার অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: Britannica.

৪৩৭.
চীনে কোন সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৬৬ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
গণচীন:
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- এর আগে ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর, এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে China) বা গণচীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মাও সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

অন্যদিকে,
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং- এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- এটি ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয়।
 
উৎস: Britannica.
৪৩৮.
আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. চীন ও আফগানিস্তান
  2. চীন ও ইংল্যান্ড
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

আফিম যুদ্ধ: 
- আফিম যুদ্ধ ছিল চীনের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দুটি সশস্ত্র সংঘর্ষ, যা ১৯শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে।
- এই যুদ্ধগুলোতে পশ্চিমা শক্তি ও চীনের শাসক কিং (Qing) রাজবংশের মধ্যে লড়াই হয়।

 প্রথম আফিম যুদ্ধ (১৮৩৯–১৮৪২):
পক্ষচীন বনাম ব্রিটেন। 
- কারণ: ব্রিটিশরা চীনে অবৈধভাবে আফিম (এক ধরনের মাদক) বিক্রি করছিল। চীনা সরকার এটি বন্ধ করতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
- ফলাফল: ব্রিটেন জয়ী হয় এবং চীনকে নানান বাণিজ্যিক সুবিধা ও হংকং দ্বীপ ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তর করতে হয়।

দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ (১৮৫৬–১৮৬০): 
- পক্ষ: চীন বনাম ব্রিটেন ও ফ্রান্স
- এটি আবারও চীনের বিরুদ্ধে আফিম বাণিজ্য ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে শুরু হয়।
- ব্রিটেন ও ফ্রান্স জয়লাভ করে, এবং তারা আরও বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা ও কূটনৈতিক অধিকার অর্জন করে চীনের ভেতরে।

ফলাফল:
- বিদেশি দেশগুলো চীনের ওপর প্রভাব বাড়িয়ে নেয়।
- চীনকে অনেক ক্ষতিকর চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যেগুলোকে 'অবমাননাকর চুক্তি' (Unequal Treaties) বলা হয়।
- চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে।

উৎস: Britannica.

৪৩৯.
স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব কোন বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিল?
  1. ফরাসি বিপ্লব
  2. রুশ বিপ্লব
  3. শিল্প বিপ্লব
  4. গৌরবময় বিপ্লব
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব দশ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- এই বিপ্লবের মূলমন্ত্র ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এ সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।
- লেখনীর মাধ্যমে বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস-৪, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু কোন দেশের আক্রমণের মাধ্যমে?
  1. জাপানের আক্রমণ মার্কিন বন্দরে
  2. জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ
  3. ইতালির আফ্রিকা আক্রমণ
  4. সোভিয়েত ইউনিয়নের ফিনল্যান্ড আক্রমণ
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- অক্ষশক্তির প্রধান দেশগুলো ছিলো: জার্মানি, জাপান, ও ইতালি।
- মিত্রশক্তির প্রধান দেশগুলো ছিলো: ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি।
- ৮ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়।
- ৭ মে ১৯৪৫ সালে জার্মানি মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
- এই যুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত, যার ফলে ৭০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়; অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম ।
৪৪১.
‘অপারেশন সার্চ সোর্ড’ কোন দুটি দেশের যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধ
  2. চীন - জাপান যুদ্ধ
  3. ইরান - ইরাক যুদ্ধ
  4. ইসরাইল - ফিলিস্তিন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
‘অপারেশন সার্চ সোর্ড:
- ‘অপারেশন সার্চ সোর্ড’ ইরান-ইরাক যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত।
- ইরান-ইরাক যুদ্ধের অষ্টম দিনে অপারেশন স্কোর্চ সোর্ড শুরু হয়।
- ইরান-ইরাক যুদ্ধ, (1980-88), 1980-এর দশকে ইরান ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘর্ষ।
- ১৯৮৮ সালের যুদ্ধবিরতি দ্বারা যুদ্ধ শেষ হয়, যদিও ১৬ আগস্ট, ১৯৯০-এ একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় শুরু করা এবং সেনা প্রত্যাহার করা হয়নি।

উৎস: ব্রিটানিকা.কম।
৪৪২.
'হলোকাস্ট' হিসেবে চিহ্নিত করা হয় কোনটিকে?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়নের স্টালিন যুগের নিপীড়ন
  2. হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা হামলা
  3. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাপরাধ
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যা
ব্যাখ্যা

হলোকাস্ট:
- হলোকাস্ট ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ও তার সহযোগীদের দ্বারা পরিচালিত ইহুদি গণহত্যা।
- এই সময় প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি পুরুষ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়।
- এছাড়াও লক্ষ লক্ষ রোমা (জিপসি), প্রতিবন্ধী, সমকামী, রাজনৈতিক বিরোধী ও অন্যান্য গোষ্ঠীর লোকও শিকার হয়েছিল।
- এটিকে নাৎসিরা 'ইহুদি সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান' (Final Solution) নামে অভিহিত করত।
- আউশভিৎজ, ট্রেবলিঙ্কা, সোবিবোরের মতো মৃত্যুশিবিরে গ্যাস চেম্বার ও ক্রিমেটরিয়াম ব্যবহার করা হয়।
- অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি আদর্শে ইহুদিদের "অধঃস্তন জাতি" (Untermenschen) ও জার্মান জাতির শত্রু হিসেবে দেখা হতো।
- এটি জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব (Aryan supremacy), Lebensraum (জীবনস্থান) ও ইহুদি-বিদ্বেষের (antisemitism) উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।
- নাৎসি জার্মানির রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে ইহুদি জাতির প্রায় পুরো ইউরোপীয় অংশকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল।
- এটি শুধু যুদ্ধের অংশ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র জাতিগত যুদ্ধ ছিল।

তথ্যসূত্র - Bitannica.com

৪৪৩.
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া প্রথম ইউক্রেন আক্রমণ করে কবে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  2. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  3. ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  4. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
ব্যাখ্যা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:
- ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া।
- মূলত, রাশিয়ার বলয় থেকে বেরিয়ে ইউক্রেনের পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষা ঘিরে রূপ নেয় চূড়ান্ত সংঘাতে।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের সূত্রপাত করে।
- বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৬০ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতিও।
- কিয়েভের দাবি যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৮ লাখেরও বেশি রুশ সেনা।
- আর মস্কো বলছে- অন্তত সাত লাখ ইউক্রেনীয় সেনার প্রাণ গেছে তাদের হামলায়।

তথ্যসূত্র- নিউজ প্রতিবেদন। [Link]
৪৪৪.
ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় কাকে?
  1. জন লককে
  2. নেপোলিয়ানকে
  3. রুশোকে
  4. ভলতেয়ারকে
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব:
- আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
- চতুর্দশ লুইয়ের শাসনামলে (১৬৫১-১৭১৫ খ্রি.) ফ্রান্স একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- তবে তার সাম্রাজ্যবাদী নীতি দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
- তার পুত্র পঞ্চদশ লুই (১৭১৫-১৭৭৪ খি.) এর অমিতব্যায়িতা জন্য এই দুর্বলতা আরও বৃদ্ধি পায়।
- ষোড়শ লুই ১৭৭৪ সালে সিংহাসনে বসে ক্রমশ এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।
- আর্থ সামাজিক বৈষম্য রাজনৈতিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭৮৯ সলে এক বিষ্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
- ঐতিহাসিক আলফ্রেড কোবান (Alfred Cobban) এই অবস্থাকে অনেক ছোট বড় খরস্রোতা নদীর সংমিশ্রণে হঠাৎ ফুলে ফেঁপে ওঠা বিধ্বংসী বন্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন। 
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল কারাদুর্গ আক্রমণ ও এর পতনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় যা বিখ্যাত হয়েছে ফরাসি বিপ্লব নামে।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় - নেপোলিয়ানকে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
ইয়েমেনে যুদ্ধরত বিদ্রোহীগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) পলিসারিও ফ্রন্ট
  2. খ) তানজিম আল জিহাদ
  3. গ) হুথি আনসারুল্লাহ
  4. ঘ) মরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
- সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথি আনসারুল্লাহ বিদ্রোহীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।
- ২০১৪ সালে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদির সাথে হুথিদের বিরোধের ফলে হুথিরা ইয়েমেনের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়।
- এর ফলে মনসুর হাদির সমর্থনে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
- হুথিরা শিয়া মতালম্বী। এরা ইরান সরকারের নিকট থেকে সকল ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকে।
অন্যদিকে,
- পলিসারিও ফ্রন্ট : পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীগোষ্ঠী
- তানজিম আল জিহাদ : আল কায়েদার ইরাকি শাখা
- মরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট : ফিলিপাইনের মুসলিম গেরিলা সংগঠন।
(তথ্যসূত্রঃ মিডল ইস্ট মনিটর)
৪৪৬.
ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে কোন দুর্গের পতন ঘটে?
  1. বাস্তিল দুর্গ
  2. ভার্সাই দুর্গ
  3. নটরডেম দুর্গ
  4. ফন্টেইনব্লু দুর্গ
ব্যাখ্যা

ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৪৪৭.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল কোনটি?
  1. বেলজিয়াম
  2. জার্মানি
  3. অস্ট্রিয়া
  4. বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

⇒ যুদ্ধে অক্ষ শক্তিজোট:
- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।

⇒ মিত্রশক্তি জোট:
- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & History.com

৪৪৮.
বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) জোসেফ স্ট্যালিন
  2. খ) আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি
  3. গ) মিখাইল গর্বাচেভ
  4. ঘ) ভ্লাদিমির লেনিন
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব (Russian Revolution)
▪ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় জারতন্ত্রের উচ্ছেদের জন্য বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লবের ফলে বিশ্বের বুকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
▪ রাশিয়া ও বিশ্ব ইতিহাসে ১৯১৭ সালে সংঘটিত এই বিপ্লব রুশ বিপ্লব (Russian Revolution) নামে পরিচিত।
▪ ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে “১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব” (Russian Revolution of 1917) বলা হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় যে দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয় সেগুলো হচ্ছে - 

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে - রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন - আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে - রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন - ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।
৪৪৯.
জাপান কত সালে পার্ল হারবারে আক্রমন করে?
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা

• পার্ল হারবার:
১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানি সাম্রাজ্য হাওয়াইয়ান নৌঘাঁটি পার্ল হারবার আক্রমণ করে ।
এই আক্রমণের একটি কারণ ছিল চীন , ভিয়েতনাম , কম্বোডিয়া এবং লাওয়া মতো দেশগুলিতে জাপানের আক্রমণের পর জাপানের উপর আরোপিত আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা ।
পার্ল হারবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়।
তাছাড়া, আক্রমণের মাত্র কয়েকদিন পরেই হিটলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় সংঘাতে জড়িত হয়।
ডানকার্কের বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের মতো, এখানে হিটলারের যুক্তির পিছনে যুক্তি অস্পষ্ট।
সোভিয়েত ইউনিয়নে জার্মানির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত অবস্থানের কারণে, পূর্ব ফ্রন্ট থেকে যেকোনো সম্পদ সরিয়ে নেওয়া খুব একটা যুক্তিসঙ্গত ছিল না।
যুক্তি যাই হোক না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উভয় যুদ্ধেই জড়িত ছিল।

উৎস: worldatlas.com.

৪৫০.
কোন বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয়?
  1. রোজ বিপ্লব
  2. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব
  3. টিউলিপ বিপ্লব
  4. অরেঞ্জ বিপ্লব
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে '১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।

⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

অন্যদিকে,
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।

উৎস: Britannica.
৪৫১.
শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করা হয় কত সালে?
  1. ১৮৩০
  2. ১৮৩৫
  3. ১৮৩৭
  4. ১৮৩৯ 
ব্যাখ্যা

• শিল্পবিপ্লব:
- আঠার শতকের মধ্যভাগে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয়।
- শিল্পবিপ্লব আঠারো শতকের শেষদিকে এসে শিল্পোৎপাদন ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় সাধারণভাবে তা শিল্পবিপ্লব নামে পরিচিত।
- ১৮৩৭ সালে শিল্প বিপ্লব কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি সমাজতান্ত্রিক লেখক জেরোমি ব্লাংকি।
- এটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে ১৮৮১ সালের দিকে। তখন ইংরেজ বিখ্যাত ইতিহাস গবেষক আর্নল্ড জে. টয়েনবি অক্সফোর্ডে দেয়া তাঁর বক্তৃতামালায় এই কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন।
- এ বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রধান শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশটির সমৃদ্ধির ভিত্তি রচিত হয়।
- রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শিল্প বিপ্লব বিশ্বের নানা দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস:  ইতিহাস ২য় পত্র  (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৪৫২.
বাস্তিল দুর্গ পতনের সময় ফ্রান্সের রাজা কে ছিলেন?
  1. সপ্তম লুই
  2. ষোড়শ লুই
  3. চতুর্দশ লুই
  4. দ্বাদশ লুই
ব্যাখ্যা
- বাস্তিল দুর্গ পতনের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন রাজা ষোড়শ লুই (King Louis XVI)।

বাস্তিল দুর্গ:
- বাস্তিল দুর্গ ফরাসি বিপ্লবের (French Revolution) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের জনগণ এই দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করে।
- এটি ছিল রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন ও নিপীড়নের প্রতীক।
- বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়।
- ফ্রান্সে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ শুরু হয় এবং অভিজাততন্ত্রের অবসান ঘটতে থাকে।
- ১৪ জুলাই ‘বাস্তিল দিবস’ হিসেবে ফ্রান্সে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাস্তিল দুর্গের পতনের ফলে রাজা ষোড়শ লুই-এর স্বৈরশাসনের অবসান হয়।
- রাজা জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দেন এবং এই সময় থেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা আইনসভার হাতে চলে যায়।

সূত্র: Britannica.
৪৫৩.
D-Day বলতে বোঝানো হয় -
  1. অবতরণ দিবস
  2. আক্রমণ দিবস
  3. পলায়ন দিবস
  4. যুদ্ধ বিরতি দিবস
ব্যাখ্যা
D-Day:
- ১৯৪৪ সালের ৬ জুন ফ্রান্সে মিত্রপক্ষের সেনাবাহিনীর অবতরণের দিন স্থির হয়।
- এই দিনটিকে বলা হয় ডি ডে বা মুক্তি দিবস।
- ৬ জুন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে চার হাজারেরও বেশি জাহাজে করে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার মিত্রবাহিনীর সেনা নর্মান্ডি উপকূলে অবতরণ করে।
- তাদের নিরাপত্তার জন্য ১১ হাজার বিমান প্রস্তুত রাখা হয়।
- মিত্র পক্ষের সেনাবাহিনীতে আমেরিকান, ইংরেজ, কানাডীয়, ওলন্দাজ, পোল নরওয়েজিও, ফরাসি ও গ্রিক সৈনিক ছিল।
- ডি দিবস (D Day) বা অবতরণ দিবসের দিন ধার্য হয় ১৯৯৪ সালের ১ জুন।
- কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য পিছিয়ে ৬ জুন করা হয়।
- এই সুবিশাল সামরিক অভিযানের নেতা ছিরেন আমেরিকান সেনাপতি আইজেনহাওয়ার।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস-২, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৫৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোন দেশটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) স্পেন
  3. গ) চীন
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাত ঘটে।
- জার্মানি, জাপান ও ইতালির মিলিত অক্ষশক্তি এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশের সমন্বয়ে গঠিত মিত্রশক্তির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৯৪৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অক্ষশক্তির প্রথম দেশ হিসেবে ইতালি মিত্রশক্তির নিকট আত্মসমর্পণ করে।
- ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলার আত্মহত্যা করার পর ৮ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে। এতে করে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
অন্যদিকে,
- স্পেন, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন প্রভৃতি দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ বা মিত্র শক্তির পক্ষাবলম্বন না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৪৫৫.
১৯১৪ সালে সংঘটিত হওয়া প্রথম বিশ্বযৃদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কোন দেশের?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ইতালি
  3. গ) অস্ট্রিয়া
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

- গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বিশ্বের পরাশক্তি এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৮ জুলাই ১৯১৪ থেকে ১১ নভেম্বর ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- “The Great War” নামে ইতিহাসে পরিচিত এই বিশ্বযুদ্ধ।
- এই ‍যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের প্রাণ নাশ হয়।
- সবচেয়ে বেশি ৩৭ লাখ মারা যায় রাশিয়ার।
- অক্ষশক্তি আর মিত্রশক্তি এই দুইভাগে বিভক্ত হয় সব দেশগুলো।
- অক্ষশক্তি ছিলো: জার্মানী, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
- অপরদিকে মিত্র শক্তি ছিলো রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া, বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।

সূত্র: Britianica.com

৪৫৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন কোরিয়া কোন দেশের অধীনে ছিল?
  1. রাশিয়া
  2. পর্তুগাল
  3. ফ্রান্স
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

- ১৯০৫ সালে জাপান কোরিয়া দখলে নিয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় কোরিয়া জাপানের অধীনে ছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ কোরিয়া উপদ্বীপকে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণাধীন উত্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করে।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা

৪৫৭.
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়েছিল? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০ দিন
  2. ১২ দিন
  3. ১৩ দিন
  4. ১৪ দিন
ব্যাখ্যা

• ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ:
- ১৩ জুন ইরানে  ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়।
- ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়ে যায়।
- ২৩ জুন ইরান কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বিরতির কথা জানান ২৪ জুন।
- ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে উভয়ের দেশেরই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে উভয় দেশের।

উল্লেখ্য,
- ১৩ জুন ২০২৫  ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের ছয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, ৯ পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ২৯ জন।
- পাল্টা জবাবে ইরান শতাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যার কিছু তেল আবিবে আঘাত হানে– ৩৫ জন হতাহত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে। (Link)

৪৫৮.
ফকল্যান্ড যুদ্ধে বিজয়ী হয় কোন দেশ?
  1. আজের্ন্টিনা
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: Britannica & History.com.
৪৫৯.
Which of the following is related to the 4th industrial revolution?
  1. Internet of Things
  2. Blockchain
  3. Robotics
  4. Artificial intelligence
  5. Above all
ব্যাখ্যা
৪র্থ শিল্প বিপ্লব:
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ (Industry ৪.০) হলো আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত উৎপাদন এবং শিল্প ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণের একটি চলমান প্রক্রিয়া।
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–এর উৎপত্তি ২০১১ সালে জার্মান সরকারের একটি হাইটেক প্রকল্প থেকে।
- একে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোইয়াব।
- এ বিপ্লবকে ডিজিটাল বিপ্লব কিংবা ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ নামেও অভিহিত করা হয়।
- অন্যান্য শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান পার্থক্য হচ্ছে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্পবিপ্লব শুধু মানুষের শারীরিক পরিশ্রমকে যন্ত্র ও প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে দ্রুততর করেছে।
- কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিশ্রমকে আরো বেশি গতিশীল ও নিখুঁত করে তুলেছে।

উল্লেখ্য,
- চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো: সেলফ–অপটিমাইজেশন, সেলফ–কনফিগারেশন, সেলফ–ডায়াগনজ, কগনিশনের প্রবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান জটিল কাজে কর্মরত কর্মীদের বুদ্ধিদীপ্ত সহায়তায় প্রয়োজনীয় স্বয়ংক্রিয়করণ প্রযুক্তির নবতর বিকাশ।
- ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ডিজিটাল টেকনোলজি এবং জীববিজ্ঞানের প্রভূত উন্নয়ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি।
- মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লানিং, রোবোটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডেটা অ্যানালাইটিক, হরিজন্টাল ও ভার্টিক্যাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, জিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ইত্যাদির সমন্বয়ে আজকের বিশ্বে যে দ্রুত পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করছি তাই হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব।

উৎস: i) The World Economic Forum ওয়েবসাইট।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬০.
ওকিনাওয়া দ্বীপটি ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় কোন দেশের দখলে ছিল?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
জাপানের একটি বিখ্যাত দ্বীপ ওকিনাওয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটি দখল করে নেয়। ১৯৭২ সালে দ্বীপটি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের কাছে ফেরত দেয়।
উৎসঃ জাপানের সরকারি ওয়েবসাইট।
৪৬১.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপ্তিকাল কোনটি?
  1. ১৯০৪ - ১৯০৮ সাল
  2. ১৯১৫ - ১৯১৯ সাল
  3. ১৯১৪ - ১৯১৮ সাল
  4. ১৯১৪ - ১৯২৯ সাল
ব্যাখ্যা
একনজরে- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I):

সময়কাল: ২৮ জুলাই ১৯১৪ - ১১ নভেম্বর ১৯১৮।
স্থান: ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য।

যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পক্ষসমূহ:
অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
মিত্রশক্তি: রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।
ফলাফল: মিত্রশক্তি বিজয়ী হয়।

প্রধান তথ্য:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে সংঘটিত একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, যেখানে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রধানত ইউরোপে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।
- এটি "মহাযুদ্ধ" বা "The Great War" নামে ইতিহাসে পরিচিত।
- মানবিক ক্ষতি: চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
- রাশিয়ায় সর্বোচ্চ, প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।
- যুদ্ধের ফলে ইউরোপের বহু দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অর্থনৈতিকভাবে অনেক দেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।
 
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
৪৬২.
ট্রাফালগার যুদ্ধের (Battle of Trafalgar) সাথে কার নাম জড়িত?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) জোয়ান অব আর্ক
  3. গ) অ্যাডমিরাল নেলসন
  4. ঘ) রডারিক ফার্দিনান্ড
ব্যাখ্যা
- ট্রাফাগাল যুদ্ধ ছিলো ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী নৌযুদ্ধ। ফ্রান্স ও স্পেনের মিলিত নৌশক্তির সাথে লড়াই করে অ্যাডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটেন এই যুদ্ধে জয় লাভ করে।
- ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর স্পেন উপকূলে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ট্রাফাগাল যুদ্ধ জয় এবং নেলসনের প্রতি সম্মান জানাতে লন্ডনে নেলসনের সমাধির পাশে ট্রাফাগাল স্কয়ার নির্মিত হয়।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৪৬৩.
ইহুদিরা কবে ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
ইসরাইল:
- মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি দেশ ইসরাইল।
- রাজধানী: জেরুজালেম।
- মুদ্রা: শেকেল।
- ইসরাইলের ভাষা হিব্রু।
- ফিলিস্তিন অংশের ভূমি দখল করে রাষ্ট্র গঠন করে ইসরাইল।
- মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টান এই তিন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রভূমি ফিলিস্তিনের জেরুজালেম।
- বেলফোর ঘোষণা ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ব্রিটিশ ও মার্কিনদের সহায়তায় ইহুদিরা ফিলিস্তিনের আরব ভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- তারাই একমাত্র দেশ যারা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সরাসরি নাগরিকত্ব দেয়।
- গোয়েন্দা সংস্থা: মোসাদ, আমান।
- ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ডেভিড বেন গুরিয়েন।

উল্লেখ্য,
- ইসরায়েলের স্বপ্নদ্রষ্টা অস্ট্রিয়ান সাংবাদিক থিওডর হার্জেল।
- ইহুদিবাদ অন্দোলনের প্রবক্তা থিওডোর হার্জল।
- যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।
- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আরব দেশ মিসর।
- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ তুরস্ক।

উৎস: i) Britannica.
ii) ১৪ নভেম্বর, ২০২৩, Al Jazeera.
৪৬৪.
'জোয়ান অব আর্ক' কে ছিলেন?
  1. বৃটেনের সেনাপতি
  2. ফ্রান্সের সেনাপতি
  3. সুইডেনের সেনাপতি
  4. বাংলার সেনাপতি
ব্যাখ্যা
জোয়ান অব আর্ক
- এক জন ফরাসি বীর যোদ্ধা, সেনাপতি ও বিপ্লবী।
- ব্রিটিশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন এই বীর কন্যা। 
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাকে পুড়িয়ে মারা হয়।
- এই শহীদ মহানায়িকার আদর্শকে ধারণ করে পরবর্তিতে ঐতিহাসিক শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধে ফ্রান্সের কাছে ইংল্যান্ড পরাজিত হয়।
- জোয়ান অব আর্ক জন্মগ্রহণ করেন ১৪১২ সালে ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বে ডমরেমি অঞ্চলে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে।
- শৈশবে তিনি ছিলেন খুব ধার্মিক একজন কিশোরী।
- তিনি এমন এক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড যুদ্ধের কারণে চরম দরিদ্রতা বিরাজ করছিল।
- শৈশবের ওই সময়ে বাবা জেকের খামার থেকে তিনি কৃষি কাজ শেখেন এবং মা ইসাবেলর কাছ থেকে শেখেন সেলাইর কাজ।
- তবে বারো বছর বয়সে তিনি রহস্যময় জীবন শুরু করেন।
- কেননা তিনি বলতে থাকেন যে, তিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে ফ্রান্সকে পুনর্গঠন করার নির্দেশ পেয়েছেন।
- এটি ছিল তার ‘বিশ্বাস’। সেই বিশ্বাস থেকে তিনি দেশের জন্য যুদ্ধে অংশ নেয়ার লক্ষ্য স্থির করেন।
- এই সময় বিখ্যাত ফরাসি ধর্মগুরু সেইন্ট মাইকেল ও সেইন্ট ক্যাথরিনের কাছ থেকে তিনি ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেয়ার উৎসাহ পান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৬৫.
৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয়েছিল?
  1. ৬ দিন
  2. ৮ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১২ দিন
ব্যাখ্যা
আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৪৬৬.
সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষ কোন দেশ?
  1. ফ্রান্স
  2. পর্তুগাল
  3. রাশিয়া
  4. সুইডেন
ব্যাখ্যা
সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ
- সাত বছরের যুদ্ধ (১৭৫৬ - ১৭৬৩) ইউরোপের সবগুলো বড় শক্তিকেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করেছিল।
- এই যুদ্ধে ৯০০,০০০ থেকে ১,৪০০,০০০ জন মানুষ মারা গিয়েছিল।
- উল্লেখিত সময়কালের মধ্যে ইউরোপের মূলভূমি এবং উপনিবেশ, সকল স্থানেই ছোটবড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৭৫৪ থেকে ১৭৬৩ সালের মধ্যে সংঘটিত পমেরানীয় যুদ্ধ এবং ফরাসি ও ইন্ডিয়ান যুদ্ধকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- প্রুশিয়া, Electorate Brunswick-Lüneburg এবং যুক্তরাজ্যের (আমেরিকায় ব্রিটিশ উপনিবেশ, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও আয়ারল্যান্ড সহ) সাথে যুদ্ধ বেধেছিল অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স (আমেরিকায় ফরাসি উপনিবেশ এবং ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সহ), রুশ সম্রাজ্য, সুইডেন এবং স্যাক্সনির।
- পরবর্তীতে পর্তুগাল ব্রিটেনের পক্ষে এবং স্পেন ফ্রান্সের পক্ষে যুদ্ধ জড়িয়ে পড়ে।
- এছাড়া ভারতে নেদারল্যান্ডের একটি নিরপেক্ষ বাহিনী আক্রমণের শিকার হয়েছিল।
- এ যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষ: প্রুশিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, পর্তুগাল, হ্যানোভার। 
- বিপক্ষ শক্তি: ফ্রান্স, রাশিয়া, স্পেন, সুইডেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৬৭.
ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ কোন মহাদেশে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরোপ
  3. আফ্রিকা
  4. এশিয়া
ব্যাখ্যা
Thirty years war:
- ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধ ছিল ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দ - ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত একটি দীর্ঘমেয়াদি অনুক্রমিক যুদ্ধ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ইউরোপে প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- ধর্মই এই যুদ্ধের একমাত্র কারণ ছিলো তা নয়, বরং ধর্ম এবং রাজনীতি উভয় কারণে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে এটি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হয়। এই যুদ্ধে প্রোটেস্টান্ট এবং ক্যাথলিক উভয়েই তাদের নিজস্ব শক্তি বজায় রেখে এগিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

⇒ যুদ্ধের প্রধান পর্যায়সমূহ:
- বোহেমিয়ান পর্ব (১৬১৮-১৬২৫): এটি ছিল প্রথম দফার যুদ্ধ, যা মূলত বোহেমিয়া (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) অঞ্চলে শুরু হয়। এখানে ক্যাথলিক এবং প্রটেস্ট্যান্টদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
- ডেনিশ পর্ব (১৬২৫-১৬২৯): ডেনমার্কের রাজা ক্রিস্টিয়ান চতুর্থ প্রটেস্ট্যান্টদের সমর্থন জানিয়ে যুদ্ধের মধ্যে যোগ দেয়, কিন্তু হাবসবার্গরা তাদের পরাজিত করে।
- সুইডেনের অংশগ্রহণ (১৬৩০-১৬৩৫): সুইডেনের রাজা গুস্তাভাস আদলফাস প্রটেস্ট্যান্টদের পক্ষে যুদ্ধ করে, কিন্তু তার মৃত্যুতে যুদ্ধের পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
- ফরাসি পর্ব (১৬৪২-১৬৪৮): ফ্রান্স, যদিও ক্যাথলিক দেশ, তবে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থে হাবসবার্গদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং যুদ্ধটি আরও দীর্ঘায়িত হয়।

• ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি এর মাধ্যমে ত্রিশবছরব্যাপী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে প্রটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্রগুলি ধর্মীয় স্বাধীনতা পায়, ফ্রান্সকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং ইউরোপে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়, অস্ট্রিয়ার হাবসবার্গ সম্রাটদের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
কোন দেশে Yellow Vest (ইয়েলো ভেস্ট) আন্দোলন হয়েছিলো?
  1. ফ্রান্স
  2. সিরিয়া
  3. নেপাল
  4. ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
Yellow Vest আন্দোলন:
- Yellow Vest (ইয়েলো ভেস্ট) আন্দোলন ফ্রান্সে হয়েছিলো।
- এই আন্দোলনটি ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের একটি প্রতিবাদ আন্দোলন,
- যা ২০১৮ সালে জ্বালানি তেলের ওপর পরিবেশ কর আরোপের বিরোধিতা করে শুরু হয়েছিল।
- আন্দোলনকারীরা সাধারণত ট্যাক্সিচালকদের ব্যবহৃত হলুদ জ্যাকেট পরে প্রতিবাদ করেন,
- যার ফলে আন্দোলনের নাম হয় 'ইয়েলো ভেস্ট'।
- আন্দোলনটি মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরোধিতা এবং
- প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের লক্ষ্যে সংগঠিত হয়েছিল।

সূত্র: প্রথম আলো ও আল জাজিরা।
৪৬৯.
ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের ব্যাপ্তিকাল কত? 
  1. ১০৫০-১২০০
  2. ১২০০-১৩৫০
  3. ১০৯৬-১২৯১
  4. ১০০০-১১০০
ব্যাখ্যা

• ক্রুসেড: 
- ১০৯৪ সালে সেলজুকগণ অভিযান চালিয়ে বাইজানটাইন রাজধানী কনস্টানটিনোপোলের নিকটবর্তী হলে সম্রাট আলেকসিয়াস কমনেনাস আতঙ্কিত হয়ে পোপের নিকট সাহায্যের আবেদন করেন। 
- পোপ দ্বিতীয় আরবান জেরুজালেমসহ এশিয়া মাইনর পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১০৯৫ সালে ফ্রান্সের ক্লেরমোন্ট শহরে আহূত এক সম্মেলনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধের আহ্বান করেন। 
- ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গ লাভের আশ্বাস দেয়া হয়। 
- ১০৯৬ সালে সালে প্রথম ক্রুসেড শুরু হয় এবং সর্বমোট ৮টি পর্বে ক্রুসেড সম্পন্ন হবার পর ১২৯১ সালে পরিসমাপ্তি ঘটে। 
- ধর্মযুদ্ধে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের ধর্মযোদ্ধাগণ অংশগ্রহণ করে।  
- ক্রুসেডের সময় এশিয়া মাইনর, এডেসা, এন্টিয়ক, জাফফা, আক্কা, সিডন, বৈরুত, ত্রিপলি, জেরুজালেম, আলেপ্পো, মসুল, হাররান, হিডিন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। 
- প্রায় দুশ বছর ব্যাপী ধর্মযুদ্ধ জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমে মুসলিমরা আধিপত্য বহাল রাখতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৪৭০.
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে কোন যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাহিত করা হয়?
  1. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
  2. ২য় বিশ্বযুদ্ধ
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি:
- কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের ৭৩৭ জন সৈনিককে এখানে সমাহিত করা হয়।
- সম্প্রতি নিহত ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ ৮১ বছর পর জাপানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
- কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার এ যুদ্ধসমাধি ঐতিহাসিক স্থান।

উল্লেখ্য,
- কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৭৩৮ জন সেনাকে সমাহিত করা হয়।
- ১৩টি দেশের ৭৩৭ জন যোদ্ধার মধ্যে ইসলাম ধর্মের ১৭২ জন, বৌদ্ধধর্মের ২৪ জন, হিন্দুধর্মের ২ জন ও বাকিরা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী।
- এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৩৫৭ জন, কানাডার ১২, অস্ট্রেলিয়ার ১২, নিউজিল্যান্ডের ৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ১, অবিভক্ত ভারতের ১৭১, রোডেশিয়ার ৩, পূর্ব আফ্রিকার ৫৬, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬, বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) ১, বেলজিয়ামের ১, জাপানের ২৪ জন এবং পোল্যান্ডের ১ জনের সমাধি আছে।
- প্রতি বছরের নভেম্বর মাসে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের হাইকমিশনারসহ তাঁদের প্রতিনিধিরা এই সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিহতদের স্মরণ করেন।
- সে ধারাবাহিকতায় এ বছরের ৯ নভেম্বর ১৩ দেশের কূটনীতিকেরা সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ।
৪৭১.
জেসমিন বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. সিরিয়া
  2. লিবিয়া
  3. মিশর
  4. তিউনিশিয়া
ব্যাখ্যা
জেসমিন বিপ্লব:
- ২০১১ সালে তিউনিশিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংগঠিত হয়।
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

অন্যদিকে -
⇒ নীল বিপ্লব:
- সংঘটিত হয় মিশরে ২০১১ সালে।

উৎস: Britannica.
৪৭২.
Uniting for peace resolution কত সালে পাশ হয়?
  1. ১৯৫০ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
কোরীয় যুদ্ধ:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ভাগ করে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক অধিকৃত অঞ্চল নিয়ে ‘উত্তর কোরিয়া’ গঠিত হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অধিকৃত অঞ্চল নিয়ে ‘দক্ষিণ কোরিয়া’ গঠিত হয়।
- ৩৮° সমান্তরাল রেখা বরাবর দুটি দেশের সীমান্ত নির্ধারিত হয়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।
- শুরু থেকেই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক বিরাজ করে।
- এই যুদ্ধকে  'the Forgotten War'  বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ১৯৫০-১৯৫৩ সাল।
▪ বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।
▪ যুদ্ধের ফলাফল: কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়। 
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে  'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
৪৭৩.
কোন যুদ্ধের পরে হংকং-এ ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) বক্সার যুদ্ধ
  2. খ) এট্রিশন যুদ্ধ
  3. গ) জল যুদ্ধ
  4. ঘ) আফিম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৯৩৯-১৮৪২ সাল পর্যন্ত আফিম যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ জয় লাভ করে ব্রিটেন পরাজিত হয় চীন। এই যুদ্ধে জয়লাভ করে হংকং-এ ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৪৭৪.
টিউলিপ বিপ্লব কোন দেশে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. জর্জিয়ায়
  2. ফ্রান্সে
  3. ইউক্রেনে
  4. কিরগিজস্থানে
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক বিপ্লবসমূহ:
- রোজ বিপ্লব: সংঘটিত হয় জর্জিয়ায় ২০০৩ সালে।
- আমেরিকান বিপ্লব: সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৭৬ সালে।
- ফরাসি বিপ্লব: সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
- রুশ বিপ্লব: সংঘটিত হয় রাশিয়ায় ১৯১৭ সালে।
- সাংস্কৃতিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় চীনে ১৯৬৬- ১৯৭৬ সালে।
- ইসলামিক বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইরানে ১৯৭৯ সালে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব: সংঘটিত হয় ইউক্রেনে ২০০৪ সালে।
- টিউলিপ বিপ্লব: সংঘটিত হয় কিরগিজস্থানে ২০০৫ সালে।
- নীল বিপ্লব: সংঘটিত হয় মিসরে ২০১১ সালে।
- জেসমিন বিপ্লব: সংঘটিত হয় তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে।

উৎস: Britannica.

৪৭৫.
কোন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীতদাস প্রথার অবসান ঘটে?
  1. ক) মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ
  2. খ) ব্রিটিশ যুদ্ধ
  3. গ) গেটিসবার্গ যুদ্ধ
  4. ঘ) ক্যালিফোর্নিয়া যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
গেটিসবার্গ যুদ্ধ

- সময়: ১-৩ জুলাই, ১৮৬৩ ।
- স্থান: গেটিসবার্গ, পেনসিলভেনিয়া। 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের পক্ষের ইউনিয়ন বাহিনী ও কনফেডারেট স্টেটস এর মাঝে যুুুুদ্ধটি সংগঠিত হয়।
- ফলাফল:
→ যুদ্ধে জয়লাভ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থাৎ ইউনিয়ন সেনা।
→ ক্রীতদাস প্রথার অবসান ঘটে।

- প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ২ মিনিটের বিখ্যাত গেটিসবার্গ ভাষণ দেন: ১৮৬৩ সালে।
- বিখ্যাত উক্তি: ‘Democracy is a government of the people, by the people and for the people.’ 


তথ্যসূত্র: হিস্টরি.কম।
৪৭৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বেলফোর ঘোষণা ১৯১৭-এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল,
  1. ক) জাতিপুঞ্জ সৃষ্টি করা
  2. খ) অটোমানদের জায়গা দখল করা
  3. গ) ইহুদিদের জন্য একটি জাতিরাষ্ট্র গঠন
  4. ঘ) জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্র শক্তির নতুন কৌশল অবলম্বন
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়ের ফলে অটোমান সাম্রাজ্যের হাত থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ব্রিটেনের অধিকারে আসে।
- ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর ইহুদিবাদী আন্দোলনের নেতা রথসচাইল্ডকে একটি চিঠির মাধ্যমে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্যে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটেনের সহায়তার কথা জানান।
- তার এই চিঠিই ইতিহাসে বেলফোর ডিক্লারেশন নামে পরিচিত।
- এই ঘোষণার ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে জোরপূর্বক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ আল জাজিরা ও হিস্টোরি ডটকম)
৪৭৭.
'আরব বসন্ত' বলতে কী বুঝায়?
  1. আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
  2. আরব অঞ্চলে বসন্তকাল
  3. আরব রাজতন্ত্র
  4. আরবীয় মহিলাদের ক্ষমতায়ন
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিসিয়ায়।
- তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশ।
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- প্রথমে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়।
- পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়।
- এক হিসাবে বলা হয় আরব বসন্তের ফলে মাত্র পৌনে দুই বছরে লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের মোট ক্ষতি হয়েছে দুই হাজার ৫৬ কোটি ডলার।

উৎস: Britannica.
৪৭৮.
'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' কী নামে পরিচিত?
  1. প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ
  3. তৃতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ
  4. চর্তুথ ইন্দোচীন যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ভিয়েতনাম যুদ্ধ দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ নামে পরিচিত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ:
- ১ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শুরু হয়।
- যা প্রায় ২০ বছর ধরে চলে।
- ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সমাজতান্ত্রিক উত্তর ভিয়েতনাম কর্তৃক মার্কিন সমর্থনপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামকে দখলের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে উত্তর ভিয়েতনাম ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ যুদ্ধে ৫৮,০০০ মার্কিন সৈন্যসহ ২০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম।
৪৭৯.
'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম' কোন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল?
  1. ভিয়েতনাম যুদ্ধ
  2. উপসাগরীয় যুদ্ধ
  3. ইরাক যুদ্ধ
  4. আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে ইরাকের কুয়েত দখলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযান পরিচালনা করে। 

​অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম:
– ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামের এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইরাক এবং ৩৪টি দেশের যৌথ বাহিনীর মধ্যে।
– ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট বিপুল সেনাবাহিনী নিয়ে কুয়েত হামলা শুরু করে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী।
– ৮ আগস্ট কুয়েতকে ইরাকের ১৯তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে বাগদাদ।
– ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে কুয়েত ও ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী।
– উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের আগ্রাসন থেকে কুয়েতকে মুক্ত করা।
– ২৮ ফেব্রুয়ারী ইরাকি বাহিনী পরাজয় বরণ করে।
– প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ নামেও পরিচিত।

সূত্র: প্রথম আলো রিপোর্ট ও Britannica.  

৪৮০.
ভেলভেট ডিভোর্স-এর ফলে কোন দু'টি দেশের জন্ম হয়?
  1. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  2. সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া
  3. চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া
  4. পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি
ব্যাখ্যা

ভেলভেট ডিভোর্স:
- ভেলভেট ডিভোর্স-এর ফলে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার জন্ম হয়।

• 'ভেলভেট ডিভোর্স' বলতে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার শান্তিপূর্ণ বিভক্তিকে বোঝায়।
- ১৯৯২ সালের নভেম্বরে ফেডারেল আইনসভা চেকোস্লোভাকিয়াকে বিভক্ত করার পক্ষে ভোট দেয়।
- পৃথক সংবিধান প্রণয়নের পর ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। এগুলো হলো: চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া।
- এটি ইতিহাসে ভেলভেট নামে পরিচিত কারণ বিচ্ছেদটি সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ছিল। এখানে কোনো যুদ্ধ বা সহিংসতা হয়নি।

উল্লেখ্য,
ভেলভেট বিপ্লব:
- 'ভেলভেট বিপ্লব' হলো চেকোস্লোভাকিয়ায় সংঘটিত একটি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন। 
- ১৯৮৯ সালের ১৭ নভেম্বর – ২৯ ডিসেম্বর এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
- এর মাধ্যমে দেশটিতে ৪১ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: Britannica.

৪৮১.
ওয়াটার লু’র যুদ্ধে কার কাছে নেপোলিয়নের পরাজয় হয়?
  1. ডিউক অব মার্লবোরো
  2. ডিউক অব রিচমন্ড
  3. ডিউক অব ওয়েলিংটন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াটার লু’র যুদ্ধ:
– ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে নেপোলিয়ন ফ্রান্সের সম্রাট হন।
– ১৮১৪ সালে প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়াসহ বেশ কিছু দেশের সেনাবাহিনী ফ্রান্স আক্রমণ করে এবং নেপোলিয়নকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেন্ট এলবা দ্বীপে নির্বাসন দেয় (প্রথম নির্বাসন) ।
– তবে তিনি আবার ফ্রান্সের ক্ষমতায় আসেন।
– ১৮১৫ সালের ১৮ জুন ওয়াটার লু’র যুদ্ধ সংঘটিত হয় বেলজিয়ামের ওয়াটারলু নামক স্থানে।
– নেপোলিয়ন প্রায় ৭২ হাজার সৈন্য নিয়ে ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলির নেতৃত্বে ৬৮ হাজার সৈন্যবিশিষ্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হন।
– ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বাহিনী ও সম্মিলিত ব্রিটিশ-প্রুশিয়ান বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়।
– ওয়াটার লু’র যুদ্ধে ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে নেপোলিয়নের পরাজয় হয় এবং নেপোলিয়ন শাসনের অবসান ঘটে।
– এরপর তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় (দ্বিতীয় নির্বাসন) ।

উৎস: i) কালের কণ্ঠ।
ii) Britannica.
৪৮২.
রেনেসাঁর সূত্রপাত হয় - 
  1. ইতালিতে 
  2. ফ্রান্সে 
  3. ইংল্যান্ডে 
  4. জার্মানিতে 
ব্যাখ্যা

 রেনেসাঁ:
- রেনেসাঁ মানে হলো পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ।
- মধ্যযুগে ইউরোপের সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির পুনর্জাগরণকে রেনেসাঁ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে প্রথম রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ইতালির অন্যান্য শহর এবং ইউরোপের অপরাপর দেশে বিস্তার লাভ করে।
- ইউরোপে রেনেসাঁ শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীতে।
- ১৪শ থেকে ১৬শ শতককে রেনেসাঁর সময়কাল বিবেচনা করা হয়।
- তৎকালীন সময়ে ইউরোপীয় বিত্তবান ও ধনিক শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতার ফলে রেনেসাঁ সংঘটিত হয়।

উৎস: Britannica.com

৪৮৩.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তি ছিল কোন দেশ?
  1. সার্বিয়া
  2. তুরস্ক
  3. বুলগেরিয়া
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
♦প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোেতে
- আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ সাল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৪৮৪.
কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিল?
  1. ক) সাংস্কৃতিক বিপ্লব
  2. খ) ইরানের ইসলামী বিপ্লব
  3. গ) ফরাসি বিপ্লব
  4. ঘ) বলশেভিক বিপ্লব
ব্যাখ্যা
- ১৫ জুলাই ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯১৭ সালে।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬৬ সালে।
- ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
৪৮৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল—
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪ সালে শুরু হয়ে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, এটি প্রায় চার বছর ধরে চলে ছিলো।
- যুদ্ধের প্রধান দুটি পক্ষ ছিল সেন্ট্রাল পাওয়ারস এবং অ্যালাইড পাওয়ারস।
- অ্যালাইড পাওয়ারসের মধ্যে ছিল ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র।
- সেন্ট্রাল পাওয়ারসের মধ্যে ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও তুরস্ক, 
- ১৯১৮ সালে সেন্ট্রাল পাওয়ারসের পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪৮৬.
‘ভেলভেট ডিভোর্স’ এর মাধ্যমে কোন দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়?
  1. পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরি
  2. চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া
  3. সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া
  4. রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা

• ভেলভেট ডিভোর্স:
- ভেলভেট ডিভোর্স-এর ফলে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ার জন্ম হয়।

• 'ভেলভেট ডিভোর্স' বলতে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার শান্তিপূর্ণ বিভক্তিকে বোঝায়।
- ১৯৯২ সালের নভেম্বরে ফেডারেল আইনসভা চেকোস্লোভাকিয়াকে বিভক্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। 
- পৃথক সংবিধান প্রণয়নের পর ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। এগুলো হলো: চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া।
- এটি ইতিহাসে ভেলভেট নামে পরিচিত কারণ বিচ্ছেদটি সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ছিল। এখানে কোনো যুদ্ধ বা সহিংসতা হয়নি।

উল্লেখ্য,
ভেলভেট বিপ্লব:
- 'ভেলভেট বিপ্লব' হলো চেকোস্লোভাকিয়ায় সংঘটিত একটি অহিংস ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন। 
- ১৯৮৯ সালের ১৭ নভেম্বর – ২৯ ডিসেম্বর এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
- এর মাধ্যমে দেশটিতে ৪১ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৪৮৭.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো -
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ব্রিটেন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে, ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত; এর ফলে ৭০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

উৎস: Britannica.
৪৮৮.
"ইয়েলো ও রেড শার্ট" আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলো কোন দেশ?
  1. নেপাল
  2. থাইল্যান্ড
  3. ভারত
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা
- "ইয়েলো ও রেড শার্ট" আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলো থাইল্যান্ড।

'ইয়েলো এবং রেড শার্ট' আন্দোলন:
- 'ইয়েলো এবং রেড শার্ট' আন্দোলন থাইল্যান্ডে ঘটে।
- ২০০৮ সালের মাঝামাঝি থেকে ইয়েলো শার্ট আন্দোলন শুরু হয়।
- এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা হলুদ শার্ট পরিধান করতেন।
- এর পর ২০০৯ সালের শুরুতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকরা রেড শার্ট আন্দোলন শুরু করেন, তারা রেড শার্ট পরতেন।
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
- থাকসিন সিনাওয়াত্রা ও তার দল "থাই রক থাই" ২০০২ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও ২০০৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানে তার সরকার পতন ঘটে।
- এর পর রেড শার্ট আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা "United Front for Democracy Against Dictatorship" (UDD) ব্যানারে সংগঠিত হয়ে ২০০৯-২০১০ সালে বড় ধরনের আন্দোলন চালায়। ২০১১ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাদের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ -তারেক শামসুর রেহমান।
৪৮৯.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. ক) জন এফ কেনেডি
  2. খ) রুজভেল্ট
  3. গ) রিচার্ড নিক্সন
  4. ঘ) জেরাল্ড ফোর্ড
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।
৪৯০.
জেসমিন বিপ্লবের সূচনা কোথায় ঘটে? 
  1. মিশর 
  2. লিবিয়া
  3. তিউনিসিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

• আরব বসন্ত (Arab Spring):
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়।
- এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।

উল্লেখ্য, 
- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংগঠিত হয় ২০১১ সালে।
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

অন্যদিকে -
- অরেঞ্জ বিপ্লব সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয় রাশিয়ায়।
- ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৪৯১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ কোনটি?
  1. ইতালি
  2. ফ্রান্স
  3. জাপান
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে।
- জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে: ৭ মে, ১৯৪৫ সালে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পক্ষসমূহ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।

- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

⇒ উল্লেখ্য:
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।

৪৯২.
কোন যুদ্ধটি সম্প্রতি ইরাকে অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ডেজার্ট শীল্ড
  2. ডেজার্ট স্টর্ম
  3. ক্রুসেড
  4. ইনফাইনাইট জাস্টিস
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন যা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।]

অপারেশন ডেজার্ট শিল্ড:
- উপসাগরীয় যুদ্ধ (২ আগস্ট ১৯৯০ - ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১), ইরাকের আক্রমণ এবং কুয়েতকে সংযুক্ত করার প্রতিক্রিয়া হিসাবে ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৩৫টি দেশের জোট বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত একটি যুদ্ধ। 

অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম:
- ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন এবং কুয়েতি ভূ-খন্ড দখলের প্রেক্ষতে ইরাকি বাহিনীর হাত থেকে কুয়েতকে মুক্ত করাই ছিল এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য।

ইনফাইনাইট জাস্টিস:
- ইনফাইনাইট জাস্টিস ইরাকে সংঘটিত হয়েছিল।

উৎস: Britannica.
৪৯৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি রয়েছে?
  1. খুলনায়
  2. সিলেটে
  3. যশোরে
  4. কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা

• ২য় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমারে (তৎকালীন বার্মা) সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈন্য নিহত হন তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মিয়ানমার, আসাম এবং বাংলাদেশে মােট ৯টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
• এর মধ্যে বাংলাদেশে ২টি কমনওয়েলথ সমাধিক্ষেত্র রয়েছে।
• যার একটি কুমিল্লার ময়নামতিতে এবং অন্যটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪৯৪.
১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার মূল প্রতিপাদ্য কী ছিল?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা
  2. আরব জনগণের জন্য প্যালেস্টাইনে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন
  3. অটোমানদের জায়গা দখল করা
  4. প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা:
- বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration) ছিল একটি ঐতিহাসিক চিঠি যা ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর তাঁর এক পত্রে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন।
- ঐ চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- ইতিহাসে এটি বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা সরাসরিভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য,
- ১৯২২ সালে জাতিপুঞ্জ (League of Nations) বেলফোর ঘোষণা অনুমোদন করে।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা হয়।
- কিন্তু আরব রাষ্ট্রগুলো ও প্যালেস্টাইনের আরব জনগণ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলে আসে এবং ফলস্বরূপ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

উৎস: Britannica
৪৯৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তর্গত ছিল না কোন দেশ?
  1. বুলগেরিয়া
  2. বেলজিয়াম
  3. সার্বিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।

• যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট:
- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।

মিত্রশক্তি জোট:
- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র।

- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৮ জুন, ১৯১৯ সালে।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com

৪৯৬.
কোন দেশ থেকে আরব বসন্ত সূচনা হয়?
  1. তিউনেশিয়া
  2. মিশর
  3. লিবিয়া
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে সূচিত এই গণবিক্ষোভ ক্রমেই প্রসারিত হয় অন্যান্য দেশে।
- মূলত উত্তর আফ্রিকা আর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের এই প্রতিরোধের নামই আরব বসন্ত।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঢেউ লাগে। 

⇒ আরব বসন্তের সূচনা হয় তিউনিশিয়ায় জেসমিন বিপ্লবের মাধ্যমে। 
- ২০১০ এবং ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের ঢেউ শুরু হয়েছিল।
- এই বিক্ষোভ পরে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়।
- ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক। পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জমানার অবসান হয়। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন।  নভেম্বরে ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ মনসুর আল হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক গাদ্দাফির পতন ঘটেছে। এ ছাড়া আলজেরিয়া, বাহরাইন, ইরান, মরক্কোয় বড় ধরনের বিদ্রোহ হয়। তবে লেবানন, মৌরিতানিয়া, সৌদি আরব, সুদান এবং পশ্চিম সাহারায় বড় ধরনের না হলেও বিক্ষোভ দেখা যায়।
- ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১১ সালে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে।

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.

৪৯৭.
কত সালে পানিপথের তৃতীয়যুদ্ধ সংগঠিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৫৫৬ সালে
  3. ১৭৬১ সালে
  4. ১৭৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
পানিপথের যুদ্ধ: 
- পানি পথের যুদ্ধ বাংলার প্রাচীনতম যুদ্ধ। 
- পানিপথের তিনটি যুদ্ধ
• প্রথম ১৫২৬ সালে,
• দ্বিতীয় ১৫৫৬ সালে,
তৃতীয় ১৭৬১ সালে ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।
- ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের পানিপথ নামক স্থানে এ যুদ্ধগুলো সংঘটিত হয়।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- মোগল সম্রাট বাবর ও দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির সঙ্গে বাধে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ। ইব্রাহিম লোদির সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ।
- তিনি যুদ্ধের ময়দানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার সৈন্য নামিয়ে দেন।
- বাবর মাত্র ১৫ হাজার সৈন্য নিয়ে লড়াই করেন তাদের বিরুদ্ধে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে কামানের ব্যবহার ও নতুন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করতে সক্ষম হন বাবর।
- যুদ্ধ জয়ের পর বাবর ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তিস্থাপন করেন।
 
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- ১৫৩০ সালে সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন।
- সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর পুত্র আকবর।
- সম্রাট আকবরের সঙ্গে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ হয় সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্যের (হিমু)।
 - বৈরাম খাঁ সম্রাট আকবরের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এ যুদ্ধেও মোগলরা বিজয় লাভ করে।

পানিপথের তৃতীয়যুদ্ধ যুদ্ধ:
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ হয় আফগানিস্তানের অধিপতি আহমদ শাহ দুররানি (আহমদ শাহ আবদালী নামেও পরিচিত) ও মারাঠাদের অধিপতি বালাজি বাজি রাও-এর মধ্যে।
- এ যুদ্ধে আহমদ শাহ আবদালী মারাঠাদের পরাজিত করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৯৮.
জেসমিন বিপ্লব কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. মিশর
  2. ইয়েমেন
  3. তিউনিসিয়া
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
জেসমিন বিপ্লব:
- তিউনিসিয়ায় জেসমিন বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- ২০১১ সালে এই বিপ্লব সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- আরব বসন্ত শুরুর পর এই বিপ্লব হয়।
- তিউনেশিয়ার জাতীয় ফুল হচ্ছে জেসমিন ফুল।
- এ কারণেই এই বিপ্লব জেসমিন বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পায়।

উৎস: Britannica.
৪৯৯.
নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয় -
  1. ক) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
  2. খ) ৯ আগস্ট, ১৯৪৫
  3. গ) ৬ আগস্ট, ১৯৪৪
  4. ঘ) ৯ আগস্ট, ১৯৪৪
ব্যাখ্যা

- ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা লিটল বয় নিক্ষেপ করে।
- ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আরেক শহর নাগাসাকিতে আরো একটি পারমাণবিক বোমা ফ্যাট ম্যান নিক্ষেপ করে।
- লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামক পারমাণবিক বোমা দুটি নিক্ষেপের নির্দেশদাতা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি ট্রুম্যান।

উৎস: Britannica.com

৫০০.
চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. চিয়াং কাইশেক
  2. সান ইয়েৎ সেন
  3. মাও সেতুং
  4. শি ঝংজুন
ব্যাখ্যা

চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution):
- ১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুং - এর আহ্বানে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়।
- ১৯৭৬ সালে সমাপ্ত হয় (১০ বছর স্থায়ী)।
- গণপ্রজাতন্ত্র চীন (People's Republic of China) প্রতিষ্ঠিত হয় মাও সেতুং নেতৃত্বে।
- তাকে বলা হয় গণচীনের জনক।
- সমগ্র চীনে কমিউনিস্ট শাসনের আওতায় আনা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও কমিউনিস্ট বিরোধী ভাবধারা প্রতিহত করার জন্য এই বিপ্লব শুরু হয়।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে সমগ্র চীন ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দৃঢ় হয়। 
- চীন এই সময় বিদেশী পণ্য পরিহার করে শুধু নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার শুরু করে।
- এর ফলে চীনের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়।
- যদিও চীনের সমাজতন্ত্র বিরোধী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ হত্যাকান্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।